ঈমান ও আকিদা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈমান ও আকিদা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১৬

তাওহীদের উপর কী পড়বেন, কীভাবে পড়বেন

 মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
---------------------------------------
মুহতারাম বন্ধুগণ!
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
الحمد لله على العافية، وأسأل الله العظيم العافية لكم وللمسلمين جميعا، أما بعد

বেরাদরানে মুহতারাম!
‘তাওহীদ’ ইসলামের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মাশাআল্লাহ সব তালিবে ইলমের মতো আপনারাও কুরআন-সুন্নাহয় বিশেষভাবে তাওহীদ-প্রসঙ্গটি অধ্যয়ন করেছেন। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সালাফ ও খালাফ যেসকল কিতাব রচনা করেছেন সেগুলোর নির্বাচিত একটি অংশও সম্ভবত আপনারা অধ্যয়ন করেছেন। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু অতি গুরুত্বপূর্ণ তাই এ বিষয়ে পাঠ ও মুতালাআ জারি রাখা প্রয়োজন। এ কারণে মুআসসাসাতু আবনাইল মারকাযের এই প্রস্তাব আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। আমার নিজের ফায়েদার জন্য কিছু কথা আরজ করছি।
কিছু কাজ সব সাথীর করা উচিত :

১. এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিতাব পাঠ করা
أـ تقوية الإيمان، شاه إسماعيل شهيد رحمه الله تعالى (١١۹۳-١٢٤٦ هـ)
মাওলানা গোলাম রসূল মেহের-এর তাহকীককৃত নুসখা, কিংবা হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর তাহকীক ও হাশিয়া ওয়ালা নুসখা পাওয়া গেলে উত্তম, নতুবা যে এডিশনই পাওয়া যাক। কিতাবটি বারবার মনোযোগের সাথে পাঠ করা উচিত। মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. কিতাবটির আরবী তরজমা করেছেন, যা ‘রিসালাতুত তাওহীদ’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।
ب ـ كتاب التوحيد الذي هو حق الله على العبيد، شيخ محمد بن عبد الوهاب نجدي (١١١٥-١٢۰٦ هـ)
এই দুটি কিতাবের শিক্ষা ও নির্দেশনা মৌলিকভাবে এক হওয়ার কারণে উপমহাদেশের বাদায়ুনী ও বেরেলভী ঘরানার বিদআতীরা প্রচার করে রেখেছে যে, ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ হচ্ছে ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এর তরজমা বা মুখতাসার। কিন্তু কেউ যদি দুটো কিতাবই পাঠ করেন তাহলে আসমান-যমীনের পার্থক্য দেখতে পাবেন।
বিদআতীদের এই সকল অপপ্রচারের স্বরূপ বোঝার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট আরো অনেক কিছু মানার জন্য হযরত মাওলানা মানযূর নুমানী রাহ.-এর পুস্তিকা অবশ্যই পাঠ করুন। পুস্তিকাটি হিন্দুস্তানে
شيخ محمد بن عبد الوہاب كے خلاف پروپگنڈے
এবং পাকিস্তানে شيخ محمد بن عبد الوہاب اور ہندوستاں كے علماء حق নামে প্রকাশিত হয়েছে। আরবী অনুবাদ الدعايات المكثقة নামে প্রকাশিত হয়েছে।
ج ـ توحيد اور شرك كى حقيقت
মাওলানা সাইয়েদ নূরুল হাসান শাহ ছাহেব বুখারী, মাকতাবা ওমর ফারুক, উর্দূ বাজার, লাহোর।
নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ থেকে সংশ্লিষ্ট আলোচনা
٭ كلمہ طيبہ كى حقيقت، مولانا محمد منظور نعمانى رح
٭ اسلام كيا ہے، مولانا محمد منظور نعمانی رح.
٭ قرآن آپ سے كيا كہتا ہے، مولانا محمد منظور نعمانی رح.
٭ دين وشريعت، مولانا محمد منظور نعمانی رح.
٭ دستور حيات، مولانا سيد ابو الحسن على ندوى رح.
----
২. তাওহীদ ও শিরক বিষয়ে কুরআন মজীদের কিছু সারগর্ভ আয়াত এবং নির্বাচিত হাদীস ডায়েরীতে নোট করে মুখস্থ করা এবং তাফসীর ও শরহে হাদীসের কিতাবে তা পাঠ করা। বিশেষত এ বিষয়টি আলোচনার সময় যেসব আয়াত ও হাদীস বারবার আসে। উদাহরণস্বরূপ কিছু আয়াত উল্লেখ করছি।

اياك نعبد واياك نستعين (١:٤)
وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون (٥١ : ٥٦)
الم اعهد اليكم يبنى آدم ان لا تعبدوا الشيطان انه لكم عدو مبين، وان اعبدونى هذا صراط مستقيم (۳٦ : ٦۰-٦١)
اتخذوا احبارهم ورهبانهم اربابا من دون الله (۹ : ۳١)
এভাবে ২ : ২৫৬-২৫৭; ৪ : ৫১-৫২, ৫৯-৬১; ৫: ৪২-৫০; ৯: ১২৯; ৩৯ : ৩৮; ৮ : ৬৪সহ অন্যান্য আয়াত।
---
৩. আলআসমা ওয়াস সিফাতের উপর কিছু কিতাব অধ্যয়ন যেমন-
الأسماء والصفات، بيهقي (٤٥۸ هـ)
তাহকীক ও তালীক মুহাম্মাদ যাহিদ কাওছারী (১৩৭১ হিজরী)
*فقه الأسماء الحسنى، عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
*المقصد الأسنى في شرح الأسماء الحسنى، أبو حامد غزالي ( 505 هـ)
এছাড়া এ বিষয়ে আমি কিছু শিরোনাম উল্লেখ করছি, যেগুলোর কোনো কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ, কোনো কোনোটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিষয় তাওহীদ-বিরোধী বা তাওহীদের অপব্যাখ্যাকারী সম্প্রদায়ের অপপ্রচারের কারণে আলোচনায় আসে। কিছু শিরোনাম غلو في التوحيد -এর সমর্থকদের গুলু ও বাড়াবাড়ির কারণে আলোচনায় আসে। দেখুন, গুলু ফিত তাওহীদ আর কামাল ফিত তাওহীদ এক জিনিস নয়। কামাল ফিত তাওহীদ বা তাওহীদের ক্ষেত্রে পূর্ণতা তো কাম্য, কিন্তু গুলু ফিত তাওহীদ বা তাওহীদকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।
মনে রাখুন, এখানে কিছু শিরোনাম পরস্পর মুতাদাখিল, কিছু শিরোনাম পরস্পর মুতালাযিম। বিষয়টি যেহেনে থাকা উচিত।
আমি শুধু মূল শিরোনাম উল্লেখ করব। আপনারা শাখা শিরোনাম তৈরি করে নিবেন ও সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহ তালাশ করে মুতালাআ করবেন। এরপর মুতালাআর সারসংক্ষেপ মাকালা আকারে লিখে মজলিসে নিয়ে আসবেন এবং আমাদেরকে উপকৃত করবেন। আপনারা যদিও ‘আবনা’ কিন্তু ‘আবনাউল কুততাব’ তো নন যে, মকতবের শিশুদের মতো শব্দে শব্দে পড়াতে হবে।
কাজটি যাতে সহজ ও সুশৃঙ্খল হয় এজন্য যে সাথী যে শিরোনাম নির্বাচন করবেন তা মুআসসাসার দায়িত্বশীলদের অবহিত করলে ভালো হবে। যাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো শিরোনাম বাদ পড়ে না যায়। শিরোনামগুলো বিশেষ কোনো তারতীব ছাড়াই উল্লেখ করছি।
* توحيد الربوبية * توحيد الألوهية * توحيد في التشريع * توحيد الأسماء والصفات * توحيد في العبادات الظاهرة والعبادات الباطنة * توحيد في الدعاء والاستعانة * عقيدة التوحيد في القرآن الكريم * عقيدة التوحيد في السنة النبوية وآثار السلف * الآثار الحسنة للكمال في التوحيد * الآثار السيئة لنقص في عقيدة التوحيد * نواقض التوحيد * نواقص التوحيد * شرح كلمة التوحيد * شروط لا إله إلا الله * علاقة الجزء الثاني من الكلمة بعقيدة التوحيد * التوحيد والإيمان بالقدر * التوحيد والتعامل مع الأسباب * الصور الجديدة من نواقض التوحيد * دلائل التوحيد في القرآن الكريم * ترجيح أساليب القرآن على اساليب اليونان * الواسطة بين الحقِّ تعالى وبين الخلق * مسألة سد الذرائع في نواقض التوحيد ونواقصه * الكمال في التوحيد والغلو في التوحيد * التوحيد والتثليث * التوحيد وتحريف البريلويين * التوحيد وتحريف الصوفية المبطلين * التوحيد وتحريف المتكلمين المبتدعين * التوحيد والأشاعرة والماتريدية * التوحيد والعلمانية * التوحيد وخدمات أكابر أهل السنة الجماعة في شبه القارة الهندية لحمايته، وخدمات أكابر علماء العرب أيضا، وما اتهم به بعضهم بالإفراط او التفريط.

আপাতত এই ত্রিশটি শিরোনাম উল্লেখ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পাক্কা তাওহীদপন্থী বানিয়ে দিন এবং জানা-অজানা, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের শিরক থেকে হিফাযত করুন। আমীন
--------------------------------------
আরযগুযার
বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক
২ রবিউস সানী, ১৪৩৩ হিজরী
...
কৃজ্ঞতায় Atik Ullah Atik

সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৬

তাওহীদ কাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কি কি?

তাওহীদ শব্দটি (وحد) ক্রিয়ামূল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ কোন জিনিসকে একক হিসাবে নির্ধারণ করা। ‘না’ বাচক ও ‘হ্যাঁ’ বাচক উক্তি ব্যতীত এটির বাস্তবায়ন হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ একককৃত বস্ত ব্যতীত অন্য বস্ত হতে কোন বিধানকে অস্বীকার করে একককৃত বস্তর জন্য তা সাব্যস্ত করা। উদাহরণ স্বরূপ আমরা বলব, “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই” একথার সাক্ষ্য দেয়া ব্যতীত কোন ব্যক্তির তাওহীদ পূর্ণ হবে না। যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য প্রদান করবে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সকল বস্ত হতে উলুহিয়্যাতকে (ইবাদত) অস্বীকার করে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করবে। কারণ শুধুমাত্র নাফী বা ‘না’ বাচক বাক্যের মাধ্যমে কোন বস্তকে গুণাগুণ থেকে মুক্ত করা হয়। আর শুধুমাত্র ‘হ্যাঁ’ বাচক বাক্যের মাধ্যমে কোন বস্তর জন্য কোন বিধান সাব্যস্ত করলে সেই বিধানে অন্যের অংশ গ্রহণকে বাধা প্রদান করে না। যেমন উদাহরণ স্বরূপ যদি আপনি বলেন, ‘অমুক ব্যক্তি দাঁড়ানো’। এই বাক্যে আপনি তার জন্য দন্ডায়মান হওয়াকে সাব্যস্ত করলেন। তবে আপনি তাকে দন্ডায়মান গুণের মাধ্যমে একক হিসাবে সাব্যস্ত করলেন না। হতে পারে এই গুণের মাঝে অন্যরাও শরীক আছে। অর্থাৎ অমুক ব্যক্তির সাথে অন্যান্য ব্যক্তিগণও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। আর যদি বল, “যায়েদ ব্যতীত আর কেউ দাঁড়ানো নেই” তবে আপনি দন্ডায়মান হওয়াকে শুধুমাত্র যায়েদের সাথে সীমিত করে দিলেন। এই বাক্যে আপনি দন্ডায়মানের মাধ্যমে যায়েদকে একক করে দিলেন এবং দাঁড়ানো গুণটিকে যায়েদ ব্যতীত অন্যের জন্য হওয়াকে অস্বীকার করলেন। এভাবেই তাওহীদের প্রকৃত রূপ বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। অর্থাৎ নাফী (না বোধক) ও ইছবাত (হ্যাঁ বোধক) বাক্যের সমন্বয় ব্যতীত তাওহীদ কখনো প্রকৃত তাওহীদ হিসাবে গণ্য হবে না। মুসলিম বিদ্বানগণ তাওহীদকে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন।
১) তাওহীদুর্‌ রুবূবীয়্যাহ
২) তাওহীদুল উলুহীয়্যাহ
৩) তাওহীদুল আসমা অস্‌ সিফাত
কুরআন ও হাদীছ গভীরভাবে গবেষণা করে আলেমগণ এই সিদ্ধানে- উপনীত হয়েছেন যে, তাওহীদ উপরোক্ত তিন প্রকারের মাঝে সীমিত।
প্রথমতঃ তাওহীদে রুবূবীয়্যার বিস্তারিত পরিচয়ঃ
সৃষ্টি, রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও পরিচালনায় আল্লাহকে এক হিসাবে বিশ্বাস করার নাম তাওহীদে রুবূবীয়্যাহ্‌।
১- সৃষ্টিতে আল্লাহর একত্বঃ আল্লাহ একাই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি ছাড়া অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
) هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالاَرْضِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ (
“আল্লাহ ছাড়া কোন স্রষ্টা আছে কি? যে তোমাদেরকে আকাশ ও জমিন হতে জীবিকা প্রদান করে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই।” (সূরা ফাতিরঃ ৩) কাফিরদের অন্তসার শুন্য মা’বূদদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে আল্লাহ বলেন,
)أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لاَ يَخْلُقُ أَفَلاَ تَذَكَّرُوْنَ(
“সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তারই মত, যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” (সূরা নাহলঃ ১৭) সুতরাং আল্লাহ তাআ’লাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। তিনি সকল বস্ত সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাআ’লার কর্ম এবং মাখলুকাতের কর্ম সবই আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহ তাআ’লা মানুষের কর্মসমূহও সৃষ্টি করেছেন্ত একথার উপর ঈমান আনলেই তাকদীরের উপর ঈমান আনা পূর্ণতা লাভ করবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
)وَ اللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُوْنَ(
“আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের কর্মসমূহকেও সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আস্তসাফ্‌ফাতঃ ৯৬) মানুষের কাজসমূহ মানুষের গুণের অন্তর্ভুক্ত। আর মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। কোন জিনিষের স্রষ্টা উক্ত জিনিষের গুণাবলীরও স্রষ্টা।
যদি বলা হয় আল্লাহ ছাড়া অন্যের ক্ষেত্রেও তো সৃষ্টি কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
)تَبَارَكَ اللَّهُ اَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ (
“আল্লাহ সৃষ্টিকর্তাদের মধ্যে উত্তম সৃষ্টিকর্তা।” (সূরা মুমিনূনঃ ১৪) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কিয়ামতের দিন ছবি অংকনকারীদেরকে বলা হবে, তোমরা দুনিয়াতে যা সৃষ্টি করেছিলে, তাতে রূহের সঞ্চার কর। উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর এই যে, আল্লাহর মত করে কোন মানুষ কিছু সৃষ্টি করতে অক্ষম। মানুষের পক্ষে কোন অসি-ত্বহীনকে অসি-ত্ব দেয়া সম্ভব নয়। কোন মৃত প্রাণীকেও জীবন দান করা সম্ভব নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্যের তৈরী করার অর্থ হল নিছক পরিবর্তন করা এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করা মাত্র। মূলতঃ তা আল্লাহরই সৃষ্টি। ফটোগ্রাফার যখন কোন বস্তর ছবি তুলে, তখন সে উহাকে সৃষ্টি করে না। বরং বস্তটিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করে মাত্র। যেমন মানুষ মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরী করে এবং অন্যান্য জীব-জন্তু বানায়। সাদা কাগজকে রঙ্গীন কাগজে পরিণত করে। এখানে মূল বস্ত তথা কালি, রং ও সাদা কাগজ সবই তো আল্লাহর সৃষ্টি। এখানেই আল্লাহর সৃষ্টি এবং মানুষের সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।
২- রাজত্বে আল্লাহর একত্বঃ
মহান রাজাধিরাজ একমাত্র আল্লাহ তাআ’লা। তিনি বলেনঃ
)تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ(
“সেই মহান সত্বা অতীব বরকতময়, যার হাতে রয়েছে সকল রাজত্ব। আর তিনি প্রতিটি বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।” (সূরা মুলকঃ ১) আল্লাহ আরো বলেন,
)قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ(
“হে নবী! আপনি জিজ্ঞাসা করুন, সব কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে? যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যার উপর কোন আশ্রয় দাতা নেই।” (সূরা মুমিনূনঃ ৮৮) সুতরাং সর্ব সাধারণের বাদশাহ একমাত্র আল্লাহ তাআ’লা। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে বাদশাহ বলা হলে তা সীমিত অর্থে বুঝতে হবে। আল্লাহ তাআ’লা অন্যের জন্যেও রাজত্ব ও কর্তৃত্ব সাব্যস্ত করেছেন। তবে তা সীমিত অর্থে। যেমন তিনি বলেন,
)أَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَفَاتِحَهُ(
“অথবা তোমরা যার চাবি-কাঠির (নিয়ন্ত্রনের) মালিক হয়েছো।” (সূরা নূরঃ ৬১)
আল্লাহ আরো বলেনঃ
)إِلا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ(
“তবে তোমাদের স্ত্রীগণ অথবা তোমাদের আয়ত্বধীন দাসীগণ ব্যতীত।” (সূরা মুমিনূনঃ ৬) আরো অনেক দলীলের মাধ্যমে জানা যায় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরও রাজত্ব রয়েছে। তবে এই রাজত্ব আল্লাহর রাজত্বের মত নয়। সেটা অসম্পূর্ণ রাজত্ব। তা ব্যাপক রাজত্ব নয়। বরং তা একটা নির্দিষ্ট সীমা রেখার ভিতরে। তাই উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, যায়েদের বাড়ীতে রয়েছে একমাত্র যায়েদেরই কর্তৃত্ব ও রাজত্ব। তাতে আমরের হস্তক্ষেপ করার কোন ক্ষমতা নেই এবং বিপরীত পক্ষে আমরের বাড়ীতে যায়েদও কোন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারপরও মানুষ আপন মালিকানাধীন বস্তর উপর আল্লাহ প্রদত্ত নির্ধারিত সীমা-রেখার ভিতরে থেকে তাঁর আইন্তকানুন মেনেই রাজত্ব করে থাকে। এজন্যই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অকারণে সম্পদ বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمْ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا(
“যে সমস্ত ধন্তসম্পদ আল্লাহ তোমাদের জীবন ধারণের উপকরণ স্বরূপ দান করেছেন, তা তোমরা নির্বোধ লোকদের হাতে তুলে দিওনা।” (সূরা নিসাঃ ৫) মানুষের রাজত্ব ও মুলূকিয়ত খুবই সীমিত। আর আল্লাহর মালিকান ও রাজত্ব সর্বব্যাপী এবং সকল বস্তকে বেষ্টনকারী। তিনি তাঁর রাজত্বে যা ইচ্ছা, তাই করেন। তাঁর কর্মের কৈফিয়ত তলব করার মত কেউ নেই। অথচ সকল মানুষ তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
৩- পরিচালনায় আল্লাহর একত্বঃ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এক ও অদ্বিতীয় ব্যবস্থাপক এবং পরিচালক। তিনি সকল মাখলূকাত এবং আসমান্তযমিনের সব কিছু পরিচালনা করেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
)أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ(
“সৃষ্টি করা ও আদেশ দানের মালিক একমাত্র তিনি। বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহ তা’আলা অতীব বরকতময়।” (সূরা আ’রাফঃ ৫৪) আল্লাহর এই পরিচালনা সর্বব্যাপী। কোন শক্তিই আল্লাহর পরিচালনাকে রুখে দাঁড়তে পারে না। কোন কোন মাখলূকের জন্যও কিছু কিছু পরিচালনার অধিকার থাকে। যেমন মানুষ তার ধন্তসম্পদ, সন্তান্তসন্ততি এবং কর্মচারীদের উপর কর্তৃত্ব করে থাকে। কিন্তু এ কর্তৃত্ব নির্দিষ্ট একটি সীমার ভিতরে। উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হল যে, তাওহীদে রুবূবীয়্যাতের অর্থ সৃষ্টি, রাজত্ব এবং পরিচালনায় আল্লাহকে একক হিসাবে বিশ্বাস করা।
দ্বিতীয়তঃ তাওহীদুল উলুহীয়্যাহ্‌ঃ
এককভাবে আল্লাহর এবাদত করার নাম তাওহীদে উলুহীয়্যাহ। মানুষ যেভাবে আল্লাহর এবাদত করে এবং নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করে, অনুরূপ অন্য কাউকে এবাদতের জন্য গ্রহণ না করা। তাওহীদে উলুহীয়্যাতের ভিতরেই ছিল আরবের মুশরিকদের গোমরাহী। এ তাওহীদে উলূহিয়াকে ক্রেন্দ্র করেই তাদের সাথে জিহাদ করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জান্তমাল, ঘরবাড়ী ও জমি-জায়গা হরণ হালাল মনে করেছিলেন। তাদের নারী-শিশুদেরকে দাস্তদাসীতে পরিণত করেছিলেন। এই প্রকার তাওহীদ দিয়েই আল্লাহ তাআ’লা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলেন এবং সমস্ত আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। যদিও তাওহীদে রুবূবীয়্যাত এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাতও নবীদের দাওয়াতের বিষয়বস্ত ছিল, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই নবীগণ তাদের স্বজাতীয় লোকদেরকে তাওহীদে উলুহীয়্যার প্রতি আহবান জানাতেন। মানুষ যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য এবাদতের কোন অংশই পেশ না করে, সদাসর্বদা রাসূলগণ তাদের উম্মতদেরকে এই আদেশই দিতেন। চাই সে হোক নৈকট্যশীল ফেরেশতা, আল্লাহর প্রেরিত নবী, আল্লাহর সৎকর্মপরায়ণ অলী বা অন্য কোন মাখলুক। কেননা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও এবাদত করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি এই প্রকার তাওহীদে ত্রুটি করবে, সে কাফির মুশরিক। যদিও সে তাওহীদে রুবূবীয়াহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাতের স্বীকৃতী প্রদান করে থাকে। সুতরাং কোন মানুষ যদি এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকারী, একমাত্র মালিক এবং সব কিছুর পরিচালক, কিন্তু আল্লাহর এবাদতে যদি অন্য কাউকে শরীক করে, তবে তার এই স্বীকৃতী ও বিশ্বাস কোন কাজে আসবে না। যদি ধরে নেয়া হয় যে, একজন মানুষ তাওহীদে রুবূবীয়াতে এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাতে পূর্ণ বিশ্বাস করে, কিন্তু সে কবরের কাছে যায় এবং কবরবাসীর এবাদত করে কিংবা তার জন্য কুরবানী পেশ করে বা পশু জবেহ করে তাহলে সে কাফির এবং মুশরিক। মৃত্যুর পর সে হবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী। আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
)إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ(
“নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি শির্কে লিপ্ত হবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদাঃ ৭২) কুরআনের প্রতিটি পাঠকই একথা অবগত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সমস্ত কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করেছেন, তাদের জান্তমাল হালাল মনে করেছেন এবং তাদের নারী-শিশুকে বন্দী করেছেন ও তাদের দেশকে গণীমত হিসাবে দখল করেছেন, তারা সবাই একথা স্বীকার করত যে, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক। তারা এতে কোন সন্দেহ পোষণ করত না। কিন্তু যেহেতু তারা আল্লাহর সাথে অন্যেরও উপাসনা করত, তাই তারা মুশরিক হিসাবে গণ্য হয়েছে এবং তাদের জান্তমাল হরণ হালাল বিবেচিত হয়েছে।
তৃতীয়তঃ তাওহীদুল্‌ আসমা ওয়াস্‌ সিফাতঃ
তাওহীদুল্‌ আসমা ওয়াস্‌ সিফাতের অর্থ হল, আল্লাহ নিজেকে যে সমস্ত নামে নামকরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবে নিজেকে যে সমস্ত গুণে গুণাম্বিত করেছেন সে সমস্ত নাম ও গুণাবলীতে আল্লাহকে একক ও অদ্বিতীয় হিসাবে মেনে নেওয়া। আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তাতে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, তার ধরণ বর্ণনা এবং কোন রূপ উদাহরণ পেশ করা ব্যতীত আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করার মাধ্যমেই এ তাওহীদ বাস্তবায়ন হতে পারে। সুতরাং আল্লাহ নিজেকে যে নামে পরিচয় দিয়েছেন বা নিজেকে যে গুণাবলীতে গুণান্বিত করেছেন, তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করা আবশ্যক। এ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর আসল অর্থ আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে তার উপর ঈমান আনতে হবে- কোন প্রকার ধরণ বর্ণনা করা বা দৃষ্টান্ত পেশ করা যাবেনা। এই প্রকারের তাওহীদে আহলে কিবলা তথা মুসলমানদের বিরাট একটি অংশ গোমরাহীতে পতিত হয়েছে। এক শ্রেণীর লোক আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকারের ক্ষেত্রে এতই বাড়াবাড়ি করেছে যে, এর কারণে তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। আর এক শ্রেণীর লোক মধ্যম পন’া অবলম্বন করেছে। আর এক শ্রেণীর লোক আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কাছাকাছি। কিন্তু সালাফে সালেহীনের মানহাজ হল, আল্লাহ নিজের জন্য যে নাম নির্ধারণ করেছেন এবং নিজেকে যে সবগুণে গুণাম্বিত করেছেন, সে সব নাম ও গুণাবলীরর উপর ঈমান আনয়ন করতে হবে।
আল্লাহর কতিপয় নামের দৃষ্টান্তঃ
১) الحي القيوم)) আল্লাহ তাআ’লার অন্যতম নাম হচ্ছে, “আল হাইয়্যুল্‌ কাইয়্যুম” এই নামের উপর ঈমান রাখা আমাদের উপর ওয়াজিব। এই নামটি আল্লাহর একটি বিশেষ গুণেরও প্রমাণ বহন করে। তা হচ্ছে, আল্লাহর পরিপূর্ণ হায়াত। যা কোন সময় অবর্তমান ছিলনা এবং কোন দিন শেষও হবে না। অর্থাৎ আল্লাহ তাআ’লা চিরঞ্জীব। তিনি সবসময় আছেন এবং সমস্ত মাখলুকাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও অবশিষ্ট থাকবেন। তাঁর কোন ধ্বংস বা ক্ষয় নেই।
২) আল্লাহ নিজেকে السميع (আস্‌ সামীউ) শ্রবণকারী নামে অভিহিত করেছেন। তার উপর ঈমান আনা আবশ্যক। শ্রবণ করা আল্লাহর একটি গুণ। তিনি মাখলুকাতের সকল আওয়াজ শ্রবণ করেন। তা যতই গোপন ও অস্পষ্ট হোক না কেন।
আল্লাহর কতিপয় সিফাতের দৃষ্টান্তঃ
আল্লাহ বলেনঃ
)وَقَالَتْ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ(
“ইয়াহুদীরা বলে আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে গেছে। বরং তাদের হাতই বন্ধ। তাদের উক্তির দরুন তারা আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হয়েছে, বরং আল্লাহর উভয় হাত সদা উম্মুক্ত, যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন।” (সূরা মায়িদাঃ ৬৪) এখানে আল্লাহ তাআ’লা নিজের জন্য দু’টি হাত সাব্যস্ত করেছেন। যা দানের জন্য সদা প্রসারিত। সুতরাং আল্লাহর দু’টি হাত আছে। এর উপর ঈমান আনতে হবে। কিন্তু আমাদের উচিৎ আমরা যেন অন্তরের মধ্যে আল্লাহর হাত কেমন হবে সে সম্পর্কে কোন কল্পনা না করি এবং কথার মাধ্যমে যেন তার ধরণ বর্ণনা না করি ও মানুষের হাতের সাথে তুলনা না করি। কেননা আল্লাহ বলেছেন,
)لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ(
“কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা শুরাঃ ১১) আল্লাহ বলেন,
)قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ(
“হে মুহাম্মাদ! আপনি ঘোষণা করে দিন যে, আমার প্রতিপালক প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপকাজ, অন্যায় ও অসংগত বিদ্রোহ ও বিরোধিতা এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা, যার পক্ষে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ অবতীর্ণ করেন নি, আর আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যে সম্বন্ধে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই, (ইত্যাদি কাজ ও বিষয় সমূহ) হারাম করেছেন।” (সূরা আরাফঃ ৩৩) আল্লাহ আরো বলেন,
)وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا(
“যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নাই, সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না, নিশ্চয়ই কর্ণ, চক্ষু, অন্তর ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৩৬) সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর হাত দু’টিকে মানুষের হাতের সাথে তুলনা করল, সে আল্লাহর বাণী “কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়” একথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং আল্লাহর বাণী,
)فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ(
তোমরা আল্লাহর জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করো না। (সূরা নাহলঃ ৭৪) এর বিরুদ্ধাচরণ করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলীর নির্দিষ্ট কোন কাইফিয়ত বর্ণনা করল, সে আল্লাহর ব্যাপারে বিনা ইলমে কথা বলল এবং এমন বিষয়ের অনুসরণ করল, যে সম্পর্কে তার কোন জ্ঞান নেই।
আল্লাহর সিফাতের আরেকটি উদাহরণ পেশ করব। তা হল আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত হওয়া। কুরআনের সাতটি স্থানে আল্লাহ তাআ’লা উল্লেখ করেছেন যে তিনি আরশের উপরে বিরাজমান। প্রত্যেক স্থানেই (استوى على العرش) “ইসতাওয়া আলাল আরশি” বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। আমরা যদি আরবী ভাষায় ইসতিওয়া শব্দটি অনুসন্ধান করতে যাই তবে দেখতে পাই যে,(استوى) শব্দটি সব সময় (على) অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর (استوى) শব্দটি এভাবে ব্যবহার হলে ‘সমুন্নত হওয়া’ এবং ‘উপরে হওয়া’ ব্যতীত অন্য কোন অর্থে ব্যবহার হয় না। সুতরাং الرَّحْمَنُ عَلَىْ العَرْشِ اسْتَوَى এবং এর মত অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ সৃষ্টি জগতের উপরে সমুন্নত হওয়া ছাড়াও আরশের উপরে বিশেষ একভাবে সমুন্নত। প্রকৃতভাবেই আল্লাহ আরশের উপরে। আল্লাহর জন্য যেমনভাবে সমুন্নত হওয়া প্রযোজ্য, তিনি সেভাবেই আরশের উপরে সমুন্নত। আল্লাহর আরশের উপরে হওয়া এবং মানুষের খাট-পালং ও নৌকায় আরোহনের সাথে কোন সামঞ্জস্যতা নেই। এমনিভাবে মানুষের যানবাহনের উপরে চড়া এবং আল্লাহর আরশের উপরে হওয়ার মাঝে কোন সামঞ্জস্যতা নেই। আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
)وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ(
“তিনি তোমাদের আরোহনের জন্য সৃষ্টি করেন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু যাতে তোমরা তার উপর আরোহণ করতে পার, তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা ওর উপর স্থির হয়ে বস এবং বলঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের জন্য বশীভূত করেছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না এদেরকে বশীভূত করতে। আর আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করবো।” (সূরা যুখরুফঃ ১২-১৪) সুতরাং মানুষের কোন জিনিষের উপরে উঠা কোন ক্রমেই আল্লাহর আরশের উপরে হওয়ার সদৃশ হতে পারে না। কেননা আল্লাহর মত কোন কিছু নেই।
যে ব্যক্তি বলে যে, আরশের উপরে আল্লাহর সমুন্নত হওয়ার অর্থ আরশের অধিকারী হয়ে যাওয়া, সে প্রকাশ্য ভুলের মাঝে রয়েছে। কেননা এটা আল্লাহর কালামকে আপন স্থান থেকে পরির্বতন করার শামিল এবং ছাহাবী এবং তাবেয়ীদের ইজমার সম্পূর্ণ বিরোধী। এ ধরণের কথা এমন কিছু বাতিল বিষয়কে আবশ্যক করে, যা কোন মুমিনের মুখ থেকে উচ্চারিত হওয়া সংগত নয়। কুরআন মাজীদ আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ বলেন,
)إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ(
“আমি এই কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।” (সূরা যুখরুফঃ ৩) আরবী ভাষায় ইসতাওয়া শব্দের অর্থ ‘সমুন্নত হওয়া’ এবং ‘স্থির হওয়া’। আর এটাই হল ইসতিওয়া শব্দের আসল অর্থ। সুতরাং আল্লাহর বড়ত্বের শানে আরশের উপর যেভাবে বিরাজমান হওয়া প্রযোজ্য, সেভাবেই তিনি বিরাজমান। যদি ইসতিওয়ার (সমুন্নত হওয়ার) অর্থ ইসতিওলা (অধিকারী) হওয়ার মাধ্যমে করা হয়, তবে তা হবে আল্লাহর কালামকে পরিবর্তন করার শামিল। আর যে ব্যক্তি এরূপ করল, সে কুরআনের ভাষা যে অর্থের উপর প্রমাণ বহণ করে, তা অস্বীকার করল এবং অন্য একটি বাতিল অর্থ সাব্যস্ত করল।
তাছাড়া “ইসতিওয়া” এর যে অর্থ আমরা বর্ণনা করলাম, তার উপর সালাফে সালেহীন ঐকমত্য (ইজমা) পোষণ করেছেন। কারণ উক্ত অর্থের বিপরীত অর্থ তাদের থেকে বর্ণিত হয়নি। কুরআন এবং সুন্নাতে যদি এমন কোন শব্দ আসে সালাফে সালেহীন থেকে যার প্রকাশ্য অর্থ বিরোধী কোন ব্যাখ্যা না পাওয়া যায়, তবে সে ক্ষেত্রে মূলনীতি হল উক্ত শব্দকে তার প্রকাশ্য অর্থের উপর অবশিষ্ট রাখতে হবে এবং তার মর্মার্থের উপর ঈমান রাখতে হবে।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, সালাফে সালেহীন থেকে কি এমন কোন কথা বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, “ইসতাওয়া” অর্থ “আলা” (আরশের উপরে সমুন্নত হয়েছেন)? উত্তরে আমরা বলব হ্যাঁ, অবশ্যই তা বর্ণিত হয়েছে। যদি একথা ধরে নেয়া হয় যে, তাঁদের থেকে এর প্রকাশ্য তাফসীর বর্ণিত হয়নি, তবেও এ সমস্ত ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ (নীতি) হল, কুরআন এবং সুন্নাহর শব্দ যে অর্থ নির্দেশ করবে, আরবী ভাষার দাবী অনুযায়ী শব্দের সে অর্থই গ্রহণ করতে হবে।
ইসতিওয়ার অর্থ ইসতিওলা দ্বারা করা হলে যে সমস্ত সমস্যা দেখা দেয়ঃ
১) ইসতিওলা অর্থ কোন বস্তর মালিকানা হাসিল করা বা কোন যমিনের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তাই ইসতিওয়ার অর্থ ইসতিওলার মাধ্যমে করা হলে অর্থ দাঁড়ায়, আকাশ-জমিন সৃষ্টির আগে আল্লাহ আরশের মালিক ছিলেন না, পরে মালিক হয়েছেন। আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
)إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ(
“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন সেই আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশ এবং জমিন সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপরে সমুন্নত হলেন।” (সূরা আরাফঃ ৫৪)
২) “আর্‌-রাহমানু আ’লাল আরশিস্‌ তাওয়া” অর্থ যদি ইস্‌তাওলার মাধ্যমে করা শুদ্ধ হয় তাহলে এ কথাও বলা শুদ্ধ হবে যে, আসমান্তযমিন সৃষ্টি করার পূর্বে বা সৃষ্টি করা পর্যন্ত আরশ আল্লাহর কর্তৃত্বের মধ্যে ছিলনা। এমনিভাবে অন্যান্য মাখলুকাতের ক্ষেত্রেও একই ধরণের কথা প্রযোজ্য। এ ধরণের অর্থ আল্লাহর শানে শোভনীয় নয়।
৩) এটি আল্লাহর কালামকে তার আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেয়ার শামিল।
৪) এ ধরণের অর্থ করা সালাফে সালেহীনের ইজমার পরিপন্থী।
তাওহীদুল আসমা ওয়াস্‌ সিফাতের ক্ষেত্রে সার কথা এই যে, আল্লাহ নিজের জন্য যে সমস্ত নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন, কোন পরিবর্তন, বাতিল বা ধরণ-গঠন কিংবা দৃষ্টান্ত পেশ করা ছাড়াই তার প্রকৃত অর্থের উপর ঈমান আনয়ন করা আমাদের উপর ওয়াজিব।
সূত্রঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ঈমান ও হেদায়েত মুসলমানের মূল্যবান সম্পদ : মুফতী মোহাম্মদ আমীন- অনুবাদ: মাওলান আলী উসমান

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি  অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন। [সূরা আনকাবুত : ৬৯]

হেদায়েত পৃথিবীর সবচেয়ে মূলবান ধন। আল্লাহ তাআলার নিকট যত সম্পদের ভা-ার রয়েছে তারমধ্যে হেদায়েত সবচেয়ে দামী। হেদায়েতের মূল্য এত উঁচুমানের যে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত ও নি¤œ পর্যায়ের একজন মানুষকে যে হেদায়েত দান করা হয়েছে তা সারা দুনিয়া ও তার মাঝে যে সম্পদ রয়েছে তা মিলেও এর মূল্য হতে পারে না। যেমন একজন ব্যক্তি যার দুনিয়ার কোনো সম্পদ নাই, আরাম আয়েশ, ভোগবিলাসিতার কোনো উপকরণ তার কাছে নাই। ছিড়াফারা কাপড় পরিধান করে জঙ্গলের কুড়ে ঘরে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে হেদায়েত দান করেছেন, তাহলে ঐ ব্যক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে সফলকাম ব্যক্তি। কারণ সেই ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনেও সফলকাম আখেরাতের জীবনেও সফলকাম। অপর দিকে এক ব্যক্তি, সমস্ত দুনিয়ার নেতৃত্ব যার হাতে, তার হুকুমে চলে দুনিয়ার সমস্ত রাজা বাদশাহগণ, কিন্তু তার কপালে হেদায়েত জুটে নাই অথচ সে হেদায়েতের মুহতাজ তাহলে সে এতসব কিছু পেয়েও দুনিয়ার জীবনে বিফল আখেরাতের জীবনেও আজীবনের কষ্টে নিপতিত হবে। এ কথাটি আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুন্দর করে ইরশাদ করেন- ‘যদি গোনাহগারদের কাছে পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে অবশ্যই তারা কেয়ামতের দিন সে সবকিছুই নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেবে। অথচ তারা দেখতে পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন শাস্তি যা তারা কল্পনাও করত না। [সূরা যুমার : ৪৩]
প্রিয় পাঠক! এখন ভাবার বিষয় হলো, কাফের সম্প্রদায় দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ এমন কোন মূলবান জিনিসটির জন্য বিনিময় হিসেবে দিয়ে দিতে চায়? সেটা কি জিনিস? যা একজন সাধারণ মুসলমানের কাছে বিদ্যমান; অথচ প্রভাবশালী কাফেরের কাছে তা নাই, যার ফলে তারা পেরেশানিতে লিপ্ত থাকে? সে জিনিসটা আর কিছু নয় তা হলো হেদায়েত, যার জন্য একজন কাফের সারা পৃথিবীর সম্পদ দিতে তৈরি হয়ে যাবে। সুতরাং বুঝা যায় হেদায়েত হলো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যার বিনিময় সারা দুনিয়া দিয়েও পুরা হবে না।
سبحان الله বলার ফযীলত
একবার হযরত সুলাইমান আ. বাতাসে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তাঁর সম্পর্ক ছিল উর্ধ্বাকাশে আল্লাহর সাথে। সুলাইমান আ.কে সিংহাসনসহ বাতাসে উড়তে দেখে এক গ্রাম্য ব্যক্তি যমীনে বসে বলল,
আল্লাহ তাআলা সুলাইমান আ. কে ঐ ব্যক্তির سبحان الله বলার আওয়াজ শুনিয়ে দিলেন। সুলাইমান আ. বাতাসকে হুকুম করলেন গ্রাম্য ব্যক্তির কাছে যাওয়ার জন্য। বাতাস সিংহাসন নিয়ে  নির্দিষ্ট গ্রামে গিয়ে থামল এবং সুলাইমান আ. গ্রাম্য ব্যক্তিকে তলব করলেন। বেদুইন তো ভয়ে আঁটসাঁট। তিনি শান্তনা দিয়ে বললেন, তুমি আমার সিংহাসন আকাশে উড়তে দেখে কি বাক্য উচ্চারণ করছিলে? গ্রাম্য লোকটি বলল, আশ্চর্য হয়ে আমি  سبحان الله  বলেছিলাম।
সুলাইমান আ. বলেন  سبحان الله  শব্দটি বলার মূল্য একজন সুলাইমানের রাজত্বের কি দাম! যদি সারা পৃথিবীও এর মুকাবেলায় দেয়া হয় তাও এর সমান মূল্য হবে না।
হাদীস শরীফে আবু মালেক আশআরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন-   الحمد لله  মিযানের পাল্লা ভারি করে দেয় এবং  سبحان الله  والحمد لله  যমীন এবং আসমানের মধ্যবর্তী জায়গা সওয়াব দ্বারা ভরে দেয়। নামায কিয়ামতের দিন নূর হবে এবং সাদকা বান্দার পক্ষে দলিল হবে, আর ধৈর্য্য কিয়ামতের দিন তোমার জন্য আলো আর পবিত্র কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল হবে। [মুসলিম, রিয়াজুস সালেহীন, ধৈর্য্য অধ্যায়]
হেদায়েত এত মূল্যবান হওয়ার কারণে এটা অর্জন করাও কঠিন হওয়ার কথা ছিল। কারণ যে জিনিস দামী তার অর্জনও কষ্টের এবং কঠিন হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হেদায়েতেরমত মহামূল্যবান সম্পদ যা সারা পৃথিবীর চেয়েও মূল্যবান তার অর্জন দয়াময় প্রভু এতটা সহজ করে দিলেন যে, এর চেয়ে সহজ বস্তু পৃথিবীতে আর কোথাও খোঁজে পাওয়া যাবে না। এর কারণ হলো আল্লাহ তাআলার বিশ্বজাহান সৃষ্টির শুরু থেকেই একটি নিয়ম চলে আসছে, যে জিনিসের প্রয়োজন মানুষের কম লাগে তার অর্জন আল্লাহ কঠিন করে দিয়েছেন। আর যে জিনিস মানুষের অহরহ প্রয়োজন তা আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করি- চারটি জিনিস পৃথিবীতে আছে যেমন- (১) সোনা রোপা (২) পরিধেয় কাপড় (৩) পানি (৪) বাতাস।

প্রথম সোনা চান্দি
এই সমস্ত ধাতু খুব কমই মানুষের ব্যবহারে লাগে। ব্যবহার তো দূরের কথা যদি সারা জীবন কেউ তার দেখা নাও পায় তবুও তার জিন্দেগী আরামের সাথে অতিবাহিত হয়। আমাদের চারিপাশে সামাজিক পরিবেশে অনেক পরিবার তো এমন পাওয়া যায়, যারা সোনা চান্দি কোনো দিন দেখেই নাই। যেহেতু সোনা রোপা মানুষের খুব কম ব্যবহারে লাগে। সে জন্য আল্লাহ তাআলা তা অর্জন করা কঠিন করে দিয়েছেন। অনেক কষ্ট মেহনত করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হয়তবা অল্প কিছু অর্জন করা যায়।

দ্বিতীয় পরিধেয় কাপড়
কাপড় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। সোনা রূপার তুলনায় এর ব্যবহার অনেক বেশি। কাপড় ব্যতীত মানুষের জীবন যাপন কঠিন। কিন্তু এমন না যে একজন মানুষ কাপড় ছাড়া বাঁচবে না। পৃথিবীর কোনো কোনো জায়গায় এমনও তো দেখা যায় যে, কাপড় ছাড়া মানুষ জীবন যাপন করছে। যেমন আফ্রিকার কোনো কোনো জায়গায় এমনটা মাঝে মাঝে দৃষ্টিগোচর হয়। মোটকথা, পরিধেয় কাপড় সোনা রূপার তুলনায় মানুষের ব্যবহারে বেশি প্রয়োজন পরে এবং এ কাপড় সংগ্রহ করাও সোনা রূপার তুলনায় সহজ।

তৃতীয় পানি
পানি মানুষের বেশি প্রয়োজন পড়ে। পানির প্রয়োজন সোনা চান্দি, পরিধেয় কাপড় ইত্যাদি থেকেও বেশি প্রয়োজন হয়। এমনকি পানি ছাড়া মানুষের জিন্দেগী অতিবাহিত করা বা বেঁচে থাকার চিন্তাও করা যায় না। যদি পানি না থাকে তাহলে মানুষ বাঁচতে পারে না। এরপরেও এমন না যে পানি ছাড়া দুই একদিন বাঁচতে পারবে না। তাই দয়াময় আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল করে পানিকে সোনা রূপা, পোশাক পরিচ্ছেদ ইত্যাদি থেকে সহজ করে দিয়েছেন। সাধারণত কোনো টাকা পয়সা ছাড়াই পানি পাওয়া যায়। তারপরও বেশি সংকট দেখা দিলে কখনও অল্প টাকাতেও পানি পাওয়া যায়।

চতুর্থ হলো বাতাস
বাতাস এমনি একটি পদার্থ যা ছাড়া মানুষ ক্ষণিকের জন্যও বাঁচতে পারে না। বাতাসের প্রয়োজন মানুষের জন্য সোনা চান্দি, কাপড়, পানি ইত্যাদি থেকেও বেশি প্রয়োজন। বাতাস যদি না থাকে মানুষ তো শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারবে না। বাতাস ছাড়া মানুষ এক মিনিটও বাঁচতে পারে না। অথচ বাতাসকে আল্লাহ তাআলা এত সহজ করে দিয়েছেন যে একজন ব্যক্তি চাই সে বাদশা হোক বা ফকির, ধনী হোক বা গরীব, মুসাফির হোক বা মুকিম ব্যবসায়ি হোক বা চাকুরিজীবি বা আরো যত পেশা তার হতে পারে প্রত্যেকের জন্য যতটুক প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করতে পারে। এটার জন্য না কোনো টাকা পয়সার প্রয়োজন না কোনো কষ্ট পোহাতে হয় আর না কেহ তা গ্রহণ করতে বাঁধা দেয়। এককথায় যে জিনিসের প্রয়োজন যতটুকু আল্লাহ তাআলা সেই জিনিসকে বান্দার জন্য তত সহজ করে দিয়েছেন। আর যে জিনিসের প্রয়োজন তুলনামূলক যত কম আল্লাহ তাআলা তা অর্জন করাও তত কঠিন করে দিয়েছেন।

হেদায়েত মানুষের জন্য সবচেয় প্রয়োজন
এখন চিন্তার বিষয় হলো উল্লিখিত চারটি জিনিস ছাড়া এমন কোনো জিনিস আছে যা মানুষের বেশি প্রয়োজন পরে? সাধারণত মানুষের সোনা রূপা, পেশাকা পরিচ্ছদ, পানি এবং বাতাসের প্রয়োজন বেশি পরে। যদি চিন্তা করা হয় তবে দেখা যাবে যে এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে আরেকটি জিনিসের তার নাম হলো ‘হেদায়েত’। বাতাস ছাড়া মানুষ কমছেকম ৩০ সেকে- থাকতে পারে। কিন্তু হেদায়েত ছাড়া একজন মানুষ এক সেকে-ও থাকতে পারে না। কেননা যদি মানুষ এই হেদায়েতের সম্পদ অর্জন করতে না পারে, আর সোনা রূপা, ধন-সম্পদ হাসিল করে। পানি বাতাস তার কাছে প্রচুর পরিমানে থাকে, তাহলে তার দুনিয়ার জীবন হয়তো সুখেই অতিবাহিত হবে; কিন্তু এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই। কেননা মানুষের হায়াত তো এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। এটাকে না কোনো বাদাশার বাদশাহি ধরে রাখতে পারবে, যারা রেশমের সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করে এবং দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পাতাসের বেগে চড়ে বেড়ায়। না কোনো সম্পদশালীর সম্পদ ফিরিয়ে রাখতে পারবে, যারা দুনিয়ার বড় বড় অট্টালিকায় বাস করে আর এরকম দুনিয়ার অত্যাধুনিক জাহাজে করে ঘুরে বেড়ায়। আর না কোনো ডাক্তারের ডাক্তারী এই হায়াতকে বেধেঁ রাখতে পারবে। আবার ঝুপড়িতে বসবাসকারী শুকনা রুটি খেয়ে ছেড়া কাপড় পরিধান করে দিনাতিপাতকারী ব্যক্তির জীবনও একদিন শেষ হয়ে যাবে। হয়ত তাদের জন্য সেই জীবনটা হবে ক্ষণিকের জন্য কষ্টের। তারপরও একদিন হইজীবনের ইতিটানবে দুনিয়ার সকল মানুষের। আল্লাহ তআলা ইরশাদ করেন- প্রত্যেক সত্ত্বাকে মৃত্যু আস্বাদন করতে হবে। আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিনে তোমাদের প্রাপ্য পুরোপুরি তোমাদের আদায় করা হবে। কাজেই যাকে আগুন থেকে বহুদূরে রাখা হবে ও স্বর্গোদ্যানে প্রবিষ্ট করা হবে, নিঃসন্দেহ সে হল সফলকাম। আর এই দুনিয়ার জীবন ধোঁকার সন্বল ছাড়া কিছুই নয়। [সূরা আল ইমরান : ১৮৫]
অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন- প্রত্যেক সত্ত্বাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। আর আমরা তোমাদের পরীক্ষা করি মন্দ ও ভাল দিয়ে যাচাই করে। আর আমাদের কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে। [সূরা আম্বিয়া : ৩৫]
কিন্তু আফসোসের বিষয়, যদি দুনিয়া থেকে একজন মানুষ এভাবে চলে যায় যে তার হেদায়েত নসীব হয় নাই, তাহলে সে দুনিয়ার জীবনেও বরবাদ হতভাগ্য; আখেরাতের অসীম, অনন্ত জীবনও বরবাদ ও দুর্ভোগে পোহাতে হবে। হেদায়েতহীন ব্যক্তি সারা জীবন শান্তি, আরাম আয়েশ ও প্রশান্তির খোঁজে জীবন পার করে দেয়; কিন্তু তা সে খোঁজ পায় না। বরং দুনিয়ার যিন্দেগীতে সে হায় হুতাশ, অস্থির, দুঃখ কষ্ট ও অশান্তিতে কাটায়।
মোটকথা, হেদায়েত মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই তা হাসিল করাও সহজ করে দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। রাজা বাদশা, ধনী গরিব, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, আমির উমারা রাজ প্রাসাদের উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ে থেকেও যেমন হেদায়েত অর্জন করতে পারে, তেমনি একজন গরীব ফকীর রাস্তার ভিখারীও আল্লাহর অলী, গাউস, কুতুব বুজুর্গ হতে পারে। হেদায়েত হাসিল করার জন্য আল্লাহ তাআলা সকলের জন্য তা ব্যাপক করে দিয়েছেন। যেন কিয়ামতের দিন কোনো ভিক্ষুক একথা বলতে না পারে যে, হে আল্লাহ! হেদায়েত তো অনেক দামী জিনিস আর আমার কাছে তো কোনো টাকা পয়সা ছিল না। খুব খেয়াল করলে দেখা যাবে ইসলামের প্রতিটি আহকাম যেমন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে সমাসীন আমীর উমারা, রাজা বাদশা আদায় করতে পারে, তেমনি তা পালন করতে পারে সমাজের সাধারণ থেকে সাধারণ ফকীর, মিসকিন, খেটে খাওয়া মজদুরও। যেমন নামায, রোযা, পর্দা, সুন্দর ব্যবহার ইত্যাদি  একজন বাদশা যেমন পালন করতে পারে একজন ফকীর বা খেটে খাওয়া একজন আদায় করতে পারে।
ঈমান ও হেদায়েত অর্জনের তরিকা
আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে হেদায়েত লাভের দুটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন-
প্রথম পদ্ধতি: যেহেতু হেদায়েতের মালিক আল্লাহ তাআলা। পবিত্র কুরআনে ঘোষাণ হয়েছে-  হে নবী! আপনি যাকে ভালবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারেন না। [সূরা কাসাসা : ৫৬] তাই তার কাছেই হেদায়েত চাইতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা দয়া করে নিজ মেহেরবানিতে হেদায়েতের দৌলত দান করবেন। এজন্য বেশি বেশি দোআ করতে হবে। আর আল্লাহ তাআলা সেই হেদায়েত চাওয়ার দোআও শিখিয়েছেন- اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ  (হে আল্লাহ!) আমাদের তুমি সহজ-সঠিক পথে পরিচালিত করো। [সূরা ফাতিহা : ৪]
এই দোআটি সূরা ফাতিহাতে উল্লেখ করেছেন। এজন্য এই সূরার এক নাম হলো ‘তালিমুল মাসআলা’। আল্লাহ তাআলা এই সূরা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া শিখিয়েছেন। এখানে যে সওয়াল করা শিখিয়েছেন এটা দুনিয়াবী কোনো সম্পদ চাওয়া শিখাননি; বরং তিনি মানুষের জীবনের সবচেয় মূল্যবান জিনিস হেদায়েত চাওয়া শিখিয়েছেন। আর এই চাওয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। কেননা বাদশাহ নিজেই দরখাস্ত লিখে বান্দাকে দিয়েছেন এবং বলেছেন তোমরা এভাবে আমার কাছে চাও। আর এর কবুলিয়তের কথা তো তিনি অন্য আয়াতে ঘোষণা করেছেন এভাবে- ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সন্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন  তো! আমি নিঃসন্দেহ অতি নিকটে। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার জবাব দিই যখনি সে আমাকে আহ্বান করে। কাজেই তারা আমার প্রতি সাড়া দিক আর আমাতে ঈমান আনুক, যাতে তারা সুপথে চলতে পারে। ’ [সূরা বাকারা : ১৮৬]

দ্বিতীয় তরিকা: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে ইরশাদ করেন-
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ পক্ষান্তরে যারা আমার জন্য সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের পরিচালিত করব আমার পথগুলোয়। আর আল্লাহ্ নিশ্চয়ই সৎকর্মীদের সাথেই রয়েছেন। [সূরা আনকাবুত : ৬৯]
অর্থাৎ হেদায়েতওয়ালা মেহনত করা হলে অবশ্যই হেদায়েত দেওয়া হবে। দ্বীনের মেহনত করলে আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করছেন যারা দ্বীনের জন্য মেহনত করে তারা হেদায়েতের জন্যই মেহনত করে।
আয়াতে لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا এর অর্থ হলো, আমি অবশ্যই তাদের পরিচালিত করব আমার পথগুলোয় অর্থাৎ আমি আমার সত্ত্বা পর্যন্ত পৌঁছা যাবে এমন রাস্তা অবশ্যই তাদের দান করব। দুনিয়ার বাস্তব জীবনে দেখা যায়, যে ব্যক্তি যে জিনিসের উপর মেহনত করে সে সেটা পেয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা দুধ বিক্রি করে, দুধের তালাশে সারাদিন ঘুরে তাহলে অবশ্যই তার ঘরে দুধ পাওয়া যাবে। তেমনিভাবে একজন রুটি তৈরিকারী সে সারাদিন রুটি বানায় তাহলে তার ঘরের মানুষ, তার সন্তানাদিরা না খেয়ে থাকবে না। অবশ্যই রুটি খাবে, যদিও গ্রামের অন্য ঘরের লোকেরা না খেয়ে থাকে। এভাবে আমরা আমাদের চতুরপার্শ্বে লক্ষ করলে দেখতে পাবো, দুনিয়াতে যারা যে জিনিসের উপর মেহনত করে প্রতিদান স্বরুপ সে তা অর্জন করে। যেখানে দুনিয়ার সামান্য জিনিসের উপর মেহনত করলে তা পাওয়া যায়, তাহলে হেদায়েতের জন্য মেহনত করলে মহান আল্লাহ তাআলা বুঝি মাহরুম রাখবেন? এটা কখনই হতে পারে না। দ্বীনের মেহনত করার জন্য, হেদায়েতের মেহনত করার জন্য আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ. থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার আম্বিয়া কেরাম কে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন এবং সকলেই হেদায়েতের মেহনত করেছেন আর উনারা প্রত্যেকেই হেদায়েত প্রাপ্ত ছিলেন। তাঁরা রাত দিন নিজ নিজ উম্মতের পিছনে পিছনে ঘুরেছেন, তাদের কাছে গিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন ঈমান ও হেদায়েত লাভের জন্য। যাদের ভাগ্যে হেদায়েত ছিল তারা হেদায়েত পেয়েছে আর যাদের ভাগ্য মন্দ তারা বঞ্চিত হয়েছে।
মোটকথা, হেদায়েত লাভের দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, হেদায়েতওয়ালী মেহনত করতে হবে। আল্লাহ পাকের ওয়াদা রয়েছে হেদায়েতের মেহনতকারীদের অবশ্যই হেদায়েত দিবেন। মনে করেন, একভাই অন্য ভাইকে বলল, নামায পড়েন। তাহলে প্রথম ভাই কিভাবে নামায না পড়ে থাকতে পারে? অথবা বলল, আপনি রোযা রাখুন তাহলে সে নিজে কিভাবে রোযা ভাঙ্গবে? অথবা বলল, ভাই, আপনারা চুরি করবেন না, তাহলে সে নিজে কিভাবে চুরি করতে পারে?

হেদায়েতের মেহনতের প্রকারভেদ
হেদায়েত লাভের জন্য বিভিন্ন প্রকারের মেহনত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে যে কোনো এক প্রকার গ্রহণ করলেও সেটা হেদায়েতের মেহনত বলে গণ্য হবে। হেদায়েতের মেহনতকে কোনো একটি পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ করা ঠিক না। সারা দুনিয়ায় দীন জিন্দা করার জন্য এখলাসের সাথে যে সমস্ত মেহনত চলছে সবগুলোই হেদায়েতের মেহনতের বিভিন্ন প্রকার। যেমন তাবলীগ জামাতের নামে সারা দুনিয়ায় একটি দল কাজ করছে, এটাও হেদায়েতে মেহনত। কেউ কেউ আবার দীন প্রতিষ্ঠার জন্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছেন, তাদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন এবং সেখানে পড়ছেন পড়াচ্ছেন। আবার কেউ এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা দীনকে আল্লাহর যমীনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাস্তায় শসস্ত্র যুদ্ধ করছেন। এ সব কিছুই দ্বীনের জন্য মেহনত তথা সবাই হেদায়েতের রাস্তায় আছেন। কারো এটা ভাবার কোনো যুক্তি নাই যে দ্বীনের জন্য আমি যে পদ্ধতি গ্রহণ করছি একমাত্র এটাই হেদায়েতের পথ। উদারহরণস্বরূপ বলা যায়- আল্লাহর রাস্তায় ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান সশস্ত্র জিহাদকারী যুবকদের এটা ভাবার কোনো সুযোগ নাই যে, আসল কাজ তো আমরাই করছি আর বাকি মাদরাসার উলামা হযরত এবং তাবলীগ জামাতের লোকেরা সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই করছে না। তেমনি তাবলীগ জামাতের লোকদেরও এটা ভাবার কোনো সুযোগ নাই যে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে বা মাদরাসায় পড়াচ্ছেন পড়ছেন তারা অনর্থক সময় নষ্ট করছেন। এররকমভাবে মাদরাসার উলামাগণ, তাদেরও এমন ধারণা করা ঠিক না। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো- একটি ঘরের ছাদের ওজন ঘরের চার দিকের দেওয়াল বহন করছে। এখন যদি উত্তর দিকের দেওয়াল বলে ছাদের সমস্ত ভর আমি একা বহন করছি তাহলে তার এ দাবী ভুল প্রমাণিত হবে, যখন অপর তিনটি দেওয়াল সরিয়ে ফেলা হবে। ঠিক তেমনি ইসলাম নামের ইমারাতের ভার বহনের ক্ষেত্রে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত এখলাসের সাথে কর্মকারী সকল দলই শরিক। বরং প্রত্যেকেই মনে করতে হবে যে দ্বীনের মেরুদ- তিনটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. দাওয়াত ২. তালিম ৩. জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
রাসূল সা. এর সাহচর্যের বরকতে সাহাবায়ে কেরাম রা. এমন শক্তি অর্জন করেছিলেন, যে তাঁরা একসাথে সব কাজই করতে পারতেন। তারা একই সময় আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ ছিলেন, দাঈ ছিলেন, মুফাসসির, ফকীহ এবং মুহাদ্দিস ছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের মাঝে যখন ঈমানী দুর্বলতা আসতে শুরু করল, আস্তে আস্তে দ্বীনের এসমস্ত কাজ ভাগ হতে লাগল। একই সাথে একজনের জন্য সবগুলো করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ইল্লা মাশাআল্লাহ যারা যে লাইনে পারদর্শী তারা সে লাইনে মেহনত করবে এবং অন্যদের জন্য যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করবে কমছেকম দোআর মধ্যে সকলকে শামিল করবে। তাদের বিরোধিতা করবে না। কেননা এসবই দ্বীনের কাজ, হেদায়েতের মেহনত। বারাবাড়ি আর ছাড়াছাড়ি থেকে নিজেকে বাঁচানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর
অনেকের মনে শয়তানে প্রশ্ন জাগাতে পারে যে, আমাদের তো হেদায়েতের দৌলত আছেই। আমরা তো মুসলমানদের ঘরেই জন্ম নিয়েছি এবং কালিমা পড়ছি। আমাদের নামও মুসলমান। নামায পড়ি, রোযা রাখি। আমাদের কি প্রয়োজন যে আমরা হেদায়েতের জন্য মেহনত করব হেদায়েতের জন্য দোআ করব? এই কষ্ট করার কি প্রয়োজন?
উত্তরে বলব- প্রথমত আমাদের হেদায়েতেরমত দৌলত আছে, কিন্তু যতটুকু হেদায়েত আমাদের আছে তা অপরিপূর্ণ। পরিপূর্ণ হেদায়েত অর্জনের জন্য দোআ করতে হবে এবং মেহনতও করতে হবে। পরিপূর্ণ হেদায়েত হলো চব্বিশ ঘন্টার যিন্দিগী আল্লাহ তাআলার হুকুমে এবং রাসূল সা. এর সুন্নত তরিকায় অতিবাহিত করা। আল্লাহ তাআলা যেসব কাজের হুকুম করছেন তা পুরোপুরি পালন করা এবং যা থেকে নিষেধ করছেন তা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা। আর রাসূল সা. এর প্রতিটি সুন্নত নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তাহলে এখন আমরা নিজেরাই চিন্তা করি আমরা কতটুকু হুকুম পালন করছি এবং রাসূলের সুন্নাত আমার যিন্দিগীতে কতটুকু আসছে, যেহেতু রাসূলের সুন্নাত এবং আল্লাহর হুকুম পুরোপুরি পালন করতে পারছি না, বুঝা গেল আমার হেদায়েত অপূর্ণাঙ্গ রয়ে গেছে। তাই এই নাকেস হেদায়েত কামেল করার জন্য আল্লাহর কাছে  হেদায়েতের জন্য দোআ ও পুরোপুরি মেহনত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মেনে নিলাম আমার হেদায়েত নাকেস তবুও এটা এত দামী যে সারা দুনিয়া দিয়ে হলেও এর মূল্য হবে না। কেননা যার কাছে যত দামী জিনিস থাকে তার ভয়ও সেরকম, না জানি কখন লুটেরার দল লুট করে নিয়ে যায়। ঠিক আমাদেরও সেইরকম দামী জিনিস হেদায়েতের দৌলত রয়েছে। এটাও তো লোট করে নেয়ার ভয় আছে। শয়তান এবং মনের কুপ্রবৃত্তি সর্বদায় আমার পিছনে লেগে আছে কিভাবে আমার মহামূল্যবান সম্পদ হেদায়েত ছিনিয়ে নেওয়া যায়। সে জন্য এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হেদায়েতের পিছনে ঈমানের পিছনে মেহনত করতে হবে। যেন আল্লাহ তাআলা ছিনতাইকারীদের ছিনতাই থেকে আমাদের ঈমান ও হেদায়েতকে রক্ষা করেন।

আব্দুল কাদের জিলানী রহ. এর ঈমানী পরীক্ষা
হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহ. শেষ বয়সে একটি জঙ্গলে বসবাস করছিলেন। তিনি সেখানে মুরাকাবায় মগ্ন ছিলেন। হঠাৎ মেঘের আকৃতিতে আকাশের দিক থেকে একটি নূরের ঝলকানি ছায়াপাত করল এবং সেখান থেকে আওয়াজ আসল- হে আব্দুল কাদের! আমি তোমার খোদা, তুমি মেহনত করে আমার অনেক ইবাদত করেছ, অনেক মুজাহাদা করেছ, অনেক চেষ্টা সাধানা করেছ, অনেক কষ্ট করে আমাকে খুশি করেছ। আমি খুশি হয়ে আজ তোমার উপর থেকে নামায মাফ করে দিলাম, রোযা মাফ করে দিলাম। এমনকি তোমার উপর থেকে দ্বীনের সব আহকামাত রহিত করে দিলাম। আজ থেকে তুমি স্বাধীন। তোমাকে দ্বীনের ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হবে না। তোমার মন যা চায় তা করে বেড়াও। আব্দুল কাদের জিলানী রহ. তাৎক্ষণিক বললেন-

দূর হয়ে যা। তুই অভিশপ্ত শয়তান, ধোঁকাবাজ ইবলিস। আল্লাহর প্রিয় বান্দা আম্বিয়ায়ে কেরামের চেয়ে বেশি কষ্ট সাধনাকারী ইবাদতগুজার বান্দা আর কে হতে পারে? দ্বীনের জন্য মুজাহাদা, রিয়াজত করা তাদের চেয়ে বেশি আর কে আছে করতে পারে? অথচ আল্লাহ তাআলা তাদের থেকে নামায রোযাসহ দ্বীনের কোনো আহকামাত রহিত করেননি। আর আমি কে, যে আমার থেকে তা উঠিয়ে নেয়া হবে? হে আল্লাহ! অভিশপ্ত শয়তান হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দ্বিতীয়বার আবার আওয়াজ আসল, হে আব্দুল কাদের! প্রায় সত্তর জন আবদাল দুনিয়া হতে অতিবাহিত হয়েছে যাদের শেষ বয়সে আমি ধোঁকা দিয়ে গোমরা করেছি, কিন্তু আজ তোমার ইলম তোমাকে আমার ধোঁকা থেকে বাচিয়েছে। অন্যথায় তুমিও পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে। আব্দুল কাদের রহ. দ্বিতীয়বার আবার বললেন-                                        দূর হয়ে যা। জালেম! এটা তোর দ্বিতীয় হামলা। আমার ইলম আমাকে বাঁচাতে পারেনি; বরং আল্লাহর রহমত এবং তার সাহায্য না পেলে আমিও তোর ধোঁকায় পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম।
সুতরাং বুঝা গেল আমাদের হেদায়েত নাকেস বা অপূর্ণাঙ্গ। তাকে পরিপূর্ণ করা আমাদের উচিত। তাছাড়া যতটুকু হেদায়েত আমাদের আছে তাও লুটে নেয়ার সমূহ ভয় রয়েছে। এ জন্য এটা সংরক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আল্লাহ তাআলা সূরা ফাতিহাতে যেমন হেদায়েত চাওয়ার নিয়ম শিখিয়েছেন, সূরা আলে ইমরানেও এভাবে দোআ শিখিয়েছেন-
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ  আমাদের রব! আমাদের অন্তরকে বিপথগামী করো না আমাদের হেদায়েত করার পরে, আর তোমার নিকট থেকে আমাদের করুনা প্রদান কর। নিশ্চয় তুমি নিজেই পরম বদান্য। [সূরা আলে ইমরান : ৮]
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন আমিন।

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ঈমান মাও: আবু সুফিয়ান


بسم الله الرحمن الرحيم
ঈমান
আল্লাহ্ তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, কিয়ামত দিবস ও তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান হচ্ছে ইসলামী আকিদার মূল ভিত্তি। 
আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন ঃ 
وَلــكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَ. (بقرة : ১৭৭)
অর্থ ঃ বরং নেককার ঐ ব্যক্তি যে ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাগণের উপর এবং সমস্ত নবী-রাসূলগণের উপর। (বাকারাঃ ১৭৭) 
তিনি আরো বলেন ঃ 
آمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّـه وَالْمُؤْمِنُوْنَ كُلٌّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلاَئِكَتِـه وَكُتُبِـه وَرُسُلِـه . (بقرة : ২৮৫)
অর্থ ঃ রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ কিতাবের প্রতি যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং মু‘মিনগণও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং রাসূলগণের প্রতি। (বাকারা ঃ ২৮৫) 
আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন ঃ 
يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا آمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِـه وَالْكِتَابِ الَّذِيْ نَزَّلَ عَلى رَسُوْلِـه وَالْكِتَابِ الَّذِيْ أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَّكْفُرْ بِاللهِ وَمَلاَئِكَتِـه وَكُتُبِـه وَرُسُلِـه وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيْدًا . (النساء : ১৩৬)
অর্থ ঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর উপর পরিপূর্ণভাবে ঈমান আনয়ন কর এবং তাঁর রাসূল ও তাঁর কিতাবের উপর যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রাসূলের উপর এবং সে সমস্ত কিতাবের উপর যেগুলো ইতিপূর্বে নাযিল করা হয়েছিল। যে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ এবং কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাস করবে না, নিশ্চয়ই সে সুদূর বিপথে বিভ্রান্ত হয়েছে। (নিসা ঃ ১৩৬)
জিবরাঈল (আ) রাসূল সা. কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন ঃ 
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلاَئِكَتِـه وَكُتُبِـه وَرُسُلِـه وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدْرِ خَيْرِه وَشَرِّه . (مسلم)
অর্থ ঃ ঈমান হচ্ছে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাম আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, কিয়ামত দিবস ও তাকদীরের ভাল-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এ ব্যাপারে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা। (মুসলিম) 

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫

আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম, সেগুলোর অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম আছে, সেই নামের মাধ্যমে তোমরা তাঁকে ডাক। (সূরা আরাফঃ ১৮০)
আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إلاَّ واَحِداً مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
আল্লাহ তায়ালার এমন নিরানব্বইটি (এক কম একশ) নাম রয়েছে, যে উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)
হাদীছে যে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এর অর্থ হচ্ছে:
(১) শব্দও সংখ্যা সমূহ গণনা করা।
(২) উহার অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করা, তার প্রতি ঈমান রাখা ও সে অনুযায়ী আমল করা। যেমন: الْحَكِيمُ মহা বিজ্ঞ। বান্দা যখন নিজের যাবতীয় বিষয় তাঁর কাছে সমর্পণ করবে তখনই এ নামের উপর আমল হবে। কেননা সকল বিষয় তাঁরই হেকমত ও পাণ্ডিত্যেই হয়ে থাকে। বান্দা যখন বলবে الْقُدُّوسُ বা মহা পবিত্র, তখন অন্তরে অনুভব করবে যে, তিনি যাবতীয় দোষ-ত্র“টি থেকে পূত পবিত্র।
(৩) নামসমূহ উল্লেখ করে দুআ করা। এ দুআ দুপ্রকারঃ (ক) প্রশংসা ও ইবাদতের দুআ (খ) প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রার্থনা।
কুরআন ও সুন্নাহ্ অনুসন্ধান করে আল্লাহর যে সমস্ত নাম জানা যায় তা নিম্নরূপ:
আল্লাহরনাম সমূহ
নামের ব্যাখ্যা
الله
( আল্লাহ)আল্লাহ্‌। তিনি সৃষ্টিকুলের ইবাদত ও দাসত্বের অধিকারী। তিনিই মাবূদ-উপাস্য, তাঁরকাছে বিনীত হতে হয়, রুকূ-সিজদাসহ যাবতীয় ইবাদত-উপাসনা তাঁকেই নিবেদন করতে হয়।
الرَّحْمَنُ
(আর রাহমান)পরম দয়ালু, সৃষ্টির সকলের প্রতি ব্যাপক ও প্রশস্ত দয়ার অর্থবোধক নাম। এ নামটিআল্লাহর জন্যে সবিশেষ, তিনি ব্যতীত কাউকে রহমান বলা জায়েয নয়।
الرَّحِيمُ
(আর রাহীম)পরম করুণাময়, তিনি মুমিনদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমাকারী করুণাকারী, তাঁরইবাদতের প্রতি মুমিনদের হেদায়াত করেছেন। জান্নাত দিয়ে আখেরাতে তাদেরকে সম্মানিতকরবেন।



العَفُوُ
আল আফুউ) ক্ষমাকারী, তিনি বান্দার গুনাহ মিটিয়ে দেন তাকে ক্ষমা করে দেন, অপরাধ করে শাস্তিযোগ্য হওয়া সত্বেও তিনি শাস্তি দেন না।
الغَفُوْرُ
(আল গাফূর) মহাক্ষমাশীল, তিনি বান্দার অন্যায় গোপন রাখেন, তাকে লাঞ্ছিত করেন না এবং শাস্তিও দেন না।
الْغَفَّارُ
(আল গাফফার) অত্যধিক ক্ষমাকারী, গুনাহগার বান্দা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।
الرَّءُوفُ
( আর  রাউফ) অতিব দয়ালু, রহমত বা দয়ার সাধারণ অর্থের তুলনায় এ শব্দটি অধিক ও ব্যাপক অর্থবোধক তাঁর এই দয়া দুনিয়াতে সৃষ্টির সকলের জন্যে এবং আখেরাতে কতিপয় মানুষের জন্যে। আর তারা হচ্ছে আল্লাহর বন্ধু মুমিনগণ।
الحَلِيمُ
(আল হালীম) মহাসহিষ্ণু, তিনি বান্দাদেরকে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না; অথচ তিনি শাস্তি দিতে সক্ষম। বরং তারা মাফ চাইলে তিনি তাদেরকে মাফ করে দেন।
التَّوَّابُ
(আত তাওয়াব) তওবা কবূলকারী, তিনি বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তওবা করার তাওফীক দেন এবং তাদের তওবা কবূল করেন।
السِّتِّيْرُ
الغَنِيُّ
(আল গানী) ঐশ্বর্যশালী, তিনি সৃষ্টিকুলের কারো মুখাপেক্ষী নন। কেননা তিনি নিজে পরিপূর্ণ, তাঁর গুণাবলী পরিপূর্ণ। সৃষ্টির সকলেই ফকীর, অনুগ্রহ ও সাহায্যের জন্যে তাঁর উপর নির্ভরশীল।
الكَرِيمُ
(আল কারীম) মহা অনুগ্রহশীল, সর্বাধিক কল্যাণকারী, সুমহান দানকারী। যাকে যা চান যেভাবে ইচ্ছা দান করেন। চাইলেও দান করেন, না চাইলেও দান করেন। গুনাহ মাফ করেন, দোষ-ত্রুটি গোপন রাখেন।
الأَكْرَمُ
(আল আকরাম) সর্বাধিক সম্মানিত, সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী, তাতে তাঁর কোন দৃষ্টান্ত নেই। যাবতীয় কল্যাণ তাঁর নিকট থেকেই আসে। নিজ অনুগ্রহে মুমিনদের পুরস্কৃত করবেন। অবাধ্যদের সুযোগ দেন, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে তাদের হিসাব নিবেন।
الْوَهَّابُ
(আল ওয়াহহাব) মহান দাতা, বিনিময় ব্যতীত বিনা উদ্দেশ্যেই অত্যধিক দান করেন। না চাইতেও অনুগ্রহ করেন।
الْجَوَادُ
(আল  জাওয়াদ) উদার দানশীল, সৃষ্টিকুলকে উদারভাবে অধিক দান ও অনুগ্রহ করেন। তাঁর উদারতা ও অনুগ্রহ বিশেষভাবে মুমিনদের প্রতি বেশী হয়ে থাকে।
الْوَدُودُ
(আল ওয়াদূদ) মহত্তম বন্ধু, তিনি তাঁর মুমিন বন্ধুদের ভালবাসেন, মাগফিরাত ও নেয়ামত দিয়ে তিনি তাদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের আমল কবূল করেন। তাদেরকে পৃথিবীবাসীর কাছেও ভালবাসার পাত্র করেন।
الْمُعْطِي
(আল মু’তী) দানকারী, তাঁর অফুরন্ত ভান্ডার থেকে সৃষ্টিকুলের যাকে চান যা চান প্রদান করেন। তাঁর দানের শ্রেষ্ঠাংশ তাঁর (মুমিন) বন্ধুদের জন্যে হয়ে থাকে। তিনিই সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন ও তাতে আকৃতি প্রদান করেছেন।
الوَاسِعُ
(আল ওয়াসি’) মহা প্রশস্ত, তাঁর গুণাবলী সুপ্রশস্ত। কেউ যথাযথভাবে তাঁর গুণগান গাইতে পারবে না। তাঁর মহত্ব ও রাজত্ব সুবিশাল প্রশস্ত। তাঁর মাগফিরাত ও করুণা সুপ্রশস্ত। দয়া ও অনুগ্রহ সুপ্রশস্ত।
الْمُحْسِِنُ
(আল মুহসিন) মহা অনুগ্রহকারী, তিনি স্বীয় সত্বা, গুণাবলী ও কর্মে অতি উত্তম। তিনি সুন্দরভাবে সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টিকুলের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।
الرازقُ
(আর রাযিক) রিযিকদাতা, তিনি সৃষ্টিকুলের সকলকে রিযিক দিয়ে থাকেন। তিনি জগত সৃষ্টির পূর্বে তাদের রিযিক নির্ধারণ করেছেন। আর পরিপূর্ণরূপে সেই রিযিক তাদের প্রদান করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
الرَّزَّاقُ
(আর রাযযাক) সর্বাধিক রিযিকদাতা, তিনি সৃষ্টিকুলকে অধিকহারে রিযিক দিয়ে থাকেন। তাঁর কাছে প্রার্থনা না করতেই তিনি রিযিকের ব্যবস্থা করেন। এমনকি অবাধ্যদেরকেও তিনি রিযিক দিয়ে থাকেন।
اللَطِيْفُ
(আল লাত্বীফ) সুক্ষ্ণদর্শী, সকল বিষয়ের সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ জ্ঞান আছে তাঁর কাছে। কোন কিছুই গোপন থাকেনা তাঁর নিকট। তিনি বান্দাদের নিকট এত গোপনীয়ভাবে কল্যাণ ও উপকার পৌঁছিয়ে থাকেন যে তারা ধারণাই করতে পারে না।
الخَبيْرُ
(আল খাবীর) মহাসংবাদ রক্ষক, তিনি যেমন সকল বস্তুর প্রকাশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখেন, অনুরূপভাবে তাঁর জ্ঞান সবকিছুর গোপন ও অপকাশ্য সংবাদকেও বেষ্টন করে আছে।
الْفَتَّاحُ
(আল ফাত্তাহ) উন্মোচনকারী, তিনি তাঁর রাজত্বের ভান্ডার এবং করুণা ও রিযিক থেকে যা ইচ্ছা বান্দাদের জন্যে খুলে দেন। তাঁর জ্ঞান ও হিকমত অনুযায়ীই তিনি তা উন্মুক্ত করে থাকেন।
العَلِيمُ
(আল আ’লীম) মহাজ্ঞানী, তাঁর জ্ঞান বেষ্টন করে আছে যাহের-বাতেন, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের যাবতীয় বিষয়কে। কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন বা লুকায়িত নয়।
البَرُّ
(আল বার) মহাকল্যাণদাতা, তিনি সৃষ্টিকুলকে প্রশস্ত কল্যাণদানকারী। তিনি প্রদান করেন কিন্তু তাঁর দানকে কেউ গণনা করতে পারে না। তিনি নিজ অঙ্গীকারে সত্যবাদী। তিনি বান্দাকে ক্ষমা করেন, তাকে সাহায্য করেন ও রক্ষা করেন। তিনি বান্দার অল্পদানও গ্রহণ করেন এবং তার ছওয়াবকে বৃদ্ধি করতে থাকেন।
الحَكِيْمُ
(আল হাকীম) মহাবিজ্ঞ, তিনি নিজ জ্ঞানে সকল বস্তুকে উপযুক্তভাবে স্থাপন করেন। তাঁর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কোন ত্রুটি হয় না ভুল হয় না।
الْحَكَمُ
(আল হাকাম) মহাবিচারক, তিনি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে সৃষ্টিকুলের বিচার করবেন। কারো প্রতি অত্যাচার করবেন না। তিনিই সম্মানিত কিতাব (সংবিধান) নাযিল করেছেন, যাতে করে উক্ত সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মাঝে বিচার কার্য সম্পাদন করা যায়।
الشَّاكِرُ
(আশ শাকির) কৃতজ্ঞতাকারী, যে বান্দা তাঁর আনুগত্য করে ও তাঁর গুণগান গায় তিনি তার প্রশংসা করেন। আমল যত কম হোক না কেন তিনি তাতে প্রতিদান দেন। যারা তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া করে বিনিময়ে তাদের নেয়ামতকে দুনিয়াতে আরো বৃদ্ধি করে দেন এবং পরকালে প্রতিদান বৃদ্ধি করবেন।
الشَّكُورُ
(আশ শাকুর) কৃতজ্ঞতাপ্রিয়, বান্দার সামান্য আমল তাঁর কাছে পবিত্রময়। তিনি তাতে বহুগুণ ছওয়াব প্রদান করেন। বান্দার প্রতি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা করার অর্থ হচ্ছে তার কর্মের প্রতিদান দেয়া এবং আনুগত্য গ্রহণ করা।
الجَمِيْلُ
(আল জামীল) অতিব সুন্দর, তিনি নিজ সত্বা, নাম ও গুণাবলীতে এবং কর্মে অতিব সুন্দর। সৃষ্টির যে কোন সৌন্দর্য তাঁর পক্ষ থেকেই প্রদত্ত।
الْمَجِيدُ
(আল মাজীদ) মহাগৌরবান্বিত সপ্তাকাশে ও পৃথিবীতে গর্ব ও অহংকার, সম্মান ও মর্যাদা এবং উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র তাঁরই।
الْوَلِيُّ
(আল ওয়ালী) মহা অভিভাবক, তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতিটি বিষয়ের পরিচালনাকারী, রাজত্বে কর্তৃত্বকারী। তিনিই তাঁর মুমিন বন্ধুদের সাহায্যকারী, মদদকারী ও রক্ষাকারী।
الْحَمِيدُ
(আল হামীদ) মহাপ্রশংসিত, তিনি নিজ নাম, গুণাবলী ও কর্মে সর্বোচ্চ প্রশংসিত। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও সচ্ছলতা-অভাবে তাঁরই প্রশংসা। তিনিই সকল প্রশংসা ও স্তুতির হকদার। কেননা তিনি সকল পরিপূর্ণ গুণাবলীর অধিকারী।
المَوْلَى
(আল মাওলা) অভিভাবক, তিনি পালনকর্তা, বাদশা, নেতা। তিনি তাঁর মুমিন বন্ধুদের সাহায্য ও সহযোগিতাকারী।
النَّصِيْرُ
(আন নাসীর) সাহায্যকারী, তিনি যাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। তিনি যাকে মদদ করেন তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তিনি যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে কেউ সাহায্য করতে পারে না।
السَّمِيعُ
মহাশ্রবণকারী, তাঁর শ্রবণ প্রত্যেক গোপনীয় সলা-পরামর্শকে বেষ্টন করে, প্রত্যেক প্রকাশ্য বিষয়কে বেষ্টন করে; বরং সকল আওয়াজকে বেষ্টন করে তা যতই উঁচু হোক অথবা নীচু বা ক্ষীণ হোক।
البَصِيرُ
(আল বাসীর) মহাদ্রষ্টা, তাঁর দৃষ্টি জগতের সকল কিছুকে বেষ্টন করে আছে। দৃশ্য-অদৃশ্য সকল কিছুই তিনি দেখতে পান। যতই গোপন বা প্রকাশ্য হোক না কেন অথবা ক্ষুদ্র ও বৃহৎ হোক না কেন তাঁর অগোচরে কিছুই থাকে না।
الشَّهِيدُ
(আশ শাহীদ) মহাস্বাক্ষী, তিনি সৃষ্টিকুলের পর্যবেক্ষক। তিনি নিজের একত্ববাদ ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। মুমিনগণ তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করলে তিনি তাদের স্বাক্ষী হন। তিনি তাঁর রাসূলগণ এবং ফেরেশতাদের জন্যেও স্বাক্ষী|
الرَّقِيبُ
(আর রাক্বীব) মহাপর্যবেক্ষক, তিনি সৃষ্টিকুলের সবকিছুই জানেন। তিনি তাদের কর্ম সমূহ গণনা করে রাখেন। কারো চোখের পলক বা অন্তরের গোপন বাসনা তাঁর জ্ঞান বহির্ভূত নয়।
الرَّفِيْقُ
(আর রাফীক্ব) মহান বন্ধু, দয়ালু, তিনি নিজের কর্মে খুব বেশী নম্রতা অবলম্বন করেন। তিনি সৃষ্টি ও নির্দেশের বিষয় ক্রমান্বয়েও ধীরস্থীরভাবে সম্পন্ন করেন। তিনি বান্দাদের সাথে কোমল ও দয়ালু আচরণ করেন। সাধ্যের বাইরে তাদের উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেন না। তিনি নম্র-ভদ্র বান্দাকে ভালবাসেন।
القَرِيْبُ
(আল ক্বরীব) সর্বাধিক নিকটবর্তী, তিনি জ্ঞান ও ক্ষমতার মাধ্যমে সকল সৃষ্টির নিকটবর্তী। সাহায্য ও দয়ার মাধ্যমে মুমিন বন্দাদের নিকটবর্তী। সেই সাথে তিনি সপ্তাকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত। তিনি  স্বসত্বায় মাখলুকের সাথে মিশে থাকেন না
المُجِيبُ
(আল মুজীব) কবূলকারী, আহবানে সাড়াদানকারী, তিনি আহবানকারীর আহবানে এবং প্রার্থনকারীর প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে থাকেন। তাঁর জ্ঞান ও হিকমত অনুযায়ীই তিনি সাড়া দিয়ে থাকেন।
الْمُقِيْتُ
(আল মুক্বীত) ভরণ-পোষণ দানকারী, খাদ্যদাতা, তিনি রিযিক ও খাদ্য সৃষ্টি করেছেন এবং তা মাখলুকের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন। তিনি বান্দার রিযিক ও আমল লোকসান ও ত্রুটি ছাড়াই সংরক্ষণ করেন।
الْحَسِيبُ
(আল হাসীব) মহান হিসাব রক্ষক, যথেষ্ট, বান্দার দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্যে তিনিই যথেষ্ট। তাঁর যথেষ্টতার শ্রেষ্ঠাংশ মুমিনদের জন্যে নির্ধারিত। মানুষ দুনিয়ায় যে আমল সম্পাদন করেছে তিনি তার হিসাব নিবেন।
المُؤْمِنُ
(আল মু’মিন) নিরাপত্তাদানকারী, বিশ্বাসী, নবী-রাসূল এবং তাঁদের অনুসারীদের সত্যতার সাক্ষী দিয়ে তিনি তাদের সত্যায়ন করেছেন। তাঁদের সত্যতাকে বাস্তবায়ন করার জন্যে যে দলীল-প্রমাণ দিয়েছেন তার সত্যায়ন করেছেন। দুনিয়া-আখেরাতের সকল নিরাপত্তা তাঁরই দান। মুমিনদের নিরাপত্তা দিয়েছেন যে, তিনি তাদের প্রতি যুলুম করবেন না, তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এবং কিয়ামতের বিভীষিকাময় অবস্থায় তাদেরকে বিপদে ফেলবেন না।
الْمَنَّانُ
(আল মান্নান) অনুগ্রহকারী, দানকারী, তিনি অঢেল দান করেন, বড় বড় নেয়ামত প্রদান করেন। সৃষ্টির উপর পরিপূর্ণরূপে অনুগ্রহ করেন।
الطَّيِّبُ
(আত ত্বইয়েব) মহা পবিত্র, তিনি অতি পবিত্র, যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। যাবতীয় সৌন্দর্য, শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণতা তাঁরই। তিনি সৃষ্টিকুলকে অফুরন্ত কল্যাণ প্রদান করেন। আমল ও দান-সাদকা একনিষ্ঠভাবে তাঁর উদ্দেশ্যে না হলে এবং হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে না হলে তিনি তা কবূল করবেন না।
الشَّافِي
(আশ শাফী) আরোগ্য দানকারী, তিনি অন্তর ও অঙ্গ-প্রতঙ্গের যাবতীয় ব্যাধির আরোগ্য দানকারী। আল্লাহ্‌ যা দিয়েছেন তা ব্যতীত বান্দার হাতে কোন নিরাময়ক উপকরণ নেই। আরোগ্য বা রোগমুক্তির ক্ষমতা একমাত্র তাঁর হাতেই আছে।
الْحَفِيظُ
(আল হাফীয) মহারক্ষক, তিনি নিজ অনুগ্রহে মুমিন বান্দার আমল সমূহ হেফাযত ও সংরক্ষণ করে থাকেন। তাঁর অসীম ক্ষমতা দ্বারা মাখলুকাতকে লালন-পালন করেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
الْوَكِيلُ
(আল ওয়াকীল) মহা প্রতিনিধি, তিনি সমস্ত জগতের দায়িত্ব নিয়েছেন, সৃষ্টি ও পরিচালনার কর্তব্যভার গ্রহণ করেছেন। অতএব সৃষ্টিকুলকে অস্তিত্ব প্রদান ও মদদ করার তিনিই যিম্মাদার।
الْخَلاَّقُ
(আল খাল্লাক্ব) সৃষ্টিকারী, আল্লাহ্‌ তাআলা যে অগণিত বস্তু সৃষ্টি করেন শব্দটি তার অর্থই বহণ করছে। তিনি সৃষ্টি করতেই আছেন এবং সৃষ্টি করার এই বিশাল ক্ষমতা তাঁর মধ্যে চিরকালীন।
الخَالِقُ
(আল খালিক্ব) স্রষ্টা, তিনি পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়াই মাখলুকাতকে সৃষ্টি করেছেন।
البَارِئُ
(আল বারী) সৃজনকর্তা, তিনি যা নির্ধারণ করেছেন এবং যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে রূপ দান করেছেন।
المُصَوِّرُ
(আল মুসাব্বির) অবয়বদানকারী, আল্লাহ্‌ তা’আলা নিজের প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও করুণা অনুযায়ী সৃষ্টিকুলকে ইচ্ছামত আকৃতি ও অবয়ব দান করেছেন।
الرَّبُّ
(আর রব) প্রভু, প্রতিপালক, তিনিই সৃষ্টিকুলকে তাঁর নেয়ামতরাজী দিয়ে প্রতিপালন করেন, তাদেরকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন। তিনি মুমিন বন্ধুদের অন্তর যেভাবে সংশোধন হয় সেভাবে যত্নসহকারে লালন-পালন করেন। তিনিই মালিক, স্রষ্টা, নেতা ও পরিচালক।
العَظِيمُ
(আল আযীম) সুমহান, তিনি নিজ সত্বা, নাম ও গুণাবলীতে সুমহান গৌরবান্বিত। তাই সৃষ্টিকুলের আবশ্যক হচ্ছে তাঁর মহত্ব ঘোষণা করা, তাঁকে সম্মান করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা মেনে চলা।
القَاهِرُ/ القَهَّارُ
(আল কাহির/আল কাহ্হার) পরাজিতকারী, অসীম ক্ষমতাবান, তিনি বান্দাদেরকে বাধ্যকারী, সৃষ্টিকুলেকে তাঁর দাসে পরিণতকারী, সকলের উপর সর্বোচ্চ। তিনিই বিজয়ী, তাঁর জন্যেই সকল মস্তক নত হয়, সব মুখমন্ডল অবনমিত হয়।
المُهَيْمِنُ
(আল মুহাইমিন) রক্ষক, কর্তৃত্বকারী, তিনি সকল বস্তুকে পরিচালনাকারী, সংরক্ষণকারী, সাক্ষী এবং সব কিছুকে বেষ্টনকারী।
العَزِيزُ
(আল আযীয) মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতা ও শক্তির যাবতীয় বিষয় তাঁরই অধিকারে। তিনি প্রতাপশালী- তাঁকে কেউ পারজিত করতে পারে না। তিনি বাধাদানকারী- তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, কর্তৃত্ব ও বিজয় তাঁর হাতেই- তাঁর অনুমতি ছাড়া কোন কিছুই নড়তে পারে না।
الجَبَّارُ
(আল জাব্বার) মহাশক্তিধর, তিনি যা চান তাই হয়, সৃষ্টিকুল তাঁর কাছে পরাজিত, তাঁর মহত্বের কাছে অবনমিত, তাঁর হুকুমের গোলাম। তিনি ব্যাথাতুর ভগ্নের সহায়তা করেন, অভাবীকে স্বচ্ছল করেন, কঠিনকে সহজ করেন, অসুস্থ ও বিপদাপন্নকে উদ্ধার করেন।
المُتَكَبِّرُ
(আল মুতাকাব্বির) মহাগৌরবান্বিাত তিনি মহান, সকল দোষ-ত্রুটির উর্ধ্বে। তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যাচারের অনেক উর্ধ্বে। সৃষ্টির অবাধ্যদেরকে পরাজিতকারী। গর্ব-অহংকারের একক অধিকারী তিনিই।
الكَبيرُ
(আল কাবীর) অতীব মহান, তিনি নিজ সত্বা, গুণাবলী ও কর্মে অতিব মহান ও বড়। তাঁর চেয়ে বড় কোন বস্তু নেই। তাঁর মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের সামনে সব কিছুই ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ।
الحَيـِِيُّ
(আল হায়িই) লজ্জাশীল, তাঁর সম্মানিত সত্বা ও বিশাল রাজত্বের সাথে সামঞ্জস্যশীল পন্থায় তিনি লজ্জা করেন। আল্লাহর লজ্জা হচ্ছে তাঁর দান, করুণা, উদারতা ও সম্মান।
الحَيُّ
(আল হাই) চিরঞ্জীব, তিনি চিরকাল পরিপূর্ণরূপে জীবিত। তিনি এভাবেই ছিলেন ও আছেন এবং থাকবেন। তাঁর শুরু নেই বা শেষ নেই। জগতে প্রাণের যে অস্তিত্ব তা তাঁরই দান।
القَيُّومُ
(আল কাইয়ূম) চিরস্থায়ী, তিনি নিজে নিজেই প্রতিষ্ঠিত, তিনি সৃষ্টিকুলের কারো মুখাপেক্ষী নন। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তাঁর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সবাই তাঁর দরবারের ভিক্ষুক।
الْوَارِثُ
(আল ওয়ারিস) উত্তরাধিকারী, সৃষ্টিকুল ধ্বংস হওয়ার পর তিনিই থাকবেন, প্রত্যেক বস্তুর মালিক ধ্বংস হওয়ার পর তা তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। আমাদের কাছে যা কিছু আছে তা আমানত স্বরপ আল্লাহ্‌ দিয়েছেন। এগুলো সবই প্রকৃত মালিক আল্লাহর কাছে একদিন ফিরে যাবে।
الدَّيْانُ
(আদ দাইয়ান) মহাবিচারক, তিনি সেই সত্বা সৃষ্টিকুল যাঁর অনুগত ও অবনমিত। তিনি বান্দাদের কর্মের বিচার করবেন। ভাল কর্মে বহুগুণ প্রতিদান দিবেন। মন্দ কর্মে শাস্তি দিবেন অথবা তা ক্ষমা করে দিবেন।
المَلِكُ
(আল মালিক) মহান মালিক, বাদশা, আদেশ-নিষেধ ও কর্তৃত্বের অধিকারী তিনিই। তিনি আদেশ ও কর্মের মাধ্যমে সৃষ্টিকুলকে পরিচালনাকারী। তাঁর রাজত্ব ও পরিচালনায় তাঁর কোন শরীক নেই।
الْمَالِكُ
আল (মালিক) মহান মালিক, তিনি মূলে সব কিছুর মালিক এবং মালিকানার যোগ্যও একমাত্র তিনিই। জগত পয়দা করার সময় তিনিই মালিক, তিনি ব্যতীত কেউ ছিলনা। সবশেষে সৃষ্টিকুল ধ্বংস হওয়ার পরও মালিকানা তাঁরই।
الْمَلِيْكُ
(আল মালীক) মহান বাদশা, ব্যাপকভাবে মালিকানা ও কর্তৃত্ব তাঁরই।
السُّبُّوْحُ
(আস সুব্বূহ) মহামহিম, পূতপবিত্র, তিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। কেননা পরিপূর্ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্যের যাবতীয় গুণাবলী তাঁরই।
القُدُّوسُ
(আল ক্বুদ্দূস) মহা পবিত্র, তিনি সবধরণের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও নিঃষ্কলুষ। কারণ পূর্ণতা বলতে যা বুঝায় এককভাবে তিনিই তার উপযুক্ত, তাঁর কোন দৃষ্টান্ত নেই।
السَّلامُ
(আস সালাম) পরম শান্তিদাতা, তিনি স্বীয় সত্বা, নাম, গুণাবলী ও কর্মে যে কোন ধরণের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় শান্তি-শৃংখলা একমাত্র তাঁর নিকট থেকেই পাওয়া যায়।
الحَقُّ
(আল হাক্ক) মহাসত্য, তাঁর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই সংশয় নেই- না তাঁর নাম ও গুণাবলীতে না তাঁর উলুহিয়্যাতে। তিনিই সত্য মা’বূদ- তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ সত্য নয়।
المُبيْنُ
(আল মুবীন) সুস্পষ্টকারী, প্রকাশকারী, তাঁর একত্ববাদ, হিকমত ও রহমতের প্রতিটি বিষয় প্রকাশ্য। তিনি বান্দাদেরকে কল্যাণ ও হেদায়াতের পথ পরিস্কার বাতলিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা তার অনুসরণ করে এবং বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের পথও সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন, যাতে তারা সতর্ক থাকতে পারে।
القَويُّ
(আল ক্বাবী)মহা শক্তিধর, তিনি পরিপূর্ণ ইচ্ছা-স্বাধিনতার সাথে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী।
المَتِيْنُ
(আল মাতীন) দৃঢ়শক্তির অধিকারী, তিনি নিজ ক্ষমতা ও শক্তিতে অত্যন্ত কঠোর। কোন কাজে কষ্ট-ক্লেশ বা ক্লান্তি তাঁকে আচ্ছন্ন করে না।
الْقَادِرُ
(আল ক্বাদির) সর্বশক্তিমান, তিনি সকল বস্তুর উপর শক্তিমান, কোন কিছুই তাঁকে আপরাগ করতে পারে না- না যমীনে না আসমানে। তিনিই সব কিছু নির্ধারণ করেছেন।
القَدِيْرُ
(আল ক্বাদীর) মহাপ্রতাপশালী, এ শব্দটির অর্থ পূর্বের শব্দটিরই অনুরূপ। কিন্তু আল্‌ কাদীর শব্দটির মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা অধিক হয়।
الْمُقْتَدِرُ
(আল মুক্তাদির) মহা ক্ষমতাবান, আল্লাহর পূর্ব জ্ঞান অনুযায়ী নির্ধারণকৃত বস্তু বাস্তবায়নে ও সৃষ্টি করতে তাঁর অতিরিক্ত ক্ষমতা আছে।
العليُّ الأَعْلَى
(আল আলিউল আ’লা) সুউচ্চ, মহান, মহত্তর, সর্বোচ্চ, তিনি মর্যাদা, ক্ষমতা ও সত্বা তথা সকল দিক থেকে সর্বোচ্চ। সব কিছুই তাঁর রাজত্ব ও ক্ষমতার অধিনে। তাঁর উপরে কখনোই কিছু নেই।
المُتَعَالُ
(আল মু’তাল) চিরউন্নত, তাঁর উচ্চতা ও মহত্বের সামনে সকল বস্তু অবনমিত। তাঁর উপরে কিছু নেই। সকল বস্তু তাঁর নীচে ও অধীনে, তাঁর ক্ষমতা ও রাজত্বের বলয়ে।
الْمُقَدِّمُ
(আল মুক্বাদ্দিম) অগ্রসরকারী, তিনি নিজের ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সকল বস্তুকে বিন্যস্ত করেছেন ও স্বস্থানে রেখেছেন। তাঁর জ্ঞান ও অনুগ্রহের ভিত্তিতে সৃষ্টির কাউকে কারো উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
الْمُؤَخِّرُ
(আল মুআখখির) পশ্চাতে প্রেরণকারী, তিনি প্রতিটি বস্তুকে নিজের হিকমত অনুযায়ী যেভাবে ইচ্ছা স্থাপন করেন, যাকে ইচ্ছা অগ্রসর করেন, যাকে ইচ্ছা পশ্চাতে রাখেন। পাপী বান্দাদেরকে শাস্তি দিতে দেরী করেন, যাতে তারা তাওবা করতে পারে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে পারে।
الْمُسَعِّرُ
الْقَابِضُ
(আল কাবিয) কবজকারী, সংকুচনকারী, তিনিই প্রাণীকুলের জান কবজ করেন। তিনি নিজের হিকমত ও ক্ষমতা বলে সৃষ্টিকুলের মধ্যে যার ইচ্ছা রিযিক সংকুচন ও হ্রাস করেন- তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে।
الْبَاسِطُ
(আল বাসিত্ব) সমপ্রসারণকারী, তিনি তাঁর উদারতা ও করুণায় বান্দাদের রিযিক প্রশস্ত করেন। অতঃপর তাঁর হিকমত অনুযায়ী তা দ্বারা তাদের পরীক্ষা করেন। তিনি গুনাহগারদের তাওবা কবূল করার জন্যে দু’হস্ত প্রসারিত করেন।
الأَوَّلُ
(আল আওয়াল) অনাদী, তিনি সেই সত্বা যাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না। তিনি সৃষ্টি করেছেন বলেই মাখলুক অস্তিত্ব লাভ করেছে। কিন্তু তাঁর অস্তিত্বের কোন শুরু নেই।
الآخِرُ
(আল আখির) অনন্ত, তাঁর পর কোন কিছু নেই। তিনিই অনন্ত, চিরকালীন ও অবিশষ্ট। পৃথিবীর সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; অতঃপর প্রত্যাবর্তন করবে তাঁর কাছেই। কিন্তু তাঁর অস্তিত্বের শেষ নেই।
الظَّاهِرُ
(আয যাহির) প্রকাশ্য, তিনি সবকিছুর উপরে সুউচ্চ। তাঁর উচ্ছে কিছু নেই। তিনি সকল বস্তুকে করায়ত্বকারী ও বেষ্টনকারী।
البَاطِنُ
(আল বাত্বিন) গোপন, তাঁর পরে কোন কিছু নেই। তিনি দুনিয়াতে মাখলুকের দৃষ্টির আড়ালে থাকেন; তারপরও তিনি তাদের নিকটবর্তী ও তাদেরকে বেষ্টনকারী।
الوِتْرُ
(আল বিতর) বেজোড় বা একক, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি অদ্বিতীয় তাঁর কোন নযীর নেই।
السَّيِّدُ
(আস সাইয়েদ) প্রভু, নেতা, মানুষের অভাব পুরণকারী, সৃষ্টিকুলের একক নেতৃত্ব তাঁর হাতেই। তিনি তাদের মালিক ও পালনকর্তা। সবকিছু তাঁর সৃষ্টি ও দাস।
الصَّمَدُ
(আস সামাদ) অমুখাপেক্ষী, স্বয়ং সম্পূর্ণ, তিনি নিজের নেতৃত্বে   স্বয়ং সম্পূর্ণ,  | মাখলুকাত যাবতীয় প্রয়োজনে তাঁরই স্মরণাপন্ন হয়। কেননা তারা তাঁর কাছে বড়ই নি:স্ব তিনি সবার আহার যোগান; তাকে কেউ আহার দেয় না, তাঁর আহারের কোন দরকার নেই।
الوَاحِدُ  الأَحَدُ
(আল ওয়াহিদুল আহাদ) একক, অদ্বীতিয়, সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতায় তিনিই একক ও অদ্বিতীয়; তাঁর কোন অংশী নেই। তাঁর অনুরূপ কোন কিছু নেই। এই গুণাবলী এককভাবে তাঁরই ইবাদতকে আবশ্যক করছে। তাঁর কোন শরীক নেই।
الإِلَهُ
(আল ইলাহ) মা’বূদ বা উপাস্য, তিনিই সত্য মাবূদ। এককভাবে তিনি যাবতীয় ইবাদত ও দাসত্ব পাওয়ার হকদার; অন্য কেউ নয়।



সংকলনে: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী
জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার
সৌদী আরব।
(তাফসীরুল উশরুর আখীর কিতাব থেকে সংকলিত)

[1] উল্লেখ্য যে, আস সাত্তার বা আস সাতির নামটি হাদীসে পাওয়া যায় না। তবে সিত্তীর নামটি হাদীসে উল্লেখি হয়েছে। যেমন:
روى أحمد وأبو داود والنسائي عن يعلى بن أمية أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “إن الله حيي ستير يحب الحياء والستر” وصححه الألباني
ইয়ালা বিন উমাইয়া (রা.)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ লজ্জাশীল দোষত্রুটি গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতাকে এবং মানুষের দোষত্রুটিকে গোপন করাকে ভালবাসেন। আবু দাউদ, নাসাই, আল্লামা আলবানী (রাহ:) বলেন: হাদীসটি সহীহ)
[2] এ নামটির ব্যাপারে ওলামাগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে একদল আলেমের মতে এটি আল্লাহর নামের অন্তর্ভূক্ত।