শিয়া মতবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিয়া মতবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

শীআ ও ইহুদি : জানা-অজানা

মাও. আতীকুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ
শিয়া ও ইহুদিরা বাইরে যতই ভিন্নতা দেখাক তারা ভেতরে ভেতরে এক। একটা লেখায় তাদের মধ্যে কিছু মিল খুঁজে পেলাম। গত কিছুদিনে এ বিষয়ে সরাসরি বেশ কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে। মিলগুলো দেখা যাক:
(প্রথম ভাগ)
এক: ইসরাঈল মুসলমানদের ভূমি দখল করে রেখেছে। সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীকে বিতাড়িত করেছে, বাকি থেকে যাওয়া অধিবাসীদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাচ্ছে। 
= ইরানও আরব শহর ‘আহওয়ায’ দখল করে রেখেছে। সেখানকার সুন্নী অধিবাসীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে। যারাই প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে দেয়া হচ্ছে।

দুই: ইসরাঈল মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের ধর্মগ্রন্থ তালমুদ ও তাওরাতের ভাষ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। । মুসলিম ও আরবদের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা পোষণকারী হলো, কট্টর ইহুদি গোষ্ঠী হেরিদেম ও হেসিদেম। এর অর্থ হলো: ধার্মিক। 
= ইরানও মুসলিম ও আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের আকীদা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। এ বিষয়ে তাদের ইমামদের ফতোয়া আছে। আর শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ পরায়ণ শিয়া হলো ‘সাফাভী’ শিয়ারা। বর্তমানে ইরাকে লড়তে আসা ইরানি সৈন্যদের বেশিরভাগই সাফাভি শিয়া।

তিন: কট্টর ইহুদিরা ১৯৬৯ সালে মসজিদে আকসায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। 
= ১৪০৯ হিজরিতে কট্টরপন্থী শিয়ারাও মক্কা মুকাররামায় বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা চালিয়েছিল।

চার: প্রায় দশ মিলিয়ন ফিলিস্তিনী আজ ইসরাঈলের কারণে অধিকারবঞ্চিত। 
= প্রায় দশ মিলিয়ন আহওয়াযবাসী আজ অধিকারবঞ্চিত ইরানের হিংসাত্মক শাসনের কারণে।

পাঁচ: ইসরাঈল তার স্বার্থের কারনে ইরাকে মার্কিন হামলার পক্ষে প্রধান উস্কানিদাতা হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। 
= ইরানও তাদের স্বার্থের কারণে ইরাকে ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। আহমাদিনেজাদও একবার ভুলে প্রকাশ্যে এ বিষয়টা স্বীকার করে ফেলেছিল।

ছয়: ইসরাঈল সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চেষ্টা করে আসছে, মসজিদে আকসাকে ধ্বংস করে দেয়া জন্যে। মসজিদের স্থানে তাদের কল্পিত ‘হায়কালে সুলাইমানি’ নির্মান করার লক্ষ্যে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। ইহুদিরা ‘লাল গাভি’ বের হওয়ার অপেক্ষা করছে। এই কল্পিত ‘লাল গাই’ বের হলেই তারা মসজিদে আকসাকে ধ্বংস করে ফেলবে। আল্লাহই জানেন কবে কখন কোথায় কিভাবে তাদের কল্পিত লাল গাই বের হবে। চরমপন্থী ইহুদিরা অবশ্য এখনই প্রকাশে মিছিল করে, যেন মসজিদকে ভেঙে ফেলা হয়। 
= ইরান থেকে হজ্জ করতে আসা শিয়ারা হাজীদের মধ্যে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। তারা তো মিছিলও করেছে। কোম নগরীর শিয়া আলেমরা ঘোষণাও দিয়ে আসছে, কিবলা যেন কাবা শরীফের দিক থেকে ঘুরিয়ে, কারবালা ও নাজাফের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। শিয়ারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কখন তাদের প্রতীক্ষিত ‘মাহদী’ আসবে এবং কাবাঘর ধ্বংস করবে। নাউযুবিল্লাহ।

সাত: ইসরাঈল হাইফা নগরী ও গাযার উপকূলের তেল-গ্যাস চুরি করে নিয়ে যাচ্চে। জর্দান নদীর পানি অন্যায়ভাবে ভোগদখল করছে। লেবানন নদীর পানি ভোগদখল করছে। জর্দানের অধিবাসীরা এ কারণে পানিসংকটে ভুগছে। গাযার মুসলমানরা মানবেতর জীবন যাপন করছে । 
= ইরান আহওয়াযের পুরো তেলসম্পদ ও অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ জোরদখল করে আসছে। ইরানের তেলসম্পদের ৮০% ভাগই আহওয়াযে। অথচ আহওয়াযের আরব সুন্নীরা বেকারত্ব-অথসংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।

আট: ইসরাঈল দাবি করে, ফিলিস্তিনিরাও তাদের দেশের নাগরিক। কিন্তু তাদের নেই কোনও নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা। তারা নিরন্তর হত্যা-গুম ও বোমা-বিমান হামলার শিকার। সরকারি অফিস-কাচারিতে চাকরিসুবিধাবঞ্চিত। 
= ইরানও দাবি করে, কুর্দি, বেলুচ ও আহওয়াযবাসীরা তার নাগরিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরান তাদের প্রতি সব সময় খড়গহস্ত। ইরানের এই মাযলুম মানুষগুলো নিরন্তর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার।

নয়: ইসরাঈলের প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পতিতালয়। ভিন্ন ভাষায়। অন্য অঙ্গিকে। তারা এর মাধ্যমে যৌনব্যবসাকে ব্যাপক করে তুলেছে। পর্যটকদেরকে অকৃষ্ট করছে। 
= ইরান যৌনব্যবসাকে বৈধতা দিয়েছে ভিন্ন কৌশলে। ‘সতীত্বের ঘর’-এর মাধ্যমে তারা এই কাজ সারে। এই সতীত্বঘরে দুইজন অপরিচিত পুরষ-মহিলা ‘মুতআ’ বিবাহের মাধ্যমে তাদের চাহিদা চরিতার্থ করে। 
শিয়াদের মতে, যে ব্যক্তি একবার মুতা বিয়ে করবে, তার জন্যে ৭০ হাজার ফিরিশতা রহমতের দু‘আ করবে। আর যে মুতআ করবে না, তার ওপর ৭০ হাজার ফিরিশতা লা‘নত করতে থাকে।

দশ: ইসরাঈল তাদের এজেন্ট রিক্রুট করে অপরিমেয় অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে অথবা সুন্দরী নারীদের লেলিয়ে দিয়ে। 
= ইরানও তাদের পক্ষে লোক সংগ্রহ করে বিপুল অর্থব্যয়ে। মুতআ বিয়েকে ব্যপকতর করে তোলার মাধ্যমে।

এগার: ইসরাঈল তাদের রাষ্ট্রের ঘোষণাপত্রে লিখেছে: ইসরাঈল একটি গণতান্ত্রিক ইহুদি রাষ্ট্র। একটা কট্টর ইহুদিবাদী রাষ্ট্র কিভাবে গণতান্ত্রিক হয়?
= ইরানও তাদের সংবিধানে লিখেছে: ইরান একটি জাতীয়াতবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। 
একটা কট্টর সুন্নিবিরোধী শিয়াবাদি রাষ্ট কিভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়?

বার: ইসরাঈল তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে সামরিক অধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ব্যপকভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 
= ইরানও তাই করছে। বর্তমানে ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া ইরানের প্রভাব বলয়ে। প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর আমলে সৌদি আরবও পুরোপুরি ইরানের প্রভাব বলয়ে ছিল। আবদুল্লাহর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিল শিয়া। এই শিয়া মন্ত্রীর হাত ধরে, সৌদিতে শিয়াদের ছিল পোয়াবারো অবস্থা। এখন হয়তো বাদশাহ সালমানের আমলে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।

তের: ইসরাঈল সম্পূর্ণরূপে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বাস করে। তারা তাদের যাবতীয় কর্মকান্ডকে বিশ্ব থেকে আলাদা করে রাখে। তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক, তারা নিজেদেরকে স্বতন্ত্র একটা বলয়ের মধ্যে ধরে রাখে। সেখানকার জনস্রোতের সাথে মিশে যায় না। 
= ইরানও সবক্ষেত্রে তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। ভাষা-সংস্কৃতি-রাজনীতি সবক্ষেত্রেই। তাদের চারপাশে সুন্নী রাষ্ট্র থাকলেও তারা তাদের মতো করেই থাকে। আশেপাশের কোনও প্রভাব তাদেরকে প্রভাবিত করতে পারেনা। এমনকি হজে এলেও তারা দলবদ্ধভাবে আলাদা হয়ে থাকে। অন্যদের সাখে ভুলেও কথা বলতে বা মতবিনিময় করতে যায় না।

চৌদ্দ: ইসরাঈল বংশগতভাবেই আরব ও মুসলিমদেরকে ঘৃণা করে। এই ঘৃণা তাদের মধ্যে বংশানুক্রমেই চলে আসছে। 
= ইরানও জন্মগতভাবেই আরব ও মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। ফিরদাওসীর শাহনামাতেও এই ঘৃণা ফুটে উঠেছে। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন:
= আমরা কিভাবে পতঙ্গখোর আরবদেরকে আমাদের পারস্য দখল করার অনুমতি দিতে পারি?
তিনি আরো লিখেছেন:
-আরবরা খাবে উটের পেশাব আর ইসফাহানের কুকুরগুলো খাবে নদীর শীতল পানি। 
এই শাহনামা এখন বলতে গেলে ইরানের অন্যতম সংবিধান।

(দ্বিতীয় ভাগ)
*** এখন যে হুসিরা (হুতি) ইয়েমেন দখল করে নিয়েছে, সেটা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। সেটা ইরানের অনেক দিনের পুরনো পরিকল্পনা। অনেকের হয়তো মনে আছে, মিসরে প্রেসিডেন্ট মুরসি ক্ষমতায় আসার পর, ইরানের সাথে বেশ দহরম-মহরম শুরু হয়েছিল। তখন বেশ কিছু ঘটনা দেখে আমার কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়েছিল। এখন আরেক মুসলিম প্রেসিডেন্ট ইরানের মাধে নতুন করে পিরিত শুরু করেছেন। একটা মূল কথা সবার মনে রাখা দরকার:
= ইরান ও ইসরাঈলের সাথে কখনোই, কিছুতেই, কোনওভাবেই সখ্যতা চলে না। চলতে পারে না। সেটা কূটনৈতিক ভাষাতেই হোক আর রাষ্ট্রীয় ভাষাতেই হোক। 
= ইহুদিরা শত শত নবীদের হত্যকারী। আমাদের নবীজিও (সা.) তাদের দেয়া বিষের কারণেই জীবনের শেষ মুহূর্তে তীব যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। 
=শিয়ারা শত শত সাহাবায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের হত্যাকারী। ইসলামের বড় বড় দুর্ঘটনা শিয়াদের ইন্ধনেই ঘটেছে। 
= শিয়াদের সাথে কোনওভাবেই হাত মেলানো কোনও মুসলিমের পক্ষে শোভনীয় নয়। তিনি যত বড় ইসলামের মুক্তিদাতা ক্যারিশমেটিক নেতাই হোন। । কোনও মুসলিম নেতার পক্ষে শিয়াদের মাযারে গিয়ে ভক্তি গদগদ হয়ে দু‘আ করা শোভনীয় নয়। 
= তার মানে এই নয় যে, আমরা শিয়াদেরকে ধরে ধরে মেরে ফেলবো। আমরা বলতে চাচ্ছি, শিয়াদের সাথে আমরা মানবিক আচরণ করবো। কিন্তু তাদেরকে মুসলিম মনে করে হাত মেলাতে যাবো না। 
= যারাই এমনটা করবে, নিঃসন্দেহে তারা ভুলের মধ্যে আছে। 
= শিয়া কাফের। জু না মানে, ওহ ভী কাফের! 
= গত বিশ-বাইশ দিন বলতে গেলে দুনিয়া থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বেশ কিছু আলোচিত বিষয় জমে গেছে। কথা তো রয়ে গেল অনেক। আজকের লেখা লম্বা হয়ে গিয়েছে। পরে দেখা যাক। ইনশাআল্লাহ।

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৬

শিয়া সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আক্বিদাসমূহ ও ইসলাম

— মহিউদ্দীন ফারুকী
মৌলিকভাবে শিয়া সম্প্রদায় একটি বিভ্রান্ত দলের নাম। এদের মধ্যে অনেক দল-উপদল রয়েছে। এই শিয়া মতবাদ মূলতঃ ইয়াহুদী মতবাদের দ্বিতীয় সংস্করণ। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাই তাদের প্রধান কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে শিয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের মত ও পথ এবং ভ্রান্ত আক্বিদা বিশ্বাস প্রচারে বিশ্বব্যপী বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তৎপরতা চলছে সকল পর্যায়ে। তাদের বিভিন্নধরনের কালচারালার ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সাধারণ মুসলমানের হৃদয়ে একটি শক্ত আসন গেড়ে নিচ্ছে। বিভন্নধরনের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে যবক ও তরুণদের মাঝে তাদের মত প্রচার করছে। তাদের বাহ্যিক বেশভূশা দেখে সাধারণ মুসলমান ধোকায় পড়ছে এবং তাদেরকে মুসলমান ভাবতে শুরু করেছে। কখনো কখনো তাজিয়া মিছিল, আশুরা ও বিবিধ নামে তাদের কুফুরি ও ভ্রান্ত কার্যক্রমের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করছে, কেউবা আবার সরাসরি অংশগ্রহন করছে। বিশ্বাস করছে তাদের সকল আক্বিদায়। মূলত এমনটি হওয়ার প্রধান ও অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাধারণের নিকট শিয়াদের ভ্রান্ত ও কুফুরী আক্বিদা বিষয়ে কোন ধারণা নেই। তালিবুল ইলম ও সাধারণ আলেমদের মাঝে এবিষয়ে কোন আলোচনা ও চর্চা নেই। এবিষয়ে ওলামা হাযরাতের কলম ও জবান থেকে জোড়ালো কোন লেখা বা বক্তৃতাও নেই।
এমতাবস্থায় এই ফিতনার বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরামকে সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ মুসলমানদেরকে তাদের ভ্রান্ত ও কুফুরী আক্বিদা-বিশ্বাস বিষয়ে সচেতন করতে হবে। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে তরুণ ও যুবসমাজকে সচেতন করতে হবে। বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে শিয়াদের এই ‘আক্বিদা যুদ্ধ’ রুখে দিতে হবে।
তাদের ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির প্রথম ধাপ হচ্ছে তাদের ভ্রান্ত আক্বিদাসমূহ জানা। তাদের কুফুরী আক্বীদা বিষয়ে সম্যক ধারণা অর্জন করা। সে উদ্দেশ্যেই এই প্রবন্ধে সংক্ষিপ্তাকারে তাদের নিজেদের গ্রন্থ থেকেই তাদের কিছু ভ্রান্ত ও কুফুরী আক্বিদা তুলে ধরা হলো।
১. শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম ও মূল আক্বিদা এই যে, আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আ.) কে ওহি দিয়ে আলি (রা.) এর নিকট পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল করে মুহাম্মদ (স.) এর নিকট তা অবতীর্ণ করেছেন। (আল মুনিয়াহ ওয়াল আমাল ফি শারহিল মিলাল ওয়াননিহাল,পৃ. ৩০)।
২. শিয়াদের শায়খ ও কর্তাব্যক্তিরা এই বিশ্বাস রাখে যে, কোরআনে অনেক ত্রুটি রয়েছে। মূলত সঠিক কোরআন যখন ছাহাবাদেও মাঝে ইরতিদাদ দেখা দিয়েছে (তাদের মতে) তখন তা আসামানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (আত তানবীহ ওয়ার রাদ্দ পৃ.২৫)।
৩. তাদের ধারণা যে, তাদের ইমামরাই আল্লাহ তায়ালা ও মানুষের মাঝে মধ্যস্থতাকরী। যেকোন সমস্যার সমাধানে তারা এগিয়ে আসতে পারবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৩ পৃ.৯৯)।
৪. শিয়াদের শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে, ইমামদের কবরের দিকে হজ করা কাবায় হজ করার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ছাওয়াবের কাজ। (ছাওয়াবুল আমাল ওয়া ইকাবুল আমাল: পৃ.১২১-১২২)।
৫. শিয়াদের একটি আক্বিদা হচ্ছে, যে ব্যক্তি হুসাইন (রা.) এর কবর যেয়ারত করলো সে যেন আরশে আল্লাহ তায়ালার যেয়ারত করলো। (আলমাযার আল মুফীদ: পৃ.৫১)।
৬. তাদের মতে হুসাইন (রা.) এর কবরের মাটি সকল রোগের জন্য শিফা বা আরোগ্যের মাধ্যম। (আমালী: ৩১৮)।
৭. আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের ইমামদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। (মাছাবীহুল আনওয়ার ফি হাল্লি মুশকিলাতিল আখবার: খ.২ পৃ.৩৯৭)।
৮. শিয়াদের শায়খ কুলাইনী তার কিতাবে উল্লেখ করেছে যে, ভাগ্য খারাপ ও ভাল হওয়া এবং জান্নাত জাহান্নামে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু তারকা ও নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। (আর রওজা মিনাল কাফী খ.৮ পৃ.২১০৩)।
৯. শিয়াদের ধারণা, আলি (রা.) অদৃশ্যের খবর জানেন। তারা বলে, তিনি বলেছেন, ‘আমি জমিনের প্রতিপালক। আমার মাধ্যমেই জমীন স্থীর রয়েছে। দেখুন: মিরআতুল আনওয়ার: ৫৯)। তারা এটিও বিশ্বাস করে যে, তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করতে পারেন। দেখুন: উসুলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩০৮)।
১০. শিয়া শায়খদের অভিমত, আলি (রা.) মৃত ব্যক্তিকে জিবিত করতে সক্ষম। (উসূলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩৪৭)।
১১. আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময়ে প্রথম আসমানে নেমে আসেন, এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একটি মূল আক্বিদা। অথচ শিয়ারা এটি বিশ্বাস করেনা। বরং তাদের মতে যারা এই বিশ্বাস করে তারা সকলেই কাফের। (উসূলুল কাফী- খ.১ পৃ.৯০-৯১)।
১২. শিয়াদের একটি উপদল ইমামিয়্যাহ, তারা তাদের ইমামদেরকে আল্লাহ তায়ালার গুণে গুণান্নিত মনে করে। এমনকি তারা তাদেরকে আল্লহর নামেও ডাকে। (উসূলুল কাফী-খ.১ পৃ.৩১০)।
১৩. শিয়াদের দাবি যে কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এর সাথে এটিও বলতে হবে যে ‘ওয়া আলিউন ওয়ালিউল্লাহ’ অর্থাৎ আলি আল্লাহ তায়ালার ওয়ালি। আজানে তারা এই বাক্যটি ব্যবহার করে এমনকি মৃত ব্যক্তিকে এই কালিমা বলে তালকীন করে। (ফুরুউল কাফী-খ.৩ পৃ.৮২)।
১৪. শিয়াদের শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে ব্যক্তি আবুবকর, ওমর, উছমান, মুআবিয়া , আয়েশা এবং হাফসা রাদিআল্লাহু আনহুমদের প্রতি ফরজ নামাজের পর অভিসাপ দিবে, তারা আল্লাহ তায়ালার অতি নৈকট্যশিল বান্দা হতে পারবে। (ফরুউল কাফী: খ.৩ পৃ. ২২৪)।
১৫. শিয়াদের শায়খদের ধারনা এবং দাবি যে, তারা সাধারণ শিয়াদের জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। (রিজালুল কাশি: খ.৫ পৃ.৪৯০-৪৯১)।
১৬. মুতা বিবাহ (সাময়ীক সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিবাহ) যা ইসলামে নিষিদ্ধ বা হারাম সেই নিষিদ্ধ বিষয়টিকে তারা হালাল ঘোষণা করে। তারা বলে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষননা সে অবিভাবক ও সাক্ষি ব্যতিত মুতা বিবাহ করে। এমনকি তারা বলে, একজন মুমিন নারীর সাথে মুতা করা সত্তরবার কাবা যিয়ারতের থেকেও উত্তম। (মিসবাহুত তাহাজ্জুদ: পৃ.২৫২)।
১৭. ইমাম খোমেনী বলে, যেকোন ধরণের যৌন লালসা পুরণ করায় কোন গোনাহ নেই এমনকি তা যদি দুগ্ধজাত শিশুর সাথেও হয়। (তাহরীরুর ওয়াসিলাহ: খ.২ পৃ.২২১)।
১৮. শিয়াদের একটি বিশ্বাস হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা ফেরেশÍাদেরকে তাদের ইমামদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই ফেরেশÍাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা হুসাইন (রা.) এর কবরের পাশে কাঁদবে। এধরনের চার হাজার ফেরেশÍা কেয়ামত পর্যন্ত হুসাইন (রা.) এর কবরের পাশে কাঁদতে থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সকল ফেরেশÍারা আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবে যেন তাদেরকে হুসাইন (রা.) এর কবর যেয়ারত করার সুযোগ দেয়া হয়। অতএব কিছু ফেরেশÍা যিয়ারত শেষে আকাশে উঠে যাবে আর অন্যরা অবতরণ করবে। (কানযু জামেউল ফাওয়ায়েদ: পৃ.৩৩৪)।
১৯. শিয়াদের শায়খ আলবা ইবনে দিরা মর্যাদার দিক থেকে আলি (রা.) কে রাসুল (স.) এর চেয়ে বেশী প্রধান্য দেয়। একথাও বলে যে মুহাম্মদকে আলি (রা.) ই পাঠিয়েছেন। তাদের ধারণা এটিও যে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স.) কে পাঠিয়েছেন যেন তিনি মানুষকে আলি (রা.) এর দিকে ডাকেন। কিন্তু তা না করে তিনি মানুষকে নিজের দিকে ডাকতে শুরু করেছেন। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৫ পৃ.৩০৫)।
২০. শিয়াদের শায়খরা বলে, তাদের ইমামরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ওহী ব্যতীত কথা বলে না। এব্যাপারে সকলকে ঈমান রাখতে হবে। (বিহারুল আনওয়ারা: খ.১৭ পৃ,১৫৫)।
২১. খোমেনী তার ইসলামী হুকুমত কিতাবের মধ্যে লিখেছে যে, আমাদের ইমামদের এমন মর্যাদা রয়েছে যেখানে কোন নিকটস্থ ফেরেশÍা বা কোন প্রেরিত নবীও পৌঁছাতে পারবে না।
২২. শিয়াদের একটি আক্বিদা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম আলে বাইতের ভালবাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৭ পৃ.৭৯)।
২৩. শিয়ারা এই ধারণা পোষণ করে যে, আবুবকর ও ওমর (রা.) কে প্রতি হজের মৌসমে জামারাতে রাখা হয় যেন পাথর নিক্ষেপের সময় তাদেরকেও পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
২৪. মাজলিসি তার লিখিত হাক্কুল ইয়াকীন গ্রন্থে বলে যে, আবুবকর ও ওমর তারা দুজন কাফের। আর যারা তাদেরকে ভালবাসবে তারাও কাফের। (পৃ.৫২২)।
২৫. তাদের আক্বিদা যে, উসমান বিন আফফান (রা.) রাসুলের সময়ে প্রকাশ্যে ঈমানদার ছিলেন, তবে ভিতরে ভিতরে তিনি ছিলেন মুনাফিক। (আনওয়ারে নোমানী: খ.১ পৃ.৮১)। সাথে সাথে তারা এ বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তি উসমান (রা.) এর ক্ষেত্রে মনের মধ্যে শত্রুতা না রাখবে এবং তাকে কাফের মনে না করবে সে আল্লাহ ও তার রাসুলের শত্রু। এবং সে কাফের। (নাফহাতুল উহুত ফী লানিল জিবতি ওয়াততাগুত, কায়েদা নং ৫৭)।
২৬. শিয়ারা আয়েশা (রা.) ও হাফসা (রা.) কে কাফের মনে করে। (তাফসীর কুম্মি পৃ.৫৯৭ সুরায়ে গাফের)। তাদের বিশ্বাস, জাহান্নামের সাতটি দরজাই আয়েশা (রা.) এর জন্য। এবং আয়েশা (রা.) ব্যভিচারিনী। (এটি একটি বিরাট অপবাদ)। তাদের প্রতিক্ষিত ইমাম মাহদি তাকে জিবিত করবেন এবং তার উপর হদ কায়েম করবেন বা তার বিচার করবেন। (ইলালুশ শারায়ে খ.২ পৃ.৫৬৫)।
২৭. শিয়াদের ইমাম ও ওয়ালিদের কবর বা মাজার যেয়ারত করা অন্যান্য ফরজের মত একটি ফরজ। যে ব্যক্তি এটি পরিত্যাগ করবে সে কাফের। (কামেলুয যিয়ারাত পৃ. ১৮৩)।
২৮. শিয়াদের প্রধান ও অন্যতম আক্বিদা হচ্ছে তাকিয়া। অর্থাৎ সত্য গোপন করা এবং নিজের অন্তরের বিশ্বাসটিক প্রকাশ না করা। অন্যভাবে বলা যায় তাকিয়া অর্থ ধোকবাজী ও মুনাফেকীর একটি সমন্বিত রূপ বা পদ্ধতি। এই তাকিয়া যে বিশ্বাস করবেনা তার ঈমান থাকবে না। অর্থাৎ যে ধোকাবাজী করবেনা সে শিয়া হতে পারবেনা। (উসূলুল কাফী: খ.২ পৃ.৫৭৩)। এই তাকিয়া বর্জন করা নামাজ বর্জন করার মত অপরাধ।
২৯. তাদের বিশ্বাস, কেয়ামতের পুনরুত্থানের পূর্বেই অনেক মানুষ মৃত্যুর পর আবার দুনিয়াতে সেই চেহারা ছুরত বা আকৃতি নিয়ে আবার আসবে। এটি একটি কুফুরি মতবাদ বা হিন্দুয়ানী মতবাদ। (আওয়াএলুল মাকালাত পৃ.৪৬)।
৩০. তারা মনে করে প্রতিক্ষিত মাহদি আসার পূর্ব পর্যন্ত তাদের উপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়। তার যখন আবির্ভাব হবে তখন তিনি তাদের নিয়ে জুমা আদায় করবেন। (মিফতাহুল কারামাহ: খ.২ পৃ৬৯)।
৩১. শিয়ারা প্রতিক্ষিত মাহদি আসার পূর্ব পর্যন্ত জিহাদকে হারাম মনে করে। তাদের মতে এটি রক্ত, শুকরের গোশÍ ও মৃতের মত হারাম।
৩২. শিয়াদের বিশ্বাস, তাদের ইমাম প্রতিক্ষিত মাহদি (আ.) এসে আবুবকর ও ওমর (রা.) কে জিবিত করে শুলিতে চড়াবেন। এবং প্রতিদিন তাদেরকে হাজারবার হত্যা করবেন। (বাসায়েরুদ দারাজাত: পৃ.১৮৭-১৮৮)।
৩৩. তাদের বিশ্বাস, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকেরা জাহান্নমী। তারা অপবিত্র, কাফের, তাই তাদে জানাযা নামাজ পড়া জায়েয হবে না। তাদের কোরবানী হালাল হবে না। এবং তারা সকলেই জারজ সন্তান। তাদেরকে হত্যা করা, তাদের সম্পদ চুরি করা, তাদের সাথে মতবিরোধ করা বৈধ। এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকদের অভিসাপ দেয়া উত্তম ইবাদত। (বিহারুল আনওয়ার: খ.৮ পৃ ৩৬৮-৩৭০)।
৩৪. শিয়ারা বলে, আলি (রা.) এর কবর যিয়ারত করলে প্রতিটি পদে পদে তার জন্য একটি কবুল হজ, একটি মাবরুর ওমরা এবং একশত শহীদের ছাওয়াব লেখা হবে। তার পূর্বের ও পরের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তার হিসাব সহজ করা হবে। ফেরেশÍারা তাকে স্বাগত জানাবে। (তাহজীবুল আহকাম: খ.৬ পৃ.১৩০৬)।
৩৫. শিয়াদের একটি বিশ্বাস যে কেয়ামতের দিন হিসাব আল্লাহ তায়ালার নিকট নয় বরং তাদের ইমামদের নিকট দিতে হবে। (উসূলুল আইম্মাহ: খ.১ পৃ.৪৪৬)।

সংক্ষিপ্তাকারে উপরোল্লেখিত আক্বিদাগুলোই তাদের কুফুরীর প্রমানের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও শিয়াদের আরও অনেক ভ্রান্ত ও কুফুরী মতবাদ রয়েছে।
সবশেষে বলবো, আমাদের সাধারন মুসলমানদেরকে এবং বিশেষভাবে ওলামায়েকেরামকে এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। এই ভয়ানক ও ক্রমবিকাশমান ফিতনাকে অবহেলা করা যাবেনা। কেননা তারা তাদের কাজ ও মিশন নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মত ও চিন্তাধারা প্রচার করে যাচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। অতএব তাদের পরিকল্পনার বিপরীতে ছহীহ ও বিশুদ্ধ আক্বিদা প্রচারে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সকলকে এই ফিতনা থেকে সচেতন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হকের সাথে থাকার তাওফীক দান করুন। সিরাতে মুস্তাকীমের উপর অটল অবিচল থাকার হিম্মত ও কুওওত দান করুন। আমীন।

লেখক: গবেষক, আবরী ভাষা ও সাহিত্য
মদিনা মুনাওয়ারাহ

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

শী’আ সাম্রাজ্যবাদঃ ইসরাঈল ও মার্কিনীদের সাথে ইরানের অঘোষিত সখ্যতা

ইরানের কথাবর্তায় মনে হয়, এরা পাক্কা মার্কিন এবং ইসরাঈল বিরোধী। অথচ তাদের কাজ কর্মে তা প্রকাশ পায় না। 
যেমন- গত ইরাক বিরোধী যুদ্ধে (Iran–Iraq War, যা “প্রথম পার্সিয়ান গাল্ফ ওয়ার” নামেও পরিচিত, ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ থেকে ২০ আগস্ট ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর, ১০ মাস, ৪ সপ্তাহ ১দিন ধরে চলেছিল।) সেখানে ইরানের পক্ষ থেকে “শয়তানের বুযুর্গ” নাম দেয়া আমেরিকা ও তার অনুচর ইসরাঈলীদের কাছ থেকে ইরানীরা অস্ত্র কিনেছিল।
(সূত্রঃ wikipedia : Israeli support for Iran during the Iran Iraq war)।

৭৫ মিলিয়ন ইউ.এস. ডলার সমমূল্যের অস্ত্র কিনেছিল ইরান ইসরাঈলের কাছ থেকে। According to Ronen Bergman, Israel sold Iran US$75 million worth of arms from stocks of Israel Military Industries, Israel Aircraft Industries and Israel Defense Forces stockpiles, in their Operation Seashell in 1981.
(সূত্রঃ Ronen Bergman, “The Secret War with Iran”, Free Press, 2008, p.40-48)।

বলা হয়ে থাকে যে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এতো ভয়াবহ যুদ্ধ আর সংঘটিত হয়নি। অ্যারিয়াল শ্যারন মনে করতেন যে, ইরানকে তাদের এই সহায়তার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় একটি সম্ভাবনা দেখা দিবে। Ariel Sharon believed it was important to "leave a small window open" to the possibility of good relations with Iran in the future.
(সূত্রঃ Parsi, Trita “Treacherous Alliance: The secret dealings of Israel, Iran and the United States”, by Trita Parsi, Yale University Press, 2007)

ইরানকে সহায়তার আরেকটি কারণ- ইসরাঈল চেয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে!!!

➲➲ইরাকে মার্কিস পলিসি এবং ইরানী পলিসিঃ

পরবর্তীতে আমেরিকার দ্বারা সাদ্দাম হোসেনের পতন ঘটানোর পর বর্তমানে ইরাকী শী’আরা ইরানী ও মার্কিনীদের মদদ নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে।
ইরাকে মার্কিন পলিসি ছিলঃ তারা তেল লুট করবে, জায়োনিস্টরা এভাবে শত্রু ঘাটি করায়ত্ব করে ইসরাঈলকে নিরাপদ করবে, শী’আদের ক্ষমতায় বসিয়ে শী’আ-সুন্নীর মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রেখে ‘Divide & Rule’ নীতির বাস্তবায়ন করবে।
অন্যদিকে ইরানী পলিসি ছিলঃ সুন্নী সমর্থকদের হটিয়ে ক্ষমতায় যাবে, সুন্নীদের মধ্যে শী’আ ধর্ম প্রচার করবে, সুন্নী বিদ্রোহীদের সমূলে ধ্বংস করবে, এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে শী’আ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবে। আর এই স্বার্থে আমেরিকার সাথে উপরে উপরে বৈরীতা দেখালেও তাদের মধ্যে অঘোষিত ও অপবিত্র সখ্যতা রয়েছে। তবে শী’আদের এই স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে আমেরিকা দিবে না। ওদের কাজ সম্পন্ন হলে ছুড়ে ফেলে দিবে।।

➲➲আফগানিস্তানে ‘তালেবান’ পতনে ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী ভারত, আমেরিকার সাথী ইরানঃ

ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র বারত ও আপাতঃ শত্রু আমেরিকার সাথে কৌশলগত সখ্যতা স্থাপন করে আফগানিস্তানে তালেবানদের পতন ঘটিয়ে ইরান খোশ মেজাজে থাকলেও তারা সেখানে তাদের শী’আ ধর্ম প্রচার করতে পারেনি।

➲➲পাকিস্তানে শী’আ বিরোধী সুন্নী বিদ্রোহী দমনে ইরানের তৎপরতাঃ

মাওলানা হক নাওয়াজ জাঙ্গভী (রহ.), মাওলানা জিয়া-উর-রেহমান ফারুকী (রহ.), মাওলানা ঈসার-উল-হক কাসেমী (রহ.) এবং মাওলানা আজম তারেক (রহ.) শহীদানের দ্বারা ১৯৮৫ সালে “আঞ্জুমানে সিপাহ-ই সাহাবা” সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ‘সিপাহ-ই-সাহাবা পাকিস্তান’ [Sipah-e-Sahaba Pakistan (SSP)] পারভেজ মোশাররফের পাকিস্তানী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় ২০০২। পরবর্তীতে তারা অযুহাত ছিল, শী’আ সম্প্রদায়ের উপর সন্ত্রাসী আক্রমণ। সিপাহ-ই-সাহাবাদের দাবী ছিল একটি পাকিস্তানকে একটি সুন্নী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তাদের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানে শী’আদের বেশি ফ্যাসিলিটি দেওয়া হচ্ছে। তারা পাকিস্তানে ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠায় এই দল প্রতিষ্ঠা করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার পর তারা “মিল্লাত-ই-ইসলামীয়া” মানে দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবে তারা কোয়ালিশন সরকারও গঠন করে। মাওলানা হক নাওয়াজ জাঙ্গভী (রহ.)-কে হত্যা করা হয় ১৯৯০তে, ১৯ জানুয়ারী ১৯৯৭ বোমা বিস্ফোরনে হত্যা করা হয় মাওলানা জিয়া-উর-রেহমান ফারুকী (রহ.)কে, মাওলানা আজম তারেক (রহ.) ২০০৩ সালের ৪ অক্টোবর মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ইসলামাবাদের কাছে শী’আ সন্ত্রাসীদের আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এই আক্রমণের জন্য শী’আ নেতা সাজিদ নাকভী-কে কয়েকদিন পরই গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ইরানের মদদপুষ্ট পাকিস্তানে শী’আদের বিভিন্ন দল তৎপর রয়েছে।

➲➲লেবাননে ইরানের পক্ষ থেকে শী’আদের তৎপরতাঃ হিজবুল্লাহ

লেবাননি শিয়া সংগঠন ‘হিযবুল্লাহ’। ‘হিযবুল্লাহ’র প্রধান হাসান নাসরুল্লা। ‘হিযবুল্লাহ’র প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮২-তে, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অনুপ্রবেশ ঘটে ১৯৮৫-তে। ইরানের মদদপুষ্ট সংগঠন ‘হরকতে আমালুল আশ-শী’ইয়্যাহ্ লিবানিনিয়্যাহ্’ যার অর্থ হলো- “লেবাননি শী’আদের স্বার্থ বাস্তবায়নকারী আন্দোলন” থেকেই ‘হিযবুল্লাহ’র জন্ম। ‘হরকতে আমালে’র প্রতিষ্ঠাতা ইরানি বংশোদ্ভূত মুসা সদর (জন্ম- ১৯২৮), যার সাথে রয়েছে খোমেনীর আত্মীয়তার সম্পর্ক। ‘মুসা সদর’ দক্ষিণ লেবানন, বৈরুত ও বেক্কা প্রদেশে ‘হরকতে আমাল’ নামে যে সশস্ত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, তা প্রথমে দেশের জাতীয় সেনাবাহিনীর সহযোগী ছিল।

এরপর বৃহৎ লক্ষ্যে এ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “আমালুল ইসলামিয়্যাহ্”। নাম পরিবর্তনের কারণ- লেবানন ও অন্যান্য মুসলিম দেশে শী’আ মতবাদ প্রচারে ‘আমালুল ইসলামিয়া’কে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ বৈরুতে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির “বারাজানাহ ক্যাম্পে” নিরীহ নিরপরাধ নিরস্ত্র সুন্নী মুসলিমদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে এরা। হলুদ সাংবাদিকতার কল্যাণে তারাই আজ একেকজন বীর মুজাহিদ! ১৯৮৫ সালে ফিলিস্তিনিদের উপর মুসা সদরের অত্যাচার ছিল পীড়াদায়ক।

অঘোষিত বন্ধুত্ব থেকে একটি ঘোষিত বন্ধুত্বের কথা বলি। গত ২৩ জানুয়ারী ২০১৪ আল জাজিরা থেকে একটি খবর প্রকাশ হয়েছে যার শিরোনাম হলো Rouhani: Possible to end US-Iran animosity, Iranian president hints that more than three decades of enmity with Washington could be overcome. অর্থাৎ ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, গত তিন দশকের মার্কিনীদের সাথে ইরানের শত্রুতার অবসানের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদটি আল জাজিরা সহ রয়টার্সও প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট বলেনঃ “No animosity lasts eternally, no friendship either lasts eternally. So we have to transform animosities into friendship.” তিনি একটি ইংরেজী বার্তায় বলেনঃ “I would like to say to American people: I bring peace and friendship from Iranians to Americans.”

শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫

শিয়া বিষয়ক ফাইল

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

ইহুদী ও রাফেযী শিয়াদের মধ্যে মিল----

ইহুদী ও রাফেযী শিয়াদের মধ্যে মিল----
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্ রহ. বলেন, “ইহুদীদের সাথে রাফেযীদের সামঞ্জস্যতার কিছু উদাহরণ, ইহুদীদের দাবি, দাউদের বংশধর ব্যতীত রাজত্ব করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। আর রাফেযী শিয়াদের দাবি, আলী রা.-র সন্তানগণ ব্যতীত কারো জন্য ইমামত বৈধ নয়।
ইহুদীরা বলে, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ও তরবারী অবতীর্ণ ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্ নেই। আর রাফেযীরা বলে, মাহদীর আগমন ও আসমানী আহব্বান ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই।
ইহুদীরা আসমানে তারকারাজী উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করে। অনুরূপভাবে রাফেযীরা মাগরিবের সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট ও উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথচ হাদীসের ভাষ্য এর বিপরীত :
لا تزال أمتي على الفطرة ما لم يخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم.
“আমার উম্মত ইসলামী ফিৎরাতের উপরই বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা মাগরিব সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে।”
ইহুদীরা তাওরাতে পরিবর্তন এনেছে আর রাফেযীরা কুরআন শরীফে পরিবর্তন করেছে।
ইহুদীরা মোজার উপরে মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও মোজার উপর মাসাহ্ করা বৈধ মনে করে না।
ইহুদীরা ফেরেশতাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে বলে, ফেরেশ্তাদের মধ্যে আমাদের শত্র“ হচ্ছে জিবরীল, অনুরূপভাবে রাফেযীরা বলে, জিবরীল ভুল করে ওহী নাযিল করেছে মুহাম্মাদের উপর।
রাফেযীরা খৃষ্টানদের সাথেও বেশ কিছু বিষয়ে মিল রাখে। যেমন খৃষ্টানদের মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর নেই বরং যা দেয় তা ব্যবহারের বিনিময় হিসেবে দেয়। অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট হতে যে ফায়েদা গ্রহণ করে তারই বিনিময় হিসেবে গণ্য। অনুরূপ রাফেযীরা মুত‘আহ্ বিবাহ (ঈড়হঃৎধপঃ সধৎৎরধমব) বৈধ মনে করে এবং প্রদত্ত অর্থ বিনিময় মূল্য হিসেবে গণ্য করে, মোহর হিসেবে নয়।
ইহুদী ও খৃষ্টান জাতি রাফেযীদের থেকে দুটি বিষয়ে উৎকৃষ্ট। ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : মুসার সঙ্গী-সাথীরা। অনুরূপভাবে নাসারাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : ঈসার শিষ্যরা। আর রাফেযীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তারা বলেছিল : মুহাম্মাদের সাহাবীগণ।”
শায়খ আব্দুল্লাহ্ আল-জুমাইলী “বাযলুল মাজহুদ ফী মুশাবিহাতির রাফেযাতে লিল ইহুদ” গ্রন্থে রাফেযী
ও ইহুদীদের মধ্যে কতিপয় সাদৃশ্য উল্লেখ করেন, যেমন ইহুদ ও রাফেযীরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের
কাফের বলে এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ তথা জান ও মাল হালাল মনে করে। অতঃপর তিনি বলেন, ইহুদীরা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে, যথা: ইয়াহুদ ও উমামি। উমামিরা হচ্ছে, ঐ সমস্ত লোক যারা ইহুদী নয়। ইহুদীরা আরো বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র তারাই মু‘মিন। আর তাদের নিকট উমামিরা হচ্ছে, কাফের মূর্তিপূজক আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।
তালমুদ গ্রন্থে এসেছে যে, ইহুদীরা ব্যতীত সকল জাতি-ই মূর্তিপূজক। এমনকি ঈসা আ. ও তাদের এ
কুফরী সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। তালমুদে তারা বলেছে, ‘ঈসা আ. কাফের, সে আল্লাহকে চেনে না।’
রাফেযীরা বলে মু‘মিন তথা ইহুদী ও তারা ব্যতীত অবশিষ্ট সকলে কাফের ও মুরতাদ। ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই।
মুসলমানদেরকে কাফের বলার কারণ হচ্ছে এই যে, মুসলমানরা ‘বেলায়াত’ মানে না, অথচ রাফেযীরা এটাকে ইসলামের রোকন বলে বিশ্বাস করে। অতএব ‘বেলায়াত’ অস্বীকারকারী রাফেযীদের নিকট কাফের। তার কুফরী কালিমা শাহাদাত অথবা ইসলামের পাঁচ রুকনের কোন এক রুকন অস্বীকারকারীর ন্যায়। আর তাদের নিকট বেলায়াত ইসলামের সকল রুকনের উর্ধ্বে।
আল-বারকী আবু আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমরা ও আমাদের শিয়ারা ব্যতীত আর কেউ মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই অর্থাৎ শুধুমাত্র আমরাই মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সব মানুষ তা থেকে মুক্ত।”
আবু আব্দুল্লাহ সূত্রে তাফসীরে কুম্মীতে রয়েছে, তিনি বলেন, “আমরা ও ইহুদীরা ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর আর কেউ নেই।”
নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক।
ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের বিশ্বাস----
রাফেযীদের দাবী : ইমামগণ নিষ্পাপ, তারা গায়েব জানেন। আল-কুলাইনী “উসুলুল কাফী” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “ইমাম জাফার সাদেক বলেন, আমরা হলাম আল্লাহর ইলমের ভাণ্ডার। আমরা আল্লাহর নির্দেশাবলীর অনুবাদক। আমরা নিষ্পাপ কওম। আমাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমাদের ফরমানী থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আসমানের নীচে ও যমীনের উপরে বিদ্যমান সকলের জন্য আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ হুজ্জাত তথা দলীল।”
উক্ত গ্রন্থের অনুচ্ছেদ “নিশ্চয় ইমামগণ যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তারা তা জেনে যান”-এ জা‘ফার সূত্রে কুলাইনী উল্লেখ করেন, “নিশ্চয় একজন ইমাম যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তিনি তা জেনে যান, আর ইমামগণ কখন মৃত্যু বরণ করবেন, তাও তারা জানেন, তারা নিজেদের ইচ্ছা ব্যতীত মৃত্যু বরণ করেন না।”
খুমাইনী “তাহরীরুল ওয়াসীলাহ্” গ্রন্থে বলেন, “নিশ্চয় ইমামের প্রশংসিত স্থান ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। জগত পরিচালনার খেলাফতও তার উপর ন্যাস্ত। তার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতি জগতের সব কিছুই অনুগত।”
তিনি আরো বলেন, “নিশ্চয় আমাদের বারো ইমামের সাথে আল্লাহর কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। যা তার নৈকট্য লাভে ধন্য কোন ফেরেশ্তারও নেই। এমনকি কোন নবী রাসূলেরও নেই।”
রাফেযীরা তাদের ইমামদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে বলেছে যে, নবী মুহাম্মাদ ব্যতীত সকল নবীর চাইতে তাদের ইমামদের ফযিলত ও মর্যাদা বেশী। আল-মাজলেসী “মিরআতুল উকুল” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “ইমামগণ আমাদের নবী মুহাম্মাদ ব্যতীত সকল নবীর চেয়ে উত্তম ও অধিক সম্মানের অধিকারী।”
ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের সীমালঙ্ঘন এখানেই শেষ নয়, বরং তারা বলে, জগত পরিচালনার দায়িত্ব ইমামদের। আল খু-ই “মিসবাহুল ফুকাহা” গ্রন্থে বলেন, সমস্ত জগতের পরিচালার দায়িত্ব তাদের রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিভিন্ন সূত্র থেকে এরূপই প্রতীয়মান হয়। কারণ, তারাই হচ্ছেন সব কিছুর মিডিয়া অর্থাৎ তাদের দ্বারাই সব কিছুর অস্তিত্ব। তারাই সকল সৃষ্টির মূল কারণ। অতএব, যদি তারা না হতেন তাহলে কোন মানুষই সৃষ্টি হতো না। তাদের জন্যই সকল মানুষের সৃষ্টি। তাদের দ্বারাই সকলের অস্তিত্ব। এদের কারণেই সৃষ্টির শ্রীবৃদ্ধি। শুধু তা-ই নয় বরং সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত তাদের হাতেই রয়েছে সৃষ্টিজগত পরিচালনার কর্তৃত্ব। আর এ সব পরিচালনার কর্তৃত্ব¡ আল্লাহর কর্তৃত্বের ন্যায়।” আল্লাহ তাদের সীমালঙ্ঘন ও পদস্খলন থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ইমামগণ কিভাবে এ সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের মিডিয়া বা মাধ্যম হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে এই সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের কারণ হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে মানুষ সৃষ্টির কারণ হতে পারেন? কিভাবে ইমামদের জন্য মানুষ সৃষ্টি হতে পারে? অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ (56
“আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।” (সূরা আজ-জারিয়াত : ৫৬)
পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহ্ থেকে বিচ্যুত এরূপ ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ঠ আক্বীদা থেকে মহান আল্লাহর
নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্ রহ্. বলেন, “রাফেযী শিয়ারা ধারণা করে যে, দীন তাদের পীর-পুরোহিতদের ইচ্ছার উপর ন্যাস্ত। তারা যা হালাল বলবে তাই হালাল। এবং তারা যা হারাম বলবে তাই হারাম। তারা যে বিধান রচনা করবে তাই শরীআত বলে গণ্য।”
রাজা‘আত বা পুর্নজন্ম সম্পর্কে রাফেযীদের বিশ্বাস----
রাফেযীরাই সর্ব প্রথম রাজা‘আতের বিষয়টি আবিস্কার করে। আল-মুফীদ বলেন, “বহু মৃত ব্যক্তির রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসার ব্যাপারে ইমামীগণ ঐক্যমত হয়েছেন।”
আর এটি হচ্ছে এই যে, তাদের সর্বশেষ ইমাম শেষ যামানায় পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসবে। সিরদাব নামক স্থান হতে বের হবে এবং রাজনৈতিকদের মধ্যে যারা তাদের বিরোধী থাকবে তাদের সকলকে হত্যা করবে। যুগ যুগ ধরে তাদের যে অধিকার বিভিন্ন দল হরণ করে আসছিল, শিয়াদের নিকট তিনি তা ফিরিয়ে দিবেন।
সৈয়দ মুরতাযা “আল-মাসায়েলুন নাসেরিয়াহ্” গ্রন্থে বলেন, নিশ্চয় আবু বকর রা. ও ওমর রা.-কে তাদের বারোতম ইমাম, ইমাম মাহদীর যামানায় একটি গাছে ফাঁসি দেবে। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে গাছটি থাকবে কাঁচা। ফাঁসিতে ঝুলানোর পর গাছটি শুকিয়ে যাবে।
আল-মাজলেসী “হাক্কুল ইয়াক্বীন” গ্রন্থে মুহাম্মাদ আল-বাকের এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “যখন ইমাম মাহদী আত্ম প্রকাশ করবেন তখন তিনি উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা.-কে পূনরায় জীবিত করবেন এবং তার উপর হদ্দ (ব্যভিচারের শাস্তি) কায়েম করবেন।”
এভাবেই তাদের মধ্যে পুর্নজন্ম রহস্য বিস্তার লাভ করলে, তারা বলতে শুরু করে যে, সমস্ত শিয়া ও তাদের ইমাম ও ইমাম বিরোধিরা রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিবে। মূলত এরূপ ভ্রান্ত বিশ্বাসীরা মানুষের অন্তরে হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে। এটা সাবায়ী গ্র“পের পরকাল অস্বীকার করার একটি অপকৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে শী’আরা তাদের বিরোধিদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই রাজা‘আতের ন্যায় ভ্রান্ত বিশ্বাসের চালু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, কারা শিয়াদের বিরোধী?
নিন্মোক্ত বর্ণনা দ্বারা আহলে সুন্নাতের উপর রাফেযীদের হিংসা-বিদ্বেষ ও ইহুদ ও নাছারাদের সাথে তাদের বন্ধুত্বের ভাব স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। আল-মাজলেসী “বেহারুল আনওয়ার” গ্রন্থে উল্লেখ করেন “আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! আমি দেখছি যে, ইমাম মাহদী তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সাহ্লাহ্ মসজিদে অবতরণ করবেন …।
অতএব সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধদের (ইহুদ ও খৃষ্টানদের) বিষয়টি তার নিকট কিরূপ হবে? তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে তারা জিযয়া দিয়েছে, সেভাবে তাকেও তারা জিযয়া দেবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, অতএব আপনাদের শত্র“ নাসেবীদের (আহলে সুন্নাতের) অবস্থা কি হবে? তিনি বলেন, যে আমাদের দেশে আমাদের নীতির ব্যতিক্রম করবে তাদের কোন অংশই থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আগমনের সময় তাদের রক্ত আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে যা আমাদের ও তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ যেন প্রবঞ্চিত না হয়। যখন আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আসবেন তখন তিনি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আমাদের সকলের পক্ষ হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। {নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক}
এরকম অসংখ্যা বাতিল আক্বিদায় পূর্ণ শিয়া গোষ্ঠিটি। এ কারণেই বর্তমান রাফেজী শিয়াদের উলামায়ে কেরাম কাফের বলে ফাতওয়া দিয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের এ বাতিল আকিদা পন্থীদের থেকে হেফাজত করুন।আমিন।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৫

☢ শিয়াদের ব্যাপারে উলামায়ে ইসলাম এর মতামত ☢

শিয়া-রাফেযী সম্পর্কে অজ্ঞ ও মডারেট মুসলিমদের মুখে আজকাল শিয়াদের শিখানো বুলি শুনা যায় “শিয়া-বিদ্বেষ আসলে সৌদির চাল, ওহাবীবাদ” ইত্যাদি! কিন্তু ইসলাম এর প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু করে তাবেয়ী,হাদিসের হাফিয-বিশ্লেষণকারী, ফকীহ, মুফাসসির ও উলামা- যারা ১৭০০-১৮০০ সালের আগে দ্বীনের খিদমত করেছেন, শিয়াদের ব্যাপারে তাঁদের ফয়সালা/রায় শুনে নিলে সব পরিষ্কার হয়ে যায়! যে, কিভাবে ইমামত,সাবাঈ-মতবাদ,দ্বীনের ক্ষেত্রে মিথ্যাচার-জালিয়াতি,আল্লাহ্‌র সাথে শিরক ইত্যাদি কারণে তাঁরা শিয়াদের কাফের সাব্যস্ত করে উম্মাহকে সতর্ক করেছেন!
হাদিস এর গবেষক ইমামগণ তাফযিলি/রাজনৈতিক শিয়াদের ক্ষেত্রেই “শিয়াগ্রস্থ” বলে তাদের বর্ণনা নজরদারীতে রেখেছেন এবং বর্তমান শিয়াদের ন্যায় যারা তাদের ক্ষেত্রে “রাফেযী, খবিস,পরিত্যাজ্য” ইত্যাদি বলে রেখেছেন।
কথা না বড়িয়ে আসুন সরাসরি ফতোয়া দেখি-
✿ আলকামা বিন কায়স আন-নাখয়ী(র),বিখ্যাত তাবেয়ী -
শা’বী সূত্রে,আলকামা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই শিয়ারা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে, যেমন, নাসারারা ঈসা ইবনে মরিয়াম(আ) এর ব্যাপারে করেছিল’ [আস সুন্নাহ(আবদুল্লাহ ইবন আহমদ) ৫৪৮/২]
✿ ইমাম শা’বী(র), হাফিযে হাদিস,ফকীহ-
> ‘শিয়া জাতি যদি পাখি হত তাহলে শকুন হত, জন্তু হলে গাধা হত’ [শরহুস সুন্নাহ-আল আলকায়ী, ১২৬৭/৭]
> ‘তোমাদের সতর্ক করছি, এই প্রবৃত্তির অনুসারী, পথভ্রষ্ট ও নিকৃষ্ট রাফেযীদের ব্যাপারে। তাদের মধ্যে ইহুদী রয়েছে যারা ইসলামকে ঘৃণা করে যেন এর মধ্যে ভ্রষ্টতা আনতে পারে;যেমনটা ইহুদী বুলস বিন শাওল(পল) খ্রিস্টানদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করে তাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। তারা ইসলামের প্রতি আগ্রহ থেকে অথবা আল্লাহর ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেনি, বরং আহলে ইসলাম(মুস্লিমদের) প্রতি ঘৃণা থেকেই ’ [শরহুস সুন্নাহ-আল আলকায়ী, ১৪৬১/৮; আস সুন্নাহ-আলখাল্লাল ৪৯৭/১]
✿ ইমাম মালিক(র)-
> হিশাম বিন আম্মার সূত্রে- ‘যে আবু বকর(রা) ও উমর(রা)কে গালি দিবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। এবং যে আয়শা(রা)কে গালি দিবে তাকে হত্যা করা হবে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা বলেছেন “আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যদি ঈমানদার হও, তবে তখনও পুনরায় এ ধরণের আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না”(সূরা নূরঃ আয়াত ১৭); অতএব যে আয়শা(রা)কে গালি দিল সে কুরআনের বিরোধিতা করল,আর যে কুরআনের বিরোধিতা করল তাকে হত্যা করা হবে। [মুসনাদ আল-মুয়াত্তা ১১২ পৃ; তাফসিরে কুরতুবী ২০৫/১২; আহকামুল কুরআন লি-ইবন আরাবি ৩৬৬/৩]
> মুসআব ইবন যুবায়র ও ইবন নাফে সূত্রে- হারুনুর রাশীদ মসজিদে ঢুকে নামায পড়লেন,এরপরে নবী(ﷺ)এর কবরে এসে সালাম পেশ করলেন,তারপরে ইমাম মালিকের মজলিসে গেলেন ও বললেনঃ ‘আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু।’তারপরে ইমাম মালিককে বললেন ,‘যে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এর সাহাবীদের গালি দেয় তার কি ফাই(যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)তে হক্ক আছে?’ তিনি(মালিক) বললেন, “সম্মান অথবা ভোগ কিছুই না”। তিনি(হারুনুর রশীদ)জিজ্ঞাসা করলেন,‘আপনি কিসের থেকে এই কথা বললেন?’ ইমাম মালিক(র) বলেন-“আল্লাহ আযয অয়াজাল বলেছেন ‘আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন’{সূরা ফাতহঃ আয়াত ২৯}, সুতরাং যে সাহাবাদের বিরোধিতা করে সে কাফের এবং ফাই-তে কাফের এর কোন হক্ক নেই” [তারতীব আল-মাদারিক ৪৬/২; আল-ই’তিসাম লি শাতিবী ৯৬/২]
> আশহাব বিন আব্দুল আযীয সূত্রে- ইমাম মালিক(র)কে রাফেযীদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন- ‘তাদের সাথে কথা বলবেনা এবং তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করবেনা, কারণ তারা নিশ্চিতভাবে মিথ্যাচার করে।’ [মিযানুল ই’তিদাল ২৬/১, তাদরীবুর রাবী ৩৮৭/১]
> আহমদ বিন হাম্বল(র) সূত্রে- ইমাম মালিক(র) বলেন, ‘যারা নবী(ﷺ)এর সাহাবাদের নিন্দা করে, ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই’ [আস সুন্নাহ লিল খাল্লাল ৪৯৩/৩; আল ইবানা ১৭৮ পৃ]
> ‘প্রবৃত্তির অনুসারীরা সবাই কাফের এবং রাফেযীরা তাদের সমতুল্য’ [তারতীব আল-মাদারিক ৪৯/২]
> ইমাম মালিক(র)কে নিকৃষ্টতম ফেরকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “রাফেযীরা” [নাফহুত-তীব লিল মুকরি ৩০৭ পৃ/খণ্ড ৫]
✿ ইমাম শাফিঈ(র)-
> হারমালা বিন ইয়াহইয়া সূত্রে- ‘আমি প্রবৃত্তির অনুসরণে ও মিথ্যা/জালিয়াতি সাক্ষ্যে রাফেযীদের চেয়ে বেশী কাউকে দেখিনি’ [আদাবুশ শাফিঈ লি-ইবন আবি হাতিম, ১৪৪পৃ; আল কামিল ৪০৮/৩; মিযানুল ই’তিদাল ২৮/১]
> রাবি’ বিন সুলায়মান সূত্রে-‘আমি বিদাআত-গ্রস্থ এমন কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলিনি যে তাশায়্যু-গ্রস্থ(শিয়া মতবাদ) নয়। নিশ্চয়ই তাশায়্যু নিকৃষ্ট বিদাআত ও তার উৎসস্বরূপ। এটাই রাফেযীবাদ’ [ই’তিকাদ আশ-শাফিঈ লিল হাকারী, ৩১ পৃ]
> ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা বলেন- ‘ইমাম শাফিঈর কাছে যখন রাফেযীদের আলোচনা করা হত তিনি নিকৃষ্টরূপে নিন্দা করতেন ও বলতেন জঘন্যতম দল।’ [মানাকিবুশ শাফিঈ লি-বায়হাকী ৪৬৮/১; মানাকিব আশ-শাফিঈ লি-রাযী ১৪২ পৃ]
> রাবি’ বিন সুলায়মান সূত্রে- ‘যে সুন্নাহ এর বিরোধিতা করে সে সাহাবাদের লক্ষ্যবস্তু বানাল এবং যে সাহাবাদের লক্ষ্যবস্তু বানাল সে রাসূল(ﷺ)এর প্রতি বিদ্বেষ রাখল, আর যে রাসূল(ﷺ)এর প্রতি বিদ্বেষ রাখল সে নিশ্চিত কুফরি করল’ [তাবাকাত আল-হানাবিলা ১৩/১]
✿ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(র)-
আব্দুল মালিক বিন আব্দুল হামিদ সূত্রে- ইমাম আহমদ(র) বলেন, “যে ব্যক্তি নিন্দা করল(সাহাবাদের),আমি তার ব্যাপারে রাফেযীদের ন্যায় কুফর এর ভয় করি”, অতপর বলেন, “যে ব্যক্তি নবী(ﷺ) এর সাহাবাদের নিন্দা করল, আমি তার মধ্যে দ্বীন এর নির্যাস বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে অবিশ্বাস করি” [আস সুন্নাহ লি-আল খাল্লাল, ৫৫৭-৫৫৮/২]
✿ ইউসুফ ফিরইয়াবী(র)- ‘আমি রাফেযী ও জাহমিয়াদের যিন্দিকী ছাড়া অন্য কিছুর উপর পাইনি’ [শরহে উসুলুল ই’তিকাদ, ১৪৫৭/৮]
✿ কাযী আবু ইউসুফ(র),ইমামুল মুজতাহিদ, ফিকহে হানাফীর শিরতাজ-
‘রাফেযী, জাহমিয়া এবং কাদরিয়াদের পিছনে সালাত আদায় করিনা’ [শরহে উসুলুল ই’তিকাদ, ৭৩৩/৪]
✿ আবদুর রহমান বিন মাহদী(র),হাদিস বিশারদ-
‘আমি রাফেযীদের অনুসন্ধান করে যিন্দীক ছাড়া অন্য কিছু পাইনি’ [শরহে উসুলুল ই’তিকাদ, বর্ণনা ১৯৮১]
✿ ইমাম আবু জাফর তাহাবী(র),- রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এর সাহাবীদের ভালবাসি এবং এবং তাঁদের কাউকেই ঘৃণা করিনা। তাঁদের কারো থেকে দায়মুক্তি নেইনা এবং যারা তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে,ভাল ব্যতীত অন্য কিছু বলে সাহাবাদের ব্যাপারে তাদের(সাহাবা-বিদ্বেষী) প্রতি বিদ্বেষ রাখি। সাহাবাদের ব্যাপারে ভাল ছাড়া অন্য কিছু বলিনা। সাহাবীদের প্রতি ভালবাসাঃ দ্বীন,ঈমান ও ইহসান। সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষঃ কুফর,নিফাক ও সীমালঙ্ঘন। [আকিদাতুত তাহাবী,শরহে ইবনুল ইযয, পৃ ৬৮৯]
✿ ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী(র), রিজাল(হাদিসের বর্ণনাকারী) বিশারদ-
আলী(রা) সম্পর্কিত হাদিসসমূহের শেষে ম্নতব্য করেন- “ আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বড় বিষয়সমূহের নেতা/অধিকারী, প্রচলিত মিথ্যাসমূহের বিপরীতে আল্লাহ তায়ালা প্রচুর পরিমাণে তাঁর মর্যাদা/গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু রাফেযীরা সেগুলাকে দিয়ে খারাপ উদ্দেশ্যে তর্কবিতর্ক ছাড়া আর কিছু পছন্দ করেনা।আলী(রা)এর গুণাবলীর ব্যাপারে সত্য ব্যতীত যা আছে তার দিকে আকৃষ্ট হয়। মাওজু/জাল বর্ণনা নিয়ে দলিল দেয়া তাদের জন্য আবশ্যক,এবং সহিগুলোর প্রতি মিথ্যারোপ করা। যখন তারা নীচু অবস্থা অথবা ভীত বোধ করে, তখন তাকিয়া(ভয়ে দ্বীন গোপন করা) অবলম্বন করে। এবং সহিহাইন(বুখারী-মুসলিম)কে সম্মান দেয়, সুন্নাহকে সম্মান দেয় ও রাফেযীদের অভিশাপ দেয়।কিন্তু এর মাধ্যমে আসলে তারা নিজেদেরই অভিশাপ দেয়, যা ইহুদী ও মাজুসরাও নিজেদের প্রতি দেয়নি!” [তারতীবাল মাওজুআত, পৃ ১২৪]
✿ কাযী আবু বকর ইবন আরাবী(র), মালিকি ফিকহের ইমাম-
‘খ্রিস্টান ও ইহুদিরা মুসা(আ) ও ঈসা(আ) এর সাহাবিদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলনা। রাফেযীরাও মুহাম্মদ(ﷺ) এর সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্ট না’ [আল আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম, ১৯২ পৃ]
✿ আবু যুর’আ আর-রাযি(র), সাইয়্যেদুল হাফিয(হাদিস)-
‘যখনি কোন ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এর সাহাবীদের কারো সমালোচনা করতে দেখি, তখন জেনে নেই ব্যক্তিটি যিন্দীক। যেহেতু রাসূলুল্লাহ(ﷺ) আমাদের কাছে হক্ক, কুরআন হক্ক, এবং নিশ্চয়ই এই কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে এসেছে যাদের মাধ্যমে তাঁরা হলেন রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এর সাহাবীগণ। তারা(শিয়া) আমাদের সাক্ষীদের ক্ষত/বিতর্কিত করতে চায় যাতে আমাদের কিতাব(কুরআন) ও সুন্নাহকে বাতিল সাব্যস্ত করতে পারে’ [আল কিফায়া, ৪৯ পৃষ্ঠা]
✿ আবদুল্লাহ ইবন মুবারক(র),ইমামুল মুহাদ্দিসীন-
‘দ্বীন আহলুল হাদিস এর জন্য, কালাম ও ধূর্ততা আহলুর রায়-দের জন্য,মিথ্যা রাফেযীদের জন্য’ [মুনতাকা মিন মিনহাজ আল-ই’তিদাল, ৪৮০/১]
✿ আবুল মুজাফফর আস-সামআনী(র), আকিদা বিশারদ-
‘ইমামি শিয়াদের তাকফিরের ব্যাপারে উম্মত একমত। যেহেতু তারা সাহাবাদের ভ্রষ্টতার বিশ্বাস রাখে ও তাঁদের ইজমাকে অস্বীকার করে’ [আল আনসাব, ৩৪১/৬]
✿ ইমাম বুখারী(র)-
“আমি রাফেযী,জাহমিদের পিছনে নামায পড়া আর ইহুদি,নাসারাদের পিছে নামায পড়ার মধ্যে কোন পার্থক্য দেখি না। তাদের(রাফেযী,জাহমিয়া) সালাম দেয়া ও বিয়ে করা যাবেনা,সাক্ষ্য নেয়া যাবেনা ও জবাই করা খাবার খাওয়া যাবেনা” [খালক আফ’আল আল ইবাদ,পৃষ্ঠা ১৩]
✿ ইমাম গাযযালী(র),দার্শনিক-
শিয়াদের বাদাআ(আল্লাহ্‌র নতুন কিছু জানা,জ্ঞাত হওয়া)আকিদা সম্পর্কে ,
“কুরআনের আয়াত যখন নাসখ/রহিত হবে তার সাথে বাদাআ(আল্লাহর ইচ্ছায় নতুন কিছু জানা/আসা)এর কোন আবশ্যকতা নেই।একারণে ব্যর্থ হয়েছে ইহুদিরা যারা নাসখ(আয়াত রহিত) অস্বীকার করে, আর ব্যর্থ হয়েছে রাফেযীরা যারা বাদাআ আকিদায় আরোহণ করেছে। এবং আলী(রা)এর ব্যাপারে বলে- যে তিনি গায়েব এর খবর দিতেন না এই ভয়ে যে যদি আল্লাহর তায়ালা তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করেন। এবং তারা জাফর বিন মুহাম্মদ এর নামে বলেঃ ‘আল্লাহর কাছে কোন ব্যাপারে এমন বাদাআ(উদ্ভাসিত) হয়নি যেমন হয়েছে ইসমাইল এর ব্যাপারে,অর্থাৎ তাঁর জবাইয়ের বিষয়ে।’ এগুলা পরিষ্কার কুফর ও আল্লাহ তায়ালার দিকে অজ্ঞতার নিসবত করা। ” [আল মুস্তাসফি, ৮৮/১]
✿ ইবনুল জাওযী(র)-
‘আলি(রা) এর ভালবাসার ক্ষেত্রে রাফেযীদের বাড়াবাড়ি তাদেরকে আলী(রা)এর ফযীলত বহনকারী বহু হাদিস জাল করিয়েছে, যার বেশির ভাগই আসলে তাঁকে অপমান ও আঘাত করে।তারা নিজেদের ভিত্তিহীন ফিকহের মাজহাব,রূপকথা আবিষ্কার করে নিয়েছে যেগুলা ইজমার বিরোধী... এরকম বহু মাসায়েল যাতে ইজমার লঙ্ঘন করা হয়েছে। ইবলিস তাদেরকে এমন জালিয়াতি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে যেগুলার কোন সনদের বা আছার এর অথবা কিয়াস এর ভিত্তি নাই [তালবিস আল ইবলিস, পৃ ৬১]
✿ ইবনে হাযম আন্দালুসী(র)-
“খ্রিস্টানরা রাফেযীদের দাবির ভিত্তিতে বলে কুরআনে পরিবর্তন হয়েছে।কিন্তু নিশ্চয়ই রাফেযীরা মুসলিম নয়!তারাই প্রথমে রাসূল(সা) এর ওফাতের ২৫ বছর পরে দল বের করে।মিথ্যা ও কুফরের ক্ষেত্রে রাফেযীরা ইহুদি-নাসারাদের স্রোতে প্রবাহিত“ [আল ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়াল আহওয়া আন নিহাল- ২/২১৩]
✿ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা(র)-
> রাফেযীরা হল ইহুদীদের গাধা,প্রতিটি ফিতনার জন্য যাতে আরোহণ করা হয়। [মিনহাজুস সুন্নাহ ১/২০-২১]
> যাদের মধ্যে অধিকাংশ রাফেযীদেরকে পাওয়া যাবে: তারা হয়ত নাস্তিক, মুনাফিক ও ধর্মত্যাগী; অথবা তাদেরকে পাওয়া যাবে জাহিল তথা মূর্খদের মাঝে, যাদের কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা ভিত্তিক ও যুক্তি-বুদ্ধি ভিত্তিক কোনো জ্ঞান নেই। [ পৃ. ৮১, ২য় খণ্ড ]
> যে মিথ্যা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়, সত্যকে অস্বীকার করা, অধিক মূর্খতা, অসম্ভবের প্রতি বিশ্বাস, বিবেক-বুদ্ধির কমতি, প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি এবং অস্পষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা, অনুরূপ বৈশিষ্ট্য অপর কোনো দল বা গোষ্ঠীর মধ্যে পাওয়া যায় না। [ পৃ. ৪৩৫, ৩য় খণ্ড]
✿ ইমামুল মুফাসসির ইবনে কাসির(র)-
রাসূলুল্লাহ(সা) এর রেখে যাওয়া সম্পদ এর বণ্টন , খিলাফত ও আরো বিবিধ বিষয়ে আবু বকর(রা) এর প্রতি শিয়াদের জঘন্য অপবাদ ও মুসলিমদের মধ্যে ফিতনা-ফাসাদ তৈরিতে শিয়াদের ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ হয়ে , আল্লামা ইবনে কাসির(র) বলেন-
“শিয়াদের রক্ত প্রবাহিত করা মদ প্রবাহিত করে ফেলে দেয়ার চেয়ে অধিক ন্যায়সঙ্গত” । [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪১৭-৪১৮ পৃ/ খণ্ড ৫]
~~ এ তো গেল ইসলাম এর স্বর্ণযুগ ও সম্মানের যুগের আলেম-স্কলারদের মত। এবার বর্তমান যুগের আলেম-স্মাজের মত দেখা যাক। যদিও উপরে উল্লিখিত যেই কোন এক জন এর মতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মত স্পর্ধা,যোগ্যতা কোনটিই গত ২০০ বছরে কোন আলেম-উলামা অর্জন করেন নাই। বরং রাজনীতিকে দ্বীনের ফুরু বানিয়ে অনেকে শিয়া-বিষয়ে চুপ থাকা,ঐক্যের ডাক(আকিদা বিসর্জন দিয়ে!) ইত্যাদি করে থাকেন। তবু আমরা হক্কানী উলামাদের ফতোয়া দেখে নেই-
☗ উলামায়ে আরব-
শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায(র): ‘দেখা যায় যে শিয়াদের মধ্যে বহু দল-উপদল/ফিরকা আছে, এবং তাদের প্রত্যকের মধ্যেই বিভিন্ন প্রকারের বিদাআত আছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হল খোমেনীর ইছনা আশারিয়া/১২ ইমামি উপদল। আহলে বাইতের কাছে সাহায্য চাওয়া,তাদের গায়েবের জ্ঞান রাখার আকিদা রাখা, আবু বকর ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মত সাহাবাদের তাকফির,গালি দেয়া – ইত্যাদি এদের বাতিল হওয়া প্রমাণ করে ’ [ফাতোয়ায়ে বিন বায ৪৩৯/৪]
শায়খ আব্দুলাহ বিন আব্দুর রহমান বিন জিবরীন শিয়াদের কাফের ঘোষণা করেন তাদের আল কাফি,ফাসলুল খিতাব ইত্যাদি কিতাবের ভিত্তিতে। এছাড়া শায়খ সালেহ আল মুনাযযিদ ও প্রায় সকল বিশিষ্ট আরব আলেমরাই শিয়াদের জবাইকৃত পশু খেতে নিষেধ করেছেন! আরব আলিমদের মধ্যে যারা শিয়া-কাফেরদের সাথে মুখোমুখি বিতর্ক ও লিখিত পর্দাফাঁস এর কাজ করে যাচ্ছেন উম্মাহর খেদমতে, তাঁদের মধ্যে শায়খ আল আরিফি, শায়খ আদনান আরুর, শায়খ উসমান আল খামিস, শায়খ আব্দুর রহমান আল-দামেস্কী, শায়খ খালিদ আল-ওয়াসাবী {আল্লাহ তাঁদের সকলকে হিফাযাত করুন ও বরকত দান করুন} প্রমুখের নাম সুপরিচিত।
⌂ জামিয়া আল আযহার:
বহু চক্রান্ত ও ঝড়-ঝঞ্ঝার মাঝেও জামিয়া আল আযহার এর বহু আলিম শিয়াদের শিরক-কুফর এর ব্যাপারে ফতোয়া দিয়ে ও কিতাব লিখে উম্মাহর ঈমান রক্ষায় সচেষ্ট হচ্ছেন। শায়খুল আযহার সালিম আল-বিশরী শিয়াদের মিথ্যাচার সংবলিত ‘আল মুরাজাআত’ এর রদ করেছেন।
শিয়া-রাফেযীদের বিভিন্ন জঘন্য আকিদা, আয়াতুল্লাত জাফর সুবহানী,রুহুল্লাত খোমেনীর কিতাবের বিভিন্ন অংশের পর্যালোচনার করে, জামিয়া আল আযহার এর আলিমরা প্রমাণ করেছেন যে শিয়াদের সাথে প্রকৃত মুসলিম তথা আহ্লুস সুন্নাহ এর পার্থক্য দ্বীনি উসুল এর। বিস্তারিত দেখুন- মাওকিফাল আযহার শরীফ মিন শিয়া ইছনা আশারিয়া, পৃ ২৫১-৩০৫
আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উস্তাযুল হাদিস ড.মুহাম্মদ খুশুয়ী, উস্তাযুল আকিদা উমার বিন আব্দুল আযীয কুরায়শী, এর সংকলনে ‘ফাতওয়া কিবার উলামায়ে আযহার শারীফ ফি শিয়া’ প্রকাশ করা হয়। যাতে জামিয়া আল আযহার এর সম্মানিত বিভিন্ন শায়খ শিয়াদের শিরক-কুফর এর সম্ভার তুলে ধরে তাদের কাফের-মুশরিক হবার প্রমাণ দেন, মিশরে তাদের ফেতনা প্রতিরোধ করার আহবান জানান।
☗ উলামায়ে দেওবন্দঃ
দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকেই উলামায়ে দেওবন্দ এর আকাবির/পূর্বসূরিরা শিয়াদের শিরক-কুফর সম্পর্কে ফতোয়া দিয়ে আসছেন। শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহল্ভী(র) ইমামী শিয়াদেরকে খতমে নবুয়্যাত অস্বীকারকারী কাফের ঘোষণা করেছেন।{তাফহিমাত আল-ইলাহিয়্যাত ২৫০পৃষ্ঠা} শাহ আব্দুল আযীয দেহল্ভী(র) ১২ ইমামি শিয়াদের ব্যাপারে বলেন- ‘তাদের কুৎসিত আকিদাসমূহ পরিষ্কার,ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই,তাদের কুফর সন্দেহাতীত..’ {মুখতাসার তুহফা ইছনা আশারিয়া, ৩০০-৩০১ পৃ}। রশীদ গাঙ্গুহী(র) শিয়াদের উদ্দেশ্যে ‘হিদায়াতুস শিয়া’ কিতাব লিখেন। সেই থেকে শিয়া-কাফেরদের ঈমানবিধ্বংসী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আজও সংগ্রাম অব্যাহত আছে- সেটা কিতাব,ফতোয়ায় অথবা সাংগঠনিকভাবে।
ভারত ও পাকিস্তানের শিয়াদের আকিদা-আমল পর্যবেক্ষণ করে দারুল ইফতা দেওবন্দের একাধিক ফতোয়া শিয়াদের কাফের,মুরতাদ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাদের সাথে বিয়েশাদী,সাক্ষ্য গ্রহণ,যাকাত দেয়া,মুসাফাহ করা,সালামের জবাব দেয়া নিষেধ করা হয়েছে। তারমধ্যে 11299 Mar 29,2009(Fatwa: 312/286=B/1430), 2125 Dec 09,2007(Fatwa: 1487/1314=B), 16730 Dec 22,2009(Fatwa: 1994/1586/D=1430) বিশেষভাবে উল্লেখ্য!
এছাড়া ১৯৮০ তে সিপাহ-এ-সাহাবা ও ১৯৯৬ এ লস্কর-এ-জাংভি সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জীবনের বিনিময়ে হলেও শিয়া-মালাঊনদের প্রতিহত করার কাজ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক, ৭ই মে ২০১৫, আল্লামা আহমদ শফি(হাফিঃ) চট্টগ্রামে শিয়াদের কাফের ঘোষণা করে হাজার বছরের ইসলামী উসুলকে স্মরণ করিয়ে দেন।
~~ বর্তমান শিয়াদের ৯০% আকিদা-আমল এর ক্ষেত্রে রাফেযী অর্থাৎ জাতিগত কাফের।এরপরেও একশ্রেণীর অন্ধ,নিফাকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চোখ-কান বন্ধ করে চিৎকার করে যায় “সব শিয়া রাফেযী না”। বস্তুত, রাফেযী বাছতে শিয়া উজার।এমনকি গর্বের সাথে ‘রাফেযী/রাফিদ’ নাম রাখা ও নিজেদের জন্য ব্যবহারের অহরহ প্রচলন দেখা যায়!
আল্লাহ আমাদের তাউফিক দান করুন যেন, আমরা সালফে সালেহীন এর মতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্দ্বিধায় শিয়া-রাফেযীদের কাফের বলতে পারি।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

শিয়ারা কখনো আমাদের ভালো চায় না,

তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে তলেতলে ইসলামের বারটা বাজাচ্ছে। ইসলামের মধ্যে সর্বপ্রথম বড় ধরণের বিভ্রান্তি আর দলাদলি তারাই সৃষ্টি করেছে। 
.
-তারা এখনো সর্বদা আমাদের পিছনে লেগে আছে। আমাদের অনেক গ্রহণযোগ্য আলেমের ফতুয়া অনুযায়ী তারা মুসলিম নয়। তাদের কাজই হল ইসলামকে বিতর্কিত করা। তারা হুজুর (সাঃ) এবং সাহাবায়ে কেরামের দোষ তালাশে ব্যস্ত।
.
-তারাই হুজুর (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র বানিয়েছে। তাদের টার্গেট সুন্নি মুসলিম ধ্বংস করে শিয়া তথা মডারেট, নামধারী মুসলিম দিয়ে বিস্ব শাসন করা। সেই লক্ষ্যে তারা অনেকদূর এগিয়ে গেছে।
.
-তারা মুখে বলে মুসলিম তলেতলে আমেরিকা, ইউরোপ ইত্যাদি ইসলাম বিদ্বেষী পরাশক্তির মুখোশধারী দালাল।
.
-মিনা ট্রাজেডিকে ইস্যু করে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে ছেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই মিশন ভেস্তে গেছে। তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে।
.
-তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এখনই সোচ্চার হওয়ার প্রকৃত সময়।
.
-তবে সর্বশেষ মিনা ট্রাজেডির জন্য বাস্তবে দায়ী কারা? তা আপনাদের কাছে জানতে চাই?

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ইমাম সম্পর্কে শী'আদের কুফরী আকিদাসমূহ

ইমামরা দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক ??? ইমামদের মর্যাদা নবীদের চেয়েও বেশি??? ইমামরা নবী ও ফেরেশতাদের চেয়েও বেশি ইলম ওয়ালা ??? (নাউজুবিল্লাহ ) পুরাটাই পড়ুন ।
ইমামপন্থী শী'আ (ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনীরা ) পৃথিবীর মোট শী'আদের ৮৫ শতাংশ ।এদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থের নাম "উসূলে কাফী " । এরা মুসলমানদের "কোরআন " বিশ্বাস করে না । শীআদের কোরআন ৯০ পারা মুসলমানদের মত ৩০ পারা নয় । সেই ৯০ পারা কোরআন তাদের শেষ ইমাম নিয়ে আত্বগোপন করেছেন ।
মুসলমানদের বুখারী,মুসলিম সহ কোন হাদিসের কিতাব কেই তারা বিশ্বাস করে না।কারন হাদিস এসেছে রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে সাহাবা (রাঃ) দের মাধ্যমে । আর শী'আরা , সাহাবা (রাঃ) দের কাফির বলে ( নাউজুবিল্লাহ) । তাই হাদিস শী'আদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়।
ইমামপন্থী শী'আদের আকিদা হলো , রসূলুল্লাহ (সঃ) এর ওফাতের পর মুসলমানদের পথ প্রদর্শন ও নেতৃত্বের জন্য আল্লাহ তায়ালা ১২ জন ইমাম মনোনীত করেছেন। যাহারা হলেনঃ
১.ইমাম হযরত আলী (রাঃ) ,
২.হাসান ইবনে আলী (রাঃ) , 
৩.হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) , 
৪.আলী ইবনে হুসাইন ওরফে জয়নুল আবেদীন, 
৫.মোহাম্মদ ইবনে আলী ওরফে ইমাম বাকের ,
৬. জা'ফর সাদেক ইবনে বাকের, 
৭.মূসা কাযেম ইবনে জা'ফর সাদেক, 
৮.আলী রেযা ইবনে মূসা কাযেম, 
৯.মোহাম্মদ তাকী ইবনে আলী রেযা, 
১০.আলী নাকী ইবনে মোহাম্মদ তাকী, 
১১.হাসান আসকারী ইবনে আলী নাকী, 
১২.মুহাম্মদ আল মাহদী ইবনে হাসান আসকারী অর্থাৎ ইমাম মাহদী ।

যিনি শী'আ আকিদা অনুযায়ী এখন থেকে প্রায় ১১০০ বছর পূর্বে জন্মগ্রন করেন এবং ৫ বছর বয়সে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। এখন পর্যন্ত তিনি "সুররা মান রা'আ " নামক গুহার মধ্যেই আত্বগোপন করে আছেন।
উপরোক্ত ইমামদের সম্পর্কে শী'আদের কুফরী আকিদা সমূহঃ
১.ইমামগণ দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক এবং তারা যাকে ইচ্ছা দেন ও মাফ করেন। (উসূলে কাফী, ২য় খন্ড,২৬৯ পৃষ্টা)
২.ইমামগণ মানুষকে জান্নাতে ও দোযখে প্রেরণকরী ।তারা ইচ্ছে করলে যে কাউকে জান্নাতে বা দোযখে দিতে পারেন। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ২৮০ পৃষ্টা)
৩.ইমামগণের মর্যাদা রসূলুল্লাহ (সঃ)এর সমান এবং অন্য সকল নবীদের উর্ধ্বে। হযরত আলী(রাঃ) এর মর্যাদা মুহাম্মদ (সঃ) এর সমান। ইমামতের মর্তবা নবুওয়াত ও পয়গম্বরীর উর্ধ্বে। (হায়াতুল কুলূব,৩য় খন্ড, ১০ পৃষ্টা)
৪.ইমামগণ তাদের মৃত্যুর সময়ও জানেন এবং তাদের মৃত্যু তাদের ইচ্ছাধীন থাকে। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ৩৮৭ পৃষ্টা)
৫. যে ইমামকে না মানে সে কাফির।(উসূলে কাফী,১ম খন্ড, ২৬৬ পৃষ্টা)
৬. জান্নাতে যাওয়া না যাওয়া ইমামদের মান্য করা না করার উপরই নির্ভরশীল। (উসূলে কাফী, ২য় খন্ড, ২০৬ পৃষ্টা)
৭. ইমামগণের এমন ইলম আছে, যা ফেরেশতা ও নবীগণদেরও নাই। (উসূলে কাফী, ১ খন্ড, ৩৭৫ পৃষ্টা)
৮. প্রত্যেক জুমুআর রাত্রিতে ইমামগণদের মে'রাজ হয়, তারা আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌছেন ।এটা ইমামগণের জন্যই খাস। যদিও হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পুরো জীবনে ১বার মাত্র মে'রাজে গিয়েছেন এবং অন্য নবীদের সে সুযোগও হয়নি। (উসূলে কাফী, ১ খন্ড, ৩৭২ পৃষ্টা)
৯. ইমামগনদের কাছে "আল-জাফর" আছে। এটি একটি চামড়ার থলে। এতে সকল নবী ও ওছীর ইলম আছে এবং বনী ইসরাইলের সকল আলেমদের ইলম আছে। (উসূলে কাফী, ১ খন্ড, ৩৪৫ পৃষ্টা)
১০. ইমামদের কাছে "মাসহাফে ফাতেমা " রয়েছে। যাহা মুসলমানদের কুরআনের চেয়েও ৩ গুন বড়। এতে কোরআনের ১ টি হরফও নেই। ( উসূলে কাফী, ১ খন্ড, ৩৪৭ পৃষ্টা)
১১. ইমামগণের প্রতি প্রতিবছর শবে কদরে আল্লাহর নিকট থেকে এক কিতাব নাযিল হয়, যা ফেরেশতা ও "রুহ" নিয়ে আসেন। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ৩৬৬ পৃষ্টা)
১২.ইমামগণের অতীত ও ভবিষ্যতের ইলম জানা আছে অর্থাৎ তারা অতীত ও ভবিষ্যত জানেন। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ৩৮৮ পৃষ্টা)
১৩. ইমামগন যা ইচ্ছা হালাল অথবা হারাম করতে পারেন। (উসূলে কাফী, ২য় খন্ড, ৩২৬ পৃষ্টা)
১৪. ইমামগণ নবীদের মতো নিষ্পাপ। তাদের কোন গুনাহ্ই নেই। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ২৮৭ পৃষ্টা)
১৫.ইমামগনের জন্মের সময় মায়ের জরায়ূ দিয়ে ভূমিষ্ট হন না, উরু দিয়ে ভূমিষ্ট হন। ইমামগণ যখন মায়ের গর্ভ থেকে বাইরে আসেন ,তখন তাদের হাত মাটিতে এবং মস্তক আকাশের দিকে উঠানো থাকে। (উসূলে কাফী, ২য় খন্ড, ২২৬ পৃষ্টা)
১৭. ইমাম ব্যতীত দুনিয়া কায়েম থাকবে না। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ২৫২ পৃষ্টা)
১৭. ইমামগণের সামনে মুসলমানদের দিবারাত্রির আমল পেশ করা হয়।(উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ৩১৯ পৃষ্টা)
১৮. ইমামগণের আনুগত্য করা ফরয। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ২৬৩ পৃষ্টা)
১৯. ইমামগণের ইমামত,নবুওয়াত ও রেসালত স্বীকার করা এবং তাদের প্রতি ঈমান - বিশ্বাস স্হাপন করা নাজাতের জন্য শর্ত। (উসূলে কাফী, ১ম খন্ড, ২৫৫ পৃষ্টা)
বিঃদ্রঃ ইমামপন্থী শীআদের আকিদা - বিশ্বাস সমূহের মধ্যে অল্প সংখ্যক কুফরী আকিদা অতি স্বল্প পরিসরে এখানে তুলে ধরা হলো।
একবার ভেবে দেখুনতো এরকম আকিদা ওয়ালারা কি মুসলমান হতে পারে???
বাংলায় বিস্তারিত পড়তে চাইলে অনুগ্রহপূর্বক "ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ " বইটি পড়ুন। 
[লেখক - মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ) , শাইখুল হাদীস ]

‘ইরানীদের নিয়ম লঙ্ঘনেই’ মিনায় পদদলন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : প্রায় ৩০০ ইরানী হাজীদের একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করায় মিনায় পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। ইরানী এক কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে আরবনিউজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আশার্ক আল-আওসাত পত্রিকা।
হজের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে মিনায় অন্তত ৭৬৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই ইরানী হজ মিশনের ওই কর্মকর্তা এ কথা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘৩০০ ইরানীর একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে মুজদালিফা থেকে জামারাতের দিকে হাঁটা শুরু করলে দুর্ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। তারা নিয়মানুযায়ী নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে ২০৩নং স্ট্রিটে উল্টো দিকে হাঁটতে থাকে।’
ইরানী সূত্রের বরাতে সাবাক ডট ওআরজি জানিয়েছে, ইরানী হাজীদের ওই দলটি জামারাত আল-আকবায় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি। এর আগেই তারা উল্টো পথে ফিরে আসতে শুরু করে।
উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ইরানী হাজীরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এবং উল্টো পথ ছেড়ে ফিরে আসেনি। ফলে হাজীদের পথ আটকে যায় এবং ভিড় বাড়তে থাকে। এ কারণে ওই মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা রেকর্ডেও ইরানীদের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়েছে। মূলত ওই সময়ে তুর্কি হাজীদের বেরিয়ে আসার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে অবশ্য সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। ঘটনাটির তদন্তের পর তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
পদদলনের এ ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশী রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।
(দ্য রিপোর্ট/এসকে/শাহ/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫)

মিনা দুর্ঘটনায় সৌদিকে চাপ দিন: জাতিসংঘকে ইরান


শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের মিনায় ২০০০ হাজি নিহত ও শত শত আহত হয়েছে দাবি করে এ ঘটনায় রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।
আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মিনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় মৃত হাজির সংখ্যা বেড়ে ৭৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। হজ পালনকালে গত ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম ওই দুর্ঘটনায় ৯৩৪ জন হাজি আহত হয়েছেন।
এত হতাহতের পরও ওই ঘটনায় কোন দেশের কতজন হাজি নিহত বা আহত হয়েছেন, তা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া গেছে, তার পুরোটাই এসেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে।
ওই ঘটনায় ইরানের অন্তত ১৩৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে বলে তেহরানের ভাষ্য। এ ছাড়া মরক্কো, ক্যামেরুন, নাইজার, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, চাদ, সোমালিয়া, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তানজানিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশের হাজিদের হতাহত হওয়ার খবর রয়েছে।
মিনায় হাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় চাপে পড়েছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে ইরানের পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মিনায় পদদলিত হয়ে এত হাজির হতাহত হওয়ার ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য সম্পর্কে সৌদি সরকার কিছুই জানাচ্ছে না। একইভাবে হতাহত ব্যক্তিদেরকে দেশে ফেরত আনার বিষয়েও সহযোগিতা করছে না। এসব ঘটনায় তিনি সৌদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মানবাধিকার বিষয়ক সৌদি সরকারের আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন রিয়াদকে নির্দেশ দিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম বার্ষিক অধিবেশনের অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মিনা ট্রাজেডি নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়েও কথা বলেন ড. রুহানি।
তিনি বলেন, উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের সহিংসতায় লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে বলেও প্রেসিডেন্ট রুহানি মন্তব্য করেন।

শীর্ষ নিউজ/প্রমি