মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

নবী ও রাসূলের প্রামাণ্য সংজ্ঞা কী?

সালফে সালেহীন ইসলামী বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত বক্তব্য অনুসারে নবী ও রাসূল এর প্রামাণ্য সংজ্ঞা নিচে দেয়া হল-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
.
আল্লাহতালা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হিদায়াত এর উদ্দেশ্যে নবী এবং রাসূল (আলাইহিমুস সালাম) উনাদের প্রেরণ করেছেন। পৃথিবীতে সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি খাতামুন্নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (সা)। তিনি মনুষ্য জাতি হতে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মাতৃগর্ভে স্বাভাবিক ভাবেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেন। ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
uzbic
আমাদের পবিত্র কুরআনের সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের ভাষ্য মতে, হযরত মুহাম্মদ (সা)-ই সর্বশেষ নবী। তারপর কোনো ধরণের নবী হবার সম্ভাবনা নেই। হোক সে নতুন শরীয়ত বাহক কিংবা আগের নবীর অনুকরণ আর অনুসরণে নতুন শরীয়ত বিহীন কেউ। তাই এবার আমাদের জানার বিষয় হল, নবী এবং রাসূল এ দুটি শব্দের বর্ণনায় সালফে সালেহীন ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ কী ব্যক্ত করে গেছেন! সংক্ষেপে নিম্নরূপ-
.
১- নবীর পরিচিতি: 
.
(ক) নবী শব্দের আক্ষরিক অর্থ বার্তাবাহক। কিন্তু পরিভাষায় ‘মিছবাহুল লুগাত’ অভিধানের ৮৪৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে

“আল্লাহ কি তরফ ছে গায়েব কি বাতীঁ বাতানে ওয়ালা। খোদা কি তরফ ছে পয়গম্বর।”
অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ হতে অদৃশ্য বার্তার প্রবক্তা বা আল্লাহর পক্ষ হতে বার্তাবাহক।
.
(খ) শরহে আক্বায়েদ আন-নাসাফী কিতাবের সম্মানিত লেখক প্রখ্যাত আকাইদ শাস্ত্রের ইমাম আল্লামা তাফতাযানী (রহ) লিখেছেন :

“নবী হলেন তাঁরা যাঁদেরকে আল্লাহতালা সৃষ্টি জগতের প্রতি শরীয়তের বাণী পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন। তবে এতে নতুন শরীয়ত তথা নতুন আসমানি কিতাব থাকা শর্ত নয়।”
.
(গ) আল্লামা শাহ আনোয়ার কাশ্মীরি (রহ) লিখেছেন : “নবীকে নতুন শরীয়ত বিহীন (আগের নবী রাসূলের অনুকরণ আর অনুসরণে) প্রেরণ করা হয়।”
.
২- রাসূল এর পরিচিতি:
.
আল্লামা ইমাম তাফতাযানী (রহ) লিখেছেন : الرسول انسان بعثه الله تعالي الي الخلق لتبليغ الاحكام و قد يشترط فيه الكتاب بخلاف النبي فانه اعم. كذا في شرح عقائد النسافي
.
অর্থাৎ “রাসূল হলেন তাঁরা যাঁদেরকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি জগতের প্রতি ইসলামী শরীয়তের তাবলীগ করার জন্য প্রেরণ করেছেন এবং তাদের ক্ষেত্রে নতুন আসমানি কিতাব (তথা নতুন শরীয়ত) হওয়া শর্ত।”

প্রসিদ্ধ আক্বায়েদ কিতাব “এক্বদুল ফারায়েদ” কিতাবের ২৪ নং পৃষ্ঠাতেও এমনি উল্লেখ রয়েছে।
.
এককথায় আমরা অবশেষে বুঝলাম যে, রাসূল হতে হলে নতুন শরীয়ত সহ নতুন কিতাবপ্রাপ্ত হতে হবে। তবে নবীদের জন্য নতুন কিতাব বা নতুন শরীয়তপ্রাপ্ত হওয়া শর্ত নয়। সেজন্য প্রত্যেক নবীকে রাসূল বলা যাবেনা, তবে প্রত্যেক রাসূল একই সাথে নবী ও রাসূল— দুটোই।
.
উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টয়লেটে চুবিয়ে মরা মির্যা কাদিয়ানী সাপ নিজেকে নবী এবং রাসূল হওয়ার দাবি করেছিল। যেজন্য সর্বসম্মতভাবে মির্যা আর তার অনুসারী কাদিয়ানী জামাত ইসলাম হতে খারিজ ও মুরতাদ।

♦মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে নতুন শরীয়তবাহক রাসূল দাবি করার প্রমাণ :
.
মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশীরুদ্দিন মাহমুদ “হাকীকাতুন নবুওয়াত” পুস্তকে কতেক তথাকথিত ইলহামকে তার পিতার নবী এবং রাসূল হওয়ার পক্ষে স্বতন্ত্র দলিল বলে উল্লেখ করেছেন। এরূপ ৩৯টি ইলহামের উল্লেখ তিনি করেছেন। আমি তন্মধ্য হতে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করছি। যেমন –
.
১- মির্যার কথিত আরবী ভাষার ইলহামের একটি ছিল এই যে, اني مع الرسول أقوم و أفطر و أصوم অর্থাৎ আমি (আল্লাহ) রাসূলের সাথে কিয়াম করব, রোযা রাখব এবং ইফতার করব।
.
২- আরেক স্থানে রয়েছে : هو الذي أرسل رسوله بالهدي و دين الحق و تهذيب الأخلاق. অর্থাৎ তিনি আল্লাহ যিনি তার রাসূলকে (কাদিয়ানী) পাঠিয়েছেন হিদায়াত দিয়ে, সত্য দীন দিয়ে এবং চরিত্রের সংস্কারকর্ম দিয়ে।
.
৩- আরেক জায়গায় রয়েছে : إني مع الرسول أقوم و ألوم من يلوم অর্থাৎ আমি রাসূলের (কাদিয়ানী) সাথে দাঁড়াব এবং তিরস্কার করব যাকে তিনি তিরস্কার করবেন।
.
৪- আরেকটি জায়গায় এটিও রয়েছে যে, سيقول العدو لست مرسلا سنأخذه من ماره او خرطوم অর্থাৎ শত্রুরা বলবে, তুমি রাসূল নও। আমি (আল্লাহ) অচিরেই ধরব তার নাকের নরম জায়গা বা শক্ত জায়গা।
.
৫- কথিত আরেকটি ইলহামের ভাষ্য হল, إني مع الرسول أقوم و من يلومه ألوم অর্থাৎ আমি আমার রাসূলের সাথে দাঁড়াব। যাকে তিনি শাসন করবেন, আমিও করব।”
.
এভাবে মির্যা কাদিয়ানী কথিত খোদায়ি ইলহামের প্রচারণার মাধ্যমে মির্যা নিজেকে আল্লাহতালার তরফ হতে প্রেরিত একজন নতুন নবী রাসূল বলে দাবি করেছিল। তো কাদিয়ানীরা এর পরেও মির্যাকে মুরতাদ বলে স্বীকার না করলে আমাদের কিবা করার আছে! আল্লাহতালা আমাদের বুঝার তাওফিক দিন, আমীন।
.
লেখক, প্রিন্সিপাল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন