হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৭

আরাফার খুতবা ২০১৭


খতিব: শায়খ সা’দ বিন নাসের আশ শিছরি
অনুবাদ: মহিউদ্দীন ফারুকী

হামদ সালাতের পর, হে মুমিনগন তোমরা তাকওয়া অর্জন কর। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমরা তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহ যা নির্দেশ করেছে তা মনতে চেষ্টা কর। আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকোনা। তাওহীদ হচ্ছে মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদের দ্বীন।তাহাওহীদ হচ্ছে, আল্লাহকে এক ইলাহ বলে মানা। তার সাথে কাউকে ডাকা যাবেনা। হে মানুষ সকল, নিশ্চেই নাজাত ও মুক্তির পথ হচ্ছে ঈমান। রাসূল স. আরকানুল ঈমানেএর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান আনা। রাসুলদের প্রতি ইমান আনা। কিতাবের প্রতি ইমান আনা। হে মুমিনগণ, সলাত হচ্ছে দ্বীনের খুটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নামাজের হেফাজত কর। যাকাত আদায় কর। এতে রয়েছে হৃদয়ের পবিত্রতা।চতুর্থ রুকন হ্েচছ, সিয়াম পালন করা। পঞ্চম রুকন হচ্ছে, হজ্জ আদারয় করা। হজ্জে মাবরুরের প্রতদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত। রাসুল স. হজ্জ আদায় করেছেন। তিনি তার সে হজে সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন।হে মুমিনগন, দ্বীনে সৌন্দর্যের অন্যতম হচ্ছে একে অপরকে সাহায্য করা । ইহসান ও একে অপরের প্রতি দয়া করা।শরীয়ত বাবা মার সাথে সুন্দর আচরণ দিতে নির্দেশ করেছেন। সন্তানদের সাথে ভাল আচরণ করতে নির্দেষ দিয়েছেন। সাতে সাথে খারাপ কাজ ও ফাহেশা থেকে নিশেধ করেছেন ।নিশ্চয় প্রত্যেক মুসলিম নিরাপত্তার সহযোগী। একজন মুমিন রক্ত ঝরাতে পারেনা। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের রক্ত ঝড়িওনা। মুমিনের কাজ হচ্ছে ওয়াদা ঠিক রাখা। অঙ্গীিকার ভঙ্গ না করা।মুমিনের কাজ হচ্ছে ওয়ালিউল আমরের কথা ঠিকভাবে মান্য করা। ফিকরের নিরাপত্তা বা আমন ফিকরির ব্যাপারের সচেতন থাকতে হবে। শরীয়ত সারা পৃথিবীতে নিরাপত্তা ও আমন ব্যাপকভাবে ছড়াতে নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেছে, তারাকি দেখেনা যে আল্লাহ তাআলা হারামকে নিরাপদ বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দিস কে নিরাপদ রাখুন।রাসুল স. তার ভাষনে বলেন, জাহিলিয়াতের সকল বিষয় আমার পায়ের নীচে রাখা হলো। অতএব কোনধরণের জাহিলি কাজ ইসলাম সমর্থন করেনা। হজ্জ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরা কর। অতএব এখানে কোন ধরনের দলীয় ব্যানার ও মিছিল বা প্রচারেরর কোন সুযোগ নেই।হে শাসকবর্গ, তোমাদের সামনে কোরআন রয়েছে। শাসনের জন্য, দেশষ পরিচালনার এই কুরআনই যথেষ।হে ওলামায়ে কেরাম, আপনাদের সামনে রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ, অতএব সবকল ক্ষেত্রে করআন সুন্নাহর অনুষ্মরণ করতে চেষ্ঠা করুন। মিডিয়া কর্মিগণ, আপনারাও দ্বীনের জন্য কাজ করতে চেষ্টা করুন। মুরব্বি ও পিতা মাতাগণ, সন্তানের ব্যপারে সতর্ক হোনহে হাজিগণ, আপনরা সকলেই মর্যাপূর্ণ স্থানে রয়েছেন। মর্যাদপূর্ণ সময়ে রযেছেন। আজ ইয়াওমু আরাফা। দোআ কবুল হওয়ার সময়। নিজেদের জন্য চাইতে থাকুন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম ভায়ের জন্য দোআ করুন। হে আল্লাহ, তুমি খাদেমূল হারামাইনের হায়াতে বরকত দান কর। হে আল্লাহ তুমি হাজিদের হজকে কবুল কর। তাদেরকে নিরাপদে রাখ।

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৭

হজ্জ করার তীব্র বাসনা


Emran Hossain Adib
ড্রোন দিয়ে ভিডিও ধারন করছিল। হঠাৎ ড্রোনটি এক বৃদ্ধ লোকের বাড়ীতে গিয়ে পড়লো। ঘটনাটা ঘানার এক গ্রামের। বৃদ্ধ খুব গরীব । নাম: আল হাসান আবদুল্লাহ। সাংবাদিক ড্রোনটি আনতে গেলে দেখেন, সে বৃদ্ধ খুব অবাক হয়ে ড্রোনটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ড্রোনটি দেখছেন খুব নিবিড়ভাবে। সহজ সরল বৃদ্ধ লোকটি উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে সাংবাদিককে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা এটা কি আমাকে হজ্জ করার জন্য মক্কা নিয়ে যেতে পারবে?' আহা! 

লোকটার চোখে মুখে ছিল হজ্জ করার তীব্র বাসনা। তিনি কি আর জানেন এই ড্রোনে মানুষ উঠতে পারেনা! যেহেতু জিনিসটা উড়ে তাই তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাই চান্স যদি যাওয়া যায়। তিনি ড্রোন কি তা হয়তো বুঝেনও না। 

সাংবাদিক সে ড্রোন হাতে সে বৃদ্ধের ছবি আর তার হজ্জে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছার কথা টুইটারে পোস্ট করেন।
ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। তুরস্ক সরকার লোকটির সাথে যোগাযোগ করে এবং'তার হজ্জে যাওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করে।
ঘটনাটা এবারের হজ্জের। আল্লাহ তার মনের বাসনা পূর্ণ করেছেন। 

ক্বাবার সামনে দাড়িয়ে হৃদয়ের সমস্ত আবেগ আর ভালবাসা দিয়ে 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' বলে মহান রবের কৃতজ্ঞতা আদায় করতেই হজ্জে যেতে পেরেছেন সে বৃদ্ধ। যা তার দ্বারা সম্ভব ছিলো না। কিন্তু ঐ যে, আল্লাহ্‌ কার ইচ্ছা কিভাবে পূরণ করেন তা কি আর অনুমান করা যায়!

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে এমন ইচ্ছা পূরণ করার তৌফিক দিন। "আমীন"


রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আরাফার মিম্বর থেকে.........


আরাফার খুতবা ১৪৩৭ হিজরি মোতাবেক ২০১৬ ইংরেজি
খতিব: শায়খ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস
হামদ ও ছানা এবং দরুদ পাঠের পর খতীব বলেন, আমি সকলকেই তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করছি।
হে মুসলিম জাতি, আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্ব বাসির জন্য অস্ংখ্য নবী পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। সবশেণষে আমাদের নবী মুহাম্মদ স. কে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন। তাওহীদের দীক্ষা দিয়েছেন।সম্মানিত হাজি সাহেবগন, এই মাঠেই আমাদের নবী দাড়িয়েছেন। ইসলামের মূল বিষয়ুগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাহিলিয়াতের সকল খারাপ বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন।
মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা থেকে আলো ও জ্ঞানের দিকে আহবান জানিয়েছেন।নারির প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের সকল অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। মুসলমানের রক্ত সম্মানিত। এক্ষেত্রে সকলকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন।
হে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানেদের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয় নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হবে। মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে হবে।
হে মুসলিম তরুন। বর্তমানে সারা বিশ্বে যে বিষয়টি নিয়ে সবচাইতে বেশী সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা হলো সন্ত্রাসবাদ। অনেক তরুণ ইসলমের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন স্থান থেকে ইসলাম শিখছে।বিভিন্নভাবে ভিবিষিকা ও উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। অযথাই মানুষকে কাফের বলে দিচ্ছে। হেতরুণ তোমরাই জাতির মেরুদন্ড। অতএব তোমরা সতর্ক হও। অন্যকে যেকোন কিছুতেই কাফের বলা থেকে বিরত থাকো। যেকোন বিষয় তোমরা আলেমদের নিকট থেকে গ্রহন কর। তোমাদের নিকট অনেক প্রত্যাশা। তোমরা সুন্দর আদর্শ গ্রহন কর। নিজেকে বিনির্মান করো।
হে অভিভাবক ও মুরুব্বিগণ। চরিত্র প্রধান এক সম্পদ। ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সকলের চরিত্র বিনির্মানের প্রত্রি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষত বর্তমানে যে চারিত্রিক যুদ্ধ সে ব্যাপরে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
হে ওলামায়ে কেরাম। আপনার সকলেই রাসুলের উ্ত্তরসূরী। অপনারা মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে কোরআন সুন্নাহর প্রতি উদ্বুদ্ধে করুন। মানুষকে সঠিক বিষয়টি শিক্ষা দিন।
হে ইসলামের দায়ী ও আহবায়কগণ। আপনারা মানুষের প্রতি সহজ করুন্। দলা দলি মুক্ত থাকুন্। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর দিকে ডাকুন। মানুষের প্রতি দয়া করুন, রহমত করুন।
হে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আপনারা সতর্ক হোন। মানুষের চারিত্রিক বিষয় গুরুত্ব দিন। ইসলামমের শিক্ষা ও দীক্ষা প্রচার করুন
হে হাজি সাহেববৃন্দ, আপনারা শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে হজের জন্য কবুর করেছেন। এই আরাফায় অবস্থানের তাওফীৗক দিয়েছেন। সাথে সাথে আপনাদের জন্য যারা এই ব্যবস্বথা করেছেন, তাদের জন্য দো্‌াআ করুন। বিশেষ করে খাদেমুল হারামাই মালিক সালমানের জন্য। এবং যারা সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন
হে বায়তুল্লাহর হাজি সাহেবগণ। আপনারা আরাফায় অধিক পরিমানে দোআ করুন। আরাফার দোআ সব থেকে উত্তম দোআ। এদিন আল্লহ তাআলা গর্ব করেন। অধিক পরিমানে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এখানে জোহর আছর কসর করে জমা করুন। দোআয় লিপ্ত থাকুন। সূযাস্ত পর্যন্ত দোআ করতে থাকুন। এর পর শান্তভাবে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা হোন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব এশা এক আজানে দুই এক্বামতে আদয়া করুন।
এরপর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য যেথে থাকুন্। কোরবানী করুন্। মাথা চেছে বা ছেটে হালাল হোন। এভাবে হজের কার্যক্রম সমাপ্ত করুন।
দোআর মাধ্যমে শায়খ খুতবা সমাপ্ত করেন। মধ্যখানে শায়খ বলেন যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করাও আমাদের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৩৫ বছর এই মিম্বরে দাড়িয়ে শায়খ আব্দুল আযীয আলে শায়খ খুতবা দিয়েছেন। মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নসীহত করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে সক্ষম হননি। তার জন্য দোআ করি, আল্লাহ তায়ালা তার ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাকে সুস্থতা দান করুন।
কৃতজ্ঞতাঃ শাইখ Mohiuddin Faroqi

কাবা শরিফের পুরাতন গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানো হচ্ছে আজ হজের দিন।


৯ জিলহজ হজের দিন ফজরের নামাজের পর পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম এবং সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের নেতৃত্বে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।কাবা শরিফের গিলাফকে কিসওয়া বলা হয়। এটি প্রস্তুত করতে নয় মাস সময় লেগেছে। কিসওয়া পশমি কাপড়ে স্বর্ণের সুতোর এমব্রয়ডারি দিয়ে বানানো হয়। এটা মক্কায় স্থাপিত বিশেষ কারখানায় প্রস্তুত করা হয়।এবারে গিলাফ তৈরিতে ৬৭০ কেজি সিল্ক কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে। উন্নতমানের এই সিল্ক আমদানি করা হয়েছে ইতালি ও সুইজারল্যান্ড থেকে। সেই কাপড়ে প্রায় ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ও রৌপ্যের সুতোয় হাত দিয়ে গিলাফে নকশার কাজ করা হয়।অনেক হজপালনকারি হজের সময় কিসওয়ার অংশবিশেষ কেটে বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই ছেঁড়া অংশ মেরামতের জন্য আলাদা রক্ষণাবেক্ষণ টিম রয়েছে। তারা দ্রুত ছেঁড়া অংশ মেরামত করে থাকে।পুরনো কিসওয়াকে টুকরো টুকরো কেটে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রীয় অতিথি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণ করা হয়।
আরব নিউজ অবলম্বনে

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

হজ্জের নিয়মাবলী

 হজ্জের ফরজ ৩টি
১। ইহরাম বাধা ২। উ'কুফে আ'রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান) ৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি
(১) 'সাফা ও মারওয়া' পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।
(২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য
হলেও অবস্থান করা।
(৩) মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিপে করা।
(৪) 'হজ্জে তামাত্তু' ও 'কি্বরান' কারীগণ 'হজ্জ' সমাপনের জন্য দমে শোকর করা।
(৫) এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
(৬) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।
এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব।
ওমরাহর ফরজ, ওয়াজিব
দুইটি ফরজ: (১) ইহরাম পরিধান করা (২) তাওয়াফ
দুইটি ওয়াজিব: (১) সাফা ও মারওয়া মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সায়ী করা (২) মাথার চুল
মুন্ডানো বা ছাটা।
তালবিয়া
''লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক, লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি'মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারীকালাক।"
অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।
আপনার কোন অংশীদার নেই।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
(১) সেলাইযুক্ত যে কোন কাপড় বা জুতা ব্যবহার, এক্ষেত্রে স্পঞ্জ সেন্ডেলের ব্যবহার করা।
(২) মস্তক ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড়সহ যে কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা,
(৩) পায়ের পিঠ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।
(৪) চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা,
(৫) নখকাটা,
(৬) ঘ্রানযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো।
(৭) স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা।
(৮) যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা।
(৯) শিকার করা।
(১০) ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা।
(১১) চুল দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে ছিড়ার আশংকা থাকে।
(১২) শরীরে সাবান লাগানো।
(১৩) উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা।
(১৪) কোন গুনাহের কাজ করা, ইত্যাদি।
হজ্জের প্রকার ও নিয়তসমূহ
প্ রথম প্রকার হজ্জে ইফরাদ
বর্ণনা: ওমরাহ্ ব্যতিত শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের সাথে ওমরাহকে না মিলানো। (বদলী হজ্জের জন্যও এই হজ্জ)।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসছির হুলিওয়াতা কাব্বালহুমিনি্ন। (বাংলা নিয়ত- আল্লাহ আমি ইফরাদ হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইহরাম বাধলাম। তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)।
দ্বিতীয় প্রকার হজ্জে কি্বরান
বর্ণনা: একত্রে একই স্থান থেকে হজ্জ ও ওমরার নিয়্যাত করে হজ্জের সাথে ওমরাহকে মিলানো এবং একই ইহ্রামে উভয়টি আদায় করা।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উ'মরাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যে হজ্জে কি্বরানের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন।
তৃতীয় প্রকার হজ্জে তামাত্তু
বর্ণনা: একই সফরে পৃথক পৃথক ভাবে 'ইহরাম' পরিধান করে 'হজ্জ ও ওমরাহ' আদায় করা। প্রথম ইহ্রামে ওমরাহর নিয়্যাত করে তা পালন শেষে চুল কেটে 'ইহরাম' খুলে হালাল হয়ে দ্বিতীয় বার নতুন করে
হজ্জের নিয়্যাতে ৮ই জিলহজ্জ 'মক্ক শরীফ' থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাধা। তামাত্তু করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে ওমরার নিয়্যাত করে এহরাম বাঁধুন।
শুধু ওমরাহর নিয়্যাত
আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উম'রাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি ওমরাহ্ পালনের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
শুধু হজ্জের নিয়্যাত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য ইহরাম বেধে নিয়ত করলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
তাওয়াফের বিবরণ
হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরান কারীগণ) নিজের মালছামানগুছিয়ে রেখে পাকপবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে 'হারাম শরীফে' হাজিরা দেওয়া এবং 'তাওয়াফ' করা। ওমরাহ এবং হজ্জের
তাওয়াফ ব্যাতিত নফল তাওয়াফ ও করা যায়। যেমন: রাসূল (দঃ), সাহাবা-আওলিয়া, আহ্লে বাইত, মা-বাবা, পীর-উস্তাদ ও অন্যান্য মুরুব্বী বা সন্তানদের স্মরনে বা তাঁদের নামে তাওয়াফ করা।
তাওয়াফের ওয়াজিব সমূহ
(১) শরীর পাক-সাফ রাখা, ওজু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই।
(২) ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ।
(৩) 'হাতীমে কা'বার' বাইরে থেকে 'তাওয়াফ' করা।
(৪) পায়ে হেঁটে 'তাওয়াফ' করা। অম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে 'তাওয়াফ' করতে পারেন।
(৫) 'হাজ্রে আস্ওয়াদ' থেকে শুরু করে ডানদিক দিয়ে 'তাওয়াফ' শুরু করা।
(৬) এক নাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে 'সাতবার চক্কর' দিয়ে 'তাওয়াফ' পূর্ণ করা।
(৭) 'সাত চক্করে' এক 'তাওয়াফ', এটা পূর্ণ হলেই 'তাওয়াফের' নামাজ পড়া।
তাওয়াফের সুন্নত কার্যাবলী
(১) 'তাওয়াফে'র শুরুতে 'হাজারে আসওয়াদ' এর দিকে মুখ করা।
(২) সম্ভব হলে 'হাজ্রে আস্ওয়াদ' চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে
'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আক্বার ওয়ালিল্লাহিল হ্ামদ' বলা।
(৩) 'হা্জ্রে অস্ওয়াদ' বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা'র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান।
(৪) যে 'তাওয়াফে'র পরে 'সাঈ' আছে তাতে 'এযতেবা' করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের
অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া।
(৫) 'সাঈ' যুক্ত 'তাওয়াফে'র প্রথম তিন চক্করে 'রমল' করা। অথর্াৎ বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে
(একের পর এক পা ফেলে) চলা।
(৬) বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা।
(৭) প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে 'হাজ্রে অস্ওয়াদ'কে চুম্বন করা।
সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্"দোয়াটি পাঠ
করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাড়িয়ে ইশারা করে 'তাওয়াফ' শেষ করা।
তাওয়াফের নিয়্যাত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ'তা আশ্ওয়াতি্বন লিল্লাহি তায়া'লা। বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম।
সায়ীর নিয়ম
'হজ্জ ও ওমরাহ' ছাড়া নফল 'তাওয়াফে'র কোন সায়ী নাই। কারো নামে ওমরাহ করতে হলেও সায়ী করতে হবে। সায়ী অর্থ দৌড়ানো। এটা 'ছাফা' পাহাড় থেকে প্রথমে শুরু করতে হবে। ছাফা থেকে মারওয়া।
মারওয়া থেকে ছাফায়। এভাবে সাতবার সায়ীর সময় প্রথম তিন চক্কর সবুজ বাতির মাঝের অংশটুকু দৌড়ে দৌড়ে হেলে দুলে যাওয়া সুন্নাত (পুরুষদের জন্য)। পরের চার চক্কর সাধারণ গতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
সায়ীর সহজ দোয়া
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লা-হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আ'লিয়্যিল আ'যীম, রাবি্বগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতাল আ-আজ্জুল আকরাম।
সায়ীর কুরআনী দোয়া
'ইন্নাছ্ ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন্ শাআ'ইরিল্লাহ্ ফামান হাজ্জাল বাইতা আও-ই' তামারা ফালা জুনাহা আ'লাইহি আইয়াত্ত্বাওয়াফা বিহিমা ওমান তাত্বাওয়াআ খাইরান ফা-ইন্নাল্লাহা শাকিরুণ আ'লীম।" উপরোক্ত
দুই দোয়া সাতবার চক্করের সময় হাটতে চলতে পড়তে হবে। পরেরটি না পারলে উপরেরটিই যথেষ্ট হবে।

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬

হজ্ব কার উপর কখন ফরজ হজ্জের আহকাম আরকানসমূহ


আমীনুল ইসলাম আমীন

আল্লাহর সন্তুষ্টিরর জন্য মানুষের উপর বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্ব ফরজ করা হইয়াছে ঐ সব লোকের উপর, যাহারা যাতায়াতের সামর্থ রাখে। (আল ইমরান) এই আয়াত দ্বারা হজ্ব ফরজ সাব্যস্ত হইয়াছে। কেউ যদি হজ্বকে অস্বীকার করে সে কাফের হয়ে যাবে, আর হজ্ব ফরজ হয়েছে যদি না করে কঠিন গুনাহগার হবে। রহমতে আলম সা. এরশাদ করেন ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি তার মধ্যে অন্যতম হল হজ্ব আদায় করা। (মুসলিম) রাসূল সা. বলেন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর হজ্ব ফরজ করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ্ব কর। (মুসলিম) হজ্ব কাকে বলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মক্কা মোয়াজ্জমায় বিশেষ স্থান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ কার্যপদ্ধতি সহকারে পরিদর্শন করাকে হজ্ব বলে। নবম হিজরিতে হজ্ব ফরজ হয়েছে। 

হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য শর্তসমূহ:- (১) মুসলমান হওয়া (২) আযাদ হওয়া (৩) বালেগ হওয়া (৪) আক্বেল হওয়া (৫) সুস্থ হওয়া (৬) পরিবারের খরচ ব্যতিত হজ্বের কাজ সম্পাদন করার মত সম্পত্তি থাকা (৭) হজ্বের রাস্তা নিরাপদ হওয়া (৮) মহিলার জন্য মুহরিম সাথে থাকা।★
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হজ্ব তিন প্রকার :- (১) ইফরাদ " হজের মাসে কেবলমাত্র হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজ্ব করাকে হজ্জে ইফরাদ বলে। এরুপ হাজীকে বলা হয় মুফরিদ। (২) তামাত্তু :- হজের মাসে প্রথমে উমরাহর নিয়তে ইহরাম বেঁধে উমরাহ শেষ করে পুনরায় ৮ ই যিলহজ্ব মক্কা থেকে হজের ইহরাম বেঁধে হজ্ব করাকে হজ্জে তামাত্তু বলে। এরুপ হাজীকে বলা হয় মুতামাত্তি। (৩) ক্বিরান:- একই ইহরামে হজ্ব ও উমরাহ এক সাথে মিলিয়ে করাকে বলা হয় হজ্বে কিরান। এরুপ হাজীকে বলা হয় ক্বারিন। এই তিন প্রকার হজের মধ্যে ক্বিরান হজই উত্তম। রাসূল সা. এর জীবনের শেষ হজ ছিল হজ্বে ক্বিরান। (মিশকাত) 
হজ্বের ফরজ ৩ টি :- (১) এহরাম বাঁধা। (২) ৯ ই যিলহজ্জ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা, (৩) তাওয়াফে যিয়ারত করা। 
হজ্বের ওয়াজিব ৬ ছয়টি :- (১) মুজদালাফার ময়দানে অবস্থান, (২) ছাফা ও মারওয়া পর্বতদ্বয়ের মধ্যে দৌড়ানো, (৩) শয়তানকে কংকর মারা, (৪) বিদেশীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা, (৫) মাথা মুড়ানো অথবা চুল ছাঁটা স্ত্রীলোকের চুল হইতে কিছু কর্তন করা (৬) কাফফারা বা হজ্বের কার্যসমূহ ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য দম বা একটি কোরবানী করা। উপরোল্লিখিত ফরয ও ওয়াজিব কার্যাবলী ব্যতীত অন্যান্য সকল আমল সুন্নত ও মুস্তাহাব।
হজ্বে মাবরুর এর ফাজীলত ও হজ্বের উৎসাহ, হে মাওলা কবুল কর আমায়। পুরাটা পড়লে উপকৃত হবেন। ২য় পর্ব
-----------------------------------------------------------------------
★রহমতে আলম সা. এরশাদ করেন যেই ব্যক্তি শুধু আল্লাহর রেজামন্দীর জন্য হজ্ব করে, উহাতে কোন ফাহেশা কথা কাজ বা অবাধ্যাচরণমূলক কাজ করে না, সে হজ্ব হইতে এমনভাবে নিষ্পাপ প্রত্যাবর্তন করে যেমন সে আজ মায়ের গর্ভ হইতে জন্ম নিল। (সু্বহানাল্লাহ) ওলামাগণ লিখিয়াছেন, এই সব হাদীসের অর্থ হইল, ছগীরা গুনাহ সমূহ মাফ হইয়া যায়। অবশ্য কোন কোন আলেম এই সিদ্বান্তে পৌঁছিয়াছেন যে, হজ্বের দ্বারা ছগীরা কবীরা উভয় প্রকার গুনাহ মাফ হইয়া যায় বান্দাহর হক্ব ব্যতীত।®রহমতে আলম সা. এরশাদ করেন নেকীওয়ালা হজ্বের বদলা (কবুল হজ্বের বদলা) জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। ,সুবহানাল্লাহ, (বোখারী মুসলিম)
®হুজুর সা. এরশাদ করেন হাজী যখন লাব্বায়িক বলিতে থাকে তখন তাহার ডানে বামের যাবতীয় পাথর, বৃক্ষ এবং ধূলাবালি লাব্বায়িক বলিতে থাকে। এমনকি জমিনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ইহা বলিতে থাকে। "সুবহানাল্লাহ" (মিশকাত)
®রহমতে আলম সা. বলেন, হজ্বের মধ্যে খরচ করা জেহাদের মধ্যে খরচ করার সমতূল্য। অর্থাৎ এক টাকায় সাত শত টাকার ছওয়াব। (তারগীব)
®হজুর সা. এরশাদ করেন কেহ হজ্ব করিতে এরাদা করিলে তাড়াতাড়ি আদায় করা উচিৎ। (আবু দাউদ) ®হজুর সা. আরো বলেন যে ব্যক্তি হজ্বে রওয়ানা হইয়া পথিমধ্যে মারা যায়, কেয়ামত পর্যন্ত সে হজ্বের ছওয়াব পাইতে থাকিবে। সু্বহানাল্লাহ। (তারগীব)★
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রহমতে আলম সা. এরশাদ করেন, হজ্বের এরাদা করিয়া ঘর হইতে বাহির হইলে ছওয়ারীর প্রতি কদম উঠানামায় তোমাদের আমলনামায় এক একটি নেকী লেখা যাইবে। এবং একটি করিয়া গোনাহ মাফ হইয়া যাইবে। তওয়াফের পরের দুই রাকাত নামায়ে একজন আরবী গোলাম আজাদের ছওয়াব পাওয়া যাইবে। ছাফা মারওয়া দৌড়াইলে সত্তরটি গোলাম আযাদ করার ছওয়াব পাওয়া যায়। আরাফাতের ময়দানে মানুষ যখন একত্রিত হয় তখন আল্লাহ পাক প্রথম আসমানে আসিয়া (আল্লাহর রহমত) ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করিয়া বলেন যে, আমার বান্দারা দূর - দূরান্ত হইতে এলোমেলো চুল নিয়া আসিয়াছে, তাহারা আমার রহমতের বিখারী। হে বান্দাগণ তোমাদের গোনাহ যদি জমিনের ধূলিকণা বরাবরও হয় অথবা সমুদ্রের ফেনা বরাবরও হয়, তবুও উহা আমি মাফ করিয়া দিলাম। এবং কি যাহাদের জন্য তোমরা সুপারিশ করিবে তাহাদেরকেও ক্ষমা করিয়া দিলাম। প্রিয় বান্দারা আমার ক্ষমাপ্রাপ্ত হইয়া তোমরা নিজ নিজ বাড়ী চলিয়া যাও। শয়তানকে পাথর মারার ছওয়াব এই যে, প্রত্যেক পাথর টুকরায় তাহাকে ধ্বংস করার উপযোগী এক একটা পাপ মাফ হইয়া যায়। আর কোরবানীর বদলে আল্লাহর দরবারে তোমাদের জন্য পুঁজি জমা রহিল। এহরাম খোলার সময় মাথার চুল কাটার মধ্যে প্রত্যেক চুলের বদলে একটি করিয়া নেকী, একটা করিয়া গোনাহ মাফ। সর্বশেষ যখন জিয়ারত করা হয় তখন বান্দার আমলনামায় কোন গোনাহই থাকে না। বরং একজন ফেরেশতা তাহার কাঁধে হাত বুলাইয়া বলিতে থাকে তুমি এখন হইতে নতুন করিয়া আমল করিতে থাক, তোমার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হইয়াছে। (সুবহানাল্লাহ) (তারগীব)
===================================
হুজুর সা. এরশাদ করেন, কা'বা শরীফের উপর দৈনিক আল্লাহ তায়ালার তরফ হতে একশত বিশটা রহমত নাজেল হয়, তন্মধ্যে ষাট রহমত তওয়াফকারীদের জন্য, চল্লিশ রহমত নামাজীদের জন্য এবং বিশ রহমত দর্শকদের জন্য। সুবহানাল্লাহ (বায়হাকী)
আয় রাব্বে কা'বা জীবনে একটাই চাওয়া কাপনের কাপড় পরার আগে এহরামের কাপড় পরার তাওফীক্ব দিয়ে দেন আমীন।







রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬

প্রেমের সফরে বাইতুল্লার ছায়ায়


লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
বাইতুল্লাহর সঙ্গে মুমিনের কলবের এমনই এক মধুর সম্পর্ক যে, বাইতুল্লাহর জিয়ারত-সুধা যতই পান করো, পিপাসা আরও বৃদ্বি পায়; হৃদয় আরও তৃষ্ণাকাতর হয়। বাইতুল্লাহর দীদার মুমিনের দিলকে আরও বেকারার করে। আল্লাহর ঘর একবার দেখে আসার পর আবার দেখতে পাওয়ার আকাক্সক্ষা অন্তরে প্রবলভাবে জাগ্রত হয়। কালো গিলাফে ঢাকা বাইতুল্লাহর জামাল ও সৌন্দর্য কখনও শেষ হয় না। তাই মুমিনের হৃদয়ে সে সৌন্দর্যের পিপাসাও কখনও মেটে না, আরও বাড়ে; বাড়তেই থাকে’’। ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিচারণের পর এভাবেই শুরু হয়েছে বাইতুল্লাহর ছায়ায় বইটি। বাইতুল্লাহর মুসাফির খ্যাত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহর এটি দ্বিতীয় হজের সফরনামা। হজ ও ওমরা নিয়ে হয়তো আরও অনেকে লিখেছেন। কিন্তু কষ্ট ও ত্যাগের এ সফরটি যে কত প্রেমময় এবং মধুর হতে পারে, এ বইটিতে পাঠক তা বুঝতে পারবেন স্বার্থকভাবে। শুধু ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও মক্কা-মদিনার পরিস্থিতি নয়। একজন মুমিনের আত্মার সঙ্গে বাইতুল্লাহর কি সম্পর্ক, মুমিন হৃদয় কেন বারবার ব্যাকুল হয়ে ছুটে যায় মক্কা-মদিনা, শুরুর দিকে লেখক সেটিই তুলে ধরেছেন ‘অন্তহীন পিপাসা’ শিরোনামে। এখনকার বাস্তবতা ও আমাদের হৃদয়ের কদর্যতার কারণে অধিকাংশ মানুষের কাছেই হজ হল একটি অর্থকেন্দ্রিক ভ্রমণ। লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে হজ করা হলেও ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো প্রভাব সৃষ্টি হয় না। এর মূল কারণ হল হজের মতো এত বড় একটি শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতের মাহাত্ম্য আমাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়নি। যার ফলে এ মহান ইবাদাতের বরকত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এমনকি হজের শিক্ষা ও প্রাকটিকেল আমল শেখানোর জন্য তিন মাস বা ছয় মাসের কোর্স আয়োজন করার জন্য আলেমদের তিনি অনুরোধ জানান। বাইতুল্লাহর দিকে যখন যাত্রা শুরু হয়, তখন তো মুমিন বান্দার দিল পুরোপুরি নিবদ্ধ থাকে আল্লাহর দিকে। কথাটিকে লেখক এভাবে ফুটিয়ে তুলেন, ‘‘বিমানে আরোহণ করছি। হঠাৎ মনে হল, জান্নাতে শহীদানের রূহ পাখীর ভিতরে করে উড়ে বেড়াবে। আমরা কি তাহলে বাইতুল্লাহর শহীদান! ডানা-মেলা এই পাখীটির ভিতরে করে মনের আনন্দে আমরা উড়ে যাব মেঘের রাজ্য পার হয়ে সেই সুদূরে, আল্লাহর ঘর যেখানে!’’ এভাবে ভাবের সিজদায় অবনত হয়ে লেখক শুরু করেন তার বাইতুল্লাহর সফর। আল্লাহর ঘরে বারবার হাজির হওয়ার ভাগ্য সবার হয় না। এমন সৌভাগ্য যারা অর্জন করেন তারা মহা সৌভাগ্যবান। আমাদের মাওলানা আবু তাহের মিসবাহও এমন মহা সৌভাগ্যবানদের একজন। যার জীবনের প্রথম হজের সফর হয়েছে আজ থেকে তেত্রিশ বছর আগে মাত্র সাতাশ বছর বয়সে। জীবনের প্রথম হজেই তিনি বিখ্যাত বুজুর্গ হাফেজ্জী হুজুর (র.)-এর সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। সে সৌভাগ্যের ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ছোট এই জীবনের প্রায় অনেক রমজান তিনি অতিবাহিত করেছেন বাইতুল্লাহর ছায়ায়। আল্লাহর ঘরের সঙ্গে একবার যার মনের বন্ধন হয়ে যায়, সে বাঁধনে মন আটকে থাকে জীবনভর। এ জন্য হজের সফরে অনেক কষ্টই হালকা মনে হয় বাইতুল্লাহ প্রেমিকদের। কিন্তু বাহ্যিকভাবে আমরা দেখি যে, হজের সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা ভোগান্তিতে ভুগতে হয় আল্লাহর ঘরের মুসাফিরদের। এ জন্য নতুনদের কাছে হজের সফরটা অনেকটা অজানা আতংকের। আবার যারা হজ করে ফিরে আসেন, তাদের কথাবার্তায় মক্কা-মদিনার চেয়ে সফরের কষ্ট ও ভোগান্তির কথাই বেশি থাকে। এতে অন্যরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এ বিষয়গুলোর সমাধান খুব সুন্দর ও বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বাইতুল্লাহর ছায়ায় বইটিতে। অনেক সময় আমাদের কিছু আচরণ ও নিয়মভঙের কারণেই বিপত্তি দেখা দেয়। অন্যান্য সাধারণ ভ্রমণের মতোই আমরা যাত্রা শুরু করি হজের উদ্দেশ্যে। আমরা যে মহান প্রভূর আমন্ত্রণে তার ঘরে যাচ্ছি, সে উপলদ্ধি থাকে না অনেক সময়। এ জন্য হজের যাবতীয় আদাব রক্ষা হয় না। এ জাতীয় খুটিনাটি সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর প্রতি কিভাবে হাজী সাহেবান যত্নবান হবেন, তা লেখক বর্ণনা করেছেন বেশ চিন্তা-ভাবনা করেই। কারণ, আল্লাহ যেমন বড়। তার ঘরের আদব-কায়দাও তত বেশি। মক্কা-মদিনার প্রতিটি স্থানের কথা আলাদা করে জায়গা পেয়েছে এ সফরনামাটিতে। প্রতিটি জায়গার সঙ্গে হৃদয়ের প্রেম-ভালোবাসার যত উপাদান লুকিয়ে আছে, তা লেখক তুলে এনেছেন স্বার্থকতার সঙ্গেই। এ সফরনামাটি পড়ে পাঠক মক্কা-মদিনার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক অনুভব করবেন। হজ ও ওমরার প্রকৃত স্বাদ পেতে প্রেমময় এ গ্রন্থটি হতে পারে উত্তম পাথেয়। কারণ এ জাতীয় সফরনামা লিখতে প্রয়োজন, আত্মার স্বচ্ছতা ও সোনালী পরশে আলোকিত হৃদয়। লেখক আবু তাহের মিসবাহর ক্ষেত্রে এ গুণগুলোর প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে। প্রতিটি মুমিন হৃদয়ের সুপ্ত একটি বাসনা হল আল্লাহর ঘর জিয়ারতের স্বপ্ন। লেখক তা ব্যক্ত করেছেন এভাবে। “জীবনে স্বপ্ন দেখা কখনও শেষ হয় না। আমাদের জীবনে দিন-রাত আছে; আমাদের স্বপ্নেরও আছে দিন-রাত। যখন শুধু স্বপ্ন দেখি তখন হল স্বপ্নের আঁধার রাত, স্বপ্ন যখন পূর্ণ হয় তখন হল স্বপ্নের আলোকিত দিন। জীবনে যেমন আসে রাতের পর দিন, স্বপ্নেও আসে আঁধার রাতের পর আলোকিত দিন। জীবনের দিন-রাতের মতো এভাবেই চলতে থাকে স্বপ্নের রাত-দিন। জীবন যখন শেষ হবে তখনই শুধু শেষ হবে আমাদের স্বপ্ন দেখা! কালো গিলাফের এবং সবুজ গম্বুজের স্বপ্ন লালন করা! জানি না, এ কোন্ নেশা! এ কেমন পিপাসা! পেয়ালায় যত ঠোঁট ভেজাও তত নেশা জমে, যত পান কর তত পিপাসা জমাট বাঁধে! এভাবে আশিক বান্দার, প্রেমের নেশায় মাতাল হওয়া এবং মিলনের পিপাসায় কাতর হওয়া দেখতে আল্লাহর হয়তো ভালো লাগে!” এখনও যারা বাইতুল্লাহর সফর করেননি, এ বইটি হতে পারে তাদের জন্য আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা। আর যারা হজ-ওমরা করে এসেছেন, বাইতুল্লাহর সময়টুকু স্মৃতিচারণের জন্য ও আবারও যাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টিতে বইটি হবে বেশ উপকারী। সর্বপুরি প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর ঘরের ভালোবাসা সৃষ্টিতে এ সফরনামাটি একটি উপকারী সুখপাঠ্য হবে বলে আশা করি।

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৫

প্রশ্ন : হজ্জের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল ও মুস্তাহাব সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর : হজ্জের ফরজ তিনটি :
১. মীক্বাত হতে ইহরাম বাধা।
২. ৯ই জিলহজ্জ তারিখ জোহরের পর হতে ১০ই জিলহজ্জের সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত ওকূফে আরাফা তথা আরাফার প্রান্তরে অবস্থান।
৩. ১০, ১১ বা ১২ জিলহজ্জ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে কাবা শরীফের তাওয়াফে জিয়ারত করা।
হজ্জের ওয়াজিব ৫টি :
১. ৯ই জিলহজ্জ তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকে পরবর্তী বা’দ ফজর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুযদালিফার প্রান্তরে অবস্থান করা।
২. সাফা-মারওয়া পাহাড় দু’টির মাঝখানে সাঈ করা।
৩. মিনাতে রমী করা অর্থাৎ শয়তানের উদ্দেশ্যে কংকর মারা।
৪. ইহরাম খোলার জন্য মাথা মুন্ডানো বা ছাটানো।
৫. বিদায়ী তাওয়াফ করা (মীক্বাতের বাহিরের বাসিন্দাদের জন্য)।
হজ্জের সুন্নাত ও মুস্তাহাব ১০টি :
১. তাওয়াফে কুদূম (হজ্জে ইফরাদ বা হজ্জে কিরানের জন্য)।
২. তাওয়াফে কুদূমের প্রথম তিন চক্করে রমল করা। আর তাওয়াফে কুদূমে রমল না করে থাকলে তাওয়াফে জিয়ারতে রমল করা।
৩. ৮ই জিলহজ্জ মক্কা হতে মিনায় গিয়ে জোহর, আসর, মাগরীব, ইশা ও ফজর এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং রাতে মিনায় অবস্থান করা।
৪. ৯ই জিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর মিনা হতে আরাফার ময়দানের দিকে রওনা হওয়া।
৫. ওকূফে আরাফার পর তথা হতে সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার দিকে রওনা হওয়া।
৬. ৯ই জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে মুযদালিফায় থাকা।
৭. ওকূফে আরাফার জন্য সেদিন জোহরের পূর্বে গোসল করা।
৮. ১০, ১১ বা ১২ জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রগুলোতে মিনায় থাকা।
৯. মিনা হতে বিদায় হয়ে মক্কায় ফেরার পথে মুহাস্সাব নামক স্থানে কিছু সময় অবস্থান করা।
১০. ইমামের জন্যে তিন স্থানে খুতবা দেয়া। ৭ই জিলহজ্জ মক্কা শরীফে, ৯ই জিলহজ্জ আরাফায় ও ১১ই জিলহজ্জ মিনায়। [ফাতাওয়া আলমগীরী : ১/২১৯, ফাতাওয়া শামী : ২/৪৬৮-৪৬৭, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭০]
প্রশ্ন : আমার নিকট এই পরিমাণ জমি রয়েছে, যার মাধ্যমে আমার সারা বছরের জীবিকা উৎপন্ন হয়। এছাড়া আমার আর কোন ব্যবসা বাণিজ্য নেই। অবশ্য সমস্ত জমি অথবা তার কিছু অংশ বিক্রি করে দিলে হজ্জের ব্যবস্থা হতে পারে। এমতাবস্থায় জমি বিক্রি করে হজ্জ করা কি আমার উপর ফরজ?
মিনহাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম।
উত্তর : যদি হজ্জের খরচ পরিমাণ জমি বিক্রি করার পরও আপনার মালিকানায় জীবিকা নির্বাহ করা যায় এই পরিমাণ জমি অবশিষ্ট থাকে তাহলে আপনার উপর হজ্জ ফরজ। [আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫৩২]
প্রশ্ন : তাওয়াফ করার সময় দৃষ্টি কোন দিকে রাখতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
জামাল উদ্দিন, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।
উত্তর : তাওয়াফ করার সময় কাবার দিকে মুখ বা পিঠ করা ঠিক নয়। বরং সিজদার দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে চোখের দৃষ্টি রেখে তাওয়াফ করা মুস্তাহাব। তবে হাজরে আসওয়াদ বা সেদিকে হাত কিংবা লাঠি ইত্যাদি উঠিয়ে চুম্বনের সময় কাবার দিকে নজর করতে পারে। [আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫৪৭, মুআল্লিমুল হুজ্জাজ : ১৩০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭২]
প্রশ্ন : আরাফাতের ময়দানে জোহর এবং আসরের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?
সাইদুল ইসলাম, বি.বাড়িয়া।
উত্তর : আরাফাতের ময়দানে যদি মসজিদে নামিরাতে ইমাম সাহেবের সাথে নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়া যায় এবং একথাও জানা যায় যে, ইমাম মুসাফির, তাহলে জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আসর একত্রে পড়বে। আর যদি ইমাম মুকীম হওয়া সত্বেও কসর করে তাহলে হানাফীগণ তার ইক্তেদা করবে না। সেক্ষেত্রে বা অন্য কোন কারণে যদি ইমামের সাথে পড়ার সুযোগ না হয়, তাহলে মুসাফির হাজীগণ নিজ নিজ তাবুতে বা স্থানে জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আসরের ওয়াক্তে আসর কসর (দুই রাকাত করে) পড়ে নিবে। তারপর দাঁড়িয়ে উকূফে আরাফা আদায় করবে, কষ্ট হয়ে গেলে তখন বসে উকূফ করবে। উল্লেখ্য, অনেক খিমায় আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আসরের আজান দিয়ে থাকে ঐ আজান শুনে আসর পড়বে না। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পর আজান দিয়ে নামাজ পড়বে। [ফাতাওয়া শামী : ২/৫০৫, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭২]
প্রশ্ন : ইহরাম অবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ?
ইকবাল মাহমুদ, নকলা, শেরপুর।
উত্তর : ইহরাম অবস্থায় নি¤েœাক্ত কাজগুলো করা নিষেধ
১. শরীরের গঠনের ভিত্তিতে সেলাই করা কোন কাপড় পরিধান করতে পারবে না। তবে মহিলাদের জন্য এ হুকুম নয়।
২. পুুরুষেরা মাথা ও মুখ ঢাকবে না। মহিলার মাথা ঢাকবে কিন্তু পর্দা বজায় রেখে মুখ স্পর্শ করে এমন নেকাব লাগাতে পারবে না। তবে মুখ থেকে একটু দূরে থাকে এমন নেকাব দ্বারা পর্দা রক্ষা করতে হবে।
৩. চুল কাটতে, ছিড়তে বা পশম টেনে তুলতে পারবে না।
৪. চুল-দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুল চালাবে না, তাতে চুল-দাড়ি উঠতে বা ছিড়ে যেতে পারে।
৫. নখ কাটবে না।
৬. সুগন্ধি সাবান, তেল, আতর ও ¯েœা-পাউডার ইত্যাদি প্রসাধনী ব্যবহার করবে না।
৭. যৌন আলাপ-আলোচনা বা আচরণ করবে না।
৮. স্ত্রী সহবাস করবে না।
৯. কোন প্রাণী শিকার করা নিষেধ। এমনকি মশা, মাছি, উকুন ও ছারপোকাও মারা নিষেধ।
১০. ঝগড়া-বিবাদ করা নিষেধ।
১১. হেরেম শরীফ এলাকায় কোন প্রকার ঘাস ও লাতা-পাতা ছিড়া নিষেধ। এমনকি গাছের ডাল ভাঙ্গাও নিষেধ।
১২. পায়ের উপরের পাতা ঢেকে যায় এমন জুতা বা সেন্ডেল পরা নিষেধ।
১৩. সমস্ত গোনাহের কাজ করা নিষেধ। [হিদায়া : ১/২৩৮-৩৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭৬]
প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি সুদ-ঘুষের টাকা গ্রহণ করে সম্পদশালী হয়েছে। বর্তমানে সে নিয়মিত নামাজ, রোজা ও জাকাত আদায় করছে এবং অন্যান্য শরয়ী আহকামও মেনে চলছে। এখন সেই ব্যক্তি ঘুষের টাকা দ্বারা হজ্জ আদায় করতে পারবে কি-না? এবং হারাম মাল থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় কি?
জাকির হোসেন, রাঙামাটি।
উত্তর : কারো নিকট যদি শুধু হারাম মাল থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ হবে না। আর কারো নিকট যদি হালাল-হারাম মিশ্রিত মাল থাকে, তাহলে দেখতে হবে সে সমস্ত মাল হতে হারাম মালের অংশ পৃথক করলে অবশিষ্ট হালাল মাল যদি এ পরিমাণ হয় যে, তাতে হজ্জ ফরজ হয়- তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ হবে। অন্যথায় তার উপর হজ্জ ফরজ হবে না। আর হজ্জ ফরজ হওয়ার পর তার হালাল মাল দ্বারাই হজ্জ করা জরুরী। কিন্তু কারো নিকট হজ্জ পরিমাণ হালাল মাল থাকায় তার উপর হজ্জ ফরজ হওয়ার পর হজ্জের সময় যদি হালাল মাল হাতে না থাকে, তাহলে এমন ব্যক্তির হজ্জ আদায়ের উত্তম পন্থা এই যে, সে প্রথমতঃ কারো নিকট থেকে হজ্জ আদায় করা যায়, এ পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে হজ্জ আদায় করবে। এরপর হালাল মাল দ্বারা উক্ত ঋণ পরিশোধ করতে চেষ্টা করবে। আর যদি তা সম্ভব না-ই হয়, তাহলে উক্ত হারাম মাল দ্বারাই ঋণ পরিশোধ করবে এবং এজন্য আল্লাহ তা’আলার দরবারে ইস্তিগফার করতে থাকবে। আর যদি কেউ হারাম মাল দ্বারা হজ্জ আদায় করে ফেলে, তাহলে সে ব্যক্তি গোনাহগার হবে বটে, তবে হজ্জের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কিন্তু এরূপ হজ্জ আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। অর্থাৎ এরূপ হজ্জে কোন সওয়াব হবে না। হারাম মাল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নাজায়িজ। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব এর থেকে মুক্ত হতে হবে। আর এ থেকে মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছে, উক্ত হারাম মালের মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে মালিকের নিকট উক্ত মাল পৌঁছে দেয়া ওয়াজিব। অন্যথায় সওয়াবের আশা না করে গরীব মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দেয়া। উল্লেখ্য যে, উক্ত হারাম মালের পরিমাণ পুরোপুরি স্মরণ না থাকলে, নিজের প্রবল ধারণার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করতে হবে। [ফাতাওয়া শামী : ২/৪৫৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ২/১৪ ও ১৬০, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৩/১৯২, ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া : ৩/১১৬, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৪]
প্রশ্ন : বর্তমান জমানায় হজ্জে মহিলাদের বেপর্দা অবস্থায় ঘোরাঘুরী লক্ষ করা যায়। এমতাবস্থায় হজ্জে মাকবুলের সুরত কি? সঠিক সমাধান চাই।
আবুল কালাম, মধুপুর, টাঙ্গাইল।
উত্তর : যে হজ্জের মধ্যে কোন রকম গুনাহের কাজ হয় না অথবা যে হজ্জের মধ্যে রিয়া বা বড়াই এর উদ্দেশ্য থাকে না তাকে সম্পূর্ণরূপে হজ্জে মকবুল বা হজ্জে মাবরূর বলে। ইচ্ছে করে কোন গুনাহের কাজ করলে হজ্জ সম্পূর্ণরূপে কবুল হওয়ার আশা করা যায় না।
অতএব, হজ্জে মকবুল হাসিল করতে হলে নিজ চক্ষু ও অন্তরকে কুদৃষ্টি ও কুমন্ত্রণা থেকে বিরত রাখতে হবে। এর পরেও যদি অনিচ্ছা সত্বেও সামনে বেপর্দা মহিলা এসে যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিবে। এতে আর গুনাহ হবে না এবং হজ্জে মকবুলের সওয়াবও পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। [সূরা বাকারা : ১৯৭, বুখারী : ১/২০৬, মিশকাত : ২৬৯, কাওয়ায়িদুল ফিকহ : ২৫৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৫]
প্রশ্ন : জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর যে তাকবীরে তাশরীক পড়া হয়, তা হানাফী মাজহাব অনুযায়ী প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কতবার পড়া উচিত এবং মহিলাদেরও পড়তে হবে কি-না? মেহেরবানী করে কিতাবের হাওলাসহ জানাবেন।
শাহনাজ পারভীন, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ।
উত্তর : জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর জামাতে হোক বা একাকী হোক, প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য হানাফী মাজহাব অনুযায়ী একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। অবশ্য পুুরুষ লোকদের জন্য উক্ত দু’আ উচ্চঃস্বরে পড়া জরুরী। আর মহিলাদের আস্তে পড়তে হবে। [হিদায়া : ১/১৭৪-১৭৫, ইমদাদুল আহকাম : ১/৬৭২, রদ্দুল মুহতার : ২/১৮০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬]
প্রশ্ন : যে কোন খাদ্য দ্রব্য ও পানীয় বসে খাওয়া আদব। কিন্তু জমজম কুপের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন? আর এ পানি পান করার সময় কি দু’আ পড়তে হয়?
আজিজ মিয়া, জয়দেবপুর, গাজিপুর।
উত্তর : সব ধরনের খাদ্য দ্রব্য ও পানীয় বসে খাওয়া সুন্নাত। আর জমজম কুপের পানিও বসে পান করলে কোন গুনাহ হবে না। তবে আদবের খেলাফ হবে। কেননা, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও বরকতময় পানি। এ পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালীম দিয়ে গেছেন। সুতরাং এটা মুস্তাহাব।
মোদ্দাকথা, যে আমল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে প্রমাণিত আছে, সেটা সেভাবে করাই সুন্নাত। সেখানে আমাদের বিবেক বিবেচনা অর্থহীন।
জমজম কুপের পানি পান করার সময় এ দু’আ পড়া সুন্নাত :
[কিফায়াতুল মুফতী : ৯/১০৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬]
প্রশ্ন : টিভিতে প্রচারিত হজ্জের কার্যসমূহ দেখার ব্যাপারে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন বাধা আছে কি-না? যদি নিষেধ থাকে, তাহলে কেন? আর সরাসরি সম্প্রচার করা বা পূর্বে ভিডিও করে সম্প্রচার করার মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি-না? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক।
রিদওয়ান, মিরপুর, ঢাকা।
উত্তর : বর্তমানে প্রচলিত টিভিতে কোন অনুষ্ঠান দেখা বা দেখানোর অনুমতি শরীয়তে নেই। বরং সকল প্রকার অনুষ্ঠান দেখাই কবীরা গুনাহ ও হারাম। যদিও সেটা ইসলামী অনুষ্ঠান হয়। সুতরাং হজ্জের কার্যাবলীও টিভিতে দেখা জায়িজ হবে না। সরাসরি সম্প্রচার হোক অথবা পূর্বে উক্ত দৃশ্য যন্ত্রের সাহায্যে ধারণ করে পরে সম্প্রচার করা হোক। এতদুভয়ের মাঝে কোন তফাৎ নেই। কেননা, ফিল্ম কোম্পানী এ কাজ করতে যে সকল যন্ত্র ব্যবহার করে থাকে, সবই খেল-তামাশার বস্তু। আর এমন বস্তুকে দ্বীনের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে প্রবেশ করানো দ্বীনের অবমাননা ও দ্বীনকে তামাশার বস্তুতে পরিণত করার নামান্তর। আর এতদ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ভয়াবহ আজাবের কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
তাছাড়া হজ্জের অধিকাংশ কার্যক্রমই হল আমলে তা’আব্বুদী তথা শরীয়ত কর্তৃক অবধারিত হুকুম। যার মাঝে যুক্তির বিন্দুমাত্র অবকাশও নেই। সুতরাং ইসলাম বিরোধীরা যখন এ ধরণের বিষয় টিভিতে দেখবে, তখন তারা অহেতুক যুক্তির পেছনে পড়ে নিজেরদের শরীয়ত বিরোধী দাবীসমূহ প্রমাণের অপপ্রয়াস চালাবে। আর দ্বীনের এসব বিষয় নিয়ে উপহাস করতে থাকবে।
শুধু তাই নয়; বরং হজ্জের অনুষ্ঠান দেখার সময় বেগানা মহিলাদের চেহারা থেকে মুক্ত থাকাও সম্ভব নয়। যেমন, অনুষ্ঠান আরম্ভ হওয়ার ঘোষণা সাধারণত মেয়েরাই দিয়ে থাকে। অতঃপর মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিষের নাজায়িজ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে। সেগুলো দর্শন করা শরীয়ত সম্মত নয়।
প্রকাশ থাকে যে, টিভির অনুষ্ঠানমালা যদি পূর্বে ধারণ করে সম্প্রচার করা হয়, তাহলে সেটা ফটো ও ছবি ব্যবহার করার হুকুমে পড়বে- যা সম্পূর্ণ হারাম। পক্ষান্তরে যদি পূর্বে ধারণ না করে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, তাহলে দ্বীন ও ইবাদতকে তামাশার বস্তুতে রূপান্তরিত করার কারণে তা নাজায়িজ হবে।
[সূরা লোকমান : ৬, সূরা নূর : ৩০-৩১, মিশকাত : ২/২৭০, ইমদাদুল মুফতীন : ২/৯৯১, জাওয়াহিরুল ফিকহ : ৪/৮৫-৮৬, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ৯/৪১৮-৪১৯, নিযামুল ফাতাওয়া : ২/৯৯-১০১, ফাতাওয়া রহীমিয়া : ৬/২৯২-৩০০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬-৪৮৭]
প্রশ্ন : কোন মহিলা নিজের মেয়ের স্বামীকে অর্থাৎ জামাতাকে নিয়ে হজ্জে যেতে পারবে কি?
ইসমত আরা, মেলান্দহ, জামালপুর।
উত্তর : নারীরা হজ্জে যেতে হলে স্বামী বা দ্বীনদার মাহরাম তথা এমন পুরুষ লোক, যাদের সাথে বিবাহ বৈধ নয়, তাদেরকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। মাহরাম নিজের বংশের কারণে, বিবাহের কারণে এবং দুধের কারণে হয় এ হিসেবে মেয়ের স্বামীকে নিয়ে হজ্জে যেতে পারবে। তবে বৈবাহিক এবং দুধপান সূত্রের মাহরামদেরকে নিয়ে বর্তমান ফিতনা ফাসাদের জমানায় হজ্জে যাওয়া হতে পরহেজ করা উচিত। তাই মেয়ের স্বামীকে নিয়ে হজ্জে না যাওয়াই শ্রেয় হবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যদি পিতা, ভাই বা দ্বীনদার স্বামী না পায়, তবে উক্ত মহিলাকে তার পক্ষ হতে বদলী হজ্জের ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরী। [মু’আল্লিমুল হুজ্জাজ : ৮৬, শামী : ২/৪৬৪, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭৪]
প্রশ্ন : যদি কেউ দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তার ফরজ হজ্জ আদায় করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে কোন্ ধরণের লোককে দিয়ে তার বদলী হজ্জ করাবে? বিস্তারিত জানাবেন।
সাদ্দাম হুসেন, নারায়নগঞ্জ।
উত্তর : ফরজ হজ্জের বদলী এমন ব্যক্তিকে দিয়ে করানো উত্তম, যিনি পূর্বে নিজে ফরজ হজ্জ আদায় করে নিয়েছেন। আর যদি এমন ব্যক্তিকে দিয়ে করানো হয়, যিনি পূর্বে নিজে ফরজ হজ্জ আদায় করেননি, তবে তার মাসাইল সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আছে, তাহলেও যে পাঠাবে তার বদলী হজ্জ আদায় হবে। তবে যিনি পূর্বে হজ্জ করেছেন তাকে দিয়ে করানোই উত্তম। অবশ্য নফল হজ্জের বদলী যে কোন ব্যক্তিকে দিয়েই করানো যায়। যদি সে সজ্ঞান, সাবালক মুসলমান হয় এবং হজ্জের মাসাইল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয়, তবে এমন ব্যক্তির জন্য বদলী হজ্জে যাওয়া জায়েজ নয়; যার নিজের উপর হজ্জ ফরজ এবং সেই ফরজ সে এখনও আদায় করেনি। কেননা, যার উপর হজ্জ ফরজ হয়েছে, তবুও সে তা আদায় করল না, বরং তার ফরজ হজ্জ আদায়ে অবহেলা করল। এমন ব্যক্তির দ্বারা অন্যের বদলী হজ্জের হক কতটুকুই বা পালন হতে পারে?
উল্লেখ্য, যিনি বদলী ফরজ হজ্জ আদায় করবেন, তার হজ্জে ইফরাদের নিয়ত করা উত্তম। তবে হজ্জে কিরানের অনুমতি পাওয়া গেলে তাও করতে পারেন। তবে কুরবানী নিজের পক্ষ থেকে করতে হবে। প্রেরণকারীর দেয়া জরুরী নয়। কিন্তু কোন ক্রমেই হজ্জে তামাত্তু- এর নিয়ত করবে না। আর যেহেতু হিসাব রেখে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয়ার অনেক ঝামেলা হয়, এ জন্য প্রেরণকারীর নিকট থেকে প্রদত্ত টাকা খরচের সাধারণ অনুমতি নেয়া উত্তম। [আলমগীরী : ১/২৫৭, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৩]

হজ্জ ও উমরার ফজিলত

১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যে হজ্জ গোনাহ এবং খারাবী থেকে পবিত্র হয়, জান্নাতই হল তার পুরস্কার। [বুখারী ও মুসলিম]
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : এক উমরার পর আরেক উমরা করলে দুই উমরার মধ্যবর্তী সব গোনাহ মোচন হয়ে যায়। [প্রাগুক্ত]
৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্জ করে এবং হজ্জের প্রাক্কালে অশ্লীল কথা, কাজ ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে মায়ের পেট থেকে জন্ম গ্রহনের দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। [প্রাগুক্ত]
৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : একাধারে হজ্জ ও উমরা করতে থাক। এটা পাপ ও দরিদ্রতাকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেমন আগুন লোহার ময়লা দূর করে দেয়। [তিরমিযি, নাসায়ী]
কাদের উপর হজ্জ ফরজ
১. যার নিকট মক্কা শরীফ থেকে হজ্জ করে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের আবশ্যকীয় খরচ বাদে মক্কা শরীফ যাতায়াতের মোটামুটি খরচ পরিমাণ অর্থ থাকে তার উপর হজ্জ ফরজ। ব্যবসায়িক পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমির মূল্য এ অর্থের হিসেবে গণ্য করতে হবে।
২. মেয়ে লোকের জন্য নিজ স্বামী বা নিজের কোন বিশ্বস্ত দ্বীনদার মাহরাম পুুরুষ ব্যতীত হজ্জে যাওয়া দুরস্ত নয়। শুধু এমন কোন মহিলা থাকা যথেষ্ট নয়, যার সাথে তার মাহরাম পুরুষ রয়েছে।
৩. অন্ধের উপর হজ্জ ফরজ নয় যত ধনই থাকুক না কেন?
৪. নাবালেগের উপর হজ্জ ফরজ হয় না। নাবালেগ অবস্থায় হজ্জ করলেও বালেগ হওয়ার পর সম্বল হলে পুনরায় হজ্জ করতে হবে।
হজ্জ ফরজ হওয়ার পর না করা বা বিলম্ব করা
১. হজ্জ ফরজ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সেই বৎসরই হজ্জ করা ওয়াজিব, বিনা ওজরে দেরি করা পাপ। ছেলে মেয়ের বিবাহ শাদী দেয়ার জন্যে বা বাড়ি তৈরী করার জন্যে বিলম্ব করা কোন গ্রহণযোগ্য ওজর নয়। শেষ বয়সে হজ্জ করব; এমন ধারণাও ভুল। বরং বয়স থাকতে হজ্জ করতে গেলেই হজ্জের ক্রিয়াদি ভালভাবে আদায় করা সহজ হয়।
২. হজ্জ ফরজ হওয়ার পর আলস্য করে বিলম্ব করলে এবং পরে গরীব বা শক্তিহীন হয়ে গেলেও ঐ ফরজ তার জিম্মায় থেকে যাবে- মাফ হবে না, যে কোন উপায়ে তাকে হজ্জ করতে হবে বা মৃত্যুর পূর্বে বদলী হজ্জের ওছিয়ত করে যেতে হবে।
৩. মাতা-পিতার হজ্জের পূর্বে সন্তান হজ্জ করতে পারে না- এই ধারণা ভুল। অতএব এ ধারণার বশবর্তী হয়ে হজ্জে বিলম্ব করা গ্রহণযোগ্য ওজর নয়।
৪. হজ্জ ফরজ হওয়া সত্বেও যে হজ্জ না করে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য ভীষণ আজাবের সংবাদ দেয়া হয়েছে। এরূপ লোক সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে : সে ইয়াহুদি হয়ে মরুক বা নাসারা হয়ে মরুক।
হজ্জের সফরের আদবসমূহ
১. নিয়ত খালেছ করে নিবেন অর্থাৎ আল্লাহকে রাজি খুশি করার নিয়ত রাখবেন। নাম শোহ্রত, দেশ ভ্রমন, আবহাওয়া পরিবর্তন, হাজি উপাধি অর্জন ইত্যাদি নিয়ত রাখবেন না।
২. খাঁটি অন্তরে তওবা করতে হবে অর্থাৎ কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, এখনই গোনাহ বর্জন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে গোনাহ না করার পাকাপোক্ত নিয়ত করতে হবে। কারও টাকা-পয়সা বা সম্পদের হক নষ্ট করে থাকলে তার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে হবে। পাওনাদার জীবিত না থাকলে তাদের উত্তরাধিকারীদের থেকে তার নিষ্পত্তি করে নিতে হবে। সেরূপ কারও সন্ধান না পেলে পাওনাদারের সওয়াবের নিয়তে পাওনা পরিমাণ অর্থ তার পক্ষ থেকে দান করে দিতে হবে। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
৩. মাতা-পিতা জীবিত থাকলে এবং তাদের খেদমতে থাকার পয়োজন থাকলে তাদের এজাজত ব্যতীত নফল হজ্জে গমন করা মাকরূহ। খেদমতের প্রয়োজন থাকলে ফরজ হজ্জে এজাজত ব্যতীত যাওয়া মাকরূহ নয়, যদি পথ ঘাট নিরাপদ থাকে। মাতা-পিতার উচিত এজাজত দিয়ে দেওয়া।
৪. সফর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সময়ের জন্য পরিবার পরিজন ও অধিনস্থদের প্রয়োজনীয় খরচাদির ব্যবস্থা করে যেতে হবে।
৫. কোন ঋণ নগদ আদায় করার থাকলে পাওনাদারের অনুমতি গ্রহণ করবেন। তার অনুমতি ব্যতিত হজ্জে গমনকরা মাকরূহ। তবে যদি কাউকে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করে যাওয়া যায় এবং পাওনাদারগণ তাতে সম্মত থাকে, তাহলে অনুমতি ব্যতিতও যাওয়া মাকরূহ হবে না। আর ঋণ যদি নগদ আদায় কারার না হয় বরং মেয়াদী থাকে এবং মেয়াদের পূর্বেই হজ্জ থেকে ফিরে আসার হয়, তাহলে সেই পাওনাদারের অনুমতি গ্রহণ ব্যতিতও হজ্জে গমনে কোন অসুবিধা নেই। তবে পাওনা দাওনা সম্পর্কিত একটি তালিকা তৈরী করে রেখে যাবেন।
৬. নিজের কাছে কারও থেকে ধার করা জিনিস বা কারও আমানত থাকলে তা মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে যাওয়া চাই।
৭. সফরে গমনের পূর্বে কোন বিচক্ষণ অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে সফরের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে পরামর্শ করে নিন।
৮. উত্তম সফরসঙ্গী নির্বাচন করুন। পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আলেম হলে উত্তম হয়, যার কাছে প্রয়োজনে হজ্জের মাসায়েল ইত্যাদি জেনে নেয়া যাবে। আলেম না পেলে অন্ততঃ একজন অভিজ্ঞ দ্বীনদার হাজিকে সফরসঙ্গী বানানোর চেষ্টা করবেন।
৯. হজ্জের মাসায়েল শিক্ষা করে নিবেন। হজ্জের মাসায়েল শিক্ষা করাও ফরজ। দু’আ কালামের ফজিলত আছে, তবে দু’আ কালামের উপর জোর দিতে গিয়ে জরুরী মাসায়েল থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন হওয়া উচিত নয়। হজ্জ ও উমরা সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য মাসায়েলের কিতাবও সাথে রাখা চাই। যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে কিতাব দেখে নেয়া যায়। অনেকে তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদির দু’আ মুখস্থ করতে পারেন না বলে হতাশ হন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই, একান্ত মুখস্থ করতে না পারলে এসব দু’আ ব্যতীতও হজ্জ হয়ে যাবে। তবে এসব দু’আ সুন্নাত বা মুস্তাহাব, তাই সম্ভব হলে হিম্মত করে আমল করার চেষ্টা করুন।
১০. হজ্জ উমরার সফর একটি বরকতময় সফর। এ সফরে সফরের যাবতীয় সুন্নাত আদব ইত্যাদি আমল করা চাই।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

"প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান "



সময়ের আলোচিত একটি নাম ।তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ ।ছোট বেলায় তার পিতা[ যিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ ] অনেক আবেগ আর ভালবাসা নিয়ে পুত্রের নাম নবীজী সা. এর নামের সাথে মিল রেখে মুহাম্মাদ রেখেছেন । বাদশাহ সালমান নিজেও একজন হাফেজে কোরআন ।নিজের সন্তানকেও দ্বীনী পড়া লেখা করিয়েছেন । প্রিন্স মুহাম্মাদের পাশ্চত্য কোন সার্টিফিকেট নেই, তিনি কাবা শরীফের ইমাম সাহেবদের নিকট পড়া লেখা করেছেন ।

.ছোট বেলা থেকেই তিনি দেশ জাতী ও বিশ্ব মুসলীম উম্মাহ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতেন ।
তিনিই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছেন ।
.
তিনি বাদশাহ সালমানের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োজিত আছেন ।
তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা পূণরুদ্ধারে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
.
এরই ধারাবাহিকতায় ইখওয়ানুল মুসলিমীন, ফিলিস্তিন মুক্তি সংগঠন হামাস, তুরস্কের আশাজাগানিয়া নেতা ও মুসলীম উম্মাহর গর্ব প্রেসিডেন্ট এরদোগান সহ বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে ।
এবং হামাস প্রধান খালেদ মাশআল সহ সংগ্রামী ব্যক্তিদের সাথে গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক করা হয় ।
.
আর এ সকল মতবিনিময় ও বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রিন্স মুহাম্মাদ । তিনি আরবীয় খান্দানে এক ভীন্ন চিন্তার মানব হিসাবে খ্যাত ।
তার সর্বদা একটাই চিন্তা, তা হল বিশ্ব মুসলীমের হারানো গৌরব ফের আদায় করা ।
.
বর্তমান বাদশাহর আমলে সৌদী নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে । আর এ সব কিছুই সাধিত হয়েছে যুবরাজ মুহাম্মাদের পরামর্শে ।
-কারন, তার চেতনা একেবারেই স্বচ্ছ ।
হারাম শরীফের ইমাম সাহেবগন ছোটবেলা থেকে তাকে আপোষহীনতার শিক্ষাই দিয়েছেন ।
তিনিই সৌদির শত্রু মিত্র নির্ধারন করে দিয়েছেন । বর্তমান সৌদি জনগন আশার প্রহর গুনছেন, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যত নেতৃত্ব হিসেবে সৌদীর বুকে আশার প্রদীপ জ্বালাবেন যুবরাজ 'মু হা ম্মা দ '।
.
তার পরামর্শেই ইরানী হিংসুক শিয়াদের হাত থেকে ইয়ামানকে বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে ইয়ামানে বিমান হামলা করে সৌদী ।
.
সৌদীতে এরকম সাহসী ও সংগ্রামী ব্যাক্তির অস্তিত্বের জন্যই শীয়াগোষ্ঠী ও ইহুদীরা সবচে আতঙ্কে আছে প্রিন্স মুহাম্মাদকে নিয়ে ।
তাই তাকে ফাসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করে মিনা ট্রাজেডী ঘটানো হয় । এবং যুবরাজের ইমেজ ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয় ।
.
আজ সৌদী মিডিয়া এঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে । এবং ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রকারী ইরানীদের হুশিয়ার জানানো হয়েছে ।
এবং আরো জানা গেছে, সৌদি সরকার ঘটনার তদন্ত করতে বজ্রকঠিন শপথ নিয়েছেন ।
এবং শত শত সিসি ক্যামেরার চূলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ।অপরাধীদের কড়া শিক্ষা দেয়া হবে ।
.
শীর্ষ নিউজ জানিয়েছে, হাজীদের মৃত্যুর ঘটনাটি একটি ষড়যন্ত্র ।
মুসলীম উম্মাহর হৃদস্পন্দন মক্কাকে কলুষিত করতেই এই অপচেষ্টা করা হয়েছে ।
এবং ভবিষ্যত সৌদীর শক্তীশালী নেতৃত্বের অবসান ঘটানোর জন্যই একাজ করেছে শত্রুরা ।
-জানা গেছে, সৌদী আরব শুধু মাত্র হাজীদের সম্মানে হজের সময় যে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যবস্হাপনা করে থাকে,
তা দিয়ে ৫০ টি ফুটবল বিশ্বকাপ একবারেই আয়োজন করা যাবে অনায়াসেই । এত নিরাপত্তার পর ও এই অনাকাঙ্খি ত ঘটনা রহস্যময় ইতিহাস হয়েই থাকবে । বিশ্ব জনমত সে কথাই বলে ।
.
-এরপর ও সৌদী আরবকে কলঙ্কিত করতে ও মুসলীম বিশ্বের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে । আর এতে নাটের গুরু হিসেবে কাজ করছে ইহুদী, খৃষ্টানদের সাথে হাত মিলানো শীয়াগোষ্ঠী ।
.
-আমরা আশাবাদী, সৌদীর আগামী তরুন প্রজন্ম ও নব্য তুর্কীরা ইসলাম বিদ্বেষীদের সকল ষড়যন্ত্রকে ধুলিৎসাত করে দিবে ইনশাআল্লাহ ।
.
-বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও গোয়েন্দা রিপোর্টে আশা করা যায়, নতুন আরেকটি ইসলামী বিপ্লবের অপেক্ষায় দুনিয়া ।
আর সেটা হয়তো আসবে আরবের ভূমি থেকেই । যার সহযোগী থাকবে নব্য তরুন তুর্কীরা ।
যার সমর্থনে থাকবে হাজার মাইল দূরে, বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমাদের মত নবী প্রেমিক ঈমানদ্বীপ্ত তৌহিদী ছাত্র জনতা ।
.
আর সেই আন্দোলনে ইসলামী দুনিয়ার নেতৃত্ব চলে যেতে পারে আজকের যুবরাজ মুহাম্মাদ এর হাতে । তার চেহারার গভীর ছাপ সে কথারই প্রতিনিধিত্ব করে ।
তার চেহারার মাঝে লুকিয়ে আছে বিজয়ের অভিপ্রায় ।
.
-বিজয় মুসলমানদের পদচুম্বন করবে ।
যুবরাজ মুহাম্মাদের নেতৃত্বেই আসতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে অন্যধরনের এক পরিবর্তন । যা হয়তো পাশ্চত্য দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিবে ।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিসংখান সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে আমাদের ।
সেই আশার আলোর সোনালী প্রভাতের অপেক্ষায়....


এই বছর হজ্ব থেকে সাউদি সরকার যত টাকা আয় করলো!

অনেকেই নাস্তিক- সাউদি বিদ্বেষী - শিয়া- বিদাতীদের অপপ্রচারের কারনে মনে করেন হজ্বের থেকে লক্ষ লক্ষ রিয়াল আয় হচ্ছে সাউদি সরকারের! আর এটা দিলেই সাউদি সরকারের অর্থনীতি টিকে আছে! এটা যদি কেউ বলে যে, বিশ্ব ইজতেমায় লক্ষ লক্ষ বিদেশি মুসুল্লি আসে বলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে- তাহলে কথাটা কেমন শোনাবে? তার চেয়েও বেশি অবান্তর সৌদি অর্থনীতি নিয়ে বলাটা। শুধুমাত্র অজ্ঞতা এবং বিদ্বেষ থেকেই এসব কথা আসে।
কুয়েতে নিযুক্তসৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল আজিজ আল ফায়েজ বলেনঃ "সৌদি আরব হজ্জ ভিসার কোন বিনিময় নেয় না, ভিসা সম্পূর্ণ রূপে ফ্রি, আমরা জানতে পেরেছি কিছু অসৎ এজেন্সি মালিক হাজীদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছে সৌদি আম্বাসির কথা বলে,
যারা এর বিনিময় নেয় এবং দাবি করে সৌদি আম্বাসি ভিসার ফি নিচ্ছে তারা চোর।"
আচ্ছা! যদি হজ্বের জন্য ভিসা ইস্যু করে কোন প্রকার টাকা না-ই রাখে সাউদি সরকার হাজীদের কাছ থেকে! তাহলে বাংলাদেশ থেকে হজ্বে আসতে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা কেন লাগে! হ্যাঁ, এই টাকা গুলো মুলত যারা হজ্ব এজেন্সির দায়িত্বে আছেন তারা নিয়ে থাকেন হাজীদের নানা ধরনের সুযোগ সুবিদার বিনিময়ে। বিমানের টিকেটের দামই এখন ৪০-৫০ হাজার টাকা, আর মাক্কাহ মাদিনাতে দীর্ঘ একমাস থাকা খাওয়া+ যাতায়াত খরচা খচর বাবদ দুই লাখ টাকা এটা কি এমন কিছু??? আপনারা যারা মালয়শিয়া- থাইল্যান্ড- সিংগাপুর যান ঘুরতে তাদের তো এক সাপ্তাহ থেকেই এর থেকে বেশী টাকা খরচ হয়ে যায়।
আর হজ্ব থেকে আয়লদ্ধ টাকা দিয়ে সাউদি সরকারের দেশ চালানো লাগে না আলহামদুলিল্লাহ! saudi Aramco সাউদির রাষ্ট্রীয় পেট্রোল উত্তোলন কারী কোম্পানির এক দিনের আয় দিয়েই এমন ১০/১৫ টা হজ্বের থেকে যা আয় হয় (সাউদি বিরধী রা যা ভাবে) তার থেকে অধিক। আলে সাউদ তথা সাউদি সরকার হজ্ব কে বানিজ্য হিসেবে নেয় না! তারা এই হাজীদের খেদমত করাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উসিলা হিসেবে দেখে থাকে এবং তাদের বংশের একটা ঐতিহ্য হিসেবেও দেখে থাকে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মিনা ট্রাজেডি: রহস্যের জট খুলবে কি আদৌ ?

১৪৩৬ হিজরীর হজ্ব এক বিষাদময় ট্রাজেডিক উপাখ্যান হয়ে রইল ৷ পবিত্র মসজিদে হারামে ক্রেন উপড়ে গিয়ে শতাধিক প্রাণহানীর পর জামারাতের পথে মিনায় পদপিষ্ট হয়ে প্রচারিত মতে প্রায় আটশত হাজি মর্মান্তিকভাবে নিহত হন ৷ অনেকের আশংকা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এরচেয়ে আরো অনেক বেশি ৷ দুঃখজনক বিয়োগান্তুক ঘটনাগুলোর পর স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম বিশ্বে এক দিকে যেমন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সেইসাথে উঠেছে সমালোচনার ঝড় ৷ চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনাও ৷ কেউ কেউ নিছক দুর্ঘটনা ও হাজিদের বিশৃংখলাকে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করলেও অনেকে এগুলোকে স্রেফ সউদি সরকারের গাফলতি ও ত্রুটির ফলাফল বলে সমালোচনা করছে ৷ কেউ কেউ আবার ঘটনাগুলোকে স্যাবোটাজ হিসাবেও আখ্যায়িত করছে ৷ ব্যপকহারে আল্লাহর নাফরমানি, সৌদি ও মুসলিমবিশ্ব জুড়ে পাপ-পঙ্কিলতার বিস্তার ও আরব শাসকদের সীমাহীন ভোগবাদিতার ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাকড়াও ও গজব হিসাবেও বিশ্লেষণ করছে অনেকে ৷
তবে ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ হিসাবে একাধিক বিষয়ের পর্যালোচনা আসা বিচিত্র কিছু নয় ৷
ক্রেন দুর্ঘটনার ব্যপার যাই হোক মিনার ঘটনায় সৌদি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুল পদক্ষেপ ও তাদের খামখেয়ালিপনাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই ৷ বরং বলা চলে তাদের ভুল সিদ্ধান্তই এই ভয়াবহ ট্রাজেডির মূল কারণ ৷
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দুর্ঘটনাস্থলে বিপদের শিকার আমার একান্ত এক বন্ধুর মুখে ঘটনার যে বিবরণ শুনেছি তা অনেকটা এমন-
মুযদালিফা থেকে জামারাতে আসার জন্য বড় বড় কয়েকটি পায়ে হাটার পথ আছে ৷ প্রতিটি পথ ধরেই মুযদালিফায় সমবেত হাজি সাহেবান সকাল থেকে জামারাতের উদ্দেশ্যে চলা শুরু করেন ৷ এবং প্রতিটি পথ ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে জামারাতে পৌঁছে যায় ৷ একটি পথ অপর পথের সাথে ক্রসিং হয় না ৷ সে মতে কিং ফয়সাল মহা সড়ক ধরে জামারাতগামী হাজিদের দলটি যখন চৌরাস্তায় পৌঁছে তখন সেখানকার দায়িত্বরত বাহিনী এ মহাসড়কে আগত হাজিদের গতি ঘুরিয়ে দেয় অপর আরেকটি মহা সড়কের দিকে ৷ অথচ এক মহাসড়ক থেকে অপর মহাসড়কে যাওয়ার জন্য সেখানে বড় প্রশস্ত কোনো সংযোগ সড়ক ছিল না ৷ ফলে লাখো হাজিদের এ স্রোতটি তাবুর ভিতরের ছোট পথ ধরে অগ্রসর হতে আরম্ভ করে ৷ মহাসড়কের বিপুল পরিমাণ মানুষ সংকীর্ণ পথে ঢুকতেই সেখানে প্রচন্ড ভীড় তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই চলার গতি শ্লথ হয়ে আসে ৷ কিন্তু পেছন থেকে ধেয়ে আসা স্রোতের তো কোনো কমতি ছিল না ৷ এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু কিছু দুর্বল মানুষ ভীড়ের ধাক্কা শামলাতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে ৷ আর রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষাকৃত চাপ বেশি হওয়ায় শক্তিশালী সবল মানুষগুলো তাবুর গ্রীল বেয়ে উপরে উঠে যেতে শুরু করে ৷ রাস্তায় পড়ে যাওয়া দুর্বল মানুষগুলোকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জটলাও তৈরি হতে থাকে ৷ এতে ভীড়ের চাপ আরো বেড়ে যায় ৷ ইত্যবসরে আহতদের সাহায্যে বিপরিত দিক থেকে এ্যাম্বুলেন্সগাড়ী ঢুকে পড়ে সরু রাস্তায় ৷ এতে সামনে এগুনোর পথ স্বাভাবিকভাবেই আরো সংকুচিত হয়ে যায় ৷ কিন্তু পিছন দিক থেকে তো জনস্রোতের চাপ ক্রমাগত বাড়তেই থাকে ৷ আর এভাবেই এক পর্যায়ে একজনের উপর আরেকজন তার উপর আরেকজন তারপর মানুষের সারির উপর মানুষের সারি আছড়ে পড়তে থাকলে স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ট্রাজেডি তৈরি হয় ৷ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে একথাও এসেছে যে, বিপর্যস্ত মানুষগুলোর পেছনের দিকে ইরানী শিয়াদের বড়সড় একটা দল ছিল যারা কি না অনেক আহত ব্যক্তিদের উপর আরো বেশি চাপ তৈরি করেছে ৷
এই হল আমার বিশ্বস্ত বন্ধুর সরাসরি বরাতে প্রাপ্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ ৷
মহা সড়ক বন্ধ করে লাখো মানুষের জনস্রোতকে সংকীর্ণ পথের দিকে ঠেলে দেওয়ার কারণ হিসাবে চাউর হয়েছে যে, প্রিন্সের গাড়ী বহরকে পথ তৈরি করে দিতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং সংবাদটি সম্ভবত ইরানী মিডিয়া থেকে প্রচারিত হয়েছে ৷ ঘটনার পরপরই ইরানী মিডিয়া সৌদি সরকারকে দায়ী করে সংবাদ প্রচার শুরু করে এবং সরাসরি অভিযোগ দায়ের করে ৷
ঘটনার আদ্যপান্ত এবং প্রকৃত দায় কার সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবরণ মিডিয়াতে আসার রেওয়াজ এখানে নেই ৷ তাই এমন আশা করা অবান্তর যে, প্রকৃত ঘটনার বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ হবে ৷
এমনিতে তো স্বাভাবিক হিসাবে সকাল আটটার দিকে উল্টো পথ দিয়ে কোনো প্রিন্সের গাড়ীবহর আসার কোনো বাস্তবতা নেই ৷ তাদের জন্যতো হেলিকপ্টারে করেই আসার ব্যবস্থা থাকে ৷ সেক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি হবে, তাহলে জামারাতগামী কিং ফয়সাল মহাসড়কের হাজিদের গতি কী কারণে সরু পথের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হল? এখান থেকেই বিষয়টিতে রহস্যের জটলা পাকায় ৷
হজ্বের সফরে এসে আমি এখানকার অনেকের সাথে বর্তমান সৌদি বাদশাহর নীতি-পলিসি বিষয়ে আলোচনা করেছি ৷ এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমেও বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার ৷
বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান এবং তার শাসনকাল তার পূর্বসূরি বাদশাহ আব্দুল্লাহর শাসনকাল থেকে বেশ কিছু বিষয়ে ব্যতিক্রম ৷ যেমনটা ভিন্ন ভিন্ন তাদের দুজনের ব্যক্তিচিন্তা ও রাজনৈতিক দর্শন ৷ বাদশাহ আব্দুল্লাহর প্রশাসনে সেক্যুলার চিন্তার লোকদের প্রভাব ছিল বেশি ৷ তারা মুসলিম ও আরব বিশ্বের সাথে বৈরিতা নিয়ে চলত ৷ সেই তুলনায় সালমান নাকি অনেকটাই বিপরিত চিন্তার ৷ সে কুরআনের হাফেজ ৷ তার পররাষ্ট্র নীতিও মুসলিমবিশ্ব কেন্দ্রিক ৷ আর তাই সালমান বাদশাহ হওয়ার পরই তার মন্ত্রিসভায় বড় রকমের পরিবর্তন আনে ৷ সে তার প্রধান নায়েব তথা যুবরাজ মিকরিন বিন আব্দুল আযীয ও বান্দার বিন আব্দুল্লাহসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন করে ৷ যাদের ব্যপারে পশ্চিমা অনৈসলামিক আনুকুল্যের অভিযোগ রয়েছে ৷ এভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরিবর্তনসহ সালমান নতুন ভাবে মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজায় ৷
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দাড় করিয়ে নামাযে চলে যাওয়া সালমানের সাহসী কর্ম হিসেবে পরিচিতি পায় ৷ মুসলিমবিশ্বের বর্তমান অন্যতম চিন্তাশীল নেতা এরদোগানের সাথে নাকি সালমানের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ৷ ইখওয়ানুলমুসলিমীনের ব্যাপারেও সালমানের চিন্তা আব্দুল্লাহর চেয়ে ভিন্ন রকম ৷ মিশরের সিসিকে প্রদত্ত সৌদি সহযোগিতাও বন্ধ করে দিয়েছে সালমান ৷ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মাথা গজিয়ে ওঠা শিয়া ফেতনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ৷ আর শিয়াদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও উস্কানী দেয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা ইহুদী-খ্রীষ্ট শক্তি ইসলামী শক্তিকে দুর্বল করে রাখতে চায় ৷ মালিক সালমান শিয়াদের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ৷ সঙ্গত কারণেই সৌদি নেতৃত্ব নতুন এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ৷ ভিতরে-বাইরে বর্তমান নেতৃত্বকে কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হচ্ছে ৷ এসকল কারণে এমন সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, খুবই সুক্ষ্ম কোনো পরিকল্পণার আলোকে একটি প্রতিকুল অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে ৷ শোনা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে ইরান জাতিসংঘে তোলপাড় সৃষ্টি করবে ৷ পূর্বাপর এসকল পরিস্থিতি দৃষ্টে একথা শতভাগ নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, রহস্যের জট খুলে পুরো ঘটনা তার কার্যকারণসহ খোলাসা হওয়া কঠিন ৷
সুতরাং এক্ষেত্রে পক্ষ-বিপক্ষ কোনো দিকে দৃঢ় অবস্থান গ্রহন করার আগে অনেক কিছু জানতে হবে এবং ভাবতে হবে ৷ সেইসাথে মালিক সালমানের সৌদি আরব-এরদোগানের তুরস্ক-মিশরের ইখওয়ান ও নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মিলে মুসলিম বিশ্বে নতুন মেরুকরণের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং একইসাথে এই সম্ভাবনার বিপরিতে কুচক্রী শিয়া গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও তাদের প্রতি পশ্চিমা আনুকুল্যের বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে ৷ কোনো কিছুই বর্তমানে খুব সরলভাবে বিবেচনা করা যায় না ৷
২৮শে সেপ্টেম্বর' ১৫
পবিত্র মক্কা মুকাররমা

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মিনা ট্রাজেডি ও মিডিয়া যুদ্ধ


মিনার শাহাদতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান লেবানন ইয়ামান ও হাসান নাসরুল্লাহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে মিডিয়ায়৷ তথ্যযুদ্ধ৷
যারা হজে গিয়েছেন তারা জানেন সৌদী কোনো পুলিশ হাজীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন না৷ ধমক দেন না৷ হজের কাজে সহযোগীতা করেন৷ হাজীদের সেবায় থাকেন৷ ত্রিশ লাখ মেহমানকে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ কোনো বিষয় নয়৷সৌদী শাসকদের নানা বিলাসীর কথা থাকলেও খাদেমুল হারামাইন যথাযথ খাদেম কাবার ও মসজিদে নববীর৷ তারা এই খেদমতকে ইবাদত মনে করে৷ কুরআনের খেমতও অকল্পনীয়৷ পৃথিবীর নানা ভাষায় কুরআনুল কারীমের অনুবাদ তাফসীর প্রকাশ করে সৌদী শাসক৷ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয় সারা পৃথিবীতে৷ দাঈদের নানাভাবে সহযোগীতা করে৷ নানা পজেটিভ বিষয় আছে তাদের৷ যুগ যুগ ধরে যারা হাজীদের সেবা দিয়ে আসছেন এক মিনার শাহাদতের ঘটনা তাদের সব খেদমাহ শেষ বিষয়টি এমন ভাবনার সুযোগ নেই৷ হারামাইনের কর্তপক্ষে সবকে রাখতে হবে এমন দাবি কেউ কেউ করে ৷ ইরানীরাও তা বলে কিন্তু এটি অবাস্তব দাবি৷ আজ দেখলাম হিজবুল্লাহর হাসান নাসরুল্লাহ সৌদীর ব্যর্থতার কথা কথা বলে একই কথা বলছে৷ তাহলে সিরিয়ার কর্তিত্ব ও ইরানের কর্তিত্ব অণ্যকে দেওয়া হোক৷ কিন্তু তারা লাখ লাখ উদ্বাস্তু করছে কিন্তু নিজের মসনদ ছাড়তে তারা রাজী না৷ মক্কা মুমিনের ভালোবাসা৷ হজ ইবাদত এইখানে ইরানীদের তথাকথিত আমেরিকা মুর্দাবাদ শ্লোগানের জায়গানা৷ সৌদী সরকারকে ভাবতে হবে যারা হজকে শ্লোগান আর রাজনৈতিক প্রচারের জায়গা মনে করে তাদের হজভিসা দেওয়া যাবে না৷ ইবনে ছাবার দল হজে আসে কি করে? তবে হজের সময় সৈনিকদের লেবাস ও জাহেরি সুরতে ইসলাম থাকতে হবে৷ যেমন মহিসা পুলিশের পোষাক ইসামামী শরীয়াহ সম্মত৷ কাবা শরীফ সবার তবে যেকেউ এর খাদেম হবে বিষয়টি অবাস্তব৷ হজ নিয়ে যারা নানা অপপ্রচার করে৷ হজে যারা নিরাপত্তা নষ্ট করে৷ যারা হজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার মনে করে৷ যারা সুন্নিদের রক্ত পান করে সিরিয়া আফগান ও ইরাকে তাদের মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না৷ মক্কাতুল মোকাররমা, হারামাইনের সীমানায় কোনো হলুদ মিডিয়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে৷ অমুসলিম ও বর্ণচোরা মুসলিমের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আরও সজাগ থাকতে হবে৷ যারা শাহাদত বরন করেছেন তাদের পরিবারের জন্য সবরে জামিলের দুআ করি আমরা৷ সব আল্লাহর মেহমান নিরাপদে স্বদেশে ফিরে আসুন এই দুআ করি৷ মিডিয়ায় নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য আসছে৷ আফসুস সৌদী বা মুসলিম উম্মাহর আন্তর্জাতিক কোনো মিডিয়া নেই৷ নিউজ এজেন্সিও নেই৷ কোনো চ্যানেলও নেই৷ তথ্যের যুদ্ধে মুসলিম পরাজিত৷
কবে জাগবে জানি না৷ তবে জাগতেই হবে দেড়শ কোটি মুসলিমকে৷

সৌদি বাদশার প্রতি অনেক অভিমান ছিল কিন্তু গত দুই দিনের কিছু খবর পড়ে তা অনেক কমে গেছে ..

মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা তে ইসরাইলি পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে ফোন করে ইসরাইলের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যে কোন ধরনের আগ্রাসনের জন্য ইসরাইলকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করবে সৌদি সরকার!!
আরেক খবরে দেখলাম, এই বছর বাদশা সালমানের রাজকীয় মেহমান হিসাবে পবিত্র হজ পালন করতে গেছে বিশ্বের ৭০ টি দেশের প্রায় ২৪০০ জন মানুষ, এর মধ্যে ১০০০ জন হচ্ছে ফিলিস্তানের ইসরাইলি বর্বরতায় নিহতদের পরিবার!
অন্য খবরে দেখলাম, জার্মানিতে এবং ইউরোপে যেসব সিরিয়ান উদ্বাস্তু যাচ্ছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ফান্ড করছে সৌদি সরকার!
মসজিদুল হারামে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের এবং আহতদের জন্য বাদশা সালমান দিয়েছেন বিশাল অংকের আর্থিক অনুদান, এবং রয়েছে আগামী বছর রাজকীয় মেহমান হিসাবে হজের আমন্ত্রন নিহতদের পরিবারের জন্য।
হুতি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশী নাগরিকের পরিবারের দুই জন করে আগামী বছর বাদশা সালমানের মেহমান হিসাবে হজ করতে আমন্ত্রিত হয়েছেন!
সৌদি আরব দেশটি আসলে আমাদের কাছে একটি আবেগের নাম,
তাই সেই দেশটি যখন বিশ্বের কোন মুসলমান নির্যাতিত হয় দেখেও চুপ থাকে তখন রক্ত ক্ষরণ হয় সবার অন্তরে, ক্ষোভে বা কষ্টে অনেকেই গালিগালাজ করি সৌদি সরকারকে !
তাই উপরোক্ত কিছু খবর আসলেই অনেক বেশী ভালো লাগছে!
ভালো লেগেছে মুসলমান ভ্রাতিত্ববোধ দেখে।

মিনা দুর্ঘটনায় সৌদিকে চাপ দিন: জাতিসংঘকে ইরান


শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের মিনায় ২০০০ হাজি নিহত ও শত শত আহত হয়েছে দাবি করে এ ঘটনায় রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।
আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মিনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় মৃত হাজির সংখ্যা বেড়ে ৭৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। হজ পালনকালে গত ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম ওই দুর্ঘটনায় ৯৩৪ জন হাজি আহত হয়েছেন।
এত হতাহতের পরও ওই ঘটনায় কোন দেশের কতজন হাজি নিহত বা আহত হয়েছেন, তা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া গেছে, তার পুরোটাই এসেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে।
ওই ঘটনায় ইরানের অন্তত ১৩৬ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে বলে তেহরানের ভাষ্য। এ ছাড়া মরক্কো, ক্যামেরুন, নাইজার, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, চাদ, সোমালিয়া, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তানজানিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশের হাজিদের হতাহত হওয়ার খবর রয়েছে।
মিনায় হাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় চাপে পড়েছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে ইরানের পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মিনায় পদদলিত হয়ে এত হাজির হতাহত হওয়ার ঘটনাকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য সম্পর্কে সৌদি সরকার কিছুই জানাচ্ছে না। একইভাবে হতাহত ব্যক্তিদেরকে দেশে ফেরত আনার বিষয়েও সহযোগিতা করছে না। এসব ঘটনায় তিনি সৌদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মানবাধিকার বিষয়ক সৌদি সরকারের আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন রিয়াদকে নির্দেশ দিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম বার্ষিক অধিবেশনের অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মিনা ট্রাজেডি নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়েও কথা বলেন ড. রুহানি।
তিনি বলেন, উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের সহিংসতায় লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে বলেও প্রেসিডেন্ট রুহানি মন্তব্য করেন।

শীর্ষ নিউজ/প্রমি