কিছু টিপস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কিছু টিপস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

বাজপাখি


বাজপাখি। ঈগলের মতো শিকারি হিংস্র পাখি। দিনের আলোতে শিকার করে। ধারালো নখর দিয়ে অন্যান্য পাখ-পাখালি, পোকা-মাকড়, মাছ ও কীট-পতঙ্গ শিকার করে খায়। 
সে গগনচুম্বী উঁচু পাহাড়ের চূড়োয় বসবাস করাকে পছন্দ করে। একাকি থাকতে ভালো পায়। সে নিজে কামাই ও পরিশ্রম করে খায়, অন্যের খাবার ছিনতাই করেনা। বাজপাখি অত্যন্ত ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন হিংস্র পাখি। খুবই ধৈর্যশীল শিকারি। কষ্টসহিষ্ণু। দীর্ঘসময় ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করে যায় নিরবে। তার দৃষ্টিশক্তি বড়ো প্রখর। চোখ দু'টো খুবই কমনীয়। তার শক্তি, বুদ্ধি ও বীরত্ব প্রশংসনীয়। 
:
এ- তো গেল বাজপাখির কতিপয় গুণ, কিন্তু বাজপাখিকে ঘিরে এমন একটা চমকপ্রদ কথা রয়েছে- তা কি আমরা জানি? বাজপাখি যখন চল্লিশের কোঠায় পৌঁছে তখন সে কী করে - জানেন? তাহলে চলুন শোনা যাক-

বলা হয়, বাজপাখি সত্তর বছর পর্যন্ত বাঁচে। কিন্তু এই দীর্ঘজীবন পেতে হলে তাকে একটা কঠিণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। কী সেই সিদ্ধান্ত? বাজপাখি চল্লিশের কোঠায় পদার্পণ করার পর তার নখরের শক্তি হারিয়ে ফেলে, নখর দিয়ে কোনকিছু ধরতে সে অপারগ হয়ে যায়, যা তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম। ইস্পাতের মতো তার ধারালো চঞ্চুটি বেঁকে যায়, সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বয়সের ভারে তার ডানাদ্বয় খুবই ভারি হয়ে ওঠে। ডানার পালকগুলো ভারি হয়ে সিনার সাথে লেপ্টে যায়। তার জন্য গগনে গুঁতো দিয়ে ওড়া ভারি মুশকিল হয়ে পড়ে। তার সামনে কষ্টসাধ্য দু'টি পথ খোলা থাকে। হয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকবে অথবা ছয়মাসের জন্য নিজেকে বদলে ফেলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করবে। বাজপাখি কোনটা গ্রহণ করে?
:
গগনচুম্বী পাহাড়ের চূড়ো, যেথায় বাজপাখির নীড়; শতকষ্ট করে হলেও সেথায় ওড়াল দেয়। চূড়ো-র কোনো পাথরে ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে তার বেঁকেযাওয়া অথর্ব চঞ্চুটি ভেঙ্গে ফেলে, অত:পর অপেক্ষা করতে থাকে যতক্ষণ না নতুনভাবে আবার চঞ্চু গজিয়ে ওঠে। এভাবে সে তার শিথিল নখরগুলোকেও ভেঙ্গে ফেলে, অত:পর নতুনভাবে আবারো নখর গজিয়ে ওঠার অপেক্ষা করতে থাকে। তদ্রুপ সে তার ডানার ভারি পালকগুলোকেও উপড়িয়ে নেয়, অত:পর নতুনকরে গজিয়ে ওঠার অপেক্ষা করতে থাকে। আর এভাবেই গত হয়ে যায় ছয়মাস। অত:পর আরও ত্রিশ বছর দীর্ঘায়ু লাভ করে। 
:
যখনই মানুষের জীবন দিয়ে কোনো চিন্তা অথবা বিপদ অতিক্রম করে, মানুষ হাহুতাশ করতে শুরু করে বা একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। অথচ, মানুষের জন্য ভেঙ্গেপড়া মোটেই উচিৎ নয়; বরং নবোদ্যমে আগে বাড়তে হবে, আত্মসমর্পণ করা চলবেনা। সর্বোপরি বাজপাখি থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

তোমার পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাও...
বাজপাখির মতো হও....
আশার আকাশে ওড়ে বেড়াও......
জীবনের নবসঞ্চার ঘটাও....
:
:
সূত্র- আরবের সাড়াজাগানো ফেইসবুক সেলিব্রেটি {محمد الفاتح} এর দেয়াল হতে অনূদিত।


বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

উটের পুরো দেহকাঠামোই বিস্ময়কর।


উটের পুরো দেহকাঠামোই বিস্ময়কর। প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহ তা‘আলা আজীব নিপুণতার সাথে সৃষ্টি করেছেন। উটের চোখের পাতায় সুঘন পাপড়ি আছে। পাপড়ির উপরে অতিরিক্ত লম্বা লম্বা পশম আছে। মরুভূমিকে বালুঝড় উঠলে, উড়ন্ত বালু এসে চোখে আঘাত আনতে পারে না। বালুঝড়ে ‍উপরের পশমের আড়ালে চোখ বন্ধ না করেও কাছে দুরের দৃশ্য অনায়াসে দেখতে পায়। উটের চোখে তৃতীয় আরেকটা পাপড়ি আছে। এই পাপড়ির উটের চোখকে গনগনে সূর্যের কড়া উত্তাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। মরুর ছাতিফাটা রোদেও পথ চলতে বেগ পেতে হয় না। 
.

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭

ভূমিকম্প হলে কী করবেন :


ভুমিকম্প হবার সময় মাটির দিকে বা নিচের দিকে তাকিয়ে '' আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা শারিকালাহু, ফাবি আইয়্যে আ'লাঈ রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান '' পড়তে থাকবেন যতক্ষন ভুমিকম্প শেষ না হয়
ﺃَﻧﺖَ ﻭَﻟِﻴُّﻨَﺎ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨَﺎ ۖ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﻐَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ
আন্তা ওয়ালিয়্যুনা ফাগফিরলানা ওয়ার হাম্না , ওয়া আন্তা খইরুল গফিরিন।
অর্থ – হে আল্লাহ, আপনি যে আমাদের রক্ষক- সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের উপর করুনা করুন। তাছাড়া আপনি-ই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।
[ সূরা আরাফ আয়াত ১৫৫]
আর ও পড়তে পারেন ....
**বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূর'রু মা'আস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামি'ই ওয়াহুয়া সামি'য়ুল আলিম....
রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
-যে ব্যক্তি এই দুয়া তিনবার পড়বে,সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।
**লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতুম মিনাজ জোয়ালিমিন.....
রাত্রে ঘুমানোর আগে একবার আয়াতুল কুরসি পড়ে নিতে পারেন।এই আয়াতের ফযীলত আল্লাহর কাছে সব চেয়ে বেশি।যে এই আয়াত পড়ে ঘুমোতে যায়,ঘুমন্ত অবস্থায় আল্লাহ্ তাকে,তার পরিবারকে ও তার প্রতিবেশীকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেন ।
## ভূমিকম্প হলে কী করবেন :
* ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির সঙ্গে সঙ্গে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।
* ঘরে হেলমেট থাকলে মাথায় পরে নিন, অন্যদেরও পরতে বলুন।
* ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সম্ভব হলে আশপাশের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলুন।
* দ্রুত বৈদ্যুতিক ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দিন।
* কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
* যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকা ঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন।
* আধাপাকা বা টিন দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হতে না পারলে শক্ত খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নিন।
* ভূমিকম্প রাতে হলে কিংবা দ্রুত বের হতে না পারলে সজাগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নিন ঘরের কোণে, কলামের গোড়ায় অথবা শক্ত খাট বা টেবিলের নিচে।
* গাড়িতে থাকলে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকুন। কখনো সেতুর ওপর গাড়ি থামাবেন না।
* এ সময় লিফট ব্যবহার করবেন না।
* যদি বহুতল বাড়ির ওপরের দিকে কোনো তলায় আটকা পড়েন, বেরিয়ে আসার কোনো পথই না থাকে, তবে সাহস হারাবেন না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ভেবে দেখুন, উদ্ধারকারী পর্যন্ত আপনার চিত্কার পৌঁছাবে কি না।
* বিম, দেয়াল, কংক্রিটের ছাদ ইত্যাদির মধ্যে আপনার শরীরের কোনো অংশ চাপা পড়লে, বের হওয়ার সুযোগ যদি না-ই থাকে, তবে বেশি নড়াচড়া করবেন না। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
* ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে সাহস হারাবেন না। যেকোনো উত্তেজনা ও ভয় আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
* বড় ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যেটাকে ‘আফটার শক’ বলে। এটার জন্যও সতর্ক থাকুন, না হলে পচা শামুকেই শেষমেষ পা কাটতে হতে পারে।
*যখন কোথাও ভূমিকম্প সংগঠিত হয় অথবা সূর্যগ্রহণ হয়, ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন মানুষদের উচিত মহান আল্লাহর নিকট অতি দ্রুত তওবা করা, তাঁর নিকট নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা এবং মহান আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা যেভাবে রাসূল (সা.) সূর্য গ্রহণ দেখলে বলতেন, যদি তুমি এরকম কিছু দেখে থাক, তখন দ্রুততার সাথে মহান আল্লাহকে স্মরণ কর, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। [বুখারি ২/৩০ এবং মুসলিম ২/৬২৮]

মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৬

বাংলাদেশের কোন কোন খাবারে শুকরের চর্বি আছে! এবং কিভাবে আছে তার বর্ননা নিম্নে দেওয়া হল।

শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার। বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে। আর ইংল্যন্ডে বসবাস করার কারণে নিত্যদিন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের খাদ্য তালিকায় শূকরের মাংস একটি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় তালিকা। কেবল ইংল্যন্ডই নয় বরং পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর প্রাচ্য, অর্থাৎ পুরো খৃষ্ট বিশ্বেই প্রকৃত অবস্থাটি এমনই। এমনকি মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে, মুসলিম দেশসমুহে বসবাসকারী অমুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে শূকরের মাংস অতি কাংক্ষিত একটি খাদ্য মাধ্যম।

এই মাধ্যমটি যে আজ নতুন সৃষ্টি হয়েছে তা নয় বরং সেই মধ্যযুগের কিংবা তারও আগে থেকেই এটি বিদ্যমান। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এ থেকে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়েই বাজারজাতও করেছে। আজকাল পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি সমগ্র বিশ্বব্যাপি স্বাস্থ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ খাদ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ে বড় বেশী চিন্তিত এবং সজাগ। খাদ্যে চর্বির আধিক্যই হৃদরোগের প্রধান কারণ, সেটা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জেনে গেছে বিজ্ঞানের সুবাদে। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বিই কেবল থাকে না বরং সেই চর্বির মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানটির আধিক্যও সবচেয়ে বেশী। ফলে ইউরোপের সচেতন মানুষ শূকরের মাংস খেলেও এর চর্বিকে সব সময় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে। এর ফলে শূকর ব্যবসায়ী ও তার মাংস সরবরাহকারীদের একটা বড় অংশই অপচয় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এইসব অপচয় থেকে বাঁচার জন্যই ইউরোপ শূকরের চর্বির বিকল্প ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করেছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে। প্রথমে শূকরের চর্বি দিয়ে সাবান বানানো হয় এবং তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরে একইভাবে ঐ চর্বিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম তরল প্রসাধনী, ক্রিম ইত্যাদি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হয়, এটাও ব্যবসায়িক সফলতা পায়। বন্দুকের কার্তুজে এই শূকরের চর্বি ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথমে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিংবা তারও আগে।

যা হোক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোও তাদের উৎপাদিত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে এর ব্যবহার শুরু করে। সর্বপ্রথমে শরীরের অভ্যন্তরে সেলাই করার জন্য এমন এক ধরনের সুতোর দরকার পড়ে, যা ক্ষত শুকোনোর পরে খূলে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না, এবং শরীরের ভেতরে হবার কারণে তা সম্ভবও নয়, বরং সেলাই কাজে ব্যবহৃত এই সুতো আপনা আপনিই মানুষের মাংসের সাথে মিশে যাবে। এ চিন্তা থেকেই চিকিৎসকরা বেড়ালের অন্ত্রের চর্বি দিয়ে তৈরী করেন এক বিশেষ ধরনের সুতো, যা দিয়ে মানুষের দেশে অস্ত্রোপচারের সময় আভ্যন্তরীণ ক্ষত জোড়া দিতে ব্যবহার করা যাবে। শল্য চিকিৎসক বা সার্জনরা মানুষের শরীরে এরকম যে সুতোর ব্যবহার করেন তাকে ‘ক্যটগাট’ বলা হয়। বেড়ালের চেয়ে শূকরের প্রচলন বেশী এবং শূকরের মাংস ও চর্বি সহজ লভ্য হবার সুবাদে ইউরোপের শূকর খামার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এই সুতো নির্মাণে বেড়ালের পরিবর্তে শূকরের চর্বি ব্যবহারে। এবং তারা তা শুরুও করেন।

কিন্তু কিছু সচেতন মুসলমান ইউরোপীয় পণ্যসামগ্রীর গা’এ লিপিবব্ধ উপাদানের তালিকায় pig fat শব্দটি দেখে আঁতকে উঠেন। কারণ যে কোন মুসলমানের কাছে এই pig fat বা শূকরের চর্বি, তার মাংস বা রক্ত সকল কিছুই হারাম, এর যে কোন ধরনের পরোক্ষ ব্যবহারও হারাম। তারা তাদের ভাষণে-বিবৃতিতে, লেখা-লেখনীতে এ ব্যপারে জনগণকে যেমন সতর্ক করেন, তেমনি সরকারের কাছেও দাবী জানাতে থাকেন এইসব ইউরোপীয় পণ্য দেশে আমদানী করারা অনুমতি না দেবার। এর ফলে ইউরোপীয়রা তাদের পণ্যতে pig fat শব্দটির পরিবর্তে 'animal fat' শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।

ফলে ইউরোপীয়ান বাবস্যায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হারাতে বসে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে। আর এই বিকল্প পন্থাটইি হলো উৎপাদিত কোন বস্তু, তা খাদ্য সামগ্রী হোক বা ঔষধ পথ্য কিংবা প্রসাধনী কিংবা অন্য কিছু, তার গা’এ ইউরোপীয়ান আঈন অনুযায়ী উপাদান সমুহের নাম লেখা হবে বটে তবে সেই সব নামগুলো লেখা থাকবে বৈজ্ঞানিক কোন টার্ম কিংবা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে যেন সাধারণ জনগণ সেই সব নাম, সেইসব টার্ম পড়ে বুঝে উঠতে না পারে, আসলে এই জিনিসগুলো কী?

করপোরেট বাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসাীয় মহলের চাপে নতী স্বীকার করে সরকার উৎপাদকদের সাথে আপোষ করে এবং উৎপাদিত পণ্যের গা’এ সাংকেতিক ভাষায় উপাদানসমুহের নাম লিপিবদ্ধ করার অনুমিত দেয়। সেই থেকে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী কিংবা তা প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপাদানসমুহে, প্রসাধনী, ঔষধ কিংবা পথ্যের উৎপাদনে সাংকেতিক ভাষায় বিশেষ নাম বা E-Codes ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য একটি বিষয়।

এরকমই একজন মুসলিম টেকনিশিয়ান কাজ করতেন ফ্রান্সের Pegal শহরে অবস্থিত Departments of Food Administration এর মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বা ল্যবরেটরিতে। তিনি অনূসন্ধিৎষূ মন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বের করেছেন বেশ ক’টি E-Codes যার প্রত্যেকটিই শূকরের চর্বিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। একটি ওয়েব সাইটে Are we eating Pork? শিরোণামে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এক পাকিস্থানী বিজ্ঞানী ড: এম আমজাদ খান কর্তৃক প্রচারিত উক্ত তালিকায় শুকরের চর্বি থেকে প্রস্তুত E-Codes এর তালিকা নিম্নরুপ:

E100, E110, E120, E 140, E141, E153, E210, E213, E214, E216, E234, E252, E270, E280, E325, E326, E327, E334, E335, E336, E337, E422, E430, E431, E432, E433, E434, E435, E436, E440, E470, E471, E472, E473, E474, E475, E476, E477, E478, E481, E482, E483, E491, E492, E493, E494, E495, E542, E570, E572, E631, E635, E904. I

উক্ত তালিকায় উল্লেখিত E-Codes গুলোর বেশ ক’টি আমাদের দেশে প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় খাদ্যতালিকায় উপস্থিত দেখতে পাওয়া যায়। তার দু‘একটা নমুণা দেখুন, যেমন; নিচে উল্লেখিত তালিকায় খাদ্য দ্রব্যের নামের পাশে তাতে ব্যবহৃত E-Codes ও তুলে দেয়া হলো:

1 Cadburrys chocolate - E476

2 Igloo Ice Cream -E471,E433

3 Baskin Robbins Ice Cream E471

4 Foster Clarks Custard Powder-E110

5 Fadeco Ice Cream-E471

6 Nova Chewing Gum -E422

7 Demah Fresh -E422

8 Big Babool Chewing Gum

বলা বাহুল্য, উপরের তালিকায় উল্লেখিত প্রায় সবকটিই আমাদের দেশসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ছেলে বুড়ো'সহ সকলের কাছেই খুবই প্রিয়।

আল কুরআনে অন্তত চারটি জায়গায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শূকরের মাংস এবং মৃত জন্তু জানোয়ার আর সেইসব জানোয়ার যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে, মুসলমানদের জন্য হারাম করেছেন। তারই একটি আয়াত দেখুন:

তিনি তোমাদের উপরে হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত শূকর মাংশ এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতিত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নি:সন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু (সুরা আল বাক্বারা- ১৭৩)

এটা মোটমুটি অমুসলিম ব্যবসায়ীরা জানে, অন্তত তাদের সরকার ও জনগোষ্ঠির সচেতন অংশটি খুব ভালো করেই জানে, কিন্তু তারপরেও তারা ভিন্ন কৌশলে মুসলমানদেরকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় সেই হারাম বস্তু খাওয়াতে মনে হয় উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে কেবল যে তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থই আছে তাই নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত এক আগ্রাসী মনোভাব, যার মিল রয়েছে একমাত্র ক্রসেডের সাথেই।

Prof. Dr Mohammad Nurul Huq
Head of the Department of Pediatrics
Bangladesh Medical College and Hospital
R 14A, DRA, Dhaka 1209
Bangladesh

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০১৬

ব্যবহৃত চা-পাতা দিয়ে যা করা যায়

চা তৈরির পর কী করেন? নিঃসন্দেহে চা-পাতা ফেলে দেন। আজ থেকে চা তৈরির পর টি ব্যাগ বা চা-পাতা গুলো ফেলে না দিয়ে বরং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। কেন? কারণ এই ফেলনা চা-পাতা ও টি ব্যাগগুলোই আপনার অর্থ সাশ্রয় করবে প্রতিদিন। জেনে নিন কেন ব্যবহার করা চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা যায় দারুণ সব কাজে আর বাঁচানো যায় সময়-অর্থ সবই!
১) পোকা কামড় দিয়েছে বা পুড়ে গিয়েছে কোথাও? একটা ব্যবহৃত টি ব্যাগ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। সব যন্ত্রণা নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে। চোখের ফোলা ভাব দূর করতেও এটা দারুণ কাজে দেয়। পাতলা কাপড়ে চা পাতা বেঁধে পুঁটলি করেও ব্যবহার করতে পারেন।
২) ব্যবহৃত চা-পাতা ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। তারপর আপনার জুতোর মাঝে বা জুতোর আলমারিতে রেখে দিন। ঘামের বাজে গন্ধ আর কখনোই জুতোতে হবে না। টি ব্যাগও রাখতে পারেন।
৩) প্রতিদিনের ব্যবহৃত টি ব্যাগ রেখে দিন ফ্রিজে। চা-পাতা হলে টিস্যুতে মুড়ে রাখুন। ফ্রিজ থাকবে সতেজ ও পরিষ্কার, কোন রকম ফ্রেশনার ছাড়াই। এছাড়াও কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল ছিটিয়ে বাথরুমে, আলমারিতে রাখতে পারেন চা-পাতা বা টি ব্যাগ। রাখতে পারেন স্কুল কলেজে যাওয়ার কাপড়ের ব্যাগেও।
৪) তেল লাগানো চিটচিটে থালা বাসন বা হাঁড়ি পাতিল পরিষ্কার করতে চা-পাতার জুড়ি নেই। দামী ডিশ ওয়াসার বারের বদলে রাতের বেলা সিংকে পানি দিয়ে তাতে কিছু ব্যবহৃত চা-পাতা দিয়ে দিন। তেল চিটচিটে বাসন এতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে স্বাভাবিক ভাবেই ধুয়ে নিন। একদম ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
৫) মাকড়সা এবং এই ধরণের ছোট পোকামাকড় চা খুবই অপছন্দ করে। ব্যবহৃত টি ব্যাগ বা চা পাতা ঘরের কোণায় কোণায় দিয়ে রাখুন, এরা থাকবে আপনার ঘর থেকে দূরে।

৬) গাছপালায় অনেক পোকামাকড়ের সমস্যা? ব্যবহৃত চা পাতা ধুয়ে গাছের গোঁড়ায় দিয়ে রাখুন। পোকামাকড় দূরে থাকবে, আবার গাছের সার হিসাবেও কাজ করবে।
৭) আধা ভেজা ব্যবহৃত চা পাতা কার্পেটে ছড়িয়ে দিন। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ঝাড়ু দিয়ে ফেলুন বা ভ্যাকুয়াম ক্লিন করে নিন। বাজে গন্ধ ও ময়লা সব গায়েব।
৮) আপনার কাঠের আসবাবগুলো প্রায় শুকনো ব্যবহৃত ব্যাগ দিয়ে ঘষে নিন। চকচকে হয়ে উঠবে।
৯) জেসমিন টি বা এমন যে কোন ফ্লেভারের টি ব্যাগ ভাত রান্নার শেষ দিকে পাতিলে দিয়ে দিতে পারেন। মিষ্টি একটা গন্ধ হবে।
১০) গরম পানির মাঝে ফেলনা চা-পাতা দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন। পায়ের গন্ধ দূর হবে।
১১) ব্যবহৃত চা-পাতা জ্বাল দিয়ে ঘন লিকার তৈরির করুন। এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন কুলি করতে, মাউথ ওয়াশের কাজ করবে। কন্ডিশনার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন চুলে, গ্লাস ক্লিনার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে।
১২) শেভ করতে গিয়ে মুখ কেটে গেছে? একটা ব্যবহৃত টি ব্যাগ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে কাটা স্থানে লাগিয়ে রাখুন। আরাম তো পাবেনই, রক্তপাতও বন্ধ হবে।

(সংগৃহিত)

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

জীবনের সফলতা কি?


জীবনের সফলতার অর্থ যদি টাকা-পয়সা উপার্জন করা হয় তাহলে শহীদকে যে ধন-সম্পদ দেয়া হবে তার তুলনায় দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ মাছির পাখার সমানও নয়।।
.
যদি সফলতা উন্নতমানের খাবার-দাবারের নাম হয়ে থাকে তবে শহীদদের মেহমানদারী মাছ দিয়ে করা হবে।।
.
যদি সফলতা সুন্দর সুন্দর ঘর-বাড়ি বানানো হয়ে থাকে,তবে শহীদকে এমন ঘর দেওয়া হবে যেটার ব্যাপারে রাসূল [সাঃ] বলেছেন;
"শহীদদের জন্য এমন ঘর রয়েছে যার প্রশস্ততা ইয়ামানের শহর সানা থেকে শামের সহর জাবিইয়াহ পর্যন্ত।।যেটা বানানো হয়েছে বাহিরে হীরা ও ইয়াকুত দিয়ে এবং ভিতরে মিসক ও কাফুর দিয়ে।।"
.
যদি সফলতা সুন্দরী রমণীকে বিয়ে করা হয়ে থাকে,তবে এক্ষেত্রেও শহীদের মোকাবেলা দুনিয়ার কোনো মানুষ করতে পারবে?
যে কেউ শহীদ হওয়ার সাথে সাথেই জান্নাতের দুই হুর জান্নাত থেকে একশ জোড়া পোশাক নিয়ে শহীদের কাছে পৌঁছে যায় এবং তার চেহারায় হাত বুলিয়ে তাঁর আগমনের সুসংবাদ শোনায়।। এমন হুর যাদের সৌন্দর্যের সামনে দুনিয়ার সব সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাবে,যাকে দেখে পূর্নিমার চাঁদও লজ্জা পাবে।।
.
যদি সফলতা এটাকে বলা হয় যে, সন্তান পিতা-মাতা নিজ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপকারে আসবে,তবে শহীদ কিয়ামতের দিন নিজের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়স্বজনের উপকারে আসবে যেদিন কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে না ।।
মানুষ নিজের ঘামে ডুবে এক এক নেকীর সন্ধানে নিজের আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের কাছে ধরনা দিতে থাকবে।। ঐদিন শহীদ সেসব আত্মীয়স্বজনের উপকারে আসবে যাদের ব্যাপারে জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে;
মদিনার সর্দার নবী [সাঃ] ইরশাদ করেন; "শহীদ নিজের আত্মীস্বজনদের থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করবে"
.
জীবনের সফলতা আসলে কি ??
.
এটাই সবচেয়ে সফল জীবন যে, এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তরুণদের অন্তর ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে আটকে থাকে না,তাঁরা সবকিছুকে পিছনে রেখে সবচেয়ে উচু জিনিসকে নির্বাচন করে।।
না দুনিয়ার ধন-সম্পদ এদের দৃষ্টি কাড়ে, না দুনিয়ার যশ-খ্যাতি তাদের প্রভাবিত করে,না এসব যুবকদের মনে বেপরোয়া আকর্ষণ প্রভাব বিস্তার করে, না দুনিয়ার মোহ এদের প্রলুদ্ধ করতে পারে।।
.
বরঞ্চ তাদের অন্তর চিরস্থায়ী জান্নাতের নেয়ামত সমূহের প্রতি লেগে থাকে,যেখানকার সম্মানের কোনো তুলনা নেই,
যেখানকার সৌন্দর্য কখন মলিন হবেনা,যেখানে জীবনের স্থায়িত্ব সর্বদা যৌবনের শীর্ষে থাকবে,না কোনো দুঃখ-দুর্দশা তাঁদের স্পর্শ করবে,যেখানে সব কিছু থাকবে যা কোনো অন্তর তামান্না করতে পারে,
যেখানে সব মনোবাসনা পূর্ণ করা হবে যা কোনো অন্তর চাইতে পারে,যেগুলো বাস্তবতার রূপ ধারণ করবে ।।
.
জগতের প্রতিপালক ইরশাদ করেনঃ
"সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমরা দাবী কর"
.
তাহলে আপনিই চিন্তা করুন যাদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি এতটা উঁচু তাঁদের কাছে দুনিয়ার জীবনের স্থান কোথায় যা কিনা মাছির ডানার পরিমাণও নয়!!
.
যুবক ভাইয়েরা, নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুণ,কারা জীবনের ব্যাপারে উত্তম পরিকল্পনা করেছেন,
কারা নিজেদের বোধশক্তি খাটিয়েছেন,
কাদের সংকল্প ও অভিপ্রায় দৃঢ়দৃষ্টি সম্পন্ন,
কারা জীবনের বহু দূর পর্যন্ত গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেছেন ?
কারা জীবনের সফলতায় পৌঁছাতে পেরেছেন ?...
.
'আর এটাই মহা সাফল্য'
( মাওলানা আসিম ওমর) [Collected]


সময় নিয়ে পড়লে একটু উপকার হবে

 ------------()---------()-----------()-----------
যখন মনে হয় "নাহ! আর পারছি না" আমাদের অনেকের জীবনেই মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন মনে হয় "আর হবে নাহ/আর পারছি না",অথবা হয়ত কখনো জীবনের মূহুর্তগুলো এতই কঠিন লাগে যে আর আশা খুঁজে পাইনা,
নিজের উপরে বিশ্বাস হারিয়ে যেতে থাকে।

হয়ত কখনো কোন ভুলের কারণে হওয়া কষ্ট এত তীব্র হয় যে মনে হতে পারে জীবনের ফেলে আসা পথগুলো/কষ্টগুলো/প্রচেষ্টাগুলো আসলে ভুল ছিলো। আবার এমনও মনে হয়, আমি যে জীবন কাটাচ্ছি, হয়ত এ থেকে খুব ভালো কিছু দূরে থাক, এই কঠিন পৃথিবীতে কোনরকম কিছু করেও টিকে থাকতে পারবো বলে আশা করা যায় না...
জানিনা কত জনের এমন মনে হয়। আমি মনে করি বুকের ভেতরে এমন নানান চিন্তা নিয়ে গুমরে মরা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যখন চারপাশে অন্যায়, ফিতনাহ, অসুস্থতা আমাদেরকে কাবু করে নিতে নেয় তখন এমনটা হতেই পারে।
আমাদের এক অাপু একদিন বলছিলেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কুরআনুল কারীমের পাতা ওল্টান এলোমেলো, যেখানেই চোখ পড়ে সেখানে দেখতে পান তার জীবনে মুখোমুখি হওয়া সেই পরিস্থিতি নিয়েই যেন আল্লাহ কিছু বলে রেখেছেন!
আমি বেশ অনেকজনের কথা জানি যারা হুবহু এই অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।যখন মুখ ফেরানোর আর কোন উপায় থাকে না, তখন বাধ্য হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হয়, তখন বাধ্য হয়ে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। কিন্তু দয়াময় আল্লাহ কোনদিন কাউকে ফিরিয়ে দেন না।
আল্লাহ যা করেন তা কোন না কোনভাবে আমাদের কল্যাণ বয়ে আনে, আমরা হয়ত জানিনা। অনেক চেষ্টা ও চাওয়ার পরেও জীবনে যা কিছু হয় যাতে আমাদের কোন 'কনট্রোল' নেই, সেগুলোতে আল্লাহ আমাদের জন্য কিছু 'মেসেজ' দিয়ে পাঠান; যেন তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদেরকে সংশোধিত ও সমর্পিত করি।
অনেকদিন পরে যখন জীবনের পেছন দিকে ফিরে তাকাই তখন ঠিকই টের পাই আমার অপছন্দের বিষয়গুলো/সময়গুলো/অভিজ্ঞতাগুলো আমার জীবনে 'ভ্যালু অ্যাড' করেছে।
আল্লাহ সবসময় আমাদের সবচেয়ে বড় অভিভাবক, আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তিনি জানিয়েছেন তার রাহমাত থেকে নিরাশ না হতে, নিশ্চয়তা দিয়েছেন তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন।
আল্লাহ আমাদের সমস্ত দু'আ শোনেন; আমাদের কোন দু'আ বিফলে যায় না। আল্লাহর জন্য করা আমাদের কোন কষ্টই পুরষ্কারবিহীন রবে না।
ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এই পৃথিবীর অন্যায়-অত্যাচার-অশ্লীলতা-নৈরাজ্যের ভীড়ে আমরা যেন সত্য ও সুন্দরের আশা থেকে ছিটকে না যাই, যেন আখিরাতের অনন্তকালের পরম আরাধ্য সুখকে মরীচীকা মনে করে আশাহত হয়ে না যাই।
ঈমানদারদের জন্য তো আর অল্প ক'টা দিন এই পৃথিবীতে, এরপর ইনশাআল্লাহ অনন্তকালের প্রশান্তি। আল্লাহ যেন আমাদের ঈমানকে আরো আরো দৃঢ় করে দেন, তিনি যেন আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই এই আকাশ ও পৃথিবীর অধিপতি আল্লাহ, নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতা কেবলই তাঁর।
-------------সাদিয়া

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৫

স্বাস্থ্যসমাচার : সুস্থ থাকতে তিল ও তিলের তেলের প্রয়োগ

১.সকালবেলা এক মুঠো তিল চিবিয়ে খেলে বল ও পুষ্টি পাওয়া যায় সেইসঙ্গে দাঁত এতো মজবুত হয়ে যায় যে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত নড়ে যায় না, ব্যথা করে না, পড়েও যায় না।
২. এইভাবে তিল খেলে অর্শের উপশম হয়।
৩. বলা হয়ে থাকে তিলে চুনের মাত্রা বেশি আছে সেই জন্যে বাচ্চাদের জন্যে উপকারী। প্রতিদিন বাচ্চাদের তিলের নাড়– বা তিল পাপড়ি খাওয়ালে বাচ্চারা হৃষ্টপুষ্ট হয়।
৪. যে সব শিশু রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে তাদের কালো তিল আর তার সঙ্গে এক টুকরো মুলো খাওয়ালে ওই বদ-অভ্যাস দূর হয়।
৫. শরীরের পুড়ে যাওয়া জায়গায় তিল পিষে নিয়ে, জলে ধোওয়া ঘি ও কর্পূর মিশিয়ে প্রলেপ দিলে সুফল পাওয়া যায়। তিলের তেল গরম করে লাগালেও আশ্চর্য সুফল পাওয়া যায়।
৬. যদি শরীরের কোনো অংশ খুব জ্বালা করতে থাকে তাহলে তিল দুধ দিয়ে পিষে প্রলেপ লাগালে দাহ বা জ্বালা দূর হয়।
৭. যদি টাটকা ক্ষত বা ঘা না সারে তাহলে তিল পিষে নিয়ে মধু আর ঘি মিশিয়ে লাগালে অনেক ওষুধ বা মলমের চেয়ে বেশি কাজ দেয়।
৮. শূল ব্যথায় শুঁঠ ও হিং মেশানো তিলের তেল মালিশ করলে তাড়াতাড়ি আরাম পাওয়া যায়।
৯. শীতকালে ফাটা হাত-পা এমনকি গাল বা ঠোঁটেও তিলের তেল লাগালে উপকার হয়।
১০. রসুন দিয়ে গরম করা তিল তেলের ফোঁটা কানে দিলে কানের ব্যথা সেরে যায়।
১১. তিল তেলের আর একটি বিশেষ গুণ এই তেল বাতঘœ-অর্থাৎ বাত সারিয়ে দেয়।
১২. তিলের তেল সারা শরীরে তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাড়াতাড়ি হজম হয় এবং শরীরকে নিরোগ রাখে।
১৩. অলিভ অয়েলের চেয়ে তিলের তেলের উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ কিছু কম নয়। স্বাদের দিক থেকে বরঞ্চ অলিভ অয়েলের চেয়ে তিলের তেলই বেশি ভাল।
১৪. তিল তেল মলকে বদ্ধ করে এবং পুরোনো জমে থাকা মল বাইরে বের করে দেয়। এইভাবে এই তেলের মলরোধ পরস্পর-বিরোধী গুণ রয়েছে।
১৫. যদি মেয়েদের ঋতুস্রাব ঠিক মতো না হয় এবং খুব ব্যথা-বেদনা হয় তাহলে তিলের তেল খাওয়া উচিত। দু চা চামচ তিল পিষে নিয়ে এক গ্লাস জলে ফুটিয়ে নিন। এক চতুর্থাংশ জল থেকে গেলে সেই জলটুকু পান করলে মাসিক ঠিক মতো হবে।
১৬. তিল, যব, চিনি চূর্ণ করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যাঁদের বাচ্চা হবে অর্থাৎ সগর্ভা এবং যাঁদের বাচ্চা হয়েছে অর্থাৎ প্রসূতা বা প্রসূতির রক্তস্রাব বন্ধ হয়।
১৭. পেষা কালো তিল এক ভাগ, চিনি দু ভাগ, এবং ছাগলের দুধ চার ভাগ একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে রক্ত-আমাশা সারে।
১৮. অল্প তিল আর চিনি একসঙ্গে পিষে বা কুটে নিয়ে মধু মিশিয়ে চাটালে বাচ্চাদের মল থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
১৯. তিল, নাগকেসর [কবিরাজি দোকানে পাওয়া যায়] আর চিনির চূর্ণ একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে অর্শে উপকার পাওয়া যায়।
২০. তিল পিষে নিয়ে মাখনের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অর্শে রক্তপড়াও অর্শের কষ্ট কমে।
২১. কালো তিল চিবিয়ে খেয়ে তার পরে একটু জল খেলে দাঁত মজবুত হয়, শরীর হৃষ্টপুষ্ট এবং রক্তস্রাব করা অর্শে সুফল পাওয়া যায়।
২২. তিলের তেল মুখে দশ পনেরো মিনিট রেখে কুলকুচো করে ফেলে দিলে নড়ে যাওয়া দাঁত মজবুত হয়ে যায় এবং পাইয়োরিয়া [দাঁতের অসুখ] সেরে যায়।
২৩. দাঁত ব্যথা করলে হিং বা কালোজিরে পিষে নিয়ে তিলের তেল মিশিয়ে তেল গরম করে কুলকুচো করলে আরাম পাওা যায়। এই তেল তুলোয় লাগিয়ে মুখে রাখাও যেতে পারে।
২৪. হিং, কালো নুন মিশিয়ে গরম করা তিলের তেল পেটে মালিশ করলে বা সেঁক দিলে পেটের ব্যথা সারে এবং গ্যাস কমে যায়।
২৫. পেষা গোলরিচ বা পেষা যোয়ান মিশিয়ে গরম করা তিলের তেল নাকে দিলে, গুঁকলে বা মালিশ করলে বন্ধ নাক খুলে যায়।
২৬. মোম আর নুন মিশিয়ে গরম করা তিলের তেল লাগালে ফাটা গোড়ালিতে উপকার পাওয়া যায়।
২৭. রাই, যোয়ান, শুঁঠ, রসুন বা হিং দিয়ে গরম করা তেল মালিশ করলে এবং তার সঙ্গে গরম সেঁক দিলে জোড়ের [গাঁটের] ব্যথা কমে যায়। রিউমেটিজিম ছাড়া অন্য সন্ধি বাতে সুফল পাওয়া যায়।
২৮. তিল তেল একটু গরম করে রোজ মালিশ করলে এক মাসের মধ্যেই নি®প্রভ বা জৌলুষহীন ত্বকে উজ্জ্বলতা এসে যায়, সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, চুলকুনি সেরে যায়।
২৯. হিং আর শুঁঠের গুঁড়ো মিশিয়ে গরম করা তিল তেল মালিশ করলে কোমরের ব্যথা, জোড়ের ব্যথা, কোনো অঙ্গ আড়ষ্ঠ হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি রোগের প্রশমন হয়।
৩০. তিলের তেলে রসুনের কোয়া দিয়ে গরম করে কানে দিলে কানের ব্যথা সেরে যায়।
৩১. চুনের জল থিতিয়ে নিয়ে তিলের তেল মিশিয়ে লাগালে আগুনে পোড়া ঘা সেরে যায়।
৩২. পুড়ে যাওয়া অংশে শুধু গরম করা তিলের তেল মিশিয়ে লাগালেও চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
তিল-প্রয়োগ : নিয়মিত তিল প্রয়োগ করলে লাভ হয়। তিল প্রয়োগের পদ্ধতি হল প্রতিদিন ভোরবেলা এক টেবিল চামচ কালো তিল অল্প অল্প করে মুখে দিয়ে মিহি করে চিবিয়ে যখন একেবারে রসের মতো হয়ে যাবে তখন গিলে ফেলুন। এই ভাবে সব তিল চিবিয়ে খাওয়া হয়ে গেলে ঠাণ্ডা জল খান। এই তিল খাওয়ার পর তিন ঘন্টা পর্যন্ত আর কিছু খাবেন না। এই ভাবে তিল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি তেলের মালিশও করা যায় তাহলে যিনি খুব রোগা তিনি মোটা হয়ে যাবেন আর যিনি খুব বেশি মোটা তাঁর অত্যধিক মেদ কমে গিয়ে সঠিক আকার হবে। বায়ু ও কফের কারণে যাঁর শরীরের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে তাঁরও তিল প্রয়োগের দ্বারা শারীরিক বৃদ্ধি আবার শুরু হয়ে যায়। খিদে পায়, দাঁত যদি দুর্বল হয় তাহলে মজবুত হয়ে যায়। যাঁর অকালে চুল পেঁকে গেছে তিনিও তিল প্রয়োগের দ্বারা লাভবান হবেন। শরীর কান্তিমান ও তেজস্বী হয় সব ইন্দ্রিয়ের শক্তি বেড়ে যায়। যে সব মেয়েদের চুল উঠে যাচ্ছে তাঁদের চুল পড়া বন্ধ হয়, চুল ঘন কালো হয়। ঋতুস্রাব পরিষ্কার হয়। যদি এক টেবিল চামচ পরিমাণ বেশি মনে হয় তাহলে অর্ধ টেবিল চামচ করে সকালে ও সন্ধেবেলা যে রকম সহ্য হয় সেই রকম ভাবে ‘তিল প্রয়োগ’ করে দেখুন। বলা হয়ে থাকে যাঁরা এক বছর ধরে প্রতিদিন নিয়মিত ‘তিল প্রয়োগ’ করছেন তাঁদের যৌবন স্থির হয়ে যায়, বৃদ্ধেরাও যেন নব যৌবন ফিরে পান এবং মৃত্যু পর্যন্ত সক্ষম এবং সুন্দর থাকেন।
তিলের মতো তিলের তেলও উপকারী। তিলের তেল ভারী, বলপ্রদ, শরীরের রং উজ্জ্বল করে, মল নিষ্কষণ করে, মৈথুন শক্তিবৃদ্ধি করে, স্বচ্ছ, রস তথা পাকে মধুর, সূক্ষ্ম, কটু, বায়ু ও কফ দূর করে, উষ্ণবীর্য, স্পর্শে শীতল, পুষ্টিদায়ক, শরীরের দোষ দূর করে, মল ও মূত্র নিয়ন্ত্রণ করে, গর্ভাশয় পরিষ্কার করে, খিদে বাড়ায়, বুদ্ধিবৃদ্ধি করে, পবিত্রভাব, পুরো শরীরে তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে, ব্রণ, ডায়বেটিস সরিয়ে দেয়, কানের ব্যথা, মস্তিষ্ক বেদনা, যোনির ব্যাথা দূর করে, শরীরে মাখলে শরীর হালকা হয়, ত্বক, চুল এবং চোখের পক্ষে হিতকর। নানা রকমের, ক্ষত, আঘাত, পুড়ে যাওয়া, মাড়িয়ে যাওয়া, ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদিতে তিলের তেল অত্যন্ত উপকারী। এই তেল নাকেও দেওয়া যায়, ভাল করে মেখে স্নানও করা যায় এমনকি কাজল তৈরি করে চোখে পরাও যায়-সবেতেই তিলের তেল সমান উপকারী।
চরকের মতো তিলের তেল বল বৃদ্ধি করে, ত্বকের পক্ষে ভাল, গরম, স্থিরতা প্রদান করে এবং যোনি শোধন করে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

***** মেদ কমাতে কার্যকরী ১০টি ধাপ:


পেটে মেদ জমা সমস্যায় ইদানীং ভুগছেন অনেকেই। অতিরিক্ত তেল-চর্বি, ফাস্ট ফুড, ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া এই সমস্যার জন্য অনেকাংশেই দায়ী। যথাযথ ব্যায়াম না করার ফলে শরীরের মেদ বেড়ে থাকে অতিরিক্ত মাত্রায়।
শরীরের মেদ কমাতে ব্যায়াম এর পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ায় সচেতন না হলে শরীরের মেদ কমানো সম্ভব না। তাই শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর কিছু সহজ উপায় জানাবো আজঃ
------------------------
১. প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবুর শরবত পান করুন। এটা হলো পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ১টি গ্লাসে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে লেবু চিপে শরবত করে নিন। সাথে একটু লবণ মিশিয়ে নিবেন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকাল বেলা এই শরবতটি পান করুন। এই শরবত আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়ায় এবং পেটের মেদ কমায়।
২. চিনি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনি, সেমাই ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
৩. উচ্চ চর্বি যুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। তাই এই খাবারগুলো যথাসম্ভব পরিহারের চেষ্টা করুন।
৪. প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান আপনার শরীরের বিপাকের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে দূর করে দিবে।
৫. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান এবং তার পরে লেবুর শরবতটি খান। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সহজ করবে।
৬. সাদা ভাত কম খান। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া লাল চালের ভাত, গমের রুটি , ওটস ও অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন।
৭. খাদ্য তালিকাটি ফল আর সবজি দিয়ে পরিপূর্ণ করে নিন। প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময় ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে পানি জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ লবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে।
৮. দারচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মশলা গুলো স্বাস্থ্যকর। এগুলো শরীরের ইনসুলিন সরবরাহ বাড়ায় এবং রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।
৯. অসময়ের ঘুম আপনার শরীরের জৈবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আপনার শরীরে খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। পেটে চর্বি জমার প্রবণতা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শরীরে হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায়, যা আপনার মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই মেডিক্যাল সায়েন্স বলে রাতের ৭ ঘন্টা ঘুমই শরীর ঠিক রাখতে শ্রেষ্ঠ।
১০. পেটের মেদ থেকে মুক্তি পেতে ছোট কিছু ব্যায়ামই যথেষ্ট। যেমন ফ্লোর ক্রাঞ্চেস্‌, বার-পিস, সিঙ্গেল লেগ স্কোয়াট, পুশ-আপস্‌, চেয়ার ডিপস্‌ ৩০ সেকেন্ড করে দিনে ৪-৫ বার করে দেখুন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ হাঁটুন