বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

সুন্নাহর দৃষ্টিতে ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবির ছয়টি, নাকি বারটি? ( মুফতি মুহিউদ্দিন কাসেমি )

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা- উভয় ঈদের নামায ওয়াজিব। ঈদের নামাযের সময় হচ্ছে সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর থেকে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। আযান ও ইকামত ছাড়া দুই রাকাত নামায পড়তে হয়। ঈদের নামযের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অতিরিক্ত তাকবির। প্রথম রাকাতে ছানার পর তিন তাকবির দিতে হয়। তাকবির দেওয়ার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত তুলবে; প্রথম দুই তাকবির বলার পর হাত ছেড়ে দিবে, আর তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বাঁধবে। ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে কেরাত পড়বেন। এরপর যথারীতি রুকু-সেজদার পর দ্বিতীয় রাকাত শুরু হবে। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা-কেরাত পড়ার পর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন। প্রত্যেক তাকবিরের সময় উভয় হাত কা পর্যন্ত তুলে ছেড়ে দিবে, হাত বাঁধবে না। চতুর্থ তাকবির দিয়ে রুকুতে চলে যাবে। এরপর যথানিয়মে সালামের মাধ্যমে নামায সমাপ্ত হবে। 
ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবির ছয়টিÑ যা শক্তিশালী হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে অনেকে অতিরিক্ত বারটি তাকবির দেওয়ার কথা বলেন। প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবির সাতটি, দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি। এই হল মোট বারটি। এই মতের পক্ষেও হাদিস রয়েছে। 
ঈদের নামাযের তাকবিরগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রথম রাকাতে কিরাতের আগে সর্বমোট তাকবির সংখ্যা চারটি। অর্থাৎ তাকবিরে তাহরিমা এবং অতিরিক্ত তিন তাকবির। তদ্রƒপ দ্বিতীয় রাকাতেও কিরাতের পরে তাকবির চারটি। অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং রুকুর এক তাকবির। 
ঈদের নামাযের তাকবিরগুলো অন্যভাবেও হিসাব করা যায়, প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা, অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং রুকুর এক তাকবিরÑ এই মোট পাঁচ তাকবির প্রথম রাকাতে। দ্বিতীয় রাকাতে সূরা-কেরাত শেষ করে রুকুর পূর্বে ঈদের অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং রুকুর এক তাকবিরÑ এ হিসেবে দ্বিতীয় রাকাতে চার তাকবির হচ্ছে। আর পুরো নামাযে তাকবির সংখ্যা হল নয়টি। এবার হাদিস লক্ষ্য করলে দুনো পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। 
أَخْبَرَنِى أَبُو عَائِشَةَ جَلِيسٌ لأَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِىَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يُكَبِّرُ فِى الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ. فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ. فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِى الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ. وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ.
হযরত আবু হুরায়রা এর সঙ্গী আবু আয়েশা রা. বলেন : সাঈদ ইবনুল আস রা. আবু মুসা আশআরি ও হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. -কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় কীভাবে তাকবির বলতেন? আবু মুসা রা. উত্তর দিলেন, তিনি জানাযার নামাযের ন্যায় চার তাকবির বলতেন। তখন হুজাইফা রা. বললেন, তিনি ঠিক বলেছেন। আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, আমি বসরার গভর্নর থাকাকালে সেখানে এভাবেই তাকবির দিতাম। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতেই ঈদের নামায পড়াতাম। বর্ণনাকারী আবু আয়েশা বলেন, আমি সেখানে সাঈদ ইবনুল আস রা. এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং- ১১৫৫; সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ৬৪০৪)।

