শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫

ইমাম গাযালী রহ.এর ইখলাস, হযরত আবুবকর রা.এর অমূল্য উপদেশ, বড় পাচঁ কাজ করলে আল্লাহর ওলী হওয়া যায়।

হযরত ইমাম গাযালী রহ. এর বাল্যকালের ঘটনা। তখন তিনি মাদরাসা নিযামিয়ার ছাত্র। একদিন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাদরাসা পরিদর্শনের জন্য যান এবং প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে নিজ নিজ পড়াশুনার উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করেন । সকল ছাত্রগন প্রত্যেকের  উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলে দিলো, কেউ কেউ বলল, আমার পিতা একজন কাজী, তাই আমিও কাজী হবো। কেউ বললো আমি একজন বড় অফিসার হবো। আবার কেউ বললো আমার পিতা মুফতি/মুহাদ্দিস তাই আমারও একজন মুফতী/মুহাদ্দিস হতে হবে। সকল ছাত্রদের এই  উদ্দেশ্য শুনার পর প্রতিষ্ঠাতা সাহেব আক্ষেপের সাথে এই চিন্তা করলেন যে, আর এ মাদরাসা এখানে রাখবো না, ভেঙ্গে ফেলবো। কিন্তু বাদশা লক্ষ্য করলো ঘরের এক পাশে একটি ছেলে মনোযোগ সহকারে কিতাব পড়ছে। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ভাবলো  সর্বশেষ এই ছেলেটার উদ্দেশ্যটা একটু শুনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বাবা তুমি কি উদ্দেশে লেখাপড়া করছো? বালকটি উত্তরে বলে দিলো আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা-পড়া করতেছি। ছোট্ট এই ছেলেটির উওর শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলো মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সাহেব। তিনি বললেন আজ তোমার অসিলায় এই মাদরাসাকে ঠিক রাখলাম ,না হয় আমার নিয়্যত ছিল ভিন্ন।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ: রাসূল সা. বলেছেন, সকল কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ছোট্ট ঐ ছেলেটিই ছিলো ইমাম গাযালী রহ.। আর তার ইখলাছসহ নিয়তই তাকে এত উঁচু বানিয়েছে। আজ ও যদি কোন মানুষ তার ইখলাছ রেযায়ে মাওলার জন্য হয়, তাহলে এখনো ইমাম গাযালী রহ. এর মতো ছেলে জন্ম নিবে। আল্লাহ আমাদের কে সকল কাজ ইখলাছের সাথে করার তাওফিক দান করুক।
পাঠিয়েছে: নূর মুহাম্মদ মুল্লা: জামিয়া মুহাম্মদিয়া ইসলামিয়া, বনানী, ঢাকা।

হাদীসের গল্প….
হযরত আবুবকর রা.এর অমূল্য উপদেশ
হযরত আবু বকর রা. একদা ভাষণ দানকালে বলেন, সুন্দর-সুদর্শন চেহারাবানরা আজ কোথায়? নিজের যৌবনের উপর যাদের গর্ব ছিল ? কোথায় আজ সে সকল বাদশা, যারা বড় বড় শহর জয় করে ছিল এবং প্রাচীর দ্বারা তাদের বিজিত অঞ্চল সংরক্ষণ করেছিল? কোথায় আজ যারা যুদ্বের ময়দান কাঁপিয়ে ফিরত যাদের পথভারে রনাঙ্গন প্রকম্পিত থাকতো ? যুগের ঘূর্ণিপাকে তাদের আজ কোন অস্তিত্ব নেই। মাটির সাথে মিশে গেছে । সবকিছু ফেলে অবশেষে গহিন অন্ধকার কবরে তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে। অতএব, জলদি কর। দ্রুত গুছিয়ে নাও পরকালিন মুক্তির পাথেয়। দুনিয়া থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নাও এখনি।
চার বস্তু দুর্ভাগ্যের লক্ষণ
হযরত মালেক বিন দীনার রহ. হযরত হাসান বসরী রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, চার বস্তু দুর্ভাগ্যের কারণ। ১. অন্তর কঠিন হওয়া ২.চোখ পাথর হওয়া । অথাৎ চোখ হতে অশ্র বাহির না হওয়া। ৩. দুনিয়ায় বড় বড় আশা রাখা। ৪.দুনিয়ার প্রতি মায়া ও লোভ অন্তরে পোষণ করা।
বড় পাচঁ কাজ করলে আল্লাহর ওলী হওয়া যায়।
(১)    আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত অবলম্বন করা।
(২)    সকল প্রকার জাহেরী-বাতেনী (প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য) গুনাহ্ থেকে বেচেঁ থাকা।
(৩)    সকল প্রকার গুনাহর উপকরণ থেকে দূরে থাকা।
(৪) কোন হক্কানী আলেমের পরামর্শে প্রতিদিন কিছু সময় মাওলা পাকের যিকির করা।
(৫)    সকল কাজ সুন্নাত মোতাবেক পরিচালনা করা।
পাঠিয়েছে : মুহাঃ আতিকুর রহমান, জামিয়া মুহাম্মাদিয়া, বনানী, ঢাকা।
স্মরণ শক্তি কমে যাওয়ার কিছু কারণ
                                   -হাফেজ মোঃ এমদাদুল্লাহ
১.গোনাহ করা ২. অধিক হাসা ৩.ইস্তিন্জার জায়গায় অযু করা ৪.লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো ৫.ময়লা আবর্জনার দিকে তাকানো ৬.কু-চিন্তা করা ৭.পাগড়ী বা সেলোওয়ার মাথার নিচে দিয়ে ঘুমানো ৮. মসজিদের ভিতরে কাপড় ঝাড়া ৯. অযথা রাগ করা ১০. ফলদার গাছের নিচে পেশাব করা ১১. আবদ্ব বা বিশুদ্ব পানিতে পেশাব করা ১২. ভাঙ্গা চিরুনী দিয়ে মাথা আচড়ানো ১২. টক জাতীয় কোন কিছু খাওয়া ১৩. উকুঁন ধরার পর না মেরে ছেড়ে দেওয়া ১৪. কাপড়ের আচঁল দিয়ে হাত মুখ মোছা ১৫. পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ না বলা ১৬. ইদুঁরের উচ্ছিষ্ট খাওয়া ১৭. দাড়িঁয়ে কোন কিছু আহার করা ১৮. ঘাড়ের চূল কামানো ১৯. দাঁিড়য়ে পেশাব করা ২০. আসর এবং মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে ঘুমানো ২১. কবরের শিলা লিপি পাঠ করা বা তা দেখা ২২. কাপড় দিয়ে ঘর ঝাড়া ২৩. নাপাক অবস্থায় আহার করা ২৪. মাছ, দুধ, শুকনা গোশত অতিরিক্ত খাওয়া ২৫. নিজের বা অপরের পায়খানার দিকে তাকানো ২৬. বেগানা মহিলার দিকে তাকানো ২৭. অপ্রয়োজনীয় কথা বলা ২৮. হস্তমৈথুন করা ২৯. রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা ৩০. কবরস্থানে বসে হাসা ৩১. স্ত্রী লোকের লজ্জাস্থান দেখা ৩২. টিভি-সিনেমা দেখা ৩৩. তেতুঁল খাওয়া ও তেতুঁল গাছের নিচ দিয়ে যাওয়া ৩৪. আঙ্গুল দিয়ে খেলা করা ৩৫. কানে ইয়ার ফোন ব্যবহার করা । (অভিজ্ঞতা থেকে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন