স্বাস্থ্য ও মাদক
স্বাস্থ্য আর মাদক দুটি বিপরীতমুখী শব্দ। স্বাস্থ্যের সর্বজনীন স্বীকৃত সংজ্ঞায় শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার কথা বলা হয়েছে, আর যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের কারণে স্বাস্থ্যের এই তিনটি উপাদানই দারুণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের পরপর, তা আমাদের মস্তিষ্কের ‘পুরস্কারকেন্দ্র’ বা রিওয়ার্ড সেন্টারকে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে একটা সাময়িক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। এই ভালো লাগা থেকেই তৈরি হয় শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতা। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের (রাসায়নিক পদার্থ) তারতম্যের কারণে শরীর চায় বারবার মাদক গ্রহণ করতে; আর মন চায়, একটা ভালো লাগার অনুভূতি পেতে। এ কারণে একজন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে গেলে, সে বারবার মাদক গ্রহণ করতে চায়। এই ভালো লাগার অনুভূতি কিন্তু ক্ষণস্থায়ী এবং কিছুদিন পর মাদক স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে। পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত দেহযন্ত্রের সব অংশকে বিকল করতে থাকে, পাশাপাশি শুরু হয় নানা মানসিক সমস্যা। চিন্তা আর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি যদিও নিরাময়যোগ্য একটি রোগ, তবুও এর প্রতিরোধ করা চিকিৎসা করার চেয়ে সহজ। মাদকের সহজলভ্যতা হ্রাস, চাহিদা হ্রাস এবং মাদক ব্যবহারজনিত ঝুঁকি হ্রাস করে মাদকের অপব্যবহার কমানো যায়। চিকিৎসার বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছেÑ প্রথম পর্যায়ে কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদকাসক্তির ধরন নির্ণয় করে শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করা হয়। এরপর তার মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। ‘উইথড্রয়াল’ সিনড্রম ও মাদকজনিত শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করা হয়। এরপর তার শরীর থেকে মাদকের ক্ষতিকর রাসায়নিক অংশগুলো বের করে দেওয়া হয়, এই ধাপটিকে বলা হয় ‘ডিটক্সিফিকেশন’। এ সময় রোগীর পুষ্টি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। মাদকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্বীকৃত ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়মে মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা লাগতে পারে। পরবর্তী ধাপে তাকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদকমুক্ত থাকার প্রেরণা দেওয়া হয়। আবার পরবর্তী সময়ে সে যাতে মাদক গ্রহণ না করে, সেই বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আবার আসক্ত হওয়ার জন্য তার মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ রয়েছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। পরে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়। পুনর্বাসনমূলক কাজ দেওয়া হয়। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে তাকে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা হয়। ধাপগুলো যত সহজে বলা হলো, বাস্তবে এতটা সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে থাকে নানা জটিলতা। আবার পুনরাসক্তির ঝুঁকি তো রয়েছেই। কিন্তু স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন করতে গেলে অবশ্যই মাদকমুক্ত তরুণসমাজ প্রয়োজন। তাই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সমন্বিতভাবে।
স্বাস্থ্য আর মাদক দুটি বিপরীতমুখী শব্দ। স্বাস্থ্যের সর্বজনীন স্বীকৃত সংজ্ঞায় শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার কথা বলা হয়েছে, আর যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের কারণে স্বাস্থ্যের এই তিনটি উপাদানই দারুণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের পরপর, তা আমাদের মস্তিষ্কের ‘পুরস্কারকেন্দ্র’ বা রিওয়ার্ড সেন্টারকে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে একটা সাময়িক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। এই ভালো লাগা থেকেই তৈরি হয় শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতা। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের (রাসায়নিক পদার্থ) তারতম্যের কারণে শরীর চায় বারবার মাদক গ্রহণ করতে; আর মন চায়, একটা ভালো লাগার অনুভূতি পেতে। এ কারণে একজন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে গেলে, সে বারবার মাদক গ্রহণ করতে চায়। এই ভালো লাগার অনুভূতি কিন্তু ক্ষণস্থায়ী এবং কিছুদিন পর মাদক স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে। পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত দেহযন্ত্রের সব অংশকে বিকল করতে থাকে, পাশাপাশি শুরু হয় নানা মানসিক সমস্যা। চিন্তা আর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি যদিও নিরাময়যোগ্য একটি রোগ, তবুও এর প্রতিরোধ করা চিকিৎসা করার চেয়ে সহজ। মাদকের সহজলভ্যতা হ্রাস, চাহিদা হ্রাস এবং মাদক ব্যবহারজনিত ঝুঁকি হ্রাস করে মাদকের অপব্যবহার কমানো যায়। চিকিৎসার বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছেÑ প্রথম পর্যায়ে কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদকাসক্তির ধরন নির্ণয় করে শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করা হয়। এরপর তার মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। ‘উইথড্রয়াল’ সিনড্রম ও মাদকজনিত শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করা হয়। এরপর তার শরীর থেকে মাদকের ক্ষতিকর রাসায়নিক অংশগুলো বের করে দেওয়া হয়, এই ধাপটিকে বলা হয় ‘ডিটক্সিফিকেশন’। এ সময় রোগীর পুষ্টি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। মাদকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্বীকৃত ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়মে মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা লাগতে পারে। পরবর্তী ধাপে তাকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদকমুক্ত থাকার প্রেরণা দেওয়া হয়। আবার পরবর্তী সময়ে সে যাতে মাদক গ্রহণ না করে, সেই বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আবার আসক্ত হওয়ার জন্য তার মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ রয়েছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। পরে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়। পুনর্বাসনমূলক কাজ দেওয়া হয়। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে তাকে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা হয়। ধাপগুলো যত সহজে বলা হলো, বাস্তবে এতটা সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে থাকে নানা জটিলতা। আবার পুনরাসক্তির ঝুঁকি তো রয়েছেই। কিন্তু স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন করতে গেলে অবশ্যই মাদকমুক্ত তরুণসমাজ প্রয়োজন। তাই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সমন্বিতভাবে।
মাদক ও আইন
জনস্বার্থে সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০০৫ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন ফাঁক কাজে লাগিয়ে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারসহ তামাক পন্য ব্যবহারে সকলকে উদ্বুদ্ধ করছে। ফলে আইনের কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আইনের উন্নয়ন হওয়া জরুরী।
প্রত্যাশার সেক্রেটারী জেনারেল বলেন, আইনে তামাকের সংজ্ঞায় শুধুমাত্র ধূমপানের বিষয়টি উল্লেখ থাকায় অন্যান্য তামাক পণ্য জর্দা, গুল, সাদাপাতা, খৈনী, সিগারেট এবং পাইপে ব্যবহার্য মিশ্রণ (মিক্সার) আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। ধূমপানের সমপর্যায়ের ক্ষতিকর হলেও সংজ্ঞায় এ সকল পণ্য সংযুক্ত না থাকায় এ সকল পন্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। নাটাব এর প্রজেক্ট ম্যানেজার এ টি এম খলিল উল্লাহ বলেন আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানমুক্ত। কিন্তু আইনে যান্ত্রিক যানবাহন নিষিদ্ধ হলেও অযান্ত্রিক যান আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তাছাড়া কর্মস্থল, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, রেষ্টুরেন্ট, সেলুনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। এ সকল স্থানগুলোতে ধূমপানের কারণে পরো ধূমপানের স্বীকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। কর্মসূচিতে বক্তারা পরো ধূমপানের ক্ষতি থেকে নারী ও শিশুদের রায় অযান্ত্রিকসহ উক্ত স্থানগুলোকে পাবলিক প্লেসের আওতার নিয়ে আসার দাবী জানান। আইনে তামাকের প্রত্যক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানীগুলো বিভিন্ন সামগ্রীতে নাম ও লোগো ব্যবহার করা এবং উপহার সামগ্রী বিতরণসহ নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে। এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা তরুণ সমাজকেও আকৃষ্ট করছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থসহ দেশের যুবসমাজকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষায় এই আইনের সংশোধন প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে ইয়াবা নামক মাদকের বিস্তার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলায় প্রায় চার হাজার ইয়াবা আসক্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ড্রাগস ইনফরমেশন’ এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- ইয়াবা হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা সেবনের পর যেকোন সময় মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে যেতে পারে। যার ফলে স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং হৃৎপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ বাড়বে, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের আগমন-নির্গমন হওয়ার কারনে ফুসফুস কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে ধীরে ধীরে। আর এসব ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে মৃত্যু অবধারিত।
ইয়াবা এতই ভয়াবহ যে, ইয়াবা থেকে সমাজ রক্ষার জন্য থাইল্যান্ড সরকার সে দেশের গনমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী তিন হাজারেরও বেশী ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবীকে ক্রসফায়ারে দেয়। এ ছাড়া একে সে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে গণ্য করা হয়।
মালোয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের শাসন আমলে মাদক ব্যবসায়ীদের সরাসরি মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো। আমাদের সরকারেরও উচিত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পারলে সরাসরি মৃত্যুদন্ড দেয়া। কেননা তারা পরোক্ষভাবে সমগ্র জাতিকে ধ্বংস করছে।
১৯৯০ সালে আমাদের দেশে “মাদক নিয়ন্ত্রন আইন” করা হলেও এখনো পর্যন্ত তা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। আইনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। পাবলিক প্লেসে ধুমপান নিষিদ্ধ করা হলেও এ আইনের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সাধারণত মাদক দিবসকে কেন্দ্র করে মাদক নিয়ে আমাদের দেশে সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এটিই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও আন্দোলন। এছাড়া মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রনের জন্য উন্মুক্ত সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে।
সম্প্রতি মাদকদ্রব্যের উপর শূল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এর ফলে মাদকদ্রব্যের দাম বাড়বে এবং মাদকের ব্যবহার কমবে। কিন্তু শুধুমাত্র এটিই যথেষ্ট নয় মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য।
জনস্বার্থে সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০০৫ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন ফাঁক কাজে লাগিয়ে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারসহ তামাক পন্য ব্যবহারে সকলকে উদ্বুদ্ধ করছে। ফলে আইনের কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আইনের উন্নয়ন হওয়া জরুরী।
প্রত্যাশার সেক্রেটারী জেনারেল বলেন, আইনে তামাকের সংজ্ঞায় শুধুমাত্র ধূমপানের বিষয়টি উল্লেখ থাকায় অন্যান্য তামাক পণ্য জর্দা, গুল, সাদাপাতা, খৈনী, সিগারেট এবং পাইপে ব্যবহার্য মিশ্রণ (মিক্সার) আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। ধূমপানের সমপর্যায়ের ক্ষতিকর হলেও সংজ্ঞায় এ সকল পণ্য সংযুক্ত না থাকায় এ সকল পন্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। নাটাব এর প্রজেক্ট ম্যানেজার এ টি এম খলিল উল্লাহ বলেন আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানমুক্ত। কিন্তু আইনে যান্ত্রিক যানবাহন নিষিদ্ধ হলেও অযান্ত্রিক যান আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তাছাড়া কর্মস্থল, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, রেষ্টুরেন্ট, সেলুনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। এ সকল স্থানগুলোতে ধূমপানের কারণে পরো ধূমপানের স্বীকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। কর্মসূচিতে বক্তারা পরো ধূমপানের ক্ষতি থেকে নারী ও শিশুদের রায় অযান্ত্রিকসহ উক্ত স্থানগুলোকে পাবলিক প্লেসের আওতার নিয়ে আসার দাবী জানান। আইনে তামাকের প্রত্যক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানীগুলো বিভিন্ন সামগ্রীতে নাম ও লোগো ব্যবহার করা এবং উপহার সামগ্রী বিতরণসহ নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে। এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা তরুণ সমাজকেও আকৃষ্ট করছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থসহ দেশের যুবসমাজকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষায় এই আইনের সংশোধন প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে ইয়াবা নামক মাদকের বিস্তার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলায় প্রায় চার হাজার ইয়াবা আসক্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ড্রাগস ইনফরমেশন’ এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- ইয়াবা হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা সেবনের পর যেকোন সময় মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে যেতে পারে। যার ফলে স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং হৃৎপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ বাড়বে, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের আগমন-নির্গমন হওয়ার কারনে ফুসফুস কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে ধীরে ধীরে। আর এসব ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে মৃত্যু অবধারিত।
ইয়াবা এতই ভয়াবহ যে, ইয়াবা থেকে সমাজ রক্ষার জন্য থাইল্যান্ড সরকার সে দেশের গনমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী তিন হাজারেরও বেশী ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবীকে ক্রসফায়ারে দেয়। এ ছাড়া একে সে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে গণ্য করা হয়।
মালোয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের শাসন আমলে মাদক ব্যবসায়ীদের সরাসরি মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো। আমাদের সরকারেরও উচিত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পারলে সরাসরি মৃত্যুদন্ড দেয়া। কেননা তারা পরোক্ষভাবে সমগ্র জাতিকে ধ্বংস করছে।
১৯৯০ সালে আমাদের দেশে “মাদক নিয়ন্ত্রন আইন” করা হলেও এখনো পর্যন্ত তা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। আইনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। পাবলিক প্লেসে ধুমপান নিষিদ্ধ করা হলেও এ আইনের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সাধারণত মাদক দিবসকে কেন্দ্র করে মাদক নিয়ে আমাদের দেশে সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এটিই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও আন্দোলন। এছাড়া মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রনের জন্য উন্মুক্ত সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে।
সম্প্রতি মাদকদ্রব্যের উপর শূল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এর ফলে মাদকদ্রব্যের দাম বাড়বে এবং মাদকের ব্যবহার কমবে। কিন্তু শুধুমাত্র এটিই যথেষ্ট নয় মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য।
মাদক ও তরুণ সমাজ
বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। যার অধিকাংশই শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। এসব তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশই প্রথমদিকে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ধুমপানে অভ্যস্থ হয়। আর একসময় ঝুঁকে পড়ে মাদকের দিকে। সিগারেট খাওয়া থেকেই যে মাদকাসক্ত হয় এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এক জরিপে দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের ৯৮ শতাংশ ধুমপায়ী অর্থাৎ তারা মাদকাসক্ত হওয়ার আগেই ধুমপান দিয়ে তাদের নেশা শুরু করে। তরুণ ছাত্রদের অনেকে ধুমপানকে তারুণ্যের ফ্যাশন হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু গাড়ির সাইলেন্সর বা ইটের খোলার মত মানুষের মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করা কোন স্টাইল হতে পারেনা। এতে কোন স্মার্টনেসও প্রকাশ পায় না।
অনেকে সিগারেট খেলে কি আর এমন হবে বলে ধুমপানের নেতিবাচক দিকটি এড়িয়ে যেতে চান। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, সিগারেটের নিকোটিনও একটি মাদকদ্রব্য, যা হেরোইন ও কোকেনের মতো নেশাজাতীয় বস্তু । এসব বস্তু যেমন তরুণ-তরুণীদের নেশাগ্রস্থ করে তুলতে পারে তেমনি সিগারেটের নিকোটিন ও তাদের নেশাগ্রস্থ করে তুলতে পারে।
মাদকের অপব্যবহারের বড় শিকার হলো দেশের তরুণসমাজ। বন্ধুদের মাধ্যমেই মাদকের জগতে জড়িয়ে পড়ার সংখ্যা শতকরা ৭৩.৫৩ ভাগ। দিনের পর দিন বেড়েই চলছে এ সংখ্যা। বন্ধুদের পাল্লায়, জ্ঞানের অভাব কিংবা কৌতূলের বশবর্তী হয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তরুণরা, হয়ে উঠছে মাদকাসক্ত।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী কঠোর আইন থাকা স্বত্ত্বেও মাদকনির্ভর লোক ও মাদক পাচারকারীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়লেও সরকারের উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো নয়। আর এ কারণে মাদকের জগতে একের পর এক প্রবেশ করেছে ইয়াবা, সিসা জাতীয় মাদক। ওই গবেষণায় ঢাকা শহরে মাদকাসক্তের উপর করা একটি জরিপের কথা উল্লেখ করা হয়। ৫৬১ জনের উপর পরিচালিত এ জরিপে শতকরা ৫১.৯ ভাগ নেশাকারী নেশার জগতে প্রবেশ করে বন্ধুদের সাথে মিশে। ঢাকাতে পরিচালিত এ গবেষণা তথ্য মতে, ৫৬১ জনের মধ্যে ৪১৬ জন নেশাকারী মাঝে মাঝে নেশাবন্ধ করার চেষ্টায় ক্লিনিকে, কেয়ার পরিচালিত ক্যাম্প, নিরাময় কেন্দ্র বা অন্যান্য উপায়ে চেষ্টা করেছে। এই ৪১৬ জনের মধ্যে আবার ১৪৭ জন আবারও নেশার জগতে ফিরে গেছে, যেখানে নেশার সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল এবং নেশাকারী বন্ধুদের অবস্থান বিদ্যমান ছিল।
একাধিক সূত্র জানায়, মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে হাতের নাগালে চলে আসছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন স্পট থেকে যুবকদের জন্য মাদকদ্রব্য ক্রয় করা সহজ হওয়ার মাদকের প্রতি তাদের আসক্তি বাড়ছে। আর এ কারণেই মাদকের প্রতি বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়ে সে পুরো মাদকাসক্তে পরিণত হয়ে উঠে। আর এ মাদকদ্রব্য ক্রয় করতে প্রয়োজনীয় টাকা যোগাড় করার জন্য চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে মাদকাসক্তরা। গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ সংখ্যা ৮২.৩৫ ভাগ।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বেশির ভাগ মাদকনির্ভর লোকের পছন্দ হেরোইন। এর ধোঁয়া গ্রহণ করে আসক্ত হয়ে পড়ে তারা। এরপর হলো গাঁজা বা ক্যানাবিস। তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের বেশি পছন্দ গাঁজা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও গাঁজা সেবনের অভ্যাস রয়েছে। তরুণ-তরুণীরা, মন ও শরীরে শিথিলতা আনার ইচ্ছায় সিগারেটের মধ্যে গাঁজা ভরে তা সেবন করে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। যার অধিকাংশই শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। এসব তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশই প্রথমদিকে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ধুমপানে অভ্যস্থ হয়। আর একসময় ঝুঁকে পড়ে মাদকের দিকে। সিগারেট খাওয়া থেকেই যে মাদকাসক্ত হয় এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এক জরিপে দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের ৯৮ শতাংশ ধুমপায়ী অর্থাৎ তারা মাদকাসক্ত হওয়ার আগেই ধুমপান দিয়ে তাদের নেশা শুরু করে। তরুণ ছাত্রদের অনেকে ধুমপানকে তারুণ্যের ফ্যাশন হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু গাড়ির সাইলেন্সর বা ইটের খোলার মত মানুষের মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করা কোন স্টাইল হতে পারেনা। এতে কোন স্মার্টনেসও প্রকাশ পায় না।
অনেকে সিগারেট খেলে কি আর এমন হবে বলে ধুমপানের নেতিবাচক দিকটি এড়িয়ে যেতে চান। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, সিগারেটের নিকোটিনও একটি মাদকদ্রব্য, যা হেরোইন ও কোকেনের মতো নেশাজাতীয় বস্তু । এসব বস্তু যেমন তরুণ-তরুণীদের নেশাগ্রস্থ করে তুলতে পারে তেমনি সিগারেটের নিকোটিন ও তাদের নেশাগ্রস্থ করে তুলতে পারে।
মাদকের অপব্যবহারের বড় শিকার হলো দেশের তরুণসমাজ। বন্ধুদের মাধ্যমেই মাদকের জগতে জড়িয়ে পড়ার সংখ্যা শতকরা ৭৩.৫৩ ভাগ। দিনের পর দিন বেড়েই চলছে এ সংখ্যা। বন্ধুদের পাল্লায়, জ্ঞানের অভাব কিংবা কৌতূলের বশবর্তী হয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তরুণরা, হয়ে উঠছে মাদকাসক্ত।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী কঠোর আইন থাকা স্বত্ত্বেও মাদকনির্ভর লোক ও মাদক পাচারকারীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়লেও সরকারের উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো নয়। আর এ কারণে মাদকের জগতে একের পর এক প্রবেশ করেছে ইয়াবা, সিসা জাতীয় মাদক। ওই গবেষণায় ঢাকা শহরে মাদকাসক্তের উপর করা একটি জরিপের কথা উল্লেখ করা হয়। ৫৬১ জনের উপর পরিচালিত এ জরিপে শতকরা ৫১.৯ ভাগ নেশাকারী নেশার জগতে প্রবেশ করে বন্ধুদের সাথে মিশে। ঢাকাতে পরিচালিত এ গবেষণা তথ্য মতে, ৫৬১ জনের মধ্যে ৪১৬ জন নেশাকারী মাঝে মাঝে নেশাবন্ধ করার চেষ্টায় ক্লিনিকে, কেয়ার পরিচালিত ক্যাম্প, নিরাময় কেন্দ্র বা অন্যান্য উপায়ে চেষ্টা করেছে। এই ৪১৬ জনের মধ্যে আবার ১৪৭ জন আবারও নেশার জগতে ফিরে গেছে, যেখানে নেশার সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল এবং নেশাকারী বন্ধুদের অবস্থান বিদ্যমান ছিল।
একাধিক সূত্র জানায়, মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে হাতের নাগালে চলে আসছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন স্পট থেকে যুবকদের জন্য মাদকদ্রব্য ক্রয় করা সহজ হওয়ার মাদকের প্রতি তাদের আসক্তি বাড়ছে। আর এ কারণেই মাদকের প্রতি বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়ে সে পুরো মাদকাসক্তে পরিণত হয়ে উঠে। আর এ মাদকদ্রব্য ক্রয় করতে প্রয়োজনীয় টাকা যোগাড় করার জন্য চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে মাদকাসক্তরা। গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ সংখ্যা ৮২.৩৫ ভাগ।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বেশির ভাগ মাদকনির্ভর লোকের পছন্দ হেরোইন। এর ধোঁয়া গ্রহণ করে আসক্ত হয়ে পড়ে তারা। এরপর হলো গাঁজা বা ক্যানাবিস। তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের বেশি পছন্দ গাঁজা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও গাঁজা সেবনের অভ্যাস রয়েছে। তরুণ-তরুণীরা, মন ও শরীরে শিথিলতা আনার ইচ্ছায় সিগারেটের মধ্যে গাঁজা ভরে তা সেবন করে।
মাদক ও অর্থনীতি
বাংলাদেশে বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা মাদকের বিষাক্ত ছোবলে দিশেহারা। দু’দশক আগেও যেখানে বাংলাদেশের মানুষ হেরোইনের নাম জানতো না। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ নেশাগ্রস্থ দেশের মধ্যে সপ্তম।
মাদকাসক্তরা বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মাদকদ্রব্য কেনার পেছনে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি হয়। অথচ ধুমপান ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য কোন আন্দোলন ও আইনের বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অনেকেই দাবী করছেন সকল ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষের উচিত ধুমপান নিষিদ্ধ করা।
একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মাদক সমস্যা শুধু বর্তমান নয় ভবিষ্যতেরও সমস্যা। কিছু কিছু সমস্যা বর্তমানে সমাধান করলেই হয় না। যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে চলতে একটা সময় জাতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে।
আমাদের দেশে মাদকের সহজলভ্যতা মাদকের বিস্তারের অন্যতম একটি মূল কারন। এদেশে সহজলভ্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে হেরোইন, ইয়াবা, ও ফেনসিডিল অন্যতম। অথচ এর একটিও আমাদের দেশে উৎপাদিত হয়না। মাদক সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য ড্রাগ ট্রাফিকিং বন্ধ করতে হবে। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের প্রধান চোরাই পথ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার। র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীকে এই চোরাই পথে কোন মাদক যেন না আসতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাদকের অপব্যবহার তরুনদের মেধা ও মননকে শেষ করে দেয়, বিনষ্ট করে সুপ্ত প্রতিভা ও সুস্থ চিন্তা। মাদক গ্রহনের ফলে শরীরের স্নায়বিক ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ে। মাদকদ্রব্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করে মস্তিস্ক এবং কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেমন সমাজের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তেমনি একটি পরিবারকেও নিঃস্ব করে ফেলে। কোন মা-বাবাই চাইবে না তাদের আদরের ছেলেটি মাদকাসক্ত হয়ে অকালে শেষ হয়ে যাক এবং পরিবারের জন্য নিয়ে আসুক দুঃসহ যন্ত্রনা।
বাংলাদেশে বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা মাদকের বিষাক্ত ছোবলে দিশেহারা। দু’দশক আগেও যেখানে বাংলাদেশের মানুষ হেরোইনের নাম জানতো না। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ নেশাগ্রস্থ দেশের মধ্যে সপ্তম।
মাদকাসক্তরা বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মাদকদ্রব্য কেনার পেছনে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি হয়। অথচ ধুমপান ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য কোন আন্দোলন ও আইনের বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অনেকেই দাবী করছেন সকল ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষের উচিত ধুমপান নিষিদ্ধ করা।
একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মাদক সমস্যা শুধু বর্তমান নয় ভবিষ্যতেরও সমস্যা। কিছু কিছু সমস্যা বর্তমানে সমাধান করলেই হয় না। যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে চলতে একটা সময় জাতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে।
আমাদের দেশে মাদকের সহজলভ্যতা মাদকের বিস্তারের অন্যতম একটি মূল কারন। এদেশে সহজলভ্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে হেরোইন, ইয়াবা, ও ফেনসিডিল অন্যতম। অথচ এর একটিও আমাদের দেশে উৎপাদিত হয়না। মাদক সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য ড্রাগ ট্রাফিকিং বন্ধ করতে হবে। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের প্রধান চোরাই পথ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার। র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীকে এই চোরাই পথে কোন মাদক যেন না আসতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাদকের অপব্যবহার তরুনদের মেধা ও মননকে শেষ করে দেয়, বিনষ্ট করে সুপ্ত প্রতিভা ও সুস্থ চিন্তা। মাদক গ্রহনের ফলে শরীরের স্নায়বিক ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ে। মাদকদ্রব্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করে মস্তিস্ক এবং কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেমন সমাজের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তেমনি একটি পরিবারকেও নিঃস্ব করে ফেলে। কোন মা-বাবাই চাইবে না তাদের আদরের ছেলেটি মাদকাসক্ত হয়ে অকালে শেষ হয়ে যাক এবং পরিবারের জন্য নিয়ে আসুক দুঃসহ যন্ত্রনা।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক দা’ওয়াতুল হক, চট্টগ্রাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন