শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

আলা-আল-দিন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আবি-হাজম আল-কারশি আল-দিমাস্কি


আলা-আল-দিন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আবি-হাজম আল-কারশি আল-দিমাস্কি 
- ১২০৮ (মতান্তরে ১২১৩) খ্রিস্টাব্দে ইবনুন নাফিস সিরিয়ার দামেস্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়েও রয়েছে মতপার্থক্য, তাঁর জন্মস্থান সিরিয়া না মিসরে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

মানবদেহে বায়ু ও রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা আবিস্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন ইবনুন নাফিস। ইবনুন নাফিস মানবদেহে রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি, ফুসফুসের সঠিক গঠন পদ্ধতি, শ্বাসনালী, হৃদপিণ্ড, শরীরে শিরা উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারকে অবহিত করেন। শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ অবস্থা কি? মানবদেহে বায়ু ও রক্ত প্রবাহের মধ্যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার ব্যাপারটা কি? ফুসফুসের নির্মাণ কৌশল কে সভ্যজগতকে সর্বপ্রথম অবগত করিয়েছিলেন? রক্ত চলাচল সম্বন্ধে তৎকালীন প্রচলিত গ্যালেনের মতবাদকে ভুল প্রমাণিত করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ১৩০০ শতাব্দীতে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন কে? এসব জিজ্ঞাসার জবাবে যে মুসলিম মনীষীর নাম উচ্চারিত হবে তিনি হচ্ছেন ইবনুন নাফিস।

তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শিরার রক্ত এর দৃশ্য বা অদৃশ্য ছিদ্র দিয়ে ডান দিক থেকে বাম দিকের হৃৎকোষ্টে চলাচল করে না বরং শিরার রক্ত সব সময়ই ধমনী শিরার ভেতর দিয়ে ফুসফুসে গিয়ে পৌঁছায় সেখানে বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে শিরার ধমনীর মধ্য দিয়ে বাম দিকের হৃৎকোষ্টে যায় এবং সেখানে এ জীবন তেজ গঠন করে। তিনি প্রমাণ করেন যে হৃৎপিণ্ডে মাত্র দুটি প্রকোষ্ট রয়েছে। আল-শামিল ফি আল-তিব্ব নামের ৩০০ খণ্ডের এক বিশাল বই লিখেছিলেন তিনি। এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি বর্তমানে দামেস্কে সংরতি আছে। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত বইগুলো হল- মুয়াজ আল-কুনুন, আল-মুখতার ফি আল-আঘধিয়া।

১২৩৬ সালে নাফিস মিসর গমন করেন। সেখানে আল-নাসরি নামক হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা করতেন। পরবর্তীতে আল-মুনসুরী হাসপাতালে তিনি প্রধান চিকিৎসক এবং সুলতানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান।

মুসলিম এই মহামনিষী ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তিনি তাঁর বাড়ি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল সব আল- মনসুরী হাসপাতালকে দান করে যান। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী ইবনুন নাফিসের মতবাদ সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত বলে গৃহীত হলেও তাঁকে পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞান জগতে স্বীকৃতি দেয়নি। তাঁর এই যুগান্তকরী আবিষ্কার ৭০০ বছরের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষ ভুলে গিয়েছিল তাঁর এই অবদানের কথা। অবশেষে ১৯২৪ সালে হঠাৎ করেই বার্লিনের একটি লাইব্রেরিতে তাঁর লেখা একটি পাণ্ডুলিপি (সিযয়রাহ তাসরিহ আল-কুনুন) পাওয়া যায় এবং বিশ্ববাসী আবিষ্কারটি জানতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন