বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৬

মরিলে বিজ্ঞানী বাচলে জার্মানী


গতকালকে যে দুজন সমকামী আন্দোলন কর্মী নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজনের নাম মাহবুব রাব্বি তনয়। আজকে জাতীয় নাট্যশালার সামনে মাহবুব রাব্বি তনয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন সমকামী পত্রিকা রুপবানে ফটোশুটে মাহবুব রাব্বি তনয়ের কিছু ছবি। আজকে জাতীয় ন্যাট্যশালার সামনে নিহত তনয়ের লাশ সামনে রেখে নাট্য ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান বলেন, “৪৪ বছর আগে পাকিস্থানীরা যেভাবে পরিকল্পিতভাবে দেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল সেই একই ভাবে একের পর এসব হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।” (http://goo.gl/JR6Pny)
মন্তব্য : আমরা কি তনয়ের মত বুদ্ধিজীবি চেয়েছিলাম ?


মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬

অামরা একটা ঘুমন্ত জাতির সামনে দাঁড়িয়ে অাছি৷


যখন অামরা মসজিদে অাকসা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম অামি সারা রাত ঘুমাইনি৷ অাশংকা ছিল,পুরা অারবজাতি মধ্যপ্রাচ্য ইসরাঈলের উপর অাছড়ে পড়বে৷
যখন সকাল হল বুঝতে পারলাম, অামরা একটা ঘুমন্ত জাতির সামনে দাঁড়িয়ে অাছি৷
::::::::::জুলদা মাসির
জ্বালানো হয় 21/8/1968 সালে৷

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬

ফাঁসির দড়িতে ঝুলছে মরু সিংহ ওমর মুখতার রাহিঃ


ডান পাশের ছবিটা দেখুন। ফাঁসির দড়িতে ঝুলছে মরু সিংহ ওমর মুখতার রাহিঃ ১৯৩১ সালে তাকে ফাঁসি দিয়েছিল ইতালির বেনিতো মুসোলিনি। বাম পাশের ছবিটা মুসোলিনির। ১৯৪৫ সালে তাকে হত্যা করে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখে ইতালির জনগণ।  ১৪ বছর কি খুব লম্বা সময়? মনে রাখবেন আল্লাহ তা'য়ালা ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না।


মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৬

বাংলাদেশের কোন কোন খাবারে শুকরের চর্বি আছে! এবং কিভাবে আছে তার বর্ননা নিম্নে দেওয়া হল।

শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার। বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে। আর ইংল্যন্ডে বসবাস করার কারণে নিত্যদিন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের খাদ্য তালিকায় শূকরের মাংস একটি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় তালিকা। কেবল ইংল্যন্ডই নয় বরং পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর প্রাচ্য, অর্থাৎ পুরো খৃষ্ট বিশ্বেই প্রকৃত অবস্থাটি এমনই। এমনকি মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে, মুসলিম দেশসমুহে বসবাসকারী অমুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে শূকরের মাংস অতি কাংক্ষিত একটি খাদ্য মাধ্যম।

এই মাধ্যমটি যে আজ নতুন সৃষ্টি হয়েছে তা নয় বরং সেই মধ্যযুগের কিংবা তারও আগে থেকেই এটি বিদ্যমান। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এ থেকে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়েই বাজারজাতও করেছে। আজকাল পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি সমগ্র বিশ্বব্যাপি স্বাস্থ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ খাদ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ে বড় বেশী চিন্তিত এবং সজাগ। খাদ্যে চর্বির আধিক্যই হৃদরোগের প্রধান কারণ, সেটা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জেনে গেছে বিজ্ঞানের সুবাদে। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বিই কেবল থাকে না বরং সেই চর্বির মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানটির আধিক্যও সবচেয়ে বেশী। ফলে ইউরোপের সচেতন মানুষ শূকরের মাংস খেলেও এর চর্বিকে সব সময় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে। এর ফলে শূকর ব্যবসায়ী ও তার মাংস সরবরাহকারীদের একটা বড় অংশই অপচয় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এইসব অপচয় থেকে বাঁচার জন্যই ইউরোপ শূকরের চর্বির বিকল্প ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করেছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে। প্রথমে শূকরের চর্বি দিয়ে সাবান বানানো হয় এবং তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরে একইভাবে ঐ চর্বিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম তরল প্রসাধনী, ক্রিম ইত্যাদি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হয়, এটাও ব্যবসায়িক সফলতা পায়। বন্দুকের কার্তুজে এই শূকরের চর্বি ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথমে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিংবা তারও আগে।

যা হোক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোও তাদের উৎপাদিত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে এর ব্যবহার শুরু করে। সর্বপ্রথমে শরীরের অভ্যন্তরে সেলাই করার জন্য এমন এক ধরনের সুতোর দরকার পড়ে, যা ক্ষত শুকোনোর পরে খূলে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না, এবং শরীরের ভেতরে হবার কারণে তা সম্ভবও নয়, বরং সেলাই কাজে ব্যবহৃত এই সুতো আপনা আপনিই মানুষের মাংসের সাথে মিশে যাবে। এ চিন্তা থেকেই চিকিৎসকরা বেড়ালের অন্ত্রের চর্বি দিয়ে তৈরী করেন এক বিশেষ ধরনের সুতো, যা দিয়ে মানুষের দেশে অস্ত্রোপচারের সময় আভ্যন্তরীণ ক্ষত জোড়া দিতে ব্যবহার করা যাবে। শল্য চিকিৎসক বা সার্জনরা মানুষের শরীরে এরকম যে সুতোর ব্যবহার করেন তাকে ‘ক্যটগাট’ বলা হয়। বেড়ালের চেয়ে শূকরের প্রচলন বেশী এবং শূকরের মাংস ও চর্বি সহজ লভ্য হবার সুবাদে ইউরোপের শূকর খামার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এই সুতো নির্মাণে বেড়ালের পরিবর্তে শূকরের চর্বি ব্যবহারে। এবং তারা তা শুরুও করেন।

কিন্তু কিছু সচেতন মুসলমান ইউরোপীয় পণ্যসামগ্রীর গা’এ লিপিবব্ধ উপাদানের তালিকায় pig fat শব্দটি দেখে আঁতকে উঠেন। কারণ যে কোন মুসলমানের কাছে এই pig fat বা শূকরের চর্বি, তার মাংস বা রক্ত সকল কিছুই হারাম, এর যে কোন ধরনের পরোক্ষ ব্যবহারও হারাম। তারা তাদের ভাষণে-বিবৃতিতে, লেখা-লেখনীতে এ ব্যপারে জনগণকে যেমন সতর্ক করেন, তেমনি সরকারের কাছেও দাবী জানাতে থাকেন এইসব ইউরোপীয় পণ্য দেশে আমদানী করারা অনুমতি না দেবার। এর ফলে ইউরোপীয়রা তাদের পণ্যতে pig fat শব্দটির পরিবর্তে 'animal fat' শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।

ফলে ইউরোপীয়ান বাবস্যায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হারাতে বসে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে। আর এই বিকল্প পন্থাটইি হলো উৎপাদিত কোন বস্তু, তা খাদ্য সামগ্রী হোক বা ঔষধ পথ্য কিংবা প্রসাধনী কিংবা অন্য কিছু, তার গা’এ ইউরোপীয়ান আঈন অনুযায়ী উপাদান সমুহের নাম লেখা হবে বটে তবে সেই সব নামগুলো লেখা থাকবে বৈজ্ঞানিক কোন টার্ম কিংবা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে যেন সাধারণ জনগণ সেই সব নাম, সেইসব টার্ম পড়ে বুঝে উঠতে না পারে, আসলে এই জিনিসগুলো কী?

করপোরেট বাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসাীয় মহলের চাপে নতী স্বীকার করে সরকার উৎপাদকদের সাথে আপোষ করে এবং উৎপাদিত পণ্যের গা’এ সাংকেতিক ভাষায় উপাদানসমুহের নাম লিপিবদ্ধ করার অনুমিত দেয়। সেই থেকে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী কিংবা তা প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপাদানসমুহে, প্রসাধনী, ঔষধ কিংবা পথ্যের উৎপাদনে সাংকেতিক ভাষায় বিশেষ নাম বা E-Codes ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য একটি বিষয়।

এরকমই একজন মুসলিম টেকনিশিয়ান কাজ করতেন ফ্রান্সের Pegal শহরে অবস্থিত Departments of Food Administration এর মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বা ল্যবরেটরিতে। তিনি অনূসন্ধিৎষূ মন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বের করেছেন বেশ ক’টি E-Codes যার প্রত্যেকটিই শূকরের চর্বিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। একটি ওয়েব সাইটে Are we eating Pork? শিরোণামে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এক পাকিস্থানী বিজ্ঞানী ড: এম আমজাদ খান কর্তৃক প্রচারিত উক্ত তালিকায় শুকরের চর্বি থেকে প্রস্তুত E-Codes এর তালিকা নিম্নরুপ:

E100, E110, E120, E 140, E141, E153, E210, E213, E214, E216, E234, E252, E270, E280, E325, E326, E327, E334, E335, E336, E337, E422, E430, E431, E432, E433, E434, E435, E436, E440, E470, E471, E472, E473, E474, E475, E476, E477, E478, E481, E482, E483, E491, E492, E493, E494, E495, E542, E570, E572, E631, E635, E904. I

উক্ত তালিকায় উল্লেখিত E-Codes গুলোর বেশ ক’টি আমাদের দেশে প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় খাদ্যতালিকায় উপস্থিত দেখতে পাওয়া যায়। তার দু‘একটা নমুণা দেখুন, যেমন; নিচে উল্লেখিত তালিকায় খাদ্য দ্রব্যের নামের পাশে তাতে ব্যবহৃত E-Codes ও তুলে দেয়া হলো:

1 Cadburrys chocolate - E476

2 Igloo Ice Cream -E471,E433

3 Baskin Robbins Ice Cream E471

4 Foster Clarks Custard Powder-E110

5 Fadeco Ice Cream-E471

6 Nova Chewing Gum -E422

7 Demah Fresh -E422

8 Big Babool Chewing Gum

বলা বাহুল্য, উপরের তালিকায় উল্লেখিত প্রায় সবকটিই আমাদের দেশসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ছেলে বুড়ো'সহ সকলের কাছেই খুবই প্রিয়।

আল কুরআনে অন্তত চারটি জায়গায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শূকরের মাংস এবং মৃত জন্তু জানোয়ার আর সেইসব জানোয়ার যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে, মুসলমানদের জন্য হারাম করেছেন। তারই একটি আয়াত দেখুন:

তিনি তোমাদের উপরে হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত শূকর মাংশ এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতিত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নি:সন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু (সুরা আল বাক্বারা- ১৭৩)

এটা মোটমুটি অমুসলিম ব্যবসায়ীরা জানে, অন্তত তাদের সরকার ও জনগোষ্ঠির সচেতন অংশটি খুব ভালো করেই জানে, কিন্তু তারপরেও তারা ভিন্ন কৌশলে মুসলমানদেরকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় সেই হারাম বস্তু খাওয়াতে মনে হয় উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে কেবল যে তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থই আছে তাই নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত এক আগ্রাসী মনোভাব, যার মিল রয়েছে একমাত্র ক্রসেডের সাথেই।

Prof. Dr Mohammad Nurul Huq
Head of the Department of Pediatrics
Bangladesh Medical College and Hospital
R 14A, DRA, Dhaka 1209
Bangladesh

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৬

إنا لله وإنا إليه راجعون.



لحن حجازى کے بے تاج بادشاہ ميرے مشفق استاذ محترم استاذ المشائخ والقراء الشيخ محمد أيوب بن محمد يوسف رحمه الله امام مسجد نبوى شريف كا آج صبح بعد نماز فجر مدينه منوره میں انتقال ہوگیا ہے ۔۔ 
نماز جنازہ بعد نماز ظہر مسجد نبوی شریف میں ادا کی جائے گی تدفین بقیع قبرستان میں ہوگی۔

বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৬

মুসলিম বিশ্বের সঙ্কটে অন্যদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ না দিয়ে নিজেদেরই সমাধান করা উচিৎ: এরদোগান


সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ইসলামি সম্মেলনে সংস্থার (ওআইসি) অধীনে একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির ত্রয়োদশ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে বৃহস্পতিবার তিনি এ প্রস্তাব দেন।
‘আরো একবার আমি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানাই। মাঠে যেমন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই প্রয়োজন তেমনি এসব সংগঠনের আর্থিক ও জনশক্তিকেও টার্গেট করে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
‘সেজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। ওআইসির অধীনে একটি সংস্থা গড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা মজবুত এবং প্রাতিষ্ঠানিক করা হবে একটি সঠিক পদক্ষেপ।’
১৯৬৯ সালে ওআইসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবারই প্রথম তুরস্কে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে তুরস্ক।
এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
এরদোগান বলেন, মুসলিম বিশ্ব এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখোমুখি তা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। তিনি আফগানিস্তানে আল কায়েদার হাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর নিন্দা জানান।
‘আমাদের ধর্ম হচ্ছে শান্তি ও সমঝোতার ধর্ম।’
এরদোগান বলেন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্কটে অন্যদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ না দিয়ে নিজেদেরই হস্তক্ষেপ করা উচিত।
তিনি সাম্প্রদায়িতাকে পরিহার করার আহ্বান জানান।
‘আমার ধর্ম সুন্নীও নয়, শিয়াও নয়। আমার ধর্ম ইসলাম,’ বলেন এরদোগান।

মুসলিমরা টরি এবং গির্জার চেয়েও প্রগতিশীল: সাইয়েদা ওয়ার্সি


ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান সাইয়েদা হুসাইন ব্যারোনেস ওয়ার্সি বলেছেন, ব্রিটেনের মুসলিমরা সামাজিক ইস্যুগুলোতে কনজারভেটিভ পার্টি কিংবা চার্চের চাইতেও বেশি এগিয়ে আছে।’
তিনি ‘ব্রিটেনের মুসলিমরা ব্রিটিশ জীবনযাপনের সাথে একাত্ম হতে পারছে না’ এমন অভিযোগও নাকচ করে দিয়েছেন।
এছাড়াও সাইয়েদা ওয়ার্সি সাবেক সমতা কমিশনের প্রধান ট্রেভর ফিলিপসের মন্তব্যেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ট্রেভর ফিলিপস চলতি সপ্তাহে বলেছেন, ব্রিটেন যেসব কারণে আজকের ব্রিটেন হয়েছে সেসব মুল্যবোধ এবং আচরণ মুসলিমরা গ্রহণ করেনি।’
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যারোনেস ওয়ার্সি ২০১০ সাল থেকে দুবছরের জন্য ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির (টরি পার্টি) প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, অনেক ধর্মীয় গোষ্ঠীরই রক্ষণশীল বিষয় সমূহ রয়েছে।
ওয়ার্সি বলেন, ‘মুসলিম সমাজ তার দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে রক্ষণশীল, তবে অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর থেকে এটি আলাদা কোনো বিষয় নয়। আপনি যদি খ্রিস্টান অথবা ইহুদি ধর্মের দিকে তাকান দেখবেন তাদের মাঝেও একইরকম রক্ষণশীল বিষয়গুলো রয়েছে।’
‘মুসলিমরা অন্যদের চাইতে একেবারে আলাদা তাই তাদের সাথে আলাদা রকম আচরণ করতে হবে একথা বলার কোনো কারণ নেই।’
ওয়ার্সি আরো বলেন, ‘নারী অধিকার অধিকারের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে। ব্রিটেনে মুসলিম সমাজ ৫০-৬০ বছর আগের এবং এটি আমার দলের চাইতেও বেশি দ্রুত অগ্রসরমান।’
গত সোমবার ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ট্রেভর ফিলিপস সতর্ক করে বলেন, ব্রিটেনে জাতির ভেতর জাতি গড়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিমরা একাত্ম হতে আগ্রহী নয়।
তবে লেডি ওয়ার্সি  বলেন, বেশিরভাগ ব্রিটিশ মুসলিমরা মিশ্র গোষ্ঠীর সাথেই বসবাস করে। মূলত অন্যান্য গোষ্ঠীরাই ভিন্নগোষ্ঠীর সাথে মিশতে চান না।
‘ডিউসবেরিতে যখন আমি বেড়ে উঠছিলাম তখন দেখতাম শ্বেত পিতামাতারা তাদের বাচ্চাদেরকে আমার মিডল স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যেত কারণ তারা ভাবত এখানে খুব বেশি মুসলিম ছাত্র পড়াশুনা করে।’
ওয়ার্সি বলেন, একাত্মতা হচ্ছে দুই পথ বিশিষ্ট রাস্তা।
সূত্র: ডেইলি মেইল ভাষান্তরে জ়ুবায়ের হুসাইন

৯৪ হাজার কাশ্মীরি মুসলিমকে হত্যা ও ১০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছে ভারতীয় সেনারা


ভারতের দখলকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার ২৯০ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। এদের মধ্যে সাত হাজার ৩৮ জন মারা গেছে ভারতীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায়।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস দীর্ঘ গবেষণার পর২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ভারতের দখলকৃত কাশ্মীরে ওই হত্যাকাণ্ডের কারণে ২২ হাজার ৮০৬ জন নারী বিধবা এবং ১০ লাখ সাত হাজার ৫৪৫ জন শিশু এতিম হয়ে পড়ে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী ১০ হাজার ১৬৭ জন নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ বাসাবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২৭ বছর সময়ে প্রায় আট হাজার নিরাপরাধ মানুষ ভারতীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে গেছে।
সূত্র:
এনডিটিভি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আলজাজিরা

ভারতের কেরেলায় পরিক্ষায় হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদ করায় মুসলিম ছাত্রীদের গ্রেফতার!


‪#‎India‬ - Muslim female students arrested for protesting against the ban on ‪#‎Hijab‬during examinations in ‪#‎Kerala‬...
হিজাব আমাদের অধিকার। আমাদের অধিকারের বিরুদ্ধে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার কোন অধিকার তোমাদের নেই। তোমরা তা করতে পার না।"
"Hijab is our right, you have no authority to impose any rule against our rights"
"হিজাব আমাদের অধিকার। আমাদের অধিকারের বিরুদ্ধে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার কোন অধিকার তোমাদের নেই। তোমরা তা করতে পার না।"

তুরস্কে এক মঞ্চে মুসলিম বিশ্বের নেতারা!,আসাদ, সিসি অনুপস্থিত।


মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে ঐক্যের লক্ষ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ৩০টিরও বেশি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে চলছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা’র (ওআইসি) সম্মেলন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আমন্ত্রণে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রধানরা সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এরদোয়ানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে শুক্রবার। শেষের দিন একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সম্মেলনে অংশ নেয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সিরিয়া এবং ইয়েমেন সংঘাত নিয়ে দেশ দুটির অবস্থান দুই মেরুতে।
এদিকে তুরস্কভিত্তিক একটি সন্ত্রাস বিরোধী সংস্থা গঠনে মুসলিম দেশগুলো একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। সন্ত্রাসবাদকে মুসলিম দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ভেদাভেদকে দূরীকরণের আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ১৭০ কোটি মুসলিমের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করতে এই সম্মেলনটিকে কাজে লাগাতে চায় তারা। তবে কেউ কেউ ধারণা করেছেন, সিরিয়া এবং ইয়েমেন ইস্যু নিয়ে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে দেশগুলো।
নিরাপত্তার অযুহাতে অবশ্য অনেকেই সম্মেলনে অংশ নেয়নি। অনুপস্থিতদের মধ্যে জর্দানের বাদশা আবদুল্লাহ এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসিও রয়েছেন। ২০১৩ সালে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে তুরস্কের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক আর স্থাপিত হয়নি মিশরের। এছাড়া সিরিয়া ইস্যুতে মতভেদের কারণে আসেননি জর্দানের বাদশা।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসগ্লু বলেন, এমন একটি সময়ে সম্মেলনটি আয়োজন করা হলো, যখন ইসলামি বিশ্ব নিজেদের মধ্যেই নানা বিবাদে লিপ্ত। তিনি আরো বলেন, ‘নিজেদের ভাইদের মধ্যে বিবাদ সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ। গোষ্ঠিতন্ত্র পুরো উম্মাহকে বিভক্ত করে রেখেছে। আশা করি, এসব সমস্যা নিরসনে সম্মেলনটি ভূমিকা রাখবে।’
উল্লেখ্য, তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহর এক সময়ের উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। এটি ছিল একটি ইসলামি সাম্রাজ্য, যা মুসলিম বিশ্বে ‘উসমানীয় খিলাফত’ নামে পরিচিত। ষোল ও সতেরো শতকে বিশেষ করে সুলতান প্রথম সুলাইমানের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী বহুজাতিক ও বহুভাষিক সাম্রাজ্য ছিল।
বাংলামেইল২৪ডটকম/ আরএস

মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৬

আমীর মুহাম্মাদ বিন আব্দিল কারিম


রিফে মাগরিব থেকে স্প্যানিশ দখলদার নাকে খত দিয়ে বিদায় করবার পর আমীর মুহাম্মাদ বিন আব্দিল কারিম আল খাত্তাবি নজর দেন রিফে মাগরিবে অনুপ্রবেশকারী ফ্রেঞ্চ দখলদারদের দিকে।

#ইতিহাসের_এই_দিনে ১৯২৫ সালের ১২ এপ্রিল, কয়েক হাজার গেরিলা নিয়ে আমীর খাত্তাবি ফ্রেঞ্চ সৈন্যবাহিনীর উপর ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে রিফকে ক্রুসেডারমুক্ত করেন। ফ্রেঞ্চদের দেয়া হিসেবেই তাদের ১০০০ সৈন্য মারা যায়, নিখোঁজ হয় আরও ১০০০ আর আহত হয় ৩৭০০ জন। অপরপক্ষে মুজাহিদদের মধ্যে হতাহত ছিল একেবারেই কম।

যে বিজ্ঞানী প্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়েছিলেন


যে বিজ্ঞানী প্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়েছিলেন যে, এক সৌর বৎসরে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড হয়, তাঁর আসল নাম হল আবু আব্দুল্লাহ ইবনে জাবির ইবনে সিনান আল বাত্তানি (৮৫৮-৯২৯ খ্রি)। তিনি আল বাত্তানি নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর সঠিক জন্ম তারিখ জানা যায়নি। যতদূর জানা যায় ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত ‘বাত্তান’ নামক স্থানে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মস্থানের নামেই তিনি বিশেষ ভাবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর পিতার নাম জাবির ইবনে সানান। তাঁর বাবা ছিলেন সে সময়ের এক জন বিখ্যাত পণ্ডিত ও বিজ্ঞানী। আল বাত্তানি বাবার কাছেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। শৈশব কাল থেকেই শিক্ষা লাভের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। তিনি যে শিল্প কর্মেই হাত দিতেন তা নিখুঁত ভাবে শুরু করতেন এবং এর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

আল বাত্তানির বয়স যখন মাত্র ৫ বছর খলিফা মুতাওয়াক্কিল প্রয়াত হন। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক উত্থানপতনের কারণে তরুণ বয়সেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং সিরিয়ার গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত হন। রাষ্ট্রীয় কাজের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি জ্ঞানবিজ্ঞান সাধনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। রাজধানী রাক্কা ও এস্টিয়োক থেকে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে গবেষণা চালাতেন। তিনি ছিলেন এক জন অংক শাস্ত্রবিদও। জ্যোতির্বিজ্ঞানে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতির প্রকৃতি, গতি ও সৌরজগৎ সম্পর্কে তাঁর সঠিক তথ্য শুধুমাত্র অভিনবই নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানে টলেমি সহ আগের বহু বৈজ্ঞানিকের ভুলও তিনি সংশোধন করে দেন। সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কিত টলেমি যে মতবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আল বাত্তানি তা ভুল বলে সম্পূর্ণ বাতিল করেন। তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে সূর্যের আপাত কৌণিক ব্যাসার্ধ বাড়ে ও কমে।

আল বাত্তানিই সর্ব প্রথম আবিষ্কার করেন যে, ত্রিকোণমিতি হচ্ছে একটি স্বাধীন বিজ্ঞান। তিনি গোলাকার ত্রিকোণমিতির কিছু সমস্যার অত্যন্ত বিস্ময়কর সমাধান দিয়েছেন। অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ত্রিকোণমিতির প্রতি এত দিন অমনোযোগী ছিলেন। আল বাত্তানির অসাধারণ প্রতিভার সংস্পর্শে নির্জীব ত্রিকোণমিতি সজীব হয়ে উঠে। সাইন, কোসাইনের সঙ্গে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক আল বাত্তানিই প্রথম আবিষ্কার করেন। ত্রিভুজের বাহুর সঙ্গে কোণের ত্রিকোণমিতির সম্পর্কও তাঁর আবিষ্কার। বাত্তানি অংক শাস্ত্রের বহু গ্রন্থ রচনা করেন। এক কথায় আল বাত্তানির জীবন ছিল জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিস্তৃত। তাঁর জ্যোতির্বিজ্ঞান, ত্রিকোণমিতি ও অঙ্কশাস্ত্রের বহু মূল্যবান গ্রন্থ ইউরোপে বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছ। এই বিজ্ঞানী ৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ৭২ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।

সূত্র : বিশ্বের সেরা ১০১ বিজ্ঞানীর জীবনী (কালেক্টেড) 

উল্লেখ্য,আল বাত্তানির পুরো নাম 'মুহাম্মদ ইবনে জাবির ইবনে সিনান আল রাক্কি আল হারানী আস সাবী আল-বাত্তানী'।পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তাকে উল্লেখ করেছে “আল বাতেজনিয়াজ”, “আল বাতেজনি”, “আল বাতেনিয়াজ” ইত্যাদি নামে।


সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৬

উসমানীয় খিলাফাহর বিরুদ্ধে লড়াই করে মক্কার শাসক শরীফ হুসেইন বিন আলী


ক্ষমতার লোভে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটিশ কুফফারদের সাথে মিলে উসমানীয় খিলাফাহর বিরুদ্ধে লড়াই করে মক্কার শাসক শরীফ হুসেইন বিন আলী ও তার সন্তানেরা। উসমানীয় খিলাফাহর পরাজয়ের পর সাইক্স-পিকো চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটেন নেয় ফিলিস্তিনে ম্যান্ডেট আর ফ্রান্স নেয় সিরিয়ায় ম্যান্ডেট। এরপর তারা সম্পূর্ণ নিজেদের খেয়াল খুশীর বলে উসমানীয় খিলাফাহর উলাইয়াহ শাম আর উলাইয়াহ হিজায কে ভেঙ্গে দুই ম্যান্ডেট আর হিজাযের মধ্যে একটা মানচিত্র একে বলে আজ থেকে এটা একটা নতুন রাষ্ট্র যার এর নাম হবে জর্ডান, যার অস্তিত্ব কোনকালে ইতিহাসে এর পূর্বে ছিলোনা।

বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার হিসেবে মুনাফিক হুসেইন বিন আলীর এক ছেলে মুনাফিক, গাদ্দার আব্দুল্লাহ বিন হুসেইনকে সেই নতুন "দেশ" এর আমীর করে দেয়া হয় আজ #ইতিহাসের_এই_দিনে 
১১ এপ্রিল, ১৯২১ সালে। স্বাভাবিকভাবেই তার কলারের দড়িটা থাকে ব্রিটিশদের হাতেই। পরবর্তীতে এই Emirate of Trans-Jordan এর নতুন নাম দেয়া হয় Hashimite Kingdom of Jordan.

এই নিফাকের রক্তের ধারায় আজও পাপেট মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন হুসেইনের প্রপৌত্র জর্ডানের বর্তমান রাজা মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন হুসেইন বিন তালাল একজন পাপেট। পার্থক্য এই যে তখন দড়িটা ছিল ব্রিটিশদের হাতে; এখন অ্যামেরিকা আর ইসরাইলের হাতে।

ইন্টারেস্টিং হলো আজ সেই দেশে ঢুকতে মুসলিমদের ভিসার দরকার হয়; জর্ডানের জাতীয়তাবাদীরা কসম খায় আমার দেশের এক মুঠো ধুলোও আমরা কাউকে দেবনা যার সিলসিলায় ১৯৭১ সালে জর্ডান ফিলিস্তিনি গেরিলাদের জর্ডান থেকে বহিস্কার করে।

ছবিতে গাদ্দার 'রাজা' আব্দুল্লাহ বিন হুসেইন ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন পুত্র ও বর্তমান 'রাজা'র পিতামহ তালাল বিন হুসেইন।


পহেলা বৈশাখ কি বাঙালীর প্রাণের উৎসব নাকি ধর্ম নষ্ট করার উৎসব ?


পহেলা বৈশাখ কি বাঙালীর প্রাণের উৎসব নাকি ধর্ম নষ্ট করার উৎসব ?

এর আসল উত্তর হচ্ছে ধর্ম নষ্ট করার উৎসব। কারণ বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষের ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। আর ইসলামের মূল ভাব হচ্ছে- তৌহিদ বা এক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ’র প্রতি বিশ্বাস। 

অথচ পহেলা বৈশাখের কনসেপ্টটাই ইসলামের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এ কারণে দেখা যায়, মুসলমানদের শেষ নবী যখন আরবের মদীনাতে গেলেন তখন দুটি উৎসব বন্ধ করলেন, এর একটি নাম ছিলো মিহিরজান, অপরটি হচ্ছে বছরের পহেলা দিন উদযাপন বা নওরোজ। 

বাংলাদেশের কথিত বর্ষবরণ বা পহেলা বৈশাখ যে বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্ম নষ্ট করার উৎসব সেটা কিন্তু সহজেই বোঝা যায়। যেমন, ধরুণ- এদিন মুসলমানরা গান গায়- “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”। গানের মধ্যে বলা হয়- বৈশাখ এসে বছরের সকল অশুভ দূর করে দিবে। উল্লেখ্য বৈশাখ নামটি হিন্দুদের বিশাখা দেবতার (নক্ষত্র) নাম থেকে এসেছে । মূলত এ গানের মাধ্যমে বিশাখা দেবতার কাছে প্রার্থনা করে থাকে অগ্নি পূজক বা হিন্দুরা, তাদের সব দুঃখ-কষ্ট তুলে নিতে বিশাখার কাছে প্রার্থনা জানায়। এক্ষত্রে মুসলমানরা অবশ্য আমার থেকে ভালো বলতে পারবেন, তাদের আল্লাহর কাছে প্রার্থনা না করে বিশাখা দেবতার কাছে প্রার্থনা করা কতটুকু ধর্মসঙ্গত হবে ?

যাই হোক, পহেলা বৈশাখ যে মুসলমানদের ধর্মীয় ভাব নষ্ট করার ‍উৎসব সেটা শুধু আমার কথা নয়, কথিত বুদ্ধিজীবি মহলও কিন্তু সেই কথা বলে। 

এ সম্পর্কে মুনতাসির মামুনের একটি বক্তব্য প্রাধান্য পায়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধচারণ করতে গিয়ে মুনসাতির মামুন বলে-সার্বিকভাবে সাংস্কৃতিক চর্চা ছাড়া ইসলামকে ঠেকানোর আর কোন পথ নেই। সে আরো বলে-ইসলাম (মৌলবাদ) এখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের প্রশাসন, আমাদের সমস্ত মনোভঙ্গী সবকিছু মৌলবাদের পক্ষে। যারা বিচার করবেন, যারা শিক্ষা দেবেন প্রশাসনে আছে, তারা তো সমাজের অংশ, তাদেরকে কোন না কোনভাবে এটি (ইসলাম) স্পর্শ করছে। (সূত্র:https://youtu.be/ZU3THiLon8U, সময়: ০:৫০-১:২৫ )

আরেকটি টক শোতে একই কথা বলে মুনতাসির মামুন বলে-
“আমি মনে করি বাংলাদেশে অর্থনীতির উন্নয়ন যেভাবে হয়েছে, মৌলবাদের (ইসলামের) উন্নয়ন সেভাবে হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, যদি আমরা যে সেক্যুলার বাংলাদেশের কথা বলি, এখানে সাংস্কৃতিক প্রবৃদ্ধি যদি ইকোনোমিক প্রবৃদ্ধির মতো না হয়, তবে বাংলাদেশ সউদী আরব হবে। (সূত্র: https://youtu.be/RICIaqIlVM4, সময়-২৯:৪৪-৩০:১১)

অর্থাৎ মুনতাসির মামুন একটা কথাই বার বার বলতে চাচ্ছে- কথিত সংস্কৃতি চর্চা বা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি চর্চা না বাড়ালে বাংলাদেশে ইসলামকে ঠেকানো সম্ভব নয়। আর এটা বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির কেন্দ্রই হচ্ছে পহেলা বৈশাখ উদযাপন।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মুসলমানরা যদি তাদের ধর্ম- ‘ইসলাম’কে টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে পহেলা বৈশাখকে বয়কট করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।


বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখের সূচনা


বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখের সূচনা নিয়ে যে যেই ইতিহাস প্রকাশ করুক না কেন, সার কথা হচ্ছে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ পালনের সুচনা হয় ১৯৬৭ সালে। এর আগে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ থাকতে পারে, তবে সেটা ছিলো হিন্দুদের পূজা পার্বন বা মেলা হিসেবে। কিন্তু ১৯৬৭ থেকে সেটা জাতীয়ভাবে চালু করার চেষ্টা করা হয়। 

পহেলা বৈশাখকে বাংলাদেশের কথিত জাতীয় উৎসব রূপে চালুর করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিলো ছায়ানট নামক সংগঠনটির। উল্লেখ্য, ছায়ানট চালু হয় ১৯৬১ সালে। ছায়ানটের চালুর পেছনে মূল উস্কানি ছিলো ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালন। এই রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের মূল নেতৃত্বে ছিলো অধ্যাপক খান সরওয়ার মুর্শিদ। উল্লেখ্য এই খান সরওয়ার মুর্শিদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলে ১৫ জন রিট আবেদনকারীর একজন। সে সময় সুফিয়া কামাল (সেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলে ১৫ জন রিটকারীর একজন) কে সভাপতি করে ছায়ানট তৈরী হয়। মূলত ছায়ানট ছিলো ভারতের শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশী ভার্সন। ভারতীয় হিন্দুয়ানী কালচারকে বাঙালী কালচার বলে পুশিং করাই ছিলো এর উদ্দেশ্য। এ কারণে দেখবেন ছায়ানটের মূল মূল ব্যক্তিরা ট্রেনিং পেয়ে থাকে ভারতের ঐ শান্তিনিকেতন থেকে। সনজিদা খাতুন, মিতা হক সবাই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন থেকে বিশেষভাবে ট্রেনিং প্রাপ্ত।

মূলত শান্তি নিকেতন কালচার হচ্ছে ভারতীয় জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথের কালচার, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কালচার, এ কারণে পাকিস্তানী শাসকরা তা বাংলাদেশের আমদানির বিরুদ্ধচারণ করে। কিন্তু অনেকটা জোর করেই ছায়ানট গোষ্ঠীটি নিজ স্বার্থে এদেশে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী কালচার আমদানি করে। বলাবাহুল্য এতে মোটেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মত ছিলো না, বরং ঐ গোষ্ঠীটি বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে বাংলাদেশে সেই কালচার ‍পুুশ করতে থাকে। এটা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নাই, ১৯৭১ সালের পচিশে মার্চ গণহত্যার জণ্য শুধু পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠী দায়ি ছিলো না, বরং সেই গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কথিত ছায়ানট গোষ্ঠীও অনেকাংশে দায়ি ছিলো। কারণ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথের আমদানি নিষিদ্ধ করেছিলো। বাংলাদেশের মানুষের রবীন্দ্রনাথ না হলেও চলতো। কিন্তু ঐ গোষ্ঠীটি জোর করে বাংলাদেশের রবীন্দ্র কালচার নিয়ে আসে। আর এতেই পশ্চিমা গোবর মাথার শাসকগোষ্ঠী মনে করে-বাংলাদেশের সকল জনগণ মনে হয় ভারতের দালাল হয়ে গেছে, হিন্দু হয়ে গেছে। এতেই চলে ২৫ মার্চ এর গণহত্যা। তাই ২৫ মার্চের গণহত্যার জন্য শুধু পাকিস্তানী শাসক নয়, কথিক রবীন্দ্রপূজারী সংষ্কৃতিকর্মীরাও দায়ি।

যাই হোক, এটা সবাইকে মানতেই হবে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ পুশিং করার সবচেয়ে বড় উপলক্ষ হচ্ছে এ পহেলা বৈশাখ, যা সনজিদা খাতুন, মিতা হকের মত ভারতীয় এজেন্ট দ্বারা বাংলাদেশের পরিচালিত হচ্ছে। আসলে এটা ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের এক বিরাট র’প্রজেক্ট, এটা পুশিং হবে ৫০-৬০ বছর, এরপর বাংলাদেশের মানুষ নিজ মুখেই বলবে - “দাও দুই বাংলা এক করে দাও”- অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হলেই ভালো হয়।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশীরা যদি চায়- বাংলাদেশ ভারতের অন্তর্ভূক্ত না হোক, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশীদের মধ্যে আর প্রবেশ না করুক, তবে অবশ্যই অবশ্যই উচিত হবে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ নিষিদ্ধ করা। মনে রাখতে হবে “দাও দুই বাংলা এক করে দাও”- এ থিউরী ঠেকাতে পহেলা বৈশাখ নিষিদ্ধ করা ছাড়া ভিন্ন আর কোন্ উপায় নেই।



দেবাশীষ পাল নামের এক হিন্দু ইসলাম নিয়ে কটূক্তি


ওসমানীনগর বুরুংগা ইউনিয়নে দেবাশীষ পাল নামের এক হিন্দু ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করায় স্তানিয় তাওহিদি জনতার আদালতে এভাবেই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করে !  সে স্তানিয় উসমানী নগর থানায় কর্মরত ছিল । তার এই অশালীন আচরনের কারনে চাকরীচ্যুত করে থানা কর্তৃপক্ষ ! এবং জনতার সম্মুখে অঙ্গিকার করে আর কখনো এভাবে ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ করবেনা ।


রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৬

কাঠে খোদাই করা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কোরআন


এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মাঝে ১ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া। পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রটির রাজধানীর নাম জাকার্তা। দেশটি জাতিগত বৈচিত্র্যপূর্ণ। সারাদেশে ৩০০টির বেশি স্থানীয় ভাষা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ যেখানে ২৫ কোটির বেশি মানুষ বাস করে।
সেই ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে ‘কোরআনুল আকবার’ নামে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কোরআন শরিফ। এটি দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক ইন্দোনেশিয়ার পালেমবঙ্গে (Palembang) জড়ো হয়। কোরআন শরিফের কপিটির বিশেষত্ব হলো- এটা কাঠের ওপর খোদাই করে লেখা এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কাঠে খোদাইকৃত কোরআন।
বিশ্বের প্রসিদ্ধ লিপিকর্মী, শিল্পকর্মী, আর্টিস্ট ও শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০০২ সালে এহসানিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার তত্ত্বাবধানে ট্যাম্পু নামের এক প্রকার বিশেষ কাঠের ওপর এই কোরআন শরিফ লেখার কাজ শুরু হয়। উইপোকা কিংবা ঘূণ এ কাঠের ক্ষতি করতে পারে না। এ ছাড়া কাঠটি পানি শোষণে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।
কোরআন শরিফটি লিখে শেষ করতে ১ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সময় লেগেছে সাত বছর। তবে এখনও কোরআনের পুরো অংশ লিখে শেষ করা হয়নি। মাত্র ১৫ পারা পর্যন্ত লেখা হয়েছে।
museum-al-quran
কোরআন লেখার কাজে ২.৫৯ মিটার পুরো ও ১৭৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৪০ সেন্টিমিটার প্রস্থ কাঠের তক্তার দু’দিকই ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে মোট ৩১৫টি কাঠের তক্তায় ১৫ পারা পর্যন্ত লেখা হয়েছে।

পাঁচতলা ভবনের সমতুল্য উচ্চতায় কোরআন শরিফটি ১৬ থেকে ৩০ পারা পর্যন্ত লেখা হয়েছে। বাকি ১৫ পারা লেখার প্রস্তুতি চলছে। বাদামি রঙের ট্যাম্পু কাঠের তক্তার মাঝখানে কোরআন লেখা হয়েছে। পৃষ্ঠার চারপাশে বিভিন্ন নকশা ও দোয়া লেখা রয়েছে।
দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লিখিত কোরআনের অংশগুলো দর্শনার্থীদের জন্য পালেমবঙ্গ গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোয়োনো আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা ওআইসির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করেন।

মালয়েশিয়ায় কোরআন হেফজকে জাতীয় শিক্ষায় অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে


মালয়েশিয়ায় ন্যাশনাল হেফজুল কোরআন এসোসিয়েশন নামে হাফেজদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন যাত্রা শুরু করেছে।
রবিবার (২০ মার্চ) রাজধানী কুয়ালালামপুরে ফেডারেল মসজিদে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল হেফজুল কোরআন এসোসিয়েশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকসহ প্রায় ২০ হাজার কোরআনের হাফেজ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় মালয়েশিয়ার সরকার কোরআন হেফজের প্রতি সাধারণ মানুষকে উৎসাহী করার জন্য ও কোরআন হেফজকে জাতীয় শিক্ষায় অর্ন্তভুক্ত করার জন্য কোরআন হেফজ জাতীয় নীতি প্রণয়নে কাজ করছে। এ ব্যাপারে মতামত দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কোরআন হেফজ সেন্টার প্রধানদের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি কোরআন হেফজ জাতীয় নীতি প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত। বলতে পারেন, এটা আমার আকাঙ্খাও বটে।
উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ার সরকার ১৯৬৬ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআন হেফজ প্রশিক্ষণ সেন্টার ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছে এবং এখনও এ ধারা চালু রয়েছে।
কোরআন প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণ এবং হাফেজদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া ইসলামের সেবা করে আসছে। এটা তাদের ঐতিহ্যের অংশ বিশেষ।
ন্যাশনাল হেফজুল কোরআন এসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে আরও একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। নবগঠিত এই এসোসিয়েশন কোরআন হেফজ ও কোরআন শিক্ষার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

পয়লা বৈশাখ-প্রসঙ্গ : নিজেকে রক্ষা করুন,পাপ-তীর্থ বর্জন করুন


পয়লা বৈশাখ বা থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনের মাহাত্ম্য আসলে কী? এ কি পূতপবিত্র কোনো অনুষ্ঠান? যে উপায়েই এর মহিমা কীর্তন করা হোক এ যে পাপাচার ও প্রবৃত্তিপরায়ণতার এক বড় উপলক্ষ- এতে তো লুকোছাপা কিছু নেই! হাঁ, এখন যারা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন তাদের উদ্বেগের কারণ, বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এর চরিত্র বদল। আগে যা ছিল দু পক্ষের সম্মতিতে বা বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকাশ্য, জোরপূর্বক ও সদলবলে। কারণ এই ধারার একটি শক্তিশালী ও প্রাগ্রসর অংশ এখন আর বখাটেপনার সাথে ভদ্রতার খোলস বহন করতে রাজি না। এটাও নিঃসন্দেহে ভয়াবহ, তবে অভাবনীয় নয়, এ তো এ ধারারই অনিবার্য পরিণতি। এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে উত্তরণমাত্র। সুতরাং এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু খণ্ডিত ও পরম্পরাবিহীন প্রতিক্রিয়া মোটেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন এই অভিশপ্ত ধারা গোড়া থেকে বন্ধ করা এবং যেখানে যেখানে এর বীজ ও জীবাণু আছে তা ডেটল-পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা। দেখুন, পাপের সব পথ খোলা রেখে শুধু তার বিবর্তন ও বংশবৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখার দর্শন যে এক অবাস্তব দর্শন- এইসব ঘটনা তার প্রমাণ।
কয়েক দশক ধরে এ দেশের তরুণ ও যুব শ্রেণীকে চরিত্রহীন করার যে নানামুখী আয়োজন, শিল্প-সংস্কৃতির নামে প্রবৃত্তিপরায়ণতার, বিনোদনের নামে অশ্লীলতা ও বল্গাহীনতার আর তথ্য-প্রযুক্তির নামে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়ের হাতে নগ্নতার চাবিকাঠি সরবরাহের পরও সংযম-সুবুদ্ধির প্রত্যাশা এক অবাস্তব প্রত্যাশা নয় কি?
না,আমরা ঐ জ্ঞানপাপী সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছি না,যারা বুঝেশুনে একটি সুপরিকল্পিত ছকের মধ্য দিয়ে এ জাতির নতুন প্রজন্মের সর্বনাশ করে চলেছেন। আমরা কথা বলছি ঐ সব দরদী ও সত্যপ্রিয় মানুষের উদ্দেশে,যারা সত্যি সত্যি এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং জাতির ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত। তবে পশ্চিমা চিন্তাধারায় আচ্ছন্ন হওয়ার কারণে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে বিভ্রান্ত।
এখানে প্রথমেই দরকার চিন্তার স্বচ্ছতা। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, জাতির উন্নতি-অগ্রগতির জন্য নগ্নতা ও বল্গাহীনতার বিস্তার আসলেই প্রয়োজন কি না। যদি না হয়; বরং জাতির জন্য যদি তা হয় আত্মঘাতী তাহলে নৈতিক অধঃপতনের সবগুলো ছিদ্রপথ বন্ধ করা প্রয়োজন কি না। এরপরের প্রশ্নটি হচ্ছে, কীভাবে তা সম্ভব। আমাদের কাছে এমন কোনো উত্তরাধিকার আছে কি না যার শক্তি ব্যবহার করে আমরা এ বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে পারি। আশার কথা এই যে, আমাদের আছে সেই উত্তরাধিকার।
এখানে জাতির প্রত্যেক শ্রেণীর আলাদা দায়িত্ব আছে। যারা ক্ষমতাশালী তাদের কর্তব্য, শক্তি ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার, তথা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোথাও যদি দুষ্টের লালনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে তখন অনাচার-অবক্ষয় রোধ করার কোনো উপায় থাকে না। সমাজের যারা মস্তিষ্ক তাদের কর্তব্য, সত্যপ্রিয় ও সত্যনিষ্ঠ হওয়া, হীনম্মন্যতা ও পরানুকরণ প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে ওঠা। সমাজের যারা কণ্ঠ তাদের দায়িত্ব, সত্য-প্রচারে অকুণ্ঠ হওয়া। এই দুই শ্রেণী বা তাদের সিংহভাগ বিপথগামী বা মিথ্যাশ্রয়ী হলে সমাজে মিথ্যা ও বিপথগামিতার ধারা চালু হয়ে যায়। তখন সত্যের নামে মিথ্যা, ভালোর নামে মন্দ আর শিল্প-সংস্কৃতির নামে অনাচার-অশ্লীলতার বিস্তার ঘটে। ব্যক্তি বা পরিবারের যারা অভিভাবক তাদের কর্তব্য, অভিভাবকত্বের যোগ্যতা অর্জন করা এবং নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া। বাবা-মা, স্বামী-শিক্ষক নিজেরাই যদি সঠিক চিন্তার অধিকারী না হন তাহলে কীভাবে তারা সংশ্লিষ্টদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন? সবশেষে ব্যক্তির কর্তব্য, নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া। নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করা নির্বুদ্ধিতা নয় কি? যে কাজ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যে সম্পর্ক চারিত্রিক পবিত্রতা বিনষ্ট করে কিংবা যে উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ অবক্ষয় ও লাঞ্ছনার শিকার করে তা থেকে দূরে থাকা নিজের স্বার্থেই প্রয়োজন।
আর এই লাভ-ক্ষতি শুধু পার্থিব ক্ষণস্থায়ী জীবনের হিসাবেই বিবেচ্য নয়, আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের হিসাবেও বিবেচ্য; বরং সেই বিবেচনাই মুমিনের কাছে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত। নিজের দেহ-প্রাণ, জীবন-যৌবন নিয়ে স্বেচ্ছাচারের সুযোগ নেই। এ জীবন অমূল্য, এ যৌবন মহামূল্য। এ পৃথিবীতে একবারই তা কাউকে দেওয়া হয়। সুতরাং একে ভুল পথে ভুলভাবে ব্যবহার নিজের প্রতি চরম অবিচার, যে জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। তেমনি যারা অন্যের ইজ্জত-আব্রু বিনষ্ট করে, দুনিয়ার আদালতে কখনো কোনো কারণে তারা বেঁচে গেলেও যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহর আদালতে তাদের রেহাই নেই। ঐ আদালতের কাঠগড়ায় তাদেরও দাঁড়াতে হবে, যাদের ছিল কোনো না কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীলতা অথচ সে দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এ অমোঘ সত্য ভুলে গেলে চলবে না যে, যা কিছুর আসা অবধারিত আপাতদৃষ্টে তা দূরে মনে হলেও আসলে তা দূরে নয়
وآخر دعوانا أن ال
মাসিক আলকাউসার থেকে কপি করা হয়েছে