সামাজিকতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সামাজিকতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৫

পথ ও পথিকের হক

মাওলানা শিব্বীর আহমদ
সমাজবদ্ধ জীবনে পথের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর সেই পথটি সবসময়ের জন্যেই নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে, নির্ভয়ে নিশ্চিন্ত মনে আপন সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করে সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাবেÑ এটি একজন পথিকের হক ও অধিকার। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকেই পথে ধরে চলতে হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কিংবা সর্বোচ্চ বিত্তবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া দিনমজুর পর্যন্ত সকলকেই জীবনের তাগিদে পথে আসতে হয়। নিরাপদ পথের অধিকার তাই সকলের। আবার এ অধিকার সংরক্ষণও সমাজের মানুষকেই করতে হবে। সুন্দরতম আচরণের পূর্ণতাবিধানকারীরূপে যে নবী প্রেরিত হয়েছিলেন, আমরা তো তাঁরই উম্মত। তাঁর বাণীতেই আমরা খুঁজে পাই পথ ও পথিকের হক।
পথের অধিকার সম্পর্কে এই হাদীসটি খুবই প্রসিদ্ধÑ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ
إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ بِالطُّرُقَاتِ، فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ! مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُدٌّ، نَتَحَدَّثُ فِيهَا، فَقَالَ: إِذَا أَبَيْتُمْ إِلاَّ الْمَجْلِسَ، فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ، قَالُوا: وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللهِ! قَالَ: غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلاَمِ، وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ .
তোমরা পথে বসা থেকে বিরত থেকো। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কথাবার্তা বলার জন্যে যে আমরা পথে না বসে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমাদের পথে বসতেই হয় তাহলে পথের হক আদায় করো। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পথের হক কী? তিনি বললেন, ‘দৃষ্টি অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সালামের উত্তর দেয়া, সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। Ñ সহীহ বুখারী, হাদীস ৬২২৯
হযরত আবু হুরায়রা রা.ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও তাঁর বর্ণিত হাদীসটিতে আরও রয়েছেÑ
وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ، وَإِرْشَادُ السَّبِيل ...
এবং হাঁচির জবাব দেয়া এবং (মানুষকে) পথ দেখিয়ে দেওয়া। Ñমুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ৬৬০৩
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বর্ণিত হাদীসে রয়েছেÑ
وَتُغِيثُوا الْمَلْهُوفَ وَتَهْدُوا الضَّالَّ ...
এবং তোমরা নির্যাতিত ব্যক্তিকে সাহায্য করবে এবং পথ-সন্ধানীকে পথের সন্ধান দেবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৮১৯
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেছেনÑ
... وَأَعِينُوا عَلَى الْحمُولَةِ ...
এবং তোমরা বোঝা উঠিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করো। Ñমুসনাদে বাযযার, হাদীস ৫২৩২
হযরত আবু তালহা রা. বর্ণিত হাদীসে আছেÑ
... وحسن الكلام ...
এবং সুন্দর কথা বলো। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস  ২১৬১
উপরোক্ত হাদীসগুলোতে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথের যে অধিকারগুলো বর্ণনা করেছেন তা আমরা এভাবে উপস্থাপন করতে পারি:
১. দৃষ্টি অবনত রাখা
দৃষ্টিকে বলা হয় শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর। এই দৃষ্টির মাধ্যমেই সূচনা হয় নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের। এর ফলশ্রæতিতে ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয় পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি। পথে চলার অধিকার নারী-পুরুষ সকলেরই রয়েছে। পথে বের হতে হলে নারীকে কীভাবে বের হতে হবে, কেমন পোশাক পরতে হবে তা একটি স্বতন্ত্র বিষয়। তবে কোনো সম্ভ্রান্ত নারী যখন পথ চলে তখন কোনো পুরুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকাকে সে নিজের জন্যে সম্ভ্রমহানিকর মনে করে। পরিচিত কিংবা অপরিচিত কোনো পুরুষ যদি তাকিয়ে থাকে তাহলে অনেক নারী পর্দাবৃত থাকা সত্তে¡ও পথ চলতে অস্বস্তি বোধ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্যেই নির্দেশ দিয়েছেনÑ পথের ধারে বসলে দৃষ্টি অবনত রাখো। আর পবিত্র কুরআনে তো নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণিকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ.
হে নবী, তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে...। Ñসূরা মুমিনুন (২৩) : ৩০
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ.
আর হে নবী, তুমি মুমিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে...। Ñসূরা মুমিনুন (২৩) : ৩১
২. কাউকে কষ্ট না দেওয়া
এ বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক। একজন মুসলমানের প্রাণ, সম্পদ, সম্ভ্রমÑ সবকিছুই সম্মানের পাত্র। অন্যায়ভাবে কারও জান-মাল ও ইজ্জত-সম্মানের ওপর হামলা করা ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্যায়ভাবে কাউকে কোনোরূপ কষ্ট দেয়া যাবে না, চাই সেটা শারীরিক হোক বা মানসিক, ধন-সম্পদের বিষয়ে হোক বা মান-সম্মানের ওপরই হোক। এক্ষেত্রে কুরআনে কারীমের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا.
যারা মুমিন নারী-পুরুষদের পীড়া দেয়, এমন কোনো অপরাধের বিষয়ে যা তারা করেনি, তারা তাহলে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে নিল। Ñসূরা আহযাব (৩৩) : ৫৮
মুসলমান ভাইদের কোনোরূপ কষ্ট না দেয়াÑ এ বিষয়টিকে তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুসলমানের পরিচয় হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন,
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ.
অর্থাৎ মুসলমান তো সেই, যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমানেরা নিরাপদ থাকে। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস  ১০
প্রয়োজনীয় কথা বলার জন্যে হোক কিংবা বিশ্রামের জন্যে হোক, পথের পাশে যদি কেউ বসে তাহলে অবশ্যই তাকে এমন সব কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে কোনো পথিক কষ্ট পেতে পারে। শুধু মুসলমান নাগরিকই নয়, নিরাপদ পথের অধিকার অমুসলিমদেরও। এমনকি অন্য কোনো প্রাণীকেও তো অনর্থক কষ্ট দেয়া যাবে না।
৩. সালামের উত্তর দেওয়া
একজন মুসলমান যখন আরেকজন মুসলমানকে সালাম দেয় তখন সেই সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। এই উত্তর সালামপ্রদানকারীর অধিকার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلاَمِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِز،ِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ.
পাঁচটি বিষয় এক মুসলমানের ওপর আরেক মুসলমানের অধিকারÑ সালামের উত্তর দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া,জানাযায় শরিক হওয়া, নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা এবং হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে এর উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ১২৪০
পরস্পর দেখা-সাক্ষাতে মুসলমানগণ সালামের মাধ্যমেই অভিবাদন জানায়। একে অন্যের জন্যে আল্লাহর দরবারে শান্তি ও রহমত কামনা করে। আর পারস্পরিক এই কল্যাণ কামনা তাদের মাঝে রোপন করে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার বীজ। হাদীস শরীফেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতাকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিতÑ
لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَىْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ.
তোমরা যতক্ষণ ঈমান না আনবে ততক্ষণ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর যতক্ষণ পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না ততক্ষণ তোমাদের ঈমানও পূর্ণ হবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে। নিজেদের মাঝে সালামের প্রচলন ঘটাও। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৪
সালামের উত্তর দেয়াকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথের হক হিসেবে গণ্য করেছেন। পথের পাশে বসে থাকা ব্যক্তিকে পথিক যখন সালাম দেবে, তখন যেন সে পথিকের সালামের উত্তর দেয়।
৪. সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা এই উম্মতের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। পথে যদি কোনো অন্যায় কাজ চোখে পড়ে তখন সাধ্যমতো বাধা দিতে হবে এবং সৎ কাজের আদেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্যরে প্রতি লক্ষ রাখবে এবং নিজের সামর্থ্যটুকু যথাযথ ব্যবহারের প্রতিও যতœবান হবে। এটাই হাদীসের শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ.
তোমাদের কেউ যখন কোনো অন্যায় কাজ দেখে তখন যেন সে নিজ হাতে তা প্রতিহত করে। যদি তা তার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে মুখে বাধা দেবে। যদি তাও না পারে তাহলে অন্তরে তা ঘৃণা করবে। আর এটিই ঈমানের সর্বনি¤œ স্তর। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৯
৫. হাঁচির জবাব দেওয়া
হাঁচির পর আলহামদুলিল্লাহ বলা সুন্নত। তখন যে আলহামদুলিল্লাহ বলা শুনবে, তার কর্তব্য ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা। এর মাধ্যমে যে হাঁচি দিল তার জন্যে কল্যাণের দোয়া করা হয়। এটিই হাঁচির জবাব। পথচলার সময় কোনো পথিক যদি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে আর পথের পাশে বসে থাকা ব্যক্তি যদি তা শোনে তাহলে তার কর্তব্য ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন) বলে তার কল্যাণ কামনা করা। উপরে সালামের উত্তর দেয়া প্রসঙ্গে যে হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে তাতে হাঁচির জবাবের বিষয়টিও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মুসলমানের ওপর আরেক মুসলমানের ছয়টি হক ও অধিকার রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেনÑ সেগুলো কী?রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَسَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ.
তুমি যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে তখন তাকে সালাম দেবে, যখন সে তোমাকে নিমন্ত্রণ জানাবে তখন নিমন্ত্রণ গ্রহণ করবে,যখন সে তোমার নিকট উপদেশ চাইবে তখন তাকে উপদেশ দেবে, যখন সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে তখন (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) তার জন্যে কল্যাণ প্রার্থনা করবে, সে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেখতে যাবে আর মৃত্যু বরণ করলে তার জানাযায় শরীক হবে। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৬২
৬. সুন্দর কথা বলা এবং পথ দেখিয়ে দেওয়া
পথচলা যেমন মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ, তেমনি চলার পথে পথ না চেনা কিংবা চলতে চলতে পথ হারিয়ে ফেলাও একটি অতি সাধারণ বিষয়। পথের সন্ধানে পথিক তখন পথে থাকা কারোর ওপরই ভরসা করে। তার কাছে সে জানতে চায় আপন গন্তব্যের ঠিকানা। যারা পথের ধারে বসে থাকে তাদের নিকট এটি পথিকের অধিকার। কেউ পথ জানতে চাইলে তাকে তার পথটি দেখিয়ে দিতে হবে। এরই পাশাপাশি তার সঙ্গে কৃত আচরণও যেন সুন্দর হয়, হাদীস শরীফে এদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একেও পথের হক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দিষ্ট পথটি জানা থাকলে তাকে তা দেখিয়ে দিতে হবে হৃদ্যতা ও উদারতার সঙ্গে, আর জানা না থাকলেও তার সঙ্গে কোমল আচরণ করতে হবে। এটাই এ হাদীসের দাবি। কর্কশ ও অসুন্দর আচরণ করা যাবে না কিছুতেই।
এক হাদীসে এ পথ দেখানোকে ‘সদকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ
وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلاَلِ لَكَ صَدَقَةٌ.
তুমি কাউকে তার অচেনা পথ দেখিয়ে দিলে, এটি তোমার জন্যে একটি সদকা। Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৫৬
আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةَ لَبَنٍ أَوْ وَرِقٍ أَوْ هَدَى زُقَاقًا كَانَ لَهُ مِثْلَ عِتْقِ رَقَبَةٍ.
যে ব্যক্তি কোনো দুগ্ধবতী বকরি দান করে অথবা কাউকে ঋণস্বরূপ অর্থ প্রদান করে কিংবা কাউকে পথ দেখিয়ে দেয় সে একটি গোলাম আজাদ করার সওয়াব লাভ করবে। Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৫৭
৭. নির্যাতিত ব্যক্তিকে সাহায্য করা
একজন মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন আরেকজন মানুষই তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। এটি মানবতা ও নৈতিকতার দাবি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বাণীতে এটি আলোচিত হয়েছে পথের অধিকার হিসেবে। কোনো পথিকের ওপর যদি অন্যায়ভাবে কেউ হামলে পড়ে, কোনো সন্ত্রাসী কিংবা ছিনতাইকারীর আক্রমনে কোনো পথিকের অর্থসম্পদ প্রাণ কিংবা সম্মান-সম্ভ্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন পথের পাশে বসে থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে এই নির্যাতিত পথিকের সহযোগিতায়। আক্রান্ত ব্যক্তিটির জাত-ধর্ম এক্ষেত্রে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, সে একজন পথিক এবং নিরাপদে পথ চলার অধিকার তার রয়েছেÑ এটিই মূল কথা। অন্যায় মোকাবেলার সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও কাউকে নির্যাতিত হতে দেখেও না দেখা কিংবা নীরবতা অবলম্বন করা প্রকারান্তরে অন্যায়কে সমর্থন ও সহযোগিতা করারই শামিল।
হাদীস শরীফের ভাষ্য, নির্যাতিত ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায় থামিয়ে দেয়াÑ এতে জালেম-মজলুম উভয়কেই সহযোগিতা করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক আর মজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মজলুমকে তো আমরা সাহায্য করব ঠিক, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করব কীভাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
تأخذ فوق يديه.
তুমি তার হাত ধরে ফেলবে। (অর্থাৎ তাকে তার অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখাটাই তার জন্যে সহযোগিতা।) Ñসহীহ বুখারী,হাদীস ২৪৪৪
৮. বোঝা উঠিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করা
বোঝার ভারে ক্লান্ত হয়ে একজন ভারবাহী মানুষ কখনো তার বোঝাটি কিছু সময় নামিয়ে রাখে। মাথা থেকে কিংবা ভারবাহী কোনো বাহন থেকে পড়েও যেতে পারে কোনো বোঝা। ক্লান্ত শ্রান্ত সে পথিক তখন একজন মানুষের অপেক্ষায় থাকে, যে তার বোঝাটি ওঠাতে সহযোগিতা করবে। পথের পাশে বসতে হলে পথিকের এ জাতীয় সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবেÑ এটিও পথের অধিকার, পথিকের অধিকার।

মোটকথা, পথের সৃষ্টিই পথিকের জন্যে। পথিক চলাচল করবেÑ এতেই পথের স্বার্থকতা। তাই পথে বসে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে পথিকের পথচলা বিঘিœত হতে পারে। বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পথিকের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সামর্থ্য উজার করে তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। এও মনে রাখতে হবে, প্রথমোক্ত হাদীসটিতে পথের পাশে বসার যে বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে সেটি কেবলই একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। হাদীসটির ভাষ্য হলো, যদি পথের পাশে তোমাকে বসতেই হয় তাহলে পথের এ অধিকারগুলো আদায় করো। এর অর্থ এই নয়Ñ যারা পথে পথে বসে থাকবে তারাই কেবল পথের এ অধিকারসমূহ আদায় করবে। বরং এ অধিকারসমূহ পথ ও পথিকের। যারা কথাবার্তা বলা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে পথের পাশে বসবে তারা যেমন এ অধিকারসমূহ আদায়ে সচেষ্ট হবে, তেমনি যারা পথিক কিংবা পথের পাশের দোকানদার, তাদেরকেও এ বিষয়গুলোর প্রতি  যতœবান হতে হবে। এটিই ইসলামের আদর্শ। নিজেকে ইসলামের সত্যিকার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতে হলে এ আদর্শ আমাদের ধারণ করতেই হবে।


রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

হাদিসের নক্ষত্র ইমাম তিরমিজি (রহ.)

উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরে অবস্থিত ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর স্মৃতি জাদুঘর। এর ভেতর রয়েছে তাঁর কবর (ইনসেটে)
ইমাম তিরমিজি (রহ.)। বিশ্বের জ্ঞান কেন্দ্রগুলোতে আজও তার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এলমের প্রতি তার গভীর অনুরাগ সত্য সন্ধানী মানুষের হৃদয় মালঞ্চে সৃষ্টি করে কৌতূহল। তার পূর্ণ নাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিজি। ২০৯ হিজরিতে উজবেকিস্তানের তিরমিজ নামক এলাকায় তার জন্ম। তিরমিজ এলাকার অধিবাসী হিসেবেই তাকে তিরমিজি বলা হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীতে এ নামেই তিনি পরিচিত।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর বাল্যকাল ছিল ইসলামী খেলাফতের স্বর্ণযুগ। ঘরে ঘরে তখন চর্চা হতো কোরআন ও হাদিস। সময়ের এ স্রোত বালক তিরমিজিকে জ্ঞানের পথে অগ্রসর হতে সহায়তা করে। বিশেষত খোরাসান ও আমু দরিয়ার ওপারের অঞ্চলগুলো তখন এলমের কেন্দ্রভূমি ছিল। ইমাম বোখারির মতো ব্যক্তিত্ব এ এলাকায় অবস্থান করছেন। বালক বয়স থেকে হাদিসের প্রতি গভীর অনুরাগ ও আগ্রহ থাকায় হাদিসের সন্ধানে তিনি শুরু করেন পদবিক্ষেপ। এলমে হাদিসের জন্য বসরা, কুফা, খোরাসান, হেজাজসহ আরও দূর-দূরান্তে গমন করেন। বিশ্ববরেণ্য মোহাদ্দেসদের শিষ্যত্ব গ্রহণে স্বল্প সময়ে তিনি এলমিবিত্তে ঈশ্বর্যবান হয়ে যান। ইমাম বোখারি (রহ.) এর মতো জ্ঞানতাপস ও তদানীন্তন বিশ্বের আরও অনেক মোহাদ্দেস থেকে তিনি এলম আহরণ করেন। ইমাম মুসলিম, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে বাশ্্শার, হান্নাদ ইবনে ছারি প্রমুখ মোহাদ্দেস তার ওস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস এমন সাধারণ কোনো বিষয় নয় যে, যে কেউ হাদিস বর্ণনা করলেই তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে। এর জন্য প্রয়োজন তাকওয়া, মাহাত্ম্য, ব্যক্তিত্ব ও প্রখর মেধা। ইমাম তিরমিজি (রহ.) কে আল্লাহ তায়ালা সবই দান করেছেন। তার মেধা সম্পর্কে বর্ণিত হয় যে, একবার এক শায়খ দুটি সহিফা তার কাছে প্রেরণ করেন। ঘটনাক্রমে পরবর্তীকালে ওই শায়খের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ লাভ হয়। সাক্ষাৎকালীন তিনি চাইলেন শায়খ থেকে সরাসরি হাদিসগুলো শ্রবণ করে নিতে। এ প্রস্তাব শায়খের কাছে পেশ করলে আনন্দের সঙ্গে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং বললেন, আমি পাঠ করছি সহিফা দেখে, তুমি মিলিয়ে নাও। ইমাম তিরমিজি (রহ.) তখন ব্যক্তিগত কাগজপত্রের মধ্যে সহিফা দুটি পেলেন না। ভেবেচিন্তে দুটি সাদা কাগজ নিয়েই বসে গেলেন এবং খুব একাগ্রতার সঙ্গে হাদিস শ্রবণ করতে লাগলেন। হঠাৎ কাগজ দুটির ওপর শায়খের দৃষ্টি পড়ে। এতে শায়খ বিরক্ত হয়ে বলে ওঠেন, আমার সঙ্গে কি ঠাট্টা করা হচ্ছে? ইমাম তিরমিজি (রহ.) বিনীতভাবে সমস্যাটি ব্যক্ত করেন এবং বলেন, শায়খ! আপনার কপি আমার কাছে না থাকলেও সেখানকার সবগুলো হাদিস ভালোভাবে আমার হৃদয়পটে সংরক্ষিত আছে। শায়খ তার কথায় আশ্বস্ত হতে পারলেন না। বললেন, শোনাও তো দেখি! ইমাম তিরমিজি (রহ.) একে একে নির্ভুলভাবে সবগুলো হাদিস শুনিয়ে দিলেন। ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর স্মৃতিশক্তির প্রখরতা দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান। ইমাম তিরমিজি (রহ.) সম্পর্কে বলে ওঠেন, তোমার মতো এমন স্মৃতিধর লোক আমি কখনও দেখিনি।
ইমাম বোখারি (রহ.) এর মতো ব্যক্তিত্ব ইমাম তিরমিজি (রহ.) সম্পর্কে অনেক প্রশংসামূলক উক্তি করেছেন। তার প্রতিজ্ঞা, এলমের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতার ফলে ইমাম বোখারি (রহ.) বলেন, তুমি এলমি ক্ষেত্রে আমার থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছ আমি তোমার থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি। ইমাম বোখারি (রহ.) এর এ উক্তিকে অতিশয়োক্তি মনে হলেও অধ্যাপনায় যারা নিযুক্ত এর মর্ম কেবল তারাই বুঝতে সক্ষম। কারণ একজন প্রতিভাবান ও আগ্রহী শিক্ষার্থীর নিগূঢ় প্রশ্ন ও চৈতন্যের ফলে পাঠদাতার জ্ঞানে নেমে আসে সমৃদ্ধি। আরও মজার ব্যাপার হলো, ইমাম বোখারি (রহ.) ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর সূত্রে দুটি হাদিসও বর্ণনা করেন।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) মুসলিম জাতির কল্যাণে লিখে যান অগণিত মূল্যবান গ্রন্থ। উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে তিরমিজি ও শামায়েলে তিরমিজিই প্রসিদ্ধ ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী। তিরমিজিতে ৩ হাজার ৮১২টি হাদিস জমা করেন। এ কিতাব সম্পর্কে প্রখ্যাত মোহাদ্দেস শাহ আবদুুল আজিজ মোহাদ্দেসে দেহলভী (রহ.) বলেন, হাদিস শাস্ত্রের উপকারিতার পরিপ্রেক্ষিতে এ কিতাবটি অন্যসব কিতাবের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কারণ এর বিন্যাস খুবই সুন্দর ও চমৎকার। এতে ফকিহদের মাজহাব এবং সেইসঙ্গে সবার দলিলের বর্ণনা আছে। তাছাড়া এতে কোনো তাকরার বা পুনরাবৃত্তি নেই।
কীর্তিমান এ মহান পুরুষ আজীবন হাদিসের আলো বিতরণ করে ২৭৯ হিজরির ১৩ রজব আপনভূমি তিরমিজে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। জন্মস্থান উজবেকিস্তানের তিরমিজ এলাকায় তাকে কবরস্থ করা হয়।

আল-জুযউল মাফকূদ পুস্তকের প্রকৃত সংকলন তথ্য:

“আল-জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের প্রকৃত উদ্ভাবক রেজভি ঘরানার মাওলানা সৈয়দ আমিন মিঞা এবং হাজী মুহাম্মাদ রফিক বারকাতী সাহেব :
কয়দিন আগে রেজভী মতাবলম্বী মওলানা সাইফুল ইসলাম রুবায়েত সাহেবের একটি খসড়ার উদ্ধৃতিতে একটি লেখায় যা বুঝলাম তার নির্যাস হল, “আল-জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের প্রকৃত উদ্ভাবক ড: ঈসা মানে নন, বরং রেজভি ঘরানার দু’জন ব্যক্তিই পুস্তকটির প্রকৃত উদ্ভাবক ।
(প্রমানের প্রয়োজনে স্কিনশট দেয়া যাবে।)
হাদিসশাস্ত্রের মুহাক্কিকগণ যে হাদিস কোথাও পাননি, মরহূম আহমদ রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার ও তার ভক্ত অনুরক্তরা বিশেষত, রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার মারহারা শরীফের সাজ্জানশীন মাওলানা সৈয়দ আমিন মিঞা সাহেব এবং বারকাতী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মুহাম্মাদ রফিক বারকাতী সাহেব সেটিকে “মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক” কিতাবে সাহাবী হযরত জাবির (রা)-এর নামে প্রচার করে বলতে লাগল যে, “দেখ দেখ!! জাবির (রা)-এর হাদিসে লেখা আছে রাসূলুল্লাহ (সা) নূরের তৈরি!” অথচ এ হাদিস নিঃসন্দেহে জাল!
এটি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা ভান্ডারি ছূফীরা হাদিস নামের জাল হাদিসটি ‘মুসান্নাফ’ এর কোন ছাপায় কখনো পায়নি এমনকি ‘মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক’ এর পূর্বের কোন ছাপায়ও কখনো পায়নি ! আর যখন মরহূম আহমদ রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার ও তার ভক্ত অনুরক্তরা জানলো যে ‘মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক’ এর ছাপারই (পঞ্চম খণ্ডের) কিছু অধ্যায়ের শুরুতে কয়েকটি পাতা বাদ গিয়েছে, তখন তারা বাদ পড়া হতে ফায়দা উঠাল এবং ধোকা দিয়ে বলতে লাগল যে, উক্ত হাদিস কিতাবটির শুরুতেই ছিল।
তারা ধোকাবাজি করে প্রথম অধ্যায়ে “কিতাবুল ঈমান” একটি অধ্যায় রচনা করে তাতে জাল হাদিসটি নিজ থেকে বানানো একটি সনদসহ ঢুকিয়ে দিল। যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, এ সনদ কোথায় পেলে? তখন তাদের নিকট নিজেদের হাতেগড়া ‘আল-ঝুযউল মাফকূদ’ নামের পুস্তকটি ছাড়া দেখানোর মত আর কিছু থাকেনা। মানে তাদের দৌড় এ পর্যন্তই।
রেজভীদের ভাষ্য মতে, ঐ হস্তলিখিত পান্ডলিপিটি নাকি পরীক্ষা করে দেখা গেল, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকের ১০টি অধ্যায় এবং এগুলোর অন্তর্গত ৪০টি হাদীছ শরীফ রয়েছে, যা আল্লামা আজমী’র প্রকাশিত সংস্করণে নেই! তারপর, দুবাই “আওকাফ” এর সাবেক পরিচালক ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী সাহেব হারিয়ে যাওয়া প্রথম ১০টি অধ্যায় এবং এগুলোর অন্তর্গত ৪০টি হাদীছ শরীফের উপরে মূল্যবান ভূমিকা ও টীকা লিখে “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ (অর্থ: মুসান্নাফের প্রথম খন্ডের হারিয়ে যাওয়া অংশ)” নামে বৈরুত থেকে প্রকাশ করেন।”
অপ্রিয় হলেও সত্য কথা, দুবাই ‘আওকাফ’ হতে বহিষ্কৃত ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী নামক খোঁচাখোঁচা দাড়ি’র ফাসেক লোকটি “আল- জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের ভূমিকার লেখক কিনা তাও প্রমাণিত নয়, বরং পুস্তকটির ভুমিকার লেখক হিসেবে সেখানেই ডঃ ঈসা মানে’র জায়গায় আমরা অন্য আরেক জনকে উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি। তাতে লেখা كتبه عبدالحكيم شرف القادري (ভুমিকা লিখেছেন, আব্দুল হাকিম শরফ আল-কাদেরী)।
প্রমাণস্বরূপ নিচে তার স্কিনশট দেয়া হল।
√মূলকথায় ফিরে এলাম-
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আজমী রহঃ কর্তৃক প্রকাশিত “মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক” কিতাবে কথিত হাদিসে জাবের পাওয়া না যাওয়ায় বাতিলপন্থিদের নূরের হাদিসটি অগ্রহণযোগ্যতার তলানিতে ঠেকে।
ডজনখনেক মুহাক্কিক হাদিস বিশারদদের সীমাহীন সমালোচনার কারণে যা এতকাল ব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার শূন্যের কোটায় ছিল তার উপর মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে তার উপস্থিতি ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আহলে বিদআত বাতিল ফেরকার ভেতর চরম হতাশা দেখা দেয়। যে রেওয়ায়েতটির উপর ভিত্তি করে তাদের নূরী আকিদার গোড়াপত্তন হয়েছে, সে রেওয়ায়েতটির সনদ বা সূত্র সঠিক প্রমাণ করতে না পারলে কিছুতেই তাদের শেষরক্ষা হবে না, তা বুঝার আর বাকি থাকল না।
যেহেতু তাদের এতকালব্যাপী দাবী ছিল হাদিসে জাবের তথা ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻟﺦ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ এটি মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে ছিল। আর যখন তা অসত্য প্রমাণিত হল, তখনি তাদের টনকনড়তে শুরু করল। চরম হতাশা আর অসস্তির ভেতর অবশেষে তারা হাদিসে জাবেরে অস্তিত্ব ও তার সনদ (?) আবিস্কার করবে মর্মে স্বীদ্ধান্তে পৌঁছলো।
বড্ড মজার কথা হল,
বাতিলপন্থীরাও স্বীকার করে থাকে যে “আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহঃ এর মত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস তিনি নূরের হাদিসটি মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে পাননি। আর সেকারণেই নাকি তিনি হাদিসটিকে জাল বলেছেন।”
আরো মজার কথা হল,
গত কিছুদিন আগের কথা, পাকিস্তানি রেজভিদের তৈরিকৃত ঊর্দূ ভাষায় একটি ভিডিও দেখতে পেলাম। যা শুনে আমি তো পুরোই ‘থ’ বনে গেলাম। আলেম-ছদ্মবেশী মানুষগুলোর কথাবার্তায় কত যে বিনোদন!! সেখানে জনৈক রেজভি ঘরানার মওলানা সাহেব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করে এক পর্যায় বলেছেন-
“উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস “শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সিদ্দিক আল গুমারী রহঃ এবং শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল- হারারী উনারা হাদিসে জাবেরকে মওদ্বূ বা জাল বলার কারণ এই যে, তখন তাদের কাছে আব্দুর রাজ্জাকের এই হাদিস বা কিতাবটির সব অংশ মজুদ ছিল না।”
শুনে খুবই হাসলাম। কারণ, আহলে বিদআত রেজভিরাই আবার দাবী করে যে, ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী নামক খোঁচাখোঁচা দাড়ি’র ফাসেক লোকটি নাকি হাদিসে জাবের মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক নামক কিতাবটিতে খুঁজে পেয়েছেন!
কতবড় বালখিল্য কথা এবার বুঝুন!! অথচ ড: ঈসা মানে তাদেরই পরবর্তীকালের মানুষ, যিনি বয়স প্রজ্ঞা আর ব্যক্তিত্বের বিচারে কিছুতেই শায়খ আল গুমারী আর শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল- হারারী উনাদের সমপর্যায়ের নন। আহলে বিদআত রেজভিরা আরো বলে থাকে যে, উক্ত দুজন নাকি ২০-৪০ বছর আগে এই হাদিসের ব্যাপারে কথা বলেছেন! তাদের কথা শুনে যে কেউ বিনোদন বোধ করবে। কারণ, উক্ত দুজন শায়খ (রেজভিদের দাবি অনুসারে) যদিও ২০-৪০ বছর আগে হাদিসে জাবের সম্পর্কে কথা বলেছেন, কিন্তু আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) হাদিসে জাবের সম্পর্কে যেসব কঠোর উক্তি করলেন তাও কি গত ২০-৪০ বছর আগের কথা? অথচ, আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) এর ইন্তিকাল হয় ৯১১ হিজরিতে। তার মানে তিনি আজ (১৪৩৬ হি:/২০১৫ ইং) থেকে প্রায় ৫২৫ বছর আগে ইন্তিকাল করেছেন।
এ দেখুন রেজভী তথা বেরলবীরা আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) সম্পর্কে কী বলেছে! তাদের ভিডিওব্লগে আপনি আরো যা শুনতে পাবেন তা হল-
ভিডিও এর ভষ্য:
“জালালুদ্দিন সুয়ুতী(র) এর কাছেও সেই নূরের হাদিসটি মজুদ ছিলনা। তাই তিনি জাল বলবেন এটাই স্বাভাবিক।”
Π আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) হাদিসে জাবের সম্পর্কে যেসব কঠোর উক্তি করলেন তা নিম্নরূপ :
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক ও মুহাদ্দিস ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (আলাইহির রাহমাহ)-কে প্রশ্ন করা হল-
ﻭﻫﻞ ﺍﻟﻮﺍﺭﺩ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ : ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺠﺰﺃﻩ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭﻝ ﺍﻟﻌﺮﺵ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻘﻠﻢ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﻠﻮﺡ ، ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻭﺟﺰﺃﻩ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭﻝ ﺍﻟﻌﻘﻞ ، ﻭﺧﻞﻕ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻤﻌﺮﻓﺔ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻭﺍﻟﻘﻤﺮ ﻭﻧﻮﺭ ﺍﻷﺑﺼﺎﺭ ﻭﻧﻮﺭ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ، ﻭﺟﻌﻞ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﺗﺤﺖ ﺳﺎﻕ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻣﺪﺧﻮﺭﺍ ﻳﻘﺘﻀﻲ ﺃﻥ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻏﻴﺮ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﺃﻡ ﻻ ؟
অনুবাদ : আল্লাহ তায়ালা নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি করেছেন….. মর্মে এ রকম কোনো হাদিস (কোথাও) বর্ণিত হয়েছে কি? তিনি প্রতিউত্তরে বলেছেন –
ﻭﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ ﻟﻴﺲ ﻟﻪ ﺇﺳﻨﺎﺩ ﻳﻌﺘﻤﺪ ﻋﻠﻴﻪ
অনুবাদ : প্রশ্নে উল্লিখিত হাদিসটির এমন কোনো সনদ (সূত্র) নেই, যার উপর নির্ভর করা যায়। অর্থাৎ এটি অনির্ভরশীল সনদ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
[ সূত্র : আল্লামা জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রাহ:) লেখিত, আল- হাউবী লিল ফাতওয়া- ১/৩৮৪, ফাতওয়া আল কুর’আনিয়্যাহ শীর্ষক সূরা আল মুদ্দাসসির (তাফসির) পর্ব দ্রষ্টব্য ]
আরেকটু দাঁড়ান! কথা এখানে শেষ নয়। রেজভী মতাবলম্বী সাইফুল ইসলাম রুবায়েত সাহেবের উদ্ধৃতি দিয়ে ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী সাহেব লিখেছেন:
“মুসান্নাফে আব্দুর রাঝ্ঝাক প্রাচীনতম ও বৃহত্তম হাদীছ গ্রন্থ। এটি হারিয়ে গিয়ে অন্যান্য কিতাবের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলো এবং দীর্ঘ ১১০০ বছর পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। এরপর দেওবন্দের মুহাদ্দেছ মৌলভী হাবীবুর রহমান আজমী (জুলাই ১৯০০ – ১৭ই মার্চ ১৯৯২) প্রায় ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করে মুসান্নাফের সিংহভাগ উদ্ধার করেন। এটি ১৯৭০ সালে ১১ খন্ডে বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়।”
সুসচেতন পাঠকবৃন্দ এখানে তাদের আকিদা হল,
√ ” দীর্ঘ ১১০০ বছর পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।”√
যদি তাই হয়, তাহলে আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ কাস্তালানী রহঃ এর “মাওয়াহিবে লাদুনিয়া” কিতাবের রেফারেন্স দেন কেন?
সেখানে মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবের সূত্র উল্লেখ রয়েছে বলিয়া অহর্নিশি বুলি আওড়ান কেন? তাহলে কি “মাওয়াহিবে লাদুনিয়া” কিতাবটি তথাকথিত দীর্ঘ ১১০০ বছরের আগের রচনা?
মাথা ঠিক আছে তো! আবার অপরদিকে নিজেরাই দাবী করে বলেন কেন যে,
“ড: ঈসা মানে হাদিসে জাবের মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক নামক কিতাবটিতে খুঁজে পেয়েছেন!”
তাহলে কি ড: ঈসা মানে আল-হিমাইয়ারী د. عيسي مانع الحميري তিনি আজ থেকে দীর্ঘ ১১০০ বছর আগে আরো একবার দুনিয়ায় এসেছিলেন? নাউযুবিল্লাহ। আপনারাও যে এতবড় বালখিল্যপূর্ণ কথা বলতে পারদর্শী তা আগে জানা ছিল না। আর কিছু দিন পর আবার কী বলেন তাও ভেবে কূল পাচ্ছিনা।
Π যাইহোক, এবার আমরা দেখব যে, আরবীয় শীর্ষ মাশায়েখবৃন্দের পক্ষ হতে রেজভিদের الجزء المفقود নামক ভুঁইফোঁড় পুস্তকটির মুখোশ উন্মোচন করে দেয়ার কোনো প্রমাণ রয়েছে কিনা!
হ্যাঁ, রেজভিদের الجزء المفقود নামক ভুঁইফোঁড় পুস্তকটির মুখোশ উন্মোচন করে দেয়ার প্রমাণ নিশ্চয় রয়েছে। যেমন, আরবীয় শীর্ষ মাশায়েখবৃন্দের অন্যতম শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রাহমান আল জিবরীল (রহ) এ সম্পর্কে লিখেছেন :
“সৃষ্টি জগতের মালিক আল্লাহ্তায়ালার প্রশংসা, যিনি শরিয়তের বিধান ও আহকাম আমাদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা করেছেন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামকে প্রেরণ করে দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম(রা)-এর মাধ্যমে দ্বীনের হালাল-হারাম বর্ণনা করেছেন।
সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । তাঁর বংশধর ও নেক সাহাবাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
অতপরঃ আমি “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ” শিরোনামে একটি কিতাবের ব্যাপারে অবগত হলাম। অর্থাৎ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর জনপ্রিয় কপিখানা ডক্টর ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল মানে আল হিমইয়ারী নামক ব্যক্তির তাহকীক কৃত ও ডক্টর মাহমুদ সাঈদ মামদুহ’র ভূমিকাসহ।
হাদিসশাস্ত্রের মুহাক্কিকগণ সে হাদিস কোথাও পাননি, যাকে ছূফীরা আব্দুর রাজ্জাক এর কিতাবে জাবির (রা)-এর নামে প্রচার করে থাকেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) নূরের তৈরি! এ হাদিস নিঃসন্দেহে জাল! এ হাদিস নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা ছূফীরা মুসান্নাফ এর কোন ছাপায় পেলনা কেন অথবা মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর পূর্বের কোন ছাপায়ও পেলনা কেন?
আর যখন জানলো এ ছাপারই (পঞ্চম খণ্ডের) কিছু অধ্যায়ের শুরুতে কয়েকটি পাতা বাদ গিয়েছে, তখন তারা বাদ পড়া হতে ফায়দা উঠাল এবং ধোকা দিয়ে দিল যে উক্ত হাদিস কিতাবটির শুরুতেই ছিল। তারা ধোকাবাজি করে প্রথম অধ্যায়ে কিতাবুল ঈমান অধ্যায় বানিয়ে তাতে জাল হাদিসটি সনদসহ ঢুকিয়ে দিল। (অনুবাদ)”
অবশেষে বুঝা গেল, ডঃ আল্লামা ঈসা মানে হিমইয়ারী তিনি “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ” কিতাবের উদ্ভাবক নন, বরং ভাড়াটে অনুমোদক। আর এ রকম একটা কিছু হতে পারে, তা আমি আগেও সন্দেহ করেছিলাম। এখন দেখি বাস্তবেই তা হল। ধন্যবাদ রুবাইয়াত সাহেবকে।
লেখক, প্রিন্সিপাল।