স্বাধারণ ভাবে আহলে হাদিস এবং রেজভী দলকে বাতিল ফেরকা হিসেবে চেনার উপায়!!
.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনের ইতিহাস সবার জানা। সেই ১৭৫৭ ইং থেকে ১৯৪৭ ইং পর্যন্ত এদেশ ছিল বৃটিশের কব্জায় । “ভাগ করো আর শাসন করো” নীতি মেনেই তারা দীর্ঘ ১৯০ বছর সময় পর্যন্ত এদেশ শাসনের নামে শোষণ করে যায়। তাদের সেই অশুভ নীতির বলি হই আমরা মুসলিম সমাজ। তারা মুসলিমের ভেতর আভ্যন্তরিণ কোন্দল বাধিয়ে ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে নানা ভাগে ভাগ করার ভয়ংকর খেলায় নেমেছিল। কাদিয়ানী ফেতনা, বেরেলবী (রেজভী) ফেতনা আর লা-মাযহাবী (আহলে হাদিস / ওহাবী) ফেতনা ইত্যাদি সেসব অশুভ ও ভয়ংকর খেলারই ফসল। উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজ আজো কাটিয়ে উঠতে পারছেনা সেই বৃটিশ সৃষ্ট প্রেতাত্মাগুলোর গোঁজামিল থেকে।
.
সম্মানিত সচেতন পাঠকমণ্ডলী! আমি একদিন নিজে নিজে খুব চিন্তাজগতে হারিয়ে গেলাম। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম, ইসলামের নামে এ উপমহাদেশীয় দুটি ফেরকা তথা আহলে হাদিস (ওহাবী) এবং বেরেলবী (রেজভী/ভান্ডারি সুন্নী) এদের অশুভ পদচারণা বর্তমানে খুব বেড়ে গেছে। কিন্তু তাদের উভয়ের দাবি অনুযায়ী উভয় ফেরকাই হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমরা যারা তাদের উক্ত দাবি ভুল মনে করি, নিজেদের বিশুদ্ধ ভাবি; তাদের অবস্থান কতটুকু পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ? নাকি সরিষায় ভূত! !
.
যাইহোক, ভাবতে ভাবতে পেছনে ফিরে গেলাম। হাতে তুলে নিলাম “মুন্সি গোলাম মুর্তজা রচিত “চেপে রাখা ইতিহাস” বইটি। আগে আগে যদিও পড়েছিলাম, কিন্তু এবার আবার বেশি করে তথ্য ঘেটে দেখতে মন চাচ্ছিল।
.
প্রবাদ আছে : “ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা।” সেহিসেবে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম, বেশকিছু অপ্রিয় তথ্যও আবিষ্কার করলাম। যার সারসংক্ষেপ হল,
.
ইয়ামানী যাহিদিয়া শীয়া মতাবলম্বী আব্দুল হক বেনারসি প্রবর্তিত কথিত আহলে হাদিস (ওহাবী)’র মতবাদটি সম্পূর্ণ একটি নতুন দল এবং প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা মীমাংসিত মাসআলায় পুণ:রায় হস্তক্ষেপ করাই এদের মিশন। উদাহরণ স্বরূপ, তারাবী সালাত প্রাচীন কাল থেকে বিশ (২০) রাকাতই চলে আসছিল। পবিত্র হেরেম শরিফ এবং মসজিদুন নাবাবীতেও পূর্ব থেকেই বর্তমান পর্যন্ত বিশ রাকাতই চালু রয়েছে। কিন্তু বাধ সাধল ভ্রষ্ট আহলে হাদিস ফেরকাটি। তারা বিশ রাকাত বাদ দিয়ে চালু করল আট রাকাত।
.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনের ইতিহাস সবার জানা। সেই ১৭৫৭ ইং থেকে ১৯৪৭ ইং পর্যন্ত এদেশ ছিল বৃটিশের কব্জায় । “ভাগ করো আর শাসন করো” নীতি মেনেই তারা দীর্ঘ ১৯০ বছর সময় পর্যন্ত এদেশ শাসনের নামে শোষণ করে যায়। তাদের সেই অশুভ নীতির বলি হই আমরা মুসলিম সমাজ। তারা মুসলিমের ভেতর আভ্যন্তরিণ কোন্দল বাধিয়ে ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে নানা ভাগে ভাগ করার ভয়ংকর খেলায় নেমেছিল। কাদিয়ানী ফেতনা, বেরেলবী (রেজভী) ফেতনা আর লা-মাযহাবী (আহলে হাদিস / ওহাবী) ফেতনা ইত্যাদি সেসব অশুভ ও ভয়ংকর খেলারই ফসল। উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজ আজো কাটিয়ে উঠতে পারছেনা সেই বৃটিশ সৃষ্ট প্রেতাত্মাগুলোর গোঁজামিল থেকে।
.
সম্মানিত সচেতন পাঠকমণ্ডলী! আমি একদিন নিজে নিজে খুব চিন্তাজগতে হারিয়ে গেলাম। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম, ইসলামের নামে এ উপমহাদেশীয় দুটি ফেরকা তথা আহলে হাদিস (ওহাবী) এবং বেরেলবী (রেজভী/ভান্ডারি সুন্নী) এদের অশুভ পদচারণা বর্তমানে খুব বেড়ে গেছে। কিন্তু তাদের উভয়ের দাবি অনুযায়ী উভয় ফেরকাই হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমরা যারা তাদের উক্ত দাবি ভুল মনে করি, নিজেদের বিশুদ্ধ ভাবি; তাদের অবস্থান কতটুকু পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ? নাকি সরিষায় ভূত! !
.
যাইহোক, ভাবতে ভাবতে পেছনে ফিরে গেলাম। হাতে তুলে নিলাম “মুন্সি গোলাম মুর্তজা রচিত “চেপে রাখা ইতিহাস” বইটি। আগে আগে যদিও পড়েছিলাম, কিন্তু এবার আবার বেশি করে তথ্য ঘেটে দেখতে মন চাচ্ছিল।
.
প্রবাদ আছে : “ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা।” সেহিসেবে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম, বেশকিছু অপ্রিয় তথ্যও আবিষ্কার করলাম। যার সারসংক্ষেপ হল,
.
ইয়ামানী যাহিদিয়া শীয়া মতাবলম্বী আব্দুল হক বেনারসি প্রবর্তিত কথিত আহলে হাদিস (ওহাবী)’র মতবাদটি সম্পূর্ণ একটি নতুন দল এবং প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা মীমাংসিত মাসআলায় পুণ:রায় হস্তক্ষেপ করাই এদের মিশন। উদাহরণ স্বরূপ, তারাবী সালাত প্রাচীন কাল থেকে বিশ (২০) রাকাতই চলে আসছিল। পবিত্র হেরেম শরিফ এবং মসজিদুন নাবাবীতেও পূর্ব থেকেই বর্তমান পর্যন্ত বিশ রাকাতই চালু রয়েছে। কিন্তু বাধ সাধল ভ্রষ্ট আহলে হাদিস ফেরকাটি। তারা বিশ রাকাত বাদ দিয়ে চালু করল আট রাকাত।
ইতিহাস আমাদের বলছে, এ উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনের পূর্বে “আহলে হাদিস” নামধারি কোনো দল যেমন ছিলনা, তেমনি তারাবী সালাত বিশ রাকাত বাদ দিয়ে আট রাকাত পড়ার নতুন নিয়মটিরও কোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়না।
.
তারপর বাকি থাকল, আহমদ রেজাখাঁ বেরলবী (মৃত ১৯২১ ইং) প্রবর্তিত রেজভী দল। যে দলের মতাবলম্বীদের রেজভী /রযবী/রেজাখানী বলে। আমাদের আহলে হক্বের ভাষায় “ভান্ডারি সুন্নী এবং মাজারপূজারি” বলে। তাদের আক্বিদা গুলো নিয়ে ভেবে চিন্তে যা পেলাম তা হল, তাদের বিশ্বাস অনুসারে “রাসূলেপাক (সা) আমাদের মতো মানুষ নন। তিনি নূরের সৃষ্টি। তিনি হাজির এবং নাজিরের ক্ষমতার অধিকারী। তিনি গায়েব জানেন। তাঁর শরীর মুবারকের ছায়া ছিলনা। তাঁর জন্মদিন পালন এবং জন্মদিবসে আনন্দ-মিছিল করা সুন্নত এবং আশেকে রাসূল ও নবীপ্রেমিক হওয়ার আলামত।” (নাউযুবিল্লাহ)।
.
কিন্তু আমি ইতিহাসে ফিরে গেলাম। তন্নতন্ন করে এসবের কোনো অস্তিত্ব ইতিপূর্বে ছিল কিনা তা আবিষ্কার করতে লাগলাম। কিন্তু না, ইতিহাস আমাকে পথভ্রষ্ট করল না। ইতিহাস আমাকে সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে বুঝিয়ে দিল যে, প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালনের নতুন এ সিষ্টেম বিগত ৬০৪ হিজরীর পূর্বে ছিলনা। মিলাদুন্নবীর মজলিসে কিয়াম প্রথার নতুন এ প্রচলনও গত ৭০০ হিজরীর আগে দুনিয়ার কোথাও ছিলনা।
.
খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রায় ৫৭৪ বছর পর, সাহাবাদের যুগের প্রায় ৪৯৪ বছর পর, তাবেঈনদের যুগের ৪৩৪ বছর পর, তাবে তাবেঈনদের যুগের ৩৮৪ বছর পর, ইমামে আযম আবু হানিফা রহঃ এর যুগের ৪৫৪ বছর পর, ইমাম শাফেয়ীর যুগের ৪০০ বছর পর, ইমাম মালেক এর যুগের ৪৩৫ বছর পর, ইমাম আহমদ এর যুগের ৩৬৩ বছর পর, ইমাম বুখারীর যুগের ৩৪৮ বছর পর, ইমাম মুসলিম এর ৩৪৩ বছর পর, ইমাম আবু দাউদ এর ৩২৯ বছর পর, ইমাম নাসায়ী এর ৩০১ বছর পর, ইমাম তিরমিযী এর ৩২৫ বছর পর, ইমাম ইবনে মাজা এর ২৯৫ বছর পর ৬০৪ হিজরী মুতাবিক ১২০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলিত মিলাদুন্নবী উদযাপন করার প্রথাটির আবিস্কার হয়।
.
আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) লিখেছেন :
.
তারপর বাকি থাকল, আহমদ রেজাখাঁ বেরলবী (মৃত ১৯২১ ইং) প্রবর্তিত রেজভী দল। যে দলের মতাবলম্বীদের রেজভী /রযবী/রেজাখানী বলে। আমাদের আহলে হক্বের ভাষায় “ভান্ডারি সুন্নী এবং মাজারপূজারি” বলে। তাদের আক্বিদা গুলো নিয়ে ভেবে চিন্তে যা পেলাম তা হল, তাদের বিশ্বাস অনুসারে “রাসূলেপাক (সা) আমাদের মতো মানুষ নন। তিনি নূরের সৃষ্টি। তিনি হাজির এবং নাজিরের ক্ষমতার অধিকারী। তিনি গায়েব জানেন। তাঁর শরীর মুবারকের ছায়া ছিলনা। তাঁর জন্মদিন পালন এবং জন্মদিবসে আনন্দ-মিছিল করা সুন্নত এবং আশেকে রাসূল ও নবীপ্রেমিক হওয়ার আলামত।” (নাউযুবিল্লাহ)।
.
কিন্তু আমি ইতিহাসে ফিরে গেলাম। তন্নতন্ন করে এসবের কোনো অস্তিত্ব ইতিপূর্বে ছিল কিনা তা আবিষ্কার করতে লাগলাম। কিন্তু না, ইতিহাস আমাকে পথভ্রষ্ট করল না। ইতিহাস আমাকে সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে বুঝিয়ে দিল যে, প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালনের নতুন এ সিষ্টেম বিগত ৬০৪ হিজরীর পূর্বে ছিলনা। মিলাদুন্নবীর মজলিসে কিয়াম প্রথার নতুন এ প্রচলনও গত ৭০০ হিজরীর আগে দুনিয়ার কোথাও ছিলনা।
.
খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রায় ৫৭৪ বছর পর, সাহাবাদের যুগের প্রায় ৪৯৪ বছর পর, তাবেঈনদের যুগের ৪৩৪ বছর পর, তাবে তাবেঈনদের যুগের ৩৮৪ বছর পর, ইমামে আযম আবু হানিফা রহঃ এর যুগের ৪৫৪ বছর পর, ইমাম শাফেয়ীর যুগের ৪০০ বছর পর, ইমাম মালেক এর যুগের ৪৩৫ বছর পর, ইমাম আহমদ এর যুগের ৩৬৩ বছর পর, ইমাম বুখারীর যুগের ৩৪৮ বছর পর, ইমাম মুসলিম এর ৩৪৩ বছর পর, ইমাম আবু দাউদ এর ৩২৯ বছর পর, ইমাম নাসায়ী এর ৩০১ বছর পর, ইমাম তিরমিযী এর ৩২৫ বছর পর, ইমাম ইবনে মাজা এর ২৯৫ বছর পর ৬০৪ হিজরী মুতাবিক ১২০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলিত মিলাদুন্নবী উদযাপন করার প্রথাটির আবিস্কার হয়।
.
আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) লিখেছেন :
ﻗﺎﻝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﺴﻴﻮﻃﻲ ﺭﺡ ﺍﻭﻝ ﻣﻦ ﺍﺣﺪﺙ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺍﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺯﻳﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺍﺣﺪ ﻣﻠﻮﻙ ﺍﻻﻣﺠﺎﺩ .
.
অর্থাৎ সর্বপ্রথম এ মিলাদী আমলের মনগড়া প্রচলন করেন ইবনে মুজাফফর আবু সাঈদ বিন যাইনুদ্দীন বিন আলী। যিনি একজন বড় বাদশাহ ছিলেন।” (সুয়ুতি রচিত ‘আমালুল মাওলিদ’)।
.
তারপর আরো অবগত হলাম যে, হাজির নাজির, এলমে গায়েব আর নবীজির ছায়া মোবারক অস্বীকার করা সহ সমুদয় ধৃষ্টতা রেজভীগুরু আহমদ রেজাখানের জন্মের (১৮৫৬ ইং) আগে কোথাও কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের বয়ান বা লিখনী থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়না।
.
তবে রেজভিদের কেউ কেউ প্রমাণ থাকার দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে তাদের সেই দাবি সঠিক নয়। জনৈক ভান্ডারি সুন্নি ভাই এ নিয়ে আমার সাথে যখন তর্কে লিপ্ত হল, তখন আমি তার নিকট তার দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট মুহাক্কিক আলেমদের মূল কিতাব থেকে সরাসরি মূল ইবারত (উদ্ধৃতি) চেয়ে ছিলাম। কিন্তু সে যে গায়েব হয়ে গেল, তাকে আর কক্ষনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
.
পরিশেষে আমি বুঝলাম যে, মূলত ভ্রষ্ট আহলে হাদিস এবং মুর্তাদ কাদিয়ানী ও বিদয়াতি রেজভী ফেরকাগুলোর উৎপত্তির পেছনে রয়েছে একটি করুণ ইতিহাস, উপমহাদেশী মুসলিম সমাজের জন্য হৃদয়বিদারক একটি অধ্যায়। যার নেপথ্য ছিল, মুসলিম একতায় ফাটল ধরিয়ে দেয়া এবং ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
.
সম্প্রতি তাদের একটি ফেরকা সহিহ হাদিসের চটকদার মোড়কে স্বাধারণ মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করছে, অপর বিদয়াতি ফেরকাটি তথাকথিত এশকে রাসূলের মোড়কে অজ্ঞ মানুষদের গোমরাহ বানিয়ে ছাড়ছে। সুস্থ্যমস্তিষ্কের বিচারে বুঝলাম যে, যাদের আক্বিদা ও আমলের কোনো দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে তথা বৃটিশ শাসনের আগে ছিলনা, কিন্তু বর্তমানে মানুষকে তা গ্রহণ করতে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে ; সেগুলো মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র আর একশত ভাগ মধুর বোতলে বিষ গলদকরণ করানো ছাড়া আর কিছু না।
.
আমি এ মানদণ্ড ব্যাবহার করে স্বাধারণ ভাবে উক্ত দুটি ফেরকা সম্পর্কে বুঝতে পারলাম যে, অপ্রিয় হলেও সত্য কথা, সেগুলো বৃটিশেরই সৃষ্ট। আমাদের মুসলিম সমাজকে সমূলে নাস্তানাবুদ করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র।
এককথায় আমাদের সবাইকে আরো বুঝে নিতে হবে যে, আহলে হাদিস আর মাজারপূজারি, পীরপূজারী রেজভীরা হচ্ছে “মাকাল” ফল। যা বাহিরে খুব চকচক করলেও ভেতরটি ভারি মন্দ। আল্লাহ তায়ালার হাজারো শুকরিয়া যে, এভাবে আমি এখানো পর্যন্ত হলফ করে বলতে পারি যে, আমি একজন একনিষ্ঠ মুকাল্লিদ এবং হানাফি মাযহাবের মতানুসারে দ্বীন পালনকারী মুসলিম হতে পেরে গর্বিত। আমি মোটেও বিচলিত নই, বরং অবিচল। আল্লাহ তায়ালা আমাকে মুমিনদের পথ অনুসরণ করার তাওফিক দিয়েছেন। আমীন।
.
লেখক, প্রিন্সিপাল।
.
অর্থাৎ সর্বপ্রথম এ মিলাদী আমলের মনগড়া প্রচলন করেন ইবনে মুজাফফর আবু সাঈদ বিন যাইনুদ্দীন বিন আলী। যিনি একজন বড় বাদশাহ ছিলেন।” (সুয়ুতি রচিত ‘আমালুল মাওলিদ’)।
.
তারপর আরো অবগত হলাম যে, হাজির নাজির, এলমে গায়েব আর নবীজির ছায়া মোবারক অস্বীকার করা সহ সমুদয় ধৃষ্টতা রেজভীগুরু আহমদ রেজাখানের জন্মের (১৮৫৬ ইং) আগে কোথাও কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের বয়ান বা লিখনী থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়না।
.
তবে রেজভিদের কেউ কেউ প্রমাণ থাকার দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে তাদের সেই দাবি সঠিক নয়। জনৈক ভান্ডারি সুন্নি ভাই এ নিয়ে আমার সাথে যখন তর্কে লিপ্ত হল, তখন আমি তার নিকট তার দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট মুহাক্কিক আলেমদের মূল কিতাব থেকে সরাসরি মূল ইবারত (উদ্ধৃতি) চেয়ে ছিলাম। কিন্তু সে যে গায়েব হয়ে গেল, তাকে আর কক্ষনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
.
পরিশেষে আমি বুঝলাম যে, মূলত ভ্রষ্ট আহলে হাদিস এবং মুর্তাদ কাদিয়ানী ও বিদয়াতি রেজভী ফেরকাগুলোর উৎপত্তির পেছনে রয়েছে একটি করুণ ইতিহাস, উপমহাদেশী মুসলিম সমাজের জন্য হৃদয়বিদারক একটি অধ্যায়। যার নেপথ্য ছিল, মুসলিম একতায় ফাটল ধরিয়ে দেয়া এবং ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
.
সম্প্রতি তাদের একটি ফেরকা সহিহ হাদিসের চটকদার মোড়কে স্বাধারণ মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করছে, অপর বিদয়াতি ফেরকাটি তথাকথিত এশকে রাসূলের মোড়কে অজ্ঞ মানুষদের গোমরাহ বানিয়ে ছাড়ছে। সুস্থ্যমস্তিষ্কের বিচারে বুঝলাম যে, যাদের আক্বিদা ও আমলের কোনো দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে তথা বৃটিশ শাসনের আগে ছিলনা, কিন্তু বর্তমানে মানুষকে তা গ্রহণ করতে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে ; সেগুলো মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র আর একশত ভাগ মধুর বোতলে বিষ গলদকরণ করানো ছাড়া আর কিছু না।
.
আমি এ মানদণ্ড ব্যাবহার করে স্বাধারণ ভাবে উক্ত দুটি ফেরকা সম্পর্কে বুঝতে পারলাম যে, অপ্রিয় হলেও সত্য কথা, সেগুলো বৃটিশেরই সৃষ্ট। আমাদের মুসলিম সমাজকে সমূলে নাস্তানাবুদ করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র।
এককথায় আমাদের সবাইকে আরো বুঝে নিতে হবে যে, আহলে হাদিস আর মাজারপূজারি, পীরপূজারী রেজভীরা হচ্ছে “মাকাল” ফল। যা বাহিরে খুব চকচক করলেও ভেতরটি ভারি মন্দ। আল্লাহ তায়ালার হাজারো শুকরিয়া যে, এভাবে আমি এখানো পর্যন্ত হলফ করে বলতে পারি যে, আমি একজন একনিষ্ঠ মুকাল্লিদ এবং হানাফি মাযহাবের মতানুসারে দ্বীন পালনকারী মুসলিম হতে পেরে গর্বিত। আমি মোটেও বিচলিত নই, বরং অবিচল। আল্লাহ তায়ালা আমাকে মুমিনদের পথ অনুসরণ করার তাওফিক দিয়েছেন। আমীন।
.
লেখক, প্রিন্সিপাল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন