কতক গোনাহ ও পাপ এমন, যার ব্যাপারে মানুষের অভিমত বিভিন্ন রকম হতে পারে। এক ব্যক্তির কাছে তা পাপ, অন্য ব্যক্তি এটাকে দোষের কিছু মনে করে না। কিন্তু ঘুষ এমন পাপ যা পাপ হওয়ার ব্যাপারে পুরো দুনিয়া একমত। কোনো ধর্ম, কোনো গবেষণাকেন্দ্র কিংবা মানুষের কোনো গোষ্ঠী এমন পাওয়া যাবে না, যারা ঘুষকে নিকৃষ্ট পাপ কিংবা অপরাধ মনে করে না। এমনকি যে ব্যক্তি দিনের বেলায় অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষের লেনদেন করে, সেও সন্ধ্যায় কোনো অুনষ্ঠানে সামাজিক ব্যাধির আলোচনা করতে গিয়ে তার মুখ থেকেও সর্বাগ্রে ঘুষের ঊর্ধ্বগতির অভিযোগ উত্থাপিত হবে। এবং এর সমর্থনে সে নিজের বন্ধু-বান্ধবের [নিজের নয়] ঘটনা শুনিয়ে দিবে। শ্রোতারা এসব ঘটনা শুনে হয়তো হাসি মজাক করে কিছু প্রতিবাদী বাক্য বলবে। আর গাম্ভীযপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠান হলে আফসোস ও দুঃখ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু পরবর্তী দিন সকাল থেকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীগণ নিশ্চিন্তমনে ওই কারবারে লিপ্ত হয়ে যাবে। মোটকথা, ঘুষের খারাবির ব্যাপারে পূর্ণ ঐকমত্যের পরও যে এই মানবতাবিধ্বংসী কাজের অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, সে তা পরিত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়। এব্যাপারে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করলে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলে, সারা দুনিয়া যখন ঘুষ নিচ্ছে তো আমরা কী করব? কেমন যেন তার কাছে ঘুষ ছাড়ার শর্ত হচ্ছে প্রথমে পুরো দুনিয়া ঘুষ পরিত্যাগ করবে, তবেই সে ঘুষ ছাড়ার চিন্তা করবে, এর আগে নয়। আর যেহেতু ঘুষ গ্রহণকারীদের কাছে এই একটি বাহানা বিদ্যমান, তাই এই বিধ্বংসী রোগ একটি মহামারীর আকার ধারণ করেছে। তবে পার্থক্য হচ্ছে, যখন কোনো মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তখন কোনো রোগী এই দলিল পেশ করে না যে, যতক্ষণ অন্যান্য সকল রোগী সুস্থ না হবে ততক্ষণ আমিও সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করব না। কিন্তু ঘুষের বেলায় অপ্রত্যাখ্যাত হবে না মনে করে এই দলিল পেশ করা হয়।
বুঝাই যাচ্ছে এটা কোনো দলিল নয়, একটি বাহানা ও উপলক্ষ্য মাত্র। আর কথা শুধু এটাই যে, ঘুষগ্রহীতার নিজ কাজে নগদ আর্থিক উপকার পরিলক্ষিত হয়। তাই মন এই ফায়দা লুটার জন্য হাজারো বাহানা উদ্ভাবন করে নেয়। তাই আসুন দেখি ঘুষ নেওয়ার দ্বারা বাস্তবেই কোনো ফায়দা হয় কি-না?
বাহ্যভাবে ঘুষ নেওয়ার দ্বারা এই প্রকাশ্য ফায়দা দৃষ্টিগোচর হয় যে, কোনো পরিশ্রম ব্যতিরেকে একব্যক্তির আমদানি বাড়ছে। কিন্তু একটু তীক্ষè দৃষ্টিতে দেখলে এই সাময়িক ফায়দার দৃষ্টান্ত হুবহু এরূপ, যেমন এক টাইফেটে আক্রান্ত বাচ্চা তার চটপটি খেলে ভালো লাগে, কিন্তু বাচ্চার মা-বাপ কিংবা চিকিৎসক জানে যে, অল্প সময়ের ফায়দা তাকে শুধু সুস্থ হওয়া থেকেই দূরে সরিয়ে দিবে না, বরং পরিণামে তাকে দীর্ঘদিন যাবত সুস্বাদু খাবারের স্বাদ হতে বঞ্চিত হতে হবে।
এই উদাহরণ কেবল ঘুষের পরকালীন ক্ষতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে না। রবং ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখলে ঘুষের দুনিয়াবি ক্ষতিও তদ্রুপ।
সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে, সমাজে যখন এই লানত ছড়িয়ে পড়ে তো এর অবশ্যম্ভাবী ফল হল, একব্যক্তি নিজে এক জায়গা থেকে ঘুষ নেয়, তাহলে তাকে দশ জায়গায় ঘুষ দিতে হয়। বাহ্যত এটা সম্ভব যে, আজ তার একশত টাকা বেশি হস্তগত হয়েছে, কিন্তু যখন আগামীকাল সে অন্য লোকের কাছে কাজের জন্য যাবে, তখন এই শতটাকা না জানি কত শত টাকা হয়ে তার পকেট থেকে বেরিয়ে যাবে।
তারপর ঘুষের এই নগদ ক্ষতি ও পরিণাম কম কিসে যে, এর কারণে পুরো সমাজ নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা ও অশান্তির নরকের রূপ পরিগ্রহ করে! কেননা, কোনো রাষ্ট্রে তার অধিবাসীদের নিরাপত্তা ও শান্তির সবচেয়ে বড় ধারক ও বাহক হচ্ছে সে রাষ্ট্রের আইন এবং আইনের সংরক্ষণকারী সংস্থা। কিন্তু যেখানে ঘুষের প্রচলন বেশি, সেখানে সর্বোত্তম ও শক্তিশালী আইন-কানুনও অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
আজকে যখন আমরা সামজের নিরাপত্তাহীনতা দূর করার জন্য কোনো আইন প্রণয়নের জন্য বসি, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয় এই আইনকে ঘুষের বিষক্রিয়া থেকে কীভাবে মুক্ত রাখা যায়? চুরি, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ, ব্যভিচার এবং ধোঁকা ও প্রতারণার মতো মানবতাবিধ্বংসী বিপদে আজ প্রতিটি মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু কেউ এটা চিন্তা করে না যে, দিন দিন এই দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ ও রহস্য ওই ঘুষ, যা উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট আইনকেও কয়েকটি নোটের বিনিময়ে তার সমস্ত কার্যকারিতাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। আর এই ঘুষকেই আমরা দৈনন্দিন কাজকর্মের অবিকল্প পদ্ধতি বানিয়ে নিয়েছি!
আমরা যদি কোনো অপরাধী হতে ঘুষ নিয়ে তাকে আইনের পাকড়াও থেকে মুক্ত করে আনি, তাহলে আমরা মূলত অপরাধের গুরুত্ব, আইনের মর্যাদা এবং শাস্তির ভয় অন্তর থেকে দূর করতে সাহায্য করেছি। আর সেই অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছি, যারা আগামী দিন আমাদের ঘরে ডাকাতি করতে আসতে পারে।
একজন সরকারি অফিসার সরকারি ঠিকাদার থেকে ঘুষ নিয়ে তার অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজকে মঞ্জুর করে দেয়; আর ভাবে, আজ অনেক আমদানি হয়েছে। কিন্তু এই চিন্তা করে না যে, যেই অসম্পূর্ণ ব্রিজ টাকা খেয়ে পাশ করে দিয়েছে, আগামীকাল সে নিজে কিংবা তার বাচ্চারা এর নিচে পড়তে পারে। দুই নম্বর মাল দিয়ে নির্মিত যে রাস্তা সে মঞ্জুর করেছে, তা অন্যান্য হাজারো মানুষের পাশাপাশি তার নিজের জীবনেরও আজাব হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে ঘুষের ব্যাপক লেনদেনের কারণে সরকারি ভাণ্ডারকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। এই দায়িত্বভার কোনো প্রশাসকই নিবে না, বরং এর ফলাফল অতিরিক্ত ট্যাক্সের আকার ধারণ করে দেশের বাসিন্দাদেরই টানতে হবে, যাদের মধ্যে আমরা নিজেরাও শামিল আছি। এর দ্বারা দেশে দারিদ্র্য দেখা দিবে, সরকারি রাজস্ব দুর্বল হয়ে পড়বে, দেশের উন্নয়নমূলক কাজ স্থগিত হয়ে যাবে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাবে, আর অন্য জাতি আমাদেরকে তাদের অধীনস্ত মনে করবে।
এগুলো কয়েকটি উড়ন্ত উদাহরণ। কিন্তু আমরা যদি এভাবে আরো বেশি চিন্তা করি, তাহলে অনুমিত হবে যে, ঘুষের লেনদেনের কারণে আমরা দুনিয়াতে স্বতন্ত্রভাবে কোন্ বিদঘুটে মুসিবত ও মারাত্মক ও সঙ্গিন মুশকিলে পড়েছি?
ঘুষের দুনিয়াবি অনিষ্ট ও ভয়াবহতা তো সামষ্টিক ও একেবারে দৃশ্যমান। কিন্তু আরেকটু গভীর দৃষ্টিতে দেখুন, তাহলে বিশেষ করে ঘুষগ্রহীতার ব্যক্তিগত জীবনেও ঘুষের ধ্বংসাত্মক পরিণাম থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। হাদীসের মধ্যে এসেছে : “রাসূল সা. অভিসম্পাত করেছেন ঘুষদাতার ওপর, ঘুষগ্রহীতার ওপর এবং ঘুষের দালালের ওপরও।”[আবু দাউদ, তিরমিযি]
হুযুর সা. শত্রুদের জন্যও কল্যাণের দোয়া করেছেন, তাই তাঁর অভিসম্পাদ করাটা মামুলি ও সহজ ব্যাপার না। এর প্রতিক্রিয়া আখেরাতে প্রকাশ পাবে, তবে দুনিয়াতেও তারা এই অভিসম্পাতের প্রতিক্রিয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারে না। সুতরাং সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে, হকদারদের অন্তরে কষ্ট দিয়ে, গরিবদের অধিকার হরণ করে এবং জাতির নৌকায় ছিদ্র করে যারা ঘুষ নিচ্ছে, বাহ্যত তাদের আমদানি যতই বৃদ্ধি পাক; কিন্তু প্রশান্তি ও আরাম টাকা-পয়সার স্তূপ, আলিশান বাড়ি, দামি গাড়ি এবং রেডিমেট ফার্নিচারের নাম নয়। বরং মনের শান্তি রুহের ওই স্বীকৃতি এবং মনের প্রশান্তির নামÑ যা বাজার থেকে মোটা অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। এটা কেবলই আল্লাহর দীন। আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে এই দৌলত দিয়ে দেন, তো ছেঁড়া-ফাঁড়া ঝুপড়ি, খেজুরের বিছানা এবং শাক-রুটিতেও দিতে পারেন। আর কাউকে না দিলে শানদার বাংলো, গাড়ি এবং ফ্যাক্টরিতেও নসিব হয় না।
যদি এখন আপনার ঘুষের মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত আমদানি হয়ে থাকে, কিন্তু সাথে সাথে আপনার কোনো বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে; তাহলে এই অতিরিক্ত আমদানি আপনাকে শান্তি দিতে পারবে কি? আপনার মাসিক আয় কোথায় থেকে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, কিন্তু এ হিসেবে যদি বাড়িতে ডাক্তার ও ওষুধ আসতে থাকে তাহলে আপনি কী পেলেন? অথবা ধরুন, কেউ ঘুষের টাকা দিয়ে সিন্ধুক ভরে ফেলেছে; কিন্তু সন্তান সন্ত্রাসী হয়ে আপনার জীবনটাকেই নিরানন্দ বানিয়ে দিল, আপনার জামাতা মেয়েকে অশান্তিতে রাখলÑ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো পেরেশানি এসে গেল, তাহলে এসব আমদানি তাকে কোনো শান্তি দিতে পারবে?
ঘটনা হচ্ছে যে, একজন মুসলমান আল্লাহ এবং রাসুলের বিধান পরিত্যাগ করে সম্পদ তো জমা করতে পারবে; কিন্তু এই সম্পদের দ্বারা সুখ-শান্তি ও আরাম হাসিল করা সহজ ব্যাপার না। সাধারণত হারাম পদ্ধতিতে উপার্জিত সম্পদ পেরেশানি এবং মুসিবতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা তাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়।
কুরআনে কারিম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেÑ ‘যে ব্যক্তি এতিমের মাল অন্যায়ভাবে’ ভক্ষণ করে, তাকে এমন মুসিবতের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয় যে, তার কাছে সুস্বাদু থেকে সুস্বাদু খাবারও আগুন মনে হয়। সুতরাং ঘুষখোরদের আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও দৃষ্টিনন্দন জীবনোপকরণ দেখে এই ধোঁকায় নিপতিত হওয়া উচিৎ নয় যে, তারা সুখ-শান্তি হাসিল করেছে। বরং তাদের অভ্যন্তরীণ জীবনে উঁকি দিয়ে দেখলে জানা যাবে, তাদের অধিকাংশ কোনো না কোনো মুসিবতে রয়েছে।
এর উল্টো যারা হারাম থেকে বেঁচে আল্লাহপ্রদত্ত হালাল রিযিকের ওপর তুষ্ট থাকে। প্রাথমিক সময়ে তাদের কিছু মুসিবত ও মুশকিল আসতে পারে, কিন্তু পরিশেষে দুনিয়াতেও সে সুখে-শান্তিতে থাকে। তার অল্প আমদানিতেই অনেক কাজ হয়। তার সময় ও কাজেও বরকত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সে মনের শান্তি এবং চিত্তের প্রশান্তির মতো মহাদৌলত লাভ করতে পারে। ঘুষের পরকালীন ক্ষতি
উপরে ঘুষের যে ক্ষতি বর্ণনা করা হয়েছে, তার অধিকাংশ দুনিয়াবি ক্ষতি ছিল। আর এই ঘুষ নামক লানতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি পরকালের ক্ষতি। দুনিয়াতে হাজারো বিষয়ে মতানৈক্য হতে পারে কিন্তু পৃথিবীর কোনো ধর্ম বা গবেষণাকেন্দ্রের এই বিষয়ে কোনো মতানৈক্য নেই যে, প্রত্যেক মানুষ একদিন না একদিন অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। যদি ধরেও নেওয়া হয় একব্যক্তি ঘুষ নিয়ে কিছুদিন মজা উড়িয়েছে, অবশেষে তার পরিণাম ও পরিণতি রাসূল সা. এর ভাষায় নিম্নরূপ।
‘ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামে যাবে।’
এই দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুষের গোনাহ মদপান এবং ব্যভিচার থেকে মারাত্মক যে, মদপান ও ব্যভিচার থেকে কেউ যদি খাঁটি মনে তাওবা করে, তবে তা তাৎক্ষণিক মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু ঘুষের সম্পর্ক ‘হুকুকুল ইবাদে’র সাথে হওয়ার কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে যদি তার পাওনা পরিশোধ না করা হয়, কিংবা মাফ নেওয়া না হয়, তাহলে সে গোনাহ ক্ষমার কোনো রাস্তাই নেই। সাধারণত মানুষের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে নিজের আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। যদি ওই সময় অস্থায়ী দুনিয়ার লোভে পড়ে আমরা এই গোনাহ করে ফেলি, তাহলে নিশ্চিত থাকুন মৃত্যুর পূর্বে যখন আখেরাতের মনজিল নিকটবর্তী, তখন ওই কর্মকাণ্ড দুনিয়ার সব আরাম-আয়েশ ও শান্তিকে স্বতন্ত্র আজাবে পরিণত করে ছাড়বে। আর এই আজাব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো সুরত থাকবে না।
কতক মানুষ মনে করে, আমি একা ঘুষ পরিত্যাগ করলে এর দ্বারা পুরো সমাজের ওপর কী প্রভাব পড়বে? এটাই শয়তানের ওই ধোঁকা যা সমাজ থেকে এই অভিশাপ দূর করার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। যখন প্রত্যেক ব্যক্তি অন্যের অপেক্ষা করবে তখন সমাজও এই অভিশাপ হতে পবিত্র হবে না। আপনি ঘুষ পরিত্যাগ করে কমপক্ষে নিজের দুনিয়া এবং আখেরাতের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। অতঃপর আপনার জীবন অন্যের জন্য নমুনা ও দৃষ্টান্ত হবে। এটা অসম্ভব কিছু নয় যে, অন্য মানুষজনও এই অভিশাপ থেকে তাওবা করবে। অন্ধকারে একটি চেরাগ জ্বলে উঠলে সেই চেরাগ হতে অন্য চেরাগ জ্বলে ওঠার ধারাবাহিকতা এত দূর পর্যন্ত যেতে পারে যে, এর দ্বারা পুরো যমীন আলোকিত হয়ে যাবে। তারপর যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজের মনে কোনো কামনা পরিত্যাগ করে, তখন আল্লাহ তাআলার সাহায্য তার সঙ্গী হয়। দূর দূর থেকে একটি কাজকে কঠিন মনে না করে কাছে এসে করে দেখুন। আল্লাহর কাছে তা সহজ হওয়ার দোয়া করুন। ইনশাল্লাহ আল্লাহর সাহায্য হবে, অবশ্যই হবে, অবশ্যম্ভাবীরূপে হবে।
আশ্চর্যের কিছু নেই যে, সমাজকে এই অভিশাপ থেকে পবিত্র করার জন্য আল্লাহ তাআলা আপনাকেই নির্বাচিত করেছেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
বুঝাই যাচ্ছে এটা কোনো দলিল নয়, একটি বাহানা ও উপলক্ষ্য মাত্র। আর কথা শুধু এটাই যে, ঘুষগ্রহীতার নিজ কাজে নগদ আর্থিক উপকার পরিলক্ষিত হয়। তাই মন এই ফায়দা লুটার জন্য হাজারো বাহানা উদ্ভাবন করে নেয়। তাই আসুন দেখি ঘুষ নেওয়ার দ্বারা বাস্তবেই কোনো ফায়দা হয় কি-না?
বাহ্যভাবে ঘুষ নেওয়ার দ্বারা এই প্রকাশ্য ফায়দা দৃষ্টিগোচর হয় যে, কোনো পরিশ্রম ব্যতিরেকে একব্যক্তির আমদানি বাড়ছে। কিন্তু একটু তীক্ষè দৃষ্টিতে দেখলে এই সাময়িক ফায়দার দৃষ্টান্ত হুবহু এরূপ, যেমন এক টাইফেটে আক্রান্ত বাচ্চা তার চটপটি খেলে ভালো লাগে, কিন্তু বাচ্চার মা-বাপ কিংবা চিকিৎসক জানে যে, অল্প সময়ের ফায়দা তাকে শুধু সুস্থ হওয়া থেকেই দূরে সরিয়ে দিবে না, বরং পরিণামে তাকে দীর্ঘদিন যাবত সুস্বাদু খাবারের স্বাদ হতে বঞ্চিত হতে হবে।
এই উদাহরণ কেবল ঘুষের পরকালীন ক্ষতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে না। রবং ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখলে ঘুষের দুনিয়াবি ক্ষতিও তদ্রুপ।
সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে, সমাজে যখন এই লানত ছড়িয়ে পড়ে তো এর অবশ্যম্ভাবী ফল হল, একব্যক্তি নিজে এক জায়গা থেকে ঘুষ নেয়, তাহলে তাকে দশ জায়গায় ঘুষ দিতে হয়। বাহ্যত এটা সম্ভব যে, আজ তার একশত টাকা বেশি হস্তগত হয়েছে, কিন্তু যখন আগামীকাল সে অন্য লোকের কাছে কাজের জন্য যাবে, তখন এই শতটাকা না জানি কত শত টাকা হয়ে তার পকেট থেকে বেরিয়ে যাবে।
তারপর ঘুষের এই নগদ ক্ষতি ও পরিণাম কম কিসে যে, এর কারণে পুরো সমাজ নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা ও অশান্তির নরকের রূপ পরিগ্রহ করে! কেননা, কোনো রাষ্ট্রে তার অধিবাসীদের নিরাপত্তা ও শান্তির সবচেয়ে বড় ধারক ও বাহক হচ্ছে সে রাষ্ট্রের আইন এবং আইনের সংরক্ষণকারী সংস্থা। কিন্তু যেখানে ঘুষের প্রচলন বেশি, সেখানে সর্বোত্তম ও শক্তিশালী আইন-কানুনও অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
আজকে যখন আমরা সামজের নিরাপত্তাহীনতা দূর করার জন্য কোনো আইন প্রণয়নের জন্য বসি, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয় এই আইনকে ঘুষের বিষক্রিয়া থেকে কীভাবে মুক্ত রাখা যায়? চুরি, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ, ব্যভিচার এবং ধোঁকা ও প্রতারণার মতো মানবতাবিধ্বংসী বিপদে আজ প্রতিটি মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু কেউ এটা চিন্তা করে না যে, দিন দিন এই দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ ও রহস্য ওই ঘুষ, যা উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট আইনকেও কয়েকটি নোটের বিনিময়ে তার সমস্ত কার্যকারিতাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। আর এই ঘুষকেই আমরা দৈনন্দিন কাজকর্মের অবিকল্প পদ্ধতি বানিয়ে নিয়েছি!
আমরা যদি কোনো অপরাধী হতে ঘুষ নিয়ে তাকে আইনের পাকড়াও থেকে মুক্ত করে আনি, তাহলে আমরা মূলত অপরাধের গুরুত্ব, আইনের মর্যাদা এবং শাস্তির ভয় অন্তর থেকে দূর করতে সাহায্য করেছি। আর সেই অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছি, যারা আগামী দিন আমাদের ঘরে ডাকাতি করতে আসতে পারে।
একজন সরকারি অফিসার সরকারি ঠিকাদার থেকে ঘুষ নিয়ে তার অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজকে মঞ্জুর করে দেয়; আর ভাবে, আজ অনেক আমদানি হয়েছে। কিন্তু এই চিন্তা করে না যে, যেই অসম্পূর্ণ ব্রিজ টাকা খেয়ে পাশ করে দিয়েছে, আগামীকাল সে নিজে কিংবা তার বাচ্চারা এর নিচে পড়তে পারে। দুই নম্বর মাল দিয়ে নির্মিত যে রাস্তা সে মঞ্জুর করেছে, তা অন্যান্য হাজারো মানুষের পাশাপাশি তার নিজের জীবনেরও আজাব হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে ঘুষের ব্যাপক লেনদেনের কারণে সরকারি ভাণ্ডারকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। এই দায়িত্বভার কোনো প্রশাসকই নিবে না, বরং এর ফলাফল অতিরিক্ত ট্যাক্সের আকার ধারণ করে দেশের বাসিন্দাদেরই টানতে হবে, যাদের মধ্যে আমরা নিজেরাও শামিল আছি। এর দ্বারা দেশে দারিদ্র্য দেখা দিবে, সরকারি রাজস্ব দুর্বল হয়ে পড়বে, দেশের উন্নয়নমূলক কাজ স্থগিত হয়ে যাবে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাবে, আর অন্য জাতি আমাদেরকে তাদের অধীনস্ত মনে করবে।
এগুলো কয়েকটি উড়ন্ত উদাহরণ। কিন্তু আমরা যদি এভাবে আরো বেশি চিন্তা করি, তাহলে অনুমিত হবে যে, ঘুষের লেনদেনের কারণে আমরা দুনিয়াতে স্বতন্ত্রভাবে কোন্ বিদঘুটে মুসিবত ও মারাত্মক ও সঙ্গিন মুশকিলে পড়েছি?
ঘুষের দুনিয়াবি অনিষ্ট ও ভয়াবহতা তো সামষ্টিক ও একেবারে দৃশ্যমান। কিন্তু আরেকটু গভীর দৃষ্টিতে দেখুন, তাহলে বিশেষ করে ঘুষগ্রহীতার ব্যক্তিগত জীবনেও ঘুষের ধ্বংসাত্মক পরিণাম থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। হাদীসের মধ্যে এসেছে : “রাসূল সা. অভিসম্পাত করেছেন ঘুষদাতার ওপর, ঘুষগ্রহীতার ওপর এবং ঘুষের দালালের ওপরও।”[আবু দাউদ, তিরমিযি]
হুযুর সা. শত্রুদের জন্যও কল্যাণের দোয়া করেছেন, তাই তাঁর অভিসম্পাদ করাটা মামুলি ও সহজ ব্যাপার না। এর প্রতিক্রিয়া আখেরাতে প্রকাশ পাবে, তবে দুনিয়াতেও তারা এই অভিসম্পাতের প্রতিক্রিয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারে না। সুতরাং সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে, হকদারদের অন্তরে কষ্ট দিয়ে, গরিবদের অধিকার হরণ করে এবং জাতির নৌকায় ছিদ্র করে যারা ঘুষ নিচ্ছে, বাহ্যত তাদের আমদানি যতই বৃদ্ধি পাক; কিন্তু প্রশান্তি ও আরাম টাকা-পয়সার স্তূপ, আলিশান বাড়ি, দামি গাড়ি এবং রেডিমেট ফার্নিচারের নাম নয়। বরং মনের শান্তি রুহের ওই স্বীকৃতি এবং মনের প্রশান্তির নামÑ যা বাজার থেকে মোটা অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। এটা কেবলই আল্লাহর দীন। আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে এই দৌলত দিয়ে দেন, তো ছেঁড়া-ফাঁড়া ঝুপড়ি, খেজুরের বিছানা এবং শাক-রুটিতেও দিতে পারেন। আর কাউকে না দিলে শানদার বাংলো, গাড়ি এবং ফ্যাক্টরিতেও নসিব হয় না।
যদি এখন আপনার ঘুষের মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত আমদানি হয়ে থাকে, কিন্তু সাথে সাথে আপনার কোনো বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে; তাহলে এই অতিরিক্ত আমদানি আপনাকে শান্তি দিতে পারবে কি? আপনার মাসিক আয় কোথায় থেকে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, কিন্তু এ হিসেবে যদি বাড়িতে ডাক্তার ও ওষুধ আসতে থাকে তাহলে আপনি কী পেলেন? অথবা ধরুন, কেউ ঘুষের টাকা দিয়ে সিন্ধুক ভরে ফেলেছে; কিন্তু সন্তান সন্ত্রাসী হয়ে আপনার জীবনটাকেই নিরানন্দ বানিয়ে দিল, আপনার জামাতা মেয়েকে অশান্তিতে রাখলÑ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো পেরেশানি এসে গেল, তাহলে এসব আমদানি তাকে কোনো শান্তি দিতে পারবে?
ঘটনা হচ্ছে যে, একজন মুসলমান আল্লাহ এবং রাসুলের বিধান পরিত্যাগ করে সম্পদ তো জমা করতে পারবে; কিন্তু এই সম্পদের দ্বারা সুখ-শান্তি ও আরাম হাসিল করা সহজ ব্যাপার না। সাধারণত হারাম পদ্ধতিতে উপার্জিত সম্পদ পেরেশানি এবং মুসিবতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা তাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়।
কুরআনে কারিম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেÑ ‘যে ব্যক্তি এতিমের মাল অন্যায়ভাবে’ ভক্ষণ করে, তাকে এমন মুসিবতের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয় যে, তার কাছে সুস্বাদু থেকে সুস্বাদু খাবারও আগুন মনে হয়। সুতরাং ঘুষখোরদের আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও দৃষ্টিনন্দন জীবনোপকরণ দেখে এই ধোঁকায় নিপতিত হওয়া উচিৎ নয় যে, তারা সুখ-শান্তি হাসিল করেছে। বরং তাদের অভ্যন্তরীণ জীবনে উঁকি দিয়ে দেখলে জানা যাবে, তাদের অধিকাংশ কোনো না কোনো মুসিবতে রয়েছে।
এর উল্টো যারা হারাম থেকে বেঁচে আল্লাহপ্রদত্ত হালাল রিযিকের ওপর তুষ্ট থাকে। প্রাথমিক সময়ে তাদের কিছু মুসিবত ও মুশকিল আসতে পারে, কিন্তু পরিশেষে দুনিয়াতেও সে সুখে-শান্তিতে থাকে। তার অল্প আমদানিতেই অনেক কাজ হয়। তার সময় ও কাজেও বরকত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সে মনের শান্তি এবং চিত্তের প্রশান্তির মতো মহাদৌলত লাভ করতে পারে। ঘুষের পরকালীন ক্ষতি
উপরে ঘুষের যে ক্ষতি বর্ণনা করা হয়েছে, তার অধিকাংশ দুনিয়াবি ক্ষতি ছিল। আর এই ঘুষ নামক লানতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি পরকালের ক্ষতি। দুনিয়াতে হাজারো বিষয়ে মতানৈক্য হতে পারে কিন্তু পৃথিবীর কোনো ধর্ম বা গবেষণাকেন্দ্রের এই বিষয়ে কোনো মতানৈক্য নেই যে, প্রত্যেক মানুষ একদিন না একদিন অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। যদি ধরেও নেওয়া হয় একব্যক্তি ঘুষ নিয়ে কিছুদিন মজা উড়িয়েছে, অবশেষে তার পরিণাম ও পরিণতি রাসূল সা. এর ভাষায় নিম্নরূপ।
‘ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামে যাবে।’
এই দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুষের গোনাহ মদপান এবং ব্যভিচার থেকে মারাত্মক যে, মদপান ও ব্যভিচার থেকে কেউ যদি খাঁটি মনে তাওবা করে, তবে তা তাৎক্ষণিক মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু ঘুষের সম্পর্ক ‘হুকুকুল ইবাদে’র সাথে হওয়ার কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে যদি তার পাওনা পরিশোধ না করা হয়, কিংবা মাফ নেওয়া না হয়, তাহলে সে গোনাহ ক্ষমার কোনো রাস্তাই নেই। সাধারণত মানুষের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে নিজের আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। যদি ওই সময় অস্থায়ী দুনিয়ার লোভে পড়ে আমরা এই গোনাহ করে ফেলি, তাহলে নিশ্চিত থাকুন মৃত্যুর পূর্বে যখন আখেরাতের মনজিল নিকটবর্তী, তখন ওই কর্মকাণ্ড দুনিয়ার সব আরাম-আয়েশ ও শান্তিকে স্বতন্ত্র আজাবে পরিণত করে ছাড়বে। আর এই আজাব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো সুরত থাকবে না।
কতক মানুষ মনে করে, আমি একা ঘুষ পরিত্যাগ করলে এর দ্বারা পুরো সমাজের ওপর কী প্রভাব পড়বে? এটাই শয়তানের ওই ধোঁকা যা সমাজ থেকে এই অভিশাপ দূর করার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। যখন প্রত্যেক ব্যক্তি অন্যের অপেক্ষা করবে তখন সমাজও এই অভিশাপ হতে পবিত্র হবে না। আপনি ঘুষ পরিত্যাগ করে কমপক্ষে নিজের দুনিয়া এবং আখেরাতের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। অতঃপর আপনার জীবন অন্যের জন্য নমুনা ও দৃষ্টান্ত হবে। এটা অসম্ভব কিছু নয় যে, অন্য মানুষজনও এই অভিশাপ থেকে তাওবা করবে। অন্ধকারে একটি চেরাগ জ্বলে উঠলে সেই চেরাগ হতে অন্য চেরাগ জ্বলে ওঠার ধারাবাহিকতা এত দূর পর্যন্ত যেতে পারে যে, এর দ্বারা পুরো যমীন আলোকিত হয়ে যাবে। তারপর যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজের মনে কোনো কামনা পরিত্যাগ করে, তখন আল্লাহ তাআলার সাহায্য তার সঙ্গী হয়। দূর দূর থেকে একটি কাজকে কঠিন মনে না করে কাছে এসে করে দেখুন। আল্লাহর কাছে তা সহজ হওয়ার দোয়া করুন। ইনশাল্লাহ আল্লাহর সাহায্য হবে, অবশ্যই হবে, অবশ্যম্ভাবীরূপে হবে।
আশ্চর্যের কিছু নেই যে, সমাজকে এই অভিশাপ থেকে পবিত্র করার জন্য আল্লাহ তাআলা আপনাকেই নির্বাচিত করেছেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
মূল নিবন্ধ : আল্লামা তাকি উসমানি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন