বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

পোপকে স্বাগত জানাতে পারছি না.............

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন দাঃবাঃ

পোপ আসছেন আজ, স্বাগত জানাতে পারছি না যে কারণে-
১) পোপ আসছেন বাংলাদেশে শান্তির বার্তা নিয়ে। শান্তির বার্তা বিলিয়ে দিতে গতকাল গিয়েছিলেন মিয়ানমারে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচে নির্যাতিত জাতি রোহিঙ্গা জাতি। জাতিগত নিধনের শিকার তারা। তিনি তাদের নামটুকু উচ্চারণ করলেন না। এমনটিই বলছে মিডিয়া। যিনি মানবতার পক্ষে কথা বলার সাহস পেলেন না, তাকে স্বাগত জানাই কী করে?
২) দখলদার ইসরাইল কর্তৃক অসহায় নিরীহ ফিলিস্তিনীদের উপর বর্বরতার খবর তিনি অবশ্যই রাখেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় নি।
৩) ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইরাকে আগ্রাসন পরিচালনা করার কথা স্বীকার করলেও ইরাকে এখনো আগ্রাসন চলছেই। বোমা হামলা, হত্যা, ধর্ষণ থামছে না কিছুতেই। শান্তির ধ্বজাধারীদের পদার্পণ নেই সেখানে।
৪) সাম্রাজ্যবাদীদের শক্তির মহড়া চলছে সিরিয়ায়। শান্তি নয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে হায়েনারা। সেখানে শান্তির বার্তা বড্ড প্রয়োজন।
৫) আফগানিদের কপালে শান্তি নেই, কাশ্মীরীরা মরছে ধুঁকে ধুঁকে। লিবিয়াও শান্তি নেই। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে নিষিদ্ধ হয়ে আছে মুসলমানদের মৌলিক অধিকার। আলজেরিয়া তিউনিসিয়ায় উড়তে পারছে না শান্তির পতাকা। এসব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাঁধা কারা? পোপ কি কখনো তাদের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন?
তারপরেও আপনি আসুন। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবস্থা দেখে যান। দেখে লজ্জিত হবেন নিশ্চয়ই। বিশ্বে মুসলমানদের উপর এত নির্যাতন নিপীড়ন হওয়া সত্ত্বেও একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উত্তমরূপে বজায় থাকে কী করে! আসলে এটাই ইসলাম। এটাই ইসলামের শান্তি। মুসলমান শান্তির পক্ষে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
হয়তো যাবার সময় আমার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে যাবেন। তবে অনুরোধ রইলো। শান্তির ফোয়ারা ইসলামী শিক্ষা থেকে সামান্য হলেও নিয়ে যাবেন। ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ভুল ধারণা নিরসন করে যাবেন।



বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭

মীলাদুন্নবী কি ও তা পালন করা কি......?

Emran Hossain Adib 

নবী করীম (সা:) এর জন্মমুহূর্তকে "মীলাদুন্নবী" বলে। বর্তমানে 'মীলাদুন্নবী' বলতে নবী (সা:)এর জন্মদিনকে বিশেষ ফযীলতের আশায় বিশেষ
পদ্ধতিতে উদযাপন করাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। এর সাথে 'ঈদ' শব্দটি যোগকরে ইসলাম স্বীকৃত মুসলমানদের দু'টি ধর্মীয় 'ঈদ' অনুষ্ঠানের সাথে তৃতীয় আরেকটি 'ঈদ' সংযুক্ত করা হয়েছে। ইসলামে যার কোন ভিত্তি নেই। ইহা স্পষ্ট একটি বিদ'আত। কেননা রাসুল (সা:) তাঁর জীবদ্দশায় কখনোই নিজের জন্মবার্ষিকী পালন করেননি। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ চার সাথী, সংকট মুহূর্তের সংগি দু'জন শ্বশুর ও দু'জন জামাতা,জীবনের চেয়ে যারা নবী করীম (সা:) কে বেশী ভালবাসতেন, সেই মহান চার খলীফা দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর খেলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁহারা কখনোই রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় নবী(সা:)এর উদ্দেশ্যে 'মীলাদ' মাহফিল করেননি। ছাহাবায়ে কেরামের পরে তাবেঈনে উযামের কেউই তা পালন করেননি। এমনকি চার ইমামের যামানাতেও এর কোন প্রচলন ছিল না। অতএব এটা ইবাদতের নামে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে। আর এরূপ নবাবিষ্কৃত বস্তুকেই বিদ'আত বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন -
أن اصدق الحديث كتاب الله و أحسن الهدى هدى محمد وشر الأمور محدثاتها و كل محدثة بدعة و كل بدعة ضلالة و كل ضلالة في النار 
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হল আল্লাহর কিতার, আর সর্বোত্তম হিদায়াত হল মুহাম্মাদ (সা:) এর হিদায়াত। আর সর্বনিকৃষ্ট কাজ হল (শরী'আতের মধ্যে) নব আবিষ্কার। আর প্রত্যেক নব আবিষ্কারই বিদ'আত এবং প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহি। আর প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণামই জাহান্নাম

ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থীদের মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা রি-টুইট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প :


ব্রিটেনের চরম ডানপন্থী একটি দলের তিনটি উস্কানিমূলক মুসলিম বিদ্বেষী ভিডিও ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে টুইট করেছেন।

ব্রিটেন ফার্স্ট নামে দলটির উপনেতা জেইডা ফ্রানসেনের প্রথম টুইট বার্তায় এক ভিডিওতে দাবি করা হয় একজন মুসলিম অভিবাসী ক্রাচ নিয়ে চলা এক প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা করেছে।

এরপর তিনি আরও দুই ব্যক্তির একইধরনের দুটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন তারাও মুসলমান। এর একটিতে দেখানো হয় মুসলিমরা একটি খ্রিস্টান মূর্তি ভাঙছে আর অন্যটিতে তারা এক বালককে হত্যা করছে।

এই তিনটি ভিডিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটারে শেয়ার করেন।

ব্রিটিশ ফার্স্ট দলটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। উগ্র ডানপন্থী ব্রিটিশ ন্যাশানাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা এই দলটি গঠন করে।

''যুক্তরাজ্যের ইসলামীকরণ'' উল্লেখ করে দলটি বিতর্কিত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ইউরোপের নির্বাচন ও উপ নির্বাচনে দলটি অতীতে প্রার্থী দিয়েছে এবং প্রচারণা চালিয়েছে অভিবাসন বিরোধী এবং গর্ভপাত বিরোধী নীতিমালার পক্ষে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দলটির প্রার্থীরা কোন আসনে জয়ী হতে পারে নি।

সর্বসাম্প্রতিক মেয়র নির্বাচনেও দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ১.২% ভোট পেয়েছে।

মিস ফ্রানসেনকে টুইটে অনুসরণ করে ৫২ হাজার লোক।

মূল ভিডিওটি প্রথমে শেয়ার করেন আমেরিকার রক্ষণশীল একজন ভাষ্যকার অ্যান কুলটার যাকে ফলো করেন মি: ট্রাম্প।

মি: ট্রাম্প এই টুইট শেয়ার করার পর মিস ফ্রানসেন খুবই উৎসাহের সঙ্গে তার উত্তর দেন। তার অ্যাকাউন্টে মিস ফ্রানসেন লেখেন : ''এই ভিডিওগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে নতুন করে আবার টুইট করেছেন এবং তার ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৪০ লক্ষ।''

''ট্রাম্প ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন! ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!" তিনি লেখেন।

এই বার্তাটি ব্রিটেন ফার্স্টের টুইটার অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়।

এ মাসের গোড়ার দিকে বেলফাস্টে দেওয়া এক ভাষণে হুমকি দেওয়া, এবং অপমানকর ভাষা ব্যবহার এবং আচরণের জন্য মিস ফ্রানসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

১৪ই ডিসেম্বর বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

তার উস্কানিমূলক ভিডিওগুলো মি: ট্রাম্প আবার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংসদ সদস্য জো কক্সকে চরম দক্ষিণপন্থী এক ব্যক্তি হত্যা করে এবং হত্যার আগের মুহূর্তে ''ব্রিটেন ফার্স্ট'' বলে ধ্বনি দেয়। জো কক্সের স্বামী ব্রেনডান কক্স মি: ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক পিয়ের্স মরগ্যান যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ''বন্ধু'' বলে অভিহিত করেন তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন : ''আপনি এটা কি কাণ্ড করছেন?''

''আপনার এই পাগলামো বন্ধ করুন এবং নতুন টুইটবার্তাগুলো সরিয়ে ফেলুন,'' তিনি বলেন।

ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল ব্রিটিশ সরকারকে এসব মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

''আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তার উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ ও বিষাক্ত মুসলমান বিরোধী প্রচারণাকে যে স্পষ্টভাবে অনুমোদন করেন এটা তারই প্রমাণ,'' কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন।

বিষয়টি ব্রিটেনের সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং বিরোধী লেবার এমপি ইভেট কুপার মি: ট্রাম্পের পদক্ষেপকে নিন্দা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

হিন্দু জাতিটা হচ্ছে বর্বর পিশাচ শ্রেণীর জাতি

আপনারা জানেন ইন্ডিয়ার বর্তমান উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রি বিজেপি নেতা কুখ্যাত হিন্দু আদিত্যনাথ এক সমাবেশে তার দলের লোকদের বলেছিল,
"মুসলমান মহিলাদের লাশ কবর থেকে তুলে ধর্ষন কর।" নাউযুবিল্লাহ !
(ইউটিউব লিঙ্ক- https://m.facebook.com/story.php…)
আসলে এই হিন্দু জাতিটা হচ্ছে বর্বর পিশাচ শ্রেণীর জাতি। এদের মন, চিন্তা, চেতনা সবই চরম পৈশাচিক, বিকৃত এবং অশ্লীল। যেকারনে হিন্দুরা নিজেদের মা, মেয়ে, বোন, মামী, চাচীর সাথেও যৌন সম্পর্ক তৈরী করতে কুন্ঠিত হয় না। যেহেতু এরা ধর্মগত ভাবেই পিশাচ শ্রেনীর সেকারনে মুসলমান মহিলাদের লাশকেও ধর্ষনের কথা বলা এদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে।
কতটুকু বর্বর এবং পৈশাচিক মনোভাব হিন্দুদের সে বিষয়ে কিঞ্চিৎ ধারনা অর্জন করা দরকার। নিম্নের সংবাদটি মন দিয়ে পড়ুন-
আসামে ধর্ষণ উৎসব!
নভেম্বর ৮, ২০১৩
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের আসামে ‘বার্ষিক ধর্ষণ উৎসব’ নামে একটি অদ্ভুত অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। শিগগিরই তথাকথিত এই উৎসব শুরু হচ্ছে। ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল মেয়েকে হয় এলাকা ছেড়ে পালাতে হবে, নইলে ধর্ষিত হতে হবে।
মধুবন আহলুওয়ালিয়া এই বার্ষিক উৎসবের প্রধান। তিনি এই উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামে কয়েক হাজার বছর ধরে এই অনুষ্ঠান চলে আসছে। আমরা ধর্ষণ করে মেয়েদের মধ্য থেকে অশুভ দানবীয় আত্মাকে বিতাড়িত করি, নইলে এই মেয়েরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে এবং আমরা তাদের হত্যা করতে বাধ্য হবো।’
আসাম ধর্ষণ উৎসব শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩ অব্দে। এ সময় বালকৃশাণ তামিলনাড়ু তার দুমদুমা গ্রামের সবাইকে ধর্ষণ করেন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়। প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি ধর্ষণকারীকে সেরা ধর্ষক হিসেবে বালকৃশাণ শিরোপা দেয়া হয়। ২৪ বছর বয়সী হরিকৃষ্ণ মজুমদার উৎসবের শিরোপা লাভের জন্য সারা বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি এ বছর সবচেয়ে বেশি মেয়েকে ধর্ষণের জন্য শিরোপা লাভ করতে যাচ্ছি। আমি সারা বছর এজন্য অনুশীলন করেছি। আমি প্রতিদিন আমার বোন ও তার বন্ধুদের ধর্ষণ করি। আমি হবো ধর্ষণের এক নম্বর সুপারস্টার। আমি এ বছর নিশ্চিতভাবে বালকৃশাণ ট্রফি জিতব।
১২ বছর বয়সী জয়তাশ্রী মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছে, ‘আমি গত বছর অনুষ্ঠানকালে ধর্ষণ থেকে অল্পের জন্য রেহাই পাইনি। শহরের প্রান্তভাগে ধর্ষণমুক্ত এলাকায় আমি ঢুকে যাচ্ছিলাম। এমন সময় নয় ব্যক্তি আমার ওপর লাফিয়ে পড়ে আমাকে ধর্ষণ করে। সৌভাগ্যবশত আমি সেরে উঠেছি। যাতে এ বছরের ধর্ষণযজ্ঞে আমি অংশ নিতে পারি। নইলে আমাকে ওরা পাথর ছুড়ে হত্যা করবে।"
দেখলেনতো , ধর্ষণ করার জন্য এরা একটা উৎসবই পালন করে। রীতিমত প্রতিযোগিতা করে থাকে। কারন তাদের দেবতারাও এসব করতো। সূতরাং এসকল বর্বর পিশাচ নাপাক হিন্দু মালাউনদের মুখে এধরনের কথাই শোভা পায়। রুচিশীল মানবজাতির উচিত এখুনি হিন্দুদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সভ্যজগৎ থেকে বের করে দেয়া। "

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

শুধু আফসোস!! আর দুঃখ লাগে!! আমরা এটাই বলে দোয়া করি। هداهم الله جميعا.


সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের ইসরাইলপ্রীতি মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিচ্ছে। তাঁর উদার ভালোবাসার বদৌলতে গত সপ্তাহে সৌদিআরবে অনুষ্ঠিত একটি যুব সম্মেলনে ইসরাইল থেকে এসেছিলেন ইহুদি ব্লগার বিন তিসইউন। শুধু রিয়াদ কিংবা জেদ্দা নয়, বরং বেশ আমেজে এই ইহুদি ঘুরে গেছেন মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববি থেকে। অথচ যুগ যুগ ধরে অমুসলিমদের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ সেখানে। 
ফুরফুরে মেজাজে ইহুদি এই তরুণ সৌদিআরবের পতাকা গায়ে জড়িয়ে তলোয়ার হাতে স্থানীয়দের সঙ্গে নাচ-গানে অংশ নিয়েছেন, সৌদি যুবতীদের সঙ্গে ছবি তুলে তাদের অতি রূপবতী ও সুন্দরী হিসেবে বর্ণনা করেছেন নিজ ইনস্টাগ্রামে। সৌদিআরব ও ইসরাইলের এমন প্রীতি ও ভালোবাসার এই তো মাত্র শুরু!
উদার হতে চলা সৌদিআরবের নতুন এই পালাবদলের হাওয়ায় উৎসবের বন্যা বইছে ইসরাইলে। এর প্রমাণ মেলে গত সপ্তাহে যখন ইসরাইলের একজন মন্ত্রী সৌদিআরবের গ্র্যান্ড মুফতিকে ইসরাইল সফরের আমন্ত্রণ জানালেন। কারণ, সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অবৈধ হিসেবে ফতওয়া দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর গত পরশু ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী যখন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদিআরবের সঙ্গে তাঁদের গোপন সম্পর্ক রয়েছে, তখন বোঝা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনকে গলা টিপে হত্যার সব আয়োজন স্বয়ং তদারকি করছেন যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান।
সৌদিআরব আমাদের নয়, এটি আলেসউদের সম্পত্তি। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলবার নেই। কিন্তু মক্কা-মদিনা আমাদের, এক ইসরাইলি ইহুদি কেন এবং কার ছত্রছায়ায় ঢুকে গেল এই সীমানায়- জানতে চাওয়ার অধিকার রয়েছে আমাদের।
নিউজের সত্যতা বা লিংক জানতে চেয়ে কেউ বিরক্ত করবেন না আশা করি। ইনস্টাগ্রামে (ben.tzion) লিখে ওই তরুণের একাউন্টে গেলে তাঁর ছবি ও বর্ণনা দেখতে পারবেন। আমার এখানে নয়।
সূএঃ তামিম রায়হান

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

তাবলীগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হয়েছেন দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজের মুরব্বি (আমির) মাওলানা সাআদ কান্ধলভী।


Emran Hossain Adib
তাবলীগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হয়েছেন দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজের মুরব্বি (আমির) মাওলানা সাআদ কান্ধলভী।
উদ্যোগ হিসেবে তিনি শুরুতেই তাবলীগের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি হজরতজি মাওলানা ইবরাহিম দেওলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
জানা যায়, ২২ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় মাওলানা ইবরাহিম দেওলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মাওলানা সাদ। এ সময় তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে তাকে দিল্লির মারকাজ মসজিদে আসার অনুরোধ করেন।
মাওলানা সাদ কান্ধলভী ইবরাহিম দেওলাকে অনুরোধ করে বলেন, হজরত বুখারী শরিফ আপকে লিয়ে এনতেজার কর রাহে হে, আপকে কামরা এনতেজার কর রাহে হে। (বুখারী শরিফ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, আপনার রুম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
সাক্ষাতে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একজন আওয়ার ইসলামকে ভয়েজবার্তায় জানান, মাওলানা সাদ কান্ধলভীর আগমনে এসময় পুরো রুমে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত সবার মধ্যে অন্য রকম চাঞ্চল্য দেখা যায়।

হজরতজি মাওলানা ইবরাহিম দেওলা মাওলানা সাদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভাই মেরে লিয়ে দোয়া করো। (ভাই আমার জন্য দোয়া করো)
উল্লেখ্য, হজরতজি মাওলানা ইবরাহিম দেওলা এক সময় নিজামুদ্দীন মারকাজ মাদরাসার বুখারী শরিফের উস্তাদ ছিলেন। দীর্ঘ জীবন তিনি দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সঙ্গে নিজেকে কুরবানী দিয়ে আসছেন। তিনি তাবলীগ জামাতের মুরব্বি এবং হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর দৌহিত্র মাওলানা সাদের একাধিক কিতাবের উস্তাদ।
দিল্লির নিজামুদ্দীনে শূরা নিয়ে সঙ্কট শুরু হলে তিনি মারকাজ থেকে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় এক বছর তিনি মারকাজের বাইরে থাকায় তাবলীগের সাথীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
তবে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর গতকালের সাক্ষাৎ নিয়ে নিজামুদ্দীনে চলমান সঙ্কট নিরসন হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন মুরব্বিগণ।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী শুক্রবার রাতে তাবলীগের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি মাওলানা আহমদ লাটের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ভোপাল সফর করবেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভারতের শীর্ষ মুরব্বিদের সঙ্গে ধারাবাহিক এ সাক্ষাৎ চালু থাকবে বলেও জানা গেছে।
দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজ থেকে মাওলানা সাদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, মাওলানা সাঈদ, মাওলানা ইউসুফ, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা আবদুস সাত্তার, মাওলানা শওকত আলী, মুফতি শাহাজাদ, ভাই মুরসালিন ও ভাই হারুন প্রমুখ।
তাবলীগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম দীর্ঘ দিন ধরেই নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে ধারাবাহিকতায় একাধিকবার আলেমগণ তাবলীগের মুরব্বিদের কাছে চিঠিপত্র আদান প্রদান করেছেন। একাধিক ঘরোয়া বৈঠকও করেছেন উভয় পক্ষ।

গত ২৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় বিষয়টি নিয়ে কাকরাইলের শূরার সদস্য ও শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঙ্কট নিরসনে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। গঠন করা হয় ৫ সদস্যের কমিটিও।
এছাড়াও গত ১১ নভেম্বর উত্তরায় উলামা মাশায়েখ পরামর্শ সভার আয়োজন করেন আলেমগণ। সেখানেও তাবলীগের চলমান সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য তাগিদ পেশ করেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা হজরত।
গত ১৬ নভেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় তাবলীগের শূরার সদস্য ও আলেমদের বৈঠক। বৈঠকে শীর্ষ পাঁচ আলেমকে তাবলীগের উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।
উপদেষ্টাগণ হলেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি ও জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগের মুহাতামিম আল্লামা আশরাফ আলী, মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমির মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ও মিরপুর মারকাযুদ দাওয়া’র আমিনুত তালিম মাওলানা আবদুল মালেক।
ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের আলেমদের ইতিবাচক এসব প্রচেষ্টা দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজে প্রভাব ফেলেছে এবং সেখান থেকেই মাওলানা সাদ সঙ্কট নিরসনে শীর্ষ মুরব্বিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন।


রবার্ট মুগাবের বিদায়: ইতিহাসের পরিহাসমূলক পুনরাবৃত্তি


রবার্ট মুগাবের আকস্মিক প্রস্থানে আবারও বিশ্ববাসী দেখল, ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। উন্নয়নশীল দেশের মানুষ আরেকবার উনিশ শতকের ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের জনপ্রিয় ‘প্যাট্রিয়ট’ কবিতার প্রথম পঙ্‌ক্তি ‘দাজ আই এন্টার্ড অ্যান্ড দাজ আই গো’ উচ্চারণ করবেন। কবি দেশপ্রেমিক নগরীতে পুষ্পবর্ষণের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরে কর্মদোষে তাঁকে ইষ্টক বর্ষণের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের ষাট ও সত্তর দশকের বর্ণাঢ্য স্বাধীনতাসংগ্রামের একদা নন্দিত নায়ক রবার্ট মুগাবে, যিনি ধীরে ধীরে নিজেকে স্বৈরশাসকে পরিণত করেছিলেন, তাঁর দুঃখজনক অথচ প্রত্যাশিত পতন ঘটেছে।
এটা দেখার বিষয় যে যথাসময়ে যথোচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে ব্যক্তি শুধু নয়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলকেও লজ্জাজনক খেসারত দিতে হয়। জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দল তাদেরই সৃষ্টি করা স্বৈরশাসককে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল। সেই ঘাটতি পূরণ করেছে সামরিক বাহিনী। মুগাবের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের পরই কেবল ক্ষমতাসীন দলটি তাদের তিন দশকের অবিসংবাদিত নেতাকে বহিষ্কার করেছে এবং পদত্যাগ না করলে তাঁকে অভিশংসনের হুমকি দিয়েছিল।
মুগাবের এই করুণ পরিণতি তাঁর সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনতার কাছে নিশ্চয় একদিন অচিন্তনীয় ছিল। কিন্তু গণতন্ত্রের মাথা খেয়ে মুগাবে নিজেকে ‘অপরিহার্য’ তৈরি করেছিলেন। ক্ষমতার দর্পে ও নেশায় তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি তাঁর দলের লোকের স্তুতি ও চাটুকারিতায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বুঝতেই পারেননি যে দলের কাছে কবে তিনি বোঝায় পরিণত হয়েছেন।
জীবনসায়াহ্নে মুগাবে ক্ষমতাভোগের উত্তরাধিকার একতরফাভাবে নির্দিষ্ট করতে গিয়ে অঙ্কে গরমিল করে ফেলেছিলেন। ৯৩ বছর বয়সী মুগাবের দৃশ্যত শেষ ভুল ছিল ক্ষমতার উত্তরাধিকার নির্বাচন। তিনি তাঁর স্ত্রী গ্রেসকে তাঁর স্থানে কল্পনা করেছিলেন। তাই দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন, যিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সামরিক বাহিনীতে জনপ্রিয়, তাঁকে তিনি বহিষ্কার করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তই তাঁর জন্য কাল হয়।
আমরা আশা করব, দেশটির সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ক্রান্তিকাল অতিক্রমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। কারণ, নির্বাচিত স্বৈরশাসকের পরিবর্তে সামরিক স্বৈরশাসন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানকার গণতন্ত্রকামী জনগণও তা বরদাশত করবে না। তবে মনে হচ্ছে দেশটিকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ, এমারসন কতটা কর্তৃত্বপরায়ণমুক্ত হবেন, তা পরিষ্কার নয়। তবে ইতিহাসের শিক্ষা বিবেচনায় নিয়ে গণতন্ত্র ও জনগণের ইচ্ছার প্রতি দেশটির নতুন শাসকগোষ্ঠী সম্মান দেখাবে, সেটাই প্রত্যাশিত।

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

নবীদের দোয়া


এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই।


এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেনা এই চিহ্নের মানেটা কি?এর পেছনে একটি অন্ধকার অতীত রয়েছে। এটিকে ড্যাব (DAB) সাইন বলা হয়। এর পূর্ণরূপ Devils are bright যার অর্থ অনেকটা এররকম দাড়ায়-"শয়তানেরা চির উজ্জল"(নাউজুবিল্লাহ) এটা সাতানিসম বা শয়তানের পূজা কে প্রমোট করে।জঘন্যতম শিরকের একটি এটি। কারন এই চিহ্ন দ্বারা শয়তানকে সিজদাহ করা বোঝানো হয়। এটা আল্লাহ্-তায়ালাকে সিজদাহ করার বিপরীত। বর্তমানে তারকা খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে অনেকেই এই চিহ্নের অনুকরণ করছে। এটাকে ফান হিসেবে দেখছে। কিন্তু এই কাল ফান আপনার জাহান্নামে যাওয়ার কারন হতে পারে! এমনও হতে পারে এটি ইলুমিনাতি (Illuminati) বা শয়তানের পূজারিদের দ্বারা মুসলিমদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ছড়ানো। অনেক স্বনামধন্য তারকাদেরই এই দলের অন্তর্গত বলে ধরা হয়। সৌদিআরবে এই সাইন শো করা আইনগত দন্ডনীয়।  একটাই অনুরোধ,না জেনে বুঝে কিছু অনুকরণ করতে যাবেন না। শেষে ক্ষতিটা হয়তো আপনারই হবে। ভালো থাকুন,ভালো রাখুন আর জেনে বুঝে কাজ করুন।


আসামে ৫০ লক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির বর্তমান সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷


আসামে ৫০ লক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির বর্তমান সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷ ২৭ লক্ষ মুসলমানদের নাগরিকত্ব বাতিল করে কার্যত আসামকে মিয়েনমারের মতো বানানোর নীলনকষা আঁকছে বিজিপি সরকার৷ রুহিঙ্গাদের পরিণতির পথে ফেলে দিতে আসামের রাজ্য সরকার পায়তারা অব্যাহত রেখেছে৷ 

আসামের মুসলিদের কি হবে? তারা কোথায় যাবে? ওদেরকে বলা হচ্ছে তারা বাংলাদেশী৷ রোহীঙ্গাদের মতো তাদেরকেও কি জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে, না কি গলা টিপে হত্যা করা হবে? পৃথিবীতে আর কতো মুসলিমকে শরণার্থী হতে হবে?
ভারতে গরু জবাই করলে বিচার হয়৷ অথচ, ভারতের উগ্র হিন্দুদের হাতে মুসলমানগণ অহরহ সাম্প্রদায়িক হামলা, নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন৷ ক্ষমতাশীল দল ও খোদ কসাই প্রধানমন্ত্রী-ই এসব হামলার ইন্দন ও নির্যাতনের সাথে অনেকটা জড়িত৷ এসবের সুষ্ঠু কোনো বিচার হচ্ছেনা৷ মুসলিমগণ প্রতিনিয়ত নির্যাতন ভোগ করছে৷ অপরদিকে, ভারত আমাদের স্বাধীন দেশের সিমানার ভেতরেও বিভিন্ন সমস্যা তৈরিতে লিপ্ত৷ তারা বারবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে অশান্তি লাগিয়ে রাখছে৷ 
আসামের মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ভারতীয় মুুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন ও মহান নেতা আওলাদে রাসূল আল্লামা আরশাদ মাদানী ইতোমধ্যে ভারকারের সামনে কঠোর হুসিয়ারী উচ্চারন করেছেন৷ আমাদেরকেও চোখ কান খোলা রাখতে হবে৷


রাস্তা-ঘাটে, অলি-গলিতে চক্কর দিয়ে ঘোষক ঘোষনা করছে। ঘোষক উচ্চকন্ঠে বলে চলছে-


যে ব্যক্তি বিয়ে করতে চায়, তাকে আমরা বিয়ে করিয়ে দেবো।

যে ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করতে চায়, তাকে আমরা ঘর নির্মাণ করে দেবো। 
যে ঋণগ্রস্থ, ঋণ পরিশোধ করতে পারছেনা; তার ঋণ আমরা পরিশোধ করে দেবো। 
যে ব্যক্তি হজ্জ বা ওমরা করতে চায়, তাকে আমাদের খরচে হজ্জ বা ওমরা করাবো।
.
দুঃখিত, এই কথাগুলো এ যুগের নয়। এই কথাগুলো এ যুগের এমন কেউ বলেনি; যে যুগে মুসলিম দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস, তেল, পেট্রল ইত্যাদি খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। এই কথাগুলি এমন যুগের কারও নয়, যে যুগে মুসলিম বিত্তশালীরা বিলাসবহুল গগনচুম্বী অট্রালিকায় শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় আয়েশ করে। যে যুগের ধনীরা শুধু ধনী হতে থাকে, আর দরিদ্ররা আরও দরিদ্র।বরং কথাগুলো আজ থেকে প্রায় সাড়ে তেরো শত বছর পূর্বে খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. বলেছেন।
.
কথাগুলো ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. -এর কাছে যখন লোকেরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাকাত এর মাল নিয়ে আসলো, তখন বলেছিলেন। তিনি লোকদের সম্বোধন করে বলেছিলেন- এই মাল ফকিরদের মধ্যে বিতরন করে দাও। 
 মুসলিম উম্মাহর মাঝে কোনো ফকির নেই!
তাহলে এই মাল দিয়ে মুজাহিদ বাহিনীদের রণসাজে সজ্জিত করে দাও। 
মুজাহিদ বাহিনীগুলো তো সারা পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে!
তাহলে এই মাল দিয়ে যুবকদের বিয়ে করিয়ে দাও। 
-বিবাহেচ্ছুকদের বিয়ে করিয়ে দিয়েছি, এরপরও মাল রয়ে গেছে! 
-তাহলে এই মাল দিয়ে ঋণগ্রস্তদের ঋণ আদায় করে দাও।
-আদায় করে নিয়েছি, কিন্তু এরপরও মাল রয়ে গেছে! 
-তাহলে দেখো কোনো ঋণগ্রস্থ ইহুদী/খৃষ্টান পাও কি না, পেলে ঋণ আদায় করে দাও।
-করে দিয়েছি, কিন্তু তারপরও মাল রয়ে গেছে! 
-তাহলে এই মাল আহলে ইলমদের দিয়ে দাও।
-দিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তারপরও মাল রয়ে গেছে! 
.
.
এবার ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. বললেন- তাহলে এই মাল দিয়ে গম কিনে পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় ছিটিয়ে দাও, যাতে এই কথা বলা না হয় যে, মুসলমানদের দেশে পাখ-পাখালিরা উপোষ রয়েছে!!! 
.
.
.
সূত্র- (কিতাবুল আমওয়াল, ৬২৫-৬৩৬। ইমাম আবু উবাইদ ক্বাসিম ইবনে সাল্লাম রাহ.)


ওসমানী খিলাফতকালে প্রতিটি ঘরের দরোজায় দু'টি কড়া থাকতো।


ওসমানী খিলাফতকালে প্রতিটি ঘরের দরোজায় দু'টি কড়া থাকতো। একটি ছোট, আরেকটি বড়। যখন ছোট কড়াটি নাড়ানো হতো, বুঝা যেতো যে, আগন্তুক একজন মহিলা। তখন গৃহকর্ত্রী এসে দরোজা খুলে দিতো। আর যখন বড় কড়াটি নাড়ানো হতো, বুঝা যেতো যে, আগন্তুক একজন পুরুষ। তখন গৃহকর্তা এসে দরোজা খুলে দিতো।
.
.
যখন কোনো ঘরে কেউ অসুস্থ হতো, তখন ঘরের দরোজার উপর লাল গোলাপের তোড়া রেখে দেয়া হতো। যাতে করে দরোজার সামন দিয়ে অতিকক্রমকারী গাড়ি, পণ্যবিক্রেতা ও চলাচলকারী ব্যক্তি বুঝতে পারে যে, ঘরে কেউ অসুস্থ আছে, তাই জোরে কোনো শব্দ না করে।
.
.
খিলাফত হারিয়ে কেমন অভিশপ্ত জীবনের ভাগীদার হলাম আমরা! কোন সে ফিরদাউস হারালাম! মানবতাবোধের কোন সে স্বর্ণকাল বিদায় নিলো আমাদের থেকে! কতইনা সুখের ছিলো সে যুগ! কতইনা শান্তির! কত সভ্য! সুন্দর! কত পবিত্র! আহ!!! বদনসিব এই উম্মাহর!!! 
.
.
.
সূত্র- আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (قصص و عبر) হতে অনূদিত।


শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ


ছবিটির ডানপাশে যে মহান মনীষীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি হলেন শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ.। ওসমানী খিলাফতে তাঁর লক্বব ছিলো 'শাইখুল ইসলাম'। তিনি সেসকল হাতেগুনা আলেমদের একজন ছিলেন, যাঁরা শুরুলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতার জনক বে-ঈমান আতাতুর্কের ইসলাম বিদ্বেষী ষঢ়যন্ত্র ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এমনি এক কঠিন পরিস্থিতিতে, যখন বেশিরভাগ মানুষ; এমনকি আলখেল্লাধারী আলেমগন পর্যন্ত আতাতুর্কের প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন!
.
.
যখন তিনি আতাতুর্কের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড দেখতে পেলেন, এক ঐতিহাসিক কিতাব রচনা করলেডন 'আন-নাকীরু আলা মুনকিরীন নি'মাতি মিনাদ দ্বীন ওয়াল খিলাফাহ ওয়াল উম্মাহ' নামে। উক্ত কিতাবে তিনি একটি কথা বললেন -"যারা আমাদের দেশে রাজনীতিকে দ্বীন থেকে মুক্ত করে নিয়েছে এবং তারা ওলামায়ে কিরামের জন্য রাজনীতি চর্চাকে অপছন্দ করে এই দলিলের ভিত্তিতে যে, এ রাজনীতি ওলামায়ে কিরামের জন্য অসমীচীন ও মানহানিকর, তারা মূলতঃ রাজনীতির অবমূল্যায়ন করতে চায় ও রাজনীতিকে একমাত্র তাদের জন্য কুক্ষিগত করে রাখতে চায়! তারা ওলামায়ে কিরামদের ধোঁকা দিতে চায় এবং অথর্বদের কাতারে দাঁড় করিয়ে রাখতে চায়, যাতে আলেমরা তাদের হস্তচুম্বন করে! তারা বুঝাতে চায় যে, আলেমরা সম্মানী, অতঃপর তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে জনগণ ও দ্বীনের ব্যাপারে!"
.
.
বাম পাশর ছবির দিকে তাকান। পাগড়িওয়ালা আলখেল্লাধারী বয়োবৃদ্ধ শাইখ! আতাতুর্কের দরবারী ভাড়াটে আলেম! এদের মাধ্যমে আতাতুর্ক তুরষ্কে প্রথমে তার ভীত মজবুত করছিলো। অবশেষ টয়লেট পেপারের মতো ছুঁডড়ে ফেলে তাদের শাহরগ চেপে ধরেছিলো। শেষ রক্ষে দেয়নি তাদেরও! 
.
.
শাইখ মুস্তফা সাবরী রাহ. - আতাতুর্ক ও তার সমর্থক জনগনের তোপের মুঝে পড়েছিলেন। কিন্তু তারপরও বলেছিলেন, আলেমদের দায়িত্ব নয় জনসমর্থন আদায় করা এবং ক্ষমতাধরদের মন যুগিয়ে চলা, বরং আলেমদের দায়িত্ব হলো সত্যকে উন্মোচন করে দেয়া।
.
.
সূত্র- (تاريخ الدولة العثمانية) হতে অনূদিত।


আজও সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা.


আপনি কি জানেন যে, আজও সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. -এর একটি একাউন্ট রয়ে গেছে?! আপনি কি উসমান ইবনে আফফান টাওয়ারের কাহিনী জানেন, বর্তমানে যেটি মসজিদে নববীর পাশে নির্মাণাধীন?! সেখানে কি আজও উসমান বিন আফফান রা. - এর বংশধররা রয়ে গেছে, যাঁরা তাঁর নামে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করছেন?! ইহা এক লোমহর্ষক কাহিনী! তাহলে শুনা যাক-
.
মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর যখন দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো, ততবেশি পানিরও প্রয়োজন বাড়তে থাকলো। মদীনায় যে কূপ থেকে সবচেয়ে বেশি পানি সরবরাহ করা হতো, তার নাম ছিলো রূমা কূপ। কিন্তু এই কূপটি ছিলো একজন ইহুদীর। ইহুদী অত্যন্ত শক্তদিলের আদমী ছিলো। সে একফোঁটা হলেও পানিকে বিক্রি করতো! 
.
হযরত উসমান রা. - বিষয়টি জানতে পারলেন। তিনি ইহুদীর কাছে এসে কূপটি বিক্রয় করার আবেদন করলেন। কিন্তু ইহুদী তা প্রত্যাখ্যান করে বসলো। তিনি কূপের অর্ধেক বিক্রয় করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। এভাবে যে, কূপটি পালাক্রমে একদিন তাঁর মালিকানায় থাকবে। আরেকদিক ইহুদীর। আর ইহুদী তার মালিকানার দিন পানি বিক্রি করবে। এবার ইহুদী সম্মতি প্রকাশ করলো। কারণ, সে মনে করে করলো, এবার আগের চেয়ে ক্রেতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আবার অর্ধেক কূপের দাম তো পকেটেই আছে! কিন্তু ঘটলো তার বিপরিত। পানি বিক্রির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলো! একজনও ক্রেতার খবর নাই! ইহুদীর আশ্চর্যেরও সীমা নাই! ইহুদী অনুসন্ধান করে জানতে পারলো যে, উসমান রা. - তাঁর মালিকানাধীন অর্ধেক কূপ মানুষের জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। মানুষেরা তাঁর মালিকানার দিন ফ্রি তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি নিয়ে যায়, তাই তার (ইহুদীর) মালিকানার দিন আর প্রয়োজন পড়েনা! ইহুদীর তো মাথায় হাত! সে তড়িৎ উসমান রা. - এর কাছে গিয়ে পুরো কূপটি খরিদ করে নেয়ার অনুরোধ করতে লাগলো। তিনি ২০ হাজার দিরহামের বিনিময়ে পুরো কূপটি কিনে নিলেন। পুরোটাই আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিলেন।
.
কিছুদিন পর তাঁর কাছে একজন সাহাবি আগমন করে দ্বিগুণ মূল্যে কূপটি খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. - বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, কিন্তু আমি দেইনি। ঐ সাহাবি তিনগুণ মূল্য দিয়ে খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. - বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য পেশ করা হয়েছে এ, তবুও আমি দেইনি। এবার ঐ সাহাবি আশ্চর্য হয়ে বললেন, এরকম চড়ামূল্য দিয়ে ক্রেতা আমি ব্যতিত আর কাউকে পাবেননা আপনি! উসমান রা. - বললেন, ভালো কাজের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ আমাকে দশগুণ দান করবেন! 
.
উসমান রা. - কূপটি ওয়াকফ করে দিলেন। কিছুদিনের মধ্যে কূপের আশেপাশের খেজুরগাছগুলো খুব দ্রুত বাড়তে লাগলো। কালের আবর্তে হয়ে গেলো এক বিশাল খর্জুর বিথিকা। এভাবে আসলো উসমানী খিলাফাহর যুগ। উসমানী খিলাফাহ বাগানটাকে খুবই পরিচর্যা করলো। উসমানী খিলাফাহর পতনের পর আসলো সৌদি সরকারের আমল। সৌদি সরকার বাগানটির আরও যত্ন নিলো। এমনকি বাগানের খেজুর গাছের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৫৫০-এ!
.
সৌদি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় একটি প্রসংশনীয় অবস্থানে উত্তীর্ণ হলো। কৃষি মন্ত্রণালয় বাগানের আহরিত খেজুর আরব সহ বিশ্ববাজারে রফতানি করে বিরাট লাভের অধিকারী হতে লাগলো। লাভের অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের জন্য ব্যয় করতে লাগলো আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. এর নামে একাউন্ট খুলে সঞ্চিত করতে শুরু করলো। একাউন্ট পরিচালনা করতে লাগলো স্বয়ং সরকারী মন্ত্রণালয়।
.
এভাবে লাভ শুধু বাড়তেই থাকলো বাড়তেই থাকলো। একসময় একাউন্টে এমন পরিমাণ সম্পদ সঞ্চিত হলো যে, যা দিয়ে মসজিদে নববীর পাশেই সদর এলাকায় একটা জমি কেনা যাবে। অতঃপর মসজিদে নববীর পাশেই একটি জমি কিনে 'উসমান ইবনে আফফান রা. - টাওয়ার' এর কাজ শুরু হলো ঐ লাভ থেকেই। বর্তমানে টাওয়ারের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। অচিরেই টাওয়ারটি টাওয়ার কমিটিকে পাঁচটি মেয়াদে ভাড়া দেয়া হবে। বার্ষিক ভাড়া আসবে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রেয়াল! অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের একাউন্টে, আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. - এর একাউন্টে।
.
খুশির বিষয় হচ্ছে, যে জমিতে টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জমিকে চিরস্থায়ীকালের জন্য 'উসমান ইবনে আফফান রা. - এলাকা' নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে! 
.
আল্লাহু আকবার! ইহা আল্লাহ তা'লার সাথে ব্যবসার ফল! যে ব্যবসা ১৪ টি শতাব্দীকাল ধরে চলমান!! জানিনা উসমান রা. - এর আমলনামায় লিখিত পূণ্যের পরিমাণ কতটুকু?! 
.
.
সুত্র- আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (قصص و عبر) হতে অনূদিত।

ওসমানী খিলাফাহর স্বর্ণকণিকা

খেয়ে ফেলেছি মসজিদ'! কী- অবাক হলেন?! ভাবছেন- এ আবার কোন নাম হল?! অবাক হওয়ার কিছু নাই। বাস্তবেই এটি একটি মসজিদের নাম। পৃথিবীর ইতিহাসে মসজিদের সবচে' আনকোরা নাম। তুরষ্কের ইস্তাম্বুলের 'ফাতিহ' নামক এলাকার একটি ছোট্ট জামে মসজিদের নাম। তুর্কি ভাষায় মসজিদটির নাম -'সানকি য়াদম'। অর্থ- 'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি'। এই আনকোরা নামের পেছনে একটি চমকপ্রদ কাহিনী রয়েছে। চলুন তাহলে শোনা যাক-
ইস্তাম্বুলের 'ফাতিহ' নামক এলাকায় 'খাইরুদ্দীন আফেন্দি' নামের একজন দরিদ্র- মুত্তাক্বি ব্যক্তি ছিল। সে যখন বাজারে যেত ফল, গোস্ত, মিষ্টি ইত্যাদি খরিদ করার জন্য; তখন নিজের আগ্রহকে সামলে নিতে মনে মনে বলত- 'সানকি য়াদম' বা 'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি'। অতঃপর পকেটের টাকা পকেটে নিয়েই বাড়ি ফিরত! টাকাগুলো একটি সিন্ধুকে সঞ্চিত করে রাখত। এভাবে তার আর মনের খুশিমতো ফল, গোশত, মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়া হতোনা। বরং 'সানকি য়াদম' বলে মনে মনে খেয়ে সিন্ধুকে রাখা হতো! 
.
.
দিন যায় রাত আসে, রাত যায় দিন। সপ্তাহ গড়িয়ে বছর, বছর পেরিয়ে যুগ। কালের ক্রমান্বয়ে টাকার হারও বাড়তে থাকল সিন্ধুকে। এভাবে একদিন দেখা গেল যে, সিন্ধুকে বেশ কিছু টাকা সঞ্চিত হয়ে গেছে। ঐ দরিদ্র -মুত্তাক্বি ব্যক্তি সঞ্চিত টাকা দিয়ে নিজ মহল্লায় একটি ছোট্ট জামে মসজিদ প্রতিষ্টা করে নিল। অতঃপর যখন মহল্লাবাসী ঐ দরিদ্র- মুত্তাক্বি ব্যক্তির মসজিদ নির্মাণের কাহিনী জানতে পারল, তারা মসজিদটির নাম রেখে দিল -'সানকি য়াদম মসজিদ' বা -'যেমন নাকি খেয়ে ফেলেছি মসজিদ'!!!
.
.
.
সূত্র- (রাওয়াঈ'য়ু মিনাত-তারীখিল উসমানী, পৃষ্টা- ১০০। উরখান মুহাম্মাদ আলী)



দ্যুতিক বাল্বটির গায়ে সাঁটা কাগজে কী লিখা- জানেন?


দ্যুতিক বাল্বটির গায়ে সাঁটা কাগজে কী লিখা- জানেন? বাল্বটির গায়ে সাঁটা কাগজে লিখা-'বিসমিল্লাহ। ইহা প্রথম ল্যাম্প, যাকে মসজিদে নববি-তে স্থাপন করা হয়েছে ১৩২৫ হিজরি সনে। এবং এই তারিখই আরব উপদ্বীপে বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রবেশের দিন।
যখন মুসলিম বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ আসে, তখন ওসমানি খিলাফাহর রাজধানী কন্সটান্টিনোপলের মসনদে ছিলেন সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ। আল্লাহর রাসুল ও পবিত্র হারামাইনের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা ইতিহাসে বিরল। বরং প্রত্যেক ওসমানি সুলতানের এই ভালোবাসা ইতিহাসে বিরল। সবাই যখন সুলতানের প্রাসাদে বিদ্যুৎ লাগানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করল, সুলতান নিজে থামিয়ে দিলেন। রাসুলের মদীনায় বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলার পূর্বে তাঁর প্রাসাদে জ্বলবে -এটা কেমনে হতে পারে?! তার নির্দেশেই ১৩২৫ হিজরি- ১৯০২ সালে প্রথম এই বৈদ্যুতিক বাল্বটি লাগানো হল মসজিদে নববি-তে। সুলতানের রাসুল-প্রেমের নিদর্শন হিসেবে আজও এই বাল্বটি শত বছরেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত আছে।
-
-
সূত্র- ওসমানি সাম্রাজ্য নিয়ে ফেইসবুকের সবচেয়ে তথ্য ও তত্বভিত্তিক আরবি পেইজ (تاريخ الدولة العثمانية) হতে।

শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী(রহ.)- কে দেখিনি, কিন্তু তাঁরই প্রতিচ্ছবি ভারতের বর্তমান মুসলমানদের রাহবর, হযরতুল উস্তায মাওলানা আরশাদ মাদানী(দা.বা.)-


ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের সিপাহসালার শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী(রহ.)- কে দেখিনি, কিন্তু তাঁরই প্রতিচ্ছবি ভারতের বর্তমান মুসলমানদের রাহবর, হযরতুল উস্তায মাওলানা আরশাদ মাদানী(দা.বা.)- দেখে বুঝতে পেরেছি, জালিমের বিরুদ্ধে কীভাবে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে হয়। বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে ভারতের আসাম প্রদেশের ৫০ লাখ মুসলমানকে বাংলাদেশী বলে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে হযরত বলেন, "২০১৪ সাল অবধি ভারতে যতো হিন্দু উড়ে এসেছে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে, অথচ ৪০০ বছর ধরে বসবাসকারী মুসলিমদেরকে বাংলাদেশী বলে তাড়িয়ে দেবে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ১০ বছর পর বলা হবে তোমরা ভারতীয় নও, এটা কখনো মেনে নেবো না। আসামকে দ্বিতীয় মায়ানমার বানানোর অপচেষ্টা চলছে। ৫০ লাখ মানুষকে উচ্ছেদ করলে তারাও তো বসে থাকবে না। জ্বালাও-পোড়াও, মারামারি, হত্যাকাণ্ড ঘটবে।"
.
এই বক্তব্য শোনে মোদীর আরামের ঘুম হারাম হয়েগেছে। কাপুরুষের মতো তথ্যসন্ত্রাস চালাচ্ছে। হলুদ মিডিয়া দ্বারা প্রচার করছে, হযরত নাকি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন! তাই মাদানীর বিরুদ্ধে মামলা কারেঙ্গে, এ্যান কারেঙ্গে, ত্যান কারেঙ্গে। কশাই মোদীর বোধহয় জানা নেই যে, দেওবন্দীরা এসব মামলা-মুকাদ্দমার পরোয়া করেন না। তাঁরা সর্বদা কাফনের কাপড় সাথে নিয়েই চলেন। তবুও জালিমের কাছে মাথা নত করেন না।
(বক্তব্যটির ভিডিও লিঙ্ক, সাথে বিজেপির এক আসামী সাংঘাতিকের মজাদার বিকৃতি...https://youtu.be/h1u9D_abaDA)।


বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৭

সউদী আরবের গ্রান্ড মুফতী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হারাম বলে ফতোয়া দেয়ার খবর স্বার্থান্বেষী মুনাফিক শিয়া-রাফেযীদের অপপ্রচার।


ভিডিও লিংক 

সউদী আরবের গ্রান্ড মুফতী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হারাম বলে ফতোয়া দেয়ার খবর স্বার্থান্বেষী মুনাফিক শিয়া-রাফেযীদের অপপ্রচার।


এক ব্যক্তি লাইভে লেবানন থেকে শায়খকে প্রশ্ন করেছে, আমি লেবাননের হিবুল্লাহ-শিয়া রাফেযীদেরকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতাম। এতে কি গুনাহ হবে?
তখন উপাস্থাপক প্রশ্নকারীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি কি এ থেকে তওবা করেছেন? সঠিক পথে ফিরে এসেছেন? 

প্রশ্নকারী উত্তরে বলে, আমি রাফেযীদেরকে সাহায্য করেছি এই নিয়তে যে, তারা ইজরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এই নিয়তের কারণে কি আমার গুনাহ হবে?

তখন উপাস্থাপক শাইখকে প্রশ্নটি বুঝাতে গিয়ে বলেন,
তিনি প্রশ্ন করছেন যে, তিনি শিয়া রাফেযীদেরকে সঠিক মনে করে তাদেরকে সাহায্য করতেন-যারা দাবি করে যে, তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এখন এই লোক যদি তওবা করে ফিরে আসে তাহলে কি গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে?

শাইখ উত্তরে বললেন: 
যদি অজ্ঞতার কারণে এটি তার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তাওবা নাসূহা করলে হয়ত আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। বিষয়টি খুব ভয়ানক! শিয়া রাফেযী সম্প্রদায়কে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করা নাজায়েয। কেননা, অমুসলিমদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য করা ইসলাম ভঙ্গের একটি কারণ।
তবে আশা করি, তওবা করলে ইনশাআল্লাহ ক্ষমা করবেন। 
--------------------
শাইখের উত্তর থেকে সুষ্টভাবে বুঝা যায় যে, উপস্থাপক আসলে শায়খকে ভালোভাবে প্রশ্নটি বুঝাতে পারেনি। তাই শাইখ মনে করেছেন, প্রশ্নকারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রাফেযী শিয়াদেরকে সাহায্য করতেন। তাই তিনি তাকে তওবা করার কথা বলেছেন এবং বলেছেন, অমুসলিমদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য করা ইসলাম ভঙ্গের একটি কারণ।

এই অসর্তক কথাটাকে মুনাফিক শিয়াপন্থী আর আমাদের বাংলাদেশের কিছু ব্যাঙের ছাতার মত গজানো নিউজ পোর্টালে ভালো ভাবেই ফোকাস করতেছে। (






তাবলীগের চলমান সংকট নিরসনে আজ সকালে যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসায় কাকরাইলের শূরা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


আলহামদুলিল্লাহ ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ 
.
তাবলীগের চলমান সংকট নিরসনে আজ সকালে যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসায় কাকরাইলের শূরা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
.
উক্ত মজলিসে সর্বসম্মতিক্রমে চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ও বিভিন্ন কাজে পরামর্শ দানের উদ্দেশ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাঁচজন আলেমের একটা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি কাকরাইলের বিভিন্ন বিষয়ে জরুরী পৃষ্ঠপোষকতা করবেন।
যখনই কাকরাইলের মুরুব্বীগনের প্রয়োজন অনুভব হবে, অথবা উলামায়ে কেরাম প্রয়োজন মনে করবেন, তখন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ এই উলামা কমিটির সামনে পেশ করবেন এবং তাদের ফয়সালা মেনে নিবেন।
.
মনোনীত ৫ জন আলেম হলেন:

১. আল্লামা আশরাফ আলী দাঃবাঃ
মুহতামিম, জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ ও সিনিয়র সহসভাপতি, কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক।
.
২. আল্লামা মাহমুদুল হাসান দাঃবাঃ।
মুহতামিম, যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসা।
.
৩. আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস দাঃবাঃ
মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা।
.
৪. আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসুদ দাঃবাঃ
খতিব, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
.
৫. মুফতি আব্দুল মালেক দাঃবাঃ
মারকাজুদ দাওয়া মিরপুর।
.
.
আল্লাহ তা'আলা এই সিদ্ধান্তের উপর আমাদেরকে কায়েম ও দায়েম রাখুক এবং উলামায়ে কেরামের সাথে দাওয়াত তাবলীগ সহ দ্বীনের প্রতিটি শো'বার বন্ধনকে আরো মজবুত করুক, চির অটুট রাখুক। আমিন ইয়া আরহামার রাহিমীন।

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

কুকুরের ১০ টি উত্তম স্বভাব হলো-

ইমরান হসাইন আদিব

কুকুরের ন্যয় প্রভু ভক্ত খুব কম প্রানী আছে। এমন অনেক নজির আছে ওরা মনিবের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছে। এক দিন খাবার দিলে পরের দিন লেজ নাড়তে নাড়তে সেই বাড়ির সামনে হাজির হয়।রাতে বাড়ি পাহারা দিতে শুরু করে। কুকুরের এমন ১০ টি গুন আছে যা মানুষের মাঝে থাকলে সে আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয় হয়ে যাবে। 

কুকুরের ১০ টি উত্তম স্বভাব হলো-

১) কুকুর ভুখা থাকে (এটা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট)
২) কুকুরের নির্দিষ্ট বাড়িঘর থাকে না ( যা স্রষ্টার প্রতি নির্ভরশীলতার নিদর্শন)
৩) কুকুর রাতে কম ঘুমায়, জেগে থেকে মালিকের বাড়ি পাহারা দেয় (এটা শেষ রাতে আল্লাহর কাছে কান্না-কাটির       ট্রেনিং হতে পারে)
৪) মৃত্যুর সময় সে কোনো সম্পদ রেখে যায় না( যা আল্লাহর উপর আস্থাশীলদের অভ্যেস)
৫) কুকুর কখনো তার মালিকের সাথে বেইমানী করে না ( যা আল্লাহর নেক বান্দাদের গুণ)
৬) কুকুর অল্প জায়গাতেই সন্তুষ্ট থাকে ( যা ধৈর্যশীলতার আলামত)
৭) কুকুরকে তাড়িয়ে দিলে সাথে সাথে জায়গা খালি করে দেয় ( যা সর্বাবস্থায় আনুগত্যের নিদর্শন)
৮) কুকুরকে মেরে তাড়ানোর পর পূণরায় ডাকলে অভিমান না করে সাথে সাথেই ফিরে আসে( যা সর্বাবস্থায় নির্দেশ পালনের লক্ষণ )
৯) মালিক খেতে বসলে সে দূরে বসে থাকে ( যা সবরকারীদের গুণ)
১০) আর সে যদি কোনো বাড়ি থেকে চলে যায় তাহলে তখন আর পেছন ফিরে তাকায় না

আল কোরআনের চ্যালেঞ্জ ১ম পর্ব


যদি পৃথিবীর সমস্ত মানবকুল ও জ্বীন জাতি একত্রে মিলিয়াও চেষ্টাকরে তবুও কোরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হবে না। এমন চ্যালেঞ্জ কোরআনের [১৭-৮৮] আয়াত এবং আরও কিছু আয়াত দ্বারা করা হয়েছে। 
নাস্তিক, অবিশ্বাসী হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান তথা সমস্ত ইসলাম বিদ্দেশীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণ করার। গ্রহণ করুন একটি গ্রন্থই তো মাত্র। এবং দেখুন কি ভাবে তা রচনা করা সম্ভব তার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো । কোরআনের অনুরূপ গ্রন্থ রচনা করতে হলে একটি মাত্র নিয়ম অনুসরন করতে হবে আর সেটি হলো ১৯ সংখ্যা। দেখুন এই ১৯ সংখ্যাটি কি। নাস্তিক ও অমুসলিম ভাইগণ একটু সময় নিয়ে পাঠ করুন এবং নোট করুন কি ভাবে কোরআন রচনা করা সম্ভব।
যারা কোরআন সম্পর্কে প্রশ্ন করে তাদের জন্য প্রথমেই একটি অতিগুরুত্বপুর্ণ তথ্য। আর সেটি হলো পবিত্র কোরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক মাহাত্ম্য। 
আল-কোরআনে এক অত্যাশ্চার্য সংখ্যাতাত্ত্বিক জটিল জাল পাতারয়েছে যা অতি অভিনব এবং অতিশয় বিস্ময়কর। এটি ১৯ সংখ্যার সুদৃঢ় বুনন। এ সম্পর্কে রায় দিয়েছে সর্বাধুনিক কম্পিউটার। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বে পড়েছে এক বিপুল সাড়া। চুড়ান্ত বিশুদ্ধতায় অত্যান্ত নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত এসেছে আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে আরব ম্রুর এক অক্ষরজ্ঞানহীন উম্মীর উপর অবতীর্ণ কোরআন সম্পর্কে। প্রকাশ পেয়েছে এক বিস্ময়কর ফলাফল – সমস্ত পৃথিবীর মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে পৃথিবীর সমস্ত বয়স জুড়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যেত অনুরূপ একখানি গ্রন্থরচনার উদ্দেশ্যে, তবু তা চিরদিন থেকে যেত সম্ভাব্যতার সীমানা থেকে অনেক বাইরে। কোরআনে যে সব নিয়ম – কানুন-শৃংখলা মানা হয়েছে ,১৯ সংখ্যার জটিল জালকে যেভাবে এটে দেয়া হয়েছে এর মধ্যে-তেমনিভাবে সমশব্দে সম বাক্য সংখ্যায় সমানসংখ্যক অক্ষরে একটি অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের গ্রন্থ রচনার জন্য প্রয়োজন পড়ত ৬.২৬x১০২৬ বছর। তাও আবার একটি মানুষ যদি এইটুকু পরিমাণগত কাজ [ volumetric work ] প্রতিমাসে একটি করে করার ক্ষমতা রাখেন, তার জন্য এই পরিমাপ। 
কত এর মান উল্লিখিত সেপটিলিয়ন সংখ্যাটির? এর পরিমাপ ভাষায় প্রকাশ করা সুকঠিন এবং তা অনুধাবনের অনেক বাইরে। সখ্যাগতভাবে এর প্রকাশ ৬২৬.০০০.০০০.০০০. ০০০.০০০.০০০.০০০.০০০ [ ৬২৬ পর ২৪টি শূন্য ] পাঠকদের নিশ্চয় জানা আছে পৃথিবীর বয়স কত? তা মাত্র ৪৫০.০০০০০০০[৪৫০ কোটি বছর ] জনসংখ্যার হিসাবে পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতি শীর্ষতম। আমরা যদি আজকের দুনিয়ার ৫০০ কোটি মানুষকে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুরূপ একখানি গ্রন্থ লেখার কাজে নিয়োজিত বলে ধরে নেই , তবে উক্ত কম্পিউটার লব্দ ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, মানুষ জাতির এই মহাসম্মিলন প্রসূত কাজের অগ্রগতির মাত্রা মান হবে ৪৫০.০০০০০০০ x ৫০০. ০০০০০০০=২২৫ x ১০
কর্ম-বছর যা সেপটিলিয়ন সংখ্যাটির একশ কোটি ভাগের মাত্র ৩৫ ভাগের সমান; অর্থাৎ পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যার সমান সংখ্যক মানুষ যদি পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে থাকত কোরআনের অনুরূপ কোন গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে তবে ৪৫০ কোটি বছর বয়সে আজকের দিন পর্যন্ত যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে স্ক্ষম হত, তার পরিমাণ হত সমুদয় প্রকল্পটির মোট কাজকে একশ কোটি ভাগ করে তা থেকে মাত্র ৩৫ ভাগ নিলে যতটুকু [ ০০০০০০০৩৫] যা হিমালয়ের পদদেশে ছোট্র একটি নুড়ির মত তুল্য। আর এই প্রকল্পের শর্ত হল এই যে, প্রতিটি মানুষেরই আয়ুষ্কাল ৪৫০ কোটি বছর হওয়া বাঞ্জনীয়।
ভাবাবেগহীন পক্ষপাত দোষমুক্ত ইলেকট্টনিক কম্পিউটার এই রায় ডেকে আনে কোরআনেরই দুটি আয়াতকে তার পাশে। ১৪০০ বছর পূর্বে অবতীর্ণ কোরআনের আয়াতের বক্তব্য এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ লগ্নের যন্ত্র বিচারকের রায় যখন এক হয়ে পড়ে, তখন বিস্ময় জাগে । মনে হয় আজকের কম্পিউটার শুধু এই সত্যই আবিস্কার করেছে যা আল-কোরআনের ভাষায়—
[ হে মোহাম্মদ ] বল, যদি এই কোরআনের অনুরূপ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে মানবকুল ও জ্বীন জাতি সমবেত হয় পরস্পর পরস্পরের সহযোগিতায়, তবু তাহারা উহা সম্ভব করিতে পারিবে না [১৭ঃ ৮৮ ] বল, আমার প্রভুর বাণীসমুহ লিখিবার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবও আমার প্রভুর বাণীসমুহ শেষ হওয়ার পূর্বে সমুদ্র শেষ হইয়া যাইবে , যদিও অনুরূপ আরো অন্যান্য সমুদ্রকে সাহায্যের জন্য আনয়ন করা হয় [১৮ঃ ১০৯]
লেবাননের অধিবাসী ডঃ রশীদ খলিফা মিসরী সর্ব প্রথম এই পরিক্ষাটি সম্পন্ন করেন। কোরআনকে সম্পুর্ণ নির্ভুল্ভাবে “সেট” করেন কম্পিউটারে। তারপর শুরু হয় পরিক্ষা নিরিক্ষা। যারা জনাব ফরিদ উদ্দিন মাসাউদ কর্তৃক অনুদিত আশ্চর্য এই কোরআন পাঠ করেছেন, তারা বিষয়টির সহজ বিবরণ ইতিমধ্যেই অবগত রয়েছেন।
হিন্দু, নাস্তিক, ইহুদী-খৃষ্টান এবং বৌদ্ধ, বিশেষ করে যারা ইসলাম নিয়ে হীনমান্যতায় ভোগেন , প্রতিনীয়তই যারা ইসলামের দোষ খুজে মাথাকুটে মরে তাদের জন্য লক্ষনীয় বিষয় ।
কোরআনের ৭৪ নম্বর সূরার ৩০ নম্বার আয়াতের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। প্রস্তাবিত আয়াতটি হল, আলাইহা তিসআতা আশারা। বাংলা এবং ইংরেজী অনুবাদ্গুলো এর বিভিন্ন অর্থ করেছে। তবে এখানে আমি জ্ঞানী তরজমাকারীগণের সঠিক অর্থটি তুলে দিচ্ছি। ব্যবহৃত আলা শব্দটির মূল ধাতু আলো যার অর্থ হয় সর্বোচ্চ, সবচেয়ে ভাল, উচ্চতা, মহত্ত্ব ইত্যাদি [ topmost, best part, height, greatness, be high, highly situated, be at the summit of ] ইত্যাদি। আলা শব্দের অর্থ হয় তুলে ধরা, উচ্চতর করা, উপর, সম্ভ্রান্ত হওয়া, উচ্চতর হওয়া [ To rise, tower up, greatness, ascend, mount, be highelevated, raise, lift up ] ইত্যাদি অনেক । আবার এই আলা শব্দের অর্থই হতে পারে সবার উপরে [ on top of ]। একই শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত “হা” এর অর্থ হয় জেনে রাখ, ধর, সেখানে ইত্যাদি [ নির্দেশ সূচক সর্বনাম বা Demonstrative pronoun এর পূর্বে ], এবং তৃতীয় পুরুষে [স্ত্রী] এক বচন বাচক শব্দের শেষ অংশে শব্দের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এর ব্যবহার রয়েছে যার অর্থ দাড়ায় অব্যয়সূচক র, এর ইত্যাদি। অতএব, আলাইহা এর অর্থ হতে পারে ইহার/তাহার উপরে, উহার মাহাত্ম্য ইত্যাদি। তিসআতা আশারা এর অর্থ হল ১৯। তা হলে সম্ভাব্য যে কয়টি উপায়ে আয়াতটির অনুবাদ করা যায়, সেগুলো হলঃ-
[ ক ] তাহার/উহার উপর উনিশ [ ১৯ ]
[ খ ] ইহার মাহাত্ম্য [ greatness of ] উনিশ [ ১৯ ]
বর্ণিত অর্থগুলো প্রচলিত ও রীতিভিত্তিক। মজার বিষয় যে কোরআনে কোন কোন স্থানে অত্যান্ত রহস্যঘেরা ব্যাকারণের লংঘন দেখা যায়। এমন একটি লংঘনকে এ ক্ষুদ্র আয়াতের ক্ষেত্রে মেনে নিলে প্রচলিত অর্থসমূহের বাইরে আরো একটি রহস্যময় অর্থ আমাদের সন্মুখে উন্মচিত হয়, তা হল –যেনে রাখ, সবার উপরে উনিশ !
এবার ফিরে চলুন একটু ইতিহাসের দিকে। কোরআন অবতীর্ণ হবার ইতিহাসের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের একটির উপর আলোকপাত করা যেতে পারে। মোট ২৩ বছরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয় আল কোরআন। এ প্রসঙ্গে দলিল রয়েছে কোরআনেই, আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি অল্প অল্প করিয়া [৭৬ঃ ২৩] ২৩ বছরের এই ব্যাপ্তিতে নাযেলকৃত কোরআনে প্রতিক্ষণ যে বিন্যাস বিভাগ ও কাঠামো রচিত হয়েছে , তাতে ১৯ – এর বিবেচনা অত্যান্ত প্রকট। কোরআনের সংরক্ষণের ইতিহাস থেকে এগুলো প্রমাণিত সত্য। সর্বপ্রথম নাযেলকৃত ৫টি আয়াতঃ- 
পড় তোমার প্রভূর নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন [৯৬ঃ ১ ]
যিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন,- যাহা সে জানিত না” [৯৬ঃ ৫ ]
এই সুরার স্থানাঙ্ক শেষ দিক থেকে ১৯তম। এতে আয়াতের সংখ্যাও ১৯। দিতীয় বার স্বর্গীয়দূত জীব্রিল নিয়ে এলেন ৬৮ নম্বর সূরার কতিপয় আয়াত। 
তৃতীয়বার ৭৩ নম্বর সূরার কিছু আয়াত। চতুর্থ বারে ৭৪ নম্বর সূরার ৩০টি আয়াত নিয়ে তিনি হযরত মোহাম্মদ [ সঃ ]- এর নিকট অবতীর্ণ হন। এই ৩০ আয়াতটিই হল একটি ১৯ –এর প্রস্তাব – ইহার উপরে ১৯ “, কিংবা জেনে রাখ সবার উপরে ১৯” কিংবা ইহার মাহাত্ম্য ১৯।
ইসলাম ও পবিত্র কোরআন সম্পর্কে যারা হিনমান্যতায় ভোগে চ্যালেনঞ্জ তাদের প্রতি।