টিভি সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
টিভি সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫

ব্যয় বাহুল্যতা ও সিনেমার ব্যাপকতাঃ

বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সবশহরেই সিনেমা হল বা চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ গড়ে উঠেছে বা উঠছে। প্রতিদিন যেখানে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ তথা বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ একাকী বা সবান্ধব কিংবা বান্ধবী নিয়ে সিনেমার দর্শক হিসেবে হাজির হচ্ছে পঙ্গপালের মত। সম্প্রতি নির্মিত হলগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেই আমাদের বোধগম্য হবে যে, এ শয়তানী কাজটি বাস্তবায়নের জন্য মানুষ কিভাবে পানির মত অর্থ ব্যয় করে চলছে এবং কত অর্থ ব্যয় করে প্রেক্ষাগৃহের এ সুরম্য অট্টালিকাসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে। সর্বোপরি চলচিত্র উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এফ,ডি,সি, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথা ছবি নির্মাতা,প্রযোজক,পরিবেশক,পরিচালক,অভিনেতা,অভিনেত্রী,নৃত্যশিল্পী,ক্যামেরাম্যান প্রভৃতি লোকদের ভাতা এবং এদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ তথা একটি ছবি নির্মাণে দেশের অর্থনীতিরর শতকরা কতভাগ ব্যয় হয় এবং ব্যয়ের এ বিরাট অংশটি দেশ ও জাতির চরিত্রগত উন্নতির খাতে ব্যয় হচ্ছে কিনা দেশের নীতি নির্ধারকগন এসব নিয়ে ভাবেন কি কোনদিন? অথচ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অর্থ ব্যয় সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। অন্যায় ও চরিত্রহরনমূলক খাতে ব্যয় করাকে নিরুৎসাহিত করে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও জারী করা হয়েছে।
সিনেমা দেখার বদভ্যাস যে আমাদেন দেশে কত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এ আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ শয়তানি জালটি বর্তমানে এতো বিস্তার লাভ করেছে যে, প্রতি ঘরে ঘরে পৌছে গেছে এর অশুভ বিচরণ। খুব কম পরিবারই এমন আছে যারা এখনো এই আবর্জনা থেকে মুক্ত এবং সিনেমা, টিভি বা ডিশএন্টিনা দ্বারা ঘরতে অপবিত্র করেনি। অতন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যারা এ শয়তানি কর্মের সাথে নিজেদের জড়ায়নি তাদেরও এর পাপ থেকে রেহাই পাওয়া মুশকিল হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ মিনেমার প্রচারভিযানের নির্লজ্জ দৌরাত্ম্য যেমনঃ উলঙ্গ, অর্ধোলঙ্গ ও যৌন আবেদনমূলক পোষ্টার, ব্যানার, পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, আকর্ষণীয় পদ্ধতি অবলম্বনে গাড়ি সাজিয়ে মাইকিং করা ইদ্যাদির কবল ধেকে কোন নাগরিকই মুক্ত এবং নিরাপদ নয়। মোটকথা সিনেমা এখন ব্যাপক মুসিবতের রূপ পরিগ্রহ করেছে। এ থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
কিন্তু পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে যে, 'সিনেমা' এত শত মন্দতার বাহক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমাজে অনেক লোকই এমন আছে যারা একে মন্দ কাজ এবং অপরাধ বলে মনো করে না। বরং সিনেমাভক্তরা বলে, এর দ্বারা চিত্তবিনোদন ও আত্মিক তৃপ্তি লাভ করা যায় এবং বিভিন্নমুখী জ্ঞানও অর্জিত হয়!
হায় আমাদেন আকল! জানি না কিভাবে এমন মারাত্মক কথা আমাদের মুখ দিয়ে নিসৃত হয়। অভিশপ্ত শয়তান আমাদের দেমাগের কি বিকৃতি সাধন করেছে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শুভবুদ্ধি দান করুন।
মূলতঃ শয়তান সর্বদা মানুষের সামনে মন্দ কাজকে অতি সুশোভিদ করে তুলে ধরে; ফলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভালকে মন্দ আর মন্দকে ভাল বলে মনে হয়। পরিনামে মানুষ সিরাতে মুস্তাকিম বা সঠিক ও সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়। মন্দকাজে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে থাকে এবং আল্লাহর হুকুম তথা নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নেক কাজে কোন তৃপ্তি অনুভূত হয় না। বরং খুবই বেরস লাগে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"আর শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে; ফলে তারা সৎপথ পায় না।"

চারিত্রিক ক্ষতিঃ -----------------------

এটা পরিক্ষিত সত্য যে, যার যে পরিমাণ সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে তার চরিত্র সে পরিমান দ্রুততার সাথে মারাত্মক ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বেলায় এর প্রভাব অতি সহজে অনুমান করা যায়। সিনেমার কারণে ঘরে-বাইরে সর্বত্র চরিত্রহননমূলক অশালিন আলোচনা, অসাড় ও অনর্থক কাহিনী বর্ণনা, অশ্লীল ও যৌন আবেদনমূলক গানবাজনা ইত্যাদি প্রসার লাভ করে। ফলে বেয়াদবি এত চরমভাবে বিস্তার লাভ করে যে পিতা-পুত্র, ছোট-বড় এর কোন ভেদাভেদ থাকে না। মা-বাবার সামনেই ছেলেমেয়েরা অশালীনভাবে নাচতে-গাইতে শুরু করে। সন্তানদের মাঝে পিতা-মাতার অবাধ্যতা, তাদের সাথে রূঢ় এবং অসদ্ব্যবহার করা, বড়দের অমান্য করা, ছেটদের প্রতি নির্দয় হওয়া, শিক্ষকদের ব্যঙ্গ করা, পরস্ত্রীরর প্রতি লোভী হওয়া, পরের অনিষ্ট করা, প্রতিবেশীর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা, বেপর্দা-বেহায়াপনা প্রভৃতি বদভ্যাসগুলো প্রধানত সিনেমা এবং নাটক থেকেই জন্ম নিয়ে থাকে। মোটকথা নাটক-সিনেমার কারণে পরিবারের লজ্জা-শরম, ভদ্রতা-সভ্যতা, মমতা-সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা-ভক্তি ইত্যাদি সবকিছুই বিলীন হয়ে যায়। ফলে পরিবারের উপর থেকে আল্লাহর রহমত ধীরে ধীরে লোপ পায় এবং যা হওয়ার কথা ছিল সুখের নীড় শতচেষ্টা করেও তা আর গড়ে তোলা যায় না। কার্যত সুখের স্থলে পরিবার অশান্তির নরক রাজ্য হয়ে ওঠে। কেউ হয়তো এ কথা বলতে পারেন যে, আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা সিনেমা দেখি কিন্তু কই আমাদের চরিত্রতো ঠিক আছে। আমি বলব, এটা হয়তো আপনাদের প্রাথমিক অবস্হা। কিছুদিন অতিক্রান্ত হলেই টের পাবেন এর পরিণতি কত ভয়াবহ। কারণ সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং লিপ্সা দিন দিনন বাড়তে থাকে আর চরিত্রের মান দিন দিন ক্ষয় হতে থাকে। এটা এতো সন্তোর্পনে হয়ে থাকে যে প্রাথমিকভাবে টেরই পাওয়া যায় না যে, ব্যক্তি চরিত্রের দিক থেকে কত দ্রুত পিছিয়ে যায়।
মূলতঃ এটা হলো শয়তানি কৌশল। শয়তানই বিভিন্নভাবে মানুষের মনে লোভনীয় ও চমৎকার যুক্তি দিয়ে এসব মন্দকাজে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে ব্যক্তি নিজের ভিতরের মন্দ মানুষটিকে জয় করে নিজেকে আর সৎ ও সুখী করে গড়ে তুলতে চায় না।

সিনেমার অভ্যাস একটি রূহানী ব্যাধিঃ

মানুষের যেমন শারিরীক ব্যাধি আছে তেমনি আত্মারও ব্যাধি আছে। কুদৃষ্টি, অহেতুক প্রেমপ্রীতি, অহংকার, গোস্বা, হিংসা ইত্যাদি রূহানী রোগের অন্তর্ভুক্ত। এসব রোগের বৈশিষ্ট্য হলো এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে কখনও রোগী মনে করে না এবং নিজের ভুলকে ভুল বলে স্বীকারই করে না। বরং নিজেকে একজন সুস্থ, সবল মানুষ মনে করে। নিয়মিত সিনেমা দেখার বদভ্যাসও এক ধরনের রূহানী ব্যাধি। এতে অন্তরাত্মার পবিত্রতা ক্ষয় হতে হতে একসময় শূণ্যের কোঠায় এসে দাঁড়ায়। যার পরিনাম সাধারণ রোগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর।
সিনেমা দেখার আরেকটি অপুরণীয় ক্ষতিকর দিক হল নির্লজ্জতা এ পর্দাহীনতার প্রসার। সমাজে নারীঘটিত কেলেঙ্কারীজনক দূর্ঘটনার প্রায় সব ক'টি এই একটি কারণেই ঘটে থাকে। এতে যে শুধু সমাজে বিপর্যয় নেমে আসে তা নয় বরং মুসলিম নারীরা আল্লাহ তায়ালার পর্দাপ্রথা সম্পর্কিত একটি নির্দেশ অমান্য করার দায়ে হারামের অথৈ সাগরে ডুবে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বলাবাহুল্য, যারা পবিত্র কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন দারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ইসলামে পর্দাকে কি অসামান্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-- ' হে নবী! আপনি আপনারর স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের নারীদের বলে দিন যেন তারা তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'
(সূরা আহযাব, আয়াত ৫৯)
কুরআনে কারীমের সকল মুফাসসির সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় নারীদের চেহারাও পর্দার হুকুমের আওতাভুক্ত। অথচ জঘন্য হলেও সদ্য যে, এ আদেশ অমান্য করে শুধু চেহারা নয় প্রায় সর্বাঙ্গ উন্মোক্ত করেই বর্তমানে নারীরা সিনেমা হলসহ অণ্যান্য স্থানে পুরুষের সাথে একান্তে মিলিত হচ্ছে। ফলে সমাজের অবস্হা অাজ যাচ্ছেতাই। এহেন পরিস্থিতিতে সমাজকর্তা ও অভিভাবকদের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে সমাজকে পতনের হাত থেকে কিছুতেই রক্ষা করা যাবে না। অনেক সময় এমনও হয় যে, মহিলারা সিনেমা দেখে গভীর রাতে ঘরে ফেরার পথে দুবৃত্তের হাতে পড়ে ইজ্জত-সম্ভ্রমের মত দৌলতও খুইয়ে বসে। কোন কোনন সময় জীবনও দিতে হয়। এসব কারণে পারিবারিক দুর্নাম সৃষ্টি হয় এবং বংশগত ঐতিয্য ভূলুণ্ঠিত হয়। এমনকি উক্ত মহিলার সাথে কোন পুরুষ সঙ্গী থাকলে তার জীবনও আক্রমনকারীদেন হাতে বিপন্ন হয়ে যায়। অথচ এভাবে সিনেমা দেখার বদরুসম চালু না থাকলে আমাদের সমাজে এ অভিশাপ নেমে আসতো না। একটু ভেবে দেখলেই আমরা উপলদ্ধি করতে পারবো যে, এক সিনেমার কারণে আমাদেরকে দৈনন্দিন জীবনে কত বিপদের মুখোমুখি হতে হয়, সমাজ দেহে সৃষ্টি হয় কত জঘন্য ক্ষত চিহ্ন।প্রথমত রূহানী রোগের প্রাদুর্ভাব অতঃপর ক্রমে ঘটতে শুরু হয় বেপর্দা, সম্ভ্রমহানি, প্রাণহানির মত ভয়াবহ দূর্ঘটনাসমূহ।

ছাত্রছাত্রীদেরর উপর সিনেমার প্রভাবঃ

ছাত্রছাত্রীদের বিরাট একটি অংশ সিনেমা দেখার ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত। কিন্তু অল্পসংখ্যক অভিভাবকই এ ব্যাপারে খবর রাখেন। অথচ এতে সমাজের ভাবী কর্ণধার এ নবীনদের ভবিষ্যত জীবনের উপর সাংঘাতিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। লেখাপড়া ও স্বাভাবিক কাজকর্মে ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা জড়িয়ে যাচ্ছে এদের জীবনধারার সাথে। যা সুন্দর ও উজ্জল জীবন গড়ার পথে এক দূর্ভেদ্য অন্তরায়। এ কথা পরীক্ষিত সত্য যে, যেসব ছেলেমেয়ে সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত তারা ধীরে ধীরে পিতামাতার অবাধ্য হয়ে যায়। বরং অধিকাংশ সময় কঠিন ও রূঢ় ব্যবহার নিয়ে তাদের সম্মুখীন হয়। সিনেমার নেশা উদয় হওয়ার পর বাবা-মা'র নিকট টাকা চেয়ে ব্যর্থ হলে তারা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা বাহানার আশ্রয় নিতে থাকে। যেমনঃ এই বলে টাকা দাবি করে যে, কলেজে অমুক কাজের জন্য এত টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়েছে। অতঃপর এ টাকা নিয়ে কলেজ কামাই দিয়ে সিনেমার ক্লাশকেই জমজমাট করে তোলে! আবার কখনো বইপত্র হারিয়ে যাওয়ার বাহানা করে কিংবা বাবার পকেট কাটার পথ খুলে বসে! ভেবে দেখুন, শুধুমাত্র সিনেমার কারণেই একটি ছেলে জীবনের প্রথম অংশেই মিথ্যা বাহানা, কুটকৌশল, চুরি ইত্যাদির মত জঘন্য কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়।পরে অবশ্য এ অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকে ছিনতাই, ডাকাতি পর্যস্ত পৌঁছে যায়। অথচ বাবা-মা'র অবহেলা কিংবা অসর্কতার কারণেই এহেন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। কারণ এ মা-বাবাই প্রথম এদেরকে সিনেমা দেখতে নিয়ে গেছে কিংবা যাওয়ার পথে উপযুক্ত বাধা দেয়নি।
কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সিনেমা দেখে দেখে সম্পূর্ণ ফিল্মী কায়দায় অবৈধ প্রেমপ্রীতির বাজার গরম করে তোলে। একদল হিরো'কে অনুসরণ করে অন্যদল হিরোইনকে। ঠিক সিনেমার মতই ভাবভঙ্গি করে কথা বলে বলে নিজেদের মাঝে প্রণয়ের জন্ম দেয়। একজন অন্যজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মিষ্টি মিষ্টি কথার রেশ ধরে সম্পর্ক হয় ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠকর। নেমে আসে প্রেমের পাগলা তুফান। এদিকে লেখাপড়ার বেহাল অবস্হা। ভাল রেজাল্টের আশায় পড়ে গুড়ে বালি। পরীক্ষারর দিন ঘনিয়ে আসে। কিন্তু কোন পরোয়া নেই। বরং এতোদিনে প্রেমের অনেক স্তর অতিক্রম শেষে হাজির হয় আখেরি মনজিলে। যেখানে এসে সব শেষ। শেষ পর্যন্ত এদেরকে বিয়ে দেয়ার সময় অভিভাবকের ভোগ কররতে হয় অসহ্য কষ্ট। সিনেমা দেখার কারণে ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিশক্তিও লোপ পায়। কারণ অশ্লীল সিনেমা দেখে দেখে এদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার বদস্বভাব জন্ম নেয়। ফলে শারীরিক শক্তি হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে মেধার তীক্ষ্ণতাও লোপ পেতে থাকে। জানিনা আত্মভোলা এ জাতির চক্ষু কবে খুলবে? কবে কাটবে এ উন্মাদনারর ঘোর?
মূলতঃ প্রত্যেকেরই উচিৎ জীবনের এ মূল্যবান সময়গুলো চিত্ত বিনোদনের নামে এ ধ্বংসাত্মক পথে ব্যয় না করেরে আল্লাহর সন্তুষ্টি তথা দ্বীনের প্রচার-প্রসার ও হিফাজতের ক্ষেত্রে ব্যয় করা।
---"কোন অনল গহবরে জীবন দিওনা বলিদান
যিনি দিয়েছেন প্রাণ হও তার লাগি কুরবান"---

ফ্যাশনপূঁজার প্রবণতাঃ

নিয়মিত সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে ওঠলে সাধারনত মানুষ মানষিকভাবে ফ্যাশনপূঁজারী হয়ে ওঠে। তখন সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপনের পরিবর্তে ফ্যাশন মোতাবেক চলাকেই গৌরব মনে করে। এতে ব্যক্তির মনে এমন এক অপবিত্র ও অশুভ ছায়া পড়ে যার প্রভাবে সে মহানবী সা. এর চিরসুন্দর আদর্শ ত্যাগ করে ক্ষণিকের চোখ ঝলসানো ভেল্কিবাজির মত অত্যাধুনিক ফ্যাশনকেই নিজের জীবনের জন্য বেছে নেয়। নিম্নে কয়েকটি আলোচনা করা হলঃ
ক) ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক দাড়ি রাখা সুন্নত পক্ষান্তরে দাড়ি শেভ করা হালের ফ্যাশন। মানুষ সিনেমা দেখে দেখে নায়কদের অনুকরণে দাড়ি শেভ করতে অনুপ্রাণিত হয়।
খ) সুন্নত হলো, পুরুষ মাথায় টুপি দিয়ে থাকবে এবং চুল ছোট রাখবে। আর নারীরা সম্পূর্ণভাবে মাখার কেশ ঢেকে রাখবে। অথচ বর্তমানে উল্টো ছেলেরা সিনেমার নায়কদের অনুকরণে বড় বড় চুল রাখছে। আর মেয়রি অনুসরণ করছে নায়িকাদের। এভাবে খোলা মাথায় কেশের বাহারে যুবতীররা যুবকদেরকে রাস্তাঘাটে অপরাধের দিকে কেমন করে লেলিয়ে দিচ্ছে বলাই বাহুল্য। তারা এমন করে সুন্নতকে জবাই করছে আর ফ্যাশনকে লালন করছে অতি উৎসাহের সাথে এটা তো সিনেমারই কুফল।
গ) মহিলাদের হাতে মেহেদীর রং দেয়া হল সুন্নত। কিন্তু আজকের মেয়েরা মেহেদীর বদলে বছে নিয়েছে নেইল পলিশ। কারণ এটা নায়িকাদের ফ্যাশন। অথচ এই ফ্যাশনপূঁজার কারণে মেয়েদের না হচ্ছে অযু আর না হচ্ছে নামাজ। গভীরভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায়, সিনেমা আবিস্কার করে অতি সুক্ষ্ণভাবে ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদেরকে খোদার পথ থেকে সরিয়ে অন্যপথে ব্যস্ত রাখার যে ফাঁদ পেতেছে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম সোৎসাহে সে ফাঁদে মাথা আটকিয়ে নিজেদের ভাবছে মুক্ত, স্বাধীন এবং প্রগতিশীল। এর পরিনাম যে কত কঠিন তা ভেবে দেখার অবকাশ পর্যন্ত তাদের নেই। আর যারা এতে বাধা দেয় তারা হয়ে যায় অসামাজিক, কাঠখোট্রা, রসকষহীন এবং প্রগতি বিরোধী ইত্যাদি।

চোখ ও কানের বহুবিধ ক্ষতিঃ

সিনেমা দেখার কারণে শারীরিক যেসব রোগব্যাধি দেখা দেয় দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া এর অন্যতম। চিকিৎসা বিজ্ঞানেরর মতে যে যত বেশি সিনেমা দেখবে তার দৃষ্টিশক্তি ততদ্রুত প্রভাবিত হবে। প্রনিধানযোগ্য যে, যে বদামলের কারণে দুনিয়া-আখেরাত উভয় বরবাদ হচ্ছে তা থেকে জাতিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বিরত রাখা বর্তমান যুগসন্ধিক্ষণের বড় কল্যাকামিতা হবে বলেই মনে করি।
সিনেমার মাধ্যমে শয়তান মানুষকে হেদায়েতের পথ থেকে সহজেই বিচ্যুত করতে পারে। কারণ চোখ এবং কান এই দুই অঙ্গ দ্বারা মানুষ হেদায়েতের প্রতি অগ্রসর হয়। অর্থাৎ চোখ দিয়ে ভাল এবং সত্যকে দেখে আর কান দিয়ে তা শোনে। কিন্তু সিনেমা দেখার দ্বারা এ দু'পথই রুদ্ধ হয়। কেননা চোখ উলঙ্গপনা ও অপরাধ অবলোকন করে আর কান দিয়ে অশ্লীল গান ও অশালীন ডায়ালগ শোনে। এভাবে হেদায়েতের দু'টি পথই শয়তানের দখলে চলে যায়। ফলে মানুষ সত্য ছেড়ে মিথ্যাবেষ্ঠিত হয়েও নিজেদের পরিতৃপ্ত মনে করে। কোন অনুতাপ বোধ করেনা। অথচ কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার কান, চোখ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে যে, আল্লাহর দেয়া এ দু'অঙ্গকে কোন কাজে ব্যবহার করেছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন--" যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কর্রনা; কান, চোখ, অন্তর এদের প্রত্যেকের সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।"
জানিনা সিনেমাদর্শকদের সেদিন কোন উপযুক্ত উত্তর থাকবে কিনা। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে নাচ-গান দেখা এবং শোনা উভয়টাই হারাম। তাছাড়া বেগানা নারীর প্রতি তাকানোই যেখানে হারাম সেখানে তাদের নাচ-গান উপভোগের কি জবাব মিলবে সেদিন?

সিনেমা দ্বীন থেকে দূরে রাখেঃ

যে ব্যক্তির সিনেমা দেখার অভ্যাস যত কঠিনতর তার জীবন যাত্রার পথটি দ্বীনের আলোকময়তা থেকে তত দূরে সরে যায়। কুরআন তিলাওয়াতের সুমধুর সাধ তার হৃদয়ে আর অনুভূত হয়না বরং গানের সূর লহরিতে সে এক অজানা তৃপ্তি আস্বাদন করতে থাকে। নামাজ, রোজা কোন কিছুতেই মন বসে না বরং সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি দেখার দুর্বার নেশায় তনুমন অস্থির হয়ে থাকে। রাসূল সা. এর পবিত্র বাণী এবং হাদীস নির্দেশিত আমলসমূহ আদায় করা তার কাছে অসাধ্য ও দূরহ বলে মনে হয়। ধীরেধীরে এক দুই ওয়াক্ত করে নামাজ ছুটে যেতে থাকে।দাড়ির কথা শোনা মাত্র গাত্রদাহ শুরু হয়। মহিলাদের বেশভুষায় নিজেকে সাজিয়ে তৃপ্তি পায়। অন্যদিকে মহিলারা পুরুষের সাজ লয়। বোরকা কথা, পর্দার কথা শুনতে অসহ্য লাগে। এগুলোকে জ্বালাতন মনে করে। সিনেমার বদৌলতে পর্দার পূর্ব অভ্যাস মন থেকে হারিয়ে যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কুরআন-হাদীসের বাণী, ওয়াজ-নসিহত ইত্যাদি বিরক্তকর মনে হয়। নাচ-গানের আসরে গেলে কিংবা সিনেমা দেখতে বসলে এর বিপরীত চরিত্র ফুটে ওঠে। সিনেমা দেখতে না পারলে মন বিষাদময় এবং অস্থির হয়ে থাকে। চলচ্চিত্রের প্রচারপত্র ও সিনেমা বিষয়ক ম্যাগাজিন পড়ে এক ধরনের সম্মোহনী তৃপ্তি লাভ করে। অন্যদিকে কুরআন-হাদীস তথা দ্বীনি বইপত্র পাঠে মনের কোন সাড়াই পাওয়া যায় না। এভাবেই সিনেমা আসক্ত এক সময় দ্বীন থেকে দূরে, বহুদূরে সরে যায়।

নামাজ থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রঃ

হল কতৃপক্ষ প্রদর্শনীর শোগুলোকে এমনভাবে বিন্যাস করেছে যে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, কোন লোক নিয়মিত সিনেমা দেখায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠলে নিজের অজান্তেই সে নামাজ থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যেমনঃ দিনের প্রথম শো দেখতে গেলে যোহরের নামাজ ছুটে যায়। অন্তত জামাত কোনভাবেই পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয় শো দেখতে গেলে আসরের নামাজের একই অবস্থা হয়। তৃতীয় শোতে অবশ্যই মাগরিব কাযা হয়। চতুর্থ শোতে অবশ্য ইচ্ছা করলে আগে নামাজ আদায় করতে পারে। কিন্তু তখন প্রস্তুতি পেরেশানির তা হয়ে ওঠে না। আর রাত ১২টার পর সিনেমা ফেরত কোন লোক বাসায় এসে নামাজ আদায় করবে এটা খুবই দুরাশার কথা। অনেকরাতে ঘুমানোর ফলে ফজরেন নামাজ পড়াটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বহুলাংশেই পড়া হয় না। এভাবেই সিনেমার নেশা মানুষকে নামাজের মত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আদায় করা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। অথচ নামাজ ত্যাগ সম্পর্কেে রাসূল সা. ইরশাদ করেন--
★ নামাজ ত্যাগ মানুষকে কুফরি পর্যন্ত পৌঁছেে দেয়।
★ ঈমান এবং কুফরের মাঝে প্রভেদ হলো নামাজ ত্যাগ করা।
★ আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে দেয়া হয় বা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয় কিংবা শুলিতে চড়ানো হয়। আর জেনে শোনে নামাজ ত্যাগ করো না। যে ব্যক্তি জেনে শোনে (ইচ্ছাকৃত) নামাজ বর্জন করে সে আল্লাহর দায়িত্ব থেকে বের হয়ে যায়।
★ কেউ যদি বিনা কারণে দুই ওয়াক্ত নামাজ একত্রে আদায় করে তবে সে কবীরা গুনাহের ধাপসমূহের একটি ধাপ অতিক্রম করলো।
★ যার নামাজ ছুটে গেল তার যেন মানুষজন, ধনসম্পদ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেল।

সিনেমার জন্য অর্থ ব্যয় করা অপব্যয় এবং হারামঃ

মানুষ অর্থ উপার্জনের জন্য দিনরাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। দিনমজুর মাত্র ক'টি টাকার জন্য সারাদিন কাঠফাটা রোদ আর মুষলধারে বৃষ্টিতে মাঠে ময়দানেে খেটে যায়। শ্রমিকররা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অক্লান্তভাবে মেশিনের চাকা ঘুরিয়ে যায়। এভাবে সকল শ্রেণীর পেশাদার ব্যক্তিকেই শুধু বেঁচে থাকার জন্য তা করতে হয়। অথচ ঘুনাক্ষরেও আমরা চিন্তা করে দেখি না যে এতো কষ্টসাধ্য উপার্জনেের পয়সা দিয়ে সিনেমা দেখে দেখে কত বড় গুনাহের কাজে তা ব্যয় করছি। শরীয়তের হুকুম হলো হালাল পথে উপার্জনের সাথে সাথে তা হালাল পথেই ব্যয় করতে হবে।
তাছাড়া পুঁজিপতিরা অতি কৌশলে শ্রমিকদেরকে দেয়া টাকা এর মাধ্যমে আবার নিজের পকেটে ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারণ বেশিরভাগ সিনেমাভক্ত তারাই হয় যারা খেটে খায়। যাদেরকে চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক বলা হয়। দিনের উপার্জিত টাকা দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য সঞ্চয় না করে বিনোদনের নামে সিনেমাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তা খরচ করে ঘরে ফিরে যাচ্ছে সকালের মত নিঃস্ব হয়েই। অন্যদিকে পুঁজিপতিরা মেহনতি মানুষদেরকে আকর্ষণ করার মতো এমন অনেক ফাঁদ পেতে রেখেছে যেখানে মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো টাকা জমা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। এভাবেই ধনীরা সরীসৃপের রক্ত চোষার ন্যায় শোষন করে নিচ্ছে নিরিহ মানুষকে। আর নিরিহরা আত্মভোলা মাতালের মত তালে তালে নেচে যাচ্ছে। আর বিনোদনের নামে নিজের জীবন এবং সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে অবক্ষয়ের রসাতলে।
ইসলামী আইনশাস্ত্রে পারদর্শী ফকীহগনের মতে সিনেমার জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয় তা অপব্যয়ের শামিল এবং হারাম।
সারকথা হলো, সিনেমা দেখার ক্ষতিকর দিকগুলো বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর কুপ্রভাব বিরাজমান। সিনেমার পরিচয় এভাবেও দেয়া যায় যে, এটা হলো সকল প্রকার অপরাধ ও ক্রাইম শিক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখান থেকে সমাজে সব ধরনের অপরাধের প্রোডাকশন দেয়া হয়। ফলে একটা করে অপরাধ জন্মানোর সাথে সাথে একটা কররে ভাল কাজ তথা দ্বীনি অামল বিলুপ্ত হতে থাকে। সমাজটাকে আমরা একটা দেহের সাথে তুলনা করতে পারি। দেহের একটা অঙ্গ যেমন একই সাথে সুস্থ ও অসুস্থ থাকতে পারে নাা অর্থাৎ অসুস্থতা আসলেই সুস্থতা চলে যায় তেমনি সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনেও যখন অন্যায়-অপরাধ জন্ম নেয় তখন সে অঙ্গনে ন্যায়-অন্যায়ও একত্রে অবস্থান করে নাা। সুতরাং অন্যায় যত জন্ম নেবে ন্যায়ের ততো অপমৃত্যু ঘটবে। আর যেহেতু অন্যায়েের একটা বিিরাট ফ্যাক্টরি হলো সিনেমা সেহেতু সমাজদেহ থেকে এ দূরারোগ্য ব্যাধির অপসারণ করতে হলে প্রথমে সিনেমা নামের কারখানা থেকে অপরাধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় অপসংস্কৃতিরর এ বাঁধভাঙ্গা জোয়ার আমাদেরকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।

সিনেমা সম্পর্কে শরীয়তের বিধানঃ

প্রশ্নঃ- মুসলমানদের সিনেমা-থিয়েটারে যোগদান করা, এটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা, প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে এর প্রতি আগ্রহী করে তোলা, সিনেমা হল নির্মাণ করা ইত্যাদির ব্যাপারে শরীয়ত কি বলে এবং এর প্রতি উৎসাহদানকারীর জন্য শরীয়তের বিধান কি?
উঃ- উপরোক্ত কাজসমূহ শক্ত গুনাহের কাজ এবং অনেকগুলো কবীরা গুনাহের সমষ্টি। যে ব্যক্তি এসব কাজের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে সে যেন শয়তানের কাজ করে। শরীয়তের দৃষ্টিতে সে প্রথম শ্রেণীর ফাসেক। যত মানুষ তার প্রচেষ্টায় এ অপরাধে লিপ্ত হবে প্রত্যেকের সমপরিমাণ গুনাহের অংশীদার সেও হবে। এতে অংশগ্রহণকারীরর গুনাহ কোন অংশেই হ্রাস পাবে না।
অনেকগুলো অপরাধের সমষ্টি বলার কারণ হলো সিনেমা সংক্রান্ত সবগুলো কাজই পৃথক পৃথকভাবে কবীরা গুনাহ।
যেমনঃ ১) গানবাজনা।
২) প্রকাশ্যে নাচা এবং নাচ দেখা।
৩) আপন রূপ পরিবর্তন করে অন্যরূপ পরিগ্রহ করা।
৪) নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশা করা।
৫) ছবি তোলা।
৬) কাহিনী নির্মাণের ক্ষেত্রে অবাস্তব মিথ্যা কথা।
৭) মদ্যপান ইত্যাদি ছাড়াও আরো অনেক গুনাহ আছে যা হয়তো আমাদের অজানা।

একটি ভিত্তিহীন যুক্তি এবং তার জওয়াবঃ

প্রশ্নঃ কারো কারো মতে যে সমস্ত ফটো তোলা হারাম; সিনেমা ঐ ধরনের ফটো নয়। বরং এটা হলো ছায়া। আর আলোর প্রভাবে প্রত্যেক বস্তুরই ছায়া হয়ে থাকে। সুতরাং এটাকে হারাম বলা যাবে না।
উঃ উপরোক্ত যুক্তিটি একেবারেই দুর্বল ও ভিত্তিহীন। আলোর প্রভাবের প্রতিফলনে সৃষ্ট ছায়া হলো মূল বস্তুরই একটি অবিচ্ছেদ্য হুবহু আকার। যা মূল বস্তু থেকে কখনো পৃথক হতে পারে না। মূল বস্তুটি যেভাবে নড়েচড়ে ছায়াটিও ঠিক তাই করে এবং যতক্ষণ মূল বস্তুর উপস্থিতি বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ ছায়াটিও থাকে। মূল বস্তু না থাকলে ছায়াও থাকবে না। সে যেদিকে যাবে ছায়াও ঠিক একইভাবে সেদিকে যাবে। কিন্তু সিনেমার ব্যাপারটি এমন নয় বরং এটা হলো সাক্ষাত ছবি এবং ফটো। কারণ শুটিং করার সময় নায়ক-নায়িকাদের অভিনয়গুলো ছবি তুলে ক্যামেরাবন্দী করে রাখা হয়। পরবর্তীততে সবগুলো রিল একত্রিত করে একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি তৈরি করা হয়। যা সিনেমার পর্দায় দেখানো হয়। এটা ছায়া নয় বরং ঐ সমস্ত ছবি যেগুলো ক্যামেরাবন্দী করে রাখা হয়েছিল। সুতরাং সিনেমা ছায়া নয় এবং ছবি আর ছায়া এক নয়। অতএব, এমন খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করে একটি সমাজবিধ্বংসী হারাম কাজকে জায়েয করার অপচেষ্টাকে আমরা কি বলে সিদ্ধ আখ্যা দিতে পারি? এ কখনো হতে পারে না।

সিনেমার পর্দায় মুসলমান বাদশাহদের ছবি প্রদর্শনঃ

ইসলামী শরীয়ত যে কোন প্রাণীর ছবি তোলা এবং দেখাকে হারাম ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপরাধমূলক নাচ-গান সমৃদ্ধ সিনেমায় কোন ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান খলীফার চরিত্র চিত্রায়িত করার অর্থই হলো তাঁর মর্যাদা এবং সম্মানকে ধুলোয় লুটিয়ে দেয়া। সুতরাং এটা নাজায়েজ এবং অবৈধ। এমনিভাবে ইসলাম প্রচারের নামে তথাকথিত ইসলামী সংস্থা কর্তৃক ভিডিও বা ইসলামী সিনেমা নামে ছবি নির্মাণ করা আরো মারাত্মক এবং জঘন্য অপরাধ। কারণ এতে ইসলাম ও কুরআন-হাদীসেকে সুস্পষ্টভাবে অবমাননা করা হয়। যে ব্যাক্তি বা সংস্থা এসব করে থাকে তাকে সমর্থন দেয়া এবং এ কাজে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণভাবে নাজায়েজ। এসব ক্ষেত্রে ইসলাম প্রচারের তুলনায় খায়েশাত বা প্রবৃত্তি পুজার তাড়নাই কাজ করে বেশি। ফলে যতটুকু না ইসলামের প্রচার হয় তার চেয়ে অধিক উপকার হয় শয়তানের। শয়তান তার স্বভাবজাত অপকৌশল ব্যবহার করে মুসলমানদেরকে দিয়ে ইসলামের ছদ্মাবরনে এসব অপরাধগুলো করিয়ে নিচ্ছে অকপটে।

অশ্লীলতার নিকটস্থ না হওয়ার নির্দেশঃ

পবিত্র কুরআনের সূরা আনআম এ ইরশাদ হয়েছে "তোমরা নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার নিকটেও যেওনা চাই তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে।"
এই আয়াতের তাফসিরে মুফাস্সিরগণ বলেন, আলোচ্য আয়াতে ফাওয়াহিশ শব্দের মূল অর্থ থেকে বুঝা যায় এখানে সকল প্রকার প্রকাশ্য-গোপনীয় গুনাহ থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ শব্দের বহুল ব্যবহৃত মাশহুর ও ব্যাপক অর্থের ভিত্তিতে বুঝা যায় যে, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতার যত পথ আছে সবকিছুই উক্ত নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। এখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অশ্লীলতার নিকটেও না যাওয়ার। এর অর্থ হলো, এমন অনুষ্ঠান এবং পরিবেশসমূহ এড়িয়ে চলা যাতে যোগদান করলে গোনাহে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে এবং ঐসব কাজ বর্জন করা যার দ্বারা গুনাহের পথ প্রশস্ত হয়।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল সা. ইরশাদ করেনঃ দেখ! প্রত্যেক বাদশারই নিজস্ব চারণক্ষেত্র থাকে। যে তার সীমার কাছাকাছি বিচরণ করবে তৎকর্তৃক এর সীমা লংঘনের খুবই আশংকা বিদ্যমান। তাই সতর্কতাস্বরূপ ঐ সীমার নিকটবর্তী হওয়াও ঠিক নয় যেখানে প্রবেশ করা নিষেধ।
উক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে এ কথাই প্রতিভাত হয় যে, সিনেমা দেখা তো দূরের কথা এর নিকটস্থ হওয়াও নিষেধ। কারণ সিনেমা এমন একটি কাজ যার সম্পূর্ণটাই অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতায় ভরপুর। ইসলামি বিধান তথা দ্বীনের ওপর সহজে চলার জন্য এবং সমাজকে মহাধ্বংসের ছোবল থেকে রক্ষা করতে সর্বপ্রথম সিনেমার অবাধ সয়লাবকে রোধ করতে হবে। অন্যথায় পরিতাপ করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।

সিনেমা দেখার অভ্যাস পরিহার করার উপায়ঃ

অনেকেই হয়তো এ ধারনা করে আছেন যে, সিনেমা দেখার বদভ্যাস পরিহার করার কোন পথ নেই। এমন নিরাশ হওয়া ঠিক নয়। কেননা মানুষ সাধনা করে অনেক কঠিন সাফল্যও অর্জন করতে পারে। তবে প্রথমত সদিচ্ছা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি এ কাজ বর্জন করবই। এ ধরনের দৃঢ়তা অর্জনের জন্য প্রথমত দুটি কাজ করতে হবে।
১) প্রথমে এ কথা সুদৃঢ়ভাবে অন্তরে স্থাপন করতে হবে যে, সিনেমা দেখা মারাত্মক গুনাহের কাজ এবং দ্বীনের জন্য বিরাট ক্ষতিকর বিষয়।
২) একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার সাথে নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চলতে হবে এবং মনে প্রানে এ কথা বিশ্বাস করতে হবে যে, ওলামায়ে কেরাম এবং বুজুর্গানে দ্বীনের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করা যায়।
(ক) আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা রেখে এমন সংকল্প ও প্রতিজ্ঞা করা যে, আমি ভবিষ্যতে সিনেমা দেখার মতো অন্যায় কাজ আর করবোনা এবং সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে এ দুআ করা- হে আল্লাহ! আমাকে এমন বদকাজ থেকে হেফাজত করো। এ জঘন্য অভ্যাস ত্যাগ করার ক্ষমতা দাও। আর যখনই সিনেমা দেখার লালসা জেগে ওঠে তখনই মনে প্রানে " আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি" এ কথা জপতে থাকা।
(খ) নিজে নিজে এমন শপথ করা যে, আল্লাহ না করুন যদি কোনভাবে সিনেমা দেখা হয়ে যায় তাহলে একটি সিনেমার জন্য অন্তত ৩০/৪০ রাকাত তওবার নামায আদায় করবো।
যদি এমনটি করা যায় তাহলে নফস্ তো সোজা হবেই উপরন্তু শয়তানও পেরেশান হয়ে যাবে।
এমনিভাবে এমন শপথও করা যায় যে, একবার কোন কারণে সিনেমা দেখা হয়ে গেলে অন্তত ৫০ টাকা মিসকিনকে দান করবো। এভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে টাকার মায়ায় হলেও আশা করা যায় সিনেমা দেখার অভ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ!