রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

কালেমায়ে ত্বায়্যেবাহ’র ভেতর ধুম্রজাল সৃষ্টিকারী ভ্রষ্ট আহলে হাদিসের চ্যলেঞ্জের জবাব

শীয়া মতাবলম্বী আব্দুল হক্ব বেনারসি প্রতিষ্ঠিত আহলে হাদিস দলটির একটি ভ্রান্ত আকিদা ও আমাদের জবাব।
জেনে রাখতে হবে যে, কথিত আহলে হাদিস দলের ইতিহাস ১৮১৮ সালের পরের ইতিহাস। ইতিপূর্বে এদের কোনো অস্তিত্বই ছিলনা। ১৮১৮ সালে এসে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে বর্তমান “আহলে হাদিস” নামটি তারা বরাদ্দ করে নেয়। একনিষ্ঠ শীয়া মতাবলম্বী আব্দুল হক বেনারসি [ মৃত ১২৭৫ হিজরী] ছিলেন উক্ত দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বোচ্চ ইমাম (!)।
মূলকথায় চলে এলাম :
কালেমায়ে ত্বায়্যেবাহ’র প্রথমাংশের সাথে শেষাংশ সংযুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করল নাদান ও পলাতক কথিত আহলে হাদিস দলের শায়খবৃন্দ! তাদের মতে কালেমায়ে ত্বায়্যেবাহ’র প্রথমাংশের সাথে শেষাংশ সংযুক্তিকরণ নাকি শিরিক! (নাউযুবিল্লাহ) আমাদের তরফ থেকে তাদের এসব অজ্ঞতাপূর্ণ প্রচারণার দাঁতভাঙ্গা জবাব নিম্নরূপ —
সহিহ মুসলিম শরীফে “কালিমা তায়্যিবাহ” দ্বারা একটি বাব বা অধ্যায় দাঁড় করা হয়েছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে সহিহ মুসলিম শরিফ হতে উক্ত অধ্যায়টি “কিতাবুল ঈমান” [ঈমান পর্ব] শীর্ষক পাতায় দেখে নিন! এটি ইসলামিয়া কুতুব খানা ঢাকা, বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত আরবী ছাপার ৩৭নং পৃষ্ঠার ৬নং অধ্যায়যুক্ত ৩২ নং হাদীস।
বাংলা দেখতে চাইলে দেখুন: বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত মুসলিম শরীফের বাংলা অনুবাদের প্রথম খন্ডের ১০৯ নং পৃষ্ঠার ৯নং অধ্যায় ।
এবার দেখা যাক সেই অধ্যায় খানার শিরোনাম।
(১)
সহিহ মুসলিম শরিফ হতে “কিতাবুল ঈমান” [ঈমান পর্ব] শীর্ষক পাতায় উক্ত অধ্যায়টি হল:
ﺑﺎﺏ ﺍﻻﻣﺮ ﺑﻘﺘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺣﺘﻰ ﻳﻘﻮﻟﻮﺍ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
অর্থাৎ লোকদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ। যে পর্যন্ত না তারা ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে।”
দেখলেন তো মুসলিম শরীফেও শিরিক (?)
(২)
আরশের খুটিতে লেখা আছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
দলিল স্বরূপ হাদিসটি পড়ুন! হাদীস নং- 1
ﺭﻭﻯ ﺳﻴﺪﻧﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ ( ﻟﻤﺎ ﺍﻗﺘﺮﻑ ﺁﺩﻡ ﺍﻟﺨﻄﻴﺌﺔ ﻗﺎﻝ: ﻳﺎ ﺭﺏ ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﺤﻖ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﻻ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻲ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﻛﻴﻒ ﻋﺮﻓﺖ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻭﻟﻢ ﺃﺧﻠﻘﻪ؟ ﻗﺎﻝ: ﻳﺎ ﺭﺏ ﺇﻧﻚ ﻟﻤﺎ ﺧﻠﻘﺘﻨﻲ ﺭﻓﻌﺖ ﺭﺃﺳﻲ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﻋﻠﻲ ﻗﻮﺍﺋﻢ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻌﻠﻤﺖ ﺃﻧﻚ ﻟﻢ ﺗﻀﻒ ﺇﻟﻰ ﺍﺳﻤﻚ ﺇﻻ ﺃﺣﺐ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺇﻟﻴﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺻﺪﻗﺖ ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻪ ﻷﺣﺐ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺇﻟﻰ ﻭﺇﺫ ﺳﺄﻟﺘﻨﻲ ﺑﺤﻘﻪ ﻓﻘﺪ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻭﻟﻮ ﻻ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺘﻚ
অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন আদম আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি মুহাম্মাদের ওয়াসীলা নিয়ে তোমার দরবারে ফরিয়াদ করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও।
অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি মুহাম্মাদকে কীভাবে চিনলে, এখনো তো আমি তাঁকে সৃষ্টি করিনি?
তিনি বললেন, হে আল্লাহ, তুমি যখন আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়েছিলাম। তখন দেখতে পেয়েছিলাম, আরশের খুটিগুলোর উপর লেখা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সমগ্র সৃষ্টির মধ্য সবচেয়ে প্রিয় না হলে তুমি তাঁর নাম তোমার নামের সাথে মিলাতে না। অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি ঠিকই বলেছ। নিশ্চয়ই সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। আর যেহেতু তুমি তাঁর ওয়াসীলা নিয়ে আমার নিকট দোয়া করেছ, তাই তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর(জেনে রাখ) মুহাম্মাদ যদি না হত, তাহলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।
রেফারেন্সঃ দালাইলুন নবুওয়ত লিল বাইহাকী ৫/৪৮৯, আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম-২/৬১৫, আল মু’জামুল আওসাত লিত তাবারানী- ৬৪৯৮ ।
(৩)
“মুসতাদরিক আ’লাস সহীহাঈন” কিতাবের ইবারত (সনদ সহ) ও সরাসরি লিংক দেখুন—
ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ4159 : (ﺣﺪﻳﺚ ﻗﺪﺳﻲ) ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﻋَﻤْﺮُﻭ ﺑْﻦُ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻣَﻨْﺼُﻮﺭٍ ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ ﺑْﻦِ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺍﻟْﺤَﻨْﻈَﻠِﻲُّ ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ﺍﻟْﻔِﻬْﺮِﻱُّ ، ﺛﻨﺎ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞُ ﺑْﻦُ ﻣَﺴْﻠَﻤَﺔَ ، ﺃَﻧْﺒَﺄَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦُ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ، ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ، ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺁﻟِﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ” ﻟَﻤَّﺎ ﺍﻗْﺘَﺮَﻑَ ﺁﺩَﻡُ ﺍﻟْﺨَﻄِﻴﺌَﺔَ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ، ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺑِﺤَﻖِّ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻟَﻤَﺎ ﻏَﻔَﺮْﺕَ ﻟِﻲ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ : ﻳَﺎ ﺁﺩَﻡُ ، ﻭَﻛَﻴْﻒَ ﻋَﺮَﻓْﺖَ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﺧْﻠُﻘْﻪُ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ، ﻷَﻧَّﻚَ ﻟَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﺑِﻴَﺪِﻙَ ﻭَﻧَﻔَﺨْﺖَ ﻓِﻲَّ ﻣِﻦْ ﺭُﻭﺣِﻚَ ﺭَﻓَﻌْﺖُ ﺭَﺃْﺳِﻲ ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﻋَﻠَﻰَ ﻗَﻮَﺍﺋِﻢِ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻣَﻜْﺘُﻮﺑًﺎ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻓَﻌَﻠِﻤْﺖُ ﺃَﻧَّﻚَ ﻟَﻢْ ﺗُﻀِﻒْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﺳْﻤِﻚَ ﺇِﻻ ﺃَﺣَﺐَّ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ : ﺻَﺪَﻗْﺖَ ﻳَﺎ ﺁﺩَﻡُ ، ﺇِﻧَّﻪُ ﻷُﺣِﺐُّ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺇِﻟَﻲَّ ﺍﺩْﻋُﻨِﻲ ﺑِﺤَﻘِّﻪِ ، ﻓَﻘَﺪْ ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟَﻚَ ﻭَﻟَﻮْﻻ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘْﺘُﻚَ ” , ﻫَﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺻَﺤِﻴﺢُ ﺍﻹِﺳْﻨَﺎﺩِ ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻭَّﻝُ ﺣَﺪِﻳﺚٍ ﺫَﻛَﺮْﺗُﻪُ ﻟِﻌَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ
এবার “মুসতাদরিক আ’লাস সহীহাঈন” কিতাবের সরাসরি লিংক দেখুন—
যে সকল হাদিস বিশারদ ও মুহাক্কিক হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, তাদের বক্তব্য —
১-ইমাম হাকিম বলেছেন হাদিসটি সহীহ। [সূত্র—আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম-২/৬১৫]
২- ইমাম তকি উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদিসটি হাসান। [সূত্র— শিফাউস সিকাম -১২০]
৩- ইমাম তকী উদ্দীন দামেশকী বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ। [সূত্র— দাফয়ুশ শুবুহাহ ১/৭২]
৪-ইমাম কস্তল্লানী বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ। [সূত্র— মাওয়াহিবুল লাদুনিয়াহ ১/১৬]
৫- ইমাম সামহুদী বলেন, হাদিসটি সহীহ। [সূত্র— ওয়াফাউল ওয়াফা ২/৪১৯]
৬- ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী বলেন, বিভিন্ন সনদে বর্ণিত এ হাদিসটি বিশুদ্ধ। [সূত্র— আল খাসাইসুল কোবরা ১/৮]
৭- ইবনু তাইমিয়্যাহ এ হাদীসটি দলীল হিসাবে তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। [সূত্র— মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯]
সুতরাং প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের এসব মন্তব্যের পর নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হাদিসটি সহীহ। আর তাই প্রমাণ হল যে, কালেমায়ে ত্বায়্যেবাহ’র প্রথমাংশের সাথে শেষাংশ সংযুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জকারিরা ভ্রান্ত এবং মূর্খ।
প্রিন্সিপাল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন