- হোম
- রেডিও
- ইসলামিক পুস্তক.
- কওমি মাদ্রাসার নেসাব ভুক্ত উর্দু কিতাবাদি
- কওমি সিলিভাস ভুক্ত কিতাবাদি
- উর্দু ইসলামিক কিতাবাদি
- মাদানি নেসাবের কিতাব
- ইসলামিক Mp3 সং
- ওয়াজ নসিহত বয়ান
- কোরআন তেলোয়াত Mp3
- ভিডিও বয়ান ওয়াজ
- ভিডিও ইসলামিক সং
- ইসলামি গল্প
- ইসলামি ঘটনা
- চার ইমাম
- ইসলামি ইতিহাস
- মাসালা-মাসায়েল
- মাযহাব ও তাকলিদ
- প্রশ্ন উত্তর
- যোগাযোগ
- কোরআন এবং হাদিস
- আহলে হাদিস সমাচার
- গুণী মানুষের কিছু বানী
আধুনিক মাসালা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আধুনিক মাসালা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭
তারাবির হাফিজ সাহেবদের হাদিয়া বিব্রতকর বিভ্রান্তির নিরসন দরকার
রশীদ জামীল
Emran Hossain Adib
শুরুতেই বলে রাখি, ফতওয়া দেয়ার অধিকার মুফতিদের। সনদধারী মুফতি ছাড়া অন্য কারো তরফ থেকে ফতওয়া দেয়া একদিকে যেমন শরীয়তের দৃষ্টিতেও অনধিকার চর্চা, অপরদিকে আদালতের রায় অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধও। দেশের উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন সনদধারী মুফতি ছাড়া আর কেউ ফতওয়া দিতে পারবেন না। কিন্তু আজকাল যখন দেখি নন-মুফতি হযরতগণ বয়ানের মজমায় জোসের ঠেলায় স্পর্শকাতর হালাল-হারামের মাসআ’লায় ফতওয়া দিয়ে চলেছেন অবাধে, তখন ভাবি তারা কি জানেন, ভিকটিমদের যে কেউ হাইকোর্টে একটি রিট করে যদি বলে ‘অমুক আলেমের সনদ নেই ফতওয়া দেয়ার অথচ তিনি ফতওয়া দিয়ে আমার স্বার্থহানী ঘটিয়েছেন, পাশাপশি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন...’ তাহলে কী হবে!
.
‘তোমরা আমার আয়াতকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করো না’-আল্লাহপাকের এমন শক্ত আর সরাসরি নির্দেশনার পর রমযানে তারাবীহ’র নামাজ পড়ানো হাফিজদের হাদিয়া দেয়া বা গ্রহণ করা কেমন করে জায়েজ হয়? অথচ; সারাদেশের বেশিরভাগ মসজিদে এই নাফরমানি (!) চলছে। যেহেতু উলামায়ে কেরামের দায়িত্বই হচ্ছে মানুষকে নাফরমানি থেকে বাঁচানো, সেই লক্ষে কিছু আলেম সর্বশক্তি নিয়োগ করে মানুষকে বোঝাচ্ছেন। যারা একটু টানটুন দিয়ে ওয়াজ করতে পারেন, প্রফেশনাল ওয়াইজিনে কেরামের কথা বলছি, তারা দলিল-আদিল্লা দিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন যেনো ভুলেও তারাবীহ’র হাফিজদের হাদিয়া দেয়া না হয়। এতোবড় পাপ যেনো ভুলেও কেউ না করে। এমন যারা করছেন, ‘আল্লাহপাক তাদের জবানে আরো বরকত দিন’ এই দোয়া করব কি না-ভাবছিলাম। ভাবনারা হোঁচট খেলো আপাতদৃষ্ট অর্বাচিন সহসাঙ্গিক প্রাসঙ্গিকতায়। জানি অতি উৎসাহী সংশ্লিষ্টদের ভাল লাগবে না। কিচ্ছু করার নেই!
.
দুই
অবাক হই আমি! গূঢ় বিষয়াদিতে কারো কারো একপাক্ষিক রূঢ়তা আমাকে বিস্মিত করে! ‘তারাবীহ’র হাদিয়া’ বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় এ নিয়ে এর আগে আর কথা বলিনি। ঠিক করেছিলাম এ প্রসঙ্গে কথা বলব না। মাসআলা-মাসাঈল সংক্রান্ত ব্যাপার-সেপারে মুফতিগণই কথা বলবেন। কোথায় কী বলতে কী বলে বসে আবার গোনাহগার হই। কী দরকার! কিন্তু লক্ষ লক্ষ হাফিজদের পেছনে গুটি কতেক আলেম যেভাবে হামলে পড়েছেন, তাতে মনে হল এ জীবনে জেনে না জেনে পাপ তো আর কম করিনি! হাফিজদের নিয়ে কথা বললে যদি পাপ হয়, হয়ে যাক। আল্লাহ গাফুরুর রাহীম। প্রতি রমযানে দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদে লক্ষ লক্ষ বার আল্লাহর কালাম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করা ও শোনার এই ধারা অব্যাহত রাখবার স্বার্থে কথা বলে সমালোচিত যদি হতে হয়, গালি যদি খেতে হয়, খেলাম না হয়। ইদানীং লেখালেখির কারণে গালমন্দটা একটু বেশিই হজম করতে হচ্ছে।
.
জানিয়ে রাখি, লিখছি আমার বোধ থেকে। এটি একটি নিরীহ আর্টিক্যাল। কেউ যেনো এই লেখাকে ফতওয়া ভেবে বিভ্রান্ত না হন।
.
রমযান এলেই তারাবীহ’র নামাজ পড়ানো হাফিজদেরকে হাদিয়া দেওয়া ঠিক কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টিকে নিয়ে এমনভাবে ফতওয়াবাজি শুরু হয়েছে যে, এর প্রভাবে গোঠা সমাজ মারাত্নভাবে বিভ্রান্ত। সাধারণ মুসলমানরা চরমভাবে বিব্রত। আমি জানি না হাফিজদের হাদিয়া দেয়া বন্ধ করে দেয়ার পেছনে যারা জানবাজ সংগ্রাম শুরু করে অশেষ সওয়াব হাসিলের প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়েছেন, পাঁচ মিনিটের জন্য যদি ধরেও নিই এই হাদিয়া শরীয়ত পরিপন্থী, বাংলাদেশে কি এই একটাই খেলাফে শরীয়ত কাজ তাদের চোখে পড়ে? আর কিছু পড়ে না? আচ্ছা যারা এই বিষয়ে বড় বড় কথা বলছেন, তাদের অনেকের অনেক ব্যাপার যে অনেকেই জানে, এটা কি তারা জানেন? থাক, এখনই সেদিকে যেতে চাচ্ছি না।
.
তিন
তারাবীহ পড়ানো হাফিজদের হাদিয়া দেয়া না-জায়েজ।
কারণ কী?
কারণ হল, কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের বা খতমের বিনিময় নেয়া হারাম।
দলিল কী?
আয়াত তাদের ঠোঁটেই থাকে, “লা তাশতারূ বি-আ’য়াতী সামানান ক্বালীলা” (তোমরা আমার আয়াতকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করো না)।
.
-আচ্ছা পাঁচবেলা নামাজে যিনি ইমামতি করছেন, তিনি তো নামাজে কুরআন শরীফই তেলাওয়াত করছেন, নাকি? তাহলে ইমাম সাহেবকে টাকা দেয়া জায়েজ কেন?
-জবাবঃ ওটা তেলাওয়াতের বিনিময় হিশেবে নয়, নামাজ পড়ানোর বিনিময়ে। কারণ, উনারও পেট-পীঠ আছে।
-আচ্ছা ইমাম সাহেবেরটা বৈধ হলে হাফিজ সাহেবেরটা অবৈধ হবে কেন?
এরও জবাব তৈরি আছে। বলা হবে, ফুকাহায়ে কেরাম ঐক্যমত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে রেখেছেন ইমাম সাহেবদের বেতন-ভাতা দেয়া যাবে। জানতে চাই ফুকাহায়ে কেরাম ঐক্যমত্তের ভিত্তিতে কোথায় কখন বলেছেন তারাবীহ পড়ানো হাফিজদেরকে হাদিয়া দেয়া যাবে না! আমি চ্যালেঞ্জ করছি, হাদিয়া দেয়া বা নেয়া না-জায়েজ, এমন কথা হানাফি মাজহাবের কোনো কিতাবে একজন আলেমও বলেননি। কেনো তবে খামাখা এই বিভ্রান্তি ছড়ানো! হাদিয়া আর তারাবিহ'র বিনিময়কে গুলিয়ে ফেললে তো হবে না।
.
বলবেন, ইমামদের টাকা দেয়া না হলে পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে নামাজ পড়া যাবে না। ইমামকে বেতন না দিলে তিনি চলবেন কেমন করে? তাঁরও তো স্ত্রী-সন্তান আছে। সংসার আছে। আচ্ছা, হাফিজদের কি বিয়ে করা নিষেধ? তাদের কি স্ত্রী-সন্তান থাকতে নেই? আজব অনুভব!
.
জামাতে নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তারাবীহ্ওতো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তবে কেন আলাদা নিয়ম?
যুক্তির ভাণ্ডারে এরও যুতসই জবাব তৈরি করে রেখেছেন তারা। বলা হয়, তারাবীহ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিন্তু খতম তারাবীহ বাধ্যতামূলক নয়। কোন কারণে যদি হাফিজগণ তারাবীহ নাও পড়ান, সমস্যা নেই। ইমাম সাহেব আছেন। সুরা তারাবীহ চলবে।
মজার তথ্য হচ্ছে সুরা তারাবীহ’র বিনিময়ে হাদিয়া নেয়া তাদের দৃষ্টিতে জায়েজ। সুরা তারাবীহ’তে কী পড়া হয়? কুরআনের ছোট ছোট সুরাই তো, নাকি? ‘পুরো কুরআন শুনিয়ে হাদিয়া নেয়া নাজায়েজ কিন্তু কিছু অংশ শুনিয়ে পয়সা নেয়ায় দোষ নেই...’ আমি জানি না ঠিক এই কথাটি ত্রিশ পারা কুরআন অথবা সহী হাদিসের কোথায় লেখা আছে! আচ্ছা কিছু সময়ের জন্য মেনে নিলাম, আংশিক নয়, পুরো কুরআন তেলাওয়াত করার অপরাধ(!)করে ফেললে তাকে আর হাদিয়া দেয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় সকল মসজিদেই তো দু’জন হাফিজ মিলে ২০ রাকাত নামাজ পড়ান। তার মানে কেউই তো পুরো কুরআন খতম করছেন না। অর্ধেক তেলাওয়াত করেছেন। বলি সুরা তারাবীহ যে লজিক ফিট করে জায়েজ করা হল, এই লজিকখানা এখানে ফিট করতে বাধা দিল কে?
.
চার
যা আছে কপালে। শুরু যখন আজ করেই ফেলেছি, কিছু কথা তাহলে বলেই ফেলি। সমুদ্রে পেতেছি শয্যা শিশিরে ভয় পেয়ে লাভ নেই! যারা ফতওয়া দিচ্ছেন তারাবীহ’র হাফিজদের কোনো অবস্থাতেই হাদিয়া দেয়া যাবে না, তারা কিন্তু টাকার কথা বলছেন না। বলছেন বিনিময় দেয়া-নেয়া জায়েজ নয়। অবাক হব না কাছের আগামীতে এইসব অতি উৎসাহী আলেমদের যদি বলতে শুনি, “রমযানে তারাবীহ পড়াতে আসা হাফিজকে খাওয়ানোও যাবে না, কারণ, কোন মসজিদে যদি কয়েকজন হাফিজও তারাবীহ পড়েন তাহলে তাদেরকে মহল্লাবাসী খাওয়ায় না, খাওয়ায় শুধু তারাবীর হাফিজদের। তাহলে সন্দেহাতীতভাবেই প্রমাণিত হয় এই খাবার তারাবীহ’র বিনিময়েই খাওয়ানো হচ্ছে...।”
তাহলে কী করতে হবে?
জিজ্ঞেস করলে তারা হয়ত বলবেন, নিজের গাটের পয়সায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে হাফিজকে তারাবীহ পড়াতে আসতে হবে। হোটেলে রোম করে থাকতে হবে আর নিজের পয়সার রেস্টুরেন্টে খেতে হবে! কিছুই আর অসম্ভব মনে হচ্ছে না আমার কাছে।
.
পাঁচ
সাম্প্রতিক কিছু বছর থেকে লক্ষ করছি রমযান এলেই তারাবীহ’র হাফিজদের হাদিয়া প্রদানের বিরুদ্ধে কিছু সংখ্যক সম্মানিত আলেম খুব শক্ত অবস্থান গ্রহণ করছেন। কোন অবস্থাতেই তারা মেনে নিতে চান না হাফিজরা কিছু পয়সা পেয়ে যাক। পরিষ্কার ভাষায় বলছি, এটা যতটা না শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গিজনিত তাগিদ থেকে, তারচে’ বেশি জেলাসি মনোভাবের কারণে। এদেশে শরীয়ত পরিপন্থি হাজার হাজার সমস্যা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। সমস্যা তাদের নজরে এই একটাই, তারাবীহ পড়ানো হাফিজদের হাদিয়া দেয়া। আমি জানি না দেশের দশ লক্ষ হাফিজ এই আলেমদের কোন্ বাড়া ভাতে ছাই দিল যে, এদের পিছে তাঁরা এভাবে লাগলেন!
.
যারা ৩০ পারা কুরআন হিফজ করেছে, হাফিজ নয়-এমন যে কারো থেকে তারা সন্দেহাতীতভাবে উত্তম। পবিত্র কুরআনকে আল্লাহপাক কোনো বক্তা বা মুফতির কাছে রক্ষিত রাখেননি। রেখেছেন হাফিজে কুরআনের বুকে, ভালবাসার অক্ষরে খুদাই করে। এই অর্থে লাওহে মাহফুজ আর হাফিজে কুরআনের বুক’র মধ্যে রূহানী একটি সাদৃশ্য বিদ্যমান। উচিত তো ছিল বিজ্ঞ আলেমদের, কুরআন যারা বক্ষে নিল, সেই হাফিজদের বেশি বেশি করে হাদিয়া-তুহফা দেয়ার ফাজাইল বয়ান করা। এটা কুরআনের তা’জিমেই করা দরকার ছিল। সেটা তো তারা করছেনই না বরং কীভাবে এতোগুলো হাফিজকে আর্থিকভাবে আরো বেশি কোনঠাসা করা যায়, এই ফিকিরে মগ্ন! লক্ষ-কোটি মুসলমান ৩০ পারা কুরআন এর বিশুদ্ধ তেলাওয়াত, তাও নামাজে, তাও আবার রমযানে, এই হাফিজদের কল্যাণেই শুনে আসছে, এটা তাদের মনতশির যেহেনে স্থান পায় না!
.
কুরআনের দুশমনরা কুরআনকে নিশ্চিহ্ণ করার সবরকম চেষ্টা করেই ব্যর্থ হয়েছে। ১৮৬৪-৬৭, তিন বছরে তিন লক্ষ কপি কুরআন পুড়িয়েছে ইংরেজ। কিছুই করতে পারেনি। কুরআন স্বমহিমায় দ্বীপ্য থেকেছে।
.
দু’টি অবস্থানকে টার্গেট করে সফল হওয়া গেলে পৃথিবীতে কুরআন আর থাকবে না।
এক. লাওহে মাহফুজ।
দুই. হাফিজে কুরআন।
যেহেতু প্রথমটিতে আঘাত হানার ক্ষমতা নেই, অতএব অপারেশন চালাতে হবে এই দ্বিতীয়টিতেই। হাফিজদের হাদিয়া প্রদান নাজায়েজ বানিয়ে দিতে পারলে আস্তে আস্তে হাফিজ তৈরির কারখানাগুলো ছোট হয়ে আসবে। হাফিজরা হবে সমাজের বোঝা। কেউ আর হাফিজ হতে চাইবে না। কোনো বাবা আর তার ছেলেকে নিয়ে হাফিজিয়া মাদরাসার দিকে যাবে না। আর এভাবেই কুরআনকে পৃথিবীর বুক থেকে...
হাফিজদের হাদিয়ার বিরুদ্ধে যারা অতি উৎসাহী, তারা অপরিনামদর্শী মনোভাবের কারণে কুরআন বিদ্বেষী দেশি-বিদেশি কোনো গোষ্টীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের ব্যবহৃত হয়ে যাচ্ছেন কিনা অর্থাৎ তাদের এই কর্মকাণ্ড ওদের প্লানিংকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে কিনা, ইতোমধ্যে অনেকেই সেটা সন্দেহ করতে শুরু করেছে।
.
ইসলামের নামে দু’টি পক্ষ আছে। সকল যুগেই ছিল। কিছু আছেন ইসলামের নামে ‘মার’ খানেওয়ালা আবার কিছু আছেন ইসলামের নামে ‘মাল’ খানেওয়ালা। মাল খানেওয়ালারা কথা বলেন মাইন্ডসেট থেকে। বিস্মিত হই! নিজে চালনী হয়ে যখন সূই’র ছিদ্র নিয়ে কথা বলাহয়, তখন ভাবি, বোধগুলো সব কোথায় হারিয়ে গেল! দ্বীনি কথাবার্তা বলার বিনিময়ে নিজেরা প্রতিদিন ৩০/৪০ হাজার টাকা কামালে সেটা ঠিক আছে, ঠিক নেই শুধু গরিব ঘরের এক কুরআনে হাফিজ বছরে একবার সারা মাসে ১৫/২০ হাজারটা টাকা পেয়ে গেলে! তাও তাদের মতো কন্টাক করে নয়, মানুষের ভালবাসায়, স্বেচ্ছায়... পরিষ্কার ভাষায় বলছি, হাফিজদের বিরুদ্ধাচরণকে এদেশের মুসলমান কুরআনের বিরুদ্ধাচরণের ড্রেস রিহার্সেল হিশেবেই ভাববে। আর এমনদেরকে জাতি বরদাশত করবে; ভাবা ঠিক হবে না।
.
ছয়
বলা হবে আবেগি কথা দিয়ে শরীয়ত চলে না। আল হালালু বাইয়্যিন, ওয়াল হারামু বাইয়্যিন। সত্য-মিথ্যা সুস্পষ্ট। জানি তো। আর তাই অতি উৎসাহী যারাই হাফেজদের পেছনে লেগেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বিনয়ের সাথে বলছি, আপনারা যে যতবড় আল্লামাই বনে বসে থাকেন, আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আপনাদেরকে আমরা আশরাফ আলী থানবী থেকে বড় আলেম মনে করি না। থানবী রাহ. তো হাফিজদেরকে হাদিয়া দেয়া যাবে-বলেছেন। থানবী রাহ. বলেছেন- চুক্তি করে তারাবীহ’র বিনিময় নেয়া হালাল নয় কিন্তু মানুষ যদি কুরআনের মহব্বতে হাফিজে কুরআনের সম্মানার্থে হাদিয়া-তোহফা হিসাবে কিছু দেয় তাহলে সেটা কেবল বৈধই না; বরং এমন হাদিয়া দাতারা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি প্রতিদান পাবে।
.
তাহলে কথা পরিষ্কার। তারাবীহ’র বিনিময়ে চুক্তি করে পয়সা নেয়া যাবে না। এমনটি তো কোথাও করাও হয় না। এ কথাতেও কারো দ্বিমত নেই যে, তারাবীহ’র বিনিময় দেয়া ঠিক না। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটে? সব মসজিদেই মুসল্লিদের পক্ষ থেকে হাফিজদেকে স্বেচ্ছায় হাদিয়া দেয়া হয়। হাফিজ সাহেবও বিনিময় চান না আর মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও বলা হয়, জনাব, আমাদের তরফ থেকে এটি সামান্য হাদিয়া। এটা তারাবীহ’র বদলা নয়। দয়াকরে গ্রহণ করুন। আমি বুঝতে পারি না এখানে সমস্যাটা ঠিক কোথায়?
.
আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী ছিলেন এদেশের আহলে হক্ব আলেমদের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছিলেন একজন চৌকষ আলেম। তিনি কিন্তু তারাবীহ’র হাফিজকে নিজে পয়সা উঠিয়ে দিয়েছেন। গহরপুরী হুজুর রাহ’কে আমরা দেখেছি তারাবীহ’র হাফিজদের হাদিয়া দিতে। বলতে শুনেছি, “হাফিজদের মন খুলে দান করো। আল্লাহ খুশি হবেন।” স্বীকৃত প্রায় সকল আলেমকেই দেখেছি হাদিয়ার পক্ষে। আজকাল যারা বাংলা-উর্দু মিলিয়ে কয়েকটি কিতাব পড়ে আল্লামা বনে গেছেন, তাদের খেদমতে আমার জিজ্ঞাসা, সাধারণ মুসলমান কাকে মানবে? থানবী, বায়মপুরি, গহরপুরিদের কথা, নাকি এ যুগের এই আপনাদের! কী মনে করেন? তারা কিতাব বুঝেননি? তারা ভুল করেছেন? তো বুকে সততার এতোই যদি সাহস থাকে, তাহলে একবার বলুন না, আশরাফ আলী থানবী’র মতো মাওলানা কিতাব বুঝেননি, আপনি/আপনারা আল্লামা হয়ে বুঝে ফেলেছেন, আপনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত হই!
.
আর যদি বলেন, কোন আলেমের কথা বা কাজ শরীয়তের দলিল হতে পারে না, তাহলে কী করে আশা করেন আপনাদের কয়েকজনের কথাকে এদেশের মুসলমান দলিল হিশেবে গ্রহণ করে নেবে!
যাদের বুকে আল্লাহ পাক তাঁর কালাম শরীফ আমানত রেখেছেন, তারা অবশ্যই তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ, যাদের বুকে কুরআন নেই। যথেষ্ট জেনে বুঝে এবং দায়িত্ব নিয়েই বলছি, হাদিসের সবগুলো কিতাব যদি কোনো আলেম মুখস্ত করে সত্যিকার হাফিজুল হাদিসও হয়ে যান কখনো, আল্লাহর কসম তাঁর অবস্থান একজন হাফিজে কুরআনের উপরে মনে করব না আমরা। আমরা হাদিসকে কোনো অবস্থাতেই কুরআনে কারীমের উপরে তরজীহ দিতে রাজি হব না।
.
বললে তো বড় কথা বলা হয়ে যাবে। খতমে বোখারির বিষয়ে কিছু বলা যাবে না কারণ, এটা ইমাম-মুয়াজ্জিন মার্কা খতম নয়। এই খতম মুহাদ্দিসীনে কেরামের খতম। এ বিষয়ে কথা বললে বেয়াদবি হবে। যে কারণে কুরআন খতমের হাদিয়া ১০০ টাকা আর বোখারি খতমের বেলায় আগাম কন্টাক্ট পার হেড ২ হাজার হলেও বেয়াদবি হয়ে যাবার ভয়ে আমরা চুপ থাকি। কথা বলি না। আমরা কখনো প্রশ্ন তুলি না এতে করে কি কুরআনে করীমের উপরে হাদিসকে মূল্যায়িত করা হয়ে যাচ্ছে না! ইমাম বোখারি কত হিজরিতে বোখারি শরীফ লিখেছিলেন, তখন কোনো একজন সাহাবী জীবিত থাকবার সম্ভাবনা ছিল কি না, আর নবী ও সাহাবী থেকে সাবিত নেই-এমন আমল করাকে আকাঈদের ভাষায় কী বলা যায়-এসব নিয়ে আমরা কথা বলি না। মনে মনে মনকে বলি, সম্ভবত আমার উর্ধতন কারো কর্মকাণ্ড নিয়ে কিয়ামতের মাঠে আমাকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে না। নবী যদি জিজ্ঞেস করেন আমি আমার রক্তরাঙা বাণীগুলো তোমাদের কাছে গচ্ছিত রেখে এসেছিলাম এগুলো দিয়ে মানুষকে কুরআনের পথে নিয়ে আসবে বলে, বলো দেখি আমার হাদিসকে তোমরা কে কীভাবে কাজে লাগিয়েছো? তখন কে কী করেছেন, সে জবাব তিনিই দেবেন। কার কী!
.
সাত
ওয়াজের মার্কেট রমরমা-এমন বক্তারাও আজকাল হাফিজদের হাদিয়ার বিরুদ্ধে ‘জিহাদ বিল মাইক উইথ হাদিয়া’ শুরু করেছেন! তাদের উদ্দেশ্যে বিনয়ের সাথে আরজ করি, বাংলাদেশে যদি বয়ানের মওজুর এতোই আকাল পড়ে যায় যে, আর কিছু না পেয়ে নিরীহ হাফিজদের পেছনে লাগতে হয়েছে, তাহলে আমাদের জানান। আমরা আপনাদেরকে বিষয় সাজেস্ট করি। দশ লক্ষ গরিব হাফিজদের রিযিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। সদয় অবগতির জন্য মনে করিয়ে দিই, তারাবীহ যারা পড়ান, এদের অধিকাংশই গরিব হাফিজ। এদের অনেকের ফ্যামিলিই তাদের উপর নির্ভরশীল। বিশ্বাস করুন এদের ডায়েরী ওয়াজ মাহফিলের তারিখ দিয়ে ভরা থাকে না। আগাম বায়না নিয়ে নসিহত বাণিজ্য করার ক্ষমতা নিয়েও তারা জন্মাননি। আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের পিঁছু ছাড়েন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবেন।
.
একবার ভাবুন, জানতে চেষ্টা করে দেখুন তারাবীহ’র পেছেনে এক একজন হাফিজের কত মেহনত কাজ করে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তেলাওয়াত করতে হয় তাদের। জোহরের নামাজের পর থেকে আসর পর্যন্ত আবার তেলাওয়াত। সঙ্গতকারণেই পেটে ক্ষিধা নিয়ে। আসরের পর মসজিদে তেলাওয়াত শোনানো। মাগরিবের পর থেকে এশার আযান পর্যন্ত নাকে-মুখে প্রস্তুতি। তারপর বিশ রাকাত নামাজ পড়ানো... একদিনের তারাবীহ’র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নামাজ পড়ানো পর্যন্ত তাদের শরীর থেকে যত ফোটা ঘাম ঝরে, আমার তো মনে হয় সেই ঘামে আপনারা ভালভাবেই তিনবেলা অজু সেরে ফেলতে পারবেন। এই যে পরিশ্রম, এতো যে ঘাম ঝরানো, সেই মেহনত আর ঘাম ঝরানোর পর সাধারণ সৌজন্যবোধ থেকে আমরা যদি খুশি হয়ে তাদেরকে কিছু হাদিয়া দিই, আর এতে করে যদি আপনাদের দৃষ্টিতে মহা অন্যায় কিছু হয়ে যায়, হয়ে যাক। আমরা থানবী রা.দের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তেই আস্থা রাখতে চাই। রমযানের এই গরমে আমাদেরকে বেশি সওয়াবের ভাগ দেবে বলে আমার হাফিজ ভাইরা যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, তার জবাবে আমরা যদি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সামান্য কিছু হাদিয়া তাদের হাতে তুলে দিতে পারি, আর সে কারণে যদি কিছু আলেম নারাজও হয়ে যান, মুসলমানদের কিছুই যায় আসে না।
.
আট
একটু আগে বলছিলাম, বয়ানের জন্য বিষয়বস্তুজনিত সংকটে ভোগলে আমরা বিষয় দিয়ে হেল্প করতে পারি। আপাতত পবিত্র কুরআনে একটি আয়াতকে সাজেস্ট করি। সুস্পষ্ট আয়াত। আল্লাহপাক নবী-রাসূলগণকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন মানুষকে নসিহত করে আল্লাহর দিকে নিয়ে যাবেন বলে। নবীগণ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করে গেছেন। আর বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আলেমগণ হলেন নায়েবে নবী বা নবীগণের ওয়ারিস। আলেমরা নবীদের রেখে যাওয়া কাজ করে যাবেন নবীগণের তরিকায়। এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই আলেমকে সত্যিকারের নায়েবে নবী বলা যাবে কি না- এই ফতওয়া দেয়ার ভার মুফতিগণের উপর ন্যস্ত রেখেই এতদসংক্রান্ত পবিত্র কুরআনের আয়াতটি সামনে আনছি। নবীগণ আম জনতাকে নসিহত কীভাবে করতেন, সেটার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহপাক সুরায়ে হুদ এর ৫১ নং আয়াতে বলেছেন, “ইয়া কাওমী লা আসআলুকুম আলাইহি আযরা, ইন আযরিয়া ইল্লা আলাল্লাজি ফাতারানী, আফালা তা’ক্বিলূন...”। নবীগণ তাদের জাতিকে ওয়াজ করতেন আর বলতেন, (হে আমার জাতি! এই যে তোমাদের ওয়াজ করছি, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে তো কোনো বিনিময় চাইছি না। বিনিময় কিছু পেলে সেটা তাঁর কাছেই পাব যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, কেন তবে বুঝতে চেষ্টা করছো না!) যেহেতু আলেমগণ নায়েবে নবী, সুতরাং ওয়াজ-নসিহতের এই সূত্রটা তাদের বেলায়ও সমানভাবে কার্যকর। টাকার বিনিময়ে নসিহত বা আরেকটু এডভান্স হয়ে দেশে হলে টাকায় আর বাইরে হলে ডলারে, আগাম বিল আদায় করে করে মাইকে সুন্দর সুন্দর কথা বলা, এটা কীভাবে কী- আশাকরি সংশ্লিষ্টরা একটু সবিস্তারে ব্যাখ্যা করবেন।
.
এমন তথ্যও তো আমাদের হাতে আছে, এডভান্স ডলার প্রদানের শর্তে এবং এডভান্স পেমেন্টের ভিত্তিতে নসিহত পেপারে সাইন করেন কেউ কেউ। কিন্তু আগাম ডলার নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে প্রোগ্রামেও যান না পয়সাও ফেরত দেন না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়েই কথাটি বললাম। সংশ্লিষ্ট কেউ চ্যালেঞ্জ করলে দাগ-খতিয়ানসহ প্রমাণ করে দেয়া যাবে।
.
নয়
শেষ কথাটি বলে নিই। হাফিজে কুরআনগণ হলেন আল্লাহর বিশেষ মনোনিত কিছু লোক। চাইলেই কারো ক্ষমতা নেই পুরো কুরআন মুখস্ত করে ফেলতে পারে। যারা পেরেছে, সন্দেহ নেই তাদের প্রতি মহান মা’বুদের বিশেষ করুণাদৃষ্টি ছিল বলেই এটা তারা করতে পেরেছেন। আর আল্লাহপাক তার কালামকে যে বুকে আমানত রেখেছেন, আমরা যারা হাফিজ নই, আমাদের থেকে সেই বুকওয়ালারা অসংখ্য গুণ বেশি দামি। চলুন তাদেরকে সেই বুকটির খাতিরে অন্তত সম্মান করি, যে বুকে রয়েছে ৩০ পারা কুরআন। ফতওয়ার মারপ্যাঁচে ফেলে কীভাবে তাদেরকে আরো বেশি কোনঠাসা করা যায়, তার পেছনে মেহনত না করে বরং কীভাবে এই লোকগুলো সমাজে আরেকটু ভালভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সেদিকে মনোনিবেশ করি। আর বিজ্ঞ মুফতিয়ানে কেরামের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে বলি, যতদূর জানি ইজমা’র দরজা তো বন্ধ হয়ে যায়নি। গুরুত্বসহকারে বসে এই বিষয়টির ব্যাপারে পজিটিভ অ্যাঙ্গেলে একটি ফায়সালায় চলে আসুন। অহেতুক এই বিতর্ককে জিইয়ে রাখলে দিন দিন এটির শাখা-প্রশাখা গজাবে। সেটি নিশ্চয় আগামীর জন্য সুখকর হবে না।
[বন্ধুদের অনুরোধে পূণঃ প্রকাশিত]
মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭
দাড়ি কাটা দাড়ি ছাঁটা কিছু ভ্রান্তি কিছু বিভ্রান্তি
দাড়ি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি সব নবীর সুন্নত। সব নবীরই দাড়ি ছিল। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ''দশটি বিষয় ফিতরতের অন্তরর্ভুক্ত। মোচ ছোট করা, দাড়ি লম্বা করা...(সহীহ মুসলিম, হা.২৬৩)
হাদীসে উল্লেখিত এই ফিতরতের অর্থ কি? উলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন ফিতরত হচ্ছে সুন্নাহ অর্থাৎ সব নবীর সুন্নাহ এবং সব শরীয়তের সর্বম্মত বিধান যা আকড়ে ধরার জন্য আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে। (শরহু মুসলি, নভভী: ৩/১৪৮; মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ৪/১৫৫)
একজন মুসলমান দাড়ি রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য উপরোক্ত হাদীসটিই যথেষ্ট। দাড়ি সব শরীয়তের বিধান সব নবীর সুন্নাহ, কোনো মুসলমান এটা জানার পর কি দাড়ি ছাঁটাই করতে কিংবা মুণ্ডাতে পারে! উপরন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দাড়ি রাখার সুস্পষ্ট আদেশ বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত নবীজী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ''তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর; দাড়ি বাড়াও এবং মোচ ছোট কর। (সহীহ বুখারী, হা.৫৮৯২; সহীহ মুসলিম, হা.২৬২)
হায়! নবীজী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে মুশিরকদের বিরোধিতা করতে বলেছেন সেখানে আমরা তাদের কালচার এবং ফ্যাশনকেই প্রদান্য দিচ্ছি। শুধু তাই নয় আমাদের এমন গর্হিত কাজের পক্ষে সাফাই পেশ করছি যে, এটা তো সুন্নত; ফরজ ওয়াজিব তো নয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাদের কথা অনুযায়ী বাস্তবে যদি এটা শুধু সুন্নতই হতো তবুও কি একজন প্রকৃত মুসলামের পক্ষে একথা বলা সম্ভব যে, এটা তো সুন্নত তাই পালন করা জরূরী নয়! আর সমস্ত নবীদের সর্ব সম্মত সুন্নতের বিষয়টি তো আরো গুরুত্বপূর্ণ।
দাড়ি সুন্নত, এটা ঠিক। কিন্তু সুন্নত শব্দের অর্থ কি কি তা তো জানতে হবে। এক হচ্ছে ফিক্বহী সুন্নত যা ফরজ ওয়াজিবের বিপরিত আরেকটি হচ্ছে শাব্দিক অর্থে সুন্নত কিন্ত ফিক্বহী দৃষ্টিতে তা ফরজ কিংবা ওয়াজিবও হতে পারে। দাড়ি সমস্ত নবীদের সুন্নত অর্থাৎ তাদের রীতি তাদের অভ্যাস এই অর্থে সুন্নত বলা হয়েছে। কিন্তু ফিক্বহী দৃষ্টিতে তা ওয়াজিব। কেননা অসংখ্য হাদীসে দাড়ি রাখার আদেশ করা হয়েছে তাই এটা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে উপরোক্ত হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসে দাড়ি লম্বা করার আদেশ দেয়া হয়েছে। যেমন হযরত ইবনে উমরের রা. এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
انْهَكُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬০)
সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৮৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬২০ এ ইবনে উমর রা. এর সূত্রে অপর বর্ণনায় এসেছে-
وَأَوْفُوا اللِّحَى
এসকল বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে দাড়ি লম্বা করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে দাড়ি রাখার গুরুত্ব সুস্পষ্ট। প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি দাড়ি লম্বা হতেই থাকবে? দাড়ি বিলকুল কাটা যাবে না। তখন তো খুবই বিশ্রি দেখা যাবে!
না, বিষয়টি এমন নয়। সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীস নং-৫৮৯২ এর শেষে উল্লেখ হয়েছে, ''হযরত ইবনে উমর রা. যখন হজ্জ বা উমরা করতেন, একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়িগুলো কেটে ফেলতেন।''
হযরত আবু হুরায়রা রা.ও এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়িগুলো কাটতেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিমের উসতায ইবনে আবী শাইবাহ রহ. এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল মুসান্নাফ’ (১৩/১১২) এ বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এভাবে, ''হযরত অাবু হুরায়রা রা. দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করতেন অত:পর এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলতেন।
এছাড়াও ক্বাতাদাহ, হাসান বাসারী, ইবনে সিরীন, আতা, তাউস, ক্বাসিম প্রমুখ তাবেয়ীগণ এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়িগুলো কাটতেন, এ মর্মে আছার বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: ১৩/১১২-১১৩
শুরুতে উল্লেখিত বিভিন্ন হাদীসে আমরা দাড়ি লম্বা করার আদেশ পেয়েছি কিন্তু এর বিপরিত সাহাবা ও তাবেয়ীনদের আমল পেলাম, তারা এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়িগুলো কেটেছেন। যেমন ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রা. এর আমল। সাহাবায়ে কেরাম রা. নবীজীর আদেশের বিপরিত আমল করবেন এটা কল্পনাও করা যায় না। ইবনে উপর রা. তো নবীজীর এতো বেশি অনুসরণ করতেন যে, কেউ দেখলে মনে হবে লোকটি কি মাজনুন? (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ৩/২১৩)
সুতারাং নিশ্চয় তারা নবীজী থেকে এই মর্মে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন যে, একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কাটা যাবে।
প্রশ্ন হলো সেই নির্দেশনাটি কোথায় বা নবীজী দাড়ি কেটেছেন এমর্মে কোনো হাদীস থাকলে সেটি কোথায়? হ্যাঁ, আছে। তিরমিযি শরীফে (হাদীস নং ২৭৬২, ২৯১২) হযরত আমর ইবনুল আস রা. এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ''নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধৈর্ঘ্যে-প্রস্থে দু’দিকে তাঁর দাড়ি কাটতেন।''
সনদের বিচারে হাদীসটি দুর্বল। ইমাম তিরিমিযি রহ. ‘হাযা হাদীসুন গারীবুন’ বলে এদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
সোমবার, ১২ জুন, ২০১৭
প্রশ্ন সকল নারীরা তাদের স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী?
একজন প্রশ্ন করেছে -আল্লাহ নাকি স্বামীর পাজরের হার দিয়ে স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন , তাহলে যাদের ডিভোর্স হয়ে অন্য কোথাও বিয়ে হয় তাদের ব্যাপারটা কি মানে তাহলে ঐ মেয়েকে কয়জনের পাজরের হার দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ? একটু বুঝিয়ে বলবেন কি??
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমে এ সংক্রান্ত হাদীসটি দেখে নেইঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ لَنْ تَسْتَقِيمَ لَكَ عَلَى طَرِيقَةٍ، فَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَبِهَا عِوَجٌ، وَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا، كَسَرْتَهَا وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নারীকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সে তোমার জন্য কখনোই সোজা হবে না। তার দ্বারা কাজ আদায় করতে হলে এই বাঁকা অবস্থায়ই আদায় করতে হবে। এটি সোজা করতে গেলে ভেঙ্গে যাবে। ভাঙ্গার অর্থ হল তালাক ঘটে যাওয়া। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৪৬৮]
হাদীসে নারীদের পাজরের হাড় দ্বারা তৈরীর কথা এসেছে। কিন্তু কার পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে? তা হাদীসে বর্ণিত হয়নি।
সুতরাং না বুঝার কারণে অনেকে মনে করেন, স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে স্ত্রীকে তৈরী করা হয়েছে।
একথাটি সম্পূর্ণ গলদ।
একথার কোন ভিত্তি নেই।
হ্যাঁ, হযরত হাওয়া আলাইহিস সালামকে হযরত আদম আঃ এর পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। একথা সত্য।
কিন্তু এর মানে সকল স্ত্রীলোককে তার স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী করার দাবীটি অযৌক্তিক ও বানোয়াট।
একেতো এর পক্ষে কোন দলীল নেই। দ্বিতীয়ত এটি যুক্তিহীন কথা। কারণ, যে সকল মেয়ে বাচ্চা শিশুকালেই মারা গেছে, বা বিবাহ ছাড়াই মারা গেছে, তাদের কার হাড় দিয়ে তৈরী করা হল?
তাদেরতো স্বামীই ছিল না দুনিয়াতে। তাহলে?
সুতরাং স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী করা হয়েছে স্ত্রীদের এ দাবীটিই যেহেতু ভুল। তাই আপনার উপরোক্ত প্রশ্নেরই আর কোন যৌক্তিকতা বাকি থাকে না।
হাদীসটির ব্যাখ্যা কী?
হাদীসে যে পাজরের হাড় দিয়ে তৈরীর যে কথা বলা হয়েছে। এর দ্বারা দু’টি উদ্দেশ্য হতে পারে। যথা-
১
এটি কেবলি একটি উপমা। সত্যিই পাজরের হাড় দ্বারা তৈরী হওয়া উদ্দেশ্য নয়। নারীদের একটি সৌন্দর্য হল, তারা সাধারণতঃ একটু কথায় আচরণে বাঁকা স্বভাবের হয়ে থাকে। এটি সর্বক্ষেত্রে তাদের দোষ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সৌন্দর্য।
২
নারীরা বাবা আদম আঃ এর পাজরের হাড় দ্বারা তৈরী। স্বামীর পাজরের হাড় দ্বারা নয়। [তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম-১/১৩৭-১৩৮]
বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭
শরয়ী মানদণ্ডে “ডিজিটাল ছবি ভিডিও ও টেলিভিশন”
জামিয়া দারুল উলুম করাচী ,পাকিস্তান ৷
এই ফাতওয়ায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে:
১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মতামত।
২. ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে ডিস্ক ও সিডিতে ধারণকৃত দৃশ্যের হাকিকত।
৩. বর্তমানে টিভির শরয়ী বিধান।
**************************
প্রথম অধ্যায়:
১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে ফুকাহায়ে কিরামের মতামত-
প্রাণীর ছবি বানানো ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম এই হুকুম অসংখ্য সহীহ হাদীস, সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবেয়ীগণের বক্তব্য ও আমল দ্বারা প্রমাণিত। তাই চার মাযহাবের ইমামগণ এবং ফুকাহায়ে কিরাম একান্ত প্রয়োজন ব্যতীরেকে প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার উপর ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। তবে বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে কিছু মতানৈক্য পাওয়া যায়।
ফুকাহায়ে কিরামের মতামতের সারসংক্ষেপ হতে তিন ধরনের ছবির বর্ণনা পাওয় যায়।
১. দেহবিশিষ্ট বা ত্রিমাত্রিক ছবি
২. দেহবিহীন বা অংকিত ছবি।
৩. ফটোগ্রাফী ও ডিজিটাল ছবি।
*******************************
দেহবিশিষ্ট ছবি-
এমন ছবি, যাতে কোন প্রাণীর জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় অঙ্গসমূহ বিদ্যমান রয়েছে এবং একেবারে ছোটও নয় ও খেলনা জাতীয় পুতুলও নয়। এ জাতীয় ছবি বানানো ও ব্যবহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরাম ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। এত কারো কোন দ্বিমত নেই।
***********************************
দেহবিহীন ছবি-
এমন ছবি যা কাগজ কিংবা কাপড়ে অংকিত এবং যার প্রকৃত কোন ছায়া নেই। এ জাতীয় ছবির ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতানৈক্য বিদ্যমান।
জমহুর ফুকাহায়ে কিরামের নিকট এমন ছবিও নাজায়েয। ইমাম মালেক রহ. হতে এ ব্যাপারে দ্বিমুখী বর্ণনা পাওয়া যায়।
মালেকী মাযহাবের মুহাক্কিক আলেমদের মধ্য হতে আল্লামা ইবনুল কাসেম মালেকী, আল্লামা ইব্বী মালেকী, আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মাওয়াক্ব, আল্লামা মুহাম্মদ আল উলাইশ আল মালেকী প্রমুখ এমন ছবি জায়েয হওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এমনিভাবে হাম্বলী মাযহাবেও এ ব্যাপারে দ্বিমুখী বর্ণনা পাওয়া যায়।
হাম্বলী মাযহাবের মুহাক্কিক আলেম আল্লামা ইবনে কুদামা রহ. তার কিতাব المغنى:৭/২১৫، ১০/২০১ এর মধ্যে এবং ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তার কিতাব فتح البارى:১০/৩৮৩،৩৮৮ এর মধ্যে হাম্বলী মাযহাবের বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, হাম্বলী মাযহাবের কাপড়ের উপর অংকিত ছবি হারাম নয়। এছাড়াও আল্লামা আবুল হাছান আলী বিন সুলাইমান আল মুরদাবী রহ. আল্লামা শাইখ ইবনে উকাইল, আল্লামা ইবনে হামদান হাম্বলী প্রমূখ এমনই মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এরূপভাবে মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাব ছাড়াও সালফে সালেহীনের মধ্যে হতে আল্লামা কাসেম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর রহ. সহ সাহাবী এবং তাবেয়ীদের কারো কারো থেকে ছায়া বিশিষ্ট ছবি এবং ছায়া বিহীন ছবি এর মাঝে পার্থক্য করার বর্ণনা পাওয়া যায়।
****************************
ফটোগ্রাফী বা প্রিন্টকৃত ছবি-
এমন ছবি যা হাত দ্বারা বানানো নয়, বরং ক্যামেরার মাধ্যমে তৈরিকৃত। এ পার্থক্যের কারণে বর্তমান সময়ের কতিপর আলেম এ জাতীয় ছবিকে নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভূক্ত করেননি, বরং তা জায়েয বলে উল্লেখ করেছেন।
যেমন আরবের বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্য হতে আল্লামা মুহাম্মদ ইবনু সালেহ আল উসাইমিন, আল্লামা শাইখ ছালুস, শাইখ আহমাদ আল খতীব উস্তাদ আহমদ মুহাম্মদ জামাল, শাইখ মুহাম্মদ আল খিজির হুসাইর (শাইখে আযহার) আল্লামা হুসাইন মুহাম্মদ মাখলুক (মুফতিয়ে মিসর) শাইখ সায়্যিদ সাবেকসহ প্রমূখ আলেমগণ ফটোগ্রাফীকে হারাম ছবির অন্তূর্ভূক্ত করেননি।
আল্লামা শাইখ সায়্যিদ সাবেক তার কিতাব فقه السنة এর মধ্যে লিখেন-
أما الصور التي لا ظل لها، كالنقوش في الحوائط وعلى الورق والصور التي توجد في الملابس والستور والصور الفوتو غرافية فهذه كلها جائزة.( فقه السنة: ২/৫৮)
অনুবাদ: ছায়াহীন ছবি। যেমন দেয়াল, পয়সা, কাপড়, পর্দা ইত্যাদিতে অংকিত ছবি এবং ফটোগ্রাফী এ সকল ছবি জায়েয।
উক্ত বক্তব্যের সমর্থন আল্লামা শাইখ মুহা. বুখাইত (মুফতিয়ে মিসর) এর লিখিত রিসালাহ الجواب الشافى فى اباحة التصوير الفتوغرافى:২০০ তে পাওয়া যায়।
এমনিভাবে আল্লামা শাইখ ড. ইউসুফ আব্দুল্লাহ আল কারাযাভী দা.বা. তার কিতাব الحلال والحرام فى الاسلام এর ১৪ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
اما تصوير اللوحات وتصوير الفوتوغرافى فقد قدمنا الأقرب الى روح الشريعة فيهما هوالاباحة …. الخ (الحلال والحرام فى الاسلام:১৪)
অনুবাদ-
বিভিন্ন জিনিসে অংকিত ছবি এবং ফটোগ্রাফী বৈধ হওয়াই হল روح شريعة শরীয়তের চাহিদার অনুকুল।
বিজ্ঞ আলেমদের অনেকে ফটোগ্রাফীকে হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত করেছেন এমনকি উপমহাদেশের প্রায় সকল আলেম এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন যে, ফটোগ্রাফী এবং হাতে বানানো ছবি উভয়টি না জায়েয হওয়ার দকি থেকে কোন পার্থক্য নেই। আর উপমহাদেশের সকল দারুল ইফতা এই ফাতওয়া প্রদান করছে যে, একান্ত প্রয়োজন এবং বৃহৎস্বার্থ ব্যতীত কোন অবস্থাতেই প্রাণীর ছবি তোলা বৈধ নয়।
করাচীসহ সকল দারুল ইফতার অবস্থান এখন পর্যন্ত এটাই যে, ছবি শুধু কলম, রং কিংবা এ জাতীয় পদার্থ দ্বারা কাগজ, কাপড় দেয়াল ইত্যাদির উপর হাত দ্বারা বানানো অথবা পাথর ইত্যাদি দ্বারা তৈরি ভাস্কর্যই নয়, বরং ওই সকল পদ্ধতিও ছবির অন্তর্ভূক্ত যার মাধ্যমে কোন প্রাণীর স্পষ্ট আকৃতি কাগজ, কাপড়, দেয়াল ইত্যাদি এ জাতীয় কোনো বস্তুর উপর এমনভাবে অংকন করা যে, এ আকৃতি ওই বস্তুর উপর স্থির হয়ে যায়। চাই তা পুরাতন কিংবা নতুন যন্ত্রের মাধ্যমে হোক না কেন। যেমন Non Digital ক্যামেরার নেগেটিভ এর উপর অংকিত আকৃতি অথবা ফটাগ্রাফীর মাধ্যমে নির্মিত ছবি তথা প্রিন্টকৃত ছবি।
তাই আমাদের আকাবিরিনে কেরাম ফটোগ্রাফীকে হারাম ছবি হতে পৃথক মনে করেন অথবা ফটোগ্রাফী দ্বারা নির্মিত ছবিকে হারাম ছবি মনে করেন না এ ধারণা করা সঠিক নয়।
বিস্তারিত تكملة فتح الملهم ৪/১৬২-১৬৩
এমনিভাবে মুফতি শফী রহ. তার রিসালাহ تصوير كى شرعى احكامএর মধ্যে দলীলের আলোকে প্রমাণ করেছেন যে, ছবি চাই তা হাতে বানানো হোক কিংবা নবআবিস্কৃত যন্ত্রের মাধ্যমে হোক তা হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত। যন্ত্রের পরিবর্তনের কারণে হুকুমের মাঝে কোন পরিবর্তন হবে না।
*******************************
ফটোগ্রাফী এবং ডিজিটাল ক্যামেরার দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য
আমাদের আকাবিরগণ ফটোগ্রাফীকে হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত করেছেন। কেননা ছবি হল, কোনো জিনিসের চিত্র স্থীর হওয়ার নাম অর্থাৎ সেটা কোন বস্তুর উপর এমনভাবে অবস্থান করা যে, তা ওই বস্তুর উপর স্থীর হয়ে যায়। আর এটাই হলো কোনো জিনিস ছবি হওয়া বা না হওয়ার মাঝে মূল পার্থক্য।
সুতরাং যদি কোনো প্রাণীর আকৃতি কোন বস্তুর উপর স্থীর হয়ে যায় তাহলে তা হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। আর যদি তা স্থীর না হয় তা শরয়ী দৃষ্টিতে হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত হবে না। কেননা হারাম ছবির মূল বৈশিষ্ট হল স্থির হওয়া যা এখানে পাওয়া যায়নি।
আর ফটোগ্রাফীর মধ্যে যেহেতু হারাম ছবির মূল বৈশিষ্ট ( কোন বস্তুর উপর স্থির হওয়া) পাওয়া যায় তাই তা হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত। এ জন্য Non Digital ক্যামেরার মাধ্যমে প্রাণীর যে ছবি তোলা হয় তা হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত। কেননা, চাই তা Rim তথা Negative অবস্থায় হোক কিংবা কাগজে ছাপানো হোক সর্বাবস্থাতেই তাতে স্থীরতা পাওয়া যায়।
এর সম্পূর্ণ বিপরীত হলো ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে তোলা ছবি। কেননা, উক্ত ছবি যতক্ষণ পর্যন্ত প্রিন্ট করা না হয় তা স্ক্রীন এর সীমার মধ্যে স্থীর হয় না।
ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত দৃশ্যাবলী সাধারণত কিছু আলোকরশ্মীর আকৃতিতে সিডি কিংবা মেমোরীতে এমনভাবে সংরক্ষিত থাকেব, যা খারিল চোখে দেখা যায় না। এমনকি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না। কারণ তা ছবি আকৃতিতে সেখানে বিদ্যমানই থাকে না।
আর যখন তা সিডি বা মেমোরী হতে স্ক্রীনে কিংভা পর্দায় প্রকাশ করা হয় তখন তা অস্থায়ী আলোক রশ্মীর মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে সাথে সাথেই বিলীন হয়ে যায়। এক মুহুর্তের জন্যও তা স্থীর থাকে না। এ জন্য ছবির মূল বৈশিষ্ট স্থীর হওয়া এতে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং Non Digital ক্যামেরার ছবি সন্দেহাতীতভাবে হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত। আর Digital ক্যামেরার দৃশ্যাবলী হারাম ছবির হুকুমে নয়।
ডিজিটাল এবং Non Digital ক্যামেরা এর মধ্যে উক্ত পার্থক্য বিজ্ঞানীরা তাদের লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমন মার্শাল ব্রেইন তার গ্রন্থ How Stuff Works এর মধ্যে উল্লেখ করেন How digital cameras work?…….
এমনিভাবে উইকিপিডিয়া ইনসাইক্লোপিডিয়া তে Understanding resolution নামক শিরোনামে উল্লেখ আছে-
**************************************
২য় অধ্যায় ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে ডিস্ক ও সিডিতে ধারনকৃত দৃশ্যের হাকীকত
প্রশ্ন:
ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত দৃশ্যাবলী কম্পিউটার মনিটর, সিডি, ভিডিও ক্যাসেট ইত্যাদির মধ্যে সংরক্ষণ করে স্ক্রীন, মনিটর টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার করা হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত কি-না?
উত্তর:
تكملة فتح الملهم:৪/১৬২-১৬৩ এর মধ্যে লেখা রয়েছে যে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধারনকৃত দৃশ্যাবলী কাগজ ইত্যাদিতে প্রিন্ট হওয়ার পূর্বে ছবির আকৃতিতে কোথাও স্থীর হয় না। এজন্য তাকে হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত করা খুবই দূরুহ ব্যাপার।
এ বিষয়টি তাহকীকের জন্য تجلس تحقيق مسائل حاضرة كراسى বিজ্ঞ মুফতিদের প্রথমে ২৩ মুর্হারম ১৪২৫ হি. জামিয়া দারুল উলুম করাচীতে, পরবর্তীতে ১৬ সফর ১৪২৫ হি. একটি Confarance (সভা) এর আহ্বান করা হয়। অতপর এ বিষয়ে ২ রবিউল আউয়াল ১৪২৭ হি. ১২ মে ২০০৬ ইং তারিখে দারুল উলুম করাচীর দারুল ইফতায় একটি বিশেষ বৈঠক করা হয়। উক্ত বৈঠকে পাকিস্তানের দেশ বরেন্য বিজ্ঞ মুফতিদের প্রায় ৩৫জন অংশ গ্রহন করেন।
****************************************
উক্ত কনফারেন্সে যে সকল সিদ্ধান্ত হয় তার সারসংক্ষেপ নিম্বরূপ-
১.
এ বিষয়ে সকলে একমত যে, ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়র দৃশ্যাবলী ছবি কি ছবি নয় বিষয়টি কোন দিকই চূড়ান্ত নয় বরং তা مجتهد فيه তথা ইজতিহাদী একটি বিষয়। এবং এতে সমসাময়িক আলেমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
২.
এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, টিভি অসংখ্য ফিতনার কারণ তাই বর্তমানের টিভি ঘরে রাখা হতে বিরত থাকাই উচিত।
৩.
ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ধারনকৃত দৃশ্যের ব্যাপারে তিনটি মতামত পাওয়া যায়।
ক.
সম্পূর্ণ হারাম।
খ.
ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দৃশ্যাবলী হারাম ছবির অন্তর্ভূক্ত নয়। এ জন্য শরয়ী কোন নিষেধাজ্ঞা না জাওয়া যাওয়ার শর্তে তা ব্যবহার বৈধ।
গ.
শুধুমাত্র জিহাদের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করার অনুমতি আছে।
দারুল উলুম করচীর ফাতওয়া-
উপরে আলোচিত তিনটি মতামতের মধ্যে হতে দারুল উলুম করাচীর ফাতওয়া দেয়ার ক্ষেত্রে ২য় মতটিই গ্রহনযোগ্য মনে করা হয়। হাকীকত হলো, Digital যন্ত্রের মাধ্যমে স্ক্রীন এর উপর প্রাণীর যে, চিত্র দৃশ্যমান হয় তা প্রকৃতপক্ষে ছবিও নয়عكس (প্রতিবিশ্ব) ظل (প্রতিচ্ছবি)ও নয়। ظل না হওয়ার বিষয়ে প্রায় সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তা স্পষ্ট।
*******************************************
ডিজিটাল ক্যামেরায় ধারণকৃত দৃশ্যাবলী কেন ছবি নয়?
কোনো আকৃতি বা প্রতিবিম্বকে ওই সময়ই ছবি বলা চয় যখন তা কোন কিছুর উপর স্থীর হয়। কিন্তু ভিডিও ক্যাসেট, সিডি USB হার্ডডিস্ক, ইত্যাদির মধ্যে সংরক্ষিত ডাটা ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে CD এবং Analog to digital Converter এর সাহায্যে কোন عكس(প্রতিবিম্বের) আলোকরশ্মী দ্বারা কিছু Im pormation গ্রহন করে থাকে। আর এই ওস Im pormation ছবির আকৃতিতে সেখানে সংরক্ষিত হয় না, বরং ডিজিটাল কিছু সাংকেতিক চিহ্নের আকৃতিতে এমনভাবে সংরক্ষিত হয় যে, তা দেখাও যায় না পড়াও যায় না, এমনটি অনুবীক্ষণ যন্ত্র এর মাধ্যমেও দেখা যায় না।
সুতরাং ভিডিও ক্যাসেপ, সিডি ইত্যাদির মধ্যে সংরক্ষিত সাংকেতিক চিন্নসমূহ ছবি না হওয়াটা একেবারে স্পষ্ট। আর ভিডিও ক্যাসেট সিডি ইত্যাদি চালানোর পর স্ক্রীনে যা দৃশ্যমান হয় তাও ছবি নয় এজন্য যে, সেটি বাস্তবে Electronic Signals বা Digital ক্যামেরা অথবা Digital মেশিনে বিদ্যমান এক বিশেষ Device অথবা ABC এর সাহায্যে দেয়াল অথবা স্ক্রীন এর উপর অস্থায়ী আকৃতিতে প্রকাশিত হয়ে সাথে সাথেই বিলীন হয়ে যায়।
সুতরাং এ সমস্ত দৃশ্যাবলী প্রিন্ট করার পূর্বে স্ক্রীন এর সীমার মধ্যে স্থায়ীভাবে কোথায় ও স্থীন হয় না, এজন্য এ সমস্ত দৃশ্যাবলী ছবির হুকুমে নয়। যেমনটি মার্শাল ব্রেইন তার বিখ্যাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আমারদের আকাবিরগণের অনেকে ছবি ও প্রতিবিম্ব . এর মাঝে পার্থক্য বুঝাতে গিয়ে স্থীন ও স্থায়ীত্বকেই মূলনীতি হিসেবে গ্রহন করেছেন।
যেমন আল্লামা মুফতি শফী সাহেব রহ. তার কিতাব تصوير كى شرعى احكام:৫১ এর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
আল্লাম যফর আহমদ উসমানী রহ. তার কিতাব امداد الاحكام:৪/৩৮৪ এর মধ্যে ছবি ও ফটো সম্পর্কৃত এক প্রশ্নের জবাবে উক্ত পার্থক্ত তুলে ধরেন-
سب سے بٹرا فرق تو دونوں مسين يہی ہے کہ آيئنہ و غیرہ کا عکس پائدار نہیں ہوتا اور فوتو کا عکس مسالہ لگاکر قائم کرلیا جاتاہے: پس وہ اسی وقت تک عکس ہے جب تک مسالہ سے اسے قائم نہ کیا جاۓ اور جب اسکو کسی طریقہ سے قائم اور پائندار کرلیا جا ۓ وہی تصویر بن جاتا ہے
আল্লামা রশীদ আহমদ লুদইয়ানভী রহ. তার কিতাব :৮/৩০৬ احسن الفتاوی এর মধ্যে عکس প্রতিবিম্ব এবং এর মাঝে পার্থক্য তুলে ধরেন-
تصویر و عکس دونوں بالکل متضاد چیز ں ہیں تصویر کسی چیز کا پائدار اور محفوظ نقش ہوتاہے عکس نا پائیدار اور وقتی نقش ہوتا ہے اصل کے غائب ہوتے ہی اس کا عکس بھی غائب ہوتاہے
তদ্রুপ আল্লামা জামিল আহমাদ থানভী রহ. টিভি স্ক্রীনে দৃশ্যমান আকৃতি সম্পর্কৃত ফাতওয়া লিখতে গিয়েও উক্ত পার্থক্য তুলে ধরেন। الاشراف:৪/৬০, شعبان১৪০৯هــ
*******************************
ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত দৃশ্যাবলী
عكس বা প্রতিবিম্ব কেন নয়?
ذوالعكس তথা عکس বিশিষ্ট জিনিস হতে স্থানান্তরিত হয়ে কোন জিনিসের উপরিভাগের সাথে ঘর্ষন লেগে আলোর যে, প্রতিফলন হয় তাকে عکس বলে। আর Digital স্ক্রীন এর উপর যে আলোকরশ্মী দৃশ্যমান হয় তা এরকম নয় যা ذوالعكس থেকে স্থানান্তরীত হয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তই এটা عكس নয়।
তবে স্ক্রীনে দৃশ্যমান আলোকরশ্মী ছবির তুলনায় عكس এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
***********************************************
৩য় অধ্যায়
বর্তমান যুগে টিভির শরয়ী বিধান
টেলিভিশন দূর দুরান্ত হতে তথ্য সরবরাহের একটি যন্ত্র বা মাধ্যম। যা জায়েয ও নাজায়েয উভয় কাজেই ব্যবহার উপযোগী এমন কতিপয় যন্ত্র যেমন রেডিও, টেপরেকর্ডার, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি। সুতরাং টিভি একটি যন্ত্র হিসেবে তাকে না জায়েয বলা যাবে না। বরং তা জায়েয কাজে ব্যবহার করলে বৈধ। না জায়েয কাজে ব্যবহার করলে অবৈধ।
বর্তমান যামানায় যেহেতু টিভির মাধ্যমে অশ্লীলতা ও বিভিন্ন প্রকার খারাফি ছড়াচ্ছে। তাই বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামسد الباب টিভি চ্যানেল অশ্লীলতা ও শরীয়া বিরোধী কোন প্রকার প্রোগ্রাম প্রচার না করে থাকে, কিংবা কোন আলেম শরয়ী গন্ডির মধ্যে থেকে সকল প্রকার কাজ হতে বিরত থেকে দ্বীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদী আলোচনার জন্য টিভি চ্যানেলে আসে, অথবা টিভি প্রোগ্রামে কোন ওয়াজ নসীহত করে, দাওয়াত ও তাবলীগ এর কাজ করে কিংবা শরয়ী শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে, তাহলে এ সকল অনুষ্ঠান, দেখা শ্রবন করা শুধুমাত্র ছবি হওয়ার অজুহাতে না জায়েয বলা যাবে না।
উক্ত ফাতওয়া শুধু দারুল উলুম করাচীর নয়, বরং ভারতীয় উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় দারুল ইফতা এবং বিশেষজ্ঞ মুফতিয়ানে কিরাম এমন ফাতওয়া দিয়েছেন।
টেলিভিশন ও ইন্টারনেট দ্বীনি কাজে ব্যবহার বিষয়ে ادارۃ مباحث فقھیۃ جمیعۃ علماء ھندد কর্তৃক আয়োজীত ৮ম ফিকহী সেমিনার (২৭,২৮,২৯ এপ্রিল ২০০৫) সংগঠিত হয়। এতে প্রায় ১৫০ জনের অধিক বিজ্ঞ মুফতি অংশগ্রহন করেন। দারুল উলুম দেওবন্দের প্রখ্যাত মুুফতি হাবিবুর রহমান খায়রাবাদী তার মাকালাতে টেলিভিশনকে تصویرআখ্যায়িত করে না জায়েয বলে মন্তব্য করেন।
উক্ত মাকালা নিরীক্ষণ করতে গিয়ে উক্ত কনফারেন্সে এর সভাপতি আল্লামা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী বলেন-
اتنی شدت مناسب نہیں ہے پر چیز کو قطعی حرام قرار دینے سے کام نہیں چلےگا، علماء کو امت کو انتشار سے نکالنے کی صورت پر توجہ دینی چاہے۔ لوگ ٹیلی ویرن پر قادیانوں، عیسائیوں کی طرف سے نشن ہونے والے پر وگر اموں کو دیکھ کر مرتد ہور ہے ہیں، کیا لوگوں کو ارتداد سے بچانے اور ان تک صحیح معلومات پہنچانے کے لئے ایسی صورت نہیں نکالی جاسکتی ہے، جیسی کہ شنافتی کا رڈ، پا سپورٹ وغیرہ کے لئے تصویر کے سلسلہ مین نکالی گئی ہے پھر فرمایا کہ ….
অনুবাদঃ এত কঠোরত উচিত নয়। প্রত্যেক বিষয়কে হারাম বলা যাবে না। উলামায়ে উম্মতকে গোমরাহী হতে বাচানোর প্রতি দৃষ্টি দেয়া চাই। লোকজন টেলিভিশনে কাদীয়ানী, খ্র্স্টিানদের প্রচারকৃত অনুষ্ঠান দেখে দেখে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছে। লোকদেরকে গোমরাহী থেকে বাচিয়ে সঠিক পথ দেখানোর জন্য এমন কোন পথ কি বের করা যাবে না? যেরমকভাবে ID কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে ছবি তোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে?
নফল হজ্ব, ওমরা, সফর ইত্যাদির জন্য ছবি তোলা কি প্রয়োজন হিসেবে মেনে নেয়া হয়নি?
এছাড়াও দারুল উলুম ওয়াকফে দেওবন্দের মুহতামিম আল্লামা সালেম কাসেমী, জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর এর প্রধান মুফতি জামিল আহমদ থানভী, জামিয়া ইসলামিয়অ বান্নুরী টাউন এর শায়খ ও মুফতি আল্লামা নেজার উদ্দিন সাহেব প্রমুখ বিজ্ঞ আলেম টিভি, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে শরয়ী গন্ডির মধ্যে থেকে দ্বীন প্রচারের অনুমতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭
ইসলামের উত্তরাধিকার আইন : একটি বিভ্রান্তিরর নিরসন
মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়ার সম্পদের কুরআনিক বণ্টনরীতিকে শরয়ী পরিভাষায়- “ফারায়েয” বলে। “ফারায়েজ” বান্দার জন্য মিরাসী সম্পদ নির্ধারণে আল্লাহর সীমারেখা। (فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ (নিসা-১১)। এই বণ্টনরীতির কিছু বিষয় আমাদের বাহ্যত বুঝে আসে, আবার কিছু বিষয় বুঝে আসেনা। আল্লাহর ইচ্ছা মাফিক যে শরয়ী জীবন বিধান, তাকে প্রত্যাখান করে বস্তুবাদী, পুঁজিবাদী জীবন ব্যবস্থায় আস্থাবান হয়ে উঠলে এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। কথা হচ্ছে মুতাওয়াতির পন্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের পর্যন্ত আগত, সঠিক ব্যাখ্যায় উপস্থাপিত, কুরআনের কোন আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার বান্দার নেই। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ঈমানও ক্রমান্নয়ে প্রশ্নবিদ্ধ, পরিবর্তন পরিবর্ধন ও প্রত্যাখ্যান হতে বাধ্য।
কিছু পরিচিত মুসলিম ভাই কুরআনের বর্ণিত “ফারায়েয” আইনের একটি আইন-অর্থাৎ কেউ শুধু কন্যা সন্তান রেখে মারা গেলে, তার রেখে যাওয়া সম্পদের বণ্টননীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে তাদের এই ধৃষ্টতার জন্য আশ্রয় চাই। “ফরায়েয” নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা না করে তাদের উল্লেখিত নীতি এবং তার বিরোধিতা প্রশ্নে মৌলিক কিছু কথা বলছি।
কুরআনের সুরা নিসা’র ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَإِن كُنَّ نِسَاء فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ
“ অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক”।
অর্থাৎ- কুরআন বলছে; কেউ শুধু কণ্যা সন্তান রেখে মারা গেলে- কণ্যা যদি একের অধিক হয় তাহলে তারা পাবে মোট সম্পদের তিনভাগে দুই ভাগ। আর যদি কন্যা শুধু একজন হয় তাহলে সে পাবে মোট সম্পদের অর্ধেক। বাকী অর্ধেক নিয়মানুযায়ী অন্যান্য ওয়ারিশগণ পাবেন।
এখানে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে; মৃত ব্যক্তির সম্পদের উত্তরাধিকার একমাত্র সন্তান ছাড়া অন্যরা হবে কেন?
এর সাধারণ উত্তর হল; কুরআন “ফারায়েজ” বা বণ্টনরীতিতে পারিবারিক ওয়ারিশান নির্বাচনে “সব সময়ের, সম্ভাব্য সকল বাস্তবতাকে” সামনে রেখে আইন প্রণয়ন করেছে। একই সাথে কুরআন “পূঁজিবাদী অর্থে” সম্পদের ব্যক্তি মালিকানায় বিশ্বাসের ক্ষতিকর দিকগুলোকেও সামনে রেখে, সম্পদকে কুক্ষিগত করার রাস্তাকে বন্ধ করে সার্বিকভাবে সম্পদের প্রবহমান রীতি অনুসরণ করেছে।
দিত্বীয়ত; আমরা যদি এই দাবি করি যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি শুধু তার সন্তানরাই পাবে, তাহলে প্রথম সমস্যা হবে মৃত ব্যক্তির নিজেরই সম্পদ সংগ্রহের পারিবারিক উৎসগুলো সংকুচিত হয়ে আসবে। যার প্রভাব পড়বে তার সন্তানদের উপর। এতে আমরা এমন সমস্যার মুখোমুখি হব যে, এমন বহু মানুষ মারা যায়, যে আদতে তার সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেনি। অন্যদিকে সন্তানহীন মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের কোন ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্যই ইসলাম বণ্টননীতিকে একটি শরয়ী নীতিমালার আলোকে বিস্তৃত করে দিয়েছে। যাতে সম্পদের মালিকানায় প্রত্যেকের একটি অংশ থাকে এবং সেই অর্থে দায়িত্ব, কর্তব্য ও পারিবারিক সম্পর্ক অটুট থাকে।
তৃতীয় কথা হল; কোন ব্যক্তি শুধু একটি কন্যা সন্তান রেখে মারা যাওয়ার পর, তার সম্পদে অন্যরা অংশ পায় কেন। অন্যরা এই জন্য পায়- যাতে এই “অন্যের” রেখে যাওয়া কন্যা সন্তানরা স্বাভাবিক জীবন ধারণে আল্লাহর নির্ধারিত পারিবারিক সহযোগিতা পায়। এই আইন না মানলে কখনো এমন অবস্থার তৈরী হবে যে, বহু কন্যা তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ না থাকায় একদম রিক্তহস্ত হয়ে যাবে। সহজ কথায়, আপনি কণ্যার পিতার রেখে যাওয়া যে সম্পদে, তার পূর্ণ মালিকানা দাবি করছেন; হতে পারে সে সম্পদ তার এমন চাচা থেকে ওয়ারিশি প্রাপ্ত, যে কিনা এক কণ্যা রেখে মারা গেছে। এখন কুরআনে বর্ণিত আইন মানলে, আপনি অর্ধেক পাবেন। আর আইন না মানলে প্রথমে কন্যা তার বাবার সম্পদ (যা চাচার কাছ থেকে ওয়ারিশি সুত্রে পেয়েছে) অস্বিকার করতে হবে। যদি এমনই হয় তাহলে কন্যার জন্য আর কিছুই বাকী থাকলোনা।সম্পদ দেয়ার আইনকে যদি প্রত্যাখ্যান করতে চান, তাহলে গ্রহণের আইনকেও প্রত্যাখ্যান করুন। কোনটা অধিক সুবিধাজনক বিবেচনা করুন।
কাজেই কুরআনের সম্পদ বণ্টনরীতি সমগ্রিকভাবে বান্দার উপর আল্লাহর অনগ্রহ।
আমরা ঈমান আনলাম আল্লাহর উপর, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ (আইন দাতা) নেই।
--
মুহাম্মদ আফসার
তাবিজ-কবজ ব্যবহার করা শিরক?
তাবিজ-কবজ ব্যবহার করাকে অনেকে শিরক বলতেছে। কোনোপ্রকার বাছ-বিচার না করে ব তাবিজকে শিরক ও হারাম বলা অন্যায়।
সমস্ত ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। রোগ দেওয়ারও মালিক তিনি, রোগের আরোগ্যও দেন তিনি। পৃথিবীর কোনো বস্তুই আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু করতে পারে না।
হযরত উসামা ইবনে শরিক রা. বলেন, কিছু গ্রাম্যলোক রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, হুজুর! আমরা কি চিকিৎসা করাব? তখন রাসুল সা. বলেন :
تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ دَوَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرَمُ গ্ধ.
অর্থ : চিকিৎসা করাও। কারণ, আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার কোনো ওষুধ দেননি। তবে বার্ধক্য (মৃত্যু) রোগের কোনো ওষুধ নেই। (সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং- ৩৮৫৭)
ওষুধের মাঝে নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। ওষুধের সবটুকুন ক্ষমতাই আল্লাহপ্রদত্ত। আল্লাহর হুকুমে ওষুধ কাজ করে। প্রত্যেক বস্তুর বেলায়ই একই কথা প্রযোজ্য।
রোগের চিকিৎসা করানো সকলের মতেই বৈধ। শুধু জায়েয নয়, সুন্নতও বটে। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামও চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তাবিজ-কবজকেও চিকিৎসার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। তাতে শিরকের কোনো গন্ধ নেই। ওষুধকে যদি কেউ মুসাব্বিব বা মূল প্রভাবক মনে করে তাহলেও শিরক হবে। তদ্রƒপ কেউ যদি তাবিজকে মূল প্রভাবক মনে করে, আল্লাহর ওপর ভরসা না করে, তখন তো তাবিজ ব্যবহার করাও শিরক হবে।
তাবিজ-কবজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি মৌলিক বিষয় হল, কোনো কুফুরি কালাম বা নাজায়েয কিছু দ্বারা তাবিজ দেওয়া যাবে না; দিলে নাজায়েয হয়ে যাবে। যেমন কেউ কুরআনের আয়াত বা কোনো দোয়া দ্বারা তাবিজ দিল, এটা নিঃসন্দেহে জায়েয হবে। এক্ষেত্রে সে আল্লাহর কালামের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আল্লাহর কালামও আল্লাহর একটি সিফত। সে তো কোনো শিরক করেনি। অতএব এ ধরনের তাবিজ শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হল : مَنْ رخَّصَ فِي تعلِيقِ التَّعَاوِيذِ : তাবিজ ঝুলানোর ক্ষেত্রে অবকাশ।
এ অধ্যায়ের অধীনে তিনি সাহাবি ও তাবেয়িদের কর্ম ও বক্তব্য দ্বারা তাবিজ ব্যবহারের ওপর দলিল দিয়েছেন। যেমন :
كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ للنَّاسَ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ.
অর্থ : বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহ. মানুষকে তাবিজ লিখে ঝুলিয়ে দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ২৪০১১)
عَنْ عَطَاءٍ ، قَالَ : لاَ بَأْسَ أَنْ يُعَلَّقَ الْقُرْآنُ.
অর্থ : প্রখ্যাত তাবেয়ি আতা রহ. কুরআন দ্বারা তাবিজ ঝুলানো জায়েয মনে করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ২৪০১১)
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَمَا يَحْضُرُونِ ، فَكَانَ عَبْدُ اللهِ يُعَلِّمُهَا وَلَدَهُ مَنْ أَدْرَكَ مِنْهُمْ ، وَمَنْ لَمْ يُدْرِكْ ، كَتَبَهَا وَعَلَّقَهَا عَلَيْهِ.
অর্থ : হযরত আমর ইবনে শোআইব স্বীয় পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ ঘুমে ভয় পেলে এ দোয়া পড়বে :
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَمَا يَحْضُرُونِ
অর্থ : আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের এ দোয়া শিখাতেন আর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের গলায় দোয়াটি তাবিজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ২৪০১১; সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং- ৩৮৯৫, কিতাবুত তিব, অধ্যায় : باب كَيْفَ الرُّقَى)
নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসের উত্তর
তবে দুয়েকটি হাদিসে তাবিজ ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা পাওয়া যায়। এগুলোকে সামনে রেখেই অনেকে তাবিজ ব্যবহারকে শিরক বলেন। যেমন : مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ ‘যে তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল’।
তারা আসলে পুরো হাদিস উল্লেখ করেন না। পুরো হাদিস দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কার জন্যে তাবিজ ব্যবহার করা নিষেধ করা হয়েছে। পুরো হাদিসটি দেখুন :
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هَذَا قَالَ إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا فَبَايَعَهُ وَقَالَ مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ
অর্থ : হযরত উকবা ইবনে আমের আল-জুহানি রা. বলেন : একবার রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ইসলাম গ্রহণের জন্যে কাছে একটি দল আসল। তাদের নয়জনকে বায়আত করলেন; একজনকে করলেন না। তারা বলল, হুজুর! সবার বায়আত গ্রহণ করলেও তারটি কেন করেননি? রাসুল সা. বললেন, তার কাছে তাবিজ থাকায় তাকে বায়আত করিনি। কারণ, যে তাবিজ ঝুলাল সে শিরক করল। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ১৭৪২২)
এবার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল। কারণ, যারা ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল তারা তো মুশরিক ছিল। আর মুশরিকের গলায় কুরআনের তাবিজ থাকবে? ছিল কুফুরি কালামের তাবিজ। যে কারণে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিনিধিদলের সবাইকে বায়আত করলেও তাবিজওয়ালাকে করেননি। তাবিজ খোলার পর বায়আত করেছেন। কুরআন-হাদিস দ্বারা তাবিজ গ্রহণ করলে শিরক হওয়ার প্রমাণ কি এ হাদিস দ্বারা দেওয়া যায়? মোটেও দেওয়া যাবে না।
এসব হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসিন ও ফুকাহায়ে কেরামের অভিমতও লক্ষণীয় :
মাও. সিন্দি রহ. বলেন :
قال السندي المراد تمائم الجاهلية مثل الخرزات وأظفار السباع وعظامها وأما ما يكون بالقرآن والأسماء الإلهية فهو خارج عن هذا الحكم بل هو جائز
(আউনুল মাবুদ : খ. ১০, পৃ. ২৫০)
আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রহ. বলেন :
( قَوْلُهُ التَّمِيمَةُ الْمَكْرُوهَةُ ) أَقُولُ : الَّذِي رَأَيْته فِي الْمُجْتَبَى التَّمِيمَةُ الْمَكْرُوهَةُ مَا كَانَ بِغَيْرِ الْقُرْآنِ.
অর্থ : আমি মুজতাবা নামক কিতাবে দেখেছি, মাকরুহ তাবিজ হল যা কুরআন ব্যতীত অন্যকিছু দ্বারা হয়ে থাকে। (ফাতাওয়া শামী : খ. ৬, পৃ. ৩৬৪)
--
এবার কেউ যদি বলে, হাদিসে তাবিজ ব্যবহা করা শিরক বলা হয়েছে; ব্যস এখানে আর ব্যাখ্যার কী দরকার।
দারুণ বলেছেন। হাদিসের অন্তর্নিহিত মর্ম ও ব্যাখ্যা যদি গ্রহণ না-ই করেন তাহলে আপনাকে মাত্র একটি হাদিস দিচ্ছি; নেন আমল করেন। সহিহ বুখারিতে এসেছে, রাসুল সা. ইরশাদ করেন, নামাযি ব্যক্তির সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে তাকে হত্যা করো।
ব্যস, এবার হত্যা শুরু করুন। কারণ, হাদিসের কোনো ব্যাখ্যা চলবে না।
নারীদের দেখলে কেন বীর্য উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বীর্য কোথায় থাকে?
বীর্য এযেন এক আশ্চর্য সৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অপরুপ গোপন নেয়ামত ইহা মহান আল্লাহ বলেন
তোমরা কি দেখনা? যে।
তোমাদের ভিতর থেকে ছিটকিয়ে বেরিয়ে আসা বীর্যের ফোটা গুলি কি তোমরা তৈরি কর নাকি আমি তৈরি করি?
মহান আল্লাহ তায়ালা বীর্যে এক ধরনের হরমোন দিয়ে রেখেছেন যা মানুষের শরীর কে উত্তেজিত করে তুলে। এবং তার বিপরীত লিংগের কাউকে দেখলেই তার হরমোন গুলি পাম্পিং হতে থাকে। এবং তার মধ্যে থাকা শুক্রুকণা কণার শুক্র গুলি দৌড়া দৌড়ি করতে আরম্ভ করে এবং তার রক্তের আয়োত্তেধীন কণার সাথে সংঘর্ষ হয় এবং শরির উত্তেজনা হয়ে উঠে।
এজন্য মহান আল্লাহ নারীদের কে লক্ষ করে বলেন হে নারীরা তোমরা তোমাদের ( স্তন) বুকদ্বয় কে বড় ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখ। যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা তোমাদের নিয়ে সকল্পনা না করতে পারে।
এ অায়াতে মহান আল্লাহ স্তনের কথা বলেছেন কেননা নারীদেহে তাদের স্তন হল একটি আকর্ষনীয় বস্তু যা তার বিপরীত লিংগের পুরুষটির কাছে সব চেয়ে পছন্দনীয় বস্তু। তার কারন হল নারীদেহে প্রচুর মধ্যকর্ষন রয়েছে যাকে বলা হয় চম্বুকার্ষন। তাকে নারীদেহে প্রচুর আইরন যুক্ত হয়। যা পুরুষের শরীরে যুক্ত হয় না। যার কারনে পুরুষ কৃত নারী দেহে হরমোন বেশি থাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা নারীদের দেহে থাকে।
এজন্য স্বামী স্ত্রীর মিলনের সময় নারী দেহ থেকে যোনিপথে এক ধরনের আঠালো পানি বের হয় যার দ্বারা পুরুষ অন্ডকোষ কে চুম্বুকের মত টানতে থাকে। এবং পুরুষের অংশ থেকে বীর্য বের করে আনে। সেই চম্বুকার্ষনের দ্বারা।
মহান আল্লাহ বলেন আমি ই তোমাদের মধ্যে বীর্য তৈরি করে দিয়েছে যা থেকে তোমাদের কে আমি সৃষ্টি করেছি।
মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন
انا خلقنا الانسان من نطغة امشاج
আমি মানুষ কে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুত্রুবিন্দু থেকে।
মহান আল্লাহ পুরুষের শরীরের বীর্যে প্রায় ২০হাজার কোঠি শুক্রুকণা দান করেছেন। তার মধ্যে ২কোটি শুক্রকনা কে আমাদের জন্য নির্ধারন করেছেন। যখন স্বামা স্ত্রীর মিলন হয় তার মধ্যে প্রায় বীর্যে ফোটাতে লক্ষ লক্ষ কণা থাকে যা চোখে দেখা সম্ভব হয়না। চোখের আয়েত্বে তা আসবেন না
বীর্য লুকিয়ে থাকে পিষ্টধারে মহান আল্লাহ বলেন তাকে আমি জমা করে রেখেছি তোমাদের পিষ্টে।
তার মধ্য থেকে মাত্র একটি শুক্রকণা আমাদের মায়ের ডিম্বানুস্বয়ে জমা হয়। তার পর তা এখানে জমাট হয়ে বসে যায়।
মহান আল্লাহ বলেন
والله انبتكم من الارض نباتا
আর আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা ( বীর্য) থেকে.
সুরা নুহ : ১৮/ বীর্যের কণা থেকে তৈরি হয় একটি ছোট খন্ড তারপর
রক্তে তা আস্তে আস্তে একটি মাংস পিন্ড তৈরি হয় তারপর থেকে তৈরি হয় অংগের বর্ধন কাজ। একটি একটি করে। তখনো তার কোন অস্তিত্ব থাকে না এজন্য
মহান আল্লাহ বলেন
هل اتي علي الانسان حين من الدهر لم يكن شيامذكورا ..
হে নবী আপনি মানুষ কে বলেদিন, যে। মানুষের উপর এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়েছে যে সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না।
সুরা, দাহার / ১/
এই আয়াতের ব্যক্ষা হল বীর্য মায়ের পেট যাওয়ার পর আরম্ভ হয় তৈরির কাজ সেখানে তার অন্তত প্রায় নয় মাস অতিবাহিত হয় তার পরেও সে অস্তিত্ববোধ হয় না জানা যায় না সেটা ছেলে না মেয়ে। এ কথায় আল্লাহ বলছেন তোমার এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যে তখন তোমি উল্লেখযোগ কিছুই ছিলেনা।
তারপর ---------
পুরুষ বা মহিলা উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে কি? শরিয়ত কি বলে?
উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে তবে এটা একেবারে অনুত্তম কাজ , সুন্নতের পরিপন্থী।আল্লাহর রাসুল সা: কখনো এরকম করেনি। মোস্তাহাব ও উত্তম হল লুঙ্গি ইত্যাদি বেঁধে গোসল করা ও মেয়েরা নিচে পায়জামা বা উড়না সাদৃশ্য ও বুকে গামছা সদৃশ্য কিছু রাখবে। কেননা আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারীদের পছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ যখন গোসল করে তখন সে যেন পর্দা করে নেয়।(তাহতাবী)
গোসলখানায় যদি কোনো পর্দাহীনতা না হয় তাহলে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে।তবে এটা না করাই উত্তম। কেননা শয়তান তখন ধোকা দেয়। এটা নিন্দনীয় কাজ। ( ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/৩৮৭)
(এমনিভাবে পর্দার ক্রটি না হলে খোলাস্থানেও উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে তবে এটা ঠিক নয়।সর্ব হালতে আল্লাহ কে ভয় করা। এবং গোসলের অযুতে নামায জায়েয)
পর্দার মধ্যে কাপড় খোলে গোসল করা জায়েয আছে তবে না করাই উত্তম। এমনিভাবে খোলা মাঠে পুরুষের নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত কাপড় বেঁধে বাকী অংশ খোলা রেখে গোসল করা জায়েয
আছে। তাঁর নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত (যা পুরুষের সতর) কারো সামনে খোলা হারাম। (আপকে মাসায়েলঃউন কা হল) দ্বিতীয় খন্ড, পৃঃ৮১)
মেয়েরা পেন্টি পরে ও পুরুষেরা জাঙ্গিয়া পরে গোসল করলে যদি কাপড়ের নিচে পানি পৌঁছে যায় এবং শরীরের ঢাকা অংশও ধোয়ে ফেলা যায়, তাহলে গোসল ছহীহ হবে। (আপকে মাসায়েল ২য় খন্ডঃ পৃঃ ৮১)
মহিলারা বুকে বুকবন্ধ (ব্রা) পড়ে গোসল করতে পারবে /
মুজামায়ে নিজার ৮/চ৬৮৯
হযরত মুয়াবিয়া ইবনে হাইদা রা: বলেন রাসুল সা : বলিয়াছেন তুমি তোমার স্ত্রী ও হালালকৃত দাসি ব্যাতিত কারো সামনে নিজের সতর খুলবে না। তিনি প্রশ্ন করলেন তাহলে যখন আমরা নির্জনে একাকিত হয় তখনো কি সতর খুলব( উলংগ) হবনা? রাসুল সা : বলেন তখনো আল্লাহকে লজ্জা কর। কেননা তিনি দেখছেন তোমরা কি অবস্হায় আছ / ( জামে তিরমিযী, হাদিসে সহিহ ৭২৬৯/ রাসুল সা: জনৈক সাহাবীকে আদেশ দিলেন যে যখন তোমরা স্বামী স্ত্রী একত্রে সহবাস করবে তখন তোমাদের উপরে একটি লম্বা চাদর দিয়ে দুইজনের শরির ঢেকে নিবে।
বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭
মিডিয়ার অপরিহার্যতা বনাম ছবি তোলা”
বর্তমান সময়ে মিডিয়ার অপরিহার্যতা কেউ অস্বীকার করেন না। আমাদের মাঝে সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন কথন হবে একটি কাংখিত দৈনিক। সাপ্তাহিক লিখনী দুইদিন চলতে না চলতেই দৈনিকের স্বপ্ন আমাদের মাঝে জাগিয়েছিল। দুই পাতার বুলেটিন বের করলেও আমরা স্বপ্ন দেখাই দৈনিকের। বিশ্বাসও করি। কারন, একটি দৈনিক যে খুব দরকার।
বিবিসি, সিএনএন এর মোকাবেলায় কাতার সরকার আল জাজিরা চালু করে। আজ বিশ্বে আল জাজিরা একটি প্রতিষ্ঠিত, গ্রহনযোগ্য টিভি চ্যানেল। কিন্তু তারা যে পথে এগিয়েছে, যে পথে স্বপ্ন দেখেছে, আমরা তার উল্টো পথে চলি, আর স্বপ্ন দেখি, হায় আমাদেরও যদি একটি দৈনিক থাকতো!
আমরা চাই, আমাদের আন্দোলনের সকল সংবাদ, খবরাখবর মিডিয়ায় আসুক। পজিটিভ বিশ্লেষণ আসুক। লেখুক। কিন্তু প্রধান যে সমস্যাটা এখন দেখা গেছে, সেটা হলো- মিডিয়ায় ছবি ছাড়া নিউজ কিভাবে সম্ভব? আল জাজিরা সবাইকে টেক্কা দিয়েছে তাদের কৌশল অবলম্বন করেই। কিন্তু আমরা অনুষ্ঠানের একটি ছবি তুলতেও দিতে চাই না।
ছবি কথা বলে। ছবি ছাড়া কোন কিছু কল্পনাই করা যায় না। কোন নিউজের সাথে যদি সংশ্লিষ্ট ঘটনার ছবি না থাকে, তাহলে সেই ঘটনার ভয়াবহতা বা আকর্ষণ, ব্যাপকতা, গ্রহনযোগ্যতা, কোনটাই শুধু বিবরণী দিয়ে ফুটিয়ে তোলা যায় না।
তাহলে আমরা কিভাবে মিডিয়া গরবো? আমি কি বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আগাতে পারবো? মিডিয়া মানেই ছবি। মিডিয়া মানেই ঘটনার প্রতিচ্ছবি। মিডিয়া মানেই ঘটনার অনুরূপ বিশ্লেষণ। মিডিয়া মানেই ঘটনাকে পুনরায় তুলে ধরা। ছবি যদি না তোলা যায়, ঘটনার যদি ভিডিও না থাকে, তাহলে অনেক সময়েই বর্তমানে ঘটনাকে প্রমাণিত করা যাবে না।
কাগজের ছবির ব্যাপারে অনেক উলামায়ে কেরাম বর্তমানে নিষেধ না করলেও কেউ কেউ এতটাই রূঢ় ও কঠোর আচরণ করেন, ফলে মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ই লোকসকলের দৃষ্টিগোচর হয় না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা একটি বড় সমস্যা। আর এ কারনেই কোন মিডিয়া গড়ে উঠে না।
একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করতে হলেও তো আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবি তুলতে হবে। আমরা মাসিক পত্রিকা বের করি, সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করি। সেই জন্য অনুষ্ঠানের ছবিটাও তোলা যায় না। তাহলে মানুষ জানবে কি করে যে, একটি ভালো মানের সাপ্তাহিকি বের হয়েছে?
মার্কেটিং না করলে, প্রচার না করলে, পাবলিশ না করলে, আপনি যে ভালো কোন কিতাব লিখেছেন, আপনি যে ভালো কোন কথা বলেছেন, সেটা জানবে কী করে? আমরা চাই আমাদের মাসিক পত্রিকাটি ব্যাপক চলুক। কিন্তু কোনরূপ প্রচারণা চালাতে চাই না। সেই পত্রিকার ছবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছবি, স্মারক উম্মোচনের ছবিই যদি না দিই, তাহলে কিভাবে মানুষ জানবে - একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। একটি পত্রিকা বের হয়েছে। কিনা দরকার।
মাঝে মাঝেই এ নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সবার হাতে হাতেই এখন মোবাইল। তারা এখন সকলেই মিডিয়াকর্মী। তাদের কিছু অংশ খারাপ ছবি তুললেও অনেকে চান ভালো কোন জিনিসের ছবিটা ছড়িয়ে দিতে। সত্য প্রচারে নিজের উদ্যোগী ভূমিকা নেন। কিন্তু আমাদের কেউ কেউ এটা নিয়ে এতই বাড়াবাড়ি করেন, যা অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আবার উনারা এটাও চান যে, উনার খবরটা ফলাও করে প্রচারিত হোক। মানুষ জানুক।
বিজ্ঞদের কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ কাম্য। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কি? হয় মিডিয়াকে ত্যাগ করতে হবে, নতুবা বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতির ভিডিও ও ছবি তোলার বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। হ্যাঁ, এর জন্য হয়তো নির্দিষ্ট গাইড লাইন থাকবে। সীমা থাকবে। সব ছবি তোলা যাবে কি যাবে না তার ব্যাপারে সীমা নির্ধারিত থাকবে। কিন্তু কোনরূপ ছবিই তোলা যাবে না, অথচ আমি মিডিয়া চাই, দৈনিক পত্রিকা চাই, আমার কাছে এটা এখন অসম্ভব বস্তুই কামনা করা মনে হয়।
বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই
Mohiuddin Quasemi
কম বয়সে কারো মৃত্যু হলে অকাল মৃত্যু শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই প্রয়োগ এড়িয়ে চলা কর্তব্য। কারণ প্রত্যেক প্রাণীর জন্য ‘মৃত্যু’ যেমন অনিবার্য তেমনি তার দিন-ক্ষণও নির্ধারিত। সেই নির্ধারিত সময়েই তার মৃত্যু হবে। এতে সামান্য এদিক-সেদিক হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وما كان لنفس ان تموت الا باذن الله كتابا موجلا তরজমা : আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারো মৃত্যু হতে পারে না। কেননা, তা সুনির্ধারিত।-সূরা আলইমরান : ১৪৫ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, لو يواخذ الله الناس بظلمهم ما ترك عليها من دابة ولكن يوخرهم الى اجل مسمى فاذا جاء اجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون তরজমা : আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে শাস্তি দিতেন তবে ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কোনো প্রাণীকেই রেহাই দিতেন না, কিন' তিনি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয় তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করতে পারে না।-সূরা নাহল : ৬১ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, قل فادرؤا عن انفسكم الموت ان كنتم صدقين তরজমা : আপনি বলে দিন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মৃত্যু থেকে রক্ষা কর।-সূরা আল ইমরান : ১৬৮ হায়াত-মওতের মালিক আল্লাহ তাআলা এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রাণীর জীবনকাল আল্লাহ তাআলার নিকট সুনির্ধারিত। অতএব কেউ যদি মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পর মারা যায়, তবে এইটুকুই তার হায়াত। তদ্রূপ কেউ যদি পঁচিশ-ত্রিশ বছরের যৌবনকালে মৃত্যুবরণ করে তবে এই পঁচিশ-ত্রিশ বছরই তার হায়াত। তার মৃত্যু সেই সময় মতোই হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যা তার জন্য নির্ধারিত করেছেন। এমনিভাবে একশ বছর বয়সে কারো মৃত্যু হওয়ার মানে এই নয় যে, সে তার জন্য নির্ধারিত সময়কালের অধিক হায়াত পেয়েছে। এটি অতি সহজ একটি কথা। সুতরাং কম বয়সে কারো মৃত্যু হলে সমবেদনা জানাব, মরহুমের মাগফিরাতের জন্য দুআ করব, বড় জোর বলব যে, তার তাকদীরে কত কম হায়াত লিখিত ছিল! কিন্তু এটাকে আবেগের বশে অকাল মৃত্যু শব্দে ব্যক্ত করব না।
.
[ মাসিক আলকাউসার » জুমাদাল উলা ১৪৩১ . মে ২০১০ ]
ওয়াজের জন্য চুক্তি করা ও অতি মাত্রার টাকা দাবি করা
মাও. মামুনুল হক
সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি কথা সংশ্লিষ্ট সকলের খেদমতে পেশ করছি-
এক,
তা'লীম, ইমামত,আযানসহ যে কোনো নেক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহন করা জায়েয কিনা" বিষয়টি নিয়ে ইসলামের মহামাণ্য ইমামদের মাঝে মতপার্থক্য আছে ৷ হানাফী ইমামদের মতে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহন করা না জায়েয ৷ অবশ্য পরবর্তি যুগের হানাফী ইমামগণ যুগের পরিবর্তন ও মানুষের হালাতের অধঃপতনের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেক কাজের বিনিময় গ্রহন করাকে জায়েয বলেছেন ৷ সেটাও কেবল এমন কাজের জন্য, যা ছাড়া ঈমান-ইসলাম টিকে থাকা কঠিন এবং পারিশ্রমিক দিয়ে লোক নিয়োগ না দিলে সে কাজ সুচারুরূপে আঞ্জাম পাবে না ৷ পরিণামে দ্বীনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিবে ৷ যেমন, মসজিদের ইমাম, মুআজ্জিন প্রভৃতি দায়িত্ব ৷ দ্বীনের তা'লীমও এমনই এক জরূরী কাজ, যার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লোক নিয়োগ করা যেতে পারে ৷ এই মাসআলার আলোকেই মাদরাসায় বেতনভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে ৷
দুই,
ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে সমাজের দ্বীনী প্রয়োজন পুরন করাও দ্বীনের জরূরী একটি শাখা ৷ আমাদের অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে এই খেদমতের মাধ্যমে ইসলামের বহুবিধ তাকাযা পুরা হচ্ছে ৷ বর্তমান এই অধঃপতনের সময়েও এই খেদমতের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য ৷ তা ছাড়া নিয়মিত শিক্ষকতার মত এটিও এক ভিন্ন খেদমতের ময়দান, যার জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য লোক নিয়োজিত হওয়া চাই ৷ এই খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের প্রচূর সময়ও ব্যয় হয়, যে সময়ে ইচ্ছা করলে তারা জীবন-জীবিকা উপার্জন করতে পারতেন ৷ এই সময়দানের বিনিময়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া যেতেই পারে এবং দেয়াও উচিৎ ৷ নইলে এই ময়দানে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়ে সমূহ সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷
তিন,
আমাদের অনেক আকাবির ওলামায়ে কেরামকে ওয়াজের হাদিয়া দেয়া হলে তা গ্রহন করতেন ৷ আবার অনেকে গ্রহন করতেন না ৷ এখনও অনেকে আছেন যারা ওয়াজের হাদিয়া নেন না ৷ তবে অনেককে আবার এমনও দেখা যায় যে, হাদিয়া নেন না ঠিক, কিন্তু তার যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করতে হয় ৷ আর এমন ব্যবস্থাই করতে হয় যে, সেই তুলনায় হাদিয়া নিলেই বরং আয়োজকদের সাশ্রয় হত ৷
সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় ওয়াজের জন্য হাদিয়ার নামে পারিশ্রমিক আদান-প্রদান করাকে খারাপ নজরে দেখার সুযোগ নেই ৷ এই পারিশ্রমিকটা সময়দানের বিনিময় হবে ৷ আর যাতায়াতের ব্যয়ভার তো বহন করতেই হবে ৷
চার,
দ্বীনী কাজে দায়িত্ব পালনের জন্য যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় সেটা এক দিকে কাজের বিনিময়, অন্য দিকে দ্বীনী কাজে আবদ্ধ থাকায় জীবিকা উপার্জন করতে না পারার কারণে তার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের আয়োজন ৷ সুতরাং ওয়াজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক আদান-প্রদান বৈধ হলেও এটা নিছক কোনো পণ্য বিক্রির মূল্যের মত হতে পারে না ৷ আমাদের আকাবির-আসলাফগণ এভাবে কখনই বিবেচনা করেন নি ৷ বরং এটাকে মাদরাসার শিক্ষকতা বা মসজিদের ইমামতের মত সন্মানজনক ও ভদ্রতাসুলভ দায়িত্ব হিসাবে গ্রহন করতে হবে ৷
মাদরাসা থেকে শিক্ষকদেরকে বেতন দেয়া হয় ৷ শিক্ষকগণ বেতন গ্রহনও করেন এবং বেতন দেয়া-নেয়ার পদ্ধতিকে মাদরাসার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জরূরীও সাব্যস্থ করেছেন হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহসহ অনেক আকাবির ওলামায়ে কেরাম ৷ কিন্তু তাই বলে মাদরাসার বেতন নিয়ে দর কষাকষি বা বেশি চাহিদা পেশ করাকে কখনও ভালো নজরে দেখা হয় নি এবং আজও দেখা হয় না ৷ বরং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে পরিমান বেতন-ভাতা ধার্য করেন তার উপরই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ৷ এভাবেই তো চলছে দ্বীনের কাজ ৷ মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে নসীহত করা হয়, উস্তাদদের হাজত পুরা করার চেষ্টা করতে, সেটা ভিন্ন কথা ৷
ওয়াজের হাদিয়াও কি এমনই হওয়া উচিৎ না? পণ্য কেনা বেচার মত দরদাম করে, বায়না বা অগ্রিম বুকিং মানি নিয়ে তারপর পেমেন্টের জন্য সিসটেম ধরিয়ে দেয়ার পদ্ধতি কখনই ওলামায়ে কেরামের শান-ইজ্জতের সাথে মানানসই নয় ৷ এই জাতীয় আচরণ পরিহার করা জরূরী ৷
পাঁচ,
ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থার আদর্শ ৷ ব্যবসার মধ্যেও তো অতিমাত্রার মুনাফাখোরীকে ইসলাম সমর্থন করে না ৷ ওয়াজের জন্য পারিশ্রমিক বৈধ হলেও ইচ্ছা মত দাম হাঁকানোটা ইসলামী অর্থনীতির মূলনীতি পরিপন্থী ৷ কোনো পণ্যের বাজার চাহিদা বেশি হয়ে গেলেই স্বেচ্ছাচারি মূল্যে তা বিক্রি করা ইসলামের দৃষ্টিতে শোভনীয় নয় ৷ বরং উৎপাদনব্যয় বা ক্রয়মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তার মূল্য নির্ধারণ করা উচিৎ ৷ সেদিক থেকেও চড়া দাম হাঁকিয়ে ওয়াজ করা সমিচীন নয় ৷ তবে যৌক্তিক পরিমাণে সময়দান ও রাহখরচ ইত্যাদির হিসাবে পারিশ্রমিক গ্রহন করতে কোনো বাধা নেই ৷
ছয়,
আইনানুগ ফতোয়া এক জিনিস আর শারাফত-ভদ্রতা ও তাকওয়া-এহতিয়াত আরো উচ্চাঙ্গের জিনিস ৷ ওয়ায়েজীন আলেমগণ শুধু আইনের মারপ্যাচে ফতোয়া দেখাবেন, আর শারাফত ও এহতিয়াতের আশা করা হবে সাধারণ মানুষের কাছে? আমরাও তো ছোটো বয়সে দেখেছি, চুক্তি ও কন্টাক্ট করে যারা ওয়াজ করতেন তারা হক্কানী ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ থাকতেন ৷ কোনো উল্লেখযোগ্য মাদরাসায় কখনও তাদের জায়গা হত না ৷ এটাকে বড় রকমের অন্যায় মনে করা হত ৷ কিন্তু এখন…?!
আসলাফের পথ থেকে সরে গিয়ে আমরা সফলকাম হতে পারব বলে মনে হয় না ৷
আমরা শুধু ফতোয়া মুখস্ত করে নিয়েছি, পারিশ্রমিক নেয়া বৈধ ৷ কিন্তু আমাদের পূর্বসূরী দেওবন্দের শায়খুল হাদীস আর সাহারানপুরের মুহতামিম সাহেবগণ সে পারিশ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করতেন সে ওয়াজ আমরা ভুলে গেছি ৷ মাদরাসার বোর্ডিংয়ের জলন্ত চুলা থেকে তরকারী গরম করায় মাস শেষে চুলার লাকড়ীর হিসাব করে তারা নিজেদের বেতন থেকে পরিশোধ করে দিতেন ৷ আর আমরা…?!
যারা ওয়ায়েজ হবেন, তাদের মধ্যে শারাফাত ও এহতিয়াত থাকা জরূরী ৷
অপারগতার কথা ভিন্ন ৷ অনেক দূরত্বে দুই প্রোগ্রাম কাছাকাছি সময়ে পড়ে গেলে কিংবা অন্য কোনো পথে চলার শক্তি না থাকলে লক্ষ টাকার খরচে হেলিকপ্টারে সফর হতে পারে, কিন্তু অপারগতা ছাড়া বিনাপ্রয়োজনে শুধু বিলাসিতার জন্য নিজের বা অন্যের পকেটের এত বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা অপব্যয়ের শামিল ৷
বাংলাদেশের ইতিহাসে আলেমদের মধ্যে রাজকীয় শান নিয়ে চলতেন যে কয়জন, হযরত হারুন ইসলামাবাদী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন তাদের অন্যতম ৷ তার কথা শুনেছি, জীবন সায়াহ্নে চিকিৎসার ইমার্জেন্সী প্রয়োজনে তার জন্য এয়ার এ্যম্বুলেন্স ঠিক করা হলে তিনি বলেছিলেন,এত টাকা আমার পিছনে খরচ না করে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কাজে লাগাও ৷
পারিশ্রমিক গ্রহন বিষয়ে বৈধতার ফতোয়া থাকলেও তাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করা যেমন বৈধ হয়ে যায় নি তদ্রূপ টাকা-পয়সার প্রতি লোভ দেখানোও জায়েজ হয়ে যাবে না ৷ বিপুল পরিমান টাকার শর্ত করা যদি লোভ না হয়, তো লোভ বলবে কাকে?
সুতরাং চুক্তি ও কন্টাক্ট করে ওয়াজ করা ওলামায়ে দেওবন্দ ও আকাবিরগণের পদ্ধতি নয়, বরং অভদ্রতার পরিচায়ক ৷
সাধারণ মানুষের কর্তব্য, যথা সম্ভব ওলামায়ে কেরামের সন্মান করা, এহতেরাম করা, তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পুরনে সচেষ্ট থাকা ৷ আবার ওলামাদেরও ন্যুনতম শতর্কতা অবলম্বন করা জরূরী ৷
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
