পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

ওহে বোন,

Emran Hossain Adib

,
তুমি আজ তার পুত্রকে তোমার প্রতি দুর্বল করে তোমার শাশুড়ির উপর নির্যাতন করে চলছ। তাহলে সেদিন বেশি দুরে নয় তোমার পুত্রবধূরাও তোমার সাথে ঐরুপ আচরণ করবে।যেমনটি তুমি আজ তোমার শাশুড়ির সাথে করছ। 
,
আর শাশুড়ি যদি তার পুত্রবধূকে মেয়ের মর্যাদায় স্থান দিয়ে আগলে রাখে।নিজ মেয়ের ন্যয় তার ত্রুটি না ধরে ক্ষমা করে শুধরিয়ে দেয়। তাহলে আশা করা যায় সেই সংসারে শান্তি আসবে।অন্যথয় আপনার পুত্র বধূ যদি আপনার সন্তান কে তার প্রতি দুর্বল করে ফেলে,তাহলে বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন।কারন আপনার পুত্রবধূ আপনার পুত্রকে ফুঁসলিয়ে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা বানিয়ে দিবে। 
 ,
আর পুত্র বধূদের উচিত শাশুড়িকে নিজ মায়ের মর্যাদায় স্থান দিয়ে তার দেখবাল করা।কেননা সে তো আপনার স্বামীর মা, তার অমর্যাদা করা মানে তার পুত্রকে অবমূল্যায়ন করা।তাই তার যথাযথ মূল্যায়ন করা চাই। 
,
তাই এখন থেকে হিন্দি সিরিয়ালের সেই ঝগড়ার প্রাকটিস বাদ দিয়ে সুন্দর জীবন গড়ে তুলুন।

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭

পোশাক ও পর্দা সংক্রান্ত বিধান


প্রথমত: মুসলিম নারীর শর‘ঈ পোশাক:
১. মুসলিম নারীর পোশাক ব্যাপক প্রশস্ত হওয়া জরুরি, যেন তার সমস্ত শরীর পর-পুরুষ থেকে আচ্ছাদিত থাকে, যারা তার মাহরাম নয়। মাহরামের সামনে সে পরিমানই খুলবে যতটুকু খোলা রাখার রীতি রয়েছে, যেমন তার চেহারা, দুই হাতের কব্জি ও দুই পা।
২. পোশাক তার চারপাশ আচ্ছাদনকারী হওয়া চাই। এরূপ স্পষ্ট নয় যা তার চামড়ার রঙ প্রকাশ করে দেয়।
৩. এত সংকীর্ণ নয় যা তার অঙ্গের পরিমাণ স্পষ্ট করে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
»صنفان من أهل النار لم أرهما: قوم معهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس، ونساء كاسيات عاريات، مائلات مميلات، رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة، لا يدخلن الجنة، ولا يجدن ريحها، وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا«
“জাহান্নামের দু’প্রকার লোক রয়েছে যাদের আমি এখনো দেখি নি: এক সম্প্রদায়, তাদের সাথে গুরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা মানুষদের আঘাত করবে। আর বস্ত্র পরিহীত উলঙ্গ নারী, নিজেরা ধাবিত হয় ও অপরকে ধাবিত করে। উটের ঝুঁকে পড়া কুজের ন্যায় তাদের মাথা। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার ঘ্রাণও পাবে না, যদিও তার ঘ্রাণ এতো এতো দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়”।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন: “বস্ত্র পরিহিত উলঙ্গ নারী”র ব্যাখ্যায় বলা হয়, সে এমন পোশাক পড়বে যা তার শরীর ঢাকবে না। সে বস্ত্র পরিহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে উলঙ্গ। যেমন, পাতলা কাপড় পরিধানকারী, যা তার শরীরের চামড়া প্রকাশ করে দেয় অথবা খুব সংকীর্ণ, যা তার শরীরের ভাঁজ প্রকাশ করে দেয়, যেমন নিতম্ব ও হাতের বাহুর ভাঁজ ইত্যাদি। নারীর পোশাক হবে প্রশস্ত ও মোটা, যা তাকে ঢেকে নেয় এবং তার শরীরের কোনো অংশ ও আকৃতি প্রকাশ করে না”। সমাপ্ত
৪. পোশাকের ক্ষেত্রে পুরুষের সামঞ্জস্য গ্রহণ না করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের সামঞ্জস্য গ্রহণকারী নারীর ওপর লা‘নত করেছেন। অনুরূপ লা‘নত করেছেন পুরুষের অঙ্গ-ভঙ্গী গ্রহণকারী নারীদের ওপর। পুরুষের সাথে নারীর সামঞ্জস্য গ্রহণ করার অর্থ প্রত্যেক সমাজে যেসব পোশাক পুরুষদের সাথে সেগুলো নারীদের পরিধান করা।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: “পুরুষ ও নারীর পোশাকে ব্যবধান সৃষ্টিকারী বস্তু তা-ই যা তাদের প্রত্যেকের সাথে যথাযথ ও সামঞ্জস্য। পুরুষের জন্য শোভনীয় পোশাক পুরুষরা পরিধান করবে এবং নারীদের জন্য শোভনীয় পোশাক নারীরা পরিধান করবে এটিই শরী‘আতের নির্দেশ। নারীদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে তারা ঢেকে থাকবে ও পর্দা করবে, প্রকাশ্যে আশা ও সৌন্দর্য প্রকাশ করা তাদের পক্ষে বৈধ নয়। এ জন্য আযান, তালবিয়া, সাফা ও মারওয়ায় উঠার সময় তাদের প্রতি আওয়াজ বুলন্দ করার নির্দেশ নেই। ইহরামে তারা সেরূপ কাপড় খুলবে না যেরূপ পুরুষরা খুলে। কারণ পুরুষদের নির্দেশ করা হয়েছে মাথা খোলা রাখতে, সাধারণ কাপড় পরিধান না করতে, সাধারণ কাপড় বলতে শরীরের মাপে তৈরি পোশাককে বুঝায়, যেমন জামা, পায়জামা, কোর্ট ও মোজা... নারীদেরকে কোনো পোশাক থেকে নিষেধ করা হয় নি। কারণ সে আদিষ্ট ঢেকে থাকা ও পর্দার, তার খিলাফ করা তার পক্ষে বৈধ নয়। কিন্তু তাকে নেকাব ও হাত মোজা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এগুলো শরীরের মাপ মতো তৈরি করা, যা তার প্রয়োজন নেই... অতঃপর তিনি বলেন: নারী এগুলো ছাড়াই স্বীয় চেহারা পুরুষদের আড়াল করবে... অতঃপর তিনি বলেন: ‘নিহায়াহ’ গ্রন্থে রয়েছে: পুরুষ ও নারীর পোশাকে পার্থক্য থাকা জরুরি, যার দ্বারা পুরুষরা নারীদের থেকে পৃথকভাবে চিহ্নিত হয়। নারীদের পোশাকে যদি আড়াল করা ও পর্দার বিষয়টি গুরুত্ব পায় তাহলে পর্দার আসল উদ্দেশ্য হাসিল হবে। পোশাক যদি পুরুষদের সাধারণ পোশাক হয়, তাহলে সেটা থেকে নারীদের নিষেধ করা হবে... অতঃপর তিনি বলেন: যদি পোশাকে পর্দা কম হয় ও পুরুষের সাথে সামঞ্জস্য থাকে, তাহলে দু’টি বিবেচনায় তার থেকে নারীদের নিষেধ করা হবে”। সমাপ্ত।
৫. নারী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দৃষ্টি আকর্ষণকারী সৌন্দর্য গ্রহণ করবে না, তাহলে (নিষিদ্ধ) সৌন্দর্য প্রকাশকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দ্বিতীয়ত: পর্দার অর্থ, দলীল ও উপকারিতা:
পর্দার অর্থ নারী স্বীয় শরীরকে পর-পুরুষ থেকে ঢেকে রাখা, যারা তার মাহরাম নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَاۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّۖ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآئِهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآئِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ إِخۡوَٰنِهِنَّ﴾ [النور: ٣١] 
 “আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই ব্যতীত সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
অন্যত্র তিনি বলেন:
﴿وَإِذَا سَأَلۡتُمُوهُنَّ مَتَٰعٗا فَسۡ‍َٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٖۚ﴾ [الاحزاب: ٥٣] 
 “আর যখন তোমরা তাদের নিকট কিছু প্রার্থনা কর, তবে পর্দার আড়াল থেকে তাদের কাছে চাও”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]
এখানে পর্দার উদ্দেশ্য নারীকে আড়ালকারী দেয়াল অথবা দরজা অথবা পোশাক। আয়াতটি যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে নাযিল হয়েছে; কিন্তু তাতে সকল মুমিন নারীই প্রবেশ করবে; যেহেতু এখানে আল্লাহ তার কারণ বলেছেন:
﴿ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوبِكُمۡ وَقُلُوبِهِنَّۚ﴾ [الاحزاب: ٥٣] 
 “এটিই তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতা”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩] আর অন্তরের পবিত্রতা সবার প্রয়োজন, তাই এ হুকুম সবার জন্য ব্যাপক। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ﴾ [الاحزاب: ٥٩] 
 “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদেরকে বলে দিন, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: “জিলবাব অর্থ হচ্ছে অবগুণ্ঠন ও বোরকা। ইবন মাস‘উদ এটিকেই চাদর বলেছেন। আর সাধারণরা এটাকে বলে: ইযার। বড় ইযার মাথা ও সারা শরীর ঢেকে নেয়। আবু উবায়দাহ প্রমুখ বলেন: ইযার মাথার উপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে চোখ ব্যতীত কিছু দেখা যায় না। ঘোমটা ইযার বা চাদর থেকেই হয়। সমাপ্ত।
মাহরাম ব্যতীত পরপুরুষ থেকে নারীদের চেহারা ঢাকার হাদীস। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: 
»كان الركبان يمرون بنا ونحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم محرمات، فإذا حاذوا بنا سدلت إحدانا جلبابها من رأسها على وجهها، فإذا جاوزنا كشفناه«
“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুহরিম ছিলাম, আরোহীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। যখন তারা আমাদের বরাবর হত, আমরা প্রত্যেকে জিলবাব মাথার উপর থেকে চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিতাম, যখন তারা আমাদের ছাড়িয়ে যেত আমরা তা খুলে ফেলতাম”।
মাহরাম ব্যতীত অন্যান্য পুরুষদের থেকে নারীদের চেহারা ঢাকার দলীল কুরআন ও সুন্নায় অনেক রয়েছে, এ জন্য মুসলিম বোন হিসেবে আমি তোমাকে কয়েকটি কিতাব অধ্যয়ণের নির্দেশ দিচ্ছি: শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রচিত حجاب المرأة ولباسها في الصلاة শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রচিত حكم السفور والحجاب হামুদ ইবন আব্দুল্লাহ তুওয়াইজুরি রচিতالصارم المشهور على المفتونين بالسفور এবং শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমিন রচিত رسالة الحجاب কিতাবগুলো পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ কিতাবসমূহে যা রয়েছে তাই যথেষ্ট।
হে মুসলিম বোন, যেসব আলেম বলেন তোমার চেহারা খোলা বৈধ, যদিও তাদের কথা দুর্বল, তবুও তারা নিরাপত্তার শর্তারোপ করেছেন। আর ফেতনার কোনো নিরাপত্তা নেই, বিশেষ করে এ যুগে, যখন নারী ও পুরুষের মাঝে দীন সুরক্ষার প্রেরণা কমে গেছে, কমে গেছে লজ্জা। পক্ষান্তরে ফিতনার দিকে আহ্বানকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আর নারীরা চেহারায় বিভিন্নভাবে সৌন্দর্য গ্রহণ করে, যা মূলত ফিতনার দিকেই আহ্বান করছে। 
হে মুসলিম বোন, তুমি তা থেকে বিরত থাক, ফিতনা থেকে সুরক্ষাদানকারী হিজাব ব্যবহার কর। পূর্বাপর কোনো আলেম বর্তমান যুগে নারীরা যে ফিতনায় পতিত হয়েছে তার বৈধতা দেন নি। আর মুসলিম নারীরা লোক দেখানো যে পর্দা পরিধান করে তারও কেউ অনুমোদন দেন নি। পর্দার সমাজে থাকলে পর্দা করে পর্দাহীন পরিবেশে গেলে পর্দা ত্যাগ করে। আর কতক নারী পাবলিক স্থানে পর্দা করে; কিন্তু যখন মার্কেটে অথবা হাসপাতালে যায় অথবা কোনো স্বর্ণকারের সাথে কথা বলে অথবা কোনো দর্জির সাথে কথা বলে, তখন সে চেহারা ও বাহু খুলে ফেলে যেন স্বামী অথবা কোনো মাহরামের সাথেই কথা বলছে। এ জাতীয় কর্মে লিপ্ত নারীরা আল্লাহকে ভয় কর। বাহির থেকে আগত আমরা কতক নারীকে দেখি প্লেন যখন দেশের মাটিতে ল্যান্ড করে তখন তারা হিজাব পরে, যেন হিজাব পরা একটি দেশীয় কালচার, শর‘ঈ কোনো বিষয় নয়।
হে মুসলিম নারী, ব্যাধিতে আক্রান্ত অন্তর ও কুকুর শ্রেণীর মানুষ থেকে পর্দা তোমাকে সুরক্ষা দিবে। তারা তোমার থেকে নিরাশ হবে। অতএব, তুমি পর্দাকে জরুরি কর ও তাকে আকড়ে ধর। তুমি অপ্রচারের শিকার হয়ো না, যারা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে অথবা নারীকে তার মর্যাদার আসন থেকে বিচ্যুত করছে, কারণ তারা তোমার অনিষ্ট চায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَيُرِيدُ ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلشَّهَوَٰتِ أَن تَمِيلُواْ مَيۡلًا عَظِيمٗا﴾ [النساء: ٢٧] 
“আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা প্রবলভাবে (সত্য থেকে) বিচ্যুত হও”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৭]

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

মারআহ সালিহা! নেককার মহিলা কারা?

Atik Ullah

নেককার মহিলা কারা? যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ান। উমাইয়া খিলাফাহর একজন জাঁদরেল প্রশাসক। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। দুর্ণাম আছে। সেগুলোর সব মিথ্যেও নয়। তবে তিনি যে একজন সুদক্ষ বাগ্মী আর পন্ডিত আর ধূর্তব্যক্তি, এ-ব্যাপারে কারো দিমত নেই। একদিন কী মনে করে, দরবারীদের কাছে প্রশ্ন রাখলেন:
-সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?
-আমাদের আমীরুল মুমিনীন!
-উঁহু! ঠিক বলো নি। 
-খলীফাতুল মুসলিমীনের চেয়েও সুখী আর কে হতে পারে?
-আছে আছে। 
-কে সে?
-একজন মুসলিম:
ক. যার একজন মুসলিম স্ত্রী আছে। 
খ. যার প্রয়োজন পরিমাণ জীবিকা আছে। 
গ: যার স্ত্রী তার প্রতি সন্তুষ্ট। 
ঘ: যে তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট।
ঙ. আমাদের মতো প্রশাসনিক লোকদেরকে সে চেনে না। 
চ. আমরাও তাকে চিনি না। 
= এমন ব্যক্তিই সবচেয়ে সুখী। কোনও প্রকারের ঝুট-ঝামেলামুক্ত। নিশ্চিন্ত নিরুপদ্রব জীবন যাপন করে। নির্ঝঞ্ঝাট। 
.
যিয়াদ বিন আবি সুফিয়ানের মতে সবচেয়ে সুখী মহিলা কে? 
= পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। মহৎ গুণাবলী সম্পন্না। চেহারা থেকে পবিত্রতার দ্যুতি ছড়াবে। হৃদয় থাকবে আনুগত্যে ভরপুর। অবয়ব থেকে ঠিকরে বের হবে, সম্ভ্রম আর সমীহ জাগানিয়া অভিব্যক্তি। স্বামীকে হৃদয়-মন সঁপে দিবে নির্দি¦ধায়। চিন্তা-বিশ্বাস ও কর্মে হবে স্বামীর প্রতি পুরোপুরি বিশ্বস্ত। তার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে থাকবে স্বামীর উপস্থিতি। এমন নারীর কিছু সার্বজনীন বৈশিষ্ট্য আছে:
(এক) প্রয়োজনের সময় সঠিক পরামর্শ দিবে। নির্ভুল চিন্তা তুলে ধরবে:
= সাফফানাহ। বিখ্যাত আরব দানবীর হাতেম তাইয়ের কন্যা। বন্দী হয়েই এসেছেন মদীনায়। নবীজির কাছে সুন্দর করে মাফ চাইলেন। হৃদয়স্পর্শী ভাষায় বাবার কথা বললেন। নবীজি তাকে মাফ করে দিলেন। তাইতনয়া নিজ গোত্রে ফিরে গেলেন। বড়ভাই আদি তাইকে সব খুলে বললেন। নবীজির কাছে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। অল্প সময়ের মাঝেই তিনি নবীজিকে চিনে ফেললেন। তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে, নবীজির অনেক গুণ ধরা পড়লো। এক এক করে ভাইয়াকে সব খুলে বললেন। বোনের পরামর্শ ও সুচিন্তিত মতামত ভাই ফেলে দিতে পারলেন না। 
.
(দুই) দ্বীনের স্বার্থে, উম্মাহর পরিবার-পরিজনকে উৎসর্গ করতে দ্বিধা করবে না। আপনজনদেরকে ত্যাগ করতে একপায়ে প্রস্তুত থাকবে। 
= উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা রা.। নবীজি মদীনায় হিজরত করেছেন। মক্কায় তখনো কিছু মুসলিম নারী ও পুরুষ রয়ে গেছেন। উম্মে কুলসুমের তখনো বিয়ে হয়নি। বাপ-ভাই ইসলাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু নিজের বিবেক বুদ্ধিতে তিনি বুঝতে পারলেন, ইসলাম সত্য। মুহাম্মাদ সা. সত্য নবী। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিলেন। একা একা মদীনায় চলে এলেন। সবকিছু ছেড়ে। তার পিছু নিয়ে দু’ভাই মদীনায় এলো। বোনকে নিয়ে যেতে। উম্মে কুলসুম ফুঁসে উঠলেন। নবীজিকে বললেন:
-আপনি আমাকে ফেরত পাঠাবেন ইয়া রাসুলাল্লাহ? তারা আমাকে আমার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে যে! সেখানে নারীদের অবস্থা আপনি জানেন। তাদের নির্যাতনে আমি সবর করে থাকতে পারবো না! তবুও আপনি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন?
.
নিজের বিশ্বাসের জন্যে সবকিছু ছেড়েছেন। দূরের পথ পাড়ি দিতে দ্বিধা করেন নি। কোন ডরভয়ের পরোয়া করেন নি। সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করেন নি। 
.
(তিন) সৎকাজে অত্যন্ত তৎপর থাকবেন। অভিনব পন্থায় নেককাজ করবেন। নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে হলেও। 
= নবীজি সা. বললেন; কে এই লোকের মেহমানদারি করবে? এক সাহাবী সাড়া দিলেন, আমি করবো! মেহমান নিয়ে ঘরে ফিরলেন:
-ওগো! আল্লাহর রাসূলের মেহমান নিয়ে এসেছি। দেখো কী করতে পারো!
-ইয়া আল্লাহ! ঘরে যে শুধু বাচ্চাদের খাবারই আছে! আর কিছু নেই!
-কোনও সমস্যা নেই! খাবার যা আছে প্রস্তুত করো। বাতিটা ঠিক করে রাখো। বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। খাবার প্রস্তুত হলো। বাকী কাজও ঠিকঠাক মতো সম্পন্ন হলো। খানা খেতে বসলো সবাই। স্ত্রী অত্যন্ত বুদ্ধিমতি। তিনি ঠিক করার ছলে বাতিটা নিভিয়ে দিলেন। অন্ধকারেই খানাপিনা চলতে থাকলো। মেজবান দুজন ভাব দেখাতে লাগলো, তারাও সমানতালে খাবার গ্রহণ করছে। 
.
সকাল হলো। আনসারীকে দেখেই নবীজি মুচকি হেসে বললেন:
-বী ব্যাপার! আল্লাহ তা‘আলা গতরাতে তোমাকে আচরণ দেখে হেসেছেন! নাযিল করেছন:
“ তারা দারিদ্র্য সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের উপর প্রাদান্য দেয়। যাকে অন্তরের কৃপণতা থেকে বাঁচানো হয়েছে, তারাই সফলকাম (হাশর:৯)। 
.
(চার) চারিত্রিক নিষ্কলুষতার কারণে, গভীর বোধের অধিকারী হবেন। শুদ্ধাচারসম্পন্ন চিন্তার অধিকারী হবেন। ব্যতিক্রমী কিছু হলে, তার সুরুচি সেটা গ্রহণ করতে বাধা দিবে। 
= মাইসুন বিনতে বাহদল রহ.। একজন তাবেয়ী। তার আরও পরিচয় আছে। তিনি দ্বিতীয় উমাইয়া খলীফা ইয়াযীদের মা। মুয়াবিয়া রা.-এর স্ত্রী। স্বামী থেকে বেশ কয়েকটা হাদীসও বর্ণনা করেছেন। রূপে-গুণে অতুলনীয় ছিলেন। চমৎকার কবিতা রচনা করতেন। খাঁটি বেদুইনকন্যা ছিলেন। একদিন মুয়াবিয়া রা. তার কাছে এলেন। সাথে ছিল একজন খোজা খাদেম। তাকে দেখেই মাইসুন বলে উঠলেন:
-এ কে? এখানে কেন?
-সমস্যা নেই! সে ‘খোজা’!
-আল্লাহর কসম! খোজা হলেই, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল হয়ে যায় না! (বিদায়া
.
কী অনন্য চিন্তা! কী অপূর্ব আত্মসম্মানবোধ! কী বেনজীর সচেতনতা আর রুচিবোধ! বেগানা পুরুষ যেই, যেমনই হোক, তার সামনে যেতে একজন মুসলিম নারীর বিবেকে লাগবেই! তার রুচিতে বাধবেই!
.
(পাঁচ) আল্লাহর শা‘আয়ের বা নিদর্শনের সম্মানবোধ থাকবে। সেটা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকাশও করবেন। 
= জামীলা বিনতে হাসান (৯৮১)। হামদানী গোত্রের মহিলা। অত্যন্ত স্বাধীনচেতা। অতিরিক্ত আত্মসম্মানবোধের কারণে জীবনে কারো কাছে বিয়ে বসেন নি। অন্য কোনও পুরুষ তার ওপর আধিপত্য করবে এটা তার পক্ষে মেনে নেয়া অসম্ভব ছিল। পর্দার আড়ালে থেকে বাবা ও ভাইয়ের সাথে রাজকার্যে অংশ নিতেন। ৩৬৬ হিজরীতে হজ করেছেন। আব্বাসী খলীফা হারুনুর রশীদের স্ত্রী যুবায়দার মতোই তিনি মক্কার উন্নয়নে অনেক টাকা ব্যয় করেছেন। হজের সফরে তার সাথে ছিল চারশ দাসী। মালসামানা বহন করার জন্যে ছিল অসংখ্য উট। অনেকগুলো উটের পিঠে হাওদা লাগানো ছিল, যাতে লোকজন বুঝতে না পারে, কোনটাতে জামীলা আছেন। কা‘বার সম্মানে ব্যক্তিগত কোষাগার থেকে দান করেছেন দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা। পঞ্চাশ হাজার জোড়া কাপড় দান করেছেন। দান-দাক্ষিণা ও পরহেজগারিতে অতুলনীয় হলেও, এই হামদানীরা ছিল শী‘আ। একজন নারীও মক্কা ও মদীনার প্রতি সম্মান রাখতে পারে, তার নমুনা হিশেবেই জামীলার কথা আনতে হলো। এমন আরো বহু নারী আছেন, যারা মক্কার জন্যে উদার হস্তে ব্যয় করেছেন। অতুলনীয় সম্মান দেখিয়েছেন। কিন্তু সবার মাঝে জামীলার মতো গুণ ছিল না। 
.
(ছয়) হক ও সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনও কিছুর পরোয়া করবে না। নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। 
আহলে বাইতের এক বিদূষী কন্যা। ফাতিমা তার নাম। এক লোক এসে, আড়াল থেকে তার পিতার প্রশংসা করতে শুরু করলো। উদ্দেশ্য, বাবার কথা বলে মেয়েকে খুশি করা। সরাসরি মেয়ের প্রশংসা করা যায় না। ফাতিমা লোকটার দুরভিসন্ধি ধরে ফেললেন। চুপচাপ উঠে গিয়ে, চুলা থেকে ছাই এনে লোকটার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন। (তাবাকাতে ইবনে সা‘দ)। 
.
(সাত) ইবাদত বন্দেগীর প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকবে। শুধু নিয়ে নয়, অন্যদেরকেও উদ্বুদ্ধ করবে। 
= হায়সাম বিন জাম্মায বলেছেন: আমার স্ত্রী রাতে খুব কম ঘুমুতেন। আমি তার মতো অত জেগে থাকতে পারতাম না। শেষরাতে আমি ঘুম থেকে না জাগলে, আমার মুখে পানি ছিটিয়ে দিয়ে বলতেন:
-আর কতো নাক ডাকাবেন! আল্লাহর কথা ভেবে লজ্জিত হোন!
.
(আট) সব ধরনের দুনিয়াবি লোভ-লালসাকে জয় করতে পারবে। নিজেকে নিরাসক্ত রাখতে পারবে। শত প্রলোভনেও টলে যাবে না।
= ঈদের রাত। খরচ করার মতো কোনও টাকা নেই। স্বামী তার এক বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা করয আনল। এমন সময় একজন আওলাদে রাসূল এলো। করযের আশায়। স্ত্রীকে বললো: তুমি কী বলো? নবীজি সা.-এর আওলাদকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেবো? অর্ধেক দিয়ে দিই?
-কী বলছেন আপনি! আপনার সামনে আবু বকর ও উমার রা.-উভয়ের আদর্শই আছে। আপনি প্রথম খলীফার আদর্শকে কেন গ্রহণ করছেন না? উমার রা. নিজেই তো প্রথম হতে না পেরে আফসোস করেছেন? 
-ঠিক আছে, যা হওয়ার হবে, হাওলাত করে আনা পুরো টাকাই দিয়ে দিচ্ছি। হাদিয়া হিশেবে!
.
(নয়) দ্বীনের জন্যে কষ্ট সহ্য করা। নিজের বিশ্বাসে অটল অবিচল থাকা। বিচ্যুত না হওয়া। পরিবার বা স্বামীর পাপ দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া। 
= হাওয়া বিনতে আসাদ রা.। আনসারী মহিলা। তার স্বামী ছিল কায়েস বিন খাতীম। স্বামীর অগোচরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মুসআব বিন উমায়ের রা.-এর দাওয়াতে। এটা নিয়ে স্বামী হাওয়াকে কষ্ট দিতো। মহীয়সী হাওয়া স্বামীর নির্যাতনকে পরোয়া করেন নি। মুখ বুজে সয়েছেন। ইসলাম ত্যাগ করেন নি। স্বামী দ্বারা প্রভাবিতও হন নি। অথচ মদীনাতে তখনো ইসলাম অতটা প্রচারিত হয়নি। 
.
(দশ) বিপদে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হবেন। দ্বীনের জন্যে স্বামী-সন্তানকে উৎসর্গ করতে পিছপা হবেন না। 
= বিশিষ্ট তাবেয়ী সিলাহ বিন আশয়াম রহ.। যুদ্ধে গিয়েছেন। সাথে আছে তার আদরের পুত্র। পুত্রকে বললেন: বৎস আগে বাড়ো। তুমি শহীদ হলে আমি আজর পাবো। পুত্র শহীদ হয়ে গেলো। এবার বাবাও আগে বাড়লেন। তিনিও শহীদ হয়ে গেলেন। বাড়িতে খবর এলো স্ত্রী মু‘আযার কাছে। খবর শুনে প্রতিবেশিনী মহিলারাও এলেন। তাদের দেখে মু‘আযাহ বললেন:
-তোমরা যদি আমাকে সম্ভাষণ জানাতে এসে থাকো, তাহলে স্বাগতম! আর যদি অন্য কিছুর জন্যে এসে থাকো, তাহলে ফিরে যাও!
.
(এগার) সন্তানদের প্রতি যত্নবান হবেন। তাদের ঈমান-আমনের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। সন্তানকে দ্বীন শিক্ষাদানের ব্যাপারে ব্রতী হবেন। শত বাধাতেও টলবেন না। আত্মীয় স্বজনের চোখ রাঙানিকে ভয় পাবেন না। 
= উম্মে সুলাইম রা.। ঈমান এনেছেন। স্বামী আবু আনাস বাইরে ছিলেন। ঘরে ফিরে দেখলেন পরিস্থিতি ভিন্ন! রেগে গিয়ে স্ত্রীকে বললেন
-ধর্মত্যাগী হয়ে গেছো?
-উঁহু! আমি মুহাম্মাদের প্রতি ঈমান এনেছি!
উম্মে সুলাইম ছেলেকে কালিমা পড়াতে শুরু করলেন। এটা দেখে ছেলের বাবা বললো:
-তুমি ছেলেকে নষ্ট করছো! 
-না, আমি নষ্ট করছি না!
.
(বারো) স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে। তার সাথে আদব-লেহায বজায় রেখে চলে। 
= সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ. এর স্ত্রী বলেছেন:
-আমরা স্বামীগনের সাথে এমন ভঙ্গিতে কথা বলতাম যেমনটা তোমরা রাজা-বাদশার সাথে কথা বলো!
.
(তেরো) স্বামীর খেদমতের প্রতি তৎপর থাকবে। স্বামীর বাড়ির কাজও সোৎসাহে করবে।
 = আসমা বিনতে আবি বকর রা.। বিয়ে হয়েছে হযরত যোবায়ের রা.-এর সাথে। তিনি বলেছেন:
-আমাকে বিয়ে করেছেন যোবায়ের। তার কোনও ধন-সম্পদ ছিল না। আমি নিজ হাতে তার ঘোড়ার ঘাস কাটতাম। পানি খাওয়াতাম। নিজ হাতে রুটি বানাতাম। যোবায়েরের জমি থেকে খেজুর আঁটি কুড়িয়ে আনতাম। মাথায় করে। একমাইল দূর থেকে। 
.
(চৌদ্দ) স্বামীর আবেগ-অনুভূতির সাথে একাত্ম হবে। স্বামী সুখে হাসবে। স্বামীর দুঃখে কাঁদবে। তার ব্যথায় ব্যথিত হবে। 
= আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. একদিন ঘরে বসে কাঁদতে শুরু করলেন। তার দেখাদেখি স্ত্রীও কাঁদতে শুরু করলেন। আবদুল্লাহ স্ত্রীকে প্রশ্ন করলেন:
-তুমি কেন কাঁদছ?
-আপনাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না পেয়ে গেছে!
-আমি কাঁদছি, জাহান্নামের ভয়ে!
.
(পনের) স্বামীর মৃত্যুর পরও কেউ কেউ বিশ্বস্ত থাকে। স্বামীর ভালোবাসা ভুলতে পারে না। স্বামী মারা গেলে স্ত্রী আবার বিয়ে করলে সেটা দোষণীয় কিছু নয়। তবে স্বামীর প্রতি ভালোবাসাবশত বাকি দিনগুলো একাকীও কাটিয়ে দেয় অনেকে!
= উম্মে দারদা রা.তার স্বামী আবু দারদাকে বললেন:
-আপনি আমার বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা আপনার কাছে আমাকে বিয়ে দিয়েছেন। আর আমি এখন আপনার কাছে আমার নিজের বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি! আখেরাতের জন্যে!
-ঠিক আছে, তুমি আমার মৃত্যুর পর আর বিয়ে বসো না!
আবু দারদা রা. মারা গেলেন। তখন মুয়াবিয়া রা. বিধবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। উম্মে দারদা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন। 
.
(ষোল) শরীয়তের ইলম শেখার প্রতি নিবিষ্ট হবেন। ঘরের কাজের পাশাপাশি। সুযোগ থাকলে ব্যুৎপত্তি অর্জন করবেন। 
= শায়খ আলাউদ্দীন সামারকন্দী রহ.। তার মেয়ে ফাতিমা। বাবা তার মেয়েকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছেন। সাধ্যানুযায়ী নিজের সবটুকু ইলম মেয়েকে শেখানোর চেষ্টা করেছেন। মেয়েও মা-শা-আল্লাহ বাবার মেহনতকে কাজে লাগাতে কসুর করেনি। বাবার লিখিত বিখ্যাত কিতাব ‘তুহফাতুল ফুকাহা’ আগাগোড়া মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এমন বিদূষী কন্যার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। রাজপুত্ররাও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ভীড় জমাতে শুরু করলো। ইলমসাধক বাবা এমন প্রস্তাবে রাজি হলেন না। শায়খের একজন ছাত্র, কাসানী! তিনি এক অভিনব কাজ করলেন। শায়খের কিতাব ‘তুহফাতুল ফুকাহা’-এর একটা বিশাল ব্যখ্যাগ্রন্থ রচনা করে নিয়ে এলন। ছাত্রের এমন কীর্তিতে শিক্ষক রীতিমতো মুগ্ধ। মেয়ের উপযুক্ত পাত্র পেয়ে গেলেন। এমন মেয়ের মোহরানা কী হবে? এক অভিনব মোহরানা ধার্য্য করা হলো,উভয়পক্ষের সম্মতিতে;
= ছাত্রের লিখিত কিতাব ‘বাদায়ে সানায়ে’-ই হলো বিয়ের মোহরানা। 
সংসার শুরু হলো। সংসার তো নয় যেন ‘মাদরাসা’। স্বামী পড়ালেখায় একটু পিঠটান দিলেই স্ত্রীর খরবদারি! স্বামীর ভুল হবার জো নেই, স্ত্রী হেঁশেল থেকেই বলে পড়া বলে দিচ্ছেন! মুখস্থ। আগে বাবার কাছে বিভিন্ন মানুষ ফতোয়ার জন্যে আসতো! লিখিত ফতোয়ার স্বাক্ষর থাকতো দু’জনের: বাবা ও মেয়ের। বিয়ের পর অবস্থার হেরফের হলো না। শুধু ফতোয়ার কাগজে জামাইয়ের স্বাক্ষর বৃদ্ধি পেলো। 
.
(সতের) হালাল তরীকার উপর চলবে। হারাম বর্জন করবে। অত্যন্ত সচেতনভাবে হালাল-হারামের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। 
= মায়মুনাহ বিনতে আকরা রহ.। ইবাদতগুজার ও মুত্তাকী মহিলা ছিলেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর কাছ থেকে হাদীস শিখেছেন। সুতা কেটে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বেশ কিছু সুতা বোনা হয়েছে। বিক্রি করার জন্যে সুতা ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠালেন। তার হাতে সুতা তুলে দিয়ে বললেন:
-আপনি সুতাগুলো বিক্রির সময় ক্রেতাকে বলে দিবেন, আমি এগুলো বোনার সময়, রোজা রেখেছিলাম। তাই কাজে একটু শিথিলতা এসেছিল। বুনন অতটা মযবুত হয়নি হয়তো!
-আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বলে দেবো!
ব্যবসায়ী চলে গেলো। একটু পর কী মনে করে মায়মুনা আবার ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠালেন:
-আমার সুতাগুলো ফেরত দিয়ে দিন। আমি বিক্রি করবো না!
-কেন কী হলো?
-আমার ভয় হচ্ছে, আপনি ক্রেতাদের কাছে সুতার দুর্বলতাটা খুলে বলবেন না। তাহলে ক্রেতা ঠকানোর কারনে আমার গুনাহ হবে! 
.
(আঠার) আল্লাহর দিকে সাধ্যানুযায়ী মানুষকে দাওয়াত দিবে। নিজের সীমার মধ্যে থাকা মানুষকে। আত্মীয়কে। 
= উম্মে শুরাইক রা.। ইসলাম তার কাছে ভালো লেগে গেলো। ঈমান আনতে দেরী করলেন না। এবার শুরু করলেন দাওয়াতের কাজ। তিনি গোপনে কুরাইশ মহিলাদের কাছে যেতেন। তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতেন। ইসলাম গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। ব্যাপারটা বেশিদিন গোপন থাকলো না। ফাঁস হয়ে গেলো। মক্কার পুরুষরা ক্ষেপে গেলো। তারা উম্মে শুরাইককে হুমকি দিয়ে বলল:
-তোমার কওম যদি না থাকতো, তাহলে আমরা এর একটা বিহিত করেই ছাড়তাম!
.
একজন নেককার মহিলার গুণের কোনও শেষ নেই। একজনের মধ্যে সবগুণই বিদ্যমান থাকবে এমন নয়। কমবেশ হতে পারে। কিন্তু আগের যুগের মহীয়সীগনের আদর্শ সামনে থাকলে, নিজেকে আরো ভাল করার প্রেরণা পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

নারীর প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদা ।

রহীমা শিরীন

সৃষ্টিগতভাবে পুরুষ নারী কেউই কারো ওপর কোনরূপ মৌলিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারে না। কেউই অপর কাউকে জন্মগত কারণে হীন, নীচ ও ক্ষুদ্র বলে ঘৃণা করতে পারে না। মানব দেহের সংগঠনে পুরুষের সাথে নারীর যথেষ্ট অংশও শামিল রয়েছে। বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নারীর অংশই বেশি থাকে প্রত্যেকটি মানবশিশুর দেহ সৃষ্টি।ে নারী ও পুরুষ উভয় মিলে মানবতার এক অবিভাজ্য সত্তা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন: “হে মানবম-লী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জুড়ি। আর এ উভয় থেকেই অসংখ্য পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন।” ৪নং সূরাহ্ আন নিসা-১।
অপর আয়াতে মহান আল্লাহ্ আরও বলেন: “হে মানব জাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।” ৪৯ নং সূরাহ্ আল হুজুরাত, ১৩।
নারী ও পুরুষ প্রত্যেকেই যে প্রত্যেকের জন্য একান্ত অপরিহার্য, কেউ কাউকে ছাড়া নয়, হতে পারে না, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় নিম্নোক্ত আয়াতে।
মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন: “নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্য থেকে কোন ‘আমলকারীর ‘আমলকে নষ্ট করে দেই না, সে পুরুষই হোক আর নারীই হোক। তোমরা পরস্পর পরস্পর থেকে।” ৩ নং সূরাহ্ আলে ‘ইমরান, ১৯৫।
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ একই জীবন সত্তা থেকে সৃষ্ট, একই বংশ থেকে উদ্ভূত। দুনিয়ার এই বিপুল সংখ্যক পুরুষ-নারীও সেই একই সত্তা থেকে উদ্ভূত। মৌলিকতার দিক থেকে মানুষ হিসেবে এ দু’য়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। স্বামী-স্ত্রী একে-অপরের পোশাক। যেমন- মহান আল্লাহর বাণী: “তারা তোমাদের ভূষণ। আর তোমরা তাদের ভূষণ। ২ নং সূরাহ আল-বাক্বারাহ্, ১৮৭।
মূলত: ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ যেন একটি বৃক্ষের দু’টো শাখা। মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন: নারীরা পুরুষদের অংশ। সুনান আবূ দাউদ হা: ২৩৫।
মানবজাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ইসলাম ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন ধর্ম বা সমাজে নারীর উপযুক্ত মর্যাদা স্বীকৃত হয়নি। সর্বত্রই সে পুরুষের দাসী ও বিলাসিতার সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমস্ত প্রাচীন ধর্ম ও আইনে নারী পুরোহিত, স্বামী ও অবিভাবকের চিরন্তন অধীন বলে চিত্রিত হয়েছে। তাদের সকলের মতেই পুরুষকে সন্তুষ্ট করা ও তার তাঁবেদারী করার জন্যই রমণীর সৃষ্টি। ‘রমণ’ করা যায় বলেই নারীর নাম রমণী। সুতরাং রমণী মানেই পরাধীনতা ও পরনির্ভরতার করুণ ইতিহাস। নারী জাতিকে এহেন শোচীয় ও অমর্যাদাকর গহীন গহ্বর থেকে তুলে এনেছে ইসলাম। ইসলামই নারীকে যুগ যুগ সঞ্চিত অপমান-লাঞ্চনা ও হীনতা-নীচতার পুঞ্জীভূত জঞ্জালস্তূপ থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দান করেছে এবং তাকে যথোপযুক্ত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুছে দিয়েছে তার ললাটস্থ সহস্র শতাব্দীকালের কলঙ্করেখা।
ইসলাম নারীকে তার সঠিক মূল্য দান করেছে। নারীর স্বাভাবিক সুকুমারবৃত্তি ও সহজাত গুণাবলীর বিকাশ সাধনই ইসলামের লক্ষ্য। এজন্য ইসলাম নারীকে ঘরের বাইরে, মাঠে-ময়দানে, হাটে-বাজারে, অফিসে, দোকানে, কলকারখানায়, পরিষদে, সম্মেলনে, মঞ্চে, নৃত্যশালায়, অভিনয়ে টেনে নেয়ার পক্ষপাতী নয়। ইসলাম নারীকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলাম নারীর স্বাভাবিক যোগ্যতার সঠিক মূল্য দিয়েছে। দিয়েছে তা ব্যবহার করে তার উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ব্যবস্থা।
মৌলিক অধিকারে সমতা বিধান। ইসলাম নারীকে মৌলিক অধিকার ভোগ ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পুরুষের সমান মর্যাদা দিয়েছে। শুধু নির্দেশ দিয়েই নয়, বরং আইন, সমাজ ও রাষ্ট্রে তা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন : “হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে যা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে আহার করো।” ২ নং সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্, ৩৫।
মহান আল্লাহ্ আরও ঘোষণা করেন:
“মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) যখন কোন বিষয়ে নির্দেশ দেন তখন কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন স্ত্রীলোকের জন্য সে ব্যাপারে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকবে না।” ৩৩ নং সূরাহ্ আল-আহযাব, ৩৬।
অপর আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা আরও ইরশাদ করেন, “পুরুষ বা নারী যে লোকই নেক ‘আমল করবে এবং সে ঈমানদার হলে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।” ৪ নং সূরাহ আন-নিসা, ১২৪।
বস্তুত: ইসলামী শরী’আত পুরুষ-নারী উভয়কেই সম্মান সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারে সমতা দিয়েছে। ইসলাম নারীকে ব্যক্তিস্বাধীনতা দান করেছেন। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীর ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর সামগ্রিক বিষয়াবলীতে তাকে মতামত প্রকাশের অধিকার দান করেছে। তাকে সাক্ষ্যদানের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা: ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়েরই রাজনৈতিক অধিকার ও মর্যাদা স্বীকৃত। যেমন- নারীর বাক-স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সমালোচনার অধিকার রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা পুরুষের ন্যায়ই ভোটাধিকার লাভ করবে। ইসলাম নারীকে নাগরিক অধিকার দান করে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। ইসলামই নারীকে সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক মর্যাদা ও অধিকার দান করেছে।
যেমন- কুর’আনে বর্ণিত হয়েছে- “নারীদের রয়েছে নির্ধারিত অংশ।” ৪নং সূরাহ্ আন্্ নিসা, ৭।
কুর’আনের এ ঘোষণার আলোকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের নিম্নলিখিত অধিকারগুলোর স্বীকৃতি রয়েছে। 
১. উত্তরাধিকার : নারী তাঁর পিতা, মাতা, নিকটাত্মীয় ও স্বামীর পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পেয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে ঘোষণা করেন : “পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে। তা অল্পই হোক অথবা বেশিই হোক। এক নির্ধারিত অংশ।” ৪নং সূরাহ্ আন্ নিসা, ৭।
২. মোহরের অধিকার: নারী তাঁর স্বামীর নিকট থেকে নির্ধারিত ও সম্মানসূচক অতিরিক্ত আর্থিক নিশ্চয়তা স্বরূপ মোহনার অধিকার পাবেন। এই মোহরানা স্বামী অবশ্যই স্ত্রীকে প্রদান করবেন। এ মর্মে মহান আল্লাহ্র নির্দেশ হচ্ছে: “আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিয়ে দাও। আর যদি তারা সন্তুষ্ট চিত্তে মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে ভোগ করো।” ৪নং সূরাহ্ আন্ নিসা, ৪।
৩. ভরণ-পোষণ : নারী বিয়ের পূর্বে অভিভাবক ও বিয়ের পরে স্বামীর নিকট থেকে নিশ্চিতভাবেই ভরণ-পোষণের অধিকার লাভ করে থাকে। মহানবী (সাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন :
‘তুমি যখন খাবে স্ত্রীকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে স্ত্রীকেও পরাবে।’ [সুনান আবূ দাউদ হা: ২১৪২]
৪. ব্যক্তিগত সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার: নারীর ব্যক্তিগত সম্পদ যথা ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়োগকৃত অর্থ অথবা নিজ পরিশ্রমের অর্থ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যাবতীয় অর্থ তারই একান্ত মালিকানাধীন। স্ত্রী যদি তার ধন-সম্পদ ব্যয় করতে চায় কেউ তাকে বাধা দিতে পারবে না। এ মর্মে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে :
‘পুরুষগণ যা উপার্জন করে তা তাদের প্রাপ্য। আর নারীরা যা উপার্জন করে তা তাদের প্রাপ্য।’ [৪নং সূরা আন নিসা, ৩২]
মহান আল্লাহ্ আরও ঘোষণা করেন :
‘তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যে স্থানে বাস করো, তাদেরকে সে স্থানে বাস করতে দিয়ো। আর তাদেরকে কষ্ট দিয়ে সঙ্কটাপন্ন করো না।’ [৬৫ নং সূরা আত্্ ত্বালাক্ব, ৬]
অপর আয়াতে মহান আল্লাহ্ আরও বলেন:
‘যে লোককে সচ্ছলতা দান করা হয়েছে, তার কর্তব্য সে হিসেবেই তার স্ত্রী-পরিঝনের জন্য ব্যয় করা। আর যার আয় অল্প তার সেভাবেই মহান আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে খরচ করা কর্তব্য।’ [৬৫ নং সূরা আত্ ত্বালাক, ৭]
৫. ধর্মীয় মর্যাদা: ইসলাম পুরুষের ন্যায় নারীকেও সমানভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক উন্নতি-উৎকর্ষ সাধনের অধিকার দিয়েছে। ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করা যেমন পুরুষের কর্তব্য, তেমনি নারীরও। এ কর্তব্য পালন ও ফল লাভের অধিকারও উভয়ের সম্পূর্ণ সমান। ইসলামে এ ব্যাপারে নারী-পুরুষের কোনরূপ পার্থক্য করা হয়নি। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন :
‘পুরুষ বা নারী যে লোকই নেক ‘আমল করবে এবং সে ঈমানদার হলে, তারা জান্নাতে দাখিল হবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণ যুল্ম করা হবে না।’ [৪নং সূরা আন্ নিসা, ১২৪]
আল্লাহ্ তা’আলা আরও বলেন: ‘নিশ্চয় আমি নষ্ট করে দেই না তোমাদের মধ্য থেকে কোন ‘আমলকারীর ‘আমলকে, সে পুরুষ হোক, আর নারী হোক। তোমরা একে-অপরের অংশ।’ ৩নং সূরা আল ইমরান, ১৯৫]
৬. স্বামী নির্বাচন: স্বামী নির্বাচনের অধিকার ইসলাম নারীকে দিয়েছে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়া মহানবী (সাঃ) নিরুৎসাহিত করেছেন। ইসলামী শারী’আতে উপযুক্ত বয়সের নারী-পুরুষকে অন্যান্য কাজের ন্যায় বিয়ের ব্যাপারেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ে তাদের স্পষ্ট মত ছাড়া সম্পন্ন হতেই পারে না। এ ব্যাপারেও নাবী কারীম (সাঃ) দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন:
পূর্বে বিবাহিত এবং জুড়িহীন নারী বিয়ে হতে পারে না, যতক্ষণ না তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যাবে এবং অবিবাহিত কুমারী মেয়ের বিয়ে হতে পারে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে মহান আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ)! তার অনুমতি কিভাবে পাওয়া যাবে? তখন তিনি বললেন, জিজ্ঞেস করার পর তার চুপ থাকাই তার অনুমতি।’ [সহীহুল বুখারী হা: ৬৯৭০]
উপর্যুক্ত হাদীসের ওপর ভিত্তি করে ইসলামিক স্কলারদের অভিমত হচ্ছে : অভিভাবক পূর্ব বিবাহিত ও অবিবাহিতা মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারবে না। অতএব, পূর্বে বিবাহিতা নারীর কাছ থেকে বিয়ের জন্য রীতিমতো আদেশ পেতে হবে এবং অবিবাহিতা বালেগ মেয়ের কাছ থেকে যথারীতি অনুমতি নিতে হবে।’ [সহীহুল বুখারীর ভাষ্য গ্রন্থ ২য় খণ্ড ১২৮ পৃষ্ঠা]
৭. বিবাহ বিচ্ছেদ: একজন অত্যাচারী, অকর্মণ্য স্বামী থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার ইসলাম নারীকে দিয়েছে। ইসলাম অন্যান্য সমাজব্যবস্থার মতো কারো অধীনে আজীবন নিগৃহীত হতে বলেনি। ইসলাম নারীকে তার অধিকার রক্ষার ক্ষমতা দান করেছে।
৮. সদাচরণ পাওয়ার অধিকার: ইসলাম নারীকে স্বামীর পক্ষ থেকে সদাচরণ পাওয়ার আইনগত অধিকার প্রদান করেছে। যেমন: কুরআনে বলা হয়েছে : ‘হে ঈমানদারগণ! জোরপূর্বক নারীদের ওয়ারিশ হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আর তাদেরকে দেয়া মাল থেকে কিছু আদায় করে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে কঠোর আচরণ করবে না, যদি না তারা সুস্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাদের সাথে দয়া ও সততার সাথে জীবন যাপন করো, যদি তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হতে পারে যে, তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, বস্তুত: তারই মধ্যে মহান আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।’ [৪ নং সূরা আন্ নিসা, ১৯]
৯. পুনঃবিবাহ: কখনো বিবাহ বা তালাকপ্রাপ্তা হলে রমণীর পুনরায় নিজের ইচ্ছামত বিবাহ করার আইনগত মর্যাদা ইসলামে স্বীকৃত রয়েছে।
১০. জীবনের নিরাপত্তা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা : ইসলাম নারীকে তার জীবন, সম্পদ, ইজ্জত-আবরু, মান-সম্মান ইত্যাদি নিয়ে বেঁচে থাকার পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে। কেউ নারীকে উত্ত্যক্ত করতে পারবে না। যারা নারীদের মান-সম্মান বিনষ্ট করতে উদ্যত হয় তারা আইনের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত হবে। ধর্মীয় ও বৈষয়িক বিষয়ে শিক্ষা লাভ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা করার অধিকার পুরুষের মতো নারীরও রয়েছে। মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করেছেন: জ্ঞানান্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয।’ [সহীহুল বুখারী হা: ২৮৮৩]
এছাড়া ইসলাম নারীকে সামরিক জ্ঞানার্জন করতে উৎসাহিত করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে নারীরও ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে মহানবী (সাঃ) নারীদেরকে সেবার কাজে নিয়োজিত করার জন্য নিয়ে যেতেন। রুবাই বিনতু মু’আব্বিয (রাযি.) বলেন, ‘আমরা মহিলারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে যুদ্ধে গমন করেছি। আমরা সেখানে লোকদের পানি পান করানো, খিদমত ও সেবা-শুশ্রুষা এবং নিহত ও আহতদের মদীনায় নিয়ে আসার কাজ করতাম।’ [বায়হাকী হা: ৩২৫]
উপসংহারে বলা যায় যে, ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষের মতই একই জীবনসত্বা হতে সৃষ্ট, একই বংশ থেকে উদ্ভূত অর্থাৎ- পৃথিবীর সকল নারী-পুরুষ একই আদমের সন্তান। মৌলিকতার দিক দিয়ে ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষ মর্যাদার পাত্র। 
আর নারীরা অবহেলিত এমনটি নয়। ক্ষেত্র বিশেষে নারীরা পুরুষ থেকে বেশি মর্যাদাবান ও সম্মানিত। তা সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম ও সমাজে নারীদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। ইসলাম নারীদেরকে মর্যাদার রাজ সিংহাসনে বসিয়েছে। আজকের বিশ্ব সমাজ ইসলাম প্রদত্ত মর্যাদা ও অধিকারকে উপেক্ষা করে নারী মুক্তির জন্য শ্লোগান তুলছে। অথচ তারা নিগৃহীত নির্যাতি হচ্ছে সর্বত্র। সুতরাং নৈতিক, আত্মিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক তথা জীবনের সামগ্রিক ক্ষেত্রে ইসলাম প্রদত্ত নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার মধ্যেই তাকে খুঁজতে হবে সত্যিকারের মুক্তির আবেহায়াত।
মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে নারীর প্রতি প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করার তাওফিক দান করুন। আমীন!!

শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বর্তমান সমাজে অহরহ পরকিয়া , ডিভোর্স , দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলাম না থাকা


বর্তমান সমাজে অহরহ পরকিয়া , ডিভোর্স , দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলাম না থাকা । আর যে পরিবারে ইসলাম থাকবে না সে পরিবারে থাকবেনা আল্লাহ ভীতি এবং নিজ কর্মের জবাবদিহিতা । এতে করে শয়তানের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাচ্ছে তাই করে যাওয়া যায় । যার দরুন ঘরে বৌ থাকা সত্তেও পর-নারীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ কিছু অনৈসলামিক পুরুষের জন্য মামুলি ব্যাপার।
এভাবে একটা পর্যায়ে ঐ পুরুষরা নিজ বৌয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং পরকিয়ায় জড়িয়ে যায় , এরপর পারিবারিক অশান্তি, এমনকি ডিভোর্সের মত ঘটনাও ঘটে । আর এটা ঘটে ঐ পুরুষ গুলোর মধ্যে আল্লাহ ভীতি না থাকার কারণে । আল্লাহ ভীতি তো সেটাই যা স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আল্লাহর জন্য নিজেদের চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করে এবং আল্লাহর জন্য একে অপরকে গভীর ভাবে ভালবাসে । যে ভালবাসে বিয়ের দিন যেমন থাকে, বিয়ের ৩০ বছর পরেও একই রকম থাকে । আর এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রাহমাত । তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের চরিত্র হেফাজত করেছেন বলে আল্লাহ তাদের দু'জনের মধ্যে এমন গভীর ভালবাসা স্থাপন করে দিয়েছেন । ইসলামের বিপরীত স্রোতের মানুষগুলোর জন্য যা শুধু কল্পনা !
আমাদের সমাজে তথাকথিত মা-বাবারা তাদের সন্তানদের বিয়ে দেয়ার সময় তাকওয়া দেখে বিয়ে দিতে চাই না । তারা দেখে ছেলে কত টাকার মালিক , কত উচ্চে তার বংশ , কত গুলো ডিগ্রী আছে ছেলের বাস্কেটে । অথচ , একবারের জন্য ভাবতে চাই না , যে ছেলের কাছে সারা জীবনের জন্য তার মেয়েকে দিচ্ছে , সে ছেলের চরিত্র ঠিক কিনা বা ছেলেটির পরিচালিত জীবনে আল্লাহ ভীরুতা আছে কিনা ! একইভাবে দেখা যায় ছেলেদের ক্ষেত্রে , সুন্দরী বৌয়ের খুঁজে তারা তাকওয়াবান স্ত্রীর কথা ভুলে যায় । একসময় দেখা যায় , সেই সুন্দরী বৌ তাকে ফেলে চলে যায় বা পরকিয়ায় পতিত হয় বা তার নিজের রুপের অহংকারে সংসারে সবসময় অশান্তি লেগেই থাকে ।
অথচ , রাসুল(সাঃ) বলেছেন , দুনিয়ার যত সম্পদ আছে , তার মধ্যে উত্তম সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী ।
আমাদের মা-বাবাদের উচিত তাদের কন্যাদের সু-পাত্রস্থ করতে চাইলে দ্বীনদার, পরহেজগার , তাকওয়াবান যুবকদের সাথে বিয়ে দেয়া । এতে করে কন্যাও সুখী হোল এবং সমাজেও পরকিয়া , ডিভোর্সের মত ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে । এই ব্যাপারে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা হল :-
"যার দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, এমন কেউ প্রস্তাব দিলে তার সাথে তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর । তা না করলে পৃথিবীতে ফিৎনা দেখা দেবে ও ব্যাপক ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে ।"
[তিরমিযী, হাদীস : ১০৮৪]
আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন । আমীন ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৬

হিজাব...........................


(ইমরান হুসাইন আদিব)

পর্দা বা হিজাব নারীর ভূষণ।পর্দা নারীকে মানুষের কু দৃষ্টি থেকে হেফাজত করে এবং পর্দার দরুন মেয়েরা ইভটিজিং এবং ধর্ষণ নামক মহা প্রলয় থেকে রক্ষা পায়।পর্দা বা হিজাবের মাঝেই মেয়েদের নিরাপত্তা অনেকটাই পরিলক্ষিত হয়।যা আমাদের সমাজের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি।

,
কিন্তু আমাদের সমাজে কতিপয় লুচি আজ পর্দা বিমুখিতায় অনড় ভূমিকা পালন করছে।কলেজ ভার্সিটি থেকে হিজাব পরিহিত মেয়েদের লাঞ্চিত করে তাড়িয়ে দিয়ে ১৪ শত বছরের কৃষ্টি কালচার নিধনে অনেকটাই নাস্তিকতার ভূমিকা পালন করছে।ওরা মেয়েদের রাস্তায় পর্দাবিহীন দেখতে ভাল বাসে।জিন্স আর ফতুয়া পরলে ওদের জন্য আরো ভাল।এটাই নাকি ফ্যাশন.........?
,
পর্দাবিহীন থাকা এটা পশ্চিমা সংস্কৃতি।আর পশ্চিমা সংস্কৃতি কখনো আমাদের অনুকরণের বস্ত্ত হতে তথা ফ্যাশন পারে না। ঐ সভ্যতায় কি নারীর বিন্দুমাত্র মর্যাদা আছে? সেখানে তো নারী নিছক ভোগের বস্ত্ত। বিভিন্ন উপায়ে নারীকে প্রলুব্ধ করা হয়েছে পুরুষের আনন্দের চিতায় আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য। এটাই নাকি আধুনিক! নারীর পরম মোক্ষলাভ!
,
তাই সুশীল সমাজ বাদী তসলিমার চেলাদের থিউরি হচ্ছে আমরা শুটকি ঝুলিয়ে রাখবো,কিন্তু বিড়াল কে খেতে দিবো না।অর্থাৎ মেয়েরা পর্দা করতে পারবে না আবার রাস্তায় কিছু হলে পাগলি কুকুরের ন্যয় হাক ডাক শুরু করে দেয়।দু দিন প্রতিবাদের ঝড় উঠে তৃতীয়দিনের মাথায় মামলা খালাস। কোন বিচার নেই বললেই চলে।এই পর্যন্ত একটি ধর্ষণের বিচার হতে দেখিনি।
,
হিজাব বা পর্দা নারীকে সম্মানিত করেছে ।হিজাব এমনই একটি যৌক্তিক বিধান যা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য যথেষ্ট।কেননা পাশ্চাত্যের অসংখ্য অমুসলিম নারী ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে শুধু হিজাব আর পর্দার সুফল লক্ষ্য করে।
,
কেননা হিজাব গ্রহনকারী নারীদের ইভ-টিজিং এর শিকার হতে হয়না। বখাটে-মাস্তানরা পর্যন্ত তাদের সম্মান করে। অনেক অধার্মিককেও দেখা যায় যে, সে চায় তার মা, বোন, স্ত্রী হিজাব মেনে চলুক। কারন ধর্মীয় দিক নাহোক যৌক্তিক দিককে তারাও অস্বীকার করতে পারে না।


শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১৬

স্বামী | স্ত্রী | শাশুড়ী



-হুজুর! “বউ হারালে শ টা বউ পাওয়া যাবে, কিন্তু মা হারালে আর পাওয়া যাবে না”-কথাটি কতটুকু সঠিক?

-বৎস! কথাটি বাহ্যিকভাবে খুবই সঠিক মনে হলেও এরকম বলা অত্যন্ত খারাপ এবং শয়তানী মস্তিষ্কপ্রসূত। তোমার স্ত্রী কিন্তু তোমার সন্তানের মা। সুতরাং, প্রত্যেক স্ত্রীর ভেতরেই একজন মা লুকিয়ে থাকেন। আরেকটা কথা, মায়ের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অনেক সময় তোমার আরো ভাই-বোন আছেন, কিন্তু স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা পূরণে তুমি একজনই।

০২
-কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মা নাকি বউ?
-দুজনের মধ্যে compare করাটাও শয়তানের কাজ। মা হচ্ছেন তোমার কলিজা আর স্ত্রী হচ্ছেন তোমার হার্ট। এবার বলো- “কলিজা” আর “হৃদয়ের” মধ্যে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ? শুনো, দুজনের কাউকেই অখুশি রেখে পরকালে মুক্তি পাবে না।
'
০৩
-হুজুর! তাহলে আমাদের পরষ্পরে কী রকম আচরণ হওয়া উচিত?
-তুমি স্ত্রীর সাথে এমন আচরণ করবে, যে আচরণ তোমার বোনের সাথে তার স্বামীর থেকে আশা করো। জননী এমন আচরণ করবেন, তোমার বোনের সাথে তার শাশুড়ি থেকে যে রকম আচরণ আশা করেন। আর তোমার স্ত্রীর উচিত শাশুড়ির সাথে এমন আচরণ করা, যে আচরণ তিনি আপন ছেলের বউ থেকে তিনি আশা করেন। স্বামীর পরিবারের লোকের সাথে এমন আচরণ করা উচিত, যা তার ভাইয়ের বউয়ের কাছ থেকে আশা করেন।

☆শুনো, বৎস! স্রষ্টার দেয়া নির্দিষ্ট কক্ষপথে চললে সৃষ্টিসমূহ কখনোই মুখোমুখি হবে না। ইনশাআল্লাহ।
:
০৪
স্বামীদের বলছি,
নিজ স্ত্রীকে রাগ দিয়ে নয় সুন্দর আচরণ আর ভালবাসা দিয়ে মন জয় করুন।
নিজের চরিত্র আর নবীজির সুন্নাত দিয়ে তাকে অাকৃস্ট করুন।

ভুল না ধরে মন, মগজ ও সুন্দর পরিস্থিতি বুঝে আপনি যেভাবে খুশি হোন সেভাবে বুঝানোর চেষ্টা করুন।

নিজের মা এবং স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা বাড়াতে সাহায্য করুন, অগ্রনি ভূমিকা পালন করুন।

যখন বাজারে যাবেন তখন বাড়ি আসার আগে কিছু হাদিয়া স্ত্রীর জন্য আনুন। স্ত্রী যা পচ্ছন্দ করে সেটা আগে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আল্লাহর হুকুম পালনে স্ত্রীকে উৎসাহ প্রদান করুন, পরকালের ভয়, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা স্পষ্টরুপে উপস্থাপন করুন।

মনে রাখবেন!
লেবু যতো চাপ দিবেন ততোই এর স্বাদ নস্ট হবে, স্ত্রীর ভুল যতো ধরবেন, যতো রাগ করবেন ততোই সাংসারিক কলহ বাড়বে, বরং বেশি বেশি স্ত্রীকে ছাড় দিন। রাগ দিয়ে নয় স্ত্রীকে ভালবাসা দিয়ে জয় করুন।
:
০৫
আর একটি কথা

দ্বীনদার সঙ্গী মানেই শুধু একসাথে দ্বীন মানা, নফল পড়া, তাহাজ্জুদে ডেকে দেয়া...
যারা শুধুই এই ধারনা নিয়ে আছেন, তারা এখনো কল্পনার আকাশ থেকে নিচে নামতে পারেননি।
নিউলি ম্যারিড ফেবু সেলিব্রিটির 'খুন'শুটি মার্কা পোস্ট দেখে পুরো জীবনের বাস্তবকে অনুরূপ মনে করে বসা বোকামি।
নতুন দম্পতির পোস্ট আবেগের জোয়ারে ভাসবে এটাই নিয়ম। কিন্তু ইহাই সারাজীবনের বাস্তবতা নয়।

শুধুই স্বপ্নের পশরা নিয়ে বাস্তবে নামলে হোঁচট খাবেন। 
..........
একটা সংসার। দু'জনের। দু'টি 'মানুষ', আবার বলছি, "মানুষ"। 
তাদেরও মানবীয় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে; তারা পাশাপাশি থাকলে বছরের পর বছর বাংলা সিনেমার মত জীবন চলবে না।

ধরুন; হয়ত, প্রচন্ড ব্যাস্ততায় আপনার একবেলা জামাত ছুটে গেছে ;
আ
পনি নিজেই প্রচন্ড মনঃক্ষুণ্ণ ; সে হয়ত এটা নিয়ে অনুযোগ-অভিযোগ করেই বসল। তখন তার উপর একটু হলেও হয়ত আপনার বিরক্তি আসবে!
"বেশি জ্ঞান দাও ; হু? " 
.......
বোন, হয়ত আপনার কোন ঝামেলার কারনে এক ওয়াক্ত নামাজে দেরি হয়েছে; কিংবা ফরজ বিধানে ত্রুটি হয়েছে, এই মুহুর্তে আপনি আসলেই খুব অনুতপ্ত থাকবেন। এমন সময় ভাই হয়ত ভাল নিয়তেই একটু কড়া ভাবে উপদেশ দিল। 
তখন আপনারও একটু আঘাত লাগবে। 
.......
দ্বীনদার মানুষগুলোর মধ্যে "তুমি ঐ ছেলে/মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলে কেন" কিংবা " হেসে কথা বললে কেন? " এগুলো নিয়ে ঝামেলা হবার কথা নয়। কিন্তু, উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়েও অসন্তুষ্টি আসে, আসতে পারে। মাত্র ১টি নগন্য উদাহরন দিলাম। 
...
এক্ষেত্রে আপনি যদি ভেবে বসে থাকেন "দ্বীনদার মানে ত্রুটিহীন /অলস্কোয়ার" 
তবে আশাহত হবেন। 
.
যে কোন মানুষকে দ্বীন সম্পর্কে সাহায্য করতে হলে শাসন নয়, কোমল হতে হবে।
খুব কোমলতার ইন্ডিরেক্টলি বোঝালে সেটা কড়া উপদেশের চেয়ে বেশি ফলদায়ক। কারন, মানুষ উপদেশ খুব একটা পচ্ছন্দ করেনা।
.
সহমর্মিতা & কোমলতা একান্ত জরুরি। অন্যথায় হিতে বিপরীত ঘটতে পারে। 
তবে হ্যাঁ, সকল মনোমালিন্য কিংবা মনঃকষ্টের বেলায়, আপনার দ্বীনদার সংগীটি তার ভুল বুঝতে অনুতপ্ত হবে।এটাই দ্বীনদারিতা। তবে হ্যা, তাকে যথেষ্ট ফ্যাসিলেট করুন নিজের ভুল বুঝতে। আপনি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিলে শয়তান জয়ী হবে। 
.
বিশেষত; জিহ্বার সাইজ হার্টের চেয়ে ছোট হলেও ; এটা মুহুর্তেই heart কে hurt করার বিরাট ক্ষমতা রাখে। 
.
কিছু ক্ষেত্রে সবার কাছে উত্তম আখলাকের মানুষটার আচরণ ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে বিনম্র হয় না। (কারনটা হয়ত একটু বেশি সখ্যতা কিংবা আবদার।তবে এটা কাম্য নয়।কারন পরিবারের মানুষগুলোর হক সব'চে বেশি) 
.
আমাদের সকলকেই যথেষ্ট সহনশীল হতে হবে। একটা সুখী জীবনের জন্য উত্তম আখলাক এবং সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরী। 
(সংগৃহীত)

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬

কন্যা সন্তান আল্লাহ প্রদত্ত এক শ্রেষ্ঠ নেয়ামত


কন্যা সন্তান মহান আল্লাহ তা'য়ালার পক্ষ থেকে মাতা-পিতার জন্য একটি বিশেষ শ্রেষ্ট নেয়ামত। কন্যা সন্তানকে অশুভ মনে করা কাফিরদের বদস্বভাব। কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করা খাটি মুমিনের পরিচায়ক নয়। কন্যা সন্তান অশুভ নয়, অকল্যানকর নয়। বরং কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া খোশ কিসমতী ও সৌভাগ্যের নিদর্শন। 

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ঐ স্ত্রী স্বামীর জন্য অধিক বরকতময়, যার দেন-মোহরের পরিমান কম হয় এবং যার প্রথম সন্তান হয় মেয়ে।" 

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, " যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করল, অতঃপর সে তাকে (কন্যাকে) কষ্টও দেয়নি, তার উপর অসন্তুষ্ট ও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ঐ কন্যার কারনে আল্লাহ তা'য়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।" (মুসনাদে আহমদ, ১:২২৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন," যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান হবে, এবং সে তাদেরকে এলেম-কালাম, আদব-কায়দা শিক্ষা দিবে, এবং যত্নের সাথে প্রতিপালন করবে ও তাদের উপর অনুগ্রহ করবে, সে ব্যক্তির উপর অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। 

উল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত হয় যে, কন্যা সন্তান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত। সুতারাং কন্যা সন্তানকে বেশী করে ভালবাসুন। আদর-সোহাগ করুন আর মায়া-মমতা দিয়ে লালন-পালন করুন। সে তো আপনার কলিজার টুকরার টুকরো, দেহের এক বিশেষ অংশ। 
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর অসীম বানীর প্রতি লক্ষ্য রেখে কন্যা সন্তানকে পুত্রের চাইতে ও বেশী আদর যত্ন করুন। এখানে একটি বিষয় আলোচ্য হলো, কন্যা সন্তান আল্লাহ মহান প্রদত্ত নেয়ামত ঠিক কিন্তু পুত্র সন্তানও কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। 

-এই আলাচেনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, কন্যা সন্তানের প্রতি বিরুপ মানসিকতা পরিহার করা। একমাত্র ছেলে সন্তানের কামনায় কন্যা সন্তানকে অবহেলার পাত্র না বনানো। 

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরান ও হাদিসের বর্ণনা মেনে কন্যা সন্তানকে আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নেয়ামত করার এবং কন্যা সন্তানের সাথে ব্যবহার করার, নায্য প্রাপ্ত প্রদান করার ব্যাপারে কন্যা সন্তানকে উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করার তাওফিক দান করুন। 
আমিন।