বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিদ্রোহী শাহজাদা

ছোটটো একটি গ্রাম। তাও আবার আমাদের এই বাংলাদেশে নয়। একেবারে পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলার অজপাড়াগাঁয়ে। চারদিকে ধান কাউনের উম উম গন্ধ। পাখ-পাখালির কিচির মিচির আওয়াজ। সন্ধ্যায় শোনা যায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার ঝাঁঝাল ডাক। কি সুন্দর তাই না? এই গ্রামের মানুষ আবার লেটো গান ভালবাসতো। একদিন রাতে তারা ‘লেটো’ গানের আসর বসালো। আশ-পাশের বিশ গ্রামের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়লো সে গান শুনতে!
গানতো নয়, লড়াই! পুরোপুরি দুই দলের লড়াই। তবে গোলা বন্ধুক দিয়ে নয়, কবিতা দিয়ে। কি মজার কান্ড বলতো। তুমুল লড়াইয়ের পর এক পক্ষ হারে হারে অবস্থা ঠিক তখনি ঐ দলের এক পুঁচকে ছেলে লাফ দিয়ে উঠলো। এই ধরো তোমাদেরই মত বয়স বা তারও কম। হাত পা নাচিয়ে মাথার চুল দুলিয়ে গান শুরু করলো। এক এক করে বিপক্ষ দলের সব কটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল। কি তাজ্জব ব্যাপার। ঐ অতটুকু ছেলে এতকিছু জানে কারোরই বিশ্বাস হয় না। সবারই মনে উঁকিঝুঁকি মারছে নানা প্রশ্ন। এ শাহজাদা কোত্থেকে এল? কি তার পরিচয়? শাহজাদাটি কিন্তু বিপক্ষ দলের প্রশ্নের উত্তর দিয়েই ক্ষান্ত হলো না। সে নিজেই প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে বিপক্ষ দলকে হারিয়ে দিলো। সমস্ত আসর উল্লাসে ফেটে পড়ল। পুচকে শাহজাদাটি ততক্ষণে মানুষের মাথার উপর পুতুলের মত নাচছে। দলের সরদার জিতে যাওয়ার আনন্দে বাগ বাগ হয়ে জড়িয়ে ধরলেন শাহজাদাকে। বললেন-
‘ওরে আমার ব্যাঙাচি
বড় হয়ে তুই একদিন সাপ হবি।’
সরদারের কথা কিন্তু ঘটেছিল, সে খুউব বড় কবি হয়েছিল। কি তোমরা পরিচয় জানার জন্য উসখুস করছো তাই না? অবশ্য করার কথা। তবে এসো তোমাদের সাথে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিই-তিনি হচ্ছেন আমাদের সবার পরিচিত এবং প্রিয় কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি আমাদের জাতীয় কবি।
১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত। পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয়া পত্নী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। তার বাবা ছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম| তারা ছিলেন তিন ভাই এবং বোন। তার সহোদর তিন ভাই ও দুই বোনের নাম হল: সবার বড় কাজী সাহেবজান, কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন, বোন উম্মে কুলসুম। কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”।
তোমরা হয়তো ভাবছ শাহজাদাদেরতো হাতী শালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া, পাইক, বরকন্দাজ ইত্যাদি কত কিছু থাকে, এ শাহজাদাটিরও নিশ্চয়ই আছে। আসলে এ শাহজাদার এসব কিছুই নেই। বরং বলা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত, একেবারে মিসকীনি হালত। কিন্তু হলে কি হবে? তাঁর মনটাতো আর মিসকিন নয়, একেবারে শাহজাদার শাহজাদা। ঐ যে তোমরা শুনছো না পাতালপুরির ঐ ঘুমন্ত শাহজাদার কথা। সেই যে রূপার কাঠি আর জিয়ন কাঠির পরশে রাজকন্যার ঘুম ভাঙলো! আমাদের আজকের শাহজাদা সেই পাতালপুরীতে যেতে চান কিন্তু ঐ রকম ঘুমাতে না, সবকিছুকে ভেঙে চুরে নিজের হাতের মুঠোয় নেবার জন্য। যেমন তিনি বলেছেন-
পাতাল ফুঁড়ে নামবো আমি
উঠবো আমি আকাশ ফুঁড়ে
বিশ্বজগত দেখব আমি
আপনা হাতের মুঠোয় পুরে।
মাত্র আট বছর বয়সে আব্বা মারা যাওয়ায় সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। এ জন্য লেখাপড়ার ইতি টেনে ঐ বয়সেই কখনো মসজিদের ইমামতি, কখনো মক্তবের শিক্ষকতা করে সংসার চালাতে থাকেন। কিন্তু যারা চিরবিদ্রোহী তাঁরা চায় স্বাধীন জীবন। গ্রাম হতে চলে এসে আসানসোল শহরে রুটির দোকানে চাকরি নেন। কষ্টের কথা ছড়ায় বলতেন এভাবে-
মাখতে মাখতে গমের আটা
ঘামে ভিজতো আমার গা’টা।
এখান হতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি হন। এরপর ভর্তি হন রাণীগঞ্জ সিয়ারসোল হাই স্কুলে। যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র ঠিক সেই সময়েই শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই হাবিলদার হন। এইখান হতেই তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকে। পত্র-পত্রিকায় প্রচুর কবিতা ছাপা হতে থাকে তাঁর। ১৯১৯ সালে ভয়ঙ্কর এই যুদ্ধ শেষ হয়। দেশে ফিরেই লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’। কি পড়নি-
বল বীর-
বল উন্নত মম শির।
হ্যাঁ এই কবিতা আমাদের কবি শাহজাদাকে এক রাতের মধ্যেই বিদ্রোহী শাহজাদাতে পরিণত করে। এরপর দু’হাতে লিখতে থাকেন অজস্র লেখা। এ লেখাগুলোর প্রায় সবগুলিই ছিল অন্যায়, অবিচার আর শোষণের বিরুদ্ধে। সে সময়কার ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধেও তিনি শক্ত হাতে কলম ধরেন। তাঁর কলমের ডগা দিয়ে বেরুতে থাকে লকলকে আগুন। তিনি লেখেন-
এদেশ ছাড়বি কিনা বল
নইলে কিলের চোটে হাড় করিব জল।
আরও লেখেন ‘ভাঙার গান’, ‘বিষের বাঁশী’, ‘প্রলয় শিখার’ মত বিদ্রোহী কাব্য। ইংরেজ সরকার রেগে গেলেন, কবিকে ঢোকালেন জেলে। কিন্তু জেলে ঢোকালে কি হবে? তিনি সেখান থেকেই অন্যান্যদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঘোষণা করলেন-
এই শিকল পরা ছল মোদের
এই শিকল পরা ছল
এই শিকল পরেই শিকল তোদের
করবো রে বিকল।
তিনি আরো বললেন-
কারার ঐ লৌহ–কপাট
ভেঙ্গে ফেল্‌ কর্‌ রে লোপাট রক্ত –জমাট
শিকল –পূজার পাষাণ –বেদী!
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় –বিষাণ ! ধ্বংস –নিশান
উঠুক প্রাচী –র প্রাচীর ভেদি’।। ইত্যাদি।
গানের ক্ষেত্রে বিদ্রোহী শাহজাদা সবার ওপরে। গানের মুকুটহীন এই সম্রাট এর রেকর্ডকৃত গানের সংখ্যা অন্য সকলের চেয়ে বেশি।
তিনি ছোটদের মনের কথাটা খুলে বলতে পারতেন। আর কেউ তাঁর মত সুন্দর করে বলতে পারেন নি। তাই তিনি সবার মত ছোটদেরও আত্মার আত্মীয়, একান্ত আপনজন। যেমন-
“আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি।
“সুয্যি মামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন’, মা বলবেন রেগে।
বলব আমি- ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক,
হয়নি সকাল, তাই বলে কি সকাল হবে নাক’?
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে ?
তোমার ছেলে উঠবে মা গো রাত পোহাবে তবে।

‘খুকু ও কাঠ বেড়ালী’ ছড়াটি কি তোমাদের মনে পড়ে? হ্যাঁ! কি যেন-
কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও-
ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!

তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!

‘ভোর হলো’ কবিতাটি তোমাদের সবারই একান্ত প্রিয়, কি বলো? সবার মুখস্ত আছে নিশ্চয়ই-
ভোর হল, দোর খোল,
খুকুমণি ওঠ রে।
ঐ ডাকে জুঁই শাখে,
‘ফুল খুকী ছোট রে।
খুলি’ হাল তুলি’ পাল
ঐ তরী চলল।
এই বার এই বার
খুকু চোখ খুলল।
এত বড় কবি হয়েও তিনি ছিলেন খুব হাসি-খুশী ও রসিক মানুষ। হো হো করে অট্টহাসি হাসতেন। ছোটরা যে নানা দাদার সাথে হাসি তামাশা করে কবি সেটা তাঁর ‘খাঁদু দাদু’ কবিতায় সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
যেমন-
অমা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?
খাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং।
ওঁর নাকটাকে কে করল খাঁদা র‍্যাঁদা বুলিয়ে?
চামচিকে ছা বসে যেন ন্যাজুড় ঝুলিয়ে!
বুড়ো গরুর পিঠে যেন শুয়ে কোলা ব্যাং!
অমা! আমি হেসেই মরি নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং
ওঁর খ্যাদা নাকের ছেঁদা দিয়ে টুকি কে দেয় ‘টু’।
ছোড়দি বলে সর্দি ওটা, এরাম! ওয়াক থুঃ।
কাছিম যেন উপুর হয়ে ছাড়িয়ে আছেন ঠ্যাং।
অমা! আমি হেসেই মরি, নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং।
দাদুর নাকি ছিল না মা অমন বাদুড়- নাক
ঘুম দিলে ঐ চ্যাপটা নাকেই বাজতো সাতটা শাঁখ।
দিদিমা তাই থ্যাবড়া মেরে ধ্যাবড়া করেছেন!
অ মা! আমি হেসে মরি, ন্যাক ডেঙ্গাডেং ড্যাং।
বিয়ের মত খোশ খবর পেলে ছোটরা যে কি মজা পায়, নিজেরাই বিয়ে করার জন্য বায়না ধরে। ‘খোকার খুশী’ কবিতায় কবি সুন্দর করে ছোটদের মনের ভাবটা ‍তুলে ধরেছেন-
কি যে ছাই ধানাই পানাই ,
সারাদিন বাজছে সানাই।
এদিকে কারুর গা নাই
আজিনা মামার বিয়ে!
বিবাহ! বাহ কি মজা
সারাদিন গন্ডা গজা
গপাগপ খাওনা সোজা
দেয়ালে ঠৈসান দিয়ে।।
এই কবিতারই শেষে বলেছেন-
সত্যি, কওনা মামা
আমাদের অমনি জামা
অমনি মাথায় ধামা
দেবেনা বিয়ে দিয়ে?
মামীমা আসলে এ ঘর
মোদেরও করবে আদর?
বাহ! কি মজার খবর।
আমি রোজ করব বিয়ে।।
ওদিকে ‘খোকার বুদ্ধি’ কবিতা পড়লে তো হাসিতে দম আটকে আসতে চাইবে।
সাতটি লাঠিতে ফড়িং মারেন
এমনি পালোয়ান।
দাঁত দিয়ে সে ছিঁড়লো সেদিন
আস্ত আলোয়ান!
ন্যাংটা-পুঁটো দিগম্বরের দলে তিনিই রাজা,
তাঁরে কিনা বোকা বল? কি এর উচিত সাজা?
‘খোকার গল্প বলা’ কবিতাটাতো আরো মজার, আরো আনন্দের। বলতে গেলে তোমাদের জন্য এক থালা গরম সন্দেশ।
মা ডেকে কন, ‘ খোকন-মণি! গপ্‌প তুমি জান?
কও তো দেখি বাপ!’
কাঁথার বাহির হয়ে তখন জোর দিয়ে এক লাফ
বললে খোকন, গপ্‌প জানি, জানি আমি গানও!’
ব’লেই ক্ষুদে তানসেন সে তান জুড়ে জোর দিল-
‘একদা এক হাঁড়ের গলায় বাঘ ফুটিয়াছিল!’
