শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইবন আল-হাইথাম – সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক


অতীতের মুসলিম স্কলারদের প্রতিভা, অর্জন এবং আধুনিক বিশ্বের জন্য তাদের অবদান দেখে সহজেই আশ্চর্য হতে হয়। সবাই তাদের কাজের মাধ্যমে এমন উদাহরণ রেখে গিয়েছেন যা পৃথিবী বদলে দিয়েছিল তাদের সময়, বদলে দিচ্ছে এখনও। তাদের মধ্যে আবার একজন ছিলেন অন্য সবার চেয়ে একধাপ উপরে। তিনি হচ্ছেন ইবন আল-হাইথাম। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে অবদান রাখা এক মহান স্কলার ধরণীর বুকে পদধূলি দিয়ে গিয়েছেন ৯৬৫ থেকে ১০৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
তিনি ইরাকের বসরা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন আব্বাসীয় খিলাফতের শাসনামলে। বাগদাদে আসেন ‘বাইতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০০ বছর পর। নিঃসন্দেহে তখন মুসলিম বিশ্বে জ্ঞানার্জন এবং অগ্রগতির যে সংস্কৃতি ছিল তা কিশোর ইবন আল-হাইথামকে অনেক প্রভাবিত করেছিল। তিনি ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করেন। বসরা শহরের মেয়র ছিলেন। এই সময়ে তিনি জ্ঞানার্জন চালিয়ে যান, বিজ্ঞান এবং অন্যান্য গবেষণামূলক বিষয়ের মনোনিবেশ করেন। যাই হোক, তাঁর বড় একটি সাফল্য কিন্তু এসেছিল মুসলিম বিশ্বের আরেক অঞ্চল থেকে।

মিশরে ইবন আল-হাইথাম
বসরা নগরীর মেয়র থাকার সময়ে, মিশরে ফাতেমীয় প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা আল-হাকিম (ফাতেমীয়রা ছিল ‘ইসমাইলি শিয়া’ যারা ইরাকে সুন্নীদের আব্বাসীয় খেলাফতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল) জানতে পারেন যে ইবন আল-হাইথাম নীল নদে বাঁধ দেয়ার ব্যাপারে অবদান রাখতে চান। আল-হাকিম ছিলেন একজন বিতর্কিত চরিত্রের মানুষ। তার উপর তিনি ছিলেন প্রচলিত প্রথার মতবিরোধী শিয়ার ইসমাইলি শাখার নেতা যা তৎকালীন বেশীরভাগ নেতাই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি তার রাজ্য যে কারো জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন যাতে তার রাজ্য এর মাধ্যমে উপকৃত হয়। ইবন আল-হাইথাম এর নীল নদে বাঁধ দেয়ার অভিপ্রায় বাস্তবে পরিণত করতে আল-হাকিম তাঁকে মিশরে আসার আমন্ত্রণ জানালেন। নদের সম্ভাব্য কোন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা যায় ব্যাপারটি যাচাই করতে ইবন আল-হাইথাম নীল নদ ভ্রমণ করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তৎকালীন প্রযুক্তি দিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বলে রাখা ভাল, এখানে আগে থেকেই একটা সমস্যা ছিলঃ আল-হাকিম তার অযৌক্তিক এবং অহেতুক নির্মম আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন, এবং মাঝে মাঝে ঘটনাক্রমে উন্মাদের মতোও আচরণ করতেন। কোন ধরনের শাস্তির থেকে রেহাই পেতে ইবন আল-হাইথাম এক বুদ্ধি বের করলেন, তিনি আল-হাকিম এর চেয়েও বেশী পাগলামী শুরু করলেন। তাঁর এই সাহসী আচরণ যদিও তাঁকে প্রাণদণ্ড থেকে রেহাই দিয়েছিল, কিন্তু কায়রোতে গৃহবন্দী হয়েছিলেন আল-হাকিম এর মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় ১০ বছরের জন্য।
সেই ১০ বছর এই মেধাবী বিজ্ঞানীর কাছে কোন ধরনের শাস্তিই মনে হয়নি। বরং গবেষণার জন্য যে নীরব এবং শান্তপূর্ণ পরিবেশ দরকার ছিল তা তিনি পেয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি ডুব দিয়েছিলেন আলোর জগতে, করেছিলেন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন আলো কি জিনিষ, কিভাবে কাজ করে, এবং মানুষ কোন জিনিষ কিভাবে দেখতে পায়। যদিও তিনি যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, আবিষ্কার করেছিলেন তা ছিল যথার্থই যুগান্তকারী, কিন্তু তাঁর গবেষণা ও কাজের পদ্ধতি ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
আজ, বিজ্ঞানের ছাত্ররা বুঝে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অনুমান করে কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রদান করা যায়না, বিজ্ঞানে সবকিছুর প্রমাণ দেখাতে হয়। কিন্তু ইবন আল-হাইথাম এর আগে ব্যাপারটা এমন ছিলনা। প্রাচীন গ্রীক দর্শন ও বিজ্ঞান এর তখনও বেশ দাপট ছিল। গ্রীকরা বিশ্বাস করতো যে যুক্তির মাধ্যমেই বৈজ্ঞানিক ব্যাপারগুলো আবিষ্কার করা যাবে, অথবা কেবল ঈশ্বরের কার্যকলাপ বলেই চালিয়ে দেয়া যাবে। ইবন আল-হাইথাম এর চেয়ে ভাল জানতেন। তিনিই ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী যিনি জোর দিয়েছেন নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য একটা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রমাণ করার ব্যাপারে, মূলত যা হচ্ছে – “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি” (Scientific Method)।
পশ্চিমা পাঠ্যবইগুলো আজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ইতিহাসের ব্যাপারে খুব কম তথ্য দেয়। সাধারণত প্রাচীন গ্রীক দর্শনের ব্যাপারে উল্লেখ করা থাকেঃ রজার বেকন এর “যুগান্তকারী” কাজ, এরপর গ্যালিলিও গ্যালিলি, এবং আইজ্যাক নিউটন। প্রকৃত সত্য যা আজ হারিয়ে গিয়েছে তা হলো এই ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ ইবন আল-হাইথাম (এবং অন্যান্য মুসলিম মনীষী) এর কাজ এর উপর ভিত্তি করেই কাজ করেছেন। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রমাণের সেই ধারণা তাঁর না থাকলে হয়তো আমরা আজও এমন এক যুগে বসবাস করতাম যেখানে কল্পনা-জল্পনা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস, অপ্রমাণিত এবং লোকমুখে শোনা কাহিনীই বিজ্ঞানের মূল উপাদান ও ভিত্তি।
অপটিক্স (আলোকসংক্রান্ত বিদ্যা) এর উপর লিখিত বই
ইবন আল-হাইথাম তাঁর যুগান্তকারী “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি” ব্যবহারের মাধ্যমে অপটিক্স (Optics – আলোক সংক্রান্ত বিদ্যা) গবেষণায় উঠেপড়ে লাগেন। তাঁর লিখিত বই The Book of Optics এ, তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচীন গ্রীক ধারণাঃ “আলো চোখের মধ্যে থেকে আসে এবং বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে আবার চোখে ফিরে আসে” ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেন। চোখ কিভাবে কাজ করে সে ব্যাপারে তিনি আরো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা শুরু করেন। ব্যবচ্ছেদ এর ব্যবহার এবং পূর্ববর্তী স্কলারদের করে যাওয়া কাজের সহায়তায়, আলো কিভাবে চোখে প্রবেশ করে, ফোকাস হয়, এবং আবার চোখের পেছন দিকে অভিক্ষিপ্ত হয় সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত ধারণা দেয়া শুরু করেন।
একইভাবে, তিনিই সর্বপ্রথম ক্যামেরা নিয়ে কাজ করেন। একটি ক্যামেরার ধারণা খুবই সাধারণঃ অতি ক্ষুদ্র ছিদ্রবিশিষ্ট একটি বক্স; বক্সের যে পাশে ছিদ্রটি অবস্থিত সেপাশে বক্সের বাইরে যা আছে তার আলো এই ছিদ্র দিয়ে বক্সের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিপরীত পাশে উল্টা চিত্র অভিক্ষেপ করে। যারা আধুনিক ক্যামেরার কার্যপ্রাণালীর সাথে পরিচিত তারা বুঝতে পেরেছেন যে এভাবেই ক্যামেরা কাজ করে, পার্থক্য হলো বর্তমানে লেন্স সংযোজিত থাকে। ইবন আল-হাইথাম এই ক্ষুদ্র ছিদ্রবিশিষ্ট ক্যামেরা নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন ফটোগ্রাফির আধুনিক অগ্রগতির শত শত বছর পূর্বে।

তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলার সময় আলোর গতিপথের উপর কি প্রভাব পড়ে বিষয়েও তিনি গবেষণা করেন। এর মাধ্যমে তিনি গোধূলি (সূর্যের রশ্মি বায়ুমণ্ডলে একটা নির্দিষ্ট কোণে (angle) প্রবেশ করলে প্রতিসরণ ঘটার ব্যাপারটা) এর সময় রং এর পরিবর্তনের ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গভীরতা নির্ণয় করতে সক্ষম হন, মহাকাশে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রমাণের ১০০০ বছর আগেই।
ইউরোপে তাঁর লিখিত বই, The Book of Optics এর অনুবাদগ্রন্থের বড় একটি প্রভাব পড়ে। এর থেকে পরবর্তীতে ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ তাঁর তৈরী যন্ত্রগুলো তৈরী করতে সক্ষম হন এবং বুঝতে পারেন কিভাবে আলো কাজ করে। এর থেকেই, চোখের চশমা, বিবর্ধক (ম্যাগনিফাইং) গ্লাস, দূরবীন, ক্যামেরা ইত্যাদি যন্ত্রাদি তৈরী হয়।
আলো ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণা
আলোর ব্যাপারে মানুষের ধ্যান-ধারণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা, এমন সব যন্ত্রাংশ তৈরী করা যেগুলো ছাড়া এই একবিংশ শতাব্দীতে আমরা চলতে পারতাম না, এই ব্যাপারগুলো যেন যথেষ্ট নয়, ইবন আল-হাইথাম অবদান রেখে গিয়েছেন আরো অনেক অনেক ক্ষেত্রে।
১০ম শতাব্দীর ২০ এবং ৩০ শতকের দিকে তিনি জ্যোতির্বিদ্যার ওপর অসংখ্য বই লিখেন। তারকারাজি এবং গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের ব্যাপারে টলেমীর মডেল এর ভুলগুলোর ওপর লিখেন এবং কিভাবে এই মহাবিশ্ব কাজ করে তার আরো বাস্তবধর্মী চিত্র তুলে ধরেন (যদিও তিনি পৃথিবীকে গোলাকার হিসেবে জানতেন, এবং প্রাচীন গ্রীক ধারণাঃ পৃথিবী এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র এই বিশ্বাসেই আটকে থাকেন)।
জ্যোতির্বিদ্যা একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়, এই ব্যাপারটিও তিনি খণ্ডন করেন। বৈজ্ঞানিক ধারণাসমূহ প্রমাণিত হতে হবে, এই বিশ্বাসে তিনি অবিচল থাকেন। তিনি উপসংহার টানেন এই বলে যে, জ্যোতির্বিদ্যার ধারণাগুলো কোন ধরনের বিজ্ঞান থেকে আসেনি, বরং জ্যোতির্বিদদের চিন্তা এবং অনুভূতি মাত্র। তিনি আরো বলেন, জ্যোতির্বিদ্যা ইসলামের একটি মূল ধারণার সরাসরি বিপক্ষে যায়ঃ ঈশ্বর হলেন সকল ঘটনার মালিক, মহাকাশীয় বস্তুসমূহ নয়।
ইবন আল-হাইথাম এর অনেক প্রভাব ছিল আইজ্যাক নিউটন এর ওপর। নিউটন, ইবন আল-হাইথাম এর কাজের ব্যাপারে অবগত ছিলেন। ইবন আল-হাইথাম ক্যালকুলাস এর মূল সূত্রসমুহ অধ্যয়ন করেন, যা পরবর্তীতে মূল ইঞ্জিনিয়ারিং সূত্রে এবং পদ্ধতিতে পরিণত হয়। এছাড়াও তিনি বস্তুর গতিসূত্রসমুহ (যা পরবর্তীতে নিউটিন এর গতিসূত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে) এবং বস্তুর মাঝে আকর্ষণ বল তথা মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে লেখালেখি করেন। প্রকৃতপক্ষে, নিউটনের মাথার ওপর আপেল নয়, বরং ইবন আল-হাইথাম এর লিখিত বইসমূহই পড়েছিল।
ইবন আল-হাইথাম অন্যান্য গতানুগতিক ইসলামী জ্ঞানেও জ্ঞানী ছিলেন। গবেষণামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে কিভাবে ভণ্ড নবীদের ভুল প্রমাণ করতে হয়, কিভাবে গণিতের ব্যবহারের মাধ্যমে মক্কার দিক কিভাবে নির্ণয় করতে হয়, ইত্যাদি বিষয়েও তিনি লেখালেখি করেন।
আধুনক মনোবিজ্ঞানের অগ্রদূত হিসেবে তিনি মানুষ এবং পশু-পাখির ওপর মিউজিক থেরাপির প্রভাব কেমন পড়বে সে ব্যাপারেও তিনি গবেষণা করেন।
উত্তরাধিকার
ইবন আল-হাইথাম এর সম্পাদিত কাজ এবং এর অবদান এর কথা আলোচনা করলে চলতেই থাকবে। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে তিনি প্রায় ২০০ এর ও বেশী বই লিখেন, কিন্তু এর মাত্র ৫০ টি এখন বিদ্যমান। তাঁর আবিষ্কৃত অনেক জিনিসের সন্ধানই হয়তো আমরা পাইনি যেগুলো তাঁর সেসব কাজকে ম্লান করে দিত যেগুলো আজ অবধি বর্তমান।
দুর্ভাগ্যক্রমে, মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর সকল অবদান উপেক্ষিত হয়ে এসেছে। যখন এতো বড় স্কলার হওয়ার কারণে পাওয়া খ্যাতি এবং প্রতিপত্তির পিছনে ছোটার মতো ব্যক্তিও তিনি ছিলেন না। তাঁর অবদানের ব্যাপারে আজকের দুনিয়ার অজ্ঞতা বিচলিত হবার মতো। যখন ল্যাটিন ভাষায় তাঁর লিখিত বইসমূহের অনুবাদ হচ্ছিল আইবেরীয়া উপদ্বীপে স্প্যানিশদের দখলকৃত মুসলিম ভূমিতে, তাঁকে তাঁর আসল নামে উল্লেখ করা হয়নি, বরং উল্লেখ করা হয়েছে ‘আলহাজেন’ নামে।

নিউটন সরাসরি ইবন আল-হাইথাম এর ধারণাসমূহের উপর ভিত্তি করেই কাজ করেছেন
খ্রিস্টান ইউরোপে মুসলিমদের অবদান মুছে দেয়া এবং সুনামহানির অভিপ্রায়ে বড় বড় মুসলিম স্কলারদের নাম ইউরোপীয় ধাঁচের নামে পরিবর্তন করার রীতি ইউরোপীয় রেনেসাঁর সময় একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল।
নির্বিশেষে, তাঁর মেধাবী এবং বিচক্ষণ মনোভাব অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যারা তাঁর কাজের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর করে যাওয়া গবেষণা এবং কাজ ছাড়া বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এই আধুনিক যুগের অস্তিত্ব থাকতো না বলাটা কোন ধরনের অতিরঞ্জন হবেনা।

অনুবাদ করা হয়েছেঃ Ibn al-Haytham – The First Scientist (www.lostislamichistory.com) আর্টিকেল থেকে।

অনুবাদকঃ আহমেদ রাকিব

www.lostislamichistorybangla.wordpress.com থেকে সংগৃহীত ]


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন