আহলে হাদিস সমাচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আহলে হাদিস সমাচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১৮

ডা. জাকির নায়েক: একটি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা

জাকির নায়েক সম্পর্কে এসাফপূর্ণ ও বিশ্লষকটি ইনণধর্মী আলোচনা। পড়লে উপকৃত হবেন আশা করি

.
ডা. জাকির নায়েক। বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত একজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামিক স্কলার ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের (Comparative Religion) বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সারা পৃথিবীতে সুপরিচিত। ইসলামের এই মহান দাঈর জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে। পড়াশোনা- মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুল, কিশিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজ, টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নাইর হসপিটাল, অতঃপর ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাই থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ডা. জাকির বিশ্বখ্যাত সুবক্তা ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক শেখ আহমাদ দিদাতের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে দাওয়াতি কাজে জড়িত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেন এবং ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি মুম্বাইয়ের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ইউনাইটেড ইসলামিক এইডের প্রতিষ্ঠাতা, যা দরিদ্র ও অসহায় মুসলিম তরুণ-তরুণীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে তাঁকে ‘পিস টিভি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক ও আদর্শিক চালিকাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্যের অসাধারণ গুণগুলো হল, তিনি তাঁর বক্তব্য কুরআন-হাদিস ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে তথ্য ও প্রমাণপঞ্জি পৃষ্ঠা, আয়াত, অধ্যায় ও খণ্ড নম্বরসহ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তা যুক্তি, বিজ্ঞানসম্মত ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উপস্থাপন করেন। আর এসবের মিশেলে যে কোন প্রশ্নের তড়িৎ উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তিনি বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে কুরআনকে বিশ্বাস করার কথা বলেননি, কুরআন বোঝার একটা প্রয়াস হিসেবে দেখেছেন। তাঁর এই গুণসমৃদ্ধ বক্তব্য দর্শক-শ্রোতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমোহিত করে রাখে। ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও নাস্তিক বুদ্ধিজীবীদের আনীত নানা অভিযোগ খণ্ডন করে ইসলামের সৌন্দর্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি রীতিমত কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। গত ২০ বছরে তিনি দুই হাজারের ঊর্ধ্বে পাবলিক লেকচার দিয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, মিসর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, হংকং, ঘানা, চাইনা, ত্রিনিদাদ, শ্রীলংকা, মালদ্বীপসহ আরো বহু দেশে। সবচে’ বেশি লেকচার দিয়েছেন তাঁর মাতৃভূমি ভারতে। তিনি অন্যান্য ধর্মের পন্ডিত ব্যক্তির সাথে সংলাপ ও বিতর্কে অংশ নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিতর্ক অনুষ্ঠান হয়েছিলো আমেরিকার শিকাগোতে ২০০০ সালের ১ এপ্রিল। ‘বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন ও বাইবেল’ শীর্ষক এই বিতর্কে ডা. জাকিরের প্রতিপক্ষ ছিলেন আমেরিকার একজন চিকিৎসক ও মিশনারি ব্যক্তিত্ব ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল। এই অনুষ্ঠানে ডা. জাকির অত্যন্ত সফলভাবে উইলিয়াম ক্যাম্পবেলকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। তাঁর আরেকটি ঐতিহাসিক বিতর্ক হয়েছিলো ভারতের ব্যাঙ্গলোরে ২১ জানুয়ারি ২০০৬ । ‘প্রধান ধর্ম গ্রন্থের আলোকে হিন্দুইজম এবং ইসলাম’ শীর্ষক এই বিতর্কে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ভারতের আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রবী শংকর। এই বিতর্ক অনুষ্ঠানেও ড. জাকির নায়েক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাকে পরাস্ত করেন। তার এসব বক্তৃতার অডিও ও ভিডিও ক্যাসেট দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইসলামপ্রিয় মানুষের কাছে তিনি প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তাঁর বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বহু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছে। ২০১২ সালের মার্চ মাসে ভারতে বিহারের কিশানগঞ্জে তাঁর এক পাবলিক লেকচারে প্রায় ১০ লাখ লোক সমবেত হয়।
ফেসবুক-টুইটার-ইউটিউব-টেলিভিশন সর্বত্র তাঁর দৃপ্ত পদচারণা। তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের লাইক-সংখ্যা ১৪ মিলিয়নের উপরে, টুইটারে তাঁর ফলোওয়ার-সংখ্যা ১২৮০০০ এর চেয়েও বেশি, ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার-সংখ্যা ২৮০০০০ এর ঊর্ধ্বে। তাঁর পরিচালিত টেলিভিশন পিস টিভি বাংলা-উর্দু-ইংরেজি এই তিন ভাষায় সম্প্রচারিত হয়। ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এর দর্শক-সংখ্যা ১০০ মিলিয়নের ঊর্ধ্বে। এদের মধ্যে ২৫% অমুসলিম। তাঁর বক্তব্য ও বিতর্কগুলো সিডি ও বই আকারে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে বের হয়ে লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
১৯৯৪ সালে শেখ আহমাদ দিদাত ডা. জাকির নায়েককে ‘দিদাত প্লাস’ উপাধি দেন। ২০০০ সালের মে মাসে তাঁকে দাওয়াত ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর গবেষণার জন্য দেয়া এক স্মারক উপহারে খোদাই-করে লিখেছিলেন, “"Son what you have done in 4 years had taken me 40 years to accomplish – Alhamdullilah." (বৎস, তুমি যা ৪ বছরে করেছ, তা করতে আমার ৪০ বছর ব্যয় হয়েছে। - আলহামদুলিল্লাহ।) ডা. জাকির নায়েক তার দাওয়াহ কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান থেকেই। ২০১৫ সালে তিনি ইসলামের ওপর বিশেষ অবদান রাখার জন্য মুসলিমবিশ্বের নোবেল পুরস্কারতুল্য মর্যাদাপূর্ণ ‘কিং ফয়সল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ পেয়েছেন।
সম্প্রতি গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় ৫ হামলাকারীর মাঝে একজন ফেসবুকে জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলেন বলে বাংলাদেশী পত্রিকা ডেইলি স্টারে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, "জাকির নায়েকের বক্তব্য আমাদের জন্য একটি নজরদারির বিষয়। আমাদের এজেন্সিগুলো এর উপর কাজ করছে।" (The Economic Times (New Delhi) ৬ জুলাই ২০১৬) এর ২ দিন পর মহারাষ্ট্র সরকারের সিআইডি বিভাগ তদন্তের ফলাফল হিসেবে জানায় যে, তারা জাকির নায়েকের বক্তৃতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ খুজে পায়নি। ডেইলি স্টার উক্ত বিতর্ক নিয়ে জাকির নায়েকের নিকট ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য করে যে তারা কখনোই নায়েককে উক্ত হামলার জন্য দোষারোপ করে নি। পত্রিকাটি বলে যে, এটি শুধুমাত্র এটাই তুলে ধরেছে যে, কিভাবে তরুণরা তার বক্তব্যকে ভুলভাবে বুঝছে।(The Daily Star (Bangladesh) ৯ জুলাই ২০১৬) তবে, এঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকার নায়েকের পিস টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এদিকে ভারতের শীর্ষ স্থানীয় আলেম দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস ও দেশটির সর্ববৃহৎ ইসলামী সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী ডা. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর দারুল উলুম দেওবন্দের নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আবদুল খালেক মাদরাসী মিডিয়াকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে দেওবন্দের পুরনো ফতওয়াকে ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। ভারতের ওয়ান লাইভ নিউজ থেকে এখানে তাদের বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করছি,
جمعیت علما ہند کے صدر مولانا ارشد مدنی نے ڈھاکہ حملہ میں ملوث کچھ دہشت گردوں کے ذاکر نائیک کی تقریر سے متاثر ہونے کی بات کے سامنے کے آنے کے بعد نائیک کو نشانہ بنانے اور ان کو دہشت گردی سے جوڑنے کی غیر ضروری کوشش پر افسوس کا اظہار کیا ۔ انہوں نے کہا کہ میں نظریاتی طور پر ڈاکٹر نائیک سے اتفاق نہیں رکھتا ، مگر میں نے کبھی نہیں سنا کہ ڈاکٹر نائیک نے کبھی دہشت گردی یا تشدد کی ترغیب دی ہو یا پھر مختلف مذاہب کے درمیان کبھی نفرت پھیلانے کی کوشش کی ہو ۔
انہوں نے کہا کہ اب اگر کوئی شخص ان کی بات سے متاثر ہونے کا کہہ کر اپنے طور پر کوئی غلط قدم اٹھاتا ہے تو پھر اس کیلئے ڈاکٹر نائیک کو ذمہ دار کس طرح ٹھہرایا جاسکتا ہے ۔ انہوں نے کہا کہ ڈاکٹر نائیک کے خلاف جو طوفان کھڑا کیاجارہا ہے وہ فرقہ پرست طاقتوں کی سازش اور متعصبانہ سوچ کا نتیجہ ہے ، جس کی کبھی تائید نہیں کی جاسکتی ۔ ساتھ ہی ساتھ مولانا مدنی نے رمضان المبارک کے مقدس ماہ میں مدینہ منورہ سمیت استنبول اور ڈھاکہ میں ہوئے دہشت گردانہ حملوں کی شدید مذمت کی اور رنج و غم کا اظہار کیا ۔
ادھر دارالعلوم دیوبند کے نائب مہتمم مولانا عبدالخالق مدراسی نے کہا کہ ڈاکٹر نائیک سے ہمارے مسلکی اختلافات کل بھی تھے اور آج بھی ہیں ۔ ہمیں ان کے طریقہ کار سے اختلاف ہوسکتا ہے ، لیکن وہ دنیا میں ایک اسلامی اسکالر کے طور جانے جاتے ہیں ۔ انہوں نے کہا کہ ہم سمجھتے ہیں کہ وہ دہشت گردی سے کسی بھی طرح وابستہ نہیں ہوسکتے ہیں ۔مولانا مدراسی نے کہا کہ دارالعلوم دیوبند نے فقہی اور مسلکی اختلافات کی بنیاد پر ماضی میں جو فتاوے جاری کئے ہیں ، میڈیا آج ان کو دکھا کر سنسنی پیدا کرنے کی کوشش کررہا ہے اور ان کو ڈاکٹر نائیک کے خلاف استعمال کرکے یہ باور کرنے کی کوشش کررہا ہے کہ دارالعلوم دیوبند نے اب یہ فتاوے جاری کئے ہیں ۔
انہوں نے کہاکہ میڈیا کی اس کوشش کی ہم مخالفت کرتے ہیں اور انہیں انتباہ دیتے ہیں وہ ان فتاوے کو وہ نائیک کے خلاف استعمال کرنا بند کردیں ۔

ডা. জাকির নায়েককে সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেয়ার অভিযোগের সাথে জড়ানোয় নিন্দা জানিয়ে ভারতের শীর্ষ স্থানীয় আলেম, দেশটির সর্ববৃহৎ ইসলামী সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ এর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানি বলেছেন, ‘জাকির নায়েক নিজের পদ্ধতিতে ইসলামের তাবলিগ করেন। আলেমরা তার সব কথার সাথে একমত নন। তিনি আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্বও করেন না। কিন্তু তাকে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা।’ মাহমুদ মাদানি বলেন, শক্তিশালী প্রমাণ ছাড়া তাকে সন্ত্রাসবাদে উস্কানির দায়ে অভিযুক্ত করা ন্যায়নীতির পরিপন্থী। জাকির নায়েকের অনেক কথার সাথে বিভিন্ন মতের আলেমদের মতবিরোধ আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এই মতবিরোধ সন্ত্রাসবাদের সাথে তাকে যুক্ত করার ব্যাপারটি থেকে পুরোপুরি আলাদা। মাহমুদ মাদানি মনে করেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে উপযুক্ত প্রমাণ পেলেই কেবল সরকার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি মিডিয়াকে বাড়াবাড়ি পরিহার করে জাকির নায়েকের বিষয়টি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।
(সূত্রঃ http://insaf24.com/news/8553)

ডা. জাকির আহলে হাদিস বা সালাফি মতাদর্শে প্রভাবিত হলেও তিনি নিজেকে আহলে হাদিস বা সালাফি হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন না। তিনি নিজেকে একজন মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি সবাইকে বলেন, আহলে হাদিস, সালাফি, হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলি ইত্যাদি পরিচয় না দিয়ে নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিন। এরকম পরিচয়ে গোঁড়ামি সৃষ্টি হয়। তিনি নিজে মাজহাব না মানলেও মাজহাবকে অস্বীকার করেন না। সকল ইমামের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা পোষণ করেন বলে জানা যায় তাঁর বক্তব্য থেকে। পৃথিবীর সকল মানুষ একই দল, মত, মাজহাব বা চিন্তাধারার অনুসারী হবেন- এটা কল্পনাতীত ও অসম্ভব বিষয়। ফিকহ বিষয়ক কিছু বক্তব্য ও মন্তব্যের কারণে তিনি আলেমসমাজের সমালোচনার পাত্র হন। তিনি যদি এই অঙ্গনে প্রবেশ না করে তাঁর গুরু শেখ আহমাদ দিদাতের পন্থা অবলম্বন করতেন তাহলে এই সমালোচনা হত না। শেখ আহমাদ দিদাত ফিকহ ও ফতওয়া বিষয়ক আলোচনা মুফতিদের কাছ থেকেই জিজ্ঞেস করার জন্য বলতেন। ডা. জাকির নায়েক যেসব ফতওয়া দিয়েছেন তার অধিকাংশই শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি, শাইখ বিন বাজ, শাইখ সালেহ আল উসাইমিন প্রমুখ আলেমদের ফতওয়া। যদিও অনেক ক্ষেত্রে তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেন না। তাঁর চিন্তার কিছু কিছু অংশ আলেমসমাজের নিকট সংশোধনযোগ্য।
ইদানীং তাঁর প্রশংসা ও সমালোচনার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি দেখা যাচ্ছে। পক্ষের লোকেরা তাঁকে ‘মুজাদ্দিদ’, ‘মুজতাহিদ’ ইত্যাদি অভিধায় অভিষিক্ত করছেন। আর বিপক্ষের লোকেরা বলছেন, ‘ইহুদি-খ্রিস্টানদের দালাল’, ‘গোমরাহ’ ইত্যাদি। তবে চিন্তাশীল আলেমদের মত হল তিনি ‘মুজাদ্দিদ’ বা ‘মুজতাহিদ’ও নন এবং ‘ইহুদি-খ্রিস্টানদের দালাল’ ও ‘গোমরাহ’ও নন। অপর দিকে তিনি মুফতি ও ফকিহও নন। তিনি মূলত মেডিকেল সার্জন, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক ও দাঈ ইলাল্লাহ। তাঁর কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তা শালীন ও মার্জিত ভাষায় তথ্য ও যুক্তিনির্ভর পন্থায় চিহ্নিত করতে হবে, যাতে তিনি সংশোধনের সুযোগ লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত না হন। নিম্নে তাঁর সম্পর্কে কিছু আলেমের মত তুলে ধরা হল।
ডা. জাকির নায়েক ‘International Islamic Conference Urdu 2010’-এ বিশ্বখ্যাত আলেমে দীন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার মুহাদ্দিস সাইয়েদ সালমান হুসাইনী নদভীকে আমন্ত্রণ জানান। এ কনফারেন্সে আল্লামা সাইয়েদ সালমান হুসাইনী নদভী ডা. জাকির নায়েককে উদ্দেশ্য করে যা বলেছেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হল-
‘আমি জাকির ভাইকে বলব, মানবতার কল্যাণের জন্য এই মঞ্চকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। এই মঞ্চ পারস্পরিক মতবিরোধ চর্চার জন্য নয়; মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদের জন্যও তৈরি হয়নি এই প্লাটফর্ম। মুসলমানদেরকে দেওবন্দি-বেরলভি, শিয়া-সুন্নি, সালাফি-হানাফি, মুকাল্লিদ- গাইরে মুকাল্লিদসহ নানা উপদলে বিভক্ত করে দলাদলি করাও এর উদ্দেশ্য নয়। এখানে সর্বসম্মত মাসআলা নিয়ে আলোচনা হবে। মতবিরোধপূর্ণ মাসায়েলের জন্য রয়েছে হাজারো মাদরাসা, দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জামেয়া (ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)। এসব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য অনেক গবেষণা ও পঠন-পাঠন চলছে। অনেক ফিকহি কিতাব রচিত হয়েছে এবং হচ্ছে। আমি বড়ই ব্যথিত হয়েছি, শিয়া ও বেরলভিরা জাকির সাহেবের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। দেওবন্দিরা তাঁর ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এখন আমাদের কথা হল, জাকির সাহেবের বক্তব্যে কেউ যদি নারাজ হন, তবে প্রথমে জানতে হবে কোন ভুলের কারণে তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন, কোন ভুল থেকে তাঁকে তওবা করতে হবে। আমি জাকির নায়েক সাহেবকে ভালভাবে জানি; বিশ বছর ধরে তিনি আমার বন্ধু। আমি তাঁকে বলব, আপনি মুফতি হবেন না, মুজতাহিদ হতে যাবেন না। আপনার কাজ ফতওয়া দেওয়া নয়। নতুন নতুন মাসআলা জাতির সামনে পেশ করাও আপনার দায়িত্ব নয়। আপনি সারা বিশ্বের সামনে ইসলামকে তুলে ধরুন। অমুসলিমদের কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের মর্মবাণী। আপনি আমেরিকার বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ুন। ইউরোপের বিপক্ষে আওয়াজ তুলুন। জালেমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মজলুমদের পক্ষে থাকুন। আপনি মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধগুলো সামাল দিন। উম্মতের ঐক্য অটুট রাখতে সহায়তা করুন। আমি বেরলভি, শিয়া, দেওবন্দি ও অদেওবন্দি সকল ভাইদের বলব, জাকির সাহেব কোন ভুল করলে, তবেই তাঁর সংশোধনের পদক্ষেপ নিন। কিন্তু উম্মতের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করবেন না; তাদের একতায় বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।এই মঞ্চ একতার, এই মঞ্চ শান্তির। সত্য ও কল্যাণের প্রতি আহ্বান করার জন্য এই প্লাটফর্ম। এখান থেকে একতা ও ভালোবাসার দাওয়াত দিতে হবে। আমরা উম্মতের মতবিরোধগুলোকে উস্কে দেব না। আমরা অনৈক্য চাই না। আমি দৃঢ় আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ এই মঞ্চ থেকে শান্তির আওয়াজ শুনা যাবে। ‘ওবামা’ও এই মঞ্চ থেকে উপকৃত হবেন, ইউরোপের নেতৃবৃন্দও এই মঞ্চ থেকে উত্থিত আহ্বানে কান পাতবেন। জালেম পাবে জুলুম থেকে বাঁচার প্রেরণা। মজলুম মানুষেরা লাভ করবে সান্ত্বনা। এখান থেকে গোটা পৃথিবীকে কল্যাণের প্রতি আহ্বান করা হবে। সকল মতবিরোধকে পাশ কাটিয়ে আমরা একতার বন্ধনে আবদ্ধ হব। আল্লাহ তাআলা এই কনফারেন্স ও এই চ্যানেলকে কবুল করুন। আমরা বেশি বেশি আত্মসমালোচনা করব। হকপন্থী আলেম ও ইসলামের সকল প্রতিনিধিদের ভালোবাসব। আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভালোবাসার এই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার তৌফিক দিন। আমাদের হৃদয় থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ইত্যাদি বের করে দিন। -শ্রুতিলিখন ও অনুবাদঃ হাবীবুল্লাহ।
(সূত্রঃ ইউটিউব লিঙ্ক- https://www.youtube.com/watch?v=5AvZxl9AI0k&feature=share)

ডা জাকির নায়েক সম্পর্কে ভারতের প্রখ্যাত দাঈ মাওলানা কালিম সিদ্দিকী (দা.বা.)-এর মত তাঁর এক সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত করছি। 
মাওলানা ওমর নাসেহীঃ প্রচার মাধ্যম, যেমনঃ টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করাটা কেমন? বর্তমানে ডাক্তার জাকির নায়েক পিস টিভির মাধ্যমে যে কাজ করছেন এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
মাওলানা কালিম সিদ্দিকীঃ আমি প্রচার মাধ্যমগুলোকে তাবলীগেরই মাধ্যম মনে করি। মনে করি, পৃথিবীর প্রতিটি কাঁচাপাকা ঘরে ইসলাম পৌঁছে দেয়ার জন্যে এই প্রচার মাধ্যমগুলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই একটি ব্যবস্থা। এগুলো ব্যবহার করার মতো সুযোগ যাদের আছে তাদের উচিত এ সুযোগকে কাজে লাগানো। ডাক্তার জাকির নায়েক এবং তাঁর পদ্ধতিতে যারা দাওয়াতের কাজ করছেন আমি তাঁদেরকে মর্যাদার সাথেই দেখি। তবে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী আলেমদের কথা হল- ডাক্তার জাকির নায়েক ও তাঁদের মতো দায়ীদের কাজ হল কেবল দাওয়াতের মধ্যেই নিজেদেরকে নিমগ্ন ও সীমাবদ্ধ রাখা। মাসলাক ও ফিকহী গবেষণা থেকে বিরত থাকাই তাঁদের জন্য সঙ্গত। অধম এ বিষয়ে তাঁদের সাথে একমত। আমি স্বীকার করছি, ডাক্তার জাকির নায়েকের দ্বারা কোন ফায়দা হচ্ছে না, এমনটা বলা সঙ্গত নয়। আমি বিভিন্ন জায়গায় এমন অনেক অমুসলিমকে পেয়েছি যারা পিস টিভি দেখে প্রভাবিত হয়েছে। তারপর ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করতে শুরু করেছে। তাদের কেউ কেউ অন্য কোন মাধ্যমে গিয়ে মুসলমান হয়েছে। সুতরাং বৈধতার ভেতরে থেকে প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করাটাকে আমি সমর্থন করি। বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলাম সম্পর্কে প্রচারিত যেসব ভুল ধারণা রয়েছে যেমন- ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে, ইসলামে বহু বিবাহ ইত্যাদি এসব প্রচার মাধ্যমকেই কাজে লাগিয়ে দূর করা সম্ভব। যারা এক্ষেত্রে কাজ করছেন তাঁদের কাজের ইতিবাচক ফলাফলকে মূল্য দেওয়া উচিত। যদি সেখানে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোন মন্দ দিক প্রমানিত হয় তখন সেটা আন্তরিকতার সাথে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দূর করতে চেষ্টা করা উচিত। 
(সূত্রঃ দায়ী-এ ইসলাম হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.-এর আত্মজীবনীমূলক সাক্ষাৎকার, লেখক-মাওলানা ওমর নাসেহী, অনুবাদক-মুফতি যুবায়ের আহমদ। পৃষ্ঠা- ৫৬-৫৭; মাসিক আরমুগান, মে ও জুন ২০১০ইং, )

তাঁর সম্পর্কে বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলেমে দীন, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, সুলেখক ও সুবক্তা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন লিখেন- ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ইন্টারনেট, ও ব্লগে ডা জাকির নায়েকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর লেখালেখি শুরু হয়েছে; প্রকাশিত হয়েছে অনেক পুস্তিকা। পক্ষের লোকেরা বলছেন তিনি ‘মুজাদ্দিদ’, ‘মুজতাহিদ’ এবং বিপক্ষের লোকেরা বলছেন তিনি ‘খ্রিস্টানদের এজেন্ট’ ও ‘পথভ্রষ্ট’। আমাদের বিবেচনায় দু’টো মতই চরম্পন্থা ও তিনি মুজাদ্দিদ বা মুজতাহিদও নন এবং খ্রিস্টানদের এজেন্ট বা পথভ্রষ্টও নন। অপর দিকে তিনি মুফতীও নন এবং ফকীহও নন। তিনি মূলত ম্যাডিকেল সার্জন, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক ও দাঈ ইলাল্লাহ। যার যা প্রাপ্য তা তাকে দিতে কার্পণ্য করা উচিৎ নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যিনি ইসলামের পক্ষে কাজ করবেন, তিনি আমাদের ভাই এবং দীনের পক্ষের শক্তি। তাঁর কোন ত্রুটি বা ভুল থাকলে আমরা শালীন ভাষায় ও যুক্তিনির্ভর পন্থায় তা চিহ্নিত করবো; যাতে তিনি সংশোধনের সুযোগ লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত না হন।’ (সূত্রঃ আত্-তাওহীদ, মার্চ ২০১২) 
গত ১৩/৭/১৬ইং তারিখের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ওচিন্তাবিদ ড. এ বি এম হিজবুল্লাহ লিখেছেন- ‘ডাঃ জাকির নয়েক সম্পর্কেও রয়েছে নানা মত। যেহেতু তিনি আলেম বা মুফতী নন সেহেতু তিনি মাসআলা মাসাইলের ক্ষেত্রে কোন ফাতওয়া বা সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে তিনি যেটা করতে পারেন সেটা তিনি যার দ্বারা প্রভাবিত শাইখ আহমাদ দীদাতের পথ অনুসরণ করতে পারেন। তাকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, আমি মুফতী নই। এগুলো মুফতী সাহেবদের নিকট জিজ্ঞাসা করুন।
জী, এটা যেমন ঠিক অনুরূপ এ কথাও মানতে হবে তিনি একজন মেধাবী ও ক্ষুরধার তেজস্বী বক্তা। তুলনামূলক ধর্মতত্বে তিনি অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অনুরূপ সন্ত্রাসের বিরূদ্ধে তিনি সোচ্চার। ৯/১১ হামলার পর যখন সারা বিশ্বে মুসলমানদের বিরূদ্ধে হৈচৈ শুরু হয় তখন তিনিই বজ্রকন্ঠে সব অভিযোগ খন্ডন করে ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই প্রমাণ করেছিলেন। এটাকে শত্রু মিত্র কেউই অস্বীকরা করতে পারবে বলে মনে হয় না। 
তিনি মাযহাব অস্বীকার করেন না। পাশাপাশি তিনি নির্দিষ্ট কোন মাযহাবকেও অনুসরণ করেন না। সালাফী আমল ও আকীদায় বিশ্বাসী। তবে শিরক, বিদআত ও শীয়া মতবাদের সাথে কোন আপোষ করবেন না বলে আলাপ চারিতায় জানিয়েছেন।’ 

ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ডা. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ব্লগ, পেজ ও বইয়ে লেখালেখি হয়েছে। সেসবের কিছু আমি যাচাই করে দেখেছি। তাতে বেশ কিছু ভুল উদ্ধৃতি, খণ্ডিত উদ্ধৃতি বা উদ্ধৃতিহীন মন্তব্য লক্ষ্য করেছি। উক্তি ও মন্তব্যের ক্ষেত্রে সমালোচনা বা পর্যালোচনা করার জন্য সঠিক ও যথার্থ উদ্ধৃতি থাকা অপরিহার্য। ডা. জাকির তাঁর অনেক বক্তব্যে বলেছেন আমি একজন ছাত্র। তাই আমার ভুল হতেই পারে। কেউ যদি কুরআন ও হাদিস দিয়ে আমাকে আমার ভুল শুধরে দেন, তাহলে আমি তা সাথে সাথে মেনে নেব। তাই আমাদের ভিন্নমত বা সমালোচনা করতে হলে তা গঠনমূলক হতে হবে, হিংসাত্মক বা আক্রমণাত্মক নয়। মার্জিত ও শালীন ভাষায় হতে হবে, বালখিল্য ও স্থুল আলোচনা কিংবা কূটতর্ক নয়; সঠিক তথ্য-উপাত্তভিত্তিক আলোচনা হতে হবে। আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন। 
.
লিখেছেন : Sayeed Hossain

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০১৬

ডাঃ জাকির নায়েক পিস টিভি ও ফেরকায়ে আহলে হাদীস প্রসঙ্গ

মাওলানা  মুহাম্মাদ মামুনুল হক সাহেব
ইদানিং পিস টিভি বাংলায় আমার বক্তব্য সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে কিছু ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে ৷ অনেক শুভানুধ্যায়ীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমার কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছে ৷ কোনো কোনো অতিউৎসাহী আগ বাড়িয়ে আবার বিভ্রান্তিকর কিছু কথাও প্রচার করছেন ৷ এমন প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি-
ডাঃ জাকির নায়েক সম্পর্কে অতি বাড়াবাড়ি এবং অতি ছাড়াছাড়ি প্রান্তিক দুই ধরনের বক্তব্যেরই বিরোধী আমি ৷ ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা অবলম্বন করাকেই আমার পছন্দ ৷ সুতরাং ডাঃ জাকির নায়েককে আসমানে তুলে নাচানাচি করাকে যেমন বাড়াবাড়ি মনে করি ৷ আবার তাকে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের দালাল সাব্যস্ত করাকেও আমি বৈধ মনে করি না ৷ এ বিষয়ে আল্লামা তাকী উসমানী ও দারুল উলুম করাচির বক্তব্যই আমার বক্তব্য ৷ 
আল্লামা তাকী উসমানী স্বাক্ষরিত দারুল উলূম করাচীর এক ফতোয়ায় ডাঃ জাকির নায়েককে তুলনামূলক ধর্মতত্বের বিষয়ে একজন দক্ষ স্কলার হিসাবে যেমন স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, তেমনি আবার চার ইমামের অনুসৃত মাযহাব বিষয়ে তার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে এবং মাসআলাগত বিষয়ে তার কথার অগ্রহনযোগ্যতার রায়ও দেয়া হয়েছে ৷

আমিও মনে করি,
ডাঃ জাকির নায়েক অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বিষয়ে একজন দক্ষ ব্যক্তি ৷ তবে যেহেতু তিনি কোনো আলেম বা মুফতী নন তাই ফতোয়া দেয়ার অধিকার তার নেই ৷ তাছাড়া মাযহাব বিষয়ে তার বক্তব্যও সঠিক নয় ৷ 
সালাফিয়াতের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তিনি নিজে আমল করতে পারেন তাতে আপত্তি করি না, কিন্তু মাসআলা বয়ান না করে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে ক্ষান্ত থাকলে ইসলামের অধিকতর ফায়দা হবে বলে মনে করি ৷

নদওয়াতুল উলামা লখনৌর রেক্টর মাওলানা সালমান নদভী জাকির নায়েক সাহেবকে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করার প্রেক্ষিতে শুনেছি নায়েক সাহেবও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন ৷ সেই প্রেক্ষাপট থেকেই ২০১৪ সালে তিনি সব মত ও পথের ওলামাদের পিস টিভিতে প্রোগ্রাম করার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ওলামায়ে দেওবন্দের উল্লেখযোগ্য অনেককেই দাওয়াত করেছিলেন ৷ সেই মোতাবেক আমাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় ৷ আমি কিছু প্রোগ্রাম করতে সম্মত হই এবং ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে দুই সপ্তাহের সফরে দুবাই গিয়ে কিছু বক্তব্য রেকর্ড করাই ৷
দুবাই সফরে আমরাও জাকির নায়েক সাহেবকে মাসআলার আলোচনা পরিহার করে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় নিজেকে সীমিত রাখার দাওয়াত দেই ৷ তিনিও তা সাদরে গ্রহন করেন এবং অনেক আন্তরিকতার পরিচয় দেন ৷
আমরা ইসলামের দাওয়াত ও ইসলামী রাজনীতির ময়দানে কাজ করি ৷ সেই হিসাবে দায়িত্ব মনে করে এই দাওয়াত পৌছিয়েছি ৷ জাকির নায়েক সাহেবের বক্তব্যগুলো আমি শুনতে পারি না ৷ তবে যারা শুনে থাকেন তাদের কারো কারো কাছ থেকে জানতে পেরেছি, অনেক ক্ষেত্রেই নাকি ডাঃ সাহেব নিজে আলেম নন এমন কথা বলে ফতোয়া দেয়াকে এড়িয়ে যান ৷ যদি বাস্তবেই এমনটা হয়ে থাকে তবে তো তা খুবই ভালো কথা ৷ তা ছাড়া পিস টিভিকেও তিনি শুধু আহলে হাদীসদের মুখপাত্র রাখতে চান না মর্মে আমাদের কাছে তথ্য আছে ৷
এই ধরনের ইতিবাচক একটি সুযোগকে কাজে লাগানোর দাওয়াতী মিশন নিয়েই আমি পিস টিভিতে কিছু প্রোগ্রাম করেছিলাম ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ৷ ২০১৪ সালের পর আবার আমাকে দাওয়াত করা হয় পিস টিভির পক্ষ থেকে ৷ কিন্তু আমি আগের বারের দাওয়াতী মিশনের ফলাফল না জেনে দ্বিতীয় বার সেখানে অংশগ্রহণ করা মুনাসিব মনে করি নি ৷ 
এখন আমার কথা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি চার ইমামের কোনো এক জনেরও তাকলীদ না করে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও হারামাইনের সালাফী উলামাদের তাকলীদ করে, তাকে আমি গোমরাহ মনে করি না ৷ তবে কেউ যদি মাযহাব অনুসরণের বিরুদ্ধাচারণ করে তবে এটাকে আমি স্পষ্ট গোমরাহী মনে করি ৷

অপর দিকে এমন কিছু কথাও কানে আসছে যে, আহলে হাদীস অনুসারী কোনো কোনো ভাই তাদের চিন্তাধারার স্বপক্ষে আমার নামও প্রচার করছেন ৷ কিংবা আমার অনুষ্ঠান প্রচারের সুবাদে পিস টিভির সকল প্রোগ্রামে আমার সমর্থন আছে মর্মে দাবি করেন ৷ এই বিষয়ে আমার বক্তব্য আমি পরিষ্কার করছি,
আমি একজন পাক্কা হানাফী দেওবন্দী মুসলমান ৷ পিস টিভিতে আমি গিয়েছিলাম আমাদের দাওয়াতী মিশনের অংশ হিসাবে ৷ সুতরাং আমার নিজস্ব বক্তব্য ছাড়া পিস টিভিতে প্রচারিত অন্য কোনো বক্তব্যের দায়িত্ব আমার নয় ৷ 
কেউ যদি আমার নামে এমন কিছু প্রচার করে তবে তা খণ্ডন করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি এবং এ ব্যপারে আমি স্বোচ্চার আছি আলহামদুলিল্লাহ ৷
সেইসাথে হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ কিংবা ফিরকায়ে আহলে হাদীসের অযাচিত অভিযোগ খণ্ডনের প্রয়োজনে যদি কোথাও আমার উপস্থিতি প্রয়োজন মনে করা হয় তবে সেই প্রোগ্রামকে আমি প্রাধান্য দিব এবং মাযহাব ও তাকলীদের অপরিহার্যতার উপর আমার বক্তব্য তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ ৷

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

কথিত আহলে হাদিস থেকে ফিরে আসা জনৈক ব্যক্তির চেপে রাখা ক্ষোভের বিস্ফোরণ

কথিত আহলে হাদিস থেকে ফিরে আসা জনৈক ব্যক্তির চেপে রাখা ক্ষোভের বিস্ফোরণ :
~
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
কথিত আহলে হাদিস থেকে ফিরে আসা জনৈক ব্যক্তি বলতে লাগলেন, আমি জানতাম আমরা হানাফী মাজহাবেরই অনুসারী। বেশ ওই পর্যন্তই। এর বেশী কিছু নয়। হানাফী মাজহাব কী, তা আমাদের নিকট ভাল করে জানা ছিলনা।
~
আজ থেকে দশ বছর আগে একটি পুস্তক পড়লাম। পড়ে আমি খুব মুগ্ধ হলাম। তাতে লিখা ছিল রাসুলের কোনো মাজহাব ছিলনা, সাহাবাগন কোনো মাজহাব অনুসরণ করেন নি। রাসুল ছাড়া আর কারো তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না । যেখানে কুরআন ও সহীহ হাদিস মওজুদ আছে সেখানে আবার মাজহাব তাজহাব মানতে হবে কেন ?
~
মাজহাব নাকি ধর্মকে খন্ডবিখন্ডিত করে ফেলেছে । আমি মনে মনে ভেবে দেখলাম কথাগুলো তো বাস্তব সত্য। এমন অবাক করার মতো তথ্যগুলো তো আগে কখনো শুনি নাই! মাজহাব নিয়ে মানুষ পড়ে আছে কেন ! সেটাই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল।
~
এক সময় মনে মনে আমি নিজেকে লামাজহাবী ভাবতে শুরু করলাম। ইহার পর ফেইসবুকে মতিউর রহমান মাদানী, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, আমানুল্লাহ মাদানী, আকারামুজ্জামান, মুরাদ বিন আমজাদ, মুজাফ্ফর বিন মহসিন প্রমুখের চ্যালেঞ্জিং বক্তব্যগুলো শুনে আমি আরও আশাবাদী হলাম।
এক সময় আমি আমার প্রিয় শায়খদের বক্তব্যগুলোকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে লাগলাম, সেই সাথে আমার অন্তরে এমন এক ধারনার সৃষ্টি হলো যে, আমরা সালাফী তথা আহলে হাদিসরা ব্যতীত বাকীরা সবাই বিদআতী ও বাতিল ফিরকা। আমরাই শুধুমাত্র হকপন্থী, বাকী সব বিদআতী। তাদের জন্য অনেক আফসোস করতাম ।
~
গত বছর থেকে ফেইসবুকে ভিন্ন টাইপের কিছু নতুন হুজুরের আবির্ভাব হতে দেখে চমকে উঠলাম। সেই সাথে কিছু ব্লাগারেরও সন্ধান পেলাম। আমাদের বিখ্যাত শায়খদের প্রদত্ত বক্তব্যগুলোকে তারা খন্ডন করে পাল্টা বক্তব্য দিতে থাকলেন।
আমি উভয় পক্ষের বক্তব্যগুলোকে নিরপেক্ষভাবে একত্র করে হিসাব মিলাতে থাকলাম।
আমি বুঝতে সক্ষম হলাম যে, ইবাদতের মধ্যে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে শায়খরা বিষোদগার করে যাচ্ছেন এগুলো কোনো মৌলিক বিষয় নয়।
১২থেকে ১৩ শত বছর পূর্বে মাজহাবের ইমামগণ সাংঘর্ষিক তথা ইখতেলাফী হাদিস থেকে মাসআলা বের করে যেসব বিষয়ে সমাধান দিয়ে গেছেন, আমাদের শায়খরা সেইগুলো নিয়েই নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। অথচ এগুলো নিয়ে আগে কেউ কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করেননি।
~
আমি আরো লক্ষ করলাম যে, ইদানীংকাল শায়েখগণ নিজেরাই দিশেহারা হয়ে আত্মঘাতী বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।

রমজানের বাইরে তাদের নিকট বিতির নামাজ এক রাকাত সহীহ থাকে, কিন্তু রমজান আসলে এক রাকাত বিতির নামাজের বদলে সংগে সংগে তিন রাকাত সহীহ হয়ে যায়!

ঈদের নামাজ তাদের কারো নিকট ১২ তাকবীর সহীহ অাবার কারো কারো নিকট ৬ তাকবীর আর ১২ তাকবীর উভয়ই সহীহ। কিন্তু তারা আমল করছেন ১২ তাকবীরের উপর ।

এছাড়া বুকের উপর হাত বাঁধা, রাফউল ইয়াদাইন করা আর না করা, আমিন জোরে বা আস্তে বলা এসব বিষয়ে বাহ্যত বিরোধপূর্ণ হাদিস থাকা সত্বেও শায়খরা হানাফীদের বিপরীত হাদিসগুলোর উপর জোর দিয়ে চরম ফিতনার জন্ম দিয়ে চলেছেন। অথচ এগুলো নামাজের মূখ্য বিষয় নয়।
~
শুধু তাই নয়, মির্জা গালিব ও মুজাফ্ফর বিন মহসিন সাহেবের কিতাব সমূহে ইদানীং তাদের জালিয়াতি ও মিথ্যাচার সম্পর্কীত যেসব তথ্য এখন পাওয়া যাচ্ছে তা তো রীতিমত গা শিহরে উঠার মতো কাজ । শায়েখ হয়ে এহেন গর্হিত কর্ম তাদের দ্বারা সংগঠিত হলো তা ভাবতেও অবাক লাগে ।
~
আমি দেখেছি শায়েখদের প্ররোচনায় আহলে হাদিসের অনুসারীরা বলে থাকেন রাসুল (সা) ছাড়া আর কারো তাকলীদ করা যাবেনা।
অথচ তারাই আবার শায়খ আলবানী, জাকির নায়েক, মতিউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, মুজাফ্ফর বিন মহসিন উনাদের কথার বাইরে একচুলও নড়েননা ।
~
তারা বলেন, মাজহাব মানা যাবেনা । অথচ তারাই উপরোক্ত শায়েখদের মতামত (মাজহাব)-কে নিজেদের আদর্শ বানিয়ে নিয়েছেন।
~
তারা আরো বলেন, মাজহাবের মাধ্যমে নাকি ইসলামকে খন্ড বিখন্ড করা হয়েছে। অথচ তারা নিজেরাই দলে দলে বিভক্ত।
~
তারা আরো বলেন, তাদের পরিচয় শুধুমাত্র মুসলিম। অথচ তারাই আহলে হাদিস, সালাফী, মুওয়াহহীদ বা মুহাম্মদী সহ ১৬৮ দলে বিভক্ত।
~
লামাজহাবীগণ মাজহাবীদেরকে বিদাতী বলে ক্ষান্ত হয়নি। অঅথচ নিজেরাই ইদানীংকাল নিজেদেরকে বিদাতী, কাফের ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে আলোড়ন সৃস্টি করে চলেছেন।
~
তারা আরো বলেন, সাহাবাদের সময়ে কোনো মাজহাব ছিলনা। তাহলে মাজহাব মানতে হবে কেন?
কিন্তু উনাদের এ যুক্তি দ্বারা আমার মনে হল, সাহাবাদের যুগে তো বুখারী, মুসলিম, সহীহ হাদিস, জয়ীফ হাদিস, আহলে হাদিস এসমস্ত কিছুই ছিলনা। তাহলে এসব মানতে হবে কেন ??
~
আমি আরো লক্ষ্য করলাম, কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে আক্বিদাগত কিছু মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু ইবাদত নিয়ে আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র দ্বন্দ্ব ছিলনা। ইবাদত তথা নামাজ ছিল আমাদের ঐক্যের প্রতীক। আগে আমরা শান্তি মনে নামাজ পড়তাম, সেই নামাজের মধ্যে ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে তুলেধরে আহলে হাদিসেরা এক চরম ফিতনার সৃস্টি করে গোটা মুসলিম উম্মাকে খন্ডবিখন্ডিত করার প্রয়াস পাচ্ছে।
~
দেশের ৮০% মুসলিমের মধ্যে ২০% মুসলিমও নামাজ পড়েনা, বেনামাজিদেরকে নামাজি বানাবার কোনো মিশন আহলে হাদিস-সালফীদের নিকট নেই।
কিন্তু যারা নামাজ পড়েন তাদেরকে নিয়েই তারা টানাহ্যাঁচড়া শুরু করেন এবং তাদের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা করেন।
আল্লাহই একমাত্র হিদায়াত দাতা।
লেখক, প্রিন্সিপাল।

হযরত ফাতেমা (রা)-কে স্বপ্ন যোগে জড়িয়ে ধরা প্রসংগে এক আহলে হাদিস নেতার দাজ্জালী মন্তব্যের পোস্টমর্টেম

বিদয়াতি রেজভিদের চেয়েও ভ্রষ্ট আহলে হাদিস দাবিদার আধুনিক বিদয়াতিদের মিথ্যাচারের নমুনা কোনো অংশে কম না। আল্লামা থানভী (রহ)-এর নামে আহলে হাদিস নেতা মুরাদ বিন আমজাদের দাজ্জালী মন্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন—
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
মুহতারম, ইদানিং কথিত আহলে হাদীসরা এবং আহলে বিদআতরা একটা বিষয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্লগ, ওয়েব সাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন— ফেসবুক ইত্যাদিতে ঢালাও ভাবে প্রচার করছে। তাহল, হাকীমুল উম্মাত মুজাদ্দিদুল-মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এর নামে। হযরতের “মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত” এর অষ্টম খণ্ডের, ৩৭ পৃষ্ঠার রেফারেন্স দিয়ে।
তাদের প্রচারিত পোস্টগুলোর একটি কপি করে তুলে ধরছিঃ আশরাফ আলী থানভি বলেনঃ ”আমি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলাম এবং মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পরেছিলাম। আমি স্বপ্নে ফাতেমাহ (রাঃ)- কে দেখলাম এবং তিনি দু’বাহু দিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, আমি ভাল হয়ে গেলাম” (নাউজুবিল্লাহ)।
[ মালফুযাত হাকিম আল-উম্মাহ ৮ম খন্ড; পৃষ্ঠা নং ৩৭]।
স্বপ্ন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইসলামী নির্দেশনাঃ
স্বপ্ন মুলত তিন প্রকারঃ১/ ভালো স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার নিকট হতে সুসংবাদ সরূপ ২/ আরেক প্রকার স্বপ্ন হল শয়তানের নিকট হতে মু’মিনের জন্য দুশ্চিন্তাস্বরূপ ৩/ আরেক প্রকার স্বপ্ন হল মানুষের মনের চিন্তা ভাবনা (সে যা চিন্তা করে তা-ই স্বপ্নে দেখে) তিরমিযি ২২৭০”। এই হলো ওদের বিভিন্ন পোস্টের একটি পোস্ট। এ ব্যাপারটা যদি খুলাসা করতেন, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম। জাযাকাল্লাহু খাইরান ফিদ দারাইন।
প্রশ্নকর্তা- শামীম হানাফী।
আমাদের জবাব —
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উপরোক্ত বক্তব্যটি মূলত কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞ কিংবা জ্ঞানপাপী মুরাদ বিন আমজাদ সাহেবের লিখিত “সহীহ আকিদার মানদন্ডে বেহেশতি জেওর ১ম খন্ড থেকে নেয়া হয়েছে। আমরা প্রথমে মুরাদ বিন আমজাদ সাহেবের জাহালাতপূর্ণ বক্তব্যের পূর্ণ অংশটি দেখে নেই-একদা থানবী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলাম এবং মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে ছিলাম। আমি স্বপ্নে ফাতিমা রাঃ [রাসূল সাঃ এর কন্যা] কে দেখলাম এবং তিনি দু’বাহু দিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, আমি ভাল হয়ে গেলাম।
{মালফুযাতে হাকীমল উম্মত-৮ম খন্ড,পৃঃ ৩৭ গৃহীত}
সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা! লক্ষ্য করেছেন, নাবীর কন্যার সঙ্গে এ কেমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ থানবীর। যার মর্যাদার আয়াত আয়াতে তাতহীর অর্থাৎ পবিত্রকরণের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ায় তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে।হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”। {সুরাহ আল আহযাব-৩৩}
উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাঃ বলেন, আমি রাসূল সাঃ কে দেখলাম, তিনি আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন রাঃ কে ডাকলেন এবং তাদের মাথার উপর একখানা কাপড় ফেলে দিলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরা আমার পরিবারের সদস্য। তাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করুন।
{মুখতাসার তাফসীরে ইবনু কাসীর-৩/৯৪ গৃহীত, আসহাবে রাসূল জীবন কথা-৬/৭০ পৃষ্ঠা]
যিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা আহলুল জান্নাহ তার সম্পর্কে এ জাতীয় গুস্তাকিপূর্ণ কথা ঈমানের ত্রুটির বহিঃপ্রকাশ বৈকি? যে ফাতিমাহ তাঁ মৃত্যুর পূর্বে অসীয়ত করেছেন, আমার দাফন যেন রাত্রের বেলা হয় [আল ইতীআব-৪/৩৬৭ গৃহীত প্রাগুক্ত ৬/৭৯]
যিনি মৃত্যুর পরেও পর্দার ক্ষেত্রে এত সচেতন, তাঁর মৃত্যুর ১৪শত বৎসর পর বেগানা পুরুষ থানভীকে বাহুর সঙ্গে জড়িয়ে ধরেছেন, বলাটা কতটা বেআদবী এবং ঈমানের মুনাফী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
[মুরাদ বিন আমজাদ কৃত সহীহ আকিদার মানদন্ডে বেহেশতী জেওর ১ম খন্ড-১১৮-১১৯]
আমাদের বক্তব্য রুচিতে বাঁধছিল, তবু জাহালাতের ফিরিস্তি তুলে ধরতে মুরাদ বিন আমজাদ নামক কাজ্জাবের বক্তব্যটি হুবহু তুলে দিলাম।
এবার খেয়াল করুন। মুরাদ বিন আমজাদ হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর স্বপ ্ননিয়ে কতটি ধোঁকাবাজীর আশ্রয় নিয়েছে।
১-
স্বপ্ন বাস্তবতার মতই। বাস্তবে করলে যে হুকুম স্বপ্নে কোন কিছু দেখলে একই হুকুম।
২-
স্বপ্নে বেগানা কাউকে দেখা বাস্তবে দেখার হুকুমে।
৩-
পর্দানশীন নারীকে স্বপ্নের ঘোরে পর্দাহীন অবস্থায় দেখা উক্ত নারী পর্দাহীন হয়েছেন মর্মে প্রমাণিত হয়। মুরাদ বিন আমজাদ সাহেবের জাহিলী ব্যাখ্যা থেকে আমরা উপরোক্ত তিনটি বক্তব্য পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি। তার বক্তব্য মতে থানবী রহঃ স্বপ্নে যেহেতু ফাতিমা রাঃ কে বেগানা ব্যক্তির কাছে আসা দেখেছেন তাই আসলেই হযরত ফাতিমা রাঃ বেগানা পুরুষের কাছে এসেছেন। [নাউজুবিল্লাহ] সেই সাথে বাস্তবে কেউ এমন কাজ করলে যেমন উক্ত ব্যক্তি লানত ও শাস্তির উপযুক্ত, তেমনি স্বপ্নে দেখার কারণেও একই হুকুম আরোপিত হবে। কেননা, স্বপ্ন আর জাগ্রত অবস্থার একই হুকুম। সেই সাথে পর্দা ছাড়া কোন নারী স্বপ্ন দেখা মানে উক্ত নারী আসলেই পর্দাহীন দাবিকরার মত। আমি কুরআন ও হাদীসের কথা বলছি না। একজন বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি মুরাদ বিন আমজাদের উপরোক্ত তিনটি দাবিকে কি সাপোর্ট করতে পারবেন?
মাথা বিকৃত পাগল ছাড়া স্বপ্নকে কেউ বাস্তবতার হুকুম দিতে পারে?
এরকম উন্মাদ ব্যক্তি নাকি আবার কথিত আহলে হাদীসদের শায়েখ! আফসোস এ পথভ্রষ্ট জামাতের জন্য। যাদের শায়েখের পর্যন্ত সামান্য বিবেক বুদ্ধি নেই। পাগলের প্রলাপই যাদের মুখের বুলি। মুরাদ বিন আমজাদ সাহেবের কাছে আমরা দু’টি স্বপ্ন ও তাবীর পেশ করছি-
১বেশ কিছু তারীখ গ্রন্থে এসেছে, এক রাতে বাদশা হারুনুর রশীদের স্ত্রী জুবাইদা স্বপ্নে দেখেন যে, অনেক লোক লাইন ধরে এসে এসে তার সাথে সহবাস করছে। এ স্বপ্ন দেখে তিনি খুবই পেরেশান হয়ে যান। স্বপ্ন বিশারদরা এর তাবীর করে বলেন, এটি কোন খারাপ স্বপ্ন নয়, এর ব্যাখ্যা হল, জুবাইদা এর মাধ্যমে এমন উপকারী একটি কাজ প্রকাশিত হবে, যার দ্বারা অসংখ্য মানুষ উপকৃত হবে। বাস্তবেও তাই হল তিনি নহরে জুবাইদা খনন করান। যার মাধ্যমে অনেক এলাকার মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। হজ্ব করতে আসা হাজীরা এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। {রাসাউল আখয়ার-৫১}
আল্লাহর হাজার শুকরিয়া! মুরাদ বিন আমজাদের মত কোন জাহিল সেই জমানায় ছিল না। যদি থাকতো তাহলে জুবাইদাকে জিনাকারী সাব্যস্ত করে সঙ্গেসার করে মৃত্যুর আদেশ দিয়ে বসতো তাই নয় কি?
আরো ভয়ংকর একটি স্বপ্নের কথা বলি-
২-
রাসূল সাঃ এর চাচি উম্মুল ফজল বিনতুল হারেস রাঃ এক স্বপ্ন দেখলেন। তারপর তিনি হুজুর সাঃ এর দরবারে এসে বললেন-হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে আমি একটি খুবই খারাপস্বপ্ন দেখেছি। রাসূল সাঃ বললেন-তুমি কি দেখেছো? বল। তিনি বললেন-এটা খুবই শক্ত সন্দিহান স্বপ্ন। রাসূল সাঃ বললেন-বলনা শুনি কী দেখেছো? হযরত উম্মুল ফজল বললেন-আমি দেখেছি যে, আপনার শরীর থেকে এক খন্ড গোস্ত কেটে আমার কোলে এসে পড়েছে। তখন রাসূল সাঃ বললেন-তুমি অনেক সুন্দর স্বপ্ন দেখেছো। এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল- আমার মেয়ের [ফাতিমা রাঃ] ঘরে যে বাচ্চা হবে সে তোমার কোলে খেলবে। তো হযরত হুসাইন রাঃ জন্ম নিলেন। আর তিনি আমার কোলে খেলেছেন, যেমনটি রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন। {মেশকাতুল মাসাবিহ-২/৫৭২}
আল্লাহর হাজার শুকরিয়া মুরাদ বিন আমজাদের মত কোন জাহিল রাসূল সাঃ এর জমানায় ছিলনা। থাকলে হয়তো তার মতই ফাতওয়া দিত, উম্মে ফজল! তুমিতো গুস্তাখে রাসূল! কারণ তুমি রাসূল সাঃ এর শরীরের অঙ্গ কেটে ফেলেছো!!
কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা ইংরেজদের জমানার পর জন্ম নিয়েছি। তাই ইংরেজ সৃষ্ট এ কথিত আহলে হাদীসদের ষড়যন্ত্র আর ধোঁকাবাজীর খপ্পরে পড়ছি। স্বপ্ন যা কেবল স্বপ্নই। সেটাকে বাস্তবতা বা জাগ্রত অবস্থার সাথে কোন আহমকও মিলায় না। কিন্তু কথিত শায়েখ এ মুরাদ বিন আমজাদ তা বাস্তবতার হুকুম আরোপ করে কি হাস্যকরভাবে কুরআন আর হাদীসের দলীল দিয়ে হযরত ফাতিমা রাঃ এর পবিত্রতা বর্ণনা করল।
হযরত ফাতিমা রাঃ এর পবিত্রতা কে অস্বিকার করে?
যে অস্বিকার করবে সেতো কাফির। এতে কার সন্দেহ আছে?
কিন্তু স্বপ্ন নিয়ে এমন জালিয়াতী বক্তব্য প্রদানকারী কোন ব্যক্তিকে ইংরেজদের আসার আগে পৃথিবী আর দেখেছে কি না আমাদের জানা নেই।
এবার স্বপ্ন সম্পর্কে ইসলামী শরীয়ত এবং শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণ কি বলে তা দেখে নিই-
এটি একটি স্বপ্ন ছিল। আর স্বপ্ন ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা হয়। স্বপ্নে মুখ থেকে যা বের হয় শরীয়তে এর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। স্বপ্নের কোন বিষয় শরয়ী দলিল নয়। স্বপ্নে কোন কিছু হলে সেটার মাধ্যমে কোন কিছু প্রমাণিত হয় না। এমনকি কেউ যদি ঘুমের মাঝে কুফরী কালাম বলে তাহলে সে কাফের হয়ে যায় না। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর শরয়ী হুকুমই আরোপিত হয় না।
যেমন-عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قالرفع القلمعن ثلاثة عن النائم حتى يستيقظ وعن الصغير حتى يكبر وعن المجنون حتى يعقل
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তিন ব্যক্তি থেকে [হিসাব-নিকাশের] কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে, ১-ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ২-না বালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয়, ৩-পাগল ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে সুস্থ্য হয়।
{তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৩০২৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৪০৫, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৪২৩, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৭৩, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৯৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৪২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১০০৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯৪০}।
عن أبي قتادة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم :ليس في النوم تفريطإنما التفريط في اليقظة
হযরত কাতাদা রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-ঘুমন্ত অবস্থার কোন ভুল হলে এতে কোন গোনাহ নেই, তবে সজাগ অবস্থায় হলে গোনাহ হবে।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৫৯৪,সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯৮৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৪৬০, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৯০২, সুনানে সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৭৩৭, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৫৮৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৯৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৭৭, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৪, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-২১০১, মুসনাদে ইবনুল জিদ, হাদীস নং-৩০৭৫}।
এ সকল বর্ণনা দ্বারা ফুক্বাহায়ে কিরাম এ উসূল ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যে, ঘুমন্ত অবস্থায় যে কোন ধরণের কাজই কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাই কেউ মুসলমান হোক, বা কেউ নাউজুবিল্লাহ মুরদাত হয়ে যাক। চাই কেউ বিবাহ করে নিক, বা কেউ তালাক দিয়ে দেক।
তাইতো আল্লামা মুহাম্মদ আমীন বিন ওমর আশ শামী রহঃ লিখেছেন- ﻭﻟﺬﺍ ﻻ ﻳﺘﺼﻒ ﺑﺼﺪﻕ ﺃﻭ ﻛﺬﺏ ﻭﻻ ﺧﺒﺮ ﻭﻻ ﺇﻧﺸﺎﺀ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﺮ : ﻭﺗﺒﻄﻞ ﻋﺒﺎﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻭﺍﻟﺮﺩﺓ ﻭﺍﻟﻄﻼﻕ ، ﻭﻟﻢ ﺗﻮﺻﻒ ﺑﺨﺒﺮ ﻭﺇﻧﺸﺎﺀ ﻭﺻﺪﻕ ﻭﻛﺬﺏ ﻛﺄﻟﺤﺎﻥ ﺍﻟﻄﻴﻮﺭ
অনুবাদ-আর এ কারণে ঘুমন্ত ব্যক্তির কথা, সত্য, মিথ্যা, সংবাদ, চুক্তি সম্পদান, ইত্যাদি গুণে গুনান্বিত হবে না। আর তাহরীরুল উসূলে রয়েছে যে, ঘুমন্ত ব্যক্তির কথা, যেমন ইসলাম গ্রহণ, অথবা মুরতাদ হয়ে যাওয়া, স্ত্রীকে তালাক দেয়া, ইত্যাদি সবই নিরর্থক হবে। না এসবকে সংবাদ বলা যাবে। না ইনশা, না সত্য, না মিথ্যা। এসবই পাখির আওয়াজের মতই বেকার সাব্যস্ত হবে। {ফাতওয়ায়ে শামী-২/৮৫৫, তালাক অধ্যায়, বেহুশ ব্যক্তির তালাক পরিচ্ছেদ, মিশরী ছাপা}
এর পর আরো লেখেন- ﻭﻣﺜﻠﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻠﻮﻳﺢ ، ﻓﻬﺬﺍ ﺻﺮﻳﺢ ﻓﻲ ﺃﻥ ﻛﻼﻡ ﺍﻟﻨﺎﺋﻢ ﻻ ﻳﺴﻤﻰ ﻛﻼﻣﺎ ﻟﻐﺔ ﻭﻻ ﺷﺮﻋﺎ ﺑﻤﻨﺰﻟﺔ ﺍﻟﻤﻬﻤﻞ
অনুবাদ-আর এমনিভাবে তালওয়ীহ এ আছে যে, এসব ইবারত দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, ঘুমন্ত অবস্থার কথা না শাব্দিকভাবে কোন অর্থ আছে, না শরয়ীভাবে কোন গ্রহণযোগ্যতা আছে। {প্রাগুক্ত}
শায়েখ ইবনে তাইমিয়া স্বপ্নের ব্যাপারে লিখেন- ﻭﺍﻟﺮﺅﻳﺎ ﺍﻟﻤﺤﻀﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻻ ﺩﻟﻴﻞ ﻳﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﺘﻬﺎ ﻻ ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﺜﺒﺖ ﺑﻬﺎ ﺷﻴﺊ ﺑﺎﻹﺗﻔﺎﻕ
অনুবাদ-স্বপ্ন, যার সহীহ হওয়ার উপর কোন দলিল নেই। তার দ্বারা কোন কিছু প্রমাণিত হয় না সর্বসম্মত মতানুসারে। {মাজমুআ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-২৭/৩৩৩}
হায় জাহালাত! হায় মুর্খতা! কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে যদি সামান্যতম পড়াশোনা থাকতো এ জাহিল মুরাদ সাহেবের। তাহলে এত বড় মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেআদবীমূলক কথা লেখার আগে অন্তত আখেরাতের ভয়টা আসতো।
কিন্তু আফসোস! ইংরেজ সৃষ্ট দলকে আল্লাহ তাআলা ইলমের নূরকেও হয়তো উঠিয়ে নিয়েছেন। নতুবা এমন জাহিলী বক্তব্য দিয়ে বই কিভাবে রচনা করতে পারে?
মুরাদ বিন আমজাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন:
১ম প্রশ্ন আপনি থানবী রহঃ এর স্বপ্ন নিয়ে যে তিনটি বিষয় সাব্যস্ত করেছেন, তথা- ১ স্বপ্ন বাস্তবতার মতই। বাস্তবে করলে যে হুকুম স্বপ্নে কোন কিছু দেখলে একই হুকুম। ২ স্বপ্নে বেগানা কাউকে দেখা বাস্তবে দেখার হুকুমে। ৩ পর্দানশীন নারীকে স্বপ্নের ঘোরে পর্দাহীন অবস্থায় দেখা উক্ত নারী পর্দাহীন হয়েছেন মর্মে প্রমাণিত হয়।
আপনার এসব দাবির স্বপক্ষে কুরআনের একটি আয়াত পেশ করুন। কিংবা একটি সহীহ হাদীস পেশ করুন। যদি না পারেন, তাহলে সাধারণ মুসলমানদের ধোকা দিয়ে দাজ্জালী করার কারণে প্রকাশ্যে কানে ধরে তওবা করুন।
২য় প্রশ্ন আপনার বক্তব্য মতে যেহেতু স্বপ্নের কাজ জাগ্রত অবস্থায় কাজ করার মতই, তাহলে যাদের স্বপ্নদোষ হয়, তাদেরকে কি আপনি জিনাকারী হবার ফাতওয়া প্রদান করেন কি না?
তাহলে আপনার যতবার স্বপ্নদোষ হয়েছে ততবার আপনি নিজেকে জিনার শাস্তি প্রদান করেননি কেন?
শেষকথা ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীসদের জন্মই হয়েছে উপমহাদেশে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য।
তাই হে মুসলিম সাবধান! যাদের মাধ্যমে দ্বীন পেয়েছেন তাদের ব্যাপারে এ অধুনা জমানার কোন দাজ্জালের কথা শুনেই সন্দেহ সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করবেন না। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আলেমদের শরনাপন্ন হোন। বিষয়টি তাহকীক করুন।
আল্লাহ তাআলা কথিত আহলে হাদীস ফিতনা এবং এসব নব্য জাহিলদের থেকে সাধারণ মুসলমানদের ঈমান ও আমলকে হিফাযত করুন।

কথিত আহলে হাদিস এবং রেজভিদের বাতিল ফেরকা হিসেবে চেনার ঐতিহাসিক সহজ পদ্ধতি

স্বাধারণ ভাবে আহলে হাদিস এবং রেজভী দলকে বাতিল ফেরকা হিসেবে চেনার উপায়!!
.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনের ইতিহাস সবার জানা। সেই ১৭৫৭ ইং থেকে ১৯৪৭ ইং পর্যন্ত এদেশ ছিল বৃটিশের কব্জায় । “ভাগ করো আর শাসন করো” নীতি মেনেই তারা দীর্ঘ ১৯০ বছর সময় পর্যন্ত এদেশ শাসনের নামে শোষণ করে যায়। তাদের সেই অশুভ নীতির বলি হই আমরা মুসলিম সমাজ। তারা মুসলিমের ভেতর আভ্যন্তরিণ কোন্দল বাধিয়ে ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে নানা ভাগে ভাগ করার ভয়ংকর খেলায় নেমেছিল। কাদিয়ানী ফেতনা, বেরেলবী (রেজভী) ফেতনা আর লা-মাযহাবী (আহলে হাদিস / ওহাবী) ফেতনা ইত্যাদি সেসব অশুভ ও ভয়ংকর খেলারই ফসল। উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজ আজো কাটিয়ে উঠতে পারছেনা সেই বৃটিশ সৃষ্ট প্রেতাত্মাগুলোর গোঁজামিল থেকে।
.
সম্মানিত সচেতন পাঠকমণ্ডলী! আমি একদিন নিজে নিজে খুব চিন্তাজগতে হারিয়ে গেলাম। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম, ইসলামের নামে এ উপমহাদেশীয় দুটি ফেরকা তথা আহলে হাদিস (ওহাবী) এবং বেরেলবী (রেজভী/ভান্ডারি সুন্নী) এদের অশুভ পদচারণা বর্তমানে খুব বেড়ে গেছে। কিন্তু তাদের উভয়ের দাবি অনুযায়ী উভয় ফেরকাই হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমরা যারা তাদের উক্ত দাবি ভুল মনে করি, নিজেদের বিশুদ্ধ ভাবি; তাদের অবস্থান কতটুকু পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ? নাকি সরিষায় ভূত! !
.
যাইহোক, ভাবতে ভাবতে পেছনে ফিরে গেলাম। হাতে তুলে নিলাম “মুন্সি গোলাম মুর্তজা রচিত “চেপে রাখা ইতিহাস” বইটি। আগে আগে যদিও পড়েছিলাম, কিন্তু এবার আবার বেশি করে তথ্য ঘেটে দেখতে মন চাচ্ছিল।
.
প্রবাদ আছে : “ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা।” সেহিসেবে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম, বেশকিছু অপ্রিয় তথ্যও আবিষ্কার করলাম। যার সারসংক্ষেপ হল,
.
ইয়ামানী যাহিদিয়া শীয়া মতাবলম্বী আব্দুল হক বেনারসি প্রবর্তিত কথিত আহলে হাদিস (ওহাবী)’র মতবাদটি সম্পূর্ণ একটি নতুন দল এবং প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা মীমাংসিত মাসআলায় পুণ:রায় হস্তক্ষেপ করাই এদের মিশন। উদাহরণ স্বরূপ, তারাবী সালাত প্রাচীন কাল থেকে বিশ (২০) রাকাতই চলে আসছিল। পবিত্র হেরেম শরিফ এবং মসজিদুন নাবাবীতেও পূর্ব থেকেই বর্তমান পর্যন্ত বিশ রাকাতই চালু রয়েছে। কিন্তু বাধ সাধল ভ্রষ্ট আহলে হাদিস ফেরকাটি। তারা বিশ রাকাত বাদ দিয়ে চালু করল আট রাকাত।
ইতিহাস আমাদের বলছে, এ উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনের পূর্বে “আহলে হাদিস” নামধারি কোনো দল যেমন ছিলনা, তেমনি তারাবী সালাত বিশ রাকাত বাদ দিয়ে আট রাকাত পড়ার নতুন নিয়মটিরও কোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়না।
.
তারপর বাকি থাকল, আহমদ রেজাখাঁ বেরলবী (মৃত ১৯২১ ইং) প্রবর্তিত রেজভী দল। যে দলের মতাবলম্বীদের রেজভী /রযবী/রেজাখানী বলে। আমাদের আহলে হক্বের ভাষায় “ভান্ডারি সুন্নী এবং মাজারপূজারি” বলে। তাদের আক্বিদা গুলো নিয়ে ভেবে চিন্তে যা পেলাম তা হল, তাদের বিশ্বাস অনুসারে “রাসূলেপাক (সা) আমাদের মতো মানুষ নন। তিনি নূরের সৃষ্টি। তিনি হাজির এবং নাজিরের ক্ষমতার অধিকারী। তিনি গায়েব জানেন। তাঁর শরীর মুবারকের ছায়া ছিলনা। তাঁর জন্মদিন পালন এবং জন্মদিবসে আনন্দ-মিছিল করা সুন্নত এবং আশেকে রাসূল ও নবীপ্রেমিক হওয়ার আলামত।” (নাউযুবিল্লাহ)।
.
কিন্তু আমি ইতিহাসে ফিরে গেলাম। তন্নতন্ন করে এসবের কোনো অস্তিত্ব ইতিপূর্বে ছিল কিনা তা আবিষ্কার করতে লাগলাম। কিন্তু না, ইতিহাস আমাকে পথভ্রষ্ট করল না। ইতিহাস আমাকে সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে বুঝিয়ে দিল যে, প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালনের নতুন এ সিষ্টেম বিগত ৬০৪ হিজরীর পূর্বে ছিলনা। মিলাদুন্নবীর মজলিসে কিয়াম প্রথার নতুন এ প্রচলনও গত ৭০০ হিজরীর আগে দুনিয়ার কোথাও ছিলনা।
.
খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রায় ৫৭৪ বছর পর, সাহাবাদের যুগের প্রায় ৪৯৪ বছর পর, তাবেঈনদের যুগের ৪৩৪ বছর পর, তাবে তাবেঈনদের যুগের ৩৮৪ বছর পর, ইমামে আযম আবু হানিফা রহঃ এর যুগের ৪৫৪ বছর পর, ইমাম শাফেয়ীর যুগের ৪০০ বছর পর, ইমাম মালেক এর যুগের ৪৩৫ বছর পর, ইমাম আহমদ এর যুগের ৩৬৩ বছর পর, ইমাম বুখারীর যুগের ৩৪৮ বছর পর, ইমাম মুসলিম এর ৩৪৩ বছর পর, ইমাম আবু দাউদ এর ৩২৯ বছর পর, ইমাম নাসায়ী এর ৩০১ বছর পর, ইমাম তিরমিযী এর ৩২৫ বছর পর, ইমাম ইবনে মাজা এর ২৯৫ বছর পর ৬০৪ হিজরী মুতাবিক ১২০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলিত মিলাদুন্নবী উদযাপন করার প্রথাটির আবিস্কার হয়।
.
আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) লিখেছেন :
ﻗﺎﻝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﺴﻴﻮﻃﻲ ﺭﺡ ﺍﻭﻝ ﻣﻦ ﺍﺣﺪﺙ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺍﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺯﻳﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺍﺣﺪ ﻣﻠﻮﻙ ﺍﻻﻣﺠﺎﺩ .
.
অর্থাৎ সর্বপ্রথম এ মিলাদী আমলের মনগড়া প্রচলন করেন ইবনে মুজাফফর আবু সাঈদ বিন যাইনুদ্দীন বিন আলী। যিনি একজন বড় বাদশাহ ছিলেন।” (সুয়ুতি রচিত ‘আমালুল মাওলিদ’)।
.
তারপর আরো অবগত হলাম যে, হাজির নাজির, এলমে গায়েব আর নবীজির ছায়া মোবারক অস্বীকার করা সহ সমুদয় ধৃষ্টতা রেজভীগুরু আহমদ রেজাখানের জন্মের (১৮৫৬ ইং) আগে কোথাও কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের বয়ান বা লিখনী থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়না।
.
তবে রেজভিদের কেউ কেউ প্রমাণ থাকার দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে তাদের সেই দাবি সঠিক নয়। জনৈক ভান্ডারি সুন্নি ভাই এ নিয়ে আমার সাথে যখন তর্কে লিপ্ত হল, তখন আমি তার নিকট তার দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট মুহাক্কিক আলেমদের মূল কিতাব থেকে সরাসরি মূল ইবারত (উদ্ধৃতি) চেয়ে ছিলাম। কিন্তু সে যে গায়েব হয়ে গেল, তাকে আর কক্ষনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
.
পরিশেষে আমি বুঝলাম যে, মূলত ভ্রষ্ট আহলে হাদিস এবং মুর্তাদ কাদিয়ানী ও বিদয়াতি রেজভী ফেরকাগুলোর উৎপত্তির পেছনে রয়েছে একটি করুণ ইতিহাস, উপমহাদেশী মুসলিম সমাজের জন্য হৃদয়বিদারক একটি অধ্যায়। যার নেপথ্য ছিল, মুসলিম একতায় ফাটল ধরিয়ে দেয়া এবং ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
.
সম্প্রতি তাদের একটি ফেরকা সহিহ হাদিসের চটকদার মোড়কে স্বাধারণ মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করছে, অপর বিদয়াতি ফেরকাটি তথাকথিত এশকে রাসূলের মোড়কে অজ্ঞ মানুষদের গোমরাহ বানিয়ে ছাড়ছে। সুস্থ্যমস্তিষ্কের বিচারে বুঝলাম যে, যাদের আক্বিদা ও আমলের কোনো দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে তথা বৃটিশ শাসনের আগে ছিলনা, কিন্তু বর্তমানে মানুষকে তা গ্রহণ করতে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে ; সেগুলো মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র আর একশত ভাগ মধুর বোতলে বিষ গলদকরণ করানো ছাড়া আর কিছু না।
.
আমি এ মানদণ্ড ব্যাবহার করে স্বাধারণ ভাবে উক্ত দুটি ফেরকা সম্পর্কে বুঝতে পারলাম যে, অপ্রিয় হলেও সত্য কথা, সেগুলো বৃটিশেরই সৃষ্ট। আমাদের মুসলিম সমাজকে সমূলে নাস্তানাবুদ করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র।
এককথায় আমাদের সবাইকে আরো বুঝে নিতে হবে যে, আহলে হাদিস আর মাজারপূজারি, পীরপূজারী রেজভীরা হচ্ছে “মাকাল” ফল। যা বাহিরে খুব চকচক করলেও ভেতরটি ভারি মন্দ। আল্লাহ তায়ালার হাজারো শুকরিয়া যে, এভাবে আমি এখানো পর্যন্ত হলফ করে বলতে পারি যে, আমি একজন একনিষ্ঠ মুকাল্লিদ এবং হানাফি মাযহাবের মতানুসারে দ্বীন পালনকারী মুসলিম হতে পেরে গর্বিত। আমি মোটেও বিচলিত নই, বরং অবিচল। আল্লাহ তায়ালা আমাকে মুমিনদের পথ অনুসরণ করার তাওফিক দিয়েছেন। আমীন।
.
লেখক, প্রিন্সিপাল।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মাযহাব ও তাকলীদ বিষয়ক লেখা ও ভিডিও লিংকসমূহ


মাযহাব কি ও কেন?
নবী একজন কিন্তু মাযহাব চারটি কেন? একটি চমৎকার কথোপথন
বিচার বিশ্লেষণ করে একেক সময় একেক মাযহাব মানতে সমস্যা কোথায়?
চার মাযহাব একসাথে সঠিক কিভাবে হয়?
হযরত ঈসা আঃ এবং ইমাম মাহদী কোন মাযহাবের অনুসারী হবেন?
মাযহাব মেনে আমীন জোরে বললে ফেতনা হয় না কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ হয়ে আমীন জোরে বললে ফেতনা হয় কেন?
মাযহাব বিষয়ক কয়েকটি বহুল প্রচলিত ওয়াসওয়াসার জবাব
এক মাযহাব মানা মানে কি শুধু এক ব্যক্তিকে মানা?
ওয়াসওয়াসাঃ কুরআন ও হাদীস দ্বারা দ্বীন পূর্ণ হবার পর আবার ফিক্বহ ও ফক্বীহ মানতে হয় কেন?
১০
ফিকহে হানাফীঃ কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সূত্রবদ্ধ শরয়ী বিধানের সংকলিত রূপ
১১
ফিক্বহে হানাফীর ইমাম আবু হানীফা রহঃ পর্যন্ত কোন সনদ নেই তাই তা গ্রহণযোগ্য নয়?
১২
ওয়াসওয়াসাঃ আমরা কোন হানাফী হবো? দেওবন্দী না বেরেলবী?
১৩
ওয়াসওয়াসাঃ কুরআন ও হাদীস থেকে ইমাম আবূ হানীফা রহঃ কে অনুসরণের দলীল দিন
১৪
তাকলীদের হাকীকতঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা [পর্ব-১]
তাকলীদের হাকীকতঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা [পর্ব-২]
তাকলীদের হাকীকতঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা [শেষ পর্ব]
১৫
চার খলীফার তাকলীদ রেখে চার ইমামের তাকলীদ কেন?
১৬
একটি মাযহাব মানা ও অন্য মাযহাবের দলীল শক্তিশালী মনে হলে মানা যাবে না কেন?
১৭
প্রসঙ্গ মতিউর রহমান মাদানীর “মাযহাব পরিচিতি” লেকচারঃ ফিক্বহে হানাফীর সনদ বিষয়ে মিথ্যাচার
১৮
প্রসঙ্গ মতিউর রহমান মাদানীর “মাযহাব পরিচিতি” লেকচারের পোষ্টমর্টেম-২
১৯
আরব আলেমদের দৃষ্টিতে মাযহাব এবং ফিতনাবাজদের মুখোশ উন্মোচন
২০
চার মাযহাবে বিভক্ত হওয়া এবং মাযহাব মানার কথা কোথায় আছে?
২১
মাযহাব বিষয়ক ১০টি উদ্ভট প্রশ্নের ইলযামী জবাব
২২
হানাফী মাযহাব কি হানীফা নামের একটি মেয়ের দিকে নিসবত করা মাযহাব?
২৩
মাযহাব বিষয়ে মুজাফফর বিন মুহসিন সাহেবের অজ্ঞতাসূচক বক্তব্যের পোষ্টমর্টেম
২৪
ভারতবর্ষে লা-মাযহাবী তথা কথিত আহলে হাদীসদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
২৫
মাযহাব মানার কি কোন ভিত্তি নেই?
২৬
ওয়াসওয়াসাঃ চার ইমামের চার মাযহাবের কারণে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে এজন্য চার ইমামকেই ছেড়ে দিতে হবে একতা রক্ষার জন্য”
২৭
চার মাযহাবের উপর ইজমা হওয়ার প্রমাণ এবং নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা?
২৮
মাযহাব ও তাকলীদ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ দ্বীন মানা অসম্ভব
২৯
প্রসঙ্গ কিরাত খালফাল ইমাম ও মাযহাবের হাকীকত
৩০
হানাফী মাযহাবের প্রতিটি মাসআলা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
৩১
বর্তমানের লা-মাযহাবী দল হাদীসের ভাষ্যমতে খারেজী সম্প্রদায়!
৩২
হানাফী মাযহাব নবীজী সাঃ এর জমানা থেকেই ছিল!
৩৩
মাযহাবের ইমামগণ মাসআলা বানাননি বরং দেখিয়েছেন
৩৪
উলামায়ে দেওবন্দ ও মাযহাব তাকলীদ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের প্রতি প্রকাশ্য আলোচনার আহবান!
আরো ভিডিও এবং লেখা আসছে ইনশাআল্লাহ।