- হোম
- রেডিও
- ইসলামিক পুস্তক.
- কওমি মাদ্রাসার নেসাব ভুক্ত উর্দু কিতাবাদি
- কওমি সিলিভাস ভুক্ত কিতাবাদি
- উর্দু ইসলামিক কিতাবাদি
- মাদানি নেসাবের কিতাব
- ইসলামিক Mp3 সং
- ওয়াজ নসিহত বয়ান
- কোরআন তেলোয়াত Mp3
- ভিডিও বয়ান ওয়াজ
- ভিডিও ইসলামিক সং
- ইসলামি গল্প
- ইসলামি ঘটনা
- চার ইমাম
- ইসলামি ইতিহাস
- মাসালা-মাসায়েল
- মাযহাব ও তাকলিদ
- প্রশ্ন উত্তর
- যোগাযোগ
- কোরআন এবং হাদিস
- আহলে হাদিস সমাচার
- গুণী মানুষের কিছু বানী
ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
জেরুজালেমকে অফিশিয়ালি ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনা দিল মাথা মোটা ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অারব বিশ্বের পশ্চিমাদের গোলামি, ট্রাম্পের হাতে তলোয়ার ধরিয়ে নাচানো, তার মেয়ের জন্য মূল্যবান উপহার পাঠানো, এই কাজগুলো মুসলমানদের জন্য কতটা উপকার বয়ে অানছে.....? মুসলমানদের প্রথম কেবলা কি তবে শেষ পর্যন্ত ইহুদিদের দখলেই চলে যাবে......?
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে বলতে গেলে গোটা মুসলিমজাতিকে অারও একবার উত্তাল করে তুলল । পবিত্র জেরুজালেম শহরকে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েই দিল জানোয়ারটা। দীর্ঘদিন ধরেই টালবাহানা চলছিল, অার ট্রাম্পের ক্ষমতায় অাসাটা যে মুসলমানদের জন্য ছিল প্রাথমিকভাবে হুমকি তার উপযুক্ত প্রমানটা সে দিয়েই যাচ্ছে।
একতরফা এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার ক্ষেত্রে ট্রাম্প জাতিসংঘ, আরব ও মুসলমান-অধ্যুষিত দেশ, এমনকি তাদের মিত্রদের আপত্তিও মানেনি এই মাধামোটা ট্রাম্প। শেষপর্যন্ত নিজের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তেই অনড় রইল। নিজের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যেই বলেছিল যে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিবে, অার এবার তার প্রতিফলনটাও হল।
এই ঘোষণায় সব কুলাঙ্গারের গুষ্টিগুলো লোক দেখানো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফ্রান্স,চীন এছাড়াও খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু পোপ ফ্রান্সিস। জাতিসংঘও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তবে এসব যে মুসলমানদের সাথে কৌতুক ছাড়া অার কিছুই না সেটা অার বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতিসংঘ এখানে বলেছে, ফিলিস্তিন সংকটে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। মানে ব্যাপারটা এমন যে, অামার বাড়িতে কাউকে কিছুদিন থাকার জন্য অাশ্রয় দিলাম, পরে সে অামার ঘরটাই দাবি করে বসল অার অামার প্রতিবেশীরা অামাকে বলছে "দেন ভাই, থাকতে যখন দিয়েছেন এবার ঘরটাই ছেড়ে দেন।"
গতকাল হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলে, "এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।" অার মি.ট্রাম্প তাঁর এমন উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ‘দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করে।
হায়! অাফসোস! অসংখ্য নবীদের স্মৃতি বিজড়িত প্রানের প্রথম কেবলাকে নাকি জালিমের করতলে দেখতে হবে।
আমার একজন উস্তাদের জবান থেকে শুনেছিলাম অাল্লাহ পাক ক্বাবা শরীফের জিম্মাদারি নিজেই নিয়েছেন, তবে বায়তুল মুকাদ্দাস তথা প্রথম কেবলা রক্ষা করার দায়িত্বটা মুসলমানদের হাতে ন্যস্ত করেছেন, যদি বায়তুল মুকাদ্দাস রক্ষায় কোনো ত্রুটি হয় তবে মুসলমানদের উপর অাযাব নেমে অাসবে। তাহলে সে সময়টা কি এসেই গেল যে, বায়তুল মুকাদ্দাস তথা মুসলমানদের প্রথম কেবলা ইহুদীদের করতলে চলে যাবে.....?
ইতিপূর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নীতি ছিল তারা উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতা করে এই বিষয়টার সুরাহা করত, সরাসরি ইসরাইলের রাজধানী জেরুজালেমে হবে এই ঘোষনা কেউ করেনি। তবে তলে তলে মার্কিন দূতাবাসকে বর্তমান রাজধানী তেলঅাবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেম এ স্থানান্তর করার ষড়যন্ত্র ১৯৯৫ থেকেই চলে অাসছিল। এবার সুধু সুযোগে বদ ব্যবহারটা করল।
মূলত ট্রাম্প ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকতেই জেরুজালেমের উপর খড়গটা ব্যবহার করল, আর তার জন্য এই অাচরন করাটা খুব স্বাভাবিকই ছিল, কেননা নির্যাতিত অামরা মুসলিমরা বহু অাগ থেকেই। এবার রোহিঙ্গাদের উপর এধরনের অমানবিক নির্যাতনের পরও যখন অাং সং সূচির কিছুই হয়নি, দেশে দেশে এতো মিছিল-মিটিং, এতো সভা সমাবেশ দিনশেষে ফলাফলটা শূন্যের কোটায়ই রয়ে গেল। তখনই ট্রাম্প বুঝতে পারল যে এটাই মোক্ষম সময়, অার তাই হয়ত সে তার ক্ষমতার বলটা নিপীড়িত জেরুজালেমের মুসলমানদের উপর প্রয়োগ করল। তবে সব ক্ষমতার উৎস অাল্লাহর কাছেই অামরা এই জালিমের দুঃশাষন থেকে মুক্তি চাই।
গত সাপ্তাহেই এক জায়গায় দেখেছিলাম, অারব বিশ্বে যারা আমেরিকার দোসর তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বলছিল যে, এই দ্বিরাষ্টভিত্তিক সমস্যা নিরসনের চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির সৃষ্টি করবে, কই তাদের এতো পা-চাটা মনেভাব তো ঐ ট্রাম্পের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে পারেনি। তবে কেন শুধু শুধু এই গোলামী। তবুও কি মনে হয় ওদের সাহায্য অামাদের প্রয়োজন অাছে......?
জানিনা কি প্রয়োজনে অারব বিশ্ব তারা পশ্চিমাদের গোলামি করছে, কারো কাছে স্পষ্ট ধারনা থাকলে জানাবার অনুরোধ রইল।
বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭
ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থীদের মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা রি-টুইট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প :
ব্রিটেনের চরম ডানপন্থী একটি দলের তিনটি উস্কানিমূলক মুসলিম বিদ্বেষী ভিডিও ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে টুইট করেছেন।
ব্রিটেন ফার্স্ট নামে দলটির উপনেতা জেইডা ফ্রানসেনের প্রথম টুইট বার্তায় এক ভিডিওতে দাবি করা হয় একজন মুসলিম অভিবাসী ক্রাচ নিয়ে চলা এক প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা করেছে।
এরপর তিনি আরও দুই ব্যক্তির একইধরনের দুটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন তারাও মুসলমান। এর একটিতে দেখানো হয় মুসলিমরা একটি খ্রিস্টান মূর্তি ভাঙছে আর অন্যটিতে তারা এক বালককে হত্যা করছে।
এই তিনটি ভিডিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটারে শেয়ার করেন।
ব্রিটিশ ফার্স্ট দলটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। উগ্র ডানপন্থী ব্রিটিশ ন্যাশানাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা এই দলটি গঠন করে।
''যুক্তরাজ্যের ইসলামীকরণ'' উল্লেখ করে দলটি বিতর্কিত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইউরোপের নির্বাচন ও উপ নির্বাচনে দলটি অতীতে প্রার্থী দিয়েছে এবং প্রচারণা চালিয়েছে অভিবাসন বিরোধী এবং গর্ভপাত বিরোধী নীতিমালার পক্ষে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দলটির প্রার্থীরা কোন আসনে জয়ী হতে পারে নি।
সর্বসাম্প্রতিক মেয়র নির্বাচনেও দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ১.২% ভোট পেয়েছে।
মিস ফ্রানসেনকে টুইটে অনুসরণ করে ৫২ হাজার লোক।
মূল ভিডিওটি প্রথমে শেয়ার করেন আমেরিকার রক্ষণশীল একজন ভাষ্যকার অ্যান কুলটার যাকে ফলো করেন মি: ট্রাম্প।
মি: ট্রাম্প এই টুইট শেয়ার করার পর মিস ফ্রানসেন খুবই উৎসাহের সঙ্গে তার উত্তর দেন। তার অ্যাকাউন্টে মিস ফ্রানসেন লেখেন : ''এই ভিডিওগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে নতুন করে আবার টুইট করেছেন এবং তার ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৪০ লক্ষ।''
''ট্রাম্প ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন! ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!" তিনি লেখেন।
এই বার্তাটি ব্রিটেন ফার্স্টের টুইটার অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়।
এ মাসের গোড়ার দিকে বেলফাস্টে দেওয়া এক ভাষণে হুমকি দেওয়া, এবং অপমানকর ভাষা ব্যবহার এবং আচরণের জন্য মিস ফ্রানসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
১৪ই ডিসেম্বর বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
তার উস্কানিমূলক ভিডিওগুলো মি: ট্রাম্প আবার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংসদ সদস্য জো কক্সকে চরম দক্ষিণপন্থী এক ব্যক্তি হত্যা করে এবং হত্যার আগের মুহূর্তে ''ব্রিটেন ফার্স্ট'' বলে ধ্বনি দেয়। জো কক্সের স্বামী ব্রেনডান কক্স মি: ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।
টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক পিয়ের্স মরগ্যান যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ''বন্ধু'' বলে অভিহিত করেন তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন : ''আপনি এটা কি কাণ্ড করছেন?''
''আপনার এই পাগলামো বন্ধ করুন এবং নতুন টুইটবার্তাগুলো সরিয়ে ফেলুন,'' তিনি বলেন।
ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল ব্রিটিশ সরকারকে এসব মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
''আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তার উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ ও বিষাক্ত মুসলমান বিরোধী প্রচারণাকে যে স্পষ্টভাবে অনুমোদন করেন এটা তারই প্রমাণ,'' কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন।
বিষয়টি ব্রিটেনের সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং বিরোধী লেবার এমপি ইভেট কুপার মি: ট্রাম্পের পদক্ষেপকে নিন্দা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
রবার্ট মুগাবের বিদায়: ইতিহাসের পরিহাসমূলক পুনরাবৃত্তি
রবার্ট মুগাবের আকস্মিক প্রস্থানে আবারও বিশ্ববাসী দেখল, ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। উন্নয়নশীল দেশের মানুষ আরেকবার উনিশ শতকের ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের জনপ্রিয় ‘প্যাট্রিয়ট’ কবিতার প্রথম পঙ্ক্তি ‘দাজ আই এন্টার্ড অ্যান্ড দাজ আই গো’ উচ্চারণ করবেন। কবি দেশপ্রেমিক নগরীতে পুষ্পবর্ষণের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরে কর্মদোষে তাঁকে ইষ্টক বর্ষণের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের ষাট ও সত্তর দশকের বর্ণাঢ্য স্বাধীনতাসংগ্রামের একদা নন্দিত নায়ক রবার্ট মুগাবে, যিনি ধীরে ধীরে নিজেকে স্বৈরশাসকে পরিণত করেছিলেন, তাঁর দুঃখজনক অথচ প্রত্যাশিত পতন ঘটেছে।
এটা দেখার বিষয় যে যথাসময়ে যথোচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে ব্যক্তি শুধু নয়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলকেও লজ্জাজনক খেসারত দিতে হয়। জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দল তাদেরই সৃষ্টি করা স্বৈরশাসককে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণ করেছে সামরিক বাহিনী। মুগাবের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের পরই কেবল ক্ষমতাসীন দলটি তাদের তিন দশকের অবিসংবাদিত নেতাকে বহিষ্কার করেছে এবং পদত্যাগ না করলে তাঁকে অভিশংসনের হুমকি দিয়েছিল।
মুগাবের এই করুণ পরিণতি তাঁর সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনতার কাছে নিশ্চয় একদিন অচিন্তনীয় ছিল। কিন্তু গণতন্ত্রের মাথা খেয়ে মুগাবে নিজেকে ‘অপরিহার্য’ তৈরি করেছিলেন। ক্ষমতার দর্পে ও নেশায় তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি তাঁর দলের লোকের স্তুতি ও চাটুকারিতায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বুঝতেই পারেননি যে দলের কাছে কবে তিনি বোঝায় পরিণত হয়েছেন।
জীবনসায়াহ্নে মুগাবে ক্ষমতাভোগের উত্তরাধিকার একতরফাভাবে নির্দিষ্ট করতে গিয়ে অঙ্কে গরমিল করে ফেলেছিলেন। ৯৩ বছর বয়সী মুগাবের দৃশ্যত শেষ ভুল ছিল ক্ষমতার উত্তরাধিকার নির্বাচন। তিনি তাঁর স্ত্রী গ্রেসকে তাঁর স্থানে কল্পনা করেছিলেন। তাই দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন, যিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সামরিক বাহিনীতে জনপ্রিয়, তাঁকে তিনি বহিষ্কার করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তই তাঁর জন্য কাল হয়।
আমরা আশা করব, দেশটির সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ক্রান্তিকাল অতিক্রমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। কারণ, নির্বাচিত স্বৈরশাসকের পরিবর্তে সামরিক স্বৈরশাসন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানকার গণতন্ত্রকামী জনগণও তা বরদাশত করবে না। তবে মনে হচ্ছে দেশটিকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ, এমারসন কতটা কর্তৃত্বপরায়ণমুক্ত হবেন, তা পরিষ্কার নয়। তবে ইতিহাসের শিক্ষা বিবেচনায় নিয়ে গণতন্ত্র ও জনগণের ইচ্ছার প্রতি দেশটির নতুন শাসকগোষ্ঠী সম্মান দেখাবে, সেটাই প্রত্যাশিত।
শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭
এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই।
এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেনা এই চিহ্নের মানেটা কি?এর পেছনে একটি অন্ধকার অতীত রয়েছে। এটিকে ড্যাব (DAB) সাইন বলা হয়। এর পূর্ণরূপ Devils are bright যার অর্থ অনেকটা এররকম দাড়ায়-"শয়তানেরা চির উজ্জল"(নাউজুবিল্লাহ) এটা সাতানিসম বা শয়তানের পূজা কে প্রমোট করে।জঘন্যতম শিরকের একটি এটি। কারন এই চিহ্ন দ্বারা শয়তানকে সিজদাহ করা বোঝানো হয়। এটা আল্লাহ্-তায়ালাকে সিজদাহ করার বিপরীত। বর্তমানে তারকা খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে অনেকেই এই চিহ্নের অনুকরণ করছে। এটাকে ফান হিসেবে দেখছে। কিন্তু এই কাল ফান আপনার জাহান্নামে যাওয়ার কারন হতে পারে! এমনও হতে পারে এটি ইলুমিনাতি (Illuminati) বা শয়তানের পূজারিদের দ্বারা মুসলিমদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ছড়ানো। অনেক স্বনামধন্য তারকাদেরই এই দলের অন্তর্গত বলে ধরা হয়। সৌদিআরবে এই সাইন শো করা আইনগত দন্ডনীয়। একটাই অনুরোধ,না জেনে বুঝে কিছু অনুকরণ করতে যাবেন না। শেষে ক্ষতিটা হয়তো আপনারই হবে। ভালো থাকুন,ভালো রাখুন আর জেনে বুঝে কাজ করুন।
আসামে ৫০ লক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির বর্তমান সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷
আসামে ৫০ লক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির বর্তমান সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷ ২৭ লক্ষ মুসলমানদের নাগরিকত্ব বাতিল করে কার্যত আসামকে মিয়েনমারের মতো বানানোর নীলনকষা আঁকছে বিজিপি সরকার৷ রুহিঙ্গাদের পরিণতির পথে ফেলে দিতে আসামের রাজ্য সরকার পায়তারা অব্যাহত রেখেছে৷
আসামের মুসলিদের কি হবে? তারা কোথায় যাবে? ওদেরকে বলা হচ্ছে তারা বাংলাদেশী৷ রোহীঙ্গাদের মতো তাদেরকেও কি জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে, না কি গলা টিপে হত্যা করা হবে? পৃথিবীতে আর কতো মুসলিমকে শরণার্থী হতে হবে?
ভারতে গরু জবাই করলে বিচার হয়৷ অথচ, ভারতের উগ্র হিন্দুদের হাতে মুসলমানগণ অহরহ সাম্প্রদায়িক হামলা, নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন৷ ক্ষমতাশীল দল ও খোদ কসাই প্রধানমন্ত্রী-ই এসব হামলার ইন্দন ও নির্যাতনের সাথে অনেকটা জড়িত৷ এসবের সুষ্ঠু কোনো বিচার হচ্ছেনা৷ মুসলিমগণ প্রতিনিয়ত নির্যাতন ভোগ করছে৷ অপরদিকে, ভারত আমাদের স্বাধীন দেশের সিমানার ভেতরেও বিভিন্ন সমস্যা তৈরিতে লিপ্ত৷ তারা বারবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে অশান্তি লাগিয়ে রাখছে৷
আসামের মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ভারতীয় মুুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন ও মহান নেতা আওলাদে রাসূল আল্লামা আরশাদ মাদানী ইতোমধ্যে ভারকারের সামনে কঠোর হুসিয়ারী উচ্চারন করেছেন৷ আমাদেরকেও চোখ কান খোলা রাখতে হবে৷
ওসমানী খিলাফতকালে প্রতিটি ঘরের দরোজায় দু'টি কড়া থাকতো।
ওসমানী খিলাফতকালে প্রতিটি ঘরের দরোজায় দু'টি কড়া থাকতো। একটি ছোট, আরেকটি বড়। যখন ছোট কড়াটি নাড়ানো হতো, বুঝা যেতো যে, আগন্তুক একজন মহিলা। তখন গৃহকর্ত্রী এসে দরোজা খুলে দিতো। আর যখন বড় কড়াটি নাড়ানো হতো, বুঝা যেতো যে, আগন্তুক একজন পুরুষ। তখন গৃহকর্তা এসে দরোজা খুলে দিতো।
.
.
যখন কোনো ঘরে কেউ অসুস্থ হতো, তখন ঘরের দরোজার উপর লাল গোলাপের তোড়া রেখে দেয়া হতো। যাতে করে দরোজার সামন দিয়ে অতিকক্রমকারী গাড়ি, পণ্যবিক্রেতা ও চলাচলকারী ব্যক্তি বুঝতে পারে যে, ঘরে কেউ অসুস্থ আছে, তাই জোরে কোনো শব্দ না করে।
.
.
খিলাফত হারিয়ে কেমন অভিশপ্ত জীবনের ভাগীদার হলাম আমরা! কোন সে ফিরদাউস হারালাম! মানবতাবোধের কোন সে স্বর্ণকাল বিদায় নিলো আমাদের থেকে! কতইনা সুখের ছিলো সে যুগ! কতইনা শান্তির! কত সভ্য! সুন্দর! কত পবিত্র! আহ!!! বদনসিব এই উম্মাহর!!!
.
.
.
সূত্র- আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (قصص و عبر) হতে অনূদিত।
শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ
ছবিটির ডানপাশে যে মহান মনীষীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি হলেন শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ.। ওসমানী খিলাফতে তাঁর লক্বব ছিলো 'শাইখুল ইসলাম'। তিনি সেসকল হাতেগুনা আলেমদের একজন ছিলেন, যাঁরা শুরুলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতার জনক বে-ঈমান আতাতুর্কের ইসলাম বিদ্বেষী ষঢ়যন্ত্র ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এমনি এক কঠিন পরিস্থিতিতে, যখন বেশিরভাগ মানুষ; এমনকি আলখেল্লাধারী আলেমগন পর্যন্ত আতাতুর্কের প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন!
.
.
যখন তিনি আতাতুর্কের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড দেখতে পেলেন, এক ঐতিহাসিক কিতাব রচনা করলেডন 'আন-নাকীরু আলা মুনকিরীন নি'মাতি মিনাদ দ্বীন ওয়াল খিলাফাহ ওয়াল উম্মাহ' নামে। উক্ত কিতাবে তিনি একটি কথা বললেন -"যারা আমাদের দেশে রাজনীতিকে দ্বীন থেকে মুক্ত করে নিয়েছে এবং তারা ওলামায়ে কিরামের জন্য রাজনীতি চর্চাকে অপছন্দ করে এই দলিলের ভিত্তিতে যে, এ রাজনীতি ওলামায়ে কিরামের জন্য অসমীচীন ও মানহানিকর, তারা মূলতঃ রাজনীতির অবমূল্যায়ন করতে চায় ও রাজনীতিকে একমাত্র তাদের জন্য কুক্ষিগত করে রাখতে চায়! তারা ওলামায়ে কিরামদের ধোঁকা দিতে চায় এবং অথর্বদের কাতারে দাঁড় করিয়ে রাখতে চায়, যাতে আলেমরা তাদের হস্তচুম্বন করে! তারা বুঝাতে চায় যে, আলেমরা সম্মানী, অতঃপর তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে জনগণ ও দ্বীনের ব্যাপারে!"
.
.
বাম পাশর ছবির দিকে তাকান। পাগড়িওয়ালা আলখেল্লাধারী বয়োবৃদ্ধ শাইখ! আতাতুর্কের দরবারী ভাড়াটে আলেম! এদের মাধ্যমে আতাতুর্ক তুরষ্কে প্রথমে তার ভীত মজবুত করছিলো। অবশেষ টয়লেট পেপারের মতো ছুঁডড়ে ফেলে তাদের শাহরগ চেপে ধরেছিলো। শেষ রক্ষে দেয়নি তাদেরও!
.
.
শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ. - আতাতুর্ক ও তার সমর্থক জনগনের তোপের মুঝে পড়েছিলেন। কিন্তু তারপরও বলেছিলেন, আলেমদের দায়িত্ব নয় জনসমর্থন আদায় করা এবং ক্ষমতাধরদের মন যুগিয়ে চলা, বরং আলেমদের দায়িত্ব হলো সত্যকে উন্মোচন করে দেয়া।
.
.
সূত্র- (تاريخ الدولة العثمانية) হতে অনূদিত।
আজও সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা.
আপনি কি জানেন যে, আজও সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. -এর একটি একাউন্ট রয়ে গেছে?! আপনি কি উসমান ইবনে আফফান টাওয়ারের কাহিনী জানেন, বর্তমানে যেটি মসজিদে নববীর পাশে নির্মাণাধীন?! সেখানে কি আজও উসমান বিন আফফান রা. - এর বংশধররা রয়ে গেছে, যাঁরা তাঁর নামে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করছেন?! ইহা এক লোমহর্ষক কাহিনী! তাহলে শুনা যাক-
.
মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর যখন দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো, ততবেশি পানিরও প্রয়োজন বাড়তে থাকলো। মদীনায় যে কূপ থেকে সবচেয়ে বেশি পানি সরবরাহ করা হতো, তার নাম ছিলো রূমা কূপ। কিন্তু এই কূপটি ছিলো একজন ইহুদীর। ইহুদী অত্যন্ত শক্তদিলের আদমী ছিলো। সে একফোঁটা হলেও পানিকে বিক্রি করতো!
.
হযরত উসমান রা. - বিষয়টি জানতে পারলেন। তিনি ইহুদীর কাছে এসে কূপটি বিক্রয় করার আবেদন করলেন। কিন্তু ইহুদী তা প্রত্যাখ্যান করে বসলো। তিনি কূপের অর্ধেক বিক্রয় করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। এভাবে যে, কূপটি পালাক্রমে একদিন তাঁর মালিকানায় থাকবে। আরেকদিক ইহুদীর। আর ইহুদী তার মালিকানার দিন পানি বিক্রি করবে। এবার ইহুদী সম্মতি প্রকাশ করলো। কারণ, সে মনে করে করলো, এবার আগের চেয়ে ক্রেতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আবার অর্ধেক কূপের দাম তো পকেটেই আছে! কিন্তু ঘটলো তার বিপরিত। পানি বিক্রির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলো! একজনও ক্রেতার খবর নাই! ইহুদীর আশ্চর্যেরও সীমা নাই! ইহুদী অনুসন্ধান করে জানতে পারলো যে, উসমান রা. - তাঁর মালিকানাধীন অর্ধেক কূপ মানুষের জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। মানুষেরা তাঁর মালিকানার দিন ফ্রি তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি নিয়ে যায়, তাই তার (ইহুদীর) মালিকানার দিন আর প্রয়োজন পড়েনা! ইহুদীর তো মাথায় হাত! সে তড়িৎ উসমান রা. - এর কাছে গিয়ে পুরো কূপটি খরিদ করে নেয়ার অনুরোধ করতে লাগলো। তিনি ২০ হাজার দিরহামের বিনিময়ে পুরো কূপটি কিনে নিলেন। পুরোটাই আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিলেন।
.
কিছুদিন পর তাঁর কাছে একজন সাহাবি আগমন করে দ্বিগুণ মূল্যে কূপটি খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. - বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, কিন্তু আমি দেইনি। ঐ সাহাবি তিনগুণ মূল্য দিয়ে খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. - বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য পেশ করা হয়েছে এ, তবুও আমি দেইনি। এবার ঐ সাহাবি আশ্চর্য হয়ে বললেন, এরকম চড়ামূল্য দিয়ে ক্রেতা আমি ব্যতিত আর কাউকে পাবেননা আপনি! উসমান রা. - বললেন, ভালো কাজের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ আমাকে দশগুণ দান করবেন!
.
উসমান রা. - কূপটি ওয়াকফ করে দিলেন। কিছুদিনের মধ্যে কূপের আশেপাশের খেজুরগাছগুলো খুব দ্রুত বাড়তে লাগলো। কালের আবর্তে হয়ে গেলো এক বিশাল খর্জুর বিথিকা। এভাবে আসলো উসমানী খিলাফাহর যুগ। উসমানী খিলাফাহ বাগানটাকে খুবই পরিচর্যা করলো। উসমানী খিলাফাহর পতনের পর আসলো সৌদি সরকারের আমল। সৌদি সরকার বাগানটির আরও যত্ন নিলো। এমনকি বাগানের খেজুর গাছের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৫৫০-এ!
.
সৌদি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় একটি প্রসংশনীয় অবস্থানে উত্তীর্ণ হলো। কৃষি মন্ত্রণালয় বাগানের আহরিত খেজুর আরব সহ বিশ্ববাজারে রফতানি করে বিরাট লাভের অধিকারী হতে লাগলো। লাভের অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের জন্য ব্যয় করতে লাগলো আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. এর নামে একাউন্ট খুলে সঞ্চিত করতে শুরু করলো। একাউন্ট পরিচালনা করতে লাগলো স্বয়ং সরকারী মন্ত্রণালয়।
.
এভাবে লাভ শুধু বাড়তেই থাকলো বাড়তেই থাকলো। একসময় একাউন্টে এমন পরিমাণ সম্পদ সঞ্চিত হলো যে, যা দিয়ে মসজিদে নববীর পাশেই সদর এলাকায় একটা জমি কেনা যাবে। অতঃপর মসজিদে নববীর পাশেই একটি জমি কিনে 'উসমান ইবনে আফফান রা. - টাওয়ার' এর কাজ শুরু হলো ঐ লাভ থেকেই। বর্তমানে টাওয়ারের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। অচিরেই টাওয়ারটি টাওয়ার কমিটিকে পাঁচটি মেয়াদে ভাড়া দেয়া হবে। বার্ষিক ভাড়া আসবে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রেয়াল! অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের একাউন্টে, আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. - এর একাউন্টে।
.
খুশির বিষয় হচ্ছে, যে জমিতে টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জমিকে চিরস্থায়ীকালের জন্য 'উসমান ইবনে আফফান রা. - এলাকা' নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে!
.
আল্লাহু আকবার! ইহা আল্লাহ তা'লার সাথে ব্যবসার ফল! যে ব্যবসা ১৪ টি শতাব্দীকাল ধরে চলমান!! জানিনা উসমান রা. - এর আমলনামায় লিখিত পূণ্যের পরিমাণ কতটুকু?!
.
.
সুত্র- আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (قصص و عبر) হতে অনূদিত।
ওসমানী খিলাফাহর স্বর্ণকণিকা
খেয়ে ফেলেছি মসজিদ'! কী- অবাক হলেন?! ভাবছেন- এ আবার কোন নাম হল?! অবাক হওয়ার কিছু নাই। বাস্তবেই এটি একটি মসজিদের নাম। পৃথিবীর ইতিহাসে মসজিদের সবচে' আনকোরা নাম। তুরষ্কের ইস্তাম্বুলের 'ফাতিহ' নামক এলাকার একটি ছোট্ট জামে মসজিদের নাম। তুর্কি ভাষায় মসজিদটির নাম -'সানকি য়াদম'। অর্থ- 'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি'। এই আনকোরা নামের পেছনে একটি চমকপ্রদ কাহিনী রয়েছে। চলুন তাহলে শোনা যাক-
ইস্তাম্বুলের 'ফাতিহ' নামক এলাকায় 'খাইরুদ্দীন আফেন্দি' নামের একজন দরিদ্র- মুত্তাক্বি ব্যক্তি ছিল। সে যখন বাজারে যেত ফল, গোস্ত, মিষ্টি ইত্যাদি খরিদ করার জন্য; তখন নিজের আগ্রহকে সামলে নিতে মনে মনে বলত- 'সানকি য়াদম' বা 'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি'। অতঃপর পকেটের টাকা পকেটে নিয়েই বাড়ি ফিরত! টাকাগুলো একটি সিন্ধুকে সঞ্চিত করে রাখত। এভাবে তার আর মনের খুশিমতো ফল, গোশত, মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়া হতোনা। বরং 'সানকি য়াদম' বলে মনে মনে খেয়ে সিন্ধুকে রাখা হতো!
.
.
দিন যায় রাত আসে, রাত যায় দিন। সপ্তাহ গড়িয়ে বছর, বছর পেরিয়ে যুগ। কালের ক্রমান্বয়ে টাকার হারও বাড়তে থাকল সিন্ধুকে। এভাবে একদিন দেখা গেল যে, সিন্ধুকে বেশ কিছু টাকা সঞ্চিত হয়ে গেছে। ঐ দরিদ্র -মুত্তাক্বি ব্যক্তি সঞ্চিত টাকা দিয়ে নিজ মহল্লায় একটি ছোট্ট জামে মসজিদ প্রতিষ্টা করে নিল। অতঃপর যখন মহল্লাবাসী ঐ দরিদ্র- মুত্তাক্বি ব্যক্তির মসজিদ নির্মাণের কাহিনী জানতে পারল, তারা মসজিদটির নাম রেখে দিল -'সানকি য়াদম মসজিদ' বা -'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি মসজিদ'!!!
.
.
.
সূত্র- (রাওয়াঈ'য়ু মিনাত-তারীখিল উসমানী, পৃষ্টা- ১০০। উরখান মুহাম্মাদ আলী)
শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী(রহ.)- কে দেখিনি, কিন্তু তাঁরই প্রতিচ্ছবি ভারতের বর্তমান মুসলমানদের রাহবর, হযরতুল উস্তায মাওলানা আরশাদ মাদানী(দা.বা.)-
ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের সিপাহসালার শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী(রহ.)- কে দেখিনি, কিন্তু তাঁরই প্রতিচ্ছবি ভারতের বর্তমান মুসলমানদের রাহবর, হযরতুল উস্তায মাওলানা আরশাদ মাদানী(দা.বা.)- দেখে বুঝতে পেরেছি, জালিমের বিরুদ্ধে কীভাবে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে হয়। বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে ভারতের আসাম প্রদেশের ৫০ লাখ মুসলমানকে বাংলাদেশী বলে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে হযরত বলেন, "২০১৪ সাল অবধি ভারতে যতো হিন্দু উড়ে এসেছে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে, অথচ ৪০০ বছর ধরে বসবাসকারী মুসলিমদেরকে বাংলাদেশী বলে তাড়িয়ে দেবে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ১০ বছর পর বলা হবে তোমরা ভারতীয় নও, এটা কখনো মেনে নেবো না। আসামকে দ্বিতীয় মায়ানমার বানানোর অপচেষ্টা চলছে। ৫০ লাখ মানুষকে উচ্ছেদ করলে তারাও তো বসে থাকবে না। জ্বালাও-পোড়াও, মারামারি, হত্যাকাণ্ড ঘটবে।"
.
এই বক্তব্য শোনে মোদীর আরামের ঘুম হারাম হয়েগেছে। কাপুরুষের মতো তথ্যসন্ত্রাস চালাচ্ছে। হলুদ মিডিয়া দ্বারা প্রচার করছে, হযরত নাকি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন! তাই মাদানীর বিরুদ্ধে মামলা কারেঙ্গে, এ্যান কারেঙ্গে, ত্যান কারেঙ্গে। কশাই মোদীর বোধহয় জানা নেই যে, দেওবন্দীরা এসব মামলা-মুকাদ্দমার পরোয়া করেন না। তাঁরা সর্বদা কাফনের কাপড় সাথে নিয়েই চলেন। তবুও জালিমের কাছে মাথা নত করেন না।
(বক্তব্যটির ভিডিও লিঙ্ক, সাথে বিজেপির এক আসামী সাংঘাতিকের মজাদার বিকৃতি...https://youtu.be/h1u9D_abaDA)।
শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭
কেন আরবের সাথে (ইরান) পারস্যদের দ্বন্দ্ব ....?
আজ থেকে ১৪ শ' বছর আগেই খলীফা হযতর ওমরের (রাঃ) সময় থেকেই পারস্যের অগ্নীপুঁজারীরা তাদের অগ্নীপুঁজার কারনেই আরবদের মেনে নিতে পারেনি কারন আরবের ততকালীন লোকেরা সর্বপ্রথম অগ্নীপুঁজার বিরুদ্ধে বলেছেন, আর সেই ধারাবাহিকতা আজও চলছে।আরবের বিভিন্ন দেশে ইরান থেকে অস্র দেয়া হয় সেসব দেশের মুশরীক পন্থী শিয়াদের তারা যাতে আরবের সরকারদের বিরুদ্ধে একটা ঝামেলা তৈরি করে। তো সৌদি আরবের পার্শবর্তী দেশ যে দেশ থেকে সৌদিতে ঢুকতে কোন ভিসা লাগে না অর্থাৎ ইয়েমেন সেখানে সৌদির চির প্রতিদন্দী মুশরিক ইরানী সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস চালাবে আর তারা চেয়ে চেয়ে দেখবে সেটা হতে পারে না।ইরান শুধু সৌদির পার্শবর্তী দেশ নয় বরং সৌদি আরবের ভেতরে আল কাতিফ প্রদেশের শিয়াদের দ্বারাও সৌদি আরবে একটা ঝামেলা পাকাতে চেয়েছিল যেটা সবাই জানে।এখন কথা হচ্ছে আরব দেশগুলতে যেভাবে শাসন ব্যাবস্থা চালু আছে সেটা ঠিক আছে যার কারনে আমার বাংলাদেশের কোটি মানুষ এখানে তাদের জীবিকা অর্জন করতে পারছে কিন্তু আরব দেশগুলো কখনই ইরানের সঙ্গ দেয়নি ভবিষ্যতে দিবে বলে মনেও হয় না তাই আমেরিকা-ইসরাইল যেভাবে আরব দেশগুলো ভেঙ্গে ফেলতে চায় ঠিক একই ভাবে মুশরিক পন্থী ইরানও আরব দেশগুলোতে গোলযগ তৈরি করতে চায় তার স্বার্থ আদায়ের জন্য। আজ আমাদের অনেক মুর্খ মুসলিমকে দেখা যায় যে ইরানকে মুসলীম বিশ্বের নেতা মনে করে বসে আছে অথচ যে মুসলীম না সে আবার কেমনে মুসলীম বিশ্বের নেতা হয়...? ইরান ইসলামের জন্য সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে না তাদের আসল উদ্দেশ্য হল কবর ও বারো ইমাম পুজারী খমিনীর মৃত্যুর সময়ে অসিয়াত করে যাওয়া "ইসনা আশারিয়্যা" নামক কুফরী মতবাদ মুসলীম দেশগুলোতে ছড়ানো।
একটু লক্ষ করলেই বুঝবেন দেখুন আরবের বিভিন্ন দেশে যত যুদ্ধ হচ্ছে সবখানেই ইরান তার স্বার্থের জন্য লড়ছে, ইরাকে আমেরিকা হামলা করলো তখন তারা চুপ ছিল কেন...? সৌদি রাজপরিবার আমেরিকার গোলাম সেজন্য তারা তো চুপ থাকবেই কিন্তু ইরান চুপ ছিল কেন...? ইয়েমেনের কথা তো বললামই, সিরিয়ায় ৫ লক্ষাধিক মুসলীমদের খুনী আসাদকে কিভাবে অস্র ও সৈন্য দিয়ে সাহয্য করেছে অথচ আসাদ কালিমা পর্যন্ত পরিবর্তনকারী একজন মুশরীক কাফির, কেন আপনি দেখেন নি সেই সিরিয়ার মুসলীম মেয়েরা বিশ্ব আলেমদের কাছে চিঠি লিখেছিল এই মর্মে যে কাফির আসাদ বাহিনীর ধর্ষনের হাত থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা জায়েজ আছে কিনা একটু ভাবুন পরিস্থিতি কোথায় গেলে এমনটা হতে পারে,
আফগানিস্তানে আমেরিকার আগ্রাসনের সময় তালিবান বিরোধী সেই শীয়া গুলফুদ্দীন হেকমতিয়ারের উত্তরাঞ্চলীয় জোটকে এই ইরান সাহায্য করেছিল, মানে দাড়ালো আমেরিকা যাদের ওপরে ভর করে আফগানে ঢুকলো সেই জোটকে ইরানও মদদ করেছিল কেন...? তালেবানরা মুসলীম (সুন্নী) ছিল বলে।
বর্তমানে মুসলীম বিশ্বে সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হচ্ছে আরাকানের মুসলীমরা অথচ আরাকানের ব্যাপারে ইরানের ভুমিকা কি..? আরাকানে যতটুক করছে তা তো সেই আমেরিকার দালাল হিসেবে পরিচিত সৌদিই করছে, আরও ৭০ বছর আগেই বাদশা আব্দুল আজীজই সর্বপ্রথম আরাকান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলেছেন, প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যারা সৌদিতে নাগরিকত্ব পেয়েছে, আজও আরাকান স্বাধীনের জন্য "ফ্রী আরাকান স্যালভেশন" এবং অন্যান্য যতগুলো সশস্র গ্রুপ আছে সবগুলো মূলত সৌদি আরব থেকেই পরিচালিত হয়, দেখবেন কিছুদিন আগেও মিয়ানমার সরকার ৭ সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ এনে তাদের নাম কালো তালিকাভুক্ত করেছে কিন্তু যারা ইরানকে মুসলীম বিশ্বের নেতা মনে করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আরাকানে ইরান কি করছে...? ইরান, রাশিয়া ও চিন আরাকান ইস্যুতে একই সুরে কথা বলেছিল কারন আরাকানে নির্যাতিতরা মুসলীম শীয়া নয় তাই ইরানের স্বার্থও সেখানে নেই। সুতরাং মুসলীম মুসলীমদের জন্য লড়ছে এবং লড়বে যেটা সৌদি আরব আজীবন করে আসছে হয়তো মাঝে দু'এক শাসক আসবে ভিন্ন রকম কিন্তু ইরান তো মুসলিম নয় সে কোন দিনও মুসলীমদের জন্য লড়বেও না সেটা আপনি বুঝেন আর না বুঝেন মানতেই হবে।
শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭
বিশাল আয়তনের একটি ইসলামি ভূখণ্ড 'পূর্ব তুর্কিস্তান'
আপনি কি জানেন যে, বিশাল আয়তনের একটি ইসলামি ভূখণ্ড 'পূর্ব তুর্কিস্তান' - কে কম্যুনিস্ট চীন দখল করে রেখেছে সেই ১৯৪৯ সাল থেকেই?! অথচ, এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর 'কাশগড়' উমাইয়া শাসনামলে ৯৬ হিজরি সনে বিজয় করেছিল মুসলিম মুজাহিদরা! প্রায় ১৩ শ'বছর যেথায় ইসলামের সূর্য ছিল স্বমহিমায় উদিত, আজ ৬৮ বছর যাবৎ সেথায় সেই সূর্য অস্তমিত! ইসলাম সেথায় লাঞ্ছিত-বঞ্চিত, দলিত-মথিত! মুসলিমরা সেথায় নির্যাতিত-নিপীড়িত, উপেক্ষিত-অপমানিত!
.
.
'পূর্ব তুর্কিস্তান'-র বর্তমান নাম- জিনজিয়াং। চীনের একটি প্রদেশ। দখলের দিন থেকে নিয়ে এ যাবৎ চীন পূর্ব তুর্কিস্তান'র প্রায় ৬০ মিলিয়ন মুসলমকে হত্যা করেছে! অর্থাৎ- ইরাক, আফগানিস্থান, চেচনিয়া, বসনিয়া ও ফিলিস্তিনের দশগুণ বেশি! শুধু ১৯৫২ সালেই চীন পূর্ব তুর্কিস্তান'র ১২০ হাজার মুসলিমকে ফাঁসি দিয়েছে। এঁদের বেশিরভাগ ছিলেন বিজ্ঞ আলেম ও মুফতিয়ানে কিরাম। এ কথা বর্ণনা করেছন পূর্ব তুর্কিস্তান'র তৎকালিন গভর্নর 'বুরহান শহীদি'। ১৯৪৯ থেকে নিয়ে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত চীন পূর্ব তুর্কিস্তান'র ২৯ হাজার মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে।
.
.
১৯৯৭ সাল থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত চীন পূর্ব তুর্কিস্তান'র ১২০০ মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। এর কিছু সংখ্যক কম্যুনিস্ট দলের আস্তানা বা ক্লাব বানিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়; পূর্ব তুর্কিস্তান'র রাজধানী 'উরুমতুশি'- র ৩৭০ টি মাদরাসা ও কুরআন শিক্ষাকেন্দ্রে আগুন লাগিয়ে ভষ্ম করে ছেড়ছে। এমনকি ৫৪ হাজার চাকুরীজীবি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সেনাবাহিনীর কষ্টকর কঠিন কাজ করে দেয়ার জন্য প্ররণ করেছে। মসজিদের ইমামদেরকে নাচার জন্য বাধ্য করেছে।
.
.
শুধু কি তাই?! চীন পূর্ব তুর্কিস্তান'র অসংখ্য-অগণিত পর্দাবৃতা রমণীদের শুধুমাত্র পর্দা প্রত্যাখ্যান না করার অপরাধে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। তদ্রুপ তারা কাশগড়'র শত-সহস্র মুসলিম পুরুষকেও জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছ।
.
.
সারাবিশ্বে মুসলিম উম্মাহর যিল্লতির এ- এক যতকিঞ্চিৎ অবস্থা মাত্র। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্থান, আরাকান, কাশ্মীর, বসনিয়া, চেচনিয়া, লেবানন, ফিলিপাইন, মালি, চাঁদ, সোমালিয়া, সিনাই, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের অবস্থা তো বিলকুল চোখের সামনে। বর্তমান বিশ্বে কোন জাতি যদি ইয়াতিম হয়, তাহলে সে জাতি হল মুসলিম জাতি! আর তার কারণ কি- জানেন? কারণ হল, বিশ্বে মুসলিমরা অভিভাবকহীন। তাদের কোন আশ্রয়স্থল নেই। মুসলিমদের কোন খলিফা নেই। কোন খিলাফাহ নেই। আর এর কারণ কি - জানেন? এর কারণ হল, মুসলিম বিশ্বে পশ্চিমা খিলাফাহ - গণতন্ত্র, রাশান খিলাফাহ- সমাজতন্ত্র, পশ্চিমাদের নেমকখোর আরবের রাজতন্ত্রের আধিপত্য।
.
.
.
সূত্র- প্রসিদ্ধ ফেইসবুক পেইজ (Islamic History) অবলম্বনে।
হৃদয়বিদারক এই চিত্রটি প্রায় অর্ধশত বছর আগের।
হৃদয়বিদারক এই চিত্রটি প্রায় অর্ধশত বছর আগের। ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামের এক রক্তাক্ত ট্রাজেডির। রক্তখেকো আমেরিকার বর্বরতার কালসাক্ষী। আমেরিকান সেনাবাহিনীর লালচামড়ার কুত্তাগুলো ভিয়েতনামের 'মে লে' নামক গ্রামের প্রায় ৫০০ নিরীহ জনগোষ্ঠীকে বিনা অপরাধে হত্যা করে। এসব হতভাগ্যদের মাঝে ছিল নারী-শিশু, আশিউর্দ্ধ বৃদ্ধ।
:
:
সেনাবাহিনীরর বেশ ক'জনকে এই হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। অতঃপর অভিযুক্তদের বাঁচাতে স্বয়ং বিচারক ও অভিযুক্তদের যৌথ উদ্দ্যোগে একটি হাস্যকর নাটকীয় বিচারের আয়োজন করা হয়। বিচারে মাত্র একজন সেনাকে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের হুকুম দেয়া হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পরই তাকে মুক্তি দেয়া হয়!
:
:
বড়োই আশ্চর্যের ব্যাপার যে, একজন সেনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- কেন তারা এই হত্যাকান্ড ঘঠিয়েছিল? সে উত্তরে বলেছিল যে, তারা ভিয়েতনামিদের কোনো মানুষই মনে করেনা!!!
:
:
মানবাধিকার রক্ষার ঠিকাদার আমেরিকার এ-এক চেপে রাখা ইতিহাস। বিচারের নামে ফাজলামোর জ্বলন্ত উদাহরণ। আমেরিকা নিজ স্বার্থেই আইন তৈরি করে, আবার নিজ স্বার্থেই তা ভংগ করে।
:
:
আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (التاريخ الإسلامي) হতে অনূদিত।
বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৭
মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড এখনো চলছে
১০৯৫ খৃস্টাব্দ থেকে ১২৯১ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড, বিশেষ করে বায়তুল মুকাদ্দাস খৃস্টানদের কর্তৃত্ব বহাল করার জন্য ইউরোপের খৃস্টানরা অনেক যুদ্ধ করে। ইতিহাসে এগুলোকে ক্রুসেড যুদ্ধ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ক্রুসেড যুদ্ধের এই ধারা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকে। এ সময় নয়টি বড় যুদ্ধ হয় এবং তাতে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।
এসব যুদ্ধে ইউরোপীয়রা সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি, পক্ষপাতিত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, অনৈতিকতা ও বর্বরতার যে প্রকাশ ঘটায় তা তাদের কপালে অনপনীয় কলঙ্ক হিসেবে চিরকাল থেকে যায়।
১) প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধ ১০৯৭-১১৪৫ খৃঃ-
পোপের যুদ্ধ ঘোষণার পর একে একে চারটি বিশাল সেনাবাহিনী বায়তুল মাকদিস জয়ের সঙ্কল্প নিয়ে রওয়ানা হয়। পাদ্রী পিটারের অধীনে তের লাখ খৃস্টানের এক বিশাল বাহিনী কনস্টান্টিনোপলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথে তারা নিজেদের ধর্মের লোকদের ওপরেই হত্যা, রাহাজানি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। তারা যখন ইসলামী এলাকায় প্রবেশ করে, তখন সালজুকী শাসক কালাজ আরসালান এ বাহিনীটিকে নাস্তানাবুদ করে দেন। তাদের প্রচুর সৈন্য নিহত হয়। ক্রুসেডারদের এ অভিযান একেবারেই ব্যর্থ হয়ে যায়।
২) দ্বিতীয় ক্রুসেড যুদ্ধ ১১৪৪-১১৮৭ খৃ.
ক্রুসেডারদের পরাজয়ের খবর সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে আবারো পোপ তৃতীয় কনরাড এবং ফ্রান্সের শসক সপ্তম লুইয়ের নেতৃত্বে নয় লাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনী মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইউরোপ থেকে রওয়ানা হয়। এই বাহিনীতে নারীরাও ছিল। প্রথম ক্রুসেডের মতো এ বাহিনীর সৈন্যরাও অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। সপ্তম লুইয়ের বাহিনীর একটি বড় অংশ সালজুকীদের হাতে ধ্বংস হয়। তারা যখন ইন্তাকিয়ায় পৌছে তখন তাদের তিন চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অবশিষ্ট সৈন্যরা অগ্রসর হয়ে দামেশ্ক অবরোধ করে। কিন্তু সাইফুদ্দীন জঙ্গী ও নূরুদ্দীন জঙ্গীর সম্মিলিত বাহিনীর প্রচেষ্টায় ক্রুসেডারদের পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। সপ্তম লুই ও কনরাডকে আবার ইউরোপের সীমান্তের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এভাবে দ্বিতীয় ক্রুসেড যুদ্ধ ব্যর্থ হয়ে যায়
৩) তৃতীয় ক্রুসেড
বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের হাতে চলে যাওয়া ক্রুসেডারদের জন্য মৃত্যুর পয়গামের চেয়ে কম ছিল না। মুসলমানদের এ বিজয়ের খবরে সারা ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ফলে তৃতীয় ক্রুসেডের আয়োজন শুরো হয়। পুরো ইউরোপ এতে যোগ দেয়। জার্মান সম্রাট ফ্রেডারিক বারব্রোসা, ফ্রান্সের সম্রাট ফিলিপ অগাস্টাস ও ইংল্যাণ্ডর রাজা রিচার্ডশেরদিল নিজেরাই এ যুদ্ধে অংশ নেন। পাদ্রী ও ধর্মযাজকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে খৃস্টানদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে।
এ ক্রুসেডে খৃস্টানরা আক্কা বন্দর ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারেনি। তারা বিফল হয়ে ফিরে যায়।জার্মান সম্রাট পালিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে ডুবে মারা যান এবং এসব যুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ খৃস্টান সৈন্য প্রাণ হারায়।
৪) চতুর্থ ক্রুসেড (১১৯৫ খৃ.)
আইয়ূবী সুলতান আল মালিকুল আদেলের হাতে খৃস্টানরা দৃষ্টান্তমূলক পরাজয় বরণ করে এবং ইয়াফা শহর মুসলমানদের আয়ত্তে চলে আসে।
৫) পঞ্চম ক্রুসেড (১২০৩ খৃ.)
ক্রুসেডাররা কনস্টান্টিনোপলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করে।
৬) ষষ্ঠ ক্রুসেড (১২২৭ খৃ.)
পোপ এনভিসেন্টের নেতৃত্বে আড়াই লাখ জার্মান সৈন্যের বিশাল বাহিনী সিরিয়ার উপকূলে আক্রমন করে। আইয়ূবী শাষক আল আদল নীলনদের মোহনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। খৃস্টান বাহিনী নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
৭) সপ্তম ক্রুসেড
আল মালিকুল কামেল ও তার ভাইদের মধ্যে বিরোধের কারণে বায়তুল মুকাদ্দাস শহর ক্রুসেডারদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু কামেলের উত্তরসূরী সালেহ তা আবার ক্রুসেডারদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। বায়তুল মুকাদ্দাস যথারীতি মুসলমানদের আয়ত্তে থেকে যায়।
৮) অষ্টম ক্রুসেড
ফ্রান্সের সম্রাট নবম লুই মিসরে হামলা চালান। কিন্তু সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান।
৯) নবম ক্রুসেড
ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম এডওয়ার্ড ও ফ্রান্সের রাজা যৌথভাবে সিরিয়ায় হামলা চালায়। মুসলমানরা ইংরেজ ফরাসী যৌথবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে দেয়। এ যুদ্ধের ফলে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে ক্রুসেডারদের অস্তিত্ব নিশ্চিন্ন হয়ে যায়। ক্রুসেডারদের মধ্যে আর যুদ্ধের সাহস রইল না। ।
দু’শতাব্দী ধরে চলতে থাকা যে ক্রুসেড যুদ্ধ মুসলমানদের উপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাতে ধ্বংস ও নাশকতা ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারেনি ইউরোপীয়রা।
এরপরেও কিন্তু তারা থেমে থাকেনি । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড তারা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিমেরা একজোট হচ্ছে।
আফসোস হলেও সত্য যে মুসলমান তা উপলব্ধি করতে পারছেনা। এত নির্যাতিত হবার পরেও মুসলমান অমুসলিমদের শত্রু নয়, বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে !!
বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
আশুরা : করণীয়-বর্জনীয় আশুরার পরিচয়
মুফতি Mohiuddin Kasemi সাহেব দাঃ বাঃ
আশুরা শব্দটি আরবি ’আশেরা’ শব্দ থেকে রূপান্তরিত। আর আশেরা হচ্ছে ‘আশারা’ শব্দের বিশেষণ। যার, সাধারণ বাংলা অর্থ হচ্ছে দশ, দশক, দশজন বা দশটি (১০)। অর্থাৎ আশারা একটি আরবি সংখ্যার নাম যার বাংলা অর্থ দশ। দেখা যাচ্ছে, আরবি সংখ্যা ‘আশারা’ (১০) থেকে ‘আশেরা’ (দশম)। আর তা থেকে ‘আশুরা’ শব্দটি নির্গত হয়েছে যার অর্থ, মুহাররম মাসের ১০ তারিখ। (লিসানুল আরব : খ. ৪, পৃ. ৫৬৯(
এই শাব্দিক পরিবর্তনের ফলে অতিরঞ্জন এবং সম্মানের অর্থ পাওয়া যায়। (ফাতহুল বারী : খ. ৪, ৩১১)
আশুরার দিনে অনেক বরকত, ফজিলত ও মাহাত্ম্য রয়েছে। দিনটি তাৎপর্যম-িত। এ দিন আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, লওহে মাহফুজ, নদী-সাগর, আদম-হাওয়া, জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া :
এ দিনেই হযরত আদম আ. জান্নাতে প্রবেশ করেন। এ দিনেই আল্লাহ তাআলা তাঁর দোয়া কবুল করেন। এ দিনেই তিনি আল্লাহর খলিফা হিসেবে দুনিয়ায় আগমন করেন।
এ দিনে হযরত ইবরাহীম আ. জন্মলাভ করেন। এ দিনেই তিনি নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি পান।
এ দিনেই হযরত ইউনুস আ. মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন।
এ দিনেই হযরত ইউসুফ আ. কূপ থেকে বের হন।
এ দিনেই হযরত নুহ আ. এর নৌকা মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি পেয়ে জুদী পাহাড়ে অবতরণ করে।
হযরত আইয়ুব আ. এ দিনেই দুরারোগ্য ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভ করেন।
এ দিনেই হযরত মুসাকে আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের বিরুদ্ধে সাহায্য করেন। নীলনদের বুকে রাস্তা তৈরি হয়। ফলে মুসা আ. ও তাঁর সঙ্গীবৃন্দ নিরাপদে পেরিয়ে যান। ফেরাউন তার দলবল নিয়ে নদীতে ডুবে মরে।
এ দিনেই হযরদ দাউদ আ. এর দোয়া কবুল হয়।
এ দিনেই হযরত ইয়াকুব আ. এর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ দিনেই হযরত ঈসা আ. অলৌকিকভাবে পিতা ছাড়াই জন্মলাভ করেন। এ দিনেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেন।
এ দিনেই হযরত সুলায়মান আ. বিশাল সাম্রাজ্যের রাজত্ব লাভ করেন।
.
ইসলামপূর্ব আশুরার রোযা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عنها ، قالت : كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فَي الجَاهِلِيَّةِ ، وَ كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ ، فَلمّا هَاجَرَ إلى المدينةِ ، صَامَهُ و أمَرَ بصَوْمِهِ ، فَلمّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قال : مَنْ شَاءَ صَامَهُ و مَنْ شَاءَ تَرَكَهُ .
অর্থ : আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : কুরাইশ গোত্র জাহেলি যুগে আশুরার রোযা রাখত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেদিন রোযা রাখতেন। অতঃপর রাসুল সা. যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি নিজে রোযা রাখলেন এবং অন্যদের রোযা রাখার আদেশ করলেন। তারপর যখন রমযান মাসের রোযা ফরয করা হল, তখন তিনি বললেন : ইচ্ছা হলে রোযা রাখো, না হলে রেখো না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৩)
.
ইসলামে আশুরার রোযা
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِى تَصُومُونَهُ গ্ধ. فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ গ্ধ. فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ.
অর্থ : ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন ইহুদি সম্প্রদায়কে আশুরার দিনে রোযা পালন করতে দেখলেন। তাই তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন :
“এটা এমন কোন্ দিন, যে দিনে তোমরা রোযা রাখছ? তারা বলল, এটি একটি মহান দিন, আল্লাহ তাআলা এই দিনে মুসা আ. এবং তাঁর অনুসারীদেরকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার দলবলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। তাই মুসা আ. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রাখেন। অতএব আমরাও রোযা করি। তারপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তাহলে তো মুসা আ. এর ব্যাপারে তোমাদের তুলনায় আমরা বেশি হকদার। অতঃপর রাসুল সা. রোযা রাখেন এবং রোযা রাখার আদেশ দেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৭১৪, অধ্যায় : باب صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ)
.
আশুরার রোযার ফজিলত
আবু কাতাদা আল-আনসারি রা. হতে বর্ণিত :
سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ : يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ
অর্থ : নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার রোযার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এটা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা। অর্থাৎ এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৮০৪)
.
আশুরার রোযার হুকুম
ইমাম নববি রহ. বলেন :
اتفق العلماء على أن صوم يوم عاشوراء اليوم سنة ليس بواجب
“উলামাগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আশুরার রোযা সুন্নত। ওয়াজিব নয়। (শরহে মুসলিম : খ. ৮, পৃ. ৪)
কারণ একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর এই রোযা সম্পর্কে বলেছেন : যার ইচ্ছা রোযা রাখবে আর যার ইচ্ছা রাখবে না।
عَنْ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَانَ يُصَامُ فِى الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ.
অর্থ : হযরত আয়েশা রা. বলেন, জাহেলি যুগে আশুরার রোযা রাখা হতো। ইসলাম আসার পর কেউ ইচ্ছা করলে রোযা রাখত, আবার কেউ রাখতও না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯৫)
.
আশুরার রোযা কয়টি?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাররম মাসের দশ তারিখে (আশুরার দিনে) রোযা রাখতেন, একাধিক হাদীসে বর্ণিত তা হয়েছে। তবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্বে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, আল্লাহ যদি আগামী বছর বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে মুহাররমের নয় তারিখেও রোযা রাখব। আর রাসুল সা. যা করার ইচ্ছা করেন তাও সুন্নত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে :
حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا غَطْفَانَ بْنَ طَرِيفٍ ، يَقُولُ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، يَقُولُ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِنَّهُ يَوْمٌ يُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ ، صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ، قَالَ : فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ : ইবনে আব্বাস রা. বলেন : যখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোযা রাখেন এবং অন্যদের রাখার আদেশ করেন, তখন সাহাবাগণ বললেন : এটি একটি এমন দিন যাকে ইহুদি ও খ্রিস্টানেরা সম্মান করে থাকে। অতঃপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আগামী বছর ইনশাআল্লাহ নবম তারিখেও রোযা রাখব। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন : আগামী বছর আসার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যান। (সুনানে আবী দাউদ, হাদীস নং- ২৪৪৭(
অতএব বুঝা গেল, আশুরার রোযা হবে দুটি : নবম এবং দশম তারিখ। আর এটিই হচ্ছে আশুরার রোযার উৎকৃষ্ট স্তর। কারণ এর সমর্থনে সহিহ প্রমাণ বিদ্যমান। অনুরূপ শুধু দশ তারিখে একটি রোযাও রাখা যেতে পারে। কারণ এটিই ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল। তবে উলামাগণ এটিকে আশুরার রোযার নিম্ন স্তর বলেছেন। অর্থাৎ কেবল আশুরার দশ তারিখে রোযা রাখা অনুত্তম। নয় ও দশ তারিখে দুটি রোযাই মুস্তাহাব ও উত্তম।
উল্লেখ থাকে যে, অনেকে আশুরার রোযাসহ তার পূর্বে ও পরে আরও একটি অর্থাৎ মোট তিনটি রোযা রাখাকে সর্বোত্তম স্তর বলেছেন। আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রহ. বলেন :
وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَصُومَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ بِصَوْمِ يَوْمٍ قَبْلَهُ أَوْ يَوْمٍ بَعْدَهُ لِيَكُونَ مُخَالِفًا لِأَهْلِ الْكِتَابِ وَنَحْوُهُ فِي الْبَدَائِعِ.
(রদ্দুল মুহতার : খ. ৭, পৃ. ৩২৬; আরও দেখা যেতে পারে : ফাতহুল বারী : খ. ৪, পৃ.৩১১-১২; নায়লুল আউতার : খ.৩, পৃ.৭৩৩; তুহফাতুল আহওয়াযী : খ. ৩, ৩৮২)
..........................
আশুরার রোযার সাথে হুসাইন রা. এর শাহাদাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
অনেককে এই দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতে শুনা যায় : এই দিনে হুসাইন রা. শহীদ হয়েছিলেন তাই আমরা রোযা রাখছি। দীনের বিষয়ে এটি একটি বিরাট অজ্ঞতা। সাধারণ লোকদের এই উত্তরের পিছনে আছে শিয়া সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব! যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পৌত্র হুসাইন রা. এই দিনে কারবালা প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হয়েছিলেন, তাই শিয়ারা এই দিনটিকে শোক দিবস হিসাবে উদযাপন করে থাকে। তাই সাধারণ লোকদের নিকট এই দিনটির পরিচয় এবং মর্যাদার কারণ হচ্ছে, হুসাইন রা. এর শাহাদত। আর এ কারণেই হয়ত তারা বলে থাকে, হুসাইন রা. শহীদ হয়েছিলেন তাই রোযা করছি।
এটি একটি বিরাট ভুল ধারণা। কারণ যেদিন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেছেন সেদিন থেকে অহীর ধারা বন্ধ হয়ে গেছে; আর অহীর মাধ্যমেই ইসলামের আদেশ-নিষেধ আসত। ইসলাম পূর্ণতা লাভ করার পরেই রাসুল সা. এর মৃত্যু হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যুর পর ইসলামের নামে কোনো বিধান আবিষ্কৃত হবে না। কেউ এমন করলে তা হবে বিদআত, দীনের মধ্যে নবসংযোজন; যা প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যাজ্য। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
অর্থ : যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনে নতুন কিছু আবিষ্কার করল, যা এর অংশ নয় তা প্রত্যাখ্যাত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৪৫৮৯)
তাই যারা এই নিয়তে রোযা রাখে যে, এই দিনে হুসাইন রা. শহীদ হয়েছিলেন, তাহলে তাদের রোযা তো হবেই না বরং তাদের এই আমল বিদআতে পরিণত হবে। আর অনেক ক্ষেত্রে শিরকও হতে পারে যদি কেউ হুসাইন রা. এর উদ্দেশ্যে তা পালন করে থাকে। কারণ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদত করা শিরক।
...
মুহাররম ও আশুরার প্রচলিত কতিপয় বিদআত
ঢাল-বাজনা ও লাঠি খেলার আয়োজন করা।
তাজিয়া তৈরি করা এবং তাজিয়াকে সম্মান করা।
তাজিয়া মিছিল বের করা।
মুহাররমের দশ তারিখে কালো জামা-কাপড় পরিধান করা বা কালো পতাকার মিছিল বের করা।
কিছু মানুষ মুহাররমের প্রথম দশ দিন গোস্ত, মাছ ইত্যাদি খায় না বরং নিরামিষ খায়।
কিছু মানুষ মুহাররমের প্রথম দশ দিন মাটিতে ঘুমায়।
মুহাররম উপলক্ষে কাওয়ালী, জারি বা মুরছিয়া গাওয়ার আসর বসানো।
শোক দিবস পালন করা।
এ কাজগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। তাই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। শুধু এ কাজগুলোই নয়; বরং ইসলাম সমর্থন করে না এমন যে কোনো কাজই বিদআত ও নাজায়েযের কাতারে পড়বে। সর্বপ্রকার শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার পরিত্যাগ করে সুন্নাহর পথে পরিচালিত হওয়া দরকার।
শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
ওয়েলিং ওয়ালের সামনে কয়েকজন ইহুদি।
পরিণত হয়েছে।
ওয়েলিং ওয়ালের সামনে কয়েকজন ইহুদি। আমরা যেমন মক্কায় যাই, তারাও আসে এই ওয়ালের কাছে। আরবীতে এটাকে (حائط البراق) বলা হয়। ইংরেজিতে বলে Western Wall।
.
ওয়ালটা আসলে কুদস শরীফের পশ্চিম পাশ্বস্থ সীমানা প্রাচীর। এটা মুসলমান ও ইহুদি উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানরা মনে করে, এই ওয়ালের সাথে নবীজি সা. মেরাজের রাতে বোরাক বেঁধেছিলেন। ইহুদিরা মনে করে, সুলাইমান আ. যে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, সেটা কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও, সে মসজিদ থেকে একমাত্র
এই ‘ওয়ালটা’ই অক্ষত থেকে গেছে। তাই এখানে এসে তারা দু‘আ করে। মুনাজাত করে। দেয়ালের খাঁজে খাঁজে নিজের ইচ্ছার কথা লিখে চিরকুট গুঁজে রাখে। বিশ্বের বড় কেউ ইসরায়েলে বেড়াতে এলে তারা মেহমানকে এখানে একবার হলেও নিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
কুরআন কারীমে খেজুরের অাঁটি সম্পর্কিত তিনটা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে:
(১) কিতমীর (القطمير)। খেজুরের অাঁটির উপরের পাতলা আবরণ।
(২) ফাতীল (الفتيل)। খেজুরের অাঁটির ফাটলের মধ্যে সুতোর মত পাতলা লম্বা একটা ‘রেশা’।
(৩) নাকীর (النقير)। খেজুরবিচির পিঠে খেয়াল করলে দেখা যাবে, ছোট্ট একটা বিন্দু আছে, সেটাকে খোঁচা দিলে ক্ষুদ্র এক ছিদ্র বের হয়। এটাই নাকীর। কুরআন কারীমে তিনটা শব্দই মূল অর্থ বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়নি। অতি তুচ্ছ, সামান্য পরিমাণ বা নগন্য বস্তু বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এই তিনটা শব্দ বারবার মুখস্থ বারবার ভুলি! আশা করি এবার থেকে আর ভুলব না। ইনশাআল্লাহ!
কুরবানি দিচ্ছেন, পঁয়ত্রিশতম উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ (৫ম)। তিনি মুহাম্মাদ রাশাদ নামেও পরিচিত
কুরবানি দিচ্ছেন, পঁয়ত্রিশতম উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ (৫ম)। তিনি মুহাম্মাদ রাশাদ নামেও পরিচিত। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯০৯-১৯১৮। তার আগের সুলতান আবদুল হামীদ ২য়। মুহাম্মাদ রাশাদ ছিলেন প্রতিকী সুলতান। কার্যত তার হাতে কোনও ক্ষমতা ছিল না। সামরিক অফিসারদের হাতেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিল।
.
উসমানি সালতানাত প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১২৯৯ সালের দিকে। গাযি উসমানের হাতে। মুস্তাফা কামালের হাতে এই সালতানাতের বিলুপ্তি ঘটে ১৯২৪ সালে। সর্বশেষ সুলতান ছিলেন আবদুল মাজীদ (২য়)। তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে, প্যারিসে নির্বাসিত করা হয়। তিনি প্রায় বিশ বছর প্যারিসে নির্বাসিত থাকেন। মৃত্যুর পর তাকে মদীনা মুনাওয়ারায় দাফন করা হয়।
.
১২৯৯ সালে শুরু হলেও, তখনো খিলাফাহ ছিল মিসরে মামলুকদের অধীনে। নবম সুলতান সলীম (১ম) ১৫১৭ সালে নিজেকে খলীফা হিশেবে ঘোষণা দেন।
.
মুসলিম উম্মাহ প্রায় পুরোটা সময়ই কাটিয়েছে কোনওনা কোনও খিলাফাহর অধীনে। খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করা উম্মাহর উপর ওয়াজিব। খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা হলে, খলীফাকে বাইয়াত দেয়াও সমান ওয়াজিব।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


















