ইবাদাত সংক্রান্ত বিষয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইবাদাত সংক্রান্ত বিষয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯

শবেবরাত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত মুফতি আব্দুল মালেক সাহেব


শবেবরাত এবং এই রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই রাসুল সা. ও সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগ থেকে অদ্যবধি এ রাতে বিশেষভাবে নফল ইবাদত ধারাবাহিকতার সাথে চলে আসছে।
ইদানিং এক শ্রেণির লোক বাংলায় হাদীস পড়া ছাড়া যাদের কুরআন-হাদীসের আবশ্যিক কোনো জ্ঞান নেই। তারা নিজেদের অতিগবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সুপ্রমাণিত বিষয়গুলোকে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
তারা বলছে শবে বরাতের হাদীসগুলো সহীহ নয়, এ রাতে ইবাদত করা বিদআত, ইত্যাদি।
অথচ শবেবরাত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরও বিদআত বলাটা হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। আর জেনে এমনটি বলে থাকলে রাসূল সাঃ এর হাদীস অস্বিকারের মতো মারাত্মক অপরাধে অপরাধী সে ব্যক্তি। রাসূল সাঃ এর হাদীসের প্রতি বিদ্বেষী হওয়া ছাড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এ ফযীলতপূর্ণ রাতকে কেউ অস্বিকার করতে পারে না।

নিম্নে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হল-

عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها . فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا . فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا من مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر )
হযরত আলী বিন আবু তালীব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন-কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। {সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২, }

عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب
অনুবাদ-হযরত আয়শা রাঃ বলেন-এক রাতে রাসূল সাঃ কে না পেয়ে খুজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনারত কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন-কি ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?] হযরত আয়শা রাঃ বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাঃ তখন বললেন-যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯}

عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن
অনুবাদ-হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪}
বিষয়টি তাদের ঘরানা এককজন আলেমের বক্তব্য দিয়েি প্রমান করছি।
গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম শায়েখ আলবানী রহঃ তার সিলসিলাতুস সাহিহাহর ৩ নং খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় বলেন। “এই হাদিসটি সহীহ” এটি সাহাবাদের এক জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্রে যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে। তাদের মাঝে রয়েছেন # মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ # আবু সা’লাবা রাঃ # আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ # আবু মুসা আশয়ারী রাঃ # আবু হুরায়রা রাঃ # আবু বকর সিদ্দীক রাঃ # আউফ বিন মালিক রাঃ # আয়েশা রাঃ প্রমুখ সাহাবাগণ।

উপরে বর্ণিত সবক’টি বর্ণনাকারীর হাদিস তিনি তার কিতাবে আনার মাধ্যমে সুদীর্ঘ আলোচনার পর শেষে তিনি বলেন-

و جملة القول أن الحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب و الصحة تثبت بأقل منها
عددا ما دامت سالمة من الضعف الشديد كما هو الشأن في هذا الحديث
অর্থাৎ সারকথা হলো, এই যে, নিশ্চয় এই হাদিসটি এই সকল সূত্র পরম্পরা দ্বারা সহীহ, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর সহীহ হওয়া এর থেকে কম সংখ্যক বর্ণনার দ্বারাও প্রমাণিত হয়ে যায়, যতক্ষণ না মারাত্মক কোন দুর্বলতামুক্ত থাকে, যেমন এই হাদিসটি হয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝা এবং আমল করার তাোফীক দান করুন।

শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮

শবে বরাতে ইবাদত করা মুস্তাহাব



💝 ফিকহে শাফেয়ী: ইমাম শাফেয়ী রহ: এর মতে শাবানের ১৫ তারিখ রাতে অধিক দোয়া কবুল হয়ে থাকে ৷ (কিতাবুল উম্ম, খন্ড— ১ম, পৃ: ২৩১) 

💝ফিকহে হাম্বলী: ইবনে মুফলী হাম্বলী রহ:, আল্লামা মনসুর আল বাহুতী, ইবনে রজর হাম্বলী প্রমুখ হাম্বলী উলামায়ে কিরাম এর মতে শবে বরাতে ইবাদত করা মুস্তাহাব ৷ (আল মাবদা, খন্ড— ২, পৃ: ২৭, কাশফুল কিনা, খন্ড— ১, পৃ: ৪৪৫)

💝ফিকহে মালেকী: ইবনে হজ্ব মালেকী রহ: বলেন সালফে সালেহীনগন এই রাতকে যথেষ্ট সম্মান করতেন এবং এর জন্য পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিতেন ৷ (আল মাদখল, খন্ড— ১ম, পৃ: ২৯২)

💝ফিকহে হানাফী: আল্লামা শামী, ইবনে নুজাইম, আল্লামা শরমবুলালী, শাইখ আবদুল হক দেহলভী, মাওলানা আবদুল হক লাখনভী, মুফতী মুহাম্মাদ শফী, মুফতী ত্বাকী উসমানীসহ উলামায়ে হানাফিয়্যা এর মতমত হল, শবে বরাতে শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী জাগ্রত থেকে একাকীভাবে ইবাদত করা মুস্তাহাব ৷ তবে এর জন্য জামাতবদ্ধ হওয়া যাবে না ৷ (আদ— দুররুল মুখতার , খন্ড— ২, পৃ: ২৫)

💝ইবনে তাইমিয়ার অভিমত: লা— মাযহাবী ও খালাফী সম্প্রদায়ের অন্যতম ইমাম আব্দুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তাইমিয়া বলেন: ১৫ই শাবানের রাতের ফযিলত সম্পর্কে একাধিক মারফূ হাদীস ও আছারে সাহাবা বর্ণিত রয়েছে ৷ এগুলো দ্বারা এ রাতের ফযিলত ও মর্যাদা প্রমাণিত হয় ৷ সালফে সালেহীনদের কেউ কেউ এ রাতে শফল নামাযের ব্যপারে যত্নবান হতেন ৷ আর শাবানের ব্যপারে তো সহীহ হাদীসসমূহই রয়েছে ৷ (ইকতিযাউস সিরাতুল মুস্তাকিম, খন্ড— ২, পৃ:— ৬৩১)

বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৮

রমাদান হোক কুরআনের।


রমাদান হোক কুরআনের। রমাদান হোক ইবাদতের। 
ভেঁপু বাজিয়ে রমাদানের আগমনী বার্তা ঘোষণা করছেন। 
মিসরের শরয়ী কাযি সাহেব। 
১৯৩৪ সাল। 
আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রমাদান।

চার মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা।







মালেকী মাযহাবেরটা পাইনি। খুঁজছি। পেলে দিয়ে দেব। ইনশাআল্লাহ। 
এটা আমার নিজের জন্যে। হয়তো অন্য কারো কাজে লাগবে। 
.
কিতাগুলোর নাম নজরের সামনে থাকলে, অনেক সময় চিন্তা করতে সুবিধা হয়। হাতের কাছে রাখার তাকিদ থাকে। 
.
মাযহাব মূলত দুইটা। 
১: হানাফী 
২: শাফেয়ী। 
অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, বাকী দুই মাযহাবের প্রায় সব মাসয়ালাই উপরের দুই মাযহাবের সাথে মিলে যায়। মালেকীদের বেশির ভাগ মাসয়ালা হানাফী মাযহাবের সাথে মিলে। কিছু শাফেয়ীদের সাথে মেলে। হাম্বলীদের বেশির ভাগ মাসয়ালা শাফেয়ী মাযহাবের সাথে মিলে। 
.
মালেকী বিশেষ করে হাম্বলী মাযহাবের যেসব মাসয়ালা উপরের দুই মাযহাবের কোনও মাযহাবের সাথে মেলে না, সেসব মাসয়ালা ‘তাফাককুহ’-এর মাণদণ্ডে পুরোপুরি উত্তীর্ণ নয়। সরাসরি কোনও হাদীসের তরজমা। 
.
শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.--এর মতে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. আসলে মুহাদ্দিস। তিনি ফকীহ নন। কারণ দেখা যায়, কোনও কোনও মাসয়ালায়, ইমাম আহমদ রহ.-এর তিন চারটা কখনো আরও বেশি মতামত। তিনি আসলেই মুহাদ্দিস। যখন যে হাদীস পেয়েছেন, সেটার উপর ভিত্তি করেই মাসয়ালা দিয়েছেন। 
.
বর্তমানে বিশ্বে কোনও মুসলমানই, মাসয়ালার দিক থেকে, এই চার মাযহাবের বাইরে নেই। হয় হানাফী না হয় শাফেয়ী। হয় হাম্বলী না হয় মালেকী। যে যত স্বাধীনভাবেই ইসলাম মানুক, ঘুরে ফিরে এই চার মাযহাব থেকেই মাসয়ালা নিতে হবে। নিতে হয়। এর বাইরে নতুন কোনও মত সৃষ্টি করা অসম্ভব

বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭

মীলাদুন্নবী কি ও তা পালন করা কি......?

Emran Hossain Adib 

নবী করীম (সা:) এর জন্মমুহূর্তকে "মীলাদুন্নবী" বলে। বর্তমানে 'মীলাদুন্নবী' বলতে নবী (সা:)এর জন্মদিনকে বিশেষ ফযীলতের আশায় বিশেষ
পদ্ধতিতে উদযাপন করাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। এর সাথে 'ঈদ' শব্দটি যোগকরে ইসলাম স্বীকৃত মুসলমানদের দু'টি ধর্মীয় 'ঈদ' অনুষ্ঠানের সাথে তৃতীয় আরেকটি 'ঈদ' সংযুক্ত করা হয়েছে। ইসলামে যার কোন ভিত্তি নেই। ইহা স্পষ্ট একটি বিদ'আত। কেননা রাসুল (সা:) তাঁর জীবদ্দশায় কখনোই নিজের জন্মবার্ষিকী পালন করেননি। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ চার সাথী, সংকট মুহূর্তের সংগি দু'জন শ্বশুর ও দু'জন জামাতা,জীবনের চেয়ে যারা নবী করীম (সা:) কে বেশী ভালবাসতেন, সেই মহান চার খলীফা দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর খেলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁহারা কখনোই রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় নবী(সা:)এর উদ্দেশ্যে 'মীলাদ' মাহফিল করেননি। ছাহাবায়ে কেরামের পরে তাবেঈনে উযামের কেউই তা পালন করেননি। এমনকি চার ইমামের যামানাতেও এর কোন প্রচলন ছিল না। অতএব এটা ইবাদতের নামে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে। আর এরূপ নবাবিষ্কৃত বস্তুকেই বিদ'আত বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন -
أن اصدق الحديث كتاب الله و أحسن الهدى هدى محمد وشر الأمور محدثاتها و كل محدثة بدعة و كل بدعة ضلالة و كل ضلالة في النار 
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হল আল্লাহর কিতার, আর সর্বোত্তম হিদায়াত হল মুহাম্মাদ (সা:) এর হিদায়াত। আর সর্বনিকৃষ্ট কাজ হল (শরী'আতের মধ্যে) নব আবিষ্কার। আর প্রত্যেক নব আবিষ্কারই বিদ'আত এবং প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহি। আর প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণামই জাহান্নাম

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

আল কোরআনের চ্যালেঞ্জ ১ম পর্ব


যদি পৃথিবীর সমস্ত মানবকুল ও জ্বীন জাতি একত্রে মিলিয়াও চেষ্টাকরে তবুও কোরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হবে না। এমন চ্যালেঞ্জ কোরআনের [১৭-৮৮] আয়াত এবং আরও কিছু আয়াত দ্বারা করা হয়েছে। 
নাস্তিক, অবিশ্বাসী হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান তথা সমস্ত ইসলাম বিদ্দেশীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণ করার। গ্রহণ করুন একটি গ্রন্থই তো মাত্র। এবং দেখুন কি ভাবে তা রচনা করা সম্ভব তার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো । কোরআনের অনুরূপ গ্রন্থ রচনা করতে হলে একটি মাত্র নিয়ম অনুসরন করতে হবে আর সেটি হলো ১৯ সংখ্যা। দেখুন এই ১৯ সংখ্যাটি কি। নাস্তিক ও অমুসলিম ভাইগণ একটু সময় নিয়ে পাঠ করুন এবং নোট করুন কি ভাবে কোরআন রচনা করা সম্ভব।
যারা কোরআন সম্পর্কে প্রশ্ন করে তাদের জন্য প্রথমেই একটি অতিগুরুত্বপুর্ণ তথ্য। আর সেটি হলো পবিত্র কোরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক মাহাত্ম্য। 
আল-কোরআনে এক অত্যাশ্চার্য সংখ্যাতাত্ত্বিক জটিল জাল পাতারয়েছে যা অতি অভিনব এবং অতিশয় বিস্ময়কর। এটি ১৯ সংখ্যার সুদৃঢ় বুনন। এ সম্পর্কে রায় দিয়েছে সর্বাধুনিক কম্পিউটার। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বে পড়েছে এক বিপুল সাড়া। চুড়ান্ত বিশুদ্ধতায় অত্যান্ত নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত এসেছে আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে আরব ম্রুর এক অক্ষরজ্ঞানহীন উম্মীর উপর অবতীর্ণ কোরআন সম্পর্কে। প্রকাশ পেয়েছে এক বিস্ময়কর ফলাফল – সমস্ত পৃথিবীর মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে পৃথিবীর সমস্ত বয়স জুড়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যেত অনুরূপ একখানি গ্রন্থরচনার উদ্দেশ্যে, তবু তা চিরদিন থেকে যেত সম্ভাব্যতার সীমানা থেকে অনেক বাইরে। কোরআনে যে সব নিয়ম – কানুন-শৃংখলা মানা হয়েছে ,১৯ সংখ্যার জটিল জালকে যেভাবে এটে দেয়া হয়েছে এর মধ্যে-তেমনিভাবে সমশব্দে সম বাক্য সংখ্যায় সমানসংখ্যক অক্ষরে একটি অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের গ্রন্থ রচনার জন্য প্রয়োজন পড়ত ৬.২৬x১০২৬ বছর। তাও আবার একটি মানুষ যদি এইটুকু পরিমাণগত কাজ [ volumetric work ] প্রতিমাসে একটি করে করার ক্ষমতা রাখেন, তার জন্য এই পরিমাপ। 
কত এর মান উল্লিখিত সেপটিলিয়ন সংখ্যাটির? এর পরিমাপ ভাষায় প্রকাশ করা সুকঠিন এবং তা অনুধাবনের অনেক বাইরে। সখ্যাগতভাবে এর প্রকাশ ৬২৬.০০০.০০০.০০০. ০০০.০০০.০০০.০০০.০০০ [ ৬২৬ পর ২৪টি শূন্য ] পাঠকদের নিশ্চয় জানা আছে পৃথিবীর বয়স কত? তা মাত্র ৪৫০.০০০০০০০[৪৫০ কোটি বছর ] জনসংখ্যার হিসাবে পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতি শীর্ষতম। আমরা যদি আজকের দুনিয়ার ৫০০ কোটি মানুষকে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুরূপ একখানি গ্রন্থ লেখার কাজে নিয়োজিত বলে ধরে নেই , তবে উক্ত কম্পিউটার লব্দ ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, মানুষ জাতির এই মহাসম্মিলন প্রসূত কাজের অগ্রগতির মাত্রা মান হবে ৪৫০.০০০০০০০ x ৫০০. ০০০০০০০=২২৫ x ১০
কর্ম-বছর যা সেপটিলিয়ন সংখ্যাটির একশ কোটি ভাগের মাত্র ৩৫ ভাগের সমান; অর্থাৎ পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যার সমান সংখ্যক মানুষ যদি পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে থাকত কোরআনের অনুরূপ কোন গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে তবে ৪৫০ কোটি বছর বয়সে আজকের দিন পর্যন্ত যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে স্ক্ষম হত, তার পরিমাণ হত সমুদয় প্রকল্পটির মোট কাজকে একশ কোটি ভাগ করে তা থেকে মাত্র ৩৫ ভাগ নিলে যতটুকু [ ০০০০০০০৩৫] যা হিমালয়ের পদদেশে ছোট্র একটি নুড়ির মত তুল্য। আর এই প্রকল্পের শর্ত হল এই যে, প্রতিটি মানুষেরই আয়ুষ্কাল ৪৫০ কোটি বছর হওয়া বাঞ্জনীয়।
ভাবাবেগহীন পক্ষপাত দোষমুক্ত ইলেকট্টনিক কম্পিউটার এই রায় ডেকে আনে কোরআনেরই দুটি আয়াতকে তার পাশে। ১৪০০ বছর পূর্বে অবতীর্ণ কোরআনের আয়াতের বক্তব্য এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ লগ্নের যন্ত্র বিচারকের রায় যখন এক হয়ে পড়ে, তখন বিস্ময় জাগে । মনে হয় আজকের কম্পিউটার শুধু এই সত্যই আবিস্কার করেছে যা আল-কোরআনের ভাষায়—
[ হে মোহাম্মদ ] বল, যদি এই কোরআনের অনুরূপ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে মানবকুল ও জ্বীন জাতি সমবেত হয় পরস্পর পরস্পরের সহযোগিতায়, তবু তাহারা উহা সম্ভব করিতে পারিবে না [১৭ঃ ৮৮ ] বল, আমার প্রভুর বাণীসমুহ লিখিবার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবও আমার প্রভুর বাণীসমুহ শেষ হওয়ার পূর্বে সমুদ্র শেষ হইয়া যাইবে , যদিও অনুরূপ আরো অন্যান্য সমুদ্রকে সাহায্যের জন্য আনয়ন করা হয় [১৮ঃ ১০৯]
লেবাননের অধিবাসী ডঃ রশীদ খলিফা মিসরী সর্ব প্রথম এই পরিক্ষাটি সম্পন্ন করেন। কোরআনকে সম্পুর্ণ নির্ভুল্ভাবে “সেট” করেন কম্পিউটারে। তারপর শুরু হয় পরিক্ষা নিরিক্ষা। যারা জনাব ফরিদ উদ্দিন মাসাউদ কর্তৃক অনুদিত আশ্চর্য এই কোরআন পাঠ করেছেন, তারা বিষয়টির সহজ বিবরণ ইতিমধ্যেই অবগত রয়েছেন।
হিন্দু, নাস্তিক, ইহুদী-খৃষ্টান এবং বৌদ্ধ, বিশেষ করে যারা ইসলাম নিয়ে হীনমান্যতায় ভোগেন , প্রতিনীয়তই যারা ইসলামের দোষ খুজে মাথাকুটে মরে তাদের জন্য লক্ষনীয় বিষয় ।
কোরআনের ৭৪ নম্বর সূরার ৩০ নম্বার আয়াতের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। প্রস্তাবিত আয়াতটি হল, আলাইহা তিসআতা আশারা। বাংলা এবং ইংরেজী অনুবাদ্গুলো এর বিভিন্ন অর্থ করেছে। তবে এখানে আমি জ্ঞানী তরজমাকারীগণের সঠিক অর্থটি তুলে দিচ্ছি। ব্যবহৃত আলা শব্দটির মূল ধাতু আলো যার অর্থ হয় সর্বোচ্চ, সবচেয়ে ভাল, উচ্চতা, মহত্ত্ব ইত্যাদি [ topmost, best part, height, greatness, be high, highly situated, be at the summit of ] ইত্যাদি। আলা শব্দের অর্থ হয় তুলে ধরা, উচ্চতর করা, উপর, সম্ভ্রান্ত হওয়া, উচ্চতর হওয়া [ To rise, tower up, greatness, ascend, mount, be highelevated, raise, lift up ] ইত্যাদি অনেক । আবার এই আলা শব্দের অর্থই হতে পারে সবার উপরে [ on top of ]। একই শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত “হা” এর অর্থ হয় জেনে রাখ, ধর, সেখানে ইত্যাদি [ নির্দেশ সূচক সর্বনাম বা Demonstrative pronoun এর পূর্বে ], এবং তৃতীয় পুরুষে [স্ত্রী] এক বচন বাচক শব্দের শেষ অংশে শব্দের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এর ব্যবহার রয়েছে যার অর্থ দাড়ায় অব্যয়সূচক র, এর ইত্যাদি। অতএব, আলাইহা এর অর্থ হতে পারে ইহার/তাহার উপরে, উহার মাহাত্ম্য ইত্যাদি। তিসআতা আশারা এর অর্থ হল ১৯। তা হলে সম্ভাব্য যে কয়টি উপায়ে আয়াতটির অনুবাদ করা যায়, সেগুলো হলঃ-
[ ক ] তাহার/উহার উপর উনিশ [ ১৯ ]
[ খ ] ইহার মাহাত্ম্য [ greatness of ] উনিশ [ ১৯ ]
বর্ণিত অর্থগুলো প্রচলিত ও রীতিভিত্তিক। মজার বিষয় যে কোরআনে কোন কোন স্থানে অত্যান্ত রহস্যঘেরা ব্যাকারণের লংঘন দেখা যায়। এমন একটি লংঘনকে এ ক্ষুদ্র আয়াতের ক্ষেত্রে মেনে নিলে প্রচলিত অর্থসমূহের বাইরে আরো একটি রহস্যময় অর্থ আমাদের সন্মুখে উন্মচিত হয়, তা হল –যেনে রাখ, সবার উপরে উনিশ !
এবার ফিরে চলুন একটু ইতিহাসের দিকে। কোরআন অবতীর্ণ হবার ইতিহাসের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের একটির উপর আলোকপাত করা যেতে পারে। মোট ২৩ বছরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয় আল কোরআন। এ প্রসঙ্গে দলিল রয়েছে কোরআনেই, আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি অল্প অল্প করিয়া [৭৬ঃ ২৩] ২৩ বছরের এই ব্যাপ্তিতে নাযেলকৃত কোরআনে প্রতিক্ষণ যে বিন্যাস বিভাগ ও কাঠামো রচিত হয়েছে , তাতে ১৯ – এর বিবেচনা অত্যান্ত প্রকট। কোরআনের সংরক্ষণের ইতিহাস থেকে এগুলো প্রমাণিত সত্য। সর্বপ্রথম নাযেলকৃত ৫টি আয়াতঃ- 
পড় তোমার প্রভূর নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন [৯৬ঃ ১ ]
যিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন,- যাহা সে জানিত না” [৯৬ঃ ৫ ]
এই সুরার স্থানাঙ্ক শেষ দিক থেকে ১৯তম। এতে আয়াতের সংখ্যাও ১৯। দিতীয় বার স্বর্গীয়দূত জীব্রিল নিয়ে এলেন ৬৮ নম্বর সূরার কতিপয় আয়াত। 
তৃতীয়বার ৭৩ নম্বর সূরার কিছু আয়াত। চতুর্থ বারে ৭৪ নম্বর সূরার ৩০টি আয়াত নিয়ে তিনি হযরত মোহাম্মদ [ সঃ ]- এর নিকট অবতীর্ণ হন। এই ৩০ আয়াতটিই হল একটি ১৯ –এর প্রস্তাব – ইহার উপরে ১৯ “, কিংবা জেনে রাখ সবার উপরে ১৯” কিংবা ইহার মাহাত্ম্য ১৯।
ইসলাম ও পবিত্র কোরআন সম্পর্কে যারা হিনমান্যতায় ভোগে চ্যালেনঞ্জ তাদের প্রতি। 

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলার ছায়া ব্যাতিত যখন কোন ছায়া থাকবে না তখন ৭ শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবে..


১. ন্যায় পরায়ন শাসক/নেতা বা দায়ীত্বশীল
২. যৌবনে ইবাদাতে মশগুল যুবক
৩. মসজিদকে ভালোবাসে যে ব্যক্তি
৪. দু ধরণের ব্যক্তি যারা একে অপরকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে এবং একই কারণে প্রয়োজনে বিচ্ছিন্ন হয়।
৫. সুন্দরী,অভিজাত নারীর গোণাহের প্রস্তাব পাবার পরেও যে ব্যক্তি আল্লাহর কারণে নিজকে দূরে রাখে
৬. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দান করে। 
৭. নীরবে আল্লাহর স্মরণকারী বা যিকিরকারী যে আল্লাহর ভয়ে চোখের অশ্রু ঝরায়।
.
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে এই গুণাবলী অর্জন করার তাউফিক দান করো। আমীন। ( অন্য ভাইদের জানার জন্য আপনি শেয়ার করুন। অনেকেই উপকৃত হতে পারে)


সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭

বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হবে।


বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হবে। নেককার পিতার সন্তানও নেককার হয়ে থাকে সাধারণত। আর সৎ পিতা মারা গেলে, তার সন্তানেরা রিযিকেও কষ্টা পায় না। কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যায়। কুরআন কারীমে মুসা আ. ও খিযিরের ঘটনায় এদিকে ইঙ্গিত আছে। দুই এতিম বালকের রিযিকের ব্যবস্থা করার জন্যে, আল্লাহ তা‘আলা তার দু’জন প্রিয় বান্দাকে অনেকদূর থেকে টেনে এনেছিলেন। খিযির আ. দেয়াল সোজা করে দিয়েছিলেন। যাতে দেয়ালের নিচে থাকা ধনভান্ডার গোপন থাকে। দুই বালক বড় হয়ে কাজে লাগাতে পারে! দুই অখ্যাত বালকের জন্যে কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা? আল্লাহ তা‘আলার বানী থেকেই উত্তরটা জেনে নেয়া যাক:
وَكَانَ أَبُـوهُـمَـا صَالِحاً
তাদের দু’জনের পিতা ছিল নেককার (কাহফ) বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। তবে ব্যতিক্রম ঘটনাও আছে। কোনও কোনও নবীর সন্তানও কাফের ছিল। এটা ব্যতিক্রম। তবে কুরআন কারীমের আয়াতের দিকে লক্ষ্য রাখলে, বাবা সৎ থাকাবস্থায় মারা গেলে, সন্তান রিযিকে কষ্ট পাবে না। এটা নিশ্চিত।


শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

পোশাক নয় তাকওয়া বা পরহেজগারিতা দেখে মানুষকে ভাল-মন্দের সার্টিফিকেট দিন ।


এই লেখাটি পড়ার আগে উপরের ছবি চারটা খেয়াল করুন ৷ 

প্রথম ছবিতে হিজাবের সাথে চোখে চশমা পরা হাস্যোজ্জ্বল যে ভদ্র মেয়েটিকে দেখছেন তিনি একজন খ্রীষ্টান এবং নামকরা পর্নোষ্টার৷ 

দ্বিতীয় ছবিতে দাড়ি পাঞ্জাবি পরা যে ভদ্র লোককে দেখছেন তিনি শিখ সম্প্রদায়ের ধর্ম গুরু রাম রহিম ৷ বর্তমানে দুই ধর্ষণ মামলার রায়ে বিশ বছরের সাজা কাটছেন এবং অভিযোগ ওঠেছে তিনি প্রায় দু হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছেন৷

তৃতীয় ছবিতে মুখে দাড়ি মাথায় টুপি পরা যাকে হাতকড়া লাগিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে তিনি একজন ইহুদী৷ তিন বোনকে ধর্ষণের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷

চতুর্থ ছবিতে অমুসলিমদের উৎসবে সাংবাদিক চুন্নি সাহার পাশে হিজাব পরা দু'জন মেয়ে রঙ মেখে রঙ্গো করছে আর তা দেখে এক মুসলমান দুঃখ করে একটি স্ট্যাটাস দিলো৷

উপরের তিনটি ছবির নিরীখে চতুর্থ ছবির ব্যাপারে এটা স্পষ্ট বলা যায় যে, হিজাব বা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবি দেখে বর্তমানে মুসলমান চেনা যায় না। মুসলমান চিনতে হলে তার আখলাক, তাক্বওয়া ও কর্ম দেখা উচিত ।


রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ইবনি লী বাইতান!


আমার জন্যে একটি ঘর নির্মাণ করুন। কোথায়? জান্নাতে! আবার কোথায়! কথাটা আসিয়া (আ.)-এর। তিনি রাব্বে কারীমের কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন। এটা তো জান্নাতে ঘর নির্মাণের কথা! জান্নাতে আল্লাহ আমাদের জন্যে ঘর নির্মাণ করবেন। এজন্য আমাদের করণীয়? দুনিয়াতে আল্লাহর জন্যে ঘর নির্মাণ করা!
.
মদীনায় এসেই নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমেই একটা মসজিদ নির্মাণ করেছেন। কুবাপল্লীর মসজিদ। বোঝা গেলো, ইসলামি সমাজ গঠনে, মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব অপরিসীম! রাষ্ট্র গঠনের আগে মসজিদ নির্মাণ। 
.
পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সেরা স্থান কোনটি? আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান কোনটি? কুইজের উত্তর একটা হাদীসে আছে:
أَحَبُّ الْبِلاَدِ إِلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا، وَأَبْغَضُ الْبِلاَدِ إِلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا
মসজিদ হলো আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় স্থান। বাজার আল্লাহর সবচেয়ে অপ্রিয় স্থান (মুসলিম)। 
.
আমরা দুনিয়াতে মসজিদ বানালে, প্রতিদানে কী মিলবে? উত্তরটা নবীজির কাছ থেকেই শুনি:
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ، بَنَى اللهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ
আল্লাহর জন্যে মসজিদ বানালে, আল্লাহও তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ ঘর বানাবেন (মুসলিম)। 
.
প্রথম শুনলে মনে হবে, এ-আর এমন কি, জান্নাতে একটা ঘর বানাবেন? আখেরাতে একটা ঘর থাকার কতো যে, গুরুত্ব, সেটা ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। আমার নামায-রোজা কবুল হলো কি না, তার তো নিশ্চয়তা ে নই, কিন্তু একটা মসজিদ নির্মান করলে, জান্নাতে একটা আবাসন নিশ্চিত!
.
প্রশ্ন জাগে, আমি গরীব মানুষ! এত টাকা কোথায় পাবো? সমাধান নবীজি নিজেই দিয়ে গেছেন:
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ، أَوْ أَصْغَرَ، بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
যে পাখির বাসার মতো বা তার চেয়েও ছোট একটা মসজিদ বানালো, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটা ঘর বানাবেন! (ইবনে মাজা)!
-
পাখির বাসার মতো মসজিদও হয়? এমন পিচ্চি মসজিদে নামায কে পড়বে? মানুষ না পাখি? তাহলে বোঝা গেলো, গোটা মসজিদ একাই বানাতে হবে এমন নয়। মসজিদের নির্মাণকাজে ‘টুটাফাটা’ অংশগ্রহণ করলেই হবে। আমি যদি অল্প কিছু টাকা দিয়েও শরীক হই, আমি গোটা মসজিদ নির্মানকাজের ‘প্রতিদান’ পেয়ে যাবো। 
.
এজন্য বড়লোক হওয়ার প্রয়োজন নেই। পথের ফকিরও মসজিদ নির্মাণে শরীক হতে পারে। কয়েকটা টাকার বিনিময়ে, সেও হয়ে যেতে পারে, জান্নাতে বিশাল আলীশান প্রাসাদের সন্তুষ্ট মালিক!
.
পথের ধারে কোথাও নতুন মসজিদ নির্মান হতে দেখলেই, পকেটে হাত দেয়ার অভ্যেস করে ফেলা যায়। হাদীসটা মনে রেখে, আজ থেকেই আমরা জান্নাতে ‘কনস্ট্রাকশন ফার্ম’ খুলে বসতে পারি। একবার দান করবো, নতুন একটা সাইট ওপেন হয়ে যাবে। দুনিয়াতে একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানী দাঁড় করাতে কতো কতো কাঠখড় পোড়াতে হয়! আর জান্নাতে?
= স্রেফ পকেটের সামান্য টাকা ব্যয় করেই, বিলাসবহুল প্রাসাদের মালিক বনে যেতে পারি। রিহ্যাব সদস্য হতে হবে না। এলাকার মাস্তানদের বখশিশ-বখেড়া দিতে হবে না। রাজউক থেকে প্ল্যান পাস করিয়ে নেয়ার ঝামেলা নেই। সয়েল টেস্টের মাথাব্যথা নেই। বায়না-রেজিস্ট্রি-নামজারির ঝক্কি নেই। 
.
আল্লাহর ঘরনির্মাণে শরীক হলাম, সাথে সাথে জান্নাতে একটা ‘অভ্রংলিহ-অভ্রভেদী-হাইরাইজ-আকাশছোঁয়া-গগনচুম্বী’ প্রাসাদের মালিক হয়ে গেলাম!
-

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আমরা হেদায়াত খুঁজি বইয়ের পাতায়! নির্দিষ্ট শায়খের ‘বক্তৃতায়’!


আমরা হেদায়াত খুঁজি বইয়ের পাতায়! নির্দিষ্ট শায়খের ‘বক্তৃতায়’! ফেসবুকের স্ট্যাটাসে! অাল্লাহর কাছেও হয়তো হেদায়াত খুঁজি! কিন্তু বই-বক্তব্য আর স্ট্যাটাসে যেভাবে খুঁজি, সেভাবে কি আল্লাহর কাছে খুঁজি?  কেউ কেউ বলেন, এত দলের মধ্যে সত্যটা খুঁজে পাওয়া দুস্কর! কী করি বলুন তো? আপনি দুই রাকাত সালাত আদায় করে, এই দু‘আখানা নিয়মিত অনবরত পড়তে থাকুন!
.
কিছুদিন যাওয়ার পর:
-কী ভাই! কিছুতো হলো না!
-দু‘আটা পড়ছেন নিয়মিত?
-পড়েছিলাম তো!
-তারমানে এখন পড়েন না!
.
আরেকজন বললো:
-দু‘আ পড়তে বলছেন, পড়বো! কিন্তু আমি জানি:
= ওই ‘চিন্তার’ লোকেরা ভ্রষ্ট!
-যদি জানেন-ই তাহলে দু‘আ চাইলেন কেন?
.
আমি নিশ্চিত, কেউ যদি নিয়মিত দু‘আখানা পড়তে থাকে! তার মধ্যে ভ্রান্তির অবকাশ থাকতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভ্রান্তি বা ভুল চিন্তার নিগড়ে বন্দী করে রাখতে পারেন না। 
.
ইয়া রাব! যেহেতু আপনি আমাদেরকে হেদায়াত দান করেছেন, এরপর আমাদের অন্তরে আর বক্রতা সৃষ্টি করবেন না। একান্তভাবে আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন! নিশ্চয়ই আপনিই অসীম দানশীল! 
আলে ইমরান: ৮


বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৭

আল্লাহ তায়ালার নাম সমূহ


۞ ﺍﻟﻠﻪ ۞ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ۞ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ ۞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ۞ ﺍﻟﻘﺪﻭﺱ ۞ ﺍﻟﺴﻼم ۞ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ۞ ﺍﻟﻤﻬﻴﻤﻦ ۞ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ ۞ ﺍﻟﺠﺒﺎﺭ ۞ ﺍﻟﻤﺘﻜﺒﺮ ۞ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ ۞ ﺍﻟﺒﺎﺭﺉ ۞ ﺍﻟﻤﺼﻮﺭ ۞ ﺍﻟﻐﻔﺎﺭ ۞ ﺍﻟﻘﻬﺎﺭ ۞ ﺍﻟﻮﻫﺎﺏ ۞ ﺍﻟﺮﺯﺍﻕ ۞ ﺍﻟﻔﺘﺎﺡ ۞ ﺍﻟﻌﻠﻴﻢ ۞ ﺍﻟﻘﺎﺑﺾ ۞ ﺍﻟﺒﺎﺳﻂ ۞ ﺍﻟﺨﺎﻓﺾ ۞ ﺍﻟﺮﺍﻓﻊ ۞ ﺍﻟﻤﻌﺰ ۞ ﺍﻟﻤﺬﻝ ۞ ﺍﻟﺴﻤﻴﻊ ۞ﺍﻟﺒﺼﻴﺮ ۞ ﺍﻟﺤﻜﻢ ۞ ﺍﻟﻌﺪﻝ ﺍﻟﻠﻄﻴﻒ ۞ﺍﻟﺨﺒﻴﺮ ۞ ﺍﻟﺤﻠﻴﻢ ۞ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ۞ ﺍﻟﻐﻔﻮﺭ ۞ ﺍﻟﺸﻜﻮﺭ ۞ ﺍﻟﻌﻠﻲ ۞ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ۞ ﺍﻟﺤﻔﻴﻆ ۞ ﺍﻟﻤﻘﻴﺖ ۞ ﺍﻟﺤﺴﻴﺐ ۞ ﺍﻟﺠﻠﻴﻞ ۞ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ۞ ﺍﻟﺮﻗﻴﺐ ۞ ﺍﻟﻤﺠﻴﺐ ۞ ﺍﻟﻮﺍﺳﻊ ۞ ﺍﻟﺤﻜﻴﻢ ۞ ﺍﻟﻮﺩﻭﺩ۞ ﺍﻟﻤﺠﻴﺪ ۞ﺍﻟﺒﺎﻋﺚ ۞ ﺍﻟﺸﻬﻴﺪ ۞ ﺍﻟﺤﻖ ۞ ﺍﻟﻮﻛﻴﻞ ۞ ﺍﻟﻘﻮﻱ ۞ ﺍﻟﻤﺘﻴﻦ ۞ ﺍﻟﻮﻟﻲ ۞ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪ ۞ ﺍﻟﻤﺤﺼﻲ ۞ ﺍﻟﻤﺒﺪﺉ۞ ﺍﻟﻤﻌﻴﺪ ۞ ﺍﻟﻤﺤﻴﻲ ۞ ﺍﻟﻤﻤﻴﺖ ۞ ﺍﻟﺤﻲ ۞ ﺍﻟﻘﻴﻮﻡ ۞ ﺍﻟﻮﺍﺟﺪ ۞ ﺍﻟﻤﺎﺟﺪ ۞ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ۞ ﺍﻷﺣﺪ ۞ ﺍﻟﺼﻤﺪ ۞ ﺍﻟﻘﺎﺩﺭ ۞ ﺍﻟﻤﻘﺘﺪﺭ ۞ ﺍﻟﻤﻘﺪﻡ ۞ ﺍﻟﻤﺆﺧﺮ ۞ ﺍﻷﻭﻝ ۞ ﺍﻵﺧﺮ ۞ ﺍﻟﻈﺎﻫﺮ ۞ ﺍﻟﺒﺎﻃﻦ ۞ ﺍﻟﻮﺍﻟﻲ ﺍﻟﻤﺘﻌﺎﻟﻲ ۞ ﺍﻟﺒﺮ ۞ ﺍﻟﺘﻮﺍﺏ ۞ ﺍﻟﻤﻨﺘﻘﻢ ۞ ﺍﻟﻌﻔﻮ ۞ ﺍﻟﺮﺀﻭﻑ ۞ ﻣﺎﻟﻚ ۞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ۞ ﺫﻭ ۞ ﺍﻟﺠﻼﻝ ۞ ﻭﺍﻹﻛﺮﺍﻡ ۞ ﺍﻟﻤﻘﺴﻂ ۞ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ۞ ﺍﻟﻐﻨﻲ ۞ ﺍﻟﻤﻐﻨﻲ۞ ﺍﻟﻤﺎﻧﻊ ۞ ﺍﻟﻀﺎﺭ ۞ ﺍﻟﻨﺎﻓﻊ ۞ ﺍﻟﻨﻮﺭ ۞ ﺍﻟﻬﺎﺩﻱ ۞ ﺍﻟﺒﺪﻳﻊ ۞ ﺍﻟﺒﺎﻗﻲ ۞ ﺍﻟﻮﺍﺭﺙ ۞ ﺍﻟﺮﺷﻴﺪ ۞ ﺍﻟﺼﺒﻮﺭﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺭﺯﻗﻤﻦ ﻧﺸﺮﻫﺎ ﺍﻟﻔﺮﺩﻭﺳﺊ ﺍﻻﻋﻠﻰ.

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

দোয়া কেন কবুল হয় না?

Mohiuddin Kasemi

প্রথমে বলে রাখা উচিত যে, আল্লাহর কাছে কারো দোয়া কবূল হওয়ার জন্য লোকটি মুমিন হতে হবে- এমন কোনো শর্ত নেই। কোরআন শরীফের একাধিক জায়গায় দেখা যায়, আল্লাহ ইবলীস ও কাফিরের দোয়া কবূল করেছেন তথা তাদের প্রার্থিত কামনা, বাসনা ও চাহিদা পূরণ করেছেন।
কাফির, মুনাফিক, ফাসিক ও খারেজীসহ সকল প্রকারের মানুষের সব দোয়া যেমন আল্লাহ কবূল করেন না, তেমনি খাঁটি মুমিনদেরও। তবে তিক্ত হলেও সত্য হচ্ছে, দুনিয়ার ভোগ-দখল ও সুখবিলাস সম্পর্কিত মুমিনের দোয়াগুলো আল্লাহ খুব কমই কবূল করেন। কারণ, আল্লাহর একটি অলঙ্ঘনীয় সিদ্ধান্ত হলো, যারা দুনিয়াতে যত বেশি সুখবিলাস করবে, আখেরাতে তারা ততবেশি বঞ্চিত হবে। আল্লাহ যেহেতু মুমিনদেরকে আখেরাতের সুখ-সম্মান থেকে বঞ্চিত করতে চান না, তাই তিনি তাদেরকে দুনিয়ার সুখ-সম্মানে ডুবিয়ে রাখতে চান না।
কাফিরদের দোয়া কবূল করে দুনিয়াটাকে দুঃখ-কষ্ট মুক্ত করা যেমন আল্লাহর জন্য কঠিন নয়, তেমনি মুমিনদের দোয়া কবূল করে সারা দুনিয়ায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করে দেওয়াও আল্লাহর জন্য কঠিন নয়। কিন্তু আল্লাহ চান উভয় দলকে দৌড়ের মধ্যে রাখতে। কেউ সুখবিলাসের জাহান্নামমুখী দৌড়ে জীবন শেষ করবে এবং আর কেউ সত্য ও সততার জান্নাতমুখী দৌড়ে জীন শেষ করবে।
আপনি মুমিন। আপনি নির্লোভ ও নিরীহ। আপনার যোগ্যতা ও সততা প্রশ্নাতীত। তাই বলে আল্লাহ আপনার সব দোয়া কবূল তথা আপনার সত্য ও সুন্দর কামনা, বাসনা ও চাহিদাগুলোর সবটিই আপনি চাহিবামাত্র পূরণ করে দিবেন- এমন কোনো গ্যারান্টি আল্লাহ কাউকে দেননি। আপনার কৃত দোয়া কবূল না হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমনঃ
০১. আপনার দোয়া তথা প্রার্থিত বিষয়টির জন্য আপনি অনুপযুক্ত।
০২. অথবা আপনার প্রার্থিত বিষয়টি বা তার কোনো উত্তম বিকল্প আপনার লাভ করার বয়স/সময় আপনার এখনো হয়নি।
০৩. অথবা আপনার প্রার্থিত বিষয়টি বা তার উত্তম বিকল্প আপনাকে দেওয়া হবে শুধুমাত্র আখেরাতে।

মনে রাখবেন, আপনি মুমিনের দোয়া কবূলে তথা আপনার ভালো/সুন্দর কামনা, বাসনা ও চাহিদাগুলো পূরণে আল্লাহ মোটেই অক্ষম নন এবং কৃপনও নন। আপনি প্রকৃত মুমিন বা দীনদার হলে আপনাকে আল্লাহর নিয়মের سنة الله প্রতি খেয়াল রেখে পথ চলতে হবে এবং আপনার দৃষ্টিতে ইতিবাচক/নেতিবাচক তাঁর সকল সিদ্ধান্তের প্রতি আপনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবেই আপনি প্রশান্ত হ্রদয়ের মুমিন হতে পারবেন। এরকম হলে নির্দ্দিষ্ট সময়ে মৃত্যুর ফেরেশতারা আপনাকে দুনিয়া নামক এ কারাগার থেকে সসম্মানে মুক্ত করে আল্লাহর কাছে নিয়ে যাবে। মৃত্যুর সময় তিনি (আল্লাহ) আপনাকে ডাক দিয়ে বলবেন, يا أيتها النفس المطمئنة ارجعي إلى ربك راضية مرضية فادخلي في عبادي وادخلي جنتي. "হে প্রশান্ত মন/হ্রদয়! তুমি সন্তুষ্ট ও সন্তোষপ্রাপ্ত হয়ে তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো। অতঃপর আমার (অনুগত) বান্দাদের কাতারে প্রবেশ করো এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।" [সূরা আলফজরঃ ২৭-৩০]।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতি স্তুনষ্ট থাকার তৌফীক দান করুন।
--
মাও. আবুল হুসাইন আলেগাজী

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারাম কাজ যা আমরা নিজের অজান্তেই করে ফেলি। বেখেয়ালে কিছু নিষিদ্ধ কাজ আমরা করি অথচ জানিনা যে এগুলো করা হারাম!




✒ গোসলখানায় প্রসাব করা যাবে না। (ইবনে মাজাহঃ ৩০৪)

✒ কেবলামুখি বা তার উল্টো হয়ে প্রসাব, পায়খানা করা যাবে না। (সহিহ বুখারি ৩৯৫,
নাসায়ীঃ ২১, আত তিরমিজিঃ ৮)

✒ গুলি বা তীরের নিশানা প্রশিহ্মণের জন্য প্রাণী ব্যাবহার করা যাবে না। (মুসলিমঃ ৫১৬৭, সুনানে আবু দাউদঃ ২৮১৭, ইবনে মাজাহঃ ৩১৭০, আত তিরমিজিঃ ১৪০৯)

✒ ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান ও মুশরিক কাউকে বিয়ে করা যাবে না। আল কোরআন (সূরা আন নিসা/নুর)

✒ স্বামী ব্যাতিত অন্য কারোর জন্য সাজা হারাম। আল কোরআন (আহজাবঃ ৩৩)

✒ মুর্তি কেনা, বেঁচা, পাহারা দেওয়া হারাম। আল কোরআন (মাইদাহঃ ৯০, ইবরাহীমঃ ৩৫)

✒ কারো মুখমণ্ডলে আঘাত করা যাবে না। আল হাদিস (মুসলিমঃ ৬৮২১, আবু দাউদঃ ৪৪৯৬, আহমদঃ ৫৯৯১)

✒কাপড় পরিধাণ থাকা সত্তেও কারো গোপন অঙ্গের জায়গার দিকে দৃষ্টিপাত করা যাবে না। (মুসলিমঃ ৭৯৪, তিরমিজিঃ ২৭৯৩, ইবনে মাজাহঃ ৬৬১, আহমদঃ ১১৫০১)

✒ আল্লাহ ব্যাতিত কারো নামে কসম করা যাবে না। বাপ দাদার নাম, কারো হায়াত,
মসজিদ বা কোরআন এর নামে কসম করা, মাথায় নিয়ে সত্যতা প্রকাশ করা যাবে না।
(আবু দাউদঃ ৩২৫০, নাসায়ীঃ ৩৭৭৮)

✒ কোন প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা যাবে না। আল হাদিস (আবু দাউদঃ ২৬৭৭,
আহমদঃ ১৬০৩৪)

✒
যারা এগুলো করে তারা জান্নাতের গন্ধও পাবে না। (আবু দাউদঃ ৩৬৬৮, ইবনে মাজাহঃ ২৫২)

আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন উনার কাছে প্রার্থনা করি “হে আমার প্রতিপালক! তুমি নিজ হতে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।

☛ ☛ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কোনো হাদীস শুনেছে। অতঃপর অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।’[-সুনানে আবু দাউদ ২/৫১৫]

সকল মুসলিমের দায়িত্ব ছবিটা নিজ উয়ালে শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন 'আমিন' —

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব ১২ তাং সোমবার ফজর থেক ১৬ তাং জুমারদিন আসর পর্যন্ত, পড়তেই হবে।

(আমীনুল ইসলাম আমীন)
মাসআলা : ০৯ জিলহজ্ব ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ ই জিলহজ্জ আছর পর্যন্ত (সর্বমোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজ অর্থাৎ ১২ তারিখ সোমবার ফজর থেকে ১৬ তারিখ জুমারদিন আসর পর্যন্ত) সকল ফরজ নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জামাতে নামাজ আদায় করুক বা একাকী আদায় করুক, পুরুষ - মহিলা, মুকীম, মুসাফির, মুনফারিদ, গ্রামবাসী, শহরবাসী সকলের উপর একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। পুরুষগণ উচ্চস্বরে এবং মহিলাগণ আস্তে আস্তে বলবে। (শামী) 
★ উল্লেখ্য যে আইয়্যামে তাশরীক হল তিন দিন অর্থাৎ ১১, ১২, ১৩ জিলহজ্জ। (হেদায়া - ৪/৪৪৬)
★আর আইয়্যামে তাকবীরাতে তাশরীক হল পাঁচ দিন অর্থাৎ ৯, ১০, ১১ , ১২, ও ১৩ জিলহজ্জ (হেদায়া)
তাকবীরে তাশরীক হলো :
"আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ"
বি : দ্র : - তকবীরে তাশরীক একবার পড়া ওয়াজিব, বেশী পড়া বেদয়াত তাই সাবধান।


♦এই তাকবীরে তাশরীক্ব আল্লাহর তিনজন সম্মানিত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত নবী, রাসূল ও ফেরেশতার মুখনিঃসৃত বাণী। হযরত ইব্রাহীম আ. যখন সজোরে সুতীক্ষ্ণ ছুরি হযরত ইসমাঈল আ. এর গলিয় চালানো সুরু করলেন, এমন সময় হযরত জিবরাঈল আ. আসমান থেকে দুম্বা নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখে বলে উঠলেনঃ "আল্লাহুআকবার আল্লাহুআকবার" হযরত ইব্রাহীম আ. যখন আসমানী কুরবানী দেখলেন, তখন তিনি বলে উঠলেনঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহুআকবার" এদিকে হযরত ইসমাঈল আ. যখন ঘটনা উপলব্দি করতে পারলেন তখন তিনি বলে উঠলেনঃ "ওয়াল্লাহুআকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ"। অর্থাৎ এর মাদ্যমে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হলে যে, বিপদে - আপদে, আনন্দে ও খুশীতে সর্বাবস্থায় আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করা আর নিজের সবকিছুকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা উচিৎ। আর এটিই কুরবানীর মূলকথা।



শরীয়তের যে বিধান ওয়াজিব, তা শিক্ষা করাও কিন্তু ওয়াজিব, তাই তাকবীরে তাশরীক যারা জানিনা জেনে নেওয়া ওয়াজিব। কেউ যদি তাকবীরে তাশরীকের এই পাঁচ দিন নামায না পড়ে কিবা কাযা করে তার গুনাহ হবে দ্বিগুণ, এক হল ফরজ নামায ছাড়ার কঠিন গুনাহ, আরেকটি হল তাকবীর ওয়াজিব ছাড়ার গুণাহ। আল্লাহ আমাকে মাফ করে দেন আমীন। তাই বন্ধু সাবধান কোন অবস্থাতেই যেন আপনার নামায এবং তাকবীর ছুটে না যায়। এক ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে গিয়ে কত ফরজ ও ওয়াজিবকে কুরবানী করে দিচ্ছি। কুরবানীর গোশত খাওয়া নফল, খেতে খুব মজা। নামায, তাকবীর, পর্দা সহ অন্য বিধানগুলো ফরজ ওয়াজিব, তা করতে খুব কষ্ট কিন্তু কেন বন্ধু?



তাওবার দরজা মৃত্যু পর্যন্ত খোলা থাকে।

হযরত ওমর (রা)-এর আমলে এক গায়ক ছিল। লোকটি গোপনে গোপনে গান গেয়ে শখ পূরন করত এবং তার গান শুনে মানুষ তাকে পয়সা দিত। এ দিয়ে তার জীবন চলত। কন্ঠ ছিল তার পূঁজি। এক সময় সে বৃদ্ধ হয়ে গেল। কন্ঠ শেষ হয়ে গেল। এখন আর কেউ তার গান শোনে না, পয়সা দেয় না। শুরু হলো অভাবের জীবন। অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটে তার।
একদিন লোকটি ক্ষুধার্ত অবস্হায় জান্নাতুল বাকীর এক ঝোঁপের আড়ালে বসে বলতে লাগল, হে আল্লাহ! আমার সুরেলা কন্ঠ ছিল। আমার গান শুনে মানুষ আমাকে পয়সা দিত। এখন বার্ধক্যের কারনে কন্ঠ শেষ হয়ে গেছে। কেউ আমার গানও শোনে না, পয়সাও দেয় না। তুমি তো সকলের কথাই শুনে থাক, আমার ফরিয়াদও শোনো। আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি, আমার শক্তি শেষ হয়ে গেছে। একথা সত্য যে, আমি তোমার অবাধ্য। তবু তুমি আমার অভাব দূর করে দাও, আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দাও।
হযরত ওমর (রা) মসজিদে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তার কানে আওয়াজ আসল, আমার বান্দা আমাকে ডাকছে, তুমি গিয়ে তাকে সাহায্য করো। জান্নাতুল বাকীতে এক ফরিয়াদি আছে, তুমি তার ফরিয়াদ পূরন করে দাও। আদেশ পেয়ে হযরত ওমর(রা) খালি পায়েই ছুটে গিয়ে দেখলেন, এক বৃদ্ধ ঝোপের আড়ালে বসে আছে। বৃদ্ধ হযরত ওমরকে দেখে সে উঠে পালাতে উদ্যত হলে হযরত ওমর (রা) বললেন দাড়াও, আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে। লোকটি থমকে গিয়ে বলল, আপনাকে কে পাঠিয়েছেন? হযরত ওমর(রা) বললেন, তুমি যার কাছে ফরিয়াদ করছো তিনিই তো আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন।
লোকটি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, হে আল্লাহ! সওরটি বছর তোমার নফরমানি করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে একটিবারও তোমাকে স্মরন করিনি। আর এখন যখন করলাম পেটের খাতিরে করলাম। কিন্তু তার পরও তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছ। হে আল্লাহ ! আমি নফরমানকে তুমি ক্ষমা করে দাও - ক্ষমা করে দাও - ক্ষমা করে দাও। এ বলে লোকটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল আর এ অবস্হায়ই সে মহান আল্লাহ তা‘আলার সন্নিধ্যে পরলোক গমন করেন। তার জানাযার ইমামতি হযরত ওমর (রা) করেন। 
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আজ আমার মনটা অনেক খারাপ লাগছে। আমি যে আল্লাহর সাথে কতই নফরমানি করেছি তার কোন সীমানা নেই। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে আল্লাহপাক পাকড়াও এজন্য করেন না যে , তিনি দয়ালু ও মহান। তিনি বান্দার কল্যানই কামনা করেন। বান্দাকে তিনি জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে চান না।

তাই যত বড় নফরমানই হোক, সব মানুষের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা থাকে। তারপরও যদি কেউ তাওবা করে ক্ষমা নিতে না পারে, তা হলে সে কপাল পোড়া।

শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ফরয নামায না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ার শাস্তিঃ

একবার এক স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কয়েকটি পাপের শাস্তি দেখানো হয়। উল্লেখ্য, নবী-রাসুলদের সব স্বপ্ন ওহী, অর্থাত আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য স্বপ্নঃ “একদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আজ রাতে আমার কাছে দুইজন আগন্তুক এসেছিল। তারা আমাকে বললো, আমাদের সাথে চলুন। আমি তাদের সাথে গেলাম। আমরা এমন এক লোকের কাছে পৌঁছলাম, যে চিত হয়ে শুয়ে ছিলো। অপর এক ব্যক্তি পাথর নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথর দিয়ে শুয়ে থাকা ব্যক্তির মাথায় আঘাত করছে এবং থেঁতলে দিচ্ছে। যখন সে পাথর নিক্ষেপ করছে তা গড়িয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। লোকটি গিয়ে পাথরটি পুনরায় তুলে নিচ্ছে। এবং তা নিয়ে ফিরে আসার সাথে সাথেই লোকটির মাথা পুনরায় পূর্বের মতো ভালো হয়ে যাচ্ছে। সে আবার লোকটির কাছে ফিরে আসছে এবং তাকে পূর্বের মতো শাস্তি দিচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমার সংগী দুইজনকে জিজ্ঞাস করলামঃ সুবহা’ন-আল্লাহ! এরা কারা? তারা পরবর্তীতে উত্তর দেন, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি যারা কুরান মুখস্থ করে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরয নামায না পড়েই ঘুমিয়ে পড়ে” (সহীহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীনঃ ১৫৪৬)
নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক, হে আল্লাহ আমাদের অতীতের ভুল ত্রুটিগুলো মাফ করো এবং ভবিষ্যতে সমস্ত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তোওফিক দান করো, আমীন।

আল্লাহ মানুষকে অট্রালিকা বানানোর জন্য সৃষ্টি করেননি!

দিগ্বিজয়ী শাষকদের মধ্যে দ্বিতীয় হলেন সুলতান মাহমুদ গজনবি(রহ)! এক নম্বরে চেঙ্গিসখান। তিন নম্বরে তৈমুরে লং।
সুলতান মাহমুদ আলিশান এক মহল নির্মাণ করলেন। তার অর্থের অভাব ছিল না। মহল তৈরির কাজ সম্পন্ণ করে পিতাকে বললেন, আব্বাজান! আমি একটি ঘর তৈরী করেছি” এসে দেখে যান।
পিতার নাম সবুক্তগিন। অত্যন্ত নেককার মানুষ ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাকে সাধারন সৈনিক থেকে বাদশাহ বানিয়েছেন। আতীতকে স্মরন রেখেছেন। রাজা হয়েও আল্লাহকে ভোলেননি।
পুএের আহ্বানে সবুক্তগিন মহল দেখতে গেলেন। অত্যন্ত সুরম্য এক অট্রালিকা। ঘুরে ফিরে মহলটা দেখলেন। কিন্তু কোন মন্তব্য করলেন না। সুলতান মাহমুদ মনে মনে ক্ষুদ্ব হলেন, এমন একটি মহল নির্মাণ করলাম আর আব্বাজান দেখে কিছুই বলছেন না।
ঘুরে ফিরে দেখে বের হওয়ার সময় সুবক্তগিন খন্জরটা বের করে কারুকার্যখচিত দেওয়ালে এমন জোরে আঘাত হানলেন যে, দেওয়ালের কারুকাজ ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেল।
এবার তিনি মুখ খুললেন— বেটা, এমন এক বস্তুর উপর মেহনত করেছ, যা খন্জরের একটি আঘাতেই সহ্য করতে পারল না! আল্লাহ তোমাকে মাটির গায়ে কারুকাজ করার জন্য, ইট পাথরের উপর রং চড়ানোর জন্য সৃষ্টি করেননি বরং তোমার দিলকে গড়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন।
প্রিয় পাঠকগন! একটু গভীর ভাবে চিন্তা করিয়া দেখুন— আমরা ক্লাস নার্সারী থেকে আনারর্স পর্যন্ত এক থেকে একশরো আধিক বই পড়ে থাকি! এর উদ্দেশ্য কি? এর উদ্দেশ্যে হল আমরা একটি জায়গা ক্রয় করে তার উপর একটি বাড়ি বানাবো, আলিসান ফার্ণিচার, একটি গাড়ি ক্রয় করবো। তাহলে আমরা আল্লাহ সুবহানা তা‘আলার জন্য কি করছি?