রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

What is meaning of the Sahih Hadith? সহিহ হাদিস মানে কী?

সহিহ হাদিস বলতে কী বুঝায়? ঊসূলে হাদিস বিশেষজ্ঞগণ সহিহ হাদিস বলতে অশুদ্ধ হাদিস বুঝিয়েছেন, নাকি “সালেম” বা নিরাপদ হাদিস বুঝিয়েছেন? বিভ্রান্তি’র নিরসন :
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অনেকে ‘সহীহ হাদীস’ বলতে বুঝে থাকেন ‘শুদ্ধ হাদীস’৤। কাজেই তাদের ধারণা, সহীহ হাদীস ছাড়া সব হাদীস অশুদ্ধ৤। এ জন্য তারা বলে বেড়ান— “আমরা সহীহ হাদীস মানি, অন্য কোন হাদীস মানি না”। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়।৤ তারা এ ব্যাপারে ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত আছেন।৤ আর এ ভ্রান্তির কারণে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অনেক গ্রহণযোগ্য হাদীসকে তারা রীতিমত অস্বীকার করে ফেলছেন, যা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা ও ঈমানধ্বংসী কাজ।৤
বস্তুত এখানে দু’টি আলাদা পরিভাষার ব্যাপার রয়েছে৤ ফিক্বহের পরিভাষায় ‘সহীহ’ অর্থ শুদ্ধ।৤ যেমন, ফিক্বহী মাসআলায় বলা হয় ‘রুকু থেকে সোজা হয়ে না দাঁড়ালে নামায সহীহ হয় না’—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়, এতে নামায শুদ্ধ হয় না।
কিন্তু হাদীসশাস্ত্রে কোন হাদীসকে ‘সহীহ’ বলে ‘শুদ্ধ’ বুঝানো উদ্দেশ্য থাকে না কিংবা ‘সহীহ নয়’ বলে ‘অশুদ্ধ’ বুঝানো হয় না৤বরং সেখানে “সহীহ” শব্দ দ্বারা গ্রহণযোগ্য হাদীসের একটি প্রকারকে বুঝানো হয়৤। এক্ষেত্রে ‘সহীহ’ শব্দটি ‘সালেম’ (নিরাপদ)-এর অর্থে ব্যবহৃত হবে, যা হাদীসের সব ধরনের দুর্বলতা ও যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়াকে বুঝায়। এভাবে সাধারণ দুর্বলতা ও অভিযোগ থেকে মুক্ত হাদীসের মধ্যে হাসান হাদীসও রয়েছে, যা সহীহ শ্রেণীর গ্রহণযোগ্য একটি হাদীস৤।
তেমনি দ্বয়িফ বা দুর্বল হাদীসের সমর্থনে যদি সহীহ হাদীস থাকে কিংবা যদি কোন দ্বয়িফ হাদীস নানা সনদে (সূত্রে) বর্ণিত হয় এবং তার দুর্বলতা সাংঘাতিক ধরণের না হয়, তখন সেই দ্বয়িফ হাদীসও গ্রহণযোগ্য হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে। যা সহীহ লি-গাইরিহী৤নামে খ্যাত। এমনি করে ‘মুরসাল’ হাদীসের রাবীগণ যখন সবাই ছিকা (বিশ্বস্ত) হবে, তখন তাও গ্রহণযোগ্য হাদীসের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।৤
এভাবে ‘সহীহ’ শ্রেণীর হাদীস ছাড়াও অনেক হাদীস গ্রহণযোগ্য হাদীস বলে মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট বিবেচিত হয়-যার বিশেষ তাফসীল রয়েছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, কিছু লোক আছেন যারা বলেন : “সহীহ হাদীস ছাড়া মানি না”। এ কথা বলার মধ্য দিয়ে তারা প্রকারান্তরে সেসব গ্রহণযোগ্য হাদীসই অস্বীকার করে বসছেন, যা খুবই মারাত্মক ব্যাপার। তাই “শুধু সহীহ হাদীস মানি” এ রকম কথা বলা যাবে না৤ বরং বলতে হবে “গ্রহণযোগ্য হাদীস মানি”। তাহলে গ্রহণযোগ্য হাদীস কী? গ্রহণযোগ্য হাদীস হল সেসব হাদিস যাকে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসীনে কিরাম গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন।৤মনে রাখতে হবে যে, সহিহ হাদিসকে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসীনে কিরাম চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। যেমন –
صحيح لذاته و صحيح لغيره، حسن لذاته و حسن لغيره. অর্থাৎ সহিহ লি-জাতিহী, সহিহ লি-গায়রিহী এবং হাসান লি-জাতিহী, হাসান লি-গায়রিহী।
আর সে হিসেবে উক্ত গ্রহণযোগ্য হাদিসখানা সহীহ’র যে কোনো শ্রেণীরই হতে পারে। অর্থাৎ সহীহ লি-জাতিহী শ্রেণীর হতে পারে অথবা সহিহ লি-গাইরিহী শ্রেণীরও হতে পারে বা হাসান লি-জাতিহী শ্রেণীর হতে পারে আবার হাসান লি-গাইরিহী [ যার মান প্রথম তিনটি চেয়ে নিচে হওয়া সত্তেও বিবেকগ্রাহ্য স্তরে পৌঁছে গেছে] । আর হাদীসের এ সকল গ্রহণযোগ্য শ্রেণীর উপর ভিত্তি করেই ইসলামী শরীয়তের আহকামের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আইম্মায়ে ফুকাহা শরয়ী মাসআলা নির্ণয় করেছেন৤। যাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে মানা জরুরী৤।
অন্যথায় কেউ এ শরয়ী মাসআলাকে ইনকার করলে, তিনি এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে সেই মাসআলার সংশ্লিষ্ট হাদীসকে অস্বীকার করার কারণে মুনকিরে হাদীস (হাদীস অস্বীকারকারী) বলে সাব্যস্ত হবেন৤।
তথ্যসূত্র :
√ আত-তাকয়ীদ, ২৩-২৫ ও ৪৫-৬১ পৃষ্ঠা।
√ ফাতহুল মুগীস, ৭-৮ ও ৩২-৪৮ পৃষ্ঠা।
√ তাদরীবুর রাবী, ১ ম খণ্ড, ৬৩-৭৪ ও ১৫৩-১৭৮ পৃষ্ঠা।
√ যাফরুল আমানী, ২০৯-২২৪ পৃষ্ঠা।
√ আল- ইস্তিযকার, ১২৭ পৃষ্ঠা প্রভৃতি।
www.markajomar.com/?p=1257

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন