হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা)-এর ছোটবেলায় খেলাধুলা সম্পর্কে বর্ণিত দুটি সহিহ হাদিসের জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ ও বিয়ের সময় উনার প্রকৃত বয়স ১৭ বছরের কম ছিলনা বলে তাত্ত্বিক প্রমান :
.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
.
বিগত একটি লেখায় মজবুত দলিল দ্বারা প্রমাণ করলাম যে, হযরত আয়েশা (রা)-এর বিয়ের সময় উনার প্রকৃত বয়স ১৭ বছরের কম ছিলনা।
.
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও সহিহ বুখারীর অন্যতম ভাষ্যকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ)-এর একটি কিতাবের নাম ﺍﻹﺻﺎﺑﺔ ﻓﻲ ﺗﻤﻴﻴﺰ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ (আল-ইছাবাহ ফী তাময়ীঝিস সাহাবাহ) । কিতাবটির ৪র্থ খণ্ডের ৩৭৭ নং পৃষ্ঠায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত ফাতেমা (রা)- এর জন্মের ৫ বছর পর হযরত আয়েশা (রা) জন্মগ্রহণ করেন। আর ফাতেম (রাঃ) এর জন্মের সময় রাসুল (সাঃ) এর বয়স ছিল ৩৫ বছর। সে হিসেবে আয়েশা (রাঃ) এর জন্মের সময় মুহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স ৪০ হবার কথা। ফলে তাঁদের বিয়ের সময় আয়েশা (রাঃ) ৬/৯ না বরং ১৪-১৫ বছর বয়স হবার কথা।
.
(Al-isabah fi tamyizi’l- sahabah, Ibn Hajar al- Asqalani, Vol 4, Pg 377, Arabic, Maktabatu’l- Riyadh al- haditha, al- Riyadh,1978)
.
ওপরের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিয়ের সময় যে ৬/৯ বছরের শিশু ছিলেননা সেটাই দেখানো। এজন্য এ লেখাটি দেখা যেতে পারে।
www.markajomar.com/?p=1569
.
কিন্তু বাহ্যিকভাবে অপরাপর দুটি সহিহ হাদিস দ্বারা আমার নাতিদীর্ঘ লেখাটি চ্যালেঞ্জ করার মত যথেষ্ট সুযোগও রয়েছে। আমি হাদিস দুটি এখানে উল্লেখপূর্বক সেগুলোর জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।
.
হাদিস দুটি নিচে দেয়া হল—
.
১-
হযরত আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আমি আল্লাহর রাসুলের উপস্থিতিতে পুতুল নিয়ে খেলা করতাম আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলত। যখন আল্লাহর রাসুল (সঃ) বাড়ীতে প্রবেশ করতেন, তখন ওরা পুতুলগুলো লুকিয়ে নিত। কিন্তু তিনি (সঃ) তাদেরকে আমার সাথে একত্রে খেলতে বলতেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৬১৩০ ; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৪৪০ ] .
২-
একবার রাসুল (সঃ) ঘরে কিছু পুতুল দেখতে পেয়ে আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, এগুলো কী? তিনি (রাঃ) বললেন, এগুলো আমার পুতুল। এগুলোর মধ্যে একটি পাখাওয়ালা ঘোড়া ছিল। [সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং-২২৮১৩] .
আমাদের জবাব:
.
আমরা হাদিস গুলোর অনেক জবাব দিয়েছি। তবে সংক্ষেপে এতটুকু জেনে নিন যে, ১নং হাদিসের বিষয়বস্তু হযরত আয়েশা’র বিয়ের আগের সময়ের সাথে এবং বাপের বাড়ির সাথেই সম্পর্কিত। কারণ, সাধারণত বাপের বাড়িতে থাকাকালেই বান্ধবীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ থাকে। হাদিসের বর্ণনাভঙ্গি কিন্তু এটাই বুঝাচ্ছে। আর তখন হযরত আয়েশার বিয়ে হবার প্রশ্নই আসতে পারেনা। কারণ তখনো পর্যন্ত তিনি শিশুই ছিলেন। সুতরাং হাদিসটি সহিহ এবং বিশ্লেষণ এটাই। অতএব, এটি আমার নাতিদীর্ঘ তথ্যভিত্তিক রচনার বিরুদ্ধে যায়নি।
.
আর পরের হাদিসটির বিষয়বস্তু অবশ্য বিয়ের পরে ও স্বামীর বাড়িতে থাকাকালীন সময়ের সাথেই সম্পর্কিত। আর এখানে সূক্ষ্ণভাবে চিন্তা করলে বুঝবেন যে, এ হাদিসে হযরত আয়েশার (রা) বক্তব্যটি কিভাবে রয়েছে? এখানে তিনি পুতুলগুলো নিজের সেলপ বা আলমারিতে সযত্নে রেখে দেয়ার কথাই বলতে চেয়েছেন, কিন্তু পুতুল নিয়ে খেলাধুলা করতেন—এরকম কোনো কথারই তিনি বলেননি কিংবা বলার কোনো প্রমাণও নেই। হাদিসের ভাষ্য দেখুন: ” এগুলো আমার পুতুল। এগুলোর মধ্যে একটি পাখাওয়ালা ঘোড়াও ছিল।” (সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং-২২৮১৩ )।
.
সুতরাং বুঝা গেল যে, পরের রেওয়ায়ত দ্বারা হযরত আম্মাজান আয়েশা (রা) তিনি যেন বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমি ইতিপূর্বে এ পুতুলগুলো নিয়ে বান্ধবীদের সাথে বাপের বাড়িতে খেলাধুলা করেছিলাম। বিয়ের সময় স্বামীর বাড়িতে স্মৃতিস্বারক হিসেবে সেগুলো সংগে করে নিয়েও আসি। স্বামীর বাড়িতে নিজের নিকট এগুলো যত্নের সাথে রেখে দিই। প্রিয় স্বামী মুহাম্মদ (সা) একদা এসব পুতুল দেখে পেললেন। অমনি তিনি এক প্রকারের বিস্ময়ের স্বরে জিজ্ঞেস করলেন “এগুলো কী, হে আয়েশা! “। হাদিসের বর্ণনাভঙ্গি এমনটাই বুঝাচ্ছে। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করে হাদিস দুটো উপলব্ধি করতে হবে।
.
সুতরাং, বলা যায় যে, উপরুল্লিখিত হাদিস দুটো আপন আপন জায়গায় সঠিক। শুধুমাত্র আমাদের বুঝার সমস্যা। অতএব এ হাদিসও আমার নাতিদীর্ঘ লেখাটির বিরুদ্ধে যায়নি। কেননা, এ হাদিস দ্বারা আর যাইহোক—হযরত আয়েশা তিনি স্বামীর বাড়িতে থাকাকালেও পুতুল খেলেছেন এরকম কোনো কথা বুঝায়নি। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।
লেখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন