বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ, ২০১৬

বরকতের উদ্দেশে ঘরে ছবি ঝুলিয়ে রাখা Mohiuddin Kasemi

কিছু লোক বরকতের উদ্দেশে ঘরের মধ্যে পীর সাহেবের ছবি ঝুলিয়ে রাখে। 
প্রাণীর ছবি তোলা বা অঙ্কন করা ইসলামে হারাম। প্রাণী ব্যতীত যে কোনো দৃশ্যের ছবি তোলা বা অঙ্কন করা জায়েয। 
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন :
قال ابن عباس : فإنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً ، فَاصْنعِ الشَّجَرَ وَمَا لاَ رُوحَ فِيهِ. متفق عليه.
-ছবি তুলতে হলে গাছের ছবি এবং প্রাণহীন জিনিসের ছবি তুলতে পারবে। [রিয়াজুস সালেহিন : খ. ২, পৃ. ২৫০, বাবু তাহরিমি তাসবিরিল হায়াওয়ান; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৫৬৬২] 
তবে তীব্র প্রয়োজনে প্রাণীর ছবি তোলাও জায়েয। যেমন পাসপোর্ট করা, মাদরাসায় ভর্তি হওয়া, ব্যাংকে একাউন্ট করা- ইত্যাদি প্রয়োজনে ছবি তোলা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা সুস্পষ্ট হারাম। হারাম জিনিস দ্বারা বরকতের নিয়ত করা পৃথক আরেকটি হারাম বলে বিবেচিত হবে। ছবি সম্পর্কে হাদিসে বিধৃত হয়েছে :

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ : أَنَّهَا اشْتَرَتْ نُمْرُقَةً فِيهَا تَصَاوِيرُ فَلَمَّا رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَامَ عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ فَعَرَفَت فِى وَجْهِهِ الْكَرَاهِيَةَ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ مَاذَا أَذْنَبْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :« مَا بَالُ هَذِهِ النُّمْرُقَةِ ». فَقُلْتُ اشْتَرَيْتُهَا لَكَ لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا فَقَالَ :« إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعَذَّبُونَ يُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ ». وَقَالَ :« إِنَّ الْبَيْتَ الَّذِى فِيهِ الصُّوَرُ لاَ تَدْخُلُهُ الْمَلاَئِكَةُ ».
-হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি ছবিযুক্ত একটি গালিচা খরিদ করেছিলাম। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘরে প্রবেশের সময়) তা দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, প্রবেশ করলেন না। রাসুলের চেহারায় অসন্তুষ্টি আঁচ করতে পেরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি কী অপরাধ করেছি? তিনি বললেন, এই গালিচা কোত্থেকে? আমি আরজ করলাম, কিনে এনেছি, যেন আপনি বসতে পারেন, হেলান দিতে পারেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন ছবি উত্তোলনকারীদের বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছ তাতে প্রাণ দাও। তিনি আরও বলেন, যে গৃহে ছবি থাকে তাতে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ১৯৯৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৫৬৫৫] 
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ : إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَتَلَ نَبِيًّا أَوْ قَتَلَهُ نَبِيٌّ أَوْ قَتَلَ أَحَدٌ وَالِدَيْهِ وَ الْمُصَوِّرُوْنَ وَ عَالِمٌ لَمْ يَنْتَفِعْ بِعِلْمِهِ. 
-হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কেয়ামতের দিন ভয়ানক আজাবের মুখোমুখি হবে এরা : যে ব্যক্তি কোনো নবীকে হত্যা করেছে অথবা যাকে হত্যা করেছে কোনো নবী, পিতা-মাতার একজনকে হত্যাকারী, ছবি অঙ্কনকারী/উত্তোলনকারী এবং যে আলেম নিজের ইলম দ্বারা উপকৃত হতে পারে নি। [শোআবুল ইমান লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ৭৮৮৮]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন