রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

আল-জুযউল মাফকূদ পুস্তকের প্রকৃত সংকলন তথ্য:

“আল-জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের প্রকৃত উদ্ভাবক রেজভি ঘরানার মাওলানা সৈয়দ আমিন মিঞা এবং হাজী মুহাম্মাদ রফিক বারকাতী সাহেব :
কয়দিন আগে রেজভী মতাবলম্বী মওলানা সাইফুল ইসলাম রুবায়েত সাহেবের একটি খসড়ার উদ্ধৃতিতে একটি লেখায় যা বুঝলাম তার নির্যাস হল, “আল-জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের প্রকৃত উদ্ভাবক ড: ঈসা মানে নন, বরং রেজভি ঘরানার দু’জন ব্যক্তিই পুস্তকটির প্রকৃত উদ্ভাবক ।
(প্রমানের প্রয়োজনে স্কিনশট দেয়া যাবে।)
হাদিসশাস্ত্রের মুহাক্কিকগণ যে হাদিস কোথাও পাননি, মরহূম আহমদ রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার ও তার ভক্ত অনুরক্তরা বিশেষত, রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার মারহারা শরীফের সাজ্জানশীন মাওলানা সৈয়দ আমিন মিঞা সাহেব এবং বারকাতী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মুহাম্মাদ রফিক বারকাতী সাহেব সেটিকে “মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক” কিতাবে সাহাবী হযরত জাবির (রা)-এর নামে প্রচার করে বলতে লাগল যে, “দেখ দেখ!! জাবির (রা)-এর হাদিসে লেখা আছে রাসূলুল্লাহ (সা) নূরের তৈরি!” অথচ এ হাদিস নিঃসন্দেহে জাল!
এটি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা ভান্ডারি ছূফীরা হাদিস নামের জাল হাদিসটি ‘মুসান্নাফ’ এর কোন ছাপায় কখনো পায়নি এমনকি ‘মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক’ এর পূর্বের কোন ছাপায়ও কখনো পায়নি ! আর যখন মরহূম আহমদ রেজাখাঁ’র পীর-পরিবার ও তার ভক্ত অনুরক্তরা জানলো যে ‘মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক’ এর ছাপারই (পঞ্চম খণ্ডের) কিছু অধ্যায়ের শুরুতে কয়েকটি পাতা বাদ গিয়েছে, তখন তারা বাদ পড়া হতে ফায়দা উঠাল এবং ধোকা দিয়ে বলতে লাগল যে, উক্ত হাদিস কিতাবটির শুরুতেই ছিল।
তারা ধোকাবাজি করে প্রথম অধ্যায়ে “কিতাবুল ঈমান” একটি অধ্যায় রচনা করে তাতে জাল হাদিসটি নিজ থেকে বানানো একটি সনদসহ ঢুকিয়ে দিল। যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, এ সনদ কোথায় পেলে? তখন তাদের নিকট নিজেদের হাতেগড়া ‘আল-ঝুযউল মাফকূদ’ নামের পুস্তকটি ছাড়া দেখানোর মত আর কিছু থাকেনা। মানে তাদের দৌড় এ পর্যন্তই।
রেজভীদের ভাষ্য মতে, ঐ হস্তলিখিত পান্ডলিপিটি নাকি পরীক্ষা করে দেখা গেল, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকের ১০টি অধ্যায় এবং এগুলোর অন্তর্গত ৪০টি হাদীছ শরীফ রয়েছে, যা আল্লামা আজমী’র প্রকাশিত সংস্করণে নেই! তারপর, দুবাই “আওকাফ” এর সাবেক পরিচালক ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী সাহেব হারিয়ে যাওয়া প্রথম ১০টি অধ্যায় এবং এগুলোর অন্তর্গত ৪০টি হাদীছ শরীফের উপরে মূল্যবান ভূমিকা ও টীকা লিখে “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ (অর্থ: মুসান্নাফের প্রথম খন্ডের হারিয়ে যাওয়া অংশ)” নামে বৈরুত থেকে প্রকাশ করেন।”
অপ্রিয় হলেও সত্য কথা, দুবাই ‘আওকাফ’ হতে বহিষ্কৃত ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী নামক খোঁচাখোঁচা দাড়ি’র ফাসেক লোকটি “আল- জুযউল মাফকূদ” পুস্তকের ভূমিকার লেখক কিনা তাও প্রমাণিত নয়, বরং পুস্তকটির ভুমিকার লেখক হিসেবে সেখানেই ডঃ ঈসা মানে’র জায়গায় আমরা অন্য আরেক জনকে উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি। তাতে লেখা كتبه عبدالحكيم شرف القادري (ভুমিকা লিখেছেন, আব্দুল হাকিম শরফ আল-কাদেরী)।
প্রমাণস্বরূপ নিচে তার স্কিনশট দেয়া হল।
√মূলকথায় ফিরে এলাম-
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আজমী রহঃ কর্তৃক প্রকাশিত “মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক” কিতাবে কথিত হাদিসে জাবের পাওয়া না যাওয়ায় বাতিলপন্থিদের নূরের হাদিসটি অগ্রহণযোগ্যতার তলানিতে ঠেকে।
ডজনখনেক মুহাক্কিক হাদিস বিশারদদের সীমাহীন সমালোচনার কারণে যা এতকাল ব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার শূন্যের কোটায় ছিল তার উপর মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে তার উপস্থিতি ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আহলে বিদআত বাতিল ফেরকার ভেতর চরম হতাশা দেখা দেয়। যে রেওয়ায়েতটির উপর ভিত্তি করে তাদের নূরী আকিদার গোড়াপত্তন হয়েছে, সে রেওয়ায়েতটির সনদ বা সূত্র সঠিক প্রমাণ করতে না পারলে কিছুতেই তাদের শেষরক্ষা হবে না, তা বুঝার আর বাকি থাকল না।
যেহেতু তাদের এতকালব্যাপী দাবী ছিল হাদিসে জাবের তথা ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻟﺦ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ এটি মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে ছিল। আর যখন তা অসত্য প্রমাণিত হল, তখনি তাদের টনকনড়তে শুরু করল। চরম হতাশা আর অসস্তির ভেতর অবশেষে তারা হাদিসে জাবেরে অস্তিত্ব ও তার সনদ (?) আবিস্কার করবে মর্মে স্বীদ্ধান্তে পৌঁছলো।
বড্ড মজার কথা হল,
বাতিলপন্থীরাও স্বীকার করে থাকে যে “আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহঃ এর মত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস তিনি নূরের হাদিসটি মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবে পাননি। আর সেকারণেই নাকি তিনি হাদিসটিকে জাল বলেছেন।”
আরো মজার কথা হল,
গত কিছুদিন আগের কথা, পাকিস্তানি রেজভিদের তৈরিকৃত ঊর্দূ ভাষায় একটি ভিডিও দেখতে পেলাম। যা শুনে আমি তো পুরোই ‘থ’ বনে গেলাম। আলেম-ছদ্মবেশী মানুষগুলোর কথাবার্তায় কত যে বিনোদন!! সেখানে জনৈক রেজভি ঘরানার মওলানা সাহেব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করে এক পর্যায় বলেছেন-
“উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস “শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সিদ্দিক আল গুমারী রহঃ এবং শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল- হারারী উনারা হাদিসে জাবেরকে মওদ্বূ বা জাল বলার কারণ এই যে, তখন তাদের কাছে আব্দুর রাজ্জাকের এই হাদিস বা কিতাবটির সব অংশ মজুদ ছিল না।”
শুনে খুবই হাসলাম। কারণ, আহলে বিদআত রেজভিরাই আবার দাবী করে যে, ডঃ ঈসা মানে হিমইয়ারী নামক খোঁচাখোঁচা দাড়ি’র ফাসেক লোকটি নাকি হাদিসে জাবের মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক নামক কিতাবটিতে খুঁজে পেয়েছেন!
কতবড় বালখিল্য কথা এবার বুঝুন!! অথচ ড: ঈসা মানে তাদেরই পরবর্তীকালের মানুষ, যিনি বয়স প্রজ্ঞা আর ব্যক্তিত্বের বিচারে কিছুতেই শায়খ আল গুমারী আর শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল- হারারী উনাদের সমপর্যায়ের নন। আহলে বিদআত রেজভিরা আরো বলে থাকে যে, উক্ত দুজন নাকি ২০-৪০ বছর আগে এই হাদিসের ব্যাপারে কথা বলেছেন! তাদের কথা শুনে যে কেউ বিনোদন বোধ করবে। কারণ, উক্ত দুজন শায়খ (রেজভিদের দাবি অনুসারে) যদিও ২০-৪০ বছর আগে হাদিসে জাবের সম্পর্কে কথা বলেছেন, কিন্তু আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) হাদিসে জাবের সম্পর্কে যেসব কঠোর উক্তি করলেন তাও কি গত ২০-৪০ বছর আগের কথা? অথচ, আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) এর ইন্তিকাল হয় ৯১১ হিজরিতে। তার মানে তিনি আজ (১৪৩৬ হি:/২০১৫ ইং) থেকে প্রায় ৫২৫ বছর আগে ইন্তিকাল করেছেন।
এ দেখুন রেজভী তথা বেরলবীরা আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) সম্পর্কে কী বলেছে! তাদের ভিডিওব্লগে আপনি আরো যা শুনতে পাবেন তা হল-
ভিডিও এর ভষ্য:
“জালালুদ্দিন সুয়ুতী(র) এর কাছেও সেই নূরের হাদিসটি মজুদ ছিলনা। তাই তিনি জাল বলবেন এটাই স্বাভাবিক।”
Π আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ) হাদিসে জাবের সম্পর্কে যেসব কঠোর উক্তি করলেন তা নিম্নরূপ :
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক ও মুহাদ্দিস ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (আলাইহির রাহমাহ)-কে প্রশ্ন করা হল-
ﻭﻫﻞ ﺍﻟﻮﺍﺭﺩ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ : ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺠﺰﺃﻩ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭﻝ ﺍﻟﻌﺮﺵ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻘﻠﻢ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﻠﻮﺡ ، ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻭﺟﺰﺃﻩ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭﻝ ﺍﻟﻌﻘﻞ ، ﻭﺧﻞﻕ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻤﻌﺮﻓﺔ ، ﻭﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻭﺍﻟﻘﻤﺮ ﻭﻧﻮﺭ ﺍﻷﺑﺼﺎﺭ ﻭﻧﻮﺭ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ، ﻭﺟﻌﻞ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﺗﺤﺖ ﺳﺎﻕ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻣﺪﺧﻮﺭﺍ ﻳﻘﺘﻀﻲ ﺃﻥ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻏﻴﺮ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﺃﻡ ﻻ ؟
অনুবাদ : আল্লাহ তায়ালা নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি করেছেন….. মর্মে এ রকম কোনো হাদিস (কোথাও) বর্ণিত হয়েছে কি? তিনি প্রতিউত্তরে বলেছেন –
ﻭﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ ﻟﻴﺲ ﻟﻪ ﺇﺳﻨﺎﺩ ﻳﻌﺘﻤﺪ ﻋﻠﻴﻪ
অনুবাদ : প্রশ্নে উল্লিখিত হাদিসটির এমন কোনো সনদ (সূত্র) নেই, যার উপর নির্ভর করা যায়। অর্থাৎ এটি অনির্ভরশীল সনদ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
[ সূত্র : আল্লামা জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রাহ:) লেখিত, আল- হাউবী লিল ফাতওয়া- ১/৩৮৪, ফাতওয়া আল কুর’আনিয়্যাহ শীর্ষক সূরা আল মুদ্দাসসির (তাফসির) পর্ব দ্রষ্টব্য ]
আরেকটু দাঁড়ান! কথা এখানে শেষ নয়। রেজভী মতাবলম্বী সাইফুল ইসলাম রুবায়েত সাহেবের উদ্ধৃতি দিয়ে ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী সাহেব লিখেছেন:
“মুসান্নাফে আব্দুর রাঝ্ঝাক প্রাচীনতম ও বৃহত্তম হাদীছ গ্রন্থ। এটি হারিয়ে গিয়ে অন্যান্য কিতাবের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলো এবং দীর্ঘ ১১০০ বছর পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। এরপর দেওবন্দের মুহাদ্দেছ মৌলভী হাবীবুর রহমান আজমী (জুলাই ১৯০০ – ১৭ই মার্চ ১৯৯২) প্রায় ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করে মুসান্নাফের সিংহভাগ উদ্ধার করেন। এটি ১৯৭০ সালে ১১ খন্ডে বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়।”
সুসচেতন পাঠকবৃন্দ এখানে তাদের আকিদা হল,
√ ” দীর্ঘ ১১০০ বছর পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।”
যদি তাই হয়, তাহলে আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ কাস্তালানী রহঃ এর “মাওয়াহিবে লাদুনিয়া” কিতাবের রেফারেন্স দেন কেন?
সেখানে মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক কিতাবের সূত্র উল্লেখ রয়েছে বলিয়া অহর্নিশি বুলি আওড়ান কেন? তাহলে কি “মাওয়াহিবে লাদুনিয়া” কিতাবটি তথাকথিত দীর্ঘ ১১০০ বছরের আগের রচনা?
মাথা ঠিক আছে তো! আবার অপরদিকে নিজেরাই দাবী করে বলেন কেন যে,
“ড: ঈসা মানে হাদিসে জাবের মুসান্নাফে আব্দি রাজ্জাক নামক কিতাবটিতে খুঁজে পেয়েছেন!”
তাহলে কি ড: ঈসা মানে আল-হিমাইয়ারী د. عيسي مانع الحميري তিনি আজ থেকে দীর্ঘ ১১০০ বছর আগে আরো একবার দুনিয়ায় এসেছিলেন? নাউযুবিল্লাহ। আপনারাও যে এতবড় বালখিল্যপূর্ণ কথা বলতে পারদর্শী তা আগে জানা ছিল না। আর কিছু দিন পর আবার কী বলেন তাও ভেবে কূল পাচ্ছিনা।
Π যাইহোক, এবার আমরা দেখব যে, আরবীয় শীর্ষ মাশায়েখবৃন্দের পক্ষ হতে রেজভিদের الجزء المفقود নামক ভুঁইফোঁড় পুস্তকটির মুখোশ উন্মোচন করে দেয়ার কোনো প্রমাণ রয়েছে কিনা!
হ্যাঁ, রেজভিদের الجزء المفقود নামক ভুঁইফোঁড় পুস্তকটির মুখোশ উন্মোচন করে দেয়ার প্রমাণ নিশ্চয় রয়েছে। যেমন, আরবীয় শীর্ষ মাশায়েখবৃন্দের অন্যতম শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রাহমান আল জিবরীল (রহ) এ সম্পর্কে লিখেছেন :
“সৃষ্টি জগতের মালিক আল্লাহ্তায়ালার প্রশংসা, যিনি শরিয়তের বিধান ও আহকাম আমাদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা করেছেন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামকে প্রেরণ করে দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম(রা)-এর মাধ্যমে দ্বীনের হালাল-হারাম বর্ণনা করেছেন।
সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । তাঁর বংশধর ও নেক সাহাবাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
অতপরঃ আমি “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ” শিরোনামে একটি কিতাবের ব্যাপারে অবগত হলাম। অর্থাৎ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর জনপ্রিয় কপিখানা ডক্টর ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল মানে আল হিমইয়ারী নামক ব্যক্তির তাহকীক কৃত ও ডক্টর মাহমুদ সাঈদ মামদুহ’র ভূমিকাসহ।
হাদিসশাস্ত্রের মুহাক্কিকগণ সে হাদিস কোথাও পাননি, যাকে ছূফীরা আব্দুর রাজ্জাক এর কিতাবে জাবির (রা)-এর নামে প্রচার করে থাকেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) নূরের তৈরি! এ হাদিস নিঃসন্দেহে জাল! এ হাদিস নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা ছূফীরা মুসান্নাফ এর কোন ছাপায় পেলনা কেন অথবা মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর পূর্বের কোন ছাপায়ও পেলনা কেন?
আর যখন জানলো এ ছাপারই (পঞ্চম খণ্ডের) কিছু অধ্যায়ের শুরুতে কয়েকটি পাতা বাদ গিয়েছে, তখন তারা বাদ পড়া হতে ফায়দা উঠাল এবং ধোকা দিয়ে দিল যে উক্ত হাদিস কিতাবটির শুরুতেই ছিল। তারা ধোকাবাজি করে প্রথম অধ্যায়ে কিতাবুল ঈমান অধ্যায় বানিয়ে তাতে জাল হাদিসটি সনদসহ ঢুকিয়ে দিল। (অনুবাদ)”
অবশেষে বুঝা গেল, ডঃ আল্লামা ঈসা মানে হিমইয়ারী তিনি “আল জুঝুল মাফক্বূদু মিনাল জুঝিল আওয়ালি মিনাল মুসান্নাফ” কিতাবের উদ্ভাবক নন, বরং ভাড়াটে অনুমোদক। আর এ রকম একটা কিছু হতে পারে, তা আমি আগেও সন্দেহ করেছিলাম। এখন দেখি বাস্তবেই তা হল। ধন্যবাদ রুবাইয়াত সাহেবকে।
লেখক, প্রিন্সিপাল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন