বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৬

মাসিক আদর্শ নারী

16.3 MB
Aug 18, 2012
16.2 MB
Aug 18, 2012
16.2 MB
Aug 18, 2012
16.4 MB
Aug 18, 2012
16.1 MB
Aug 17, 2012
15.3 MB
Aug 17, 2012
17.1 MB
Aug 17, 2012
17.3 MB
Aug 17, 2012
16.5 MB
Aug 17, 2012
15.8 MB
Aug 17, 2012
15.7 MB
Aug 17, 2012
17.5 MB
Aug 17, 2012
17.0 MB
Aug 17, 2012
16.3 MB
Aug 17, 2012
13.0 MB
Aug 15, 2012
16.8 MB
Aug 15, 2012
11.2 MB
Aug 7, 2012
17.1 MB
Aug 15, 2012
16.0 MB
Aug 7, 2012
16.2 MB
Aug 7, 2012
16.7 MB
Aug 7, 2012
16.2 MB
Aug 7, 2012
24.6 MB
Aug 7, 2012
17.8 MB
Aug 7, 2012
18.0 MB
Aug 7, 2012
18.0 MB
Aug 3, 2012
17.7 MB
Aug 3, 2012
15.4 MB
Aug 15, 2012
18.2 MB
Aug 3, 2012
22.7 MB
Aug 3, 2012
18.7 MB
Aug 3, 2012
14.4 MB
Mar 5, 2012
14.6 MB
Mar 5, 2012
14.7 MB
Mar 5, 2012
13.6 MB
Mar 5, 2012
11.9 MB
Mar 5, 2012
17.6 MB
Mar 1, 2012
16.2 MB
Mar 1, 2012
15.7 MB
Mar 5, 2012
18.7 MB
Mar 5, 2012

16.3 MB
Aug 18, 2012
16.2 MB
Aug 18, 2012
16.2 MB
Aug 18, 2012
16.4 MB
Aug 18, 2012
16.1 MB
Aug 17, 2012
15.3 MB
Aug 17, 2012
17.1 MB
Aug 17, 2012
17.3 MB
Aug 17, 2012
16.5 MB
Aug 17, 2012
15.8 MB
Aug 17, 2012
15.7 MB
Aug 17, 2012
17.5 MB
Aug 17, 2012
17.0 MB
Aug 17, 2012
16.3 MB
Aug 17, 2012
13.0 MB
Aug 15, 2012
16.8 MB
Aug 15, 2012
11.2 MB
Aug 7, 2012
17.1 MB
Aug 15, 2012
16.0 MB
Aug 7, 2012
16.2 MB
Aug 7, 2012
16.7 MB
Aug 7, 2012
16.2 MB
Aug 7, 2012
24.6 MB
Aug 7, 2012
17.8 MB
Aug 7, 2012
18.0 MB
Aug 7, 2012
18.0 MB
Aug 3, 2012
17.7 MB
Aug 3, 2012
15.4 MB
Aug 15, 2012
18.2 MB
Aug 3, 2012
22.7 MB
Aug 3, 2012
18.7 MB
Aug 3, 2012
14.4 MB
Mar 5, 2012
14.6 MB
Mar 5, 2012
14.7 MB
Mar 5, 2012
13.6 MB
Mar 5, 2012
11.9 MB
Mar 5, 2012
17.6 MB
Mar 1, 2012
16.2 MB
Mar 1, 2012
15.7 MB
Mar 5, 2012
18.7 MB
Mar 5, 2012



ইবাদতের মর্মকথা- শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৬

আল্লাহ যদি সবই পারেন, তাহলে এমন ভারি কিছু কি বানাতে পারবেন, যেটা নিজেই তুলতে পারবেন না?


আল্লাহ যদি সবই পারেন, তাহলে এমন ভারি কিছু কি বানাতে পারবেন, যেটা নিজেই তুলতে পারবেন না?


PhilosophicPrincipalal-Theological-Perspectives-e1347814419815

আমরা জানি, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সব কিছু করতে পারেন। তার মানে তিনি ইচ্ছা করলে এমন ভারি কিছু বানাতে পারবেন, যেটা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না। এখন তিনি যদি সেই ভারি জিনিসটাকে তুলতে না পারেন, তার মানে তিনি সবকিছু করতে পারেন না। আর তিনি যদি সব কিছু তুলতে পারেনই, তার মানে তিনি আসলে এমন ভারি কিছু বানাতে পারেন না, যেটা তিনি নিজে তুলতে পারেন না। সুতরাং আল্লাহ বলে কিছু নেই।

এই ধরণের প্রশ্ন ফিলোসফিতে পড়ান হয় যাতে করে ফিলসফির ছাত্র-ছাত্রিদেরকে নাস্তিক বানিয়ে দেওয়া যায়। এই সব শত শত প্রশ্ন নিয়ে বছরের পর বছর চিন্তা করেও শিক্ষার্থীরা কোন উত্তর বের করতে পারে না এবং আসতে আসতে তারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, একসময় নাস্তিক হয়ে যায়। এছাড়াও আপনি নাস্তিকদের বইয়ে এই ধরণের অনেক প্রশ্ন পাবেন, যা দিয়ে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে আসলে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই।
এইসব প্রশ্নের সমস্যা হচ্ছে, আপনি এর উত্তর ‘হ্যা’ বলতে পারবেন না, আবার ‘না’ বলতে পারবেন না। দুই দিকেই ফেঁসে যাবেন।
আপনি যদি এই প্রশ্নের উত্তর দেন – হ্যা; তার মানে আল্লাহ নিজেই এমন কিছু বানাতে পারেন, যেটা এতই ভারি যে তিনি নিজেই সেটা তুলতে পারবে না। এর মানে দাঁড়ায় আল্লাহ সর্ব শক্তিমান নন।
আপনি যদি উত্তর দেন – না; তার মানে আল্লাহ এত ভারি কিছু নিজেই বানাতে পারবেন না, যা তিনি নিজেই তুলতে পারেন। তার মানে দাঁড়ায় আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করতে পারেন না।
যারা এধরনের প্রশ্ন করে, তারা আসলে নিজেরাই চিন্তা করে দেখেনি তাদের প্রশ্নটাই কতখানি অবাস্তব। প্রথমত, ভারি মানে কি? ভারি মানে হচ্ছে যার ওজন বেশি। ওজন কি? ওজন হচ্ছে অভিকর্ষ ফলে কোন বস্তু যে টান অনুভব করে। পৃথিবী কোন বস্তুকে যে বল দিয়ে টানে, সেটাকে ওজন বলে। আমরা যখন বলি কোন কিছু অনেক ভারি, তার অর্থ হচ্ছে পৃথিবী সেটাকে অভিকর্ষের ফলে এমন বল দিয়ে টানছে, যা আমাদের সীমিত পেশি শক্তি আর মাটির উপরে ধরে রাখতে পারছে না। আমরা যখন বলি, “এটাকে উপরে তুলো”, তখন আমরা আসলে বলি সেই জিনিসটাকে শক্তি দিয়ে পৃথিবীর থেকে তার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দাও।
এখন উপরের প্রশ্নটা কতখানি অবাস্তব সেটা চিন্তা করে দেখুন। প্রথমত, কোন কিছু ভারি হওয়া মানে অন্য কোন কিছু তাকে অভিকর্ষ দিয়ে টানছে। তাহলে আমরা যখন বলছি, “আল্লাহ কি এত ভারিকিছু বানাতে পারবে…”, তার মানে দাঁড়ায় আমরা বলছি, আল্লাহ কি এমন কোন কিছু তৈরি করতে পারবেন, যা তার অসীম ভরের কারণে পৃথিবীকে অসীম বল দিয়ে নিজের দিকে টানবে? মহাবিশ্বে কোন কিছুর ভর অসীম হতে পারে না। বরং কোন কিছুর ভর একটা সীমা পার করলেই সেটা ব্ল্যাকহোল হয়ে যায় এবং আশে পাশের সবকিছু খেয়ে ফেলে। সুতরাং অসীম ভরে যাবার অনেক আগেই সেই বস্তুটা ব্ল্যাকহোল হয়ে যাবে। আল্লাহ যদি পৃথিবীর উপরে থাকা কোন কিছুর ভর বাড়াতে বাড়াতে একটা সীমা অতিক্রম করে ফেলেন তাহলে সেটা ব্ল্যাকহোল হয়ে পৃথিবীকেই খেয়ে ফেলবে। তখন তাকে আর “উপরে তোলার” প্রশ্ন আসবে না।
দ্বিতীয়ত, আমরা যখন বলছি, “…এত ভারি যে আল্লাহ সেটা তুলতেপারবে না?” এখানে “তোলা” মানে কি? কোন কিছু তোলা মানে হচ্ছে পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাথে সেই জিনিসটার দূরত্ব বৃদ্ধি করা। এখন কোন কিছুর ভর যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে সেটা এক সময় মাটি ভেদ করে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ঢুকে যাওয়া শুরু করবে। পৃথিবীর ভেতরে ঢুকে পৃথিবীর সাথে যদি মিশেই যায়, তাহলে তাকে আর তোলা যাবে কি করে? একটা জিনিস তো তখনই তোলা যায় যখন সেটা পৃথিবীর পৃষ্ঠ তলের উপরে থাকে!
এই পর্যায়ে এসে নির্বোধরা যুক্তি দেখানো শুরু করে, “তার মানে কি এই দাঁড়াল না, যে আল্লাহ এমন ভারি কিছু বানাতে পারবে না, যা সে নিজেও তুলতে পারবে না, কারণ কোন কিছু বেশি ভারি হলেই পৃথিবীর ভিতরে ঢুকে যায় এবং এক সময় ব্ল্যাকহোল হয়ে যায়?” উত্তর হচ্ছে – না, এর মানে এই দাঁড়ায় যে মহাবিশ্বের নিয়ম অনুসারে প্রশ্নটা একটা অবাস্তব প্রশ্ন। মহাবিশ্বের নিয়ম অনুসারে এরকম কোন ঘটনা মহাবিশ্বের মধ্যে ঘটতে পারবে না। কোন বস্তুর বেলায় কখনও এরকম কোন ঘটনা ঘটা সম্ভব না। তখন তারা বলবে, “মহাবিশ্বের নিয়ম মানতে হবে কে বলেছে। আল্লাহ কি মহাবিশ্বের নিয়ম ভাঙ্গতে পারে না?”
এখন আলোচ্য প্রশ্নটার ধরনটাই হচ্ছে, “আল্লাহ কি ‘ক’ করতে পারেন, যার ফলে তিনি ‘খ’ করতে পারবেন না, কারণ মহাবিশ্বের নিয়ম অনুসারে ‘ক’ হলে ‘খ’ কখনও হতে পারে না?”
এখানে প্রশ্নটাই হচ্ছে, মহাবিশ্বের নিয়মের মধ্যে থেকে কি আল্লাহ মহাবিশ্বের মধ্যে ‘ক’ করতে পারেন কি না, যার ফলে তিনি কখনও মহাবিশ্বের মধ্যে‘খ’ করতে পারবেন না। যদি মহাবিশ্বের নিয়মের মধ্যে থাকতেই হয় এবং মহাবিশ্বের মধ্যেই কোন ঘটনা ঘটাতে হয়, তাহলে মহাবিশ্বের নিয়মের অনুসারে একটা ঘটনা বাস্তব, না অবাস্তব সেটাও স্বীকার করতে হবে। নিজের সুবিধামত কথা পালটালে তো হবে না। যারা এধরনের কথা বলে তারা আসলে বলছেঃ
“আল্লাহ কি মহাবিশ্বের নিয়ম অনুসরণ করে, মহাবিশ্বের নিয়মের বাইরে কোন কিছু করতে পারে না?”
একই ধরণের আরও প্রশ্ন আপনি পাবেন। যেমনঃ
“আল্লাহ যদি সব কিছু সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে আল্লাহ কি আরেকটা আল্লাহ বানাতে পারবে?”
“আল্লাহ যদি সবকিছু ধ্বংস করতে পারে, তাহলে কি আল্লাহ নিজেকে ধ্বংস করে দিতে পারে?”
এ রকম যত প্রশ্ন পাবেন, তার সবগুলোর ধরন একটাই। যারাই এই ধরনের প্রশ্ন করে, তারা আসলে বোকার মত জিগ্যেস করছেঃ
“সৃষ্টিকর্তা কি এমন কিছু করতে পারে যা সৃষ্টিকর্তার বেলায় প্রযোজ্য নয়, শুধুই সৃষ্টির বেলায় প্রযোজ্য?”
“কাউকে সৃষ্টি না করলে তো সেটা সৃষ্ট হতে পারেনা। তাহলে কি আল্লাহকেও কারও সৃষ্টি করতে হবে না?”
প্রথমত, আল্লাহকে যে বানিয়েছে তাকে কে বানিয়েছে? যে আল্লাহকে বানিয়েছে, তাকে যে বানিয়েছে, তাকেই বা কে বানিয়েছে? এই প্রশ্নের তো কোন শেষ নেই! এটা চলতেই থাকবে।
দ্বিতীয়ত, এই প্রশ্নটা একটা ভুল প্রশ্ন। কারণ সৃষ্টিকর্তা অর্থ ‘যে সৃষ্ট নন বরং যিনি সৃষ্টি করেন।’
সুতরাং কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, “সৃষ্টিকর্তাকে কে বানিয়েছে?”, সে আসলে জিজ্ঞেস করছেঃ
“যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি, তাকে কে সৃষ্টি করেছে?”
এধরনের অনেক নির্বোধ প্রশ্ন আপনারা ফিলোসফার এবং নাস্তিকদের কাছ থেকে পাবেন, যারা ভাষার মারপ্যাচ দিয়ে এমন সব প্রশ্ন তৈরি করে, যা পড়ে আপনার মনে হবে – “আসলেই তো! এর উত্তর কি হবে? হায় হায়! আমি কি তাহলে ভুল বিশ্বাস করি?” তাদের আসল সমস্যা হচ্ছে তারা ভাষা এবং বিজ্ঞান ঠিকমত বোঝে না এবং তাদের প্রশ্নগুলো যে ভাষাগত ভাবে ভুল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অবাস্তব, সেটা তারা নিজেরাই ঠিকমত চিন্তা করে দেখেনি। এরা আপনাকে ভাষাগত ভাবে ভুল বাক্য তৈরি করে, বৈজ্ঞানিক ভাবে অবৈজ্ঞানিক একটা প্রশ্ন করে, আপনার কাছে দাবি করবে একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেবার।
এদেরকে জিগ্যেস করুনঃ
“আপনি কি কোন কথা না বলে একটা কথা বলতে পারবেন? যদি তা না পারেন, তাহলে সেটা পেরে তারপর আমার কাছে আসুন।”
এধরনের নির্বোধদেরকে বেশি পাত্তা দিবেন না। পাত্তা না পেয়ে একসময় দেখবেন এদের আর কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এদেরকে পাত্তা দিয়ে, এদেরকে ফেইসবুকে শেয়ার করে, খবরের কাগজে আর্টিকেল লিখে, টিভিতে লেকচার দিয়ে একটা বিরাট ভুল করি। এরা আমাদের পাত্তা পেয়ে আরও জোরে শোরে তাদের কাজ প্রচার করে যায়। আপনার উচিৎ আল্লাহর নির্দেশ মেনে এদের থেকে দূরে থাকা এবং সবসময় সত্য প্রচার করে যাওয়া, যাতে করে মানুষ চারিদিকে তাদের অসত্য দেখে, শুনে বিভ্রান্ত হয়ে না পড়েঃ
পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্র ভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলতে আসে, তারা বলে, “সালাম” (২৫:৬৩)

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ও তার অনুসারিরা ইসলাম থেকে খারিজ কেন?

কাদিয়ানীরা অমুসলিম কেন?
কোনো কোনো সাধারণ মানুষ মনে করে যে, কাদিয়ানীদের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধটা হানাফী-শাফেয়ী বা হানাফী-আহলে হাদীস অথবা কেয়ামী-বেকেয়া মীদের মতবিরোধের মত।
আসলে বিষয়টি তা নয়, বরং কাদিয়ানীদের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধ এমন একটি মৌলিক আকীদা নিয়ে, যার বিশ্বাস করা-না করার উপর মানুষের ঈমান থাকা-না থাকা নির্ভর করে।
কুরআনপাকের অনেক আয়াত ও অগণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত মুসলিম সমাজের অন্যতম মৌলিক আকীদা হল, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে কোনো নবী নেই।
মুসলমানদের এমন একটি অকাট্য আকীদার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী বলে দাবি করে।
সুতরাং সে মুসলমানদের সর্বসম্মত আকীদা মুতাবিক কাফের তথা অমুসলিম। আর যে বা যারা তাকে নবী বলে বিশ্বাস করে, সে বা তারা ইসলামের সর্বজন স্বীকৃত আকীদা মুতাবিক মুসলমান থাকতে পারে না। তারা কাফের অর্থাৎ অমুসলিম।
যে ব্যক্তি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকীদায় বিশ্বাসী নয়; বরং তার বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘নবী’ বলে দাবি করে, আর যারা তার এ দাবিকে সমর্থন করে তারাও মুসলমান নামের পরিচয় বহন করতে পারবেনা।
তাদেরকে হয়ত নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে এবং তওবা করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী মেনে নিয়ে এবং ইসলামের অন্য সকল মৌলিক আকীদাকে মেনে নিয়ে মুসলমান হতে হবে, নতুবা মুসলমানের পরিচয় বাদ দিয়ে নিজেদের ভিন্ন ধর্মের নামে পরিচিত হতে হবে।
এ কথাটি আমাদের দেশের সাধারণ লোকজন থেকে শুরু করে শাসকগোষ্ঠী পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ যত তাড়াতাড়ি বুঝে নিতে সক্ষম হবে, ততই তাদের দুনিয়ার জীবনে হেদায়াত ও পরকালে শান্তি ও মুক্তির পথ বেছে নিতে সহজ হবে।
এদেশীয় মুসলমান, ব্রাহ্ম, সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা যেমন বাংলাদেশের নাগরিক, তেমনি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরাও এ দেশের নাগরিক। দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সকল ধর্মের অনুসারী লোকেরা যতটুকু নাগরিক অধিকার ও সুবিধা ভোগ করে, কাদিয়ানীরাও ততটুকু পাক, এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে সেটা হতে হবে তাদের নিজের স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয়ে, মুসলমান পরিচয়ে নয়।
তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভিন্ন নামে সমাজে বেঁচে থাকুক, আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমে তারা তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে অংশগ্রহণ করুক, তাতেও মুসলমানদের আপত্তি নেই। তবে মুসলমানদের মৌলিক আকীদায় বিশ্বাসী না হয়ে, মুসলমান পরিচয় ধারণ করার অধিকার তাদের নেই।
সুতরাং কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি মুসলিম সম্প্রদায়ের আকীদা রক্ষার আন্দোলন তো বটে, ধর্মীয় অধিকারের বিষয়ও।
এখন দেখা যাক, কাদিয়ানীরা অমুসলিম রূপে ঘোষিত ও চিহ্নিত না হলে তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে কি কি সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, এমন একটি সম্প্রদায় যারা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে অমুসলিম, তারা যদি সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষিত হয়ে পৃথক একটি ধর্মাবলম্বী দল হিসাবে চিহ্নিত না হয় তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং হতে থাকবে। যেমন :
১.
তাদের রচিত ও প্রকাশিত বইপত্রকে মুসলমানদের লেখা বই- পুস্তকের মত মনে করে পাঠ করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং ঈমান হারিয়ে বসে।
২.
তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ মনে করে সেখানে গিয়ে নামায পড়ে। এতে মুসলমানদের কাছে ঈমানের পরে সর্বোচ্চ যে ইবাদত নামায, তা নষ্ট হয়।
৩.
কাদিয়ানী ধর্মমতের অনুসারী কোনো ব্যক্তি মুসলমানের ইমাম সেজে তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করতে পারে।
৪.
তারা মুসলমান পরিচয়ে নিজেদের মতবাদ-মতাদর্শ প্রচার করলে তাতে সাধারণ মুসলমান তাদেরকে মুসলমানেরই একটি দল মনে করে তাদের মতবাদ গ্রহণ করে নিজেদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমান হারিয়ে ফেলে।
৫.
তারা মুসলমান নামে পরিচিত হওয়ার কারণে তাদের সাথে মুসলনামানের মত আচার-আচরণ ও চলাফেরা করে। অথচ তাদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হওয়া উচিত এমনই, যেমন কোনো অমুসলিমের সাথে হয়ে থাকে।
৬.
অনেক সাধারণ মুসলমান তাদেরকে মুসলমান মনে করে নিজেদের বিবাহের উপযুক্তা মেয়েদের তাদের সঙ্গে বিবাহ দিয়ে অমুসলিমদের হাতে নিজেদের কন্যা তুলে দেয় এবং মুসলিম পাত্রের জন্য কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বী লোকের মেয়েকে মুসলমান না করে বধু হিসেবে বরণ করে। ফলে এরূপ দম্পতি আজীবন ব্যভিচারের গুনাহে লিপ্ত থাকে।
৭.
কোনো সম্পদশালী মুসলমান কোনো কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বী গরীবকে যাকাত দিলে তার ফরয যাকাত আদায় হবে না।
৮.
যে কোনো কাফের তথা অমুসলিমের জন্য হারাম শরীফে ঢোকা নিষেধ। অথচ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরা মুসলিম পরিচয় দিয়ে হজ্ব ও চাকরি- বাকরির নামে সৌদি আরবে গিয়ে হারাম শরীফে প্রবেশ করে তার পবিত্রতা নষ্ট করার সুযোগ পায়।

সুতরাং কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে মুসলমান থেকে পৃথক একটি ধর্মের অনুসারী দল ঘোষণা করে ভিন্ন নামে চিহ্নিত না করা হলে এরূপ বহু সমস্যা সৃষ্টি হয়, হতে পারে এবং ভবিষ্যতে হতে থাকবে। এতে মুসলমান সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার কারণে তারা যদি উত্তেজিত হয়ে উঠে তবে এতে দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যা কারও কাম্য নয়।
কাজেই তাদেরকে অবিলম্বে পৃথক একটি ধর্মাবলম্বী দল ঘোষণা করে পৃথক নামে তাদেরকে একটি সংখ্যালঘু দল হিসাবে মর্যাদা দিলে এবং তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষাসমূহ যেমন : নামায, রোযা, মসজিদ, হজ্ব ইত্যাদির ব্যবহার নিষিদ্ধ করলে তা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পক্ষে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। এটাই সচেতন মুসলিম সমাজের প্রাণের দাবি।
লেখক ও গবেষক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

ইসলামি শরীয়তে ব্যবহৃত ওজন পদ্ধতি ও বর্তমান বাজার দর সহ জুরুরী গাণিতিক হিসেব

ইসলামি শরীয়তে ব্যবহৃত ওজন পদ্ধতি ও বর্তমান তার বাজার দর সহ যাকাতের নিসাব এবং জুরুরী গাণিতিক হিসেব !!
যাকাতের নিসাব ও কত হারে জাকাত দিতে হয়?
আমাদের জবাব, প্রথমে মনে রাখতে হবে যে, ”পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ সম্পদের যাকাত নেই। পাঁচটি উটের কমের উপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই।” (বুখারীর হাদিস)
জ্ঞাতব্য :
বর্তমানে অনেকে প্রাচীনকালের মাপযন্ত্রের পরিভাষা ও ওজন সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে অবিজ্ঞ না হওয়ায় শরীয়তের নানা মাসয়ালা-মাসায়িল এবং ওজন সংশ্লিষ্ট বেশ কতেক হাদিসের তাৎপর্য বুঝতে পারেননা।
তাই সেদিককার বিবেচনায় অধমের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

Π আলোচ্য হাদিসে কয়েকটি শব্দ-বিশ্লেষণ নিম্নরূপ –
১ উকিয়া = (১১৯ গ্রাম রূপা) ৪০ দিরহাম অতএব ৫ উকিয়া = ২০০ দিরহাম অর্থাৎ ৫৯৫ গ্রাম রূপা।
১ ওয়াসাক = ৬০ ছা। রাসুল (সা)’র ছা’র পরিমাণ ছিল ১ ছা = ২ কেজি ৪০ গ্রাম পাকা পুষ্ট গম।
আরবি অভিধানে বর্তমানে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী ১৩০ কেজি ও ৩২০ গ্রাম ফসল।
(সূত্রঃ মু’জামু লুগাতুল ফুকাহা পৃষ্ঠা ৪৪৯-৪৫০।)
এ ছাড়া আরো অনেক পরিভাষা রয়েছে। যা সহজে এভাবে বুঝে নিন যে,
১ দিয়াত = ১০০০ দিনার।
১ দিনার = ১২ দিরহাম।
১ দিরহাম = সাড়ে ৪ আনা।
১ উকিয়া = ৪০ দিরহাম বা ১১৯ গ্রাম রূপা।
সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা = ১৪০ দিরহাম বা ৫৯৫গ্রাম রূপা।
সাড়ে সাত তোলা সোনা = ২০ দিনার বা ৮৫ গ্রাম সোনা।
১ তোলা = ১ভরি বা ১২ গ্রাম প্রায়।
১ দিনার (কুয়েত) = ২৭৪.৯০ টাকা।
১ দিরহাম (দুবাই) = ২১.১৭ টাকা।
১ রিয়াল (সৌদিআরব) = ২০.৭৪ টাকা।
১ ছা = ১০৪০ দিরহাম।
১ ছা = সাড়ে তিন সের।
১ ওয়াক্ত নামাযের কাফফারা = আধা ছা صاع ।
১ ফিতরা = আধা ছা গম।
১ যব = ৩ চাউল।
১ ক্বিরাত = ৫ যব।
১ দিরহাম = ৭০ যব।
১ মিসকাল = ১০০ যব।
১ রতল = ২০ আস্তার।
১ ছা = ১৪০ দিরহাম।
১ রতল = ১৩০ দিরহাম।
১ রতল = ৯১ মিসকাল।
১ রতল = আধা মুদ।
১ আস্তার = সাড়ে ছয় দিরহাম।
১ আস্তার = সাড়ে চার মিসকাল।
২ ওয়াসাক্ব = ৬০ ছা।
১ ছা = ৭২৮ মিসকাল।
১ ছা = ৪ মুদ।
১ ছা = ১৬০ আস্তার।
১ ছা = ৮ রতল।
Π এবার স্বর্ণ ও রূপা সহ নানা জিনিষ’র যাকাতের নিসাবঃ
স্বর্ণের নিসাব হচ্ছে ২০ মিসকাল (দিনার) তথা ৮৫ গ্রাম।
যদি কারো কাছে ৮৫ গ্রাম পরিমাণ বা অধিক স্বর্ণ ১ বছর (অর্থাৎ ১২ মাস) পর্যন্ত স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে তাহলে বছর শেষ হলে যাকাত দিতে হবে।
রূপার নিসাব হচ্ছে ১৪০ মিসকাল (দিরহাম) তথা সৌদি আরবের রূপার দিরহাম অনুযায়ী ৫৬ রিয়াল অর্থাৎ ৫৯৫ গ্রাম।
অর্থাৎ কারো কাছে ৫৯৫ গ্রাম বা এর অধিক রূপা ১ বছর কাল সময় পূর্ণ করলে এর যাকাত আদায় করতে হবে।
Π জমানো টাকার ক্ষেত্রেঃ
জমানো টাকার পরিমাণ যদি বাজারে স্বর্ণ বা রূপার নেসাব এর বাজার মূল্যের পরিমাণ বা অধিক থাকে তাহলে তার যাকাত দিতে হবে!
এখানে আমাদের একটু বুঝতে হবে। যদি কারো কাছে স্বর্ণ অথবা রূপার নেসাব পরিমাণ বাজার মূল্য ”টাকা” হিসেবে পুর্ণ ১ বছর জমা থাকে তাহলে তার যাকাত দিতে হবে। এখানে নেসাব হিসেবে স্বর্ণকেও গ্রহণ করা যেতে পারে আবার রূপাকেও গ্রহণ করা যেতে পারে, এই সুযোগ দেয়া হয়েছে।
Π জমিনে উৎপন্ন ফসলের যাকাত বা উশড়ঃ
আল্লাহ্ বলেন, ”আর তোমরা ফসলের হক সমূহ আদায় কর যেদিন ফসল কর্তন কর সেদিনই। (সুরা আল আন’আম ১৪১)।
অর্থাৎ যে দিন ফসল জমি থেকে কেটে ঘরে তোলা হয় সে দিনই ফসলের যাকাত দিতে হয়, যাকে উশর বলা হয়। শরীয়তে তা আদায় করা ফরয।
Π গবাদি পশুর নিসাব পরিমাণঃ
এগুলোর মধ্যে সামিল হবে গরু, ছাগল, ভেড়া, উট ইত্যাদি গৃহপালিত পশু। এগুলোর ক্ষেত্রে শর্ত হল এই গবাদি পশুগুলো মাঠে চরা পশু হতে হবে এবং দুধ কিংবা আর্থিক লাভের জন্য পালন করা হতে হবে।
মাঠে চড়ার ক্ষেত্রে শর্ত হল সমস্ত বছর কিংবা বছরের অধিকাংশ সময় চরতে হবে। এদের নিসাব ও পুর্ণ এক বছর পুর্তি হলেই কেবল যাকাত দিতে হবে, নতুবা নয়।
Π গবাদি পশুর নিসাব:
উটের ক্ষেত্রেঃ সর্ব নিম্ন ৫টি আর গরুর ক্ষেত্রেঃ সর্ব নিম্ন ৩০ টি এবং ছাগল বা ভেড়া বা দুম্বার ক্ষেত্রেঃ সর্ব নিম্ন ৪০ টি।
অর্থাৎ এই পরিমাণ পশু ১ বছর সময় পর্যন্ত থাকলে এদের যাকাত দিতে হবে। কিন্তু ব্যবসার জন্য যদি তাদের পালন করা হয় তাহলে মাঠে চড়ানো হোক বা খোঁয়াড়ে রেখে পালন করা হোক, তার যাকাত দিতে হবে ”মূল্য” তথা অর্থ নির্ধারণ করে।
Π নেসাব পরিমাণ সম্পদের যাকাতের পরিমাণঃ
অর্থ, স্বর্ণ ও রূপার শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত দিতে হবে । (বুখারী, মুসলিম)।
স্বর্ণঃ ২০ দিনার বা ৮৫ গ্রাম ওজনের তথা সাড়ে সাত তোলা সোনা হলে ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ স্বর্ণ বা স্বর্ণ মূল্য যাকাত হিসেবে দিতে হবে। (বুখারী, মুসলিম)।
রূপাঃ ১৪০ দিরহাম বা ৫৯৫ গ্রাম অর্থাৎ সাড়ে ৫২ তোলা রূপা হলে তখন শতকরা আড়াই ভাগ রূপা অথবা রৌপ মূল্য যাকাত হিসেবে দিতে হবে। (বুখারী, মুসলিম)।
টাকাঃ বাজারে স্বর্ণ মূল্য অনুযায়ী কারো কাছে যদি ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ এর বাজারমূল্য পরিমাণ অর্থ জমা থাকে তাহলে এর শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত দিতে হবে। অথবা বাজারে রূপার মূল্য অনুযায়ী কারো কাছে যদি ৫৯৫ গ্রাম রূপার এর বাজারমূল্য পরিমাণ অর্থ জমা থাকে তাহলে এর শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত দিতে হবে। এক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ হিসেবে ব্যক্তি ইচ্ছামত স্বর্ণ বা রূপা যে কোনটিকে গ্রহণ করতে পারে।
আজকের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী স্বর্ণকে নিসাব ধরলে, স্বর্ণের নুন্যতম মূল্য হিসেবে কারো কাছে কমপক্ষে প্রায় ১,১৭,০০০ টাকা ১ বছর পর্যন্ত সঞ্চয়ে থাকলে এর আড়াই শতাংশ জাকাত হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১,১৭,০০০ টাকায় যাকাত আসবে প্রায় ৪২৫০ টাকা।
অপরদিকে রুপাকে নিসাব ধরলে, রুপার নুন্যতম মূল্য হিসেবে কারো কাছে কমপক্ষে প্রায় ১৭,০০০ টাকা ১ বছর পর্যন্ত সঞ্চয়ে থাকলে এর আড়াই শতাংশ জাকাত হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১৭,০০০ টাকায় যাকাত আসবে প্রায় ৪২৫ টাকা। যেহেতু স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে সেহেতু রুপাকে নেসাব ধরে যাকাত আদায় করাটাই উত্তম। এতে গরিব মানুষের অশেষ উপকার হয়। জাকাত দিলে সম্পদ বাহ্যিক দৃষ্টিতে কমে যাচ্ছে মনে হলেও মূলত বাড়ছে!
প্রশ্ন হল, বাড়ছে কিভাবে?
জবাব, তার এক অর্থে বাড়ছে মতলব, যাকাত আদায় করলে সম্পদে বরকত বাড়ে। বরকতহীন লক্ষ টাকা ১০,০০০ টাকারও সমান নয়।
অপরদিকে বরকতযুক্ত ১০,০০০ টাকা লক্ষ টাকার প্রয়োজন পূরণ করে দেয় ।
যদি কেউ রূপা কে নিসাব গ্রহণ করে তাহলে সেটা গরিবদের জন্য খুবই উত্তম হয়। তাই ওলামাগণ রূপাকে নিসাব গ্রহণে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে কেউ চাইলে স্বর্ণকেও নিসাব হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
লেখক, নূরুন্নবী। তাকমীল : দারুলউলুম আল- হোসাইনিয়া ওলামা বাজার, ফেনী। হ্যালো : 01812561424

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

থার্টি ফাস্ট নাইট বিজাতীয় সংস্কৃতি

এহসান বিন মুজাহির ::
ইংরেজী নববর্ষ তথা  ‘থার্টি ফস্ট নাইট’ ইসলামে অবৈধ এবং এটা খৃষ্টানদের সংস্কৃতি। তাই ইংরেজী নববর্ষ পালন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বৈধ নয়। ইংরেজী নববর্ষের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক সুস্পষ্ট। তাই বলে খৃষ্টানদের অনুকরণে ইংরেজী বছর শেষে পরবর্তী নববর্ষের রাত তথা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ (১২টা ১ মিনিট) পালন সম্পূর্ণ হারাম কাজ। কারণ এরাতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অশ্লীলতা-নগ্নতা ও বেলেল্লাপনার বন্যায় প্লাবিত হয়। মদ পান, ছেলে মেয়ের যৌন উম্মাদনাসহ বিভিন্ন অনৈতিক ও নোংরা অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে ইংরেজী নববর্ষকে বরণ করা হয়। যা ইসলামে অত্যন্ত ঘৃণ্য ও গর্হিত কাজ। ইসলামে নৈতিকতাহীন ক্রিয়া কর্মের অশ্লীল উপভোগ নেই। বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও নোংরামীকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
থার্টি ফাস্টে অসামাজিক কার্যকলাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। জাতীয় পত্র পত্রিকার শিরোনামের অনেকটাই দখল করে থাকে থার্টি ফার্স্ট নাইটের রমরমা কাহিনী। পর্ণোমুভি, নেশাদ্রব্য, আপত্তিকর নাচ-গানসহ বিভিন্ন বেহায়ামিপূর্ণ কীর্তিকলাপ দ্বারা থার্টি ফাস্ট উদযাপন গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে চলে আসছে। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দশক আগে কেউ এ দিবস এভাবে উদযাপন করতো না। কিন্তু ভিনদেশের সংস্কৃতি আমাদের দেশের দালাল মিডিয়া আমদানি করত: আমরা আজ এ দিবসগুলোতে শরীয়ত বিরোধী ও গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে ঈমানদারগণ তাদের ঈমান- আমলকে বিনষ্ট করছে।
থার্ট ফাস্ট নাইটে রাজধানীর হোটেল, নাইট ক্লাব ও উদ্যানগুলো জেনা ব্যভিচারের বাজার বসে। নাচ গান, মদ ও নেশা খেয়ে এক তরুণ অপর তরুণীর পবিত্র সতীত্বকে ভোগ করে। এর প্রমাণ গত বছরের প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক কাগজ। বিভিন্ন হোটেল ও স্পটগুলোতে অচেতন অনেক যুবতীদের বীভৎসরূপে পাওয়ার ছবিও জাতীয় দৈনিকে এসেছে।
মূলত এটা খৃস্টানদের সংস্কৃতি হলেও প্রতি বছর এটা মুসলিম উম্মাহগণও পালন করে থাকেন। কিন্তু এটা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ি, শরীয়ত সীমালঙ্ঘন করে ফেলি। অশ্লীলতা ও নোংরামীতে লিপ্ত হয়ে পড়ি। এটা মুসলমানী কোন সভ্যতা, সংস্কৃতি হতে পারে না। বরং এটা একটি অপসংস্কৃতি। ইহুদী খৃষ্টানদের কালচারকে মুমিন মুসলমানরা আজ অনুসরণ করছে। থার্টি ফাস্ট নাইট বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ এবং অশ্লীলতার মহাপ্লাবন। এটা বিজাতীয় সংস্কৃতি। একজন ঈমানদার মুসলমান ও রুচিশীল-সচেতন মানুষ কিভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও  বেহায়াপনাকে সমর্থন করে তা বোধগম্য নয়।
কারণ নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে অন্য জাতির সাথে আচার-আচরণে, কৃষ্টি-কালচারে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে সে তাদের দলভুক্ত বিবেচিত হবে। (-সুনানে আবু দাউদ শরীফ)
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক সুস্পষ্ট ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি’। (-সুরা মায়িদাহ আয়াত-৪৮)
একজন ঈমানদার নর-নারীর প্রতিটি দিন-রাত উৎসব ও আনন্দের। বছরে গুটি কয়েক দিন নয় বরং প্রতিটি দিন আনন্দের। প্রতিটি দিন ক্ষণ আমাদের জন্য মুল্যবান। বিশেষ করে থার্টি ফার্স্ট নাইট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাত। আমাদের দায়িত্ব ছিল এই রাতে অনুশোচনা (বিগত বছরের পর্যালোচনা) ও আত্মসমালোচনা করে আগামী বছরের (পরিকল্পনা গ্রহণ) কল্যাণ কামনা করত: সিজদাবনতে হয়ে থাকা। তাওবাহ, ইস্তেগফার, দোয়া- দুরুদ, নফল নামাজসহ ইত্যাদি ভাল কাজের মধ্যে রাত গুজার করা।
গত এক বছরে ক’টি ভাল কাজ ও কতগুলো গুনাহের কাজ করেছেন এ বিষয়ে নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আত্মসমালোচনা করা।
হযরত ওমর (রা:) বলেন, “তুমি নিজের হিসাব নিজে করে নাও তোমার কাছ থেকে হিসাব নেয়ার পুর্বে”। অথচ এই অনুশোচনার পরিবর্তে আমরা নগ্নতার বন্যায় গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেদের গা ভাসিয়ে দিচ্ছি। আমাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল আত্মসমালোচনা করে নয়া বছরের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেয়া। যারা থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, “তোমরা যা করনা কেন আমি সব বিষয়ে অবগত। তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আমি বেখবর নই। জাহান্নামের কঠিন শাস্তি দিয়ে তোমাদেরকে স্বাগত জানানো হবে। ইচ্ছেমত যা মন চায় করো। তবে সবাই একদিন আমার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে”। (সূরা:৩৩)
রাসুল (সাঃ ) ইরশাদ করেন,‘যদি তুমি খারাপ কাজ করো, আর তোমার খারাপ লাগে, ভাল কাজ করে ভাল লাগে তাহলে তুমি মুমিন। কিন্তু যদি খারাপ কাজ করে ভাল এবং ভাল কাজ করে খারাপ লাগে তাহলে তুমি মুমিন হতে পার না’। (-মুসলিম শরীফ)
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

থার্টিফাস্ট নাইটে আমাদের যা করণীয়

তাজ উদ্দিন হানাফী 
থার্টিফাস্ট নাইট শীতল রজনী তপ্ত করবে  নিশি কন্যারা ২০১৫ সালকে বিধায় দিয়ে ২০১৬ কে সাদরে বরণ করে নেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর মতো আমাদের দেশও সাঁজছে তার আপন মহিমায়।  পাঁচতারা হোটেলগুলো থেকে শুরু করে ছোটখাটো অনেক পার্টি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবে তপ্ত রমনীরা। থার্টিফাস্ট নাইটে বেহায়পনা, বেলেল্লাপনা, নগ্নতার সকল উপকরণে সজ্জিত এই রজনী। যুব চরিত্র ধ্বংসের যেন এক কালজয়ী মিশন। থার্টিফাস্ট নাইটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্ষতিকর কাজটি হয় রাতের বেলায়। রাত যত গভীর হয় ততই জমে ওঠে উদাযাপন নামি নাচ গান। নাচ নামে মেয়েদের নগ্ন নাচে মগ্ন হয় সমাজের একাংশ তরুণ। নগ্ন নাচ দেখতে দেখতে বসে মদ, ফেনিসিডিল ও গাঁজার আসর । প্রায় সারা রাত ধরে চলে এ নগ্ন উৎসব। ক্ষণিকের মোহে মানুষ তার বিবেক বিসর্জন দেয়।  ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই নগ্ন নাচ  বন্ধ হলেও এর প্রভাব বন্ধ হয়না। যে তরুণ-যুবকের সারা রাত নগ্নতা উপভোগ করে তার প্রভাব কি খুব দ্রুত শেষ হতে পারে? তাইতো ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পরকীয়া, ইভটিজিংসহ নানা ধরণের অপরাধ সমাজে বাড়তেই থাকে। অবশ্য নারীর প্রতি এ জাতীয় অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের আইন আছে এবং মিডিয়ায় বেশ আলাপচারিতাও চলে কিন্তু অপরাধের কারখানায় অপরাধ উৎপাদন অব্যাহত রেখে তো ভোক্তাকে ফিরিয়ে রাখা যাবে না। বিদেশি সংস্কৃতি জামায় আদরে মেহমানদদারি করে, দেশের নতুন প্রজন্মের তরুণ-যুবকদেরকে ধ্বংসের এ আয়োজন কেন ?
আজ অশ্লীলতা আমাদের যুব সমাজকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। সদা ক্রিয়াশীল এ সম্প্রদায়কে রুগ্ন করে দিচ্ছে অশ্লীলতা। পৃথিবীময় সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদীরা  যুব সমাজকে এক শ্রেণীর যৌন জীব হিসাবে পরিচিত করানোর,এবং সেই হিসাবে বাঁচিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। শোবিজ তারকাদের যুব সমাজের কাছে স্বপ্নের মানুষ হিসাবে উপস্থাপন ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষদেরকে তাদের মতো জীবন যাপনে অভ্যস্ত করানোর অপপ্রয়াস চলছে সর্বত্র। যুব সমাজের চরিত্র ধ্বংসের জন্য যৌন উত্তেজক উপকরণ,অশ্লীল সিডি,ভিসিডি,ম্যাগাজিন,ক্যাবল টিভি নেটওর্য়াক,পত্রপত্রিকা,পর্ণো ইত্যাদি গুলোকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে যুব সমাজের মনুষ্যত্বের শক্তিকে গলাটিপে হত্যা করে পশুত্ব শক্তিকে জাগিয়ে তোলা হচ্ছে। ফলে দেশ ও সমাজ অবয়ের যাঁতাকলে নিপীড়িত হচ্ছে। অশান্ত গোটা পৃথিবী। বেড়ে যাচ্ছে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, সন্ত্রাস ও যৌন নির্যাতন।
যাদের আপ্যায়নে আজকের থার্টি ফাস্ট নাইট তাদের তরে কিঞ্চিৎ ক্ষোভঃ
আগুন জ্বালব বলে অনেক দিন ক্ষেটে কাঠ খড় জোগাড় করা, জ্বালিয়ে দিয়েছি সমাজ, সাংস্কৃতিতে। যুবক-যুবতীর বুকে আগুন দেখার সাধ অনেক দিনের, লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে, জ্বালাচ্ছে আগুন জ্বললে কারও লাভ, কারো পকেট ভরে। আমাদেও সমাজ, সাংস্কৃতির শত্রুও পয়সায় শ্রদ্ধায় অবনত মীরজাফরের মাথা, ইংরেজ চলে গেছে,  মীরজাফর তার হাড়গোড় নিয়ে মাটি হলেও জানতে পারলোনা যে,
ইতিহাস একের পর এক, কতো শত মীরজাফরকে ধারন করলো। জ্ঞানীর রুপ ধেও, সুন্দরের বেশ ধরে শয়তানের পথ চলা আজকের নয় সেই শুরু থেকে সভ্যতাকে অসভ্য বানানোই তার কাজ শয়তানও হাসে, মানুষের কর্মকান্ড; নিষ্ঠুরতা, অপকর্মেও দেয়াল পেরিয়ে ধ্বংষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে ভাবে এ কি মানুষ! আমাকেও ছাড়িয়ে যায়? শয়তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছি অনেক আগেই। নোংরামীকে বুকে নিয়ে আমাদের থার্টিফাষ্ট হলিখেলা ইারীর পোশাক এখন আদিম হিংস্রতায় ভরা পুরুষের চোখ নৈতিকতা বির্সযন দিয়ে তারই বোনের দিকে তাকায়।
মুখ, হাত-পা দিয়ে আহব্বান করে-ধ্বংষের পথে। আগুন জ্বলে ঘরে ঘরে জ্বালিয়েছি আমরাই- নোংরামির খড় কুটার আগুন। ইভটিজিং বলে চিৎকার দিয়ে লাভ কি! টেনে এনেছি, সেই সুদুর থেকে, অসভ্যতাকে সভ্যতা বলে। এই জন্যই শেখ সাদি বলেন, নিউই ইয়ার কিভাবে একজন মুসলমানের কাছে হ্যাপি হয়? “আপনার জীবন থেকে তো একটা বছর চলে গেল । আমরা সবাই কিছু  শেষ হলে অখূশী হই, আর জীবনের আয়ু কমার কারণে খূশী হই কিভাবে?  বাস্তবতা এটিই, আজ আমাদের আনন্দ উল্লাস, মেতে উঠা বর্ণীল সাজে সজ্জিত,পাচতারকা হোটেলে পশ্চিমাদের সংস্কৃতি আননে আমাদের দৌড়যাপ,এসকল কি প্রমাণ বহন করে, আমরা নিজেরাই তার ব্যাখা দিতে পারব।
খ্রিষ্টীয় বড় দিন পালনে আমাদের কি একটু মন কাপেনা আমরা যে মুসলমান, আমাদের পরিচয় মুসলিম, এটি আমরা ভূলে যাই কি করে,আজ আক্ষেপসূচক বাক্য বলতে হয় আমাদের,হিজরী সনের আগমনের কালে কোন পশ্চিমা খ্রিষ্টীয়দের আমাদের মত সাজতে দেখা যায়না।এরা দিকই অনুধাবন করতে পারে যে,এটি মুসলমানি রীতি সংস্কৃতি।
আমাদের এসব পালনে প্রয়োজন নেই,কিন্তু হায়!আজ আমরা ধর্মীয় রীতি  মূলোচ্ছেদ করে,নগ্ন উল্লাসী হয়ে পশ্চিমা পতিতা সংস্কৃতি আমদানি করতে ব্যস্ততম হয়ে পড়ি।
থার্টিফাষ্টে আমাদের করনীয়ঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। আবু দাউদ: (৩৫১৪) অন্য হাদীসে নবী করিম (সাঃ) বর্ণনা করেণ যে, তার উম্মতদের একদল লোক আচরণ, অভ্যাস ও জীবনাচারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট ইহুদী-খৃষ্টান জাতিকে হুবহু অনুসরণ করবে । আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মত পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট জাতির হুবহু অনুসরণ শুরু করবে । এমনকি তারা যদি একহাত সামনে গিয়ে থাকে, আমার উম্মতও যাবে । এক গজ পেছনে গিয়ে থাকে, আমার উম্মতও তাই করবে । সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, “পারস্য ও রোম জাতির মত?  জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী (সাঃ) বললেন – তা না হলে আর কাদের মত ? (বুখারী)
অন্য আরেকটি হাদীসে মহানবী (সাঃ) বলেছেন- “অবশ্যই তোমরা পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট জাতির হুবহু অনুসরণ শুরু করবে । তারা যদি একহাত সামনে গিয়ে থাকে, তোমরাও যাবে । একগজ পেছনে গিয়ে থাকলে তোমরাও তাই করবে । এমনকি তারা যদি কোন সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে , তোমরাও সাপের গর্তে প্রবেশ করবে । সাহাবারা আরজ করলেন- ইহুদী-খৃষ্টানদের মত? নবীজী (সাঃ) বললেন, তা না হলে আর কাদের মত ?’ (বুখারী-মুসলিম)
ওলামাগণ এই হাদিসদ্বয়ের ব্যখ্যায় বলেন, এখানে হাত, গজ , সাপের গর্তে প্রবেশ দ্বারা মূলতঃ তাদের পরিপূর্ণ এবং অন্ধ অনুসরণই বুঝানো হয়েছে।তাই আসুন পশুবৃত্তিকে প্রণোদনাকারী থার্টিফার্স্ট নাইট নামক বেহায়াপনা থেকে নিজে বিরত থাকি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সতর্ক করি। থার্টিফার্স্ট নাইটের মতো উৎসব কখনো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে ছিল না। তবে এসব অশ্লীলতা ও কামোদ্দীপক প্রোগ্রামকে যদি এতো সহজে গ্রহণ করি, তবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম নিশ্চিত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বে। সমাজে বিস্তর লাভ করবে, এইডস নামি আল্লাহর লা’নত, আজকের শিশু হয়ে উঠবে যেন কোন কালনাগিনী সাপের দর্পে, বিষাক্ত হবে হবে সমাজ,ধ্বংস হবে আমাদের সংস্কৃতি, পাপে নিমজ্জিত হয়ে আমাদের ধ্বংসের পথ আমরাই রচনা করব, তাই আসুন আমরা সকলেই এমন অসুস্থ সংস্কৃতিকে না  বলি। আদর্শ সমাজ নির্মাণে নিজ থেকে ভূমিকা রাখি।এই প্রত্যাশায়।
কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক


বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

সবাইকে নতুন বছরের মোবারকবাদ*


আলহামদুলিল্লাহ 2015 সাল আমার ভালোই কেটেছে, আশা করি সামনের দিনগুলো আল্লাহর রহমতে ভালো কাটবে ইনশাআল্লাহ, যতদিন দুনিয়াতে আল্লাহ রাখেন ঈমান এবং আমলের সাথে যেন থাকতে পারি সেই দোয়াই সকলের নিকট চাচ্ছি। 
*আর সবাইকে নতুন বছরের মোবারকবাদ*