কোরআন তাফসির লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কোরআন তাফসির লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

سور القرآن ... في قصة


رجل قرأ ( الفاتحة ) قبل ذبح ( البقرة ) وليقتدى بـ ( آل عمران ) تزوج خير ( النساء ) وبينما هو مع أهله فى ( المائدة ) ضحّى ببعض ( الأنعام ) مراعيا بعض ( الأعراف ) وأوكل أمر ( الأنفال ) إلى الله ورسوله معلنا ( التوبة ) إلى الله أسوة بـ ( يونس ) و( هود ) و( يوسف ) ومع صوت ( الرعد ) قرأ قصة ( إبراهيم ) و ( حجر ) ابنه إسماعيل وكانت له خليه ( نحل ) اشتراها فى ذكرى ( الإسراء ) والمعراج ووضعها فى ( كهف ) له ، ثم أمر ابنته ( مريم ) وابنه ( طه ) أن يقوما عليها ؛ ليقتديا بـ ( الأنبياء ) فى العمل والجد ، ولما جاء موسم ( الحج ) انطلقوا مع ( المؤمنون ) متجهين إلى ( النور ) الذى يتلألأ ، وحيث كان يوم ( الفرقان ) وكم كتب فى ذلك ( الشعراء ) وكانوا في حجهم كـ ( النمل ) نظاما ، فسطروا أروع ( قصص ) الاتحاد ؛ لئلا يصيبهم الوهن كحال بيت ( العنكبوت ) وجلس إليهم يقص عليهم غلبة ( الروم ) ناصحا لهم كـ ( لقمان ) مع ابنه أن يسجدوا ( سجدة ) شكر لله ، أن هزم ( الأحزاب ) وألا يجحدوا مثل ( سبأ ) نِعَمَ ( فاطرِ ) السماوات والأرض ، وصلى بهم تاليا سورة ( يس ) مستوين كـ ( الصافات ) من الملائكة ، وما ( صاد ) صيدا ؛ إذ لا زال مع ( الزمر ) فى الحرم داعيا ( غافر ) الذنب الذى ( فصلت ) آيات كتابه أن يغفر له وللمؤمنين ، ثم بدأت ( الشورى ) بينهم عن موعد العودة مع الحذر من تأثرهم بـ ( زخرف ) الدنيا الفانية كـ ( الدخان ) خوفا من يوم تأتى فيه الأمم ( جاثية ) فمروا على ( الأحقاف ) فى حضرموت ؛ لذكر ( محمد ) عليه الصلاة والسلام - لها ولأمنها ، وهناك كان ( الفتح ) فى التجارة مما جعلهم يبنون لهم ( حُجُرات ) ، وأسّسوا محالا أسموها محال ( قاف ) للتجارة فكانت ( ذاريات ) للخير ذروا ، وكان قبل هذا ( الطور ) من أطوار حياته كـ ( النجم ) فصار كـ ( القمر ) يشار إليه بالبنان بفضل ( الرحمن ) ووقعت بعدها ( واقعة ) جعلت حالهم على ( الحديد ) فصبرت زوجته ولم تكن ( مجادلة ) لعلمها أن الله يعوضهم يوم ( الحشر ) إليه وأن الدنيا ( ممتحنة ) فكانوا كـ ( الصف ) يوم ( الجمعة ) تجاهَ هذا البلاء مجتنبين صفات ( المنافقين ) لأن الغُبن الحقيقى غبن يوم ( التغابن ) فكاد ( الطلاق ) يأخذ حكم ( التحريم ) لعمق المودة بينهم ، فـ ( تبارك ) الذى ألف بينهم كما ألف بين يونس والـ ( ـنُّون ) وتذكروا كذلك يوم ( الحاقة ) فى لقاء الله ذى ( المعارج ) فنذروا أنفسهم للدعوة إليه واقتدوا بصبر أيوب و ( نوح ) ، وتأسّوا بجَلَد وحلم المصطفى ؛ حيث وصلت دعوته إلى سائر الإنس و ( الجن ) بعد أن كان ( المزمل ) و ( المدثر ) وهكذا سيشهدُ مقامه يوم ( القيامة ) كل ( إنسان ) إذ تفوق مكانته عند ربه مكانة الملائكة ( المرسلات ) فعَنِ ( النبأ ) العظيم يختلفون ، حتى إذا نزعت ( النازعات ) أرواحهم ( عبسـ ) ـت الوجوه وفزعت الخلائق لهول ( التكوير ) و ( الانفطار ) فأين يهرب المكذبون من الكافرين و ( المطففين ) عند ( انشقاق ) السماء ذات ( البروج ) وذات ( الطارق ) من ربهم ( الأعلى ) إذ تغشاهم ( الغاشية ) ؟ هناك يستبشر المشاؤون فى الظلام لصلاة ( الفجر ) وأهل ( البلد ) نيام حتى طلوع ( الشمس ) وينعم أهل قيام ( الليل ) وصلاة ( الضحى ) فهنيئا لهم ( انشراح ) صدورهم ! ووالذى أقسم بـ ( التين ) وخلق الإنسان من ( علق ) إن أهل ( القدر ) يومئذ من كانوا على ( بينة ) من ربهم فأطاعوه قبل ( زلزلة ) الأرض ، وضمّروا ( العاديات ) فى سبيل الله قبل أن تحل ( القارِعة ) ولم يلههم ( التكاثر ) فكانوا فى كل ( عصر ) هداة مهديين لا يلفتون إلى ( الهمزة ) اللمزة موكلين الأمر إلى الله كما فعل عبد المطلب عند اعتداء أصحاب ( الفيل ) على الكعبة وكان سيدا فى ( قريش ) وما منعوا ( الماعون ) عن أحد ؛ رجاء أن يرويهم من نهر ( الكوثر ) يوم يعطش الظالمون و ( الكافرون ) وتلك حقيقة ( النصر ) الإلهى للنبى المصطفى وأمته ، فى حين يهلك شانؤوه ، ويعقد فى جِيد مَن آذتهُ حبل من ( مسد ) فاللهم تقبل منا وارزقنا ( الإخلاص ) فى القول والعمل يا رب ( الفلق ) ورب ( الناس )...
_______________________
منقول ......

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কুরবানীঃ ত্যাগের মহিমায় প্রেরণা যোগায়

মুনির আহমদ

আদিকাল হতেই কুরবানীর রীতি চলে আসছে। হযরত আদম (আ.)এর পুত্রদ্বয় হাবিল ও কাবিল এক বিশেষ ব্যাপারে ফলাফল নির্ণয়ের জন্য যথাক্রমে হাবিল একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা এবং কাবিল কিছু শস্য কুরবানী স্বরূপ পেশ করেছিলেন। হাবিলের কুরবানী কবুল হল। আসমান থেকে একটি অগ্নি শিখা এসে হাবিলের দুম্বা ভস্ম করে দিল। আর কাবিলেরটা কবুল হল না, তার শস্য আসমানী আগুন জ্বালালো না। সে সময় কুরবানী কবুল হওয়া না হওয়ার এরূপ নিশানাই সাব্যস্ত ছিল।হযরত ইব্রাহীম (আ.)কে আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে বহু রকমের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং তিনিও প্রতিটি পরীক্ষায় চরম কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘খলিলুল্লাহ্ (আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু)’ উপাধীতে ভূষিত হন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় ছেলে হযরত ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানী করতে আদিষ্ট হয়ে সকল স্বার্থ দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে, সকল মায়া-মুহাব্বত বিসর্জন দিয়ে হুকুমের যথার্থ তা’মীল করেছিলেন। ফলে ইরশাদে ইলাহী নাযিল হয়, “ক্বাদ সাদ্দাকতার রুইয়া…” অর্থাৎ- ‘হে নবী! আপনি স্বপ্নের আদেশকে যথানুরূপ বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর কর্তব্য পরায়ণতা, খোদাভক্তি ও নিষ্ঠার চরম পরাকাষ্ঠা প্রত্যক্ষ করে মহান আল্লাহ্ খুশী হয়ে বেহেশতি দুম্বা পাঠিয়ে দেন। ইসমাঈল (আ.)এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানী হয়। তাই আজ কুরবানীর নামে হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম-সাধনা ও প্রেম-নৈকট্যের দৃষ্টান্ত ও আত্মত্যাগ নিয়ে প্রতি বছর বিশ্ব মুসলিম আল্লাহর দুয়ারে সমাগত হয়। সুতরাং আমাদের মাঝে হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর চরম আত্মত্যাগ অবিস্মৃত স্মৃতিরূপে ভাস্কর হয়ে আছে। সাথে সাথে আল্লাহ্ তাআলা পরবর্তীদের জন্য সেই কুরবানীকে একটি পালনীয় রীতি হিসেবে সাব্যস্ত করেন। ইরশাদ হচ্ছে- “ফাত্তাবিউ মিল্লাতা ইব্রাহীমা হানীফা” অর্থাৎ- ‘একনিষ্ঠভাবে তোমরা ইব্রাহীমী মিল্লাতের অনুসরণ কর।’ (সূরা আলে ইমরান- ৯৫)। মোটকথা, ‘কুরবানী’ হচ্ছে ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শনের মাধ্যমে মাহান আল্লাহর অধিক নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জনের অনন্য সোপান। কুরবানীর মাধ্যমে বান্দা স্বীয় খাহেশাতকে বিসর্জন দিয়ে মহান আল্লাহর সমীপে আত্মনিবেদন পূর্বক তাঁর আদেশ সম্পর্কিত হুকুম পালন করতঃ তাঁর নৈকট্য লাভে অগ্রসর হয় বিধায় এটিকে ‘কুরবান’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। লক্ষণীয় যে, হযরত ইসমাঈল (আ.) যবেহ না হলেও হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর আন্তরিকতা ও পূর্বাপর সকল প্রস্তুতিকেই আল্লাহ্ তাআলা ‘বাস্তবায়ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা কবুল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তাআলা তো দেখেন মানুষের আন্তরিকতাময় ইচ্ছাকে।প্রতি বছর আমরা যে পশু কুরবানী করছি, তার গোশত তো আমরাই খাচ্ছি। তার চামড়া-হাড় দ্বারা তো আমারাই উপকৃত হচ্ছি। কুরবানীর পশুর কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। তাহলে এই কুরবানীর উদ্দেশ্য কি? কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, “লাঁই ইয়ানালাল্লাহা লুহুমুহা ওলা দিমাউহা ওলা কিন ইয়ানালাল্লাহুত্ তাক্বওয়া মিনকুম”। অর্থাৎ-‘ কুরবানীর পশুর গোস্ত আল্লাহ্ তাআলার কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে  না তার রক্ত। তবে তোমাদের তাক্বওয়াই তাঁর কাছে যায়। (সূরা হজ্ব- ৩৭)। আল্লাহ্ তাআলা পরীক্ষা নেন কেবল আমাদের মনোবৃত্তিরই। কিন্তু আজ আমাদের সামাজের দিকে তাকালে কি দেখতে পাই? আমারা দেখতে পাই, কুরবানীকে যেন গোশত ভক্ষণের এক মহোৎসব মনে করা হয়। সমাজের যারা সম্পদশালী, তারা যেন কুরবানীর পশু ক্রয় করতে এক রকম প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন। কে কত চড়া দামে পশু ক্রয় করবেন, এটাই হয়ে উঠে মূখ্য বিষয়। আর যারা অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল, দরিদ্র, তারা ঈদুল আযহা আসলেই এক মহাচিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তারা কুরবানী না দিতে পারায় মনো বেদনায় ব্যথিত হন। নিজেদের সমর্থহীনতার কথা বিবেচনা করা হয় না; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু সামাজিকতা মেইনটেন করার জন্য কুরবানী করা হয়। এমন কি তারা কুরবানী করার জন্য ঋণ পর্যন্ত করতেও বাধ্য হয়। জিজ্ঞেস করলে বলে- সবাই দিচ্ছে, আমি দিব না; এটা কেমন হয়। তাছাড়া বাড়ীতে স্ত্রী-পরিজন নিয়ে গোশত খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া যায়। সাতভাগে কুরবানী দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের নিয়্যাতের কতটা নিষ্ঠতা থাকে, তা ভাবার বিষয়। যে সমাজে দুই জন লোক এক হতে পারে না, ভাই ভাই দ্বন্দ্ব-কলহ্ লেগেই থাকে। ফলে সাত ভাগের কুরবানীর ক্ষেত্রে গোশত ভাগ বণ্টনের সময় দেখা যায় তুমুল বাক বিতন্ডা। এতে গোশ্ত ভক্ষণের উদ্দেশ্যটাই যেন ফুটিয়ে তোলা হয়। অথচ একমাত্র মহান আল্লাহর হুকুম তা’মিল ও তাঁকে রাজি-খুশী করার জন্যই কুরবানী দেয়ার ব্যাপারে সবার নিয়্যাত এক থাকা অপরিহার্য। না হলে কুরবানী হবে না। অথচ আমরা ক’জনই বা সেদিকে লক্ষ্য রাখি! কিন্তু যদি হযরত ইসমাঈল (আ.)এর যবেহই মঞ্জুরে ইলাহী হত এবং হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর হাতে তাঁর কুরবানী হত, আর সেই আমলের পরম্পরায় আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানদেরকে যবেহ করার হুকুম হত, তা কত কঠিন ব্যাপারই না ছিল! তথাপি মুসলমান হিসেবে জীবন যাপন করলে আমাদের তা পালন করতেই হত। এ ক্ষেত্রে পরম করুণাময় আল্লাহ্ আমাদের উপর বড় মেহেরবানী করেছেন যে, তিনি পশু কুরবানীকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তাই ইব্রাহীমী কুরবানীর স্মৃতি গাঁথা ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। খলীলী ইশকের দীক্ষায় উজ্জিবিত হয়ে আহকামে ইলাহীর সামনে নিজের খাহেশাত বা কামনা বাসনাকে কুরবান করতে হবে। সর্বান্তকরণে নিজেকে সঁপে দিতে হবে ইসলামের তরে। প্রকৃতপক্ষে কুরবানী হচ্ছে ত্যাগের এক সমুজ্জল দৃষ্টান্ত। বলাবাহুল্য, পশু কুরবানী তো একটি প্রতিকী আমল। এর অন্তর্নিহিত কৃতজ্ঞতা-ই একে অর্থবহ করে তুলেছে। কারণ, আল্লাহর জন্য সবচেয়ে প্রিয় বস্তু বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়েই কুরবানীর সূচনা হয়। তাই কুরবানীর প্রক্কালে সর্বাগ্রে নফ্সানী খাহেশাত, প্রবৃত্তি, লোভ-লালসা ও দুনিয়ামুখিতার গলায় ছুরি চালাতে হবে। নিজের মনের খেয়াল খুশিতে নয়, বরং আল্লাহ্ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মোতাবেক সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে চলার সংকল্প করতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতার আশঙ্কায় সর্বপ্রকার অনৈসলামিক বা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষ যেখানে সারাক্ষণ নিজের সামান্য কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার জন্য, নিজের চাহিদা পূরণের জন্য যে কোন রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে, সেখানে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নির্দেশ পালন কল্পে, তাঁর রহ্মতের দারে কড়া নাড়ার জন্য, তাঁর দয়া দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে সর্বোচ্চ কুরবানী করতে হবে। এ ত্যাগ এ কুরবানী পশু কুরবানী থেকে শুরু করে আত্মোৎসর্গ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। খোদাভীতির সামনে পরিবেশ পরিস্থিতি, সমাজ সংস্কার আর পার্থিব ভয়-ভীতিকে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসার সামনে মানুষের সহায় সম্পদ পরিবার পরিজন এবং নিজের জীবনের ভালবাসাসহ অন্যান্য যাবতীয় প্রেম-ভালবাসাকে উৎসর্গ করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। আল্লাহর হুকুম পালনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) যেরূপ প্রবল মনোবল নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন, ইবলীস শয়তানও তত কঠোর প্রতিরোধ নিয়ে বাঁধা দিয়েছিল। কিন্তু শয়তান তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি রমিয়ে জিমার (পাথর নিক্ষেপ) করে শয়তানকে বিতাড়িত করেছিলেন। যার স্মৃতি আজ হজ্বের আমল হিসেবে গন্য। আর মরদুদ শয়তান পরাস্ত হয়ে চির লাঞ্ছনা কুড়িয়েছে। আজ মীনা প্রান্তরের সেই ‘জমরাত’ জগৎকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, প্রকৃত মু’মিনের নিকট শয়তানী চক্রান্ত অতি তুচ্ছ এবং প্রস্তরাঘাতে দূরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য। ঐ স্তম্ভ জগদ্বাসীকে বলছে যে, যে কোন প্রকার সৎকাজে অগ্রসর হওয়ার সময় যদি শয়তান কোন প্রকার বাঁধার সৃষ্টি করে, তাহলে আল্লাহর এ ক’জন সেরা নবীর নিদর্শন স্মরণ করে তওবা স্বরূপ ভীষণ প্রস্তরাঘাতে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে অনেক দূরে নিক্ষেপ কর। আল্লাহর আদেশ পেয়ে হযরত ইব্রাহীম (আ.) পার্থিব মায়া পরিত্যাগ করে প্রাণপ্রিয় পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়ে ছিলেন। অনুরূপভাবে আমাদেরকেও প্রকৃত মুসলমান হতে হলে কিভাবে শত প্রেম ভালবাসা, মায়া-মুহাব্বাত ছিন্ন করে, শত বাধাবিঘ্ন, শয়তানী কুচক্র পদদলিত করে কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, আর কিভাবেই বা পরম দয়ালু আল্লাহ্ তাআলা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য লালায়িত বান্দাকে শত সহস্র বিপদ হতে অচিন্তনীয় ভাবে সম্পূর্ণ রূপে রক্ষা করেন, কুরবানী তাই শিক্ষা দেয়। আজও কুরবানীর ব্যাপারে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিয়ে প্রতিরোধে তৎপর হয়। কিন্তু মিল্লাতে ইব্রাহীমির ধারক আল্লাহর খাঁটি মুসলমান বান্দাগণ শয়তানকে পরাজিত করে আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করেন। তথাপি শয়তান কতক লোককে তার দলে ভিড়াতে সক্ষম হয়। তাদের কেউ শয়তানী প্ররোচণায় কুরবানী দ্বারা কেবল নাম কামনার ধান্ধায় থাকে। আবার কেউ ওয়াজীব দায়িত্ব আদায়ে অনীহা দেখায়। উপরন্তু অনেকে কুরবানীকে নির্মম পশু হত্যা ও অপচয় বলে ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি পর্যন্তও করে বসে। ইসলাম তো হচ্ছে সবান্তকরণে আল্লাহর সমীপে আত্মনিবেদন করার নাম। আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর সৃষ্টি পশু কুরবানী করবে, এতে সংকীর্ণমনা হওয়ার আবকাশ নেই। এ ব্যাপারে যারা বিরূপ উক্তি করে, তাদের অনেকে ইসলামী নামের অধিকারী হলেও মূলতঃ তারা ধর্মদ্রোহী নাস্তিক মুরতাদদের কাতারেই তাদের অবস্থান আবিষ্কার করা উচিত। ঈদুল আযহার পশু কুরবানী যেহেতু আল্লাহর আদেশ পালন ও ইবাদত; তাই এক্ষেত্রে মনে কোন সংকীর্ণতার স্থান দেয়া জায়েয নেই। বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর এ হুকুম পালন করতে হবে। তাই তো এ দিনের নাম ‘ঈদ’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কুরবানী তথা আল্লাহর হুকুম পালন করতে পারার খুশির দিন। মূলতঃ হযরত ইব্রাহীম (আ.) যেমন কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে প্রমাণ করেছিলেন, “ইন্নাসালাতি ওয়া নুসুকি ওয়ামাহ্ ইয়াইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” অর্থাৎ- “আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্ব পালনকর্তা মহান আল্লাহর জন্যই নিবেদিত।” (সূরা আন্আম- ১৬২)। আমাদেরকেও কুরবানীতে ঐ আদর্শই অনুসরণ করতে হবে। ‘কুরবানী’ প্রতি বছর আসে যায়, আমাদের বারবার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করে। সারা বছরের কর্মতৎপরতায় কুরবানীর শিক্ষাকে ধারণ করে রাখাই সচেতন ধার্মিকের কাজ। সুতরাং, আসুন! আমরা কুরবানীর  শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আল্লাহর অধিক নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজেকে সর্বান্তকরণে সঁপে দেই ইসলামের তরে। আল্লাহ্ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন॥

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কুরআন হাদিস ব্যাখ্যার একটি বড় মূলনীতি একই বিষয়ে সবরকম দলিল সামনে রাখা

কুরআন হাসিদ পড়া ও মানার ব্যাপারে প্রায় সব মুসলমানেরই আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু সঠিক মূলনীতি না জানার কারণে বিভ্রান্তির শিকার হন। আমার জানা মতে একটি বড় মূলনীতি হল, একই বিষয়ের সবরকম দলিল-প্রমাণ সামনে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। নয়তো বিভ্রান্তি অবশ্যম্ভাবী। যেমন আমি ক্লাসে বললাম, আগামীকাল থেকে প্রতিদিন ক্লাসে পড়াবো। তখন এক ছাত্র বলল, স্যার! শুক্রবারেও? 
আরে ভাই, শুক্রবারে যে বন্ধ এটা তো সবাই জানে। তাই আমার এ কথার সাথে বন্ধের দিনগুলোর বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। যদিও আমি বন্ধের দিনে ক্লাস না করার কথা স্পষ্ট করে বলিনি। না বললেও বন্ধের দিন ক্লাস হবে না, এটা সকলকেই বুঝতে হবে। 
 .
ইসলাম থেকে কিংবা ইসলামের নামে যতগুলো বাতিল ফিরকা, দল-উপদল সৃষ্টি হয়েছে; আকিদাগত, ফিকহী মাসায়েলগত বা অন্যান্য বিষয়ে-- সবগুলোর কাছে কোনো-না-কোনো দলিল থাকে। কুরআন ও হাদিস থেকেই দলিল-প্রমাণ দিয়ে থাকে। যদিও দলিলগুলো খোড়া ও বাস্তবতা-বিবর্জিত। কিন্তু দলিল তো আছে। কারণ, আল্লাহর সমস্ত নিদর্শন, উদাহরণ-উপমা এবং তাঁর অহি দ্বারা হেদায়াত পাওয়া যেমন সহজ; তদ্রƒপ গোমরাহ-পথভ্রষ্ট হওয়াও তেমন কঠিন না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে : يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا (সূরা বাকারা : ২৬) 
দলিল থাকা সত্ত্বেও সত্যপথে না থাকার একটি মৌলিক কারণ হল, একমুখী অধ্যয়ন। কেউ কোথায় একটি দলিল পেল; ব্যস সে এটি নিয়েই ব্যস্ত ও মগ্ন। অথচ ভিন্ন দলিল ছিল। দুটোর মাঝে সামঞ্জস্য করে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেত। দুয়েকটি উদাহরণ নেওয়া যাক। 
ক. বাদশা আবরাহা রাসুল সা. এর জন্মের পূর্বে পবিত্র কাবা ধ্বংস করার জন্যে হস্তিবাহিনী নিয়ে আসে। তখন আল্লাহ তাআলা ছোট্ট পাখির দ্বারা তাদের ধ্বংস করে দেন। ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে রাসুল সা. -কে বলা হয়েছে : أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْففِيلِ অর্থ : “হস্তিবাহিনীর সাথে আপনার রব কী করেছিল তা আপনি দেখেননি?”
শুধু এ আয়াত নয় আরও অনেক আয়াত এবং হাদিস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায়, অদৃশ্যের অনেক বিষয় আমাদের নবী সা. জানতেন। তাই তিনি আলিমুল গায়েব। 
এর বিপরীতে আরও অনেক আয়াত, হাদিস ও নবী সা. এর ঘটনা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, রাসুল সা. গায়েব জানতেন না। আয়েশা রা. এর ওপর অপবাদ আরোপ করার পর রাসুল সা. পর্যন্ত আয়েশাকে বলেছিলেন, কোনো গোনাহ হয়ে থাকলে ক্ষমা চাও, আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন। এরকম হাদিস অসংখ্য। 
এবার চিন্তা করুন, যারা সূরা ফীল দ্বারা দলিল গ্রহণ করে রাসুলকে আলিমুল গায়েব বলে তারা এসব দলিল দেখলে এ বিভ্রান্তিকর আকিদা তারা পোষণ করত না।

খ. অনেকে খুতবা চলাকালীন তাহিয়্যাতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদ পড়ার কথা বলেন। আসলে তাদের কথা কতটুকু দলিলসম্মত?
একটি হাদিসে রাসুল সা. ইরশাদ করেন : إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ
অর্থ : তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগে দুই রাকাত নামায পড়ে নাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৩) 
দুখুলুল মসজিদ মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। ফরজ বা ওয়াজিব এমনকি সুন্নতও না। বিখ্যাত আহলে হাদিস আলেম আল্লামা মুবারকপুরি রহ. তোহফাতুল আহওয়াজিতে উল্লেখ করেন : قال الحافظ في الفتح واتفق أئمة الفتوى على أن الأمر في ذلك للندب (খ.২, পৃ. ২১৬; অধ্যায় : باب ما جاء إذا دخل أحدكم المسجد فليركع ركعتين)

সহিহ বুখারিতে হযরত জাবের রা. হতে একটি হাদিসে এসেছে : دَخَلَ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ أَصَلَّيْتَ قَالَ لَا قَالَ قُمْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ অর্থ : রাসুল সা. জুমুআর খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি (সুলায়েক গাতফানি রা.) মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন রাসুল সা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি নামায পড়েছ? তিনি বললেন, না। রাসুল তাকে দুই রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিলেন। (হাদিস : ৮৮৯; অধ্যায় : باب من جاء والإمام يخطب صلى ركعتين خفيفتين )
আরেকটি হাদিসে এসেছে, আবু জর গিফারি রা. জুমুআর খুতবার সময় মসজিদে আসলেন। রাসুল সা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন : هل ركعت قال لا قال قم فاركع فقام فركع ركعتين অর্থ : নামায পড়েছ? 
-জি না। 
-তাহলে নামায পড়ো। তখন তিনি দু রাকাত নামায পড়লেন। (মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৪৭২১)
---
এই দলিল দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, খুতবা চলার সময়ও কেউ মসজিদে হাজির হলে দুখুলুল মসজিদ পড়তে হবে। এবার আসুন অন্য দলিল দেখি :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا وَالَّذِي يَقُولُ لَهُ أَنْصِتْ لَيْسَ لَهُ جُمُعَةٌ.
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জুমুআর দিন ইমামের খুতবার সময় যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে গাধার অনুরূপ; কেবল সে বোঝা বহন করছে। আর যে ব্যক্তি তাকে ‘চুপ করো’ বলছে, তার জুমুআর নামাযই শুদ্ধ হবে না। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ২০৩৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৫৩০৫; কানযুল উম্মাল, হাদিস নং- ২১২০৬]
এই হাদিস তেমন শক্তিশালী ও সহিহ না। কিন্তু বিষয়টি অন্যান্য সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন : 
عَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ أَنْصِتْ فَقَدْ لَغَا.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ইমামের খতুবার সময় কেউ কাউকে বলল, ‘চুপ করো’ তাহলে সেও অতিরঞ্জন ও ভুল করল। [তিরমিযি, হাদিস নং- ৫১২, অধ্যায় : با ما جاء في كراهية الكلام والإمام يخطب] 
ইমাম তিরমিযি রহ. হাদিসটি বর্ণনার পর বলেন : حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
ইমাম তিরমিযি সাধারণত হাদিস বর্ণনা করার পর হাদিসের ওপর আমল আছে কি-না তাও বলে দেন। এ হাদিস বর্ণনার পর তিনি বলেন : 
وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا لِلرَّجُلِ أَنْ يَتَكَلَّمَ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ وَقَالُوا إِنْ تَكَلَّمَ غَيْرُهُ فَلَا يُنْكِرْ عَلَيْهِ إِلَّا بِالْإِشَارَةِ.
অর্থ : আহলে ইলম এ হাদিস অনুযায়ী আমল করে থাকেন। খুতবার সময় কথা বলাকে তারা মাকরুহ (তাহরিমি) মনে করেন। কেউ কথা বললে, তাকে ইশারায় চুপ থাকতে বলা হবে। ‘তুমি চুপ থাক’ এ কথাও বলা যাবে না। 
শায়েখ নাসিরউদ্দিন আলবানিও সহিহ বলেছেন।

এ বিষয়ে আরেকটি হাদিস পেশ করছি :
عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِى سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ইমামের খতুবার সময় তুমি যদি তোমার পাশের ব্যক্তিকে বলো ‘তুমি চুপ থাকো’ তাহলে তুমিও ভুল করলে। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২০০২, অধ্যায় : باب فِى الإِنْصَاتِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِى الْخُطْبَةِ] 
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তোমরা সুবহানাল্লাহও বলবে না। [বিদআতের উদ্ধৃতিতে মাহফুজ প্রণীত ইবাদ, পৃ. ২৭৩]

আমরা জানলাম, খুতবা শোনা ওয়াজিব। দুখুলুল মসজিদ পড়া মুস্তাহাব। এখন আমরা ওয়াজিব ছেড়ে দিয়ে মুস্তাহাব পড়ব? এখন প্রশ্ন হবে, রাসুল সা. তো এক বা দুইজন সাহাবিকে খুতবার সময় দুখুলুল মসজিদ পড়তে বলেছেন। মুহাদ্দিসে কেরাম এর অনেক উত্তর দিয়েছেন।
সেসব উত্তর না দিয়ে আমি ইনসাফের একটি কথা বলতে চাই, রাসুল সা. এর যুগে খুতবা শুরু হওয়ার অনেক আগেই সবাই মসজিদে হাজির হতেন। ওইদিন বিশেষ কোনো কারণে বিলম্ব হওয়ায় এক/দুইজন সাহাবিকে রাসুল সা. দুখুলুল মসজিদ পড়ার আদেশ করেছেন। কারণ, খুতবার পর নফল/সুন্নত পড়ার সুযোগ পাবে না। কিন্তু আমরা প্রতি সপ্তাহে এ কাজ করছি! ওদিকে ইমাম খুতবা দিচ্ছেন আর অনেক মানুষ দুখুলুল মসজিদ পড়ছেন!!! 
এটা কি ইনসাফের কথা???
হা, কারও যদি হঠাৎ কোনোদিন দুখুলুল মসজিদ ছুটে যায়; আর তিনি নিয়মিত এ আমল করেন, তখন সে খুব দ্রুত দুই রাকাত পড়ে নিতে পারে। কিন্তু বারবার এ সুযোগ গ্রহণ করা মোটেও জায়েয হবে না। শরিয়তকে পরিবর্তন করার নামান্তর।

সব দলিল-প্রমাণ সামনে না রাখার কারণেই এ ভুল মাসআলা বুঝেছেন। উভয় প্রকার দলিল না দেখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে বেশি। এখানেও তাই হয়েছে

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬

দাম্পত্য জীবনকে কুরআান কিভাবে সাজিয়েছে?

Anamul Hoque Masud

একটা সুন্দর সংসার এর জন্য স্বামী-স্ত্রীর কি করা উচিত, কি না করা উচিত এগুলো নিয়ে আমরা তো কত লেখাই পড়ি, কত মানুষের কত উপদেশই শুনি – তার কতটা সত্য কতটা মিথ্যা কে জানে? কিন্তু, একটি সুখী বিবাহিত জীবন পাওয়ার জন্য কি করতে হবে – সেই শর্তগুলি যদি সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে আসলে তাহলে কেমন নয়? যিনি স্রষ্টা তার চাইতে বেশী কে জানবে তার সৃষ্টি সম্পর্কে? ভেবে দেখুন, যেখানে মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সরাসরি বলে দিচ্ছেন – এই যে মানুষ! শোনো! তুমি যদি সুখী সংসার চাও তোমাকে এই এই কাজগুলো করতে হবে – তাহলে আমাদের কি আর অন্য কোনো দিকে তাকানো ঠিক হবে?
একটা আনন্দময় সংসারের জন্য স্বামী/স্ত্রীর পারষ্পরিক করণীয় কি হবে – এই লেখায় তা আমরা কুরআন মাজিদের সূরা নিসা’র ৩৪ নং আয়াতের প্রথম অংশের আলোকে আলোচনা করব। আল্লাহ্‌ এই আয়াতে প্রথমে ছেলেদের কি করণীয় তা বলেছেন, এরপর মেয়েদের কি করণীয় তা নিয়ে বলেছেন। আমি আয়াতটির বাংলা অনুবাদে ইচ্ছে করে গুরুত্বপূর্ন শব্দগুলোকে আরবীতে রাখব। তারপর সেই আরবী শব্দগুলোর অর্থ ধরে ধরে স্বামী/স্ত্রীর পারষ্পরিক করণীয় কাজগুলির তালিকা বের করব। আসুন তাহলে শুরু করা যাক —
মহান আল্লাহ্‌ বলেন:
4-34
অর্থ:
ছেলেরা মেয়েদের ব্যাপারে “ক্বাওয়াম” হবে; কারণ, আল্লাহ্‌ তাদের কাউকে কারো উপর সুবিধা দিয়েছেন, এবং কারণ তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করবে।
কাজেই, “সালিহা” মেয়েরা হবে “কানিতা” ও “হাফিযা” – হেফাযত করবে যা দেখা যায় না এবং যা আল্লাহ্‌ তাদেরকে হেফাযত করতে বলেছেন।


আয়াতাংশটা যে জটিল সন্দেহ নেই। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে আসলে দুইটা বাক্য আছে (উল্লেখ্য, বাক্য আর আয়াত এক জিনিস নয়। অনেক বাক্য মিলে এক আয়াত হতে পারে, আবার একাধিক আয়াত মিলেও একটা বাক্য হতে পারে)। প্রথম বাক্যে আল্লাহ্‌ ছেলেদের করণীয়গুলি নিয়ে বলেছেন, আর দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন মেয়েদের করণীয়গুলি নিয়ে।

ছেলেদের করণীয় কাজগুলি দিয়ে শুরু করা যাক।
ছেলেদের করণীয়:
ছেলেদের করণীয় বুঝতে হলে আমাদেরকে “কাওয়াম” শব্দের অর্থ বুঝতে হবে। আরবী ভাষায় একটা ক্রিয়া (verb) কে বুঝা যায় তার বিপরীত ক্রিয়ার সাথে তুলনা করে। কাওয়াম বা উঠে দাঁড়ানো হলো বসে থাকার উল্টো। কাওয়াম বুঝায় সক্রিয়তা, যা নিষ্ক্রিয়তার উল্টো।

ছেলেদের করণীয় ১ : সম্পর্কের সকল ক্ষেত্রে উদ্যোগী (active) হবে
আল্লাহ যখন বলছে ছেলেদের ‘কাওয়াম’ হতে হবে, তখন তিনি বলছেন সম্পর্ক রক্ষায় ছেলেদের এক্টিভ হতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে, শুরু করতে হবে। একটা ছেলে যখন তার স্ত্রীকে দেখবে সে রান্নাঘরের কাজ নিয়ে, বাচ্চা নিয়ে পেরেশান হয়ে যাচ্ছে – তখন নিজের উদ্যোগে এগিয়ে যেয়ে সাহায্য করতে হবে। ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যেতে মন চায় – সেটা ছেলেকেই আগে জিজ্ঞেস করতে হবে। বিবাহ বার্ষিকীতে স্ত্রী কি করছে তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেকেই আগে শুভেচ্ছা জানাতে হবে।

ভুল বুঝা-বুঝি, ঝগড়া হলে ছেলের যতই ইচ্ছে করুক ম্যান-কেইভ (পুরুষ-গুহা) এ যেয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে, যতই মনে আসুক ‘ও ভুল করেছে ওকে ক্ষমা চাইতে হবে’, নিজের মনের এই সব ইচ্ছাকে জলাঞ্জলী দিয়ে উদ্যোগী হতে হবে, ঝগড়াঝাটির জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, এগিয়ে যেয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, মন থেকে ক্ষমা করে দিতে হবে। মেয়েরা সৃষ্টিগতভাবে লাজুক প্রকৃতির, তাই এমনকি অন্তরঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
ছেলেদের করণীয় ২: সম্পর্ক নবায়নে ক্রমাগত চেষ্টা চালাবে/ Showing continuous commitment
কাওয়াম শব্দের আরেক অর্থ হলো – কোন কিছু দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা, কিছুতেই ছেড়ে না দেয়া। আরবি ভাষার একটা বৈশিষ্ট্য হলো কোন শব্দের মধ্যে যদি কোন অক্ষর পরপর দুইবার আসে তাহলে তা পুনরাবৃত্তি ও আধিক্য বুঝায়। যেহেতু কাওয়াম শব্দের মাঝখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরটি দুইবার আছে, তাই এখানে কাওয়াম শব্দের মাধ্যমে বলা হচ্ছে – ছেলেদের বার বার চিন্তা করে দেখতে হবে, প্ল্যান করতে হবে, কি করলে আমাদের সম্পর্কটা দিনে দিনে আরো চুম্বকীয় হবে।

‘আরে ও তো আমারই, ও কি আর আমাকে ছেড়ে যাবে’ – এই জাতীয় চিন্তা বাদ দিতে হবে। কাজের মধ্যে থাকুন, অফিসে থাকুন আর যেখানেই থাকুন, ফোন করে খবর নিতে হবে। শত ব্যস্ততার ভিড়েও প্রায়োরিটি দিয়ে স্ত্রীর জন্য সময় বের করতে হবে। স্ত্রী সুন্দর করে সাজলে তার প্রশংসা করতে হবে। কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে স্পর্শ করতে হবে, জড়িয়ে ধরতে হবে। আয়েশা রা. এর হাদিস থেকে আমরা জানি রাসূলুল্লাহ সা. বাসা থেকে বের হওয়ার সময় প্রায়ই তাঁকে চুমু দিয়ে বের হতেন।
ছেলেদের করণীয় ৩: ছেলেরা মেয়েদের শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রতিরক্ষা (to protect her) করবে
কাওয়াম শব্দের তৃতীয় অর্থ হলো – physically কোন কিছুর সাথে থাকা ও তাকে protect করা। অর্থাৎ, আল্লাহ্‌ বলছেন ছেলেরা মেয়েদের কাছাকাছি থেকে তাদের নিরাপত্তা দিবে, কখনো একাকিত্ব বোধ করতে দিবে না। এই প্রোটেকশন কিন্তু শুধু শারীরীক নয়, মানসিকও। মেয়েরা ছেলেদের চাইতে বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ায় লোকে কি বললো তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে, কেউ বাজেভাবে কথা বললে অনেক বেশি ভেঙ্গে পড়ে। কোনো মেয়ে যখন তার মানসিক অশান্তি নিয়ে কথা বলবে– একজন ছেলে সেটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না, কটাক্ষ করবে না, উপদেশ না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুধু শুনবে। ছেলেরা মেয়েদের প্রোটেকশন দিবে– শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে।

ছেলেদের করণীয় ৪: ছেলেরা মেয়েদের প্রয়োজন (to fulfill her needs) পূরণ করবে
কাওয়াম শব্দের চতুর্থ অর্থ হলো– যত্ন নেয়া, পরিচর্যা করা, Take-care করা, চাহিদা পূরণ করা। মহান আল্লাহর একটা নাম হলো– আল-কাইয়ূম যা একই শব্দমূল ‘কা-মা’ থেকে এসেছে। কাইয়ূম শব্দের অর্থ হলো– যে শুধু সৃষ্টি করেই ছেড়ে দেয়নি, সবসময় তার যত্ন নিচ্ছে, দেখ-ভাল করছে। আল্লাহ এই আয়াতে কাওয়াম শব্দের মাধ্যমে আমাদের বলছেন – ছেলেরা মেয়েদের যত্ন নিবে, দেখ-ভাল করবে, তাদের কি প্রয়োজন তা জিজ্ঞেস করবে, জানতে চাইবে।

ছেলেদের করণীয় ৫: ছেলেরা মেয়েদের সাথে ন্যায্য (fair) আচরণ করবে
কাওয়াম শব্দের পঞ্চম অর্থ হলো– কাউকে বা কোন কিছুকে তার ন্যায্য পাওনা দেয়া। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি– ‘আল্লাহ্‌ নামাজ কায়েম করতে বলেছেন।’ আমরা কিন্তু বলি না আল্লাহ্‌ নামাজ পড়তে বলেছেন। কারণ ‘কায়েম’ শব্দটা আরো উঁচু স্তরের শব্দ– যার অর্থ যতটুকু মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে নামাজ পড়া দরকার ঠিক সেভাবে নামাজ পড়া। অন্যভাবে বলতে গেলে– আমাদের উপর নামাজের যে দাবি তা ন্যায্যভাবে আদায় করা।

একইভাবে– মেয়েদের ব্যাপারে ছেলেদের খুব সতর্কতার সাথে তার ন্যায্য অধিকার দিতে হবে। আল্লাহ একজন ছেলেকে তার পরিবারের মেয়েদের উপর জিম্মাদার করে পাঠিয়েছেন। তাই একজন ছেলে নিজেকে সবসময় জিজ্ঞেস করবে– আমি কি ওর সাথে ন্যায্য আচরণ করছি? আমার শক্তি বেশি, গলার জোর বেশি, মনের দৃঢ়তা বেশি– এগুলো ব্যবহার করে আমি ওর উপর কোন জুলুম করছি না তো?
রাসূলুল্লাহ সা. বলেন– তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর/পরিবারের প্রতি শ্রেষ্ঠ (মুসলিম)।

ছেলেদের করণীয় ৬: ছেলেরা মেয়েদের খরচ চালাবে
‘ছেলেরা মেয়েদের ব্যাপারে ‘ক্বাওয়াম’ হবে; কারণ, আল্লাহ্‌ তাদের কাউকে কারো উপর সুবিধা দিয়েছেন কারণ তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করবে।’ সূরা নিসা ৪:৩৪ আয়াতাংশ
নারীর জন্য খরচ করার ব্যাপারে কিপ্টেমি করা যাবে না। ইসলামে এমনকি ডিভোর্স দেয়ার সময়েও গিফট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কাজেই, স্ত্রী থাকাকালীন সময় যে গিফট দিতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন– কেউ তার পরিবারের জন্য যা ব্যয় করে তা সাদাকাহ বলে গণ্য হয়।

উপরের কথাগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারছি আল্লাহ ছেলেদেরকে মেয়েদের ব্যাপারে অনেক দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো– আল্লাহ কিন্তু বলেননি ‘স্বামীরা স্ত্রীর ব্যাপারে কাওয়াম হবে’, বরং বলেছেন ‘ছেলেরা মেয়েদের ব্যাপারে কাওয়াম হবে।’ অর্থাৎ, একজন ছেলেকে শুধু তার স্ত্রীর সাথেই নয়, শরীয়ত তাকে যে সব নারীদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের সবার সাথেই তাকে কাওয়াম হতে হবে। একজন ছেলেকে তার মা, বোন, মেয়ে, খালা, ফুপুসহ সবার ব্যাপারে কাওয়াম হতে হবে। তাদের সবার সাথে সম্পর্ক রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে, যোগাযোগ রাখতে হবে, মানসিক-শারিরীক প্রতিরক্ষা দিতে হবে, কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করতে হবে, তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।
দায়িত্বের এই লিস্ট পাওয়ার পর কোন ছেলে চার বিয়ে করা তো দূরে থাক, প্রথম বিয়ে করার আগেই একশ’ বার চিন্তা করবে– ওরে বাবা! এত দায়িত্ব আমি পালন করতে পারবো তো? কেন যে পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম!
অধৈর্য হবেন না। এবার আসতে যাচ্ছে মেয়েদের দায়িত্বের তালিকা…
মেয়েদের করণীয়:
সূরা নিসার ৩৪ নং আয়াতে ছেলেদের করণীয় কাজগুলি বর্ণনা করার পর আল্লাহ্‌ মেয়েদের সম্পর্কে বলছেন –

কাজেই, ‘সালিহা’ মেয়েরা হবে ‘কানিতা’ ও ‘হাফিযা’– হেফাযত করবে যা দেখা যায় না এবং যা আল্লাহ্‌ তাদের হেফাযত করতে বলেছেন। 
আল্লাহ বাক্যটি শুরু করলেন ‘ফা’ বা ‘কাজেই/সুতরাং’ দিয়ে। অর্থাৎ, আল্লাহ্‌ বললেন যেহেতু ছেলেদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে, মেয়েদেরও স্বাভাবিকভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এরপর লক্ষ্য করুন বাক্যটির ব্যতক্রমী গঠন। আল্লাহ কিন্তু বলেননি– ‘মেয়েরা হবে সালিহা, কানিতা, হাফিযা …।’ বরং তিনি বলেছেন– ‘সালিহা মেয়েরা হবে কানিতা ও হাফিযা– ’। তার মানে আল্লাহ্‌ বলছেন না যে সব মেয়েরা কানিতা, হাফিযা হতে পারবে। বরং, মেয়েদের প্রবণতা হলো কানিতা ও হাফিযা না হওয়া। শুধু সেই সব মেয়েই এই গুণ অর্জন করতে পারবে যারা সালিহা। অর্থাৎ, অন্য সব গুণ অর্জনের পূর্বশর্ত হলো ‘সালিহা’ হওয়া। আসুন তাহলে ‘সালিহা’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে জানা যাক।
‘সালিহা’ এসেছে ‘সালাহা’ থেকে যার অর্থ একটি অর্থ হলো ‘ভালো’। কোন কিছু নষ্ট বা খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটাকে ঠিক করে ফেলাকে আরবিতে বলে ‘সালাহা’। স্কলাররা বলেন, এখানে আল্লাহ্‌ মেয়েদের ব্যাপারে ‘সালাহা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন কারণ মেয়েদের মধ্যে আল্লাহ এমন বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়েছেন যে তারা চাইলে যে কোনো কিছুরই খুঁত ধরতে পারে। একজন মেয়ের স্বামী যতই তার সাথে ভালো করুক না কেন, সে চাইলেই তার দোষ ধরতে পারবে– এই গুণ তার আছে। কিন্তু, আল্লাহ্‌ সবচেয়ে প্রথমে এই কাজটিই করতে নিষেধ করছেন।
মেয়েদের করণীয় ১: স্বামীর দোষ উপেক্ষা করবে
আল্লাহ্‌ বলছেন একজন স্ত্রীর সবচাইতে বড় গুণ হলো স্বামীর দোষ এড়িয়ে যাওয়া, দেখেও না দেখার ভান করা, ভুলে যাওয়া। প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ না করা। রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন– কেউ যদি তার স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনও দোষ দেখে বিরক্ত বোধ করে, তখন সে তার এমন গুণের কথা স্মরণ করুক যার জন্য সে তাকে ভালবাসে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন– কোন মেয়ে যখন তার স্বামীর দোষ ধরে তখন স্বামীটি এটাকে তার Manliness এ আঘাত বলে মনে করে। ফলে, আরো বেশি চটে উঠে। স্বামীর কোন দোষ চোখে পড়লে যথাসম্ভব চেষ্টা করুন তা না দেখার ভান করতে, আর একদমই সহ্য না করতে পারলে তাকে কটাক্ষ না করে বুঝিয়ে বলুন, অনুরোধ করুন।
মেয়েদের করণীয় ২: সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করবে
মানুষের দোষ উপেক্ষা করা সহজ না, খুব কঠিন একটা কাজ, আর স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য করা তো আরো কঠিন। আর তাই মহান আল্লাহ মনে করিয়ে দিলেন– না, না। তুমি দোষ উপেক্ষা করে ভালো আচরণ করবে, কারণ তুমি ‘কানিতা’। ‘কানিতা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘যে খুশী মনে নিজের ইচ্ছার পরিবর্তে অন্যের ইচ্ছাকে মেনে দেয়’। কিন্তু, ‘কুনুত’ শব্দটি ইসলামে ব্যবহৃত হয় নিজের ইচ্ছার উপর আল্লাহর ইচ্ছাকে মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ– এখানে আল্লাহ্‌ বলছেন– মেয়েরা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে স্বামীর সাথে ভালো আচরণ করবে, তার কথা শুনবে। স্বামীর সাথে একটা মেয়ের সম্পর্ক কতটা ভালো না মন্দ– তা দেখে বুঝা যায় আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক কতটা ভালো না মন্দ। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন– আমি যদি তোমাদের আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করার হুকুম দিতাম তাহলে স্ত্রীদেরকে হুকুম করতাম স্বামীকে সিজদা করার জন্য (ইবনে মাজাহ)।

মেয়েদের করণীয় ৩: স্বামীর অবর্তমানে তার দোষের কথা বলবে না
এরপর আল্লাহ্‌ মেয়েদের বলেছেন, ‘হাফিযা’ বা প্রতিনিয়ত রক্ষা করতে– আল্লাহ্‌ তাদের রক্ষা করতে বলেছেন ‘যা দেখা যায় না’। এর প্রথম অর্থ হলো– স্বামীর অবর্তমানে মেয়েরা তার সম্মান রক্ষা করবে, তার দোষের কথা মানুষকে বলবে না, তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করবে না। স্বামী-স্ত্রী হচ্ছে একে অপরের অংশ। একজন স্বামী/স্ত্রী যখন নিজের তার সঙ্গীর অবর্তমানে দোষের কথা বলে, তখন সে তার নিজের একটা অংশেরই অপমান করে।

মেয়েদের করণীয় ৪: বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না
‘হাফিযা’ হওয়ার দ্বিতীর অর্থ হলো– স্বামী যখন তাদের দেখছে না তখনও মেয়েরা তার বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না। অন্য পুরুষেরা হয়তো মেয়েটার সাথে বেশি বেশি কথা বলতে চাইবে, কাছে আসতে চাইবে, চান্স নিতে চাইবে। কিন্তু, মেয়েরা স্বামীর অবর্তমানে এমন কিছু করবে না, যা তার স্বামী সামনে থাকলে সে করতো না। স্বামী যেখানে যেতে নিষেধ করবে সেখানে যাবে না, যার সাথে কথা বলতে নিষেধ করতে তার সাথে কথা বলবে না, যে কাপড় পড়তে মানা করেছে তার পড়বে না। ‘হাফিয’ হচ্ছে আল্লাহর একটি নাম। এর থেকেই বুঝা যায় মেয়েদের প্রতি অর্পিত এই দায়িত্ব কতটা পবিত্র।

মেয়েদের করণীয় ৫: স্বামীর আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিজেকে প্রস্তুত (beautify herself) করবে
‘হাফিযা’ হওয়ার তৃতীয় অর্থ হলো মেয়েরা তার স্বামীর আকাংক্ষাকে রক্ষা (to protect his desire) করবে। স্ত্রীর অবর্তমানে স্বামী কোথায় যাচ্ছে সে কিন্তু জানে না। স্ত্রীর দায়িত্ব হল– যাদের সে দেখতে পাচ্ছে না তাদের থেকেও স্বামীকে রক্ষা করা। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন– শয়তান পরনারীকে ছেলেদের চোখে সুন্দর করে দেখায়। কাজেই, একজন মেয়ের দায়িত্ব হলো তার স্বামী যাতে শয়তানের সাথে লড়াইয়ে বিজয়ী হয় তাতে সাহায্য করা। স্বামী যখনই তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইবে– অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী তাকে না করবে না, কারণ এতে একজন স্বামী খুব কষ্ট পায়, তার মন ভেঙ্গে যায়। আর এই সুযোগে শয়তান এসে মনের মধ্যে ফিস ফিস করতে থাকে– আমি বলেছিলাম না সে তোমাকে ভালবাসে না!

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন– ছেলেরা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বোধ করে চোখের দেখায় [৬]। স্বামী ঘরের ফেরার আগে মাত্র ৫ মিনিট ব্যয় করেই কিন্তু একটা মেয়ে নিজেকে সুন্দর করে প্রস্তুত করতে পারে। মেয়েদের সহজাত প্রবণতা হলো– স্বামী ছাড়া পৃথিবীর সবার জন্য সে সাজবে। অথচ, একটা মেয়েকে সুন্দর দেখার সবচেয়ে বেশি অধিকার হলো তার স্বামীর। এখানে বলা হচ্ছে না যে সব মেয়েদের সুপারমডেল হয়ে যেতে হবে। স্বামীরা জানে সংসারের দায়িত্ব পালন করতে একটা মেয়েকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়। এখানে খুব সাধারণ সাজগোজের কথা বলা হচ্ছে যা ৫/১০ মিনিটেই করা যায়।
সাহাবাদের স্ত্রীরা স্বামীর ঘরের ফেরার সংবাদ পেলে নিজেকে সুন্দর করে প্রস্তুত করে রাখতেন। স্বামীর সামনে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করাও একটা ইবাদত। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ সা. এমনকি মদীনায় দূত পর্যন্ত পাঠাতেন– অনেক সময় নির্দেশ দিতেন যাতে স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের স্বাগত জানানোর জন্য সেজেগুজে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভ কার? সবচেয়ে বেশি লাভ মেয়েদেরই। কারণ, যখন স্বামী বুঝতে পারবে তার স্ত্রী তাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছে, তখন সে তার প্রতি আরো বেশি ভালাবাসা ও আকর্ষণ বোধ করবে। আর যখন স্বামী দেখবে স্ত্রী তার জন্য নিজেকে সুন্দর করে রাখে না– সেই স্ত্রী ক্রমেই তার স্বামীর ভালোবাসা হারাবে।
শেষ কথা:
স্কলাররা [২.৩] বলেন– দুইটি মাত্র হাদিস আছে– যার একটা স্বামীর জন্য আর আরেকটা স্ত্রীর জন্য– এই একটা করে হাদিস যদি একজন স্বামী ও স্ত্রী মনে রেখে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে সেটাই তাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য যথেষ্ট হবে।

পুরুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি হচ্ছে:
রাসূলুল্লাহ সা. বলেন– ‘মেয়েদের সাথে কোমল আচরণ করো, কারণ তাদের বাঁকা পাঁজর থেকে তৈরি করা হয়েছে। আর সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের উপরের অংশ। যদি তুমি একে সোজা করতে চাও এটা ভেঙ্গে যাবে, আর যদি ছেড়ে দাও তো বাঁকাই থেকে যাবে। কাজেই, মেয়েদের সাথে নমনীয় আচরণ করো’ [বুখারী ও মুসলিম, আবু হুরাইরা(রা) হতে বর্ণিত]

হাদিসটির ব্যাখায় স্কলাররা বলেন –

১) পাঁজর যেমন হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে, একজন ভালো স্ত্রীও তার স্বামীকে বাইরের কলুষতা থেকে রক্ষা করে।
২) একজন স্বামীর দৃষ্টিতে অনেক সময় তার স্ত্রীকে গোঁয়ার ও হৃদয়হীনা বলে মনে হতে পারে। স্ত্রীর আচরণ ভুল মনে হলে স্বামী তার সাথে চীৎকার চেঁচামেচি করবে না, জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দিবে না। বরং, কোমল আচরণের মাধ্যমে, শান্ত ভাষায় তাকে বুঝাতে চেষ্টা করবে।
৩) স্ত্রীর সাথে জোরজবরদস্তির ফল কখনোই ভালো হবে না। বেশি জোড়াজুড়ি করলে সম্পর্কটি ভেঙ্গে পর্যন্ত যেতে পারে।
৪) স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-ঝাঁটি হয়ে গেলে তাকে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। ঠিক যেমনি– ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগার জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়, মেয়েরা মন ভাঙলেও তা সারতে সময় লাগে। সুতরাং, একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর দোষগুলি উপেক্ষা করে, গুণের কথা মনে রেখে, ধৈর্য ধরে, ভালো ব্যবহার করে যেতে হবে। আর, মহান আল্লাহ্‌র কাছে সুন্দর সম্পর্কের জন্য দু’আ করতে হবে।
আর স্কলারদের মতে মেয়েদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি হচ্ছে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন– ‘আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, আমি স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্য।’ 
(ইবনে মাযাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউফা থেকে বর্ণিত)


এই হাদিসের ব্যাখায় স্কলাররা বলেন– একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ভালবাসবে, সম্মান করবে ও তার মতামত অনুসারে কাজ করবে (হারাম কাজ ছাড়া) এবং তার সামনে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করবে। তবে, স্বামীকে সম্মান করার অর্থ এই নয় যে স্বামী অন্যায়-অত্যাচার করলেও তাকে মুখ বুঁজে মেনে নিতে হবে। সম্মান করার অর্থ এটাও নয় যে স্ত্রী স্বামীর সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না। বরং, স্ত্রী স্বামীর সাথে ভিন্নমত পোষন করতে পারবে, পরামর্শ দিবে, প্রয়োজনে যুক্তি সহকারে নিজের মতকে তুলে ধরবে– কিন্তু এই সবই সে করবে সম্মানের সাথে, কটাক্ষের ছলে নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে তাঁর স্ত্রীরা অনেক সময় ভিন্নমত পোষণ করেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় স্ত্রীর পরামর্শেই রাসূলুল্লাহ সা. সর্বপ্রথম তাঁর মাথার চুল চেঁছে ফেলেছিলেন।

এখানে উল্লেখ্য, যদি এমন হয়– একজন মেয়ের স্বামী তাকে কিছু করতে বলে, আর মেয়েটির পিতা-মাতা ও ভাই-বোন তাকে অন্য কোন কিছু করতে বলে, এক্ষেত্রেও মেয়েটিকে তার স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হবে [৫]। এ বিষয়ে পাশ্চাত্যের বহু রিলেশনশিপ এক্সপার্টও এখন বলেন– ‘দ্য হ্যাপিয়েস্ট ওয়াইফ ইজ দা সারেন্ডারড ওয়াইফ’ (এ বিষয়ে লরা ডয়েল এর বেস্ট-সেলিং বই ‘দা সারেন্ডারড ওয়াইফ” [৭] পড়ে দেখতে পারেন)।
কোনো কিছুই এমনি এমনি হয় না। যে কোনো কিছু পাওয়ার জন্যই চেষ্টা করতে হয়। একটা সুন্দর সুখী সংসার গড়ার জন্যও চেষ্টা করতে হয়। একটি সুন্দর-সুখী পরিবার গড়ার জন্য স্বামী ও স্ত্রী দুইজনকেই চেষ্টা করতে হবে। এর মধ্যে ভুল হবে, মান-অভিমান হবে, কিন্তু সেটাকে ধরে রাখলে চলবে না। একে অপরের ভুলকে উপেক্ষা করে সুন্দর সংসারের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
[এই লেখাটি স্বামী-স্ত্রীর পারষ্পরিক দায়িত্বের কোন পরিপূর্ণ/কম্প্রিহেনসিভ লিষ্ট নয়। ছেলে-মেয়ের সুন্দর, ভালাবাসাময়, শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যে প্র্যাক্টিকাল স্টেপগুলো নিতে হবে শুধু সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই লেখায়। এগুলোর বাইরেও স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনেক ধর্মীয় দায়িত্ব (যেমন– পরষ্পরকে ইসলাম পালন করতে সাহায্য করা, উৎসাহ দেয়া, ইসলাম শিক্ষা করা ইত্যাদি) আছে।]
রেফারেন্স:
Responsibilities of husband and wife (Khutbah) – Nouman Ali Khan
Like a Garment – Yasir Qadhi
Making marriage work (Khutbah) – Yasir Qadhi
Marriage without criticism – SheKnows blog
Hadith on prostrating husband 
Sex and the power of the visual – PragerU
The surrendered wife – Laura Doyle
*

কুরআন গবেষক ও স্কলার উস্তাদ নুমান আলি খানের “Responsibilities of Husbands & Responsibilities of Wives” খুতবাটি অনুসরণ করে লিখেছেন আদনান ফয়সাল। কিছু ব্যাখা নেয়া হয়েছে শেইখ ইয়াসির কাযীর “Like a Garment” লেকচার

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬

একনজরে কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি


Mohiuddin Kasemi
৫. পরকাল ও কিয়ামত
৫.১ : কিয়ামতের আলামত
(যেমন ইয়াজুজ মাজুজ, দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব এবং পুনরায় হযরত ঈসা আ.-এর আগমন) সূরা কাহাফ ৯৮-৯৯, আম্বিয়া ৯৬, নামল ৮২, যুখরুফ ৬১, দোখান ১০-১১, মুহাম্মদ ১৮, নাজম ৫৭-৫৮, কামার ১, মাআরিজ ৬-৭।
৫.২ : পুনরুত্থানের প্রয়োজনীয়তা ও তার প্রমাণ
সূরা বাকারা ৭২-৭৩, ২৫৯-২৬০, আরাফ ২৯, ৫৭, নাহল ৩৮-৪০, ৭৭, বনি ইসরাইল ৯৮-৯৯, কাহাফ ২১, মারয়াম ৬৬-৬৭, তোয়া-হা ১৫, আম্বিয়া ১০৪, হজ ৫-৭, নামল ৮৬, আনকাবুত ১৯-২০, রোম ১৯, ২৭, ৫০, সাবা ৩, ফাতির ৯, ইয়াসিন ৩৩, ৭৮-৮২, সাফফাত ১১, সোয়াদ ২৭-২৮, যুমার ৪২, মুমিন ৫৭, হা-মিম সাজদা ৩৯, দোখান ৩৯-৪০, জাসিয়া ২১-২২, আহকাফ ৩, ৩৩, কাফ ৬-১১, ১৫, যারিয়াত ১-৬, তুর ১-১০, ওয়াকিয়াহ ৫৭-৬২, কিয়ামাহ ৩-৪, ৩৬-৪০, মুরসালাত ১-৭, নাবা ৬-১৭, নাযিয়াত ২৭-৩২, তারিক ৫-৮, তীন ৪-৮।
৫.৩ : মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়কালীন অবস্থা
সূরা বাকারা ১৫৪, আলে ইমরান ১৬৯-১৭১, নিসা ৯৭, আনআম ৬২, আরাফ ৪০, মুমিনুন ১০০, সাজদাহ ১১, মুমিন ৪৬, কাফ ৪।
৫.৪ : শিঙ্গায় ফুঁৎকার
সূরা আনআম ৭৩, কাহাফ ৯৮-১০১, নামল ৮৭-৮৮, সোয়াদ ১৫, যুমার ৬৮, কাফ ২০, ৪১-৪২, আল হাক্কাহ ১৩-১৭।
৫.৫ : হাশরের ময়দানের অবস্থা
সূরা বাকারা ১১৩, ১৪৮, ১৭৪, ২১০, আলে ইমরান ১০৬-১০৭, নিসা ৪১-৪২, আনআম ৩১, ৩৬, ৩৮, আরাফ ২৯, ৫৩, তাওবাহ ৩৪-৩৫, ইউনুস ৪, ২৬-৩০, ৪৫, হুদ ১৮, ৯৮, ১০৩-১০৮, ইবরাহিম ৪৮-৫১, হিজর ২৪-২৫, বনি ইসরাইল ৫২, ৭১-৭২, ৯৭, ১০৪, কাহাফ ৪৭, ৫২-৫৩, মারয়াম ৩৭-৩৯, ৬৮-৭২, ৮৫-৮৬, ৯৩-৯৫, তোয়া-হা ১০০-১১২, ১২৪-১২৬, আম্বিয়া ৪০, ১০৩-১০৪, হজ ৭৮, মুমিনুন ১০০-১০১, ফোরকান ২২, ৩৪, শোআরা ৯০-৯৫, নামল ৮৩-৮৫, কাসাস ৬৫-৭৫, রোম ১৪-১৬, ২২-২৫, ৫৫-৫৭, সাজদাহ ৫, ইয়াসিন ৪৮-৫৯, সাফফাত ২০-২৬, যুমার ৭৫, মুমিন ১৫-১৭, শুরা ৪৭, যুখরুফ ৬৬-৬৭, দোখান ৪০, কাফ ১১, তুর ৭-১২, ৪৫, কামার ৬, রাহমান ৩৭-৪৪, ওয়াকিয়াহ ১-৬, ৪৯-৫০, হাদিদ ১২-১৫, তাগাবুন ৯, কলম ৪২-৪৩, আল হা-ক্কাহ ১-২, মাআরিজ ১-১০, ৪৩-৪৪, মুয্যাম্মিল ১২-১৪, ১৭-১৮, মুদ্দাস্সির ৮-১০, কিয়ামাহ ৭-১২, মুরসালাত ৮-১৫, নাবা ১৭-২০, ৪০, নাযিয়াত ৬-৯, ১৩-১৪ ৩৪-৩৯, ইনফিতার ১-৫, ১৫-১৯, মুতাফ্ফিফিন ১৫-১৭, ইন্শিকাক ১-২, ফাজর ২১-৩০, যিলযাল ১-৮, আদিয়াত ৬-১১, কারিয়া ১-৫।
৫.৬ : কিয়ামত দিবসের কঠোরতা এবং মানুষের ব্যাকুলতা
সূরা মায়িদা ৩৬, আনআম ৩১ ইবরাহিম ৪২-৪৩, মারয়াম ৩৯, ৭১, তোয়া-হা ১০৮, আম্বিয়া ৪০, ৯৭, হজ ১-২, নুর ৩৭, ফোরকান ২৭, সাবা ৩৩, সাফফাত ২০, ২২-২৩, যুমার ৪৭-৪৮, ৬০, মুমিন ১৮, হা-মিম সাজদাহ ২৯, শুরা ২২, ৪৫, যুখরুফ ৩৭-৩৯, জাসিয়া ২৭-২৮, যারিয়াত ১৩-১৪, তুর ৪৫-৪৬, কামার ৮, ৪৬, হাদিদ ১৩-১৫, মুলক ২৭, কলম ৪৩, আল হা-ক্কাহ ২৫-২৯, মাআরিজ ১১-১৪, মুয্যাম্মিল ১৭, মুদ্দাস্সির ৯-১০, কেয়ামাহ ৭-১২, দাহর ১০-১১, মুরসালাত ৩৭-৩৯, তারিক ১০, গাশিয়াহ ১-৩, ফাজর ২৩-২৬, লায়ল ১১, যিলযাল ৩, কারিয়াহ ৪-৫।
৫.৭ : না-ফরমানদের দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্সক্ষা :
সূরা ইবরাহিম ৪৪-৪৫, সাজদাহ ১২, শুরা ৪৪।
৫.৮ : অনুসারীদের সাথে পাপিষ্ঠ নেতাদের শত্রুতা ও তাদের অক্ষমতা
সূরা বাকারা ৬৬-১৬৭, রোম ১৩।
৫.৯ : কিয়ামতের দিন কেউ কারো কাজে আসবে না
সূরা বাকারা ১৬৫-১৬৭, আনআম ৭০, ৯৪, ১৬৪, ইউনুস ২৭-৩০, ইবরাহিম ২১-২২, নাহল ৮৬-৮৭, কাহাফ ৫২, মারয়াম ৮১-৮২, মুমিনুন ১০১, ফোরকান ১৭-১৯, শোআরা ৮৮, রোম ১৩, লোকমান ৩৩, সাবা ৩১-৩৩, ৪২, ফাতির ১৪, ১৮, সাফফাত ২৫-৩৩, মুমিন ১৮, হা-মিম সেজদাহ ৪৮, শুরা ৪৬, যুখরুফ ৬৭, দোখান ৪১-৪২, আহকাফ ৬, কাফ ২৩-২৭, মুমতাহিনাহ ৩, আল হাক্কা ২৫-৩৫, মাআরিজ ১০-১৪, আবাসা ৩৪-৩৬, ইনফিতার ১৯।
৫.১০ : শাফায়াত কেবল আল্লাহর অনুমতিতেই পাওয়া যাবে
সূরা বাকারা ৪৮, ২৫৪-২৫৫, ইউনুস ৩, বনি ইসরাইল ৭৯, মারয়াম ৮৭, তোয়া-হা ১০৯, যুখরুফ ৮৬, নাজম ২৬।
৫.১১: কিয়ামতের দিন মিথ্যা মাবুদ, কাফের সম্প্রদায় এবং মুসলমানদের সাথে আল্লাহর কথাবার্তা
সূরা মায়িদা ১০৯-১১৯, আনআম ২২-২৩, ৩০, ৯৪, ১২৮-১৩০, আরাফ ৬-৭, ইবরাহিম ৪৪-৪৫, নাহল ২৭-২৯, কাহাফ ৪৮, তোয়া-হা ১২৫-১২৬, মুমিনুন ১০৫-১১৪, ফোরকান ১৭-১৯, নামল ৮৪, কাসাস ৬২-৬৬, সাজদাহ ১২-১৪, সাবা ৪০-৪২, ইয়াসিন ৬০-৬৪, সাফফাত ২৪-২৫, যুমার ৫৯, কাফ ২২-২৯, মুরসালাত, ৩৮-৩৯।
৫.১২ : কিয়ামতের দিনে হিসাব গ্রহণ
সূরা ইবরাহিম ৫১, নাহল ৯৩, বনি ইসরাইল ১৩-১৪, কাহাফ ৪৯, ১০৫, মারয়াম ৩৯, আম্বিয়া ৪৭, লোকমান ১৬, ইয়াসিন ৬৫, মুমিন ৭৮, যুখরুফ ১৯, ৪৪, রাহমান ৩১, মুমতাহিনা ৩, গাশিয়াহ ২৬, তাকাছুর ৮।
৫.১৩ : কিয়ামতের দিন পাপ-পুণ্যের পরিমাপ
সূরা আরাফ ৮-৯।
৫.১৪ : আমলনামা নির্ধারণ
সূরা আলে ইমরান ৩০, আল হা-ক্কাহ ১৯-২৯, তাকবির ৮-১০, ইনশিকাক।
৫.১৫ : আমল অনুযায়ী পুরস্কার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ
সূরা আলে ইমরান ১৮৫, ইউনুস ৪, হুদ ১০৬-১০৮, ১১১, নাহল ১১১, হজ ৫৬-৫৭, মুমিনুন ১০২-১০৩, নুর ২৩-২৫, নামল ৮৫, ৯০-৯৩, আনকাবুত ১৩, রোম ১৪-২৩, ইয়াসিন ৫৩-৫৪, যমার ১০, ৭০, মুমিন ১৭, ৫২, হা-মিম সাজদাহ ২৪, জাসিয়াহ ৩৪-৩৫, কাফ ২৮-৩১, তুর ১৬-১৭, ওয়াকিয়াহ ৭-৪৪, ৮৮-৯৪, তাগাবুন ৯-১০, তাহরিম ৭, আল হা-ক্কাহ ১৮-৩২, কিয়ামাহ ২২-২৫, মুরসালাত, ১১-১৫, ৩৫-৩৯, নাযিয়াত ৩৪-৪১, যিলযাল ৪-৮, কারিয়া ৬-৯।


বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬

কুরআন থেকে ব্যাখ্যা গ্রহণের সঠিক পদ্ধতি

༺ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ༻
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু
আল্লাহ তাআলা মানব জাতির হিদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেছেন এবং কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ সকলের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে: وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ “আমি কুরআন সহজ করে দিয়েছি; আছ কেউ উপদেশ গ্রহণকারী?” (সূরা কমার: ১৭) এই আয়াত থেকে বুঝা যাচ্ছে কুরআনে কারীম সহজ, যা সকলেই বুঝতে সক্ষম।

এর উত্তর হল, কুরআন সহজ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এর তিলাওয়াত ও বাহ্যিক অর্থ সহজ। কিন্তু এর আভ্যমত্মরীণ নিগুঢ় অর্থ সকলেই বুঝতে পারে না; বরং এক শ্রেণীর গভীর জ্ঞানীরাই কেবল বুঝতে পারে। তাফসীরে ইবনে কাসীরে এব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
قال السدى بسرنا تلاوته على الالسن ، وقال الضحاك عن إبن عباس: لولا أن الله يسره على لسان آميين ماإستطاع أحد من الخلق ان يتكلم بكلام الله عز وجل ، قلت من تيسره تعالى على الناس تلاوته ـ 4/336
সুদ্দী বলেন, আমি মুখে এর পাঠ সহজ করেছি। হযরত যাহ্হাক হযরত ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, যদি আল্লাহ তা’আলা মানুষের মুখে সহজ না করতেন, তাহলে কোন সৃষ্টজীব আল্লাহ কালাম উচ্চারণ করতে পারত না। আমি বললাম, আল্লাহ তা’আলা সহজ করণের অর্থ হল, তা তিলাওয়াত করা মানুষের উপর সহজ করা। ৪/৩৩৬
উদ্ধৃত সূরা ক্বামারে আল্লাহ তা‘আলা সকলের জন্য কুরআন বুঝা ও তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করাকে সহজ বলেছেন কথাটির অর্থ হল কুরআনের উপদেশমূলক সহজবোধ্য অংশটুকু। আর যে অংশটুকু ইজতিহাদ ও ব্যাপক গবেষণার দাবিদার সে অংশের বিধান হল-
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
‘তোমরা যদি না জান তাহলে এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও’। (সূরা নাহল-৪৩ সূরা আম্বিয়া-৭)
কুরআনের গভীর অর্থ বুঝা যদি সহজ হত, তাহলে কোন সাহাবীর তা বুঝতে ভুল হওয়ার কথা ছিল না। কারণ তারা ছিলেন আরবী এবং কুরআন তাদের মাতৃভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ বাসত্মবতা হল সাহাবায়ে কিরামেরও কখনো কখনো কুরআনের কিছু বিষয় বুঝার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়েছে।
হাকীমুল উম্মত হযরত মাও. আশরাফ আলী থানবী রহ. এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন “এ বিষয়ে সার কথা এই যে, কুরআন ও হাদীসের কিছু বিষয় জাহের তথা সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। আর কিছু বিষয় খফি তথা প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট। কুরআন ও হাদীসকে সহজ বলা হয়েছে প্রথমোক্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ করে। ইজতিহাদ করতে হলে কুরআন ও হাদীসের প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট বিষয়গুলোর মর্ম উদঘাটন করতে হবে। এর এ কাজ সবার জন্য সম্ভব নয়”।
অর্থাৎ কুরআনের কিছু কিছু বিষয় এমন যা আরবী ভাষায় পূর্ণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সাধারণের জন্য বুঝা মোটেও সহজ নয়। তিনি এর দুটি উজ্জ্বল দৃষ্টামত্ম মূলক উদাহরণ পেশ করেন-
১. হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন আমরা এক সফরে ছিলাম। তখন একসাথীর মাথায় একটি পাথর পড়ল এবং তাতে ক্ষত হয়ে গেল। এমতাবস্থায় তার গোসল ফরজ হয়। তিনি সাথীদের জিজ্ঞেস করলেন আমার কি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করার সুযোগ আছে? তাঁরা বললেন, না। অপারগ হয়ে তিনি গোসল করেন এবং মাথার ক্ষতে পানি লাগার কারণে তিনি মারা যান। সফর থেকে ফেরার পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি রেগে বললেন ‘না জেনে কথা বলে তারা তাকে মেরে ফেলেছে। আল্লাহ তাদের নাশ করুন। তারা যেহেতু এ বিষয়ের বিধান জানে না তবে কেন জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়নি ?! অজ্ঞতার সমাধান তো জিজ্ঞেস করার মধ্যেই। তার জন্য তো তায়াম্মুম করে নেয়াটাই যথেষ্ট ছিল। (সুনানে আবুদাউদ হা. ৩৩৬ সুনানে ইবনে মাযা হা. ৫৭২ মুসতাদরাকে হাকিম হা. ৫৮৭) 
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে “” ‘তোমরা অপবিত্র হলে গোসল করে পবিত্র হও’। মূলত সফরসঙ্গী সাহাবীগণ বুঝে ছিলেন যে, এ আয়াতটি সর্বাবস্থার জন্য। উজর থাক বা না থাক, গোসল করতেই হবে। আর কুরআনের অপর আয়াতটি যেখানে বলা হয়েছে “আর তোমরা যদি অসুস্থ হও ... তবে পাক মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও”(সূরামায়েদা-৬) শুধু অজুর বিকল্প, গোসলের বিকল্প নয়। এই ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে তাঁরা তাকে গোসল করার ফতুয়া দিয়েছিলেন। তাঁদের এ ফতুয়ার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জন্য নিন্দা করেননি যে, ইজতিহাদ করা দোষণীয় কাজ। বরং রাসূলের এ নিন্দাবাদের কারণ হল তাঁরা ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখতেন না। কাজেই যে কাজের প্রতিভা তাদের নেই সে কাজ করতে গেলেন কেন? এতে প্রমাণিত হয় যে মুজতাহিদ নয় তার ইজতিহাদ বৈধ নয়। বরং সে ইজতিহাদ করলেও তা গ্রহণ করা হবে না।

২. হযরত আদী ইবনে হাতিম রা. বর্ণনা করেন যখন এ আয়াত অবতির্ণ হল وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ ‘তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে শুভ্র রেখা পরিস্কার দেখা যায়’ (সূরাবাকারা-১৮৭) তখন তিনি একটি সাদা সুতা ও একটি কাল সুতা তার বালিশের নিচে রেখে দেন। রাতে উঠে দেখেন সুতাদুটি একটি অপরটি থেকে পৃথক দেখা যায় না। অর্থাৎ সদা কালো রঙের কোন পার্থক্য ধরা পরে না। ভোর হলে নবীজীকে এসে ঘটনার বিবরণ শুনালেন। তিনি শুনে রসিকতা করে বলেনÑ তোমার বালিশ তো দেখছি তাহলে অনেক বড়! এর নিচে দিগন্তজোড়ে বিস্তৃত বিশাল আকাশ সংকুলান হয়ে যায়। আয়াতে সাদা কালো রেখা দ্বারা রাত দিনের কথা বুঝানো হয়েছে। দিনকে সাদা আর রাতকে কালো বলা হয়েছে। (সহী বুখারী হা. ৪৫০৯ সহী মুসলিম হা. ১০৯২) সহী বুখারীর অপর বর্ণনা (হা. ১৯১৭)
لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود ، قال أخذت عقالا أبيض وعقالا أسود فوضعتهما تحت وسادتى فنظرت فلم أتبين فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فضحك فقال: إن وسادتك إذا لطويل عريض إنما هو الليل والنهار، وقال عثمان إنما هو سواد الليل وبياض النهار ـ روه ابو داؤد : ১/৩২১
হযরত আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন -حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود – এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন আমি একটি সাদা সূতা নিলাম এবং একটি কাল সূতা নিলাম। অতঃপর তা আমার বালিশের নিচে রাখলাম। কিন্তু তা দেখে পার্থক্য করতে পারলাম না। ফলে বিষয়টি রাসূল সা. এর নিকট বললে তিনি হেসে উঠলেন এবং বললেন, তাহলে তো তোমার বালিশটি অনেক লম্বা চওড়া। এটাতো কেবল রাতদিন। আবু দাউদ: ১/৩২১
দেখুন, কুরআনের সব অর্থ সকলের জন্য যদি বোধগম্য হতো, তা হলে এখানে সাহাবী কেন বুঝতে পারলেন না? এ থেকে জানা যায় এরূপ ঘটনা আরো অনেকের বেলায়ই ঘটেছিল।
দেখুন! এ সাহাবী আরবী ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও ইজতিহাদী প্রতিভা না থাকার কারণে কুরআনের এ আয়াতের সঠিক মর্ম বুঝতে অক্ষম হয়েছেন। আরও লক্ষ করুন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইজতিহাদকে রসিকতার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উপরোক্ত দুটি ঘটনার সাথে যুক্ত সাহাবীরা সকলেই ছিলেন আরবীভাষী। তথাপি কুরআনের উপরোক্ত দুটি আয়াতের উদ্দিষ্ট মর্ম উদ্ধার করতে পারেননি।
কুরআনের উপদেশগুলো যেহেতু আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন কওমের ঘটনা এবং উদাহরণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন সেহেতু তা বুঝা সহজ। পক্ষান্তরে আহকাম বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটনা এবং উদাহরণের মাধ্যম না থাকায় তা বুঝা কষ্টসাধ্য। তাই কঠিন বিষয় বোধগম্য করতে সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর রসূলকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে: فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَه ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه “যখন আমি কুরআন পাঠ করি তখন আপনি তার অনুকরণ করুন। আর এর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্বে”। (সূরা কিয়ামাহ: ১৮-১৯)
আবার তাঁর প্রতি দায়িত্ব দিয়েছেন কুরআনের বাণী উম্মাতকে ব্যাখ্যা করে শুনাতে। ইরশাদ হচ্ছে: وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ “আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যেন মানুষের জন্যে যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনি তাদেরকে তা বুঝিয়ে দেন।” (সূরা নাহল: ৪৪) এ নির্দেশটি বিশেষভাবে আহকামের সাথে সম্পর্কিত। আল্লাহ তাআলার এ নির্দেশ পালনে রসূলুল্লাহ স. ছিলেন সদা তৎপর। তিনি সাহাবায়ে কিরামকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কুরআন বুঝিয়েছেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। (বুখারী: ৬৩২৮) 
অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম তাবিঈদেরকে কুরআন বুঝিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের পরবর্তীদেরকে। আর এটাই কুরআন থেকে ব্যাখ্যা গ্রহণের সঠিক পদ্ধতি। এ নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সাহাবায়ে কিরাম কুরআনের ওই ব্যাখ্যাই তুলে ধরেছেন যা রসূলুল্লাহ স. থেকে শুনেছেন ও বুঝেছেন। যদিও বর্ণনার ক্ষেত্রে কখনও কখনও রসূলুল্লাহ স.-এর নাম উহ্য রেখেছেন।

এ ধারাবাহিকতায় তাবিঈন, তাবে তাবিঈন ও তাঁদের পরবর্তী মুফাসসিরগণ কুরআনের কোন ব্যাখ্যা তুলে ধরার পূর্বেই বর্ণনা করে থাকেন যে, “আমি আমার উসতাদ অমুকের নিকট থেকে এ ব্যাখ্যা শুনেছি; তিনি তাঁর উসতাদ থেকে এ ব্যাখ্যা শুনেছেন”। এ নিয়ম অগ্রাহ্য করে শুধু নিজের বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা কুরআন সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার বিরুদ্ধে রসূলুল্লাহ স. কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন:
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو الْكَلْبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّي إِلاَّ مَا عَلِمْتُمْ فَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .( رَوَاه التِرْمِذِىُّ فِىْ بَابِ مَا جَاءَ فِي الَّذِي يُفَسِّرُ القُرْآنَ بِرَأْيِهِ)
হাদীস নং- ১ : হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন: তোমরা আমার থেকে নিশ্চিতভাবে না জেনে হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সাবধান থাকবে। যে ব্যক্তি জেনে-শুনে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আবাস বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মতানুসারে কথা বলে সেও যেন তার আবাস জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (তিরমিজী: ২৯৫১)
হাদীসটির স্তর : হাসান। ইমাম তিরমিজী রহ. বলেন: এ হাদীসটি হাসান।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কুরআনুল কারীমে নিজের মতানুসারে কিছু বলার অর্থ হলো জাহান্নামের পথ অবলম্বন করা। তবে জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা গ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআন-হাদীসে পারদর্শী গবেষক আলিমগণ বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসের ইঙ্গিত থেকে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারেন যা অন্য কোন আয়াত বা হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।
ইমাম তিরমিজী রহ. ২৯৫২ নম্বর হাদীসের আলোচনায় বলেন:
رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ العِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَغَيْرِهِمْ، أَنَّهُمْ شَدَّدُوا فِي هَذَا فِي أَنْ يُفَسَّرَ القُرْآنُ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَأَمَّا الَّذِي رُوِيَ عَنْ مُجَاهِدٍ وَقَتَادَةَ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَهْلِ العِلْمِ أَنَّهُمْ فَسَّرُوا القُرْآنَ فَلَيْسَ الظَّنُّ بِهِمْ أَنَّهُمْ قَالُوا فِي القُرْآنِ أَوْ فَسَّرُوهُ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَوْ مِنْ قِبَلِ أَنْفُسِهِمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُمْ مَا يَدُلُّ عَلَى مَا قُلْنَا أَنَّهُمْ لَمْ يَقُولُوا مِنْ قِبَلِ أَنْفُسِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ
অনুবাদ : সাহাবায়ে কিরাম এবং অন্যান্যদের মধ্যে যারা পারদর্শী আলিম তাদের থেকে বর্ণিত আছে যে, গভীর জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করার বিষয়ে তারা খুব কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর হযরত মুজাহিদ, হযরত কতাদা এবং অন্যান্যদের থেকে তাফসীর করার যে বিষয় বর্ণিত রয়েছে সে সম্পর্কে এ ধারণা করা যায় না যে, তাঁরা কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করেছেন বা কুরআন সম্পর্কে কিছু বলেছেন। বরং তাদের থেকে যা বর্ণিত আছে তা এটাই প্রমাণ করে যে, কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান ব্যতীত তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছুই বলেননি।

হযরত আমর বিন শুআইব সূত্রে তাঁর দাদা থেকে একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, إِنَّ الْقُرْآنَ لَمْ يَنْزِلْ يُكَذِّبُ بَعْضُهُ بَعْضًا، بَلْ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا، فَمَا عَرَفْتُمْ مِنْهُ، فَاعْمَلُوا بِهِ ، وَمَا جَهِلْتُمْ مِنْهُ، فَرُدُّوهُ إِلَى عَالِمِهِ (রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেছেন:) “কুরআন এ জন্য অবতীর্ণ হয়নি যে, তার কিয়দাংশ দ্বারা অন্য অংশকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে। বরং কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে কিয়দাংশ দ্বারা অন্য অংশকে সত্যায়ন করার জন্য। সুতরাং যা পরিপূর্ণ অনুধাবন করতে পারো তার ওপর আমল কর। আর যে বিষয়ে তোমার অজ্ঞতা রয়েছে তা আলিমের নিকট সোপর্দ কর”। (মুসাদে আহমাদ: ৬৭০২)
এ হাদীসের তাহকীকে শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন: صحيح “হাদীসটি সহীহ”। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, পূর্ণ অবগতি ছাড়া আমল করা বৈধ নয়। আর কুরআনের উপর আমল করা যেহেতু জরুরী তাই রসূলুল্লাহ স. আমলের জন্য আলিমের শরণাপন্ন হওয়ার তাকীদ দিয়েছেন।
কুরআন অবতরণের মূল উদ্দেশ্য মানুষের হিদায়াত। (সূরা বাকারা: ১৮৫) আর কুরআন থেকে হিদায়াত পাওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিও এটাই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত নেক মানুষের অনুকরণে কুরআন থেকে হিদায়াত আহরণ করা। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া নিজের বুদ্ধি খাটানোর চেষ্টা না করা। কুরআনী ইলম শিক্ষার এ পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে সূরা ‘ফাতিহা’র মধ্যে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ “হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। তাদের পথে যাদেরকে আপনি পুরস্কার দিয়েছেন; অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথে নয়”। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সীরাতে মুস্তাকীম পাওয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করে বলেন: এদের অনুসৃত পথই সীরাতে মুস্তাকীম। যার অর্থ হলো: সীরাতে মুস্তাকীম পেতে হলে পুরস্কারপ্রাপ্ত পথিকদের শরণাপন্ন হও; তাদের চলার পথই সীরাতে মুস্তাকীম। এদের পথ অনুসরণ না করে কুরআন বুঝার চেষ্টা করা ভ্রষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়। কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে উপরোক্ত পদ্ধতি অনুকরণ না করে অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়েছে।
অন্য আয়াতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের পচিয় এভাবে দেয়া হয়েছে যে, নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহগণ হলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত পথিক। (সূরা নিসা: ৬৯)
সারকথা হলো: সীরাতে মুস্তাকীমের ওপর চলার জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআন নাযিল করেছেন; আর কুরআন অনুযায়ী চলার জন্য নিজের বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল না হয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত কোন পথিকের অনুসরণ করা চাই; যিনি কুরআন অনুযায়ী চলার পদ্ধতি শিখিয়ে দিবেন এবং দেখিয়ে দিবেন।

কোরআনের তাফসীর করতে কি জানতে হয় -

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬

নকশায় আঁকা কুরআন: ৩০ সূরাতু লুকমান।


নকশায় আঁকা কুরআন: ৩০
সূরাতু লুকমান। 
মূলবক্তব্য: সন্তানের প্রতিপালন ও তারবিয়ত। 
-
১: ১-৯। লুকমানের দায়িত্ব ও সৎকর্মশীল ও অসৎব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ও প্রতিদান। 
২: ১০-১১। আল্লাহর একত্বের দলীল ও তার কুদরত।
৩: ১২-১৯। লুকমানের ঘটনা ও সন্তানের প্রতি তার উপদেশ।
৪: ২০-৩১। আল্লাহর নেয়ামতরাজি। মুশরিকদের হঠকারিতা। আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ ও পুনর্জীবন।
৪: ৩২-৩৪। কাফিরদের তবীয়ত-স্বভাব। তাকওয়ার আদেশ। আল্লাহর গাইবের জ্ঞান।

-
একক্লিকে:
#নকশায়আঁকাকুরআনAtikUllah

নকশায় আঁকা কুরআন: ২৯ সূরাতুর-রূম।


নকশায় আঁকা কুরআন: ২৯
সূরাতুর-রূম। 

মূলবক্তব্য: আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মর্যাদা।
-
১: ১-৭। মুমিনগনকে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি। 
-
দ্বিতীয় ভাগ: ৮-৩২। বিশ্বজগত সম্পর্কিত আয়াত।
১: ৮-১০। চিন্তার দাওয়াত।
২: ১১-১৬। পুনরুজ্জীবনের প্রমাণ ও মানুষের অবস্থা।
৩: ১৭-২৯। আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা।
৪: ৩০-৩২। ইসলাম ফিতরত ও একত্ববাদের ধর্ম।
-
দ্বিতীয় ভাগ: ৩৩-৪২। অর্থনীতি বিষয়ক আয়াত।
১: ৩৩-৩৭। প্রাচুর্য ও আর্থিক অনটনের সময় মানুষের স্বভাব।
২: ৩৮-৩৯। হক আদায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ। রিবা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা।
৩: ৪০-৪২। তাওহীদের দলীলসমূহ। মানুষের কর্মের নতীজা।
-
৪: ৪৩-৫১। দ্বীন ও তাওহীদের অনুসরনের আদেশ। অপরাধীদের পরিণতি।
৫: ৫২-৫৪। মানুষের ওপর নবীজির প্রভাবের সীমা ও সৃষ্টির ওপর আল্লাহর কুদরত।
৬: ৫৫-৫৭। কেয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা।
৭: ৫৮-৬০। নিদর্শনাবলীর ক্ষেত্রে কাফিরদের অবস্থান। নবীকে সবরের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ।

-
একক্লিকে:
#নকশায়আঁকাকুরআনAtikUllah