ইভটিজিং বিশ্বের অন্যতম প্রধান “সামাজিক ব্যাধি” হিসেবে পরিচিত। পাশ্চাত্যের অসভ্য ও বিষাক্ত সংস্কৃতির সংস্পর্শ এবং নারী অধিকারের নামে নারী জাতিকে ইসলামের সুশীতল ছায়া ও সুমহান জীবনাদর্শ থেকে বের করে আনার কুফলই আজকের ইভটিজিং। শুধু পাশ্চাত্যেই নয়, বরং বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, শান্তিপ্রিয় ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশেও অনেক আগেই ব্যাপিত হয়েছে এ বিষবৃক্ষের বীজ। সময়ের আবর্তনে সে বীজ হিংস্র ও বিষাক্ত ডাল-পালা বিশিষ্ট পরিপূর্ণ বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া দু-একটি ঘটনার শিকার সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শুনলেই বাংলাদেশে ইভটিজিং এর মাত্রা অনুধাবন করা যায়। ইভটিজিং এর শিকার নারায়নগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের ছাত্রী সিমি বাণু বিষপানে আত্মহত্যার আগে থানার ওসিকে লিখেছিলেন, “এ নির্যাতন রাস্তায় একজন মেয়েকে ফেলে ধর্ষণ করার চেয়েও নির্মম। তাই অন্য মেয়েদের জন্য আমি এভাবেই প্রতিবাদ করলাম।” [দৈনিক যুগান্তর, ৫ই জুলাই ২০১০] “ইভটিজিং” এর শিকার হওয়ার পরও যারা বেঁচে থাকে তাঁরাও সুখে-সাচ্ছন্দ্যে থাকে না। কখনও তারা পড়াশুনা ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এ সকল ছাত্রীদের অকালে ঝরে যাওয়ার ফলে শুধু ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্থ নয় বরং সমাজও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষিকাদেরও ইভটিজিং বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ফলে শিক্ষিকা ও মেধাবী ছাত্রীশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইভটিজিং এর ফলে সামাজিক বিশৃংখলা থেকে শুরু করে বাল্যবিবাহ, পারিবারিক কলহসহ সর্বোপরি আত্মহত্যার মত মর্মঘাতী ঘটনার সৃষ্টি হয়।
ইসলামের অপরিহার্য বিধান “পর্দা” লঙ্ঘনের ভয়াবহ পরিণতি ইভটিজিং। আবির্ভাবের পর থেকেই যে ইসলাম নারীকে জীবন্ত প্রোথিতকরণ থেকে উদ্ধার, পিতা-মাতা, স্বামী ও সন্তানের সম্পত্তিতে অধিকার প্রদান এবং নির্ধারিত মোহর লাভসহ নারীর অসংখ্য সুযোগ ও অধিকার সৃষ্টি করে দিয়েছে সে ইসলামই নারীর ইজ্জত-আভ্রুকে সতীত্বের যমদের নিকট থেকে রক্ষার জন্য হিজাব বা পর্দা প্রথার প্রচলন করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নারীদের সতীত্ব রক্ষার্থে পর্দার বিধান অত্যাবশ্যক করে বলেছেন, “হে নবী ! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন মহিলাদেরকে বলে দিন তারা যেন নিজেদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের (বুকের) উপর ঝুলিয়ে রাখে। এতে তাদেরকে (সম্ভ্রান্ত হিসেবে) চিনতে সহজ হবে ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু”। [সূরা আহযাব-৫৯]
পুরুষেরা যদি তাদের দৃষ্টি শক্তিকে নত রাখে আর নারীরা যদি তাদের সাধারণত প্রকাশমান সৌন্দর্য ব্যতীত অনান্য সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে তবে “ইভটিজিং” হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না। আর আল্লাহ তাআলা নারীদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলেছেন, “তারা (নারী) যেন প্রকাশমান (অঙ্গ) ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে এবং তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে”। [সূরা আন-নূর-৩০-৩১]
ইসলামের অত্যাবশ্যক বিধান “পর্দা” পুরুষদের উপরও ফরয। রাসূল সা. পুরুষদেরকে স্বীয় দৃষ্টি নারীদের উপর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, যা সমাজে পালন করা হলে ইভটিজিং নির্মুল করা সম্ভব। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি রাসূল সা. কে প্রশ্ন করেছিলাম যে, হঠাৎ যদি কোন মহিলার উপর আমার দৃষ্টি নিপতিত হয় তাহলে কি করতে হবে? রাসূল সা. নির্দেশ দিলেন, তুমি তোমার দৃষ্টিকে কালবিলম্ব না করে ফিরিয়ে নেবে”। [মুসলিম, আবু দাউদ] বর্তমানে ইভটিজিং এর অন্যতম লক্ষ্যণীয় কারণ হলো ঢিলেঢালা পোষাকের পরিবর্তে স্কিনটাইট ও শর্ট পোষাক পরিধান করা। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের (স্কিনটাইট ও শর্ট) পোষাক পরিধান করা আর না করা উভয়ই সমান। কেননা নবী সা. বলেন, “আল্লাহর অভিশাপ ঐ সকল নারীদের উপর যারা কাপড় পড়েও উলঙ্গ থাকে” অর্থাৎ অভিশাপ তাদের জন্য কাপড় পরিহিত অবস্থায়ও যাদের শরীরের অপ্রকাশমান অঙ্গের আকার-আকৃতি বুঝা যায়। পর্দা প্রথার মাধ্যমে ইভটিজিংসহ সমাজের নারী সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধই নির্মূল করা সম্ভব। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পূর্বে শাহ আমলে ইরানী নারীরা যখন উলঙ্গ হয়ে সী-বিচে গোসল করত, মাদকাসক্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকত তখন পতিতালয় ছিল হাজারো ইরানী নারীর ঠিকানা। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইমাম খোমেইনী রহ. প্রত্যেক নারীর উপর পর্দা অত্যাবশ্যক করে দিয়েছেন, এমনকি পতিতালয়ে অবস্থানকারী নারীদের উপরও এবং সামর্থ্যবান প্রত্যেক যুবককে পতিতালয়ের সেইসব নারীকে বিয়ে করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইরানি নারীরা যখন ইসলামের সুমহান বিধান পর্দাপ্রথা পালন করতে শুরু করল তখন পতিতালয়ের সেইসব ইরানি নারীরাই হয়ে গেলেন সম্মানিতা স্ত্রী, সম্মানিতা মা ও সম্মানিতা বোন। ইসলামের বিধান পর্দা মেনে চলার কারণে ইরানি মেয়েরা বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও সে দেশে ইভটিজিং নেই, মাদকাসক্তি নেই, নেই কোন পতিতালয়। শুধু তাই নয় ইরানি নারীরা পর্দা সহকারে রাষ্ট্রের প্রায় সবক্ষেত্রেই অংশগ্রহণ করছে। ফলশ্রুতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পর্দাসহ ইসলামের সকল শাশ্বত বিধান পালন করার তাওফিক দান করুন।
ইসলামের অপরিহার্য বিধান “পর্দা” লঙ্ঘনের ভয়াবহ পরিণতি ইভটিজিং। আবির্ভাবের পর থেকেই যে ইসলাম নারীকে জীবন্ত প্রোথিতকরণ থেকে উদ্ধার, পিতা-মাতা, স্বামী ও সন্তানের সম্পত্তিতে অধিকার প্রদান এবং নির্ধারিত মোহর লাভসহ নারীর অসংখ্য সুযোগ ও অধিকার সৃষ্টি করে দিয়েছে সে ইসলামই নারীর ইজ্জত-আভ্রুকে সতীত্বের যমদের নিকট থেকে রক্ষার জন্য হিজাব বা পর্দা প্রথার প্রচলন করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নারীদের সতীত্ব রক্ষার্থে পর্দার বিধান অত্যাবশ্যক করে বলেছেন, “হে নবী ! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন মহিলাদেরকে বলে দিন তারা যেন নিজেদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের (বুকের) উপর ঝুলিয়ে রাখে। এতে তাদেরকে (সম্ভ্রান্ত হিসেবে) চিনতে সহজ হবে ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু”। [সূরা আহযাব-৫৯]
পুরুষেরা যদি তাদের দৃষ্টি শক্তিকে নত রাখে আর নারীরা যদি তাদের সাধারণত প্রকাশমান সৌন্দর্য ব্যতীত অনান্য সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে তবে “ইভটিজিং” হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না। আর আল্লাহ তাআলা নারীদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলেছেন, “তারা (নারী) যেন প্রকাশমান (অঙ্গ) ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে এবং তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে”। [সূরা আন-নূর-৩০-৩১]
ইসলামের অত্যাবশ্যক বিধান “পর্দা” পুরুষদের উপরও ফরয। রাসূল সা. পুরুষদেরকে স্বীয় দৃষ্টি নারীদের উপর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, যা সমাজে পালন করা হলে ইভটিজিং নির্মুল করা সম্ভব। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি রাসূল সা. কে প্রশ্ন করেছিলাম যে, হঠাৎ যদি কোন মহিলার উপর আমার দৃষ্টি নিপতিত হয় তাহলে কি করতে হবে? রাসূল সা. নির্দেশ দিলেন, তুমি তোমার দৃষ্টিকে কালবিলম্ব না করে ফিরিয়ে নেবে”। [মুসলিম, আবু দাউদ] বর্তমানে ইভটিজিং এর অন্যতম লক্ষ্যণীয় কারণ হলো ঢিলেঢালা পোষাকের পরিবর্তে স্কিনটাইট ও শর্ট পোষাক পরিধান করা। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের (স্কিনটাইট ও শর্ট) পোষাক পরিধান করা আর না করা উভয়ই সমান। কেননা নবী সা. বলেন, “আল্লাহর অভিশাপ ঐ সকল নারীদের উপর যারা কাপড় পড়েও উলঙ্গ থাকে” অর্থাৎ অভিশাপ তাদের জন্য কাপড় পরিহিত অবস্থায়ও যাদের শরীরের অপ্রকাশমান অঙ্গের আকার-আকৃতি বুঝা যায়। পর্দা প্রথার মাধ্যমে ইভটিজিংসহ সমাজের নারী সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধই নির্মূল করা সম্ভব। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পূর্বে শাহ আমলে ইরানী নারীরা যখন উলঙ্গ হয়ে সী-বিচে গোসল করত, মাদকাসক্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকত তখন পতিতালয় ছিল হাজারো ইরানী নারীর ঠিকানা। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইমাম খোমেইনী রহ. প্রত্যেক নারীর উপর পর্দা অত্যাবশ্যক করে দিয়েছেন, এমনকি পতিতালয়ে অবস্থানকারী নারীদের উপরও এবং সামর্থ্যবান প্রত্যেক যুবককে পতিতালয়ের সেইসব নারীকে বিয়ে করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইরানি নারীরা যখন ইসলামের সুমহান বিধান পর্দাপ্রথা পালন করতে শুরু করল তখন পতিতালয়ের সেইসব ইরানি নারীরাই হয়ে গেলেন সম্মানিতা স্ত্রী, সম্মানিতা মা ও সম্মানিতা বোন। ইসলামের বিধান পর্দা মেনে চলার কারণে ইরানি মেয়েরা বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও সে দেশে ইভটিজিং নেই, মাদকাসক্তি নেই, নেই কোন পতিতালয়। শুধু তাই নয় ইরানি নারীরা পর্দা সহকারে রাষ্ট্রের প্রায় সবক্ষেত্রেই অংশগ্রহণ করছে। ফলশ্রুতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পর্দাসহ ইসলামের সকল শাশ্বত বিধান পালন করার তাওফিক দান করুন।
লেখক : শিক্ষার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন