রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

আল্লাহ তায়ালা সবখানে বিরাজমান ও বিদয়াতিদের একটি অপযুক্তি খণ্ডন

আল্লাহ তায়ালা সবখানে বিরাজমান ও বিদয়াতিদের একটি অপযুক্তি খণ্ডন :
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
রেজভিদের একটি হাস্যকর আক্বিদা হল, ব্যবহারিক অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে হাজির নাজির (সমগ্র সৃষ্টি জগতজুড়ে একই সময়ে এবং একই মুহূর্তে বিরাজমান) হলেন নবী এবং আওলিয়াগণ। আল্লাহ তায়ালা তিনি নাকি হাজির নাজির নন! (মা’আজাল্লাহ) ।
তার মানে ওরা আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির মানে না, অথচ আল্লাহ তায়ালার মাখলূক মহানবী (সা) সহ নবী রাসূল এবং ওলীগণকে হাজির নাজির মনে করে আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতায় ! কত্ত বড় বেয়াদব!!
মজার ব্যাপার হল, যখন তাদের বলা হয় যে, তোমরা তো আল্লাহ তায়ালার জন্য হাজির নাজিরী ক্ষমতা অস্বীকার কর, তাহলে গায়রুল্লাহ’র ক্ষেত্রে সেটিকে “আল্লাহ প্রদত্ত” বলার যুক্তিকতা কী? তখন রেজভিদের লম্বা জিহ্বা পুরো দমে খামোশ হয়ে যায়।
তারা যুক্তি দেখায়, আল্লাহ তায়ালা স্থান এবং সময় থেকে পবিত্র। তিনি স্থানের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। সেহেতু আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির মনে করা হলে তাঁকে বাথরুম বা পতিতালয়েও হাজির থাকার দাবি করা হবে, যা বদ-দ্বীনি।”
~
আমাদের জবাব:
১-
আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে বাথরুম বা সকল নোংরা স্থানেও হাজির থাকার মতবাদটি উঠে আসার খোঁড়া যুক্তিতে তাঁকে হাজির নাজির মনে করা যদি শুদ্ধ না হয়, তাহলে সে একই যুক্তিতে বিশ্বনবী সহ সকল নবী রাসূল এবং আওলিয়াদের হাজির নাজির মনে করা আপনাদের জন্য শুদ্ধ হয় কিভাবে? নাকি নিজেদের বেলায় এসব যুক্তি মগজে লোড় নেয় না!!
~
২-
আমরাও বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তায়ালা তিনি নিরাকার। তিনি স্থান এবং সময় থেকে পবিত্র। তিনি স্থানের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। আর সেই থীওরি থেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা হল, সমগ্র সৃষ্টি জগত জুড়ে একই সময়ে এবং একই মুহূর্তে
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কেউ হাজির নাজির নন। কারণ এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্যময় গুণ, যা এমন কোনো সত্তার জন্য উপযোগী নয় যে সত্তা দেহ হতে পবিত্র নয়।
৩-
আল্লাহ তায়ালা কি সকল বাথরুম বা সকল নোংরা স্থানেও হাজির? (নাউজুবিল্লাহ)। এ উদ্ভট যুক্তি যারা দেয় সেই আহমকদের জিজ্ঞেস করুন, তার কলবে দু’একটি কুরাআনের আয়াত কি সংরক্ষিত নেই? যদি বলে আছে। তাহলে তাকে বলুন, তার মানে হল, সীনায় কুরআনে কারীম বিদ্যমান আছে। কারণ সেই বস্তুই তো সংরক্ষিত থাকবে, যেটি বিদ্যমান থাকার যোগ্য। অবিদ্যমান বস্তুর সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তো সীনায় যদি কুরআন বিদ্যমান থাকে, সেটি নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কিভাবে জায়েজ হবে? কুরআন নিয়ে তো টয়লেটে যাওয়া জায়েজ নয়!
তখন ওদের আকল থাকলে বলবে, কুরআন বিদ্যমান, তবে কিন্তু সেটি দেহ থেকে পবিত্র।
তেমনি আমরাও বলি, আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান। কারণ তিনি দেহ থেকে পবিত্র। সেই হিসেবে শুধুমাত্র তিনিই সর্বত্র বিরাজমান, অন্য কোনো সৃষ্টি কিছুতেই হাজির নাজির বা সর্বত্র বিরাজমান নয়। কারণ এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্যময় গুণ, যা এমন কোনো সত্তার জন্য উপযোগী নয়, যে সত্তা দেহ হতে পবিত্র নয়।
সুতরাং সীনায় সংরক্ষিত কুরআনের দেহ না থাকার কারণে কুরআন যেমন সীনায় থাকা সত্বেও টয়লেটে যেতে কোন সমস্যা নেই, তাতে কুরআনে কারীমের বেইজ্জতী হয়না; তেমনি আল্লাহ তায়ালা দেহ থেকে পবিত্র হওয়ার কারণে তাঁর শানে অপবিত্র স্থানে বিদ্যমান থাকাটাও বেইজ্জতীর কোনো বিষয় নয়।
কেউ জানতে চেয়ে প্রশ্ন করল, আল্লাহ তায়ালা যদি হাজির নাজির হন তাহলে তিনি শবে ক্বদরের রজনীতে আরশ থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসেন কেন? হাজির নাজিরের কি আসা-যাওয়া আছে……..?।
আমার জবাব, হ্যাঁ হাজির নাজিরের জন্য আসা-যাওয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে আমরাও একমত। কিন্তু আপনার এ যুক্তি আল্লাহ তায়ালার শানে লোড় নেয়, অথচ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট নবী ওলীদের বেলায় যখন হাজির নাজিরী আক্বিদা প্রচার করেন তখন কেন আপনার ওই যুক্তিটা মগজে লোড় নেয় না? বাড্ড তাজ্জব ক্যা বাত!!
~
আল্লাহ তায়ালা তিনি শবে ক্বদরের রজনীতে আরশ থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসেন—এরকম কোনো আক্বিদা কি কোনো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশেষজ্ঞ থেকে প্রমাণিত আছে? নাকি উক্ত হাদিসে “প্রথম আসমানে নেমে আসা” শীর্ষক বক্তব্যটি ব্যাখ্যাসংবলিত?
~
আল্লাহ তায়ালা তিনি আরশ থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসবেন কেন? তিনি কি স্থানের প্রতি মুখোপেক্ষি? তিনি কি আরশে সীমাবদ্ধ? অথচ ইসলামী আক্বিদা হল, কোনো সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর আসার ধারণা করা শিরক। যেটাকে হুলুল বলা হয়।
~
عقائد الاسلام (আকাইদুল ইসলাম) কিতাবের লেখক যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা শাহ আব্দুল হক দেহলভী (রহঃ) এর লেখা থেকে জেনে নিই।
তিনি “আকাইদুল ইসলাম” কিতাবের ৩২ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন : ”আল্লাহ তায়ালার অবস্থানের জন্য কোনো অবস্থানের প্রয়োজন নেই। কেননা শরীর ও দেহ বিশিষ্ট বস্তুর জন্য স্থানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা দেহ বা শরীর থেকে পবিত্র। আল্লাহ তায়ালা আসমানেও থাকেন না, জমিনেও থাকেন না; পূর্বেও থাকেন না, পশ্চিমেও থাকেন না। বরং সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার তুলনায় অণু সদৃশ্যও না।”
~
কাজেই যে মহান সত্তা দেহ এবং মকান (স্থান) থেকে পবিত্র তাঁর জন্য কোনো স্থানের প্রয়োজন নেই। অতএব তিনি আসমানেও আসেন না, জমিনেও থাকেন না; পূর্বেও থাকেন না, পশ্চিমেও থাকেন না। বরং তিনি সর্বত্র বিরাজমান এবং সমস্ত সৃষ্টি তাঁর তুলনায় অণু সদৃশ্যও না।”

যাইহোক, এবার আপনি তো আপনার কথিত সুন্নী (রেজাখাঁনী) আকিদা থেকেও সরে গেলেন!! অথচ ইতিপূর্বে এসব যুক্তি দিয়েই আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির মানার আকিদাকে বদ দ্বীনি বলে আখ্যা দিয়েছেন, তাই নয়
কি?
~
অথচ তার জবাব হল, ” আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তায়ালার “রহমত” তাঁর বান্দাদের অতি নিকটবর্তী। কারণ, হাদিসটি يد الله فوق ايديهم (তোমাদের হাতের উপর আল্লাহ তায়ালার হাত রয়েছে) শীর্ষক আয়াতের মত মুতাশাবিহ বা দ্ব্যর্থবোধক একটি হাদিস। ফলে তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
আর তিনি শুধু আরশেই সীমাবদ্ধ আছেন এ আক্বিদা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিরুদ্ধ আকিদা। বরং তিনি সবখানে আছেন। যদিও এর আরেক অর্থ তাঁর এলম সবখানে বিদ্যমান।
আশাকরি, এবার আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
ধন্যবাদ।
লেখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন