শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৫

হায়াতে জিন্দেগী ক্ষয়ে যাওয়া এক বরফখন্ড

কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক :
‘এক ফেরিওয়ালা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল আর খুউবই কাকুতি মিনতির সাথে মানুষকে এই বলে চিৎকার করে আহবান করছিল যে, ভাই আমার পুঁজি গলে শেষ হয়ে আসছে, কেউতো আমার সদাই কিনে আমার উপর একটু রহম করুন! এক ব্যক্তি তা শুনার পর তার মনে কথাটা খুউব দাগ কাটলো! ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে চাইলো ঘটনা কি (?) দেখে যে, ফেরিওয়ালা একটা বরফখন্ড বিক্রি করছে, যা ক্রমাগত গলছে… গলেই চলেছে। বরফের এই গলন, শেষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা, পানি হয়ে যাওয়ার পরিণতি তার মালিককে অস্থির করে তুলেছে।’
এভাবেই তো আমাদের জীবন নামের ‘বরফ’টি গলছে।
এই দুনিয়ার হায়াতের প্রতিটি মুহুর্ত, প্রতিটি শ্বাস অনেক অনেক দামী। কারণ, তা দেয়াই হয়েছে আখিরাতের প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু আজ মারাত্মক অবহেলার কারণে, এ কথা বুঝে না আসার জন্য, এই অমূল্য জীবনটাকে আমরা নষ্ট করছি। হেলায় হারাচ্ছি।
আজ আমরা অধিকাংশ মানুষ জীবনের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য থেকে দূরে বহু দূরে সরে গেছি। তাই আমাদের চিন্তা-ফিকির, কাজকর্ম আর ব্যস্ততা সব হয়ে গেছে দুনিয়াকেন্দ্রিক। দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে, সাথে ঈমান আর আমল ছাড়া কিছুই যাবে না। এই কথাগুলো শুধুই যেন কথা; বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। দুনিয়ায় কি করে আরো একটু আরাম বাড়ানো যাবে, দুনিয়াতে কি করে টাকা-পয়সা, ধন সম্পদ, মান-সম্মান, উচ্চ ডিগ্রী অর্জন আর আমদানী আরো বাড়ানো যায়Ñ এইসব চিন্তা ফিকির আর মেহনত-পরিশ্রম আমাদেরকে আখিরাত সম্পর্কে মহা উদাসীন করে রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে, দুনিয়ার জীবনটাই সবকিছু; এখানেই থাকব, খাব, চলব, ফিরব এখানেই জয়ী হব অথবা হারব, কখনোই আমরা মরব না! বিলাসিতা আর উচ্চাভিলাষ আমাদেরকে কেমন যেন পাগলপাড়া করে ফেলেছে। কি করছি, কি অর্জিত হচ্ছে, কি হারাচ্ছি এর হিসাব দেয়া-নেয়ার কোন চিন্তাই নেই! এরকম এক ঘোরের মধ্যে থাকা অবস্থায় ধেঁয়ে আসছে অবধারিত সেই মৃত্যু, যার সম্পর্কে আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাগিদ দিয়েছেন যেন আমরা সেই স্বাদবিনাশকারী (মৃত্যুকে) বস্তুকে বেশি বেশি স্মরণ করি।
সময়ের গুরুত্ব বিষয়টা আজ আমাদের জীবন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাচ্ছে যে, সময় অপচয় হয়ে গেলে সেটার আফসোস পর্যন্ত হয় না! অথচ মানুষের জীবন কি? কিছু সময়েরই সমষ্টি। সময়গুলিই সেই ‘বস্তা’র মত, যা নেক আমল দ্বারা পূর্ণ করা জরুরী। আর নেক আমল অমূল্য সম্পদ, যা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য মহা উপকারী বস্তু। এর বিপরীত যত কিছু, যত বেহুদা আলাপ-আলোচনা, যত অপ্রয়োজনীয় কাজ, গুনাহ’র কথা তো বলাই বাহুল্য সবই হলো আমাদের অমূল্য হায়াত বিনষ্টকারী, ধ্বংসকারী আর দুনিয়া ও আখিরাত বরবাদ কারী। খুউব গুরুত্বের সাথে এ কথা বুঝা দরকার। জীবন ও সময়ের মূল্য নিয়ে একাকী গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করা দরকার। আপনজনদের সাথে এই কথা গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা দরকার। ভাবা দরকার আমার অবস্থান কোথায়?
আমি ব্যস্ত’, ‘আমার হাতে সময় নাই’, ‘আমি ফ্রি’, ‘আমি একদম ফ্রি’, ‘কিছু করার নাই’, ‘সময় কাটছে না’ এই ধরণের কথা আজ আমরা যত্রতত্র বলে ফেলি। প্রশ্ন হলো: কি নিয়ে ব্যস্ত? কি করার সময় আছে? কি করার সময় নাই? এতো ফ্রি কেন? বাস্তবে সময়গুলি কিভাবে অতিবাহিত হচ্ছে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন