মাসালা-মাসায়েল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাসালা-মাসায়েল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

মোটা সুতার মোজার ওপর মাসেহ করা জায়ে

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ . قَالَ أَبُوعِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِالْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ نَعْلَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ (رَوَاه التِّرْمِذِىُّ فِىْ بَابِ الْمَسْحِ عَلَى الجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ)
হাদীস নম্বর-৫০ : হযরত মুগীরা বিন শু’বা রা. থেকে বর্ণিত:রসূলুল্লাহ স. অযু করলেন আর সুতার মোজা ও জুতোর ওপরমাসেহ করলেন। ইমাম তিরমিজী রহ. বলেন: হাদীসটিহাসান-সহীহ। হযরত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, ইমামশাফিঈ, ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বিন রাহওয়াইহ রহ.সহবহু উলামায়ে কিরামের অভিমত এটাই যে, জুতো পায়ে নাথাকলেও সুতার মোজা মোটা হলে তার ওপর মাসেহ করাযাবে। (তিরমিজী: ৯৯)
হাদীসটির স্তর : হাসান। ইমাম তিরমিজী রহ. বলেন:হাদীসটি হাসান-সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহবলেছেন। (সহীহ-জঈফ তিরমিজী: ৯৯)। তবে আবু কয়েসেরএকক বর্ণনার কারণে শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদেআহমাদ-এর ১৮২০৬ নম্বর হাদীসের তাহকীকে এ হাদীসটিরওপর পূর্ববর্তী অনেক মুহাদ্দিসের আপত্তির কথা তুলেধরেছেন। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদএবং ইবনে মাজাহ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামিউল উসূল:৫২৭৯)
সারসংক্ষেপ : হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর সিদ্ধান্তএই যে, সুতার মোজা মোটা হলে তার ওপর মাসেহ করাযাবে। মোটা মোজা বলতে ওই মোজাকে বুঝায়: যার মধ্যেতিনটি বৈশিষ্ট থাকবে: ১. বাঁধা ছাড়াই পায়ে আটকে থাকে, ২.জুতোবিহীন শুধু মোজা পায়ে দিয়ে চললেও সহজে ছিড়ে যায়না এবং ৩. মোজার উপরে পানি ঢেলে দিলে সহজে ভিতরেপ্রবেশ করে না। এই তিনটি বৈশিষ্ট পাওয়া গেলে সুতার তৈরীউক্ত মোটা মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েয। (হিদায়াহ:১/৬১)
ফায়দা : সুতি মোজার ক্ষেত্রে ইমামগণ যে কঠোরতা করেছেনতার মূল কারণ হলো: কুরআন বলেছে পা ধোয়ার কথা; আরঅন্য একটি আয়াত দ্বারাই কেবল কুরআনের উক্ত হুকুমেরবিকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। কোন হাদীস দ্বারাও কুরআনেরহুকুমের বিকল্প গ্রহণ করা যায় না; যদি সে হাদীসমুতাওয়াতির না হয়। এ শর্ত মোতাবেক خفّ অর্থাৎ, চামড়ারমোজার ওপর মাসেহ করার হাদীসগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়েপৌঁছে যাওয়ায় তা দ্বারা কুরআনে বর্ণিত পা ধোয়ার হুকুমেরবিকল্প হিসেবে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধসাব্যস্ত হয়েছে। কিন্তু جورب অর্থাৎ, মোটা সুতার মোজারওপর মাসেহ করার হাদীস যেহেতু সে মানের নয়, তাই এরদ্বারা কুরআনের হুকুমের বিকল্প গ্রহণ করার কোন সুযোগনেই। তবে মোজা যদি পূর্বোক্ত বর্ণনা মোতাবেক খুব মোটাহয় তাহলে চামড়ার মোজার সাথে বৈশিষ্টগত সাদৃশ্যেরকারণে উক্ত হুকুমের আওতায় আসতে পারে।

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬

গোসল ফরজ অবস্থায় কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে ইসলাম কি বলে?

নাপাক অবস্থায় কবর যিয়ারত না করাই শ্রেয়। একান্ত কখনো গোসল করতে বিলম্ব হলে যিয়ারতের আগে অন্তত অযু করে নিবে। অবশ্য গোসল ফরয অবস্থায়ও কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ নয়। তবে কেউ এ অবস্থায় যিয়ারতে গেলে কুরআন মাজীদের কোনো আয়াত পড়তে পারবে না। মৃতের জন্য দুআ-দরূদ পড়তে পারবে।

প্রশ্ন: এক ব্যক্তির কাছে শুনলাম, গোসল ফরয অবস্থায় কবর যিয়ারত করা জায়েজ নেই। বিষয়টি কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : নাপাক অবস্থায় কবর যিয়ারত না করাই শ্রেয়। একান্ত কখনো গোসল করতে বিলম্ব হলে যিয়ারতের আগে অন্তত অযু করে নিবে। অবশ্য গোসল ফরয অবস্থায়ও কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ নয়। তবে কেউ এ অবস্থায় যিয়ারতে গেলে কুরআন মাজীদের কোনো আয়াত পড়তে পারবে না। মৃতের জন্য দুআ-দরূদ পড়তে পারবে।
[রদ্দুল মুহতার ১/২৯৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৮১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/১৫১]

ইসলামের আলোকে যেসব ছবি জায়েজ-নাযায়েজ

এ কথা সহজেই অনুমেয় যে, রাসূল [সা.] যে তাসবির-ছবি নিষেধ করেছেন তা নিশ্চয়ই ডিজিটাল ছবি ছিলো না ৷ বরং তা ছিল মূর্তি বা মূর্তির আকৃতি স্বরুপ ছবি ৷
রাসূল [সা.] বলেন,
لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب و لا تصاور
ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে কুকুর থাকে কিংবা তাসবির-ছবি থাকে ৷ এছাড়াও সে সকল হাদিসে ছবির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে বলা হয়ে থাকে সেগুলোতেও তাসবির বা صورة শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে ৷ যেমন- هلك المصورون বা من صور ইত্যাদি ৷
আসুন জেনে নেই তাসবির কী?
এ কথা মনে রাখতে হবে যে, তাসবির শব্দটি আরবি ব্যকরণ অনুযায়ী বাবে তাফয়িলের মাসদার বা ক্রিয়া ৷ আর বাবে তাফয়িলের বিশেষত্ব ( خاصة ) হল جعل ৷ এর অর্থ প্রদান করে। তাই تصوير মানে جعل الصورة যার অর্থ দাঁড়ায় চিত্র-ছবি নির্মাণ করা ৷ আভিধানিক অর্থে ما يجعل من الطين والخشبه অর্থ্যাৎ যা কাদামাটি ও কাঠ দ্বারা নির্মাণ করা হয় এবং যেটাকে মানুষ পূজা করে তাকেই তাসবির বা ছবি বলা হয়। কোনোভাবেই যেন শিরকের চিন্তাধারার উত্থান না ঘটে তাই তাসবির নিষেধ করা হয়েছে ৷ সর্বজন গ্রহণযোগ্য অভিধান লিসানুল আরবসহ অন্যান্য অভিধানে তাসবির বা صورة ‘র সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে-
ما لها شكل و ابعاد و ثبوت অর্থ্যাৎ ছবি হলো যার আকার, পরিধি ও স্থিতি আছে ৷
মোবাইল, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের ছবি তথা ডিজিটাল ছবির আকার, পরিধি ও স্থিতি নাই ৷ যন্ত্র চালু না করলে ছবির কোন অস্তিত্ব দেখা যায় না ৷ তাই এটি কোন ক্রমেই তাসবির নয় ৷ ডিজিটাল ছবিকে জোর করে তাসবিরের হুকুমে ঢুকাতে চাওয়া এক প্রকার গোঁড়ামি ৷ আরব উলামায়ে কেরামের মতে ডিজিটাল ছবি- যার কোনো আকার, পরিধি ও স্থিতি নাই তা সম্পূর্ণ জায়েজ ৷ সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শায়খ ড. সালেহ আল-উসাইমিন এর ফতোয়া- الصورة الرقمي جائز অর্থ্যাৎ ডিজিটাল ছবি জায়েজ ৷
তাঁর এই ফতোয়া প্রদানের পর ডিজিটাল ছবি জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে আরবের সকল উলামায়ে কেরাম একমত পোষণ করেছেন ৷ তবে প্রিন্টেড ছবির আকার, পরিধি ও স্থিতি রয়েছে ৷ তাই এটি তাসবিরের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় নাজায়েজ ৷ তবে প্রিন্টেড ছবি জায়েজ হতে হলে জরুরতে দ্বীনিয়্যা শর্ত ৷
الضررورة تبيح المحظورات أي المحظورات الدينيه আলোচ্য এই মূলনীতির আলোকে দীনী প্রয়োজনেও প্রিন্টেড ছবিও জায়েজ বলে গণ্য হবে ৷
একটি ছবি এক হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কার্যকরী ৷ কোনো বক্তব্যের প্রমাণ ও প্রভাব সৃষ্টির জন্য দ্বীনী প্রয়োজনে পত্রিকায় ছবি ছাপতে হয় ৷ এটিও জরুরতের অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ এটি হবে الضررورة الاعلاميه বা মিডিয়ার প্রয়োজন ৷ দ্বীন প্রচারে উলামায়ে কেরামের মিডিয়ায় আসা জরুরি ৷ বিশেষত টেলিভিশনে ৷ কারণ এটির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছা যায় এবং এটিই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম ৷ এখনও এ নিয়ে ইখতেলাফ করতে থাকা উলামায়ে কেরামের জন্য আত্নঘাতী ছাড়া আর কিছু নয় ৷
মূল- ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক
শ্রুতিলিখন- ইলিয়াস সারোয়ার
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- মাওলানা মিরাজ রহমান

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৫

নাভির নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত

নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত নাভির নিচে বাঁধা সুন্নাত। একথা সহীহ শুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমানিত।
১ নং হাদীস
عن علقمةبن وائل بن حجر عن أبيه رأيت النبي صلي الله عليه وسلم قال: وضع يمينه علي شماله في الصلاةتحت السرة 
অর্থ :হযরত আলকামা (রহ,) তার পিতা ওয়ায়েল বিন হুজুর (রাযি,) হতে বর্ণনা করেন, ওয়েল বিন হুজুর (রাযি,) বলেন, আমি রাসুল (স,) কে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভির নিচে রাখতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা -৩ /৩২০)।
2 নং হাদীস
عن علي رضي الله عنه قال من السنة وضع الأيدي علي الأيدي تحت السرر،
অর্থ : হযরত আলী (রাযি,) হতে বর্ণনিত তিনি বলেন, নামাযে (দাঁড়ানো অবস্থায়) নাভির নিচে হাতের উপর হাত রাখা রাসুল (স,) এর সুন্নাত। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা -৩ /৩২৪)
এরো কম হাজারো দলিল আছে আমাদের যা ভন্ড লা মাযহাবী দের নাই।

তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় হাত কতটুকু উপরে তোলা সুন্নাত????

সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল (স,) নামাযের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় দুই হাত, কান পর্যন্ত তুলতেন। যা নিম্নে হাদীসগুলো দ্বারা প্রমাণিত।
(১) হযরত মালেক ইবনে হুওয়াইরিস (রাযি) হতে বর্ণিত, রাসূল (স,) যখন নামায আরম্ভের সময় তাকবীরে তাহরীমা বলতেন, তখন দুই হাত কান পর্যন্ত তুলতেন। (দলিল সহীহ মুসলিম -১ /১৬৮, সুনানে নাসায়ী -১ /১০২)
হযরত বারা ইবনে আযেয (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স,) যখন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন এই পরিমাণ হাত তুলতেন যে, আমরা রাসূল (স,) এর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের কাছাকাছি দেখতাম। (দলিল মুসনাদে আহমাদ -৫ /৩৯১)।
উল্লিখিত হাদীসগুলি সহীহ ও শুদ্ধ সনদে বর্ণিত এবং নামাযে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় যে হাত কান পর্যন্ত উঠানো সুন্নাত এর প্রমান পাওয়া যায়। এ ছাড়া নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ আবু দাউদ, তহাবী ও দারাকুতনীসহ অনেক কিতাবে আরো বহু হাদীস রয়েছে, যা কান পর্যন্ত হাত তোলা সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
সুতরাং গোমরাহ লা মাযহাবী দের নামায সহীহ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা গোমরাহির মদ্ধে হাবু ডুবু খাচ্ছে, বর্ত মানে পৃথিবীর মদ্ধে সব চেয়ে বড় ফেতনা হচ্ছে আহলে হাদীস নামের খোবিস রা।
হে আল্লাহ তুমি আমাদের সবায় কে ওদের ফেতনা থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

"তালাক" সংক্রান্ত অত্যান্ত জরুরী কিছু মাসআলা, যেগুলো প্রত্যেকের জানা থাকা অপরিহার্য।

প্রশ্ন:
১/ হাসি-ঠাট্রা করে স্ত্রীকে 'তালাক' বললে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?
২/নেশাগ্রস্ত হয়ে 'তালাক' দিলে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?
৩/রাগের মাথায় 'তালাক' বললে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?
৪/চিঠি,ই-মেইল,বা মোবাইল এস এম এস এর মাধ্যমে স্ত্রীকে 'তালাক' বললে কি স্ত্রী 'তালাক' হয়ে যায়?
৫/'তালাক' দেয়ার পর স্ত্রীর সাথে পুনরায় সংসার করার কোন সুযোগ ইসলামে আছে কি?
উত্তর:
১/হ্যাঁ,হাসি-ঠাট্রা করে 'তালাক' বললেও স্ত্রী তালাক হয়ে যায় ৷
২/জ্বী হ্যাঁ,নেশাগ্রস্ত অবস্থায় 'তালাক' দিলেও 'তালাক' হয়ে যায় ৷ অবশ্য,কোন বৈধবস্তু তথা ওষুধ ইত্যাদি পান
করার কারণে নেশাগ্রস্ত হলে 'তালাক' হবে না ৷
৩/রাগের তিনটি স্তর রয়েছে;
(ক) প্রাথমিক,(অর্থাৎ রাগ আছে তবে সাভাবিক
বোধশক্তি বাকি আছে,যা বলছে বুঝেই বলছে)
(খ)মাধ্যমিক (অর্থাৎ রাগের পরিমান খুব বেশি যে,বোধশক্তি তো আছে,এবং বুঝেশুনেই বলছে তবে অনিচ্ছাক়ত)
এ দুই অবস্থায়ও তালাক হয়ে যায় ৷
(গ)চুড়ান্ত (অর্থাৎ সাভাবিক বোধশক্তি হারিয়ে
ফেলেছে,এবং কি বলছে নিজেই বুঝতে পারছে না এ অবস্থায় স্ত্রী তালাক হবে না ৷
৪/হ্যাঁ,ই-মেইল বা এস এম এস এর মাধ্যমে বললেও তালাক হয়ে যায় ৷
৫/একটু বিস্তারিত:
* যদি এক বা দুই তালাকে রজয়ী(অর্থাৎ তালাক শব্দ একবার বা দু'বার বলে)দেয় তবে পুনরায় বিবাহ করা
ছাড়াই স্ত্রীকে মৌখিক ভাবে ফেরত নেয়ার মাধ্যমে তার সাথে বসবাস করতে পারবে ৷
* যদি এক বা দুই তালাকে বায়েন দেয় তবে স্ত্রীর সাথে থাকতে চাইলে পুনরায় বিবাহ করতে করতে হবে,৷
*যদি তালাকে মুগাল্লাজা (অর্থাৎ তিন তালাক দেয়) তবে "হিলা"করা ব্যতীত এই স্ত্রীর সাথে সংসার করতে পারবে না.
"হিলা" হলো, এই স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বসার পর তার সাথে সহবাস করবে,এরপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দিবে ,এরপর সে স্ত্রী 'ইদ্দত' পালন করবে, এরপর প্রথম স্বামী চাইলে তাকে পুনরায় বিবাহ করতে পারবে ৷ (একান্ত প্রয়োজন ছাড়া হিলা করা যাবে না)
দলীলসমুহ:
"সুনানে তিরমিযি"-১১৮৪,মুসতাদরাকে
হাকিম-২৮০০,"আদদুর্রুল মুখতার"৩/২৬৩-২৭১,"আল বাহরুর
রায়েক"৭/১৫৯
প্রকাশ থাকে যে,তালাক দেয়া যদিও বৈধ তবে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট হালাল বস্তু হলো তালাক, (বায়হাকি শরিফ২৫২৯২)
তালাক একটি স্পর্শকাতর ও মারাত্মক শব্দ, তাই সচেতন হোন৷ তালাক থেকে দূরে থাকুন !

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

༺ নবীজীর সুন্নাত : পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা : ইস্তিঞ্জার সুন্নাতসমূহ ༻

༺ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ༻

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা : ইস্তিঞ্জার সুন্নাতসমূহ

১. মাথা ঢেকে রাখা। (বাইহাকী শরীফ, হাঃ নং ৪৫৬)
২. জুতা-সেন্ডেল পরিধান করে যাওয়া। (তাবাকাতে ইবনে সাআদ’, ১৮৫/ কানযুল উম্মাল, হাঃ নং-১৭৮৭২)
৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে এই দু‘আ পড়া : بسم الله اللهم انى اعوذبك من الخبث والخبائث (বাংলায় দোয়াটি হলো : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস।) অর্থ : 'আল্লাহর নামে টয়লেটে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে যাবতীয় অপবিত্রতা ও দুষ্ট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫)
৪. দু‘আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)
৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৪৪)
৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব ও পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা। (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ২৯/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ১৪)
৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিঁটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২১৮)
৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ (বা টয়লেট পেপার) ব্যবহার করা। (বাইহাকী, হাঃ নং ৫১৭)
৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৪)
১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা। (ইবনে মাজাহ শরীফ, হাঃ নং ৩২৬)
১১. যেখানে পেশাব ও পায়খানার জন্য নির্ধারিত কোন জায়গা নেই, সেখানে এমনভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। (আবু দাউদ হাঃ নং ২)
১২. পেশাবের জন্য নরম বা এমন স্থান তালাশ করা যেখান থেকে পেশাবের ছিঁটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩)
১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা। (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ৮৩)
১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)
১৫. বাইরে এসে এই দু‘আ পড়া : غفرانك الحمد لله الذى اذهب عنى الاذى وعافانى (“গুফ্‌রানাকা আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আযহাবা আল্লীল আযা ওয়াআ-ফানী”)
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা কর, সেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি, যিনি আমার কাছ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করে দিলেন এবং প্রশান্তি দান করেছেন (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩০ : ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩০১)
এই সুন্নত মানলে যতসময় টয়লেটে অবস্থান করবেন ততসময় জিকির করার সওয়াব পাওয়া যাবে।
কিতাবঃ আমলুস সুন্নাহ
লেখক : মুফতী মনসূরুল হক (দা. বা.)
সূত্র : দরসে মনসূর (ওয়েব) √ darsemansoor.org

মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর চার কোণে চার জন খেজুর গাছের ডাল বা অন্য গাছের ডাল গেড়ে দেওয়া শরীয়তসম্মত কি না?

কবরে খেজুর গাছের ডাল  দেওয়া
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।
বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরে আযাব হচ্ছে জানতে পেরে একটি খেজুর গাছের ডালকে দুই টুকরা করে কবর দুটিতে গেড়ে দেন।
(সহীহ বুখারী ১/১৮২)
অন্য বর্ণনায় আছে, সাহাবী বুরাইদা আসলামী রা. মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যান, যেন তার কবরে খেজুর গাছের দুটি ডাল গেড়ে দেওয়া হয়।
(সহীহ বুখারী ১/১৮১)
এসব বর্ণনা দ্বারা কবরে খেজুর বা অন্য কোনো গাছের ডাল গেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তাই কেউ চাইলে মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর কবরের উপর এক দুটি ডাল গেড়ে দিতে পারে।
কিন্তু কবরের চার কোণায় ডাল দেওয়া আবার চারজন ব্যক্তি দ্বারা একাজ করানো দলীলবিহীন অতিরঞ্জিত কাজ। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
প্রকাশ থাকে যে, হাদীস ও আছারে কবরে যা কিছু করার কথা বলা হয়েছে তাই করা যাবে। নিজ থেকে এর অতিরঞ্জণ কোনো কিছু করাই বিদআতের শামিল।
-সহীহ বুখারী ১/১৮১; ইলাউস সুনান ৮/৩৪৪; তুহফাতুল মুহতাজ ৪/১৯০; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; উমদাতুল কারী ৩/১২১; হাশিয়াতুস সারী ১/৩১১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৪৫

রিষ্কার পরিচ্ছন্নতা : গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহ ༻

‪#‎গোসলের_ফরয_তিনট‬
১. ভালভাবে একবার কুলি করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)
২. নাকের নরম স্থান পর্যন্ত একবার পানি পৌঁছানো। (ঐ)
৩. সমস্ত শরীরে একবার পানি পৌঁছে দেয়া, যেন কোথাও এক চুল পরিমাণ শুকনো না থাকে।
(ঐ/ তিরমিযী, ১০৩; আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৪৫/ শামী, ১ : ১৫১)
‪#‎গোসলের_সুন্নাতসমূহ‬
১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাত পেশাব করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১০২০)
২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১২৬৯৪)
৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৮)
৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া।
(মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৩২১)
৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৯)
৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৬০)
৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৬)
৮. এরপর ডান কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)
৯. এরপর বাম কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)
১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৭৪)
১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে।
(আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ৮১৩)
তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী মাইবা, হাঃ নং ৮১৩)
১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ১০৬)
√কিতাবঃ আমলুস সুন্নাহ
√লেখক : মুফতী মনসূরুল হক (দা. বা.)
√সূত্র : দরসে মনসূর (ওয়েব) √ darsemansoor.org
আল্লাহ্‌ পাক আমাদের সুন্নাহ অনুসারে পরিপূর্ণ ভাবে নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করার তৌফিক দান করুন । আমিন

আমরা শুধু কুরআন ও হাদীস মানি। কুরআন ও হাদীসের বাইরে কিছুই মানি না।

༺ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ༻
আসসালামু আলাইকুম ওরহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু
আমাকে একজন বলল, আমরা শুধু কুরআন ও হাদীস মানি। কুরআন ও হাদীসের বাইরে কিছুই মানি না।
আমি বললাম, ভাই, ইবনে তাইমিয়া রহ. মাজমুয়াতুল ফতোয়া নামে ৩৭ খণ্ডের কিতাব বের হয়েছে। এই ৩৭ খন্ডের সব কিছুই কি কুরআন ও হাদীস? এতে ইবনে তাইমিয়া রহ. নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলেননি?
২.ইবনে বাজ রহ. ফতোয়া ও রচনাবলি প্রায় ত্রিশ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এই ত্রিশ খন্ডের সব কুরআন ও হাদীস? কুরআন ও হাদীসের বাইরে তিনি একটি কথাও লেখেননি? এতে যদি কুরআন ও হাদীসের বাইরে তিনি অারও কিছু লিখে থাকেন, কেন লিখেছেন? অর্থহীন কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই লিখেছেন? এতো কিছু না লিখে তিনি শুধু একটি লাইন লিখে দিলেই তো যথেষ্ট ছিলো, কুরআন ও হাদীস দেখে নাও। তাহলে হাজার হাজার পৃষ্ঠার কাগজ বেচে যেত, ছাপার খরচ বেচে যেত?
৩. ইবনে উসাইমিন রহ. এর ফতোয়া সংকলন করে ২৬ খন্ডের কিতাব বের হয়েছে। আপনারা শুধু কুরআন ও হাদীস মানেন। এই ২৬ খন্ডের ফতোয়ার কী প্রয়োজন রয়েছে? শরীয়তে অর্থহীন কোন কাজ করা জায়েয আছে? আপনাদের আলেমরা এতো বিশাল বিশাল ফতোয়া না লিখে একটা কথাই তো লিখে দিতে পারতেন, কুরআন ও হাদীস দেখে নাও। শরীয়তে কারও অনুসরণ বৈধ নয়?
তারা এসব ফতোয়া কেন লিখেছেন? তাদের এসব কিতাবে কি শুধু কুরআন ও হাদীসের কথা লেখা, না কি তাদের নিজেদের বক্তব্যও আছে? এসব কিছু লিখে কাগজ ও টাকা-পয়সা নষ্ট না করে একটা কথা লিখে দিলেই তো যথেষ্ট ছিলো, তোমরা কুরআন ও হাদীস থেকে মাসআলা দেখে নাও। আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করো না। কারণ শরীয়তে কোন ব্যক্তির অনুসরণ বৈধ নয়?
না কি আপনাদের মতে ইবনে বাজের ফতোয়া মানা জরুরি, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ফতোয়া মানা হারাম? ইবনে উসাইমিন এর ফতোয়া মানা শরীয়ত, আর ইমাম শাফেয়ী রহ. এর বক্তব্য অনুসরণ নিষিদ্ধ। আসল ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন?
তিনি আজও এ প্রশ্নের উত্তর দেননি…….।
ইসলাম একটি পুরনাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থার হয়ে থাকলে বর্তমানে চলার চলে হাজারও আধুনিক মাসলা মাসায়েল সমস্যার সম্মুখীন হতে হচেছ বা হচেছ তখন আপনারা এই জাতিও সমস্যার সমাধান করে কি দ্বারা করে থাকেন ও করেন ? না কি সমস্যা সমাধান না করেই চলেন ?
‪#‎তথাকথিত_মুজতাহিদ‬ ভাইয়েরা আমাদের মানে সাধারন মুসলিমদেরকে বলে যে কুরআন হাদীস অনুসরন করতে ৷ আমি বলি আমরা যারা তাকলীদ করি মাজহাব(মত) মানি তারা কি বেদ বাইবেল অনুসরন করি না আমাদের ইমামরা গীতা থেকে মাসআলা দিয়েছেন ৷ এই সকল লোক হয়ত পাগল নয়তো ছাগল ৷
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} [القمر: 17]) -
কুরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব, উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? সূরা ক্বমার: ১৭
এই আয়াত থেকে বুঝা যাচ্ছে কুরআনে কারীম সহজ, যা সকলেই বুঝতে সক্ষম।
এর উত্তর হল, কুরআন সহজ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এর তিলাওয়াত ও বাহ্যিক অর্থ সহজ। কিন্তু এর আভ্যমত্মরীণ নিগুঢ় অর্থ সকলেই বুঝতে পারে না; বরং এক শ্রেণীর গভীর জ্ঞানীরাই কেবল বুঝতে পারে।
→ (০১) জনৈক আহলে হাদীস মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তির নিয়ম ছিল যখনই সে ইস্তেঞ্জা থেকে ফিরত তখনই বিতির নামাযের নিয়ত বাঁধত।
কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলঃ তুমি কিসের নামাজ পড়?
সে জবাব দিলঃ হাদীস শরীফে রয়েছে - ﻣﻦ ﺍﺳﺘﺠﻤﺮ ﻓﻠﻴﻮﺗﺮ
(যে ব্যক্তি ইস্তেঞ্জা করবে সে যেন বিতির পড়ে)
অথচ হাদীসের মর্ম হলো, যে ব্যক্তি ইস্তেঞ্জা করে সে যেন
বিতির তথা বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।
আহলে হাদীস মতে বিশ্বাসী উক্ত ব্যক্তি উক্ত হাদীসে বিতির
বা বিজোড় সংখ্যাকে বিতির নামায বুঝেছে যা স্পষ্ট ভূল।
→(২) একব্যক্তি তার কূপ থেকে অন্যের জমিনে পানি সিঞ্চন করতে দিত না। বরং কঠোরভাবে নিষেধ করত।
কেননা হাদীস শরীফে এসেছে (কেউ যেন নিজের পানি অন্যের
জমিতে সেচ না করে।)
অথচ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো- যখন কোন দাসী অন্যের
সঙ্গে মিলনের ফলে অন্তঃসত্বা হয়ে কারো মালিকানায়
আসে তখন সে যেন তার সাথে সহবাস না করে।
হাদীসে পানি দ্বারা বীর্য বুঝানো হয়েছে এবং জমিন দ্বারা যৌনাঙ্গ বুঝানো হয়েছে।
.......... এ ধরণের আরো ভুরী ভুরী উদাহরণ রয়েছে। ইবনুল জাওযি রহ. 'তালবিসুল ইবলিস' নামক কিতাবে সেগুলো উল্লেখ করেছেন।
[শরীয়ত ও তাসাউফ]
উদাহারন পাওয়ার ও জানার ও বুজার পরও যারা এই বিষয় গুলো নিয়ে গুরামি ও ফেতনা বাজী করে ও করে বেড়ায় তারা কেউ থাকলে এ প্রশ্নগুলির জবাব দিয়ে যান! -https://www.facebook.com/photo.php?fbid=756632834436134&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater
‪#‎তথাকথিত‬ আহলে হাদীসদের নিকট প্রশ্নগুলো করে দেখুন।
তাদের নিকট প্রশ্নগুলোর মূলত কোনো উত্তর নেই।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=746765648756186&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater
- ০- কথোপকথন : ‘মাযহাব’ মানতে হবে কেন? https://www.facebook.com/photo.php?fbid=746321325467285&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater
- ০০- কথোপকথন : "মাজহাব" মানেন কেন? https://www.facebook.com/photo.php…
আহলে হাদিস ও সালাফি ও শব্দ ধারি মুসলিম ও
গাইর মুকাল্লিদদের থেকে সাবধান ! ! !
এবং আমরা মাযহাব মানি কেন ?
এবং হাদীস সংকলকগণের মাযহাবী অবস্থান ?
এবং মুজতাহিদ কারা ? মুজতাহিদ হতে হলে কি কি গুন থাকা লাগবে ?
এবং আরও জানতে পারবে মাজহাব বিরোধী অপপ্রচারের জবাব ও মাজহাব প্রসঙ্গে কিছু লিংক
- ২- প্রশ্নঃ ১। মাযহাব কি এবং কেন? - https://www.facebook.com/photo.php?fbid=691414254291326&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ৪- তাকলিদ ও মাজহাব অনুসরণ প্রসঙ্গে - https://www.facebook.com/photo.php?fbid=711403758959042&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ৬- ইমাম বুখারী রহঃ সহ অন্যান্য হাদিসের ইমামগণ মাজহাব অনুসরণ করতেন ?https://www.facebook.com/photo.php?fbid=746471602118924&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ৭- নবী একজন কিন্তু মাযহাব চারটি কেন? একটি চমৎকার কথোপথন -https://www.facebook.com/photo.php?fbid=747172608715490&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ৮- মাযহাব বিষয়ক ১০টি উদ্ভট প্রশ্নের ইলযামী জবাব -https://www.facebook.com/photo.php?fbid=746959745403443&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ৯- কথিত আহলে হাদীস ও শব্দধারী মুসলিম জামাত নামধারী
ফিতনাবাজদের ২০টি ওয়াসওয়াসার ইলজামী জবাব-https://www.facebook.com/photo.php?fbid=745963015503116&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=1&theater
- ১০- লা-মাজহাবী / তথাকথিত আহলে হাদিস লিডারদের ৪১টি প্রশ্নের. জবাব !!!!https://www.facebook.com/photo.php?fbid=724753220957429&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater
- ১১- সহীহ হাদীসের আলোকে নামাযের কিছু জরুরী মাসয়ালা-https://www.facebook.com/photo.php?fbid=740877762678308&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater
- ১২- তাকলীদ করা ওয়াজিব কেন? https://www.facebook.com/photo.php…
‪#‎কিয়াস‬ বা ইজতিহাদ নিয়ে কথিত আহলে হাদীসদের প্রতি OPEN CHALLENGE
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=765977063501711&set=a.328442950588460.70315.100002682744439&type=3&theater

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হায়েযকালীন সালাতের কাযা নেই।

باب لاَ تَقْضِي الْحَائِضُ الصَّلاَةَ
وَقَالَ جَابِرٌ وَأَبُو سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَدَعُ الصَّلاَةَ.
জাবির ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ্‌ ও আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, ( স্ত্রীলোক হায়েযকালীন সময়ে) সালাত ছেড়ে দেবে।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مُعَاذَةُ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِعَائِشَةَ أَتَجْزِي إِحْدَانَا صَلاَتَهَا إِذَا طَهُرَتْ فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ كُنَّا نَحِيضُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ يَأْمُرُنَا بِهِ. أَوْ قَالَتْ فَلاَ نَفْعَلُهُ.
মু’আযাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ জনৈকা মহিলা ‘আয়িশা (রাঃ) কে বললেনঃ হায়েযকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে আমাদের জন্য চলবে কি-না? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ তুমি কি হারূরিয়্যাহ? (খারিজীদের একদল) [১] আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি [‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমরা তা কাযা করতাম না।

হায়েযের গোসলে চুল খোলা।

باب نَقْضِ الْمَرْأَةِ شَعَرَهَا عِنْدَ غُسْلِ الْمَحِيضِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مُوَافِينَ لِهِلاَلِ ذِي الْحِجَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهْلِلْ، فَإِنِّي لَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ ". فَأَهَلَّ بَعْضُهُمْ بِعُمْرَةٍ، وَأَهَلَّ بَعْضُهُمْ بِحَجٍّ، وَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، فَأَدْرَكَنِي يَوْمُ عَرَفَةَ وَأَنَا حَائِضٌ، فَشَكَوْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " دَعِي عُمْرَتَكِ، وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي، وَأَهِلِّي بِحَجٍّ ". فَفَعَلْتُ حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ أَرْسَلَ مَعِي أَخِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، فَخَرَجْتُ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ مَكَانَ عُمْرَتِي. قَالَ هِشَامٌ وَلَمْ يَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ هَدْىٌ وَلاَ صَوْمٌ وَلاَ صَدَقَةٌ.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সময় নিকটবর্তী হলে বেরিয়ে পড়লাম। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাঁধতাম। তারপর কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। আমি ছিলাম উমরার ইহরামকারীদের মধ্যে। আরাফার দিনে আমি ঋতুবতী ছিলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর নিকট আমার অসুবিধার কথা বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার উমরা ছেড়ে দাও, মাথার বেণী খুলে চুল আঁচড়াও, আর হজ্জের ইহরাম বাঁধ। আমি তাই করলাম। ‘হাসবা’ নামক স্থানে অবস্থানের রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে আমার ভাই আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বক্‌র (রাঃ) কে পাঠালেন। আমি তানঈমের দিকে বের হলাম। সেখানে পূর্বের উমরার পরিবর্তে ইহরাম বাঁধলাম। হিশাম (রহঃ) বলেনঃ এসব কারণে কোন দম (কুরবানী), সওম বা সদকা দিতে হয়নি।

হায়েযের গোসলের বিবরণ।

باب غُسْلِ الْمَحِيضِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنَ الأَنْصَارِ قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ أَغْتَسِلُ مِنَ الْمَحِيضِ قَالَ " خُذِي فِرْصَةً مُمَسَّكَةً، فَتَوَضَّئِي ثَلاَثًا ". ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَحْيَا فَأَعْرَضَ بِوَجْهِهِ أَوْ قَالَ " تَوَضَّئِي بِهَا " فَأَخَذْتُهَا فَجَذَبْتُهَا فَأَخْبَرْتُهَا بِمَا يُرِيدُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একজন আনসারী মহিলা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কীভাবে হায়েযের গোসল করবো? আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এক টুকরো কস্তুরীযুক্ত নেকড়া লও এবং তিনবার ধুয়ে নাও। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতঃপর লজ্জাবশত অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ তা দিয়ে তুমি পবিত্র হও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাকে নিজের দিকে টেনে নিলাম। তারপর তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার মর্ম বুঝিয়ে দিলাম।

ঋতুবতী মহিলাদের উভয় ঈদ ও মুসলমানদের দাওয়াতী সমাবেশে উপস্থিত হওয়া এবং ঈদগাহ হতে দূরে অবস্থান করা।

                                                                                    باب شُهُودِ الْحَائِضِ الْعِيدَيْنِ، وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ، وَيَعْتَزِلْنَ الْمُصَلَّى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ ـ هُوَ ابْنُ سَلاَمٍ ـ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ كُنَّا نَمْنَعُ عَوَاتِقَنَا أَنْ يَخْرُجْنَ فِي الْعِيدَيْنِ، فَقَدِمَتِ امْرَأَةٌ فَنَزَلَتْ قَصْرَ بَنِي خَلَفٍ، فَحَدَّثَتْ عَنْ أُخْتِهَا، وَكَانَ زَوْجُ أُخْتِهَا غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثِنْتَىْ عَشَرَةَ، وَكَانَتْ أُخْتِي مَعَهُ فِي سِتٍّ. قَالَتْ كُنَّا نُدَاوِي الْكَلْمَى، وَنَقُومُ عَلَى الْمَرْضَى، فَسَأَلَتْ أُخْتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعَلَى إِحْدَانَا بَأْسٌ إِذَا لَمْ يَكُنْ لَهَا جِلْ باب أَنْ لاَ تَخْرُجَ قَالَ " لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْ بابهَا، وَلْتَشْهَدِ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ ". فَلَمَّا قَدِمَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ سَأَلْتُهَا أَسَمِعْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ بِأَبِي نَعَمْ ـ وَكَانَتْ لاَ تَذْكُرُهُ إِلاَّ قَالَتْ بِأَبِي ـ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " يَخْرُجُ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ، أَوِ الْعَوَاتِقُ ذَوَاتُ الْخُدُورِ وَالْحُيَّضُ، وَلْيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ، وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى ". قَالَتْ حَفْصَةُ فَقُلْتُ الْحُيَّضُ فَقَالَتْ أَلَيْسَ تَشْهَدُ عَرَفَةَ وَكَذَا وَكَذَا
হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের যুবতীদের ঈদের সালাতে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ কালাফের মহলে এসে পৌঁছলেন এবং তিনি তার বোন হতে বর্ণনা করলেন। তার ভগ্নীপতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বারটি গায্‌ওয়াহ (বড় যুদ্ধ) –এ অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেনঃ আমার বোনও তার সঙ্গে ছয়টি গায্‌ওয়ায় শরীক ছিলেন। সেই বোন বলেনঃ আমরা আহতদের পরিচর্যা ও অসুস্থদের সেবা করতাম। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কারো ওড়না না থাকার কারণে বের না হলে কোন অসুবিধা আছে কি? আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার সাথীর ওড়না তাকে পরিয়ে দেবে, যাতে সে ভাল মজলিস ও মু’মিনদের দা’ওয়াতে শরীক হতে পারে। যখন উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) আসলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এরূপ শুনেছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। হ্যাঁ, তিনি এরূপ বলেছিলেন। নবীর কথা আলোচিত হলেই তিনি বলতেন, “আমার পিতা তার জন্য কুরবান হোক।” আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী, পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মু’মিনদের দা’ওয়াতে অংশ গ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে। হাফসা (রাঃ) বলেনঃ আমি জিজ্ঞেস করলাম ঋতুবতীও কি বেরুবে? তিনি বললেনঃ সে কি ‘আরাফাতে ও অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

রিবা

রিবা প্রধানত দুই প্রকার : ১. রিবা নাসিয়্যাহ ২. রিবাল ফযল; একে রিবাল বাইও বলা হয়।
এখানে আমরা শুধু রিবা নাসিয়্যাহর প্রচলিত কয়েকটি রূপ নিয়ে আলোচনা করব।
রিবা নাসিয়্যাহর সংজ্ঞা:
ইমাম আবু বকর জাস্সাস রাহ. বলেন,
هو القرض المشروط فيه الأجل وزيادة مال على المستقرض.
এমন ঋণ যাতে মেয়াদ শর্ত করা হয় এবং গ্রহিতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্ত করা হয়।
-আহকামুল কুরআন ১/৫৫৭
অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে কাউকে মেয়াদি ঋণ দেওয়া। একে রিবাল করযও বলা হয়। রিবান নাসিয়্যাহ-এর আরেক প্রকার হল, রিবাদ দাইন।
রিবাদ দাইনের সংজ্ঞা : কারো থেকে কোনো পণ্যের বিক্রিলব্ধ বকেয়া-মূল্য পরিশোধের সময় হলে তখন অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া। অর্থাৎ অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের শর্তে সময় বাড়িয়ে নেওয়া। জাহেলী যুগে রিবা নাসিয়্যাহর উভয় প্রকারের প্রচলন ছিল খুব বেশি।
আজও এই উভয় ধরনের রিবা নাসিয়্যাহ ব্যাংকিং জগতে এবং মার্চেন্টদের সমাজে বহুল প্রচলিত।
বাজারে বিভিন্ন পণ্য কিস্তিতে বিক্রি হয়। কিন্তু কিস্তি সময়মত দিতে না পারলে একটা নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত দেওয়ার শর্ত করা হয়। এটা রিবাদ দাইনের অন্তর্ভুক্ত।
রিবা নাসিয়্যাহর প্রচলিত রূপ ও ক্ষেত্রসমূহ
রিবা নাসিয়্যাহকে রিবাল কুরআন, রিবাল করয ও রিবাদ দাইনও বলা হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং সুদ এর জ্বলন্ত উদাহরণ, এছাড়াও আরো ক্ষেত্র আছে, নিম্নে একেকটি করে সবিস্তারে আলোকপাত করা হল:
১. সুদী ব্যাংক : ব্যাংকের সংজ্ঞাতেই আছে যে, ব্যাংক হল, অল্প সুদে ঋণ নেয়, আর বেশী সুদে ঋণ দেয়। সুদী ব্যাংকের কারেন্ট একাউন্ট ছাড়া সকল প্রকার একাউন্ট সুদী একাউন্ট। তাই সুদী ব্যাংকের সেভিং একাউন্ট এবং সকল ধরনের ফিক্সড ডিপোজিট সুদী। চাই তা উচঝ হোক বা ঋউজ হোক অথবা সাধারণ ফিক্সড ডিপোজিট হোক; সবই রিবা নাসিয়্যাহ একাউন্ট। অনেকে মনে করেন সরকারী হলে সেটা আর সুদী হয় না। অথচ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
এছাড়া কারেন্ট একাউন্টেও ইদানিং সুদের মিশ্রণ দেওয়া হয়। এ ধরনের কারেন্ট একাউন্টকে SND কারেন্ট একাউন্ট বলে। এসকল একাউন্ট খোলাই সুদী চুক্তির গুনাহ। পরে সুদ গ্রহণ করলে তার গুনাহ ভিন্ন হবে।
সুদী ব্যাংকের সেভিং একাউন্ট খোলাটাই সুদী চুক্তির গুনাহ। তাই সুদ গ্রহণ না করলেও যে কোনো ধরনের সেভিং একাউন্ট করলে সুদী চুক্তির গুনাহ হবে।
২. ডি. পি. এস/ DPS ডিপোজিট পেনশন স্কীম : এটিও সম্পূর্ণ সুদী একাউন্ট।
৩. সুদী ব্যাংকের যে কোনো লোনই সুদী লোন। যেমন কার লোন, হোম লোন, হাউজ লোন, ইনভেস্টমেন্ট লোন, সিসি লোন, কৃষি লোন ইত্যাদি।
৪. প্রাইজবন্ড : সরকার প্রাইজবন্ড ছাড়ে। যা যে কোনো ব্যাংক থেকে ভাঙ্গানো যায়। একটা নির্ধারিত মেয়াদের পর লটারীর মাধ্যমে ড্র করা হয়। এরপর বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটাই রিবা নাসিয়্যাহ বা সুদ। প্রাইজবন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যাংককে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। আর ব্যাংক প্রাইজ বা পুরস্কার দেয়ার নামে ক্রেতাকে সুদ দিচ্ছে।
৫. ক্রেডিট কার্ড : ক্রেডিট কার্ড মূলত এক প্রকার সুদভিত্তিক লোন কার্ড। কেননা এই কার্ডের চুক্তিপত্রেই লেখা রয়েছে যে, মিনিমাম ডিউ টাইমে/ডেটে বাকী পরিশোধ না করলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে সুদ দিতে হবে। যার ফলে অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারই সুদের আওতায় পড়ে যান। এই সুদ রিবাদ দাইনের অন্তর্ভুক্ত, যা রিবা নাসিয়্যাহ। তাই সুদ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই যথাসময়ে বাকী পরিশোধ করে দিতে হবে। তাহলে আর সুদী কারবার হবে না।
৬. ক্রেডিট কার্ড দ্বারা এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করলে যে চার্জ নেওয়া হয় তা সুস্পষ্ট সুদ। কেননা কার্ডের ফি তো নিচ্ছেই। এখন অতিরিক্তটা ঋণের বিনিময়ে হচ্ছে।
৭. বন্ড : সরকারী এবং বেসরকারী বন্ড। এগুলো সম্পূর্ণ রিবা নাসিয়্যাহ। সরকারী হওয়ার কারণে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প, কোনো কোম্পানী বা রাস্তা-ঘাট কিংবা ব্রীজ নির্মাণের জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে এমন কথা উল্লেখ করার কারণে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, এটা সুদী হবে না, কিন্তু এ ধারণা ভুল। স্টক এক্সচেঞ্জ বা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য যে কোনো ব্যাংকে যে বন্ড ক্রয়-বিক্রয় হয় তাতে সুনির্দিষ্ট সুদের ঘোষণা দেওয়া থাকে। এ সকল বন্ডও সুদী বন্ড।
৮. স্টুডেন্ট লোন : বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক স্টুডেন্ট লোন দিয়ে যা অতিরিক্ত নেওয়া হয় সেটাও সুদ। এটি ইন্টারেস্ট বা সার্ভিস চার্জ যে নামেই নেওয়া হোক না কেন।
৯. লটারী : রেডক্রিসেন্ট বা এজাতীয় সরকার অনুমোদিত কিছু প্রতিষ্ঠান দশটাকা বিশটাকা মূল্যের লটারী টিকেট ছাড়ে। এক লক্ষ, দুই লক্ষ টাকা, গাড়ি, মোটর সাইকেল ইত্যাদি পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়।
এক্ষেত্রে পুরস্কার পায় কেবল দু’তিনজন। আর বাকিরা কিছুই পায় না। তাদের মূল টাকাই গচ্চা যায়। এধরনের লেনদেনকেই শরীয়তের ভাষায় ‘কিমার’ বলে। যা সম্পূর্ণ হারাম। আর এক্ষেত্রে সবাই তো অতিরিক্ত পাওয়ার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০১৫

ফরজ গোসল এর নিয়ম

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের সালাত সহ নানা আমল কবুল হয় না। যেটা ঈমানের ক্ষেত্রে চরম ভয়ানক ব্যাপার।
তাই সাবধান আজই ফরজ গোসল শিখে নিন।।
‪#‎যে‬ সব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহন করলে(নব-মুসলিম হলে)।
‪#‎ফরজ‬ গোসলের সঠিক নিয়মঃ
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।
৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. গড়্গড়া করা ও নাকের নরম জায়গায় পানি পৌঁছাতে হবে।এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।
‪#‎বিদ্রঃ‬ গোসলের ফরয হচ্ছে ৩ টি, ১. নিয়াত করা ২. গড় গড়া সহ কুল্লি করা ও নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌছানো ৩. সমস্ত শরির ভালো করে ধৌত করা যাতে একটা পশম ও শুকনা না থাকে, এই তিন টা কাজ ফরয বাকি গুলা সুন্নত
এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।
(আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে কুর’আন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দিক এবং পূর্বের না জেনে করা ভুল ক্ষমা করুক। আমিন।)

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০১৫

ঈদের নামাজের মাসয়ালা



মাসয়ালা : ঈদের নামাজে আজান ও একামত নেই। হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.)
বলেন, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে এক বার নয় দুই বার নয়; একাধিক বার ঈদের নামাজ পড়েছি তাতে আজান ও একামত ছিল না।’ -সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১৪৭০

মাসয়ালা : সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ হবে তারপর খুতবা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ঈদের মাঠে গিয়ে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করতেন তারপর জনগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ওয়াজ করতেন, কোনো উপদেশ থাকলে উপদেশ দিতেন বা কোনো নির্দেশ থাকলে নির্দেশ দিতেন। আর জনগণ নামাজের কাতারে বসে থাকতেন। কোথাও কোনো বাহিনী প্রেরণের ইচ্ছা থাকলে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেন অথবা অন্য কোনো নির্দেশ জারি করার ইচ্ছা করলে তা জারি করতেন। -সহিহ বোখারি: হাদিস নং ৯০৩

মাসয়ালা : ঈদের নামায দুই রাকাত। -সহিহ বোখারি: হাদিস নং ১৩৪১

মাসয়ালা: ঈদের নামাজে কেরাআত সম্পর্কে প্রখ্যাত সাহাবি নোমান ইবনে বশির (রা.) হতে বর্ণিত এক হাদিসে দেখা যায়, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদ ও জুমার নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ’ পাঠ করতেন। -সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ১৫৫০

সূরা ক্বাফ এবং সূরা ইক্বতারাবতিস্ সায়া পড়ার কথাও হাদিসে পাওয়া যায়। -সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ১৫৪৯

মাসয়ালা : ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির বলা হয়। হিজরি প্রথম সনে এর প্রচলন শুরু হয়েছে। ঈদের নামাজে ৬টি তাকবিরের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে আহকামুল ইসলাম কিতাবে লেখা হয়েছে, ‘ঈদের দিন মানুষ খুব ভালো কাপড় পরিধান করে জাঁকজমকের সঙ্গে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে। এর পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার প্রশংসাজ্ঞাপক বাক্য তথা সানা ও তাসবিহ আদায় করে চলা দরকার। অতএব প্রতিবার কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে তাকবির বলা দ্বারা একথা বুঝানো হচ্ছে যে, আমাদের মতো মানুষের জাঁকজমকের চেয়ে আল্লাহতায়ালার জাঁকজমক ও ইজ্জত অনেক বড়। সুতরাং ৬টি অতিরিক্ত তাকবির দ্বারা এদিকে ইশারা করা হয়েছে।’ -মাসায়েলে ঈদাইন: ২৬; আহকামে ইসলাম: ১৬৩

ঈদের জামাত সম্পর্কীয় মাসয়ালা
মাসয়ালা : ইমাম সাহেব জুমার মতো দু’টি খুতবা দিবেন। তবে জুমার খুতবা দেয়া ফরজ আর ঈদের খুতবা দেয়া সুন্নত কিন্তু ঈদের খুতবা শুনা ওয়াজিব। ওই সময় কথাবার্তা, চলাফেরা ইত্যাদি যেকোনো কাজ নিষেধ।

মাসয়ালা : ঈদের নামাজের পূর্বে মহিলা হোক কিংবা পুরুষ, বাড়িতে কিংবা মসজিদে অথবা ঈদগাহে নফল নামাজ পড়া মাকরূহ।

মাসয়ালা : সম্ভব হলে এলাকার সবাই এক স্থানে একত্রে পড়া উত্তম। তবে কয়েক জায়গায় পড়াও জায়েজ।

মাসয়ালা : ঈদের নামাজ না পড়তে পারলে কিংবা নামাজ নষ্ট হয়ে গেলে তার কাজা করতে হবে না, যেহেতু ঈদের নামাজের জন্য জামাত শর্ত। তবে বেশকিছু লোকের ঈদের নামাজ ছুটে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তারা অন্য একজনকে ইমাম বানিয়ে নামাজ পড়তে পারবেন।

মাসয়ালা : ১ শাওয়ালের দ্বিপ্রহরের পূর্বে শরিয়তসম্মত কোনো কারণে ঈদের নামাজ না পড়তে পারলে শাওয়ালের ২ তারিখে পড়ার অনুমতি আছে। এরপর পড়া যাবে না।

মাসয়ালা : কেউ ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পেলে সালামের পর যখন উক্ত ব্যক্তি ছুটে যাওয়া রাকাতের (প্রথম রাকাত) জন্য দাঁড়াবে তখন প্রথমে সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা...), তারপর আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ে ফাতেহা ও কেরাতের পর রুকুর পূর্বে তাকবির বলবে। ফাতেহার আগে নয়।

মাসয়ালা : ইমাম তাকবির ভুলে গেলে রুকুতে গিয়ে বলবে, রুকু ছেড়ে দাঁড়াবে না। তবে রুকু ছেড়ে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে আবার রুকুতে গেলেও নামাজ নষ্ট হবে না। বেশি লোক হওয়ার কারণে সহুসিজদা দিতে হবে না।

মাসয়ালা : কোনো লোক যদি ইমাম সাহেবকে তাকবির শেষ হওয়ার পরে পায় সে তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে প্রথমে ওয়াজিব তিন তাকবির বলে নিবে। আর রুকুতে পেলে যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, তাকবির বলেও ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাবে তাহলে তাহরিমা বেঁধে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে নিবে, তারপর রুকুতে যাবে। আর দাঁড়িয়ে তাকবির পড়তে পড়তে ইমাম সাহেবকে রুকুতে না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাহরিমা বেঁধে রুকুতে চলে যাবে এবং রুকুর তাসবিহ না বলে প্রথমে তাকবির বলে নিবে, রুকুতে তাকবির বলার সময় হাত উঠাবে না, এবং সময় পেলে রুকুর তাসবিহ পড়বে, না পেলে না পড়বে। আর তাকবির শেষ করার পূর্বেই যদি ইমাম রুকু থেকে মাথা তুলে ফেলেন তাহলে মুক্তাদিও তুলে ফেলবে। তাকবির বাকি থাকলে তা ক্ষমাযোগ্য।


বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০১৫

জাকাতের সঠিক হিসাব

জাকাত নামাজ রোজার মতই একটি ফরজ ইবাদত। জাকাত আদায় না করলে ধন-সম্পদ ময়লা হয়ে যায়। কুরআনে আছে জাকাত আদায় না করলে কিয়ামতের দিন ধন-সম্পদ গলায় বেড়ী হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে। হাদীসে আছে বেড়ী হিসেবে পরানো সম্পদ সাপ হয়ে দংশন করবে এবং বলবে আমি তোমার সম্পদ। এ জন্য দুনিয়াতেই সময়মত জাকাত দিয়ে দিতে হবে।
জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে আগে সুষ্ঠুভাবে জাকাত বের করতে হবে। সুষ্ঠু জাকাত বের করার জন্য দুটি জিনিস বেশ সতর্কতার সাথে পালন করতে হয়। ১. জাকাত বের করার নির্দিষ্ট তারিখ। ২. সম্পদ হিসাব করে জাকাত বের করা।
জাকাত বের করার নির্দিষ্ট তারিখ: যেদিন সম্পদের বছরপূর্তি হয়, সেদিনই জাকাত ফরজ হয়। বছরপূর্তির একদিন পূর্বেও জাকাত ফরজ হয় না। একদিন পরেও না। এ জন্য জাকাত বের করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ থাকতে হয়। জাকাত বের করার তারিখটি আরবী মাস অনুযায়ী হতে হয়। অতীতে প্রতি বছর কোন তারিখে জাকাত বের করা হয়েছে তার যদি নির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকে, তাহলে যে কোন একটি তারিখকে জাকাতের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে। এক্ষেত্রে শবে বরাতের দিনকে বেছে নেওয়া যায়। প্রতি বছর শবে বরাতের দিনে জাকাত বের করা হলো। আরবী মাসের এই দিনটিকে খুব সহজে মনে রাখা যায়। আবার এই দিনটি কবে আসবে, তাও আগে থেকে জানা যায়। জাকাতের ক্ষেত্রে দুটি জিনিস বেশ লক্ষ্যনীয়। একটি হলো জাকাত বের করা। অপরটি হচ্ছে জাকাত আদায় করা। জাকাত বের করার অর্থ কত টাকা জাকাত আসছে হিসাব করে তা বের করা। আর জাকাত আদায় করার অর্থ হচ্ছে গরীব-মিসকীনকে জাকাতের অর্থ দেওয়া। রমজানে জাকাত বের করাতে কোন অতিরিক্ত ফজিলত নেই। অতিরিক্ত ফজিলত জাকাত আদায় করাতে। অর্থাৎ জাকাত প্রদান করাতে। যদি আগে জাকাত বের করা থাকে তাহলে রমজানে জাকাত আদায়টা সহজ হয়ে যায়। 
নির্দিষ্ট তারিখে জাকাত কেন বের করতে হয়, তার উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন শবে বরাতের দিনে আপনার জাকাত আদায়যোগ্য সম্পদ ১০ লক্ষ টাকা। তাহলে শতকরা ২.৫% হারে এর জাকাত হবে ২৫,০০০/-। কিন্তু শবে বরাতের পরের দিন বা আগের দিন আপনার মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা। আগের দিন বা পরের দিন জাকাত আদায় করার কারণে আপনি অতিরিক্ত আরও ২৫,০০০/- জাকাত দিচ্ছেন। অথচ এই অতিরিক্ত ২৫,০০০/- আপনার জাকাত নয়। নির্দিষ্ট তারিখ ব্যবহার না করার কারণে আপনি অজান্তে এই অতিরিক্ত টাকা জাকাত মনে করে দিচ্ছেন। অনুরূপ উল্টাও হতে পারে। অর্থাৎ শবে বরাতে আপনার মালিকানাধীন জাকাতযোগ্য সম্পদ ছিলো ২০ লক্ষ টাকা। আপনি ঐ দিন জাকাত বের না করে পরের দিন বা আগের দিন জাকাত বের করলেন। সেদিন ছিলো ১০ লক্ষ টাকা। তাহলে ফলাফল দাড়াচ্ছে, আপনার উপর মূলত জাকাত ফরজ হয়েছে ৫০,০০০/-। কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখ ব্যবহার না করার কারণে আপনি ২৫,০০০/- টাকা কম জাকাত দিচ্ছেন। অর্থাৎ অসতর্ক হওয়ার কারণে আপনি অজান্তে জাকাতের টাকা ভোগ করছেন। আপনি গরীব-মিসকীনের হক নষ্ট করে খেয়ে নিচ্ছেন। এ জন্য জাকাতের নির্দিষ্ট তারিখ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোন কারণে নির্দিষ্ট তারিখে জাকাত বের করতে না পারলে পরে যে কোনদিন জাকাত বের করা যাবে। তবে যেদিনই জাকাত বের করা হোক না কেন, জাকাত বের করার সময় ঐ নির্দিষ্ট তারিখের সম্পদের স্থিতি হিসেবেই জাকাত বের করতে হবে।
সম্পদ হিসাব করে জাকাত বের করা: অনুমান করে নয়, বরং সম্পদ হিসাব করেই জাকাত দেওয়ার নিয়ম। কারও সম্পদ আছে ১৫ লক্ষ টাকার মতো। কিন্তু সে অনুমান করল তার সম্পদ আছে ১০ লক্ষ টাকার। তাই সে ১০ লক্ষ টাকার জাকাত দিলো। দেখা গেলো সে ৫ লক্ষ টাকার জাকাত কম দিলো। অর্থাৎ এ জাকাত সে নিজে ভোগ করল। এ জন্য জাকাত হিসেব করে দিতে হয়। মোট হিসাবের চেয়েও কিছু বাড়তি সম্পদ ধরে নিয়ে জাকাত দেওয়াটা উত্তম।
জাকাত দিবেন যেভাবে: ১. প্রথমত জাকাতের জন্য আলাদা হিসাব রাখতে হবে। যতটুকু জাকাত প্রদান হবে তা সেখান থেকে মাইনাস করে রাখতে হবে। জাকাতের হিসাব রাখলে যখন ইচ্ছা, যতটুকু ইচ্ছা স্বাধীনভাবে প্রদান করা যায়। কতটুকু অনাদায়ী থাকলো তা জানা যায়। তাই সুবিধামত কোন খাতা বা ডায়েরীতে এই হিসাব লিখে রাখতে হবে। ২. গরীব আত্মীয় স্বজন জাকাত পাওয়ার প্রথম হকদার। তাদের দিলে দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় খরচ, লেখাপড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি বাবদ নগদ অর্থ বা দ্রব্য দেওয়া যায়। কাউকে জাকাত দেওয়ার সময় ‘এটা জাকাতের টাকা’ বলার কোন প্রয়োজন নেই। বরং এমনক্ষেত্রে জাকাতের টাকা না বলে দেওয়াটাই উত্তম। বলতে হবে, তোমাদের প্রয়োজনে এটা দিলাম, রাখো, সুবিধামত খরচ করো। এক্ষেত্রে বাজারের ‘জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’ পরিহার করা উচিত। যে কাপড় নিজেরা পরি না সে কাপড় জাকাত হিসেবে কেন দিবো। দশজন নিম্নমানের কাপড় না দিয়ে পাঁচ জনকে ভাল মানের কাপড় দেওয়া উচিত। ৩. যারা মাদরাসায় লেখাপড়ে করে তাদেরও জাকাত দিলে দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। 
আল্লাহ আমাদের সকল ইবাদত কবুল করুন।

জাকাত ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান

আল্লাহ তায়ালা রমজান দিয়েছেন মুত্তাকী হওয়ার জন্য। মুত্তাকীর অন্যতম গুণ হচ্ছে, আমি (আল্লাহ) তাদেরকে যে রুজী দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (সূরা আল বাকারা-৩) অর্থাৎ যারা মুত্তাকী তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেন। এই ব্যয়কে পরিভাষায় সদকা বলা হয়। সদকা দু ধরনের। একটি নফল সদকা, অপরটি ফরজ সদকা। ফরজ সদকাকে পরিভাষায় জাকাত বলা হয়। অর্থাৎ জাকাতও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। জাকাত বছরের যে কোন সময়ই আদায় করা যায়। কিন্তু পবিত্র রমজান মাসে যেহেতু একটি নফল আদায় করলে অন্য মাসের একটি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায় এবং একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায় তাই রমজান মাসে নফল সদকা এবং ফরজ সদকা অর্থাৎ জাকাত আদায়ের পরিমাণ বেশী বেশী হয়। এছাড়া হাদীস শরীফে আছে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, রমজান মাসের রোজা ব্যতীত সবচেয়ে উত্তম রোজা কোনটি? তিনি বললেন, রমজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও এর জন্য প্রস্তুতিমূলক শাবান মাসে রোজা রাখা। তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, কোন দান সর্বাপেক্ষা উত্তম? জবাবে তিনি বললেন, রমজান মাসের দান সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। (তিরমিজী)
নামাজ যেমন ফরজ, রোজা যেমন ফরজ তেমনি জাকাতও ফরজ ইবাদত। জাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পবিত্রতা। জাকাত আদায়ের দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং এতে খুব বরকত হয়। হাদীস শরীফে আছে, জাকাত আদায়ের কারণে ধন-সম্পদের কোন প্রকার ঘাটতি দেখা যায় না, বরং তা আরও বৃদ্ধি পায়। জাকাত হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ যা অত্যাবশ্যকীয় ও সম্পূর্ণ নিশ্চিত একটা বিধান। কোন মুসলমান এটাকে অস্বীকার করতে পারে না। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. তাঁর খেলাফত একদল লোককে শুধু জাকাত অস্বীকার করার কারণে মুরতাদ ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা যদি নামাজ কায়েম কর, জাকাত দাও, আমার রাসূলগণের উপর ঈমান আন ও তাঁদেরকে সম্মান কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান কর তবে তোমাদের পাপ অবশ্যই মোচন করব এবং নিশ্চয়ই প্রবেশ করাব জান্নাতে যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত হবে। এরপরও কেউ কুফরী করলে সে সরল পথ হারাবে। (সূরা আল মায়েদ-১২)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়াজ রা.কে ইয়ামানের গভর্নর নিযুক্ত করে পাঠান এবং তাকে এই নির্দেশ দেন- তুমি ইয়ামানবাসীকে আল্লাহর একত্ববাদ ও আমার উপর ঈমান আনয়নের দিকে ডাকবে। তারা তোমার ডাকে সাড়া দিলে এবং তোমার কথা মেনে নিলে তাদেরকে এ কথা বলবে, আল্লাহ তোমাদের উপর প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ ফরজ করেছেন। তারা তোমার এ কথাও মেনে নিলে তাদেরকে বলবে, আল্লাহ তোমাদের ধন-সম্পদের উপর জাকাত ফরজ করেছেন যা তোমাদের ভিতর সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সম্পদ হতে গ্রহণ করে সহায়-সম্বলহীন ব্যক্তিবর্গের মাঝে বণ্টন করা হবে। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
অপর এক হাদীসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি যখন তোমার সম্পদের জাকাত আদায় করে ফেললে তখন তোমার উপর আরোপিত কর্তব্যও পালন করে ফেললে। (তিরমিজী, বুখারী)
জাকাত আদায় করলে প্রচুর সওয়াব আছে। অনুরূপ জাকাত আদায় না করলে প্রচুর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। জাকাতের সওয়াবের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে। প্রতেক শীষে একশত শস্যকণা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল বাকারা-২৬১)
আর জাকাত আদায় না করার পরিণাম বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং ওগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে ওগুলো উত্তপ্ত করা হবে এবং ওগুলো দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে সেদিন বলা হবে, এটা ওই যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। (সূরা আত তাওবা-৩৪-৩৫)
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যাকে আল্লাহ পাক ধনৈশ্বর্য দান করেছেন এবং সে এই ধন-সম্পদের জাকাত প্রদান করে না, কিয়ামতের দিন এই সম্পদ বিষধর সর্পে পরিণত হবে। এই সর্পের চোখে দুটি সাদা বিন্দু থাকবে। সর্পটি তার গলায় ঝুলতে থাকবে এবং তার উভয় অধর প্রান্তে দংশন করতে থাকবে ও বলবে, আমিই তোমার সঞ্চিত ধন। (বুখারী)
জাকাত কোন দয়া নয়। এটা অবশ্য কর্তব্য দায়িত্ব। সুতরাং জাকাত দেয়ার নাম করে দরিদ্র মানুষ ডেকে নিয়ে এসে লাশের সারি তৈরী না করে উচিত তাদের দ্বারে গিয়ে জাকাত পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার তাওফীক দান করুন।

জাকাত-ফিতরা আদায় প্রসঙ্গে কিছু কথা

ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। হজ ছাড়া প্রায় সব ইবাদতই করা হয় এ মহান মোবারকময় মাসে। এ মাসে জাকাত ও সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা হয়ে থাকে। জাকাত বছরের যেকোনো সময় ফরজ হতে পারে। কেননা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যক্তি মালিকানায় এক বছর থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। এ বছরপূর্তি বছরের যেকোনো দিন হতে পারে। রমজানে বেশি পুণ্যের আশায় দানের হিড়িক পড়ে। দান-সাদকাকে উত্তম সাদকা বলা হয়েছে, তাই সাধারণত রমজানেই জাকাত আদায় করা হয়। অনেকের ধারণা রমজানেই জাকাত আদায় করতে হয়, অন্য সময় জাকাত আদায় করা যায় না। এ ধারণাটি একেবারে ভুল। রমজান ছাড়াও জাকাত আদায় করা যায়। আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, নামাজ-রোজা যেমন ফরজ, তেমনি জাকাতও একটি ফরজ ইবাদত। এটাকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তারা অনেকেই ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন না। আবার যারা জাকাত আদায় করেন, তাদের মধ্যে এমনও অনেকে আছেন, যাদের মানসিকতায় শ্রেণিবৈষম্যের মনোভাব বিদ্যমান। মনে রাখতে হবে, জাকাত কোনো করুণা বা দয়া নয়। এটা অবশ্য কর্তব্য দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ধনীদের সম্পদে যাচ্ঞাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। সুতরাং জাকাত হচ্ছে দরিদ্র শ্রেণীর অধিকার। আমরা প্রায় প্রতি বছরই মর্মান্তিক ও অমানবিক দৃশ্য দেখি যে, জাকাত দেয়ার নাম করে মাইকিং করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ডেকে নিয়ে এসে লাশের সারি তৈরি করা হয়। এবারো ময়মনসিংহে জাকাত নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এটা একদম অনুচিত। এটা ইসলামের আদর্শ নয়। ইসলাম এভাবে জাকাত প্রদান করতে বলেনি। বরং উচিত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা জাকাতের হকদার প্রাপক, তাদের দ্বারে গিয়ে জাকাত পৌঁছে দেয়া। সমাজে বহু দরিদ্র লোক রয়েছেন, যারা আত্মসম্মানে লাজ-লজ্জায় নিজেদের অভাবের কথা কাউকে বলেন না। কারো কাছে হাত পাতেন না। কারো দুয়ারে যান না। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এ ধরনের দরিদ্র শ্রেণীর লোককে খুঁজে খুঁজে তাদেরকে জাকাত পৌঁছে দিতে বলেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২৭৩ নং আয়াতে বলেন, (দান খয়রাত করো) ওই সব গরিব লোকদের জন্য, যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে, জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাচ্ঞা না করার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ভিক্ষা চায় না।
আগেই বলা হয়েছে যে, জাকাত একটি ফরজ ইবাদত। সুতরাং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তুচ্ছ ভেবে অবহেলা করে যেনতেনভাবে জাকাত আদায় মোটেই কাম্য নয়। জাকাত আদায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতা অর্জন। বস্তুভিত্তিক ও আধ্যাত্মিক সব ধরনের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতাই এখানে উদ্দেশ্য। জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে দরিদ্রগোষ্ঠীর প্রতি তুচ্ছ মনোভাব প্রকাশ করা, তাদের প্রতি শ্রেণিগত বৈষম্য আচরণ প্রকাশ করা আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বাজারের ‘জাকাতের লুঙ্গি-শাড়ি-পাঞ্জাবি’ দিয়ে জাকাত আদায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলা ও তুচ্ছ মনোভাব প্রকাশের নামান্তর। বাজারে ‘জাকাতের লুঙ্গি-শাড়ি-পাঞ্জাবি’ নামে যা বিক্রয় করা হয়, তা কি পরিধানযোগ্য বস্ত্র? যদি পরিধানযোগ্য বস্ত্র হয়, তাহলে আমরা নিজেদের জন্য, নিজেদের পরিবারের জন্য কখনো এ ধরনের বস্ত্র ক্রয় করি কি? বাজারের সিলমারা ‘জাকাতের লুঙ্গি-শাড়ি-পাঞ্জাবি’, যে কাপড় নিজেরা পরি না, সে কাপড় দিয়ে আর জাকাত নয়। দশজনকে নিম্নমানের কাপড় না দিয়ে পাঁচজনকে ভালো মানের কাপড় দেয়া অনেক উত্তম।
এবার আসি সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা বিষয়ের দিকে। এটা আদায় করতে হয় ঈদুল ফিতরের দিন। যেহেতু রমজানে সওয়াব বেশি তাই এটা রমজানেই আদায় করা হয়। মদিনায় সাদকাতুল ফিতর দেয়া হয়েছে যব, খেজুর, কিশমিশ, গম ও পনিরের মাধ্যমে। আলোচ্য খাদ্যদ্রব্যগুলোর মধ্যে গম ছাড়া অন্যগুলো দ্বারা আদায় করলে পূর্ণ এক ‘সা’ আদায় করতে হয়। শুধু গমের ক্ষেত্রে অর্ধ ‘সা’। আমাদের দেশে সাধারণভাবে ফিতরার যে পরিমাণ ঘোষণা করা হয়, তা অর্ধ ‘সা’ গম বা আটার মূল্যমান। সে হিসেবে এ বছর সারা দেশে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা জনপ্রতি ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যদি উন্নতমানের (আজওয়া) খেজুরের মূল্যে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ফিতরার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪,৩২৩ টাকা। (১৩০০ টাকা কেজি হিসেবে ৩.৩২৫ কেজির মূল্য। বাজারদর কমবেশি হিসেবে পরিমাণ কমবেশি হতে পারে) ঘোষিত পরিমাণে ফিতরা আদায় করলে ফিতরা আদায় হবে। তবে সমাজের প্রত্যেকেই যদি স্বীয় সামর্থ্য অনুযায়ী (কেউ খেজুর, কেউ পনির, কেউ কিশমিশ মূল্যমানের) ফিতরা আদায় করেন, তাহলে অধিক পরিমাণে আদায় করার কারণে দরিদ্র শ্রেণী বেশি লাভবান হবেন। আজ পর্যন্ত কেউ এ কথা বলেননি, গম ছাড়া অন্যান্য বস্তুকে মাপকাঠি বানিয়ে সাদকাতুল ফিতর নির্ধারণ মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। যেহেতু তা রহিত হয়নি, তাই যারা সামর্থ্যবান তাদের উচিত উচ্চপরিমাণে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা। এটা ইনসাফের কথা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ঈদে যিনি ঈদের বাজার করছেন লক্ষাধিক টাকার তিনিও দেবেন ৬০ টাকা হারে সাদকাতুল ফিতর, আর যিনি মাত্র কয়েক হাজার টাকার বাজার করছেন তিনিও দেবেন ৬০ টাকা হারে সাদকাতুল ফিতর- এটা ইনসাফ হলো না। এটা কোনোক্রমেই বিবেকগ্রাহ্য হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ভাবতে হবে। সাহাবায়ে কেরাম রা: গম দ্বারা এ জন্যই সাদকাতুল ফিতর আদায় করতেন যে, তখন এর মূল্য সবচেয়ে বেশি ছিল। পাঁচ প্রকারের খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে বর্তমানে গমের মূল্য সবচেয়ে কম। তাহলে এ যুগে সবার জন্য বিশেষ করে বিত্তবানদের জন্যও শুধুই গম বা তার মূল্য দ্বারা সাদকাতুল ফিতর আদায় করা কী করে সমীচীন হতে পারে? বিষয়টা নিয়ে আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে, নতুবা হাদিসের আমল অনাদায় থাকার কারণে কিয়ামতের ময়দানে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। 
লেখক : গবেষক ও অনুবাদক