বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

পর্দার হুকুম কি?

পর্দা শব্দ আসলেই আমরা নারীদের মনে করি, প্রকৃত পক্ষে পর্দা করতে পুরুষদের প্রথমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেন মুমিনরা তাদের দৃষ্টি সংযোত রাখে।
সাথে সাথে নারীদের পর্দার হুকুম জারি করে দিয়েছে, যাতে নারীরাও
উওম রুপে পর্দা করবে।
পর্দার ব্যাপারে আল্লাহর সাধারণ নির্দেশ,,,
﴿وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى﴾
‘‘(হে নারী জাতি!) তোমরা সবগৃহে অবস্থান কর এবং প্রাক্-ইসলামী (জাহেলিয়াতী)
যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না।’’( ৩৩:৩৩)★
========================
﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ﴾
‘‘হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমন্ডলের) উপর টেনে নেয়।
এতে (ক্রীতদাসী থেকে) তাদেরকে চেনা সহজতর হবে;
ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। (লম্পটরা তাদেরকে উত্যক্ত করবে না।)’(সুরা আহযাব ৫৯)
=======================
﴿وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ﴾
‘‘মুমিন নারীদেরকে বল, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের (অন্যান্য) আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় (উড়না অথবা চাদর) দ্বারা আবৃত করে।( সুরা নুর ২৪)
﴿وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعاً فَاسْأَلوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ﴾
‘‘(হে পুরুষগণ!) তোমরা তাদের (নারীদের) নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে।
এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হূদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র।’
(( সুরা আহযাব ৩১)
সুতরাং মুসলিম নারীর নিকট পর্দাঃ- আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য।
পর্দা, প্রেম ও চরিত্রের পবিত্রতা, অনাবিলতা ও নিষ্কলঙ্কতা।
পর্দা, নারীর নারীত্ব, সতীর সতীত্ব, সম্ভ্রম ও মর্যাদা।
পর্দা, লজ্জাশীলতা, অন্তর্মাধুর্য ও সদাচারিতা।
পর্দা, মানবরূপী শয়তানের দৃষ্টি থেকে রক্ষাকবচ।
পর্দা, ইজ্জত হিফাযত করে, অবৈধ প্রণয়, ধর্ষণ, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার দূর করে, নারীর মান ও মূল্য রক্ষা করে।
জিনিস দামী ও মূল্যবান হলেই তাকে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়। যত্রেতত্রে কাঁচ পাওয়া যায় বলেই তার কোন কদর নেই।
কিন্তু কাঞ্চন পাওয়া যায় না বলেই তার বড় কদর। পর্দানশীন নারী কাঁচ নয়; বরং কাঞ্চন, সুরক্ষিত মুক্তা।
পর্দা, নারীকে কাফের ও ক্রীতদাসী থেকে বাছাই করে সম্ভ্রান্তা মুসলিম নারীরূপে চিহ্নিত করে।
পর্দা, আল্লাহর গযব ও জাহান্নামের আগুন থেকে পর্দা।
নারীদের প্রধান শত্রু তার সৌন্দর্য ও যৌবন। আর পর্দা তার লালকেল্লা।
========================
ইসলামের সুসভ্য দৃষ্টিতে নারীর পর্দা ও সভ্য লেবাসের কয়েকটি শর্ত নিম্নরূপঃ,,,,,
 মুসলিম মহিলা যে পোশাক ব্যবহার করবে তাতে যেন পর্দা পাওয়া যায়;
অর্থাৎ সেই পোশাক যেন তার সারা দেহকে আবৃত করে।
সুতরাং যে লেবাসে নারীর কেশদাম, গ্রীবা, বক্ষদেশ, উদর ও পৃষ্ঠদেশ
(যেমন, শাড়ি ও খাটো ব্লাউজে) এবং হাঁটু ও জাং (যেমন, স্ক্যার্ট্, ঘাগরা, ফ্রক্ ইত্যাদিতে) প্রকাশিত থাকে তা (সাধারণতঃ গম্য পুরুষদের সম্মুখে) পরিধান করা হারাম।
,,,এই লেবাস যেন সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি-আকর্ষী না হয়। সুতরাং কামদার (এমব্রয়ডারি করা) চকচকে রঙিন বোরকাও পরা বৈধ নয়।
,,এমন পাতলা না হয় যাতে ভিতরের চামড়ার রঙ নজরে আসে। অতএব পাতলা শাড়ি, ওড়না প্রভৃতি মুসলিম মহিলার ড্রেস নয়।
‪#‎প্রিয়‬ নবী (সাঃ) বলেন,
‘‘দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী; যাদেরকে আমি দেখিনি। (তারা ভবিষ্যতে আসবে।)
‪#‎প্রথম‬ শ্রেণী (অত্যাচারীর দল) যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক, যদ্বারা তারা লোককে প্রহার করবে।
আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই নারীদল; যারা কাপড় তো পরিধান করবে, কিন্তু তারা বস্ত্ততঃ উলঙ্গ থাকবে, যারা পুরুষদের আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, যাদের মস্তক (খোপা বাঁধার কারণে) উটের হিলে যাওয়া কুঁজের মত হবে।
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।’
(( মুসলিম,, বায়হাকি,, মুসনাদে আহমাদ,,আস সিলসিলাতিস সাহীহাহ, ১৩২৬))
========================
★হে আল্লাহ্ তোমি আমাদের বিভিন্ন্য অশ্লীয়তা থেকে হেফাযত করো। (আমিন)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন