রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

প্রকেন আমি আর ‘লেগিংস’ না পরার সিদ্ধান্ত নিলাম”

গত কয়েক বছর ধরে একটি দৃঢ় বিশ্বাস আমার মনে চেপে বসছিলো। অল্প কয়েকজন নারীপুরুষের সাথে এক বাক্যালাপের আগ পর্যন্ত আমি একে উপেক্ষা করছিলাম। আলাপটা ছিল নারীদের লেগিংস পরার ব্যাপারে, যা বেশি আকর্ষণ তৈরি করে পুরুষদেরকে নারীদেহের দিকে কামভাব নিয়ে তাকাতে সাহায্য করে। আলাপের মধ্যখানে ঈশ্বর আমার মন পরিবর্তন করে দিলেন ও আমি তাদের কথামত কাজ করতে শুরু করলাম।
আমি বাসায় গিয়ে স্বামীর সাথে আমার বিশ্বাসের কথা শেয়ার করলাম। এটা কি সম্ভব যে আমার লেগিংস পরার ফলে কোনো পরপুরুষ আমার ব্যাপারে কামভাব পোষণ করবে? আমি এ ব্যাপারে তাঁর মত জানতে চাইলাম, আমি তাঁর সততাকে সম্মান করি। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন আমি এমন কোনো জায়গায় যাই যেখানে নারীরা ইয়োগা প্যান্ট পরে আছেন, আমার না তাকিয়ে থাকা কষ্টকর, আমি চেষ্টা করি না তাকাতে, তবে তা সহজ না।’
আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়ে বসলো। এমন না যে আগে তা বুঝিনি, অন্যথায় সেই বাক্যালাপ নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু ডেইলের সাথে কথা বলার পর তা দৃঢ়তরভাবে আঘাত করলো। যদি আমার স্বামীর জন্যই তা কষ্টকর হয়, যিনি আমাকে যথেষ্ট সম্মান করেন, তাহলে অন্য পুরুষদের জন্য তা কত কষ্টকর হবে যাদের এতটা আত্মনিয়ন্ত্রণ নেই? অবশ্যই পুরুষ যদি দেখতে চায় তো দেখবেই, কিন্তু তাদের সুযোগ দেয়ার কী দরকার? এটা কি অসম্ভব যে, চিকন, দেহের সাথে লাগোয়া ইয়োগা প্যান্ট বা লেগিংস পুরুষদের বাধ্য করবে পরনারীর দিকে কামার্তভাবে তাকাতে?
তত্‍ক্ষণাত্‍ আমি নিজের ও স্বামীর কাছে প্রতিজ্ঞা করলাম যে আমি আর খোলা জায়গায় এসব পরবো না। শুধু ঘরে থাকলে বা লম্বা শার্ট পরলেই এসব পরবো। আমি আমার মেয়ের জন্যেও সেরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। তাকে শেখাতে চাই যে পোশাকে বা চেহারায় নয়, বরং ঈশ্বরের দেয়া চরিত্র ও ব্যক্তিত্বেই তার মূল্য। আমি গত দু সপ্তাহ ধরে এ প্রতিজ্ঞা অনুসরণ করছি যদিও মাঝেমাঝে পরার মত পোশাক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু আমার বিশ্বাস পোশাকের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরকে ও আমার স্বামীকে সম্মান করছি।
মূল লেখিকা :  ভেরোনিকা প্যাট্রিজ [একজন অমুসলিম নারী]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন