বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

কবর সম্পর্কে সতর্কবার্তা


হযরত উসমান গণি (রাঃ)হলেন ইসলামের তৃতীয় খলীফা।তিনি অত্যন্ত নরম স্বভাবের একজন সাহাবী ছিলেন।যেই দশজন সাহাবীকে রাসুলে কারীম (সাঃ) জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছিলেন যারা আমাদের মাঝে আশারায়ে মুবাশ্শারা হিসেবে পরিচিত।হযরত উসমান গণি (রাঃ) ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ।
তিনি যখন কোন কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন তখন তিনি এপরিমান কাঁদতেন যে,বেহুশের মত হয়ে যেতেন।সাথীরা জিজ্ঞেস করতেনঃহে উসমান!আপনি হলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা,এবং আপনি হলেন আশারায়ে মুবাশ্শারাদের একজন।তারপরও আপনি কবর দেখে এভাবে কাঁদেন কেন ?

হযরত উসমান (রাঃ) উত্তরে বলতেন,হে আমার সাথীরা আমি হতে পারি ইসলামের তৃতীয় খলিফা,হতে পারি আশারায়ে মুবাশ্শারাদের একজন। কিন্তু তারপরও আমারতো জানা নেই যে,আখেরাতের প্রথম ঘাটি কবরের মধ্যে আমার কি অবস্থা হবে ? আমারতো জানা নেই যে,আমি আমার আখেরাতের প্রথম ঘাটি কবর থেকে মুক্তি পাব কিনা ? যার কবরের মুক্তি সহজ হয়ে যায় তার আখেরাতের অন্যান্য ঘাটি সহজ হয়ে যাবে। এই জন্য আমি কবর দেখে এভাবে পেরেশান হয়ে যাই।
চিন্তা করে দেখুন!ইসলামের তৃতীয় খলিফা হয়েও,আশারায়ে মুবাশ্শারা হয়েও হযরত উসমান গণি (রাঃ) আখেরাতের ব্যপারে এভাবে চিন্তিত থাকতেন।
সেই তুলনায় আমরা কি পরিমান আখেরাতের ব্যপারে উদাসিন? অথচ আমাদের প্রতিটি মুহুর্ত গুনাহের মধ্যে কাটে ভালো কাজের পরিমান নাই বল্লেই চলে। আমরা কি আখেরাতের প্রথম ঘাটি কবর থেকে মুক্তি পাব ? আমরা কি পারব কবরের সেই তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে ?

কবরের তিনটি প্রশ্নঃ
********************
কবরের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর দুইজন ফেরেশ্তা এসে তিনটি প্রশ্ন করেনঃ(১)তোমার প্রভূ কে ?নেককার বান্দা উত্তরে বলে আমার প্রভূ হলেন আল্লাহ।(২)তোমার ধর্ম কি? নেককার বান্দা উত্তরে বলে আমার ধর্ম হল ইসলাম।(৩)এই ব্যক্তি যাকে তোমার কাছে পাঠানো হল তিনি কে? নেককার বান্দা উত্তরে বলে তিনি হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ)।তখন অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসে,আমার বান্দা সঠিক উত্তর দিয়েছে।তারপর সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট একজন ফেরেস্তা এসে মৃত ব্যক্তিকে বেহেস্তি পোশাক পরিধান করিয়ে দেয়,তার কবরে বেহেস্তি বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয়,বেহেস্তের সাথে কবরের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তার কবরকে দুরত্ব সমপরিমান প্রশারিত করে দেওয়া হয়।তারপর তাকে বলা হয়, এটা হল সেই দিন যেদিন সম্পর্কে তোমার প্রভূ ওয়াদা করেছিলেন।তারপর মৃত ব্যক্তি এমন একটি আরামের ঘুম দিবে এক ঘুমেই কেয়ামতের সময় এসে যাবে।তখন তার কাছে মনে হবে সামান্য সময় মাত্র ঘুমিয়েছিল। 
কিন্তু গুনাহগার বান্দা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে বলবে,হায় আফসুস!হায় আফসুস!আমি কিছুই জানিনা,আমি কিছুই জানিনা। তখন তার কবরে কেয়ামত কঠিন কঠিন শাস্তি চলতে থাকবে।

কবরের উত্তর কিভাবে শিখবঃ
*****************************
কবরের এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর ঐব্যক্তিই দিতে পারবে যে ব্যক্তির দুনিয়াবী জীবনে আল্লাহর সাথে ও তার বিধানাবলী পালনের সাথে, ইসলামের সাথে ও ইসলামের বিধানের সাথে,রাসুলের সাথে ও রাসুলের সুন্নাতের সাথে মুহাব্বত থাকবে।সুতরাং চিন্তা করা উচিত যে,আমরা কবরের এই তিন প্রশ্নের প্রস্তুতি হিসেবে আল্লাহর সাথে, ইসলামের সাথে ও ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)এর সাথে কি পরিমান সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরের ব্যপারে সতর্ক থাকা ও কবরের তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মত আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমীন!

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

একজন বাবার অনুভূতি! হয়তো কেউ বুঝবে!

Lutfor Faraji
আড়মোরা দিলাম। অভ্যাসমত প্রথমেই ঘড়ির দিকে চোখ। রাত তিনটা। ঠান্ডার ওষুধ খাওয়ায় ঘুমের আজীব রেশ সহজে কাটছে না।
গ্রামে শীতের আগমণী বার্তা জানান দিচ্ছে বেশ। বিশেষ করে শেষ রাতে। উঠতে মোটেও মন চাচ্ছে না। কিন্তু উঠতেই হবে।প্রকৃতির অলঙ্ঘণীয় বিধান পালনে বাথরুমে যেতে হবেই।
অনিচ্ছা সত্বেও শরীরটা বিছানা থেকে আলাদা করলাম। বসতেই প্রথমে নজর গেল বড় ছেলে মুয়াবিয়ার দিকে। বয়সটা চারের ঘরে।দুষ্টুমীই যে বয়সের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ।একদম কুণ্ডুলী পাকিয়ে শুয়ে আছে।বুঝলাম শীতে ধরেছে। নতুবা এমন করে শুবে কেন? বাবার হৃদয়ে চিরসবুজ মায়া জেগে উঠল।কাছে গেলাম। গিয়েতো অবাক। বালিশের অর্ধেক ভেজা। ভেজা গায়ের জামাটাও।পায়জামা যেন সদ্য পানিতে চুবানো। বুঝলাম তিনি যা করার বিছানায়ই সেরেছেন।নিজের বাথরুমে যাবার কথা ভুলে গেলাম। আমার ছোট্ট বাবাটা কষ্ট পাচ্ছে। দ্রুত কাছে গেলাম। পরম মমতায় মাথাটা তুলে নিজের উড়ুতে শুইয়ে দিলাম। জামাটা খুলে পাল্টে দিলাম। পরনের জামা খুঁজে বের করে পড়িয়ে দিলাম। বিবিকে ডেকে কষ্ট দিতে মন সায় দিল না। সারাদিন কষ্ট করে ঘুমিয়েছে। সামান্য কাপড় পাল্টানোর জন্য জাগাতে মন চাচ্ছিল না। 
কাপড় দিয়ে বিছানার পেশাব শুকালাম। তারপর শুকনো কাঁথা বিছিয়ে শুইয়ে দিলাম বাপজানকে। চোখ তুলে তাকাল। পিট পিট করে দেখছে আমি কী করছি? হয়তো ভাবছেঃ মায়ের কাজ আজ দেখছি বাবা করছে! বললাম-বাবা আবার পেশাব করবা? মাথা দুলালো। কোলে নিয়ে নিচে নামিয়ে আবার পেশাব করালাম।
কাজ শেষ হলে শুইয়ে দিয়ে কাঁথা মুড়ে দিলাম। গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়ল। কেন জানি কপালটায় ছোট্ট চুমু দিতে মন চাইল। দিলামও। নিজেরই ভাল লাগল। খুশি লাগল। আমার বাবা। আমার সন্তান। আমার কলিজার টুকরা। তার খিদমাত করে নিজের মাঝে ভাললাগা ছড়িয়ে পড়ে। দেখলে মমতায় ভরে উঠে মন।

জানি দৃশ্যপট পাল্টে যাবে একদিন। হয়তো আমিও একদিন বৃদ্ধ বাচ্চা হবো। সেই সময় আমার ছোট্ট বাবাটা বড় হবে। যে শক্তি মহান মালিক আমাকে দিয়েছেন, সেই শক্তিটা তখন আমার ছোট্ট বাবার শরীরে পাঠিয়ে দিবেন।আর আমি হবো আজকের দুর্বল এ শিশু বাবাটা। 
হয়তো তখন আজকের দৃশ্যটি ফিরে আসবে।একই পরিবেশে। একই দৃশ্যপটে। 
কিন্তু সেদিন। 
আমাদের সন্তানরা বুড়ো বাবাকে একই মোহাব্বতে। একই ভালবাসায়। একই দিলভরা দরদে বুড়ো বাবাকে পরিস্কার করতে। খিদমাত করতে এগিয়ে আসে? হৃদয়ভরা ভালবাসায় পরিচ্ছন্ন হওয়া বাবাকে নিষ্পাপ ভালবাসায় চুমু দিতে পারে?

একটি লাশের দাওয়াত এবং মৃত্যু পথযাত্রীর অপেক্ষা!


ফোনটা বেজে উঠল। অসময়ে রিসিভ করতে মনে চায় না। রিসিভ করতেই বয়স্ক মানুষের কণ্ঠ ভেসে এল। সালাম বিনিময়ের পর জিজ্ঞাসা করলেন- মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী বলছেন?
- জি বলুন।
- নাটোর থেকে বলছি।
- হু।
- এক মাস আগে আপনাকে নাটোরে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। মনে আছে?
- ডায়রীতে লেখা থাকলে মনে থাকবে ইনশাআল্লাহ। 
- হাফেজ মুতিউর রহমান আপনাকে দাওয়াত দিয়েছিল। 
- হ্যাঁ, হ্যাঁ।
- সেতো মারা গেছে। 
- মানে?
- এইতো কিছুদিন আগে মারা গেছে। ঢাকায় মাদরাসায় থাকা অবস্থায় হার্ট ব্লক হয়ে মারা গেছে। তারপর বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে। বিয়ের কথা চলছিল। সব কিছু প্রায় ঠিক ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে নিয়ে গেলেন।
কি বলবো? বুঝে পাচ্ছিলাম না। অজান্তে মুখে চলে এলঃ ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেঊন! নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য, তার কাছেই সবাই ফিরে যাবো। 
চুপ করে রইলাম। জবান বন্ধ হয়ে গেল। শব্দ বের হচ্ছিল না মুখ থেকে। 
অপরপ্রান্ত থেকে মাওলানা সাহেব বলছেনঃ হুজুর হাফেজ মতিউর রহমানের বাবার সাথে কথা বলবেন?
বললাম- দিন। 
বৃদ্ধ মানুষটা সালাম দিল। জবাব দিয়ে কি বলা উচিত মনে আসছে না। বললাম- হায়াত মওত সবই আল্লাহর হাতে। কার কখন কিভাবে চলে যেতে হবে জানা নেই। তাই ধৈর্য ধরুন। আমরা দুআ করি। আপনিও আমাদের জন্য দুআ করবেন। 
মাওলানা সাহেব আবার জানালেনঃ হুজুর! হাফেজ মতিউর রহমান (রহঃ) মারা গেলেও মাহফিল কিন্তু ঠিক আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা যোগাযোগ রাখবো।
বললাম- হু।
মোবাইলটা রাখার পর চিন্তা জগত যেন স্তব্ধ হয়ে এল। খুললাম ডায়রী। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখের দাওয়াত। লেখা আছে দাওয়াতদাতা- হাফিজ মতিউর রহমান। তারপর তার মোবাইল নাম্বার। 
ঢাকার কামরাঙ্গিরচর এক মাদরাসায় পড়াতেন। চলে গেলেন। আমাকে দাওয়াত দিয়ে। একজন মৃত মানুষের দাওয়াতে যাবো এক মৃত্যু পথযাত্রী। 
কত অনিশ্চয় আমাদের জীবন। কখন কোথায় কিভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হবে জানা নেই। যেকোন স্থানেই হাজির হতে পারে মালাকুল মওত। তবুও কত বেখেয়াল আমাদের জীবন। ক্ষণকালের জন্য কত আয়োজন। কিন্তু চিরকালের জন্য কত বেখবর। 
মনের গহীনে শুধু দাগ কাটছে একটি কথা- "মৃতের দাওয়াতে মৃত্যু পথযাত্রী মেহমান"। এটাই সত্য। পরম সত্য।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৬

৮৫ বছর পর তুরস্কের মসজিদে আজান!


৮৫ বছর পর তুরস্ক সরকার বিখ্যাত মসজিদ আয়া সোফিয়ায় আজান ও নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
তুরস্কের শহর ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমদ জামে মসজিদের কাছে ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া অবস্থিত। এ ইমারতটি প্রথমে ছিল গ্রিকদের মন্দির। তারপর বিখ্যাত খ্রিষ্টান রাজা কনস্টান্টিন নির্মাণ করার পর বাইজান্টাইন খ্রিষ্টান বাদশাহ প্রথম জাস্টনিন ৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার নির্মাণ করেন। পাঁচ বছর একটানা এর নির্মাণকাজ চলে। নির্মাণ সম্পন্ন হবার পর ৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে একে চার্চের মর্যাদা দিয়ে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। ৯১৬ বছর ধরে আয়া সোফিয়া ক্যাথলিক চার্চ ছিল। এরপর মুসলমানদের বিজয়ের পর ৪৮১ বছর আয়া সোফিয়া ছিল মসজিদ।
সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর প্রথম একে মসজিদ ঘোষণা করেন এবং এর ওপর ১টি উঁচু মিনার নির্মাণ করেন। সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের শাসনকালে এর ওপর আরেকটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেন। এখন আয়া সোফিয়ায় ৪টি মিনার।
৪৮১ বছর মুসলমানরা এ মজজিদে নামাজ পড়েছেন। কিন্তু ১৯৩৪ সালে কামাল আতাতুর্ক আয়া সোফিয়ায় আজান ও নামাজ নিষিদ্ধ করে এটাকে জাদুঘর করেন।
অন্য দিকে রজব তাইয়েব এরদোগান ক্ষমতায় আসার পর পুরনো মসজিদ আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদ করার দাবিকে এগিয়ে আসেন। ২০১৪ সালে আনাতোলিয়ান ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পুনঃরূপান্তরের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের স্লোগান ছিল ‘জায়নামাজ নিয়ে আয়া সুফিয়ায় চলো।’
অবশেষে এরদোগানের সরকার আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারল।
আয়া সুফিয়া পৃথিবীতে স্থাপত্যশিল্পের এক বিস্ময়। এখানে রোম ও তুর্কি স্থাপত্যশিল্পীরা নিজ নিজ সময়ে কীর্তির সই রেখে পৃথিবীকে অবাক করেছেন। আজও প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক স্থাপত্যশিল্পের এই বিস্ময় দেখতে আসে।
এরদোয়ানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে 😍

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

হাসান বিন আলি রা.

শায়খ আতীকুল্লাহ
তিনি তৃতীয় হিজরীতে জন্মগ্রহন করেন। নবিজী (সা.)এর খুবই প্রিয় ছিলেন। হযরত আলি (রা.)এর প্রথম সন্তান। নবিজী (সা.)এর প্রথম নাতি। 
নবিজী তার দুই কানে আযান দিয়েছেন। জন্মের সাতদিন পর আম্মাজান ফাতিমা তার মাথা মুন্ডিয়ে দিয়েছেন। নবিজীর আদেশে মুন্ডানো চুলের ওযন পরিমান রুপা সদকা করে দিয়েছেন। 
নবিজী নিজের পক্ষ থেকে একটা (বা দুইটা) দুম্বা যবেহ করে আকীকা দিয়েছেন। একই দিন খতনা করানোর আদেশও দিয়েছেন। 
.
নবিজী তার এ-নাতিটাকে এত ভালোবাসতেন, বলার নয়! বারা বিন আযেব (রা.) বর্ণনা করেছে:
-আমি দেখেছি হাসান নবিজীর কাঁধে চড়ে বসে আছে। নবিজী বলছেন: হে আল্লাহ! আমি একে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন!
.
একদিন নবিজী নাতিকে কাঁধে চড়িয়ে হাঁটছিলেন, একলোক দেখে বললো:
-হে বালক! কতো উত্তম বাহনে চড়েছো!
নবিজী তাকে উত্তরে বললেন: আরে সে নিজেই তো কত উত্তম আরোহী!
.
একদিন মিম্বরে বসে খুতবা দিচ্ছিলেন। হাসান পাশে বসা ছিলেন। নবিজী একবার নাতির দিকে আরেকবার শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে বললেন:
-আমার এই নাতি একজন নেতা হবে। সে দু’টি মুসলিম জামাতের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করবে!
.
হাসান রা. প্রতিদিন ঘুমের আগে সূরা কাহফ তেলাওয়াত করতেন। 
প্রতিদিন ফজর নামায পড়ার পর মসজিদে নববীতে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। তারপর ইশরাক পড়ে উম্মাহাতুল মুমিনীনের সাথে দেখা করতে যেতেন। 
তিনি সারা জীবনে পঁচিশ বার পায়ে হেঁটে হজ করেছেন। 
তিনি ছিলেন একজন সহনশীল, ধীরস্থির মেজাজের অধিকারী। উদার-মুক্তহস্ত। তিনি ফিতনা-ফাসাদ অপছন্দ করতেন। 
.
নবিজীর ইন্তেকালের পর, আবু বকর (রা.) একদিন আসর নামায পড়ে, আলি (রা.)এর সাথে কথা বলতে বলতে ফিরছিলেন। সামনেই দেখলেন হাসান (রা.) কয়েকটি ছেলের সাথে খেলা করছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে হাসানকে একেবারে কাঁধে উঠিয়ে নিয়ে বললেন:
-একেবারে নবির মতো হয়েছে। আলির মতো নয়। 
হযরত আলি দৃশ্যটা দেখে হাসছিলেন। আবু বকর (রা.) হাসানকে খুবই স্নেহ করতেন। হযরত হাসানও আবু বকর (রা.)কে খুবই শ্রদ্ধা করতেন। এমনকি নিজের একটা ছেলের নামও আবু বকর রেখেছিলেন। 
.
উমার (রা.) হাসান ও হুসাইন উভয়কেই বদরী সাহাবীদের মর্যাদা দিয়ে পাঁচ হাযার দিরহাম ভাতা দিতেন। তিনি নিজের সন্তানের চেয়েও হাসান-হুসাইনকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। 
.
উসমান রা.এর আমলে হাসান-হুসাইন আফ্রিকার এক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। উসমান রা. যখন বিদ্রোহীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন, তখন হাসান রা. তরবারি উঁচিয়ে দরজায় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু উসমান রা. ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন, তার নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়লেন। জোর-জবরদস্তি করে হাসানকে ফেরত পাঠালেন। 
.
হযরত আলি রা. এর আমলে তিনি সব সময় বাবার পাশেই থাকতেন। প্রশাসনিক কাজকর্ম শিখতেন। বাবাও ছেলেকে নানা ভাবে দীক্ষা দিতেন। 
.
আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের বলতেন:
-হাসান বিন আলির মতো সন্তান আর কোনও মা জন্ম দিতে পারেনি। 
.
তিনি কোথাও কোনও বাড়িতে গেলে, আশেপাশের সবাই ভেঙে পড়তো তাকে দেখার জন্যে। তার জন্যে মানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা ছিল অতুলনীয়। 
.
হযরত আলির শাহাদাতের পর, মানুষজন তার হাতে বাইয়াত হন। সর্বপ্রথম বাইআত হয কায়স বিন সা‘দ বিন উবাদা। এটা ছিল ৪০ হিজরীর ঘটনা। 
.
হাসান (রা.) এর খিলাফাহ ছিল খেলাফতে রাশেদার অন্তুর্ভুক্ত। নবিজী বলেছিলেন:
-আমার পরে ত্রিশ বছর খিলাফাহ থাকবে। তারপর আসবে রাজা। 
হযরত হাসানের খিলাফতকাল ত্রিশ বছরের মধ্যেই পড়ে। তার খিলাফতকাল ছিল সাত মাস। 
.
৪১ হিজরীতে হযরত হাসান সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি মু‘আবিয়া (রা.)-এর সাথে আপোষ করে ফেলবেন। তাই করেছিলেন। এতে করে বাস্তবায়িত হয়েছে নবিজীয় সেই ভবিষ্যদ্বাণী। 
.
এরপর হযরত হাসান কুফা থেকে মদীনায় চলে এলেন। সন্ধির কারণে কিছু লোক নারায হলেও, তিনি ছিলেন খুবই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত। এমনকি জীবনে বাকি দিনগুলোতেও হযরত মুয়াবিয়ার সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুবই আন্তরিক। বার্ষিক এক লাখ দিরহাম ভাতা পেতেন হযরত হাসান। 
.
সন্ধিচুক্তির দশ বছর পর, হযরত হাসান অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এর রোগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যু নিয়ে অনেক বর্ণনা আছে। তাকে বিশ খাওয়ানো হয়েছে, এ মর্মে। একটা বর্ণনায় হযরতা হাসান নিজেই বলেছেন:
= যন্ত্রণায় তার কলিজা ফেটে যাচ্ছে। তাকে বেশ কয়েকবার বিষ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু এবার খুব শক্তিশালী বিষ খাওয়ানো হয়েছে। 
হুসাইন জিজ্ঞাসা করলেন:
-কে খাইয়েছে বিষ?
হযরত হাসান উত্তর দেননি। 
.
তাকে বিষ খাওয়ানো নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হলো, তার স্ত্রী জা‘দা বিনতে আশ‘আস তাকে বিষ খাইয়েছেন। মুয়াবিয়া রা. এক লাখ দিরহাম দিয়েছিলেন তাকে। এবং তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাসানকে মারতে পারলে, ইয়াযিদের সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। হযরত হাসানের মৃত্যুর পর জা‘দা ইয়াযিদের সাথে যোগাযোগ করলে ইয়াযিদ উত্তর দিয়েছিলো:
-আমরা তোমাকে হাসানের জন্যে পছন্দ করিনি, আমাদের জন্যে পছন্দ করবো, এটা তুমি কিভাবে ভাবতে পারলে?
.
.
আমরা এবার এ বিষয়ক বর্ণনাগুলো একটু যাচাই করে দেখি:
এক: স্ত্রীর নাম কিন্তু হযরত হাসান নিজে বলেননি। অন্যরা বলেছে। আর জা‘দা বিষয়ে যে বর্ননা আছে, সেটার সনদ দুর্বল। বিশুদ্ধ নয়। 
.
দুই: ইয়াযিদ কর্তৃক জা‘দাকে বিষ দেয়ার সংবাদ সংবলিত যে বর্ণনা আছে, সেটার সনদে একজন রাবী আছে ইয়াযিদ বিন ইয়ায। এ লোকটা চরম মিথ্যাবাদী। সুতরাং তার বর্ণনা বাতিল। 
.
তিন: সে বর্ণনায় একটা কথা এমন আছে: মুয়াবিয়া রা. সরাসরি আদেশ করেছিলেন জা‘দা-এর পিতা আশ‘আস বিন কায়সকে: তুমি তোমার মেয়েকে বলো তার স্বামীকে বিষ খাওয়াতে। 
= ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন:
-আরে আশ‘আস মারা গেছে চল্লিশ হিজরীতে। হাসানের ইন্তেকালের দশ বছর আগে। তিনি এত আগে মেয়েকে বিষ খাওয়ানোর কথা বলে যাবেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। 
আর জা‘দা টাকা বা ইয়াযিদের বৌ হওয়ার লোভে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করবেন, এটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ তিনি নিজেই অনেক বড় নেতার মেয়ে। তার নিজের ধন-সম্পদের কমতি ছিল না। আর হাসানের চেয়ে ইয়াযিদ কোন দিক দিয়ে ভাল? এটা বুঝি একজন স্ত্রী বুঝতে পারবে না?
এ-বর্ণনাটার বক্তব্যও যুক্তিসঙ্গত নয়। আর সনদের দুর্বলতার কথা তো আগেই বলা হলো। 
.
চার: এছাড়াও হাসানের ইন্তেকাল বিষয়ক বর্ণনাগুলোতে কিছু লোক আছে যাদের পরিচয় খুবই স্পষ্ট:
ক: আহমাদ বিন আবদুল্লাহ। এ ব্যাটা একজন স্বীকৃত শী‘আ। 
খ: ঈসা বিন মারওয়ান। এ মুহাদ্দিসপ্রবর (!!!)ও একজন রাফেযী। কাযযাব। 
গ: হাইসাম বিন আদাস। এই গুণধরও একজন কাযযাব!
.
তাহলে কি হাসানকে বিষ খাওয়ানো হয়নি? তিনি নিজেই যে বললেন?
= আমরা যদি বলি বিষ খাওয়ানো হয়েছে, তাহলে কে খাইয়েছে সেটা স্পষ্ট নয়। শুধু শুধু কেন একজন সাহাবী, একজন মহিলাকে সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে দোষারোপ করা?
= আর যদি বলি বিষ খাওয়ানো হয়নি। তাহলে হাসানের উক্তি?
সেটার সমাধান ড. আলি সাল্লাবী এভাবে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:
-আমি ডা. কামালুদ্দীন হুসাইন তাহেরর সাথে এ-ব্যাপারে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন: রক্তস্বল্পতার কারণে অনেক সময় এমন অনুভূতি হতে পারে। অন্ত্রে টিউমার হলেও এমন হতে পারে। এক প্রকার ক্যান্সারের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। 
.
পরিশেষে বলবো:
= কী ঘটেছে সেটা আজ এতদিন পরে, নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আমরা শুধু প্রমান ও অনুমানের ভিত্তিতে কিছু কথা বলতে পারি। 
.
ও হাঁ, আরেকটা কথা রয়ে গেলো:
= হযরত হাসান সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে: তিনি অসংখ্য বিয়ে করেছিলেন। কেউ কেউ তো বলেছে তিনি কয়েকশ বিয়ে করেছেন। একদিন হযরত আলি মিম্বরে বসেই ঘোষণা দিয়েছেন:
-তোমরা আমার ছেলে হাসানের কাছে মেয়ে বিয়ে দিওনা। সে শুধু বিয়ে করে আর তালাক দেয়। 
এমনি আরও অসংখ্য বর্ণনা আছে। এগুলো যে কতোটা বানোয়াট আর ভ্রান্ত, সেটা প্রমাণের জন্যে আলাদা লেখা প্রয়োজন। 
ইনশাআল্লাহ নবিজী (সা.)এর আহলে বাইতকে শী‘আ-রাফেযীদের ভ্রান্ত ছোবল থেকে রক্ষার জন্যে, আমরা এগিয়ে আসবো। যে কোনও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবো।
.
পাশাপাশি মহান সাহাবী মুয়াবিয়া (রা.)-এর সম্মান রক্ষায়ও আমরা প্রস্তুত থাকবো। ইনশাআল্লাহ। 
.
ফিরাকে শী‘আ!
মুর্দাবাদ! মুর্দাবাদ!
.
সিপাহে সাহাবা
যিন্দাবাদ ! যিন্দাবাদ!

বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি কতটুকু অনুসরণ করে? এবং স্বীকৃতি প্রসঙ্গ

Mohiuddin Kasemi

স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। অনেকে প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখছেন। মোটামুটি সবগুলোই পড়েছি। যৌক্তিক পরামর্শ এসেছে। মুরুব্বিরাও বিষয়গুলো চিন্তাভাবনা করছেন। একটা চূড়ান্ত ফলাফল আসবে ইনশাল্লাহ। 
এ প্রসঙ্গে দেওবন্দের মূলনীতির কথা আলোচিত হচ্ছে। দেওবন্দ আমাদের চেতনা। আমরা তাদের অনুসারী। আসলেই কি আমরা দেওবন্দের অনুসরণ করি? 
---
দারুল উলুম দেওবন্দ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং একটি মাকতাবায়ে ফিকর-- চিন্তাগোষ্ঠী, চেতনার বাতিঘর, স্কুল অব থট। ইংরেজদের সাথে সম্মুখসমরে পরাজিত হয়ে ইসলামের মূল চেতনাগুলো ধরে রাখা এবং আজাদির সংগ্রাম যুগযুগান্তরে জিইয়ে রাখার মহান উদ্দেশ্যে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই কিছু মূলনীতি তৈরি করা হয়, যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে। এরকম প্রসিদ্ধ আটটি মূলনীতিরর কথা জানা যায় :

১। অত্যাচারী শাসকের সাহায্য ব্যতীত শুধু জনসাধারণের সাহায্যে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে। এভাবে জনসাধারণের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জনমত গঠন করা।
২। ব্যাপকহারে ছাত্র ভর্তি করে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে আধিপত্যবাদী (তৎকালীন শাসক) ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য সুশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী গঠন করা।
৩। শুরাতাত্ত্বিক অর্থাৎ পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে।
৪। যে কোনো ন্যায্য সংগ্রামকে সফলতায় নিয়ে যেতে হলে সমমনাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, তাই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং কর্মচারীবৃন্দ সমমনা হতে হবে।
৫। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাকোর্স সম্পন্ন করে সঠিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী হতে হবে।
৬। সম্মানজনক পদ্ধতিতে চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে গরিবদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে এবং পুঁজিবাদী, ধনী এবং জমিদারদের সাথে সম্পর্ক বিছিন্ন করতে হবে।
৭। অত্যাচারী শাসকের কোনো সাহায্য গ্রহণ করা যাবে না।
৮। মুখলিস/নির্মোহ লোকদের চাঁদাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
(মূলনীতিগুলো একজনের কাছ থেকে নিয়েছি। সবগুলো হুবহু ঠিক আছে কিনা, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না)
-
এগুলো ছাড়াও দেওবন্দের আরও কিছু কর্মপদ্ধতি, নিয়মকানুন ও বৈশিষ্ট্য ছিল। যুগের পরিবর্তনে সেগুলোতে ঈষৎ; ক্ষেত্রবিশেষে আমূল পরিবর্তনও হয়েছে। 
প্রতিষ্ঠালগ্ন ও আজকের দেওবন্দের মাঝে সিলেবাস, নিয়মকানুন ও অন্যান্য বিষয়ে কি একটুও পরিবর্তন হয়নি? 
২০০৭ সনে দেওবন্দে আদব পড়ি আমি। বিশ্বখ্যাত আরবি সাহিত্যক উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা নুর আলম খলীল আমিনী প্রায়ই ক্লাসে বলতেন, কতগুলো বুড়া বসে আছে, ওদের কারণে এই এই কাজ হচ্ছে না। বারবার পরামর্শ দিচ্ছি দুনিয়ার কোথাও ৫০ নম্বরে পরীক্ষা হয় না, ১০০ নম্বরে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া দরকার। তারা আকাবিরদের অনুসরণ করে! 
এখন দেওবন্দে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা হয়। 
--
দেওবন্দে দুই বছরে দুই টাকা লেগেছে আমার। হা, ভর্তিপরীক্ষার জন্য দুই রুপি দিয়ে একটি ফরম কিনতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তিফরম নিয়ে ভর্তি হলাম। রুম পেলাম। খানা পেলাম। প্রতি মাসে মাসে টাকা পেতাম। পরীক্ষার বিশেষ টাকা পেতাম। পরীক্ষার কোনো ফি নাই। শীতে লেপতোশক পেতাম। দুই টাকার টিকেট দিয়ে ফ্রি চিকিৎসা পেতাম...! বউ ছাড়া সবই পেয়েছি।
দাওরা ও আদব দুবছরে মাত্র দুই রুপি খরচ হয়েছে। হা, ব্যক্তিগত খরচের কথা ভিন্ন।
বাংলাদেশের কোনো একটি মাদরাসায় কি এমন সুযোগ রয়েছে? 
দেওবন্দের ছাত্ররা কনসেশন কার্ড দিয়ে কমমূল্যে ভ্রমণ করতে পারে। 
জামিয়া মিল্লিয়া, আলীগড় এবং আরব বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো এ চিন্তা করেই না। 
আমরা কেবল পাচকল্লির মেহনত করি! ইলম ও আমলের তেমন গুরুত্ব দিই না। 
বাংলাদেশের অধিকাংশ মাদরাসা পরিচালিত হয় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের তত্ত্বাবধানে। তাদের মর্জির বাইরে যাওয়ার তেমন সুযোগ থাকে না। হেফাজতের আন্দোলনের পরে বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি আমরা। 
-
প্রথম দেওবন্দে গেলাম তখন শীতকাল ছিল। বড় বড় হুজুররা দেখি মোটা মোটা টুপি পরে। গোলাম আজম সাহেবের টুপিও অনেকের মাথায় দেখলাম! সবাই কি গোমরাহ...?
সবাই খাটো জামা ও চিপা পায়জামা পরে। পাচকল্লি তো খুজেও পেলাম না। জুব্বা নাই বললেই চলে। এসব দেখে কেমন কেমন জানি লাগত! বাংলাদেশি মাদরাসার সাথে মিল পেতাম না। কিছুটা আহত ও মর্মাহত হলাম।
আস্তে আস্তে দেওবন্দের উদারতা ও আমাদের সঙ্কীর্ণতা পরিষ্কার হতে লাগল।
---
আট মূলনীতি কুরআন ও হাদিস নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। সঠিক ইসলাম জিইয়ে রাখা, ইমান আমল বাকি রাখা, ইলমের চর্চা, কুরআন হাদিসের অনুসরণ, সাহাবিদের পদাঙ্কননুসরণ এবং এ উপমহাদেশে যুগযুগ ধরে চলে আসা হানাফি মাযহাব মেনে চলা দেওবন্দের মূল স্পিরিট।
নস ছাড়া সবকিছুই পরিবর্তনশীল। স্থান কাল পাত্র ভেদে সংযোজন ও বিয়োজন করলে গোনাহ হবে না। -
ভারতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কি এক? বাংলাদেশের পরিবেশ, সামাজিক অবস্থা, আলেমসমাজের শক্তি-সামর্থ্য, সরকারের নীতিমালা, রাষ্ট্রীয় আইনকানুন সবকিছু মিলিয়ে এদেশের আলেমদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে ঐক্য। আমি বিশ্বাস করি, কওমির সব ঘরানা মৌলিক কিছু বিষয়ে একমত হয়ে দাবি পেশ করলে সরকার অগ্রাহ্য করতে পারবে না। সরকারের দরকার ক্ষমতা। ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করতে ট্রাকের পর ট্রাক লাশ ফেলতেও কুণ্ঠিত নয় তারা। 
দেশের সরকারের সাথে লিয়াজো করা ছাড়া কোনোকিছুই করা সম্ভব নয়। ইতিহাসের বৃহৎ গণজমায়েতকে কয়েক ঘণ্টায় নাস্তানাবুদ করার কীর্তি শাপলাচত্বরে এ সরকার দেখিয়েছে। 
বিএনপি ও আওয়ামীলীগ ছাড়া আর কোনো দল ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে সব ইসলামী দলই বড় রাজনৈতিক দলের আশ্রয় বা আশির্বাদপ্রাপ্ত হয়েছে। 
--
সুতরাং সব কওমি ঘরানা স্বীকৃতির নীতিমালা বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে সরকারের কাছে ওই মোতাবেক স্বীকৃতির দাবি জানানোই প্রধান কাজ। কিন্তু বৃহৎ ঐক্য নিয়েই যত ঝামেলা।
আমরা আশা করি, আলেমসমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে স্বীকৃতি কেউ ঠেকাতে পারবে না। আর স্বীকৃতি না নেওয়ার বিষয়ে একমত হলে সেটাকেও সাধুবাদ জানাবো।

পৃথিবীর পরিচয় ও আকার-আকৃতি

মাও. আবুল হুসাইন
জ্যোতির্বিজ্ঞান astronomy علم الفلك বিষয়ে আমার পড়াশোনার সার সংক্ষেপ। উপকৃতদের প্রতি রইল অভিনন্দন।
পৃথিবীকে দেখতে চ্যাপটা flat مسطحة মনে হলেও পৃথিবী গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন পৃথিবী গোলাকৃতির كروية spherical, কিন্তু পৃথিবীর বিশালতার কারণে সেটা সহজে অনুভব করা যায় না। প্রশ্ন আসতে পারে, পৃথিবী চ্যাপটা না হয়ে গোল হয়ে থাকলে সমুদ্রের পানি স্থলে চলে আসে না কেন ? উত্তরে বলা যায়, যারা সমুদ্রের পাড়ে গিয়েছেন, তারা অবশ্য দেখেছেন মহান আল্লাহ কিভাবে সারাক্ষণ ঘূর্ণয়মান ডেউয়ের বাঁধ দিয়ে স্থলের দিকে সমুদ্রের পানি ধেয়ে আসার পথ রুদ্ধ করে রেখেছেন। 
---
বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন যে, পৃথিবী মহাকাশ الفضاء space বা মহাশূণ্যের একটি গ্রহমাত্র। তাদের মতে মহাকাশে ছড়িয়ে আছে কোটি কোটি গ্যালাক্সী galaxy مجرة বা ছায়াপথ। আর এ গ্যালাক্সীগুলোতে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র نجم star। আর কোটি কোটি গ্যালাক্সীর মধ্যে একটি গ্যালাক্সীর নাম হচ্ছে Milky Way মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সী درب اللبانة (বাংলায় আকাশগঙ্গা)। আর এ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীতে নাকি রয়েছে দশহাজার কোটি তারা বা নক্ষত্র। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীর এ দশ হাজার কোটি তারার মধ্যে মাঝারির চেয়েও ছোট একটি তারার নাম হচ্ছে sun الشمس সূর্য, যাতেই একমাত্র রয়েছে প্রাণীর অস্তিত্ব। আবার এ সূর্যকে ঘিরে রয়েছে ছোট-বড় ৯টি গ্রহ كوكب planet। যথাঃ বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন, প্লুটো। অনেক বিজ্ঞানী চ্যারন ও ইউবি-৩১৩ নামক আরো দুইটি গ্রহের কথা বলেছেন। তবে সম্প্রতি অনেক বিজ্ঞানী ক্ষুদ্রত্ব ও সূর্য থেকে অতি দুরত্বের কারণে চ্যারন ও ইউবি-৩১৩ এর সাথে প্লুটোকেও গ্রহ থেকে বাদ দিয়েছেন। এসব গ্রহগুলোকেকে একত্রে সৌরজগত Solar System المجموعة الشمسية বলা হয়। এ গ্রহগুলোর একটি মাঝারি আকৃতির গ্রহ হচ্ছে আমাদের পৃথিবী الأرض Earth। তবে মাঝেমধ্যে প্রকাশিত হওয়া ‘ধুমকেতু’ সৌরজগতের সদস্য নাকি অন্য কোনো ছায়াপথ থেকে অতিথি হিসেবে আসে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে বিরোধ রয়েছে। আর এ গ্রহগুলোর প্রতিটিতেই রয়েছে কিছু উপগ্রহ। আকাশে যে চাঁদ দেখা যায়, তা হল পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ (এ পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহে ২টি, বৃহস্পতিতে ৬২টি, শনিতে ৩১টি, ইউরেনাসে ২৭ ও নেপচুনে ১৩টি চাঁদ তথা উপগ্রহ আবি®কৃত হয়েছে)। ভূপৃষ্ঠ থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮২ হাজার ১৭১ কিলোমিটার।

সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পৃথিবী পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। এটি সৌরজগতের চারটি কঠিন/শিলাময় Terrestrial গ্রহের অন্যতম। পৃথিবীর অপর নাম "বিশ্ব" world العالم বা "নীলগ্রহ"। লাতিন ভাষায় এই গ্রহের নাম টেরা (Terra)।
অন্যদিকে সূর্য ও তার গ্রহগুলো সারক্ষণই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। আর এ ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে সৃষ্টি হচ্ছে আলো ও অন্ধকার বা দিন-রাত। উল্লেখ্য, সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্রহগুলো সূর্য থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তম্মধ্যে সূর্যের সর্বাধিক কাছের গ্রহ ‘বুধ’র দূরত্ব সূর্য থেকে প্রায় ৫ কোটি কিলোমিটার। আর সূর্যের সর্বাধিক দূরের গ্রহ ‘প্লুটো’র দূরত্ব সূর্য থেকে প্রায় ৫৯৫ কোটি ৫০ লক্ষ কিলোমিটার। আর সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীর দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। অন্যদিকে গ্রহগুলোর তুলনায় সূর্য লক্ষ লক্ষ গুণ বড়। আমাদের পৃথিবীর চেয়ে সূর্য ১০ লক্ষ গুণ বড়।
এ হলো মানুষের গবেষণার ফল। তবে এটি একেবারে সত্য যে, বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রথম আসমানের নীচ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। তারা কখনোই সাত আসমানের রহস্য উন্মোচন করতে পারবে না। এমনকি আসমান সম্পর্কে জিন জাতির লোকেরা যতটুকু জানে তাও তারা জানতে সক্ষম হবে না। কোরআন শরীফে এসেছে, জিনেরা ফেরেশতাদের কথা শোনার জন্য প্রথম আসমানের কাছে ভিড়ার চেষ্টা করে তাতে ফেরেশতাদের কঠোর প্রহরা দেখতে পেয়েছে। কেউ প্রহরা ডিঙিয়ে ফেরেশতাদের কথা শুনতে চাইলে তার প্রতি উল্কাপিণ্ড Meteor شهاب ছোড়া হয় (দেখুন সূরা ছফ্ফাতের ৮-১০ ও সূরা জিনে ৮ ও ৯ নম্বর আয়াত)। জিনেরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছে, "আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।" সূরা জিন : ৯, ১০
নীচে কুরআন থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি ও ধ্বংস নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হল :
১. পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ ছিল পানির উপর। সূত্র : সূরা হূদ : ৭
২. আসমানের সংখ্যা সাতটি। সূত্র : সূরা আত-তলাক : ১২
৩. এ পৃথিবীর মত আরো ছয়টি পৃথিবী/গ্রহ রয়েছে। সূত্র : সূরা আত-তলাক : ১২
৪. আল্লাহ সাত আসমান ও পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে। সূত্র : সূরা আস-সাজদাহ্ : ৪
৫. মানুষের এক হাজার বছর আল্লাহর কাছে একদিন বলে গনিত হয়। সূত্র : সূরা আল-হজ্ব : ৪৭
৬. পাহাড়কে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীকে স্থির রাখার জন্য। সূত্র : সূরা আন-নাবা‘ : ৬, ৭
৭. দুনিয়ার আসমানকে (অর্থাৎ, পৃথিবীর দিক থেকে প্রথম আসমান) আল্লাহ কিছু গ্রহ كوكب দ্বারা সাজিয়েছেন, যাতে অবাধ্য শয়তানেরা উর্ধধাকাশে গিয়ে ফেরেশতাদের কথা শোনতে না পারে। সূত্র : সূরা আছ-ছফফাত : ৬
৮. দুনিয়ার আসমানকে আল্লাহ কিছু বাতি/উল্কা দ্বারাও সাজিয়েছেন। অবাধ্য শয়তানরা ফেরেশতাদের কথা শোনার জন্য গ্রহকে পাশ কাটিয়ে উপরে যেতে চাইলে উত্তপ্ত এই বাতিগুলো شُهُب তাদের দিকে ছুড়ে মারা হয়। সূত্র : সূরা আল-মুলক্ : ৫, সূরা আল-হিজর : ১৬-১৮
৯. অন্ধকারে মানুষ পথ পাওয়ার জন্যই আল্লাহ তারকারাজি সৃষ্টি করেছেন। সূত্র : সূরা আল-আনআম : ৯৭
১০. যে কুরসীতে আল্লাহর আরশ বিদ্যমান সেটি সপ্তাকাশ ও পৃথিবীকে বেষ্টিত করে রেখেছে। সূত্র : সূরা আল-বাকারা : ২৫৫
১১. যখন কেয়ামত (মানব জাতির সমাপ্তি ও মানুষের সবাইকে জীবনেরর ভালো-মন্দের চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পুনর্জীবিতকরণ) আসবে, তখন সাত আসমানের সবটি ফেটে গিয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে, সূর্যসহ সকল নক্ষত্রকে নিষ্প্রভ করা হবে, গ্রহগুলো পড়ে যাবে, পাহাড়গুলো উড়ে যাবে, পৃথিবীকে বিস্তৃত করে (মাঝখানের সব সাগর-নদী মিটিয়ে ফেলে) তাকে একটি মসৃণ মাঠে রুপান্তরিত করা হবে এবং চতুর্পাশ্বের সমুদ্রকে উত্তপ্ত করা হবে। এরপর নির্দ্দিষ্ট স্থানে রক্ষিত সকল মানুষের প্রাণ ছেড়ে দিয়ে তাতে দেহ সৃষ্টি করা হবে। তখন রাত-দিন বলতে আর কিছু থাকবে না এবং মানুষের কারো মাঝে ক্ষুধাসহ পার্থিব কোনো জৈবিক চাহিদা ও আকর্ষণ অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর আটজন মহান ফেরেশতা আল্লাহর আরশকে উপর (কুরসী) থেকে নীচে (হাশরের মাঠে) নামাবে। অতঃপর সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক সূচিত হবে সকল মানুষের বিচার অনুষ্ঠান। বিচারের এ পর্বটি এ দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান দীর্ঘ হবে। তথ্যসূত্র : সূরা আত-তাকভীর, সূরা আ-ইনফিতার, সূরা আল-ইনশিকাক, সূরা আল-মুরসালাত, সূরা আল-হা-ক্কাহসহ আরো বিভিন্ন সূরা ও হাদীছ
আল্লাহ আমাদেরকে প্রতারণার এ দুনিয়াতে আখেরাতের হিসাব মাথায় রেখে জীবন যাপন করার তৌফীক দান করুন।

শীআ ও ইহুদি : জানা-অজানা

মাও. আতীকুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ
শিয়া ও ইহুদিরা বাইরে যতই ভিন্নতা দেখাক তারা ভেতরে ভেতরে এক। একটা লেখায় তাদের মধ্যে কিছু মিল খুঁজে পেলাম। গত কিছুদিনে এ বিষয়ে সরাসরি বেশ কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে। মিলগুলো দেখা যাক:
(প্রথম ভাগ)
এক: ইসরাঈল মুসলমানদের ভূমি দখল করে রেখেছে। সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীকে বিতাড়িত করেছে, বাকি থেকে যাওয়া অধিবাসীদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাচ্ছে। 
= ইরানও আরব শহর ‘আহওয়ায’ দখল করে রেখেছে। সেখানকার সুন্নী অধিবাসীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে। যারাই প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে দেয়া হচ্ছে।

দুই: ইসরাঈল মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের ধর্মগ্রন্থ তালমুদ ও তাওরাতের ভাষ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। । মুসলিম ও আরবদের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা পোষণকারী হলো, কট্টর ইহুদি গোষ্ঠী হেরিদেম ও হেসিদেম। এর অর্থ হলো: ধার্মিক। 
= ইরানও মুসলিম ও আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের আকীদা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। এ বিষয়ে তাদের ইমামদের ফতোয়া আছে। আর শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ পরায়ণ শিয়া হলো ‘সাফাভী’ শিয়ারা। বর্তমানে ইরাকে লড়তে আসা ইরানি সৈন্যদের বেশিরভাগই সাফাভি শিয়া।

তিন: কট্টর ইহুদিরা ১৯৬৯ সালে মসজিদে আকসায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। 
= ১৪০৯ হিজরিতে কট্টরপন্থী শিয়ারাও মক্কা মুকাররামায় বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা চালিয়েছিল।

চার: প্রায় দশ মিলিয়ন ফিলিস্তিনী আজ ইসরাঈলের কারণে অধিকারবঞ্চিত। 
= প্রায় দশ মিলিয়ন আহওয়াযবাসী আজ অধিকারবঞ্চিত ইরানের হিংসাত্মক শাসনের কারণে।

পাঁচ: ইসরাঈল তার স্বার্থের কারনে ইরাকে মার্কিন হামলার পক্ষে প্রধান উস্কানিদাতা হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। 
= ইরানও তাদের স্বার্থের কারণে ইরাকে ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। আহমাদিনেজাদও একবার ভুলে প্রকাশ্যে এ বিষয়টা স্বীকার করে ফেলেছিল।

ছয়: ইসরাঈল সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চেষ্টা করে আসছে, মসজিদে আকসাকে ধ্বংস করে দেয়া জন্যে। মসজিদের স্থানে তাদের কল্পিত ‘হায়কালে সুলাইমানি’ নির্মান করার লক্ষ্যে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। ইহুদিরা ‘লাল গাভি’ বের হওয়ার অপেক্ষা করছে। এই কল্পিত ‘লাল গাই’ বের হলেই তারা মসজিদে আকসাকে ধ্বংস করে ফেলবে। আল্লাহই জানেন কবে কখন কোথায় কিভাবে তাদের কল্পিত লাল গাই বের হবে। চরমপন্থী ইহুদিরা অবশ্য এখনই প্রকাশে মিছিল করে, যেন মসজিদকে ভেঙে ফেলা হয়। 
= ইরান থেকে হজ্জ করতে আসা শিয়ারা হাজীদের মধ্যে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। তারা তো মিছিলও করেছে। কোম নগরীর শিয়া আলেমরা ঘোষণাও দিয়ে আসছে, কিবলা যেন কাবা শরীফের দিক থেকে ঘুরিয়ে, কারবালা ও নাজাফের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। শিয়ারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কখন তাদের প্রতীক্ষিত ‘মাহদী’ আসবে এবং কাবাঘর ধ্বংস করবে। নাউযুবিল্লাহ।

সাত: ইসরাঈল হাইফা নগরী ও গাযার উপকূলের তেল-গ্যাস চুরি করে নিয়ে যাচ্চে। জর্দান নদীর পানি অন্যায়ভাবে ভোগদখল করছে। লেবানন নদীর পানি ভোগদখল করছে। জর্দানের অধিবাসীরা এ কারণে পানিসংকটে ভুগছে। গাযার মুসলমানরা মানবেতর জীবন যাপন করছে । 
= ইরান আহওয়াযের পুরো তেলসম্পদ ও অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ জোরদখল করে আসছে। ইরানের তেলসম্পদের ৮০% ভাগই আহওয়াযে। অথচ আহওয়াযের আরব সুন্নীরা বেকারত্ব-অথসংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।

আট: ইসরাঈল দাবি করে, ফিলিস্তিনিরাও তাদের দেশের নাগরিক। কিন্তু তাদের নেই কোনও নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা। তারা নিরন্তর হত্যা-গুম ও বোমা-বিমান হামলার শিকার। সরকারি অফিস-কাচারিতে চাকরিসুবিধাবঞ্চিত। 
= ইরানও দাবি করে, কুর্দি, বেলুচ ও আহওয়াযবাসীরা তার নাগরিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরান তাদের প্রতি সব সময় খড়গহস্ত। ইরানের এই মাযলুম মানুষগুলো নিরন্তর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার।

নয়: ইসরাঈলের প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পতিতালয়। ভিন্ন ভাষায়। অন্য অঙ্গিকে। তারা এর মাধ্যমে যৌনব্যবসাকে ব্যাপক করে তুলেছে। পর্যটকদেরকে অকৃষ্ট করছে। 
= ইরান যৌনব্যবসাকে বৈধতা দিয়েছে ভিন্ন কৌশলে। ‘সতীত্বের ঘর’-এর মাধ্যমে তারা এই কাজ সারে। এই সতীত্বঘরে দুইজন অপরিচিত পুরষ-মহিলা ‘মুতআ’ বিবাহের মাধ্যমে তাদের চাহিদা চরিতার্থ করে। 
শিয়াদের মতে, যে ব্যক্তি একবার মুতা বিয়ে করবে, তার জন্যে ৭০ হাজার ফিরিশতা রহমতের দু‘আ করবে। আর যে মুতআ করবে না, তার ওপর ৭০ হাজার ফিরিশতা লা‘নত করতে থাকে।

দশ: ইসরাঈল তাদের এজেন্ট রিক্রুট করে অপরিমেয় অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে অথবা সুন্দরী নারীদের লেলিয়ে দিয়ে। 
= ইরানও তাদের পক্ষে লোক সংগ্রহ করে বিপুল অর্থব্যয়ে। মুতআ বিয়েকে ব্যপকতর করে তোলার মাধ্যমে।

এগার: ইসরাঈল তাদের রাষ্ট্রের ঘোষণাপত্রে লিখেছে: ইসরাঈল একটি গণতান্ত্রিক ইহুদি রাষ্ট্র। একটা কট্টর ইহুদিবাদী রাষ্ট্র কিভাবে গণতান্ত্রিক হয়?
= ইরানও তাদের সংবিধানে লিখেছে: ইরান একটি জাতীয়াতবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। 
একটা কট্টর সুন্নিবিরোধী শিয়াবাদি রাষ্ট কিভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়?

বার: ইসরাঈল তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে সামরিক অধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ব্যপকভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 
= ইরানও তাই করছে। বর্তমানে ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া ইরানের প্রভাব বলয়ে। প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর আমলে সৌদি আরবও পুরোপুরি ইরানের প্রভাব বলয়ে ছিল। আবদুল্লাহর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিল শিয়া। এই শিয়া মন্ত্রীর হাত ধরে, সৌদিতে শিয়াদের ছিল পোয়াবারো অবস্থা। এখন হয়তো বাদশাহ সালমানের আমলে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।

তের: ইসরাঈল সম্পূর্ণরূপে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বাস করে। তারা তাদের যাবতীয় কর্মকান্ডকে বিশ্ব থেকে আলাদা করে রাখে। তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক, তারা নিজেদেরকে স্বতন্ত্র একটা বলয়ের মধ্যে ধরে রাখে। সেখানকার জনস্রোতের সাথে মিশে যায় না। 
= ইরানও সবক্ষেত্রে তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। ভাষা-সংস্কৃতি-রাজনীতি সবক্ষেত্রেই। তাদের চারপাশে সুন্নী রাষ্ট্র থাকলেও তারা তাদের মতো করেই থাকে। আশেপাশের কোনও প্রভাব তাদেরকে প্রভাবিত করতে পারেনা। এমনকি হজে এলেও তারা দলবদ্ধভাবে আলাদা হয়ে থাকে। অন্যদের সাখে ভুলেও কথা বলতে বা মতবিনিময় করতে যায় না।

চৌদ্দ: ইসরাঈল বংশগতভাবেই আরব ও মুসলিমদেরকে ঘৃণা করে। এই ঘৃণা তাদের মধ্যে বংশানুক্রমেই চলে আসছে। 
= ইরানও জন্মগতভাবেই আরব ও মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। ফিরদাওসীর শাহনামাতেও এই ঘৃণা ফুটে উঠেছে। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন:
= আমরা কিভাবে পতঙ্গখোর আরবদেরকে আমাদের পারস্য দখল করার অনুমতি দিতে পারি?
তিনি আরো লিখেছেন:
-আরবরা খাবে উটের পেশাব আর ইসফাহানের কুকুরগুলো খাবে নদীর শীতল পানি। 
এই শাহনামা এখন বলতে গেলে ইরানের অন্যতম সংবিধান।

(দ্বিতীয় ভাগ)
*** এখন যে হুসিরা (হুতি) ইয়েমেন দখল করে নিয়েছে, সেটা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। সেটা ইরানের অনেক দিনের পুরনো পরিকল্পনা। অনেকের হয়তো মনে আছে, মিসরে প্রেসিডেন্ট মুরসি ক্ষমতায় আসার পর, ইরানের সাথে বেশ দহরম-মহরম শুরু হয়েছিল। তখন বেশ কিছু ঘটনা দেখে আমার কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়েছিল। এখন আরেক মুসলিম প্রেসিডেন্ট ইরানের মাধে নতুন করে পিরিত শুরু করেছেন। একটা মূল কথা সবার মনে রাখা দরকার:
= ইরান ও ইসরাঈলের সাথে কখনোই, কিছুতেই, কোনওভাবেই সখ্যতা চলে না। চলতে পারে না। সেটা কূটনৈতিক ভাষাতেই হোক আর রাষ্ট্রীয় ভাষাতেই হোক। 
= ইহুদিরা শত শত নবীদের হত্যকারী। আমাদের নবীজিও (সা.) তাদের দেয়া বিষের কারণেই জীবনের শেষ মুহূর্তে তীব যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। 
=শিয়ারা শত শত সাহাবায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের হত্যাকারী। ইসলামের বড় বড় দুর্ঘটনা শিয়াদের ইন্ধনেই ঘটেছে। 
= শিয়াদের সাথে কোনওভাবেই হাত মেলানো কোনও মুসলিমের পক্ষে শোভনীয় নয়। তিনি যত বড় ইসলামের মুক্তিদাতা ক্যারিশমেটিক নেতাই হোন। । কোনও মুসলিম নেতার পক্ষে শিয়াদের মাযারে গিয়ে ভক্তি গদগদ হয়ে দু‘আ করা শোভনীয় নয়। 
= তার মানে এই নয় যে, আমরা শিয়াদেরকে ধরে ধরে মেরে ফেলবো। আমরা বলতে চাচ্ছি, শিয়াদের সাথে আমরা মানবিক আচরণ করবো। কিন্তু তাদেরকে মুসলিম মনে করে হাত মেলাতে যাবো না। 
= যারাই এমনটা করবে, নিঃসন্দেহে তারা ভুলের মধ্যে আছে। 
= শিয়া কাফের। জু না মানে, ওহ ভী কাফের! 
= গত বিশ-বাইশ দিন বলতে গেলে দুনিয়া থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বেশ কিছু আলোচিত বিষয় জমে গেছে। কথা তো রয়ে গেল অনেক। আজকের লেখা লম্বা হয়ে গিয়েছে। পরে দেখা যাক। ইনশাআল্লাহ।

আমরা এক কাফেলা


আবু তাহের মেসবাহ
---
চৌদ্দশ বছরের আমরা এক কাফেলা
ইলমের ঈমানের আমরা এক কাফেলা
আমাদের পরিচয় শোনো।
আমরা আলোর ইশারা, নূরের ফোয়ারা
মহাকালের অন্ধকারে রৌশন সিতারা
আমাদের পরিচয় শোনো।
আমরা সত্যের অভিসারী, উম্মার অতন্দ্রপ্রহরী
যুগে যুগে শত দুর্যোগে আমরা পথের দিশারী
আমাদের পরিচয় শোনো।
শোকর আল্লাহর গর্ব নয় কোনো।
ইলমের তালিব মোরা, নবীর ওয়ারিস মোরা
জীবন মোদের ধন্য।
আমরা অন্য, আমরা ভিন্ন, আমরা অনন্য
আমরা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ আমাদের জন্য।
জীবন মোদের ধন্য।
হেরার অভিযাত্রী, আমরা সুফফার অনুসারী
পাথেয় কলম-কালি, নির্জন রাতের আহাজারি
ইলমে নবী, আমলে নবী আমাদের সাধনা
বুকে ইশকে নবী, মুখে, ‘ওয়াবিহী হাদ্দাছানা’
ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা
নবী-পরশে ধন্য যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
মাদানী গুলশানের আমরা পুষ্প, আমরা সৌরভ
সত্যের ডঙ্কা, বাতিলের শঙ্কা, ঈমানের গৌরব
জীর্ণ, শীর্ণ, রিক্ত, নিঃস্ব, তবু আমরা ধনী
ফকীরির মাঝে আমীরি শান শুধু আমরা জানি।
‘আত্বা, সালিম, রাবী‘আ, ছাওরী, যুহরী, যোরারা
সাহাবা-পরশে ধন্য যারা আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
ক্ষুধা, অনাহার, যন্ত্রণা, নবী জীবনে পাবো সান্ত্বনা
কতদিন বেঁধেছেন পাথর, সয়েছেন কত লাঞ্ছনা
সেই পথে চলা-বন্ধু! আমাদের জীবন-অঙ্গীকার
সে পথের যত যিল্লতি, তা আমাদের অহংকার।
মালিক, শাফেয়ী, আহমদ, হানীফা, এই যে ধারা
উম্মাহর ইমাম যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
শিখবো, শেখাবো-‘খায়রুকুম মান তা‘আল্লামা’
মীরাছ-ইলমী খাযানা, লা-দীনার, লা দিরহামা,
নাই বা চিনুক যামানা, কিছু তাতে যায় আসে না
মাখলূকাতের দু‘আ, ফিরেশতা বিছায় নূরের ডানা
আসকালানী, বাকিল্লানী, মারগিনানী, এই যে ধারা
ইলমের শহীদ যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।
আমরা ডুবুরী, জ্ঞান-সাগরের মুক্তো-মণি তুলে আনি
দেখো ইতিহাস, তুচ্ছ কত রাজমুকুটের হাতছানি
ইবনে বতুতা, ইবনে খালদুন, ইবনে সিনা, ফারাবী
আমরা হবো যুগের রাজী, গাযালী, কুরতুবি, ত্বাহাবী
ইলমের নীরব সাধনার চির বহমান এই যে ধারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
আমরা জানি তাইমিয়ার কলম, তরবারী, জুব্বাখানি
বালাকোট-শামেলী, শাহ শহীদ, গাঙ্গুহীর কোরবানী
আমরা জানি রেশমী রুমাল কাহিনী, মাল্টার জিন্দেগানী
কালো কালি আর লাল খুনে মাখামাখি শুধু আমরা জানি
ইলমের রোহবান, জিহাদের ফোরসান এই যে ধারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
সিলসিলা যুক্ত সাথে আল্লাহর ও রাসূলুল্লাহর
কোন সরকার করিবে স্বীকার বলো কী দরকার?
জোনায়েদ, জিলানী, আলফেছানী, শাহ দেহলভী
মোহাজিরে মাক্কী, নানুতবী, কান্ধলবী, থানবী
সময়ের সান্ত্বনা যারা, যুগজিজ্ঞাসার জবাব যারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
নবী-হাতে সুফ্ফার সত্তরজনে পিয়েছে দুধের পেয়ালা
আমরা তার ভাগিদার, আমাদের কাফেলা সেই কাফেলা
যুগের দুর্যোগে আজ যারা রাহবার আলী নাদাবীর মতো
ইলমের গৌরব যত এখানে এই বাংলায় চিরশায়িত
আল্লাহর রহমতে মেহদীর ঝাণ্ডায় লড়বে যারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।
কিন্তু আজ! কোথা রাখি লাজ, ডুবিলো কি ভাগ্য-তারা!
একদিন আমরা গড়েছি কুরতুবা, খোরাসান, বোখারা
আমরা জ্বেলেছি জ্ঞান-আলো, কত জাতি উজ্জ্বল হলো
শিক্ষক কেন শিষ্য হলো, এ ঘর কেন আঁধার বলো?
ভুলেছি অতীত, কেটেছি শিকড়, আছে কি ভবিষ্যৎ?
কাফেলা হেজাজের তুর্কিস্তানের ধরেছি ভ্রান্তপথ
সালাফের পথে মুক্তি খালাফের, ইমাম মালিকের বাণী
রাসমে আজানে কোথা আজ রূহে বেলালীর সঞ্জীবনী
তাই এসো ভাই শপথ করি, আবার নিশি জাগি
আমরা ধরি সুফ্ফার জিন্দেগী, ইলমের তরে সর্বত্যাগী
সে যুগের মুসলিম বুখারী, এ যুগের মাদানী-কাশ্মীরী
এসো ভাই তাদের পথে চলি, তাদের মতো জীবন গড়ি
অতীতের নমুনা একবার যদি ভাই জাগাতে পারি
দেখিবে দুনিয়া করিবে চুম্বন আমাদের পায়ে পড়ি।

বন্ধু ও বন্ধুত্ব


কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ
--
জীবনে এখন বন্ধুর অভাব নেই। আমরা অনেকের বন্ধু, অনেকে আমাদের বন্ধু। চারদিকে বন্ধুত্বের ছড়াছড়ি। কারণ বন্ধুত্বের সংজ্ঞা এখন অনেক শিথিল এবং বন্ধু শব্দের ব্যবহার বেশ উদার। এখন বন্ধুত্ব হয় মুখে মুখে এবং প্রয়োজনের তাগিদে। আমরা বন্ধু হই চলমান জীবনের চাওয়া ও চাহিদার দাবীতে; তাই দিনবদলের মতো আমাদের বন্ধুবদল হয় খুব সহজে। কোনো বন্ধুত্ব এখন বার্ধক্যের মুখ দেখে না, এমনকি দেখে না যৌবনেরও মুখ, তার আগেই বন্ধুত্বের মৃত্যু হয়,কখনো শুধু মুখের বিবাদে, কখনো ছুরি-খঞ্জরের সংঘাতে।
আমরা মুখের বন্ধু; বুকের বন্ধু নই। বন্ধুত্ব আমাদের প্রয়োজন, হৃদয়ের দাবী নয়। তাই বন্ধু আসে এবং বন্ধু চলে যায়; বন্ধুত্বের ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যায়।
হৃদয়ের বন্ধু তোমার পাশে থাকবে, যত দিন তোমাদের বুকে হৃদয় থাকবে। বন্ধু কখনো বন্ধুকে ত্যাগ করে না, করে শুধু বন্ধুর জন্য আত্মত্যাগ। চোখের পানিতে বন্ধু চোখের পাতা ভেজায়, যেন খুশির ঝিলিক থাকে তোমার চোখের তারায়। তুমি আঘাত পাও, সে ব্যথা পায়; তোমার দুঃখে সে বিষণ্ণ হয় এবং তোমার আনন্দে তার মুখে হাসি ফোটে; এমন বন্ধুকে বলে হৃদয়ের বন্ধু।
তোমার জীবনে কি আছে এমন বন্ধু? যদি থাকে, তুমি ভাগ্যবান। আমার জন্য তুমি প্রার্থনা করো,একজন হৃদয়ের বন্ধু যেন আসে আমার জীবনের এই পড়ন্ত বেলায়।
আমার কোন ব্যথা ও ব্যর্থতার কথা আমি তাকে বলবো না এবং বলবো না আশা ও হতাশার কথা, শুধু বলবো, হে বন্ধু! অনেক যত্নে সাজানো আমার এই বাগানটি আগলে রেখো আমার মৃত্যুর পর। পানি দিয়ো গাছের গোড়ায় এবং হাত বুলিয়ো তার সবুজ পাতায়। কখনো যদি ফুল ফোটে গাছের শাখায়, সেই ফুল দিয়ে মালা গেঁথে পরো তোমার গলায়।