শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

আলি ও মুয়াবিয়া রা.- এর ভ্রাতৃত্ববোধ


আলি ও মুয়াবিয়া রা. মধ্যকার ঝগড়ার মূল কারণ ও মুয়াবিয়া কর্তৃক আলি রা. কে প্রাধান্য দেয়ার বিনয়াবনতা কতটুকু ছিল- তা পড়ুন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ হাফিয আল্লামা শামসুদ্দিন যাহাবি রহ. - এর বর্ণনায়। 
جاء أبو مسلم الخولاني وأناس إلى معاوية ، وقالوا : " أنت تنازع عليا أم أنت مثلُه ؟ فقال: لا والله ، إني لأعلم أنه أفضل مني وأحق بالأمر مني ، ولكن ألستم تعلمون أن عثمان قتل مظلوما ، وأنا ابن عمه ، والطالب بدمه ، فأتوه ، فقولوا له ، فليدفع إليّ قتلة عثمان ، وأُسَلِّم له . فأتوا عليا ، فكلموه ، فلم يدفعهم إليه " انتهى من 'سير أعلام النبلاء' ( ج3 ص140، ط: دار الكتب العلمية، بيروت)

অর্থঃ আবু মুসলিম খাওলানি ও আরও কতিপয় লোক হযরত মুয়াবিয়া রা. এর কাছে আগমন করলেন। এসে তারা বললেন, আপনি আলি রা. এর সাথে ঝগড়া করে চলছেন কেন, আপনি কি তাঁর মত? তাদের এই কথা শুনে মুয়াবিয়া রা. জবাব দিলেন, না! কসম আল্লাহর, আমি খুব ভাল করেই জানি যে, আলি রা. আমার চেয়ে উত্তম এবং ক্ষমতার ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক বেশি অধিকারী। তবে আপনারা কি জানেননা যে, উসমান রা. কে মজলুম অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। আম তার ভাতিজা ও তার রক্তপনের দাবিদার। তোমরা তার কাছে যাও, তাকে বলো যে, তিনি যেন উসমান রা. এর হক্ত্যাকারীদের আমার সোপর্দ করেন, তাহলে আমি তার কাছে আত্মসমর্পণ করে নেব। সুতরাং তারা আলি রা. এর কাছে আসলো। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলল। কিন্তু তিনি হত্যাকারীদেরকে সোপর্দ করেননি। (সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৪০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত হতে প্রকাশিত)
আলি রা. কী বলেছিলেন হযরত মুয়াবিয়া রা. এর ব্যাপারে- তা পড়ুন হাফিয ইবনে কাসির, হাফিয ইবনে আসাকির ও হাফিয যাহাবি রহ. এর নিম্নোক্ত বর্ণনায়।
قال علي رضي الله عنه بعد رجوعه من صفين :أيها الناس لاتكرهوا إمارة معاوية فإنكم لو فقدتموها رأيتم الرؤوس تندر من كواهلها كأنها الحنظل. (البداية والنهاية ج8 .ص134 ط: دار الحديث، القاهرة و تاريخ مدينة دمشق، ج56، ص15. ط: مؤسسة الرسالة و تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير والأعلام ج4 ص311. ط: المكتبة الوقفية، القاهرة)
অর্থঃ আলি রা. সিফফীনের যুদ্ধ থেকে ফেরার পর বললেন, হে লোকসকল! তোমরা মুয়াবিয়া রা. এর শাসনকে অপছন্দ করোনা। কেননা, যদি তোমরা তার মত ব্যক্তিকে হারিয়ে ফেল, তাহলে হানযাল ফলের মত মানুষের মস্তকগুলো ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেখবে! (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খন্ড-৮, পৃষ্ঠা-১৩৪, দারুল হাদিশ মিশর ও তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, খন্ড- ৫৬, পৃষ্ঠা- ১৫, মুআসসাতির রিসালাহ হতে প্রকাশিত ও তারীখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহীর ওয়াল আ'লাম, খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৩১১, আলমাকতাবাতুল ওয়াকফিয়্যাহ হতে প্রকাশিত)
আলি রা. এর মৃত্যু সংবাদ শুনে কী বলেছিলেন মুয়াবিয়া রা. - তা পড়ুন ইবনে আসাকিরের বর্ণনায়।
عن المغيرة قال لمَّا جيء معاوية بنعي علي وهو قائل مع امرأته بنت قرظة في يوم صائف قال: إنَّا لله وإنَّا إليه راجعون ماذا فقدوا من العلم والحلم والفضل والفقه، فقالت امرأته: أنت بالأمس تطعن في عينيه وتسترجع اليوم عليه، قال: ويلك لا تدرين ماذا فقدوا من علمه وفضله وسوابقه.(تاريخ مدينة دمشق، ج42، ص583).
হযরত মুগীরা বিন শু'বাহ রা. থেকে বর্ণিত, যখন মুয়াবিয়া রা. এর কাছে আলি রা. এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, গরমের মওসুমে তখন মুয়াবিয়া তার স্ত্রী বিনতে কুরযাকে নিয়ে ক্বাইলুলার (দুপুরে বিশ্রাম) সুন্নাত আদায় করছিলেন। কিন্তু মৃত্যু সংবাদ শুনতেই বলে উঠলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন! মানুষেরা কতইনা জ্ঞান, সহনশীলতা, মাহাত্ম্য ও ফিক্বহ- কে হারাল! তার এই আফসোস শুনে তার স্ত্রী বলে উঠলেন, আপনি গতকাল তার চোখে বর্শাঘাত করেন আর আজ তার জন্য ইন্না লিল্লাহ পড়ছেন?!!! প্রতিউত্তরে মুয়াবিয়া রা. বললেন, তুমি জানোনা লোকেরা তার কতইনা জ্ঞান, মাহাত্ম্য-মর্যাদা ও অবদানকে হারাল!!! (তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, খন্ড- ৪২, পৃষ্ঠা- ৫৮৩, প্রকাশনী ঐ)
এছাড়াও আম্মামা ইবনে আব্দিল বার আল-মালিকি রহ. তার আল-ইস্তি'আব গ্রন্থে একটি লম্বা বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। সে বর্ণনায় আছে যে, হযরত মুয়াবিয়া রা. যিরার আস-সুদাঈ কে সম্বোধন করে বললেন, হে যিরার! তুমি আমাকে আলি রা. এর গুণাগুণ বর্ণনা কর। তো যিরার আলি রা. এর বেশকিছু দুর্লভ গুণ বর্ণনা করেন। সব শোনার পর মুয়াবিয়া রা. বললেন, আল্লাহ রহম করুন আবুল হাসানের (আলি রা. এর উপনাম) উপর রহম করুন। কসম আল্লাহর সত্যিই তিনি এরকম গুণধর ব্যক্তি ছিলেন! (আল-ইস্তি'আব, খন্ড- ৩, পৃষ্ঠা- ১১০৭, দারুল মা'রিফাহ হতে প্রকাশিত)
 আলি রা. এর পরস্পর যুদ্ধ দেখে সুযোগের সৎ ব্যবহারের লিপ্সু রোম সম্রাটকে কী বলেছিলেন হযরত মুয়াবিয়া রা. - তা ফুটে এসেছে ইবনে কাসিরের নিম্নোক্ত বর্ণনায়।
فلما رأى ملك الروم اشتغال معاوية بحرب علي تدانى إلى بعض البلاد في جنود عظيمة وطمع فيه، فكتب معاوية إليه: والله لئن لم تنته وترجع إلى بلادك يا لعين لأصطلحن أنا وابن عمي عليك ولأخرجنك من جميع بلادك، ولأضيقن عليك الأرض بما رحبت. فعند ذلك خاف ملك الروم وانكف، وبعث يطلب الهدنة. (البداية والنهاية ج8 ذكر معاوية)
অর্থঃ যখন দেখতে পেল যে, মুয়াবিয়া রা. আলি রা. এর সাথে যুদ্ধে মত্ত, সে তার বিশাল সেনাবহর নিয়ে মুয়াবিয়া রা. এর শাসনাধীন কোন একটি ভূখণ্ড দখলের আশায় সেই ভূখন্ডের দিকে রওয়ানা করল। খবর পেয়ে মুয়াবিয়া. রা. তাকে চিঠি লিখলেন, হে অভিশপ্ত! যদি তুমি না থাম এবং তোমার দেশে ফিরে না যাও, তাহলে আমি এবং আমার চাচাতো ভাই (আলি রা.) তোমার বিরুদ্ধে একটি সমঝোতায় উপনীত হব এবং তোমাকে তোমার পুরো দেশ থেকে বিতাড়িত করব, এমনকি পৃথিবীকে তোমার জন্য সংকীর্ণ করে ছাড়ব! এই চিঠিখানা পেয়ে রোম সম্রাট ভয় পেয়ে যায় এবং থেমে পড়ে। অবশেষে মুয়াবিয়া রা. এর সাথে শান্তিচুক্তি তলব করে। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খন্ড-৮, মুয়াবিয়ার আলোচনা অধ্যায়, প্রকাশনী ঐ) 
.
উপরোক্ত বর্ণনাগুলো থেকে একথা প্রতীয়মান হল যে, রাসুলের মজলুম সাহাবি, কাতিবে ওহি হযরত মুয়াবিয়া রা.- এর আলি রা.- এর সাথে কোন বিদ্বেষ ছিলনা। একমাত্র উসমান রা. এর হত্যার প্রতিশোধকে কেন্দ্র করে উভয়ের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল এবং এরই জের ধরে তৈরি হয়েছিল একে অপরের দূরত্ব। যুদ্ধ-বিগ্রহ। রাজনৈতিক জটিলতা। টানটান উত্তেজনা। পারস্পরিক সমালোচনা ও শক্ত টাইপের কথা।
.
#আবুল_হুসাইন_আলেগাজি ভাই শিয়াদের ভাগাড় থেকে এতো এতো পুরনো মাল নতুনভাবে বাজারজাত করে যাচ্ছেন, কিন্তু আহলে সুন্নাহর এইসব বর্ণনা কি তাঁর চোখে পড়েনা? নাকি সাহাবি বিদ্বেষ তাঁর চোখকে অন্ধ বানিয়ে রেখেছে?!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন