ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর আক্বিদা বিশ্বনবী (সা)-এর শরীর মুবারকের সৃষ্টিমূল উপাদান নূর নয়, বরং মদিনা শরিফের পবিত্রতম মৃত্তিকা :
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
প্রিয়পাঠক, আহলে বিদয়াত রেজভিরা হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর নামে একটি কিতাব প্রচার করে চলেছে। কিতাবটির নাম “দাকায়েকুল আখবার”। আহলে বিদয়াত রেজভিরা ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর নামে প্রচার করছে যে, উনি নাকি উক্ত কিতাবটির শুরুতে — “সর্বপ্রথম নবীজির নূর মুবারক সৃষ্টি করা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন!” আর এ কারণে উনি নাকি বুঝাতে চেয়েছেন যে, বিশ্বনবী (সা)-এর শরীর মুবারক নূরের সৃষ্ট, মৃত্তিকার সৃষ্ট নয়। (নাউযুবিল্লাহ) । কিন্তু অবাক হবার কথা হল, সেখানে এরকম কোনো কথারই উল্লেখ নেই। বরং মাওলানা বজলুর রহমান অনূদিত ও আলিফ পাবলিকেশন্স হতে (প্রথম প্রকাশ মে ২০০৫ ইং) মুদ্রিত কিতাবটির ৫-৬ দুই পৃষ্ঠাব্যাপী উক্ত বিষয়টি “রাসূল (সঃ) এর সৃষ্টি রহস্য” শীর্ষক শিরোনামে আলোচিত হয়েছে। সেই ৫ নং পাতার শুরুতেই সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে “আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম শাজারাতুল ইয়াকীন নামে চার কাণ্ড বিশিষ্ট একটি বৃক্ষ সৃষ্টি করেন। তারপর (কথিত) নূরে মুহাম্মদিকে মুয়ূরের আকৃতিতে শুভ্রমুক্তার আবরণের মধ্যে সৃষ্টি করে উক্ত বৃক্ষের উপর রেখে দেন।”
উপরের বক্তব্য দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, শাজারাতুল ইয়াকীন নামে চার কাণ্ড বিশিষ্ট বৃক্ষটি সর্বপ্রথম সৃষ্ট। অথচ রেজভিদের আকিদা এর বিপরীত। এমতাবস্থায় “দাকায়েকুল আখবার” পুস্তকের উক্ত বক্তব্যের মুকাবিলায় ভান্ডারি-সুন্নী রেজভিদের বক্তব্য কেমন হবে, তা কি একটু জানতে পারি?
যাইহোক, মূলত এটি ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর সহস্তে লেখিত মূল আরবি কিতাবের প্রকৃত বাংলা সংস্করণ কিনা অথবা বর্তমানে বাজারে প্রচারিত “দাকায়েকুল আখবার” নামের বাংলা সংস্করণের সাথে ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এসবের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না।
মজার ব্যাপার হল, বর্তমানে বাজারে প্রচারিত “দাকায়েকুল আখবার” নামের বাংলা সংস্করণের সূচনাতে ভুমিকা স্বরূপ এসব নিয়ে কোনো কথারই উল্লেখ নেই। কাজেই বর্তমানে বাজারে প্রচারিত “দাকায়েকুল আখবার” নামের বাংলা সংস্করণের প্রতি ইমাম গাজ্জালী (রহ)-এর নেসবত পুরোপুরিভাবে ভুল এবং মিথ্যা।
ইমাম গাযযালী (রহ) রচিত উল্লেখযোগ্য আরেকটি কিতাবের বাংলা সংস্করণ হল “মরণের আগে ও পরে” । কিতাবটি মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক অনূদিত। তার সূচনাতে ভুমিকা স্বরূপ কিতাবটির স্বচ্ছতার উপর অনেক কথারই উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইমাম গাযযালী (রহ) সেখানে মুসলিম বিশ্বের আক্বিদা হিসেবে বায়হাক্বী শরিফের “ফী শু’আবিল ঈমান” শীর্ষক অংশ হতে এবং হাকিম তিরমিযি (রহ) -এর নাওয়াদিরুল ঊসূল কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি মারফূ ও সহিহ হাদিস এনেছেন।
হাদিসটি রেওয়ায়েত করেছেন হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রহ)। হাদিসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল— “মানুষ যে স্থানের মাটি হতে সৃষ্ট, মৃত্যুর পর সে স্থানেই তাকে দাফন করা হয়।”
মূল-আলোচনা:
↓
হাদিসে রয়েছে : আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর শরীর মুবারকের অন্যতম সৃষ্টি-মূল-উপাদান নূর নয়, বরং মদিনায়ে মুনাওয়ারার যে পবিত্র স্থানে তিনি (নবীজি) শায়িত আছেন সেখানকার সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাটিই হল হযরতের (সা) শরীর মুবারকের অন্যতম সৃষ্টি-মূল-উপাদান । আল্লাহু আকবার।
↓
হাদিসে রয়েছে : আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর শরীর মুবারকের অন্যতম সৃষ্টি-মূল-উপাদান নূর নয়, বরং মদিনায়ে মুনাওয়ারার যে পবিত্র স্থানে তিনি (নবীজি) শায়িত আছেন সেখানকার সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাটিই হল হযরতের (সা) শরীর মুবারকের অন্যতম সৃষ্টি-মূল-উপাদান । আল্লাহু আকবার।
হাদিসটির অন্যতম একটি শাহেদ বা সমর্থন পাওয়া যায়—হযরত ইমাম গাযযালী (রহ) রচিত ও মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক অনূদিত “মরণের আগে ও পরে” নামক কিতাবের মধ্যে। কিতাবটির দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬৮-৬৯ নং পৃষ্ঠায় “মানুষ সৃষ্ট স্থানেই তাকে দাফন করা হয়” শীর্ষক শিরোনামের উক্ত পৃষ্ঠায় ইমাম গাযযালী (রহ) বেশ কিছু হাদিস একত্র করেছেন। অতপর তিনি মুসলিম বিশ্বের আক্বিদা হিসেবে বায়হাক্বী শরিফের “ফী শু’আবিল ঈমান” শীর্ষক অংশ হতে এবং হাকিম তিরমিযি (রহ) -এর নাওয়াদিরুল ঊসূল কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি মারফূ ও সহিহ হাদিস এনেছেন।
হাদিসটি রেওয়ায়েত করেছেন হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রহ)। হাদিসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল— মানুষ যে স্থানের মাটি হতে সৃষ্ট, মৃত্যুর পর সে স্থানেই তাকে দাফন করা হয়।”
উক্ত রেওয়ায়েতটির সনদ বা মর্মার্থের উপর ইমাম গাযযালী (রহ)-এর নেতিবাচক কোনো মন্তব্য যেমন পাওয়া যায়না, তেমনি তার আলোচানাটিও সুস্পষ্ট ও প্রামাণ্য তথ্য-ভিত্তিক। কেননা উনার আলোচিত উপরুল্লিখিত রেওয়ায়েতটির পক্ষে সনদ যুক্ত অসংখ্য হাদিস পাওয়া যায়, যার সংখ্যা কম বেশি দুই ডজন। সবই হাদিসের মূল কিতাবগুলোর কোনো না কোনো কিতাবে পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
ইমাম গাযযালী (রহ)-এর আলোচ্য রেওয়ায়েতটির সমর্থনে ইবনে মাসউদ (রা) হতে আরো একটি রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। বর্ণিত হাদিসটি আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আসসুয়ূতী (রহ) স্বীয় সংকলিত “জামেউল আহাদীস” (১৯/২৮৭ ও হাদিস নং ২০৭৭৬) কিতাবেও নিয়ে এসেছেন। হাদিসখানা হল—
– ﻣﺎ ﻣﻦ ﻣﻮﻟﻮﺩ ﺇﻻ ﻭﻓﻰ ﺳﺮﺗﻪ ﻣﻦ ﺗﺮﺑﺘﻪ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻮﻟﺪ ﻣﻨﻬﺎ ﻓﺈﺫﺍ ﺭﺩ ﺇﻟﻰ ﺃﺭﺫﻝ ﻋﻤﺮﻩ ﺭﺩ ﺇﻟﻰ ﺗﺮﺑﺘﻪ ﺍﻟﺘﻰ ﺧﻠﻖ ﻣﻨﻬﺎ ﺣﺘﻰ ﻳﺪﻓﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﺇﻧﻰ ﻭﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﻭﻋﻤﺮ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﻣﻦ ﺗﺮﺑﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﺪﻓﻦ ( ﺍﻟﺨﻄﻴﺐ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ . [ ﺍﻟﺪﻳﻠﻤﻰ ﻋﻦ ﺃﻧﺲ
অনুবাদ, প্রত্যেক নবজাতক শিশুর নাভিতে মাটির কিছু অংশ নিহিত থাকে যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন সে তার জীবনের অন্তিমসময়ে এসে পৌছে যাবে, তখন সে ওই মাটিতেই ফিরে আসবে যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এমনকি সেখানেই সে দাফন হবে। নিশ্চয়ই আমি [রাসূল] এবং আবু বকর আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) একই মাটি হতে সৃষ্ট এমনকি একই মাটিতে (আমরা তিনজন) দাফন হবো।”
হাদিসটি ইমাম খতিব আলবাগদাদী তিনি ইবনে মাসউদ (রা) হতে আর আল্লামা দায়লামী (রহ) হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণনা করেছেন।
মন্তব্য : সুতরাং উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর শরীর মুবারকের অন্যতম সৃষ্টি-মূল-উপাদান নূর নয়, বরং মদিনায়ে মুনাওয়ারার যে পবিত্র স্থানে তিনি (নবীজি) শায়িত আছেন সেখানকার সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাটিই ছিল। আল্লাহু আকবার। আহলে বিদয়াত দুশমনে রাসূল রেজভি সম্প্রদায় এক দিকে নিজেদেরকে নবীজি (সা)-এর খাটি আশেক দাবি করে আর অপরদিকে নবীজির অসংখ্য হাদিস অমান্য করে। এজন্য প্রবাদ রয়েছে : “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ”। কাজেই রেজভিরা অসংখ্য হাদিস অস্বীকার করে নিজেদের মূলত অতিভক্তির অন্তরালে জঘন্যতম চোর আর ধোঁকাবাজ হিসেবে প্রমাণ করল।
লেখক, প্রিন্সিপাল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন