বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

কুরবানীর প্রয়োজনীয় ৭২টি মাসআলা/ মাসায়েল


কার উপর
 কুরবানী ওয়াজিবমাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন
প্রত্যেক
মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২
যিলহজ্ব
সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর
কুরবানী
করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা,
অলঙ্কার,
বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি,
প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও
অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর
নেসাবের
ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫)
ভরি,
রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি,
টাকা-পয়সা ও
অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য
সাড়ে
বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
আর
সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর
কোনো
একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে
কিন্তু
প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে
বায়ান্ন
তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও
তার
উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল
বুরহানী ৮/৪৫৫;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫
নেসাবের মেয়াদ
মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা
জরুরি নয়;
বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন
থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২
কুরবানীর সময়
মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়।
যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
তবে
সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা
উত্তম। -
মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/১৯৮, ২৩,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫
নাবালেগের কুরবানী
মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে
সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও
তাদের
উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার
অভিভাবক নিজ
সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা
সহীহ হবে।-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার
৬/৩১৬
মুসাফিরের জন্য কুরবানী
মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে
মুসাফির
থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮
কিলোমিটার দূরে
যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার
উপর
কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান
৩/৩৪৪,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩১৫
নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
দেওয়া
অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-
রদ্দুল
মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম
মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা
ওয়াজিব
নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে
তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/১৯২
কুরবানী করতে না পারলে
মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে
ওয়াজিব
কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু
ক্রয় না
করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি
ছাগলের
মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে
ছিল,
কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে
ঐ পশু
জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৪,
ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর
জুমা ও ঈদের
নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের
আগে
কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা
অন্য
কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয়
তাহলে
ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম
দিনেও
কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২,
কাযীখান
৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
রাতে কুরবানী করা
মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত
রাতেও কুরবানী
করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -
মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ
৪/২২,
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৩
কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই
করলে
মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই
করতে না
পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে।
তবে
যদি(সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো
গোশত
সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি
জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ
মূল্য
হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১
কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা দ্বারা
কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু
ছাড়া অন্যান্য
পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী
করা
জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৫
নর ও মাদা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয
সেগুলোর
নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান
৩/৩৪৮,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫
কুরবানীর পশুর বয়সসীমা
মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
গরু ও মহিষ
কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা
কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি
১
বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে,
দেখতে ১
বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও
কুরবানী করা
জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের
হতে
হবে।
উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো
অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে
না।
-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৫-২০৬
এক পশুতে শরীকের সংখ্যা
মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা
দ্বারা শুধু
একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু
কয়েকজন
মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না।
আর উট,
গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে।
সাতের
অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -
সহীহ
মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯,
কাযীখান ৩/৩৪৯,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮
সাত শরীকের কুরবানী
মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে
সবার অংশ
সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম
হতে
পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড়
ভাগ।
এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না।
-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭
মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং
সাতের কমে
যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয়
ভাগে
কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৭
কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে
মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার
হুকুম পালনের
উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার
নিয়তে
কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে
না। তাকে
অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী
হবে না।
তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন
করতে হবে। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯
কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ
মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে
আকীকার
নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও
আকীকা
দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩৬২
মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা
অধিকাংশ
উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী
সহীহ হবে
না।
মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা
কুরবানী
দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা
করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে
একা
কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা
সদকা করে
দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়,
যার উপর
কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে
শরীক
করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে
শরীক
করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে
নিবে।
-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২১০
কুরবানীর উত্তম পশু
মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া
উত্তম।-মুসনাদে
আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২২৩
খোড়া পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা
মাটিতে
রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন
পশুর
কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫,
সুনানে আবু
দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল
মুহতার ৬/৩২৩,
আলমগীরী ৫/২৯৭
রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা
জবাইয়ের স্থান
পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা
কুরবানী করা
জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী
৫/২৯৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪
দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত
বেশি দাঁত
পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না
এমন পশু
দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮
যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে
মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া
থেকে
ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর
অর্ধেক
শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং
একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -
জামে
তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪,
আলমগীরী ৫/২৯৭
কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান
অর্ধেক বা
তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়।
আর যদি
অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী
জায়েয।
তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে
অসুবিধা
নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ
১/৬১০,
ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২,
আলমগীরী
৫/২৯৭-২৯৮
অন্ধ পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক
চোখ পুরো
নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে
তিরমিযী
১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৪
নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে
মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার
পরে যদি
আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া
যায়
তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর
কুরবানী
ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব।
আর ধনী
হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি
কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী
৫/২৪৪, ইলাউস
সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯,
কাযীখান
৩/৩৪৭
গর্ভবতী পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা
জায়েয।
জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায়
তাহলে
সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন
হলে
সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান
৩/৩৫০
পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে
মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু
কেনার পর
যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে
কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর
কুরবানী সহীহ হবে
না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে।
তবে
ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই
কুরবানী করতে
পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা
মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর
বয়স পূর্ণ
হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের
অবস্থা
দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর
নির্ভর
করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা
যাবে। -
আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
বন্ধ্যা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
উত্তম।
নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে
পারবে।
এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে
তার
উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী
৫/৩০০, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭১-২৭৪
জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে
মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই
সম্পন্ন হয়
না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে
থাকে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে
‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি
কোনো
একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না
এবং
জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার
৬/৩৩৪
কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া
মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা
নির্দিষ্ট করার
পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন
হালচাষ
করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং
কুরবানীর
পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে
পশমের মূল্য,
হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-
মুসনাদে
আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭৭,
কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০
কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
যাবে না। যদি
জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে
পশুর
কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না।
প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে
দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে
তাহলে
তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে
মূল্য
সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস
সুনান
১৭/২৭৭, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান
৩/৩৫৪, আলমগীরী
৫/৩০১
কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে
মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার
ক্ষেত্রে
জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার
ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার
অনুমতি
দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের
টাকা ফেরত
দিতে হবে। অবশ্য তার
স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান
৩/৩৫১
কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে
মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই
বাচ্চা
জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম।
যদি
সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে
বাচ্চাকেও
জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-
কাযীখান
৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩
মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা
জায়েয।
মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি
নফল
কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক
গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং
আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত
ব্যক্তি
কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত
নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের
মাঝে
সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭,
হাদীস ৮৪৫,
ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬,
কাযীখান ৩/৩৫২
কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা
মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও
অধিক
জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক
১/৩১৮,
ইলাউস সুনান ১৭/২৭০
কুরবানীর গোশত বণ্টন
মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন
করে গোশত
বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয
নয়।-
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১
মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক
তৃতীয়াংশ গরীব-
মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন
ও পাড়া-
প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি
নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০
গোশত, চর্বি বিক্রি করা
মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি
বিক্রি
করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে
দিতে
হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৫,
কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১
জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া
মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে
সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর
পশুর
কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে
না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি
ছাড়া
হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া
যাবে।
জবাইয়ের অস্ত্র
মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই
করা উত্তম।-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩
পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা
মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার
আগে
চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা
মাকরূহ। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩
অন্য পশুর সামনে জবাই করা
মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে
জবাই করবে
না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না
দেওয়া।
কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া
মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য
ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান
৭/২৮৩,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০
অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে
চাইলে
মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে
চাইলে ওই
ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির
কুরবানী
আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি
স্ত্রী বা
সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে
কুরবানী করে
তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে
অনুমতি
নিয়ে আদায় করা ভালো।
কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে
মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায়
বা মরে
যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে
কুরবানী
ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী
করতে হবে।
গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়)
তার জন্য
আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯
পাগল পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা
জায়েয। তবে যদি
এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং
মাঠেও
চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না।
-
আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২
নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া
মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ
কুরবানীর গোশত
খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম
২২/১৫৯,
মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৪
ঋণ করে কুরবানী করা
মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও
ঋণের
টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে
যাবে।
তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।
হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী
মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর
দিনগুলোতে
মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার
কুরবানী
ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন
মুকীম
থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার
কুরবানী
করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩,
আদ্দুররুল
মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫,
ইমদাদুল
ফাতাওয়া ২/১৬৬
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকে কুরবানী করা
মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকে
কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও
বটে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম আলী
রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত
করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকেও
কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে
তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮,
মিশকাত ৩/৩০৯
কোন দিন কুরবানী করা উত্তম
মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে
প্রথম দিন
কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন,
এরপর
তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬
খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী
মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা
কুরবানী করা
উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল
আনহুর ৪/২২৪,
ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩
জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী
মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে
ঈসালে
সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ
জীবিত
ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য
নফল
কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত
দাতা ও তার
পরিবারও খেতে পারবে।
বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে
করা
মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য
নিজ
দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।
কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই
করবে
মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর
কুরবানীর পশু
ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের
নামায পড়া
বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায়
আছে ওই
এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই
করা যাবে। -
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা
মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া
কুরবানীদাতা নিজেও
ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার
না
করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা
করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া
হিন্দিয়া ৫/৩০১
কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত
মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি
করলে মূল্য
সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার
নিয়ত
না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও
গুনাহ।
নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা
করে
দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১,
কাযীখান
৩/৩৫৪
কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে
মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে
মুসাফির
থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার
পূর্বে
মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব
হবে।
পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয়
দিনে
মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী
ওয়াজিব
থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে
গুনাহগার হবে
না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া
খানিয়া
৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯
কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক
হওয়া
মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা,
হজ্বের
কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের
নিয়তকৃত
ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৯,
রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী
৪/১৪৪,
আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯
কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা
মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ
কুরবানীর
গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল
থেকে
কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া
সুন্নত। এই
সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২
তারিখের গোশত
দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী
১/১২০,
শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬,
আলবাহরুর রায়েক
২/১৬৩
কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি
মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন
কুরবানীর
হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে
হাড়
সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-
বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু
কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো
কিছু
এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে
মূল্য
সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের
জন্য
এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া
হিন্দিয়া
৫/৩০১
রাতে কুরবানী করা
মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে
কুরবানী
করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ
জবাইয়ে
ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা
অনুত্তম। অবশ্য
পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই
করতে
কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫,
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া
৫/২৯৬,
আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০
কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো
মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু
পারিশ্রমিক
হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক
হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ
সময়
ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও
গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন
জাস্সাস
৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর
রায়েক
৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন
জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া
মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে
পারিশ্রমিক
দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো
কিছু
পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -
কিফায়াতুল
মুফতী ৮/২৬৫
মোরগ কুরবানী করা
মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের
মাঝে
মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না
জায়েয।
কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে
কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল
ফাতাওয়া
৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০,
আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০

প্রশ্ন:কুরবানীর পশুর চামড়া বা এর টাকা পাওয়ার
প্রকৃত হকদার
কারা?
উত্তর:
কুরবানীর পশুর চামড়ার মালিক
কুরবানীদাতা। সে ইচ্ছা
করলে তা ব্যবহারও করতে পারে। সে যদি
চামড়াটি দান
করে দিতে চায় তবে বিক্রি না করে আস্ত দান
করাই
উত্তম। বিক্রি করলে এর মূল্যের হকদার হয়ে যায়
ফকীর-
মিসকীন তথা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত লোকজন।
আর এদের
মধ্যে আত্মীয়-স্বজনও দ্বীনদারগণ
অগ্রাধিকারযোগ্য।
-রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮-৯; শরহুল কানয, বদরুদ্দীন
আইনী ২/২০৬কুরবানীর প্রয়োজনীয় ৭২টি মাসআলা/
মাসায়েল
-------------------------------------
কার উপর কুরবানী ওয়াজিব
মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন
প্রত্যেক
মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২
যিলহজ্ব
সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর
কুরবানী
করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা,
অলঙ্কার,
বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি,
প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও
অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর
নেসাবের
ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫)
ভরি,
রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি,
টাকা-পয়সা ও
অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য
সাড়ে
বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
আর
সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর
কোনো
একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে
কিন্তু
প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে
বায়ান্ন
তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও
তার
উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল
বুরহানী ৮/৪৫৫;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫
নেসাবের মেয়াদ
মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা
জরুরি নয়;
বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন
থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২
কুরবানীর সময়
মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়।
যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
তবে
সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা
উত্তম। -
মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/১৯৮, ২৩,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫
নাবালেগের কুরবানী
মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে
সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও
তাদের
উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার
অভিভাবক নিজ
সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা
সহীহ হবে।-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার
৬/৩১৬
মুসাফিরের জন্য কুরবানী
মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে
মুসাফির
থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮
কিলোমিটার দূরে
যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার
উপর
কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান
৩/৩৪৪,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩১৫
নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
দেওয়া
অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-
রদ্দুল
মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম
মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা
ওয়াজিব
নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে
তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/১৯২
কুরবানী করতে না পারলে
মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে
ওয়াজিব
কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু
ক্রয় না
করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি
ছাগলের
মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে
ছিল,
কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে
ঐ পশু
জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৪,
ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর
জুমা ও ঈদের
নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের
আগে
কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা
অন্য
কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয়
তাহলে
ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম
দিনেও
কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২,
কাযীখান
৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
রাতে কুরবানী করা
মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত
রাতেও কুরবানী
করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -
মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ
৪/২২,
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৩
কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই
করলে
মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই
করতে না
পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে।
তবে
যদি(সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো
গোশত
সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি
জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ
মূল্য
হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১
কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা দ্বারা
কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু
ছাড়া অন্যান্য
পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী
করা
জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৫
নর ও মাদা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয
সেগুলোর
নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান
৩/৩৪৮,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫
কুরবানীর পশুর বয়সসীমা
মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
গরু ও মহিষ
কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা
কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি
১
বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে,
দেখতে ১
বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও
কুরবানী করা
জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের
হতে
হবে।
উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো
অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে
না।
-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৫-২০৬
এক পশুতে শরীকের সংখ্যা
মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা
দ্বারা শুধু
একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু
কয়েকজন
মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না।
আর উট,
গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে।
সাতের
অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -
সহীহ
মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯,
কাযীখান ৩/৩৪৯,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮
সাত শরীকের কুরবানী
মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে
সবার অংশ
সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম
হতে
পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড়
ভাগ।
এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না।
-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭
মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং
সাতের কমে
যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয়
ভাগে
কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৭
কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে
মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার
হুকুম পালনের
উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার
নিয়তে
কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে
না। তাকে
অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী
হবে না।
তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন
করতে হবে। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯
কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ
মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে
আকীকার
নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও
আকীকা
দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩৬২
মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা
অধিকাংশ
উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী
সহীহ হবে
না।
মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা
কুরবানী
দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা
করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে
একা
কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা
সদকা করে
দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়,
যার উপর
কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে
শরীক
করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে
শরীক
করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে
নিবে।
-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২১০
কুরবানীর উত্তম পশু
মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া
উত্তম।-মুসনাদে
আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২২৩
খোড়া পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা
মাটিতে
রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন
পশুর
কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫,
সুনানে আবু
দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল
মুহতার ৬/৩২৩,
আলমগীরী ৫/২৯৭
রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা
জবাইয়ের স্থান
পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা
কুরবানী করা
জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী
৫/২৯৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪
দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত
বেশি দাঁত
পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না
এমন পশু
দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮
যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে
মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া
থেকে
ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর
অর্ধেক
শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং
একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -
জামে
তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪,
আলমগীরী ৫/২৯৭
কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান
অর্ধেক বা
তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়।
আর যদি
অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী
জায়েয।
তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে
অসুবিধা
নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ
১/৬১০,
ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২,
আলমগীরী
৫/২৯৭-২৯৮
অন্ধ পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক
চোখ পুরো
নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে
তিরমিযী
১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৪
নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে
মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার
পরে যদি
আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া
যায়
তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর
কুরবানী
ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব।
আর ধনী
হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি
কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী
৫/২৪৪, ইলাউস
সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯,
কাযীখান
৩/৩৪৭
গর্ভবতী পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা
জায়েয।
জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায়
তাহলে
সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন
হলে
সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান
৩/৩৫০
পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে
মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু
কেনার পর
যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে
কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর
কুরবানী সহীহ হবে
না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে।
তবে
ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই
কুরবানী করতে
পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা
মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর
বয়স পূর্ণ
হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের
অবস্থা
দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর
নির্ভর
করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা
যাবে। -
আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
বন্ধ্যা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
উত্তম।
নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে
পারবে।
এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে
তার
উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী
৫/৩০০, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭১-২৭৪
জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে
মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই
সম্পন্ন হয়
না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে
থাকে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে
‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি
কোনো
একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না
এবং
জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার
৬/৩৩৪
কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া
মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা
নির্দিষ্ট করার
পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন
হালচাষ
করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং
কুরবানীর
পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে
পশমের মূল্য,
হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-
মুসনাদে
আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭৭,
কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০
কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
যাবে না। যদি
জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে
পশুর
কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না।
প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে
দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে
তাহলে
তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে
মূল্য
সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস
সুনান
১৭/২৭৭, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান
৩/৩৫৪, আলমগীরী
৫/৩০১
কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে
মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার
ক্ষেত্রে
জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার
ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার
অনুমতি
দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের
টাকা ফেরত
দিতে হবে। অবশ্য তার
স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান
৩/৩৫১
কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে
মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই
বাচ্চা
জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম।
যদি
সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে
বাচ্চাকেও
জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-
কাযীখান
৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩
মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা
জায়েয।
মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি
নফল
কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক
গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং
আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত
ব্যক্তি
কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত
নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের
মাঝে
সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭,
হাদীস ৮৪৫,
ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬,
কাযীখান ৩/৩৫২
কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা
মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও
অধিক
জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক
১/৩১৮,
ইলাউস সুনান ১৭/২৭০
কুরবানীর গোশত বণ্টন
মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন
করে গোশত
বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয
নয়।-
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১
মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক
তৃতীয়াংশ গরীব-
মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন
ও পাড়া-
প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি
নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০
গোশত, চর্বি বিক্রি করা
মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি
বিক্রি
করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে
দিতে
হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৫,
কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১
জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া
মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে
সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর
পশুর
কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে
না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি
ছাড়া
হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া
যাবে।
জবাইয়ের অস্ত্র
মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই
করা উত্তম।-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩
পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা
মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার
আগে
চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা
মাকরূহ। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩
অন্য পশুর সামনে জবাই করা
মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে
জবাই করবে
না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না
দেওয়া।
কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া
মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য
ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান
৭/২৮৩,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০
অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে
চাইলে
মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে
চাইলে ওই
ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির
কুরবানী
আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি
স্ত্রী বা
সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে
কুরবানী করে
তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে
অনুমতি
নিয়ে আদায় করা ভালো।
কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে
মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায়
বা মরে
যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে
কুরবানী
ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী
করতে হবে।
গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়)
তার জন্য
আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯
পাগল পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা
জায়েয। তবে যদি
এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং
মাঠেও
চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না।
-
আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২
নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া
মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ
কুরবানীর গোশত
খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম
২২/১৫৯,
মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৪
ঋণ করে কুরবানী করা
মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও
ঋণের
টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে
যাবে।
তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।
হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী
মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর
দিনগুলোতে
মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার
কুরবানী
ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন
মুকীম
থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার
কুরবানী
করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩,
আদ্দুররুল
মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫,
ইমদাদুল
ফাতাওয়া ২/১৬৬
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকে কুরবানী করা
মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকে
কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও
বটে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম আলী
রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত
করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ
থেকেও
কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে
তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮,
মিশকাত ৩/৩০৯
কোন দিন কুরবানী করা উত্তম
মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে
প্রথম দিন
কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন,
এরপর
তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬
খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী
মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা
কুরবানী করা
উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল
আনহুর ৪/২২৪,
ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩
জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী
মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে
ঈসালে
সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ
জীবিত
ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য
নফল
কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত
দাতা ও তার
পরিবারও খেতে পারবে।
বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে
করা
মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য
নিজ
দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।
কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই
করবে
মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর
কুরবানীর পশু
ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের
নামায পড়া
বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায়
আছে ওই
এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই
করা যাবে। -
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা
মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া
কুরবানীদাতা নিজেও
ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার
না
করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা
করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া
হিন্দিয়া ৫/৩০১
কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত
মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি
করলে মূল্য
সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার
নিয়ত
না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও
গুনাহ।
নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা
করে
দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১,
কাযীখান
৩/৩৫৪
কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে
মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে
মুসাফির
থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার
পূর্বে
মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব
হবে।
পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয়
দিনে
মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী
ওয়াজিব
থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে
গুনাহগার হবে
না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া
খানিয়া
৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯
কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক
হওয়া
মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা,
হজ্বের
কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের
নিয়তকৃত
ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৯,
রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী
৪/১৪৪,
আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯
কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা
মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ
কুরবানীর
গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল
থেকে
কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া
সুন্নত। এই
সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২
তারিখের গোশত
দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী
১/১২০,
শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬,
আলবাহরুর রায়েক
২/১৬৩
কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি
মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন
কুরবানীর
হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে
হাড়
সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-
বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু
কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো
কিছু
এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে
মূল্য
সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের
জন্য
এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া
হিন্দিয়া
৫/৩০১
রাতে কুরবানী করা
মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে
কুরবানী
করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ
জবাইয়ে
ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা
অনুত্তম। অবশ্য
পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই
করতে
কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫,
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া
৫/২৯৬,
আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০
কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো
মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু
পারিশ্রমিক
হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক
হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ
সময়
ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও
গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন
জাস্সাস
৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর
রায়েক
৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন
জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া
মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে
পারিশ্রমিক
দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো
কিছু
পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -
কিফায়াতুল
মুফতী ৮/২৬৫
মোরগ কুরবানী করা
মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের
মাঝে
মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না
জায়েয।
কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে
কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল
ফাতাওয়া
৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০,
আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০
প্রশ্ন:
কুরবানীর পশুর চামড়া বা এর টাকা পাওয়ার
প্রকৃত হকদার
কারা?
উত্তর:
কুরবানীর পশুর চামড়ার মালিক
কুরবানীদাতা। সে ইচ্ছা
করলে তা ব্যবহারও করতে পারে। সে যদি
চামড়াটি দান
করে দিতে চায় তবে বিক্রি না করে আস্ত দান
করাই
উত্তম। বিক্রি করলে এর মূল্যের হকদার হয়ে যায়
ফকীর-
মিসকীন তথা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত লোকজন।
আর এদের
মধ্যে আত্মীয়-স্বজনও দ্বীনদারগণ
অগ্রাধিকারযোগ্য।
-রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮-৯; শরহুল কানয, বদরুদ্দীন
আইনী ২/২০৬কুরবানীর প্রয়োজনীয় ৭২টি মাসআলা/
মাসায়েল
-------------------------------------
কার উপর কুরবানী ওয়াজিব
মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন
প্রত্যেক
মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২
যিলহজ্ব
সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর
কুরবানী
করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা,
অলঙ্কার,
বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি,
প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও
অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর
নেসাবের
ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫)
ভরি,
রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি,
টাকা-পয়সা ও
অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য
সাড়ে
বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
আর
সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর
কোনো
একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে
কিন্তু
প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে
বায়ান্ন
তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও
তার
উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল
বুরহানী ৮/৪৫৫;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫
নেসাবের মেয়াদ
মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা
জরুরি নয়;
বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন
থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২
কুরবানীর সময়
মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়।
যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
তবে
সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা
উত্তম। -
মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/১৯৮, ২৩,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫
নাবালেগের কুরবানী
মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে
সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও
তাদের
উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার
অভিভাবক নিজ
সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা
সহীহ হবে।-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার
৬/৩১৬
মুসাফিরের জন্য কুরবানী
মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে
মুসাফির
থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮
কিলোমিটার দূরে
যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার
উপর
কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান
৩/৩৪৪,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩১৫
নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী
দেওয়া
অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-
রদ্দুল
মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম
মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা
ওয়াজিব
নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে
তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/১৯২
কুরবানী করতে না পারলে
মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে
ওয়াজিব
কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু
ক্রয় না
করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি
ছাগলের
মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে
ছিল,
কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে
ঐ পশু
জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৪,
ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫
প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর
জুমা ও ঈদের
নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের
আগে
কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা
অন্য
কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয়
তাহলে
ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম
দিনেও
কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২,
কাযীখান
৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮
রাতে কুরবানী করা
মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত
রাতেও কুরবানী
করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -
মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ
৪/২২,
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২২৩
কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই
করলে
মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই
করতে না
পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে।
তবে
যদি(সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো
গোশত
সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি
জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ
মূল্য
হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১
কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে
মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা দ্বারা
কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু
ছাড়া অন্যান্য
পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী
করা
জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৫
নর ও মাদা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয
সেগুলোর
নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান
৩/৩৪৮,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫
কুরবানীর পশুর বয়সসীমা
মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
গরু ও মহিষ
কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও
দুম্বা
কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি
১
বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে,
দেখতে ১
বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও
কুরবানী করা
জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের
হতে
হবে।
উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো
অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে
না।
-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২০৫-২০৬
এক পশুতে শরীকের সংখ্যা
মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা
দ্বারা শুধু
একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু
কয়েকজন
মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না।
আর উট,
গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে।
সাতের
অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -
সহীহ
মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯,
কাযীখান ৩/৩৪৯,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮
সাত শরীকের কুরবানী
মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে
সবার অংশ
সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম
হতে
পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড়
ভাগ।
এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না।
-
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭
মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং
সাতের কমে
যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয়
ভাগে
কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২০৭
কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে
মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার
হুকুম পালনের
উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার
নিয়তে
কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে
না। তাকে
অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী
হবে না।
তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন
করতে হবে। -
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯
কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ
মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে
আকীকার
নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও
আকীকা
দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩৬২
মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা
অধিকাংশ
উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী
সহীহ হবে
না।
মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা
কুরবানী
দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা
করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে
একা
কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা
সদকা করে
দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়,
যার উপর
কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে
শরীক
করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে
শরীক
করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে
নিবে।
-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে
৪/২১০
কুরবানীর উত্তম পশু
মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া
উত্তম।-মুসনাদে
আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২২৩
খোড়া পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা
মাটিতে
রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন
পশুর
কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫,
সুনানে আবু
দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল
মুহতার ৬/৩২৩,
আলমগীরী ৫/২৯৭
রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা
জবাইয়ের স্থান
পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা
কুরবানী করা
জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী
৫/২৯৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪
দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত
বেশি দাঁত
পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না
এমন পশু
দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮
যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে
মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া
থেকে
ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর
অর্ধেক
শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং
একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -
জামে
তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪,
আলমগীরী ৫/২৯৭
কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান
অর্ধেক বা
তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়।
আর যদি
অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী
জায়েয।
তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে
অসুবিধা
নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ
১/৬১০,
ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২,
আলমগীরী
৫/২৯৭-২৯৮
অন্ধ পশুর কুরবানী
মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক
চোখ পুরো
নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে
তিরমিযী
১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৪
নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে
মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার
পরে যদি
আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া
যায়
তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর
কুরবানী
ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব।
আর ধনী
হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি
কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী
৫/২৪৪, ইলাউস
সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯,
কাযীখান
৩/৩৪৭
গর্ভবতী পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা
জায়েয।
জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায়
তাহলে
সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন
হলে
সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান
৩/৩৫০
পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে
মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু
কেনার পর
যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে
কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর
কুরবানী সহীহ হবে
না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে।
তবে
ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই
কুরবানী করতে
পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯,
বাদায়েউস
সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯,
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা
মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর
বয়স পূর্ণ
হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের
অবস্থা
দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর
নির্ভর
করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা
যাবে। -
আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
বন্ধ্যা পশুর কুরবানী
মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -
রদ্দুল মুহতার
৬/৩২৫
নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা
উত্তম।
নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে
পারবে।
এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে
তার
উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭,
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী
৫/৩০০, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭১-২৭৪
জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে
মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই
সম্পন্ন হয়
না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে
থাকে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে
‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি
কোনো
একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না
এবং
জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার
৬/৩৩৪
কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া
মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা
নির্দিষ্ট করার
পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন
হালচাষ
করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং
কুরবানীর
পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে
পশমের মূল্য,
হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-
মুসনাদে
আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস
সুনান ১৭/২৭৭,
কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০
কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা
যাবে না। যদি
জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে
পশুর
কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না।
প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে
দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে
তাহলে
তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে
মূল্য
সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস
সুনান
১৭/২৭৭, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান
৩/৩৫৪, আলমগীরী
৫/৩০১
কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে
মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার
ক্ষেত্রে
জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার
ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার
অনুমতি
দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের
টাকা ফেরত
দিতে হবে। অবশ্য তার
স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস
সানায়ে
৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান
৩/৩৫১
কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে
মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই
বাচ্চা
জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম।
যদি
সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে
বাচ্চাকেও
জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-
কাযীখান
৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

কামাল পাশা


তুরষ্কের ‘বার্ক’ হোটেলে চিকিৎসা চলছে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের। পশ্চিমাদের এই পা-চাটা গোলাম তখন মৃত্যুর প্রহর গুণছে। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কোনো ধরণের চিকিৎসা কাজে আসছে না। ডাক্তাররাও অপারগ হয়ে গেছে। অপারগ না হয়ে উপায় আছে? রোগটাই যেখানে সনাক্ত করা যাচ্ছে না! এ এক অদ্ভুত রোগ! ডাক্তারদের অবস্থা হলো, দুপেয়ে এই পশুটার প্রাণবায়ুটা কোনোরকম বেরিয়ে গেলে তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল! ওর প্রতিটা মুহূর্ত অতিবাহিত হচ্ছে হেচকা টান দিয়ে দিয়ে! একবার নিঃশ্বাস ফেলার পর আরেকবার তা নেয়ার আশাই নাই।

এরকম একটি নাজুক, ভয়ানক ও ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে হুটেলের নিকটস্থ কোনো একটি ছোট্ট মসজিদের মিনার হতে ভেসে আসল মুয়াজ্জিনের আজান। মরা লাশের মতো পড়ে থাকা এই অভিশপ্তটা একটু সচকিত হয়ে উঠল! কান খাড়া করে শুনতে চাইল- এটা কিসের আওয়াজ! যখন বুঝতে পারল- এটা মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি, তখন আশেপাশের লোকদের উদ্দেশ্য করে বলল, ‘দেখো! এই লোকটি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে তাঁর নাম ও প্রসিদ্ধিকে চির ওমর করে রেখে গেছে! প্রতিটা মুহূর্তে পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে তাঁর নাম বারবার উচ্ছারিত হচ্ছে!’ এরপর সে মিনারটা গুঁড়িয়ে দেয়ার আদেশ জারি করে!
মৃত্যুর দোড়গড়ায় পৌঁছেও যে অভিশপ্ত এরকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলত, সে ছিল খুবই ভীতু! মৃত্যুকে বড় ভয় করত! নিজ পরিণতি নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকত! তার চারপাশে সার্বক্ষণিক বড় বড় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের জটলা বাঁধিয়ে রাখত। এত আয়োজনের পরও সে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। আল্লাহ তা’আলা অদ্ভুত এক রোগ দিয়ে অভিশপ্তটাকে দুনিয়াতেই লাঞ্চিত করেছেন। লিভারে আক্রান্ত রোগের কারণে তার পেট থেকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সব পানি বের করতে হয়েছিল। অতিরিক্ত নারীমিলনের কারণে খবিসটা সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল!

শুধু কি তাই?! মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সারা শরীরজুড়ে একপ্রকার অদৃশ্য পোকার আক্রমণে অস্থির হয়ে পড়েছিল। চুলকানিতে তার গোটা শরীররের রং বদলে গিয়েছিল। কাপড় খুলে সে প্রায় উলঙ্গ হয়ে থাকত! নাক থেকে গলগল করে রক্ত বেরোত! দেহের চামড়া একেবারে বেঙের খোলসের মত হয়ে গিয়েছিল! রক্ত, পুঁজ ও পানি বেরোত সবসময়। নাক চেপে ধরেও দুর্গন্ধ সহ্য করা যেত না! চিকিৎসা করার সময় ডাক্তারদের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম হত! তবুও তাদের চিকিৎসা করতেই হত। আধুনিক কুফরি তুরষ্কের জনকের চিকিৎসা বলে কথা! যন্ত্রণার তীব্রতায় বুভুক্ষু কুকুরের ন্যায় ঘেউঘেউ করত! শেষ পর্যন্ত এ রোগ তার চেহারায়ও ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেখা যায়, একধরণের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র লাল পিঁপড়ে তাকে কামড়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। যে পিঁপড়েগুলোর আসল আবাস সুদূর চীনের বন-জঙ্গলে।

প্রায় দু’বছর অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগে জলাতঙ্ক রোগীর ন্যায় ঘেউঘেউ করে ১৩৫৮ হিজরির ১৬ই শাবান মুতাবিক ১৯৩৮ সালের ১০ নভেম্বর অভিশপ্তটা দুনিয়ায় তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। মৃত্যুর পর তার জানাযার নামাজ নিয়ে বিভক্তি দেখা দেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জানাযার বিপক্ষে এবং সেনাপ্রধান জানাযার পক্ষে অবস্থান নেন। অবশেষে শরফুদ্দিন আফেন্দি নামের এমন এক সরকারি ভাড়াটে মোল্লা তার জানাযার নামাজ পড়ায়, যে নিজেও ছিল নিন্দিত এবং ঘৃণিত! অবাক বিস্ময়ের ব্যাপার হল যে, মৃত্যুর পর তুরস্কের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মুস্তফা কামাল পাশা যাকে মনোনীত করে রেখেছিল, সে হল তৎকালে তুরস্কে নিযুক্ত ইংল্যান্ডের দূত। এভাবেই দুনিয়াবাসীকে প্রমাণ করিয়ে দিয়ে যায় যে, জীবনভর সে ছিল পশ্চিমাদের এক পোষা কুকুর।
সুবহানাল্লাহ! তুরষ্কের মাটি থেকে আল্লাহর নাম মিটিয়ে ফেলা এই আল্লাহদ্রোহীকে আল্লাহ তা’আলা সুদূর চীনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লালপিঁপড়ে দিয়ে শায়েস্তা করলেন! তিনি কতইনা ক্ষমতাবান! আল্লাহ তা’আলা বলেন, আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত-৩১)

[সূত্র: ড. রাগিব সিরজানি পরিচালিত জনপ্রিয় সাইট “কিসসসাতুল ইসলাম” কর্তৃক ০৫/১১/২০১৩ তারিখে ‘মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেল অবলম্বনে।]

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

একটি ছোট্ট গল্প

এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেল। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।
স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বললো--এটা তোর কাকুর দোকানে নিয়ে যা, বলবি যে এটা বেচে কিছু টাকা দিতে।
ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকুর কাছে গেল।
কাকু হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বললো- বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে। কাকু কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেন--আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দোর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।
পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করলো।
ভাল শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রসংশীত হচ্ছিল তার কাজ।
একদিন ছেলেটির কাকু বললো-- তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
ছেলেটি ঘরে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে হারটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখলো যে এটা একটা নকল হীরের হার। তাই সে হারটা আর কাকুর কাছে নিয়ে যায় নি।
কাকু জিজ্ঞেস করলো-- হারটি আনো নি ?
ছেলেটি বললো-- না কাকু, পরীক্ষা করে দেখলাম এটা একটা নকল হার।
তখন কাকু বললো- তুমি যেদিন আমার কাছে হারটি প্রথম নিয়ে এসেছিলে সেদিন আমি দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম যে এটা নকল, কিন্তু তখন যদি আমি তোমাকে এই কথাটা বলে দিতাম, তাহলে তোমরা হয়তো ভাবতে যে আজ আমাদের মন্দ সময় বলেই কাকু আমাদের আসল জিনিষকে নকল বলছে। আজ যখন এ ব্যাপারে তোমার পুরো জ্ঞান হয়ে গেছে, তখন তুমি নিজেই বলছো এটা নকল হার।
এই দুনিয়াতে প্রকৃত জ্ঞান ছাড়া তুমি যা কিছু দেখছো...যা কিছু ভাবছো সবটাই এই হারের মতই নকল, মিথ্যে।
#জ্ঞান ছাড়া কোন জিনিসের বিচার সম্ভব নয়।
আর এই সুযোগে তথাকথিত শায়েখ বাড়তেছে এবং আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ সহ ইসলামের ইমামগনের প্রতি বিদ্বেষ প্রচার ও প্রসার করতেছে!!!   আর এই ভ্রমের শিকার হয়েই অনেকে তাদের ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণ করছে!!!
#ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে!!!
#ফুরুয়ী বিস্তৃত বিষয় গুলোকে সংকৃণ করে মানুষের জীবন চলার পথকে কঠিন করে তুলেছে!!
#মুসলিম ঐক্যের পথকে কঠিন করে তুলেছে!
#মনগড়া যুক্তি দিয়ে সমাজে ফেৎনা সৃষ্টি করছে!!
#তলেবে ইলেমদের ইলেম আমল থেকে দূরে রাখছে!

#শেষ হয়ে যাবে ওদের সব ষড়যন্ত্র, ভ্রান্ত মোতাজিলা, খারেজী, রাফেজী, সহ অসংখ্য ভ্রান্ত মতবাদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর এই নামধারী তথাকথিত শায়েখ মাদখালীরা ও অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।


রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাপড়বাজ কে? .


এই ভদ্রলোকের নাম ক্লিঙ্গেনবার্গ, ২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান এসএস বাহিনীর যুগোশ্লাভিয়া অভিযান এর সময় এর কমান্ডার। তার উপর হিটলারের নির্দেশ ছিলো যতদ্রুত সম্ভব গ্রীসে পৌছাতে, তবে তিনি ভাবলেন এর রাজধানী দখল করে ছাড়বেন। কিন্তু তিনি যখন তার ছয় সাথী নিয়ে Belgrade এ পৌছালেন ফেরি ডুবে গেলো। এদিকে তাদের কাছে লড়ার মত তেমন কোন অস্ত্র এমনকি সাহায্য চাওয়ার জন্য রেডিও ও নেই৷ ভদ্রলোক জিদ ধরলেন,ছয়জন দিয়েই দখল করবেন৷ তিনি তার সাথীদের নিয়ে ভাব ধরা শুরু করলেন যেন যুদ্ধে জিতে গিয়ে এখন শহরে ঘুরছেন সবাইকে মারার জন্য। একপর্যায়ে জার্মান নাজি পতাকা উড়িয়ে দিলেন। মেয়র ছুটে এলেন, আসলে কি হচ্ছে বুঝার জন্য৷ এরপর এই ভদ্রলোক শুরু করলেন ইতিহাস পালটানো ফাপড়বাজি।
.
তিনি মেয়র কে বললেন," আমরা একটা বাহিনীর অগ্রগামী সেনা। পিছনে বিশাল আর্টিলারি ওয়েট করছে,যদি আমরা রিপোর্ট দেই যুগোস্লাভিয়ার লোকেরা আত্নসমর্পণ করেছে তাহলে শহর বেচে যাবে নাহয় শহর ধুলোয় মিশে যাবে।" ( অথচ তার কাছে রিপোর্ট করার রেডিও ও নেই)
.
মেয়র ভয়ে তড়িঘড়ি করে সারেন্ডার করলেন ছয়জন জার্মান সেনার কাছে।
.
আর এভাবেই কোনকিছু ছাড়া কেবল ফাপড়বাজিতে সে ১৩০০ সশস্ত্র সৈন্য ও প্রায় দুই লাখ অধিবাসীর Belgrade শহর ( বর্তমান সার্বিয়ার ও রাজধানী) দখলে নিয়ে নিলেন। একারনে হিটলার কর্তৃক "নাইটস ক্রস" পুরস্কার ও পেয়েছিলেন এই ফাপড়বাজ সাহেব।


স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ

স্পেনের কর্ডোভা মাসজিদে ৪৫০ বছর আযান ও নামাযের প্রচলন ছিল। এখন সেটা একটা ক্যাথড্রল। কেউ প্রশ্ন করেনা, কর্ডোভা মসজিদকে কেনো একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হলো। যাবতীয় এলার্জি শুধু ইসলামকে নিয়ে?

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

ঐতিহাসিক আয়া সুফিয়া গির্জা থেকে মসজিদ,


ঐতিহাসিক আয়া সুফিয়া গির্জা থেকে মসজিদ, মসজিদ থেকে জাদুঘর, জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে ঠিকই; কিন্তু যুগ যুগান্তর ধরে তার মধ্যে এতসব পালাবদল হওয়া সত্ত্বেও, তার ভেতরকার ঐতিহাসিক ইসলামি-উসমানি নিদর্শনের কোনো বদল হয়নি। ঠিক বদল বললে ভুল হবে; বরং বদলানো সম্ভব হয়নি!

আয়া সুফিয়ার ভেতরস্থ দেয়ালে আল্লাহ, মুহাম্মাদ, আবু বাকর, উমর, উসমান, আলি, হাসান, হুসাইন- এসব পুণ্যময় নামে শোভিত রয়েছে কিছু বিশালাকারের ফলক। যুগ যুগ ধরে কত উত্থানপতন বয়ে গেলেও এই ফলকগুলো আজও ইসলামি-উসমানি সভ্যতার নিদর্শন হয়ে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

মুস্তফা ইজ্জত আফেন্দি ছিলেন সুলতান আব্দুল মজিদের আমলে উসমানি খিলাফতের একজন নামকরা উস্তাদ। পাশাপাশি তিনি ছিলেন আয়া সুফিয়া জামে মসজিদের দ্বিতীয় ইমাম। তিনিই এই ফলকগুলোতে নামলিপি করিয়ে আয়া সুফিয়ার দেয়ালে লটকিয়ে মসজিদের শোভাবর্ধন করেন।

ফলকগুলো ৭.৫ মিটার লম্বা। সবুজ রঙয়ের। স্পষ্ট আরবি অক্ষরে তিনিই এই নামলিপি করান। জেজপান প্রজাতির কাঠে, খোদাই করে এই নামলিপি করা হয়। এরপর মসজিদের দেয়ালে এমনভাবে শক্ত করে লাগিয়ে দেওয়া হয় যে, যেকারও পক্ষে এগুলো সরানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

১৯৩৪ সালে বেইমান মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক তার পশ্চিমা প্রভুদের নেমকহালালি করতে গিয়ে আয়া সুফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করেন। তখন দায়িত্বশীল কর্মচারীরা এসব ফলক খুলে, স্থানান্তরিত করে, পার্শ্ববর্তী সুলতান আহমদ জামে মসজিদে স্থাপন করতে চাইলেন।

কিন্তু এই হীন ইচ্ছা চরিতার্থ হয়নি। কারণ, মুস্তফা ইজ্জত আফেন্দির তৈরি এই ফলকগুলো ছিল বেশ বড়। এমনকী আয়া সুফিয়ার প্রধান ফটক দিয়েও এগুলো বের করা সম্ভব হয়নি। ব্যর্থ হয় কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র।

কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বসে থাকেননি। এসব ফলক সহজে স্থানান্তরিত করা সম্ভব না হওয়ার কারণে তারা এগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু দায়িত্বশীল কর্মচারীরা সেই স্পর্ধা দেখাতে পারেনি। ভয় পেয়ে যান তারা। ফলকগুলোকে তারা এভাবেই মেঝেতে ফেলে রাখেন। প্রায় ১৫ বছর অবহেলিতভাবে পড়ে থাকার কারণে ফলকগুলো জীর্ণশীর্ণ হয়ে যায়।

এরপর বিগত চল্লিশের দশকে ফলকগুলোর বেহাল দশা অবলোকন করেন প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক সামাবিয়াহ আইয়াজাহ। তিনি আয়া সুফিয়া জাদুঘরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ভীতিপ্রদর্শন করে বলেন, এই ফলকগুলো নষ্ট হয়ে গেলে, তোমাদেরকে অচিরেই অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। যতদ্রুত সম্ভব, তোমাদের ওপর অপরিহার্য হলো, ফলকগুলোকে যথাস্থানে লাগিয়ে রাখা।

সেই হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২ রা জানুয়ারি, দীর্ঘদিনের অবহেলা, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার পর আবারও আয়া সুফিয়ার দেয়ালে লটকিয়ে দেওয়া হয় ফলকগুলো। ফিরে পায় আগের মহত্ব ও শোভাসৌন্দর্য।

যাইহোক, অবশেষে আজ এক ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আবারও আয়া সুফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। নিশ্চয় এটি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের যুগান্তকারী অবদান। নিশ্চয় আল্লাহও তাঁকে এর উত্তম বদলা দান করবেন।

পুনশ্চ : আল্লাহ এভাবেই তাঁর নাম এবং তাঁর প্রিয়দের নামগুলোর মর্যাদা সমুন্নত রাখেন। পদদলিত হতে দেননা। এভাবেই তিনি তাঁর আলো জ্বালিয়ে রাখেন, যদিও অবিশ্বাসীরা তা এক ফুঁকে নিভিয়ে দিতে চায়!

পুন : পুনশ্চ : ইতিহাস! জানি, তোমার পুনরাবৃত্তি হয়। আজকের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ লিখে রাখো তোমার কালের পাতায়...!
_________
সূত্র : ০১-০৭-২০২০ তারিখে তুর্কপ্রেস ডট কম-এ প্রকাশিত হাসনাহ জুখদার এর লিখিত আর্টিকেল অবলম্বনে।


আয়া সুফিয়া : গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তরকরণের বৈধতা।


তুর্কি প্রজাতন্ত্রের দাবি অনুযায়ী, উসমানি খিলাফতের একটি অপ্রকাশিত পুরনো নথিপত্র বলে যে, ১৪৫৩ সালে উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর যাজকদের কাছ থেকে আয়া সুফিয়া গির্জা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকার ভূমি নিজের পকেটের টাকার বিনময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। এরপর আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছেন। সে হিসেবে আয়া সুফিয়া মুসলমানদের নিজস্ব সম্পত্তি। জবরদখলকৃত নয় মোটেও।
উপর্যুক্ত কথাটা খুবই চাউর হয়ে আছে গোটা মুসলিম বিশ্ব জুড়ে। আয়া সুফিয়াকে গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তরিত করায় যারা মুসলিমবিদ্বেষ উগড়ে যাচ্ছে, তাদের মোকাবেলায় উপরোক্ত কথাটা দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা থেকে নিয়ে মুসলিম স্কলারদের টুইটার ও ফেসবুক একাউন্টে পর্যন্ত। অথচ, উপরোক্ত দাবি ঐতিহাসিক সূত্রমতে এবং যুক্তির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। দুইদিকই উল্লেখ করছি আমি-
এক. আহমদ বিন ইউসুফ কিরমানি ছিলেন একজন নামকরা উসমানি ঐতিহাসিক। তিনি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের সমকালীন ছিলেন। তিনি বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন; তবে খ্রিষ্টান যাজকদের কাছ থেকে এটি খরিদ করেননি। আর মসজিদে রূপান্তরকরণ হয়েছিল মোট তিনদিনের ব্যাপ্তিতে। কেননা, কনস্টান্টিনোপলে সুলতান বিজয়ীবেশে প্রবেশ করেছিলেন মঙ্গলবার। পরের শুক্রবার সেখানে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা মসজিদে রূপান্তর করেন।
খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক রোন্সম্যান স্টিভেন বলেন, কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ যাজকদের সাথে এমন সদয় আচর করেন, যা কল্পনা করাও মুশকিল ছিল! শহরে প্রবেশ করার পরপরই তিনি আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করার ফরমান জারি করেন। পাশাপাশি তিনি এটির নামকরণ করেন- বড় জামে মসজিদ।
শুধু আয়া সুফিয়াই নয়; সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের আরও অনেক গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। যেমন প্রসিদ্ধ তুর্কি ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ফরিদ বেগ বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের অর্ধেক গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন। আরেকজন তুর্কি ঐতিহাসিক ইসমাইল সিরহিন্ত বলেন, সুলতান মোট ৪ টি গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন। পক্ষান্তরে আমেরিকান ঐতিহাসিক স্টানফোর্ড শো বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের ১৭ টি গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন।
দুই. কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের আগ পর্যন্ত উসমানি সাম্রাজ্য ছিল অনেকটা দুর্বল। সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তি বা সাম্রাজ্যের কোষাগার এমন পর্যায়ের ছিল না যে, তা দ্বারা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের এই ঐতিহ্যবাহী গির্জা খরিদ করবেন। তা ছাড়া গির্জাটি যাজকদের ব্যক্তিগত কোনো সম্পদ ছিল না; এটি ছিল গোটা অর্থোডক্স খ্রিষ্টজগতের সম্পত্তি।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, আয়া সুফিয়া গির্জা যাজকদের কাছ থেকে খরিদ করেননি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ; বরং কনস্টান্টিনোপল জয় করার পর তিনি এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। যেমনটি তিনি কনস্টান্টিনোপলের আরও অন্যান্য গির্জার বেলায় করেছেন। তাহলে সুলতানের এই কাজটা কি শরিয়তসম্মত নয়? ইসলাম কি এরকম গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণ সমর্থন করে?
হ্যাঁ, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের এই রূপান্তরকরণ সম্পূর্ণ শরিয়ত সমর্থিত। তাঁর এই মহান কাজ শুধু ইসলাম সমর্থনই করে না; বরং এটি মক্কাবিজেতা মুহাম্মাদুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক যুগান্তকারী সুন্নাহর অনুসরণ। অমুসলিমদের কব্জা থেকে বিজিত অঞ্চলে মুসলমানদের করণীয় পদক্ষেপ ও ধর্মীয় কর্মপন্থাসমূহের মধ্য থেকে এটি একটি অন্যতম কর্ম। সামনের আলোচনা থেকে এটাই ফুটে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।
কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণের কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল তৎকালীন উসমানি সাম্রাজ্যের নামকরা আলিম, প্রসিদ্ধ বুজুর্গ আল্লামা শামসুদ্দিন বিন হামজাহ, উরফে শাইখ আক শামসুদ্দিনের ফতোয়ার আলোকে। তিনি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের উস্তাদ ছিলেন এবং তাঁকে কনস্টান্টিনোপলের আধ্যাত্মিক বিজয়ী হিসেবে গণ্য করা হয়। শাইখ আক শামসুদ্দিনকে নিয়ে অতীতে আমি অনেক আর্টিকেল লিখেছি। আমার বই- উসমানি খেলাফতের স্বর্ণকণিকাতেও পড়তে পারেন।
সমকালীন বিশ্বের প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ড. রাগিব সারজানি বলেন, অমুসলিমদের যেসব অঞ্চল সন্ধির মাধ্যমে জয় করা হয় এবং যেসব অঞ্চল যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করা হয়, এগুলোর মধ্যে ইসলাম ব্যবধান সাব্যস্ত করেছে। অমুসলিমদের যেসব অঞ্চল সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়, সেগুলোর উপাসনালয় মসজিদে রূপান্তর করা যাবে না। বরং সেগুলোর হুকুম উভয় পক্ষের কৃত চুক্তি অনুযায়ী হবে। যেমন ফিলিস্তিনের আল-কুদস। এটি বিজয় করার পর খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এটির 'কিয়ামাহ' নামক গির্জা কিংবা অন্য কোনো গির্জা মসজিদে রূপান্তর করেননি।
কিন্তু যেসব অঞ্চল যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হবে, সেগুলোর সবকিছুর মালিক হয়ে যাবে মুসলিমরা। আর মালিকানাধীন বস্তুসমূহের মধ্য থেকে গির্জাও একটি। চাইলে মুসলিম শাসক গির্জাগুলোকে মসজিদে রূপান্তরিত করতে পারেন, না চাইলে নাই। যেমন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কনস্টান্টিনোপল। এটি বিজয় করার পর সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ এটির মালিক হয়ে যান এবং আয়া সুফিয়া গির্জাসহ শহরের অন্যান্য গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। তদুপরি কনস্টান্টিনোপল শহর অবরোধ করার পর সুলতান বাইজেন্টাইন সম্রাটকে বিনা যুদ্ধে শহর হস্তান্তর করার আদেশ দেন। কিন্তু সম্রাটের হঠকারিতার কারণে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল শহর জয় করে তার মালিকানা প্রয়োগ করেন।
নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ইমান আনয়নকারী প্রত্যেক মুসলমানকে জানতে হবে যে, মক্কার কাবাঘরে লাত, মানাত, উজ্জা, হুবলসহ ৩৬০ টি মূর্তি রক্ষিত ছিল। কাবাঘরই ছিল গোটা আরবের পৌত্তলিকদের সবচেয়ে বড় উপাসনালয়। কিন্তু অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবাঘরের সবগুলো মূর্তি ভেঙে, পৌত্তলিকদের উপাসনালয় এই কাবাঘরকে 'বাইতুল্লাহ' তথা আল্লাহর ঘরে রূপান্তরিত করেন। আজ গোটা মুসলিম উম্মাহর কাছে এটিই সবচেয়ে বড় ও মহান মসজিদ।
সুতরাং, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কর্তৃক আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণ ছিল সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত। ইসলাম সমর্থিত। রাসুলের সুন্নাহর নির্দেশিত। এরপরও কোনো নামধারী মুসলিম যদি এই রূপান্তরকরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে, বুঝতে হবে- এর অন্তরে ইমানের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই; এ একজন আস্ত মুরতাদ!
__________
সূত্রাবলি :
(১) আখবারুদ দুওয়াল ওয়া আসারুল উয়াল ফিত তারিখ : ৩/৩১, আহমদ বিন ইউসুফ করমানি।
(২) সুকুতুল কুসতিনতিনিয়্যাহ : ৪৯, রোন্সম্যান স্টিভেন।
(৩) তারিখু দাওলাতিল আলিয়্যাতিল উসমানিয়্যাহ : ১৬৫, মুহাম্মদ ফরিদ বেগ।
(৪) কিসসাতুল আন্দালুস; মিনাল ফাতহ ইলাস সুকুত : ৫৬৬-৫৬৯, ড. রাগিব সারজানি।
(৫) তারিখুদ দাওলাতিল উসমানিয়্যাহ : ১/১৪০, ইলমাজ অজতোনা।

খ্রিষ্টানদের চার্চ বিক্রি হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়।



মুসলমানরা যেমন চিন্তা করে, তাদের মসজিদ প্রজন্মের পর প্রজন্ম শেষ অবধি থাকবে,খ্রিস্টানদের মধ্যে তেমন চিন্তাধারা কাজ করে না।তাই চার্চগুলোতে যখন প্রার্থনাকারী আসা শূণ্য হয়ে যায় কিংবা ডোনেশন সংগ্রহ করতে না পারে,তখন চার্চ কমিটি তা বিক্রি করে দেয়।আপনি যদি গুগলে Churches for Sale লিখে সার্চ দেন, তবে হাজার হাজার চার্চ বিক্রির খবর পাবেন।

(চার্চ ক্রয় করতে -https://bit.ly/323YaG6)

এই চার্চগুলো ক্রয় করে আপনি বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারেন।
কেউ বাড়ি বানায়, কেউ মিউজিয়াম বানায়, কেউ অফিস বানায়, কেউ স্কুল বানায়,
আবার অনেক মুসলমান সেগুলো কিনে মূর্তি ছবি আর ক্রুশ সরায় তাকে মসজিদ বা নামাজ ঘরও বানায়। যেমন-
নিউইয়র্কে (সাইরাকুস) বিক্রিত চার্চ হলো মসজিদ- https://youtu.be/Fi5m5YzFzDQ
নিউইয়র্কে (বাফালো) বিক্রিত চার্চ হলো মসজিদ- https://youtu.be/2aw62_-I2B0
ফ্রান্সে বিক্রিত চার্চ হলো মসজিদ - https://youtu.be/l82jXj5tHos

আসলে এগুলো ইউরোপ আমেরিকায় খ্রিস্টানদের জন্য কোন সমস্যা না,
সমস্যা হচ্ছে, এক শ্রেণীর সেক্যুলার নামধারী মুসলিমবিদ্বেষী আছে, যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। বলে- “দেখো মুসলমানরা কত খারাপ, তারা খ্রিস্টানদের চার্চকে মসজিদ বানাইছে।
আর ভাই, খ্রিস্টান যদি তার সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়, তবে সেটা কিনে নেয়ার মধ্যে কোন অন্যায় তো দেখি না। তার সম্পত্তি তো জোর করে দখল করা হয় নাই। বরং কিনে নিয়ে ঐ খ্রিস্টানদের উপকারই তো করা হলো।
এরপর ক্রয়কারী তার সম্পত্তি কি বানাবে, বাড়ি বানাবে নাকি মসজিদ বানাবে, সেটা তার সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। এখানে কারো নাক গলার অধিকার নাই।

একদলকে দেখতেছি, যারা তুরস্কের আয়া সোফিয়ার ঘটনাকে ভারতের বাবরী মসজিদের সাথে লাগায় দিতে চাইতেছে।আরে ভাই, বাবরী মসজিদ কিভাবে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভেঙ্গে দখল করছে, সেটার ভিডিও এখন অনলাইনে পাওয়া যায় (https://youtu.be/k-bhAFsnv2s)। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৯২ সালে সারা ভারতের দাঙ্গায় সহস্রাধিক মুসলমানকে হত্যা করে উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা। একটা বৈধ ক্রয়ের সাথে গুন্ডামিপনার যোগসূত্র কিভাবে মিলে, তা আমার মাথায় আসে না।

আসলে তুরস্কের আয়া সোফিয়াকে নিয়ে প্রকৃত তর্কের বিষয় ছিলো-৮৫ বছর আগে উগ্র সেক্যুলার কামাল পাশা কেন অন্যায়ভাবে মসজিদকে মিউজিয়াম বানালো।কিন্তু অনেক সেক্যুলার সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে, ৬শ’ বছর আগে মুসলমানরা কেন গির্জা ক্রয় করে মসজিদ বানালো, সেটাকে অন্যায় হিসেবে উপস্থাপন করছে।
মানে নিজেদের দোষ ঢাকতে মুসলমানদের দোষী বানানো।
আর কিছু না।


আয়া সোফিয়া তুরস্ক


সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ (রহ.) কনস্টান্টিনোপল জয় করার পরে চাইলেই গির্জাটি দখল করে মসজিদ বানাতে পারতেন। যেমনটি বছরের-পর-বছর শতাব্দীর পর শতাব্দী খ্রিস্টানরা করেছে।

কিন্তু সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ (রহ.) তা না করে পাদ্রীদের কাছ থেকে গির্জাটি কিনে নিয়েছেন। তারপর নিজের মালিকানার ভবনটিকে মসজিদ বানিয়েছেন। সাড়ে তিনশ বছর মসজিদটিতে নামাজ হয়েছে। সেটাকে অন্যায়ভাবে পশ্চিমাদের চিন্তার গোলাম কামাল আতাতুর্ক অবৈধভাবে জাদুঘর বানিয়েছিল। আজ পৌনে শতাব্দীকাল পরে আদালত সেটিকে মসজিদ হিসেবে রায় দিয়ে মালিকানার বৈধ অধিকার বাস্তবায়ন করেছে। এতে অন্যায়-অবিচার তালাশ করাই তো অন্যায়।

যদি কেউ অতি ভালোমানুষি দেখাতে চান, তাহলে তিনি যেন স্পেনসহ ইউরোপের অসংখ্য মসজিদকে বানানো গির্জা ও জাদুঘরকে আগে মসজিদে ফিরে নেওয়ার দাবি তোলেন। গত কয়েক বছর ধরে মাতাল ট্রাম্প যখন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী এবং শতাব্দীর চুক্তি নামে আকসা মসজিদকে জবরদখলকারী ইহুদিদের হাতে তুলে দিচ্ছে, তখন আপনাদের কণ্ঠে তো ন্যায্যতা ও ইনসাফের এসব বয়ান দেখিনি!

সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ ও রজব তৈয়ব এরদোগানের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা।

 আলী হাসান তৈয়্যব ভাইয়ের লেখা।


খেলার মাঠে দর্শক গ্যালারীতে একসাথে তিন বেকার।



এরা তিনজনে মোট চব্বিশ বছর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলো। কিন্তু এদের কেউ টাকা পয়সা চুরি করে নিজেদের নামে সম্পদ করে নাই।তাই এখন বসে বসে বেকার ভাতা খায় আর সেলফি তুলে। এই তিনজন ভিন্ন মতের মানুষ হলেও একটা জায়গায় সবার নীতি এক ছিল- তা হলো আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা, তাই স্বজাতির চোখে তারা সমাদৃত। সবচেয়ে বড় কথা, এরা কেউ দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাচার করে নাই।