قال حدثني بعض أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم قال صلى بنا النبي صلى الله عليه و سلم يوم عيد فكبر أربعا وأربعا ثم اقبل علينا بوجهه حين أنصرف قال لا تنسوا كتكبير الجنائز وأشار بأصابعه وقبض إبهامه 
কাসেম আবু আব্দির রহমান রহ. বলেন, আমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবি বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ঈদের নামায আদায় করলেন এবং চারটি করে তাকবির দিলেন। নামায শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমরা ভুলে যেওনা যে, ঈদের নামায জানাজার নামাযের মতোই। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করে বাকি চার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন। (শরহু মাআনিল আসার, হাদিস নং- ৬৭৫৩)। 
عن علقمة والأسود بن يزيد قال كان بن مسعود جالسا وعنده حذيفة وأبو موسى الاشعري فسألهما سعيد بن العاص عن التكبير في الصلاة يوم الفطر والأضحى فجعل هذا يقول سل هذا وهذا يقول سل هذا فقال له حذيفة سل هذا - لعبد الله بن مسعود - فسأله فقال بن مسعود يكبر أربعا ثم يقرا ثم يكبر فيركع ثم يقوم في الثانية فيقرا ثم يكبر أربعا بعد القراءة 
আলকামা এবং আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ রহ. বলেন, একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বসা ছিলেন, তাঁর পাশে ছিলেন হুজাইফা ও আবু মুসা আশআরি রা.। তখন সাঈদ ইবনুল আস রা. তাদের দুজনকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার তাকবির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি বললেন, তাকে জিজ্ঞেস কর। আরেকজন বললেন, তাকে জিজ্ঞেস কর। অবশেষে হুজাইফা রা. বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞেস কর। তখন ইবনে মাসউদ রা. উত্তরে বললেন : ইদের নামাযের প্রথম রাকাতে চার তাকবির বলবে এরপর কেরাত পড়বে। এরপর আবার তাকবির বলবে; এরপর রুকু করবে। অতঃপর দি¦তীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবে এবং কেরাত পড়ার পর আবার চার তাকবির দিবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস নং-৫৬৮৭; আল-মুজামুল কাবির, হাদিস নং- ৯৫১৬)। 
عَنْ إِبْرَاهِيمَ ؛ أَنَّ أَمِيرًا مِنْ أُمَرَاءِ الْكُوفَةِ ، قَالَ سُفْيَانُ : أَحَدُهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ ، وَقَالَ : الآخَرُ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ ، بَعَثَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ ، وَعَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسٍ ، فَقَالَ : إِنَّ هَذَا الْعِيدَ قَدْ حَضَرَ ، فَمَا تَرَوْنَ ؟ فَأَسْنَدُوا أَمْرَهُمْ إِلَى عَبْدِ اللهِ ، فَقَالَ : تُكَبِّرُ تِسْعَا ؛ تَكْبِيرَةٍ تَفْتَتِحُ بِهَا الصَّلاَةَ ، ثُمَّ تُكَبِّرُ ثَلاَثًا ، ثُمَّ تَقْرَأُ سُورَةً ، ثُمَّ تُكَبِّرُ ، ثُمَّ تَرْكَعُ ، ثُمَّ تَقُومُ فَتَقْرَأُ سُورَةً ، ثُمَّ تُكَبِّرُ أَرْبَعًا ، تَرْكَعُ بِإِحْدَاهُنَّ.
কুফার গভর্নর সাঈদ ইবনুল আস অথবা ওয়ালিদ ইবনে উকবা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস রা. এর নিকট পত্রমারফত জানতে চাইলেন, ঈদ সামনে উপস্থিত, আপনারা কী মনে করেন (অর্থাৎ ঈদের নামাযের তাকবির কয়টি?) তখন সকলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে উত্তর দেওয়ার জন্যে দায়িত্ব দিলেন। ইবনে মাসউদ উত্তরে বললেন : নয়টি তাকবির বলবে। প্রথম তাকবির দ্বারা নামায শুরু করবে, এরপর তিনটি তাকবির দিবে। অতঃপর সূরা পড়বে। তারপর রুকু করবে। এরপর দাঁড়িয়ে সূরা পড়ার পর চারটি তাকবির বলবে, যার একটি দিয়ে রুকু করবে। (মুসান্নায়ে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং- ৫৭৪৮)। 
وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّهُ قَالَ فِي التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ : تِسْعُ تَكْبِيرَاتٍ : فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى , خَمْسٌ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ ، وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ يَبْدَأُ بِالْقِرَاءَةِ ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا مَعَ تَكْبِيرَةِ الرُّكُوعِ ، قَالَ : وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم نَحْوَ هَذَا
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ঈদের নাামযের তাকবির নয়টি। প্রথম রাকাতে পাঁচ তাকবির (তাকবিরে তাহরিমা, অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং রুকুর তাকবির) রুকুর আগে। আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবির-সহ চার তাকবির কেরাতের পরে। (তিরমিযি : ২/৪১৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং- ৫৭৪৬)।
عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبَّرَ فِي الْعِيدَيْنِ فِي الأُولَى سَبْعًا قَبْلَ الْقِرَاءَةِ ، وَفِي الآخِرَةِ خَمْسًا قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَرُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلُ هَذَا 
কাসির ইবনে আবদুল্লাহ স্বীয় পিতার সূত্রে দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে কেরাতের পূর্বে সাত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর পূর্বে পাঁচ তাকবির দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রা. এর সূত্রেও রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (তিরমিযি, হাদিস নং- ৫৩৬; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১২৭৭)।

সাহাবিদের ইজমা :
জানাযার নামাযের তাকবির নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য দেখা দিলে হযরত ওমর রা. নেতৃস্থানীয় সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের মতামত সাপেক্ষে জানাযার নামাযের তাকবির সংখ্যা চারটি নির্ধারণ করেন। সেখানে তারা ঐকমত্য পোষণ করেন, যেভাবে ঈদের নামাযে তাকবির চারটি তদ্রƒপ জানাযার নামাযের তাকবিরও চারটি। সুতরাং সাহাবিদের ইজমার মাধ্যমে ঈদের নামাযে তিন তাকবির প্রমাণিত হল। চার তাকবিরের মধ্যে একটি রুকুর তাকবির। মনে রাখা দরকার ইজমা স্বতন্ত্র দলিল। এবং হাদিসের অস্পষ্টতার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হচ্ছে সাহাবিদের বক্তব্য ও কর্ম। 
عن إبراهيم قال : قبض رسول الله صلى الله عليه و سلم والناس مختلفون في التكبير على الجنائز لا تشاء أن تسمع رجلا يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يكبر سبعا وآخر يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يكبر خمسا وآخر يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يكبر أربعا الا سمعته فاختلفوا في ذلك فكانوا على ذلك حتى قبض أبو بكر رضي الله عنه فلما ولى عمر رضي الله عنه ورأى اختلاف الناس في ذلك شق ذلك عليه جدا فأرسل الى رجال من أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال إنكم معاشر أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم متى تختلفون على الناس يختلفون من بعدكم ومتى تجتمعون على أمر يجتمع الناس عليه فانظروا أمرا تجتمعون عليه فكأنما أيقظهم فقالوا نعم ما رأيت يا أمير المؤمنين فأشر علينا فقال عمر رضي الله عنه بل أشيروا أنتم على فإنما أنا بشر مثلكم فتراجعوا الأمر بينهم فأجمعوا أمرهم على أن يجعلوا التكبير على الجنائز مثل التكبير في الأضحى والفطر أربع تكبيرات فأجمع أمرهم على ذلك
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর লোকজনের মাঝে জানাযার নামাযের তাকবির নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। তুমি এটা পছন্দ করবে না যে, কেউ বলছে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাত তাকিবর দিতে শুনেছি। আরেকজন বলতে লাগল আমি রাসুলকে পাঁচ তাকবির দিতে শুনেছি। অন্যজন বলতে আরম্ভ করল, আমি রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চার তাকবির দিতে শুনেছি। এ ব্যাপারে সাহাবিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ মতবিরোধ হযরত আবুবরক রা. এর খেলাফতকালে ছিল। হযরত ওমর রা. খলিফা হওয়ার পর এ মতবিরোধ দেখে তিনি কষ্ট অনুভব করেন। তখন বিষয়টির মীমাংসার নিমিত্তে সাহাবায়ে কেরামকে একত্রিত করলেন। তাদের উদ্দেশে বললেন : আপনারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি। কোনো বিষয়ে আপনারা মতানৈক্য করলে পরবর্তীরা মতানৈক্য করবে, কোনো বিষয়ে আপনারা ঐকমত্য পোষণ করলে পরবর্তীরাও ঐকমত্য পোষণ করবে। আপনারা এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে সমাধান করেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। আলোচিত বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত আমাদেরকে বলুন। ওমর রা. বললেন : বরং আপনারা নিজেদের মতামত দিন। কারণ, আমিও তো আপনাদের মতোই একজন মানুষ। এরপর সাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে মতবিনিময় করে সকলে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, যেভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাযে চার তাকবির হয়ে থাকে তদ্রƒপ জানাযার নামাযেও চার তাকবির হবে। (শরহু মাআনিল আসার : ১/৩১৯)।

মোটকথা, ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবির ছয়টিও দেওয়া যায়; বারটিও দেওয়া যায়। তবে ছয়টি উত্তম। উত্তমের শক্তিশালী দলিল হচ্ছে সাহাবিদের ইজমা। কোনো বিষয়ে ইজমা হয়ে গেলে এর বিরোধিতা করা কোনোক্রমেই ঠিক না। আর সাহাবিদের ইজমা তো সর্বাধিক মজবুত ইজমা। সমস্ত হাদিস সাহাবিদের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন