বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০১৫

ড. এপিজে আবদুল কালাম

ড. এপিজে আবদুল কালাম সারা জীবন হিন্দুদের দাসত্ব করে মৃত্যুর পর মুসলমানদের সমবেদনা নিয়ে কবরে গেলো.. কবরে যাওয়ার আগেও মোদির পেন্নাম নিয়ে গেলো কফিন বক্সে করে..
গত দুদিন পুরা ওয়াল ছিলো আবদুল কালামের বিভিন্ন উক্তিতে ভরপূর.. যাদেরকেই দেখেছি সেই উক্তিগুলো ভক্তিভরে প্রচার করছে তাদেরকেই বুঝেছি যে এরা আসলে স্রোতের টানে চলে.. বাস্তবতা খুঁজে না কোন সময়ই.. আসলে বাস্তবতা খোঁজার সুজোগটা পায় না.. মিডিয়া নামক সন্ত্রাসটা এদের ব্যাপারে আমাদেরকে যা গেলায় আমরা তাই গিলি..
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হ্বক একটা কথা বলেছিলো,
'যখন দেখি কোন হিন্দু আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় তখন বুঝতে পারি যে জেনে হোক বা অজানায় হোক কোন মুসলমানের আমি নিশ্চয়ই ক্ষতি করেছি'
সেখানে এই আবদুল কালাম লোকটার প্রশংসায় পুরা হিন্দু জাতিই পঞ্চমুখ তার মানে সে মুসলমানদের ক্ষতিটাও জাতিগত ভাবেই করেছে!!
গুজরাটের দাঙ্গায় হাজারো মুসলমানের রক্তধারা, কাশ্মিরে আমার হাজারো মা-বোনদের ইজ্জত লুট, বাবরি মসজিদ শহীদ করে দেয়ার সেই ঘটনাগুলোতে আবদুল কালাম লোকটা মুখে কুলুপ এটে বসে ছিলো! শুধু তাই নয় যারা এসব করেছে সেই হিন্দুদের হাতে তুলে দিয়েছে নিউক্লিয়ার মিসাইল বোমা যার লং রেঞ্জ ৫,৫০০ কিমি (ভারতের দাবী অনুযায়ী অগ্নি-৫ এর)
ভারত বিভিন্ন মোবাইল বেইজ বা মোবাইল নিউক্লিয়ার ইউনিট থেকে সর্ব পশ্চিমে তাদের গুজরাট বা পাঞ্জাব বা উত্তরে দখলকৃত কাশ্মীরের প্রদেশ থেকে পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিমে এই মিসাইল ছুড়লে সেটা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজিস্তান এই ৭ টি মুসলিম দেশে আঘাত হানতে পারবে।
পূর্বে পশ্চিম বঙ্গ বা সেভেন সিস্টার থেকে পুরা বাংলাদেশ এই বোমা এর রেঞ্জে থাকবে !
দক্ষিনে কেরালা থেকে মালদ্বীপ আর দক্ষিণ পূর্বে আন্দামান থেকে মালেয়শিয়া ও ইন্দোনেশিয়া এই তিনটা মুসলিম দেশে এই বোমা আঘাত হানতে পারবে।
মানে এই আবদুল কালাম লোকটা ১১ টা মুসলিম দেশের প্রায় ৬০ কোটি এর অধিক মুসলিম এর জীবন বিপন্ন করেছে ভারতের হাতে নিউক্লিয়ার বোমা তুলে দিয়ে!! আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই এর উচিত বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ!
'
আর একটা কথা হলো,
জাতিগত ভাবে এমন ভয়ংকর বিপদজনক হিন্দু দালালকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে নিজ জাতির অংশ বলে পরিচয় দেয়ার প্রয়োজনবোধ করি না।
'
হুম,
বলতে পারেন যে ব্যাক্তিগতভাবে সে মানুষটা খুব ভালো ছিলো.. ছিলোও হয়ত.. তবে সেই ভালো থাকাটা আমার জাতির কোন উপকারে আসেনি তাই আমি আমার জাতিপ্রেমের কারনে তার কোন প্রশংসা করতে পারলাম না।
'
তার অসংখ্য শিক্ষণীয় উক্তিসমূহ সম্পর্কে যে মন্তব্য করতে পারি তা হলো,
যারা দেউলিয়াত্বের পোষাক পড়েছে তারাই পারে ধার করে এনে তার উক্তি মেনে জীবন পরিবর্তন করার জেগে থাকার স্বপ্ন দেখতে!! কিন্তু আমাদের রয়েছে পবিত্র কুরআন হাদিস এবং রাসুল (সঃ) এর পুর্ন হায়াতে জিন্দেগানী যার মাধ্যমে পরিবর্তন এবং সুন্দর-সফল জীবন যাপন সবচেয়ে সহজসাধ্য.. তাই আবদুল কালামের ধার করা মতামত লাগবে না আমাদের।।
'
পরিশেষে যারা আবদুল কালামের জীবন দর্শন অনুসরন করেন তাদের জন্য একটা স্যাড নিউজ,
'উনি কিন্তু সারা জীবন আবিয়াইত্যা আই মিন চিরকুমার অর্থাত্‍ বিয়েহীন ছিলেন' 

নামাজ শিক্ষা

জায়নামাজের দোয়াঃ
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর পূর্বেই এই দোয়া পড়তে হয়,
    বাংলা উচ্চারন- ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ্ হিয়া লিল্লাজি, ফাত্বরস্ সামা-ওয়া-তি  ওয়াল্ আরদ্বঅ হানি-ফাওঁ ওয়ামা-আনা মিনাল মুশরিকী-ন।
    অর্থ-নিশ্চই আমি তারই দিকে মুখ করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবিকই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই ।
এরপর নামাজের নিয়াত ও তাক্ বীরে তাহঃরীমা
নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়াত করা। মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে মুস্তাহাব।
সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া'লা
    (২ রাকাত হলে) রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
    (৩ রাকাত হলে) ছালাছা রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
    (৪ রাকাত হলে) আর্ বায়  রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
    (ওয়াক্তের নাম) ফাজ্ রি/ জ্জুহরি/আ'ছরি/মাগরিবি/ইশাই/জুমুয়া'তি
    (কি নামাজ তার নাম) ফারদ্বুল্ল-হি/ওয়াজিবুল্ল-হি/সুন্নাতু রসূলিল্লাহি/নাফলি।
    (সমস্ত নামাজেই) তায়া'লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা'বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার।
বাংলায় নিয়াত করতে চাইলে বলতে হবে,
আমি আল্লা-হ্'র উদ্দেশ্যে ক্কেবলা মুখী হয়ে, ফজরের/জোহরের/আসরের/মাফরিবের/ঈশার/জুময়ার/বি'তরের/তারঅবি/তাহাজ্জুদের (অথবা যে নামাজ হয় তার নাম)
২ র'কাত/৩র'কাত/৪ র'কাত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)
ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করলাম, আল্ল-হু আকবার ।
তাকবীরে তাহরীমা- আল্লাহু আক্ বার, অর্থ-আল্লাহ মহান ।
সানাঃ] (হাত বাধার পর এই দোয়া পড়তে হয়)
   উচ্চারণ :- সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা’ আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক।
    অর্থ- হে আল্লাহ ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ভিন্ন কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।
তাআ’উজঃ
উচ্চারণ- আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম ।
অর্থ- বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ।
তাসমিয়াঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
অর্থ- পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।
এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতে  হয়, সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পর পবিত্র কোরআনের যে কোন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করতে হয় ।
রুকুর তাসবীহঃ
উচ্চারণ- সুবহা-না রব্ বি ইঃয়াল্ আ'জ্বীম। অর্থ-মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহাত্মতা ঘোষণা করছি ।
তাসমীঃ (রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় পড়তে হয়) 
উচ্চারণ- সামি আল্লা হুলিমান হামিদাহ,
অর্থ-প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শোনেন ।
তাহমীদঃ (রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়)
উচ্চারণ- রাব্বানা লাকাল হামদ । অর্থ- হে আমার প্রভু, সমস্ত প্রশংসা আপনারই ।
সিজদার তাসবীহঃ
উচ্চারণ- সুবহা-না রাব্বিয়াল আ'লা। অর্থ- আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ট, তারই পবিত্রতা বর্ণনা করছি ।
দু'সিজদার মাঝখানে পড়ার দোয়াঃ
উচ্চারণ- আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী ।
অর্থ- হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে রিজিক দিন ।
[হানীফি মাযহাবে এই দোয়া পড়া হয় না, কেউ যদি হানীফি মাযহাব এর হয়ে থাকেন তাহলে এই সময এক তসবী পড়তে যে সময় লাগে , সেই সময় পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পুনঃরায় সেজদায় যাওয়া।]
তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতুঃ
উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি,  ওয়াছ ছালা-ওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবা তু, আচ্ছালা মু আ'লাইকা, আইয়্যুহান নাবিয়্যু, ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আচ্ছালামু আলাইনা, ওয়া আ'লা ইবাদিল্লা হিছ-ছা লিহীন। আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু ।
অর্থঃ আমাদের সব সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল ।
দরুদ শরীফঃ
উচ্চারণ- আল্লহুম্মা ছাল্লি আ'লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ'লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আ'লা ইব্রহীমা ওয়া আ'লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজী-দ্ ।আল্লাহুম্মা বারিক্ আ'লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ'লা আ'লি মুহাম্মাদিন,  কামা বা-রাকতা আ'লা ইব্রহীমা ওয়া আ'লা আ'লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ ।
অর্থ- হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী ।
দোয়ায়ে মাসূরাঃ
উচ্চারন- আল্লা-হুম্মা ইন্নী জ্বলামতু নাফসী জুলমান কাছীরও ওয়ালা ইয়াগফিরু যুনূবা ইল্লা আনতা ফাগ্ ফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।
অর্থ- হে মহান আল্লাহ, আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি (অর্থাৎ অনেক গুনাহ/পাপ করেছি) কিন্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না। অতএব হে আল্লাহ অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।
দোয়ায়ে কুনুতঃ (বিতরের নামাজের পর ৩য় রাকায়াতে সূরা ফাতিহা ও অন্য কিরআত পড়ার পর এই দোয়া পড়তে হয় )।
উচ্চারণ- "আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা'ঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়া নু'মিনু বিকা ওয়া না তা ওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখ লা, ওয়া নাত রুকু মাইয়্যাফ জুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস'আ, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখ'শা আযাবাকা ইন্না আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুল হিক ।"
অর্থ- হে আল্লাহ, আমারা আপনার নিকট সাহায্য চাই। আপনার  নিকট গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা কেবল মাত্র আপনার উপরেই ভরসা করি। সর্বপ্রকার কল্যান ও মংগলের সাথে আপনার  প্রশংসা করি। আমরা আপনার শোকর আদায় করি, আপনার  দানকে অস্বীকার করি না।আপনার  নিকট ওয়াদা করছি যা, আপনার  অবাধ্য লোকদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক রাখব না-তাদেরকে পরিত্যাগ করব । হে আল্লাহ, আমরা আপনারই দাসত্ব স্বীকার করি। কেবলমাত্র আপনার  জন্যই নামাজ পড়ি, কেবল আপনাকেই সিজদা করি এবং আমাদের সকল প্রকার চেষ্টা-সাধনা ও কষ্ট স্বীকার কেবল আপনার  সন্ততুষ্টির জন্যই । আমরা কেবল আপনার ই রহমত লাভের আশা করি, আপনার আযাবকে আমাওরা ভয় করি। নিশ্চই আপনার  আযাবে কেবল কাফেরগনই নিক্ষিপ্ত হবে।

কালিমা পরিচিতি

কালেমা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্বলিত কয়েকটি আরবি পংক্তির নাম। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা পায়। ইসলামে কালমিার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক । কালিমার মূল অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মারা যায় যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোন সঠিক উপাস্য নেই সে জান্নাতে যাবে।
এক. কালিমা তাইয়্যেবা
আরবি :
لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ
বাংলা উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।
দুই. কালিমা শাহাদৎ
আরবি :
اشْهَدُ انْ لّآ اِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه، وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهوَرَسُولُه
বাংলা উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
বাংলা অর্থ : আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক। তাঁহার কোন অংশীদার নেই, এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
তিন. কালিমা তামজীদ
আরবি :
سُبْحَان لِلّه وَ الْحَمْدُ لِلّهِ وَ لآ اِلهَ اِلّا اللّهُ، وَ اللّهُ اَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلاَ قُوَّة ِلَّا بِاللّهِ الْعَلِىّ الْعَظِيْم
বাংলা উচ্চারণ : সুব্হানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আক্বার ওয়ালা হাওলা ক্বুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলিইল্ আযীম্।
বাংলা অর্থ : মহিমা ও সকল প্রসংশা আল্লাহ্র জন্য, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, সর্বশক্তিমান ও সর্বক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নয়। তিনিই মহান।
চার. কালিমা তাওহীদ
আরবি :
لا الهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهْ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَحَىُّ لَّا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا ط ذُو الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ ط بِيَدِهِ الْخَيْرُ ط وَهُوَ عَلى كُلِّ شَئ ٍ قَدِيْرٌ ط
বাংলা উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা-সারিকা লা-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহা ই ওয়া উ মিতু বি ইয়া সি হিল খাইরু ওয়া-হু-ওয়া আ-লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই তিনি এক তার কোন অংশীদার নেই। সমস্ত সৃষ্টি জগৎ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন হান করেন আবার তিনিই মৃত্যুর কারণ তার হাতেই সব ভাল কিছু এবং তিনিই সৃষ্টির সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
পাঁচ. কালিমায়ে রদ্দে কুফর
আরবি :
اللهم انی اعوذبک من ان یشرک بک شیئا واستغفرک ما اعلم به ومالا اعلم به تبت عنه وتبرأت من الکفر والشرک والمعاصی کلها واسلمت وامنت واقول ان لا اله الا الله محمد رسول الله صلی الله علیه وسلم.
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাহ ইন্নী আউযুবিকা মিন্ আন্ উশ্রিকা বিকা শাইআওঁ ওয়া আনা আ’লামু বিহী, ওয়া আস্তাগ্ফিরুকা লিমা আ’লামু বিহী, ওয়ামা লা-আ’লামু বিহী, তুব্তু আন্হু ওয়া তাবাররা’তু মিনাল কুফরি ওয়াশ্ শিরকি ওয়াল মায়াছী কুল্লিহা, ওয়া আসলামতু ওয়া আমান্তু ওয়া আক্বুলু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তমার নিকট আকাঙ্ক্ষা করছি যে আমি যেন কাউকে তমার সাথে শরিক না করি। আমি আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পাপ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তা হতে তোবা করছি। কুফরী, শিরক ও অন্যান্য সব পাপ হতে দূরে থাকছি। এবং স্বীকার করছি যে, “আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।”

একটি মাযহাব মানা ও অন্য মাযহাবের দলীল শক্তিশালী মনে হলে মানা যাবে না কেন?

প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম।
আমি শুআইব
হাফেজ+মেডিকেল স্টুডেন্ট।
চট্রগ্রাম
আমার কাছে এক ভাই নিচের প্রশ্নদ্বয় করেছিল কিন্তু আমি দলিল পারি নাই তাই আপনার নিকট প্রশ্ন করলাম।
১)একজন লোকের জন্য কি যে কোন একটি মাজহাব মানা আবশ্যক?
২)মনে করেন আমি হানাফির অনুসারি, একজন শাফেয়ীর অনুসারির সাথে আমার বিষেশ একটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে। এখন আমি তাকে দলিল প্রমান সহকারে বুঝিয়ে দিলাম যে, হানাফির মতামতটা অধিক সুদ্ধ। এবং এই বিষয়ে ইমাম শাফেয়ীর চেয়ে ইমাম আবু হানিফার মতামতটি অধিক যুক্তি যুক্ত। এখন, এই বিষয়ে লোকটি কি আগের মত শাফেয়ীর মতটা গ্রহন করবে?
নাকি হানাফি মতটা গ্রহন করবে? তদ্রুপ উল্টভাবে চিন্তা করলে, সে যদি শাফেয়ির মতামতের
পক্ষে হানাফির চেয়ে শক্ত দলিল দিতে পারে, তাহলে আমি কি করব? এই বিষয়ে আমি কি আগের মত হানাফি মতের অনুসরন করব? নাকি শাফেয়ী মত অনুসরন করব? কেউ ভুল বুঝবেন না। আমি কিন্তু মাজহাব চেইন্জ করার কথা বলিনি, শুধু যে বিষয়টা নিয়ে আমরা দুজনের মধ্যে কথা হচ্ছে,ঐ বিষয়টার ক্ষেত্রে কার মতামত গ্রহন করা উচিত। যার দলিল অধিক শক্ত তার? নাকি আমি অন্য সব বিষয়ে যাকে অনুসরন করি তার?
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১ম প্রশ্নের জবাব
দ্বীন সম্পর্কে মানুষ দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা-
১-কুরআন, হাদীস, ইজমা কিয়াস, উসূলে হাদীস, হাদীসের জরাহ তাদীল, শানে নুজুল, শানে ওরূদ, আরবী নাহু সরফ, আরবী বালাগত, ফাসাহাত ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ। যাদের  বলা হয় মুজতাহিদ। আর মুজতাহিদগণ গবেষণা করে কুরআন, সুন্নাহ ভিত্তিক যে মাসআলা একত্র করে গেছেন, আমলীভাবে চালু হয়েছে তার নামই মাযহাব।
২-যাদের এমন জ্ঞান নেই।
এ উভয় শ্রেণীর ক্ষেত্রেই কুরআনে নির্দেশনা এসেছে।
প্রথম শ্রেণীর ক্ষেত্রে এসেছে-
فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا [٤:٥٩]
তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর। {সূরা নিসা-৫৯}
অর্থাৎ মুজতাহিদগণ সরাসরি কুরআন ও হাদীস থেকে সরাসরি মাসআলা বের করতে মেহনত মুজাহাদা করবেন।
অন্য আরেক আয়াতে এসেছে-
فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ [٥٩:٢]
হে বিদ্বান ব্যক্তিগণ,তোমরা কিয়াস কর। {সূরা হাশর-২}
দেখুন-তাফসীরে কাবীর-২৯/২৮১, ২৮২,তাফসীরে বায়যাবী-৫/৩১৭}
আর তাদের এ প্রচেষ্টাকে সওয়াবের কারণ উল্লেখ করে রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
عَنْ عَمْرِو بْنِ العَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ
হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন কোন ফায়সালাকারী ফায়সালা করার মুহুর্তে ইজতিহাদ করে, আর সে তার ইজতিহাদ দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে, তাহলে একটি সওয়াব পাবে। {বুখারী, হাদীস নং-৭৩৫২, ৬৯১৯}
অর্থাৎ মুজতাহিদের কোন কাজই সওয়াব থেকে খালি নেই। মাসআলা সমাধানে যে অবস্থানেই থাকুক সে সওয়াব পেতে থাকে।
এবার দেখতে হবে দ্বিতীয় প্রকারের ব্যক্তিদের অবস্থান। অর্থাৎ যারা উপরোক্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ নয়। তারা কী করবে?
পবিত্র কুরআনে তাদের বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে-
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ [٢١:٧
অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা জানে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। {সূরা আম্বিয়া-৭}
এ আয়াত বুঝাচ্ছে, যাদের কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে পূর্ণ প্রাজ্ঞতা নেই, তারা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করে তাদের অনুসরণে আল্লাহর শরীয়ত অনুসরণ করবে।
এখন প্রশ্ন হল, সারা বিশ্বব্যাপীতো অসংখ্য মুজতাহিদ-বিশেষজ্ঞ থাকতে পারে। তো সাধারণ মুসলমানগণ কোন ব্যক্তির অনুসরণে আল্লাহর শরীয়ত অনুসরণ করবে? কার মতানুসারে ইসলামী শরীয়ত মানবে?
এরও জবাব আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে দিয়ে দিয়েছেন-
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَافَّةً ۚ فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ [٩:١٢٢]
আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না,যাতে তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে ফক্বীহ হতে পারে, এবং [ফক্বীহ হবার পর] সতর্ক করে স্বজাতিকে,যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে,যেন তারা বাঁচতে পারে।  {সূরা তওবা-১২২}
উক্ত আয়াতে দেখুন পরিস্কার বলা হচ্ছে ফক্বীহ হবার পর স্বজাতিকে সতর্ক করবে। আর লোকেরা তাদের স্বজাতির ফক্বীহের কথা শুনে আখেরাতের বিষয়ে সতর্ক হবে।
এ আয়াত দ্বারা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে এলাকায় যে ফক্বীহ আছেন, তার বলা ফাতওয়া অনুপাতে তারা দ্বীন পালন করবে। এটাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উক্ত আয়াতে পরিস্কার জানিয়ে দিলেন।
সেই হিসেবে আমরা বলি যে এলাকায় যে ফক্বীহের কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক উদ্ভাবনী মাসায়েল পৌঁছেছে, সেই এলাকায় সেই ফক্বীহের অনুসরণ করবে। অন্য এলাকায় ফক্বীহের ফাতওয়া নয়।
যেহেতু ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফী ফক্বীহদের অনুসারীরা দ্বীন এনেছেন। তাদের মাধ্যমেই দ্বীন ছড়েছে। আর ইসলাম আসার পর থেকে এ এদেশ সমূহে এভাবেই দ্বীন পালন করা হচ্ছে। তাই এ এলাকায় কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক এ মাযহাবই অনুসরণ করবে। শ্রীলংকায় শাফেয়ীদের মাধ্যমে দ্বীন প্রচার হয়েছে, মক্কায় হাম্বলী ও মদীনায় মালেকী মাযহাব অনুপাতে দ্বীন পালন করা হয়, তাই সেখানে সেভাবেই দ্বীন মানবে। ভিন্ন মাযহাবের অনুসরণ করে ফিতনা করবে না।
সেই হিসেবে যে এলাকায় যে মাযহাবের মাধ্যমে দ্বীন এসেছে, যে মাযহাব অনুপাতে ইসলাম আসার পর থেকে আমল চলে আসছে। সেই মাযহাব অনুপাতেই দ্বীন পালন করবে। সূরা তওবার ১২২ নং আয়াত একথাই বর্ণিত হয়েছে।

২য় প্রশ্নের জবাব

এ প্রশ্নটি করা হয় সাধারণত ইসলামী ফিক্বহ ও সাধারণ বোধবুদ্ধি কম থাকার কারণে।
দুইজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রেশক্রিপশন একজন সাধারণ রোগী নিজেদের স্বল্প জ্ঞান দিয়ে বিবেচনা করে একটিকে প্রাধান্য দেয়া কতটা হাস্যকর তা নিশ্চয় সবার জানা। দুইজন ইঞ্জিনিয়ার দু’টি থিউরী দিলেন। এখন একজন সাধারণ লোক, যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের “ই” পর্যন্ত জানে না, সে যদি দুই ইঞ্জিনিয়ারের থিউরীকে নিজের স্বল্প জ্ঞান দিয়ে প্রাধান্য দিতে চায়, তাহলে এটি হাস্যকর বিষয় হবে না?

ঠিক তেমনি ইমাম শাফেয়ী রহঃ, ইমাম মালিক রহঃ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ ও ইমাম আবু হানীফা রহঃ হলেন পৃথিবী বিখ্যাত সর্বজন স্বীকৃত মুজতাহিদ। এখন যারা ইজতিহাদের “ই” পর্যন্ত জানে না, তারা যদি দুইজন মিলি বিচার বিশ্লেষণ করে একটিকে প্রাধান্য দেবার হাস্যকর প্রচেষ্টা করে তা কতটা বোকামী তা আশা করি আর বলতে হবে না।
তাই এরকম হাস্যকর কাজ না করে, যে এলাকায় যে মাযহাব হিসেবে দ্বীন এসেছে, যে অনুপাতে ইসলাম আসার পর থেকে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক আমল চালু আছে, সে এলাকায় সেভাবেই আমল করবে। রোগী হয়ে পিএইচডি করা ডাক্তারের থিউরীর ভুল ধরতে যাওয়ার মত হাস্যকর কাজে নিয়োজিত হওয়া যাবে না।
আরো জানতে পড়ুন-
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

তাবলীগ জামাতের উপর কথিত আহলে হাদীসদের মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা

মুফতী রফীকুল ইসলাম মাদানী
সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের প্রশংসিত ও সুপরিচিত তাবলীগ জামাআতও লা-মাযহাবীদের কাছে নিন্দিত।  তাবলীগ জামাআ’তের একান্ত নিষ্ঠা ও অক্লান্ত দাওয়াতী মেহনতে লাখ-লাখ বিধর্মী আজ মুসলমান হচ্ছে। জীবনে যারা মসজিদ দেখেনি তারাও মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করছে। নবী রাসূলদের প্রতিনিধি  আল্লাহর পথে আহবানকারী এ নিষ্ঠাবান তাবলীগ জামাআতও লা-মাযহাবীদের অপপ্রচারের শিকার। রেহাই পায়নি এদের বিদ্বেষী আক্রমণ ও হিংসাত্মক উপহাস-বিদ্রƒপ  আর অবান্তর তিরস্কার-ভর্ৎসনা থেকে। এ পরিসরে অতি সংক্ষেপে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি-
(ক)
আবু উসামা কর্তৃক প্রণীত তাবলীগ জামাআতের উপর আক্রমণাত্মক স্বতন্ত্র বই “জামাআতুত তাবলীগ” এর সপ্তম পৃষ্ঠা- কিতাবের ভূমিকায় লিখেছে-
(ھدفنا من تقدیم ھذا الکتاب ھو ان القاری علی علم بھذہ الطائفۃ وبما فیھا من الاوھام والخرافات)
“এই বই লেখার উদ্দেশ্য হল, পাঠককে তাবলীগ জামাআতের ভ্রান্ত মতবাদ ও কুসংস্কার সম্পর্কে অবহিত করা।”
একই পৃষ্ঠায় তাবলীগ জামাআতের পরিচিতি পেশ করতে গিয়ে লিখে- “ইসলামী ফিরক্বাসমূহের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি শিরকজনিত ফিৎনামূলক আক্বীদার জালে আবদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে তাবলীগ জামাআত এবং এ জামাআতের উলামা ও সাধারণ মানুষ।
উক্ত বইয়ের ৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছে-
(جماعۃ التبلیغ مثل الشیعۃ والقادیانیین۔
“তাবলীগ জামাআত শিয়া ও ক্বাদিয়ানীদের মত”
৬৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে-
(جماعۃ التبلیغ توالی الطاغوت)
“তাবলীগ জামাআত শয়তানের বন্ধু”
২৯৮ পৃষ্ঠায় লিখেছে-
(من الشرکیات التی ذکرت عن بعض المشایخ من التبلیغ)
“ তাবলীগ জামাআতের মুরব্বীদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে শিরক”।
জামাআতুত তাবলীগ লিখক-আবু উসামা সাইয়্যেদ তালিবুর রহমান , দারুল বয়ান পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত, প্রথম প্রকাশ-১৪১৯হি. ১৯৯৯ইং
(খ)
আদ-দেওবন্দীয়া কিতাবে লিখেছে-
(حسین احمد وغیرہ من مشائخ جماعۃ التبلیغ المخرفین)
তাবলীগ জামাআতের মুরুব্বী হুসাইন আহমদ ও অন্যান্যরা কুসংস্কারে লিপ্ত ছিল। পৃ.নং-২১১
(গ)
আহলে হাদীস তাবলীগে ইসলাম, বাংলাদেশের আমীর, শায়খ মুফতী মোহাম্মদ আ. রউফ প্রণীত জামাআতে তাবলীগের প্রতি তিরস্কারমূলক বই “ ইলিয়াসী তাবলীগ বনাম রাসূল (সা.) এর তাবলীগ” নাম যেমন , কাম তেমন। নামেই বুঝাচ্ছে বইয়ের অশ্লীলতার দৌরাত্ম। ৮ পৃষ্ঠা বইয়ের প্রত্যেকটি লাইনেই চরম অশ্লীলতার পরিচয় দিয়েছে। খারেযী, রাফেযী, ও শিয়াদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে জামাআতে তাবলীগের সবাইকে খারেযী, রাফেযী ও ভ্রান্ত শী’য়া প্রমাণ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
বইয়ের লিখক শায়খ মুফতী মুহাম্মদ আ. রউফ এম৪৮ খালিশপুর, হাউজিং এস্টেট খুলনা। প্রকাশনা মুহা. ইমতিয়াজ আমিন,৭৩ সি, এম, ব্লক সড়ক নং-১৬, খালিশপুর হাউজিং এস্টেট খুলনা।
পর্যালোচনা
তাবলীগ জামাতের উপর লা-মাযহাবীদের আক্রমণের ধরণটা উলামায়ে দেওবন্দের উপর আক্রমণের মতোই প্রায়। আর উলামায়ে দেওবন্দের উপর আক্রমণ বিষয়ক যেহেতু বিস্তারিত পর্যালোচনা পেশ করা হয়েছে ,তাই এ অধ্যায়ে বিশেষ কোন আলোচনার প্রয়োজন মনে করি না।
মোট কথা, ভুল ধরা, সমালোচনা করা, অপবাদ রটানো আর তিরস্কার-বিদ্রƒপ করা এ জগতে খুবই সহজ ব্যাপার। কিন্তু কাজ করাই মহা কঠিন। যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হয়। যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না। বরং যারা কাজ করে না তারাই ভুল ধরায় ব্যস্ত থাকে। তাবলীগ করা বা আল্লাহর পথে আহবান করা আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রেরিত সমস্ত নবী ও রাসূলের কাজ। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
(ومن احسن قولا ممن دعا الی اللہ)
“যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?” সুরা-ফুচ্ছিলাত-৩৩
অপর এক আয়াতে রাসূল (সা.) কে নির্দেশ করে বলেন-
(یا ایھا الرسول بلغ ما انزل الیک من ربک وان لم تفعل فما بلغت رسالتہ واللہ یعصمک من الناس ان اللہ لایھدی القوم الکافرین)
“হে রাসূল তাবলীগ করুন (পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে।) আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম  কিছুই পৌঁছালেন না। (তাবলীগ করতে গেলে মানুষ আপনাকে তিরস্কার করবে  এমতাবস্থায়) আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির (সত্য গোপনকারী) দেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। মাইদাহ-৬৭
প্রিয় পাঠকগণ! গভীরভাবে চিন্তা করলে এ আয়াতেই অভিযোগকারীদের সমস্ত তিরস্কারের দাঁতভাঙ্গা জবাব রয়েছে। মূলত তাবলীগ করা নবীদের কাজ। নবীদের অবর্তমানে আমরা  সবাই নবীদের প্রতিনিধি। তাই তাবলীগ করা সবার উপরেই জরুরী। সবার পক্ষ হতে আমাদেরই কিছু ভাই এ সুমহান দায়িত্বে আত্মনিবেদিত হয়েছেন। তাই আমাদের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু একটি বিভ্রান্ত  দল এর বিপরীতে তাদেরকে তিরস্কার ও উপহাস-বিদ্রƒপের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এ ধারা আজকের নতুন নয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) কেও এ দ্বীনের তাবলীগ করার কারণে ঘর-বাড়ী ছাড়তে হয়েছে । সহ্য করতে হয়েছে বহু তিরস্কার আর ভর্ৎসনার ঝড়-তুফান। দান্দান শহীদ করতে হয়েছে ওহুদের প্রান্তরে, রক্ত ঝরাতে হয়েছে তায়েফের ময়দানে।
আল কুরআনে নূহ (আ.) , হুদ (আ.) , সালেহ (আ.) মুসা (আ.) ও অন্যান্য নবীদের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। তারা স্ব-স্ব গোত্রে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে তাবলীগ করার জন্য গেলে কেবল তারা প্রত্যাখ্যানই করেনি, বরং নবীদেরকে মিথ্যুক , যাদুকর, কাল্পনিক ও ভ্রান্ত ইত্যাদি অপবাদে আখ্যায়িত করেছে। দেখুন সুরা আরাফ আয়াত-৫৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত এবং আযযারিয়াত-৩৯ থেকে শেষ পর্যন্ত।
আল্লাহ পাক সূরায়ে আযযারিয়াতে কতিপয় নবী রাসূলের বিবরণ উল্লেখ করত, ইরশাদ করেন-
(ما اتی الذین من قبلھم من رسول الا قالوا ساحر او مجنون،
اَتَوَاصَوْابہ ج بل ھم قوم طاغون- فتول عنھم فما انت بملوم- وذکر فان الذکریٰ تنفع المؤمنین)
“ এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখন কোন রাসূল আগমন করেছেন, তারা বলেছে যাদুকর , না হয় উম্মাদ। তারা কি একে অপরকে এই উপদেশ দিয়ে গেছে? বস্তুত ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়। অতএব আপনি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এতে আপনি অপরাধী হবেন না। আর বুঝাতে থাকুন; কেননা বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে।” আযযারিয়াত-৫২-৫৫
এদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন-
(فان اعرضوا فما ارسلناک علیھم حفیظا، ان علیک الا البلاغ)
“যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল তাবলীগ (প্রচার ) করা। আশ-শুরা-৪৮
১৯৯৯ ইংরেজীর কথা, আমি তখন মদীনা ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ে হাদীস বিভাগে ৪র্থ বর্ষের শ্রেণীকক্ষে। আমাদের উস্তাদ শায়খ আব্দুর রহমান বিন মুহিউদ্দীন নাইলুল আওতারের দরস দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনায় তিনি তাবলীগ জামাআতের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অনীহামূলক আলোচনায় মেতে উঠেন। সাথে সাথে আফ্রিকার এক ছাত্র হাত উঁচু করে বলে, শায়খ! তাবলীগ জামাআত মানে সংস্কারমূলক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ পর্যন্ত দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছার এক অভিনব পথ, যার বদৌলতে লাখ লাখ মুসলমান ইসলামের সাথে ঘনিষ্ট হচ্ছে এবং নিজেদের ব্যক্তি জীবনকে ইসলামী আদর্শের আলোকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলে অসংখ্য অমুসলিম ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে । এ প্রক্রিয়ায় ইসলামের আলোকরশ্মি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
শায়খ বলেন, আসলে তাবলীগ জামাআতের উদাহরণ হবে এমন যে, কোন ব্যক্তি মহাসমুদ্রে হাবু-ডুবু খাচ্ছে, এমতাবস্থায় তাবলীগ জামাআতের লোকেরা তাকে উদ্ধার করত সমুদ্র তীরে বিবস্ত্র অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছে। তখন ছাত্রটি বলে, তাবলীগ জামাআতের লোকজন তো তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছেন, এখন আপনারা যেয়ে অন্তত বস্ত্র পরিধানের কাজটা করেন। শায়খ গম্ভীর স্বরে বলেন – (أحسنت یابُنَیَّ)  বেটা তুমি খুবই সুন্দর বলেছো।”
বস্তুত তাবলীগ জামআত সম্পর্কে যারা কটুক্তি করে চলেছে তারাও অবুঝ ও অজ্ঞতা বশতই এমন করছে। ঐ শায়খের মতো সঠিক বুঝশক্তি ও হিদায়েতের অনুসন্ধান থাকলে আল্লাহ পাক তাদেরকেও সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। অতএব আমরা তাদেরকে কিছু না বলে তাদেরকে বুঝাই ও তাদের জন্য দু’আ করি এবং এ মর্মে আল্লাহ পাকের ইরশাদকে অবিস্মরণীয় মনে করি।
(وعباد الرحمن الذین یمشون علی الارض ھونا واذا خاطبھم الجاھلون قالوا سلاما)
“ রহমান এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন অজ্ঞরা কথা বলতে থাকে তখন তারা বলে, “ সালাম”। আল-ফুরকান-৬৩
তাবলীগ জামায়াতের ভূমিকা আজ সারা বিশ্বে স্বীকৃত। টংগীর তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছর তাবলীগ জামায়াতের “ বিশ্ব ইজতিমা” এর জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে। কতিপয় বিভ্রান্ত লোকের সমালোচনায় এতে কিছু আসে যায় না। মহান আল্লাহ পাক তাবলীগের বদৌলতেই সারা দুনিয়ায় ইসলামী জাগরণ ক্বায়েম রাখবেন, ইনশাআল্লাহ।

মোল্লা ওমর কোন ব্যাক্তির নাম নয়.. বাতিলের একটা আতংকের নাম।




মোল্লা ওমর কোন ব্যাক্তির নাম নয়.. বাতিলের একটা আতংকের নাম।
'
মোল্লা ওমর সোভিয়েত ইউনিয়নকে পর্যদুস্ত করা এক মহামানবের নাম।
'
মোল্লা ওমর বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পন্থায় প্রকৃত জিহাদ করা তালেবানদের নেতার নাম।
'
সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে তোলা সেই ওসামা বিন লাদেনের আধ্যাতিক রাহবার ছিলেন এই মোল্লা ওমর।
'
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েও পথহারা হননি তিনি।
'
সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই যুদ্ধে ছয় ছয় বার আহত হয়ে একটা চোখ হারিয়েও ওনাকে শান্ত করা যায়নি।
'
আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার পর তিনিই সুসংগঠিত রেখেছেন তালেবানকে।
.
.
এই মহাপুরুষ, বীর নায়ককে যদি আল্লাহ তায়ালা ওনার কাছে ডেকেও নেন তবে অবশ্যই তার যায়গায় কাউকে না কাউকে পাঠাবেনই... তাই তাগুতদের এত খুশি হওয়ার কিছু নেই.. তার উপড় ওনার মৃত্যু খবরটাও নিশ্চিত কোন খবর নয়..
'
তাগুতদের স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি,
১৯২৪ সালে খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছে.. ২০২৪ সালের আগে বিশ্বের কোন না কোন প্রান্তে তোদের কথীত জঙ্গী গোষ্ঠি দ্বারাই খেলাফতের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ ..
.
হোক সেটা আই এস দ্বারা।
হোক সেটা তালেবানের দ্বারা।
হোক সেটা বিশ্বের অন্য কোন জিহাদী সংগঠন দ্বারা।
'
১০০ বছরের মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্দোলন পরবর্তি মুরসির ফাঁসির রায় অর্জনের পর একথাই প্রতিয়মান হয় যে,
জিহাদ ছাড়া আর কিছু সম্ভব হোক বা না হোক খেলাফত কায়েম অন্তত সম্ভব না কস্মীনকালেও.. তাই সেই খেলাফতের পতাকাবাহীদের দমাতে পারে এমন শক্তি পৃথিবীতে কারুর নাই... এবং শায়েখ মোল্লা ওমর সেই পথেরই একজন সফল পথিক । বেঁচে থাকলেও উনি সফল.. আর আল্লাহ তায়ালার কাছে চলে গেলেও উনি সফল। এতে বাতিলের খুঁশি হওয়ার কিছুই নাই।

ছবিটা হতভাগা ইয়াকুম মুমিনের স্ত্রী মোসাঃ রিহানের


ইন্ডিয়ার সেই ইয়াকুব মুমিনকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েই ছাড়লো হিন্দুত্ববাদী দেশ ইন্ডিয়ার আদালত.. ২১ বছর আগে সেই মুম্বাই বিস্ফোরণের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে কিভাবে যেন তাকেই মাষ্টারমাইন্ড এবং মুল আসামি বানিয়ে সেই মুসলিম ইস্যূতে গুজরাট দাঙ্গা বাধিয়ে কয়েক লাখ মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিলো.. যেই হত্যার রক্তের ঘ্রাণ এখনও মোদির হাত থেকে যায়নি.. এখন মাষ্টারমাইন্ড আখ্যা দিয়ে ইয়াকুব মুমিনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলোই!
'
'
ওনার স্ত্রী রিহান এবং একমাত্র মেয়ে জুবাইদার একটাই মাত্র আর্জি ছিলো যে,
আমার স্বামী এবং আমার বাবা আসলেই অপরাধী নন তাই ফাঁসির সাজা না দিয়ে যাবজ্জীবনের সাজা দেয়া হোক.. অন্তত মাঝে মাঝে দেখতে তো একটু পারবো ! কিন্তু সেই দাবিটুকুও রক্ষা করা হয়নি।
'
'
রক্তমাখা ঐ মোদির হাত হয়ত এ ধরায় বেঁচে যাবে.. কিন্তু ওপারের শাস্তি কেউ রুখতে পারবে না বলে দিলাম।
'
পরিশেষে,
রিহান আম্মি এবং যুবাইদা আপি আপনাদের জন্য প্রতিবেশি দেশের এক ছেলে এবং ভাইয়ের হৃদয় আকুতিটা জানাচ্ছি,
'
২২টি বছর ওনাকে ছাড়া কাঁটিয়েছেন.. জায়নামাজে বসে ওনার জন্য দোয়া করেছেন..
রিহান আম্মি? আপনি একটা দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন.. এই ২২ বছরেও আপনি স্বামীর অবাধ্য হননি.. তার আমানত যুবাইদাকে লালন পালন করেছেন পরম যত্নে.. ইনশাআল্লাহ আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দিবেন.. এই ২২ বছরের বিরহ বেদনার অবসান ঘটবেই .. জালিমের আদালতের এই শাস্তি ওনাকে শাহাদাতের মর্যাদায় উন্নিত করবে ইনশাআল্লাহ ।

প্রশ্ন I am a Hanafi. One of my friend show me this Hadith and now I am confused :(……. What you can say about this hadith?

সুনানে আবু দাউদ (ইফাঃ), ২/ সালাত (নামায)৭৫৯। আবূ তাওবা তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযরত অবস্হায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্হাপন করে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ – আলবানী
Narrated Tawus: The Messenger of Allah () used to place his right hand on his left hand, then he folded them strictly on his chest in prayer. Grade : Grade: Sahih (Al-Albani)
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ، – يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ – عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ . صحيح (الألباني) حكم
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
এটি মুরসাল হাদীস। কারণ এটি বর্ণনা করেছেন একজন তাবেয়ী। তিনি কোন সাহাবী থেকে শুনেছেন তা তিনি বলেননি। তাই এ হাদীসের সনদ রাসূল সাঃ পর্যন্ত পৌঁছেনি। যে হাদীসের সনদ রাসূল সাঃ পর্যন্ত পৌঁছেনি। সেটি দিয়ে কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা কি করে দলীল পেশ করেন?
তাছাড়া এ হাদীসে সুলাইমান বিন মুসা নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে
১
ইমাম বুখারী রহঃ বলেছেন عنده مناكير তথা তার কাছে আপত্তিকর বর্ণনা রয়েছে।{আলকাশিফ লিযযাহাবী}
২
ইমাম নাসায়ী রহঃ বলেছেন, ليس بالقوى فى الحديث তথা তিনি হাদীসে মজবুত নন। {আলকাশিফ লিযযাহাবী}
৩
আলী ইবনুল মাদিনী রহঃ বলেছেন مطعون عليه তথা সমালোচিত ও অভিযুক্ত রাবী।
৪
আস সাজী রহঃ বলেছেন, عنده مناكير তথা তার কাছে আপত্তিকর বর্ণনা আছে।
৫
হাকেম আবু আহমাদ রহঃ বলেছেন, فى حديثه بعض المناكير তথা তার হাদীসে কিছু কিছু আপত্তিকর বিষয় আছে।
৬
ইবনুল জারূদ তাকে তার “যুআফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মানে তার মতে সুলাইমান একজন দুর্বল রাবী।
৭
আলবানী রহঃ বলেছেন, صدوق فى حديثه بعض لين তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদীসে কিছু দূর্বলতা রয়েছে। {আসলু সিফাতিস সালাহ২/৫২৮}
যে হাদীস একদিকে মারফূ তথা রাসূল সাঃ পর্যন্ত সূত্রবদ্ধ নয়। অপরদিকে এমন একজন রাবী রয়েছেন, যাকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম, এমনকি আহলে হাদীস ভ্রান্ত মতবাদের শায়েখ আলবানীও তার মাঝে দুর্বলতা আছে বলে স্বীকার করেছেন, সেই হাদীস কি করে কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা দলীল হিসেবে উপস্থাপন করলেন?
এটি আমাদের কিছুতেই বোধগম্য নয়।
নামাযে হাত বাঁধা সংক্রান্ত কয়েকটি লেখা ও ভিডিও এই লিঙ্কে--
http://ahlehaqmedia.com/3389
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com

এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের হক ছয়টি

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেন, ‘এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের হক ছয়টি, যথা- ১. অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া; ২. মারা গেলে জানাজায় শরিক হওয়া; ৩. বিপদে ডাকলে সাড়া দেয়া; ৪. সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করা; ৫. হাঁচি শুনলে ইয়ার হামুকুমুল্লাহ বলা এবং ৬. সর্বাবস্থায় শুভ কামনা করা’ (তিরমিজি)।
অসুস্থ-রোগী দেখতে গিয়ে কী করতেন রাসুল [সা.] কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা- শুশ্রষা করা মানবিক দায়িত্ব। এটি একটি মহৎ ইবাদতও বটে। অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছে দ্রুত কবুল হয়। এ জন্য যে রোগীর সেবা শুশ্রষা করেন রোগীর মুখ থেকে যদি নাও আসে অন্তর থেকে তার জন্য দোয়া আসে। আল্লাহ অন্তর্জামী, রোগীর অন্তরের দোয়াও তিনি দ্রুত কবুল করে নেন। রোগীর সেবা করাকে আল্লাহ তায়ালা তার নিজের গুণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাশরের দিন তিনি বান্দাকে বলবেন, আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি। অর্থাৎ বান্দা রোগাক্রান্ত অন্য কোনো বান্দার সেবা-শুশ্রুষা করলেই সেই সেবা আল্লাহ পান। অর্থাৎ এর প্রতিদান আল্লাহর বান্দাকে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ওপর যে কয়েকটি অধিকার রাখেন এর অন্যতম হলো অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া। রোগী দেখা এবং তার খোঁজখবর নেয়া রাসুলের (সা.) সুন্নত। একান্ত মানবিক তাগিদ থেকেও কেউ কোনো রোগীর সেবা-শুশ্রষা বা খবরাখবর রাখলে এর বিনিময় আল্লাহ দান করবেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান অসুস্থ হলে অপর মুসলমান যখন তাকে দেখতে যায়, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেখানে অবস্থান করে ততক্ষণ সে জান্নাতের বাগিচায় অবস্থান করে।’ অন্য হাদিসে আছে, কোনো মুসলমান অসুস্থ অন্য মুসলমানকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। রোগী দেখার নিয়ম হলো, রোগীর কাছে এত সময় অপেক্ষা করা যাবে না যাতে রোগী বিরক্তিবোধ করে। রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে; তার মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে হবে। রাসুল (সা.) শিখিয়েছেন, রোগীর কাছে গিয়ে বলতে হবে, ইনশাআল্লাহর আপনি শিগগির ভালো হয়ে যাবেন। অসুস্থতার কারণে গোনাহ মাফ হয়। এ জন্য রোগীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চাইতে হবে। অসুস্থ কোনো মুসলমান ভাইয়ের সেবায় নিয়োজিত হতে পারাকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় মনে করতে হবে। কোনো রোগ বা রোগীকে ঘৃণা করা যাবে না। রোগী দেখলে অন্তর নরম হয়, স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ জাগে। এ জন্য বেশি বেশি রোগী দেখা এবং রোগীর সেবা করার কথা বলা হয়েছে। মানুষ তার মানবিক বিবেচনা থেকেই অসুস্থ ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সর্বোপরি ইবাদত মনে করে রোগীর সেবা- শুশ্রষায় নিয়োজিত হওয়া ইমানেরই দাবি।

হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলতঃ

হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হজ্জ ও উমরা পালনকারীগণ হলো দাওয়াতী যাত্রীদল (আল্লাহর মেহমান) তারা যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে তবে তিনি তা কবুল করেন এবং যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তিনি তাদের ক্ষমা করেন।" - (ইবনে মাজাহ)
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।" - [সহীহ বুখারী]
হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : "যে ব্যক্তি হজ্জ পালন করলো এবং হজ্জ চলা-কালীন অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করলো না, সে নিজের গুনাহ ও অপরাধ থেকে তার জন্মের দিনের মতো নিষ্পাপ শিশু’র মতো মুক্ত ও পাক-পবিত্র হয়ে ঘরে ফিরে আসলো।" - [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম]
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা তো দেখেছি জিহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা (মেয়েরা) জিহাদ করবো না কেনো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেনঃ মাবরূর হজ্জই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ জিহাদ। - [বুখারী]
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আরাফাতের দিনের চেয়ে বেশী (সংখ্যায়) আর কোন দিন আল্লাহ বান্দাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন না।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ আরাফাতের দিনে কোন হাজী-র হাত ফিরিয়ে দেন না।” -[মুসলিম]
হযরত কুতায়বা ইবনে সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : "তোমরা ধারাবাহিক হজ্জ ও উমরা আদায় করতে থাকো। এ দুটো আমল দারিদ্র ও গুনাহ বিদূরিত করে দেয়, যেমন ভাটার আগুনে লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা-জং দূরিভূত হয়ে থাকে। একটি কবুল হজ্জের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"   [তিরমিযী]

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল : গুরুত্ব ও তাৎপর্য

                        ......................................................................................
তাওয়াক্কুল কি?
তাওয়াক্কুল আরবি শব্দ। এর অর্থ হল, ভরসা করা, নির্ভর করা। তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ অর্থ হল: আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করা। ইসলামে আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একটি ইবাদত। তাই আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো উপর তাওয়াক্কুল করা যায় না। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য তাওয়াক্কুল নিবেদন করা যাবে না। মৃত বা জীবিত কোনো ওলীআল্লাহ, নবী-রাসূল, পীর- বুজুর্গের উপর ভরসা করা বা তাওয়াক্কুল রাখা শিরক।
একজন ঈমানদার মানুষ ভাল ও কল্যাণকর বিষয় অর্জনের জন্য সকল ব্যাপারে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করবে, সার্বিক প্রচেষ্টা চালাবে আর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করবে, তাঁর প্রতি আস্থা ও দৃঢ় একিন রাখবে। বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন ফলাফল তা-ই হবে। আর তাতেই রয়েছে কল্যাণ চূড়ান্ত বিচার ও শেষ পরিণামে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যদি আমরা তা অনুধাবন না-ও করতে পারি। এটাই তাওয়াক্কুলের মূল কথা।
তাওয়াক্কুলের নীতি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কখনো হতাশ হয় না। আশা ভঙ্গ হলে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসীবত, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না। যে কোনো দুর্বিপাক, দুর্যোগ, সঙ্কট, বিপদ-মুসীবতে আল্লাহ তাআলার উপর দৃঢ় আস্থা রাখে। ঘোর অন্ধকারে আশা করে উজ্জ্বল সুবহে সাদিকের। যত জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নের ঝড়-তুফান আসুক, কোনো অবস্থাতেই সে আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না।
তাই আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল হল তাওহীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“আর মুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল তখন তারা বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন এটি তো তাই। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’। এতে তাদের ঈমান ও ইসলামই বৃদ্ধি পেল।” (সূরা আহযাব: ২২)
“যাদেরকে মানুষেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’! অতঃপর তারা ফিরে এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিআমত ও অনুগ্রহসহ। কোনো মন্দ তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।” (সূরা আলে ইমরান : ১৭৩-১৭৪)
“আর তুমি ভরসা কর এমন চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি মরবেন না।” (সূরা আল ফুরকান: ৫৮)
“আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” (সূূরা ইবরাহীম : ১১)
“অতপর তুমি যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তখন আল্লাহর উপর ভরসা কর।” (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।” (সূরা আত তালাক : ৩)
“মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা করে।” (সূরা আল আনফাল : ২)
এ আয়াতসমূহ থেকে আমরা নিম্নোক্ত শিক্ষাগুলো গ্রহণ করতে পারিঃ
এক. প্রথম আয়াতে খন্দকের যুদ্ধকালে মুসলমানদের ঈমানি অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পঞ্চম হিজরী মোতাবেক ৬২৭ ইং সনে যখন মদিনার আশে পাশের ও মক্কার কাফেররা মদিনা ঘেরাও করে ফেলল মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে মুসলিমরা সাধ্যমত প্রতিরোধ গড়ে তুলল। তখন অস্তিত্বের এই সীমাহীন সংকটকালেও তারা সামান্যতম হীনমন্য হয়নি। বরং ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী শক্তির এই প্রবল ও সর্বব্যাপী আগ্রাসন দেখে তারা ভীত-বিহবল না হয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কাফেরদের এ ব্যাপক আগ্রাসন দেখে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছিল। হয়েছিল আরো দৃঢ়, আরো মজবুত । তারা মনে করেছিল, যখন আমরা ঈমান এনেছি তখন ঈমানের পরীক্ষা তো দিতেই হবে। এটা যেমনিভাবে মহান আল্লাহ বলেছেন তেমনি ওয়াদা করেছেন তাঁর রাসূলও। এ অবস্থায় যেমন তাদের ঈমান সুদৃঢ় হয়েছিল, তেমনি ইসলাম আরো সুন্দর, আরো মজবুত হয়েছিল।
আজ আমাদের অধিকাংশ মুসলমানের কাছে এ আয়াতের শিক্ষা অনুপস্থিত। আমরা যখন দেখি বিশ্বের অমুসলিমজাতি ও পরাশক্তিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, তখন আমরা ভীত-বিহ্বল হয়ে যাই, হীনমন্য হয়ে পড়ি। তাদের সন্তুষ্ট করতে নিজের দেশের লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরি। মুসলমানদের ধরে ধরে তাদের হাতে সোপর্দ করে দেই। ইসলাম ও ঈমানকে মুলতবী করার চেষ্টা করি। ভাবতে থাকি, এ মুহূর্তে ইসলামের এটা বলা যাবে না। ওটা করা যাবে না। আগ্রাসীদের প্রকাশ্যে সমর্থন করি। এগুলো সবই মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয়। মানসিক দিক থেকে বিপর্যস্ত জাতি শক্তিশালী হলেও শত্র“কে পরাজিত করতে পারে না। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ ছিল অন্য রকম। এমন সংকটকালে তারা দৃঢ় ঈমান ও মজবুত ইসলামের পরিচয় দেবে। তারা মনে করবে আমরা যখন ইসলামের অনুসারী তখন অমুসলিম শক্তি কখনো আমাদের অস্তিত্ব মেনে নেবে না। তাদের আগ্রাসনটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। 
দুষ্ট বালকেরা রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় সব গাছের প্রতি ঢিল ছুড়ে না। যে সকল গাছে ফল আছে সে সকল গাছেই ছুড়ে। মুসলিম উম্মাহ হচ্ছে, ইসলাম নামক ধর্মের ফল-ফুল দিয়ে সমৃদ্ধ। দুষ্ট লোকেরা তাই তাদের নির্মূল করতে প্রয়াস চালায়। তাদের দেখা মাত্র ঢিল ছুড়ে।
ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো ধেয়ে আসলে মুসলিম নেতারা যুদ্ধ করা ছাড়াই তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে। তখন আল্লাহ কী বলেছেন, তাঁর রাসূল কী করেছেন তার দিকে তাকানোর সময় তারা পায় না। আল্লাহ তাআলার প্রতি ভরসা রাখার বা তাওয়াক্কুল করার সাহস পায় না। ভাল কথা, কিন্তু বাস্তবতার প্রতি খেয়াল করার সুযোগ কি তাদের হয় না। তারা কি দেখতে পায় না, কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষের দল ভাঙ্গা-চোরা অস্ত্র দিয়ে কত বড় বড় শক্তিকে পরাজিত করে শূণ্য হাতে ফেরত পাঠিয়েছে?
কাফেরদের হুমকি, হামলা, অবরোধের মুখে যদি কারো ঈমান দৃঢ় না হয়, বৃদ্ধি না পায়, তাহলে সে যেন নিজেকে দুর্বল মুমিন হিসাবে ধরে নেয় এবং নিজের ঈমানের চিকিৎসা করাতে উদ্যোগী হয়। আলোচিত আয়াত তো আমাদের এমনটিই বলছে। 
দুই. দ্বিতীয় আয়াতটিও প্রায় একই বিষয় সম্পন্ন। অর্থাৎ কাফেরদের আক্রমণের মুখে মুমিনদের ঈমান এবং আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল ও আস্থা বৃদ্ধি পাওয়া সম্পর্কে। উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যয় ঘটেছিল মারাত্মকভাবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ যুদ্ধে নিজে আহত হয়েছিলেন। তার অনেক প্রিয় সাহাবিকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিল। এক হাজার মুজাহিদের মধ্যে সত্তর জন্য শহীদ হয়ে গেলেন। আহত হলেন আরো অনেক। যুদ্ধের পর মদিনার ঘরে ঘরে শোকের মাতম। আর আহত মুজাহিদদের কাতরানি। এমতাবস্থায় খবর এল, কাফের বাহিনী আবার মদীনাপানে ধেয়ে আসছে। অবশিষ্ট জীবিত মুসলমানদের সকলকে নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে। এ খবর শুনে মুসলমানগন পলায়ন বা আত্মসমর্পণের চিন্তা না করে উঠে দাড়ালেন। ভীত বা শংকিত হওয়ার বদলে পুনরায় রওয়ানা দিলেন কাফের বাহিনীর মোকাবেলা করতে। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান ও মজবুত তাওয়াক্কুল নিয়ে অভিযানে বের হলেন। আহত মুজাহিদদের অনেকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে অভিযানে শরিক হলেন। পরিণতিতে তারা বিজয়ী হলেন। আর কাফেররা গেল পালিয়ে। ইসলামের ইতিহাসে এ অভিযানের নাম হামরাউল আসাদ অভিযান। এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা বললেন, যখন তাদের ভয় দেখানো হল, কাফেররা আবার ফিরে আসছে তোমাদের শেষ করতে, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেল। তারা বলল, আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট . . . ।
এ আয়াত থেকে শিক্ষা হল, কাফের শক্তির হামলা, অবরোধ, হুমকি-কে ভয় না করে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 
তিন. কেউ যদি এ অবস্থায় আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল করতে পারে, তাহলে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামত, প্রতিদান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। 
যেমন লাভ করেছিলেন হামরাউল আসাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সাহাবিবৃন্দ। এ ধরনের আগ্রাসন, সংকট ও বিপদে যাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা ও তাওয়াক্কুল বেড়ে যায়, তাদের প্রশংসা করেছেন আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে।
চার. তাওয়াক্কুল তো এমন সত্তার উপর করা উচিত যিনি চিরঞ্জীব। তিনি হলেন আল্লাহ। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপর তাওয়াক্কুল করা জায়েয নয়। তাওয়াক্কুল একটি ইবাদত। যেমন আল্লাহ এ আয়াতে তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করতে আদেশ করেছেন। এটা শুধু আল্লাহর জন্যই নিবেদন করতে হয়। যদি কেউ এমন কথা বলে, ‘চিন্তা নেই, আল্লাহর রাসূল শাফাআত করে আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।’ তাহলে সে আল্লাহর রাসূলের উপর তাওয়াক্কুল করে শিরক করল। এমনিভাবে যদি কেউ বলে আমি আব্দুল কাদের জিলানীর উপর ভরসা রাখি। তাহলে সে শিরক করল। তাওয়াক্কুল-ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপরই করতে হবে। 
পাঁচ. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখা মুমিনদের একটি বৈশিষ্ট্য।
ছয়. আল্লাহ তাঁর রাসূল-কেও তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাত. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন। সুতরাং আল্লাহর ভালবাসা লাভের একটি কার্যকর উপায় হল তাওয়াক্কুল।
আট. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারীর সাহায্যের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
নয়. সূরা আনফালের উল্লেখিত আয়াতে ঈমানদারদের তিনটি গুণাগুণ আলোচিত হয়েছে। 
(১) যদি আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। 
(২) যখন তাঁর আয়াত বা বাণী তেলাওয়াত করে অথবা শুনে তখন এতে তার ঈমান বৃদ্ধি পায়। ঈমান আরো দৃঢ় হয়। 
(৩) তারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। পরবর্তী আয়াতে আরো দুটো গুণ উল্লেখ করা হয়েছে। তাহল, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে- আল্লাহর পথে দান-সদকা করে। সূরা আনফালের দুই ও তিন নম্বর আয়াতে ঈমানদারদের গুরুত্বপূর্ণ এ পাঁচটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছে। চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যাদের এ গুণগুলো আছে তারাই সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ গুণগুলো অর্জন করার তাওফীক দান করুন।

হাদিস ১
عَن ابْن عَبَّاسٍ رضي اللَّهُ عنهما قال : قال رسولُ اللَّه صلى اللَّه عليه وآله وسلم : « عُرضَت عليَّ الأمَمُ ، فَرَأيْت النَّبِيَّ وَمعَه الرُّهيْطُ والنَّبِيَّ ومَعهُ الرَّجُل وَالرَّجُلانِ ، وَالنَّبِيَّ وليْسَ مَعهُ أحدٌ إذ رُفِعَ لِى سوادٌ عظيمٌ فظننتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي ، فَقِيلَ لِى: هذا موسى وقومه ولكن انظر إلى الأفق فإذا سواد عظيم فقيل لى انظر إلى الأفق الآخر فإذا سواد عظيم فقيل لي : هَذه أُمَّتُكَ ، ومعَهُمْ سبْعُونَ أَلْفاً يَدْخُلُونَ الْجَنَّة بِغَيْرِ حِسَابٍ ولا عَذَابٍ » ثُمَّ نَهَض فَدَخَلَ منْزِلَهُ ، فَخَاض النَّاسُ في أُولَئِكَ الَّذينَ يدْخُلُون الْجنَّةَ بِغَيْرِ حسابٍ وَلا عذابٍ ، فَقَالَ بعْضهُمْ : فَلَعَلَّهُمْ الَّذينَ صَحِبُوا رسول اللَّه صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم ، وقَال بعْضهُم : فَلعَلَّهُمْ الَّذينَ وُلِدُوا في الإسْلامِ ، فَلَمْ يُشْرِكُوا باللَّه شيئاً وذَكَروا أشْياء فَخرجَ عَلَيْهمْ رسول اللَّه صَلّى اللهُ عَلَيْهِ سَلَّم فَقَالَ : « مَا الَّذي تَخُوضونَ فِيهِ ؟ » فَأخْبَرُوهُ فَقَالَ : « هُمْ الَّذِينَ لا يرقُونَ، وَلا يَسْتَرْقُونَ ، وَلاَ يَتَطيَّرُون ، وَعَلَى ربِّهمْ يتَوكَّلُونَ » فقَامَ عُكَّاشةُ بنُ محْصن فَقَالَ : ادْعُ اللَّه أنْ يجْعَلَني مِنْهُمْ ، فَقَالَ : « أنْت مِنْهُمْ » ثُمَّ قَام رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ : ادْعُ اللَّه أنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فقال : «سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ » متفقٌ عليه .
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার সম্মুখে সকল উম্মতকে পেশ করা হল। (এভাবে যে,) আমি একজন নবীকে ছোট একটি দলসহ দেখলাম। কয়েকজন নবীকে একজন বা দু’জন অনুসারীসহ দেখলাম। আরেকজন নবীকে দেখলাম তার সাথে কেউ নেই। ইতিমধ্যে আমাকে একটি বড় দল দেখানো হল। আমি মনে করলাম এরা হয়ত আমার উম্মত হবে। কিন্তু আমাকে বলা হল, এরা হল মূসা আলাইহিস সালাম ও তার উম্মত। আমাকে বলা হল, আপনি অন্য প্রান্তে তাকান। আমি তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে বিরাট একটি দল। আবার আমাকে বলা হল, আপনি অন্য প্রান্তে তাকান। তাকিয়ে দেখলাম, সেখানেও বিশাল এক দল। এরপর আমাকে বলা হল, এসব হল আপনার উম্মত। তাদের সাথে সত্তর হাজার মানুষ আছে যারা বিনা হিসাবে ও কোনো শাস্তি ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ পর্যন্ত বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ঘরে চলে গেলেন। এরপর লোকেরা সেসব মানুষ- যারা বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে- তারা কারা হবে, সে সম্পর্কে আলোচনা শুরু করে দিল।

কেউ বলল, এরা হচ্ছে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছে। আবার কেউ বলল, এরা হবে যারা ইসলাম অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করেছে আর আল্লাহর সাথে কখনো শরীক করেনি, তারা। এভাবে সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে বললেন, তোমরা কী বিষয়ে আলোচনা করছ ? সাহাবিগণ আলোচনার বিষয়বস্তু সম্বন্ধে তাকে জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা হচ্ছে এমনসব লোক যারা ঝাড়-ফুঁক করেনা। ঝাড়-ফুঁক চায়না। কোনো কুলক্ষণে-শুভাশুভে বিশ্বাস করেনা। এবং শুধুমাত্র নিজ প্রতিপালকের উপর তাওয়াক্কুল করে।” এ কথা শুনে উক্কাশা ইবনে মিহসান দাঁড়িয়ে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর আরেকজন উঠে বলল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “উক্কাশা এ ব্যাপারে তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে।”
(বর্ণনায় : বুখারি ও মুসলিম)

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
· এক. কেয়ামত সংঘটিত হবার পর হাশরের ময়দানে যা ঘটবে, তার কিছু চিত্র আল্লাহ আহকামুল হাকেমীন তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখিয়েছেন।
· দুই. হাশরের ময়দানে উম্মতের সংখ্যার বিচারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন। অন্য এক হাদীসে এসেছে তিনি উম্মাতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করবেন।
· তিন. অনেক নবী এমন হবেন, যাদের কোনো অনুসারী থাকবে না। এটাকে তাদের ব্যর্থতা বলে গণ্য করা হবে না। কারণ তারা উম্মাতের হেদায়েতের জন্য যথাসাধ্য মেহনত করেছিলেন। ফলাফল তো তাদের আয়ত্বে ছিল না।
· চার. উম্মতে মুহাম্মদীর থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে যাবে। কারণ, তারা তাওয়াক্কুলের পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেছে।
· পাঁচ. তাদের তাওয়াক্কুলের প্রকাশ ছিল এমন যে, তারা কারো ঝাড়-ফুঁক করেনি। ঝাড়-ফুঁকের জন্য কারো কাছে যায়নি। তারা অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করেনি। অন্য বর্ণনায় আরেকটি গুণের কথা আছে। আর তা হল, তারা আগুনের ছ্যাকা দেয়নি।
· ছয়. ইসলাম কোনো কিছুকে অশুভ লক্ষণ মনে করা অনুমোদন করে না। মানুষের সমাজে অনেক অশুভ লক্ষণের ধারনা আছে। যেমন, কালো বিড়ালকে অশুভ ভাবা হয়। তের সংখ্যাকে অশুভ ধরা হয়। কোনো কোনো তারিখকে অশুভ বলে গণ্য করা হয়। কখনো কখনো পশু পাখির হাক ডাককে অশুভ ধারনা করা হয় ইত্যাদি। যত প্রকার অশুভ লক্ষণ বলে মানুষ ধারনা করে, সব ইসলাম বাতিল করে দিয়েছে।
· সাত. ঝাড়-ফুঁক দু ধরনের। শরিয়ত অনুমোদিত ঝাড়-ফুঁক আর শরিয়ত পরিপন্থী ঝাড়-ফুঁক। যে সকল ঝাড়-ফুঁক কোরআন বা সহিহ হাদীস অনুযায়ী হবে তা জায়েয। আর যা এর বাহিরে হবে তা শিরক বলে বিবেচিত হবে। যারা জায়েয ঝাড়-ফুঁক-কেও পরিহার করে চলে এ হাদীসে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে । না জায়েয ঝাড়-ফুঁকতো শুধু তাওয়াক্কুলেরই খেলাফ নয়। তা তাওহীদেরও খেলাফ। এ হাদীসে যে ঝাড়-ফুঁককে তাওয়াক্কুলের খেলাফ বলা হয়েছে তাহল জায়েয ঝাড়-ফুঁক। আর না জায়েয ঝাড়-ফুঁক করলে তো তাওয়াক্কুল দূরের কথা ঈমানই থাকে কিনা সন্দেহ।
· আট. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী ও হাদীস নিয়ে গবেষণা করার বৈধতা প্রমাণিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম তাঁর কথা ও বাণী নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে বাধা দেননি। বরং সেই সত্তর হাজার লোক কারা হবে, তা প্রথমে বলেননি। বিষয়টি গোপন রেখে তাদের গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনা করতে উৎসাহিত করেছেন।
· নয়. যে সকল ঝাড়-ফুঁক বৈধ, তাহল, কোরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত কোনো দুআ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা। কেউ এ রকম ঝাড়-ফুঁক করলে কোনো গুনাহ হবে না। যদি কেউ ঝাড়-ফুঁকের জন্য আসে তখন তাকে বৈধ পন্থায় ঝাড়-ফুঁক না করে ফিরিয়ে দেয়াও ঠিক হবে না।
· দশ. ভাল কাজে সাহাবায়ে কেরাম প্রতিযোগিতা করতেন। কেউ পিছনে থাকতে চাইতেন না। উক্কাশা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দুআ চাওয়া ও অন্যান্য সাহাবীদের এ মর্যাদা কামনা করার মাধ্যমে এটা আমাদের বুঝে আসে।
· এগার. কোন নেককার আলেম, বুযুর্গ ব্যক্তিকে ‘আমার জন্য দুআ করুন’ বলা না জায়েয নয়। সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ রকম বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলে যাওয়ার পর সাহাবাগণ এ রকম বলতেন। যেমন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আব্বাস রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাকালে আমরা দুআ করার সময় তার অসিলা নিতাম। মানে তাকে দুআ করতে বলতাম। এখন তিনি নেই। আমরা আপনার অসিলা নিচ্ছি, বৃষ্টির জন্য আপনাকে দুআ করতে অনুরোধ করছি।

হাদিস ২ 
عَنْ ابْن عبَّاس رضي اللَّه عنهما أيْضاً أَنَّ رسول اللَّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم كانَ يقُولُ : «اللَّهُم لَكَ أسْلَمْتُ وبِكَ آمنْتُ ، وعليكَ توَكَّلْتُ ، وإلَيكَ أنَبْتُ ، وبِكَ خاصَمْتُ . اللَّهمَّ أعُوذُ بِعِزَّتِكَ، لا إلَه إلاَّ أنْتَ أنْ تُضِلَّنِي أنْت الْحيُّ الَّذي لا تمُوتُ ، وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يمُوتُونَ» متفقٌ عليه .
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, “ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আপনার উপরই ঈমান এনেছি। আপনার উপরই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করেছি। আপনার দিকেই মনোনিবেশ করেছি। আপনার জন্যই তর্ক করেছি। হে আল্লাহ! আপনার সম্মানের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর আপনি ছাড়াতো কোনো উপাস্য নেই- যেন আমাকে পথভ্রষ্ট না করেন। আপনি চিরঞ্জীব সত্তা, যিনি মৃত্য বরণ করেন না। আর মানুষ ও জিন মৃত্যু বরণ করে।”
(বর্ণনায় : বুখারি ও মুসলিম)

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
· এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা যে সকল দুআ করতেন তার মধ্যে একটি হল:
· দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুআতে বলেছেন, আমি আপনার উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। এ কথা থেকে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা ও তার ঘোষণা দেয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।
· তিন. আমাদের সকলের উচিত দুআটি মুখস্থ করে নেয়া ও সময় সুযোগমত অর্থ বুঝে পাঠ করা।

হাদীস – ৩. 
عن ابْنِ عَبَّاس رضي اللَّه عنهما أيضاً قال : «حسْبُنَا اللَّهُ ونِعْمَ الْوكِيلُ قَالَهَا إبْراهِيمُ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم حينَ أُلْقِى في النَّارِ ، وَقالهَا مُحمَّدٌ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم حيِنَ قَالُوا: «إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إيماناً وقَالُوا : حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوكِيلُ » رواه البخارى
وفي رواية له عن ابْنِ عَبَّاسٍ رضي اللَّه عنهما قال : « كَانَ آخِرَ قَوْل إبْراهِيمَ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم حِينَ ألْقِي في النَّارِ « حسْبي اللَّهُ وَنِعمَ الْوَكِيلُ » .
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হল, তখন তিনি বললেন, হাসবুনাল্লাহু ওয়া-নিমাল ওয়াকীল (আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি উত্তম অভিভাবক)।আর লোকেরা যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাথীদের বলল, ( শত্র“ বাহিনীর) লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হচ্ছে, তাই তোমরা তাদের ভয় কর, তখন তাদের ঈমান বেড়ে গেল এবং তারা বলল, হাসবুনাল্লাহু ওয়া-নিমাল ওয়াকীল (আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট তিনি উত্তম অভিভাবক)। (বর্ণনায় : বুখারি)
ইবনে আব্বাস থেকে বুখারির আরেকটি বর্ণনায় আছে, আগুনে নিক্ষেপকালে ইবারহীম আলাইহিস সালামের শেষ কথা ছিল, হাসবুনাল্লাহু ওয়া-নিমাল ওয়াকীল (আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট তিনি উত্তম অভিভাবক)।

হাদীসের শিক্ষা ও মাসায়েল -
· এক. হাসবুনাল্লাহু ওয়া-নিমাল ওয়াকীল দুআটির ফজিলত প্রমাণিত হল। এ দুআটি যেমন মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম চরম বিপদের মুহূর্তে পাঠ করেছিলেন। তেমনি সাইয়েদুল মুরাসলীন সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিপদের সময় তা পাঠ করেছেন।
· দুই. মানুষের পক্ষ থেকে আগত আঘাত, আক্রমণ ও বিপদের সময় এ দুআটি পাঠ করা আল্লাহ তাআলার প্রতি তাওয়াক্কুলের একটি বড় প্রমাণ। তাইতো যখন মানুষেরা ইবারহীম আলাইহিস সালাম- কে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল তখন তিনি এ দুআটি পড়েই আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের প্রমাণ রেখেছিলেন। একইভাবে উহুদ যুদ্ধের প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতির পর যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরাম আবার শত্রু বাহিনীর আক্রমণের খবর পেলেন, তখন তারা এ দুআটি পাঠ করে আল্লাহর উপর নির্ভেজাল তাওয়াক্কুলের প্রমাণ দিয়েছেন।
· তিন. এ দুআটি আল্লাহর কাছে এত প্রিয় যে, তিনি তাঁর পবিত্র কালামে এ দুআ পড়ার ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। আর যারা এটি পড়েছে তাদের প্রশংসা করেছেন।
· চার. শত্র“র পক্ষ থেকে আগত ভয়াবহ বিপদ বা আক্রমণের মুখে এ দুআটি সে-ই পড়তে পারে যার ঈমান তখন বেড়ে যায়। যে পাঠ করে তার ঈমান যে বৃদ্ধি পেয়েছে তা-ও বুঝা যায়।
· পাঁচ. দুআটি পাঠ করতে হবে অন্তর দিয়ে। অর্থ ও মর্ম উপলদ্ধি করে। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এমনভাবে পাঠ করেছিলেন বলেই আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। আর সাইয়েদুল আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরাম এমনভাবে পাঠ করতে পেরেছিলেন বলেই তো তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছিল, ফলে শত্রুরা ভয়ে পালিয়েছিল। এমন যদি হয় যে, শুধু মুখে বললাম, কন্তু কি বললাম তা বুঝলাম না। তাহলে এতে কাজ হবে না বলেই ধরে নেয়া যায়।
· ছয়- ‘হাসবুনাল্লাহ’ আর ‘হাসবিআল্লাহ’ এর পার্থক্য হল এক বচন ও বহু বচনের। প্রথমটির অর্থ আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর দ্বিতীয়টির অর্থ হল, আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। এক বচনে হাসবি আল্লাহ. . আর বহু বচনে হাসবুনাল্লাহ. . . বলতে হয়। ইবারহীম আলাইহিস সালাম ছিলেন একা। তাই তিনি হাসবি আল্লাহ . . . বলেছেন।

হাদিস ৪- 
عَن أبي هُرَيْرةَ رضي اللَّه عنه عن النبي صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أقْوَامٌ أفْئِدتُهُمْ مِثْلُ أفئدة الطَّيْرِ » رواه مسلم . قيل معْنَاهُ مُتوَكِّلُون ، وقِيلَ قُلُوبُهُمْ رقِيقةٌ .
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “জান্নাতে এমন কিছু সম্প্রদায় প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর পাখির অন্তরের মত হবে।” বর্ণনায় : মুসলিম

অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মত। এর অর্থ হল, তারা পাখিদের মত তাওয়াক্কুলকারী। বা তারা কোমল হৃদয়ের মানুষ।
হাদীসের শিক্ষা ও মাসায়েল -
· এক. ‘যাদের অন্তর পাখির অন্তরের মত হবে’ এ কথার অর্থ হল অন্তরের দিকে দিয়ে পাখি যেভাবে আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল করে, তারাও তেমনি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করত।পাখিরা আল্লাহর উপর কিভাবে তাওয়াক