এই কবিতার অন্যত্র বলেছেন-
একদিন না রাজা-
হরিণ শিকার করতে গেলেন খেয়ে পাঁপড় ভাজা
রাণী গেলেন তুলতে কলমি শাক
বাজিয়ে বগল টাক ডুমাডুম টাক
রাজা শেষে ফিরে এলেন ঘরে-
হাতীর ম-মতন একটা বেড়াল বাচ্চা শিকার করে।
‘পিলে পটকা’ কবিতাটিতেও প্রচুর হাসির খোরাক মিলে-
উটমুখো সে সুঁটকো হাশিম
পেট যেন ঠিক ভুটকো কাছিম।
চুলগুলো সব বাবুই দড়ি-
ঘুসকো জ্বরের কাবুয় পড়ি।
তিন কেনা ইয়া মস্ত মাথা,
ফ্যাচকা চোখে; হন্ত? হাঁ তা
ঠিক গরিলা, লোবনে ঢ্যাঙা!
নিট পিঠে ঠ্যাং সজনে ঠ্যাঙা।
কল্পনাপ্রবণ শিশুরা কল্পনায় সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি জমায়।
যেমন-
থাকব না’ক বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে
মরছে যে বীর লাখে লাখে।
কিসের আশায় করছে তারা
বরণ মরণ যন্ত্রণাকে।
কবির এই সংকল্প কবিতাটি শিশু মনের চিরন্তন খোরাক। কবিতাটিতে শিশু মনের নানা কথা বলা হয়েছে, যা শিশুদের জন্য একান্ত আপন। কবিতাটির শেষ দু’লাইন হচ্ছে-
পাতাল ফেড়ে নামব আমি
উঠব আমি আকাশ ফুঁড়ে,
বিশ্বজগৎ দেখব আমি
আপন হাতের মুঠোয় পুরে।
অন্যত্র ‘সাত ভাই চম্পা’ কবিতায় কবি লিখেছেন-
সপ্ত সাগর পাড়ি দেব আমি সওদাগর
সাত সাগরে ভাসবে আমার সপ্ত-মধুকর।
সব কালের সব ধরনের শিশুদের ফলমূল চুরি করে খাওয়ার মত রোমাঞ্চকর অভ্যেস প্রচলিত আছে। আম, জাম, লিচু এগুলো তাদের কাছে লোভনীয়ও বটে। তবে এ সমস্ত কাজ নির্বিঘ্নে করা সম্ভব নয়, বিপদ আপদ এসে ঘাড়ে চাপে। সে কথাটি কবির ‘লিচুচোর’ কবিতায় অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।
তাঁর ঝিঙে ফুল কবিতা অপূর্ব ছন্দে রচিত। ছোটরা যখন কবিতা পড়ে তখন তারা ছন্দের দোলায় দুলে ওঠে-
ঝিঙে ফুল। ঝিঙে ফুল।
সবুজ পাতার দেশে
ফিরোজিয়া ফিঙে ফুল
ঝিঙে ফুল—-।
গুল্মে পর্ণে
লতিকার কর্ণে
ঢল ঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলে দুল
ঝিঙে ফুল।।
মোটকথা কবির ছিল একটা সুন্দর শিশু মন। যে মন দিয়ে তিনি বাংলার প্রতিটি শিশুর মনের কথা বুঝতে পারতেন।
কাল ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কবি লেখার কাজ বেশিদিন চালাতে পারেন নি। কলম গেল বন্ধ হয়ে, মুখের ভাষাও আর শুনতে পেলনা কেউ। এরপরও দীর্ঘ ছত্রিশ বছর বেঁচে থাকার পর আমাদের রাজধানী ঢাকা শহরের পিজি হাসপাতালে ১৯৭৬ সালের ২৯শে অগাস্ট তারিখে ‘বিদ্রোহী শাহজাদা’ সবার সাথে বিদ্রোহ করে সর্বশ্রেষ্ঠ বাদশাহ সবার যিনি সৃষ্টিকর্তা সেই আল্লাহর দরবারে পাড়ি জমালেন। ইন্নালিল্লাহে ———-রাজিউন।
কবির একান্ত ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর তার কবর যেন মসজিদের পাশে হয়।
মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই
যেন গোরে থেকেও মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।
তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই তাঁকে কবর দেয়া হয়েছে। একবার এসে তোমাদের প্রিয় ‘বিদ্রোহী শাহজাদার’ কবরটি যিয়ারত করে যেও। কেমন?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন