বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের নাম ভেঙ্গে শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর শানে বিদয়াতিরা কি রকম মিথ্যার বেসাতি ঘটিয়েছে তা এক্ষুণি অনুধাবন করতে পারবেন। মিথ্যাচারকারীদের বক্তব্য হল, ইসমাঈল দেহলভী বলেছে “নবীকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে।” (দেখুন-তাবলীগ জামাতের ইতিহাস, কৃত আকবর আলী রেজভী)।
.
খণ্ডনঃ
.
মিথ্যাচারকারিদের উপরোক্ত বক্তব্যের সাথে শাহ ইসমাঈল শহিদ দেহলভি রহঃ এর বক্তব্যের কোনোই মিল নাই। তার কিতাবের ইবারতটা এখানে উল্লেখ করব। অতপর কিতাবের ঐ পৃষ্ঠাটির স্ক্রিনশর্টটিও আপনাদের খেদমতে উল্লেখ করব। অতপর তার লেখা উর্দূ ইবারতটির বাংলায় অনুবাদ করে দেব। যাতে করে সবাই বুঝতে পারে যে, মিথ্যাচারকারীরা কতটা হীনমন্যতার আশ্রয় নিয়ে যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আলেম ও সময়ের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ আল্লামা শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর প্রতি শতাব্দীর জঘন্যতম অপবাদ রটিয়েছিল। আর এ অপবাদ যিনি সর্বপ্রথম রটিয়েছে তার নাম ছিল আহমদ রেজাখান বেরলভী।
.
এ আহমদ রেজাখাঁন যে কত বড় বৃটিশ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত, তা তারই রচিত ‘এলামুল আ’লাম বিআন্নাল হিন্দ দারুল ইসলাম’ এবং ‘দাওয়ামুল আইশ’ এ পুস্তক দুখানা দেখা বিনে বুঝা যাবেনা। আর তার অহরহ কুফুরী ফতুয়ার কথা বললে তো শেষই হবেনা।
.
আসুন মূল কথায়ঃ এরপর নিচে ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের উর্দূ ইবারতের স্ক্রিনশর্ট দেখুন-
.
♪প্রথমে শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর কিতাবের উর্দূ ইবারত-
.
ﻓﺎﺋﺪۃ : ﯾﻌﻨﯽ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﺁﭘﺲ ﻣﯿﮟ ﺳﺐ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﯿﮟ. ﺟﻮ ﺑﮉﺍ ﺑﺰﺭﮒ ﮨﻮ ﻭﮦ ﺑﮍﺍ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﮯ. ﺳﻮ ﺍﺳﮑﮯ ﺑﮍﮮ ﺑﮩﺎﺉ ﮐﯽ ﺳﯽ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﮐﯿﺠﮱ. ﺍﻭﺭ ﻣﺎﻟﮏ ﺻﺮﻑ ﺍﻟﻠﮧ ﮨﮯ. ﺑﻨﺪﮔﯽ ﺍﺳﮑﻮ ﭼﺎﮨﯿﮱ. ﺍﺱ ﺣﺪﯾﺚ ﺳﮯ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﮨﻮﺍ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺍﻭﻟﯿﺎﺀ ﺍﻧﺒﯿﺎﺀ ﺍﻣﺎﻡ ﺍﻭﺭ ﺍﻣﺎﻡ ﺫﺍﺩ ﭘﯿﺮ ﻭ ﺷﮩﯿﺪ ﯾﻌﻨﯽ ﺟﺘﻨﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﮐﯽ ﻣﻘﺮﺏ ﺑﻨﺪﮮ ﮨﯿﮟ ﻭﮦ ﺳﺐ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﮨﯽ ﮨﯿﮟ. ﺑﮍﮮ ﻋﺎﺟﺰ ﺍﻭﺭ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﺑﮩﺎﺉ. ﻣﮕﺮ ﺍﻧﮑﻮ ﺍﻟﻠﮧ ﻧﮯ ﺑﮍﺍﺉ ﺩﯼ ﺍﻭﺭ ﺑﮍﮮ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﻮﮰ. ﺍﻟﻠﮧ ﮨﻤﮑﻮ ﺍﻧﮑﯽ ﻓﺮﻣﺎﺑﺮﺩﺍﺭﯼ ﮐﺎ ﺣﮑﻢ ﮐﯿﺎ ﮨﮯ. ﮨﻢ ﺍﻧﮑﮯ ﭼﮩﻮﭨﮯ ﮨﯿﮟ. ﺳﻮ ﺍﻧﮑﯽ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﺍﻧﺴﺎﻧﻮﮞ ﮐﯽ ﺳﯽ ﮐﺮﻧﯽ ﭼﺎﮨﯿﮯ ﻧﮧ ﺧﺪﺍ ﮐﯽ ﺳﯽ. ﺑﺤﻮﺍﻟﮧ ﺗﻘﻮﯾۃ ﺍﻻﯾﻤﺎﻥ ۶۰
.
উর্দূ ইবারতটির অনুবাদ: ফায়েদাঃ পৃথিবীর সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। যে বেশি মর্যাদাবান সে বড় ভাই, তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করো। আর সবার মালিক ও রব আল্লাহ। সুতরাং ইবাদত তাঁরই করবে, অন্য কারো করবে না।
.
উল্লিখিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হল যে, আল্লাহর যত নৈকট্যশীল বান্দা আছে সবাই আল্লাহর বান্দা, আমাদের ভাই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান ও বড়ত্ব দান করেছেন তাই তারা আমাদের সাথে অতুলণীয়। তাদের কথা আমাদের মানতে হবে এবং তাদের সম্মান করতে হবে। তাদেরকে আল্লাহর মতো সম্মান করা যাবেনা।’
.
{তাকবিয়াতুল ঈমান উর্দূ ছাপার পৃষ্ঠা নং ৬০, বাংলা অনূদিত ছাপার পৃষ্ঠা নং ৭০, ভাষান্তর নাসীম আরাফাত; প্রকাশনায় ইসলামিয়া কুতুবখানা, ঢাকা-১১০০}।
.
লক্ষণীয় যে, শাহ ইসমাঈল শহিদ রহঃ উপরোক্ত যে ব্যখ্যা দিয়েছেন তাতে তিনি কোথাও কি খাস করে রাসূল সাঃ -কে ‘বড় ভাই’ বলে সম্ভোধন করেছেন? কিংবা তাঁকে সাঃ ‘বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে’ বলেছেন? নিশ্চয়ই না। তাহলে কিজন্য আহমদ রেজাখান ব্রেলভী তাঁর প্রতি এত জঘন্যতম মিথ্যাচার করে বেড়াল? কিজন্য গোটা উপমহাদেশের মানুষদের ভুল বুঝিয়ে মুসলমানদের মাঝে অনৈক্যের বীজ রোপন করে গেল? এর বিচারের ভার আপনাদের ওপরই থাকলো।
.
এবার প্রশ্ন আসতে পারে তিনি এ ধরণের একটা ব্যাখ্যা কেন দিলেন?
.
তার জবাব হল, তিনি হযরত আয়েশা রাঃ থেকে মুসনাদে আহমদ সূত্রে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলেন। অতপর হাদিসটির মর্মার্থ বিশদাকারে আলোকপাত করতে গিয়ে উপরোক্ত ব্যাখ্যার অবতারণা করলেন। আপনারা এখানে সে হাদিসটির অর্থের প্রতি লক্ষ্য করুন।
.
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﻧﻔﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻬﺎﺟﺮﻳﻦ ﻭ ﺍﻻﻧﺼﺎﺭ ﻓﺠﺎﺀ ﺑﻌﻴﺮ ﻓﺴﺠﺪ ﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺻﺤﺎﺑﻪ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ! ﺗﺴﺠﺪ ﻟﻚ ﺍﻟﺒﻬﺎﺋﻢ ﻭ ﺍﻟﺸﺠﺮ ﻓﻨﺤﻦ ﺍﺣﻖ ﺍﻥ ﻧﺴﺠﺪ ﻟﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻋﺒﺪﻭﺍ ﺭﺑﻜﻢ ﻭ ﺍﻛﺮﻣﻮﺍ ﺍﺧﺎﻛﻢ. ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ
.
অর্থ, হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) একদল মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের মাঝে ছিলেন। তখন একটি উট এসে রাসূল (সাঃ)- কে সিজদা করল। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পশু প্রাণী ও গাছপালা আপনাকে সিজদা করে তাহলে তো আপনাকে সিজদা করার ক্ষেত্রে আমরাই বেশি হকদার। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের রবকে সিজদা করো এবং তোমাদের ভাইকে সম্মান করো।” এজন্য তিনি উপরিউক্ত ব্যাখ্যাটি দেন।
.
সালফে সালেহীনের মাঝে এরকম ব্যাখ্যা আর উপামা দানের অনেক নজির রয়েছে।
.
বিশিষ্ট সূফিবাদী মুফাসসির শায়খ ইসমাইল হাক্কী (রহ) তদীয় “রূহুল বয়ান” কিতাবে সূরা কাহাফ ১১০ নং আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, নবীজি (সা) তিনি আকৃতিতে আমাদের মতই এবং কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যেও আমাদের সমান।
.
যেমন, সূরা কাহাফের ১১০ নং আয়াত ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ (বলুন হে নবী আমি তোমাদের মতই মানুষ) -এর ব্যাখ্যায় তাফসীরে রুহুল বয়ানে বলা হয়েছে-
.
ﻗﻞ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺎ ﺍﻧﺎ ﺍﻻ ﺃﺩﻣﻰ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﻣﺴﺎﻭﻳﻜﻢ ﻓﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ
.
অর্থাৎ, বলুন হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমি তো আকৃতিতে তোমাদের মতই মানুষ আর কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যে তোমাদেরই সমান। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা)।
.
এবার শায়খ ইসমাইল হাক্কী (রহ)-এর উপর রেজভিরা কী ফতুয়া লাগাবে? কেননা তিনি বলেছেন, “নবীজি (সা) আকৃতিতে আমাদের মতই এবং কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যেও আমাদের সমান।”
.
হযরত ইমাম বুখারি (রহঃ) বুখারি শরিফের একটি বাব (অধ্যায়) বর্ণনা করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন :
.
ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻼﺀ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﺛﻢ ﺍﻻﻣﺜﻞ ﻓﺎﻻﻣﺜﻞ
.
অর্থ, “মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা বিপদগ্রস্ত হন নবীগণ। অতপর যারা নবীদের মত, অতপর যারা তাদের মত।”
.
লক্ষ্য করুন, ইমাম বুখারী (রহ) তিনি গায়রে নবীদেরকে নবীদের মত বলেছেন। তো তিনি কি এ রকম বলার কারণে কুফুরি করলেন? নাউযুবিল্লাহ।
.
এবার ইমাম বুখারী (রহ)-এর উপর রেজভিরা কী ফতুয়া লাগাবে? কেননা তিনি গায়রে নবীদেরকে নবীদের মত বলেছেন।” যদি বুকে সাহস থাকে তবে প্রথমে উনাদের উপর তাকফীরের ফতুয়া লাগাও!
.
উল্লেখ্য, রেজভি আকিদা ওয়ালাদের অবস্থা দেখলে বুঝা যায় যে, ওরা কত বড় নির্বোধ আর মাথামোটা! তারা যখন “বাশারুম মিছলুকুম” আয়াতের ব্যাখ্যায় “আকৃতিগত ভাবে তোমাদের মত মানুষ” অর্থ করে, তখন সূরা আরাফের ১১ নং আয়াতটির কথা কি তাদের স্মরণ থাকেনা?
.
সূরা আরাফের ১১ আয়াতটির ভাষ্য হল, ﻭﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﺛﻢ ﺻﻮﺭﻧﺎﻛﻢ অর্থ আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি অতপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি।”
.
এখানে ‘খালাকনাকুম’ দ্বারা সর্বপ্রথম বনী আদমের রূহগুলো সৃষ্টি করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
.
আল্লামা ইবনে কাইয়্যুম রহঃ “রূহ” কিতাবের উনবিংশ অধ্যায় লিখেছেন যে, ইবনে হাযম (রহঃ) এ বক্তব্যের পক্ষে উম্মতের ইজমাও উদ্ধৃত করেছেন।
.
লক্ষ্য করুন! এখানে আল্লাহপাক প্রথমে আমাদের রূহ সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। অতপর তিনি আমাদের আকৃতি দান করার কথা বলেছেন। তো এবার কী বলবেন? যেহেতু এ আয়াতে আমরা নিজেরাও আকৃতিগত ভাবে মানুষ-একথাই প্রমাণিত হলাম নয় কি? তাহলে নবীজি (সা)–কে আকৃতিগত ভাবে মানুষ বলার ভেতর আপনারা আসলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন? মাথায় দোষ আছে কি?
.
আগের কথায় ফিরে এলাম।
.
হাদিসেপাকে উম্মতকে বিশ্বনবী (সাঃ) এর ভাই বলে সম্ভোধন করার দলিল-
.
আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ ফরমাইয়েছেন-
.
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺽ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻭﺩﺩﺕ ﺍﻧﻲ ﻟﻘﻴﺖ ﺍﺧﻮﺍﻧﻲ . ﻗﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﺍﻭ ﻟﻴﺲ ﻧﺤﻦ ﺍﺧﻮﺍﻧﻚ؟ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﺘﻢ ﺍﺻﺤﺎﺑﻲ . ﻭ ﻟﻜﻦ ﺍﺧﻮﺍﻧﻲ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺃﻣﻨﻮﺍ ﺑﻲ ﻭ ﻟﻢ ﻳﺮﻭﻧﻲ. ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ ٣/ ١٥٥ .
.
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন “আমার আকাংখা হয়, যদি আমার ভাইদের সহিত আমার সাক্ষাৎ হইত! সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞাস করিলেন, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি এরশাদ করলেন, তোমরা তো আমার সাহাবী । আমার ভাই হচ্ছে তারা, যারা আমাকে না দেখে আমার ওপর ঈমান আনবে।”
.
সূত্র, মুসনাদে আহমদ ৩য় খণ্ড/ পৃষ্ঠা ১৫৫, মুন্তাখাব হাদিস, ঈমান অধ্যায়-পৃষ্ঠা নং ৩৩।
.
হাদিস ইংগিতঃ
.
১। হাদিসটিতে সাইয়েদুল মুরসালিন হাবিবুল্লাহ হুজুরেপাক আলাইহিস সালাম স্বীয় আদরের উম্মতদের প্রতি সীমাহীন স্নেহ ও মায়া প্রদর্শন করতে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে উম্মতদের ‘ভাই’ হিসেবে সম্ভোধন করিয়াছিলেন।
.
২। উপস্থিত সাথীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে দয়াল নবীর সাঃ মুবারক দরবারে রেসালাত বরাবর বিনীত স্বরে জিজ্ঞাসা করে জানতে চাহিলেন, নিজেরা কেন ভাই হিসেবে এ অমূল্য সার্টিপিকেট লাভ করতে পারবেন না?
.
প্রত্যুত্তরে তিনি তাঁদেরকে একটি শান্তনা পুরুষ্কার হিসেবে ‘সাহাবী’ উপাধি দিয়ে দিলেন। আর কেয়ামত অব্দি তাঁর যত উম্মাত দুনিয়ায় আসবে এবং তাঁকে না দেখেই তাঁর রেসালতের স্বীকৃতি দেবে; সবাই উক্ত হাদিসের ভাষ্য মতে ‘ভাই’ উপাধি লাভ করবে।
.
এবার বুঝে থাকলে বলুন “তাকবিয়াতুল ঈমান” ৬০ নং পৃষ্ঠায় ‘নবীপাক (সা)-কে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে’ এমন কথা উল্লেখ রয়েছে বলা যেতে পারে কিভাবে? অথচ হাদিসের ব্যাখ্যাস্বরূপ কিতাবটির ভাষ্য হল “পৃথিবীর সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। যে বেশি মর্যদাবান সে বড় ভাই, তাঁকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান কর।”
.
♪শাহ সাহেবের বক্তব্যের সমষ্টি :
.
১-
বনী আদম সবাই পরস্পর ভাই ও বন্ধু, প্রত্যেকের আদি-পিতা হলেন হযরত আদম (আ)।
.
২-
কিন্তু মর্যাদা আর বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে প্রত্যেকে সমান নয়, কাজেই যাদের মান-মর্যাদা আর বৈশিষ্ট্য তুলনাহারে বেশী, তারা তুলনাহারে বেশী মর্যদাবান।
.
হাদিসের সুস্পষ্ট ইংগিতে বুঝা যায়, বিশ্বনবী (সা) তিনি এক দিক থেকে রূহানী ভাবে হযরত আদম (আ)-এরও পূর্বেকার, কিন্তু জিসমানী (সৃষ্টগত বা শারিরীকভাবে) তিনি হযরত আদম (আ)-এর অনেক পরে স্বীয় মাতৃগর্ভে সৃষ্ট। (দলিল আরেকটু সামনে।)
.
এ হিসেবে তিনি আদমজাত শেষনবী ও আদমজাত পুত্রদের সর্বাপেক্ষা বড়ভাই এবং রোজ-কেয়ামতে সকল বনী আদমের (আ) সর্দারও।
.
বিশ্ববিখ্যাত হাদিসের কিতাব “মুসতাদরিকে হাকিম” এর ২য় খণ্ডের ৭২২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হাদিসে কুদসীর সুস্পষ্ট ভাষ্য :
.
আল্লাহপাক এরশাদ করলেন- ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﻭ ﻛﻴﻒ ﻋﺮﻓﺖ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻭ ﻟﻢ ﺃﺧﻠﻘﻪ؟ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺘﺪﺭﻙ অর্থাৎ হে আদম! তুমি মুহাম্মদ (সাঃ) এর পরিচয় কীভাবে লাভ করলে? অথচ আমি এখনও তাঁকে সৃষ্টি করিনি।”
.
উক্ত হাদিসে কুদসী দ্বারা এ কথা পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, জিসমানী (সৃষ্টগত বা শারিরীকভাবে) তিনি হযরত আদম (আ)-এর অনেক পরে স্বীয় মাতৃগর্ভে সৃষ্ট।”
.
কিন্তু আহলে বাতিল রেজভিদের আক্বিদা বিশ্বাস যেহেতু অসার আবেগপ্রবণ আর পীর-ফকিরী এশক নির্ভর সেহেতু তাদের নিকট কুরআন আর হাদিসের বাণী গ্রহণযোগ্য না হওয়াই স্বাভাবিক! আর এতে আমাদেরই বা করার কী আছে?
.
সুতরাং পরিশেষে বুঝা গেল, বিশ্বনবী (সা) -কে ভিন্ন আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাই সম্বোধন করার দ্বারা শাহ সাহেব (আলাইহির রাহমাহ)-এর উপর রেজাখাঁ’র তাকফীরের হুকুম লাগানো পুরোপুরিভাবে ভুল ও চরম ভ্রষ্টতা ছিল।
.
হ্যাঁ, বিতর্কের খাতিরে যদি মেনেও নিই যে, তিনি নবীপাক (সাঃ)-কে সরাসরি বড় ভাই বলেছেন, তাহলে কি রেজভিরা এজন্য তাঁকে কাফির বলতে পারবে? যদি তাই হয়, তাহলে নবীজি সাঃ হাদিসে উম্মতদের ভাই সম্ভোধন করলেন কেন? নবীজি সাঃ কি ভাই সম্ভোধন করে উম্মতকে কুফুরি কালাম শিক্ষা দিয়ে গেলেন? নাউযুবিল্লাহ।
.
আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, রেজভি/ভাণ্ডারি সুন্নীরা মানুষকে প্রতারিত করার জন্য ও তাদের বড়পীর রেজাখানের অগণিত কুফুরি ফতুয়া ঢাকার জন্য সুপ্রসিদ্ধ কিতাব ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’র ওপর এভাবে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে থাকে। যার শতকরা শতভাগই তালগোল পাকানো ও বানোয়াট।
.
মন্তব্য: পবিত্র কুরআনে বলেছে, ﻭ ﻻ ﺗﻘﻮﻟﻮﺍ ﻟﻤﻦ ﺍﻟﻘﻲ ﺍﻟﻴﻜﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻟﺴﺖ ﻣﺆﻣﻨﺎ অর্থ কেউ তোমাদের মঙ্গল কামনা করলে বা শ্রদ্ধা জানালে ইহজীবনের সম্পদের লোভে তাকে বলো না : তুমি মুমিন নয়। (সূরা নিসার ৯৪)
.
হাদিসে ইরশাদ রয়েছে—
.
ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻻﺧﻴﻪ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻳﺎ ﻛﺎﻓﺮ ﻓﻘﺪ ﺑﺎﺀ ﺑﻪ ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻭﺍﻻ ﺭﺟﻊ ﻋﻠﻴﻪ
.
‘যে তার কোনো মুসলমানকে বলবে হে কাফের! তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের দুজনের একজন একথার পাত্র হবে। যদি সম্বোধিত ব্যক্তি এমনই হয়, তবে তো তা ই, অন্যথা কথাটি বক্তার দিকে ফিরে আসবে।’
.
তাকবিয়াতুল ঈমানে ইসমাঈল শহিদ রহঃ যে ভাবে লিখেছেন সেভাবে উদ্ধৃতি না দিয়ে, বরং নিজের খেয়াল খুশি মাফিক বক্তব্য নকল করে যারা তাঁর সাথে তাকফিরের হুকুম লাগিয়েছে, উপরোক্ত হাদিস মতে সেই কুফুরির অপবাদ তাদের দিকেই ফিরে আসবে। অর্থাৎ রেজাখার ঐ মিথ্যাচারকে যারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিয়েছে আর যাচাই বাচাই করা ছাড়া শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর শানে তাকফিরের হুকুম লাগিয়েছে, তারা প্রত্যেকে জনে জনে কাফির হয়ে গেছে। যেহেতু উপরোক্ত হাদিস তাই বলে।
.
‘সচেতন পাঠক পাঠিকা, যারাই ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের নাম ভেঙ্গে শাহ ইসমাঈল শহিদ রহঃ এর শানে মিথ্যাচার করেছেন, এবং শাহ্ ইসমাইল শহীদ রহঃ কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন তারা আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
.
লিখেছেন : প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী। পরিচালক : একটি চমৎকার ইসলামিক ওয়েব সাইট ‘মারকায উমর ডটকম’।
.
‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের নাম ভেঙ্গে শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর শানে বিদয়াতিরা কি রকম মিথ্যার বেসাতি ঘটিয়েছে তা এক্ষুণি অনুধাবন করতে পারবেন। মিথ্যাচারকারীদের বক্তব্য হল, ইসমাঈল দেহলভী বলেছে “নবীকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে।” (দেখুন-তাবলীগ জামাতের ইতিহাস, কৃত আকবর আলী রেজভী)।
.
খণ্ডনঃ
.
মিথ্যাচারকারিদের উপরোক্ত বক্তব্যের সাথে শাহ ইসমাঈল শহিদ দেহলভি রহঃ এর বক্তব্যের কোনোই মিল নাই। তার কিতাবের ইবারতটা এখানে উল্লেখ করব। অতপর কিতাবের ঐ পৃষ্ঠাটির স্ক্রিনশর্টটিও আপনাদের খেদমতে উল্লেখ করব। অতপর তার লেখা উর্দূ ইবারতটির বাংলায় অনুবাদ করে দেব। যাতে করে সবাই বুঝতে পারে যে, মিথ্যাচারকারীরা কতটা হীনমন্যতার আশ্রয় নিয়ে যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আলেম ও সময়ের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ আল্লামা শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর প্রতি শতাব্দীর জঘন্যতম অপবাদ রটিয়েছিল। আর এ অপবাদ যিনি সর্বপ্রথম রটিয়েছে তার নাম ছিল আহমদ রেজাখান বেরলভী।
.
এ আহমদ রেজাখাঁন যে কত বড় বৃটিশ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত, তা তারই রচিত ‘এলামুল আ’লাম বিআন্নাল হিন্দ দারুল ইসলাম’ এবং ‘দাওয়ামুল আইশ’ এ পুস্তক দুখানা দেখা বিনে বুঝা যাবেনা। আর তার অহরহ কুফুরী ফতুয়ার কথা বললে তো শেষই হবেনা।
.
আসুন মূল কথায়ঃ এরপর নিচে ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের উর্দূ ইবারতের স্ক্রিনশর্ট দেখুন-
.
♪প্রথমে শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর কিতাবের উর্দূ ইবারত-
.
ﻓﺎﺋﺪۃ : ﯾﻌﻨﯽ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﺁﭘﺲ ﻣﯿﮟ ﺳﺐ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﯿﮟ. ﺟﻮ ﺑﮉﺍ ﺑﺰﺭﮒ ﮨﻮ ﻭﮦ ﺑﮍﺍ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﮯ. ﺳﻮ ﺍﺳﮑﮯ ﺑﮍﮮ ﺑﮩﺎﺉ ﮐﯽ ﺳﯽ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﮐﯿﺠﮱ. ﺍﻭﺭ ﻣﺎﻟﮏ ﺻﺮﻑ ﺍﻟﻠﮧ ﮨﮯ. ﺑﻨﺪﮔﯽ ﺍﺳﮑﻮ ﭼﺎﮨﯿﮱ. ﺍﺱ ﺣﺪﯾﺚ ﺳﮯ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﮨﻮﺍ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺍﻭﻟﯿﺎﺀ ﺍﻧﺒﯿﺎﺀ ﺍﻣﺎﻡ ﺍﻭﺭ ﺍﻣﺎﻡ ﺫﺍﺩ ﭘﯿﺮ ﻭ ﺷﮩﯿﺪ ﯾﻌﻨﯽ ﺟﺘﻨﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﮐﯽ ﻣﻘﺮﺏ ﺑﻨﺪﮮ ﮨﯿﮟ ﻭﮦ ﺳﺐ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﮨﯽ ﮨﯿﮟ. ﺑﮍﮮ ﻋﺎﺟﺰ ﺍﻭﺭ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﺑﮩﺎﺉ. ﻣﮕﺮ ﺍﻧﮑﻮ ﺍﻟﻠﮧ ﻧﮯ ﺑﮍﺍﺉ ﺩﯼ ﺍﻭﺭ ﺑﮍﮮ ﺑﮩﺎﺉ ﮨﻮﮰ. ﺍﻟﻠﮧ ﮨﻤﮑﻮ ﺍﻧﮑﯽ ﻓﺮﻣﺎﺑﺮﺩﺍﺭﯼ ﮐﺎ ﺣﮑﻢ ﮐﯿﺎ ﮨﮯ. ﮨﻢ ﺍﻧﮑﮯ ﭼﮩﻮﭨﮯ ﮨﯿﮟ. ﺳﻮ ﺍﻧﮑﯽ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﺍﻧﺴﺎﻧﻮﮞ ﮐﯽ ﺳﯽ ﮐﺮﻧﯽ ﭼﺎﮨﯿﮯ ﻧﮧ ﺧﺪﺍ ﮐﯽ ﺳﯽ. ﺑﺤﻮﺍﻟﮧ ﺗﻘﻮﯾۃ ﺍﻻﯾﻤﺎﻥ ۶۰
.
উর্দূ ইবারতটির অনুবাদ: ফায়েদাঃ পৃথিবীর সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। যে বেশি মর্যাদাবান সে বড় ভাই, তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করো। আর সবার মালিক ও রব আল্লাহ। সুতরাং ইবাদত তাঁরই করবে, অন্য কারো করবে না।
.
উল্লিখিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হল যে, আল্লাহর যত নৈকট্যশীল বান্দা আছে সবাই আল্লাহর বান্দা, আমাদের ভাই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান ও বড়ত্ব দান করেছেন তাই তারা আমাদের সাথে অতুলণীয়। তাদের কথা আমাদের মানতে হবে এবং তাদের সম্মান করতে হবে। তাদেরকে আল্লাহর মতো সম্মান করা যাবেনা।’
.
{তাকবিয়াতুল ঈমান উর্দূ ছাপার পৃষ্ঠা নং ৬০, বাংলা অনূদিত ছাপার পৃষ্ঠা নং ৭০, ভাষান্তর নাসীম আরাফাত; প্রকাশনায় ইসলামিয়া কুতুবখানা, ঢাকা-১১০০}।
.
লক্ষণীয় যে, শাহ ইসমাঈল শহিদ রহঃ উপরোক্ত যে ব্যখ্যা দিয়েছেন তাতে তিনি কোথাও কি খাস করে রাসূল সাঃ -কে ‘বড় ভাই’ বলে সম্ভোধন করেছেন? কিংবা তাঁকে সাঃ ‘বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে’ বলেছেন? নিশ্চয়ই না। তাহলে কিজন্য আহমদ রেজাখান ব্রেলভী তাঁর প্রতি এত জঘন্যতম মিথ্যাচার করে বেড়াল? কিজন্য গোটা উপমহাদেশের মানুষদের ভুল বুঝিয়ে মুসলমানদের মাঝে অনৈক্যের বীজ রোপন করে গেল? এর বিচারের ভার আপনাদের ওপরই থাকলো।
.
এবার প্রশ্ন আসতে পারে তিনি এ ধরণের একটা ব্যাখ্যা কেন দিলেন?
.
তার জবাব হল, তিনি হযরত আয়েশা রাঃ থেকে মুসনাদে আহমদ সূত্রে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলেন। অতপর হাদিসটির মর্মার্থ বিশদাকারে আলোকপাত করতে গিয়ে উপরোক্ত ব্যাখ্যার অবতারণা করলেন। আপনারা এখানে সে হাদিসটির অর্থের প্রতি লক্ষ্য করুন।
.
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﻧﻔﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻬﺎﺟﺮﻳﻦ ﻭ ﺍﻻﻧﺼﺎﺭ ﻓﺠﺎﺀ ﺑﻌﻴﺮ ﻓﺴﺠﺪ ﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺻﺤﺎﺑﻪ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ! ﺗﺴﺠﺪ ﻟﻚ ﺍﻟﺒﻬﺎﺋﻢ ﻭ ﺍﻟﺸﺠﺮ ﻓﻨﺤﻦ ﺍﺣﻖ ﺍﻥ ﻧﺴﺠﺪ ﻟﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻋﺒﺪﻭﺍ ﺭﺑﻜﻢ ﻭ ﺍﻛﺮﻣﻮﺍ ﺍﺧﺎﻛﻢ. ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ
.
অর্থ, হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) একদল মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের মাঝে ছিলেন। তখন একটি উট এসে রাসূল (সাঃ)- কে সিজদা করল। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পশু প্রাণী ও গাছপালা আপনাকে সিজদা করে তাহলে তো আপনাকে সিজদা করার ক্ষেত্রে আমরাই বেশি হকদার। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের রবকে সিজদা করো এবং তোমাদের ভাইকে সম্মান করো।” এজন্য তিনি উপরিউক্ত ব্যাখ্যাটি দেন।
.
সালফে সালেহীনের মাঝে এরকম ব্যাখ্যা আর উপামা দানের অনেক নজির রয়েছে।
.
বিশিষ্ট সূফিবাদী মুফাসসির শায়খ ইসমাইল হাক্কী (রহ) তদীয় “রূহুল বয়ান” কিতাবে সূরা কাহাফ ১১০ নং আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, নবীজি (সা) তিনি আকৃতিতে আমাদের মতই এবং কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যেও আমাদের সমান।
.
যেমন, সূরা কাহাফের ১১০ নং আয়াত ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ (বলুন হে নবী আমি তোমাদের মতই মানুষ) -এর ব্যাখ্যায় তাফসীরে রুহুল বয়ানে বলা হয়েছে-
.
ﻗﻞ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺎ ﺍﻧﺎ ﺍﻻ ﺃﺩﻣﻰ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﻣﺴﺎﻭﻳﻜﻢ ﻓﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ
.
অর্থাৎ, বলুন হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমি তো আকৃতিতে তোমাদের মতই মানুষ আর কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যে তোমাদেরই সমান। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা)।
.
এবার শায়খ ইসমাইল হাক্কী (রহ)-এর উপর রেজভিরা কী ফতুয়া লাগাবে? কেননা তিনি বলেছেন, “নবীজি (সা) আকৃতিতে আমাদের মতই এবং কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যেও আমাদের সমান।”
.
হযরত ইমাম বুখারি (রহঃ) বুখারি শরিফের একটি বাব (অধ্যায়) বর্ণনা করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন :
.
ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻼﺀ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﺛﻢ ﺍﻻﻣﺜﻞ ﻓﺎﻻﻣﺜﻞ
.
অর্থ, “মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা বিপদগ্রস্ত হন নবীগণ। অতপর যারা নবীদের মত, অতপর যারা তাদের মত।”
.
লক্ষ্য করুন, ইমাম বুখারী (রহ) তিনি গায়রে নবীদেরকে নবীদের মত বলেছেন। তো তিনি কি এ রকম বলার কারণে কুফুরি করলেন? নাউযুবিল্লাহ।
.
এবার ইমাম বুখারী (রহ)-এর উপর রেজভিরা কী ফতুয়া লাগাবে? কেননা তিনি গায়রে নবীদেরকে নবীদের মত বলেছেন।” যদি বুকে সাহস থাকে তবে প্রথমে উনাদের উপর তাকফীরের ফতুয়া লাগাও!
.
উল্লেখ্য, রেজভি আকিদা ওয়ালাদের অবস্থা দেখলে বুঝা যায় যে, ওরা কত বড় নির্বোধ আর মাথামোটা! তারা যখন “বাশারুম মিছলুকুম” আয়াতের ব্যাখ্যায় “আকৃতিগত ভাবে তোমাদের মত মানুষ” অর্থ করে, তখন সূরা আরাফের ১১ নং আয়াতটির কথা কি তাদের স্মরণ থাকেনা?
.
সূরা আরাফের ১১ আয়াতটির ভাষ্য হল, ﻭﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﺛﻢ ﺻﻮﺭﻧﺎﻛﻢ অর্থ আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি অতপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি।”
.
এখানে ‘খালাকনাকুম’ দ্বারা সর্বপ্রথম বনী আদমের রূহগুলো সৃষ্টি করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
.
আল্লামা ইবনে কাইয়্যুম রহঃ “রূহ” কিতাবের উনবিংশ অধ্যায় লিখেছেন যে, ইবনে হাযম (রহঃ) এ বক্তব্যের পক্ষে উম্মতের ইজমাও উদ্ধৃত করেছেন।
.
লক্ষ্য করুন! এখানে আল্লাহপাক প্রথমে আমাদের রূহ সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। অতপর তিনি আমাদের আকৃতি দান করার কথা বলেছেন। তো এবার কী বলবেন? যেহেতু এ আয়াতে আমরা নিজেরাও আকৃতিগত ভাবে মানুষ-একথাই প্রমাণিত হলাম নয় কি? তাহলে নবীজি (সা)–কে আকৃতিগত ভাবে মানুষ বলার ভেতর আপনারা আসলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন? মাথায় দোষ আছে কি?
.
আগের কথায় ফিরে এলাম।
.
হাদিসেপাকে উম্মতকে বিশ্বনবী (সাঃ) এর ভাই বলে সম্ভোধন করার দলিল-
.
আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ ফরমাইয়েছেন-
.
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺽ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻭﺩﺩﺕ ﺍﻧﻲ ﻟﻘﻴﺖ ﺍﺧﻮﺍﻧﻲ . ﻗﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﺍﻭ ﻟﻴﺲ ﻧﺤﻦ ﺍﺧﻮﺍﻧﻚ؟ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﺘﻢ ﺍﺻﺤﺎﺑﻲ . ﻭ ﻟﻜﻦ ﺍﺧﻮﺍﻧﻲ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺃﻣﻨﻮﺍ ﺑﻲ ﻭ ﻟﻢ ﻳﺮﻭﻧﻲ. ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ ٣/ ١٥٥ .
.
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন “আমার আকাংখা হয়, যদি আমার ভাইদের সহিত আমার সাক্ষাৎ হইত! সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞাস করিলেন, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি এরশাদ করলেন, তোমরা তো আমার সাহাবী । আমার ভাই হচ্ছে তারা, যারা আমাকে না দেখে আমার ওপর ঈমান আনবে।”
.
সূত্র, মুসনাদে আহমদ ৩য় খণ্ড/ পৃষ্ঠা ১৫৫, মুন্তাখাব হাদিস, ঈমান অধ্যায়-পৃষ্ঠা নং ৩৩।
.
হাদিস ইংগিতঃ
.
১। হাদিসটিতে সাইয়েদুল মুরসালিন হাবিবুল্লাহ হুজুরেপাক আলাইহিস সালাম স্বীয় আদরের উম্মতদের প্রতি সীমাহীন স্নেহ ও মায়া প্রদর্শন করতে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে উম্মতদের ‘ভাই’ হিসেবে সম্ভোধন করিয়াছিলেন।
.
২। উপস্থিত সাথীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে দয়াল নবীর সাঃ মুবারক দরবারে রেসালাত বরাবর বিনীত স্বরে জিজ্ঞাসা করে জানতে চাহিলেন, নিজেরা কেন ভাই হিসেবে এ অমূল্য সার্টিপিকেট লাভ করতে পারবেন না?
.
প্রত্যুত্তরে তিনি তাঁদেরকে একটি শান্তনা পুরুষ্কার হিসেবে ‘সাহাবী’ উপাধি দিয়ে দিলেন। আর কেয়ামত অব্দি তাঁর যত উম্মাত দুনিয়ায় আসবে এবং তাঁকে না দেখেই তাঁর রেসালতের স্বীকৃতি দেবে; সবাই উক্ত হাদিসের ভাষ্য মতে ‘ভাই’ উপাধি লাভ করবে।
.
এবার বুঝে থাকলে বলুন “তাকবিয়াতুল ঈমান” ৬০ নং পৃষ্ঠায় ‘নবীপাক (সা)-কে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতে হবে’ এমন কথা উল্লেখ রয়েছে বলা যেতে পারে কিভাবে? অথচ হাদিসের ব্যাখ্যাস্বরূপ কিতাবটির ভাষ্য হল “পৃথিবীর সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। যে বেশি মর্যদাবান সে বড় ভাই, তাঁকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান কর।”
.
♪শাহ সাহেবের বক্তব্যের সমষ্টি :
.
১-
বনী আদম সবাই পরস্পর ভাই ও বন্ধু, প্রত্যেকের আদি-পিতা হলেন হযরত আদম (আ)।
.
২-
কিন্তু মর্যাদা আর বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে প্রত্যেকে সমান নয়, কাজেই যাদের মান-মর্যাদা আর বৈশিষ্ট্য তুলনাহারে বেশী, তারা তুলনাহারে বেশী মর্যদাবান।
.
হাদিসের সুস্পষ্ট ইংগিতে বুঝা যায়, বিশ্বনবী (সা) তিনি এক দিক থেকে রূহানী ভাবে হযরত আদম (আ)-এরও পূর্বেকার, কিন্তু জিসমানী (সৃষ্টগত বা শারিরীকভাবে) তিনি হযরত আদম (আ)-এর অনেক পরে স্বীয় মাতৃগর্ভে সৃষ্ট। (দলিল আরেকটু সামনে।)
.
এ হিসেবে তিনি আদমজাত শেষনবী ও আদমজাত পুত্রদের সর্বাপেক্ষা বড়ভাই এবং রোজ-কেয়ামতে সকল বনী আদমের (আ) সর্দারও।
.
বিশ্ববিখ্যাত হাদিসের কিতাব “মুসতাদরিকে হাকিম” এর ২য় খণ্ডের ৭২২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হাদিসে কুদসীর সুস্পষ্ট ভাষ্য :
.
আল্লাহপাক এরশাদ করলেন- ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﻭ ﻛﻴﻒ ﻋﺮﻓﺖ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻭ ﻟﻢ ﺃﺧﻠﻘﻪ؟ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺘﺪﺭﻙ অর্থাৎ হে আদম! তুমি মুহাম্মদ (সাঃ) এর পরিচয় কীভাবে লাভ করলে? অথচ আমি এখনও তাঁকে সৃষ্টি করিনি।”
.
উক্ত হাদিসে কুদসী দ্বারা এ কথা পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, জিসমানী (সৃষ্টগত বা শারিরীকভাবে) তিনি হযরত আদম (আ)-এর অনেক পরে স্বীয় মাতৃগর্ভে সৃষ্ট।”
.
কিন্তু আহলে বাতিল রেজভিদের আক্বিদা বিশ্বাস যেহেতু অসার আবেগপ্রবণ আর পীর-ফকিরী এশক নির্ভর সেহেতু তাদের নিকট কুরআন আর হাদিসের বাণী গ্রহণযোগ্য না হওয়াই স্বাভাবিক! আর এতে আমাদেরই বা করার কী আছে?
.
সুতরাং পরিশেষে বুঝা গেল, বিশ্বনবী (সা) -কে ভিন্ন আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাই সম্বোধন করার দ্বারা শাহ সাহেব (আলাইহির রাহমাহ)-এর উপর রেজাখাঁ’র তাকফীরের হুকুম লাগানো পুরোপুরিভাবে ভুল ও চরম ভ্রষ্টতা ছিল।
.
হ্যাঁ, বিতর্কের খাতিরে যদি মেনেও নিই যে, তিনি নবীপাক (সাঃ)-কে সরাসরি বড় ভাই বলেছেন, তাহলে কি রেজভিরা এজন্য তাঁকে কাফির বলতে পারবে? যদি তাই হয়, তাহলে নবীজি সাঃ হাদিসে উম্মতদের ভাই সম্ভোধন করলেন কেন? নবীজি সাঃ কি ভাই সম্ভোধন করে উম্মতকে কুফুরি কালাম শিক্ষা দিয়ে গেলেন? নাউযুবিল্লাহ।
.
আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, রেজভি/ভাণ্ডারি সুন্নীরা মানুষকে প্রতারিত করার জন্য ও তাদের বড়পীর রেজাখানের অগণিত কুফুরি ফতুয়া ঢাকার জন্য সুপ্রসিদ্ধ কিতাব ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’র ওপর এভাবে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে থাকে। যার শতকরা শতভাগই তালগোল পাকানো ও বানোয়াট।
.
মন্তব্য: পবিত্র কুরআনে বলেছে, ﻭ ﻻ ﺗﻘﻮﻟﻮﺍ ﻟﻤﻦ ﺍﻟﻘﻲ ﺍﻟﻴﻜﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻟﺴﺖ ﻣﺆﻣﻨﺎ অর্থ কেউ তোমাদের মঙ্গল কামনা করলে বা শ্রদ্ধা জানালে ইহজীবনের সম্পদের লোভে তাকে বলো না : তুমি মুমিন নয়। (সূরা নিসার ৯৪)
.
হাদিসে ইরশাদ রয়েছে—
.
ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻻﺧﻴﻪ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻳﺎ ﻛﺎﻓﺮ ﻓﻘﺪ ﺑﺎﺀ ﺑﻪ ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻭﺍﻻ ﺭﺟﻊ ﻋﻠﻴﻪ
.
‘যে তার কোনো মুসলমানকে বলবে হে কাফের! তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের দুজনের একজন একথার পাত্র হবে। যদি সম্বোধিত ব্যক্তি এমনই হয়, তবে তো তা ই, অন্যথা কথাটি বক্তার দিকে ফিরে আসবে।’
.
তাকবিয়াতুল ঈমানে ইসমাঈল শহিদ রহঃ যে ভাবে লিখেছেন সেভাবে উদ্ধৃতি না দিয়ে, বরং নিজের খেয়াল খুশি মাফিক বক্তব্য নকল করে যারা তাঁর সাথে তাকফিরের হুকুম লাগিয়েছে, উপরোক্ত হাদিস মতে সেই কুফুরির অপবাদ তাদের দিকেই ফিরে আসবে। অর্থাৎ রেজাখার ঐ মিথ্যাচারকে যারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিয়েছে আর যাচাই বাচাই করা ছাড়া শাহ ইসমাঈল শহিদ (রহঃ) এর শানে তাকফিরের হুকুম লাগিয়েছে, তারা প্রত্যেকে জনে জনে কাফির হয়ে গেছে। যেহেতু উপরোক্ত হাদিস তাই বলে।
.
‘সচেতন পাঠক পাঠিকা, যারাই ‘তাকবিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের নাম ভেঙ্গে শাহ ইসমাঈল শহিদ রহঃ এর শানে মিথ্যাচার করেছেন, এবং শাহ্ ইসমাইল শহীদ রহঃ কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন তারা আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
.
লিখেছেন : প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী। পরিচালক : একটি চমৎকার ইসলামিক ওয়েব সাইট ‘মারকায উমর ডটকম’।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন