সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিজ্ঞান এবং ইসলাম

ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানব কল্যানের ধর্ম। ইসলামে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা আছে। আল-কোরআনের প্রথম বানীই হল-
"পড় (জ্ঞান আহরন কর)। আল-কোরআনকে বলা হয়েছে আল হাকীম,বিজ্ঞানময় কুরআন। এতে আরো বলা হয়েছে-
"যাকে হিকমত (সঠিক জ্ঞান) দান করা হয়েছে; তাকে প্রভূত কল্যান দান করা হয়েছে"। আমাদের মহানবী বলেছেন- "প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জ্ঞান অণ্বেষন করা ফরয। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষন কর। জ্ঞান অর্জন করতে প্রয়োজন হলে সুদূর চীন দেশে যাও।"
বর্তমান প্রেক্ষপটের দিকে নজর দিলে আমরা মুসলমানরা বিজ্ঞানের ও চিকিৎসার দিক দিয়ে একদম পিছিয়ে আছি। বলা যায় এ দুটো দিকে আমাদের অবদান নেই বললেই চলে। কেন পিছিয়ে গেছি আমরা যারা মুসলমান তারা এক বাক্যেই স্বীকার করে নিবেন -- কোরআন এবং হাদীস থেকে দূরে সরে যাবার কারনেই আমাদের আজকের এই অবস্থা। তার বড় প্রমান আমাদের পূর্বে ৭০০ থেকে ১১০০ খ্রীস্টাব্দ সালে যে সমস্ত মুসলমান বিজ্ঞানীরা জন্মেছিলেন তাদের জীবন ব্যবস্হা গড়া ছিল কুরআন ও হাদীসের শক্ত ভিত্তির উপর। যার ফলে তারা এখনও অমর হয়ে আছেন। আসুন আমরা জানি তাদের অবদানটা কি--
চিকিৎসাবিভাগে মুসলমানদের অবদানঃ
চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমানদেন অবদান অবিস্শরনীয়।আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের উন্নতির মূলে রয়েছে মুসলমানদের বিরাট ভূমিকা।

আবূ বকর আল-রাযী -


আবূ বকর আল-রাযী ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শল্য চিকিৎসাবিদ। তৎকালীন সময়ে তার সুনাম এতই বিস্তৃতি লাভ করেছিল যে,পশ্চিম এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপ থেকেও অগনিত রোগী তার নিকট চিকিৎসার জন্য আসত। তিনি ছিলেন শল্য চিকিৎসায় তৎকালের সর্বশ্রেষ্ট ব্যক্তি। তিনি গ্রিকদের চেয়েও উন্নত পন্থায় অস্ত্রোপাচার করতেন। তার রচিত গ্রন্থ ছিল দুই শতাধিক। এর মধ্যে শতাধিকই ছিল চিকিৎসা বিষয়ক। বসন্ত ও হাম রোগ বিষয়ে তার রচিত "আল জুদারী ওয়াল হাসবাহ"নামক গ্রন্থখানি এতই মৌলিক ছিল যে,খ্রিস্ট জগতের লোকেরা এর পূর্বে এ বিষয়ের বৈজ্ঞানিক আলোচনায় তেমন অগ্রগতিই লাভ করতে পারেনি। তার আর একটি গ্রন্থের নাম "কিতাবুল মানসূরী" । এ দুটি গ্রন্থই তাকে চিকিৎসাশাস্ত্রে চির অমর করে রেখেছে।

ইবনে সীনা- (ইব্ন সীনা)


ইব্ন সীনা বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিক। চিকিৎসাশাস্ত্রে তার অবদানের জন্য তাকে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র ও আধুনিক চিকিৎসা প্রনালী এবং শল্য চিকিৎসার দিশারী মনে করা হয়। তিনি ২৪খানি ছোট ও ২১খানি সুবৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। চিকিৎসা বিষয়ে "কানূন ফিত্ তিবব" গ্রন্থটি তার এক অনবদ্য সৃষ্টি। চিকিৎসা বিষয়ে এর সমপর্যায়ের কোন গ্রন্থ আজ পর্যন্ত দেখা যায়না। ডঃ ওসলার এ গ্রন্থকে চিকিৎসাশাস্ত্রে বাইবেল বলে উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসাসম্বন্ধনীয় যাবতীয় তথ্যের আশ্চর্য রকম সমাবেশ থাকার কারনে গ্রন্থটিকে ইউননী ও জারবী চিকিৎসাশাস্ত্রের বৃহৎ সংহতি বলা চলে।
একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করি ৮০০ থেকে ১১০০ খ্রিষ্টাব্দ যখন ইসলামের যুগ ছিল তখন কোন অমুসলিম বিজ্ঞানী, কোন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, এমনকি কোন দার্শনিক মুসলমান মনীষীদের সামনে ছিল একদম নগন্য যেমনটা আমরা এখন তাদের কাছে। তার মূল কারনই হচ্ছে আমরা বাকাঁ রাস্তায় চলছি। আবূ বকর আল-রাযী এবং ইব্ন সীনা তাদের জীবনী পড়লেই আমরা বুঝতে পারবো তারা কি আকঁড়ে ধরে ছিল আর আমরা আজ কি আকঁড়ে ধরে আছি। বর্তমানে আমরা মুসলমানরা যে পর্যায়েই যে বিভাগেই নিয়োজিত থাকিনা কেন কোরআন ও হাদীসকে আকঁড়ে না ধরলে আমরা কখনই উন্নতি সাধন করতে পারবোনা। আমরা অমুসলিমদের তলানীতেই থাকবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন