১.
সজিদে নববীতে ইমাম মালেক র. এর দরস চলছে। হঠাৎ তাকে মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি সাহাবী যায়েদ বিন সাবেত রা. এর বক্তব্য অনুযায়ী উত্তর দিলেন। তখন জনৈক ইসমাঈল ইবনে সুদ্দী ইমাম মালেক র. এর কাছে উক্ত মাসআলায় আলী ও ইবনে মাসঊদ র. এর বক্তব্য জানতে চাইলেন। মুহূর্তে লোকেরা চতুর্দিক থেকে তেড়ে এলো তার দিকে। গণধোলাইয়ের উপক্রম হলো। মালেক র. সবাইকে শান্ত করলেন। তাকে নিজের কাছে ডাকলেন। তার ঘর-বাড়ি ও পরিচয় জানলেন। এরপর বললেন, আলী ও ইবনে মাসঊদ রা. ছিলেন বিশাল ব্যক্তিত্ব। এটা সন্দেহতীত। কিন্তু যখন তুমি নতুন কোনো কওমের মাঝে যাও, তখন সেখানে তারা যেটা জানে না, হঠাৎ সেটা তাদের জানানোর চেষ্টা করো না। তাহলে তাদের কাছ থেকে ভালো প্রতিউত্তর পাবে না। (ফিক্বহুল ইতিলাফ পৃ. ১৫২)।
২. ইমাম শাফেঈ র. এর সঙ্গে ইউনুস সুদফী নামক এক জবরদস্ত আলেমের মুনাযারা হলো। কোনো চূড়ান্ত ফলাফল ও সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকেই একসময় মুনাযারা শেষ হলো। দু'জনের উভয়ে যে যার পথে চলে গেলেন। কিন্তু শাফেঈ র. ঘটনাটি ভুলতে পারলেন না। তার ভয় ছিল, যেহেতু মুনাযারায় কোনো ফলাফল আসেনি, হয়তো ইউনুস সুদফী তার প্রতি মনে কষ্ট রাখতে পারে।
ইউনুসের বর্ণনা, একদিন হঠাৎ রাস্তায় ইমাম শাফেঈ ও আমি মুখামুখি হলাম। তিনি আমার হাত ধরে বললেন, 'আবু মূসা! একটা মাসআলায় না হয় আমরা দু'জনে একমত হতে পারিনি। তাই বলে কি আমরা ভাই ভাই হয়ে থাকতে পারি না'?
হাফেজ যাহাবী র. বলেন, আজও তো মানুষ মুনাযারা করে। কিন্তু শাফেঈর মতো এমন মানুষ মিলবে কোথায়? (খাযান্দার কৃত ফিক্বহুল ইতিলাফ পৃ. ২৮৮
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন