শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

এক নজরে দেওয়ানবাগীর কিছু ভ্রান্ত আকিদা ও উক্তি সমূহঃ



=“আমার অসংখ্য মুরিদান স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে আল্লাহর দীদার লাভ করেছে। আমার স্ত্রী হামিদা বেগম ও আমার কন্যা তাহমিনা এ খোদা স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহকে দাড়ী গোফ বিহীন যুবকের ন্যায় দেখতে পায়।”
–সুত্রঃ আল্লাহ কোন পথে, পৃঃ ২৩
=সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন “শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী কন্যা সহ লক্ষ্য লক্ষ্য মুরিদানও আল্লাহকে দেখেছেন”
–সুত্রঃ সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ।
=“দেওয়ানবাগে আল্লাহ ও সমস্ত নবী রাসূল, ফেরেস্তারা মিছিল করে এবং আল্লাহ নিজে শ্লোগান দেন।”
–সুত্রঃ সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, মার্চ ১৯৯৯ ইং।
=“আমি এক ভিন্নধর্মের লোককে ওজীফা ও আমল বাতলে দিলাম। ক’দিন পর ঐ বিধর্মী স্বপ্নযোগে মদিনায় গেল। নবিজীর হাতে হাত মিলালো। নিজের সর্বাঙ্গে জিকির অনুভব করতে লাগলো। তারপর থেকে ওই বিধর্মী প্রত্যেক কাজেই অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে থাকে।”
–সুত্রঃ মানতের নির্দেশিকা:- ২৩, সূফী ফাউন্ডেশন, ১৪৭ আরামবাগ, ঢাকা।
=“কোন লোক যখন নফসীর মাকামে গিয়ে পৌঁছে, তখন তাঁর আর কোন ইবাদাত লাগেনা।”
–আল্লাহ কোন পথে,পৃঃ ৯০
=“জিব্রাইল বলতে আর কেও নন, স্বয়ং আল্লাহ-ই জিব্রাইল।”
–সুত্রঃ মাসিক আত্মার বাণী, ৫ম বর্ষ, ১ম সঙ্খ্যাঃ২১
=“সূর্যোদয় পর্যন্ত সাহরী খাওয়ার সময়। সুবহে সাদেক অর্থ প্রভাতকাল। হুজুরেরা ঘুমানোর জন্য তাড়াতাড়ি আযান দিয়ে দেয়। আপনি কিন্তু খাওয়া বন্ধ করবেন না। আযান দিয়েছে নামাজের জন্য। খাবার বন্ধের জন্য আযান দেয়া হয়না।”
–সুত্রঃ মাসিক আত্মার বাণী, সংখ্যাঃ নভেম্বরঃ ৯৯, পৃঃ ৯
=“মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যুপর্যন্ত হায়াতে জিন্দেগীকে পুলসিরা বলা হয়।”
–সুত্রঃ আল্লাহ কোন পথে, তৃতীয় সংস্করনঃ ৬০
=“আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আত্মা এক বিচ্ছেদ যাতনা ভোগ করতে থাকে। প্রভূর পরিচয় নিজের মাঝে না পাওয়া অবস্থায় মৃত্যু হলে সে বেঈমান হয়ে কবরে যাবে। তখন তাঁর আত্মা এমন এক অবস্থায় আটকে পড়ে যে, পুনরায় আল্লাহর সাথে মিলনের পথ খুঁজে পায়না। আর তা আত্মার জন্য কঠিন যন্ত্রনাদায়ক। আত্মার এরূপ চিরস্থায়ী যন্ত্রনাদায়ক অবস্থাকেই জাহান্নাম বা দোযোখ বলা হয়।”–আল্লাহ কোন পথেঃ
=দেওয়ানবাগী নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করেন। অতঃপর দরুদে মাহদী রচনা করে্ন। দরুদে মাহদীঃ “আল্লাহুম্মা ছাল্লী আ’লা সাইয়্ ওয়ালা আ’লা ইমাম মাহদী রাহমাতাল্লিল আলামীন ওয়ালিহী ওয়াছাল্লীম।
=” ময়লার স্তূপে অর্ধমৃত ও বিবস্ত্র অবস্থায় রাসুল (সাঃ) কে দেখেছি। দেওয়ানবাগী ১৯৮৯ সালে নাকি একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্বপ্ন দেখে ফেলেন। এ স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি দেখি ঢাকা ও ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে এক বিশাল বাগান ফুলে-ফলে সুশোভিত। ওই বাগানে আমি একা একা হেটে বেড়াই। হঠাৎ বাগানের একস্থানে একটি ময়লার স্তূপ আমার চোখে পড়ে। আমি দেখতে পাই ওই ময়লার স্তূপে রাসুল (সাঃ) এর প্রানহীন দেহ মোবারক পড়ে আছে। তাঁর মাথা মোবারক দক্ষিন দিকে আর পা মোবারক উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা মোবারক হাটুতে ভাজ হয়ে খারা অবস্থায় রয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। আমি এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাম পায়ের হাটুতে আমার ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই তাঁর দেহ মোবারকে প্রাণ ফিরে এল। তিনি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। মূহুর্তের মধ্যেই রাসূল (সাঃ) সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে গেলেন। তিনি উঠে বসে হাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে ধর্ম পূনর্জীবন দানকারী! ইতমধ্যেই আমার ধর্ম আরও পাঁচবার পূনর্জীবন লাভ করেছে। একথা বলে রাসূল (সাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে হেটে হেটে সাথে চলে এলেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল।”–সুত্রঃ দেওয়ানবাগীর স্বরচিত গ্রন্থ “রাসূল স. সত্যিই কি গরীব ছিলেন?” ১১-১২, প্রকাশকালঃ জুন ১৯৯৯।
="দেওয়ানবাগী এবং তার মুরীদদের মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ্, সমস্ত নবী, রাসূল (সা), ফেরেস্তা, দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শিদ চন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলসহ সমস্ত ওলি আওলিয়া, এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মোহাম্মাদী প্রচারক নির্বাচিত করা হয়। অত:পর আল্লাহ সবাইকে নিয়ে একমিছিল বের করে। মোহাম্মাদী ইসলামের চারটি পতাকা চার জনের যথাক্রমে আল্লাহ, রাসূল (সা), দেওয়ানবাগী এবং তার পীরের হাতে ছিল। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর প্রথম সারিতে ছিলেন। বাকিরা সবাই পিছনের সারিতে। আল্লাহ নিজেই স্লোগান দিয়েছিলেন ''মোহাম্মাদী ইসলামের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো।"
-সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগী পত্রিকা (১২/০৩/৯৯ )
=দেওয়ানবাগীর এক তথাকথিত ভন্ড আলেম বলেন, "আমি স্বপ্নে দেখলাম হযরত ইব্রাহীম (আ) নির্মিত মক্কার কাবা ঘর এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে নবী করীম (সা) বলছেন_''তুমি যে ধারণা করছ যে, শাহ্ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মোহাম্মাদ (সা) তার সাথে আছি এবং সর্বক্ষন থাকি। আর কাবা ঘরও তার সামনে উপস্থিত আছে। আমার মোহাম্মাদী ইসলাম শাহ দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন।"
=ফাতিমা (রাঃ) অর্থাৎ রাসুলের কন্যা ফাতেমা আমার স্ত্রী ছিল।
=আরশে আজিমে আল্লাহ্‌কে আমার রুপে দেখা যায়।
=কুরআন মানবের কোন উপকার করতে পারেনা।
কুরআন অন্য সব গ্রন্থের মতই নিঃপ্রাণ একটা গ্রন্থ।
=আমি ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ থামাতে আল্লাহর কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ আমাকে অনুমতি দেয়নি বলে আমি থামাইনি।
=জাকেরানদের (মুরিদ) মধ্যে অনেকে আমাকে রাসুলের বেশে দেখে।
=আল্লাহ ও তার রসূল্কে স্বচক্ষে না দেখে কালিমা পড়ে সাক্ষ্য দেয়ার ও বিশ্বাস করার কোনো অর্থ হয়না।
=আদমের জীরেকদম(পায়ের নিচে) ক্বালব।এই ক্বালবে আল্লাহ ও রসূল থাকেন।
=১৯৯৮ সালে বিশ্ব আশেকে রসূল সম্মেলনে আল্লাহ ও রসূল স্বয়ং দেওয়ানবা




শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রতিদিনই হউক পবিত্র ভালবাসা দিবস যাতে কোন পিতা মাতার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয় সেই প্রত্যাশা।

বেগানা পুরুষ এবং বেগানা নারীর ভালবাসা কখনোই পবিত্র ভালবাসা হতে পারেনা। এই হারাম ভালবাসাকে পবিত্র ভালবাসা নাম দিয়ে, কোন মুসলমান ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন করতে পারেনা। কারণ এই দিবসের সাথে কু-সংস্কার জড়িত। এই দিবসের সাথে দেবতার নাম জড়িত, এই দিবসের প্রচলন করে পৌত্তলিকরা, মুশরিক সমাজ। কাজেই যার সাথে ঈমান বিরোধী এতগুলো উপকরণ যুক্ত, এই ধরনের একটি দিবস কি করে মুসলমানরা পালন করতে পারে? মুসলমানরা থার্টিফাষ্ট নাইট পালন করতে পারেনা, ভ্যালেন্টাইন'স ডে পালন করতে পারেনা, বসন্ত বরণ উৎসব পালন করতে পারেনা। এই ভালবাসা দিবস নাম দিয়ে লিভ টুগেদার আর সমকামিতাকে সুকৌশলে মুসলমানের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে জারজ সন্তান আর আজাব আসার একটা ব্যববস্থা করা ছাড়া অন্য কিছু নয়। বিয়ে ছাড়া ছেলে মেয়ে একসাথে থাকা আর পুরুষে পুরুষে বা নারী আর নারী সমকামিতাতে জড়িয়ে যাওয়া এইটি ইউরুপ আমেরকিার অসভ্য লোকগুলোর অসভ্য সংস্কৃতি হতে পারে, মুসলমান পুরুষের চরিত্র ধ্বংস আর নারীদের সতিত্ব নষ্ট করার জন্যই এই বিশ্ব ভালবাসার আবির্ভাব। হে যুবক যুবতী তোমাকেই বলছি সাবধান তুমি কিন্তু মুসলমানঃ-

পবিত্র ভালবাসা হল, সন্তানের ভালবাসা পিতা মাতার জন্য, ভাই বোনের ভালবাসা, স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা, যেটা জায়েয সেইটাই পবিত্র ভালবাসা, আর যেইটা হারাম সেইটাই অপবিত্র ভালবাসা। সন্তান তার পিতা মাতাকে ভালবাসবে একদিন নয় প্রতিদিন, স্বামী স্ত্রীকে ভালবাসবে একদিন নয় প্রতিদিন। একদিন নামের ভালবাসা দিবস পালন করাত কুকুরের স্বভাব, কোন মানুষের হতে পারে না। তাই আমরা প্রতিজ্ঞা করি হারাম ভালবাসা দিবস পালন করবো না ইনশা আল্লাহ। আমাদের পিতা মাতাকে এমন ভাবে সবসময় প্রত্যেকদিন ভালবাসব, যাতে করে আমাদের কারো পিতা মাতার ঠিকানা বৃদ্ধ বয়সে যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয়।

বিঃ দ্রঃ- কোন কুলাঙ্গার যদি বলতে চায়, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে চুমো খাবে, সেক্স করবে, আমি বলব ৯২ ভাগ মুসলমানের এই পবিত্র দেশে, এমন কোন কর্মকান্ড করতে দেওয়া হবেনা ইনশা আল্লাহ। যদি ভাদ্র মাসের কুকুরের মত ভালবাসা প্রকাশ করতে চাও তোমাদের ফ্রি সেক্সের দেশ আমেরিকা চলে যাও, জাহান্নামে যাওয়াও সহজহয়ে যাবে। আমরা এক সময় বোকা ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ এখন আমরা সচেতন হয়ে গেছি আর আমাদেরকে অপসস্কৃতিতে জড়ানো যাবে না ইনশাআল্লাহ।
আমীনুল ইসলাম আমীন

মালয়েশিয়া ত্রানবাহী জাহাজ পাঠিয়েছে রোহিজ্ঞা মুসলিমদের জন্য ।


Emran Hossain Adib 

সত্যিকারের মুসলিম ভাই এর পরিচিয় দিয়েছে মালয়েশিয়া ।আল্লাহ তাদের উত্তম বদলা দান করুক,আমিন।এদিকে মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী ঐ জাহাজটি রাখাইনের রাজধানী সিট্টওয়ে’তে প্রাথমিকভাবে নোঙ্গর করতে চাইলে তাতে বাঁধা দেয় সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন ও বৌদ্ধরা । পরে সেটি ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে। ত্রানবাহী এই জাহাজটি ইয়াঙ্গুনে পৌছাবার পর একইভাবে মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিবাদের মুখে পড়েছে।মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী থিলাওয়া বন্দরে পৌঁছানো মালয়েশিয়ার ওই জাহাজে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ ও পোষাক রয়েছে। এদিকে জাহাজটি পৌছাবার পর দেশটির সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল জাহাজে মালোয়শিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।এ সময় জাহাজ নোঙ্গর এলাকায় জাতীয় পতাকা হাতে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। অনেকের হাতে রোহিঙ্গাবি রোধী পোস্টারও দেখা যায়।
মিয়ানমারের ভিক্ষু ইউনিয়নের নেতা থুসেইট্টা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা তাদেরকে বলতে চাই যে, আমাদের এখানে কোনো রোহিঙ্গা নেই। [ আমার মন্তব্য থাকবে কি ভাবে সব তো ধরে ধরে জবাই দিয়েছে, যারা বেঁচে আছে তাদের ও না খাইয়ে মেরে ফেলতে চায় প্রানী হত্যা মহাপাপ উক্তির ধারনকারীরা ]

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার সীমান্তে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলায় ৯ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘রোহিঙ্গা নিধন’র চেষ্টা বলে সতর্ক করে দিয়েছে।মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখে ৬০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যার শিকার হচ্ছেন তারা।রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ দেখা গেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট এশিয়ানভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের কেঠোর সমালোচনা করছেন।উল্লেখ্য, কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে এলেও লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে নাগরিকত্ব দেয়নি মিয়ানমার। দেশটির কট্টরপন্থী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী।
কথিত শান্তিপ্রিয় এবং প্রানী হত্যা মহাপাপ উক্তি ধারনকারী বৌদ্ধ ভাইদের এমন আচরন সত্যিই দুঃখজনক এবং মনুষত্বহীনতার পরিচয় ।
আল্লাহ জালেমদের হেদায়েত দান করুক , না হয় ধ্বংস করুক,আমিন।
[ বিঃদ্রঃ ছবিঃ মালয়েশিয়ার ত্রানবাহী জাহাজ ও বৌদ্ধদের নো রোহিংগা ব্যানার সহ বিক্ষোভ । ]

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি

Mohiuddin Quasemi
হযরত ওয়াহশি রা. ছিলেন একজন বিখ্যাত সাহাবি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি এক কুরাইশ নেতা জুবায়ের ইবনে মুতঈমের গোলাম ছিলেন। সে সময় উক্ত কুরাইশ নেতার পরিবারে একজন পুত্রসন্তান জন্মলাভ করে। নবজাতকের নাম রাখা হয় উবায়দুল্লাহ। তার পিতার নাম আদি ইবনে খিয়ার। প্রাচীন আরবে প্রথা ছিল, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার অল্প কিছুদিন পরই তাকে দুধ পান করানোর জন্য অন্যত্র দুধমাতাদের নিকট প্রেরণ করা হত। সে প্রথা অনুযায়ী উবায়দুল্লাহকে অন্যত্র প্রেরণ করার সময় হলে, অভিজাত বংশের এই শিশুকে নিজের কাছে পাওয়ার জন্য অনেক উঁচু পরিবারের ধাত্রীরা সমবেত হল। ওয়াহ্শি রা.-এর মালিক সমবেত মহিলাদের মধ্য হতে একজনকে দেখিয়ে বলল, বাচ্চাটি অমুকের কাছে দিয়ে দাও। 
 অতঃপর বাচ্চাটি সেই মহিলাকেই দেওয়া হল। বাচ্চাটিকে মহিলার হাতে সোপর্দ করার সময় ওয়াহশির দৃষ্টি একবার তার পায়ের ওপর পড়ল। তখন বাচ্চার বয়স ছিল মাত্র তিন দিন। এরপর বেশ কয়েক বছর পার হয়ে যায়। কত ঘটনা-দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এ দিকে বদর যুদ্ধে ওয়াহশির মনিব জুবায়ের ইবনে মুতঈমের চাচা তোআইমা ইবনে আদি ইবনে খিয়ারকে হত্যা করেন হযরত হামযা রা.। তখন সে ওয়াহশিকে বলল- “যদি তুমি আমার চাচা হত্যার প্রতিশোধস্বরূপ হামযাকে হত্যা করতে পার, তাহলে তোমাকে মুক্ত করে দিব।” এরপর থেকেই তিনি সুযোগের সন্ধানে কাল যাপন করতে থাকেন। পরিশেষে ওহুদ যুদ্ধে হামযাকে শহিদ করে তিনি দাসত্বের জীবন থেকে মুক্তি লাভ করেন।
অতঃপর মক্কা-বিজয় উত্তরকালে যখন তিনি মুসলমান হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমীপে হাজির হলেন তখন নবীজী তাকে বললেন : “তোমাকে দেখলে চাচার কথা স্মরণ হয়ে আমার খুব কষ্ট হয়; সুতরাং তুমি আমার সামনে এসো না।” এরপর থেকে তিনি সিরিয়ার হিমসে বসবাস করতে লাগলেন। ইতোমধ্যে ত্রিশবছর অতিবাহিত হয়ে যায় এবং আদির পুত্র উবায়দুল্লাও ত্রিশ বছরের যুবকে পরিণত হয়। তখন একবার সে বিশেষ প্রয়োজনে সিরিয়া গমন করে। 
এদিকে সিরিয়াতে প্রসিদ্ধ ছিল যে, ওয়াহশি-ই হযরত হামযার হত্যাকারী। এজন্য বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তাকে দেখতে আসত। উবায়দুল্লারও ওয়াহশিকে দেখার আগ্রহ জাগল। সে খোঁজ নিয়ে ওয়াহশির বাড়ি বের করে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হল। তখন উবায়দুল্লাহর পা ও চোখ দু’টি ব্যতীত সমগ্র শরীর চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। সে ওয়াহশিকে জিজ্ঞাসা করল আপনি কি আমাকে চিনেন? তিনি তার পা দু’টির দিকে তাকিয়ে তাকে চিনে ফেললেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে চিনেছি। আর এতে সন্দেহ নেই যে, আদি ইবনে খিয়ার উম্মে কিতাল নাম্নী এক মহিলাকে বিবাহ করেছিল এবং তার গর্ভ থেকে এক পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। সেই শিশুর জন্য আমিই ধাত্রীর ব্যবস্থা করেছিলাম। ধাত্রী পাওয়ার পর তাকে ধাত্রীর হাতে সোপর্দ করার সময় তার পা-যুগলের ওপর আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়; আমার প্রবল ধারণা যে, সেই সন্তানটি তুমি ছাড়া অন্য কেউ নয় এবং তোমার মধ্যে যেন আমি সে পা দু’টি দেখতে পাচ্ছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৩৮৪৪; বাব : باب قتل حمزة بن عبد المطلب رضي الله عنه )

অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই

Mohiuddin Quasemi

কম বয়সে কারো মৃত্যু হলে অকাল মৃত্যু শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই প্রয়োগ এড়িয়ে চলা কর্তব্য। কারণ প্রত্যেক প্রাণীর জন্য ‘মৃত্যু’ যেমন অনিবার্য তেমনি তার দিন-ক্ষণও নির্ধারিত। সেই নির্ধারিত সময়েই তার মৃত্যু হবে। এতে সামান্য এদিক-সেদিক হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وما كان لنفس ان تموت الا باذن الله كتابا موجلا তরজমা : আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারো মৃত্যু হতে পারে না। কেননা, তা সুনির্ধারিত।-সূরা আলইমরান : ১৪৫ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, لو يواخذ الله الناس بظلمهم ما ترك عليها من  دابة ولكن يوخرهم الى اجل مسمى فاذا جاء اجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون তরজমা : আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে শাস্তি দিতেন তবে ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কোনো প্রাণীকেই রেহাই দিতেন না, কিন' তিনি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয় তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করতে পারে না।-সূরা নাহল : ৬১ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, قل فادرؤا عن انفسكم الموت ان كنتم صدقين তরজমা : আপনি বলে দিন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মৃত্যু থেকে রক্ষা কর।-সূরা আল ইমরান : ১৬৮ হায়াত-মওতের মালিক আল্লাহ তাআলা এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রাণীর জীবনকাল আল্লাহ তাআলার নিকট সুনির্ধারিত। অতএব কেউ যদি মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পর মারা যায়, তবে এইটুকুই তার হায়াত। তদ্রূপ কেউ যদি পঁচিশ-ত্রিশ বছরের যৌবনকালে মৃত্যুবরণ করে তবে এই পঁচিশ-ত্রিশ বছরই তার হায়াত। তার মৃত্যু সেই সময় মতোই হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যা তার জন্য নির্ধারিত করেছেন। এমনিভাবে একশ বছর বয়সে কারো মৃত্যু হওয়ার মানে এই নয় যে, সে তার জন্য নির্ধারিত সময়কালের অধিক হায়াত পেয়েছে। এটি অতি সহজ একটি কথা। সুতরাং কম বয়সে কারো মৃত্যু হলে সমবেদনা জানাব, মরহুমের মাগফিরাতের জন্য দুআ করব, বড় জোর বলব যে, তার তাকদীরে কত কম হায়াত লিখিত ছিল! কিন্তু এটাকে আবেগের বশে অকাল মৃত্যু শব্দে ব্যক্ত করব না।
.
[ মাসিক আলকাউসার » জুমাদাল উলা ১৪৩১ . মে ২০১০ ]

প্রিয় লেখক কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাণীসমগ্র

1) পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি করে আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে…কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে… —–হুমায়ুন আহমেদ
.
2) পৃথিবীতে অনেক ধরনের অত্যাচার আছে। ভালবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক অত্যাচার। 
এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলা যায় না, শুধু সহ্য করে নিতে হয়। —হুমায়ূন আহমেদ
.
3) এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে| _____হুমায়ূন আহমেদ
.
4) তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো।আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না | ___ হুমায়ুন আহমেদ
.
5) সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, কিন্ত তোমাকে এমন একজনকে খুজে নিতে হবে, যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে| ________হুমায়ূন আহমেদ
.
6) অধিকাংশ মানুষ কল্পনায় সুন্দর, অথবা সুন্দর দুর থেকে। কাছে এলেই আকর্ষণ কমে যায়। মানুষই একই। কারো সম্পর্কে যত কম জানা যায়, সে তত ভাল মানুষ। -হুমায়ূন আহমদ
.
7) বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে। —-হুমায়ুন আহমেদ
.
8) “কাউকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসার মধ্যে এক ধরনের দুর্বলতা আছে।নিজেকে তখন তুচ্ছ এবং সামান্য মনে হয়। এই ব্যাপারটা নিজেকে ছোট করে দেয়।” -হুমায়ূন আহমেদ
.
9) “যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।”
.
10) পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট।- হুমায়ূন আহমেদ মায়ের গায়ে কোন দোষ লাগে না। ছেলে-মেয়ে মায়ের ত্রুটি দেখবে না। অন্যেরা হয়ত দেখবে, সন্তান কখনও না। - হুমায়ূন আহমেদ
.
11) কিছু কিছু মানুষ ভাগ্যকে নিজের হাতে গড়ে, আবার কারো কারো কাছে ভাগ্য আপনি এসে ধরা দেয়! ____(হুমায়ূন আহমেদ)
.
12) সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না।
মিথ্যা বলতে হয় অন্যদিকে তাকিয়ে ! —হুমায়ূন আহমেদ
.
13) বয়সকালেই মানুষ ছোট খাট ভুল করতে থাকে। ছোটখাটো ভুল করা যখন অভ্যাস হয়ে যায় তখন করে বড় ভুল !- জোছনা ও জননীর গল্প; হুমায়ূন আহমেদ
.
14) কখনো কখনো তোমার মুখটা বন্ধ রাখতে হবে। গর্বিত মাথাটা নত করতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে তুমি ভুল। এর অর্থ তুমি পরাজিত নাও, এর অর্থ তুমি পরিণত এবং শেষ বেলায় জয়ের হাসিটা হাসার ন্য ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। -হুমায়ুন আহমেদ
.
15) কাজল ছাড়া মেয়ে দুধ ছাড়া চায়ের মত। —হুমায়ূন আহমেদ
.
16) ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে কখনও প্রেম জাগে না। যা জাগে সেটা হল সহানুভূতি | ___হুমায়ুন আহমেদ
.
17) মানুষ ট্রেইনের মত এক লাইনে চলে। তবে বিশেষ ঘটনার পর নতুন লাইন পাওয়া যায়। -হুমায়ুন আহমেদ
.
18) চাঁদের বিশালতা মানুষের মাঝেও আছে, চাঁদ এক জীবনে বারবার ফিরে আসে, ঠিক তেমন
মানুষ প্রিয় বা অপ্রিয় যেই হোক,একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে। —হুমায়ূন আহমেদ
.
19) প্রতিটি দুঃসংবাদের সঙ্গে একটি করে সুসংবাদ থাকে। -বাদশাহ নামদার
.
20) মানুষ শুধু যে মানুষের কাছ থেকে শিখবে তা না। পশু পাখির কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। (বাদল দিনের দ্বিতীয় কদম ফুল)
.
21) যে একদিন পড়িয়েছে সে শিক্ষক । সারাজীবনই শিক্ষক। আবার যে একদিন চুরি করেছে সে কিন্তু রাজীবনই চোর না, তাহলে পৃথিবীর সব মানুষই চোর হত _____ হুমায়ুন আহমেদ
.
22) সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল। –হুমায়ূন আহমেদ
.
23) পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট। – হুমায়ূন আহমেদ
.
24) মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা। — হুমায়ূন আহমেদ
.
25) একজন মানুষকে সত্যিকারভাবে জানার উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নটা জানা। —- কবি (হুমায়ূন আহমেদ)
.
26) বাবা-মা’র প্রথম সন্তান হচ্ছে চমৎকার একটি জীবন্ত খেলনা। এই খেলনার সবই ভালো। খেলনা যখন হাসে, বা-মা হাসে। খেলনা যখন কাঁদে বাবা-মা’র মুখ অন্ধকার হয়ে যায়। — আমার ছেলেবেলা – হুমায়ূন আহমেদ
.
27) চট করে কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া কাজের কথা না। অতি রূপবতীদের কারও প্রেমে পড়তে নেই। অন্যেরা তাদের প্রেমে পড়বে, তা-ই নিয়ম। — হুমায়ূন আহমেদ
.
28) মাঝে মাঝে তুচ্ছ বিষয় চোরাকাঁটার মত মনে লেগে থাকে… ব্যথা দেয় না,অস্বস্তি দেয়…. –হুমায়ুন স্যার
.
29) লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই মনের কথা বলতে পারেনা। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধু মাত্র পাগলরাই। পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী। ———হুমায়ূন আহমেদ (মেঘবলছে যাব যাব)
.
30) যে সব মানুষের নাক সেনসেটিভ হয় তাদের কান কম সেনসেটিভ হয়। প্রকৃতি একটা বেশী দিলে অন্যটা কমিয়ে দেয়। (বাদল দিনের দ্বিতীয় কদম ফুল)- হুমায়ূন আহমেদ
.
31) মানুষের মন বিচিত্র জিনিস। সমস্ত নক্ষত্র পূঞ্জে যে জটিলতা ও রহস্য তার থেকেও রহস্যময় মানুষের মন। - হুমায়ূন আহমেদ
.
32) “মেয়েরা গোছানো মানুষ পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে অগোছালো মানুষ”- রোদনভরা এ বসন্ত ;
.
33) কিছু কিছু মানুষ সত্যি খুব অসহায়.. তাদের ভালোলাগা মন্দলাগা, ব্যথা বেদনা গুলো বলার মত কেউ থাকে না.. তাদের কিছু অবাক্ত কথা মনের গভীরেই রয়ে যায় .. আর কিছু কিছু স্মৃতি - এক সময় পরিনত হয় — দীর্ঘ শ্বাসে . _______হুমায়ূন আহমেদ
.
34) মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই ধরণীর আসল রূপ দেখতে পায়। ____ হুমায়ূন আহমেদ
.
35) গভীর প্রেম মানুষকে পুতুল বানিয় দেয়। প্রেমিক প্রেমিকার হাতের পুতুল হন l কিংবা প্রেমিকা হয় প্রেমিকের পুতুল। দুজন এক সঙ্গে কখনো পুতুল হয় না। কে পুতুল হবে আর কে হবে সূত্রধর তা নির্ভর করে মানসিক ক্ষমতার উপর। মানসিক ক্ষমতা যার বেশী তার হাতেই পুতুলের সুতা। - হুমায়ূন আহমেদ
.
36) কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা রূপবতী তরুণীদের অগ্রাহ্য করে একধরনের আনন্দ পায়। সচরাচর এরা নিঃসঙ্গ ধরনের পুরুষ হয়, এবং নারী সঙ্গের জন্যে তীব্র বাসনা বুকে পুষে রাখে। ___ হুমায়ূন আহমেদ
.
37) তুমি একটা খারাপ কাজ করেছো তার মানে তুমি একজন মানুষ, তুমি সেই খারাপ কাজটার জন্য অনুতপ্ত তার মানে তুমি একজন ভাল মানুষ। -হুমায়ূন আহমেদ
.
38) সব মানুষের জীবনেই অপূর্ণতা থাকবে। অতি পরিপূর্ণ যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ও অতি দুঃখের সঙ্গে তার অপূর্ণতার কথা বলবে। অপূর্ণতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক ও মহা পুরুষদের | ___হুমায়ুন আহমেদ
.
39) বড় বড় ব্যাপারগুলি সহজেই ঝেড়ে ফেলা যায় কিন্তু তুচ্ছ ব্যাপারগুলি চোরকাঁটার মত কিছুতেই তাড়ানো যায় না ! –হুমায়ূন আহমেদ
.
40) সব মানুষকেই বিনয়কে এদেশে দুর্বলতা মনে করা হয়, বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়। —হুমায়ূন আহমেদ
.
41) মানুষ খুবই স্বাধীন প্রাণী কিন্তু অদ্ভুত কারণে সে ভালবাসে শিকল পরে থাকতে। –হুমায়ুন আহমেদ।
.
42) দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না। —হুমায়ুন আহমেদ
.
43) “ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটাই মানুষের চোখে লিখা থাকে!-ঘেঁটু পুত্র কমলা;
.
44) যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। —হুমায়ুন আহমেদ
.
45) ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই।একটি মুহূর্তই যথেষ্ট… —হুমায়ূন আহমেদ
.
46) বেঁচে থাকার মত আনন্দ আর কিছুই নেই। কত অপূর্ব দৃশ্য চারিদিকে। মন দিয়ে আমরা কখনো তা দেখি না। যখন সময় শেষ হয়ে যায়, তখনি শুধু হাহাকারে হৃদয় পূর্ণ হয়। —হুমায়ূন আহমেদ
.
47) ভাল লাগা এমন এক জিনিস যা একবার শুরু হলে সব কিছুই ভালো লাগতে থাকে। - –হুমায়ূন আহমেদ
.
48) “মিথ্যা হলো শয়তানের বিয়ের মন্ত্র। মিথ্যা বললেই শয়তানের বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়া মানেই সন্তান-সন্ততি হওয়া। একটা মিথ্যার পর আরো অনেকগুলি মিথ্যা বলতে হয় এই কারণেই।পরের মিথ্যাগুলি শয়তানের সন্তান।”-----এই মেঘ, রৌদ্র-ছায়া
.
49) “মানুষের স্বভাব হলো, কেউ যখন ভালোবাসে তখন নানান কর্মকাণ্ড করে সেই ভালোবাসা বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে, আবার কেউ যখন রেগে যায় তখন তার রাগটাও বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে।”---আঙ্গুল কাটা জগলু
.
50) “ভালবাসার মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভাল।বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালবাসা থাকে না।আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়ত বা ভালবাসাটা থাকে,শুধু মানুষটাই থাকে না। মানুষ এবং ভালবাসা এই দুয়ের মধ্যে ভালবাসাই হয়ত বেশি প্রিয়।”--কোথাও কেউ নেই
.
51) “শিকল দিয়ে কাউকেই বেঁধে রাখা হয় না । তারপরেও সব মানুষই কোনও - না - কোনও সময় অনুভব করে তার হাত - পায়ে কঠিন শিকল । শিকল ভাঙতে গিয়ে সংসার - বিরাগী গভীর রাতে গৃহত্যাগ করে । ভাবে ,মুক্তি পাওয়া গেল । দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে গৃহী মানুষ লাফিয়ে পরে ফুটপাতে । এরা ক্ষণিকের জন্য শিকল ভাঙার তৃপ্তি পায় ।”― মৃন্ময়ী
.
52) “বিবাহ এবং মৃত্যু এই দুই বিশেষ দিনে লতা-পাতা আত্মীয়দের দেখা যায়। সামাজিক মেলামেশা হয়। আন্তরিক আলাপ আলোচনা হয়।---একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা
.
53) “কেও কারও মত হতে পারে না। সবাই হয় তার নিজের মত। তুমি হাজার চেষ্টা করেও তোমার চাচার বা বাবার মত হতে পারবে না। সব মানুষই আলাদা।”--অপেক্ষা
.
54) “যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে।”--- দরজার ওপাশে
.
55) “হাসিতে খুব সহজেই মানুষকে চেনা যায় ।সব মানুষ একই ভঙ্গিতে কাঁদে কিন্তু হাসার সময় একেক জন একেক রকম করে হাসে”― ময়ূরাক্ষী
.
56) “মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলো এরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলোমেলো মেয়েও চিঠি লেখায় গোছানো। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটা ব্যাপার থাকে - বিষাদময়তা। নিতান্ত আনন্দের সংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা জানি কী করে সামান্য হলেও দুঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা যে তারা ইচ্ছা করে করে তা না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তো চিঠিতে উঠে আসে।”― সে আসে ধীরে
.
57) “আমি কখনো অতিরিক্ত কিছুদিন বাঁচার জন্য সিগারেটের আনন্দ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ভেবে রেখেছিলাম ডাক্তারকে বলব, আমি একজন লেখক। নিকোটিনের বিষে আমার শরীরের প্রতিটি কোষ অভ্যস্ত। তোমরা আমার চিকিৎসা করো, কিন্তু আমি সিগারেট ছাড়ব না। তাহলে কেন ছাড়লাম? পুত্র নিনিত হামাগুড়ি থেকে হাঁটা শিখেছে। বিষয়টা পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। দু-এক পা হেঁটেই ধুম করে পড়ে যায়। ব্যথা পেয়ে কাঁদে। একদিন বসে আছি। টিভিতে খবর দেখছি। হঠাৎ চোখ গেল নিনিতের দিকে। সে হামাগুড়ি পজিশন থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। হেঁটে হেঁটে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তার ছোট্ট শরীর টলমল করছে। যেকোনো সময় পড়ে যাবে এমন অবস্থা। আমি ডান হাত তার দিকে বাড়িয়ে দিতেই সে হাঁটা বাদ দিয়ে দৌড়ে হাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বিশ্বজয়ের ভঙ্গিতে হাসল। তখনই মনে হলো, এই ছেলেটির সঙ্গে আরও কিছুদিন আমার থাকা উচিত। সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই মুহূর্তেই নিয়ে নিলাম।”― Humayun Ahmed
.
58) “দিনকাল পাল্টে গেছে, এখন আর মানুষ আগের মতো নাই।মওলানা ধরনের মানুষের দিকে এখন আর আগের মতো ভয়-মিশ্রিত শ্রদ্ধার চোখে কেউ তাকায় না। মওলানাও যে বিবেচনায় রাখার মতো একজন, কেউ তাও বোধহয় মনে করে না। ছল্টুফল্টু ভাবে।”― এই মেঘ, রৌদ্র-ছায়া
.
59) “বড় বোকামিগুলি বুদ্ধিমান মানুষরাই করে।”― আঙ্গুল কাটা জগলু
.
60) “প্রেমে পড়া মানে নির্ভরশীল হয়ে পড়া। তুমি যার প্রেমে পড়বে সে তোমার জগতের একটা বিরাট অংশ দখল করে নেবে। যদি কোনো কারণে সে তোমাকে ছেড়ে চলে যায় তবে সে তোমার জগতের ঐ বিরাট অংশটাও নিয়ে যাবে। তুমি হয়ে পড়বে শূণ্য জগতের বাসিন্দা”― Humayun Ahmed
.
61) “হিমু কখনও জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাসেঁর মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল।
.
62) আমার খুব শখ বড় রকমের ঝামলায় পড়লে সে কি করে। কাজেই হিমুর জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কান্ড-কারখানা দেখেছি।”― একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা
.
63) “বিপদ যখন আসে একটার পর একটা আসে। বিপদরা পাঁচ ভাইবোন। এদের মধ্যে খুব মিল। এই ভাইবোনরা কখনো একা কারো কাছে যায় না। প্রথম একজন যায়, তারপর তার অন্য ভাইবোনরা উপস্থিত হয়।”― এই মেঘ, রৌদ্র-ছায়া
.
64) “চট করে কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া কাজের কথা না। অতি রূপবতীদের কারও প্রেমে পড়তে নেই। অন্যেরা তাদের প্রেমে পড়বে, তা-ই নিয়ম।”― দেয়াল
.
65) “আমার সমস্যার কথা রুপাকে কি আমি বলতে পারি? আমি কি বলতে পারি - আমার বাবার স্বপ্ন সফল করার জন্য সারাদিন আমি পথে পথে ঘুরি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি. যখন খুব ক্লান্তি অনভব করি তখন একটি নদীর স্বপ্ন দেখি। যে নদীর জল ছুয়ে ছুয়ে এক জন তরুনি ছুটে চলে যায়. এক বার শুধু থমকে দাড়িয়ে তাকায় আমার দিকে। তার চোখে গভীর মায়া ও গাঢ় বিষাদ। এই তরুনীটি আমার মা. আমার বাবা যাকে হত্যা করেছিলেন।
.
66) এই সব কথা রুপাকে বলার কোনো অর্থ হয় না. বরং কোনো-কোনো দিন তরঙ্গিনী স্টোর থেকে টেলিফোন করে বলি - রুপা, তুমি কি এক্ষুনি নীল রঙের একটা সারি পরে তোমাদের ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। একটুখানি দাড়াও। আমি তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেটে চলে যাব.আমি জানি রুপা আমার কথা বিশাস করে না, তবুও যত্ন করে সারি পরে. চুল বাধে। চোখে কাজলের ছোয়া লাগিয়ে কার্নিশ ধরে দাড়ায়। সে অপেক্ষা করে. আমি কখনো যাই না.আমাকে তো আর দশটা ছেলের মত হলে চলবে না. আমাকে হতে হবে অসাধরণ।আমি সারাদিন হাটি। আমার পথ শেষ হয় না. গন্তব্যহীন যে যাত্রা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও নয়.”― ময়ূরাক্ষী
.
67) “সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হলো, আসাদুল্লাহ সাহেবের নীলপদ্ম থিউরি ঠিক আছে. এই তরুণী তার সমস্ত নীলপদ্ম হিমু নামের এক ছেলের হাতে তুলে দিয়ে তীব্র কষ্ট ও যন্ত্রণার ভেতর বাস করছে। এই যন্ত্রণা, এই কষ্ট থেকে তার মুক্তি নেই.”― হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
.
68) “মেয়েরা ভয়ঙ্কর দুর্যোগেও সাজ ঠিক রাখতে ভোলে না।”― হিমুর আছে জল
.
69) “ভালোবাসা আর ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে "ভালোবাসা" আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা। প্রেমিক প্রেমিকার সামনে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যতো গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন ততো বেশি। এক সময় ঘূর্ণন থেমে যায় মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারো কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় "ভালোবাসা" লেখা পিঠটা বের হয়েছে, কারো কারো ক্ষেত্রে ঘৃণা বের হয়েছে। কাজেই এই মুদ্রাটি যেন সবসময় ঘুরতে থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঘূর্ণন কখনো থামানো যাবে না।”― দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
.
70) “ওর কিছু নিজস্ব বিচিত্র লজিক আছে। সে ঐ লজিকে চলে । অন্য কারো কথাই শোনেনা । আমার কথাও শুনবেনা ।”― একজন মায়াবতী
.
71) “চাঁদের বিশালতা মানুষের মাঝেও আছে, চাঁদ এক জীবনে বারবার ফিরেআসে...ঠিক তেমন মানুষ প্রিয় বা অপ্রিয় যেই হোক,একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে”― Humayun Ahmed
.
72) “কয়েক মুহুর্তের জন্যে আমার ভেতর এক ধরনের বেভ্রম তৈরী হল. মনে হল আমার আর হাটার প্রয়োজন নেই. মহাপুরুষ না, সাধারণ মানুষ হয়ে মমতাময়ী এই তরুনিতির পাশে এসে বসি. যে নীলপদ্ম হাতে নিয়ে জীবন শুরু করেছিলাম, সেই প্দ্ম্গুলি তার হাতে তুলে দেই. তারপরেই মনে হলো - এ আমি কি করতে যাচ্ছি! আমি হিমু - হিমালয়।”― হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
.
73) “পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।”― Humayun Ahmed
.
74) “যে ভালোবাসা না চাইতে পাওয়া যায়, তার প্রতি কোনো মোহ থাকে না”― Humayun Ahmed
.
75) “গল্প-উপন্যাস হলো অল্পবয়েসী মেয়েদের মাথা খারাপের মন্ত্র।”― Humayun Ahmed, দেয়াল
.
76) “ঝর বৃষ্টির রাত হলেই এলিটা আমার সঙ্গে পক্খিমানবের সন্ধানে বের হয়.মানব জাতির সমস্যা হচ্ছে তাকে কোনো না কোনো সন্ধানে জীবন কাটাতে হয়. অর্থের সন্ধান, বিত্তের সন্ধান, সুখের সন্ধান, ভালবাসার সন্ধান, ইশ্বরের সন্ধান।আমি আর এলিটা সন্ধান করছি সামান্য পক্খিমানবের।”― হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী
.
77) “হিমু ভাই!''বল''যাবার আগে আপনি কি বলে যাবেন আপনি কে?' আমি বললাম, 'মারিয়া, আমি কেউ না. I am nobody.' আমি আমার এক জীবনে অনেককে এই কথা বলেছি - কখনো আমার গলা ধরে যায়নি, বা চোখ ভিজে অঠেনি। দুটা ব্যাপারী এই প্রথম ঘটল.”― হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
.
78) “আমার সঙ্গে কি আছে জানিস? পদ্ম। নীলপদ্ম। পাচটা নীলপদ্ম নিয়ে ঘুরছি। কি অপূর্ব পদ্ম। কাউকে দিতে পারছিনা। দেয়া সম্বব নয়. হিমুরা কাউকে নীলপদ্ম দিতে পারে না.”― হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
.
79) “হিমুর প্রতিটি কথা ভুয়া। সত্যি কথা সে অতীতে কোনোদিন বলেনি। ভবিষ্যতেও বলবে না।”― Humayun Ahmed, সে আসে ধীরে
.
80) “জোছনা দেখতে দেখতে, আমার হটাৎ মনে হলো, প্রকৃতির কাছে কিছু চাইতে নেই, কারণ প্রকৃতি মানুষের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে না.”― Humayun Ahmed, দরজার ওপাশে
.
81) “চানসোনা জবাব দিলো না. যেভাবে বসেছিল সেভাবেই বসে রইল. কতকাল আগে এক শ্রাবণ মাসে তের বছরের চানসোনা এই গ্রামে এসেছিল্. লম্বা ঘোমটার ফাঁকে অবাক হয়ে দেখেছিল ভাটি অচ্ঞল. অজানা এই জায়গাটার জন্য কেমন এক ধরনের মমতা জন্মেছিল্. আজ এই মমতা বহুগুণে বেড়ে তাকে ভাসিয়ে নিতে চাইছে. এতটুকু মাত্র শরীর মানুষের এই মমতা সে কোথায় ধারণ করে?”― Humayun Ahmed“অপরাহ্ন্”
.
82) “দিতে পার একশ' ফানুস এনে আজন্ম সলজ্জ সাধ, একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।” ― Humayun Ahmed, শঙ্খনীল কারাগার
.
83) “জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকে। একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি।”― Humayun Ahmed, শঙ্খনীল কারাগার
.
84) “দরিদ্র পুরুষদের প্রতি মেয়েদের একপ্রকার মায়া জন্মে যায়,আর এই মায়া থেকে জন্মায় ভালোবাসা।”― Humayun Ahmed
.
85) “বন্ধুত্ব তখনই গাঢ় হয় যখন কেউ কাউকে চিনে না।” ― Humayun Ahmed, হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই

ওয়াজের জন্য চুক্তি করা ও অতি মাত্রার টাকা দাবি করা


মাও. মামুনুল হক

সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি কথা সংশ্লিষ্ট সকলের খেদমতে পেশ করছি-
এক, 
তা'লীম, ইমামত,আযানসহ যে কোনো নেক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহন করা জায়েয কিনা" বিষয়টি নিয়ে ইসলামের মহামাণ্য ইমামদের মাঝে মতপার্থক্য আছে ৷ হানাফী ইমামদের মতে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহন করা না জায়েয ৷ অবশ্য পরবর্তি যুগের হানাফী ইমামগণ যুগের পরিবর্তন ও মানুষের হালাতের অধঃপতনের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেক কাজের বিনিময় গ্রহন করাকে জায়েয বলেছেন ৷ সেটাও কেবল এমন কাজের জন্য, যা ছাড়া ঈমান-ইসলাম টিকে থাকা কঠিন এবং পারিশ্রমিক দিয়ে লোক নিয়োগ না দিলে সে কাজ সুচারুরূপে আঞ্জাম পাবে না ৷ পরিণামে দ্বীনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিবে ৷ যেমন, মসজিদের ইমাম, মুআজ্জিন প্রভৃতি দায়িত্ব ৷ দ্বীনের তা'লীমও এমনই এক জরূরী কাজ, যার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লোক নিয়োগ করা যেতে পারে ৷ এই মাসআলার আলোকেই মাদরাসায় বেতনভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে ৷

দুই,
ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে সমাজের দ্বীনী প্রয়োজন পুরন করাও দ্বীনের জরূরী একটি শাখা ৷ আমাদের অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে এই খেদমতের মাধ্যমে ইসলামের বহুবিধ তাকাযা পুরা হচ্ছে ৷ বর্তমান এই অধঃপতনের সময়েও এই খেদমতের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য ৷ তা ছাড়া নিয়মিত শিক্ষকতার মত এটিও এক ভিন্ন খেদমতের ময়দান, যার জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য লোক নিয়োজিত হওয়া চাই ৷ এই খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের প্রচূর সময়ও ব্যয় হয়, যে সময়ে ইচ্ছা করলে তারা জীবন-জীবিকা উপার্জন করতে পারতেন ৷ এই সময়দানের বিনিময়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া যেতেই পারে এবং দেয়াও উচিৎ ৷ নইলে এই ময়দানে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়ে সমূহ সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷

তিন,
আমাদের অনেক আকাবির ওলামায়ে কেরামকে ওয়াজের হাদিয়া দেয়া হলে তা গ্রহন করতেন ৷ আবার অনেকে গ্রহন করতেন না ৷ এখনও অনেকে আছেন যারা ওয়াজের হাদিয়া নেন না ৷ তবে অনেককে আবার এমনও দেখা যায় যে, হাদিয়া নেন না ঠিক, কিন্তু তার যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করতে হয় ৷ আর এমন ব্যবস্থাই করতে হয় যে, সেই তুলনায় হাদিয়া নিলেই বরং আয়োজকদের সাশ্রয় হত ৷

সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় ওয়াজের জন্য হাদিয়ার নামে পারিশ্রমিক আদান-প্রদান করাকে খারাপ নজরে দেখার সুযোগ নেই ৷ এই পারিশ্রমিকটা সময়দানের বিনিময় হবে ৷ আর যাতায়াতের ব্যয়ভার তো বহন করতেই হবে ৷
চার, 
দ্বীনী কাজে দায়িত্ব পালনের জন্য যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় সেটা এক দিকে কাজের বিনিময়, অন্য দিকে দ্বীনী কাজে আবদ্ধ থাকায় জীবিকা উপার্জন করতে না পারার কারণে তার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের আয়োজন ৷ সুতরাং ওয়াজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক আদান-প্রদান বৈধ হলেও এটা নিছক কোনো পণ্য বিক্রির মূল্যের মত হতে পারে না ৷ আমাদের আকাবির-আসলাফগণ এভাবে কখনই বিবেচনা করেন নি ৷ বরং এটাকে মাদরাসার শিক্ষকতা বা মসজিদের ইমামতের মত সন্মানজনক ও ভদ্রতাসুলভ দায়িত্ব হিসাবে গ্রহন করতে হবে ৷

মাদরাসা থেকে শিক্ষকদেরকে বেতন দেয়া হয় ৷ শিক্ষকগণ বেতন গ্রহনও করেন এবং বেতন দেয়া-নেয়ার পদ্ধতিকে মাদরাসার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জরূরীও সাব্যস্থ করেছেন হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহসহ অনেক আকাবির ওলামায়ে কেরাম ৷ কিন্তু তাই বলে মাদরাসার বেতন নিয়ে দর কষাকষি বা বেশি চাহিদা পেশ করাকে কখনও ভালো নজরে দেখা হয় নি এবং আজও দেখা হয় না ৷ বরং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে পরিমান বেতন-ভাতা ধার্য করেন তার উপরই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ৷ এভাবেই তো চলছে দ্বীনের কাজ ৷ মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে নসীহত করা হয়, উস্তাদদের হাজত পুরা করার চেষ্টা করতে, সেটা ভিন্ন কথা ৷ 
ওয়াজের হাদিয়াও কি এমনই হওয়া উচিৎ না? পণ্য কেনা বেচার মত দরদাম করে, বায়না বা অগ্রিম বুকিং মানি নিয়ে তারপর পেমেন্টের জন্য সিসটেম ধরিয়ে দেয়ার পদ্ধতি কখনই ওলামায়ে কেরামের শান-ইজ্জতের সাথে মানানসই নয় ৷ এই জাতীয় আচরণ পরিহার করা জরূরী ৷

পাঁচ,
ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থার আদর্শ ৷ ব্যবসার মধ্যেও তো অতিমাত্রার মুনাফাখোরীকে ইসলাম সমর্থন করে না ৷ ওয়াজের জন্য পারিশ্রমিক বৈধ হলেও ইচ্ছা মত দাম হাঁকানোটা ইসলামী অর্থনীতির মূলনীতি পরিপন্থী ৷ কোনো পণ্যের বাজার চাহিদা বেশি হয়ে গেলেই স্বেচ্ছাচারি মূল্যে তা বিক্রি করা ইসলামের দৃষ্টিতে শোভনীয় নয় ৷ বরং উৎপাদনব্যয় বা ক্রয়মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তার মূল্য নির্ধারণ করা উচিৎ ৷ সেদিক থেকেও চড়া দাম হাঁকিয়ে ওয়াজ করা সমিচীন নয় ৷ তবে যৌক্তিক পরিমাণে সময়দান ও রাহখরচ ইত্যাদির হিসাবে পারিশ্রমিক গ্রহন করতে কোনো বাধা নেই ৷

ছয়,
আইনানুগ ফতোয়া এক জিনিস আর শারাফত-ভদ্রতা ও তাকওয়া-এহতিয়াত আরো উচ্চাঙ্গের জিনিস ৷ ওয়ায়েজীন আলেমগণ শুধু আইনের মারপ্যাচে ফতোয়া দেখাবেন, আর শারাফত ও এহতিয়াতের আশা করা হবে সাধারণ মানুষের কাছে? আমরাও তো ছোটো বয়সে দেখেছি, চুক্তি ও কন্টাক্ট করে যারা ওয়াজ করতেন তারা হক্কানী ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ থাকতেন ৷ কোনো উল্লেখযোগ্য মাদরাসায় কখনও তাদের জায়গা হত না ৷ এটাকে বড় রকমের অন্যায় মনে করা হত ৷ কিন্তু এখন…?! 
আসলাফের পথ থেকে সরে গিয়ে আমরা সফলকাম হতে পারব বলে মনে হয় না ৷

আমরা শুধু ফতোয়া মুখস্ত করে নিয়েছি, পারিশ্রমিক নেয়া বৈধ ৷ কিন্তু আমাদের পূর্বসূরী দেওবন্দের শায়খুল হাদীস আর সাহারানপুরের মুহতামিম সাহেবগণ সে পারিশ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করতেন সে ওয়াজ আমরা ভুলে গেছি ৷ মাদরাসার বোর্ডিংয়ের জলন্ত চুলা থেকে তরকারী গরম করায় মাস শেষে চুলার লাকড়ীর হিসাব করে তারা নিজেদের বেতন থেকে পরিশোধ করে দিতেন ৷ আর আমরা…?!
যারা ওয়ায়েজ হবেন, তাদের মধ্যে শারাফাত ও এহতিয়াত থাকা জরূরী ৷ 
অপারগতার কথা ভিন্ন ৷ অনেক দূরত্বে দুই প্রোগ্রাম কাছাকাছি সময়ে পড়ে গেলে কিংবা অন্য কোনো পথে চলার শক্তি না থাকলে লক্ষ টাকার খরচে হেলিকপ্টারে সফর হতে পারে, কিন্তু অপারগতা ছাড়া বিনাপ্রয়োজনে শুধু বিলাসিতার জন্য নিজের বা অন্যের পকেটের এত বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা অপব্যয়ের শামিল ৷ 
বাংলাদেশের ইতিহাসে আলেমদের মধ্যে রাজকীয় শান নিয়ে চলতেন যে কয়জন, হযরত হারুন ইসলামাবাদী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন তাদের অন্যতম ৷ তার কথা শুনেছি, জীবন সায়াহ্নে চিকিৎসার ইমার্জেন্সী প্রয়োজনে তার জন্য এয়ার এ্যম্বুলেন্স ঠিক করা হলে তিনি বলেছিলেন,এত টাকা আমার পিছনে খরচ না করে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কাজে লাগাও ৷
পারিশ্রমিক গ্রহন বিষয়ে বৈধতার ফতোয়া থাকলেও তাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করা যেমন বৈধ হয়ে যায় নি তদ্রূপ টাকা-পয়সার প্রতি লোভ দেখানোও জায়েজ হয়ে যাবে না ৷ বিপুল পরিমান টাকার শর্ত করা যদি লোভ না হয়, তো লোভ বলবে কাকে?
সুতরাং চুক্তি ও কন্টাক্ট করে ওয়াজ করা ওলামায়ে দেওবন্দ ও আকাবিরগণের পদ্ধতি নয়, বরং অভদ্রতার পরিচায়ক ৷ 
সাধারণ মানুষের কর্তব্য, যথা সম্ভব ওলামায়ে কেরামের সন্মান করা, এহতেরাম করা, তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পুরনে সচেষ্ট থাকা ৷ আবার ওলামাদেরও ন্যুনতম শতর্কতা অবলম্বন করা জরূরী ৷

কুরআন হাদিস ব্যাখ্যার একটি বড় মূলনীতি একই বিষয়ে সবরকম দলিল সামনে রাখা

কুরআন হাসিদ পড়া ও মানার ব্যাপারে প্রায় সব মুসলমানেরই আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু সঠিক মূলনীতি না জানার কারণে বিভ্রান্তির শিকার হন। আমার জানা মতে একটি বড় মূলনীতি হল, একই বিষয়ের সবরকম দলিল-প্রমাণ সামনে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। নয়তো বিভ্রান্তি অবশ্যম্ভাবী। যেমন আমি ক্লাসে বললাম, আগামীকাল থেকে প্রতিদিন ক্লাসে পড়াবো। তখন এক ছাত্র বলল, স্যার! শুক্রবারেও? 
আরে ভাই, শুক্রবারে যে বন্ধ এটা তো সবাই জানে। তাই আমার এ কথার সাথে বন্ধের দিনগুলোর বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। যদিও আমি বন্ধের দিনে ক্লাস না করার কথা স্পষ্ট করে বলিনি। না বললেও বন্ধের দিন ক্লাস হবে না, এটা সকলকেই বুঝতে হবে। 
 .
ইসলাম থেকে কিংবা ইসলামের নামে যতগুলো বাতিল ফিরকা, দল-উপদল সৃষ্টি হয়েছে; আকিদাগত, ফিকহী মাসায়েলগত বা অন্যান্য বিষয়ে-- সবগুলোর কাছে কোনো-না-কোনো দলিল থাকে। কুরআন ও হাদিস থেকেই দলিল-প্রমাণ দিয়ে থাকে। যদিও দলিলগুলো খোড়া ও বাস্তবতা-বিবর্জিত। কিন্তু দলিল তো আছে। কারণ, আল্লাহর সমস্ত নিদর্শন, উদাহরণ-উপমা এবং তাঁর অহি দ্বারা হেদায়াত পাওয়া যেমন সহজ; তদ্রƒপ গোমরাহ-পথভ্রষ্ট হওয়াও তেমন কঠিন না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে : يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا (সূরা বাকারা : ২৬) 
দলিল থাকা সত্ত্বেও সত্যপথে না থাকার একটি মৌলিক কারণ হল, একমুখী অধ্যয়ন। কেউ কোথায় একটি দলিল পেল; ব্যস সে এটি নিয়েই ব্যস্ত ও মগ্ন। অথচ ভিন্ন দলিল ছিল। দুটোর মাঝে সামঞ্জস্য করে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেত। দুয়েকটি উদাহরণ নেওয়া যাক। 
ক. বাদশা আবরাহা রাসুল সা. এর জন্মের পূর্বে পবিত্র কাবা ধ্বংস করার জন্যে হস্তিবাহিনী নিয়ে আসে। তখন আল্লাহ তাআলা ছোট্ট পাখির দ্বারা তাদের ধ্বংস করে দেন। ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে রাসুল সা. -কে বলা হয়েছে : أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْففِيلِ অর্থ : “হস্তিবাহিনীর সাথে আপনার রব কী করেছিল তা আপনি দেখেননি?”
শুধু এ আয়াত নয় আরও অনেক আয়াত এবং হাদিস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায়, অদৃশ্যের অনেক বিষয় আমাদের নবী সা. জানতেন। তাই তিনি আলিমুল গায়েব। 
এর বিপরীতে আরও অনেক আয়াত, হাদিস ও নবী সা. এর ঘটনা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, রাসুল সা. গায়েব জানতেন না। আয়েশা রা. এর ওপর অপবাদ আরোপ করার পর রাসুল সা. পর্যন্ত আয়েশাকে বলেছিলেন, কোনো গোনাহ হয়ে থাকলে ক্ষমা চাও, আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন। এরকম হাদিস অসংখ্য। 
এবার চিন্তা করুন, যারা সূরা ফীল দ্বারা দলিল গ্রহণ করে রাসুলকে আলিমুল গায়েব বলে তারা এসব দলিল দেখলে এ বিভ্রান্তিকর আকিদা তারা পোষণ করত না।

খ. অনেকে খুতবা চলাকালীন তাহিয়্যাতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদ পড়ার কথা বলেন। আসলে তাদের কথা কতটুকু দলিলসম্মত?
একটি হাদিসে রাসুল সা. ইরশাদ করেন : إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ
অর্থ : তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগে দুই রাকাত নামায পড়ে নাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৩) 
দুখুলুল মসজিদ মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। ফরজ বা ওয়াজিব এমনকি সুন্নতও না। বিখ্যাত আহলে হাদিস আলেম আল্লামা মুবারকপুরি রহ. তোহফাতুল আহওয়াজিতে উল্লেখ করেন : قال الحافظ في الفتح واتفق أئمة الفتوى على أن الأمر في ذلك للندب (খ.২, পৃ. ২১৬; অধ্যায় : باب ما جاء إذا دخل أحدكم المسجد فليركع ركعتين)

সহিহ বুখারিতে হযরত জাবের রা. হতে একটি হাদিসে এসেছে : دَخَلَ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ أَصَلَّيْتَ قَالَ لَا قَالَ قُمْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ অর্থ : রাসুল সা. জুমুআর খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি (সুলায়েক গাতফানি রা.) মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন রাসুল সা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি নামায পড়েছ? তিনি বললেন, না। রাসুল তাকে দুই রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিলেন। (হাদিস : ৮৮৯; অধ্যায় : باب من جاء والإمام يخطب صلى ركعتين خفيفتين )
আরেকটি হাদিসে এসেছে, আবু জর গিফারি রা. জুমুআর খুতবার সময় মসজিদে আসলেন। রাসুল সা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন : هل ركعت قال لا قال قم فاركع فقام فركع ركعتين অর্থ : নামায পড়েছ? 
-জি না। 
-তাহলে নামায পড়ো। তখন তিনি দু রাকাত নামায পড়লেন। (মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৪৭২১)
---
এই দলিল দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, খুতবা চলার সময়ও কেউ মসজিদে হাজির হলে দুখুলুল মসজিদ পড়তে হবে। এবার আসুন অন্য দলিল দেখি :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا وَالَّذِي يَقُولُ لَهُ أَنْصِتْ لَيْسَ لَهُ جُمُعَةٌ.
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জুমুআর দিন ইমামের খুতবার সময় যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে গাধার অনুরূপ; কেবল সে বোঝা বহন করছে। আর যে ব্যক্তি তাকে ‘চুপ করো’ বলছে, তার জুমুআর নামাযই শুদ্ধ হবে না। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ২০৩৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস নং- ৫৩০৫; কানযুল উম্মাল, হাদিস নং- ২১২০৬]
এই হাদিস তেমন শক্তিশালী ও সহিহ না। কিন্তু বিষয়টি অন্যান্য সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন : 
عَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ أَنْصِتْ فَقَدْ لَغَا.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ইমামের খতুবার সময় কেউ কাউকে বলল, ‘চুপ করো’ তাহলে সেও অতিরঞ্জন ও ভুল করল। [তিরমিযি, হাদিস নং- ৫১২, অধ্যায় : با ما جاء في كراهية الكلام والإمام يخطب] 
ইমাম তিরমিযি রহ. হাদিসটি বর্ণনার পর বলেন : حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
ইমাম তিরমিযি সাধারণত হাদিস বর্ণনা করার পর হাদিসের ওপর আমল আছে কি-না তাও বলে দেন। এ হাদিস বর্ণনার পর তিনি বলেন : 
وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا لِلرَّجُلِ أَنْ يَتَكَلَّمَ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ وَقَالُوا إِنْ تَكَلَّمَ غَيْرُهُ فَلَا يُنْكِرْ عَلَيْهِ إِلَّا بِالْإِشَارَةِ.
অর্থ : আহলে ইলম এ হাদিস অনুযায়ী আমল করে থাকেন। খুতবার সময় কথা বলাকে তারা মাকরুহ (তাহরিমি) মনে করেন। কেউ কথা বললে, তাকে ইশারায় চুপ থাকতে বলা হবে। ‘তুমি চুপ থাক’ এ কথাও বলা যাবে না। 
শায়েখ নাসিরউদ্দিন আলবানিও সহিহ বলেছেন।

এ বিষয়ে আরেকটি হাদিস পেশ করছি :
عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِى سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ.
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ইমামের খতুবার সময় তুমি যদি তোমার পাশের ব্যক্তিকে বলো ‘তুমি চুপ থাকো’ তাহলে তুমিও ভুল করলে। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২০০২, অধ্যায় : باب فِى الإِنْصَاتِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِى الْخُطْبَةِ] 
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তোমরা সুবহানাল্লাহও বলবে না। [বিদআতের উদ্ধৃতিতে মাহফুজ প্রণীত ইবাদ, পৃ. ২৭৩]

আমরা জানলাম, খুতবা শোনা ওয়াজিব। দুখুলুল মসজিদ পড়া মুস্তাহাব। এখন আমরা ওয়াজিব ছেড়ে দিয়ে মুস্তাহাব পড়ব? এখন প্রশ্ন হবে, রাসুল সা. তো এক বা দুইজন সাহাবিকে খুতবার সময় দুখুলুল মসজিদ পড়তে বলেছেন। মুহাদ্দিসে কেরাম এর অনেক উত্তর দিয়েছেন।
সেসব উত্তর না দিয়ে আমি ইনসাফের একটি কথা বলতে চাই, রাসুল সা. এর যুগে খুতবা শুরু হওয়ার অনেক আগেই সবাই মসজিদে হাজির হতেন। ওইদিন বিশেষ কোনো কারণে বিলম্ব হওয়ায় এক/দুইজন সাহাবিকে রাসুল সা. দুখুলুল মসজিদ পড়ার আদেশ করেছেন। কারণ, খুতবার পর নফল/সুন্নত পড়ার সুযোগ পাবে না। কিন্তু আমরা প্রতি সপ্তাহে এ কাজ করছি! ওদিকে ইমাম খুতবা দিচ্ছেন আর অনেক মানুষ দুখুলুল মসজিদ পড়ছেন!!! 
এটা কি ইনসাফের কথা???
হা, কারও যদি হঠাৎ কোনোদিন দুখুলুল মসজিদ ছুটে যায়; আর তিনি নিয়মিত এ আমল করেন, তখন সে খুব দ্রুত দুই রাকাত পড়ে নিতে পারে। কিন্তু বারবার এ সুযোগ গ্রহণ করা মোটেও জায়েয হবে না। শরিয়তকে পরিবর্তন করার নামান্তর।

সব দলিল-প্রমাণ সামনে না রাখার কারণেই এ ভুল মাসআলা বুঝেছেন। উভয় প্রকার দলিল না দেখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে বেশি। এখানেও তাই হয়েছে

ওয়াজ শোনার সময় চিৎকার করা, লাফানো

কোনো লেখাই কারো বিরুদ্ধে লিখি না। সহিহ সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামীর আলোকে লেখার চেষ্টা করি। কারো বিরুদ্ধে চলে গেলে আমাকে মাজুর মনে করার অনুরোধ রইল)
--
ওয়াজ শুনতে হয় অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে। গভীর ধ্যান ও খেয়ালের সাথে ওয়াজ শ্রবণ করাই সাহাবিদের তরিকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওয়াজ করতেন, কথা বলতেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম এমন মনোযোগের সাথে শুনতেন যে, তাঁদের মাথার ওপর পাখিও বসে যেত! 
মালিকুল উলামা আল্লামা কাসানি রহ. স্বীয় বিখ্যাত কিতাব বাদায়েউস সানায়েতে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন : 
عن قَيْسِ بن عُبَادَةَ أَنَّهُ قال كان أَصْحَابُ رسول اللَّهِ صلى اللَّهُ عليه وسلم يَكْرَهُونَ الصَّوْتِ عِنْدَ ثَلَاثَةٍ عِنْدَ الْقِتَالِ وَعِنْدَ الْجِنَازَةِ وَالذِّكْرِ.
অর্থ : হযরত কায়েস ইবনে উবাদা হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণ যুদ্ধ, জানাযা ও জিকরের সময় কণ্ঠস্বর বুলন্দ করা অপছন্দ করতেন। (বাদায়েউস সানায়ে : খ. ১, পৃ. ৩১০) 
এখানে জিকর শব্দ দ্বারা ওয়াজ-নসিহত উদ্দেশ্য। আল্লামা ইবনে নুজাইম রহ. বলেন : وَالْمُرَادُ بِالذِّكْرِ الْوَعْظُ
শামসুল আইম্মা সারাখসি রহ. বলেন, উপরের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, কুরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজের সময় আওয়াজ বুলন্দ করা মাকরুহ।

তদ্রƒপ ওয়াজ শোনার সময় লাফালাফি করা, দৌঁড়াদৌঁড়ি করা, কাপড় ছিড়ে ফেলা সবই মাকরুহ ও অপছন্দনীয় কাজ। এসব হতে বিরত থাকা আবশ্যক। আল্লামা ইবনে নুজাইম রহ. ইমাম সারাখসি রহ. এর অভিমত উল্লেখ করেন : 
وقال الْإِمَامُ شَمْسُ الْأَئِمَّةِ السَّرَخْسِيُّ فَفِي هذا الحديث بَيَانُ كَرَاهَةِ رَفْعِ الصَّوْتِ عِنْدَ سَمَاعِ الْقُرْآنِ وَالْوَعْظِ فَتَبَيَّنَ بِهِ أَنَّ ما يَفْعَلُهُ الَّذِينَ يَدَّعُونَ الْوَجْدَ وَالْمَحَبَّةَ مَكْرُوهٌ لا أَصْلَ له في الدِّينِ وَتَبَيَّنَ بِهِ أَنَّهُ يُمْنَعُ الْمُتَقَشِّفَةُ وحمقاء ( وحمقى ) أَهْلِ التَّصَوُّفِ مِمَّا يَعْتَادُونَهُ من رَفْعِ الصَّوْتِ وَتَمْزِيقِ الثِّيَابِ عِنْدَ السَّمَاعِ لِأَنَّ ذلك مَكْرُوهٌ في الدِّينِ عِنْدَ سَمَاعِ الْقُرْآنِ وَالْوَعْظِ.
(আল-বাহরুর রায়েক : খ. ৫, পৃ. ৮২)

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রহ. ফাতাওয়া আলমগিরির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন : 
( قَوْلُهُ وَإِزْعَاجُ الْأَعْضَاءِ ) قَالَ فِي الْهِنْدِيَّةِ : رَفْعُ الصَّوْتِ عِنْدَ سَمَاعِ الْقُرْآنِ وَالْوَعْظِ مَكْرُوهٌ ، وَمَا يَفْعَلُهُ الَّذِينَ يَدَّعُونَ الْوَجْدَ وَالْمَحَبَّةَ لَا أَصْلَ لَهُ ، وَيُمْنَعُ الصُّوفِيَّةُ مِنْ رَفْعِ الصَّوْتِ وَتَخْرِيقِ الثِّيَابِ ، كَذَا فِي السِّرَاجِيَّةِ .
(ফাতাওয়া শামী : খ. ৪, পৃ. ১১৪) 
--
তবে কেউ যদি ওয়াজ শুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, তখন তার যে কোনো কাজ গোনাহ হবে না। তার আকল ও জ্ঞান না থাকার কারণে। যাদের এমন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের ওয়াজ না শোনাই উত্তম; যেন তার কারণে অন্যের ওয়াজ শুনতে সমস্যা না হয়।
শায়খ Mohiuddin Quasemi

মাওলানা সাদ সাহেব নিজের বিতর্কিত মত প্রত্যাহার করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।


দ্বীনী দাওয়াতের মতো সবার জন্য দ্বীনী তালীমের ব্যবস্থা করাও অপরিহার্য

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

ব্যাপক দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা
দ্বীনের অনুসারীদের কাছে দ্বীনের অন্যতম প্রধান দাবি এই যে, তারা যেন সর্বস্তরের মানুষের মাঝে দ্বীনের অনুসরণ ব্যাপক করার চেষ্টা করেন এবং দ্বীনের দাওয়াতকে সমাজের কোনো বিশেষ শ্রেণী বা শুধু আগ্রহী ব্যক্তিদের মাঝে সীমাবদ্ধ না রাখেন। মুসলমানদের মনে মুসলমানিত্বের অনুভূতি জাগ্রত করার এবং দ্বীনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির প্রচেষ্টা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। মুসলমানদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে যে, দ্বীন ও ঈমান হচ্ছে শিক্ষা করার বিষয়। শেখা ছাড়া এমনি এমনি তা অর্জিত হয় না আর তা জাগতিক বিভিন্ন বিদ্যা ও পেশা শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।
বর্তমানে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ব্যাধি দ্বীনের বিষয়ে অনাগ্রহ ও উদাসীনতা। এটি কীভাবে দূর হয় এবং তাদের মাঝে দ্বীনকে জানার এবং দ্বীন ও ঈমান শেখার প্রেরণা জাগ্রত হয়-এই প্রচেষ্টাই হচ্ছে দাওয়াতের ব্যাপক বিস্তারের সর্বাধিক প্রয়োজনীয় ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি।
বিগত শতাব্দীর অন্যতম মুজাদ্দিদ হযরত মাওলানা ইলিয়াস রাহ.-এর প্রচেষ্টায় দিল্লীর নিযামুদ্দীন থেকে দাওয়াত ও তাবলীগের যে কর্মপন্থা প্রচলিত হয়েছে তা এ পদ্ধতির একটি উত্তম দৃষ্টান্ত। আল্হাম্দুলিল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ কল্পনাতীত উপকার পেয়েছে এবং এখনও পাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।
দ্বীনী ইলমের ব্যাপক বিস্তারের গুরুত্ব
যদিও দাওয়াত ও তাবলীগের এই পদ্ধতি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিক থেকে মানুষের ঈমানী জাগরণ ও দ্বীনী শিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের একিট ফলপ্রসূ মেহনত এবং এর মূল কর্মপন্থাও সর্বসাধারণের দ্বীনী ইলম অর্জনের একটি উত্তম উপায়। কিন্তু সে সময়ই হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলে গেছেন যে, “আলেমগণের নিকট আরজ, তাবলীগ-জামাআতের চলাফেরা এবং মেহনত ও কোশেশ দ্বারা সর্বসাধারণের মাঝে শুধু দ্বীনের আগ্রহ ও দ্বীনের মূল্য বোঝার যোগ্যতা সৃষ্টি করা যাবে এবং তাদেরকে দ্বীন শেখার জন্য প্রস্তুত করা যাবে। এরপর তাদেরকে দ্বীন শেখানো এবং দ্বীনী তরবিয়তের কাজ উলামায়ে কেরাম ও হক্কানী বুযুর্গানে দ্বীনের মনোযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে। তাই এদিকে আপনাদের সদয় দৃষ্টির বড় প্রয়োজন।” -মালফূযাত, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ., সংকলনে মাওলানা মুহাম্মদ মনযূর নুমানী রহ. ১৪২, মালফূয নং ২১২
তিনি আরো বলেছেন, “তাবলীগ-জামাআতের শিক্ষা-সিলেবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘তাজবীদ’। কেননা কুরআন কারীম সহীহ-শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাজবীদ শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ সময় প্রয়োজন জামাআতে তা পাওয়া যায় না। এজন্য এই সময় শুধু চেষ্টা করতে হবে, যেন মানুষের মনে এর প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং এর সাথে প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর বিষয়টি শেখার জন্য যেন আলাদা সময় বের করতে প্রস্তুত হয়ে যায়।” -মালফূযাত ১৩৮, মালফূয নং ২০২
বাস্তব কথা এই যে, ফরযে কেফায়া তো অনেক উপরের বিষয়, ফরযে আইন ইলমের পরিমাণও কম নয়। কুরআন, হাদীস, সীরাতে রাসূল, আকায়েদ, ইবাদত, লেনদেন, ব্যক্তি-জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, আত্মার জগৎ ইত্যাদি সকল বিষয়ের মৌলিক ও প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনীয় ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের উপর ফরয, তা তিনি যে শ্রেণীরই হোন না কেন।
তদ্রূপ বাস্তবতা এই যে, বর্তমান ফেতনার যুগে বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সমাজ ও জগতের ব্যাপারে সচেতন ব্যক্তিদের জন্য দ্বীনিয়াতের প্রাথমিক কিছু জ্ঞান মোটেও যথেষ্ট নয়। হযরত থানভী রহ.এর ভাষায়, “তাদেরকে আকায়েদ ও আহ্কামের ইলম মোটামুটি বুঝে-শুনে অর্জন করতে হবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য, নিগুঢ় তত্ত্ব ও রহস্য এবং ইসলামী শিক্ষা ও নির্দেশনার সর্বজনীনতা ও চিরন্তনতার মজবুত ইলম অর্জন করতে হবে। যাতে শরীয়তের মাহাত্ম্য অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায় এবং ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস মনমস্তিষ্কে এমনভাবে দৃঢ়মূল হয় যে, শত্রুদের নানামুখী অপপ্রচারের মুখেও তা বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকা না থাকে।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, সাধারণ মানুষ ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ভাইয়েরা দ্বীনিয়াতের উপরোক্ত জ্ঞান কীভাবে এবং কোথায় অর্জন করবেন এবং দ্বীনী দাওয়াতের মত দ্বীনী শিক্ষাকে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করার উপায় কী? অনেকের ধারণা, দ্বীনী ইলম শুধু বিশেষ সিলেবাস ও বিশেষ শিক্ষকদের অধীনে আরবী মাদ্রাসার গণ্ডির ভেতরে অবস্থান করে সুদীর্ঘ সময়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই হাসিল করা যায়। আর যেহেতু সকলের পক্ষে মাদ্রাসার তালিবে ইলম হওয়া বা মাদ্রাসার চারদেয়ালের ভিতর আট দশ বছর সময় দেওয়া সম্ভব নয়, তাই তারা স্থির সিদ্ধানে- উপনীত হয়েছেন যে, ইলমে দ্বীন তাদের কিসমতে নেই। আর বাকি জীবনটুকু জাহালতের মধ্যে কাটানোর ব্যাপারেও তারা সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন।
এই ধারণা ও সিদ্ধান্ত দু’টোই ভুল। দ্বীনের প্রয়োজনীয় ইলম (যার প্রতি উপরে ইঙ্গিত করা হয়েছে) প্রত্যেক মুসলমান চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুনিয়াবী অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যেও অর্জন করতে পারে। ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমানদের ইতিহাস এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

গীবত থেকে দূরে থাকার উপদেশমূলক ঘটনা


আগেকার কোনো এক নবীর ঘটনা। তিনি ঘুমিয়ে আছেন। স্বপ্ন দেখলেন তাকে বলা হচ্ছে, ভোরবেলা নিদ্রাভঙ্গের পর সর্বপ্রথম যে জিনিসের প্রতি তোমার দৃষ্টি যাবে তা খেয়ে ফেলবে। এরপর যে জিনিসের দিকে তাকাবে তা লুকিয়ে নিবে, প্রকাশ করবে না। তারপর যা দেখবে তাকে আশ্রয় দিবে। অতঃপর যে জিনিস দেখবে তাকে নিরাশ করবে না। এরপর যা দেখবে তা থেকে পালাবে। 
 ভোরবেলা সর্বাগ্রে নবীর দৃষ্টি পড়ল এক পাহাড়ের ওপর। পাহাড়টি দেখার পর তিনি চিন্তায় তলিয়ে গেলেন। ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। আল্লাহর পক্ষ হতে নিদের্শ ছিল তা খাওয়ার। কিভাবে পাহাড় খাবো?! আল্লাহর হুকুম শিরোধার্য বিধায় তিনি পাহাড় ভক্ষণ করতে অগ্রসর হলেন। খাওয়ার সংকল্প করার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়টি ছোটো হয়ে গেল। এমনকি তা সুস্বাদু একটি খাদ্যে রূপান্তরি হল। এক লোকমায় তা খেয়ে ফেললেন। নিমিষেই খেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। 
এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণের একটি পাত্র আসল। যেহেতু আল্লাহর নির্দেশ ছিল দ্বিতীয় চিনিসটি লুকিয়ে ফেলার। তাই তিনি তা মাটির নিচে পুঁতে রাখলেন। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। অল্পক্ষণ চলার পর পেছনে তাকিয়ে দেখেন স্বর্ণের পাত্রটি মাটির ওপর পড়া আছে। তিনি আবার তা মাটিতে পুঁতে রাখলেন। কিন্তু পরক্ষণেই সেটিকে মাটির ওপর উঠানো দেখতে পেলেন। দুতিনবার পুঁতার পরও স্বর্ণের পাত্রটি মাটির ওপর উঠে যায়। তাই তিনি সেটিকে রেখে নামনে অগ্রসর হলেন। 
সামনে গিয়ে দেখেন একটি চড়–ই পাখি হাঁপাচ্ছে। পাখিটি খাওয়ার জন্য একটি বাজপাখি দৌড়ে আসছে। আল্লাহর নির্দেশ ছিল তৃতীয় জিনিসটি আশ্রয়দানের। তাই চড়–ইকে আশ্রয় দিলেন। বাজপাখির হাত থেকে রক্ষা করলেন। বাজপাখিটি চড়–ই থেকে নিরাশ হয়ে বলল, হে নবী! আমার হাত থেকে চড়–ই পাখিকে ছিনিয়ে নিলেন। এবার আমার ক্ষুধা নিবারণের কোনো ব্যবস্থা করুন। নবীর খেয়াল এলো, আল্লাহ তাআলা চতুর্থ জিনিসকে নিরাশ না করার আদেশ করেছেন। ফলে তিনি নিজের উরু হতে একখ- গোশত কেটে বাজপাখিকে খেতে দিলেন। এরপর তার সামনে একটি মৃতদেহ পড়ল। 
পঞ্চম জিনিস হতে পালানোর নির্দেশ থাকায় তিনি তা দেখে পালালেন। সন্ধ্যা হলে ওই নবী আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে আরজ করল, হে আল্লাহ! 
 আমি আপনার নির্দেশ পালন করেছি। এখন এর মাঝে কী রহস্য রয়েছে তা দয়া করে আমাকে বলুন। আল্লাহর নবী যখন ঘুমিয়ে পড়লেন তখন আল্লাহর পক্ষ হতে ইরশাদ হল :
হে নবী! প্রথমে আপনি যে জিনিস খেয়েছেন তা হল ক্রোধ বা গোস্বা। পাহাড় যেখাকে প্রথমে বিরাট ছিল; কিন্তু খেয়ে ফেলার সংকল্প করার সঙ্গে সঙ্গে তা অতি ক্ষুদ্র হয়ে গিয়ে সুস্বাদু খাবারে পরিণত হল। ক্রোধের উদাহরণও তাই। গোস্বা আসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হতে তীব্রতর হতে থাকে, কিšুÍ মানুষ তা হজম করতে পারলে খুব উপকারী হয়ে যায়। এরূপ লোককে ধৈর্যশীল বলা হয়; আখিরাতে সে এর সুফল ভোগ করবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে তুমি যে পাত্রটি বারংবার পুঁতে রাখার পরও তা বেরিয়ে আসছিল, তা হল ইখলাসের সাথে নেক আমল। মানুষ ইখলাসের সাথে সহীহ নিয়তে যে আমল করবে তাতে লোক দেখানোর কোনো মানসিকতা থাকবে না। সে আমল যত গোপনেই করা হোক না কেন তা এমনিতেই প্রকাশ পেয়ে যায়।
তৃতীয় জিনিসের উদাহরণ হল আমানতের। কেউ আমানত রাখলে কোনো প্রকার খিয়ানত না করা উচিত।
চতুর্থত আপনি নিজ উরুর গোশত কেটে বাজপাখিটিকে দিয়েছেন। তার প্রয়োজন মিটিয়েছেন। এভাবে কোনো মানুষ যদি কোনো প্রয়োজনে আপনার নিকট আসে; তখন আপনার জন্য অপরিহার্য হল তার প্রয়োজন পূর্ণ করা। তাকে নিরাশ না করা। কারণ বাজপাখি হতে মানুষের মর্যাদা অনেক গুণ ঊর্ধ্বে।
পঞ্চম জিনিস, যেই মৃত দেহ হতে আপনাকে পালানোর নির্দেশ দিয়েছি তা হল গীবতের উদাহরণ। মৃতদেহ হতে যেভাবে পালিয়েছেন সেভাবে গীবত হতেও ঘৃণাভরে পালানো উচিত। (ফকীহ আবুল লাইছ)

গীবত শোনার পর করণীয়

Mohiuddin Quasemi
গীবত শোনার পর প্রথম করণীয় হল, যার দোষচর্চা করা হয়েছে তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ না করা। তার যেসব দোষত্রুটি, অন্যায়-অপরাধ ও মন্দ বিষয় আলোচিত হয়েছে সেসব বিশ্বাস না করা। কারণ, গীবত করা কবিরা গোনাহ, ভয়ানক অপরাধ। এত বড় অপরাধী কখনো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। 
দ্বিতীয়ত কোথাও কারো গীবত শুরু হলে নিজে গীবতে অংশগ্রহণ করবে না। মনে মনে ধারণা করবে, গীবতকারী আল্লাহর অভিশপ্ত। তার কথায় বিশ্বাস করলে আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন এবং পরকালে আমাকে শাস্তি দিবেন। 

একবার হযরত ঈসা আ. নিজের অনসারীদের বললেন, ঘুমের অবস্থায় কারো সতর খুলে গেলে তোমরা কী করবে? তা ঢেকে দিবে নাকি আরও খুলে দিবে? সকলে সমস্বরে বলল, আমরা তা ঢেকে দেবো। ঈসা আ. বললেন, তাহলে তোমাদের সামনে কারো দোষচর্চা করা হলে কেন দোষ ঢেকে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেরাও দোষচর্চায় লিপ্ত হয়ে যাও? তোমাদের সামনে কারো দোষচর্চা শুরু হলে কর্তব্য হল ওই ব্যক্তির প্রশংসা আরম্ভ করা। অন্যথায় গীবত শোনার দায়ে সবাইকে আল্লাহর দরবারে পাকড়াও করা হবে। (ফকীহ আবুল লাইছ)
তৃতীয়ত কোনো মুসলমান ভাইয়ের সামনে কারো গীবত শুরু হলে সেও তার প্রশংসা শুরু করবে। তার ভালো দিকগুলো তুলে ধরবে। তার পক্ষে কথা বলবে। যেন একজন মুসলমানের অপমান না হয়। নয়তো কেয়ামতের দিন গীবত শ্রবণকারীও অভিযুক্ত হবে। বিচারের সম্মুখীন হওয়া লাগবে। তখন অুতপ্ত ও লজ্জিত হবে। 
বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক রহ. এর দরবারে একবার কেউ ইমাম আবু হানিফা রহ. এর গীবত শুরু করল। ইবনুল মোবারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি ইমাম আবু হানিফার গীবত করছ; অথচ তাঁর শান হল একাধারে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তিনি এশার অজু দিয়ে ফজরের নামায পড়েছেন। (দুররে মুখতার)
হযরত আবু দারদা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : 
مَنْ ذَبَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ رَدَّ اللَّهُ عَنْهُ عَذَابَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَتَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ.
অর্থ : যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের ইজ্জত-আব্রু বিনষ্ট হওয়া থেকে বারণ করতে পারবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। এরপর রাসুল সা. আয়াত তেলাওয়াত করলেন : ‘মুমিনদের সহযোগিতা করা আমার কর্তব্য।’ (তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস : ৪৩১৩; হাদিসটি আংশিক শাব্দিক বেশকমে মুজামে কাবীর, মুসনাদে আহমদসহ আরও বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে।)

শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানি রহ. -এর বদান্য


হযরত সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. -এর দান-দক্ষিণা ও অতিথিপরায়ণতা কেমন যেন তাঁর নামের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর নাম শ্রবণের সাথে সাথেই অন্তরে তাঁর অতুলনীয় বদান্যতার কথা স্মরণ হতো। সাধারণভাবেই তাঁর খাবারের মজলিসে ৪০/৫০ জন মেহমান উপস্থিত থাকত। আর তিনি সহাস্য চেহারায় তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। কোনো কোনো মানুষ সাধারণ প্রয়োজনে দেওবন্দে আসত আর আহারকালে হযরতের এখানে এসে শরিক হতো। তথাপি তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন না। কেউ তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসে যদি অন্য কোনো স্থানে অবস্থান করতেন বা অন্যত্র খানাপিনা করতেন, জানতে পারলে তিনি এ ব্যাপারে তার নিকট সঠিক কারণ জিজ্ঞেস করতেন। কখনো এমনও হয়েছে যে, কোনো মেহমানের মেহমাখানায় দীর্ঘদিন অবস্থানের দরুন কেউ যদি তাকে এ ব্যাপারে কিছু বলত তাহলে জানতে পারলে তিনি তাকে ধমক দিতেন ও রাগান্বিত হতেন।
তিনি নিজে সব সময় মেহমানের সাথেই নাশতা ও আহার করতেন। শেষ বয়সে ডাক্তারগণ যখন তাঁকে বড় প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করলেন এবং ছোট প্রাণীর গোশত খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তখন যতক্ষণ পর্যন্ত সকল মেহমানের জন্য ছোট প্রাণীর গোশতের বন্দোবস্ত না হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ডাক্তারের পরামর্শ মানেন নি। মোটকথা তাঁর মধ্যে মেহমানদারির এতো উৎসাহ ও আগ্রহ ছিল যে, মেহমানের খাতিরে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। অনেক সময় এমনও দেখা গেছে যে, মেহমানকে শীতকালে লেপ-কম্বল দিয়ে নিজে আবা-জুব্বা গায়ে দিয়ে রাত কাটিয়েছেন। 
তিনি বলতেন : আমার মনে চায় আমার ঘরে মেহমানদের প্রয়োজনাতিরিক্ত কোনো বস্তু না থাকুক। সফরকালে সঙ্গে মেহমান থাকলে সাথীদের টিকিট, পানাহার ইত্যাদি যাবতীয় ব্যয়ভার নিজেই বহন করার চেষ্টা করতেন। মদিনা শরিফের খেজুর এলে সারা হিন্দুস্তানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ পাঠিয়ে দিতেন। মাদ্রাসার নির্দিষ্ট বেতন ছাড়া আয়ের তেমন কোনো উপায় না থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশ কয়েকজন গরিব-দুঃখী ও বিধবাকে প্রতিমাসে নিজ পক্ষ থেকে ভাতা প্রদান করতেন। কেউ তাঁর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরাতেন না। সাধ্যানুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। অনেক সময় অন্যদের ঋণও পরিশোধ করতেন। তিনি স্বীয় নিকটতমদের ঋণ পরিশোধ করে অতীত মনীষীগণের আদর্শ বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর এতো উদার প্রাণে ও মুক্তহস্তে ব্যয় করার কারণ এটাই যে, পার্থিবসামগ্রী ও অর্থ সম্পদের কোনো কদর তাঁর হৃদয়ে ছিল না। হযরতের এ আদর্শের নমুনা তাঁর সাহেবজাদা সাইয়েদ আসআদ মাদানি রহ. -এর মধ্যেও লক্ষ্য করা যেত। বর্তমানে তাঁর জীবিত সাহেবজাদা মাও. আরশাদ মাদানি ও মাও. আসজাদ মাদানি এবং গোাটা মাদানি পরিবারেই দানশীলতা ও মেহমানদারির ঐতিহ্য আছে।

ইমাম আযম হযরত আবু হানিফা রহ. -এর তাকওয়া


ইমাম আযম হযরত আবু হানিফা রহ. -এর তাকওয়া পরহেযগারি তো দৃষ্টান্ততুল্য ছিল। তাঁর সমকালীন উলামায়ে কেরাম বলতেন যে, আমরাপ আমাদের যুগে ইমাম আবু হানিফা রহ. -এর তুলনায় অধিক মুত্তাকী পরহেযগার কাউকে দেখিনি।
আলি ইবনে হাফস বলেন, হাফস ইবনে আব্দুর রহমান ব্যবস্য় ইমাম আবু হানিফা রহ. -এর সাথে অংশীদার ছিলেন। একবার ইমাম সাহেব রহ. তার নিকট ব্যবসার কিছু সামগ্রী দিয়ে তাকে তা বিক্রির জন্য পাঠালেন। সাথে সাথে একথাও বলে দেন যে, এ কাপড়গুলোর মধ্য থেকে এই একটি কাপড়ে কিছু খুঁত আছে। সুতরাং বিক্রি করার সময় তা ক্রেতাকে দেখিয়ে বিক্রি করবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে অন্যান্য কাপড়ের সাথে তিনি তাকে একত্রে বিক্রি করে ফেলেন। খুঁত জায়গাটি ক্রেতাকে দেখাতে ভুলে যান। আর উক্ত কাপড়টি কোন ক্রেতা কিনেছিল তা সঠিক জানাও ছিল না। পরে হযরত ইমাম সাহেবের নিকট ফিরে এসে ব্যবসা সংক্রান্ত খবরাদি অবহিত করেন। এ সময় তিনি তাকে উক্ত কাপড়টির কথা জিজ্ঞেস করেন। হাফ্স ইবনে আব্দুর রহমান বললেন, হযরত সেটির কথা আমার মনেই ছিল না। হযরত ইমাম সাহেব রহ. তখন এ ব্যবসার সম্পূর্ণ অর্থ সাদকা করে দিলেন। আর সে সময় তার মূল্য ছিল ২০ হাজার দেরহাম। ওপরন্ত এরপর তিনি হাফ্স ইবনে আব্দুর রহমানের সাথে যৌথ ব্যবসা-ই বন্ধ করে দেন।
একবার কিছু লোক কোন এক এলাকা থেকে বণ্ড ছাগল লুট করে নিয়ে এসে তা কুফায় বিক্রি করল। ছাগলগুলো শহরের ব্যবসায়ীদের অন্যান্য ছাগলের সাথে মিশে গেল। লুণ্ঠিত ছাগল আলাদা করার কোন উপায় ছিল না। ইমাম সাহেব রহ. যখন এ সংবাদ অবগত হলেন তখন তিনি মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ছাগল আনুমানিক কত বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে? লোকেরা উত্তর দিল যে, ৭ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে। তখন থেকে ৭ বছর পর্যন্ত তিনি কুফায় ছাগলের গোশত ভক্ষণ করেননি। যাতে তাঁর উক্ত চোরাই ছাগলের গোশত আহারের সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায়।
একবার হযরত ইমাম সাহেব রহ. এক ঘরের পার্শ্বে রোদের মধ্যে বসেছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনে আবু যাহিদ তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁকে ঘরের দেয়ালের ছায়ায় না বসে রোদে বসা দেখে জিজ্ঞেস করলেন- হযরত! ঘরের ছায়ায় না বসে রোদে বসার কারণ কি? ঘরে বসলে তো গরমের কষ্ট হতো না। ইমাম সাহেব রহ. উত্তর দিলেন, এ ঘরের মালিকের নিকট আমার ঋণের টাকা পাওনা রয়েছে। আমি যদি তার ঘরের দেয়ালের ছায়া দ্বারা উপকার গ্রহণ করি তাহলে হতে পারে তা ঋণ দিয়ে কোন প্রকার উপকার লাভ করার আযাবের ণ্ডমকীর অধীনে শামিল হয়ে যাবো। আর এটা যদিও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়, তবে আলেমদের জন্য ইলমের ওপর সর্বসাধরণের তুলনায় অনেক বেশি আমলকারী হওয়া উচিত।

বিচারকের প্রজ্ঞা

ইমাম ইবনে জাওযী রহ. লেখেন : খোরাসানের এক ব্যবসায়ী হজের উদ্দেশে বাগদাদ আগমন করল। এখানে এসে অনুভব করল, তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক হাজার দিনার রয়েছে। সে চিন্তা করল, হজের সফরে তার কাছে এতগুলো টাকা রাখা ভয় থেকে মুক্ত নয়। আর কারো কাছে আমানত রাখাও ঠিক হবে না। সুতরাং সে শহরের নিকটবর্তী একটি জঙ্গলের রেড়ি গাছের নিচে গর্ত করে দিনারগুলো দাফন করে রাখল। অতঃপর সে হজের জন্য রওয়ানা হয়ে গেল। হজ সমাপ্ত করে যখন সে ব্যবসায়ী বাগদাদ আসল, তখন ওই গাছের নিচে খনন করে দেখল, অন্য কোনো ব্যক্তি তার পূর্বেই দিনার নিয়ে চলে গেছে। দুঃখ-বেদনা ও কষ্টের কারণে সে অস্থির হযে পড়ল। শহরে ফিরে এসে লোকজনের সামনে আহাজারি ও কান্নকাটি শুরু করল। অবশেষে কোনো একব্যক্তি তাকে শহরের বিচারক আজদুদ্দৌলার কাছে নিয়ে গেল। আজদুদ্দৌলার তার উপাখ্যান শুনে শহরের সকল ডাক্তারকে একত্রিত করার নির্দেশ দিল। বিচারক জিজ্ঞেস করল, তোমরা এ বছর কোনো রোগীকে রেড়ির কিশলয় দ্বারা চিকিৎসা করেছ? এক ডাক্তার বলল : হ্যাঁ, আপনার অমুক সেবকের চিকিৎসা করেছি। আজদুদ্দৌলা জিজ্ঞেস করল, এসব কিশলয় কে তোমাকে এনে দিয়েছিল? বলল, অমুক তাঁবুনির্মাতা। তাঁবুনির্মাতাকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হল। সে আসার পর জিজ্ঞেস করা হল, তুমি রেড়ির কিশলয় কোন্ গাছ দ্বারা ভেঙেছিলে? তাঁবুনির্মাতা ওই গাছের ঠিকানা বলে দিল, যেখানে খোরাসানের ব্যবসায়ী দিনার লুকিয়ে রেখেছিল। আজদুদ্দৌলা তাকে নির্দেশ দিল, সেখান থেকে যে দিনার তুমি নিয়েছ এক্ষুনি তা বের করো। এ ব্যবসায়ীকে দাও। তাঁবুনির্মাতা প্রথমে ইতস্তত করলেও বিচারকের ধমকের পর ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করল।

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ছবির কথা নিজ দায়িত্বে বুঝে নিতে হবে।


জানা কথা, জাতিসংঘে যতই নিন্দাপ্রস্তাব পাস হোক, ইসরায়েল এসবের থোড়াই কেয়ার করে। নেতানিয়াহু একের পর এক রাষ্টদূত তলব করছে। কয়েক রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতও ফিরিয়ে এনেছে। সবেচেয়ে মজার ঘটনা ঘটেছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ক্ষেত্রে। নেতানিয়াহু মার্কিন দূতকে একটানা চল্লিশ মিনিট বকাবকি করেছে। পাগল হয়ে গেছে মানুষটা। অথবা পাগলের অভিনয়। তলে তলে সব ঠিকই আছে। 
.



মসজিদুল হারামের সম্মানিত মুয়াজ্জিন


শায়খ আলি রইস রহ.। মসজিদুল হারামের সম্মানিত মুয়াজ্জিন। ছবিটা প্রায় ১৮৮৫ সালের দিকে তোলা। শায়খ আলি ছিলেন মহান সাহাবী যোবায়ের ইবনুল আউয়াম রা.-এর বংশধর!

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রিন্স ইয়াকুব হাবীবুদ্দীন টুকি


!
সর্বশেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ যফরের নাতির ছেলে!বংশীয় দাদী (মমতাজ)-এর কবর যেয়ারত করতে এসেছিল বোধ হয়!সমস্যা হলো, মুঘল বংশধরদের সবাই না হলেও বেশির ভাগই বর্তমানে শী‘আঘেঁষা! আমার পর্যবেক্ষণে ভুলও থাকতে পারে! এতদিন জেনে এসেছি, বর্তমানে বেঁচে থাকা মুঘল বংশধররা দারিদ্রপীড়িত জীবন যাপন করছে, কিন্তু একে দেখে তো মনে হচ্ছে, বেশ রাজার হালেই আছে! হুমায়ুনই পারস্য থেকে এই ভেজাল কার্যকরভাবে আমদানী করেছিলেন। অবশ্য তখনকার শী‘আরা এখনকার মতো জঘন্য ছিল না। আয়াতুল্লাহ খোমেনির পরের শী‘আ আর আগের শী‘আদের মধ্যে পার্থক্য আছে!


আমরা হেদায়াত খুঁজি বইয়ের পাতায়! নির্দিষ্ট শায়খের ‘বক্তৃতায়’!


আমরা হেদায়াত খুঁজি বইয়ের পাতায়! নির্দিষ্ট শায়খের ‘বক্তৃতায়’! ফেসবুকের স্ট্যাটাসে! অাল্লাহর কাছেও হয়তো হেদায়াত খুঁজি! কিন্তু বই-বক্তব্য আর স্ট্যাটাসে যেভাবে খুঁজি, সেভাবে কি আল্লাহর কাছে খুঁজি?  কেউ কেউ বলেন, এত দলের মধ্যে সত্যটা খুঁজে পাওয়া দুস্কর! কী করি বলুন তো? আপনি দুই রাকাত সালাত আদায় করে, এই দু‘আখানা নিয়মিত অনবরত পড়তে থাকুন!
.
কিছুদিন যাওয়ার পর:
-কী ভাই! কিছুতো হলো না!
-দু‘আটা পড়ছেন নিয়মিত?
-পড়েছিলাম তো!
-তারমানে এখন পড়েন না!
.
আরেকজন বললো:
-দু‘আ পড়তে বলছেন, পড়বো! কিন্তু আমি জানি:
= ওই ‘চিন্তার’ লোকেরা ভ্রষ্ট!
-যদি জানেন-ই তাহলে দু‘আ চাইলেন কেন?
.
আমি নিশ্চিত, কেউ যদি নিয়মিত দু‘আখানা পড়তে থাকে! তার মধ্যে ভ্রান্তির অবকাশ থাকতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভ্রান্তি বা ভুল চিন্তার নিগড়ে বন্দী করে রাখতে পারেন না। 
.
ইয়া রাব! যেহেতু আপনি আমাদেরকে হেদায়াত দান করেছেন, এরপর আমাদের অন্তরে আর বক্রতা সৃষ্টি করবেন না। একান্তভাবে আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন! নিশ্চয়ই আপনিই অসীম দানশীল! 
আলে ইমরান: ৮