শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে- কারাগার ও সৌদির কারাগার


আপনি আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে- কারাগার, ইরাকের আবু গারীব কারাগার ও আফগানিস্থানের বাগরাম কারাগারের কথা ও সেখানকার নির্যাতনের কথা শুনেছেন, কিন্তু সৌদির কারাগার ও সেখানকার অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা কি কখনও শুনেছেন? সৌদির কারাগার যে কোন অংশেই ঐসব কারাগার থেকে কম নয়, তা কি জানেন?
.
প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সৌদি কারাবদ্ধ করে নির্যাতন করে চলছে। এঁদের মধ্যে আছেন বেশ কিছু খ্যাতিমান আলেম ও দাঈ। একমাত্র সত্য বলার অপরাধেই তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এমনও অনেক আছেন, যাঁদেরকে দশ থেকে বাইশ বছর ধরে বিনা বিচারেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠের ভেতর নির্যাতন করা হচ্ছে। তন্মধ্যে কেউ কেউ আছেন বয়োবৃদ্ধ। নিচে প্রসিদ্ধ কতিপয় বন্দী আলেম ও দাঈদের নাম উল্লেখ করলাম। এঁদের মধ্যে যথাক্রমে প্রথমোল্লেখিত তিনজনের বয়স ৮৫, ৭০ ও ৬৫! আরও অনেকেই পঞ্চাশোর্ধ্ব পৌঢ়।
.
.
(১) শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ আস-সাক্বআব। 
(২) শাইখ আল্লামা আব্দুল করীম আল-হামীদ। 
(৩) শাইখ আল্লামা আহমদ আস-সিনানি। 
(৪) শাইখ আল্লামা ওয়ালীদ আস-সিনানি।
(৫) শাইখ আল্লামা সুলাইমান আল-উলওয়ান।
(৬) শাইখ আল্লামা আব্দুল্লাহ আর-রীস।
(৭) শাইখ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস-সুদাইস। (শাইখ সুদাইসের চাচাতো ভাই) 
(৮) শাইখ আল্লামা ইব্রাহীম আর-রীস।
(৯) শাইখ আল্লামা আলী আল-খুযাইর।
(১০) শাইখ আল্লামা নাসির আল- ফাহদ।
(১১) শাইখ আল্লামা সাঈদ আয-যাঈর।
(১২) শাইখ আল্লামা আহমদ আল-খালিদি।
(১৩) শাইখ খালিদ আর-রাশিদি।
(১৪) শাইখ আল্লামা ফারিস আয-যাহরানি।
(১৫) শাইখ আব্দুল আজীজ আল-কামিল।
(১৭) শাইখ আল্লামা মূসা আল-ক্বারনি।
(১৮) শাইখ আব্দুল আজীজ আল- বারিদি।
(১৯) শাইখ আল্লামা ইব্রাহিম আন-নাসির।
(২০) শাইখ হুসাইন বিন আলী আত-তামিমি।
(২১) শাইখ খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হামলান।
(২২) শাইখ আব্দুল আজীজ আল-জলীল।
(২৩) শাইখ ফাহদ আল-আসাকির।
(২৪) শাইখ আল্লামা সালিম আদ-দাওসারি।
(২৫) শাইখ আব্দুল্লাহ আর-রশীদ।
(২৬) শাইখ সাঊদ আদ-দারবিশ।
(২৭) শাইখ ফাহদ আদ-দারবিশ।
(২৮) শাইখ খালিদ আল-উলওয়ান।
(২৯) শাইখ সালিহ আল-উলওয়ান।
(৩০) ড. শাইখ আল্লামা আব্দুল করীম।
(৩১) শাইখ ইউসুফ আল-আহমাদ।
(৩২) শাইখ ইব্রাহীম আল-ফারিস।
(৩৩) ড. ইব্রাহীম আন-নাসির।
(৩৪) শাইখ মুহাম্মাদ আল-হাবদান।
(৩৫) শাইখ গারাম আল-বাইশি।
(৩৬) শাইখ মুহাম্মদ বিন আং আজিজ খুযাইর
(৩৭) শাইখ সালমান আল-আওদা।
(৩৮) শাইখ আওয আল-ক্বরনি।
(৩৯) শাইখ নাসর আল-উমর।
(৪০) শাইখ খালিদ আল-আজিমি।
(৪১) শাইখ মুহাম্মাদ আশ-শানার
(৪২) শাইখ আলী বাদাহদা।
(৪৩) শাইখ আব্দুল্লাহ্ আশ-শুয়াইলিম।
(৪৪) শাইখ আদিল বানা'মা।
(৪৫) শাইখ ড. মুস্তাফা আল-হাসসান
(৪৬) শাইখ আল্লামা সালিহ আল-মুনাজ্জিদ। 
(৪৭) শাইখ নায়েফ আস-সাহাফি।
(৪৮) শাইখ ইদ্রিস আল-আবকার।
(৪৯) শাইখ মূসা আশ-শরীফ। 
(৫০) শাইখ আব্দুল আজীজ আত-ত্বারিফি।
.
এছাড়া আরও অনেকে......
এগুলো কতিপয় উল্লেখযোগ্য আলেম ও দাঈদের নাম। মোট গ্রেফতারকৃত আলেম ও দাঈদের ২০% এরও কম। আর আফসোসের বিষয় হল যে, গতবছর শাইখ ফারিস আয-যাহরানি ও আরও বেশ কতজন আলেমকে হত্যা করে দেয়া হয়েছে! 

ওয়া ইলাল্লাহিল মুশতাকা!


সায়্যিদ কুতুব রহ. কে কি ফাঁসি দেয়া হয়েছিল?


১৯৬৫ সালে আমি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে শুরু করলাম। এ বছরই সায়্যিদ কুতুব রহ. কে গ্রেফতার করে জালিম সামরিক আদালতে পেশ করা হয়। 
.
আমি তখন দৈনিক খবরের পাতায় চোখ বুলাতাম। মিশরীয় "আল-মাখুরি" পত্রিকায় ফলাও করে এ সংবাদ প্রচার করা হতো যে, 'সায়্যিদ কুতুব সরকারের পতন ঘটাতে চান! কায়রো সেতুগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান! শিল্পীদের হত্যা করতে চান!
.
"আল-আহরাম" পত্রিকায় তখন কয়েক পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হতো আল-আজহার, সুফি ও সালাফি আলেমদের ফতোয়া। তারা সায়্যিদ কুতুবকে অপরাধী সাব্যস্ত করতেন। সায়্যিদ কুতুব ও তাঁর অনুসারীরা নাকি অপরাধী, পথভ্রষ্ট ও জমিনে অনিষ্টকারের দল! তাঁদেরকে হত্যা করা হোক! 
.
সায়্যিদ কুতুবের ফাঁসির রায় দেয়া হল। তিনি হাসিমুখে তা বরণ করে নিলেন।
.
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক ক্লাসমেটের ভাই, যিনি ফাসি কার্যকর করার সময়কার পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আমাকে বর্ণনা করলেন যে, শহীদ ওমর মুখতার রহ. এর মতো অত্যন্ত বড়ত্বের ভাব নিয়ে সায়্যিদ কুতুব শান্তশিষ্ঠভাবে ফাঁসির কাষ্ঠের দিকে এগিয়ে গেলেন। 
.
তিনি বলেন, এরপর সায়্যিদ কুতুব সামান্য সময় থামলেন। ফাঁসি কার্যকরকারী লোকজনও কিছুক্ষণ থামল। তিনি সুরা গাফির- এর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন- وَقَالَ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ مِنْ آلِ فِرْعَوْن َ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ ۖ وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ ۖ وَإِنْ يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ.
.
এরপর তিনি দু'রাকআত নামাজ পড়ার অনুমতি চাইলেন। ঠিক তখন তার দিকে এগিয়ে আসলেন একজন পাগড়িধারী শাইখ। তিনি সায়্যিদ কুতুবকে আখেরি কালেমাহ পড়াতে চাইলেন! সায়্যিদ কুতুব তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'হে শাইখ! তারা তো আমাকে এই কালেমার সাক্ষ্য দান করার কারণেই ফাঁসি দিচ্ছে! তো এখানে কালেমা পড়ানোর কী দরকার?' 
.
সায়্যিদ কুতুব নামাজ পড়তে শুরু করলেন। শেষ সিজদাহে লোকেরা অপেক্ষা করছে যে, তিনি সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন আর তারা ফাঁসি কার্যকর করবে। কিন্তু নাহ, সায়্যিদ কুতুব সিজদাহ দীর্ঘায়ীত করতে লাগলেন। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। তিনি সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করছেননা! 
.
শেষমেশ তারা তাঁকে উঠাতে গেল। উঠাতে গিয়ে দেখতে পেল যে, তাঁর রূহ অনেক আগেই আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছে! মৃত অবস্থায়ই তারা তাঁকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দিল। যাতে তাগুত জামাল আব্দুন নাসেরের সামনে তারা তাঁর ফাঁসিদেয়া দেহ উপস্থাপন করতে পারে। 
.
১৯৭৬ সালে আমি রিয়াদের আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিক্বহ সম্মেলনে তাঁর ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ কুতুবকে এই ঘটনা বলি। তখন তিনিও বলেছিলেন যে, হ্যা! লোকেরা আমাকেও এই ঘটনা বর্ণনা করেছে! 
:
ড. মুহসিন আব্দুল হামিদ
অধ্যাপক শরী'আহ বিভাগ (সাবেক) 
বাগদাদ ইউনিভারসিটি।


সিরিয়ায় ফ্রান্সের ঔপনিবেশিকতার সময়ের কাহিনী


সিরিয়ায় ফ্রান্সের ঔপনিবেশিকতার সময়ের কাহিনী। জনৈক ফরাসি কর্মকর্তা দামেশকে একটি ভোজের আয়োজন করল। দামেশকের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও শাইখদের দাওয়াত করল। 
.
আমন্ত্রিত শাইখদের মধ্যে ধবধবে সাদা দাড়ি ও সাদা পাগড়িধারী একজন শাইখ ছিলেন। ভোজের মধ্যখানে ফরাসি কর্মকর্তা লক্ষ্য করল যে, এই শাইখ চাকু ও চামচ ব্যবহার না করে হাত লাগিয়ে খাচ্ছেন। শাইখের এই ধরণের ভক্ষণ কর্মকর্তার ভাল লাগলোনা। সে মনে করল যে, এই শাইখ পুরো ভোজ্যানুষ্ঠানের সৌন্দর্যই নষ্ট করে দিচ্ছেন! কর্মকর্তা রেগে গেল। কিন্তু তা হজম করল। প্রকাশ করলনা। 
.
কিছুক্ষণ পর সে দোভাষীর মাধ্যমে শাইখকে জিজ্ঞেস করল
-শাইখ! আপনি আমাদের মতো খাচ্ছেননা কেন?
-আপন কি দেখছেন যে, আমি নাক দিয়ে খাচ্ছি?!
-না, মানে আমি জানতে চাচ্ছি আপন চাকু ও চামচ ব্যবহার করছেন না কেন?
- আমার হাত যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সে ব্যাপারে আমি শিউর। আপনি কি আপনার চাকু ও চামচ যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সে ব্যাপারে শিউর?
.
শাইখের এই জবাবটা শুনে কর্মকর্তার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল। ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠল। কিন্তু কিছুই বললনা, সুযোগের অপেক্ষা করতে লাগল। শাইখকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকল।
.
ফরাসি কর্মকর্তা ভোজ্যানুষ্ঠানের তার ডানে বামে স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে বসে ভক্ষণ করছিল। একটুপর সে মদের অর্ডার করল। যা উপস্থিত ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ও দেশের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। এতদসত্বেও সে এই ভরা মজলিসে মদের অর্ডার দিয়ে বসল। মদ পরিবেশন করা হলে সে তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তা এমনভাবে পান করতে শুরু করল, যাতে ঐ শাইখের গাত্রদাহ আরম্ভ হয়।
.
মদের পেয়ালায় চুমুকের একফাঁকে সে ঐ শাইখকে লক্ষ্য করে বলল
-শাইখ! একটু শুনুন। আপনি তো আঙুর পছন্দ করেন এবং তা খানও- তাইনা?
-হ্যাঁ, কিন্তু কেন?
এবার কর্মকর্তা যেন সুযোগটা পেল। সে তার পাশে রাখা আঙুরের কাঁদির দিকে ইংগিত করে বলল
-এ মদটাকে কিন্তু এই আঙুর থেকেই তৈরি করা হয়েছে। আপনি আঙুর খান ঠিকই, কন্তু মদটাকে পান করেননা কেন?
.
উপস্থিত সকলের নজর গিয়ে নিবদ্ধ হল ঐ শাইখের দিকে। সকলেই অপেক্ষা করতে লাগল যে, দেখি, এবার শাইখ কী জবাব দেন! কিন্তু শাইখ মোটেই বিচলিত হলেননা। তিনি কেবল ঈষৎ মুচকি হাসলেন। তারপর জবাব দিলেন
-এ আপনার স্ত্রী এবং ও আপনার মেয়ে- তাইতো? আপনার জন্য একে ভোগ করা হালাল কিন্তু ওকে ভোগ করা হালাল নয় কেন, অথচ এর জন্ম কিন্তু ও-র থেকেই হয়েছে?! 
.
এবার কর্মকর্তা একেবারেই থ হয়ে গেল! বেশ কিছুক্ষণ কোন টু শব্দ করতে পারলনা। শেষপর্যন্ত রাগে গজর গজর করতে করতে দস্তরখানা থেকে ততক্ষণাতই মদ উঠিয়ে নেয়ার আদেশ দিল! 
.
সুত্রঃ شوام ظرفاء, পৃষ্ঠা-৩৯, উস্তাদ আদিল আবু শানাব।

মুয়াবিয়া রা. বিদ্বেষীর হুকুম


♥ হযরত আনাস ইবন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সাহাবিকে গালি দেবে বা সমালোচনা করবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার নফল ও ফরয কিছুই কবুল করবেন না।’ (তবরানী-২১০৮, সহিহুল জামে- ৬২৮৫, সিলসিলাতু আহাদীসিস-সাহিহাহ- ২৩৪০, শাইখ আলবানি হাদিসটাকে 'হাসান' সাব্যস্ত করেছেন)
♥ হাসান বসরি রহ. কে বলা হল, হে আবু সাইদ! কিছু লোক তো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর ও মুয়াবিয়া রা. কে অভিশাপ দেয় বা গালি দেয়/নিন্দা করে! জবাবে হাসান বসরি বললেন, এদের উপর আল্লাহর লা'নত। (তারীখু দিমাশক, ৫৯/২০৬, হাফিয ইবনে আসাকির)
♥ আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া রা. আমাদের কাছে একজন পরীক্ষার পাত্র। যে ব্যক্তিকে আমরা তার প্রতি বক্রদৃষ্টিতে তাকাতে দেখি, তাকে আমরা গোটা জামাতে সাহাবার ব্যাপারে কুধারণাকারী হিসেবে অভিহিত করি। (তারীখু দিমাশক- ৫৯/২১১, হাফিয ইবনে আসাকির)
♥ রাবি বিন নাফে আল-হালাবি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া রা. সাহাবায়ে কেরামের পরদা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই পরদাকে উন্মোচন করবে, সে পরদার অভ্যন্তরে প্রবেশ করার স্পর্ধা দেখাবে। (তারীখু দিমাশক- ৫৯/২১০, হাফিয ইবনে আসাকির)
♥ ইবরাহিম বিন মাইসারাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. কে কাউকে প্রহার করতে দেখিনি। তবে তাকে একজন ব্যক্তিকে প্রহার করতে দেখেছি, তিনি তাকে চাবুক দিয়ে কয়েকটা ঘা লাগিয়েছেন। কেননা ঐ ব্যক্তি মুয়াবিয়া রা. কে গালি দিয়েছিল। (তারীখু দিমাশক- ৫৯/ ২১১, হাফিয ইবনে আসাকির)
♥ ইমাম মালিক রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কোন একজন সাহাবি যেমন আবু বকর অথবা উমর বা উসমান কিংবা আলি অথবা মুয়াবিয়া বা আমর ইবনে আস রা. কে গালি দিবে/ নিন্দা করবে, তাকে উচিত শাস্তি দিতে হবে। (আশ-শিফা ফী হুকুকিল মুস্তফা- ২/২৬৭, ইমাম কাজি ইয়ায রহ.)
♥ আব্দুল মালিক আল-মাইমুনি রহ. বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. কে বলতে শুনেছি যে, মুয়াবিয়া রা. কে নিয়ে আলোচনা করার কী দরকার? এ ব্যাপারে আমরা আল্লাহর কাছে মার্জনা চাই। (আস-সুন্নাহ লিল খল্লাল- ২/৪৩২, ইমাম আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল খাল্লাল)
♥ ইবনে হানি নেশাপুরি রহ. বলেন, জনৈক ব্যক্তি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. কে প্রশ্ন করল, যে ব্যক্তি মুয়াবিয়া রা. কে গালি দিবে বা নিন্দা করবে, তার পিছনে কি নামাজ পড়া যাবে? উত্তরে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, না! তার পিছনে নামাজ পড়া যাবেনা। এখানে কোন কল্যাণ নাই। (মাসাইলু ইবনি হানি আন-নাইসাবুরি- ১/৬০, তাবাকাতুল হানাবিলাহ- ১/২৮৫)
♥ আবু বকর বিন হুবাইশ বিন সিন্দি রহ. বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর কাছে জনৈক ব্যক্তি আগমন করে বলল, আমার একজন মামা আছেন, যিনি আমীরে মুয়াবিয়া রা. কে গালি দেন/ নিন্দা/ সমালোচনা করেন। অনেক সময় আমি তার সাথে খাওয়াদাওয়া করি। তা কি জায়েজ আছে? এ কথা শুনে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. তৎক্ষণাত জবাব দিলেন, ঐ ব্যক্তির সাথে তুমি খাওয়াদাওয়া করোনা। (فضائل معاوية, পৃষ্ঠা- ১৩, ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামি ও السنة للخلال, খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ৪৪৮, ইমাম আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খাল্লাল)
♥ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. কে জিজ্ঞেস করা হল যে, ঐ ব্যক্তির হুকুম কি, যে মুয়াবিয়া রা. কে গালি দিবে/নিন্দা করবে? উত্তরে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কোন একজন সাহাবি যেমন মুয়াবিয়া বা অন্য কোন অধিক উত্তম সাহাবিকে গালি দিবে/নিন্দা করবে, উলামায়ে কিরামের ঐক্যমতানুসারে ঐ ব্যক্তিকে চরমভাবে শাস্তি দিতে হবে। (মাজমুউল ফাতাওয়া- ৩৫/ ৫৮, তারীখু দিমাশক-১৬/২৩)
:

আলি ও মুয়াবিয়া রা.- এর ভ্রাতৃত্ববোধ


আলি ও মুয়াবিয়া রা. মধ্যকার ঝগড়ার মূল কারণ ও মুয়াবিয়া কর্তৃক আলি রা. কে প্রাধান্য দেয়ার বিনয়াবনতা কতটুকু ছিল- তা পড়ুন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ হাফিয আল্লামা শামসুদ্দিন যাহাবি রহ. - এর বর্ণনায়। 
جاء أبو مسلم الخولاني وأناس إلى معاوية ، وقالوا : " أنت تنازع عليا أم أنت مثلُه ؟ فقال: لا والله ، إني لأعلم أنه أفضل مني وأحق بالأمر مني ، ولكن ألستم تعلمون أن عثمان قتل مظلوما ، وأنا ابن عمه ، والطالب بدمه ، فأتوه ، فقولوا له ، فليدفع إليّ قتلة عثمان ، وأُسَلِّم له . فأتوا عليا ، فكلموه ، فلم يدفعهم إليه " انتهى من 'سير أعلام النبلاء' ( ج3 ص140، ط: دار الكتب العلمية، بيروت)

অর্থঃ আবু মুসলিম খাওলানি ও আরও কতিপয় লোক হযরত মুয়াবিয়া রা. এর কাছে আগমন করলেন। এসে তারা বললেন, আপনি আলি রা. এর সাথে ঝগড়া করে চলছেন কেন, আপনি কি তাঁর মত? তাদের এই কথা শুনে মুয়াবিয়া রা. জবাব দিলেন, না! কসম আল্লাহর, আমি খুব ভাল করেই জানি যে, আলি রা. আমার চেয়ে উত্তম এবং ক্ষমতার ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক বেশি অধিকারী। তবে আপনারা কি জানেননা যে, উসমান রা. কে মজলুম অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। আম তার ভাতিজা ও তার রক্তপনের দাবিদার। তোমরা তার কাছে যাও, তাকে বলো যে, তিনি যেন উসমান রা. এর হক্ত্যাকারীদের আমার সোপর্দ করেন, তাহলে আমি তার কাছে আত্মসমর্পণ করে নেব। সুতরাং তারা আলি রা. এর কাছে আসলো। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলল। কিন্তু তিনি হত্যাকারীদেরকে সোপর্দ করেননি। (সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৪০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত হতে প্রকাশিত)
আলি রা. কী বলেছিলেন হযরত মুয়াবিয়া রা. এর ব্যাপারে- তা পড়ুন হাফিয ইবনে কাসির, হাফিয ইবনে আসাকির ও হাফিয যাহাবি রহ. এর নিম্নোক্ত বর্ণনায়।
قال علي رضي الله عنه بعد رجوعه من صفين :أيها الناس لاتكرهوا إمارة معاوية فإنكم لو فقدتموها رأيتم الرؤوس تندر من كواهلها كأنها الحنظل. (البداية والنهاية ج8 .ص134 ط: دار الحديث، القاهرة و تاريخ مدينة دمشق، ج56، ص15. ط: مؤسسة الرسالة و تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير والأعلام ج4 ص311. ط: المكتبة الوقفية، القاهرة)
অর্থঃ আলি রা. সিফফীনের যুদ্ধ থেকে ফেরার পর বললেন, হে লোকসকল! তোমরা মুয়াবিয়া রা. এর শাসনকে অপছন্দ করোনা। কেননা, যদি তোমরা তার মত ব্যক্তিকে হারিয়ে ফেল, তাহলে হানযাল ফলের মত মানুষের মস্তকগুলো ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেখবে! (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খন্ড-৮, পৃষ্ঠা-১৩৪, দারুল হাদিশ মিশর ও তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, খন্ড- ৫৬, পৃষ্ঠা- ১৫, মুআসসাতির রিসালাহ হতে প্রকাশিত ও তারীখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহীর ওয়াল আ'লাম, খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৩১১, আলমাকতাবাতুল ওয়াকফিয়্যাহ হতে প্রকাশিত)
♥আলি রা. এর মৃত্যু সংবাদ শুনে কী বলেছিলেন মুয়াবিয়া রা. - তা পড়ুন ইবনে আসাকিরের বর্ণনায়।
عن المغيرة قال لمَّا جيء معاوية بنعي علي وهو قائل مع امرأته بنت قرظة في يوم صائف قال: إنَّا لله وإنَّا إليه راجعون ماذا فقدوا من العلم والحلم والفضل والفقه، فقالت امرأته: أنت بالأمس تطعن في عينيه وتسترجع اليوم عليه، قال: ويلك لا تدرين ماذا فقدوا من علمه وفضله وسوابقه.(تاريخ مدينة دمشق، ج42، ص583).
হযরত মুগীরা বিন শু'বাহ রা. থেকে বর্ণিত, যখন মুয়াবিয়া রা. এর কাছে আলি রা. এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, গরমের মওসুমে তখন মুয়াবিয়া তার স্ত্রী বিনতে কুরযাকে নিয়ে ক্বাইলুলার (দুপুরে বিশ্রাম) সুন্নাত আদায় করছিলেন। কিন্তু মৃত্যু সংবাদ শুনতেই বলে উঠলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন! মানুষেরা কতইনা জ্ঞান, সহনশীলতা, মাহাত্ম্য ও ফিক্বহ- কে হারাল! তার এই আফসোস শুনে তার স্ত্রী বলে উঠলেন, আপনি গতকাল তার চোখে বর্শাঘাত করেন আর আজ তার জন্য ইন্না লিল্লাহ পড়ছেন?!!! প্রতিউত্তরে মুয়াবিয়া রা. বললেন, তুমি জানোনা লোকেরা তার কতইনা জ্ঞান, মাহাত্ম্য-মর্যাদা ও অবদানকে হারাল!!! (তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, খন্ড- ৪২, পৃষ্ঠা- ৫৮৩, প্রকাশনী ঐ)
এছাড়াও আম্মামা ইবনে আব্দিল বার আল-মালিকি রহ. তার আল-ইস্তি'আব গ্রন্থে একটি লম্বা বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। সে বর্ণনায় আছে যে, হযরত মুয়াবিয়া রা. যিরার আস-সুদাঈ কে সম্বোধন করে বললেন, হে যিরার! তুমি আমাকে আলি রা. এর গুণাগুণ বর্ণনা কর। তো যিরার আলি রা. এর বেশকিছু দুর্লভ গুণ বর্ণনা করেন। সব শোনার পর মুয়াবিয়া রা. বললেন, আল্লাহ রহম করুন আবুল হাসানের (আলি রা. এর উপনাম) উপর রহম করুন। কসম আল্লাহর সত্যিই তিনি এরকম গুণধর ব্যক্তি ছিলেন! (আল-ইস্তি'আব, খন্ড- ৩, পৃষ্ঠা- ১১০৭, দারুল মা'রিফাহ হতে প্রকাশিত)
♥ আলি রা. এর পরস্পর যুদ্ধ দেখে সুযোগের সৎ ব্যবহারের লিপ্সু রোম সম্রাটকে কী বলেছিলেন হযরত মুয়াবিয়া রা. - তা ফুটে এসেছে ইবনে কাসিরের নিম্নোক্ত বর্ণনায়।
فلما رأى ملك الروم اشتغال معاوية بحرب علي تدانى إلى بعض البلاد في جنود عظيمة وطمع فيه، فكتب معاوية إليه: والله لئن لم تنته وترجع إلى بلادك يا لعين لأصطلحن أنا وابن عمي عليك ولأخرجنك من جميع بلادك، ولأضيقن عليك الأرض بما رحبت. فعند ذلك خاف ملك الروم وانكف، وبعث يطلب الهدنة. (البداية والنهاية ج8 ذكر معاوية)
অর্থঃ যখন দেখতে পেল যে, মুয়াবিয়া রা. আলি রা. এর সাথে যুদ্ধে মত্ত, সে তার বিশাল সেনাবহর নিয়ে মুয়াবিয়া রা. এর শাসনাধীন কোন একটি ভূখণ্ড দখলের আশায় সেই ভূখন্ডের দিকে রওয়ানা করল। খবর পেয়ে মুয়াবিয়া. রা. তাকে চিঠি লিখলেন, হে অভিশপ্ত! যদি তুমি না থাম এবং তোমার দেশে ফিরে না যাও, তাহলে আমি এবং আমার চাচাতো ভাই (আলি রা.) তোমার বিরুদ্ধে একটি সমঝোতায় উপনীত হব এবং তোমাকে তোমার পুরো দেশ থেকে বিতাড়িত করব, এমনকি পৃথিবীকে তোমার জন্য সংকীর্ণ করে ছাড়ব! এই চিঠিখানা পেয়ে রোম সম্রাট ভয় পেয়ে যায় এবং থেমে পড়ে। অবশেষে মুয়াবিয়া রা. এর সাথে শান্তিচুক্তি তলব করে। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খন্ড-৮, মুয়াবিয়ার আলোচনা অধ্যায়, প্রকাশনী ঐ) 
.
উপরোক্ত বর্ণনাগুলো থেকে একথা প্রতীয়মান হল যে, রাসুলের মজলুম সাহাবি, কাতিবে ওহি হযরত মুয়াবিয়া রা.- এর আলি রা.- এর সাথে কোন বিদ্বেষ ছিলনা। একমাত্র উসমান রা. এর হত্যার প্রতিশোধকে কেন্দ্র করে উভয়ের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল এবং এরই জের ধরে তৈরি হয়েছিল একে অপরের দূরত্ব। যুদ্ধ-বিগ্রহ। রাজনৈতিক জটিলতা। টানটান উত্তেজনা। পারস্পরিক সমালোচনা ও শক্ত টাইপের কথা।
.
#আবুল_হুসাইন_আলেগাজি ভাই শিয়াদের ভাগাড় থেকে এতো এতো পুরনো মাল নতুনভাবে বাজারজাত করে যাচ্ছেন, কিন্তু আহলে সুন্নাহর এইসব বর্ণনা কি তাঁর চোখে পড়েনা? নাকি সাহাবি বিদ্বেষ তাঁর চোখকে অন্ধ বানিয়ে রেখেছে?!

কুতুপালং ক্যাম্পে ৯৫ টি পরিবার খ্রীস্টান হয়ে গেছে!!! রোহিংগা মুসলমানদের খৃষ্টান করতেই কি পোপের আগমন!!!



রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর হাঁটছি একটি কাজে। হঠাৎ একটি দৃশ্য আমার পা দুটোকে আটকে দিল। একটি ঝুপড়িতে কয়েকজন মেয়ে বসে আছে। বিদেশী মেয়ে!
এতটুকুর মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলে থমকে দাঁড়ানোর কিছু ছিল না। দাঁড়ালাম যা দেখে তাতে তো আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলো!

আমার ধারণা হলো ওরা মিডলইস্ট থেকে এসেছে।
আমি আরেকটু এগিয়ে গেলাম। মুখে হাসি মেখে আরবিতে জানতে চাইলাম, মিন আইনা আনতুম?
জবাব এলোনা!

আবার বললাম, ইউ আর ফ্রম? জবাবে যা এলো শুনে তো অবাক হয়ে গেলাম! একদম স্পষ্ট বাংলায় জবাব এলো,আমরা ইংল্যান্ড থেকে এসেছি! এরপর আমিও বাংলাতেই কথা বলতে শুরু করলাম।
আপনারা কি দু'জনই? না,আমরা চল্লিশ জনের একটি টিম এসেছি! সবাই কি মেয়ে? হ্যাঁ, সবাই মেয়ে আপনাদের মাঝে কি কোন মুসলিম মেয়ে আছে?
না, নেই! আপনারা কি কাজ করছেন রোহিঙ্গাদের জন্য? ত্রাণ বিতরণ! আর? আর কিছুনা!
হে মুসলমান !

তোমার হয়তো বিশ্বাস হবেনা,ওরা ত্রাণ দিতে আসেনি।
এসেছে ঈমান হরণ করতে! আমি স্পষ্টভাবেই দেখলাম,ওরা ব্যাগে করে মেয়েদের মাথার তেল,নখ কাটার মেশিন ইত্যাদি নিয়ে এসেছে। (ছবিতে দেখতে পারবেন। ছবি তুলেছি কৌশলে। তুলতেই দিতে চায় নি!)
মেয়েদের মাথায় নিজ হাতে তেল লাগিয়ে দিচ্ছে, নিজের হাতে নখ কেটে দিচ্ছে! যেন মায়ের আদর,স্নেহে ভরিয়ে দিচ্ছে!

প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে মা তাদের নানাভাবে আনন্দ দিচ্ছে! জানিনা,ওদের প্ল্যান কি? এই মায়ার জালে ফেলে মুসলিম নারী ও শিশুদের ওরা কোন ফাঁদে নিয়ে ফেলবে! আমার তো আশঙ্কা হচ্ছে, আরাকানি,রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা ঈমান বাঁচাতে মুসলিম দেশে এসে খ্রীস্টানদের ক্ষুধার্ত মুখের সামনে পড়েছে!
সতর্ক হওয়ার এখনি সময়!

আপনি আমি জোশের ঠেলায় মসজিদে মসজিদে বাজারে বাজারে কালেকশন করে ওদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করে সেই যে একবার দিয়ে চলে গিয়েছি আর কি ওদের খবর রেখেছি? ওদের ঈমান রক্ষার সুদূরপ্রসারি কি ফিকির আমরা করেছি?
বাচ্চাদের, মা-বোনদের,যুবকদের,বয়স্কদের? তেমন কোন ফিকির আমরা করিনি। কেউ কেউ করছে কি না,জানিনা। আমাদের ভুলে চলবেনা যে, এই মহা বিপর্যয় ওদের জন্য যেমন পরিক্ষা, আমাদের জন্যও!
আমরা চলে গিয়েছি, ওরা এসেছে। কোটি টাকার বাজেট নিয়ে!

আল্লাহ হিফাজত করুন!!
বিভিন্ন মতামত আসছে। লেখাটি আরো বাড়িয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধে পরিণত করা যেতো বাট সময় নেই। কত লেখা যে আছে, লেখার সুযোগ হয় না।
শুধু এতটুকুই বলি, কুতুপালং ক্যাম্পে ৯৫ টি পরিবার খ্রীস্টান হয়ে গেছে। এসব কি একদিনেই হয়েছে?

বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৭

সাইয়্যেদ কুতুবের চিন্তার পুনর্পাঠ: প্রেক্ষিত মাইলস্টোনস

সামাজিক পর্যায়ে ইসলামি মূলনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের অভাবে যেসব সমস্যা একটার পর একটা প্রকট হয়ে উঠছিল, সেগুলোই জায়গা করে নিয়েছিল বিশ শতকের শেষের দিকের ইসলামি চিন্তাধারায়। সাইয়্যেদ কুতুব এই বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন কুর’আন প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে এবং সামাজিক বলয়ে এর প্রয়োগকে সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে। কুর’আন থেকে তিনি যেসব ধারণা নিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল “জাহেলিয়াত” (অজ্ঞতা ও অবিশ্বাসের যুগ; ওহী নাযিলের পূর্ববর্তী সময়)-এর ধারণা।
মাইলস্টোনস প্যামফ্লেটে জাহেলিয়াতের যে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, প্রায়ই সেটাকে মুসলিম বিশ্বে সহিংসতার কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। বলা হয়, মুসলিম বিশ্বে ঔপনিবেশিকতার জের ধরে সভ্যতার সংঘাতের ফলে যে সমসাময়িক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে তার উৎখাতে কুতুবের জাহেলিয়াতের ধারণা প্রভাব ফেলছে। আল-কুর’আনে জাহেলিয়াতের ধারণাটি যেভাবে এসেছে তার প্রেক্ষিতে জাহেলিয়াতের পরিভাষাগত তত্ত্বায়নের সমর্থনে নুসুসি (textual) প্রমাণ রয়েছে। তবে অনেকে আপত্তি তুলতে পারেন যে, জাহেলিয়াত শব্দটির আভিধানিক অর্থকে কুতুব ছোটো করে দেখেছেন এবং এর পরিবর্তে এমন এক ভিন্ন অর্থ চাপিয়ে দিয়েছেন যার র‍্যাডিকাল রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। গত শতকের শেষ ভাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনেকের বোঝাপড়াকেই পক্ষপাতিত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে কুতুবকে ভুলভাবে পাঠ করা হয়েছে। তাঁকে ঔপনিবেশিকতাবাদের কারণে উদ্ভুত সামাজিক বাস্তবতার রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কুতুবের মাইলস্টোনসকে বিপ্লব ও সহিংসতার প্রচারপত্র হিসেবে যে তকমা দেওয়া হয় সেটাও তাঁর লেখাকে সঠিকভাবে না বোঝার পরিণতি। যেমন এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা জাহেলিয়াতকেই বিকৃত অর্থে নেওয়া হয়েছে। তাঁর লেখা পড়ে অনেকে এই তর্ক করতে পারেন যে, জাহেলিয়াতের যে ধারণা তিনি দিয়েছেন তা সহিংসতাকে বৈধতা দেয় কেননা এই ধারণা অনুযায়ী ইসলামি শাসন বাদে অন্য যেকোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই অবৈধ মনে করা হয়। অন্যকথায় এটা সহিংসতাকে বৈধতা দেয়।
কিন্তু এই অর্থটা সঠিক নয়। অমুক বা তমুক রাজনৈতিক ব্যবস্থা কুতুবের উদ্বেগের বিষয় নয়। বরং ক্ষয়ে যাওয়া ও ম্লান হয়ে যাওয়া ইসলামি মূল্যবোধ নিয়েই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে ইসলামি শাসনব্যবস্থার অভাব জাহেলিয়াত নয়, বরঞ্চ জাহেলিয়াত হল সেই অবস্থা যেখানে ইসলামি মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। এটি তাঁর লেখনির কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়। সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কেননা মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকেই এর উৎপত্তি। মুসলিম হিসেবে ইসলামি মূল্যবোধ ও ইসলামি জীবন থেকে আমরা কতটা দূরে তার বোঝাপড়া নিয়েই তিনি আচ্ছন্ন। তাঁর মতে আল-কুর’আনকে তার মর্যাদাপূর্ণ আসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলেই উদ্ভব হয়েছে এমন পরিস্থিতির। ফলে আমরা দেখি যে, নয়া জাহেলিয়াতে আল-কুর’আন মুসলিমদের জীবনে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নেই। আল-কুর’আন মুসলিমদের জীবনকে পরিচালিত করে না। আর সমাজে মূল্যবোধের সংকটের পেছনে এটাই কারণ।
তারপরও কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, মুসলিম জীবন থেকে আল-কুর’আনের কেন্দ্রীয় ভূমিকার অপসারণ নয় বরঞ্চ ইসলামি আইনের অভাবই কুতুবের লেখনির মূল বিষয় এবং একেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুতুবের মাইলস্টোনস-এ কেবলমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার সহিংস উৎখাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- এভাবে ধরে নিলে তাঁর চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক আমাদের নজরের বাইরে থেকে যাবে। কুতুবের মতে সভ্যতাকে মানুষের মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে; মানবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারগুলো মূল্যবোধ থেকে তৈরি হয়, ঐ অর্থে বিপ্লব থেকে নয়।
গণতন্ত্র-পুঁজিবাদ এবং সামরিক-সমাজতন্ত্রকে কুতুব দেখেছেন এমন কিছু চিন্তাপদ্ধতি (systems of thought) ও প্রয়োগ আকারে যা ঐতিহাসিকভাবে অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কেননা এই প্রক্রিয়াগুলোতে বস্তুগত উন্নতি হলেও এগুলোতে রয়েছে সেসব মূল্যবোধের অভাব যা মনুষ্যত্বকে সংরক্ষণ করে। গণতন্ত্র-পুঁজিবাদে মানুষ ভোগবাদী বস্তুবাদের বশীভূত হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদ যদিও মানুষের বস্তুগত অবস্থা উন্নত করেছে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকেই এটি প্রান্তিক করে ফেলেছে, তাদের মনুষ্যত্বকে কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে কুতুবের মতে, সামরিক-সমাজতন্ত্র অন্তর্গতভাবেই অসংখ্য দ্বৈততায় পরিপূর্ণ। এটা জন্ম দিয়েছে বিপর্যয়কর সর্বাত্মক স্বৈরতন্ত্রের (totalitarianism)। জাহেলিয়াত তাই এমন একটি সময়ের কথা বলছে যেখানে মূল্যবোধের অভাব তার রাজত্ব কায়েম করেছে যা কার্ল জেসপারের “axial age”-এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কুতুবের মাইলস্টোনস এর পঠন-পাঠনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে ঘাটতি দেখা যায় তা হল মূল্যবোধ এবং সমাজ সংস্কারে মূল্যবোধ চর্চার প্রতি তাঁর অবস্থান ধরতে ব্যর্থ হওয়া। সাইয়্যেদ কুতুবের মতে একটি সভ্যতার মূল্য নিহিত সেসব মূল্যবোধের মধ্যে যেগুলো মানবতার চর্চা করে। আর সেই চর্চা শুধু অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে আছে আধ্যাত্মিকতা, বুদ্ধিবৃত্তিকতা এবং আবেগ। মূল্যবোধ সংক্রান্ত কুতুবের এই চিন্তা বিশেষ করে আমরা যারা পশ্চিমে বাস করি তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।*
দুর্ভাগ্যজনকভাবে কুতুবের মাইলস্টোনসকে অনেকে শুধু সহিংসতার উস্কানি হিসেবে পড়ে থাকেন এবং একে সহিংসতার বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা দানকারী হিসেবে বিবেচনা করেন। এভাবে পড়ার কারণে তিনি সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে যে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক আমাদের শেখাচ্ছেন তা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়।  আর তা হচ্ছে সমাজ ও সভ্যতা যদি অস্তিত্বমান থাকতে চায় তাহলে তাদেরকে মানবতার সেবা করতে হবে। আর সেটা হতে হবে এমন মূল্যবোধ সঞ্চারের মাধ্যমে যা জীবনের অর্থ খুঁজে দেয়, যা গোটা মানবজাতিকে সংরক্ষণ করে, গড়ে তোলে; কেবল বস্তুবাদী মানবিক সংস্কৃতিকে মদদ দেয় না। অন্তত মাইলস্টোনস বইয়ের প্রথম দিকে চিন্তার যে ধারা সঞ্চারিত করা হয়েছে তা হচ্ছে মূল্যবোধগুলো পুনরায় স্থাপনের মাধ্যমে সমাজের সংস্কার করা, সমাজকে পুনর্জাগরিত করা। এ মূল্যবোধগুলো গোটা মানবজাতির পরিস্থিতির কথা তুলে ধরবে আর তা এমনভাবে করবে যার মাধ্যমে বস্তুগত উন্নতির সঙ্গে মিশেল হবে উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের।
রাজনৈতিক-দার্শনিক হব্‌সের প্রকৃতি ও সমাজ সংক্রান্ত দর্শন বিষয়ক কিছু আলাপ:
প্রকৃতিগতভাবে মানুষ আসলে ভালো নয়। বরং সে স্বার্থপর সুখবাদী (hedonist) – “প্রতিটি মানুষ ঐচ্ছিকভাবে যে কাজগুলো করে তার মধ্যে তার নিজের কিছু না কিছু ভালো লাগা আছে।” প্রকৃতিগত পর্যায়ে মানবিক প্রেরণা অনালোকিত স্বার্থ দ্বারা চালিত হয়। এগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা না-হয় তাহলে এগুলোর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক। যদি অনিয়ন্ত্রিত রাখা হয় তাহলে মানুষ তার অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রেরণায় একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। কোনো সিভিল স্টেট বা আইনের শাসনের পূর্বে কোনো সমাজের প্রকৃতিগত চরিত্র কেমন হবে সেটা কল্পনা করতে চেয়েছেন হব্‌স। তাঁর উপসংহার ছিল হতাশাব্যঞ্জকঃ জীবন হবে “নিঃসঙ্গ, দরিদ্র, জঘন্য, নৃশংস ও সংক্ষিপ্ত” এবং “প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের লড়াই”।
কিন্তু তারপরও যেহেতু সব মানুষ সমান (নৈতিকভাবে নয়, শারীরিকভাবে), সবার মধ্যেই রয়েছে টিকে থাকার অদম্য আগ্রহ (প্রাকৃতিক অধিকার), এবং কিছু পরিমাণে বিচারবুদ্ধি (প্রাকৃতিক আইন), এ থেকে হব্‌স এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, উপরোক্ত দুই বিপরীতধর্মী শক্তির মাঝেই সাম্যবস্থার উদ্ভব হবে, একটি সমর্থ ও কার্যকরী সমাজ গড়ে উঠবে। যুক্তিটা বেশ সরল। যেকোনো ব্যক্তির প্রকৃতিজাত অধিকার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্যতা দেয়। ফলস্বরূপ, ব্যক্তিগতভাবে টিকে থাকার স্বার্থে মানুষ এ ব্যাপারে একমত হবে যে, তাদেরকে এই সহিংসতার অধিকার ছাড়তে হবে। তবে এর ফলে উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। যে মুহূর্তে কোনো একজন ব্যক্তি তার ওয়াদা ভঙ্গ করবে, তখন সবাই ভঙ্গ করবে, ফলে পুনরায় শুরু হবে লড়াই।
মৌলিকভাবে সাইয়্যেদ কুতুবের “জাহেলিয়াত”-র ধারণা এটাই। প্রধানতঃ মাইলস্টোনস-এর শুরুতে তিনি ইসলামিক নৃতত্ত্বের মূল ধারণাগুলোর রূপকল্প তুলে ধরেছেন আর এগুলো তিনি আল-কুর’আন থেকেই নিয়েছেন। এগুলোই তাঁর এই লেখনির গতি নির্ধারণ করেছে। তাঁর তত্ত্ব দুটো মৌলিক মূলনীতিকে ঘিরে:
১) পৃথিবীতে মানুষের প্রতিনিধিত্ব
২) ‘ইবাদাতই মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য
কুরআন নির্দেশিত এ দুটো ধারণাকে অন্যান্য আনুষঙ্গিক ধারণার মাধ্যমে সমকালীন করে ব্যক্ত করা হয়েছে। এগুলো কুতুবের অ্যানথ্রো-পলিটিকস তত্ত্বের (সমাজে মানুষের ধারণা সংক্রান্ত তত্ত্ব)  নির্দেশক এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। মানুষ যখন বিশ্বজগতে, আরও ভালোভাবে বললে সমাজে (আল-মুজতামা’) তার মর্যাদা ও উদ্দেশ্যকে উপলব্ধি করতে শেখে এবং “ব্যবহারিকভাবে” তার প্রকাশ ঘটায় তখনই তার নিজ সম্পর্কিত জ্ঞান পূর্ণ বিকাশ লাভ করে এবং ব্যক্তি হিসেবে তার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। স্থান-কালের এ জগতে মানুষকে প্রতিনিধিত্বের (খিলাফাহ্‌) মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সুবিন্যস্ত বস্তুজগতে “মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড নয়”; বরং এটা আল্লাহর কাজ। কুতুব এটা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহই মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। এর মানে এটাই যে সৃষ্টিজগতে মানুষই সবচেয়ে ওপরে। আর আল্লাহর কাছে থেকেই মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টি জীবনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য খুঁজে পায়।
কুতুবের দৃষ্টিতে অস্তিত্ব হচ্ছে সত্ত্বার থিও-সেন্ট্রিক বিন্যাস। এখানে সত্ত্বার অর্থ ও উদ্দেশ্য স্বভাবজাত ও অন্তর্গত। এটা মানুষের অলীক কল্পনা ও ব্যাখ্যার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ কাঠামোতে “মানুষ সবকিছুর মানদণ্ড নয়, বরং সবকিছুর জন্য তারা আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ।” উপরন্তু মানুষ একা বাস করে না। সৃষ্টিজগতে অন্যান্য মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার সহাবস্থান। এই জায়গায় এসে কুতুব “ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায্য বিচার” (আদ্‌ল ওয়াল-কিস্‌ত)-এর কথা বলেছেন। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মনুষ্য সমাজে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের ক্ষেত্রে তার জীবন ও সম্পর্কের মান কেমন হবে সেটা নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতাই বিবেচ্য বিষয় হবে, তবে চূড়ান্ত স্বাধীনতা সম্ভব নয় যা অন্যের ক্ষতির কারণ হয় যেমনটি দেখা যায় জাহেলিয়াতের ক্ষেত্রে; স্বাধীনতার সাথে অবশ্যই দায়িত্বশীলতা থাকতে হবে। কুতুবের ভাবনা অনুসারে মানুষের সঙ্গে মানুষের ঐক্যই সমাজ। কিন্তু সেই সমাজ যদি জীবন্ত হতে চায়, মানব অস্তিত্বের বাস্তবতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে লালন করতে চায় এবং জীবনের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে চায় তাহলে অবধারিতভাবে এর ঐক্যের ভিত্তি হবে আইনি বিধি (হাকিমিয়্যাহ)।
সর্বপ্রথম মৌলনীতি হল সার্বভৌম কর্তৃত্ব এবং “আইনী বিধি প্রণয়নের হক” (হক আল-ওয়াদা’আ) একমাত্র আল্লাহর। এর সমর্থনে তিনি দুটো উৎসের উল্লেখ করেছেনঃ নুসুসি ও ঐতিহাসিক। প্রথমটি আল-কুর’আন আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাসূল (সা) ও সাহাবিদের (রা) সময়। কুতুবের মতে রাসূল (সা) ও তাঁর সাহাবিদের সময়টা মাননির্ধারক। এই সময়ে ইসলাম ছিল জীবন্ত, মূর্ত ও বাস্তব যা ঐতিহাসিক বাস্তবতায় প্রোথিত।
কুতুবের অ্যানথ্রো-পলিটিকস অনুযায়ী আল-কুর’আনে শুধু মানুষের সূচনা এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, বরং এখানে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলা হয়েছে। তবে কুরআন শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি বরং সমাজে মানুষের সঙ্গে মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছে। এই সম্পর্ক বৈধ হতে হলে যেসব মূল্যবোধ ও গুণাবলির ভিত্তিতে তাদের পরিচালিত হওয়া উচিত সেগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
সাইয়্যেদ কুতুব ও নবীজীর সমজের পরিস্থিতি ও মানদণ্ডের ভিন্নতার কারণে তিনি বিশেষভাবে রাজনীতির ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র সার্বভৌমত্বের কথা বলেছেন তবে রাজনীতিই সেখানে মূখ্য বিষয় নয়। তাঁর মতে জীবনের জরুরী মূল্যবোধ (কিয়াম), জীবন-দুনিয়া ও আইন (শরীয়াহ্‌) এবং এর মানদণ্ড (কানুন) সংক্রান্ত মৌলিক ধারণা (তাসাউরাত) নির্ধারণের একচ্ছত্র অধিকার আল্লাহরই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাইলস্টোনস-এ তিনি হাকিমিয়্যাহর ধারণাটিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন বেশিরভাগ পর্যালোচনায় সেটাকে সংকীর্ণ অর্থে তুলে ধরা হয়। হাকিমিয়্যার যে বহুমাত্রিক দিক তিনি তুলে ধরেছেন তার স্থলে কেবল এর রাজনৈতিক গুরুত্বকেই মূখ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। তিনি যে বিভিন্ন বাস্তবতার গুরুত্ব মাইলস্টোনে উল্লেখ করেছেন অধিকাংশ পাঠেই তা অবহেলিত থেকে যায়। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে:
১) পৃথিবীতে মানুষের ভূমিকা
২) সামগ্রিক ধারণা আকারে ‘ইবাদাতের ভূমিকা
৩) মানুষের জীবনে এবং সমাজে মূল্যবোধের (কিয়াম) ভূমিকা
৪) বস্তুগত সংস্কৃতি তথা জ্ঞান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, উৎপাদন ইত্যাদির ভূমিকা
৫) পৃথিবীর রূপান্তরে বুদ্ধিবৃত্তি ও তাত্ত্বিক ধারণার (conceptualization) ভূমিকা
৬) ব্যক্তি ও সামাজিক সত্ত্বা হিসেবে সমাজ (মুজতামা’) এবং গোটা উম্মাহর কল্যাণে মানুষের ভূমিকা
৭) সমাজ নির্মিত মূল্যবোধের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য নেতিবাচকতা এবং দর্শনের সীমাবদ্ধতা
৮) জালিম শাসনব্যবস্থার সমস্যা
৯) নেতৃত্বের রূপরেখা
১০) মানুষ ও সমাজজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এ ধরণের “আকীদাহ” বিষয়ক বইয়ের ঘাটতি
*প্রবন্ধটি ইংরেজী ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে এবং এর লেখক আমেরিকাতে বাস করেন
সূত্রঃ VirtualMosque.com


বাল্য বিয়ে নয়, বাল্য পতিতাবৃত্তি বন্ধ করুন

 বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন প্রণয়ন করেছে। অথচ বাল্য বয়সে হাজার হাজার মেয়ে পতিতাবৃত্তিতে কঠিন মানবেতর জীবনযাপন করছে।যার কিছু কিছু খবর পত্রিকায় আসলেও অধিকাংশ খবর রয়ে যায় অজানা। 
১.রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীতে শিশু ও কিশোরী যৌনকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দালালরা প্রতিমাসে প্রায় ২০ জন নতুন শিশু ও কিশোরীকে নিষিদ্ধপল্লীর বাসিন্দায় পরিণত করছে। আর এভাবেই বেড়ে চলেছে যৌনকর্মীর সংখ্যা। বেড়েই চলেছে পল্লীর অভিশপ্ত যৌন জীবন।https://goo.gl/Fcnw5R
২. বাংলাদেশ জাতীয় উইমেন ল’ইয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ফাহিমা নাসরিন জানান, সারাদেশে অন্তত ২০ হাজার শিশুকন্যা রাস্তায় পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত। ।https://goo.gl/1HC5Qf
৩. পরিণত বয়স না হলেও কিশোরীদের ‘মাসিরা’ রাতারাতি বড় করে তুলছে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত ওষুধ খাইয়ে। এর ফলে খুব দ্রুত শরীরের বৃদ্ধি ঘটে। তাতে আকৃষ্ট হয় খদ্দের। দিনে তাদেরকে প্রায় ১০ জন খদ্দেরকে সামাল দিতে হয়। কখনো তারও বেশি। https://goo.gl/18JnHn 
৪. ময়মনসিংহ পতিতাপল্লীতে রয়েছে বহু কিশোরী https://goo.gl/jcmTBB
৫. ফরিদপুরের পতিতাপল্লীতে রয়েছে অনেক কিশোরী http://faridpurtimes.com/?p=2023

এমন হাজার হাজার কিশোরী বাধ্য হয়ে আজ পতিতাবৃত্তিতে নাম লিখাচ্ছে।
অথচ কি মিডিয়া,কি নারীবাদী, কি চুষিল সমাজ কেউ এদের নিয়ে কিছু বলছেনা!
দেশের কোন এক অজপাড়া গায়ে কোন এক কিশোরীর বিয়ে হচ্ছে তা পত্রিকার পাতায় আসে এবং প্রশাসন পাগলের মত ছুটে যেয়ে বিয়ে বন্ধ করে।
কিন্তু এ সকল কিশোরী-ই তাদের নাকের ঢকা দিয়ে যখন পতিতা পল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন কিন্তু তারা পুরাই বোবার ভূমিকা পালন করে!
কারন এরাই তো তাদের খদ্দের।
এসকল চুষিল , মিডিয়া সারাদিন বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে বলে কিন্তু রাতের বেলায় কিশোরী-ই খুঁজে বেড়ায়!
একজন কিশোরী বিয়ে করে সম্মানজনক জীবন যাপন করবে তা তাদের সহ্য হয়না কিন্তু পতিতা পল্লীতে গেলে এদের কোন কষ্ট হয়না!
যেসকল কিশোরী পতিতা পল্লীতে আছে-
এখন কি তাদের স্বাস্থ্যহানি হয়না?
এখন কি ১০ জন পুরুষকে সামাল দিতে তাদের কষ্ট হয়না?
এখন কি মেয়ে মৃত্যুর হার বাড়েনা ?
এখন কেন সংসদে আইন পাশ করে পতিতা পল্লী নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হছেনা ?

মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে বাল্য বিয়ের বিরোধীতা করা আর কিছুই নয়, কেবলমাত্র ইসলামের বিরোধীতা করা।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড এখনো চলছে


১০৯৫ খৃস্টাব্দ থেকে ১২৯১ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড, বিশেষ করে বায়তুল মুকাদ্দাস খৃস্টানদের কর্তৃত্ব বহাল করার জন্য ইউরোপের খৃস্টানরা অনেক যুদ্ধ করে। ইতিহাসে এগুলোকে ক্রুসেড যুদ্ধ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ক্রুসেড যুদ্ধের এই ধারা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকে। এ সময় নয়টি বড় যুদ্ধ হয় এবং তাতে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।
এসব যুদ্ধে ইউরোপীয়রা সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি, পক্ষপাতিত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, অনৈতিকতা ও বর্বরতার যে প্রকাশ ঘটায় তা তাদের কপালে অনপনীয় কলঙ্ক হিসেবে চিরকাল থেকে যায়।

১) প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধ ১০৯৭-১১৪৫ খৃঃ-
পোপের যুদ্ধ ঘোষণার পর একে একে চারটি বিশাল সেনাবাহিনী বায়তুল মাকদিস জয়ের সঙ্কল্প নিয়ে রওয়ানা হয়। পাদ্রী পিটারের অধীনে তের লাখ খৃস্টানের এক বিশাল বাহিনী কনস্টান্টিনোপলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথে তারা নিজেদের ধর্মের লোকদের ওপরেই হত্যা, রাহাজানি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। তারা যখন ইসলামী এলাকায় প্রবেশ করে, তখন সালজুকী শাসক কালাজ আরসালান এ বাহিনীটিকে নাস্তানাবুদ করে দেন। তাদের প্রচুর সৈন্য নিহত হয়। ক্রুসেডারদের এ অভিযান একেবারেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

২) দ্বিতীয় ক্রুসেড যুদ্ধ ১১৪৪-১১৮৭ খৃ.
ক্রুসেডারদের পরাজয়ের খবর সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে আবারো পোপ তৃতীয় কনরাড এবং ফ্রান্সের শসক সপ্তম লুইয়ের নেতৃত্বে নয় লাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনী মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইউরোপ থেকে রওয়ানা হয়। এই বাহিনীতে নারীরাও ছিল। প্রথম ক্রুসেডের মতো এ বাহিনীর সৈন্যরাও অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। সপ্তম লুইয়ের বাহিনীর একটি বড় অংশ সালজুকীদের হাতে ধ্বংস হয়। তারা যখন ইন্তাকিয়ায় পৌছে তখন তাদের তিন চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অবশিষ্ট সৈন্যরা অগ্রসর হয়ে দামেশ্ক অবরোধ করে। কিন্তু সাইফুদ্দীন জঙ্গী ও নূরুদ্দীন জঙ্গীর সম্মিলিত বাহিনীর প্রচেষ্টায় ক্রুসেডারদের পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। সপ্তম লুই ও কনরাডকে আবার ইউরোপের সীমান্তের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এভাবে দ্বিতীয় ক্রুসেড যুদ্ধ ব্যর্থ হয়ে যায়

৩) তৃতীয় ক্রুসেড
বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের হাতে চলে যাওয়া ক্রুসেডারদের জন্য মৃত্যুর পয়গামের চেয়ে কম ছিল না। মুসলমানদের এ বিজয়ের খবরে সারা ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ফলে তৃতীয় ক্রুসেডের আয়োজন শুরো হয়। পুরো ইউরোপ এতে যোগ দেয়। জার্মান সম্রাট ফ্রেডারিক বারব্রোসা, ফ্রান্সের সম্রাট ফিলিপ অগাস্টাস ও ইংল্যাণ্ডর রাজা রিচার্ডশেরদিল নিজেরাই এ যুদ্ধে অংশ নেন। পাদ্রী ও ধর্মযাজকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে খৃস্টানদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে।
এ ক্রুসেডে খৃস্টানরা আক্কা বন্দর ছাড়া আর কিছুই লাভ করতে পারেনি। তারা বিফল হয়ে ফিরে যায়।জার্মান সম্রাট পালিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে ডুবে মারা যান এবং এসব যুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ খৃস্টান সৈন্য প্রাণ হারায়। 

৪) চতুর্থ ক্রুসেড (১১৯৫ খৃ.)
আইয়ূবী সুলতান আল মালিকুল আদেলের হাতে খৃস্টানরা দৃষ্টান্তমূলক পরাজয় বরণ করে এবং ইয়াফা শহর মুসলমানদের আয়ত্তে চলে আসে।

৫) পঞ্চম ক্রুসেড (১২০৩ খৃ.)
ক্রুসেডাররা কনস্টান্টিনোপলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করে।

৬) ষষ্ঠ ক্রুসেড (১২২৭ খৃ.)
পোপ এনভিসেন্টের নেতৃত্বে আড়াই লাখ জার্মান সৈন্যের বিশাল বাহিনী সিরিয়ার উপকূলে আক্রমন করে। আইয়ূবী শাষক আল আদল নীলনদের মোহনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। খৃস্টান বাহিনী নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।

৭) সপ্তম ক্রুসেড
আল মালিকুল কামেল ও তার ভাইদের মধ্যে বিরোধের কারণে বায়তুল মুকাদ্দাস শহর ক্রুসেডারদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু কামেলের উত্তরসূরী সালেহ তা আবার ক্রুসেডারদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। বায়তুল মুকাদ্দাস যথারীতি মুসলমানদের আয়ত্তে থেকে যায়।

৮) অষ্টম ক্রুসেড
ফ্রান্সের সম্রাট নবম লুই মিসরে হামলা চালান। কিন্তু সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান।

৯) নবম ক্রুসেড
ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম এডওয়ার্ড ও ফ্রান্সের রাজা যৌথভাবে সিরিয়ায় হামলা চালায়। মুসলমানরা ইংরেজ ফরাসী যৌথবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে দেয়। এ যুদ্ধের ফলে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে ক্রুসেডারদের অস্তিত্ব নিশ্চিন্ন হয়ে যায়। ক্রুসেডারদের মধ্যে আর যুদ্ধের সাহস রইল না। ।

দু’শতাব্দী ধরে চলতে থাকা যে ক্রুসেড যুদ্ধ মুসলমানদের উপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাতে ধ্বংস ও নাশকতা ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারেনি ইউরোপীয়রা। 
এরপরেও কিন্তু তারা থেমে থাকেনি । মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড তারা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিমেরা একজোট হচ্ছে।
আফসোস হলেও সত্য যে মুসলমান তা উপলব্ধি করতে পারছেনা। এত নির্যাতিত হবার পরেও মুসলমান অমুসলিমদের শত্রু নয়, বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে !!

সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭

বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হবে।


বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হবে। নেককার পিতার সন্তানও নেককার হয়ে থাকে সাধারণত। আর সৎ পিতা মারা গেলে, তার সন্তানেরা রিযিকেও কষ্টা পায় না। কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যায়। কুরআন কারীমে মুসা আ. ও খিযিরের ঘটনায় এদিকে ইঙ্গিত আছে। দুই এতিম বালকের রিযিকের ব্যবস্থা করার জন্যে, আল্লাহ তা‘আলা তার দু’জন প্রিয় বান্দাকে অনেকদূর থেকে টেনে এনেছিলেন। খিযির আ. দেয়াল সোজা করে দিয়েছিলেন। যাতে দেয়ালের নিচে থাকা ধনভান্ডার গোপন থাকে। দুই বালক বড় হয়ে কাজে লাগাতে পারে! দুই অখ্যাত বালকের জন্যে কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা? আল্লাহ তা‘আলার বানী থেকেই উত্তরটা জেনে নেয়া যাক:
وَكَانَ أَبُـوهُـمَـا صَالِحاً
তাদের দু’জনের পিতা ছিল নেককার (কাহফ) বাবা সৎ হলে সন্তানও সৎ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। তবে ব্যতিক্রম ঘটনাও আছে। কোনও কোনও নবীর সন্তানও কাফের ছিল। এটা ব্যতিক্রম। তবে কুরআন কারীমের আয়াতের দিকে লক্ষ্য রাখলে, বাবা সৎ থাকাবস্থায় মারা গেলে, সন্তান রিযিকে কষ্ট পাবে না। এটা নিশ্চিত।


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

আগামী ২৭ ২৮ ২৯ অক্টোবর, মাযলুম ‍মুহাজির ভাইবোনদের খিদমতে হাজির হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
-
প্রলম্বিত বষা ও শীতের আগাম আগমনি, এ-দুয়ের যৌথ প্রকোপে মিশ্র আবহাওয়া তৈরী হয়েছে। কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া টানা ঝড়-বৃষ্টিতে মাযলুম ভাইদের পাখির বাসার মতো কুঁড়েঘরগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। মশা শীত বৃষ্টি উদ্দাম বাতাস, এই চারের ধকল সামলাতে পারছে না মাযলূম ভাইবোনেরা। সবকিছু ছেড়ে অাসা ভাইবোনরা প্রচণ্ড মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। শিকার হচ্ছে নানাবিধ রোগে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে অবুঝ শিশুগুলো। 
-
ছোট ছোট বাচ্চাগুলো শীতে কষ্ট পাচ্ছে। সকাল বেলা মক্তবে আসছে পাতলা ছেঁড়া জামা গায়ে দিয়ে। রাতেও প্লাস্টিকের পাতলা আবরণ ভেদ করে পিনপিনে হাওয়া মাযলুম ভাইদের কষ্টকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। 
.
আগামী ২৭ ২৮ ২৯ অক্টোবর, মাযলুম ‍মুহাজির ভাইবোনদের খিদমতে হাজির হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের সফরে তিনদিনব্যাপী বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা ও খাবার প্রদানের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিতরণ করা হবে:
১: শিশুদের গুঁড়ো দুধ। 
২: কম্বল। 
আগ্রহী ভাইয়েরা চাইলে নিজ খরচায় সশরীরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সরাসরি কম্বল গ্রহণ করা হবে। একটা কম্বল কতই হবে! চেষ্টা করলে, একটা কম্বলের ব্যবস্থা সবার পক্ষেই সম্ভব। 
রাব্বে কারীম সবার মেহনতকে কবুল করে নিন।
.
যোগাযোগঃ
মাওলানা রজীবুল হক।
01776288492/01827111127
৮/১ প্রধান সড়ক, মুহাম্মদী হাউজিং লিমিটেড।
১২০৭, মুহাম্মাদপুর ঢাকা।
.
বিকাশ-
01776288492
01713685831
01846752561 
সবই পারসোনাল
.
রকেট- 
017762884932
018315449626

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

পোশাক নয় তাকওয়া বা পরহেজগারিতা দেখে মানুষকে ভাল-মন্দের সার্টিফিকেট দিন ।


এই লেখাটি পড়ার আগে উপরের ছবি চারটা খেয়াল করুন ৷ 

প্রথম ছবিতে হিজাবের সাথে চোখে চশমা পরা হাস্যোজ্জ্বল যে ভদ্র মেয়েটিকে দেখছেন তিনি একজন খ্রীষ্টান এবং নামকরা পর্নোষ্টার৷ 

দ্বিতীয় ছবিতে দাড়ি পাঞ্জাবি পরা যে ভদ্র লোককে দেখছেন তিনি শিখ সম্প্রদায়ের ধর্ম গুরু রাম রহিম ৷ বর্তমানে দুই ধর্ষণ মামলার রায়ে বিশ বছরের সাজা কাটছেন এবং অভিযোগ ওঠেছে তিনি প্রায় দু হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছেন৷

তৃতীয় ছবিতে মুখে দাড়ি মাথায় টুপি পরা যাকে হাতকড়া লাগিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে তিনি একজন ইহুদী৷ তিন বোনকে ধর্ষণের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷

চতুর্থ ছবিতে অমুসলিমদের উৎসবে সাংবাদিক চুন্নি সাহার পাশে হিজাব পরা দু'জন মেয়ে রঙ মেখে রঙ্গো করছে আর তা দেখে এক মুসলমান দুঃখ করে একটি স্ট্যাটাস দিলো৷

উপরের তিনটি ছবির নিরীখে চতুর্থ ছবির ব্যাপারে এটা স্পষ্ট বলা যায় যে, হিজাব বা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবি দেখে বর্তমানে মুসলমান চেনা যায় না। মুসলমান চিনতে হলে তার আখলাক, তাক্বওয়া ও কর্ম দেখা উচিত ।