বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

মাতাল কারী!

Atik Ullah

বলখ শহরে মাতাল বেড়ে গেছে। কিন্তু শায়েস্তা করা যাচ্ছে না। যাকেই ধরে আনা হয়, সেই অস্বীকার করে: আমি মাতাল নই। 
বলখের আমীর চিন্তা-ফিকির করে, শহরের বড় মুফতি সাহেবের দ্বারস্থ হলেন। এ-ব্যাপারে একটা ফতোয়া নিতে
-হুযুর! একটা সমাধান দিয়ে দিন!
-এবার থেকে মাতাল ধরে আনলে, সে যদি অস্বীকার করে, তাহলে তাকে একটা ‘সূরা’ পড়তে বলবেন। পুরো সূরা ঠিকঠিক পড়তে পারলে, বুঝে নিতে হবে, সে মাতাল নয়। 
.
সে রাতে একজন মাতাল ধরে আনা হলো। যথরীতি সে অস্বীকার করলো। অথচ তার মুখ দিয়ে ভকভক করে চোলাইয়ের ‘বদবু’ বেরোচ্ছে। 
-আচ্ছা, মাতাল না হলে, সূরা কাফিরূন পড়ে শোনাও!
মাতাল নিজে নিজে আওড়ে দেখলো, সূরাটা তার এই মুহূর্তে ঠিকমতো আসছে না। সে বুদ্ধি খাটিয়ে বললো:
-হুযুর! আমি মাতাল নই। কিন্তু অনেক সময় নিজে মাতাল হলে, অন্যকেও মাতাল মনে করে। আমি কিন্তু কাউকে মাতাল মনে করছি না। আপনিই শুধু শুধু আমাকে মাতাল মনে করছেন। আগে আপনিই একটা সূরা পড়ে শোনান। তারপর না হয় আমি পড়বো। সূরা ফাতিহাটা পড়–ন!
.
আমীর মাতালের কথায় রেগে গেলেও কিছু না বলে শুরু করলো: আলহামদু লিল্লাহি............!। প্রথম আয়াত শেষ হওয়ার আগেই মাতাল বলে উঠলো:
-শুরু না করতেই আপনি দু’টো ভুল করে বসেছেন। 
-ভুল? কোথায় কোনটা?
-প্রথমত আপনি ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়েন নি। কুরআন তিলাওয়াতের শুরু তে আউযু পড়তে হয়। দ্বিতীয়ত আপনি সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত বাদ দিয়ে দিয়েছেন। 
-প্রথম আয়াত বাদ দিয়েছি?
-জ্বি। বিসমিল্লাহ পড়েন নি। অধিকাংশ ফকীহ ও ক্বারীর মতে, সূরা ফাতিহার প্রথম হলো বিসমিল্লাহ!
.
আমীর একটা মাতালের কাছে ধরা খেয়ে গেলেন। কিছু করতে না পেরে পুলিশের দিকে লাঠিহাতে তেড়ে গিয়ে বললেন:
-ব্যাটা অকর্মার ধাড়ি কোথাকার! বলেছি মাতাল ধরে আনতে, উনি কি না একজন কারী-মুফতিকে ধরে নিয়ে এসেছে!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন