দেশের খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেশের খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯

যৌনতায় ভরা একটি বই বিতরণ করা হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে।







স্কুলের শিক্ষকেরা অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক 
এ বই বিতরণ করেছেন। 

বইটির নাম ‘#নিজেকে_জানো’। কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত এ বইয়ের নারী-পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের নাম উল্লেখ করে এমন খোলামেলাভাবে আলোচনা করা হয়েছে যা হুবহু প্রকাশযোগ্য নয়।

বইটিতে ‘শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন’ অধ্যায়ে লেখা হয়েছে যখন একটি মেয়ে ১০-১২ বছর বয়সে পৌঁছে তখন তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। 
যেমন, উচ্চতা বাড়ে, মাসিক শুরু হয়, স্তন বড় হয়, বগলে ও ... চুল বা লোম গজায়।

এ বয়সে ছেলেদের শরীরের শুক্রাণুযুক্ত রস মাঝে মাঝে মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে আসে, যাকে ... বলা হয়। 

বইটির ‘বন্ধুত্ব ও ভালবাসা’ শীর্ষক অধ্যায়ে একটি শিরোনাম হলো 
‘প্রেম করলে কেন ছেলেমেয়েরা ধরাধরি করে?’ 

এখানে লেখা হয়েছে প্রেম এমন একটি সম্পর্ক যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা 
দু’জনের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ অনুভব করে,

এ অনুভব হতেই তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি পেতে চায় এবং এ কারণেই অনেক সময় তারা পরস্পরকে স্পর্শ করে।

আসলে কোনো সমাজেই এটা ভালো চোখে দেখে না। কৈশোর হলো জীবন গড়ার সময়। এ বয়সে এসব করে তাই সময় নষ্ট না করাই ভালো। 

এ অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো, ‘পরিস্থিতির চাপে যদি দৈহিক মিলনের সম্ভাবনা দেখা দেয় তবে আমি 

সে অবস্থায় কী করবো?’ 

এখানে লেখা হয়েছে, 
বিয়ের আগে ছেলেমেয়েদের দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

তবে কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরা পরিস্থিতির চাপে এরকম অবস্থায় পড়তে পারে। 

মনে রাখা প্রয়োজন, আবেগকে ‘না’ বলতে জানাটাও বড় হওয়ার একটা লক্ষণ।

পরিচয়ের একপর্যায়ে দৈহিন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। 

যদি কারো মনে হয় যে তার প্রেমিক এ ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবে মেয়েটাকে এ প্রস্তাবে সায় না দিয়ে বড় কারো সাথে বিষয়টি আলোচনা করা ভালো। যদি তা না করা যায় আর দৈহিক সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে গর্ভধারণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কোনো অস্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি। 

এরপরও যদি কোনো সমস্যা হয় তবে উপদেশের জন্য তুমি কাছের কোনো কিনিকে যেতে পারো। (বইটির শেষে বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত বেশ কয়েকটি কিনিক/সেবা সংস্থার তালিকা দেয়া রয়েছে এ সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের জন্য)। 

বইটির এ অধ্যায়ে আরো লেখা হয়েছে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা অন্য কোনো কারণে দৈহিক মিলনের ফলে একটি মেয়ের পেটে বাচ্চা আসতে পারে। 

তাই বিয়ের আগে দৈহিক মিলন থেকে বিরত থাকা উচিত। 

যদি পেটে বাচ্চা এসে যায়, তবে দেরি না করে উপদেশের জন্য মা-বাবা অথবা কাছের কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। 

মা-বাবাকে যদি ব্যাপারটা বোঝানো না যায় আর মেয়েটিকে তারা গ্রহণ না করে, তাহলে কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার বা আত্মীয়ের পরামর্শ নেয়া ভালো। 

নিজেকে জানো বইটির আরেকটি অধ্যায়ের নাম ‘দৈহিক সম্পর্ক’। এ অধ্যায়ের শুরুতে লেখা হয়েছেÑ নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন খুবই স্বাভাবিক। তবে এতে সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। অবৈধ যৌনমিলন তা যেকোনো বয়সেই হোক না কেন সেটা অনৈতিক ও সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

একমাত্র বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কই বৈধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এ অধ্যায়ে একটি শিরোনাম হলো ‘সতী পর্দা কি জানতে চাই?’ এ বিষয়ে যে বিবরণ বইটিতে দেয়া হয়েছে তা প্রকাশযোগ্য নয়। এ অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো 

‘প্রথম মিলনে কি সব মহিলার রক্ত পড়বে? এই অংশের বর্ণনাও রীতিমতো রগরগে। দৈহিক সম্পর্ক অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো ‘মায়ের পেট থেকে কিভাবে বাচ্চা বের হয়ে আসে ?’ এখানে সন্তান প্রসবের যে বিবরণ দেয়া হয়েছে তাও প্রকাশযোগ্য নয়। 

‘বাচ্চা কিভাবে হয়?’ শিরোনামে লেখা হয়েছে কিভাবে মায়ের গর্ভে সন্তান আসে তার বর্ণনা।

‘বিয়ের আগে কেউ কেউ #কনডম বা খাবার বড়ি ব্যবহার করে। সেটা কি ঠিক?’ শীর্ষক শিরোনামে লেখা হয়েছে এ দু’টি জন্ম নিরোধক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

দৈহিক মিলন অধ্যায়ের আরেকটি শিরোনাম হলো ‘অনেকের সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা ক্ষতিকর। এরকম হলে কিভাবে নিরাপদ থাকা যায়?’

এখানেও লেখা হয়েছে অনেকের সাথে দৈহিক সম্পর্ক থাকলে কনডম ব্যবহার খুবই জরুরি। বইটিতে যৌনমিলন অধ্যায় আলোচনার আগে কিভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছেলেমেয়েরা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, সে আকর্ষণ এবং ভালোলাগা প্রকাশের উপায় কী সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

এ ছাড়া যৌন অনুভূতি প্রকাশের বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বইটির পেছনে লেখা রয়েছে মহিলা ও শিশুবিষযক মন্ত্রণালয়। এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন অ্যান্ড উইমেন প্রকল্পের জন্য। ইউনিসেফের সহায়তায় মুদ্রিত। 

বইটি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস (বিসিসিপি)।

বইটি প্রণয়নে সহায়তা নেয়া হয়েছে এমন ১১টি সংস্থার নাম বইয়ের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। 
বইটি কী পরিমাণ স্কুলে বিতরণ করা হয়েছে জানার জন্য বিসিসিপি অফিসে ফোন করা হলে এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসতে হবে। তবে অনেক দিন ধরেই বইটি বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা তাদের কাছ থেকে এ বই নিয়ে বিভিন্নভাবে বিতরণ করেছে। 

বেসরকারি একটি সংস্থা সারা দেশে যাদের অনেক স্কুল রয়েছে তারাও এ বই তাদের স্কুলে বিতরণ করেছে বলে জানানো হয় বিসিসিপি অফিস থেকে। কয়েক দিন আগে রাজধানীর একটি স্কুলে এ বই বিতরণ করার পর অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী তার বাবার কাছে দেয় বইটি। বইটি পড়ে উদ্বিগ্ন বাবা এ বই আর তিনি তার সন্তানকে পড়তে দেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বই নিয়ে রীতিমতো বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছেন অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। 

প্রশ্ন উঠেছে স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে এ ধরনের বই বিতরণের উদ্দেশ্য নিয়ে।

সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ কী বিবেচনায় তা অনুমোদন করল তা নিয়েও প্রশ্ন অভিভাবকদের।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

সাহায্যের আড়ালে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ঈসায়ী চার্চ বাংলাদেশ’ (আইসিবি) নামের একটি সংগঠন। --

রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে খ্রিষ্টান মিশনারি গ্রুপগুলো। দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত রোহিঙ্গাদের সাহায্যের নামে সহজেই চলছে মিশনারি গ্রুপগুলোর ধর্মান্তরিত করার কাজ। কখনো গোপনে আবার কখনো প্রকাশ্যে খ্রিষ্টান ধর্মে দিক্ষিত করার কাজটি করছে কয়েকটি এনজিও। প্রাথমিক হিসেবে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে প্রলুব্ধ করে খ্রিষ্টান বানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের খ্রিষ্টান বানানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ঈসায়ী চার্চ বাংলাদেশ’ (আইসিবি) নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের প্রায় ১৫ জন নেতা উখিয়া ও টেকনাফে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। নগদ টাকা দেয়া ছাড়াও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। কক্সবাজার শহরের কয়েকটি অভিজাত হোটেলে তারা অবস্থান করে মুসলমানদের খ্রিষ্টান বানানোর কাজ করে যাচ্ছেন। উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে খ্রিষ্টান বানানোর বিবরণ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এখনো ট্রমায় আক্রান্ত। এ অবস্থায় প্রলোভনে পড়ে খ্রিষ্টান মিশনারি গ্রুপগুলোর নানা প্রস্তাব সহজেই লুফে নিচ্ছেন তারা। সামনে ঘোর অন্ধকার। তাই কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ সে কথা বিবেচনা করার অবস্থা তাদের নেই। যেকোনো অবলম্বন ধরে তারা বাঁচতে চান। চান নিরাপত্তা। এ সুযোগ ব্যবহার করছে ধর্মান্তরিতকরণ গোষ্ঠী ও মানবপাচারকারী চক্র। পাচারের পাশাপাশি সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করছে ওই মানবপাচারকারী চক্রটি।
তথ্য মতে, খ্রিষ্টান বানানোর কাজে নিয়োজিত ‘ঈসায়ি চার্চ বাংলাদেশকে’ অর্থায়ন করছে নেদারল্যান্ডস ও আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ। এ সংগঠনটি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্ম ত্যাগ করার জন্য প্রলুব্ধ করতে ১১ থেকে ১৫ জন রোহিঙ্গাকে বাছাই করেছে যারা ইতোমধ্যে খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। এসব রোহিঙ্গাকে ‘বিশেষ সুবিধার’ পাশাপাশি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। তাদের প্রতি মাসে কক্সবাজার শহরের একটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই ১৫ জনকে সুপারভাইজ করেন কুতুপালং ব্লক বি-১ এ বসবাসরত জনৈক আবু তাহের (৪২)।
ধর্মান্তরিত রোহিঙ্গাদের খ্রিষ্টান নাম দেয়া হলেও কৌশল হিসেবে মুসলিম নাম উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। তথ্য মতে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথমে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন মিয়ানমারের মংডুর হাতিপাড়ার মৃত জালাল আহমদের ছেলে নুরুল ইসলাম ফকির (৫৫)। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নুরুল ইসলাম ফকির (খ্রিষ্টান নাম জানা যায়নি) পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিয়ে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আসেন। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তার রোহিঙ্গা আত্মীয়স্বজনকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালিয়ে এ পর্যন্ত ৩০-৩৫টি পরিবারকে এ পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে ২৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা শুরু করে। জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিলে খ্রিষ্টান হওয়া পরিবারগুলো অত্যন্ত কৌশলে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ব্লকে ঢুকে বসবাস শুরু করে করে এবং ধর্মান্তরের কাজ চালাতে থাকে। এ কাজে নেতৃত্ব দেয়া নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে এহসান উল্লাহ (৩৫) বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে কয়েক বছর আগে নরওয়ে পাড়ি দেন এবং সেখান থেকে টাকা পাঠাতে থাকেন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর জন্য।
তার পাঠানো টাকায় কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের বি ব্লকে একটি স্কুলপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এই স্কুলে বর্তমানে ৩০ জন ছাত্র আছে এবং স্কুলের শিক্ষক হিসেবে নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে সেলিম (১৭) কাজ করছেন। নুরুল ইসলাম ফকিরের নেতৃত্বে প্রতি রোববার চলে প্রার্থনা কার্যক্রম।
তথ্য মতে, কুতুপালংয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পে ৭২টি পরিবার এবং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪টি পরিবারকে (প্রতি পরিবারে গড়ে আটজন সদস্য) ইতোমধ্যেই খ্রিষ্টান করা হয়েছে। এ ছাড়া থাইংখালীর জামতলি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ৪২টি পরিবারকে খ্রিষ্টান বানানো হয়েছে। জামতলিতে নেতৃত্ব দেন জনৈক শরীফ (শরিফের বাড়ি বুচিদং) নামে এক রোহিঙ্গা। এ ছাড়া টেকনাফের জাদিমোরা নার্সারি এলাকায় ওবায়দুল হক নামে এক রোহিঙ্গার নেতৃত্বে ৪৫টি পরিবারকে খ্রিষ্টান ধর্মে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যরা ওবায়দুল হকের বাসায় প্রতি রোববার এবং মাঝে মাঝে শুক্রবারও প্রার্থনা সভায় মিলিত হন।
এ ছাড়া নয়া মুছনি পাড়ায় ১২টি রোহিঙ্গা পরিবারকে ধর্মান্তরিত করার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেখাশোনা করেন আলী জোহা নামে এক রোহিঙ্গা। আলী জোহার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ভাই রফিক (বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন) এসব পরিবারের জন্য নিয়মিত আর্থিক সাহায্য পাঠান। অপর দিকে নয়া মোচনি পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নুরুল ইসলাম ফকিরের বোন হালিমা খাতুন পাঁচটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারকে নিয়ে নিয়মিত খ্রিষ্টান ধর্মীয় সভা করেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেন।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রিত এলাকায় খ্রিষ্টান বানানোর কাজ মনিটরিং করেন মাবুদ নামের জনৈক খ্রিষ্টান। তিনি রোহিঙ্গাদের নগদ আর্থিক সহায়তা ছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে থাকেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ পরিবারকে খ্রিষ্টান বানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জি এ এম আশেক উল্লাহ কক্সবাজার থেকে

বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

তসলিমা নাসরিন বাঁয়ের ছবিটা টুইটারে পোস্ট দিয়েছেন



তসলিমা নাসরিন বাঁয়ের ছবিটা টুইটারে পোস্ট দিয়েছেন। ছবিটা এখনো এক্টিভ আছে। দেখা যাচ্ছে একজন বৃদ্ধ মুসলমান একজন হিন্দু সাধুর গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে দিচ্ছেন। তার মানে তিনি বলতে চাইছেন, "হে হে দেখ এই দুইটা কেমন বদ"।
ডানদিকের আসল ছবিটা ঋষি কাপুরের টুইটার একাউন্টে আছে। বৃদ্ধ মুসলমান হিন্দু সাধুর গ্লাসে মিনারাল ওয়াটার ঢেলে দিচ্ছেন। একটা অপূর্ব সামাজিক সম্প্রীতির ছবি। এই সুন্দর একটা ছবি এই মহিলার ফটোশপ করে বিকৃত করার দরকার পড়লো কেন? বড়ই আজিব এবং প্যাথলজিক্যাল তার চিন্তার ক্ষেত্র।

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

পোপকে স্বাগত জানাতে পারছি না.............

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন দাঃবাঃ

পোপ আসছেন আজ, স্বাগত জানাতে পারছি না যে কারণে-
১) পোপ আসছেন বাংলাদেশে শান্তির বার্তা নিয়ে। শান্তির বার্তা বিলিয়ে দিতে গতকাল গিয়েছিলেন মিয়ানমারে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচে নির্যাতিত জাতি রোহিঙ্গা জাতি। জাতিগত নিধনের শিকার তারা। তিনি তাদের নামটুকু উচ্চারণ করলেন না। এমনটিই বলছে মিডিয়া। যিনি মানবতার পক্ষে কথা বলার সাহস পেলেন না, তাকে স্বাগত জানাই কী করে?
২) দখলদার ইসরাইল কর্তৃক অসহায় নিরীহ ফিলিস্তিনীদের উপর বর্বরতার খবর তিনি অবশ্যই রাখেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় নি।
৩) ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইরাকে আগ্রাসন পরিচালনা করার কথা স্বীকার করলেও ইরাকে এখনো আগ্রাসন চলছেই। বোমা হামলা, হত্যা, ধর্ষণ থামছে না কিছুতেই। শান্তির ধ্বজাধারীদের পদার্পণ নেই সেখানে।
৪) সাম্রাজ্যবাদীদের শক্তির মহড়া চলছে সিরিয়ায়। শান্তি নয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে হায়েনারা। সেখানে শান্তির বার্তা বড্ড প্রয়োজন।
৫) আফগানিদের কপালে শান্তি নেই, কাশ্মীরীরা মরছে ধুঁকে ধুঁকে। লিবিয়াও শান্তি নেই। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে নিষিদ্ধ হয়ে আছে মুসলমানদের মৌলিক অধিকার। আলজেরিয়া তিউনিসিয়ায় উড়তে পারছে না শান্তির পতাকা। এসব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাঁধা কারা? পোপ কি কখনো তাদের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন?
তারপরেও আপনি আসুন। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবস্থা দেখে যান। দেখে লজ্জিত হবেন নিশ্চয়ই। বিশ্বে মুসলমানদের উপর এত নির্যাতন নিপীড়ন হওয়া সত্ত্বেও একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উত্তমরূপে বজায় থাকে কী করে! আসলে এটাই ইসলাম। এটাই ইসলামের শান্তি। মুসলমান শান্তির পক্ষে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
হয়তো যাবার সময় আমার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে যাবেন। তবে অনুরোধ রইলো। শান্তির ফোয়ারা ইসলামী শিক্ষা থেকে সামান্য হলেও নিয়ে যাবেন। ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ভুল ধারণা নিরসন করে যাবেন।



সোমবার, ৫ জুন, ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধে বিধর্মী এবং মুক্তমনাদের অবদান কতটুকু ?


Emran Hossain Adib

মুসলমান উনাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়েই যে বাংলাদেশ তার প্রমান নাম না জানা লক্ষ লক্ষ মুসলমান ছাড়াও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত - 
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ, 
৬৮ জন বীরউত্তম , 
১৭৫ বীর বিক্রম , 
৪২৬ বীর প্রতীকদের 
অর্থাৎ মোট খেতাব প্রাপ্ত - ৬৭৬ জন এর মাঝে মুসলিম হলেন - ৬৭১ জন, বিধর্মী মাত্র - ০৪ জন। সংখ্যা অনুপাতে মুসলিম হলেন - ৯৯.২৬%। 
সুতরাং খেতাবপ্রাপ্ত শহীদের তালিকা অনুযায়ী এটাই প্রমানিত হয় যে যুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে এবং ৩০ লক্ষ শহীদের মাঝে মুসলিমের অনুপাত ৯৯% এরও বেশী।যে দেশের ৯৯.২৬% ধর্মের লোক সে দেশ সৃষ্টির যুদ্ধে বীরত্বের জন্য খেতাব পেয়েছে সে দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ যারা বানাতে চায় তারা ইতিহাস সম্পর্কে গন্ডমুর্খ, বকলম। গুটি কয়েক নামধারী মুক্তিযুদ্ধা তারা বলে ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য নাকি এই দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল ??? মুক্তি যুদ্দের সময় কয়জন মক্তমনা যুদ্ব করেছিল তা আজও প্রশ্নবিদ্ধ .
মুসলিম জাতি যুদ্ব করেছিল ভাষার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য নয় .
আজ যারা মুক্তিযুদ্দা সেজে ইসলামের বিরুদ্বে কথা বলে আসলে তারা দেশ প্রেমিক নয় বরং দেশের শত্রু .
আজকে যারা সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা নিয়ে বলতে চায় যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য তারা কি লক্ষ লক্ষ মুসলমানের উপর মিথ্যাচার করছেনা ?
মুসলমান কখনোই ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্য জীবন দেয়নি।মুসলমান জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন ধর্ম পালনের জন্যই।

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭

কেন মূর্তি সরাতে হবে ? 👤👤👤👤এটা কি ন্যায় বিচারের প্রতীক নয় ?

Emran Hossain Adib


প্রথমত ঢাকা মসজিদের শহর।যার অলি গলি প্রতিনিয়ত পাঁচবার আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত হয়।অন্যদিকে এটা বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ মুসলিম কান্ট্রি।যেখানে ৯২% মুসলমানের বসবাস। 
,
কিন্তু ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলতে হয়।দিন দিন মূর্তির উৎপাত যেন বেড়েই চলছে।ঢাকা যেন এখন মূর্তির শহর।কারন সুপ্রিম কোর্টের গ্রীক মূর্তি যদি উৎখাত না করা হয়,তাহলে এমন সময় আসবে যখন,ওরা দেশের প্রতিটি জনপদ,অফিস,আদালত মূর্তির দ্বারা আচ্ছাদিত করে ফলবে।তা ছাড়া এখন ঘরে ঘরে খেলনা সহ বিভিন্ন আইটেমের মূর্তি পরিলক্ষিত হয়। তাই এখনি সময়।মূর্তি সরাও,ঈমান বাচাও। 
 ,
এটা কি ন্যায় বিচারের প্রতীক ? একটি মূর্তি কিভাবে ন্যায় বিচারের প্রতীক হতে পারে তা আমার জানা নেই।তবে এটা দ্বারা হিন্দু ধর্মাম্বলিদের মনে তৃপ্তির ঢেঁকুর উঠে। কেননা এটা ওদের পূজার মূর্তি সাদৃশ্য।তাই তারা এটার পক্ষে কথা বলছে।কিন্তু ওরা সংখ্যা লঘূ হওয়া সত্যেও যদি মূর্তি নির্মাণ করা হয়,তাহলে আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়া সত্যেও কেন মিনারা বা রেহাল নির্মিত কোরআনের ভাস্কর্য তৈরি করা হবেনা ? জাতী জানতে চায়।মূর্তি নির্মাণ করতে চাইলে ইন্ডিয়ায় যাও।এটা বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। 
 ,
সবচাইতে বড় বিষয় হচ্ছে ইসলাম প্রতিমা,মূর্তি,ভাস্কর্য সাপোর্ট করেনা।বিশেষ করে মানব বা প্রাণী মূর্তি।কারন শয়তান এই মূর্তি নির্মাণে খোদার ইবাদাত থেকে মানব জাতীকে পথভ্রষ্টতার এক অভিনব পন্থা বাতলিয়ে দিয়ে ধ্বংসের মুখে ঢেলে দিয়েছে।যার দরুন আজ তারা ইসলামের ছায়া থেকে বহু দূরে।যাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

নববর্ষ উৎযাপন


নববর্ষ উৎযাপনে কচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ মূলক বালিকার অশ্লীল নৃত্তে হিন্দি গানের রিমিক্স সংয়ে ক্ষুদে সমাজ প্রায় বেপরোয়া।সবাইর দৃষ্টি যেন ক্ষুদে বালিকার দিকে।তাকিয়ে আছে আনমনে।দেখছে তার কোমর বাঁকানো সর্প বীণ বাজানোর ন্যায় তার অভিনব খেলা।
,
অন্যদিকে মাগরিবের আজান দিচ্ছে।কিন্তু সবাই তাকিয়ে আছে নাচলেওয়ালি কন্যার দিকে।আজানের আওয়াজে যাতে ভিগ্নতা সৃষ্টি না হয়,তাই তার সাউন্ড আরো বাড়িয়ে দেওয়া হল।এটা হল নববর্ষ উৎযাপনের প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠান।
,
নববর্ষ উৎযাপন,মঙ্গল শোভাযাত্রা এটা কি আমাদের দেশের কৃষ্টি কালচার ? নাকি ভিনদেশি প্রথা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ? সহজ সরল মনা মুসলমানদের ঈমান গুলকে ছিনিয়ে নেওয়ার এক অভিনব প্রন্থায়।লাল-সাদা পাঞ্জাবি,আর পান্তা,ইলিশের মাঝে কি কল্যান নিহিত আছে আমার জানা নেই।
,
এক কথায় বলা যায় তরুন সমাজদের সুন্দর পোশাকে সজ্জিত করে বট মুলে কিছু গান আর আড্ডা জমানোর এক অভিনব কলা কৌশল।এর দ্বারা সুধু শয়তানের কিছু ফায়দা অর্জিত হয়।সাথে সাথে ইলিশ বিক্রেতার আকাশ চুম্বি লাভের সুন্দর এক পন্থা।

শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

***** এপ্রিল ফুল কী *****


এপ্রিল ফুল দিবসটি সৃষ্টির সাথে রয়েছে মুসলমানদের করুণ ও হৃদয়র্স্পশী এক ইতিহাস। ১লা এপ্রিলের এই ইতিহাস অন্যান্য জাতি জানলেও অনেক মুসলিম জাতি না জানার কারনে এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে।


তৎকালীন ইউরোপীয় দেশ স্পেনে মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ এর নেতৃত্বে ৭১১ খ্রীস্টাব্দে ইসলামি পতাকা উড্ডীন হয় এবং মুসলিম সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়। সুদীর্ঘ প্রায় আটশ বছর পর্যন্ত সেখানে মুসলমানদের গৌরবময় শাসন বহাল থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে আস্তে আস্তে মুসলিম সাম্রাজ্যে ঘুন ধরতে শুরু করে এবং মুসলিম শাসকরাও ভোগ বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। ফলে মুসলিম দেশগুলোও ধীরে ধীরে মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়ে খ্রীস্টানদের দখলে যেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসে স্পেনের পালা। মুসলিম শাসনে নেমে আসে পরাজয়ের কাল ছায়া। খ্রীস্টান জগত গ্রাস করে নেয় স্পেনের বিজয় পতাকা।

এক পর্যায়ে মুসলিম নিধনের লক্ষ্যে খ্রীস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড বিয়ে করে পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাকে। যার ফলে মুসলিম বিরোধী দুই বৃহৎ খ্রীস্টান শক্তি সম্মিলিত শক্তি রুপে আত্মপ্রকাশ করে। রানী ইসাবেলা ও রাজা ফার্ডিন্যান্ড খুঁজতে থাকে স্পেন দখলের মোক্ষম সুযোগ। পরবর্তীতে মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থল গ্রানাডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এক পর্যায়ে মুসলমানদের অসতর্কতার সুযোগে খ্রীস্টান বাহিনী ঘিরে ফেলে গ্রানাডার তিন দিক। এক মাত্র মহাসমুদ্রই বাকী থাকে মুসলমানদের বাঁচার পথ। অবরুদ্ধ মুসলমানগন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। মুসলমানদের এই অসহায় অবস্থায় রাজা ফার্ডিন্যান্ড প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি দেশব্যাপী ঘোষনা করে দেন - "যারা অস্ত্র ত্যাগ করে মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে এবং সমুদ্র পাড়ে রক্ষিত নৌযানগুলোতে আরোহন করবে তাদেরকে সব রকমের নিরাপত্তা দেওয়া হবে"। এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে মুসলমানগন যেন আশার আলো খুঁজে পায়। সরল মনে বিশ্বাস করে মুসলমানগন মসজিদ ও নৌযানগুলোতে আশ্রয় গ্রহন করে। কিন্তু ইতিহাসের জঘন্য নরপিশাচ প্রতারক রাজা ফার্ডিন্যান্ড তালা লাগিয়ে দেয় মসজিদগুলোতে এবং মাঝ দরিয়ায় ভাসিয়ে দেয় নৌযানগুলোকে। এরপর বিশ্ব মানবতাকে পদদলিত করে ঐ মানুষ নামের পশু ফার্ডিন্যান্ড আগুন লাগিয়ে দেয় মসজিদগুলোর চার পাশে এবং মধ্যসমুদ্রে ডুবিয়ে দেয় নৌযানগুলোকে। ফলে অগ্নিদগ্ধ ও পানিতে হাবুডুবু খাওয়া লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ আর নিষ্পাপ শিশুর আর্ত চিৎকারে ভারি হয়ে উঠে স্পেনের আকাশ বাতাস। মুহূর্তের মধ্যে নির্মমভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় সাত লক্ষ মুসলমানের তাজা প্রান। আর এরই মধ্যে ইতি ঘটে স্পেনের আটশ বছরের মুসলিম শাসনের, আর পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হয় মনবতা লঙ্ঘনের নির্মম অধ্যায়। যেদিন এই মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল সেদিন ছিল ১৪৯২ খ্রীস্টাব্দের ১লা এপ্রিল। তখন থেকে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দেওয়ার সেই নিষ্ঠুর ইতিহাস স্মরনার্থে খ্রীস্টানরা প্রতি বছর এপ্রিল ফুল পালন করে আসছে।

দুঃখের সাথে বলতে হয় "এপ্রিল ফুল" এর প্রকৃত ইতিহাস সর্ম্পকে না জানার কারণে আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের দুর্ভাগ্যকে আনন্দের খোরাক বানিয়ে এপ্রিল ফুল পালন করছি।

আমরা আর কতকাল আত্মবিস্মৃত হয়ে থাকব ? নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য সর্ম্পকে অজ্ঞতার ধারা আর কতদিন আমাদের মধ্যে বিরাজ করবে। অথচ এই অজ্ঞতাই আমাদের জন্য সবচেয়ে মারাত্নক কাল হয়ে দেখা দিয়েছে।


এপ্রিলের ৬ তারিখ পবিত্র কাবার সুনাম-ধন্য ইমাম ড,আঃরহমান সুদাইসী বাংলাদেশে আসতেছেন ৷


এপ্রিলের ৬ তারিখ পবিত্র কাবার সুনাম-ধন্য ইমাম ড,আঃরহমান সুদাইসী বাংলাদেশে আসতেছেন ৷
সোহরাওয়ার্দীর মাঠে বিকাল 3 টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সকলেই আসবেন ইনশাআল্লাহ ৷
(ইসলামি ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রনে আসতেছেন)

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।



  Emran Hossain Adib 
ব্লগার
 

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।যারা দেশের জন্য নিজের প্রান কে বিসর্জন দিয়েছে তাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।দোয়া করি আল্লাহ্‌ যেন তাদের কবর কে জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দেন। 

,

ভাই ফুল, বুট জুতার আওয়াজ,গালে ট্যটো একে নয়,দোয়া এবং তেলোয়াতের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করুন।তাদের কবরে ফুলের সুবাস আর তোমাদের মিউজিক পূর্ণ দেশিয় গান কোন ফায়দা পৌছাতে পারবে না।তারা তোমাদের দিকে চাতক পাখির ন্যয় ইছালে ছওয়াব এর জন্য তাকিয়ে আছে।যখনি তোমরা মিউজিক বাজিয়ে তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করো,তখন তারা তোমাদের এ কাজের জন্য ব্যথিত হয়ে তাদের অন্তরের আশার প্রদীপ নির্বাপিত হয়ে ক্রোধের বাতি প্রজ্বলিত হয়।তাই গান নয় দোয়া চাই। 
,
গানে গানে শহীদদের স্বরন করা বেউকুফি কাজ।কারন আপনার কোন রিলেটিভ ইন্তেকাল করলে গান বাদ্য বাজিয়ে তাদের স্বরন করেন,নাকি দোয়ার মাধ্যমে ? নিশ্চয়ই দোয়ার মাধ্যমে।কিন্তু তাদের বেলায় ব্যতিক্রম কেন ? তাদের কি ছওয়াবের প্রয়োজন নেই ? নিশ্চয়ই আছে।তাই দোয়া চাই গান নয়।

আসছে আগামী ৫ ও ৬ জানুয়ারি ২০১৬ ইব্রাহীমিয়া উজানী মাদ্রাসার দুই দিন ব্যাপী"বার্ষিক মাহফিল"।


আসছে আগামী ৫ ও ৬ জানুয়ারি ২০১৬ ইং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুলতানুল আউলিয়া, সাইখুল কোররা, আরব ওয়াল আজম,উজানীর ক্বারী ইব্রাহিম ছাহেব রহ: প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া উজানী মাদ্রাসার দুই দিন ব্যাপী"বার্ষিক মাহফিল"।বয়ান পেশ করবেন দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ, ও বুযুর্গাণে দ্বীন।উক্ত মাহফিলে আপনাদের সকলের প্রতি দ্বীনি দাওয়াত রইল।

বি: দ্র: দূরবর্তী মেহমানদের জন্য এলাকায় মেহমানদারী এবং মাদ্রাসার নিজস্ব হোটেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্হা থাকবে। ইনশাআল্লাহ


শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬

বাংলাদেশি হাফেয আব্দুল আখের তুরস্কের ৪র্থ আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান!


৪৬ দেশকে পেছনে ফেলে এরদুগানের হাত থেকে প্রথম স্থানের পুরস্কার নিল বাংলাদেশের তানযীমুল উম্মাহর ছাত্র হাফেয আব্দুল আখের।
গতকাল শুক্রবার (১৭ই জুন) তুরুস্কের ইস্তামবুলের সুলতান ফতেহ মসজিদে অনুষ্টিত হয়ে গেল ৪র্থ আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা।উক্ত প্রতিযোগিতায় ৪৬টি দেশের কারী ও হাফেজ গন আংশগ্রহন করেন। উক্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্টানে এরদুগানের প্রধান ধর্মীয় উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার ডঃ মেহমুদ গরমিজ ও ইস্তামবুলের মেয়র কাদির টোপবাস সহ আন্তর্জাতিক বহু ধর্মীয় গবেষক গন উপস্থিত ছিলেন।
৪৬টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থানের গৌরব অর্জন করেন ঢাকার তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার ছাত্র হাফেয আব্দুল আখের।
(১ম ছবিতে এরদুগানের বামের জন)

আন্তর্জাতিক অংঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করায় হাফেয আব্দুল আখের উজ্জল সাফল্য কামনা করছি....
নিউজ সুত্রঃ তুর্কি প্রেসিডেন্সিয়াল মিডিয়া..
Speaking at the award ceremony of the 4th International Holy Qur’an Memorization (Hifdh) and Recitation (Qiraah) Competition, President Erdoğan said: “If the impact of verses recited doesn’t embrace your heart, flash lightning across your mind, and stir a breeze through your soul, then it means there is a deficiency.”
President Recep Tayyip Erdoğan offered an address at the award ceremony of the 4th International Holy Qur’an Memorization (Hifdh) and Recitation (Qiraah) Competition at the Istanbul Fatih Mosque. Also attending the ceremony were President of Religious Affairs Mehmet Görmez, Mayor of Istanbul Metropolitan Municipality Kadir Topbaş and a large number of invitees.

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬

বাড়াবাড়ির কবলে আমাদের সমাজের বিবাহ.....................


আমি একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করলাম।যখন মানুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুপাশ থেকেই ছেলে মেয়ে বা তাদের গার্ডিয়ান গন চরম হতাশায় ভুগতে হয়।তাই সব মিলিয়ে বিবাহ যেন আমাদের সমাজে কাল হয়ে দাড়িয়েছে।কিছু কিছু বিবাহে এমন ঝগড়া হয় শেষ পর্যন্ত বিবাহের পরিসমাপ্তি ঘটে।যেমন ধরা যাক ছেলের গার্ডিয়ান কর্তৃক মেয়ের পিতার উপর জুলুম
, 
(১) ওয়ালিমা খাওয়ানোর দায়িত্ব সাধারণত ছেলে পক্ষের কাজ আর এটা শরিয়ত দ্বারা প্রমানিত।কিন্তু বর্তমান সমাজে মেয়ের বাড়িতে আগে খাবারের ইন্তেজাম করা হয়ে থাকে। এতে করে মেয়ের পিতা যদি গরীব ও হয় তথাপিয় সমাজের চাপে বা বর পক্ষের চাপে ঋণ করে হলেও খাবারের ইন্তেজাম করতে হয়ে থাকে।আবার ছেলের গার্ডিয়ান কর্তৃক বলে দেওয়া হয় আমরা এতজন তথা ১০০ জন আসবো চাই সে গরীব হোক তাতে তাদের কি আসে যায়।এতে করে যেমন সে নির্যাতিত হয় সাথে সাথে বিবাহের মাঝে ফাটল সৃষ্টি হয়। 
,
(২) যৌতুক যার জন্য বিবাহের আগ থেকে বলে দেওয়া হয়। জামাইকে এটা দিতে হবে বা বিদেশ গমনের জন্য বা বাইক কিনার জন্য এত টাকা দিতে হবে।এতে করে মেয়ের বাবা যিনি কষ্ট করে অন্যত্র থেকে ঋণ করে দিয়ে থাকে। আর যদি না পারে তো এখানেই ক্ষেন্ত।আবার অনেক জাগায় দেখা যায় যৌতুক না দেয়ায় মেয়ের উপর পাশবিক নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।অতপর এক পর্যায়ে তালাক পর্যন্ত চলে যায়। 
,
মেয়ের গার্ডিয়ান কর্তৃক ছেলের উপর জুলুম।
,
এখানে সবচাইতে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় হচ্ছে দেন মহর।কারন অনেক সময় এমন হয় যে, ছেলের ইনকাম ১০০ টাকা কিন্তু তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয় ১০০০০০০ লক্ষ টাকা এতে করে অনেক বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় বা যদিও ধরা হয় কিন্তু ৯০% মানুষ তা আদায় করে না।কারন সে কিভাবে আদায় করবে তার ইনকাম তো ১০০ টাকা সে ১০০০০০০ লক্ষ টাকা কোথায় পাবে তাই শেষ পর্যন্ত এভাবে থাকে। 
,
তাই আসুন আমরা আমাদের সমাজ কে সুন্দর করি না জায়েজ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকি।

রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬

বাংলাদেশের কোন কোন খাবারে শুকরের চর্বি আছে! এবং কিভাবে আছে তার বর্ননা

শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার। বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে। আর ইংল্যন্ডে বসবাস করার কারণে নিত্যদিন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের খাদ্য তালিকায় শূকরের মাংস একটি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় তালিকা। কেবল ইংল্যন্ডই নয় বরং পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর প্রাচ্য, অর্থাৎ পুরো খৃষ্ট বিশ্বেই প্রকৃত অবস্থাটি এমনই। এমনকি মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে, মুসলিম দেশসমুহে বসবাসকারী অমুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে শূকরের মাংস অতি কাংক্ষিত একটি খাদ্য মাধ্যম।
এই মাধ্যমটি যে আজ নতুন সৃষ্টি হয়েছে তা নয় বরং সেই মধ্যযুগের কিংবা তারও আগে থেকেই এটি বিদ্যমান। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এ থেকে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়েই বাজারজাতও করেছে। আজকাল পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি সমগ্র বিশ্বব্যাপি স্বাস্থ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ খাদ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ে বড় বেশী চিন্তিত এবং সজাগ। খাদ্যে চর্বির আধিক্যই হৃদরোগের প্রধান কারণ, সেটা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জেনে গেছে বিজ্ঞানের সুবাদে। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বিই কেবল থাকে না বরং সেই চর্বির মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানটির আধিক্যও সবচেয়ে বেশী। ফলে ইউরোপের সচেতন মানুষ শূকরের মাংস খেলেও এর চর্বিকে সব সময় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে। এর ফলে শূকর ব্যবসায়ী ও তার মাংস সরবরাহকারীদের একটা বড় অংশই অপচয় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
এইসব অপচয় থেকে বাঁচার জন্যই ইউরোপ শূকরের চর্বির বিকল্প ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করেছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে। প্রথমে শূকরের চর্বি দিয়ে সাবান বানানো হয় এবং তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরে একইভাবে ঐ চর্বিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম তরল প্রসাধনী, ক্রিম ইত্যাদি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হয়, এটাও ব্যবসায়িক সফলতা পায়। বন্দুকের কার্তুজে এই শূকরের চর্বি ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথমে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিংবা তারও আগে।
যা হোক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোও তাদের উৎপাদিত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে এর ব্যবহার শুরু করে। সর্বপ্রথমে শরীরের অভ্যন্তরে সেলাই করার জন্য এমন এক ধরনের সুতোর দরকার পড়ে, যা ক্ষত শুকোনোর পরে খূলে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না, এবং শরীরের ভেতরে হবার কারণে তা সম্ভবও নয়, বরং সেলাই কাজে ব্যবহৃত এই সুতো আপনা আপনিই মানুষের মাংসের সাথে মিশে যাবে। এ চিন্তা থেকেই চিকিৎসকরা বেড়ালের অন্ত্রের চর্বি দিয়ে তৈরী করেন এক বিশেষ ধরনের সুতো, যা দিয়ে মানুষের দেশে অস্ত্রোপচারের সময় আভ্যন্তরীণ ক্ষত জোড়া দিতে ব্যবহার করা যাবে। শল্য চিকিৎসক বা সার্জনরা মানুষের শরীরে এরকম যে সুতোর ব্যবহার করেন তাকে ‘ক্যটগাট’ বলা হয়। বেড়ালের চেয়ে শূকরের প্রচলন বেশী এবং শূকরের মাংস ও চর্বি সহজ লভ্য হবার সুবাদে ইউরোপের শূকর খামার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এই সুতো নির্মাণে বেড়ালের পরিবর্তে শূকরের চর্বি ব্যবহারে। এবং তারা তা শুরুও করেন।
কিন্তু কিছু সচেতন মুসলমান ইউরোপীয় পণ্যসামগ্রীর গা’এ লিপিবব্ধ উপাদানের তালিকায় pig fat শব্দটি দেখে আঁতকে উঠেন। কারণ যে কোন মুসলমানের কাছে এই pig fat বা শূকরের চর্বি, তার মাংস বা রক্ত সকল কিছুই হারাম, এর যে কোন ধরনের পরোক্ষ ব্যবহারও হারাম। তারা তাদের ভাষণে-বিবৃতিতে, লেখা-লেখনীতে এ ব্যপারে জনগণকে যেমন সতর্ক করেন, তেমনি সরকারের কাছেও দাবী জানাতে থাকেন এইসব ইউরোপীয় পণ্য দেশে আমদানী করারা অনুমতি না দেবার। এর ফলে ইউরোপীয়রা তাদের পণ্যতে pig fat শব্দটির পরিবর্তে 'animal fat' শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।
ফলে ইউরোপীয়ান বাবস্যায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হারাতে বসে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে। আর এই বিকল্প পন্থাটইি হলো উৎপাদিত কোন বস্তু, তা খাদ্য সামগ্রী হোক বা ঔষধ পথ্য কিংবা প্রসাধনী কিংবা অন্য কিছু, তার গা’এ ইউরোপীয়ান আঈন অনুযায়ী উপাদান সমুহের নাম লেখা হবে বটে তবে সেই সব নামগুলো লেখা থাকবে বৈজ্ঞানিক কোন টার্ম কিংবা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে যেন সাধারণ জনগণ সেই সব নাম, সেইসব টার্ম পড়ে বুঝে উঠতে না পারে, আসলে এই জিনিসগুলো কী?
করপোরেট বাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসাীয় মহলের চাপে নতী স্বীকার করে সরকার উৎপাদকদের সাথে আপোষ করে এবং উৎপাদিত পণ্যের গা’এ সাংকেতিক ভাষায় উপাদানসমুহের নাম লিপিবদ্ধ করার অনুমিত দেয়। সেই থেকে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী কিংবা তা প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপাদানসমুহে, প্রসাধনী, ঔষধ কিংবা পথ্যের উৎপাদনে সাংকেতিক ভাষায় বিশেষ নাম বা E-Codes ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য একটি বিষয়।
এরকমই একজন মুসলিম টেকনিশিয়ান কাজ করতেন ফ্রান্সের Pegal শহরে অবস্থিত Departments of Food Administration এর মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বা ল্যবরেটরিতে। তিনি অনূসন্ধিৎষূ মন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বের করেছেন বেশ ক’টি E-Codes যার প্রত্যেকটিই শূকরের চর্বিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। একটি ওয়েব সাইটে Are we eating Pork? শিরোণামে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এক পাকিস্থানী বিজ্ঞানী ড: এম আমজাদ খান কর্তৃক প্রচারিত উক্ত তালিকায় শুকরের চর্বি থেকে প্রস্তুত E-Codes এর তালিকা নিম্নরুপ:
E100, E110, E120, E 140, E141, E153, E210, E213, E214, E216, E234, E252, E270, E280, E325, E326, E327, E334, E335, E336, E337, E422, E430, E431, E432, E433, E434, E435, E436, E440, E470, E471, E472, E473, E474, E475, E476, E477, E478, E481, E482, E483, E491, E492, E493, E494, E495, E542, E570, E572, E631, E635, E904. I
উক্ত তালিকায় উল্লেখিত E-Codes গুলোর বেশ ক’টি আমাদের দেশে প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় খাদ্যতালিকায় উপস্থিত দেখতে পাওয়া যায়। তার দু‘একটা নমুণা দেখুন, যেমন; নিচে উল্লেখিত তালিকায় খাদ্য দ্রব্যের নামের পাশে তাতে ব্যবহৃত E-Codes ও তুলে দেয়া হলো:
1 Cadburrys chocolate - E476
2 Igloo Ice Cream -E471,E433
3 Baskin Robbins Ice Cream E471
4 Foster Clarks Custard Powder-E110
5 Fadeco Ice Cream-E471
6 Nova Chewing Gum -E422
7 Demah Fresh -E422
8 Big Babool Chewing Gum
বলা বাহুল্য, উপরের তালিকায় উল্লেখিত প্রায় সবকটিই আমাদের দেশসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ছেলে বুড়ো'সহ সকলের কাছেই খুবই প্রিয়।
আল কুরআনে অন্তত চারটি জায়গায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শূকরের মাংস এবং মৃত জন্তু জানোয়ার আর সেইসব জানোয়ার যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে, মুসলমানদের জন্য হারাম করেছেন। তারই একটি আয়াত দেখুন:
তিনি তোমাদের উপরে হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত শূকর মাংশ এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতিত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নি:সন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু (সুরা আল বাক্বারা- ১৭৩)
এটা মোটমুটি অমুসলিম ব্যবসায়ীরা জানে, অন্তত তাদের সরকার ও জনগোষ্ঠির সচেতন অংশটি খুব ভালো করেই জানে, কিন্তু তারপরেও তারা ভিন্ন কৌশলে মুসলমানদেরকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় সেই হারাম বস্তু খাওয়াতে মনে হয় উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে কেবল যে তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থই আছে তাই নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত এক আগ্রাসী মনোভাব, যার মিল রয়েছে একমাত্র ক্রসেডের সাথেই।
লেখক: Prof. Dr Mohammad Nurul Huq
Head of the Department of Pediatrics
Bangladesh Medical College and Hospital
R 14A, DRA, Dhaka 1209
Bangladesh

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

কিভাবে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় বিদেশী অর্থায়নে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সমকামীতা


সারা বাংলাদেশব্যাপী সমকামীরা বিভিন্ন নাম দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশী এনজিওগুলো অর্থায়নে জেলায় জেলায় সমকামীদের ক্লাব খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সুসংগঠিত করা হচ্ছে।

***বাংলাদেশে যেসব ক্লাবের নাম দেখলেই বুঝবেন, এটা সমকামীদের সংগঠন-
১) লাইট হাউস কনসোর্টিয়াম (বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এদের কার্যক্রম)
২) বন্ধু ( সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি)
৩) ওডপাপ
৪) সাস (বরিশাল বিভাগে এদের কার্যক্রম)
৫) হাসাব

***যে সকল এনজিও সমকামীদের স্বাস্থ্যগত সেবা দিয়ে থাকে-
১) আশার আলো সোসাইটি
২) মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ
৩) জাগরি
৪) ক্যাপ

***যে সকল সংগঠন সমকামীদের আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকে-
১) বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)
২) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

***যে সকল বিদেশী সংস্থা বাংলাদেশের সমকামীদের অর্থায়ন করছে-
১) ফ্যামিলি হেলথ্ ইন্টারন্যাশনাল
২) রয়েল নেদারল্যান্ডস এ্যাম্বেসি
৩) ইউনাইটেড নেশন পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)
৪) ‘হাতি’ প্রকল্প, বিশ্বব্যাংক
৫) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF)
৬) আরসিসি প্রোজেক্ট অব দি গ্লোবাল ফান্ড আইসিডিডিআর,বি 

*** সমকামী, ‘গে’ নামগুলো ব্যাপক বিতর্কিত হওয়ায় এরা নাম পরিবর্তন করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে এরা ব্যবহার করছে ‘এমএসএম’ নামটি। এমএসএম অর্থ - মেল টু মেল সেক্স। বাংলাদেশে সমকামীদের উস্কে দেওয়ার জন্য বিদেশী এনজিওগুলো কাজ শুরু করে প্রায় ২০ বছর আগে, ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে প্রায় প্রত্যেক জেলায় জেলায় এদের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এদেরকে দেখলে মনে হতে পারে এরা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কাজ করছে, কিন্তু বাস্তবে সেরকম নয়। 

*** এসব সংগঠনগুলো সমাজে প্রবেশ করতে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। যেমন
১) বিভিন্ন স্কুল-কলেছে ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠান করা,
২) বিভিন্ন দিবসে ছাত্রদের দিয়ে র‌্যালী করানো।
৩) এইডস বিষয়ে সচেতন করা
৪) বিভিন্ন সভাসমাবেশ করা, এমনকি ধর্মীয় মাহফিলের আয়োজন করা।
৫) বিতর্ক প্রতিযোগীতার আয়োজন করা।
৬) মাদক ও যৌতুক বিরোধী সভা করা
৭) উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কাজ করা
৮) নাচগান, নাটকসহ ও বিনোদন অনুষ্ঠান করা

*** পুরুষ সমকামী বা এমএসএম’দের নিয়ে এরা দুভাবে কাজ করে। 
১) ফিল্ড অফিস ভিত্তিক
২) ডিআইসি (ড্রপ ইন সেন্টার)। এদের বিভিন্ন জেলা ভিত্তিক কার্যক্রম থাকে। যেমন ‘খুলনা ডিআইসি’, ‘টাঙ্গাইল ডিআইসি’ ইত্যাদি।

প্রত্যেক অফিসের অনুকূলে কয়েকটি ক্রুজিং বা কর্ম এলাকা থাকে। এসব অফিসে জড়ো করে তাদের সমকামীতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট (পুরুষে পুরুষে যৌনকর্ম করতে পিচ্ছিল করতে পদার্থ) দেয়া হয়। প্রত্যেক অফিসে কনডম ডিপো স্থাপন করা আছে। এদের মানসিকভাবে শক্ত রাখতে নিয়মিত কাউন্সিলিং করা হয়।

অনেকে হয়ত ভাবতে পারে, এ সংগঠনগুলো সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে। আসলে ব্যাপারটা সে রকম নয়। এদের কাজগুলোকে ঠিক সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ বলা যায় না। মূলত এদের কাজ হচ্ছে সমাজে সমকামীতাকে ভাইরাল করা, অর্থাৎ পুরুষ পতিতা দিয়ে পুরুষ সমাজকে সমকামীতায় প্রলুব্দ করা, সমকামীতার বিস্তার ঘটানো। আপনি হয়ত আরো ভাবতে পারেন, বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আসলে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে নেই, অনেক দূর পর্যন্ত এরা শিকড় গেড়ে ফেলেছে। ‘লাইট হাউস কনসোর্টিয়াম’, ‘ডিআইসি’ ইত্যাদি কি-ওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে বুঝবেন, প্রত্যেক জেলায় জেলায় এরা কিভাবে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। সমকামীতা বাংলাদেশের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত হচ্ছে সরকারীকর্মকর্তা সহ নানান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। ফলে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ফুলে ফেপে ছড়িয়ে পড়ছে ‘সমকামীতা’ নামক জঘন্য বিষয়টি।

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কি-পয়েন্টে এরা কারা?


আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, ৯২ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা অধ্যুষিত একটি দেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে নেই। 
.
নিচের তালিকাটি কি আসলেই বাংলাদেশের নাকি অন্য কোন দেশের!

১. প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শ্যামল কান্তি ঘোষ।
.
২. পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব বজ্র গোপাল ভৌমিক।
.
৩. কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব অশোক কুমার বিশ্বাস।
.
৪. সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) যুগ্ম পরিচালক রতন কুমার রায়।
.
৫.সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) বিশেষজ্ঞ ড. উত্তম কুমার দাশ।
.
৬. ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার রায়।
.
৭. চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. পীযুষ কান্তি দন্ত।
.
৮. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র ঢালী।
.
৯. বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়্যারম্যান নারায়ন চন্দ্র পাল।
.
১০. ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ্র।
.
১১. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব অজিত কুমার ঘোষ।
.
১২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পতিত পাবন দেবনাথ।
.
১৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার।
.
১৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ।
.
১৫. শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্রী বনমালী ভৌমিক।
.
১৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস।
.
১৭. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার।

৯২% মুসলমানের এই দেশের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের গদিতে যদি এরাই বসে তাহলে পুরো দেশে দাংগা আর অরাজগতা সৃষ্টি হতে খুব অল্প সময় বাকি। বিষয়টা এখন পুরোপুরি পরিষ্কার।

◆ কারণ ইতিমধ্যে তারা...

→ ২য় শ্রেনীর বই থেকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে মহানবি সাঃ-এর সংগক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে...।
.
→ ৩য় শ্রেনীর বই থেকে খলিফা হযরত আবু বকর শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে...।
.
→ ৪র্থ শ্রেনীর বই থেকে খলিফা হযরত ওমর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে…।
.
→ ৫ম শ্রেনীর বই থেকে বিদায় হজ্জ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দেয়ার মত দুঃসাহস দেখিয়েছে…।
:
→ ৫ম শ্রেনীর বইয়ে এদেশের ইসলাম-বিদ্বেষী একজন কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক কবিতা অন্তর্ভূক্ত করেছে…।

যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরুধী কবিতা।
.
→ ৬ষ্ঠ শ্রেনীর বইয়ে সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে- মায়ের মত, তাই গরু জবাই করা ঠিক নয়; অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ।
.
→৭ম শ্রেনীর বইয়ে শরৎচন্দ্র চট্রপাধ্যায়ের ‘লালু’ নামক গল্প। যাতে শেখানো হচ্ছে হিন্দুদের কালিপুজাঁ ও পাঠাবলির কাহিনি।
.
→৮ম শ্রেনীর বইয়ে হিন্দুদের ধর্ম-গ্রন্থ ’রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ অন্তর্ভূক্ত করেছে…।

এরকম বলে শেষ করা যাবে না।
.
ණ পরিশেষে বলতে চাচ্ছি,
আপনার সন্তানদের জিম্মাদার আপনি নিজেই। সুতরাং, এখন থেকে এসকল ইসলাম বিরুধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে স্বচ্চার হোন। নয়ত, অদুর ভবিষ্যতে বড় অংকের মাশুল গুনতেই থাকবেন। কোন ফায়দার দেখা মিলবে না।
:



যারা আমার সোনার বাংলা পাঠ করে


যারা আমার সোনার বাংলা পাঠ করে ভাবে ভাবে গদগদ হয়ে চিন্তা করেন খুব দেশপ্রেম দেখালেন তারা কি অবগত যে রবীন্দ্রঠগ এই লিখা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লিখা ? 

১. দৈনিক দি নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে একটি চমৎপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে। কথাটি উঠেছে সামন্ত সুব্রামিয়ামের একটি লেখাকে উপলক্ষ করে “দেশ ভাগের আগে দেশভাগ”, ৩ অক্টোবর ২০১১। সূত্রে — বৃটিশরা মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে খেললো। ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে লর্ড কার্জন ঢাকায় বলেছিল, ‘ইস্ট বেঙ্গল হওয়ার ফলে মুসলিমরা এমন এক ঐক্যের স্বাদ পাবে যেটা তারা বহু আগে যখন মুসলিম রাজা বাদশার আমলে পেয়েছিল, কলকাতার জনগণ এ দিনটিকে শোক দিবস হিসাবে পালন করবে। কলকাতা শহরে প্রথম বাংলা ভাগের প্রতিবাদে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গাওয়া হয়েছিল। ১৯১১ সালে দুই বাংলা পুনরায় একত্রিত হয়েছিল, তবে তা ১৯৪৭ সালে পুনরায় ভাগ হওয়ার জন্য। নিউইয়র্ক টাইমসএর এই নিবন্ধের শেষ বাক্য: ইতিহাসের অনেক পরিহাস। তবে বঙ্গের অন্যতম পরিহাস হলো, ১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্বাধীনতা পেল আর তারা কিনা তাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে বেছে নিলো ‘আমার সোনার বাংলা’ র প্রথম দশ লাইন। সেটি ছিল রবীন্দ্রনাথের এমন একটি কবিতা, যা অবিভক্ত বাংলার চেতনায় অনুপ্রাণিত।
২. ১৯৯৯ সালের ২৭শে জুলাই “দৈনিক সংগ্রাম” পত্রিকার ‘জহুরী’ কলামে পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের এই ‘বাংলা’ নামবদল ঘটনার জটিলতা সে লেখাটিতেও ফুটে উঠেছিল। অনেক তথ্য যুক্তির মন্তব্যে সমৃদ্ধ বিশাল লেখাটির পর শেষের মন্তব্যটি ছিল “এ গান এপার বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিরুদ্ধেই রচিত হয়েছিল। ১৯০৫ সালে যে বীজ বপন করা হয়েছিল তা অঙ্কুরিত হতে সময় লেগেছিল বটে, আমরা একে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করে সাক্ষ্য দিলাম এপার বাংলা ওপার বাংলা একই বাংলা। এখন আর কিছুই করার নেই। তবে পথ একটাই খোলা আছে, তাদের গান তাদের জন্য ছেড়ে দেয়া। এ গানের বাংলা তাদের বাংলা। আমাদের বাংলা আবহমান কালের বাংলা। এ বাংলার জন্য নতুন গান রচনা করা। বলবেন আমাদেরটা দেশ ওদেরটা প্রদেশ। আমাদেরটা স্বাধীন সার্বভৌম ওদেরটা তা নয়। এসব যুক্তি চলবে না। আমাদের ভূখন্ডটা একসময় একটি দেশের প্রদেশ ছিল, পরে হয়েছে দেশ। নামে নামে জমে টানে। অদূর ভবিষ্যতে প্রদেশের রাহুগ্রাস থেকে কি দেশ বাঁচানো যাবে? এখনি তো গিলে গিলে অবস্থা। (উপরের কয়েকটি প্যারা টুকে দিলাম নাজমা মোস্তফার ‘একই ধর্ম একই ধারা’ গ্রন্থের, ১০৩-১০৫ পৃষ্ঠা থেকে, প্রকাশকাল জানুয়ারী ২০১২সাল)।

অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলা গান বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী গান। যে গানে সে অবিভক্ত বাংলা চেয়েছে। যে গানে সে বংগভংগের বিরোধীতা করেছে। যে গানে সে তার দেবী মায়ের প্রশংসা করেছে।
এমন একটি লিখনী কি করে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হতে পারে?
আমাদের দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ কি এতই ঠুনকো?
অবিলম্বে কাট্রা ইসলামবিদ্বেষী , বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী প্রথম রাজাকার রবিন্দ্রনাথের লিখনি বাদ দিয়ে মুসলিম লিখকদের লিখাকে জাতীয় লিখনী করা হোক।