বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

১৬৩৩ সালে ইস্তাম্বুলে হাসান চেলেবির প্রথম রকেটে ঊর্ধ্বাগমন।


তিনি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম “রকেট ম্যান”।

আহমেদ চেলেবি আর তার ভাই লাগারি হাসান চেলেবির ছোটবেলা থেকেই শখ আর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাখি আর তাদের উড়াউড়ি। তাদেরও স্বপ্ন আকাশে উড়ার, এ লক্ষ্যে তাদের সমস্ত পড়াশোনার বিষয়বস্তু ছিল ফ্লাইং। একবার আলজেরিয়ার মুসলিম নাবিকদের হাতে একটা ভেনেশিয়ান জাহাজ আটক হবার পর তারা একে ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দেয়। সেই জাহাজে একটা খ্রিষ্টান মেয়ের কাছে ছিল লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির ফ্লাইং বিষয়ক গবেষণা আর ছবি। তারা ভাষা না বুঝলেও ছবি দেখে কিছুটা আইডিয়া পান, দেখেন তারা যা কল্পনা করেছিলেন তাই এঁকেছেন ভিঞ্চি। হাসান এ ডিজাইনকে আরও উন্নত করতে কাজ শুরু করেন।

এক ঘটনায় চেলেবি ভ্রাতৃদ্বয় শাস্তিপ্রাপ্ত হলে সুলতান চতুর্থ মুরাদের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান। দুই ভাই সুলতানকে তাদের গবেষণার ব্যাপারে অবহিত করেন। তাকে বোঝান যদি মুসলিমদের “ফ্লাইং সোলজার” থাকে তাহলে তারা সহজেই পরিখা বা দুর্গের দেয়াল অতিক্রম করে বিহাইন্ড দ্যা এনিমি লাইন্সে যেতে পারবে। সুলতান তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সুলতানের মেয়ের জন্মদিনকে তাদের আবিষ্কৃত “রকেট” পরীক্ষার দিন হিসেবে ধার্য করা হয়।

সেই দিন টোপকাপি প্রাসাদের সামনে হাসান তার সাত পাখা বিশিষ্ট রকেট নিয়ে প্রস্তুত হন। এতে পোরা হয় ১৪০ পাউন্ড গান পাউডার। রাজকীয় লাঞ্চে বসে রসিক হাসান সুলতান মুরাদকে বলেন, হে আমার সুলতান, আবশির, আমি বোধহয় ঈসা (আঃ) এর সাথে কথা বলতে যাচ্ছি। হাসান তার “রকেট” গায়ে পরার পর তাতে আগুন দিয়ে স্টার্ট করা হলো। উনি সত্যি সত্যিই অনেক উঁচুতে গিয়েছিলেন, এরপর গান পাউডার শেষ হয়ে গেলে বসফরাসের সমুদ্রে পড়ে যান। আল্লাহর ইচ্ছায় হাসান বেঁচে গিয়ে সাতরে তীরে এসে সুলতান মুরাদকে কৌতুক করে বলেন, “হে আমার সুলতান, ঈসা (আঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন।”


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন