বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

আন্দিজান গণহত্যার ১১ তম বর্ষপূর্তি আজ।


আন্দিজান গণহত্যার ১১ তম বর্ষপূর্তি আজ। ১৩ মে, ২০০৫ সালে উযবেকিস্তানের আন্দিজান শহরের মূল স্কয়ারে হাজার হাজার নিরপরাধ মুসলিমের উপর প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশ ফায়ার করে এসএনবি (এ দেশের র‍্যাবের মত) ও পুলিশ। সরকারের দেয়া হিসেবেই নিহতের সংখ্যা ছিল ১৮৭, প্রকৃতপক্ষে যে সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশী।

সোভিয়েত রাশিয়ার দখলদারিত্বের সময় উযবেকিস্তান সহ সম্পূর্ণ মধ্য এশিয়াতে ইসলামের আলো নিভিয়ে দেয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে কমিউনিস্টরা।
মসজিদগুলোকে গোয়াল বানিয়েছিল তারা। ৯০ এর দশকে উজবেকিস্তান “স্বাধীন” হবার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। সরকারী মসজিদের মেম্বারে সরকারের দরবারী আলেম যা বলবেন এর বাইরে আর কারও ইসলাম নিয়ে বলার ছিলোনা। লেবাসে-আচারে ইসলামের ছাপ বোঝা গেলেই তাকে নিয়ে বিনা বিচারে জেলে পুরে দেয়া হতো।

এরকম এক গ্রেফতারের ঘটনায় আন্দিজানে নারী পুরুষ সবাই শহরের মূল স্কয়ারে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হয়। নারীরা ছিল একদিকে আর পুরুষেরা আরেকদিকে। কিছক্ষণ পর তাদের ঘিরে ফেলে পুলিশ আর অন্যান্য বাহিনী। শুরু হয় ব্রাশফায়ার। নিরস্ত্র জনতা সবাই হুড়োহুড়ি করে ময়দান ছেড়ে পালাতে থাকে। যারা গুলি খেয়ে আহত হয়ে পড়েছিল তাদেরও পুলিশ গুলি করে খতম করে দেয়। অতঃপর অনেক লাশকে গাড়িতে করে সরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে দাফন করে।

এ গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখানো যাতে উযবেক জনগণ আর দ্বিতীয়বার সরকারের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলতে সাহস না পায়। তাদের ধারণা সত্যি ছিল, এরপরে এখন পর্যন্ত উযবেক মুসলিমেরা কোনরূপ আন্দোলন করতে সক্ষম হয়নি। কমেন্টে দেয়া ভিডিওগুলো উযবেকিস্তানের অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন