বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

ছেলে মেজর, মেয়েরা এমএ পাশ তবুও রেজিয়াকে ভাত দেয়ার কেউ নাই!


একটা মা, তার আর কত লাগে গো? বুঝলাম, মা না হয় খারাপ। কিন্তু তোমার পিছে পিছে ঘুরছিল কে? মেজর বানাইছিল কে? মানুষ পরীক্ষা দিলে একটা নম্বর পায়, আমি পরীক্ষা দিয়া তো পাইলাম জিরো। ঈদের একটা দিন, শাক রাইন্ধ্যা খাইলাম। মেজরের বউতো ১০০টা পদ করছিল। আমি সেমাই খাইতে, ভাত খাইতে পারলাম না ক্যান? কী করলাম জীবনে? জীবন যৌবন শ্যাষ করলাম, তারপরও দুইটা ভাত পাই না ক্যান? ’
কথাগুলো পঞ্চাশোর্ধ্ব রেজিয়া ইসলামের। দুই ছেলে আর দুই মেয়ের মা তিনি। এক ছেলে সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত। আছেন স্বামীও।
দুই মেয়েকে এম এ পাস করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দিয়েছেন। রাজধানীতে মিরপুরে আছে চার তলা একটি বাড়ি। আর কুমিল্লায় একতলা দুইটি বাড়ি। এত কিছু থেকেও তাঁর এখন কিছুই নেই। মেয়েরা দূরে থাকেন। একই বাড়িতে বসবাস করলেও স্বামী এবং ছেলেরা তাঁকে খেতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাঁর।
স্বামী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২৮ জুন জিডি করেছেন মিরপুর মডেল থানায়। স্বামী ও ছেলেরা খাবার দিচ্ছে না বলে নালিশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কাছেও। এ নিয়ে সালিসি বৈঠকে মুচলেকা দিয়েও কথা রাখেননি তাজুল ইসলাম। বরং কিছু চাইলে বাবা ও ছেলেরা মহিলা পরিষদের কাছে গিয়ে চাইতে বলেন।
স্বামী-সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে রেজিয়া ইসলাম বলেন, ‘পেটে ভাত না থাকলে মানসম্মান দিয়ে কী হবে? দেওয়ালে এখন পিঠ ঠেকে গেছে।’
এক বছরের বেশি সময় ধরে মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে আর বাড়ির ছাদে লাগানো শাক পাতা দিয়ে চলছে তাঁর খাবার। একই বাড়িতে দুই ফ্ল্যাটের একটিতে একা থাকেন রেজিয়া ইসলাম। আরেক ফ্ল্যাটে তাঁর স্বামী, এক ছেলে ও ছেলের বউ থাকেন। অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া। বড় ছেলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত। বাবা ও মা দুজনই জানালেন তাঁদের বড় ছেলে রকিব উদ্দিন আহমদ সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত।
এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও মেজন রকিব উদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এবং অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।
৭০ বছর বয়সী (রেজিয়া ইসলামে দাবি) স্বামী তাজুল ইসলামও তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তবে বলছেন, ‘খাবার না দেবার পেছনে অসংখ্য যুক্তি আছে।’ নিজে স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন না এবং বাজার করে না দিলেও তাঁর (স্ত্রীর) কাছে অনেক টাকা আছে বলে দাবি করলেন তাজুল ইসলাম।
রেজিয়া ইসলাম কার বিরুদ্ধে কথা বলবেন? একদিকে স্বামী, আরেক দিকে তাঁরই নাড়ি ছেঁড়া ধন। তাইতো এই প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন। বললেন স্বামীর দীর্ঘ ১৯ বছর বিদেশ থাকার সময় ছেলে-মেয়েদের মানুষ করার কথা।
‘বড় ছেলের পড়াশোনার জন্য ঢাকা, কুমিল্লাসহ যেখানে যেখানে যেতে হয়েছে দৌড়ে বেড়িয়েছি। স্বামী বিদেশ থাকলেও কখনোই আমার নামে টাকা পাঠাতেন না। পাঠাতেন নিজের ভাইয়ের কাছে। নিজের সংসারের চেয়ে নিজের ভাই আর বোনসহ অন্যদের পেছনেই বেশি ব্যয় করেছেন।’
জানালেন, শেষ মুহূর্তে নিজের যেটুকু গয়না ছিল তা বিক্রি করে এক রকম জেদ করেই মিরপুরের বাড়িটি কেনেন তিনি। এই বাড়ি কেনার জন্য বিয়ের মোহরানা বাবদ স্বামীর দেওয়া জমিটুকুও বিক্রি করে দেন। এখন পর্যন্ত থাকার মধ্যে শুধু আছে মিরপুরে আহমেদ নগরের বাড়িটাতে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই।
রেজিয়া ইসলামের সঙ্গে যখন কথা হয়, তাঁর দুই হাতে চিকন দুইটি ইমিটেশনের রং উঠে যাওয়া চুড়ি। নাকে নাক ফুল পর্যন্ত নেই। গায়ের পোশাকও মলিন। সকালে কাঁঠালের দুইটি কোষ খেয়েছেন। দুপুরে এক আত্মীয় ভাত খাইয়েছিলেন। জানালেন রাতে চাল ফুটিয়ে ভাত আর শাক খাবেন।
রেজিয়া ইসলাম নিজেও ভেবে পান না তাঁর অপরাধটা কোথায়। একদম ছোট বয়সে বিয়ে। স্বামীর বয়স তাঁর চেয়ে অনেক বেশি। স্বামীর হাতে মার খাওয়া অনেকটা ডাল-ভাতের মতোই। তারপরও টিকে ছিলেন, কিন্তু এখন আর পেরে উঠছেন না।
রেজিয়া ইসলাম দেশে স্বামী না থাকা অবস্থায় প্রায় ১৯ থেকে ২০ বছরের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘এক বা দুই বছর না। ২০টা বছর। আমার নতুন জীবন শেষ করলাম। আমার মেজর ছেলের বাসায় চাউলের বস্তা, ডাইলের বস্তা বারান্দায় ফালাই রাখে। পলিথিনে ভইরা ভইরা ডাস্টবিনে ভাত ফালায়। আর তার বউ কয়-“আপনার তেলের গ্যালনের দিকে নজর যায় ক্যান? ”। ছোট ছেলে তার বাপরে আমার কথা কয়-“ছাইড়া (তালাক) দেন না ক্যান? ” বাপরে দিয়া আমারে পিটা খাওয়ায়। আমার ঘরের চুলা খুইল্যা নিয়া যায়। টেলিভিশনের তার খুইল্যা নিয়া গেছে। ছাদে শাকপাতা লাগাইছি, তা যাতে খাইতে না পারি তার লেইগ্যা ছাদে তালা দেয়। বাপের অনেক সম্পত্তি। তাই বাপের পিছু নিছে ছেলেরা। আর এখন আমি হইছি খারাপ।’
রেজিয়া ইসলাম জানান, তাঁর সঙ্গে স্বামী এবং ছেলেদের সম্পর্কের কারণে মেয়েরাও শ্বশুর বাড়িতে কথা শুনছে। রমজানের পুরো মাস রেজিয়া ইফতার করেছেন পানি আর মুড়ি খেয়ে। রাতের বেলাও আটার রুটি খেয়েছেন প্রায় সময়। স্বামী-সন্তানের অবহেলায় ভাড়াটিয়ারা পর্যন্ত রেজিয়া ইসলামের গায়ে হাত তোলার সাহস পায়।
রেজিয়া ইসলাম জানালেন, চারতলা বাড়ির নিচ তলায় দারোয়ানের থাকার জন্য ছোট একটি ঘর আছে। তার ভাড়া পাওয়া যায় ১৫শ টাকা। এই টাকায় স্বামী ও ছেলেরা এখন পর্যন্ত হাত দেয়নি। কিন্তু ১৫শ টাকায় কী আর মাস যায়? ইনসুলিন কেনার টাকা থাকে না প্রায়ই। তাই মেজর ছেলের অফিসে ‘ছেলে খাবার দিচ্ছে না’ বলে নালিশ করার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন ছেলে একবার এক হাজার টাকা দিয়েছিল। ছোট ছেলে বসে বসে বাড়ি ভাড়া বাবদ যে টাকা পায় তাই দিয়ে খায়। সেই ছেলে জানিয়ে দিয়েছে, তার পক্ষে মায়ের জন্য কোনো খরচ করা সম্ভব না। আর বড় ছেলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাবার সামর্থ্য আছে, তাই সে মায়ের খরচ দেবে না। আর এদিকে স্বামী তাজুল ইসলাম যেকোনো অজুহাতে রেজিয়া ইসলামের সব বন্ধ করে দেন। এভাবেই কাটছিল। কিন্তু গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেই অত্যাচারের মাত্রাটা বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আহমেদ নগর পাইকপাড়া কমিটির সভাপতি হুমায়রা খাতুন বলেন, ‘রেজিয়া ইসলামের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ১ জুলাই সালিস ডাকা হয়। রেজিয়া ইসলামের দোষ যে কি তা ছেলে বা ছেলের বাবা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। শুধু বলে, “খারাপ। চিৎকার চেঁচামেচি করে। ” কিন্তু এই অভিযোগে একজন মানুষকে দিনের পর দিন খাবার দেওয়া হবে না তা তো হতে পারে না। রেজিয়া ইসলামের স্বামী লিখিত মুচলেকা দিয়ে যান। তারপর দুই দিন খাবার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন এই অভিযোগ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে।’
রেজিয়া ইসলামের স্বামী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওকে কেন খাবার দেওয়া হয় না তা ওর কাছেই জানতে চান। ওর অত্যাচারে তিতা হইতে হইতে এখন খাবার বন্ধ কইরা দিছি। ওর অভিযোগ সত্য। তবে অভিযোগের পিছনে কারণও আছে। দুই ছেলে, দুই মেয়ে কেউ ওরে পছন্দ করে না। ও খুব অসৎ। ওর কারণেই আমার সংসার তছনছ হইয়্যা গেছে। মহিলা পরিষদ ওর মধ্যেই দোষ খুইজ্যা পাইছে। তারপরও কইছে খাবার দিতে। দুই দিন খাবার দেবার পর আর দিতে ইচ্ছা হয় নাই। চুলা খুইল্যা আনছিলাম, আবার লাগায়া দিছি। কইছি, বাজার কইরা কেমনে খাবি খা।’
তাজুল ইসলাম জানালেন, স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন না, বাজার করে দেন না—সবই সত্য। তবে না খেয়ে থাকে না। ছাদে শাক পাতা আছে। দারোয়ানের ঘর ভাড়া বাবদ ২৫শ (রেজিয়া ইসলাম বলেছেন ১৫শ টাকা) টাকা পান। আগেও এ ঘরের ভাড়া তিনিই নিতেন, তা জমিয়ে এখন অনেক টাকা হয়েছে। স্ত্রীর কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা আছে বলেও তাঁর দাবি।

শরীয়তের পরিপূর্ণ অনুসারী ব্যক্তিই কেবল আল্লাহর ওলী হতে পারে।


শরীয়তের পরিপূর্ণ অনুসারী ব্যক্তিই কেবল আল্লাহর ওলী হতে পারে।
বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে যারা রাসূল স. এর সুন্নাহের অনুসারী এবং শরীয়তের বিধি-বিধান পুংখানু পুংখরূপে পালন করে কেবল তারাই বুযুর্গ ও ওলী হতে পারে।বে-শরা পীর, ফকির, মাজারপূজারী, কবরপূজারী, গাজাখোর, ও বিভিন্ন মাজারের বাবারা কখনও পীর নয়।এরা ইসলাম ও মুসলমানদের মাঝে ওলীর ছদ্মবেশে শয়তানী কাজ-কমর্ পরিচালনা করছে।সুতরাং এদেরকে ওলী মনে করে নিজের দীনকে জলাঞ্জলি দিবেন না।আমাদের দেশে প্রসিদ্ধ ভন্ডদের তালিকায় রয়েছে, মাইজভান্ডারী, তরিকত ফেডারেশন, আটরশি, এনায়েতপুরী, চন্দ্রপাড়া, সুরেশ্বরী, রাজারবাগ, কুতুববাগ ও আনাচে-কানাচে গজিয়ে মাজার ব্যবসায়ী বাবারা।এদের অধিকাংশের বিশ্বাস ও কমর্ এতটা জঘণ্য যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরা ইসলাম থেকে বের হয়ে মুশরিক হয়ে যায়।সুতরাং এই যামানার ভন্ড, বেশরা পীর ফকিরদের দিয়ে পৃকত ওলীদেরকে মাপবেন না।বরং প্রকৃত আল্লাহর ওলীরা জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে রাসূল স. এর সুন্নত ও শরীয়তের বিধি-বিধান অনুসরণ করে।যে যতো বেশি শরীয়তের অনুসারী করে সে তত বড় পীর। শরীয়তের বাইরে কোন পীর নেই, কোন ওলী।রাসূল স. এর সুন্নাহের বাইরে কোন বুযুর্গী নেই। যারা শরীয়ত ও সুন্নত না মেনে পীর-বুযুর্গ হওয়ার দাবী করে, তারা কখনও ওলী নয়, ওলী হতেও পারে।

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫

হাদিসের বাণীঃ

আবূ হুরাইরাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিত।(তিনি বলেন)রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃতোমাদের কেউ যখন শেষ তাশাহুদ পাঠ করবে তখন যেন সে চারটি জিনিস থেকে(আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চায়।জাহান্নামের আযাব থেকে,কবরের আযাব থেকে,জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অপকারিতা থেকে।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৩]
আবূ হুরাইরাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন,নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ,আমি তোমার কাছে কবরের ও দোযখের আযাব থেকে,জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৫]
আবূ হুরাইরাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃআল্লাহর কাছে তার আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় চাও।কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।আর জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৬]
মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ সুফিয়ান,ইবনে তাঊস ও আবূ হুরাইরা(রাঃ)-র মাধ্যমে নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৭]
মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ,আবূ বকর ইবনে আবূ শায়বা এবং যুহাইর ইবনে হারব,সুফিয়ান,আবূয যানাদ,আ'রাজ ও আবূ হুরাইরা(রাঃ)-র মাধ্যমে নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৮]
আবূ হুরাইরাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিত।(তিনি বলেছেন) নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর ও জাহান্নামের আযাব এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতেন।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২১৯]
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেছেনঃরাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে যেভাবে কোরআন মাজীদের সূরা শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এই দোআটিও শিখাতেন।দোআটি হলোঃ''আল্লাহুম্মা ইন্না না'উযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম ওয়া আউযুবিকা মিন আযাবিল কাবর,ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল,ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত''-হে আল্লাহ আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই ।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২২০]
(ইমাম)মুসলিম বলেছেনঃতাঊস(একদিন) তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেনঃতুমি সালাত আদায় করার সময় কি এই দো'আটি পড়েছো? সে বললো,'না'। একথা শুনে তাঊস বললেনঃতুমি পুনরায় সালাত আদায় করো। কারণ,তাঊস তিন,চার বা তার বক্তব্য অনুসারে কম বা বেশী লোকের নিকট থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
[সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদীসঃ১২২১]

আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন? - সাবেত বিন মুকতার (আলোর মিনার ম্যাগাজিন)


                            ================================================
ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন একজন মিসরীয় দাঈ (preacher) আমর খালিদ। তিনি বলেছেন ৩ দিন আগে তিনি একটি মেইল পেয়েছেন একজন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম নারীর কাছ থেকে। নাম তার সারাহ।
মেইলের বর্ণনাটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করলাম ...
মেয়েটি জন্মগতভাবে লেবানিজ। তার বাবা মুসলিম আর মা খ্রিস্টান। তার জীবনের প্রথম ১০ বছর কাটে লেবাননে। কিন্তু পড়াশোনার জন্য আসে অস্ট্রেলিয়াতে। অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর ইসলামের সাথে তার সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। তার একমাত্র পরিচয় ছিল তিনি একজন মুসলিমাহ। কিন্তু তিনি জানতেন না কুরআন কি, সালাত কিভাবে আদায় করে, তার জীবনে ধর্মের কোন প্রভাবই ছিল না। এই সময় তার মা বাবার ডিবোর্স হয়ে যায়। তারপর তিনি ভার্সিটিতে প্রবেশ করেন। তার মা বাবা তাকে ফেলে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। তিনি এখানে পুরো একা। নিজের খরচ যোগাতে তিনি সকালে ভার্সিটিতে ক্লাস করেন, সন্ধ্যায় বারে কাজ করেন। বয়ফ্রেন্ডও জুটিয়ে ফেলেন। নিজেকে আসতে আসতে ওয়েস্টার্ন লাইফের সাথে মিশিয়ে ফেলেন। এমনকি হারাম কাজ করতেও সামান্যতম লজ্জাবোধ করতেন না তিনি।
তিনি সামান্য অ্যারাবিক জানতেন। এইবার তিনি নিউজিল্যান্ডে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং চ্যাম্পিয়নও হন। তিনি এইবার বিভিন্ন ম্যাগাজিনে মডেল হিসেবে যোগ দেন। এই সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এক লেবানিজ ফ্যামিলির সাথে দেখা করেন। তাদের বাসায় তিনি রমজানের সময় টিভিতে একটা ইসলামিক এপিসোড দেখেন যেটি ছিল নম্রতা ও ভদ্রতা সম্পর্কে। তিনি অনুষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঠিকানা বের করেন। তারপর তিনি অনুষ্ঠানের দাঈ আমর খালেদকে উপরোক্ত মেইলটি করে জিজ্ঞেস করেন আমাকে কি আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবেন?
একজন ক্ষুধার্ত মানুষের পাকস্থলি যেমন খাবারের জন্য অপেক্ষা করে ঠিক তেমনি একজন মানুষও এক সময় তার প্রকৃত মালিকের খোঁজে বের হয়। মেয়েটি জিজ্ঞেস করে কিভাবে সে আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাইবে। আমর খালেদ তাকে তাওবা করার পদ্ধতি জানিয়ে দেন।
২ দিন পরে মেইল করে মেয়েটি জানায় সে আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা করেছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি আমি আর আমার বয়ফ্রেন্ডের কাছে যাবো না এবং তার সাথে দেখাও করবো না। তার ২ দিন পর সে জানতে চায় আমি কিভাবে সালাত আদায় করবো? তার ২দিন পর সে কিছু কুরআনের অডিও টেপ চায়।
অনেকদিন পর মেয়েটি আবার মেইল করে জানায় সে বিউটি টাইটেল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপর শাইখকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়ে মেয়েটি জানায় সে হিজাব করা শুরু করেছে।
হিজাব শুরু করার ২ দিন পরে তিনি মাথায় ব্যথা অনুভব করেন। তিনি ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার ডায়াগনোসিস করে জানায় তার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে এবং সে বেশিদিন বাঁচবে না। সে অপারেশনের জন্য হসপিটালে ভর্তি হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার জানায় তার অপারেশন ২০% সাকসেস হয়েছে।
ডাক্তার এই কথা বলার পর সারাহর কাছ থেকে আনসার শুনতে চায়। সারাহ বলেন, আমি আমার আল্লাহ্‌র সাথে দেখা করতে খুশি আছি। আমি খুশী যে আমি আমার অসুস্থতা বুঝার আগেই আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা করতে পেরেছি। আমি জানি না কিভাবে আমার বাবা মা আমার এই অবস্থা জানতে পারবেন। আমি যদি সুস্থ হই তবে আমি সেই ওয়েবসাইটের জন্য কাজ করবো। কেননা এই সাইটটি আমার ইসলামে আসার জানালা খুলে দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্‌র ফায়সালা ছিল ভিন্ন। মেয়েটি মাত্র ২২ বছর বয়সেই দুনিয়া থেকে চলে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। তাকে নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি আমর খালিদকে একটি চিঠি লিখে যান।
"তিনি বলেন, আমি আমার জীবনের ২২টি বছর আমার রবের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। কিন্তু আমি মাত্র ৩ সপ্তাহ আগে তাওবা করে আল্লাহ্‌র পথে ফিরে আসি। আমি আপনাকে বা যারা ইন্টারনেটে লিখেন তাদের কাউকে চিনি না। আমি আপনাদের কাছে মিনতি করি যেন আপনারা আমার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দয়া ও ক্ষমার দুয়া করেন। এবং আমার মায়ের জন্যও দুয়া করবেন যেন মহান আল্লাহ উনাকে সঠিক পথ দেখান। তিনি আমার সম্পর্কে কিছুই জানেন না।"
- সারাহ
ইউটিউব চ্যানেল Companions of Prophets এ আসা একটি সত্য কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এই লিখাটি। অনুবাদ হইত আক্ষরিক হয়নি। তারপরও চেষ্টা করলাম।
The Repentance of an Australian Sister | HeartTrembling Story
https://www.youtube.com/watch?v=cq8XQl_ykF0
মহান আল্লাহ্‌ এই বোনকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমরা কি পারি না মৃত্যু আসার আগেই তাওবা করেআল্লাহ্‌র কাছে ফিরে আসতে?
দুনিয়ার সকল সাগর মহাসাগরের পানি দিয়েও জাহান্নামের আগুনকে নিভানো সম্ভব নয়, তবে ৩ হাজার বছর ধরে জ্বাল দেয়া, ৭০ বছরের দূরত্বের সমান গভীরতার ওই আগুন নিভে যেতে পারে মাত্র দুই ফোঁটা চোখের পানিতেই, যদিও বান্দার গুনাহের পরিমাণ এতো বেশি হয় যে তা আসমান পর্যন্ত জায়গাকে ভরিয়ে ফেলে।
সম্পর্কটা যে বান্দা ও জাহান্নামের মালিকের সাথে। শুধু দরকার কিছুটা আন্তরিকতা ও নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
হযরত আয়িশা(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ(সঃ) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই বান্দা যখন নিজের গুনাহ স্বীকার করে তাওবা করে তখন মহান আল্লাহ্‌ বান্দার তাওবা কবুল করে নেন।(বুখারি )
"আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার পাপ যদি আকাশ ছুঁয়ে ফেলে তারপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে মাফ করে দেব"। (তিরমিযী)
স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে ১০০ বার তাওবা করতেন। যার জীবনে কোন গুনাহ নেই, তিনি যদি উম্মাতকে শিক্ষা দিতে এতো বার তাওবা করতে পারেন তবে আমরা হাজার হাজার গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে কেন তাওবা করতে পারবো না?
আল্লাহ্‌ সকলকে তাওফিক দান করুন।

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫

"পাকিস্তানের একজন আলেম আফ্রিকা সফর শেষে দেশে ফিরছিলেন।

"পাকিস্তানের একজন আলেম আফ্রিকা সফর শেষে দেশে ফিরছিলেন। তখন বিমানে একজন পাদ্রীও ওঠে এবং তাঁর পাশে বসে।কথা বলতে গিয়ে ঐ আলেম পাদ্রীকে আফ্রিকা সফরের কারণ জিজ্ঞাসা করেন।"
"পাদ্রী তাঁকে জানান আমি আফ্রিকার একটি গ্রামে তিন বছর দাওয়াত প্রচার করি।আমার তিন বছরের প্রচেষ্টায় পুরো গ্রাম খ্রিস্টান হয়ে গেছে।তখন ঐ আলেমের সাথে ধর্ম নিয়ে ঐ পাদ্রীর খুব বিতর্ক হয়।"
"এক পর্যায়ে ঐ আলেম পাদ্রীকে বলেন, তুমি বলছ তোমার ধর্ম সঠিক আর আমি বলছি আমার ধর্ম সঠিক।তবে তুমি স্রিষ্টিকর্তার কাছে দুয়া কর যেন তোমাকে তিনি সঠিক পথ দেখান।"
"কিছুদিন পরে ঐ পাদ্রীর একটি চিঠি আসে ঐ আলেমের কাছে।পাদ্রী চিঠিতে জানান, আপনার কথা মত আমি স্রিষ্টিকর্তার কাছে দুয়া করেছিলাম যে,তিনি যেন আমাকে সঠিক পথ দেখান।আলহামদুলিল্লাহ তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আমি ইসলাম গ্রহন করেছি। এখন আমি যাব আফ্রিকার ঐ গ্রামে যেখানে সবাইকে খিস্টান বানিয়েছিলাম এবং গিয়ে সবাইকে মুসলমান হবার জন্য দাওয়াত প্রচার করব।"
"এ ঘটনা থেকে আমরা শিখে রাখি যে,খ্রিস্টানরা তাঁদের ধর্ম প্রচারের দাওয়াত দিয়ে থাকে এবং এতে তাঁরা বেশ সফল। এ পদ্ধতিতে দাওয়াত দিয়ে আজ তাঁরা সুদানের একটি অংশকে সুদান থেকে আলাদা করেছে। ইন্দোনেশিয়ার তিমুর স্টেটকে আলাদা করেছে এবং এখন বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করার প্রচেষ্টায় আছে এবং তাঁর এতে প্রায় ৭০ভাগ কাজ শেষ করেছে।কিভাবে তা আরও বিস্তারিত জানবেন পরের কিছু পোষ্টে।"
"অথচ আজ মুসলমানদের সংঘবদ্ধ দাওয়াতের কাজের জামাতের খুব অভাব।যারা আছে তাঁদেরকে আমরা সহযোগিতার বদলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছি।তাঁদের দোষ ত্রুটি খোঁজায় লিপ্ত আছি।আসলে ম্রিত্যুর পরেই বুঝে আসবে কারা সঠিক আর কারা ভুল। ধুলো সরলেই বোঝা যাবে তুমি ঘোড়ার পিঠে সওয়ার ছিলে না গাঁধার পিঠে। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সঠিক দ্বীনের বুঝ দান করেন।

খেলাধূলা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের আবেগ কোন বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে

খেলাধূলা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের আবেগ কোন বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে কল্পনা করেছেন কেউ?!
এই এক ক্রিকেট খেলার জয় পেয়েই সবকিছু ভুলে যায় আবেগি গোল্ডফিস এই জাতী। খেলায় হাঁরলে সুইসাইড করে। খেলায় জিতলে আনন্দে রুবেল হ্যাপির খাট নিয়ে রগরগে স্ট্যাটাসে নিউজফিড ভাসায়।
বাংলাদেশ টিম ম্যাচের পর ম্যাচ হেঁরে দুই তিনটা ম্যাচ জিতলেই সব দোষ মাফ হয়ে যায়!!
তামিম ম্যাচের পর ম্যাচ ডাক মারলেও একটা ম্যাচে ৯৫ করলেই হিরো হয়ে যায়।
রুবেল ধর্ষণে অভিযুক্ত হলেও। উয়িকেট পেলেই জাতীয় বীর হয়ে যায়!!
আসেন এবার একটা এনালাইসিসে।
এই ক্রিকেটের পেছনে বছরে কত হাজার কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট তার হিসেব কেউ রাখেন?!
রাখেন না, কারণ আবেগ!!
খেলোয়াড়রেরা ডাক মারুক, দিনের পর দিন হাঁরুক তাও ইনভেস্ট করতে সমস্যা নাই!! কারণ কি?!
আবেগ!! সস্তা আবেগ!! যে আবেগ নিয়ে গদিওয়ালারা সহজেই খেলতে পারে। আবেগের কাছে হাজার কোটি টাকার অপচয়ও নস্যি।
আচ্ছা এগারজন সেরা ডাক্তার কিংবা এগারোজন সেরা ইন্জিনিয়ার কিংবা এগারোজন সেরা ব্যাবসায়ি নিয়ে তাদের পেছনে এইরকম কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করলে ব্যাপারটা কি দাড়াতো একবার ভেবে দেখেছেন?!
এভাবে প্রত্যেক সেক্টরে সেরা এগারোজন নিয়ে তাদের পেছনেও ইনভেস্ট করা হোক জনগণের ট্যাক্সের টাকা!! সবারই সমান অধিকার আছে।
খালি তক্তা দিয়ে পেঠানো কিছু খেলোয়াড়দের পেছনে কেন?!
যাদের ব্যার্থতার পরিমাণও বেশি!!
আবার তাদের ব্যার্থতার স্কোয়ার সম পরিমাণ ইনভেস্টমেন্ট। যত হাঁরে তত বেশি ইনভেস্টমেন্ট!!
কেনো?!
আবেগ?!
এত জঘন্য আবেগ ক্যামনে হয়?!
আগের দিনে সবাই এই ভেবে পড়াশোনা করতো "লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চরে সে "
কিন্তু যুগ বদলেছে এখন গাড়িঘোড়া চরে গদিওয়ালা চোর বাটপারেরা, তক্তা দিয়ে গোল্লা পেঠানো অর্থইীন অকর্মণ্য কতিত হিরো রা!!
মিডিয়াতে নোংরামি নষ্টামি করা স্ক্রাউন্ড্রেলরা।
তাই বাবা মাকে তাদের আজকালের সন্তানেরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে যদি দেখিয়ে দে, দেখো সাকিব, তামিমেরা সারাদিন খেলাধূলা করে বড় হয়েছে। পড়াশোনা এসব দিয়ে কি হবে ড্যাড?!
আমিও খেলাধূলা করবো সারাজীবন!!
মাম্মি দেখো রুবেল অনেক হ্যাপি!!
আমিও রুবেল হতে চায়!!
কি বলবেন এসব পিতামাতারা কি জবাব দেবেন?!
জানি এসব কথা চিন্তা করার টাইম নাই আবেগীদের। যতদিন না এই আবেগীরা তাদের সস্তা আবেগের কারণে ধ্বংসে পতিত হয়।
আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুক।

আমিরুল মু'মিনীন মোল্লা আখতার মানসুর হাঃ এর বয়ান--মুসলিমদের জন্য। --------


☆ একতা আমাকে খুব আনন্দিত করে এবং আল্লাহ সন্তুষ্টি পাওয়াই হল আমাদের সবার চাওয়া পাওয়া। এটা
কোন রাজতন্ত্র নয় যা আমাকে
তহফা হিসাবে দেয়া হয়েছে বরং এটা হল আল্লাহর গোলামী, মুমিনদের এক দায়িত্ব। বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আল্লাহর কাছে চাই যেন তিনি আমাদেরকে অটল রাখেন এবং বিজয় দান করেন।
.
☆ আপনাদের মধ্যের বিশ্বাসী
ভাইদের কে সামনে নিয়ে আসা হবে আল্লাহ আপনাদেরকে আপনাদের কাজের বদলা দিবেন। এর জন্যে উত্তম আখলাক, সবর, মুজাহাদা,
তাকওয়া খুবি প্রয়োজন। বিশ্ব
আমাদেরকে নিয়ে হাসবে যদি
আমাদের কামনা বাসনা আমাদের আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে ঢেলে দেয়। আমাদের লক্ষ্য শরীয়াহ এবং আমাদের পথ হল জিহাদ।
.
☆ মুনাফিক, যাদের কোণ তাকওয়া নাই, যারা নিষ্পাপকে হত্যা করে এবং সাধারনের থেকে চুরি করে আমি তাদেরকে দেখে নিব কারন তারা আমাদের থেকে নয় এবং কখন হবেও না।
.
☆ ইসলামের মাধ্যমেই সাধারনের অন্তর জয় করে নিন কোন কারন ছাড়া কাউকে কষ্ট দিবেন না তুমি একজন মুসলিম। শত্রুর সাথেও অন্যায় করবে না, তাদেরকে দাওয়াত
দাও এবং শরিয়াহ মুতাবেক তাদের সাথে আচরন কর। একে অপরের কাজে বাধা দিবেন না। আপনাদের (দাওয়াত, জিহাদ, রাজনীতি) কাজগুলো ভাগ করে দেয়া আছে সুতরাং আপনাদের যার যার বিভাগে
কঠোর শ্রম দিয়ে যান।
.
☆ অর্থ কখন বিজয় আনতে পারে না, যদি তা হত তবে আমাদের শত্রুরা বিজয়ী হয়ে যেত। আমাদের তেমন ক্ষমতা বা, শক্তি, বা, অর্থ নাই শুধু
ইখলাসের কারনে আমাদের সামান্য অস্ত্র দিয়েই আমরা বিজয়ী হতে পারব ইনশাআল্লাহ।
.
☆ আমি আপনাদের জন্যে দোয়া
করতে থাকব আর আপনারাও আমার জন্যে দো'আ করবেন। যতক্ষন আমরা জীবিত থাকি ততক্ষন আমরা ইখলাস ও ভালবাসার সাথে কাজ করব, আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ এবং তখন এমন কিছু লোক থাকবে যারা পিছনে লেগে যাবে কিন্তু তারপরও আমরা এখানেই থাকব এবং ইসলামের খেদমত করতে
থাকব ইনশাআল্লাহ।
‪#‎মুস‬'আব যারক্বাউয়ী

নাজায়েজ প্রেম করার পর দ্বীনদার হয়ে গেলে করণীয় কী? প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্
 আমি একজন ছাত্র | আমার দ্বারা কিছু গুনার জন্ম হইছে | মানুষ সেই গুনা গুলোকরতেছে | কিন্তু আমি সব গুনা থেকে তওবা করছি | এখন প্রশ্ন হলো তারা সেইগুনার কাজ গুলো করার ফলে আমার আমলনামায় কি গুনা লেখা হবে ? যদি লেখাহয় তাহলে আমার করণীয় কি?
 আমার একজন গার্লফ্রেন্ড ছিল | ৫ বছর আমাদের রিলেসন ছিল এবং তার সাথে কিছু গুনা হইছে যা সেক্স রিলেটেড | ২ বছর হইছে আমি ওর সাথে কথা বন্ধ করে দিছি | তাবলিগ মেহেনত এর সাথে লেগে আল্লাহ আমাকে বুজ দিছে (আলহামদুলিল্লাহ)| এখন ওই মেয়ে আমার সাথে কথাবলতে চায়, আরো বলে যে ও অনেক কষ্টে আছে, অনেক বদদুয়া দেয় বলে যে “মন ভাঙ্গা মসজিদভাঙ্গা সমান | তুমি কক্ষনো সুখী হতে পারবানা ইত্যাদি ইত্যাদি” |
আর বিয়ার বেপার আমার বাসা থেকে ওর বেপার রাজি হবে না | সবচে বড় বেপার হলো তার এবং তার ফ্যামিলির মাঝে কোনো দিনদারি নাই | আমি ওকে প্রথম প্রথম দীন ইসলাম নিয়ে অনেক এডভাইস দিতাম কিন্তু ও আমার কোনো কথাই শুনত না এবং এখন পর্যন্ত শুনতেছে না |
প্রশ্ন হলো-
১. আমি যে তার সাথে সম্পর্ক বিদছেদ করলাম এর ফলে সে যে কষ্ট পাচ্ছে এতে আমার কোনো গুনা হবে কিনা?
২. ওকে আমি বিয়া না করলে আমার কোনো গুনা হবে কিনা?
৩. নামাজে এবং নামাজের বাহিরে ওর সাথে আমার ঘটে যাওয়া কিছু অশ্লীল মুহুত্তের কথা আমার মনে পরে যায় তখন কি করণীয় ? এতে কি আমার কোনো গুনা হবে ?
৪.আগে প্রেমর নেশায় আবেগ হয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি,যা পূরণ করা যাবে না | এই ধরনের প্রতিশ্রুতির কি হুকুম ?
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি যা করেছেন, তা খুবই গর্হিত কাজ করেছেন। এজন্য সাচ্চা দিলে তওবা করুন। তওবা হল তিনটি জিনিসের নাম। যথা-
১-গোনাহটি ছেড়ে দেয়া।
২-পূর্বের গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
৩-ভবিষ্যতে আর কখনো সে গোনাহে লিপ্ত না হবার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।{সূরা নিসা-১৭-১৮}
পয়েন্ট আকারে আপনার প্রশ্নের জবাব দেয়া হল।
১ম প্রশ্নের জবাব
গোনাহ আপনি যা করেছেন তা পূর্বেই করেছেন। এখন সে সম্পর্ক বাদ দিয়ে বরং গোনাহ থেকে রক্ষা পেলেন। বাকি কথা হল, যদি সম্ভব হয়, উক্ত মেয়েকেই বিয়ে করুন। যাতে করে আপনার মনে উক্ত মেয়ের প্রতি যে টান রয়েছে সেটি সর্বদা মনে রেখে গোনাহে লিপ্ত না হন।
২য় প্রশ্নের জবাব
বিয়ে না করলে গোনাহ হবে এমন কথা নয়। বাকি মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে কাউকে ঠকানো অবশ্যই গোনাহের কাজ। তাই বিবাহ না করলে উক্ত মেয়ে থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
৩য় প্রশ্নের জবাব
গোনাহের কথা মনে করে মনে মনে আনন্দ নেয়াও গোনাহ। তাই এ থেকে সর্বাত্মকভাবে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে যখনি গোনাহের কথা মনে আসবে, তখনি মন থেকে তা দূরে করে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। মৃত্যুর কথা, আখেরাতের কথা, হাশরের ময়দানের কথা, জাহান্নামের কথা মনে করলে গোনাহ থেকে মুক্ত থাকা যায়। এ চেষ্টাই করে যাবে।
তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে, সম্ভব হলে উক্ত মেয়েকে বুঝিয়ে সমঝিয়ে দ্বীনদারীর ওয়াদা করিয়ে বিয়ে করে ফেলাই উচিত। যাতে করে গোনাহের শিকড়ই উপড়ে যায়।
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।
فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২
৪র্থ প্রশ্নের জবাব
কোন গোনাহের কাজের প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণ করা জায়েজ নয়। তাই আপনার গোনাহের কর্মের কোন প্রতিশ্রুতিই পূর্ণ করা আবশ্যক নয়।
وَلَا تَجْعَلُوا اللَّهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ أَن تَبَرُّوا وَتَتَّقُوا وَتُصْلِحُوا بَيْنَ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ [٢:٢٢٤
আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন। {সূরা বাকারা-২২৪}
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِى هُوَ خَيْرٌ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কিছুর কসম খায়, তারপর এর বিপরীত কাজে কল্যাণ দেখে, তাহলে সে যেন উক্ত কল্যাণধর্মী কাজটি করে এবং স্বীয় কসমের কাফফারা প্রদান করে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৩৬২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৩৫২,৪৩৪৭, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-৫৯৩১, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-১৮২৫১, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-৫১৬, মুসনাদে ইবনুফ জিদ, হাদীস নং-১৩৬, মুসনাদে তায়ারিসী, হাদীস নং-১৩৭০, মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-১৪৫৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৩৪৫, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৪৭২৭, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৮৬৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২১০৮, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬২৪৭}
আমাদের শেষ কথা
একজন অবেলা মেয়েকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে নোংরা কাজ করা। তারপর সুফী সেজে তাকে ভুলে যাওয়া কোন ভাল কাজ নয়। তাই আমাদের শেষ কথা থাকবে। আপনি সক্ষম হলে উক্ত মেয়েকে বিয়ে করে ফেলুন। তাকে তাবলীগের মাস্তুরাত জামাতে প্রেরণ করুন। যাতে করে দ্বীনী বিষয় শিখতে পারে। উক্ত মেয়েকে দ্বীনদার বানিয়ে বিয়ে করে ফেললে আশা করি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে আশা করি।
বাকি যদি উক্ত মেয়ের মাঝে দ্বীনদারী আশার সম্ভাবনা না দেখা যায়, তাহলে তাকে একদম ভুলে যাওয়াই উচিত। কোন ভাবেই যেন উক্ত মেয়ের কথা আপনার মনে না আসে। আর আপনি দ্রুত কোন ভাল দ্বীনদার মেয়েকে বিয়ে করে ফেলুন। বিয়ে করে ফেললে আশা করি এ গোনাহের পথ বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَابًا لاَ نَجِدُ شَيْئًا، فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাঃ এর সাথে কয়েকজন যুবক ছিলাম। তখন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মাঝে যে বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা চক্ষুকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি তাতে অক্ষম, সে যেন রোযা রাখে, কেননা, তা যৌন শক্তিকে হ্রাস করে। {বুখারী, হাদীস নং-৫০৬৬,৪৭৭৯}
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

সর্বকালের সেরা ১০ ধনী

সম্রাট মানসা মুসাসম্রাট মানসা মুসা
পশ্চিম আফ্রিকার সম্রাট মানসা মুসার সম্পদের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে তা নির্দিষ্ট করে নির্ধারণ করা যায়নি! কথিত আছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার পথে তিনি মিসরে এত্ত অর্থ খরচ করেছিলেন তাতে দেশটিতে তীব্র মুদ্রাসংকট দেখা দেয়। মিসরের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিল ১২ বছর!
জন্ম: ১২৮০, মৃত্যু: ১৩৩৭। 








২ অগাস্টাস সিজার 
অগাস্টাস সিজার
রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা অগাস্টাস সিজারের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদরে বিশ্বের মোট সম্পদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মালিক ছিলেন তিনি। পুরো মিসর তাঁর নিজস্ব সম্পদের তালিকায় ছিল। 
জন্ম: ৬৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ, মৃত্যু: ১৪ খ্রিষ্টাব্দ।








৩ সম্রাট শেনজেন
সম্রাট শেনজেন
তৃতীয় স্থানে আছেন চীনের সং সাম্রাজ্যের সম্রাট শেনজেন। তাঁর সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা সম্পদের পরিমাণ হবে বর্তমান বিশ্ব জিডিপির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের সমান। ওই যুগে নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিশাল অঙ্কের কর আদায়ে সফলতা ছিল তাঁর অর্থের মূল উৎস। বিপুল সম্পদের মালিক এ সম্রাট জীবিত ছিলেন মাত্র ৩৭ বছর।
জন্ম: ১০৪৮ খ্রিষ্টাব্দ, মৃত্যু: ১০৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।








৪ সম্রাট আকবর
সম্রাট আকবর
ভারতীয় উপমহাদেশের মোগল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবরের আমলকে তুলনা করা হয়েছে রানি এলিজাবেথের আমলের ইংল্যান্ডের সঙ্গে। আকবরের সময়ে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে যে সম্পদ ছিল তা হবে বর্তমান বিশ্ব জিডিপির ২৫ শতাংশের সমান। তাঁর রাজস্ব ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মনে করা হয়। জন্ম: ১৫৪২, মৃত্যু: ১৬০৫।








৫ জোসেফ স্টালিন 
জোসেফ স্টালিন
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক জোসেফ স্টালিন সরাসরি অর্থ-সম্পদের মালিক না হলেও একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে সর্বোচ্চ ধনীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দুই দশকের বেশি সময় দোর্দণ্ড প্রতাপে রাশিয়া শাসন করা স্টালিনের অধীনে সোভিয়েত রাশিয়ার ৭ লাখ ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ ছিল।
জন্ম: ১৮৭৮, মৃত্যু: ১৯৫৩।










৬ অ্যান্ড্রু কার্নেগি
অ্যান্ড্রু কার্নেগি
স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু কার্নেগিকে বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধনী। পেশায় ইস্পাত ব্যবসায়ী কার্নেগি ১৯০১ সালে নিজের মালিকানাধীন ইউএস স্টিল ৪৮ কোটি ডলারে জেপি মরগ্যানের কাছে বিক্রি করেন। বর্তমান বাজারদরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ হবে ৩৭ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। জন্ম: ১৮৩৫, মৃত্যু: ১৯১৯।









৭ জন ডি রকফেলার
জন ডি রকফেলার
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী জন রকফেলার ১৮৬৩ সালে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। এরপর থেকে কখনো তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯১৮ সালে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময়ের জিডিপির ২ শতাংশ। বর্তমান বাজারদরে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৩৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। জন্ম: ১৮৩৯, মৃত্যু: ১৯৩৭।








৮ সম্রাট অ্যালান রুফুস
সম্রাট অ্যালান রুফুস
ব্রিটিশ সম্রাট রুফুস ছিলেন নরম্যান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট উইলিয়ামের ভাগনে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড, যা ছিল তৎকালীন ইংল্যান্ডের মোট জিডিপির শতকরা ৭ ভাগ। এটি বর্তমান সময়ের হিসাবে ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার হবে। 
জন্ম: ১০৪০, মৃত্যু: ১০৯৩।







৯ বিল গেটস
বিল গেটস
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। টাইম-এর সেরা ১০ ধনীর তালিকায় একমাত্র জীবিত সদস্য তিনি। অর্জিত সম্পদের ৯৫ শতাংশই জনহিতকর কাজের জন্য দান করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় তিনি এখন বিশ্বের সেরা ধনী।
জন্ম: ১৯৫৫।









১০ চেঙ্গিস খান 
চেঙ্গিস খান
মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খানকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি। চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাঁর সাম্রাজ্য। তাঁর অধীনে থাকা সাম্রাজ্যভুক্ত জমিই তাঁর সম্পদের মূল উৎস ছিল। যুদ্ধ জয়ের পর পাওয়া সম্পদ নিজে না নিয়ে সৈনিকদের ভাগ করে দিতেন তিনি। 
জন্ম: ১১৬২, মৃত্যু: ১২২৭

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০১৫

প্রত্যেক মানুষের জন্যেই দুই ধরনের আগুন রয়েছে

প্রত্যেক মানুষের জন্যেই দুই ধরনের আগুন রয়েছে। যার মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়।
১. জাহান্নামের আগুন।
২. তওবার আগুন।
যদি প্রথমটি গ্রহণ করা হয়, তাহলে দুনিয়ার অল্প কয়েক বছরের এই জীবনে পরিপূর্ণ স্বাধীন ভাবে মনের চাহিদা অনুযায়ী সকল প্রকার আরাম আয়েশ ভোগ করা যাবে। পূর্ণ করা যাবে সব ধরনের কামনাবাসনা। পরিনামে পাওয়া যাবে, অনন্ত অসীম কালের জীবনে শুধুই আগুন আর আগুন। যেই আগুনের উত্তাপ হবে পৃথিবীর জ্বলন্ত আগুনের থেকেও সত্তর গুণ বেশি তাপমাত্রা। তখন শত চেষ্টা করেও সেখান থেকে আর ফিরে আসা যাবে না।
আর যদি দ্বিতীয়টি গ্রহণ করা হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের এই জীবনে অল্প কিছুদিন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাতে জ্বলন্তআগুন রাখার মত কঠিন ইমানী পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। পরিনামে অনন্ত অসীম কালের জীবনে মনের চাহিদা অনুযায়ী জীবনযাপন করার সুযোগ পাওয়া যাবে। সেখানে সবধরনের আশা আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে। ভোগ করা যাবে মনের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের কামনা বাসনা।
সুতরাং কোন আগুনকে গ্রহণ করা উচিৎ???

বন্ধু দিবস থাকলে শত্রু দিবসও থাকা উচিত। কারণঃ



১। স্বভাবতই মানুষ নতুন নতুন বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। যা থেকে নতুন নতুন শত্রুও তৈরী হয়।
২। টাকার কারণে অনেক বন্ধু বান্ধব ধীরে ধীরে অঘোষিত শত্রু হয়ে পড়ে।
৩। শত্রুরও বন্ধু আছে আবার শত্রুও আছে। 
৪। এক বন্ধু চার-পাচটা বান্ধবী নিয়ে সেলফিবাজির দরুন সেও মানসিক শত্রুতে পরিণত হতে পারে।
৫। বন্ধুর সাথে বন্ধুর অনেক দিন ধরে ক্ষোভ জমতে জমতেও সে বিরক্ত, এড়িয়ে চলার কারণ হতে পারে।
৬। বন্ধুর খুঁটিনাটি বদনাম বলে বেড়িয়ে চললে সেও শত্রূ হতে পারে।
৭। "বন্ধু জব করে কিন্তু আমরা সব বেকার" এই প্রবাদেও বন্ধু দূরে সরে যেতে পারে।
৮। বন্ধুর সুখে তাল মিলানো এবং দুঃখে হাত না বাড়ানো।
উপরের সবগুলোই একমাত্র তার পক্ষে সম্ভব যিনি বন্ধুত্ব করেছেন শুধুমাত্র স্বার্থরক্ষা আর সময় কাটানোর জন্য, বন্ধুত্ত্বের জন্য নয়। তাদের জন্য শত্রু দিবস কামনা করছি। অর্থনৈতিক মন্দার সিজনের কোন এক সময়ে এই দিবসকে ঠিক করা যেতে পারে।
আর বন্ধুত্ব নিয়ে শুধু একটিই কথা> বন্ধু হবে শুধুই বন্ধু, এটা কোন সম্পর্ক নয়... এটা একটা বাঁধন। যা মৌলিক

আমীরুল মু'মিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর (রহিমাহুল্লাহু) এর শাসনামলের একটি আশ্চর্য জনক ঘটনা

ক্ষমতা তখন তালেবানদের হাতে। আফগানিস্তান থেকে লাল-কুকুর নামে প্রসিদ্ধ রুশ সেনাদের হটিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেছেন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর নেতৃত্বাধীন তালেবান সরকার। সারাদেশে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। 
এমনই এক সময়ে আফগানিস্তানের কান্দাহার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ট্রান্সমিটার অকেজো হয়ে পড়লো।এ নিয়ে তালেবান সরকার ভীষণ পেরেশান। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানের অর্থনৈতিক অবস্থাও তখন করুণ।
.
এই দুর্ঘটনার কথা হাকীমুল উম্মত শাহ হাকিম আখতার সাহেবের কানে পৌঁছে। সাথে সাথে উনি উনার আফ্রিকার কয়েকজন শাগরেদকে বলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রান্সমিটারের ব্যবস্থা করেন।
ট্রান্সমিটার আনার পর শুরু হলো সংযোজনের কাজ। সবকিছু ফিটিং করার পর চালু করতে গিয়ে দেখে, চালু হচ্ছে না ! বড় বড় ইন্জিনিয়ার-মেকানিকরা মিলেও ট্রান্সমিটার চালু করতে পারছিল না। এই সংবাদ আমীরুল মু'মিনীনের কানে পৌছলে তিনি দ্রুত বিমান বন্দরে যান। সেখানে গিয়ে সবাইকে ঐ স্থান থেকে বের করে দিলেন। কাধেঁ থাকা চাদর ট্রান্সমিটারে বিছিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজ শেষে হাত উঠিয়ে কান্না শুরু করলেন।
.
কতক্ষণ পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইন্জিনিয়ারদেরকে ভিতরে যেতে বললেন। ওরা সেখানে গিয়ে দেখলেন ট্রান্সমিটারের উপর একটা চাদর পড়ে আছে। ওরা কিছুই বুঝলো না।হতভম্ব হয়ে তারা পড়ে থাকা চাদরও সরালো না। সাথে থাকা কয়েকজন তালেবান ট্রান্সমিটারের উপর থেকে চাদর সরিয়ে নিলেন। ইন্জিনিয়াররা পূণরায় স্টার্ট দিলেন। সবাই অবাক হয়ে দেখলো, ট্রান্সমিটার খুব স্বাভাবিকভাবেই চালু হয়ে গেলো !!
অথচ কিছুক্ষণ আগেও বিশ্বের বড় বড় ইন্জিনিয়ার শত চেষ্টা করেও কোন কুল কিনারা পাচ্ছিলো না। দুনিয়াদার ইন্জিনিয়ারদের কাছে এটা অদ্ভুত ঘটনা হিসেবেই রয়ে গেলো। যা বুঝার আল্লাহ ওয়ালা তালেবানরাই বুঝলো। আর চোখের সামনে আল্লাহর তায়ালার এক খাছ বান্দার সাথে তাঁর প্রভুর অদ্ভুত সম্পর্ক দেখলেন।
.
~ঘটনাটি আমার উস্তাদজীর কাছ থেকে শোনা। যিনি দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের করাচী মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

আবু জর আল গিফারীঃ ডাকাত থেকে সাহাবী

মক্কা যে গিরিপথের মাধ্যমে বাকী পৃথিবীর সাথে যুক্ত ছিল সেটা ছিল ওয়াদান ভ্যালী এবং সেখানেই ছিল গিফার গোত্রের বাস। অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এই জাতি মক্কা এবং সিরিয়ার মধ্যে যে সকল বানিজ্য বহর চলাচল করত তাদের জিম্মি করে চাঁদবাজী করত । বানিজ্য কাফেলা তাদের দাবী পূরণে ব্যর্থ হলে তারা মালামাল আর ধনসম্পদ লুন্ঠন করত । জুনদুব ইবন্ জুনাদা নামে এই গোত্রের ভয়ংকর এবং ক্ষিপ্র একজন নেতা ছিল, যাকে মানুষ আবু জর ডাক নামেই বেশী চিনত।
লোকটি সমগ্র আরব অঞ্চলে তার সাহস এবং স্থিরচিত্তের জন্য বিখ্যাত ছিল। লোকজন তাকে সেই মানুষ হিসাবেও জানত যে মানুষ আরবের সকলে যে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে জীবনধারণ করে সে তাকে মিথ্যা বলে মনে করত।
ওয়াদান মরুভূমিতে অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে খবর পৌঁছাল যে, মুহাম্মাদ নামের একজন ব্যক্তি মক্কায় নিজেকে আল্লাহর নবী বলে পরিচয় দিচ্ছে। একথা শোনার পর তার অন্তরে খেলে গেল এক অদ্ভূত আলোড়ন। মন বলল এই লোকটিই হয়ত সে, যে এ জাতিকে মূর্তিপূজা এবং পাপাচার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসবে। এ জনকে ও জনকে জিজ্ঞেস করেও তিনি কোন সদুত্তর পেলেন না। অস্থির মনের ব্যাকুলতা আরো বরং বেড়ে গেল। মন বলল আর তো বিলম্ব করা যায় না। বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে নিশ্চিত খবর তার চাই।
তাঁর ছোট ভাই এর নাম ছিল আনিস। বড় ভাই এর অস্থিরতা তার চোখেও ধরা পড়েছিল। আনিস নিজেও বড় ভাইকে গভীরভাবে ভালোবাসতো। আবু জর একদিন তাকে ডেকে নিয়ে বললেন, ”তুমি মক্কায় চলে যাও। ওখানে গিয়ে চুপি চুপি সে লোকটিকে খুঁজে বের করবে যে নিজেকে নবী বলে পরিচয় দিচ্ছে। সাবধান থেকো, ওখানকার মানুষ জানতে পারলে তোমাকে এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। লোকটি কি কি বলে তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনো, বিশেষ করে সে কথাগুলো, যা সে আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছে বলে বলছে। দ্রুত যাও আর ফিরে এসে আমাকে সব জানাও।”
আনিস দেরী না করে বেরিয়ে পড়ল। মক্কার বিপদসংকুল পরিস্থিতি। নতুন নবীর দাবীদার মুহাম্মাদের সন্ধান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সংশয় আর শংকার মধ্যেই আনিস একদিন খুঁজে বের করলো মুহাম্মাদকে (আল্লাহর করুনা শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক)। আনিস তাঁর কথা শুনলেন, তারপর মক্কা থেকে তিনি দ্রুত ওয়াদান এর পথে রওয়ানা হলেন।
ইতিমধ্যেই আবু জর অস্থির হয়ে উঠেছেন। মক্কা-ওয়াদান পথে তার উদ্বিগ্ন দৃষ্টি আনিসের আগমন পথের প্রতীক্ষায় ছিল। একদিন দেখা গেল আনিস ফিরে আসছে। ছুটে গেলেন তিনি আনিসের কাছে। উদ্বিগ্ন আবু জর জিজ্ঞেস করলেন,
”কি দেখলে ওখানে, দেখা হয়েছিলো তাঁর সাথে?”
”হ্যাঁ। একজন মানুষকে ওখানে সত্যিই আমি পেয়েছি যে নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত নবী বলে বলছে। সে কবি নয় এবং সে মানুষকে কেবল সত্য ও সৎকাজের দিকে ডাকছে।”
”মানুষজন তার সম্বন্ধে কি বলছে?”
”তারা তাকে যাদুকর, মিথ্যাবাদী আর কবি হিসাবে বলছে।”
”তুমি আমার কৌতুহল মেটাতে পারলে না। তুমি কি আমার পরিবারের দিকে খেয়াল রাখতে পারবে যদি আমি নিজেই মক্কা যাই আর সেই নবী বলে দাবীদার লোকটির সবকিছু নিজেই দেখে আসি?”
”হ্যাঁ। তবে সাবধান, মক্কার লোকদের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবেন।”
আর দেরী না করে আবু জর বেরিয়ে পড়লেন। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত যৌবন তার। জীবনে কতবার মানুষের সম্পদ লুট করার জন্য ক্ষিপ্র গতিতে ঘোড়া ছুটিয়েছেন, আর আজ তিনি চলেছেন এক মহাসত্যকে গ্রহণ করে নেবার জন্য। প্রখর সূর্য, গভীর রাতের নিকষ কালো অন্ধকার সবকিছু পেছনে ফেলে অকুতোভয় মানুষটি এগিয়ে চললেন মক্কার দিকে।
মক্কায় পৌঁছেই তীক্ষ্মধী আবু জর বুঝতে পারলেন শুধুমাত্র মুহাম্মাদের সাথে দেখা করার চেষ্টার কারণে তিনি অত্যন্ত অনিরাপদ ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং এজন্য তিনি কঠিন সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। আবু জর লক্ষ্য করলেন কুরাইশরা মুহুম্মাদের আনুসারীদের নির্মম শাস্তি দিচ্ছে আর কে কে মুহাম্মাদের কাছে আসছে তা দেখার জন্য চতুর গোয়েন্দাবাহিনী নামিয়েছে। আবু জর জানতেন যে এ অবস্থা তাকে মোকাবেলা করতে হতে পারে, তাই তিনিও প্রস্তুত ছিলেন। বুদ্ধিমান আবু জর এজন্য কোন লোকের কাছে মুহাম্মাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা থেকে বিরত রইলেন। পরিস্থিতি উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তিনি রাতে কাবাঘরের এক কোণে শুয়ে পড়তেন। একদিন আলী ইবন্ আবী তালীব তাকে দেখে ভাবলেন তিনি নিশ্চয়ই একজন আগন্তুক। আলী তাঁকে তার বাড়ীতে যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। আবু জর মেহমান হিসাবে চললেন আলীর বাড়ীতে। রাত যাপন করে তিনি সকালে আবার কাবার কাছে চলে এলেন, তবে আবু জর বা আলী কেউ কাউকে কোন প্রশ্ন করলেন না।
মুহাম্মাদ নামের নবী বলে দাবীদার লোকটির দেখা পাবেন বলে পরদিন সারাদিন তিনি কাবার কাছে খুঁজে খুঁজে কাটিয়ে দিলেন। কিন্তু দেখা পেলেন না। রাতে আবার চলে এলেন কাবার মসজিদে ঘুমাতে এবং আজও আলী ইবন্ আবী তালিব দেখলেন তাকে। আজ আলী বললেন, “এখনওকি সে সময়টা হয়নি যখন মানুষ বাড়ীর দিকে যায়, চলুন।”
আবু জর আজও আলীর সাথে তার বাড়ীতে গেলেন এবং আজও দুজনের কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।
এমনিভাবে তৃতীয় দিন এল। আজও আলীর মেহমান হয়েই আবু জর এসেছেন আলীর বাড়ীতে। আজ আলী জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি আমাকে বলবেন কেন আপনি মক্কায় এসেছেন?”
”আমি আপনাকে তখনই বলব যখন আপনি আমার সাথে এই প্রতিজ্ঞা করবেন যে, আমি যা চাই তার সঠিক সংবাদ আপনি আমাকে দেবেন আর কাউকে তা জানাবেন না।” আলী রাজী হলেন। আবু জর বললেন,
”আমি মক্কা থেকে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি একজন লোকের খোঁজে, যার নাম মুহাম্মাদ, যে নিজেকে নবী বলে পরিচয় দিচ্ছে। আমি শুধু তার সাথে একটু দেখা করে তার কিছু কথা শুনতে চাই।”
আনন্দে আলীর চেহারা উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। আলী বললেন, ”আল্লাহর শপথ, তিনি সত্যিই নবী।” আলী তাকে রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এবং তিনি যে শিক্ষা দিচ্ছেন তার থেকে কিছু আবু জরকে শোনালেন। অবশেষে তিনি বললেন, ”কাল সকালে আমি আপনাকে মুহাম্মাদের (সাঃ) কাছে নিয়ে যাব। আমি যেখানে যাব আপনি দূর থেকে আমাকে অনুসরণ করবেন। আমি যদি আপনার জন্য বিপজ্জনক কোন কিছু দেখি তাহলে আমি মূত্রত্যাগ করার ভাব করে থেমে যাব। যদি আমি চলতে থাকি আপনি আমাকে অনুসরণ করবেন এবং আমি যেখানে প্রবেশ করি আপনিও সেখানে প্রবেশ করবেন।”
সে রাতে আবু জর এর ঘুম হল না। এতদিন ধরে যে মানুষটিকে দেখার জন্য তিনি হন্যে হয়ে ঘুরছেন কাল তাঁরই সাথে দেখা হতে যাচ্ছে। আর তিনি যদি আল্লাহর নবীই হয়ে থুকে তাহলে কী সৌভাগ্যময় দিন তার আসতে যাচ্ছে কাল।
পরদিন কথামত আবু জর চললেন আলীর সাথে রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে দেখা করার জন্য। আলীর সাথে দূরত্ব বজায় রেখে তিনি আলীর পদচিহ্ন অনুসরণ করতে লাগলেন। কোন বিপদ ছাড়াই একসময় তারা পৌঁছে গেলেন কাঙ্খিত গন্তব্যে। কত কথা আবু জর যেন ভেবে রেখেছিলেন মুহাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করার জন্য, তার কথাগুলো একটু যাচাই করে নেবার জন্য, কিন্তু আজ যখন তিনি মুহাম্মাদ নামের এই লোকটির সামনে এলেন, তার আগেই আল্লাহ্ ঈমানের আলো আবু জরের অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন। প্রথম দেখাতেই রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে তিনি বললেন, ”আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসুল।” ”আস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ্”।
রাসুলুল্লাহ্, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, আবু জরের চেয়েও সুন্দর ভাষায় সে সম্বোধনের জবাব দিলেন, ”তোমার উপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও করুণা বর্ষিত হোক।” ”ওয়ালাইকুম আস্সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্ ওয়া বারাকাতুহু”। আর এভাবেই আবু জর হলেন প্রথম মানুষ যিনি আল্লাহর রাসুলকে সেই কথাগুলো দিয়ে সম্বোধন করলেন যা পরবর্তিতে মুসলিমদের জন্য সম্বোধন রীতি হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) তাকে স্বাগত জানরালেন এবং ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি তাকে কুরআন থেকে কিছু বাণী পড়ে শেনালেন। আবু জর মোটেও দেরী করলেন না, সত্যের আলো তার হৃদয়ে আল্লাহ্ প্রজ্জ্বলিত করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ্ ও তার রাসুলকে বিশ্বাস করে সাক্ষ্যের উচ্চারণ তার মুখ থেকে উচ্চারিত হলো। আর ভাগ্যবান এই লোকটি এভাবেই প্রথম দিককার মুসলিমদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হলেন, যাদের সীমাহীন মর্যাদার কথা স্বয়ং আল্লাহ্ ঘোষনা করেছেন। এরপরের কথা আমরা আবু জরের মুখ থেকেই শুনব।
“এরপর থেকে আমি রাসুল, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, এর সাথে মক্কায় থাকতে লাগলাম। তিনি আমাকে ইসলাম এবং কুরআন শিক্ষা দিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাকে বললেন, ”তোমার ইসলাম গ্রহণের কথা তুমি এখানে মক্কার কাউকে জানিও না। আমার ভয় হয়, তা জানলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে।”
আবু জর তারুণ্যদীপ্ত দুঃসাহসিক মানুষ। ইসলাম গ্রহণের আগেও তিনি কাউকে কখনও ভয় পাননি, বরং এ লোকটির সাহস আর পৌরুষ সবাইকে অবাক করেছে। আজ ঈমানের তেজ তার অন্তরে। তিনি কি কাউকে ভয় পেতে পারেন? আবু জর বললেন, ”যার হাতে আমার প্রাণ সেই মহান সত্ত্বার শপথ ইয়া রাসুলাল্লাহ্, আমি ততক্ষন পর্যন্ত মক্কা ত্যাগ করব না যতক্ষন না আমি কাবার প্রঙ্গনে কুরাইশদের মাঝখানে গিয়ে যে সত্য আল্লাহ্ আমাকে দিয়েছেন সে সত্যের ঘোষণা না দেব।”
রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) নিশ্চুপ রইলেন। আমি কাবার মসজিদে গেলাম। কুরাইশরা সেখানে বসে ছিল এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। আমি তাদের মাঝখানে গিয়ে পৌঁছালাম এবং আমার গলার সর্বোচ্চ আওয়াজে বললাম, ”কুরাইশগণ, আমি তোমাদের ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নাই এং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।”
আমার কথার সাথে সাথে তাদের মধ্যে বিস্ময়কর প্রতিক্রিয়া হল। তারা লাফ দিয়ে উঠে পড়ল এবং বলতে লাগল, ”একে এখনই ধর, সে নিজের দীন ত্যাগ করেছে।” তারা আমাকে ধরে ফেলল, আমার উপর চড়ে বসল আর আমাকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে মারতে লাগলো। তাদের সেই বীভৎস মার আমাকে প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময় আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব, যিনি রাসুলুল্লাহর চাচা, আমাকে চিনতে পারলেন। তিনি আমার উপর আচ্ছাদনের মত ঝুঁকে পড়লেন এবং আমাকে তাদের মার থেকে রক্ষা করলেন। তারপর তাদের বললেন, ”তোমাদের ধ্বংস হোক, এ তোমরা এ কি করছ? তোমরা কি গিফার গোত্রের একজন লোককে মেরে ফেলছ অথচ তোমাদের ব্যবসা ও বাহনগুলো গিফার গোত্রের উপর দিয়েই মক্কা থেকে বের হবে।” আব্বাসের এ কথায় তারা আমাকে ছেড়ে দিল।
এ ঘটনার পর আমি রাসুলুল্লাহ্, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, এর কাছে ফিরে গেলাম। যখন তিনি আমার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখলেন তখন বললেন, ”আমি কি তোমাকে বলিনি মক্কার লোকদের সামনে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা না দেবার জন্য।” আমি বললাম, ”ইয়া রাসুলাল্লাহ্, এ কাজটি করার জন্য আমি মন থেকে চাইছিলাম এবং তা আমি পূরণ করেছি”।
”তোমার জাতির কাছে ফিরে যাও, আর তুমি যা দেখেছ ও যা শুনেছ তা তাদেরকে জানাও। তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দাও। আল্লাহ্ হয়তো তোমার মাধ্যমেই তাদেরকে কল্যাণের দিকে নিয়ে আসবেন এবং তাদের মাধ্যমে তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। আর যখন তুমি শুনবে যে আমি প্রকাশ্যে চলে এসেছি, তখন তুমি আমার কাছে চলে এসো।”
রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর এ আদেশের পর আমি আমার জাতির কাছে চলে এলাম। আমার পৌঁছানোর খবর পেয়ে আমার ভাই আমার কাছে ছুটে এল। ”আপনি কি করলেন সেখানে?”, সে আমাকে জিজ্ঞেস করল। আমি বললাম যে, আমি মুসলিম হয়েছি আর মুহাম্মাদ যে শিক্ষা দিচ্ছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। ”আমি আপনার ধর্ম আর মতের বিরুদ্ধে নই, আজ থেকে আমিও মুসলিম আর বিশ্বাসী হিসাবে ঘোষনা করলাম।”
দুই ভাই এরপর তাদের মায়ের কাছে গেল এবং মাকে ইসলামের দাওয়াত দিল। মা বললেন, ”তোমাদের দু ভাইয়ের বিশ্বাসের সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। আজ থেকে আমিও ইসলামে প্রবেশ করলাম।”
সেদিন থেকেই এ বিশ্বাসী মুসলিম পরিবারটি গিফার গোত্রের লোকদের অক্লান্তভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চলল। ফলশ্র“তিতে গিফার গোত্রের অধিকাংশ লোক ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিল।
আবু জর রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) মদিনায় হিজরতের আগ পর্য়ন্ত ওয়াদান মরুভূমিতে তাঁর গোত্রে অবস্থান করতে লাগলেন। বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের সময় পর্য়ন্ত এ গোত্রটি ওয়াদান মরুভূমিতে অবস্থান করতে লাগল। অবশেষে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশে আবু জর এরপর মদিনায় চলে এলেন। আবু জর রাসুল (সাঃ) এর কাছে অনুমতি চাইলেন সর্বক্ষন তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে থাকার জন্য এবং তাঁর ব্যক্তিগত কাজে লাগার জন্য। রাসুল (সাঃ) তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তার সাহচার্য ও কাজকর্মে সবসময় সন্তুষ্ট ছিলেন। রাসুল (সাঃ) প্রয়ই আবু জরকে অন্যদের থেকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং যখনই তার সাথে দেখা হত তিনি তার দিকে তাকিয়ে হাসতেন আর তাঁকে বেশ প্রফুল্ল দেখাত।
সময় বয়ে চলল এবং একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করলেন। আবু জর এরপর আর মদিনা থাকতে পারলেন না। প্রতিটি মুহূর্তে রাসুলের (সাঃ) শূন্যতা তাকে ভীষন আবেগপ্রবন করে তুলত। রাসুলের (সাঃ) যে অভিভাবকত্ব আবু জরকে ছায়ার মত আগলে রেখেছিল তার অভাব তাকে প্রতিটি সেকেন্ডে যেন বিদ্ধ করছিল। আবু জর মদিনা ত্যাগ করলেন এবং আবু বকর এবং উমার এর পুরো খিলাফতকাল তিনি সিরিয়ার মরুভূমিতে নিভৃতে কাটিয়ে দিলেন।
উসমান ইবন্ আফফান (রাঃ) এর খিলাফতকালে আবু জর দামাস্কাসে অবস্থান করছিলেন। দুনিয়ার প্রতি চিরকাল উদাসীন আবু জর লক্ষ্য করলেন মুসলিমরা পরকাল বাদ দিয়ে দুনিয়া এবং বিলাসিতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি এতে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়লেন। উসমান (রাঃ) তাকে মদিনায় ডেকে পাঠালেন। মদিনায় এসেও আবু জর মুসলিম সমাজের বিলাসিতায় মজে যাবার চিত্রই দেখলেন। অবিশ্বাস্য রকম দৃঢ় ও সারাজীবন একই রকম দুনিয়াবিমুখ এ লোকটি মুসলিমদের এ পরিবর্তন সহজভাবে নিতে পারলেন না। এর ফলে শাসক খিলাফতের সাথে তাঁর দ্বন্দ্ব বাড়তে লাগল, এমনকি আবু জরের দৃঢ় দুনিয়া বিমুখতায় মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিল। এহেন অবস্থায় খলিফা উসমান তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁকে মদিনার কাছে নির্জন আল-রাবাতাহ্ মরুভূমিতে চলে যাবার জন্য অনুরোধ করলেন। আবু জর লোকালয় থেকে অনেক দূরে রাবাতাহ্য় চলে গেলেন এবং সেখানে প্রাণপ্রিয় রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ্ আঁকড়ে ধরে বাস করতে লাগলেন। মরুভূমিতে তাঁর বসবাসকালীন জীবনে একবার এক লোক তাঁর সাথে দেখা করতে এল। অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে সে লক্ষ্য করল আবু জরের বাড়ী প্রায় শূন্য, কোন সম্পদ বলতে সেখানে কিছু নেই। লোকটি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ”আপনার সম্পদ কোথায়?” তিনি উত্তর করলেন, ”পৃথিবীর পরের জীবনে আমার একটি বাড়ী আছে। আমার সব উত্তম সম্পদগুলো আমি সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।” লোকটি বুঝল আবু জর কি বুঝাতে চাচ্ছেন। ”কিন্তু যতদিন আপনি এ দুনিয়াতে আছেন, ততদিন আপনার কিছু সম্পদ থাকা উচিৎ”। আবু জর উত্তর করলেন, ”যিনি এ পৃথিবীর মালিক, তিনি তো আমাকে এ সম্পদের কাছে ছেড়ে দেবেন না”।
একবার সিরিয়ার আমীর দূত পাঠিয়ে আবু জরকে তাঁর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তিনশো দীনার পাঠিয়ে দিল। আবু জর এই বলে আমীরের দেয়া দীনার ফেরত পাঠালেন যে, ”আমীর কি এ দীনারগুলো দেবার জন্য আমার চেয়ে বেশী চাহিদাসম্পন্ন ভৃত্য আর কাউকে খুঁজে পেলেন না?”
৩২ হিজরী। আবু জরের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়েছে। নির্জন মরুভূমিতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী একা। রাবাতাহ্ ছিল এমন একটি যায়গা যেখান দিয়ে সাধারণত একেবারেই লোক চলাচল হত না, তার উপর সে সময়টা এমন ছিল যখন কোন বাণিজ্য কাফেলাও যাতায়াত করত না।। মৃত্যুপথযাত্রী আবু জরের অবস্থা দেখে তাঁর স্ত্রী ব্যাকুল হয়ে পড়লেন কোন সাহায্যের আশায়। স্ত্রীর এ অবস্থা দেখে আবু জর বললেন, ”চিন্তা করো না, আমি রাসুলাল্লাহ, তাঁর উপর আল্লাহর করুণা বর্ষিত হোক, কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে এখানকার একজনের মৃত্যু হবে নির্জন মরুভূমিতে। কিন্তু তার মৃত্যুর সময় মুমিনদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হবে। আমি নিশ্চিত সে ব্যক্তিটিই আমি, কারণ সেদিন আমরা যারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম তাদের সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। কেবল আমিই বাকী। তুমি পথের দিকে খেয়াল রাখ। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল মিথ্যা বলেন নি।” আবু জর কিছুক্ষনের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। আবু জরের স্ত্রী একবার স্বামীর কাছে আরেকবার উঁচু টিলার উপর উঠে দূরে খেয়াল করতে লাগলেন। এ অসময়ে কে আসবে এই অপ্রচলিত পথে এই চিন্তায় তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। অবশেষে দূরে দেখা গেল ধুলোর ঝড় তুলে একদল লোক এদিকেই আসছে। কাফেলাটি এসে আবু জরকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করল এ লোকটি কে? তাঁর স্ত্রী উত্তর করলেন, আবু জর। লোকেরা বলল, রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর সাহাবী আবু জর? তাঁর স্ত্রী বললেন, ”হ্যাঁ।” লোকেরা অত্যন্ত অস্থির হয়ে বলল, ”আমাদের জান কুরবান হোক”। তারা দ্রুত আবু জরের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করলেন। প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ্ ইবন্ মাসউদ (রাঃ) তাঁর জানাজার সালাত পড়ান।
এমনিভাবে আবু জর ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেছেন দুনিয়াবিমুখ হয়ে কেবলমাত্র আল্লাহ্ আর তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে। একদিন যে লোকটি ওয়াদান ভ্যালীর আতঙ্ক আর ত্রাসের নাম ছিল, সে ব্যক্তিটিই একদিন নির্লোভ আর দুনিয়াবিমুখতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর অন্তরকে এমনই পরিবর্তন করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে তিনি এতই ভালবাসতেন যে তাঁর মৃত্যুর পর যখনই তিনি রাসুলের (সাঃ) কথা মনে করতেন, তখনই অঝোর ধারায় কাঁদতেন। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যপার এই যে এই দুর্ধর্ষ মানুষটি সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ”আকাশের নীচে এবং পৃথিবীর উপর আবু জরের চেয়ে বিশ্বাসী ও সত্যবাদী আর কেউ নেই”।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

পবিত্র কোরআনের আলোকে পর্দার অপরিহার্যতা চতুর্থ প্রমাণ

আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آَبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ وَاتَّقِينَ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا
নবীর স্ত্রীদের জন্য তাদের পিতাদের, তাদের পুত্রদের, তাদের ভাইদের, তাদের ভাইয়ের ছেলেদের, তাদের বোনের ছেলেদের, তাদের নারীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের বেলায় (হিজাব না করায়) কোন অপরাধ নেই। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সকল কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী। (সুরা আহযাব-৫৫)
ইবনে কাসীর (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহ তাআলা মহিলাদেরকে গাইরে মাহরাম (ইসলামি শরিয়তে যাদের সাথে বিবাহ অনুমোদিত)-এর সাথে পর্দা করার নির্দেশ দানের পর এটিও বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, আত্মীয় মাহরামদের সাথে পর্দা করা ওয়াজিব নয়। যেমন, সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে বর্ণিত আছে:
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ
“তারা যেন তাদের স্বামী ছাড়া অন্যের সামনে তাদের সাজ-সজ্জা প্রকাশ না করে”।
পরপুরুষের সামনে পর্দার অপরিহার্যতার উপর পবিত্র কোরআন থেকে এই চারটি দলীল পেশ করা হল শুধু প্রথম আয়াতেই এ বিষয়ের উপর পাঁচটি প্রণালীতে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। (যা আমাদের জন্যে যথেষ্ট।)
দ্বিতীয়ত:
সুন্নাহর আলোকে পর্দার অপরিহার্যতা
প্রথম দলীল,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
إذا خطب أحدكم امرأة فلا جناح عليه أن ينظر منها إذا كان إنما ينظر إليها لخطبة و إن كانت لا تعلم ( رواه أحمد)
“তোমাদের কেউ কোনো নারীর প্রতি বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের পর তাকে দেখলে কোন গুণাহ হবে না”। (মুসানদে আহমাদ)
মাজমাউজ্জাওয়ায়েদ গ্রন্থে উক্ত হাদীসকে ত্রুটিমুক্ত ও বিশুদ্ধ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
উল্লেখিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম) বলেন, বিয়ের প্রস্তাব দাতা যদি বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রীকে দেখে, তাহলে গুণাহ হবে না। এতে প্রতীয়মান হলো যে, যারা বিয়ের উদ্যোগ না নিয়ে, এমনিই দেখে তারা গুনাহগার হবে। অনুরূপ যারা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং মহিলার রূপ লাবণ্য দর্শনের স্বাদ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে দেখে থাকে, তারাও পাপাচারীদের দলভুক্ত হবে।
প্রশ্ন হতে পারে, হাদীসে মহিলার কোন অঙ্গটি দর্শনীয় তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। বক্ষদেশ, হাত, পা ইত্যাদি যে কোনো একটি অঙ্গের দর্শনওতো উদ্দেশ্য হতে পারে।
উত্তর: সৌন্দর্য ও রূপ উপলব্ধিকারী প্রস্তাব দাতার পক্ষে পাত্রীর চেহারার সৌন্দর্য দেখাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। কারণ, চেহারাই হল, নারী সৌন্দর্যের প্রতীক। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য অন্বেষনকারী প্রস্তাবদাতা নারীর চেহারাই দেখে থাকে, এতে কোন সন্দেহ নেই। (নারীর দর্শনীয় অঙ্গটি চেহারাই হয়ে থাকে)
২য় দলীল,
রাসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদেরকে ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করার আদেশ প্রদান করলে জনৈকা নারী বলে উঠলেন। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের করো কারো পরিধান করার মত চাদর-কাপড় নেই (আমরা কিভাবে জনসমাবেশে ঈদের নামায আদায় করতে যাব।) প্রত্যুত্তেরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন যার চাদর নাই তাকে যেন অন্য বোন পরার জন্যে চাদর দিয়ে দেয়। (বুখারী-মুসলিম)
উক্ত হাদীস দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হল যে, সাহাবায়ে কেরামের স্ত্রীরা কোন অবস্থাতেই চাদর পরিধান না করে গৃহ থেকে বের হতেন না, এমনকি চাদর ব্যতীত ঘর হতে বের হওয়াকে অসম্ভব মনে করতেন। এ কারণে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দানের পরও তারা চাদর ছাড়া ঈদগাহে যাওয়াকে সমীচীন মনে করেননি। তাইতো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে এরশাদ করেন, সে যেন তার অন্য বোন হতে ধার নিয়ে হলেও চাদর পরিধান করে ঘর থেকে বের হয়। লক্ষনীয় যে, রাসূল বিনা চাদরে বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করেননি। অথচ ঈদ গাহে গিয়ে নামায আদায় করা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ইসলামি শরিয়ত সম্মত বিধান। যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) শরিয়ত সম্মত কাজের জন্যেও চাদর ব্যতীত (পুরাপুরী পর্দা করা ব্যতীত) ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেননি, তাহলে অনৈসলামিক, অহেতুক, শরিয়ত অসম্মত কাজে চাদর ব্যতীত বেপর্দায় যাওয়ার অনুমতি কিভাবে দেওয়া যেতে পারে? নি:সন্দেহে তা অবৈধ হবে। বরং নারীর পক্ষে বাজারে মার্কেটে চলাফেরা করা এবং পরপুরুষের সাথে খোলা-মেলা ভাবে ঘুরে বেড়ানো অহেতুক কাজ যা প্রকৃত পক্ষে তাদের জন্যে অকল্যাণকর।
বস্তুত: আয়াতে ও হাদীসে চাদর পরিধান করার নির্দেশ এ কথাই প্রমাণ করে যে, নারীর জন্যে মুখমন্ডলসহ পরিপূর্ণ পর্দা করা